Skip to content

ভ্রমন কথামালা-স্বপ্নের দার্জিলিং

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি ভ্রমন করতে অনেক পছন্দ করি।অনেক আগে থেকে আমার ইচ্ছা ছিল দার্জিলিং যাবার সেটা হতাৎ করি পূরণ হয়ে গেল

প্রায় একমাস চেষ্টার পর পেলাম ই-টোকেন আমার বন্ধু আগে থেকে ভিসা নিয়ে রেখেছিল।আমি যথা সময়ে ভিসা পেলাম । দিন ঠিক করে করে করা হয়না অবশেষে আমরা ঠিক করলাম ১৪ ফেব্রুয়ারী।
১৪.০২.২০১৬
যথাদিন আমরা রওনা হলাম.২ বন্ধু মিলিত হলাম বেনাপোল বর্ডারে। ৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে ইমিগ্রেশন থেকে ফর্ম পূরণ করে ডিপারচার সিল নিয়ে বের হয়ে আসলাম পুলিশ আমার পাসপোর্ট দেখে আমাকে আটকাল আমি বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। তিনি বলল আমাদের ২ জনকে ২০০+২০০ ডলার আনতে, আমি খুবই চিন্তায় পরে গেলাম যে সিল দেওয়া হয়ে গেছে আর ২০০ ডলার কেনার মত টাকা নেই। আমি চুপ চাপ দাড়িয়ে থাকলাম মোস্তাক খুব নরম সুরে বলতে লাগল যে আমাদের ছেড়ে দিন স্যার ছাত্র মানুষ এত টাকা কোথায় পাব,কিন্তু সেই পুলিশ নাছোড়বান্দা ছাড়বে না আমি চিন্তা করে দেখলাম তার হাতে ১০০ টাকা দিয়ে দেব যেভাবে আমাদের ধরসে টাকা না খেয়ে ছাড়বে না। এদিকে পুলিশ যখন মোস্তাককে বলল ছাড়া যাবে না সমস্যা আছে,এ কথা বলা মাত্র মোস্তাক একটু গরম সুরে বলে উঠল কোথায় সমস্যা আছে চলেন,নিয়ে চলেন আমাদের।দেখি যে সে ব্যাটা চুপ আর কোন কথা বলে না,পাশে এক কুলি যাচ্ছিল তাকে ডেকে বলে এই ২ জন কে ইন্ডিয়ান কাস্টমসে ধরিয়ে দে, মোস্তাক ছো-মেরে আমাদের পাসপোর্ট তার হাত থেকে নিয়ে নিল আমি বোকার মত দাড়িয়ে ছিলাম মোস্তাক সোজা হাটা দিয়ে আমাকে ডাক দিল চলে আয়।এরপর সোজা ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশনে সেখানে কোন ঝামেলা করলনা, আমাকে নাম ধাম কোথায় যাব জিজ্ঞেস করল সিল মেরে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার সময় আবার জিজ্ঞেস করল First time India? আমি বললাম ইয়েস তিনি জবাবে Have a good day বলে ফেরত দিল।কাজ শেষে সোজা চলে গেলাম টাকা ভাঙ্গাতে।
পেট্রাপোল বর্ডার।

টাকা সব রুপি করে অটোতে উঠলাম বনগাঁ ষ্টেশনে যাবার জন্য ২৫ রুপি দিয়ে.২০ মিনিট এর ভিতর চলে আসলাম,খুব ক্ষিদে পেয়েছিল ২ জনের স্টেশনের পাশে একটা খাবার দোকানে ২ জন পেট ভরে খেয়ে নিলাম ২ জনের বিল ৭০ রুপি ২ প্লেট রসমালই সহ।
বনগাঁ ষ্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায়।

খাওয়া শেষ,টিকিট কাটলাম শিয়ালদাহ এর,যথাসময়ে ট্রেন আসলে উঠে বসলাম।আমাদের যেহেতু কোন প্ল্যানই ছিলনা কোথায় যাব ট্রেন ছাড়লে আমরা আলোচনা শুরু করলাম কোথায় যাব,মোস্তাক বলে কাশ্মীর যাই চল,ওর নাকি বরফ দেখার খুব শখ।আমি পুরাই আকাশ থেকে পরলাম, একেতো আমাদের কাছে কাশ্মীর যাওয়ার টাকা নাই আর মোস্তাক এর ভিসা আছে মাত্র ১০-১২ দিন, ও যেহেতু আগে কলকাতা ঘুরে গেছে সেজন্য আর কলকাতা থাকতে চাইছেনা আমিও বুঝতেছিলামনা যে কি করব। অবশেষে ঠিক করলাম যে দার্জিলিং যাব।ট্রেনে বসেই হিসাব শুরু করলাম তাতে যা আসল এবং দেখলাম আমাদের কাছে যে পরিমান টাকা আছে হয়ে যাবে।
শিয়ালদাহ ষ্টেশনের সামনে।

শিয়ালদাহ ষ্টেশন নেমে প্রথমে টিকিট খুজতে লাগলাম নিউ জলপাইগুড়ি যাবার,অনেক ঘোরাঘুরি করে টিকেট পেলামনা। মাথায় এল আরে ফেয়ারলি একটা জায়গা আছে যেখানে ট্যুরিস্ট ভিসা ধারীদের জন্য কিছু সিট থাকে।আমি বললাম চল যাই ওইখানে।মোস্তাক বলে আমি জায়গাটা চিনিনা। আমি বললাম আমি কোথায় যেন পড়েছিলাম হাওড়া এর কাছে, ও তখন আমাকে নিয়ে হাওড়া এর বাসে উঠে বসল হাওড়া চলে আসলাম যেহেতু চিনিনা ভাবলাম হাওড়া আসলাম ব্রিজটা আগে দেখি।

