Skip to content

মেধা উন্নয়ন মঞ্চ নাকি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষশুন্য প্রশাসন?

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুব জমে ঊঠেছে রাজনীতির মাঠ। তরুন প্রজন্মের ভোটে গতবার ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামীলীগ। তাহলে ট্রাম কার্ড সবচেয়ে বড় ভোট ব্যাংক ঐ তরুনরাই। নাহ, লক্ষ্য শুধু আগামী জাতীয় নির্বাচন নয়। লক্ষ্য আরো অনেক সুদূর প্রসারী।

১) জাতীয় সঙ্গীত একজন ভারতীয় হিন্দু কবির রচিত, তাই এই জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের ইচ্ছা এক শ্রেণীর দীর্ঘদিনের।
২) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশ, এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দেশদ্রোহী আখ্যা দেয়া।
৩) ৭১ এর জন্য পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

খুব অবাক লাগলেও কথাগুলো সত্যি। সত্যি একারণেই, এখনো এই দেশে অনেক বড় একটা গোষ্ঠি মনে করে দেশ স্বাধীন হয়েছিলো ভারতের ইন্ধনে। আর এই মনে করা গোষ্ঠি নেহায়েত ক্ষুদ্র নয়। তবে তারা আজকে এই অবস্থান একদিনে আসেনি। ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা আজকের এই অবস্থানে। পরিকল্পনাগুলো তারা এতটাই ঠান্ডা মাথায় করে যেনো খুব সহজেই মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব হয় এবং জনগণ তাদের সেই অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বুঝতে না পারে। মানে হলো, সবাই ভাববে তারা লাভবান হচ্ছে কিন্তু প্রকৃতভাবে জামায়াতের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়ে গেলো যার সুফল তারা ভোগ করবে অনেক পরে।

কিভাবে সেটা সাম্প্রতিক সরকারী চাকুরীর কোটা বিরোধী আন্দোলনের দিকে একটু সজাগ দৃষ্টি দিলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। তাদের এই ধরণের দাবীর পেছনে যে অনেক দূরভিসন্ধি উদ্দেশ্য রয়েছে তা পরে বলছি তার আগে আসছি এই আন্দোলনের পরিকল্পনা কবে এবং আসল টার্গেট তাদের কি সে ব্যাপারে।

স্বভাবতই সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা যারা বিসিএস দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তারা অনেকেই আশা করেছিলো সরকারী চাকুরী করবে, বেতন যাই হোক না কেন, ঘুষ খেয়ে খুব কম সময়ে বাড়ি-গাড়ি হবে (সবাই না হলেও এদের একটা অংশ), এছাড়া সরকারী সুযোগ সুবিধাতো আছেই। আমি এখানে সবাইকে একই সারিতে দেখছিনা। অবশ্যই এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা দেশের জন্যই সরকারী চাকুরী করার কথা ভেবেছেন।

আন্দোলনের সাথে যুক্ত সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা মূলত ব্যবহৃত হচ্ছেন। তারা এই মুহুর্তে পাশ না করার শোকে যে যাই বলছে তাই মাথায় নিয়ে আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে তাদের ব্যবহার করছে তারা ঠিক এই সুযোগটাই খুঁজছিলো। কারণ এই ধরণের হাজারো পরিকল্পনার অন্যতম একটি। জামায়াত-শিবির গোষ্ঠি এমন অনেক পরিকল্পনা করে রেখেছে যা সঠিক সময়ে বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। কারণ তারা জানে, স্বনামে তারা কিছুই করতে পারবে না। অন্তত এত দ্রুত (স্বাধীনতার মাত্র ৪২ বছর)। সব সময় তাদের পরিকল্পনার বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন শ্রেণী বা গোষ্ঠি। ঠিক যেমনটি সাম্প্রতিক কালের হেফাজতিদের মাঠে নামিয়ে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বোঝালো এই সরকার ইসলাম বিরোধী সরকার, তাই আলেম হত্যা করেছে মতিঝিলে। আর আমাদের সরলমনা ধর্মপ্রাণ মানুষ তাই বিশ্বাস করলো। কারণ, মানুষ প্রথম যা শোনে তা যতটা বিশ্বাস করে, পরে হাজারো প্রমাণ দিলেও ততটা আর মাথা ঘামায় না কেউ সেই প্রমাণ নিয়ে।

