Skip to content

তকদীর প্রসঙ্গে হাদীসে কুদসী।

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইসলাম ধর্মে তকদীরে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অঙ্গ। তকদীরের অর্থ এইযে, ভবিষ্যতে প্রত্যেক সৃষ্টির জীবনে কি ঘটিবে অনাদিকাল হইতে আল্লাহ্ তা’আলা তাহা সুরক্ষিত ফলকে (লাওহে মাহফুজ) লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছেন। মানুষকে কাজ করার ইচ্ছা, আগ্রহ ও ক্ষমতা আল্লাহ্ দান করিয়াছেন। কখন মানুষ কি কাজ করিবে তাহাও আল্লাহ্’র জ্ঞানে রহিয়াছে। ইহা আল্লাহ্’র একটি বিধান। কাজ করার ইচ্ছাশক্তি আল্লাহ্ প্রদত্ত হইলেও আল্লাহ্ মানুষকে ভাল-মন্দের জ্ঞান দান করিয়াছেন ও যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করিয়া সতর্ক করিয়াছেন। সুতরাং মানুষের ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের কোন ক্ষমতা নাই ইহা বলা চলেনা; বরং ইহা বলা যায় যে, মানুষ আল্লাহ্’র অনুমোদন ছাড়া যাহা ইচ্ছা করিতে পারেনা। মানুষের ইচ্ছাশক্তি আছে, কিন্তু উহা আল্লাহ্’র নিয়ন্ত্রণাধীন। মানুষ যেমন সীমাবদ্ধ ক্ষমতা, সীমাবদ্ধ জ্ঞান এবং সীমাবদ্ধ গুণাবলীর অধিকারী, তেমনি তাহার ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের ক্ষমতাও সীমাবদ্ধ।

তকদীরের দুইটি অংশ। একটি হইল কদর অর্থাৎ আল্লাহ্’র অমোঘ বিধান অনুসারে যে পরিণাম অবশ্যম্ভাবী। অপরটি হইল কাযা- ঐ বিধান অনুযায়ী যাহা অবশ্যম্ভাবী, তাহা বাস্তবে ঘটা। কিন্তু ইহার উভয়টিই আল্লাহ্ তা’আলার নিয়ন্ত্রণাধীন।

তকদীর ও ইচ্ছার স্বাধীনতা সম্বন্ধে মুসলিম চিন্তানায়কগণ দুই দলে বিভক্ত। একদল মনে করেন, মানুষ ভাগ্যের হাতে একটি পুতুল বিশেষ, তাহার স্বাধীন ইচ্ছা বলিতে কিছুই নাই। এই দলকে জাবরিয়া বলাহয়। অপরদল মনে করেন, মানুষ ইচ্ছার বলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী স্বীয় ভাগ্য গঠন করিতে পারে। এই দলকে কাদরিয়া বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে এই দুইটি অভিমতই চরম।

আসল কথা এই যে, মানুষ ভাগ্যের হাতে পুতুলও নয়, আর ইচ্ছানুযায়ী যেমন খুশি ভাগ্য সৃষ্টির ক্ষমতায় ক্ষমতাবানও নয়। তকদীর হইতেছে আল্লাহ্’র নির্ধারিত কতকগুলো প্রাকৃতিক আইন- যাহা বিশ্ব সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ্ তা’আলা নির্ধারণ করিয়াছেন। আর সেই আইন অনুযায়ী প্রত্যেককেই স্বীয় ভাগ্য গড়িয়া তোলার সীমাবদ্ধ ক্ষমতাও প্রদান করিয়াছেন।…………

নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্বপ্রথম যাহা সৃষ্টি করিয়াছেন উহা কলম। তৎপর আল্লাহ্ বলিলেন “লিখ”, কলম বলিল, “হে আমার প্রভু, কি লিখিব? আল্লাহ্ বলিলেন, “তকদীর লিখ, যাহা ছিল এবং অনন্তকাল পর্যন্ত যাহা ঘটিতে থাকিবে।” আবূ দাউদ তায়ালিসী উবাদাহ বিন সামিত (রাঃ)-এর সূত্রে এই হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।……………

নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আদমকে সৃষ্টি করিলেন, তারপর তাহার পিঠ হইতে সন্তানদিগকে বাহির করিলেন এবং বলিলেন- “এইগুলি বেহেশতের জন্য-আর আমি কারও পরওয়া করি না, আর এইগুলি জাহান্নামের জন্য, আমি কোন কিছুর পরওয়া করি না। তখন জিজ্ঞাসা করা হইল, “হে আল্লাহ্’র রাসূল, আমরা কোন্ আশায় আমল করিব? “তিনি উত্তর করিলেন, “নির্ধারিত ভাগ্যস্থলে পৌঁছিবার আশায়।” জিয়া মাকদিসী ইহা আবদুর রহমান ইবনে কাতাদা আসলামী (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।

টীকা- তকদীরে দৃঢ় বিশ্বাস রাখার বিশেষ উপকারিতা আছে। কেহই জানেনা তাহার ভাগ্যে কি আছে। কিন্তু প্রত্যেক মু’মিনই মহান আল্লাহ্’র করুণায় বিশ্বাসী এবং এই বিশ্বাসের প্রেরণায় তাহার লিপিবদ্ধ সৌভাগ্যে পৌঁছিবার আশায় আপ্রাণ তদবীর করে। তাহার অক্লান্ত চেষ্টা ও শ্রমের ফলে হয়ত বা আল্লাহ্ তা’আলা তাহার প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াযান এবং প্রাকৃতিক আইন অনুযায়ীই তাহাকে সৌভাগ্যের অধিকারী করিয়া দেন। বস্তুত তদবীরই তাকদীরে পৌঁছিবার সোপান।

-হাদীসে কুদসী। পৃষ্ঠা-৪৪, ৪৫, ৪৬ ও ৪৯। সংকলনঃ আল্লামা মুহাম্মদ মাদানী। অনুবাদঃ মোমতাজ উদ্দীন আহমদ। ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ।

glqxz9283 sfy39587p07