হাওড়া ব্রিজে আমরা।

২ জন চলে এলাম ব্রিজে এবার একজনকে জিজ্ঞেস করলাম ফেয়ারলি কিভাবে যাব সে দেখিয়ে দিল ব্রিজের ওই পাশে।ব্রিজ পার হয়ে আবার জিজ্ঞেস করলে রাস্তা দেখিয়ে দিল কোন দিকে,চলছি চলছি এতদুর হবে হাওড়া ব্রিজ থেকে আমি ভাবিনি,অবশষে ফেয়ারলি পেলাম কিন্তু সব বন্ধ আমরা গেটে একজনকে পেলাম জিজ্ঞেস করলাম টিকেট কাটব সে বলল আজ রবিবার ২ টার সময় অফ হয়ে যায়,কাল সকাল ১০টায় আসবে আজ আর হবেনা।আবার শিয়ালদাহ যাব বলে ঠিক করলাম,বাসে কোনদিক থেকে এসেছি আন্দাজ করে দুই বন্ধু হাটা শুরু করলাম। আমার কাছে ভালই লাগছিল প্রথম দেশের বাইরে কোথাও, হোক সে পাশের দেশ আমার কাছে ভিন্ন দেশ ভিন্ন শহর।কিন্তু আমার মাথায় কাজ করছেনা আমরা যেদিকই যাই ফাকা লোকজন নেই তেমন দোকান-পাট সবকিছুই বন্ধ পরে একজনকে জিজ্ঞেস করতে বলল আজকে রবিবার,রবিবার সবকিছু বন্ধ থাকে সাধারনত।হাটতে হাটতে আমরা ক্লান্ত হয়ে বললাম থাক আর দরকার নেই চল বাসে যাই।অনেক দূর চলে আসছি কোন বাস দেখছি না। এরপর এক রাস্তার মাথায় এসে দাঁড়ালাম কোন দিক যাব কিছুই বুঝতে পারছিলামনা।তখন রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ দেখে আমরা তার কাছে এগিয়ে গেলাম জানতে চাইলাম শিয়ালদাহ যাব কিভাবে?তিনি দেখি উল্টা আমাদের জিজ্ঞেস করলেন কিভাবে যেতে চাও!! বললাম বাসে যেতে চাই, তিনি দেখিয়ে দিলেন ওই জায়গা থেকে বাসে উঠবে।
আবার চলে এলাম শিয়ালদাহ ষ্টেশন!! এবার ষ্টেশন এর পাশে ঘুরলাম কিছুক্ষণ খেয়ে নিলাম দুপুরের খাবার তারপর আশে পাশে কিছুক্ষণ ঘুরে জুস খেলাম ফল কিনলাম এবার চলে এলাম ষ্টেশনে। আবার সেই লোক যাকে এর আগে আমরা অনেক জ্বালিয়েছি আমাদের টিকেটের জন্য।মোস্তাক আবার গেল তার কাছে যে আমাদের টিকেট লাগবে,তার আবার সোজা উত্তর কোন ট্রেনে টিকেট নেই যাও জেনারেল টিকেট কাট।
আমরা আশা ছাড়লামনা ভাবলাম আমাদের দেশের মত বুঝি টিকেট আটকে রেখেছে বেশি দামে বেচবে জন্য।
একটু পর পর মোস্তাক সেই কাউন্টারে গিয়ে খোঁজ নিয়ে আসছে যে, নিউ জলপাইগুড়ি যাবার ট্রেনে সিট হবে কিনা। আমরা এতবার ওই লোকের কাছে গিয়েছি যে শেষে বিরক্ত হয়ে আমাদের তিনি বলেছেন “লিখকে দু ক্যায়া কই সিট খালি নেহি”
হতাশ আমরা যে কি করব অবশেষে ঠিক করলাম জেনারেল টিকেট করব,তখনও বুঝি নাই জেনারেল টিকেট কি জিনিস, মোস্তাক টিকেট করে আনল।টিকেট নেয়ার পর দেখি কোন সিট নং নেই ২ জনের ভারা মাত্র ৩৪০!!
আমি বললাম একি!! ১৭০ রুপি!! সিট নং নাই!! এই জন্য কি এত কম? টিকেট কাটা শেষ বোকামি করে ফেলেছি আমি হতাশ হয়ে ষ্টেশনে ঘুরতে লাগলাম এতদূর যাব সিট নাই কিভাবে কি করব।আমি আবার প্লাটফর্মে খোঁজ নিতে গেলাম ওই ট্রেন কত নম্বরে দাঁড়াবে। প্লাটফর্মে যেয়ে দেখি অনেক লোকজন বিভিন্ন জায়গাতে লাইন করে বসে আছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।আমি কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করলাম একজনকে এখানে এইরকম লাইন কিসের সে বলল এটা জেনারেল লাইন,আগে উঠতে পারলে সিট পাবে। শুনেই আমি দৌড় লাগালাম মোস্তাককে ধরে আনতে,আমাদেরও জেনারেল টিকেট আমাদেরও লাইনে দাঁড়াতে হবে সিট পেতে হলে।এবার আমরা খুজতে শুরু করলাম আমাদের কাঞ্চনকন্যা ট্রেন এর লাইন কোথায়!!অবশেষে পেলাম সেই লাইন প্রথম ভেবেছি অল্প,পরে টের পেলাম লাইন অনেক দূর।লাইনের শেষে যেয়ে আমরা পেপার পেতে বসে পরলাম কারন তখনও ট্রেন আসতে বা ছাড়তে অনেক দেরি।তাছাড়া সারাদিন এভাবে হেটে হেটে ঘুরে আমরা খুবই ক্লান্ত ছিলাম।
জেনারেল লাইনে ট্রেনের অপেক্ষায় বসে আছি।