এবার আসি গত পরশুর ঘটনায়। হঠাৎ একদল অকৃতকার্য হওয়া বিসিএস পরীক্ষার্থীকে জড়ো করা হলো শাহবাগে। যদিও তাদের সবাই প্রকৃত পরীক্ষার্থী ছিলো না। দাবী, তারা ফলাফল মানে না, কারণ কোটার কারণে অনেক অমেধাবী/অযোগ্য রা নাকি সুযোগ পেয়েছে যেখানে অকৃতকার্যরা নিজেদের প্রকৃত মেধাবী দাবী করছে। কে মেধাবী কে মেধাবী নয় সেই বিতর্কে না যেয়ে বরং দৃষ্টি নিয়ে যাই এই আন্দোলনের মূল আয়োজক জনাব আবু সালেহ মোহাম্মদ তোহা সাহেবের দিকে। ঘটনাক্রমে জানতে পারলাম তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের গুরুত্বপূর্ণ এক পদের অধিকারী। জানার পরে সন্দেহের উদ্রেক হলো। এক সূত্র থেকে পেয়ে গেলাম তার ফেইসবুক প্রোফাইলের লিঙ্ক। যেয়ে যা দেখলাম, তাতে আর বুঝতে বাকী থাকেনি এই আন্দোলনের মূল টার্গেট আসলে আমাদের জাতীয় বীর সন্তানদের পোষ্য কোটা। এখানে মেধার মূল্যায়নের চেয়ে বড় দাবী হলো ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের পোষ্য কোটা। সে প্রমাণ দিচ্ছি পরে, আপাতত জনাব তোহার পরিচয়ে আসি।

জনাব তোহার প্রোফাইল ঘেটে জানার চেষ্টা করলাম সে আসলেই জামায়াত শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত কিনা। যা পেলাম তা হলোঃ



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র শিবিরের সাথে যুক্ত না হলে শিবিরের পেইজে লাইক দিবে এ কথা অন্তত কোন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কেউ বিশ্বাস করবে না। তবুও যাদের মনে কিঞ্চিত সন্দেহ থেকে গেছে তাদের জন্য তার লাইকের পরবর্তী স্ক্রীণশট।



এবার আসি একটু ভিন্ন প্রসংগে। শাহবাগে তরুন প্রজন্ম দাঁড়িয়ে শ্লোগান দিয়েছে রাজাকারের ফাঁসী চাই। সেই শাহবাগের আন্দোলনের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে রাজাকারদের প্রতি জাতীর ঘৃণা। অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার অন্তত এটা দেখে শান্তি পেয়েছিলো যে এই বাংলায় রাজাকারদের বিরুদ্ধে কথা বলার মানুষ আছে। নামকরণ করা হলো, প্রজন্ম চত্তর। কিন্তু একটা গোষ্ঠি কিন্তু সেই শাহবাগকে অনেকভাবেই বিশেষিত করেছে। যেমন শাহবাগে নারী-পুরুষ এক সাথে আন্দোলন করছে, সেখানে যারা যায় সবাই নাস্তিক এবং আরো অনেক কিছু। এইসব কথার পেছনে লক্ষ্য একটাই সাধারণ জনগনের ভেতর শাহবাগ সম্পর্কে একটি বিরূপ মনোভাবের জন্ম দেয়া। অপরদিকে দেশের বিরোধী দল এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধীতাকারীরা মেতে উঠলো এক নতুন খেলায়। তাহলো যেকোন মূল্যে শাহবাগকে থামাতে হবে। দখল করে নিতে হবে প্রজন্ম চত্তর, বদলে দিতে হবে এই নাম। নতুবা ভোর রাতের তলপেটের জ্বলুনী যে সহ্য করতে হবে আজীবন। আর সেকারণেই এই কোটা বিরোধী আন্দোলনের প্রথম দিনেই মূল মাইক থেকে ঘোষনা আসলো, এখন থেকে এই চত্তরের নাম হবে, "মেধা চত্তর"।

মূল মাইক থেকে শ্লোগান আসলো, "মুক্তিযোদ্ধার গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে।" তাদের দাবী সকল কোটা বিশেষ করে ৩০% মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটা বাদ দিলেই প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হবে। এর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তারা এও বলেছে, আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা কোন রকম বৈষম্যের দেশ চাননি। বৈষম্য তারা চাননি ঠিক কিন্তু এটা যদি তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতো এই "প্রজন্ম চত্তর" এর নাম কেন হবে "মেধা চত্তর"। তার মানে কি এই চত্তরে প্রজন্মের শুধু মেধাবীদের জন্য? এ কেমন সাম্য(!)

