Skip to content

মাহাথিরকে নিয়ে দুটি শোনা কথা এবং

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাহাথিরকে নিয়ে আমি কয়েক জনের কাছে এই দুটি কাহিনী শুনেছি। সত্য মিথ্যা যাচাই করার চেষ্টা করতে পারিনি। তবে কাহিনী দুটি চমৎকার।

কাহিনী -০১

সম্ভবতঃ প্রথম কিংবা দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হবার পর এক বার মাহাথির খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি নিজেও কিন্তু এক জন ডাক্তার। তার চিকিৎসকরা বলল- স্যার, এ রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। আপনাকে উন্নত কোন দেশে যেতে হবে।
মাহাথির বাইরের কোন দেশে চিকিৎসা নিতে যেতে অসম্মতি জানালেন। তিনি বললেন, উন্নত দেশের যে হাসপাতালে আমার চিকিৎসা করাতে চান সেই রকম একটা ছোটখাট হাসপাতাল কি আমরা বানাতে পারি না? যদি বানাতে পারি তাহলে সেটা বানাতে কত দিন লাগবে?

- সেটা বানাতে বছর খানেক লাগবে স্যার।
- তাহলে বছর খানেক আমাকে ওষুধ খেতে দিন যাতে বেচেঁ থাকতে পারি। হাসপাতাল বানানো হয়ে গেলে আমিই না হয় হবো প্রথম রোগী।
যার কাছে গল্পটি শুনেছিলাম তিনি বললেন- হাসপাতাল বানানোর পর সেখানে মাহাথির চিকিৎসা নেন। তারপরও তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাননি।

গল্পটি কতটুকু সত্য আমি জানি না তবে গল্পটির মাঝে স্বদেশপ্রেম ফুটে উঠেছে।

কাহিনী-০২

একবার কোন এক মালয়েশিয়ান ভদ্রলোক আমেরিকার দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। ঘটনা চক্রে ভদ্রলোকটিকে ভিসা দেয়নি দূতাবাস। লোকটি খুব কষ্ট পেলেন।

খবরটি কোন ভাবে মাহাথিরের কানে যায়। তিনি আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে চায়ের দাওয়াত দেন। রাষ্ট্রদূত এলে আলাপের এক পর্যায়ে মাহাথির ভিসা না দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে বলেন- আমার কোন নাগরিক ভিসা নিয়ে আমেরিকা বেড়াতে গেলে সে কিন্তু আমেরিকাতে থেকে যাবে না। এ ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন। তিনি হয়তো সপ্তাহ খানেক আমেরিকার সেৌন্দর্য দেখবেন। তারপর ঠিকই ফিরে আসবেন। কেননা, মালয়েশিয়াও কিন্তু অনেক সুন্দর একটি দেশ। আমার নাগরিকদের কাজের জন্য কিংবা থাকার জন্য আমেরিকায় যাবার দরকার নেই।
মাহাথিরের কুটনৈতিক প্যাচের কথা মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঠিকই বুঝেছিলেন। পরদিনই সেই লোকটিকে ফোন করে দূতাবাসের লোকজন। তাকে দেয়া হয় আমেরিকার ভিসা। কিন্তু সেই লোকটি সত্যি সত্যি আমেরিকায় বেড়াতে গিয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি।

পাদটীকাঃ ১। মাহাথির ৯ মের নির্বাচনে বিজয়ের পর ঢাকার একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘বুড়ো হাড়ের ভেলকি’ শিরোনামে মাহাথিরের বিজয়ের খবর প্রকাশ করে। শিরোনামটি আমার কাছে খুব অশোভন মনে হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই মাহাথির ৯৩ বছর পূর্ণ করবেন। প্রবীনদেরকে সম্মান করার দরকার আছে। তারা আমাদের পথপ্রদর্শক। বাতি ঘর।

২। মালয়েশিয়াতে একটি নিয়ম আছে। কোন ব্যক্তি যখন অফিসে দায়িত্বরত থাকে তখন তার বুকের উপর তার নাম লিখিত নেমপ্লেট থাকে। আপনি যদি কখনো ওখানে বেড়াতে যান তখন খেয়াল করলে দেখবেন। আজকের পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তুন ডাঃ মাহাথির মোহামাদের ছবিতে দেখুন। উনার বুকের বাম পাশে নাম লাগানো আছে।

glqxz9283 sfy39587p07