লাইনে বসে আমরা বেশ মজা করলাম,আমাদের সামনে আমাদের থেকে ছোট হবে বয়সে এমন একজন ছেলের সাথে পরিচয় হ্ল।আমার একটা ব্যাপার খুব করেছি সেটা হল যখনই কার সাথে কথা হয়েছে আমরা সরাসরি বলেছি আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি,দার্জিলিং যাচ্ছি ঘুরতে।এরপর আমাদের লাইনের শেষে আরও একজন ছেলে এসে হাজির এবার তার সাথেও গল্প জুড়ে দিলাম সে বলল লাইন আজকে কম আছে নিশ্চিত আমরা সিট পেয়ে যাব।আমারা শুনে বেশ খুশি হলাম। এবং আমরা সিট পেয়েছিলাম জেনারেল ক্লাস বগিতেই!!
জেনারেল ক্লাস যতটা খারাপ ভেবেছিলাম তা নয় আমাদের দেশের শোভন থেকে ভাল যদি সিট পান কপাল গুনে।
সারা পথ আমরা গল্প করতে করতে কাটালাম।
১৫.০২.২০১৬
সকাল ৭.৩০ নাগাদ আমরা নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে গেলাম,ষ্টেশনে নেমে আমি অবাক কলকাতাতে ঠাণ্ডা নেই বিন্দু মাত্র অথচ সকাল বেলা এখানে বেশ ঠাণ্ডা।
নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশনে

নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশন দেখেও আমি অবাক বেশ বড় ষ্টেশন।ষ্টেশন থেকে বের হয়ে সোজা সকালের কাজ কর্ম সেরে চলে গেলাম নাস্তা করতে,গতদিন ঠিক মত খাওয়া হয়নি তাই পেটে আসলে ক্ষিদা,ষ্টেশনের পাশে রেস্তরাঁতে ঢুকে খাবার কি আছে জানতে চাইলাম সকাল বেলা সাধারণত ওরা মনে হয় পরটা জাতিয় কিছু খায়,আর আমারও অনেক দিনের শখ আলু পরটা খাবার। অর্ডার করলাম আলু পরটা।আমার বেশ ভাল লেগেছিল আলু পরটা সাথে তরকারি আর চাটনি।আমি ২ টা পরটা শেষ করে ফেললাম মোস্তাক একটা খেয়ে কুপোকাত পেট ভরে গেছে ওর, ও যেহেতু একটা পরটা খায়নি ধরেও নাই তাই ওদের বলল যে এটা লাগে নাই নিয়ে নিতে পারেন।আমাদের কোথায় তারা যেন আকাশ থেকে পরল,বলে পরটা ফেরত নেয়া যাবে না,এটা তারা অন্য কাউকে দিতে পারবে না ফেরত হবে না।আমিও আর কথা বারালাম না নতুন জায়গা কি থেকে কি বলব।খালি বললাম যে তাহলে কি প্যাক করে দেওয়া যাবে? সাথে সাথে সে ফয়েল পেপারে পরটা প্যাক করে দিয়ে দিল। বিল দিতে যেয়ে শুনি বিল ২ জনের ৮০ রুপি পার হেড ৪০ রুপি বিশাল বিশাল আলু পরটা সাথে তরকারি ও চাটনি।
খাওয়া শেষে আবার ষ্টেশনে এসে ১৭.০২.২০১৬ এর টিকেট করলাম পদাতিক এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিয়ালদাহ!!নাহ এবার আর জেনারেল নয় স্লিপার ক্লাস ভাড়া ৩৫০ রুপি করে।
টিকেট করে চলে গেলাম ষ্টেশনের সামনে, একটা জিপ দাঁড়িয়ে ডাকছিল দার্জিলিং দার্জিলিং বলে কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম যেতে চাই কত? ২০০ রুপি পার হেড, রাজি হয়ে উঠে পরলাম দেখি ভেতরে আরও ৫ জন আছে যাক আমাদের ভয় নেই তবে।আরও ২ জন লোক পেলে তবে ছাড়বে জিপ।কিছুক্ষণ পর আর ২ জন একসাথে এলো তাদের মধ্যে একজন বিদেশী।তখনও ভাবি নাই এই বিদেশীই এই সফরে অনেক ভাল বন্ধু হয়ে যাবে।
আমাদের সারিতে প্রথমে মোস্তাক,তারপর আমি,আমার পাশে শেষে আসা দুই জনের একজন এবং তার পাশে সেই বিদেশী!!জিপে যেতে যেতে আমার পাশে বসে থাকা ছেলেটি আমার হাতে ওয়াল্টন মোবাইল দেখে ইন্ডিয়ানদের মত বাংলায় জিজ্ঞেস করল বাংলাদেশ থেকে নাকি কোথায় বাড়ি আলাপ করতে লাগল যখন শুনল আমার বাড়ি খুলনা সে বলল তার আত্মীয় আছে খুলনা আমি তখনো বুঝতে পারি নাই যে উনিও বাংলাদেশী উনার ওই স্টাইল বাংলা শুনে।পরে জানতে পারলাম উনার বাড়ি যশোর,বিদেশীর সাথে তার ট্রেনে পরিচয়।এভাবে গল্প করতে করতে আমারা শিলিগুড়ি ছাড়িয়ে কখন যে পাহাড়ি রাস্তায় চলে এলাম।এই রাস্তায় জিপ খুবই রাফ চালাচ্ছিল।প্রতি বাঁকে জিপ এমন ভাবে বাঁক নিতেছিল আমাদের মনে হচ্ছিল এই বুঝি জীবন সমাপ্ত,সোজা পাহাড় থেকে পরে খাঁদে!! এই সময় আমার বন্ধু মোস্তাক চিৎকার করে উঠল,বন্ধু আমি আজকে মরে যাব আল্লাহ্‌র দোহাই লাগে আমারে গাড়ি থেকে নামায় দে!!
কিন্তু আমি জিপে খুবই উপভোগ করছিলাম। আমি বন্ধু মোস্তাকে বললাম একটু ধৈর্য ধর আমার অনেক মজা লাগছে।এভাবে প্রায় ১.৩০ ঘণ্টা চলার পর রাস্তার পাশে ছোট একটি রেস্তোরাঁতে বিরতি দিল সবাই গাড়ি থেকে নেমে হালকা চা-পানি খেয়ে নিলাম ড্রাইভার তার জিপ চেক করে নিল সব ঠিক আছে কিনা,আবার চলা শুরু করলাম আমরা,পাহাড়ে বাঁক নিতে নিতে আমরা ধিরে ধিরে উপরে উঠতে লাগলাম। যত উপরে উঠতে লাগলাম ঠাণ্ডা বাড়তে লাগল,আবহাওয়া খুবই চমৎকার ছিল।
ঘুম ষ্টেশন।