নাহ এখানেই শেষ নয়। রাস্তায় আন্দোলন কিন্তু একটি গ্রুপ তৈরী অনলাইনে। সাথে সাথে খোলা হলো নতুন পেইজ ফেইসবুকে। নাম "মেধা চত্তর", আর নিজেদের পরিচয় দিলো তারা নিজেরাই ঠিক এভাবে।



হ্যাঁ, যেই জামায়াত-শিবির দীর্ঘদিন ধরে শাহবাগ দখলের হুমকি দিয়ে আসছিলো, তাই তারা করলো কিছু মূর্খের ঘাড়ে ভর করে (মেধাবীরা মূর্খ বলাতে গাল ফুলাবেন না)। যাক সেটাও না হয় মেনে নেয়া গেলো। আন্দোলনের চাপে পড়ে পিএসসি ঘোষণা দিলো তারা ফলাফল পূনর্বিবেচনা করবে।




তাহলে আন্দোলন কি এখানেই শেষ?

নাহ, আন্দোলন এখানে শেষ হলে যে আসল উদ্দেশ্য চরিতার্থ হলো না। আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানার জন্য ফিরে যাই আন্দোলনের নেতা তোহা সাহেবের প্রোফাইলে। একি এ নিয়ে একটি গ্রুপ(!) স্ক্রীণ শটে গ্রুপের নাম লক্ষ্যনীয়।



হ্যাঁ, গ্রুপের নাম "এন্টি ফ্রিডম ফাইটার কোটা স্টুডেন্টস গ্রুপ"। তাহলে কি পরিষ্কার তাদের টার্গেট আসলে কোন কোটা? অনেকেই বলবে যেকোন আন্দোলনের সময় ফেইসবুকে এমন গ্রুপ হয়ে থাকে। অবশ্যই তার সাথে দ্বিমত পোষণ করছিনা। তবে গ্রুপের নাম দেখে কি কোন গন্ধ পাওয়া যায়? গন্ধ যদি পেয়ে থাকেন তবে তাদের জন্য নয়, যারা এখনো গন্ধ পাচ্ছেন না তাদের কাছে বিপ্লবী নেতা তোহার আরেকটু পরিচয় করিয়ে দেই। তাদের জন্যই পরবর্তী স্ক্রীণশট।



ধর্মান্ধ যারা এখনো ভাবছেন এইসব স্ক্রীণশট কিছুই প্রমাণ করেনা, তাদের বলবো, রাত এখনো অনেক বাকী। সরাসরি চলে যাই সেই গ্রুপে, যেই গ্রুপে আসলেই কি মেধাবীদের অধিকারের ব্যাপারে আলোচনা হয় কিনা সেই প্রসঙ্গে। নাহ, সেখানে বঙ্গবন্ধুর সাথে ভুট্টোর ছবি নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রমাণ পরবর্তী স্ক্রীণশটে।



চমৎকার মেধার চর্চা হওয়া এই গ্রুপটি কিন্তু গত দুইদিন পূর্বের নয়, দুই বছর পূর্বের। হ্যাঁ এই ষড়যন্ত্র আজকের নয়, অনেক পুরনো। মনে আছেতো ২০০৮ সালে জামায়াত-শিবির একই দাবী করেছিলো। সরকারী চাকুরী থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের। বিশ্বাস হলো না? আসুন দেখি এই গ্রুপের প্রথম নাম বদলের একটি প্রমাণ।



এরপর কি আর বোঝার বাকী থাকে তাদের সমস্যা আসলে মেধার অবমূল্যায়ন কিংবা অন্য কোন কোটা নয়, সমস্যা মুক্তিযোদ্ধা কোটা? হ্যাঁ, আজ সরকার অন্য কোন কিছু না মেনে যদি একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য বরাদ্ধ কোটা বাতিল করে, সাথে সাথেই সব আন্দোলন থেমে যাবে। তবে তারা শুধু এই আন্দোলন চালিয়ে থেমে নেই, একই সাথে তাদের একটা গ্রুপ নেমেছে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রঙ্গ তামাশা করার টার্গেট নিয়ে। প্রমাণ পরবর্তী দুইটা স্ট্রীন শট।





হ্যাঁ, এই জাতীর বীর সন্তানরা এক সময় এই দেশের তরুন প্রজন্মের কাছে ভাঁড় হিসেবেই পরিচিতি পাবার জন্যই অস্ত্র ধরেছিলো। তাদের অপরাধ তারা ১০% কোটার জাতিকে পুরো একটি দেশ উপহার দিয়েছে। নাহ তারা এতেও থেমে নেই, জামায়াত-শিবির এত কাঁচা খেলোয়াড় নয়। তারা একই সাথে নামিয়ে দিয়েছে তাদের পোষ্য ভদ্র চেহারার কিছু বুদ্ধিজীবি, এই কোটা বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে মানুষকে বোঝাতে।

এদের আসল টার্গেট হলো মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল, অন্য কিছু নয়। প্রমাণঃ


সেই গ্রুপের স্ক্রীণশট অনুযায়ী ১১ই মার্চ ২০১১ তে শুরু এই ষড়যন্ত্র, শুধু মোক্ষম একটা সময় খুঁজছিলো জামায়াত-শিবির, আর তাদের সেই সুযোগটা কে করে দিলো? কারা এর পেছনে জড়িত খুঁজে বের করা কি জরুরী নয়?

