Skip to content

শাবি ছাত্রলীগ নিয়ে দু'টি কথা: পর্ব-২

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রথম পর্বে আমি শাবি ক্যাম্পাসের একটা সূচনা দিয়েছিলাম। আমি খুব বেশি দূর থেকে শুরু করতে চাই না। আমি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সেক্রেটারি মাহফুজ হায়দার চৌধুরী রোটন স্বাক্ষরিত ২০১০ সালের ১৬ এপ্রিল শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমনকে আহ্বায়ক করে যে কমিটি আহবায়ক কমিটি করা হয়েছিলো সেখান থেকেই শুরু করতে চাই। আহবায়ক কমিটির অন্যরা হলেন, যুগ্ম আহবায়ক নাঈম হাসান, আসাদুজ্জামান আসাদ, কামরুজ্জামান সুইট, মাহিবুল হাসান মুকিত,আতিকুর রহমান ও হাফিজুর রহমান হাফিজ।

উল্লেখ্য, এই আহবায়ক কমিটির নাঈম হাসান, কামরুজ্জামান সুইট এবং মাহিবুল হাসান মুকিত নিজেদের সিলেট জেলার নাদেল অনুসারী বলে পরিচিত হতো; শামসুজ্জামান চৌধুরী সুমন নিজেকে সিলেটের নাসির অনুসারী, হাফিজুর রহমান হাফিজ নিজেকে রঞ্জিত অনুসারী এবং আসাদুজ্জামান আসাদ নিজেকে সিলেটের বিধান অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করতো।

আহবায়ক কমিটি ঘোষনার পরপরই যথারীতি এর বিরুদ্ধাচরণ ও করতে দেখা গিয়েছিল। অভিযোগে বলা হতো- ছাত্রলীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে কিছু সুবিধাভোগীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে সাবেক ছাত্রদল ক্যাডার ২০০৫ সালে ছাত্রদল নেতা লিটন হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী, সাংবাদিক নির্যাতনকারী, অর্থমন্ত্রীর মঞ্চ ভাংচুরকারী, অস্ত্র মামলার আসামীরা স্থান পেয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তেমন পাত্তা পায় নাই। খুব ভালোভাবেই এই আহবায়ক কমিটি সারভাইভ করে নিজেদের স্থান প্রতিষ্টা করতে সক্ষম হয়।

এবার আসুন শাবি ছাত্রলীগ এর সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আপনাদের একটা ধারনা দেই। শাবি ছাত্রলীগ একটি জেলা কমিটির মর্যাদাসম্পন্ন ইউনিট। এই ইউনিট এর রিপোর্টিং ইউনিট হলো ছাত্রলীগ সেন্ট্রাল। গঠনতন্ত্র মোতাবেক শাবি ছাত্রলীগের সিলেট জেলা কিংবা মহানগর ইউনিটের কোন সম্পর্ক নাই এবং নিয়ন্ত্রণ ও থাকার কোন সুযোগ নাই। আমাদের সময়ে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট ছিলেন নাদেল ভাই এবং জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন নাসির ভাই। আমি কোনদিন আমাদের সময়কার শাবি নেতাদের সিলেট জেলা'র নাদেল ভাই কিংবা নাসির ভাই এর কাছে যাইতে দেখি নাই। এমনকি আমি আমার ১৯৯৫-২০০১ এই সময়ে কোনদিন উনাদের সাথে দেখা করেছি বলে মনে পড়ে না। আমরা বলতাম আমরা ৩২০ একরের শাবি ক্যাম্পাসের রাজনীতি করি। জেলার কারো কাছে যাওয়ার দরকার কি? আমাদের কোন কিছু দরকার হলে সরাসরি তখনকার সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট বাহাদুর ভাই কিংবা অজয়দা'র সাথে যোগাযোগ করতাম। আমাদের সিনিয়রদের ও তাই করতে দেখেছি।

