Skip to content

মেডিক্যাল ভর্তিপরীক্ষা নিয়ে কিছু কথা...

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১. মেডিক্যাল ভর্তিপরীক্ষা বন্ধের সিদান্ত নিয়ে চারদিকে বেশ আলোচনা-সমালোচনা, সমালোচনাই বেশি... এই সিদান্তের ফলে কিছু মেধাবী ছাত্রছাত্রী (কিন্তু জিপিএ তুলনামুলক কম) মেডিক্যালে ভর্তি হবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, যারা ভর্তি হবার সুযোগ পাবে, তারা অমেধাবী। এটা সত্য, আজকাল গোল্ডেন এ+ পাওয়া খুবই সহজ, কিন্তু তারমানে এই নয় যে যারা এ+ পাচ্ছে তারা কিছু না পড়েই পাচ্ছে। পরীক্ষার আগে দু-তিন মাস তারাও কলুর-বলদের মত পরিশ্রম করেই এ+ পাচ্ছে এবং তারা নিঃসন্দেহে মেধাহীন নয়।

২. একটু অন্যভাবে দেখি। ধরি, পর পর দুইদিন দুটি মেডিক্যাল এডমিশন টেস্ট নেয়া হল। একই শিক্ষার্থী, তবে ভিন্ন প্রশ্নপ্রত্র। আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, ২য় পরীক্ষায় কমপক্ষে ২০-৩০% পরীক্ষার্থী উর্ত্তীণ হবে যারা প্রথম পরীক্ষায় হয়নি। তারমানে প্রথমে উর্ত্তীণ হওয়া অনেকেই বাদ পরবে। তাছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে কিছু অযোগ্য শিক্ষার্থীও ঢুকে যাচ্ছে প্রতিবছর। সুতরাং কিছু মেধাবী ছাত্রছাত্রী, সবসময়ই মেডিক্যালে ভর্তি হবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

৩. আমরা অনেকটা ধরেই নিয়েছি যে, এডমিশন টেস্ট গুলোর মাধ্যমে সঠিকভাবে মেধা যাচাই হয়। কিন্তু আমাদের দেশের ভর্তি পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র কতটা স্ট্যান্ডার্ড? ... আমার ব্যক্তিগত মতামত হল, একমাত্র বুয়েট ব্যতিত কোন এডমিশন টেস্টেই মেধার সঠিক যাচাই হয় না। বুয়েটের টেস্ট স্ট্যান্ডার্ড এই কারনে যে, সেখানে রিটেন এবং অবজেক্টিভ মিলিয়ে লম্বা সময় নিয়ে একটি পরীক্ষা নেয়া হয়, যা মেডিক্যালের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। বুয়েটে প্রথমে ৪টি বিষয়ের জিপিএ বিবেচনায় এনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। মেডিক্যালে প্রতিবছর যে পরিমান শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়, তাদের রিটেন এক্সাম নিয়ে স্বল্প সময়ে রেজাল্ট প্রকাশ করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র অবজেক্টিভ দিয়েও স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে স্ট্যান্ডার্ড অবজেক্টিভ টাইপ প্রশ্ন করার মত শিক্ষক আছে বলে আমার মনে হয় না। একটা সময় ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের প্রশ্নপ্ত্র কিছুটা স্ট্যান্ডার্ড ছিল,কিন্তু এখন গত ১০ বছরের প্রশ্ন ভালো ভাবে সলভ করলে এবং কিছু টেকনিক প্রয়োগ করলেই বেশ ভাল ফল পাওয়া যায়। এভাবে যারা টিকছে তাদের সবাই কি প্রকৃত মেধাবী?