আমাদের দেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা খুব বেশী অবহেলিত। ৩০% কোটা আসলেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা চায় না, কারণ তারা আসলেই বাবাদের মত আত্মসম্মানবোধ নিয়ে বাঁচে, সাথে অভিমানতো আছেই। তবে এই আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করার যেই পরিকল্পনা করা হয়েছে সেটা কোনভাবেই মেনে নেয়ার তো প্রশ্নই আসেনা বরং যারা এদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারাও ঘৃণ্য।

তবে ৩০% কোটার বিপক্ষে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাঁড় করানোর পেছনে অনেক সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। ধরে নিলাম অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এই সুবিধা নিচ্ছে। ধরে নিলাম ৩০% এর মধ্যে ১৫% ভুয়া। তবে বাকী যেই ১৫% আসল তাদের সন্তানরা কিন্তু কখনোই দেশের বিরোধিতা করবে না। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার রক্ত দেশের সাথে বেঈমানী করে না কখনোই। আর প্রশাসনের ১৫% কর্মকর্তা কিন্তু চারটি খানি কথা নয়। তাই প্রশাসনকে মেধাশুন্য করে দেয়ার ষড়যন্ত্র নামে যেই আন্দোলন দাঁড় করানো হয়েছে তার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য আসলে প্রশাসনকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিশুন্য করা। যাতে করে ভবিষ্যতে জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের মত পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়ন সহজ হয়।

বাবার মুখের একটি কথা দিয়েই শেষ করতে চাই, "জামায়াতের পরিকল্পনা অনেক সুদূর প্রসারী, তারা এত শীঘ্রই ক্ষমতায় আসার কথা ভাবেনা, তবে যখন আসবে তখন যেন তাদের বিপক্ষে কথা বলার মত কেউ না থাকে সেই ব্যবস্থা করেই আসবে।"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপাতে 'বিসিএস' কোটার পরিবর্তন করা দরকার।
কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের সাথে সরকারের কেহ বসে এ ব্যাপারে আলাপ করা দরকার; শক্তি প্রয়োগ না করার দরকার ও আন্দোলনকারীদের সাথে আলাপ করে তাদের রাস্তা থেকে সরায়ে নেয়া সঠিক হবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এক কথায় অসাধারণ বিশ্লেষণ | এমন একটা লেখাই মনে মনে খুঁজছিলাম; কারণ প্রথম থেকেই বিশ্বাস ছিলো কুলাঙ্গার ছাড়া ঐ ধরনের শ্লোগান কারো মুখ দিয়ে উচ্চারিত হওয়া ইম্পসিবল | ধারণার যৌক্তিকতা পেয়ে যতটা না শান্তি লাগছে তার চেয়ে শতগুণ বেশি শঙ্কা জাগছে এ ইস্যুতে তথাকথিত সুশীলদের মুখে কুলুপ আঁটা দেখে |

পোস্টের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সবার অবহিত হওয়া উচিত; সে লক্ষ্যে পোস্ট স্টিকি করার দাবী জানাচ্ছি

