Skip to content

কোরানের চ্যালেঞ্জ: একটি অর্থহীন বাগাড়ম্বর

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কোরানে বেশ কয়েকবার চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে : কেউ যদি পারে , তাহলে কোরানের বাক্যের মত একটা বাক্য লিখে আনুক তো । মুমিনেরা এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রায়ই বাগাড়ম্বর করে। এটা দিয়েই তারা প্রমান করতে চায় কোরান নিশ্চিতভাবেই সৃষ্টিকর্তার লিখিত বা কথিত একটি কিতাব। এখন দেখা যাক বিষয়টা কি ।

কোরানে বলেছে :

সুরা ইউনুস : ১০: ৩৮: মানুষ কি বলে যে, এটি বানিয়ে এনেছ? বলে দাও, তোমরা নিয়ে এসো একটিই সূরা, আর ডেকে নাও, যাদেরকে নিতে সক্ষম হও আল্লাহ ব্যতীত, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।

সুরা বাকারা - ২: ২৩: এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

যদিও সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এ ধরনের অর্থহীন চ্যালেঞ্জ কখনই করবে না , তার পরেও যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম , কোরানে সে চ্যালেঞ্জ করেছে। কিন্তু প্রশ্নটা হলো , কেউ যদি এখন কিছু বাক্য লিখে এনে দাবী করে , তার বাক্য কোরানের চাইতে উত্তম হয়েছে , তাহলে এর বিচারক কে হবে ? পদ্ধতিটা হলো : একদল ভাষা ও সাহিত্য বিশেষজ্ঞকে বিচারক মানতে হবে , যারা বিচার বিশ্লেষণ করে রায় দেবে , কার বাক্য উত্তম। তাই নয় কি ?

কিন্তু মুমিন মুসলমানরা যারা নাকি কোরানকে আল্লাহর কিতাব মনে করে , তারা কি কখনই কোন অমুসলিমকে বিচারক মানবে ? যদিও আমরা জানি , দুনিয়াতে অমুসলিমরাই ভাষা ও সাহিত্যে বেশী পন্ডিত। না তারা কখনই কোন অমুসলিমকে বিচারক মানবে না। তার মানে তারা একমাত্র মুসলমানদেরকেই বিচারক মানবে। তো একজন ইমানদার মুসলমান কি কখনই রায় দেবে যে কোরানের চাইতে অন্য কারও রচিত বাক্য কোরানের চাইতে উত্তম হয়েছে ? আর কোন ধর্ম নিরপেক্ষ মুসলমান পন্ডিত যদি নিরপেক্ষভাবে রায় দেয় যে , অন্য কারও রচিত বাক্য কোরানের চাইতে উত্তম হয়েছে , তাহলেও কি দুনিয়ার বাকী মুসলমানরা সেটা মানবে ? মানবে তো না ই , বরং তখন কি ঘটবে ?

সুরা বাকারা -২: ২৪: আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।

তখন তাদেরকে কাফের হিসাবে ঘোষনা দেয়া হবে। একবার কাফের হিসাবে ঘোষনা দিয়ে দেয়ার পর কি ঘটবে ?

সবাই সেটা জানে আর তা অবলোকনও করছে। তখন কিছু মুমিন ইমান দন্ড খাড়া করে হাতে চাপাতি নিয়ে ঘুরবে কখন তাকে হত্যা করা যায়।

বাংলাদেশে আবু হেনা , হুমায়ূন আজাদ এরা ছিলেন বাংলাদেশের সাহিত্য ও ভাষা জগতের দিকপাল। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক ছিলেন। তারা কোরানকে চর্চা করেছেন বহুদিন ধরে। কিন্তু তারা কোরানকে কোন ভাবেই বাংলা সাহিত্যেরই বহু সাহিত্যিকের লেখার চাইতে উত্তম বলে রায় দেয় নি। তার ফল কি হয়েছে ? আবু হেনাকে কাফের ঘোষনা করে আন্দোলন হয়েছে। ভাগ্য ভাল তাকে চাপাতির কোপ খেতে হয় নি। কিন্তু হুমায়ূন আজাদের কপাল খারাপ। তাকে চাপাতির কোপে প্রথমে জর্জরিত হতে হয়েছে। পরে বিদেশে গিয়েও রক্ষা হয় নি। ইমানদার মুমিনেরা তাকে জার্মানিতেই হত্যা করেছে।

সুতরাং ফলাফলটা কি দাড়াল ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাল যুক্তি দেখিয়েছেন তো। এটা মাথায় আসেনি। এ কারণে ই বোধ হয় এপর্যন্ত কেহ ঐ চ্যালঞ্জ গ্রহন করতে এগিয়ে আসেনি।আর তা ছাড়া কেহ নবী দাবী করলেও তো তাকে সাথে সাথেই হত্যা করার ব্যবস্থা রয়েছে। হত্যার ব্যবস্থা না থাকলে এতদিন আল্লাহ পাকের নিকট থেকে প্রতিটা গোত্র জাতির জন্য নবী আসতে আসতে ২ লক্ষ ২৪ হাজার সংখ্যা ছাড়িয়ে ২ কোটি ২৪ লক্ষ হয়ে যেত।
কী মজা হতনা! আমরা তখন ছাহাবা মর্যাদা পেয়ে যেতাম। জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যেত।

আমার মতে নবী পাঠানো বন্ধ করা মোটেই উচিৎ হয়নি। কারণ তখন কথা হয়েছিল কেয়ামত অতি নিকট বর্তী। তাই রসুলুল্লাহর পরে আর নবী আসবার সময় নাই। এজন্য তাকে শেষ নবী করা হয়েছিল।

কিন্তু যেহেতু অদ্যাবধি কেয়ামতের লক্ষন গুলী শুধু খাতা কলমেই থাকতেছে, কোনই লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা, কাজেই আমার মতে পুনরায় নবী আসবার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিৎ।

নইলে মুসলমানেরাতো মারামারি করতে করতে শেষ হয়ে গেল?
এখন উপায় কী?


এসব ব্যাপারে কোরান বিশেষজ্ঞরা আরো ভালো বলতে পারবেন।
তারা গেলেন কোথায়?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাহাহা,

১) আমি চ্যালেঞ্জ করলাম কেহ রবীন্দ্র নাথের কাব্যের মত এক খানা কাব্য রচনা করুকতো/? কারো সাধ্য নাই।------------------------------ একজনের লেখার মত কখনোই আর একজনের লেখা হয়না।

২) আর যদি কেহ করতে যায়, তার তৎক্ষনাৎ গর্দান মারা হবে। কারো কী জীবনের ভয় নাই?

৩) আর তাছাড়া -কে এমন অবৈজ্ঞানিক কল্প কথা সাহিত্যে ঢুকাতে যাবে, যেমন" মানুষকে জমাট বাধা রক্ত হতে সৃষ্টি করা হয়েছে"?
৪) আর তাছাড়া কেই বা জড় বস্তু, ফল ফলাদির উপর অসংখ্য বার কছম খেয়ে কথার সত্যতা প্রমান করতে যাবে?--- কোন জ্ঞ্যানী ব্যক্তির পক্ষেই এসব করা জ্ঞ্যান সম্মত কাজ নয়।

glqxz9283 sfy39587p07