Skip to content

বাংলাদেশ ১৯৭১-১৯৭২: সিআইএর ডকুমেন্টারি

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি
১৯৭২ সালে এবিসি টেলিভিশনের প্রযোজনায় "বাংলাদেশ!" নামের ডকুমেন্টারি নির্মিত হয়। নামের শেষে আশ্চর্যবোধক চিহ্নের অর্থ নিশ্চয়ই রয়েছে, ভিডিও দেখলে এবং ইতিহাসের পাতা উল্টালে সেই চিহ্নের অর্থ হয়তো দর্শক বুঝতে পারবেন। যারা ক'দিন আগে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা করতে চেয়েছে, সেই তাদের কাছে বাংলাদেশ- এদেশের মানুষ বিস্ময় বৈকি। পিটার জেনিংস ও হাওয়ার্ড টাকনারের নেয়া বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাতকার রয়েছে এই ভিডিওটিতে। সাক্ষাতকারের শুরুতেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু বলেন যে, আমরা মানুষ। আমরা কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাই না। আমরা মানুষের মত বাঁচতে চাই, একটা মুক্ত স্বাধীন দেশ হিসেবে। "বাংলাদেশ" এখন বাস্তবতা। আমরা বদলাতে বিশ্বাসী নই। বাঙালির জীবন দর্শন - ভালবাসা, ভালবাসা এবং ভালবাসায় বিশ্বাসী।


তথ্য চিত্রটিতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রতিবারের দুর্যোগে এখানে কমপক্ষে দশ লাখ লোক মারা যায়। দেখনো হয়েছে ১৯৭১ সালের গণহত্যার ছবি। সমালোচনা করা হয়েছে বিশ্বের সেইসকল মানুষকে যারা এসব দেখেও দেখেন না। তাদের মতে হয়তো এশিয়ান সাবকন্টিনেন্টের এই অংশের মানুষদের তারা "সাব হিউম্যান" মনে করে। এবিসি থেকে এই ভিডিওটি কিনে নেয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং সেটি তারা তাদের ন্যাশনাল আর্কাইভে রাখে। যদিও বাইরে থেকে এমনটিই মনে হয়, তবে কোন সন্দেহ নেই যে এই ভিডিও তৈরিতে সিআইএর ভূমিকা ছিলো। ভিডিওতে আরও দুইজন লোকের সাক্ষাতকার রয়েছে, একজন হলেন সিআইএর বেতনভুক্ত চীনের দালাল এনায়েতুল্লাহ যাকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশ টাইমসের সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যজন হলেন সিআইএর এজেন্ট বলে পরিচিত বিতর্কিত রাজনীতিবিদ ড.কামাল হোসেন। পুরো বাংলাদেশের মানুষ যখন শেখ মুজিবকে পারফেক্ট মনে করতেন। তখন তার সমালোচনা করে কামাল কৌশলি জবাব দিয়েছিলো "বাংলার মানুষের কাজের সক্ষমতা নিয়ে তার (বঙ্গবন্ধুর) ছিলো অগাধ বিশ্বাস। এই ধরনের আশাবাদ এবং বিশ্বাসই হতাশা তৈরি করতে পারে"। যার অর্থ কামাল বাংলাদেশের মানুষকে বিশ্বাস করতো না।
যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা, কোটি খানেক রিফিউজি, রাশিয়ার স্বীকৃতি, ভারত ও রাশিয়ার এইড দেয়ার প্রতিশ্রুতি প্রভৃতি বিষয় উঠে এসেছে। এসেছে বঙ্গবন্ধুর দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথা। শেষ দিকে এসেছে আমেরিকার স্বীকৃতির বিষয়। বঙ্গবন্ধু চাইছিলো যেন আমেরিকা স্বীকৃতি দেয়। আমেরিকার স্বীকৃতি না দেয়া, মানবেতর অবস্থায় সাহায্য না পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টির পরিস্কার প্রমাণ রয়েছে এই ভিডিওটিতে। "মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায় না" বলে- বঙ্গবন্ধু আমেরিকাকে সতর্কও করেছিলো। নিক্সনের পিকিং মিটিয়ের বিষয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ যে আমেরিকা এবং চায়নার দ্বারা অবহেলিতই থাকবে সেটার পুনোরুল্লেখ করে ভিডিওটি শেষ হয়।

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এবিসির কপিরাইট,কাষ্টিং এবং সম্প্রচারিত ভিডিও তথ্যচিত্র সিআইএর ডকুমেন্ট্রি হয় কিভাবে? আর্কাইভে রাখার জন্য যে কেউ সেটা কিনতে পারে।
আর ডঃ কামাল হোসেনকে সিআইএর বেতনভুক্ত চৈনিক দালাল বলাটা হাস্যকর।

glqxz9283 sfy39587p07