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,
``````````````````````````````````````
জয় বাঙলা, জয় বঙ্গবন্ধু
, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক ভালভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। আপনার বাবার কথাটা অনেক ভালো লাগল।
আর একটা কথা প্রিলিতে এই বছর হঠাত করে এই সিস্টেম চালু করে জামাতি পরিকল্পনা ত্বরান্বিত কে বা কারা করল তাও ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসলেই আন্দোলন কোটা বিরোধী না, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিরোধী। আগে তো জামাতিরা মনে মনে মুক্তিযোদ্ধাদের গালি দিত, প্রকাশ্যে দেওয়ার সাহস পেত না। আর এখন প্রকাশ্যে দেওয়ার একটা ইস্যু বানিয়ে নিসে আর কিছু মানুষকে দাবার গুটির মত ব্যবহার করছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাবার মুখের একটি কথা দিয়েই শেষ করতে চাই, "জামায়াতের পরিকল্পনা অনেক সুদূর প্রসারী, তারা এত শীঘ্রই ক্ষমতায় আসার কথা ভাবেনা, তবে যখন আসবে তখন যেন তাদের বিপক্ষে কথা বলার মত কেউ না থাকে সেই ব্যবস্থা করেই আসবে।"


ওরা যদি কোনদিন ক্ষমতায় আসে, ৪/৫ মাসের মাঝে ওরা দেশ ছেড়ে পালাব!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

O.M.G ! O.M.G !! O.M.G !!!
পোষ্টের লিংক সেভ করে রাখতেছি কাজে দিবে । অসাধারণ ব্যখ্যা ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্টেনগানটা হাতের কাছে নাই, ওটা এখনই দরকার!

আপডেট:
পুলিশ যে ৩৫জনকে গ্রেফতার করেছে তাদের ১০জনের নাম পাওয়া গেছে - হাফিজুর রহমান, জোনায়েদ, মির্জা তোহিনুল হক, সিকদার দিদারুল হক, মতিউর রহমান, জহিরুল ইসলাম, নুরুল হুদা, মো. রায়হান কাওসার, আরিফ হোসেন। এদের মধ্যে আবু সালেহ মো. তোহা'র নাম দেখছি না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রিয়তে নিলাম,অসাধারণ পোস্ট।অবাক লাগে কিভাবে বাংলাদেশে বসে পাকিস্তানী বংশধররা বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারনা চালায়।




********************************

দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ আর মানুষ্যমূত্র একই জিনিস!!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাল পোস্ট । সরকারের উচিৎ হবে আন্দোলনকারীদের সাথে দ্রুত আলোচনায় বসা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই জাতি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান দেখাতে পারেনি।
সামান্য এই সুবিদা টুকুও কেড়ে নেওয়া মানবেতর অপরাধ।

.

-------------------------------------------------------
জানতে হলে পড়তে হবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই কোটা বিরোদী আন্দোলন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিও দেখছি দ্বিধার মধ্যে আছে। দাবীটা কতটা যৌক্তিক, কতটুকু সংশোধনকরা উচিত, তার থেকে বড় কথা এই আন্দোলনটা এখন মুক্তিযুদ্ধাদের নিয়ে মনের সুখ মিটিয়ে খিস্তিখেউর করে একটা পক্ষ সীমাহীন আনন্দ পাচ্ছে। বাংলাদেশের মুক্তযুদ্ধ বিরোধী গ্রুপ যুব সমাজের কাছে মুক্তিযুদ্ধাদের বীরে বদলে খল নায়ক বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। চমৎকার লেখা। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি মেধার পক্ষে, না হলে দেশ রসাতলে যাবে, কোটা কোটা করে না চিচিয়ে লেখাপড়া করুন্ কাজে আসবে ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


কোটাবিরোধীরা জামাত শিবির! কোটাবিরোধীরা ফকিন্নির পুত! মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিক্রেতাদের হুশ কি কখনই ফিরবে না? দিনতো এখন গোনার পর্যায়ে চলে এসেছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারণ, অনন্য রচনা।

--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিভ্রান্ত করে ফেলছে।
অপ পাকিস্তান তৈরির পথে অগ্রগতি লক্ষনীয়।
আর মাত্র ৫ বছর পরই মুক্তিযোদ্ধারা হবে গণশত্রু।
রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে বীরের মর্যাদা।

ভালো বিশ্লেষন।৭১-এর সেই দিন গুলোকে ফিরিয়া আনার কোন বিকল্প নেই।

I love my mother land


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মেধার জটলায় কিয়ের আলামত?









<======================================================================================>
"অনেক কাল পেরুল
রোদে মরা তৃণের মতো
শুকিয়ে গেল সময়-
আমার পিতার হন্তারকের তবু শান্তি হলো না" -আশরাফ রোকন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শেষ ২টা ছবি কবের? কোথায়? কার?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Star Star Star Star Star
