Skip to content

শাবি ছাত্রলীগ নিয়ে দু'টি কথা: পর্ব-৩

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

২য় পর্বে আমি লিখেছিলাম ২০১২ সালের ডিসেম্বরে যে কাউন্সিল হয়েছিলো সেটি কোন কমিটি ঘোষনা ছাড়াই শেষ হয়েছিলো। উল্লেখ্য কাউন্সিল পূর্ববর্তী সময়ে শাবিতে কোন ধরনের সদস‌্য সংগ্রহ হয়নি; স্বাভাবিকভাবেই হয়নি কোন ক্লাস কমিটি, কোন বিভাগ, কোন ফ্যাকাল্টি এবং হল কমিটি। ফলাফলবিহীন কাউন্সিলের সমাপ্তি ঘটে ৫ মাস পর ২০১৩ সালের মে মাসে। সাতজনের নাম উল্লেখপূর্বক একটি আংশিক কমিটি কেন্দ্র থেকে প্রেসরিলিজ আকারে হুট করে মে ২০১৩ তে প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত আংশিক কমিটি নিয়ে প্রথমেই যে বিষয় নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে উঠে সেটি হলো সিনিয়র-জুনিয়ার ক্রম না মানা। আসুন দেখি কে কোন শিক্ষাবর্ষের।

সভাপতি- সঞ্জিবন চক্রবর্তী পার্থ: ২০০৬-২০০৭
সহসভাপতি- আবু সাঈদ: ২০০৬-২০০৭ , রঞ্জিত দেব:২০০৬-২০০৭ , অঞ্জন রায়: ২০০৫-২০০৬
সাধারণ সম্পাদক- ইমরান খান:২০০৯-২০১০
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক-সাজেদুল ইসলাম সবুজ: ২০০৭-২০০৮
সাংগঠনিক সম্পাদক-সুপ্রজিৎ চৌধুরী:২০০৬-২০০৭

শাবি'তে রাজনীতিতে সিনিয়র-জুনিয়র ভালোভাবেই মেইনটেইন করার ঐতিয্য আছে। খোজ নিয়ে দেখা যায়, প্রথম সমস্যাই হলো সভাপতি ও সহসভাপতির মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র সমস্যা। ২০০৫-২০০৬ ব্যাচের অঞ্জন রায়কে করা ৩য় সহসভাপতি; যেখানে সভাপতি ২০০৬-২০০৭ এর , এমনকি ১ম ও ২য় সহসভাপতি ও ২০০৬-২০০৭ এর। আবার দেখা যায় ২০০৬-২০০৭ এর সুপ্রাজিতকে করা হয় সাংগঠনিক সম্পাদক কিন্তু জুনিয়র ২০০৯-২০১০ এর ইমরান ও ২০০৭-২০০৮ এর সবুজকে যথাক্রমে সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ৭ জনের আংশিক কমিটি ঘোষনার পরপরই এই সিনিয়র, জুনিয়র ইসুকে কেন্দ্র করে পদ বন্চিতদের বিদ্রোহ করা সহজ হয়ে উঠে।

সিনিয়র-জুনিয়র ইসুর সাথে যোগ হয় সিলেটের আঞ্চলিক গ্রপিং ইসু। বলা হয় , কমিটি হয় সিলেট শহরে নাদেল এর সমর্থনে। তিনি নিজে একটা নেন আর অন্যটা যারে দিয়ে খুশি করা যায়। হতে পারে নাসির ভাই, হতে পারে অন্য কেউ। সিলেটের নাদেল ও নাসির কেন্দ্রের লিয়াকত শিকদার এর বন্ধু হিসেবে পরিচিত। লিয়াকত শিকদারের প্রভাবেই নাদেল ও নাসির এখনো সিলেটে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ন্ত্রন করে বলে অভিযোগ আছে।

খোজ নিয়ে দেখা যায়, ৭ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটিতে নাদেল এর ভাগে পড়ে সাধারন সম্পাদক ইমরান খান এবং নাসির এর ভাগে পড়ে সভাপতি সঞ্জিবন পার্থ। শুধু তাই নয়, নাদেল তার ভাগে আরো পায় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক-সাজেদুল ইসলাম সবুজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুপ্রাজিত এবং নাসির ভাগে পায় সহ-সভাপতি রঞ্জিত ও সবুজ। ফলে এই আংশিক কমিটিতে নাদেল-নাসিরের প্রাধান্য সবার নজরে আসে; শুধু অঞ্জন আসে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মেজবাহ সিরাজের ভাগ থেকে। সিলেটের আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই কমিটিতে অন্য সব লোকাল নেতা নিজেদের বঞ্চিত ভাবতে থাকে।