৪. পৃথিবীর কোন উন্নত দেশে এডমিশন টেস্ট এর মত কোন সিস্টেম আছে বলে আমার সল্পজ্ঞানে জানা নেই। এইধরনের সিস্টেম সবসময়ই কোচিং বাণিজ্যের মত অসাধু প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। কে না জানে, কোচিং সেন্টারগুলোই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত থাকে। এছাড়াও এই বিশাল বাণিজ্য পরিবার, সমাজ ও দেশকে নানাভাবে ক্ষতি করে যা একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায় । যাইহোক, বাইরের দেশে এডমিশন টেস্ট নেই তবে কিছু স্ট্যান্ডার্ডাইজ টেস্ট আছে। যেমন, আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলের জন্য USA-তে SAT টেস্টের score বিবেচনা করা হয়। এইসব টেস্টের সাথে আমাদের এডমিশন টেস্ট-এর অনেক পার্থক্য। এসব ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের চেয়ে একজন শিক্ষার্থীর analytical power-এর উপর জোর দেয়া হয়। এইসব টেস্ট এবং একাডেমিক রেজাল্ট বিবেচনায় বাইরের দেশে ভর্তি করানো হয়। আমাদের দেশে এইধরনের কোন প্ল্যাটফরম আপাতত নেই, এবং খুব তাড়াতাড়ি হবে না, কারন স্ট্যান্ডার্ড কিছু স্বল্প সময়ে হয় না। যাইহোক, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে এডমিশন টেস্টের বিকল্প না ভাবার কোন কারন নেই। একাডেমিক রেজাল্ট বিবেচনা করেই ভর্তি করানো যেতে পারে। আবারো বলি, এতে কিছু কম জিপিএধারী মেধাবী শিক্ষার্থী বাদ পরবে। কিন্তু সার্বিকভাবে যারা ভর্তি হবে তাদের ৮০%-ই মোটামোটি মেধাবী হবে। কোন সিস্টেমই সর্বোত্তম নয়, তবে সব কিছু বিবেচনায় যেটা বেশিরভাগ মানুষের জন্য ভাল, সেটাই ভাল। এক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের HSC, SSC-এর প্রশ্নপত্র এবং খাতা দেখার স্টাইলে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রশ্নের ৪০% হওয়া উচিত একদম পানি, ৩০% মোটামোটি, বাকি ৩০% খুবই কঠিন... এতে করে পাশের হার কমবে না, কিন্তু মেধার মূল্যায়ন হবে...

৫. একটা কথা শুনতেছি, মেডিক্যাল এডমিশনের বেচে যাওয়া টাকা নাকি পদ্মা সেতু প্রকল্পে লাগানো হবে, সত্য-মিথ্যা জানি না। তবে একটা কথা ঠিক, আমাদের দেশে বিপুল পরিমাণ টাকা সিস্টেমলসে নষ্ট হয়। SSC, HSC এর মত দুইটি বড় পরীক্ষা দিয়ে এসেও মেডিকেল বা ভার্সিটিতে ভর্তি করাবার জন্য যদি এত বিপুল টাকা খরচ করে এডমিশন টেস্ট নিতে হয়, তাহলে আমার চোখে তা সিস্টেম লস। এরমানে এই নয় যে আমি শুধুমাত্র পদ্মাসেতুতে বিনিয়োগ করার জন্য ভর্তিপরীক্ষা বাতিলের সিদান্ত(যদি সত্যি তাই হয়) সমর্থন করছি। আমি শুধু বলতে চাই, এই ভর্তিপরীক্ষা সিস্টেমের বিকল্প ভাবা ভুল কিছু নয়।

৬. সবশেষে বলব, আমরা যারা বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে ভাল জায়গায় অবস্থান করছি তারাই ভর্তিপরীক্ষার সমর্থনে বেশি তৎপর। কিন্তু এমন অনেকেই আছে, যাদের জিপিএ ভাল, তারা মেধাবীও... কিন্তু একঘন্টার একটা টেস্ট খারাপ হবার কারনে তাদের স্বপ্নপূরন হয়নি। ... এখন পর্যন্ত আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে, এইটুকু বুঝেছি, অনেকে আছে যারা পরীক্ষা ভাল দেয়, তাই বলে তারাই মেধাবী নয়। পরীক্ষার হলে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে কিছু প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারাই মেধার পরিচয় না। বরং মাঝারি মানের শিক্ষার্থীরা যাদের রেজাল্ট মাঝারি এবং পড়ালেখাবাদেও অন্যান্য অকাজে যারা বেশ তৎপর তারাই প্রফেশনাল লাইফ-এ ভালো করে। তবে এটাও ঠিক, আমাদের মেধাযাচাইয়ের একটা সিস্টেম লাগবে এবং পরীক্ষা ছাড়া তা সম্ভব না। আমি শুধু এটাই বলতে চাই, সবকিছু বিবেচনা করে মেধাযাচাই-এ ভর্তিপরীক্ষার সিস্টেম থেকে SSC, HSC এর রেজাল্ট বিবেচনা করাই অপেক্ষাকৃত উত্তম। এতে করে, যারা চান্স পাবে তারা অযোগ্য হবে না। এই যোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠতেছে, সে গুলাও থাকবে না যদি SSC, HSC এর প্রশ্নের মান উন্ন্যয়ন হয়। সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের implementation অবশ্যই ভাল দিক... সববিষয়ে আস্তে আস্তে সৃজনশীল প্রশ্ন শুরু করা উচিত এবং difficulty level-নিয়েও বেশ চিন্তাভাবনা দরকার। ... আর এইবছর যেহেতু আগে থেকে জানানো হয়নি সেহেতু ভর্তিপরীক্ষা নেয়া উচিত। আগামী বছর থেকে নতুন নিয়ম চালু হলে তা বেশি ethical হয় বলে আমার ধারনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