নামহীন!! আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই লেখার জন্য।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মানলাম আপনার কথা, জামাত শিবির আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু আজকের প্রথম আলোর প্রতিবেদনটা পড়ে দেখুন, আপনার এই আন্দোলন বিরোধিতা কেমন করে থাকে। কোটার কারণে কীভাবে কি সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে ওখানে।
আপনার অবগতির জন্য হুবহু প্রতিবেদনটাই তুলে ধরলাম এখানে।
জনপ্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে কোটা প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি। গত আট বছরে পাঁচটি বিসিএসের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট এক হাজার ১৮৯ জন প্রার্থীকে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। তাঁদের মধ্যে ৫৬০ জনকে মেধায় আর বাকি ৬২৯ জনকে বিভিন্ন কোটা থেকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
একই সময়ে পুলিশ ক্যাডারের জন্য ৭৫৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি। এর মধ্যে ৩৫৫ জনকে মেধা আর ৩৯৮ জনকে বিভিন্ন কোটা থেকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। পিএসসির এই সুপারিশ অনুসারেই নিয়োগ দেয় সরকার।
শুধু পুলিশ বা প্রশাসনেই নয়, রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণীর ১৫টি সাধারণ ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে গত পাঁচটি বিসিএসে (২০০৫-২০১২) মোট তিন হাজার ১৭৯ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি। এর মধ্যে এক হাজার ৪৯৩ জনকে মেধায় আর এক হাজার ৬৮৬ জনকে বিভিন্ন কোটা থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে কারিগরি ক্যাডারে বহু চেষ্টা করেও কোটা পূরণ করা যায় না। আবার কাউকে না পেলে কোটার পদগুলো শূন্য রাখতে হয়। ফলে সর্বশেষ চারটি বিসিএসে তিন হাজার ১৬২টি পদ খালি রাখতে হয়েছে পিএসসিকে। এ ছাড়া শুধু কোটার জন্য ৩২তম বিশেষ বিসিএসের ব্যবস্থা করে পিএসসি। প্রার্থী না পাওয়ায় ওই বিসিএসে কোটার এক হাজার ১২৫টি পদও শূন্য রাখতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই এবার প্রিলিমিনারি থেকে কোটাপদ্ধতি চালুর চিন্তা করেছিল পিএসসি, যার কারণে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশাসনে এমন কোটা থাকলেও দেশের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। এ ক্ষেত্রে শুধু যোগ্যতাকেই বিবেচনা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যমান কোটাব্যবস্থার কারণে আমাদের প্রশাসনে মেধাবীদের চেয়ে কোটাধারী কম মেধাবীরা বেশি জায়গা করে নিচ্ছেন। আর শুধু সাধারণ ক্যাডার কেন, কলেজের শিক্ষক, বিচার বিভাগ—সবখানেই তো কোটার কারণে অতি মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। কাজেই কোটাপদ্ধতির অবশ্যই সংস্কার হওয়া উচিত। আর অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা থাকতে পারে। তবে সব মিলিয়ে ২০ শতাংশের বেশি কোটা থাকা উচিত নয়।’
বঞ্চিত মেধাবীরা: বিদ্যমান কোটা অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে পিএসসি যদি ১০০ জন লোক নিয়োগ করে, তাহলে মাত্র ৪৫ জন নিয়োগ পাবেন মেধার ভিত্তিতে, ৩০ জন নিয়োগ পাবেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মধ্য থেকে, ১০ জন নারী কোটায়, ১০ জন জেলা কোটায় এবং পাঁচজন নিয়োগ পাবেন উপজাতি কোটায়।
পিএসসির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে গড়ে ৫০০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু অংশ নেন দেড় থেকে দুই লাখ পরীক্ষার্থী। কোটাপদ্ধতির কারণে কেউ যদি দুই লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৬তম হন, তাহলে তিনি চাকরি না-ও পেতে পারেন। কারণ, ৫০০ পদের মধ্যে মেধা কোটায় ২২৫ জনকে দেওয়া যাবে। কাজেই ২২৬তম হয়ে তিনি চাকরি পাবেন না। আবার কোটা থাকলে কেউ সাত হাজারতম হয়েও চাকরি পেতে পারেন।
কোটার কারণে বঞ্চিত প্রার্থীরা বিসিএসের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। এমনিতেই বিসিএস পরীক্ষার প্রচলিত পদ্ধতিটি মেধা যাচাইয়ের জন্য কোনো উৎকৃষ্ট পদ্ধতি নয়। পাশাপাশি রয়েছে বাছাই পদ্ধতির দীর্ঘসূত্রতা। একটি বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে শুরু করে নিয়োগ সম্পন্ন হতে দুই-আড়াই বছর লেগে যায়। এসব কারণে অনেক মেধাবী বিসিএসের চিন্তা বাদ দিয়ে ঝুঁকছেন বেসরকারি চাকরির দিকে। কেউ পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে।