শাবি'তে ছাত্রলীগের সবচেয়ে ক্ষুদ্র ইউনিট হলো ক্লাস কমিটি, মানে ওয়ার্ড কমিটি। ক্লাস কমিটি নিয়ে গঠিত হয় ডিপার্টমেন্ট কমিটি মানে ইউনিয়ন ইউনিট। তেমনি আছে বিল্ডিং ইউনিট-মানে এ বিল্ডিং, বি বিল্ডিং-এগুলা ও ইউনিয়ন ইউনিট। ডিপার্টমেন্ট ইউনিট ও বিল্ডিং ইউনিট মিলে গঠিত হয় অনুষদ/ফ্যাকাল্টি ইউনিট মানে উপজেলা/থানা ইউনিট। তেমনি আছে উপজেলা ইউনিট আছে ছাত্রী হল ইউনিট এবং ছাত্রহল ইউনিট। সব মিলিয়ে সামগ্রিক ক্যাম্পাস মানে সাস্ট ছাত্রলীগ যেটি একটি পূর্নাংগ জেলা ইউনিট।

২০১০ সালে যে আহবায়ক কমিটি হয়েছিলো তাদের দায়িত্ব ছিলো এই সবগুলা ক্লাস, ডিপার্টমেন্ট, বিল্ডিং, ফ্যাকাল্টি, হল ইউনিটগুলো করার পর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা। আমরা দেখতে পাই যে, ২০১২ সালে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিলো। আমি যতটুকু জানি ২০১০ থেকে ২০১২ -এই সময়ের মধ্যে কোন ধরনের ক্লাস, ডিপার্টমেন্ট, বিল্ডিং, ফ্যাকাল্টি, হল কমিটি করা হয় নাই। কাজেই স্বাভাবিকভাবে ছাত্রলীগের কোন কর্মী নিবন্ধন ও হয় নাই।

আমার প্রশ্ন সেন্ট্রাল ছাত্রলীগ ২০১২ সালে কাউন্সিলে আসার আগে কি আহবায়ক কমিটির কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন এই দুই বছরে তারা কতোগুলা নতুন মেম্বার সংগ্রহ করেছে এবং তাদের কাছে কোন আপডেটেড কর্মী নিবন্ধন রেজিস্টার আছে কিনা?

আমি জানি না কিসের উপর বেইস করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ক্যাম্পাসে কাউন্সিলের জন্য এসেছিলো। এই পর্বে আমরা দেখতে পাই যে, আহবায়ক কমিটি তাদের উপরে কেন্দ্র থেকে আরোপিত দায়িত্ব পালন করেনি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করেনি।কেন্দ্রের দায়িত্ব ছিলো প্রেসার দিয়ে পুরো এই দুবছর নতুন মেম্বার সংগ্রহ করানো এবং প্রতিটি পুরানো মেম্বারদের ডাটা আপডেট করে পূর্নাংগ একটি মেম্বার রেজিস্টার করানো। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ক্লাস, ডিপার্টমেন্ট, বিল্ডিং, ফ্যাকাল্টি, হল কমিটি করানো ও ছিলো কেন্দ্রের মনিটরিং এর আওতায়।

এখানে আমরা আহবায়ক কমিটির সাথে সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ও দায়িত্ববোধের অভাব দেখতে পাই যার ফলশ্রুতিতেই ২০১৩ সালের মে মাসে আমরা একটা আংশিক কমিটি পাই যা ক্যাম্পাসে সারভাইভ করতে ব্যর্থ হয়।

প্রথম পর্বঃ https://www.amarblog.com/sushanta/posts/182301
[চলবে।।।।]


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বালের আলাপ অফ দেন।


█ ▄ █ ▄ ▄ █ ▄
জন্ম থেকেই জ্বলছি, রুয়েট থেকে বলছি!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দালাল শব্দের মানে ভুলে যাই!

---------------------------------------------------------------------------------
'মুক্তিযোদ্ধা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, দেশ ও জনগণের অতন্দ্রপ্রহরী ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোসলেম উদ্দিন...।'

glqxz9283 sfy39587p07