প্রায় ৪০ মিনিট চলার পর আমার পাশের আজমল ভাই শুরু করল ভাই গাড়ি রাখতে বলেন আমার প্রবলেম হচ্ছে,আমি ড্রাইভার কে বললাম যদি প্রবলেম না থাকে একটু থামাতে একজনের প্রবলেম হচ্ছে,ড্রাইভার লোক ভাল ছিল সাথে সাথে রাস্তার পাশে কিছু গাছ (পাইন গাছ মনে হয়) তার কাছে গাড়ি থামাল, আমা্রা আবার সবাই নেমে পরলাম।নেমেই আমি অবাক হয়ে সেখানকার দৃশ্য দেখতে লাগলাম। সারি সারি পাইন গাছ,গাছের শেষে পাহাড় শেষ তার ওপাশে কুয়াশা!!আমার ইচ্ছা ছিলনা ওখান থেকে চলে আসি।আমরা আবার চলতে শুরু করলাম যেতে যেতে রাস্তায় ট্রয় ট্রেনের দেখা পেলাম।আশে পাশের পাহাড় দৃশ্য দেখতে দেখতে ৩ ঘণ্টা সফর শেষে পৌঁছে গেলাম দার্জিলিং!!!
গাড়ি থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে দিতে না দিতেই আশে পাশে হোটেলের দালাল ঘুর ঘুর করতে লাগল।প্রথমে আমরা সেদিক পাত্তা না দিয়ে নিজেরা ঠিক করলাম যে কি করব,যেহেতু আজমল ভাই বাংলাদেশী উনিও একা এসছেন তাই ভাইকে বললাম ভাই একসাথে থাকবেন নাকি? তাহলে আমাদের সবার খরচ কমে যাবে।উনি রাজি হয়ে গেলেন।আমরা দেখি সেই বিদেশী দাঁড়িয়ে আছে নিজের মোবাইল বের করে কি যেন দেখছে,আমি আজমল ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম ভাই যেহেতু এতদূর একসাথে আসছেন আপনি তাকে জিজ্ঞেস করেন যে উনি কি করবেন। ভাই তাকে যেভাবে জিজ্ঞেস করল তাতে ভাইয়ের ইংরেজি সম্পরকে আমাদের ধারনা হয়ে গেল।আমাদের মোস্তাক আবার ইংরেজিতে অনেক ভাল এইবার ও কথা শুরু করল। হাঁটতে হাঁটতে আমরা কথা বলতে লাগলাম ২ মিনিট আমাদের সাথে সেই বিদেশী কথা বলেই খুব ইজি হয়ে গেল যখন জানতে পারলাম জার্মানি থেকে এসেছে।মোস্তাক মাঝে জার্মানি যাবার জন্য জার্মান ভাষা শিখেছিল সেখান থেকে কিছু ঝেড়ে দিল সে বিদেশী আরও খুশি!!
পথে আমরা এক দালাল পেলাম যে আমাদের খুব করে ধরল তাদের হোটেল দেখে আসার জন্য আমরাও তার পিছু পিছু গেলাম সেখানে যেয়ে দরদাম করে ঠিক হল ৪০০ রুপি করে খাবার সহ।বেশ আমরাও খুশি কিন্তু যখনই বললাম বাংলাদেশ থেকে ৩ জন ১ জন জার্মানি থেকে সেখান থেকে জানিয়ে দিল তাদের নাকি বাংলাদেশী রাখার পারমিশন নেই তারা আমাদের ইন্ডিয়ান মনে করেছিল। বাইরে এসে ছেড়ে দিলাম সেই দালালকে।কি করব আমরা কিছুই জানি না কারন আমরা হটাৎ করে দার্জিলিং চলে এসেছি কোন রকম ইনফর্মেশন ছাড়াই।এবারে সেই বিদেশী যার নাম এখন পর্যন্ত আমরা জিজ্ঞেস পর্যন্ত করিনি সে বলল সে ভাল কিছু হোটেলের নাম নিয়ে আসছে চাইলে আমরা সেখানে যেয়ে দেখতে পারি।