সর্বশেষ পাঁচটি বিসিএসের চিত্র: ২০০৫ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শেষ বছরে ২৭তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নানা জটিলতার পর ২০০৮ সালে ওই বিসিএসের ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫৮০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়, যার মধ্যে ২৬৯ জনকে মেধায় আর ৩১১ জনকে কোটায় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
পিএসসির গত ছয় বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন ও ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২৮তম বিসিএসের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে। দুই বছর পর ২০১০ সালে এর ফল প্রকাশ হয়। সাধারণ ক্যাডারে মোট ৬৫৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এর মধ্যে ৩১০ জনকে মেধায় আর ৩৪৮ জনকে কোটায় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ২৯তম বিসিএসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১১ সালে এর ফল প্রকাশ হয়। এতে সাধারণ ক্যাডারে ৪১৫ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ২০১ জনকে মেধায় আর ২১৪ জনকে কোটায় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
৩০তম বিসিএসের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১০ সালে। ২০১১ সালের ২ নভেম্বর এর ফল প্রকাশ হয়। এতে মোট ৭৬৫ জনকে নিয়োগের সুপারিশ ছিল। এর মধ্যে ৩৫৮ জনকে মেধায় আর ৪০৭ জনকে কোটা থেকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
৩১তম বিসিএসের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১১ সালে। ২০১২ সালের ৮ জুলাই এর ফল প্রকাশ হয়। সাধারণ ক্যাডারে ৭৬১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এর মধ্যে ৩৫৫ জনকে মেধায় আর ৪০৬ জনকে কোটায় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
পদ শূন্য থাকছে: বিএনপি-জোট সরকারের সময় বলা হতো, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এই পদগুলো মেধা দিয়ে পূরণ করা হোক। কিন্তু এর ফলে দেখা গেল, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা থাকলেও তাঁরা চাকরি পেতেন না। সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার কোটার পদগুলোতে প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেগুলো শূন্য রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফল হয় উল্টো। মেধাবীরা উত্তীর্ণ হয়েও একদিকে চাকরি পাননি, আর অন্যদিকে শত শত পদ শূন্য রয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতো কারিগরি ক্যাডারের প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন।
২৮তম বিসিএসে প্রার্থী না পাওয়ায় প্রাধিকার কোটার বিপরীতে ৮১৩টি পদ শূন্য রাখে পিএসসি। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ৬২৮টি, মহিলা কোটায় ৪৫ ও উপজাতি কোটায় ১৪০টি পদ শূন্য ছিল।
২৯তম বিসিএসে ৫৩৮টি মুক্তিযোদ্ধা, ৮১টি মহিলা ও ১১১টি উপজাতিসহ কোটার ৭৯২টি পদ শূন্য ছিল।
৩০তম বিসিএসে ৬১৩টি মুক্তিযোদ্ধা, ৩২টি মহিলা ও ১৩৯টি উপজাতিসহ কোটার ৭৮৪টি পদ শূন্য ছিল।
৩১তম বিসিএসে ৫৫০টি মুক্তিযোদ্ধা, ৫৪টি মহিলা ও ১২৯টি উপজাতিসহ কোটার ৭৭৩টি পদ শূন্য ছিল।
কোটার শূন্য পদগুলো পূরণ করতে মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী ও মহিলাদের জন্য ৩২তম বিশেষ বিসিএস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিএসসি। ওই বিসিএস ও মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৮১৭টি, মহিলা ১০টি ও উপজাতির ২৯৮টিসহ মোট এক হাজার ১২৫টি পদ শূন্য রাখতে হয়। শেষ পর্যন্ত ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে এই পদগুলো পূরণের সিদ্ধান্ত হয়। অথচ ৩২তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ৯১২ জনই চাকরির সুযোগ পাননি। কারণ এক কোটা থেকে আরেক কোটায় নিয়োগ দেওয়া যায় না।
এর আগে ২০০৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৮৩৩টির মধ্যে ৭৭৮টি, ২০০৫ সালে এক হাজার ৮৫৪টির মধ্যে এক হাজার ৫০৮টি, ২০০৬ সালে ৭৫৪টির মধ্যে ৫৯৮টি এবং ২০০৭ সালে ৭০৯টির মধ্যে ৬৩৭টি পদ খালি রাখতে হয়েছিল এই কোটার কারণেই।
পিএসসির সদস্য লিয়াকত আলী খান ও এমরান কবির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রার্থী না পাওয়ায় কোটার পদগুলো বছরের পর শূন্য পড়ে থাকে। এ জন্যই এবার প্রিলিমিনারি থেকেই কোটার বিপরীতে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতে কোটার পদগুলো পূরণ করা যেত।