ফলে এই কমিটি ঘোষনার পরপরই সাবেক আহবায়ক সুমনকে ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা করা হয়। শুধু তাই নয়, সুমনের পরপরই সাধারণ সম্পাদক ইমরানকে ও চরম আঘাতে জর্জরিত হতে হয়। প্রচলিত আছে, পদবঞ্চিত ক্যাম্পাসের নেতারাই সিলেট শহরের বঞ্চিতভাবাপন্ন নেতাদের প্রশ্রয়ে সুমন ও ইমরানকে আহত করে ক্যাম্পাসের দখল নেয়।

কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির বিরোদ্ধপক্ষ ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান নেয়। এর নেতৃত্বে থাকে অঞ্জন। এদিকে সুমনকে আহত করার দায়ে কেন্দ্র থেকে বহিস্কৃত হওয়া উত্তম ও অবস্থান নেয় অঞ্জনের সাথে।ফলে নাদেল-নাসের এর পার্থ-ইমরানের পরিবর্তে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রন নেয় মিজবাহ সিরাজ ও বিধানের অঞ্জন-উত্তম।

অভিযোগ আছে অঞ্জন এবং উত্তমকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করে আসছিল বর্তমান প্রক্টর ও তার সহযোগিরা। কেন্দ্র ঘোষিত আংশিক কমিটির নেতারা প্রক্টরের কাছে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য সহযোগিতা চেয়ে ও ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আছে।এর প্রেক্ষিতেই সিনিয়র-জুনিয়র ইসু এবং সিলেটের আঞ্চলিক নেতাদের গ্রুপিং ইসুর সাথে যোগ হয় শিক্ষক রাজনীতি। প্রক্টর ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে গড়ে উঠে শিক্ষকদের প্রক্টর বিরোধি গ্র্যুপ। জানা যায়, শিক্ষকদের মধ্যে এই ছাত্র রাজনীতিতে কেন্দ্র করে স্পষ্টত দুই গ্রুপ হয়ে যায়- প্রক্টর ও ভিসিপন্থি গ্রুপ যারা ক্যম্পাসের ভেতরে অঞ্জনও উত্তমকে সহায়তা দিচ্ছিলো এবং প্রক্টর ও ভিসিবিরোধি গ্রুপ যারা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রনহীন কেন্দ্র ঘোষিত আংশিক কমিটিকে ক্যাম্পাসে প্রতিষ্টিত করার চেষ্টা করছিলো।

অভিযোগে জানা যায়, সিলেটের আঞ্চলিক নেতাদের এবং প্রক্টর ও ভিসিবিরোধি শিক্ষকদের ইশারায়ই উত্তমকে আহত করা হয়েছিলো অঞ্জন-উত্তম এর নিয়ন্ত্রনে দুর্বলতা আনার জন্য। কিন্তু উত্তম আহত হওয়ার পরও ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রন এনে দিতে ব্যর্থ হয় সিলেটের আঞ্চলিক নেতা এবং প্রক্টর ও ভিসিবিরোধি শিক্ষকরা।

এমতাবস্থায় কি কারনে হুট করে আবার ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রনহীন কমিটির নেতারা শাবিতে প্রবেশ করতে চাইলো -এই প্রশ্নের জিজ্ঞাসায় দুটি কারন জানা যায়। এক- ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রনহীনতার কারনে শাবিতে চলমান কন্সট্রাকশন কাজে কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারতেছিলো না কেন্দ্র ঘোষিত এবং নাদেল-নাসের এর আশির্বাদপুষ্ট নেতারা। দুই- শিক্ষক রাজনীতিতে প্রক্টর বিরোধি শিক্ষকদের একাট্টা হওয়া। ফলে ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রনহীন কমিটির নেতারা ডেস্পারেট হয়ে বহিরাগতসহ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে যেখানে অঞ্জন-উত্তমের পক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সুমন দাশ প্রান হারায়।

[আগামী পর্বে সমাপ্য]

১ম পর্বঃ https://www.amarblog.com/sushanta/posts/182301
২য় পর্বঃ https://www.amarblog.com/sushanta/posts/182307


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

glqxz9283 sfy39587p07