আমি আর মোস্তাক টেনশনে পরে গেলাম সে বিদেশী নিশ্চয়ই অনেক ভাল হোটেলের খোঁজ নিয়ে এসেছে যার ভাড়া হয়ত অনেক বেশি হবে তবু আমরা ৩ জন ঠিক করলাম যে যাই, আমরা যেহেতু চিনি না কিছুই তাই তার সাথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম লোকজন এর কাছে শুনে শুনে আমরা বিভিন্ন হোটেলের নাম রোড নাম বলতে লাগলাম কিন্তু কোনটাতেই আমরা থাকার মত রুম পেলাম না।তখন The Aliment নামক একটি হোটেলের সামনে থেকে যাবার সময় জার্মানি বন্ধু বলল সে এই হোটেলের নামও এনেছে কিন্তু এটা অন্য গুলার থেকে এক্সপেন্সিভ হবে।তারপরও আমরা ঢুকলাম,রিসিপশন থেকে জানান হল যে রুম আছে ২ টা ডাবল রুম নিলে এক একটা রুম পরবে ৭০০ রুপি করে র যদি ৪ জন থাকার মত বড় একটা নেই এক রুম ১০০০ রুপি মানে আমাদের জন প্রতি মাত্র ২৫০ রুপি!! আমরা জার্মানি বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম,সে আমাদের সাথে রুম শেয়ার করে থাকবে কিনা সে কোন আপত্তি জানাল না বরং খুশি হল।আমারা তাকে প্রথম অনেক খরুচে মনে করেছিলাম কিন্তু পরে দেখলাম সেও আমাদের মত বাজেট করে ঘুরছে আরও অবাক হয়েছি শুনে যে ৩ মাস যাবৎ ইন্ডিয়াতে ঘুরছে।অনেক ঘুরে আমরা হোটেল পেয়ে গেলাম উঠে পরলাম হোটেলে রুম আমাদের সবার পছন্দ হল বিশাল রুম একটা কিং সাইজ বেড(আমাদের মতে) আর অন্য পাশে একটা সিংগেল বেড সাথে বাথরুম গিজার সহ।রুমে আসার পর একজন এসে আমাদের সবের পাসপোর্ট নিয়ে গেল বলল এন্ট্রি করে দিয়ে যাবে,এন্ট্রি করে দিয়ে গেল পাসপোর্ট।
এদিকে আমাদের মোস্তাক জামা কাপড় কিছুই নিয়ে আসে নাই,এক জামা কাপড়ে চলে আসছে পকেটে শুধু টাকা আর পাসপোর্ট নিয়ে ওর কাছে শীতের জামা কাপড় নাই তাই আমাদের একটু তাড়াতাড়ি বের হতে হবে। বাথরুমে প্রথমে জার্মান বন্ধু উলি গেল,আমার উলির সাথে পরিচিত হয়েছি হোটেলে রুমে উঠার পর যে হেই আমি অমুক তুমি তখন সে তার নাম জানাল উলরিশ তাকে আমরা উলি বলে ডাকতে পারি।ইন্ডিয়াতে সে ৩ মাস ঘুরছে এরপর যাবে সিক্কিম সেখান থেকে মিয়ানমার,কম্বোডিয়া,ইন্দোনেশিয়া হয়ে তারপর সে দেশে ফিরবে।
ওর কথা শোনার পর বড়ই আফসোস হতে লাগল,আমরাও যদি এমন পারতাম ইশশ!!!!
রুম থেকে ফ্রেস হয়ে সবাই বের হলাম সন্ধার আগ দিয়ে বেশ ঠাণ্ডা পরে গেছে আমরা সবাই কম বেশি কিছু পরা আছি শুধু মোস্তাক একদম কিছু নেই একটা জামা। তাড়াতাড়ি আমরা ম্যাল রোড সংলগ্ন দোকান থেকে মোস্তাকের শীতের কাপড় কিনে ম্যাল রোডের দিকে হাটা দিলাম।সন্ধ্যা হয়ে যাওয়াতে আমরা আর কথাও যেতে পারিনি ম্যালে কিছুক্ষণ বসেছিলাম তারপর সামনে কিছু দূর যাওয়ার পর অনেক খারা একটা রাস্তা আছে সেদিক যেতে লাগলাম খারা উপরে একটা মন্দির আছে সবাই মিলে ওই মন্দিরে গেলাম।মন্দিরে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে আবার ফিরে আসলাম ম্যাল রোডের দিকে রাত হয়ে গেল ঠাণ্ডা বেশ,আমারা টুকটাক খেয়ে ফিরে এলাম আমাদের রুমে।