সুপারিশের কী হলো: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান এবং সাবেক সচিব কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ (বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার) বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার ওপর ২০০৮ সালের মার্চে একটি গবেষণা করেছেন। ৬১ পৃষ্ঠার এই গবেষণা প্রতিবেদনটি পিএসসিতে আছে। এই প্রতিবেদনে কোটা কমিয়ে আনার সুপারিশ করা হলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭৭ সালে এক বৈঠকে তৎকালীন পে ও সার্ভিস কমিশনের প্রায় সব সদস্য সরকারি নিয়োগে কোটা ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। কমিশনের সদস্যদের মধ্যে একমাত্র এম এম জামান ছিলেন কোটার পক্ষে। তবে কোটার পক্ষে সেদিন জামানের অবস্থান থাকলেও তিনি শুধু একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবস্থাটি চালু রাখার পক্ষে ছিলেন। তবে ১৯৮৭ থেকে পরবর্তী ১০ বছরে কোটার হার ধীরে ধীরে কমিয়ে দশম বছরে তা বিলুপ্ত করার কথা বলেছিলেন তিনি। ওই সুপারিশ অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পর দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো কোটা থাকার কথা নয়। তবে ওই প্রতিবেদন বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ সরকার নেয়নি।
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের কোনো চিন্তা আছে কি না, জানতে চাইলে জনপ্রশাসনসচিব আবদুস সোবহান সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, এখনো সংস্কারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে ভবিষ্যতে হয়তো সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

Rasel Raju


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমৎকার বর্ণনা


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দূর্দান্তিস ।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমরা বরাবরের মতই আসল জিনিস ছেড়ে অন্য জিনিস নিয়া টানাটানি করি। শাহাবাগের মঞ্ছে আসল প্যাচাল বাদ দিয়ে হলো নাস্তিক/আস্তিক প্যাচাল। এখান আবার শুরু হলো কোটা ভালো না খারাপ তা বাদ দিয়া জামাত /মুক্তিযুদ্ধ নিয়া টানাটানি। সহজ কথা হলো কোটা ভালো না খারাপ তা নিয়া । এর সাথে মুক্তিযুদ্ধকে টান্টানি করা উচিত না। মুক্তিযুদ্ধ এমন জিনিস যা অপরিবর্তনীয়। তাই কারো ফালাফালিতে এর কিছু হবে না। কিন্তু এর সাথে কোটার- সম্পর্ক করার কিছু নাই। আমার মতে কোটা সিস্টেম দরকার। কিন্তু এতো না যাতে অন্যরা ক্ষিতগ্রস্থ হয়। ১০০ জনের মধ্যে ৫৬ জন কোটার হলে তা আসলেই খারাপ।পিএসসি ছাড়া আর অন্য কোন খানে এতো কোটা নাই। একজন চোর /ডাকুও যদি কোন চিন্তার খোরাক জোগায় তা নিয়া চিন্তা করা দরকার।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কথা কিন্তুক সত্য
মুক্তিযোদ্ধারা কি কোঠার জন্য জন্য যুদ্ধ করছিলেন ?

নো নেভার ,উনারা রিকশাচালক হওয়ার লাইগা যুদ্ধ করছিলেন ।
পাছায় লাথ্থি খাওয়ার লাইগা যুদ্ধ করছিলেন আর রাজাকারের গাড়িতে পাকি পতাকা দেখার লাইগা যুদ্ধ করছিলেন ।ওসব দেখে মেধাবীরা তালিয়া বাজায় ।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা সব বাতিল কইরা দেন অনলি প্রভাবশালী কোটা থাকব ।৫০ বছর পর
হোয়াট ইজ মুক্তিযুদ্ধ ।
থার্টি লাকস ইটজ যাস্ট এ নাম্বার ।)

মিখাইলের স্টেনগান(Mikhailer STENGUN )


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এদের, আর আমরা নিজেরা নিজেরাই একসাথে থাকতে পারি না একটা আন্দোলনে!

______________________________________________________
আমি অপার হয়ে বসে আছি-
ওহে দয়াময়।
.................
জয় বাংলা, বাংলার জয়।

http://www.facebook.com/BottolarUkeel


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনবদ্য বিশ্লেষণ এর জন্য ধন্যবাদ আপনাকে- আক্ষেপ এর বিষয় হচ্ছে সিভিল সার্ভিস এর কতিপয় কনিষ্ঠ কর্মকর্তা যারা বিএনপি বা জামায়াত কোটায় চাকুরী পেয়েছে তারা সরাসরি এই আন্দোলনেক সমর্থন দিচ্ছে,

শান্তির জয় হোক/.সাম্যের জয় হোক /.সত্যের জয় হোক।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এক জন কে নিয়াই তো একটা পোস্ট বানাই ফেললেন...।

1122


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কোটা প্রথার সংস্কার মানেতো স্বাধিনতার বিপক্ষে না কিংবা রাজাকারের পক্ষে না! এ দাবী সারা দেশের দাবী, দেশটা আমাদের সবার!

Always on behalf of truth.


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালো লাগলো; অসাধারন ব্যাখ্যা।
Star Star Star Star Star Star Star Star Star Star Star Star Star Star Star


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাপ্রিবাপ অত্তবড় লেহা। হইত্তাল্লাম না।

glqxz9283 sfy39587p07