সেই মন্দিরে।

এসে সবাই মিলে কার্ড খেলতে বসে গেলাম উলি কার্ড বের করে দিল ওর কাছে ভাল কিছু বিস্কিট ছিল আমাদের খাওয়াল রাতে আমরা কার্ড খেলার পর ঘুমাতে গেলাম আমরা ৩ বাংলাদেশী কিং সাইজ বেড(আমাদের মতে) আর উলিকে সিঙ্গেল বেড দিয়ে দিলাম।


১৬.০২.২০১৬
অনেক সকালে আমার আকবের ঘুম ভাঙল জানালার কাচ ঘোলা বাইরে কিছু দেখতে পেলাম না আর বেশ ঠাণ্ডা তাই উঠে বাইরে যাবার ইচ্ছা হারিয়ে আবার ঘুমিয়ে গেলাম।।
সকালে উঠলাম দেরী করে উঠে ফ্রেশ হবার আগে চলে গেলাম ছাদে সকাল বেলা ছাদ থেকে দার্জিলিং দেখতে লাগলাম অপূর্ব।
ছাদ থেকে দার্জিলিং।
সবাই বাইরে আসলাম আমি বললাম টাইগার হিল যাব,এদিকে আসলে অনেক দেরী হয়ে গেছে তেমন আগ্রহ দেখাল না কেউ।তারপরও আমরা হোটেলের নিচে আলাপ করলাম তারা বলল নিয়ে যাবে আসবে ১০০০ রুপি দিতে হবে সাথে বাতাসিয়া লুপ ঘুরিয়ে আনবে।আমরা সকালের নাস্তা করতে চলে গেলাম।আমার ইচ্ছা ছিল আবার সেই আলু পরটা কিন্তু বন্ধু মোস্তাক ভাত ছাড়া খাবেই না,তাই ভাত সহ থালি অর্ডার করলাম ৯০ রুপি করে।এখানকার একটা ব্যাপার খুব ভাল লাগল অর্ডার করার পর সব কিছু রান্না করে দেয় একদম গরম গরম।খাবার আসার পর আমরা খেয়ে দেয়ে সেই বিখ্যাত গোলাপজামুন খেলাম ১০ রুপি পার পিস। খাবার শেষে এসে দেখি তারা নেই চলে গেছে কি করব বুঝতে পারলাম না।কোন আইডিয়া নাই কই যাব দেখার কি আছে।উলি বলল এখান থেকে কিছু দূরে রোপওয়ে বা ক্যাবল কার আছে চল সেখানে যাই আমরা ও রাজি হয়ে গেলাম।যাবার পথে উলি সিক্কিম যাবার পারমিশন নিয়ে নিল।গত দিন খেয়াল করিনি আজকে খেয়াল করলাম আমরা যে রোড দিয়ে ম্যালে যাই তার মাথায় সেই Kentors (roof top café) Barfi সিনেমাতে এখানে কিছু সিন আছে যেখান থেকে দার্জিলিং মিনিসিপালটি বিল্ডিঙের সেই বিশাল ঘড়ি দেখা যায়।

আমরা ঠিক করলাম হাঁটতে হাঁটতে যাব রোপয়েতে উলি তার মোবাইল বের করে ম্যাপ বের করে আমাদের নিয়ে হাঁটতে শুরু করল আমরাও হাঁটতে হাঁটতে চললাম তার সাথে,আমরা যেখানে খাবার খাই ওটা আমাদের হোটেল থেকে কাছে ছিল,এই রাস্তায় নামতে নামতে কিছু দূর যাবার পর আরও ২ টা রেস্টুরেন্ট দেখলাম,সেখানে দেখলাম আমরা যে থালি ৯০ রুপি করে খেয়েছি সেখানে একই থালি ৫০-৬০ রুপি!!।নিজেদের নিজেরা গালি দিতে লাগলাম একটু রাস্তা আসলে ৩০-৪০ রুপি করে বেঁচে যেত আগের দোকানে আমরা ৩ বার খেয়েছি।যেতে যেতে ঠিক করলাম এরপর থেকে খাবার আমরা এই দোকানে।হাঁটতে হাঁটতে আমরা পথে চিপস,পানি কিনলাম খেতে খেতে চলতে লাগলাম।

রোপ ওয়েতে যাবার পথে।
দার্জিলিং কলেজ ছাড়িয়ে এগিয়ে যেতে লাগলাম।পৌঁছে গেলাম রোপ ওয়েতে ১৫০ রুপি করে টিকেট করে চরে বসলাম,অন্য রকম ভাললাগা পাহাড়ের উপর থেকে নিচে খুব ধিরে ধিরে নামছি উপর থেকে পাহাড়,চা বাগান দেখতে দেখতে নিচে নামতে লাগলাম।নিচে নামার পর ২০ মিনিট সময় দেওয়া হল ঘুরার জন্য।আমরা ছবি তুলে,ঘুরে আবার উপরে চলে এলাম।

উলি আর আমি মম খেলাম আমার আর উলির বেশ ভাল লাগত মম আজমল ভাই আর মোস্তাক কেউই মম খেতনা।ওইখান থেকে বেরিয়ে আমরা St. Joseph School(Main Hoon Na সিনেমার শুটিং হয়েছিল এখানেই) এর সামনে গেলাম ভিতরে ঢুকতে চাইলাম কিন্তু দিলনা সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকটা ছবি তুলে আমরা আবার মেইন শহরে ফিরে গেলাম শেয়ায় জিপে করে ১০ রুপি করে নিয়েছিল মনে হয়।
St. Joseph School

আমাদের প্লান ছিল ওইখান থেকে ফিরে আমরা ট্রয় ট্রেনে ঘুম ষ্টেশন পর্যন্ত যাব তারপর আবার ব্যাক করব।আমরা দার্জিলিং ষ্টেশন গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ঘুম যাব ট্রেন কখন?জবাবে তিনি জানালেন,আজকে আর ট্রেন নাই আবার কালকে সকালে।আমরা স্টেশনে বসে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম কোথায় যাব এখন আর।ষ্টেশন থেকে পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়ছে,সবাই বসে মুগ্ধ হয়ে সেদিক তাকিয়ে থাকলাম।
দার্জিলিং ষ্টেশন থেকে।

এরপর উলি বলল চল আমরা অবসেমেটরি হিল যাই।দার্জিলিং বাজার থেকে খোলা চিপস পাওয়া যায় আলুর আমরা আবার সেগুলো কিনে তাড়াতাড়ি পা চালাতে লাগলাম অন্ধকার হয়ে গেলে আর কিছুই দেখতে পাবনা হল তাই সেখানে পৌছাতে পুরো সন্ধ্যা অন্ধকার হয়ে গেল কিছুই দেখতে পেলাম না অন্ধকার পাহাড় ছাড়া।হেঁটে আমরা আবার ম্যাল রোডের দিকে চলে এলাম,কিছু দোকান ঘুরে বেড়ালাম উলি এবারে বলল সে দার্জিলিং এর চা খাবে ম্যাল রোডে নাম করা একটা চায়ের দোকানে ঢুকল সে প্রায় ৩০০ রুপি খরচ করে আমাদের ৩ জন এর কারো খাবার শখ হল না। আমাদের জন্য রাস্তার পাশের ১০ রুপির চা ভাল!!!

আশে পাশে অনেক ঘুরাঘুরি করে আমরা চাওমিন খেলাম।এখানকার একটা ব্যাপার স্ট্রিট ফুডগুলো অসাধারন।রাতে আমরা খাবার জন্য নিচের সেই দোকানে গেলাম খেতে, কাউন্টারে বেশ সুন্দরী একজন মেয় বসাছিল। আমরা ভাতের থালি অর্ডার করলাম এইবার আমাদের দেখাদেখি উলিও ভাত খেতে চাইল।ওর জন্য ভাতের থালি নেয়া হল এবং সে চেষ্টা করল আমরা যেভাবে হাত দিয়ে খেয়েছি সেই ভাবে খাবার জন্য। উলি একদমি ঝাল খেতে পারেনা সামান্য চিপসের ঝাল সে খেতে পারে না।অথচ ওই চোখ মুখ লাল করে সে পুরো ভাত খেয়েছিল ঝালে তার চোখ মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল তারপরও সে অনেক তৃপ্তি করে আমাদের মত করে ভাত খাবার চেষ্টা করেছিল আমি সত্যি অবাক হয়েছিলাম উলির এই কাণ্ডে!
আমরা দোকানে ঢোকার পর থেকেই সুন্দরী মেয়টি নানা ভাবে তার বান্ধবির সাথে আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করছিল। আমাদের ভাত খাওয়া শেষ হলে আমরা চায়ের অর্ডার করলাম আমরা সেখানে অনেক মজা করছিলাম মেয়টি একবার এসে আমাদের বলে গেল যে সে সব ধরনের ভাষা বোঝে তাকে যেকোন ভাবে বললে হল।চা আসার পর আজমল ভাই বলে উঠল আমার আরও কড়া চা লাগবে এবারে উলি জানতে চাইল যে আজমল ভাই কি বলেছেন আমরা প্রথমে কোন ভাবেই উলিকে বোঝাতে পারছিলামনা কড়া চা কি জিনিস!! এইবারে মোস্তাক বলল সুযোগ পাইছি ওই মেয়কে দেখ এইবার হাসি বের করব।মোস্তাক খুব স্বাভাবিক ভাবে তাকে ডাক দিল ম্যাডাম একটু এদিকে আসবেন হেল্প দরকার মেয়েটি খুব হাঁসতে হাঁসতে কাছে এসে বলল কি হেল্প লাগবে মোস্তাক তাকে বলল আপনিত বললেন আপনি সব ভাষা বোঝেন আমরা একটা জিনস এই লোককে বুঝাতে পারছিনা আপনি একটু তাকে বুঝিয়ে দেন।তাকে জার্মানি ভাষায় বুঝয়ে দেন আমাদের এই ভাইয়ের কড়া চা লাগবে,তার মুখ থেকে হাসি মুছে গেল কি বলবে ভেবে পেল না স্যরি বলে একদৌড় দিয়ে আমাদের কাছ থেকে আবার কাউন্টারে যেয়ে বসল।আমরা বিল মিটয়ে দিয়ে আবার মিষ্টির অর্ডার করলাম এইবার আর বসলামনা দেখলাম মেয়েটি বেশ লজ্জিত আমাদেরও খারাপ লাগল।মিষ্টি নিয়ে আমরা উলি কি যেন বললাম বাংলায় সে না বুঝে হা করে তাকিয়ে থাকল ভাবলাম এই সুযোগে মেয়েটিকে হাসিয়ে যাই। আমি বলে উঠলাম ধুর উলিকে দেখিয়ে এই শালা বাংলা বোঝেনা কি বিপদ!! এতেই কাজ হল মেয়েটি আবার খিল খিল করে হাঁসতে শুরু করল আমার বিদায় নিয়ে রুমে ফিরে এলাম।
১৭.০২.২০১৬
সকাল সকাল উঠে আজমল ভাই বিদায় নিলেন উনি আগেই চলে গেলেন।আমাদের ট্রেনের টিকেট আজকের আমাদেরও আজকে চলে যেতে হবে।আমরা উলিকে সহ বের হলাম হোটেল থেকে চেকআউট করে সকালের খাবার খেয়ে উলির সাথে গেলাম উলিকে তুলে দিতে সে সিক্কিমের রাভাংলা নামক কোন এক জায়গা যাবে।
হোটেল থেকে বের হবার সময় উলির সাথে আমাদের শেষ ছবি।

আমরা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে গেলাম অনেক্ষন সময় নষ্ট হল অবশেষে এক ট্যাক্সি রাজি হয় উলিকে নিয়ে যেতে।উলিকে বিদায় দেবার পালা মোস্তাক উলির জন্য সেই আলুর চিপস কিনে আনল এটা ওর খুব পছন্দ হয়েছিল,ওর হাতে দিয়ে ওকে বিদায় দিয়ে ফিরে যাব এই সময় মোস্তাক আবার ঘুরে দাঁড়াল উলিকে ডেকে উলিকে জড়িয়ে ধরে উলিকে বুঝিয়ে বলতে লাগল আমরা বাঙ্গালীরা আবেগ প্রবন আমারা যাদের বন্ধু মনে করি তাদের বিদায় দিতে কষ্ট হয় আর তাদের আমরা এভাবে জড়িয়ে ধরে বিদায় দেই!!উলি কিছুক্ষণ মোস্তাকের দিক তাকিয়ে ছিল এরপর আমার দিক নিজেই এগিয়ে এল আমিও উলিকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানালাম।
আমরা কিছু দূর আসার পর একটা জিপ পেয়ে গেলাম সেটা শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাবে উঠে পরলাম ছেড়ে যাচ্ছি দার্জিলিং!!! আবার সেই পাহাড়ি রাস্তা এবার শুধু নামছি ১.৩০ ঘণ্টায় শিলিগুড়ি পৌঁছে গেলাম
শিলিগুড়ি নেমে শিলিগুড়ি কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে নিউ জলপাইগুড়ি চলে গেলাম।খেয়ে নিলাম,খেয়ে সোজা চলে গেলাম ষ্টেশনে।ট্রয় ট্রেনের প্লাটফর্মে বসে থেকে বিকাল পার করে দিলাম বসে বসে হিসাব করলাম এই কয়দিনের খরচ।সন্ধার দিক চলে আসলাম আমাদের নির্ধারিত প্লাটফর্মে নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন আসলে নিজেদের সিট খুজে উঠে বসি অনেক ক্লান্ত ছিলাম কিছুক্ষণ পর আমরা ঘুমিয়ে যাই পরদিন সকালে খুব ভোর বেলা আমরা কলকাতা পৌঁছে যাই।


গত সেপ্টেম্বর মাসে আমি দিল্লি,আগ্রা ঘুরে এসেছি পরবর্তীতে সেটা নিয়ে লেখার চেষ্টা করব।
পরের প্লান (মার্চ-১৭) সারাফাত রাজ ভাইয়ের রুট অনুযায়ী সিমলা-মানালি।
ছবি তোলার ব্যাপারে আমি বরাবরই কৃপণ বলতে পারেন,সেভাবে ছবি তুলি না জন্য ভাল ছবি দিতে পারি নাই।সবাই যখন ছবি তোলায় ব্যাস্ত থাকে,আমি আমার দু চোখ দিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখি।আর আমার যে কয়টি ছবি ছিল, ছবিগুলো মোবাইলে ব্যাকআপ ছিল যা আমার পিসিতে নেই।আমার মোবাইল চুরি হয়ে যাবার কারনে আমি অনেক ছবি দিতে পারিনি।
আমি ভারতীয় ভিসা নিয়েছি ২ বার একবারও আমি আপনাদের কথা মতে দালাল ধরে করিনি।নিজের ই-টোকেন নিজে করেছি।মোস্তাকের প্রথম ভিসা ছিল ব্রকার দিয়ে করান।পরবর্তীতে আমি মোস্তাকের আরও ২ বার ই-টোকেন করে দিয়েছি।
আমার নিজের প্রথম ই-টোকেন আমি নিজে প্রায় ১ মাস চেষ্টার পর পেয়েছিলাম।আমার একটা জেদ ছিল ই-টোকেনের জন্য আমি কাউকে ১ পয়সা দেব না,দেইনি। আমি ২ বার নিজেরটা নিজে তুলেছি,ভিসা ও পেয়েছি ২ বার।
লেখায় অনেক ভুল ত্রুটি আছে, সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

Happy Travelling smile :) :-)

ব্লগটি প্রথম প্রকাশ ঃ ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৪৭
ভ্রমন কথামালা-স্বপ্নের দার্জিলিং

glqxz9283 sfy39587p07