If u have a system that is not correct, u hav to correct it... u can't compensate the loss by making another good system..... এই কথাটা বললাম এই কারনে যে, ssc, hsc এর রেজাল্ট বিবেচনা করে মেধার মূল্যায়ন হবে, এটাই সহজ সরল নিয়ম হওয়া উচিত ছিল... কিন্তু যেহেতু আমরা নিজেরাই এই সিস্টেম এ ভরসা রাখি না, তাই নিউ সিস্টেম বানাইছি যাতে আগের ভুল ঠিক করা যায়... কিন্তু এভাবে করে যেটা হয় সেটা হল সিস্টেম লস... আমাদের মেইন সমস্যাটা ঠিক করতে হবে... পুরান ভুল সিস্টেমকে ঠিক করতে নতুন সিস্টেম তৈরী করলে সেই নিউ সিস্টেম চালাইতে সিস্টেম লসের সাথে সাথে নতুন নতুন প্রব্লেম দেখা দিবে...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সরকার আমাদের থেকে অনেক ভালো বোঝে। কাজেই তারা যা করেছে সেটাই আমাদের মেনে নিতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে যে সামনে নির্বাচন আসতেছে। আর এখন যদি আখের গোছাতে না পারে তবে নির্বাচন ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভর্তিপরীক্ষা নেয়া হবেনা আগে থেকে জানালে কি এমন বাড়তি সুবিধা হতো? অনেক দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী কোচিং এ ভর্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে ভর্তিপরীক্ষায় ভাল ফলাফল করতে পারেনা। সিষ্টেম লস সবদিকেই কিছুটা মেনে নিতে হবে। তবে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের কোন বিকল্প নেই। এই বড় বিষয়টির গুরুত্ব সবার আগে দেয়া উচিৎ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

"আর এইবছর যেহেতু আগে থেকে জানানো হয়নি সেহেতু ভর্তিপরীক্ষা নেয়া উচিত। আগামী বছর থেকে নতুন নিয়ম চালু হলে তা বেশি ethical হয় বলে আমার ধারনা।"

প্রয়োজনে আরো সময় নেয়া যেতে পারে...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তবে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের কোন বিকল্প নেই। এই বড় বিষয়টির গুরুত্ব সবার আগে দেয়া উচিৎ।
কোচিং জিনিসটা ঠিকঠাক মতো হলে খারাপ না। তবে সবচেয়ে খারাপ কোচিং হলো ক্লাসের শিক্ষকরা ক্লাসে কম পড়িয়ে তাদের কোচিংয়ে যেতে বাধ্য করে। তা না হলে নাম্বার কম দেয়। আর বোর্ডের পরীক্ষায় প্র্যাকটিক্যালে বাঁশ দেয়।

--------------------------------------
সুশীলরা গণমানুষের শত্রু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১. মেডিক্যাল ভর্তিপরীক্ষা বন্ধের সিদান্ত নিয়ে চারদিকে বেশ আলোচনা-সমালোচনা, সমালোচনাই বেশি... এই সিদান্তের ফলে কিছু মেধাবী ছাত্রছাত্রী (কিন্তু জিপিএ তুলনামুলক কম) মেডিক্যালে ভর্তি হবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, যারা ভর্তি হবার সুযোগ পাবে, তারা অমেধাবী। এটা সত্য, আজকাল গোল্ডেন এ+ পাওয়া খুবই সহজ, কিন্তু তারমানে এই নয় যে যারা এ+ পাচ্ছে তারা কিছু না পড়েই পাচ্ছে। পরীক্ষার আগে দু-তিন মাস তারাও কলুর-বলদের মত পরিশ্রম করেই এ+ পাচ্ছে এবং তারা নিঃসন্দেহে মেধাহীন নয়।

মেধা জিনিসটা 'বিষয়ভিত্তিক'। যেমন ধরেন, আপনার ব্লগিংয়ে মেধা আছে, সাকিবের ক্রিকেটে মেধা আছে, কারো ইঞ্জিয়ারিংয়ের মেধা (যেমন, গণিতে পারদর্শিতা) আছে, কারো মেডিক্যালের মেধা (যেমন, শেখা জিনিস মুখস্ত রাখার ক্ষমতা) আছে। বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষায় এরকম বিষয়ভিত্তিক মেধা যাচাই করা হয় না। তাই পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ইউনিভার্সিটি বা মেডিকেলের মতো স্পেশিয়ালাইজড ফিল্ডে ভর্তি হওয়া উচিত না।

২. একটু অন্যভাবে দেখি। ধরি, পর পর দুইদিন দুটি মেডিক্যাল এডমিশন টেস্ট নেয়া হল। একই শিক্ষার্থী, তবে ভিন্ন প্রশ্নপ্রত্র। আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, ২য় পরীক্ষায় কমপক্ষে ২০-৩০% পরীক্ষার্থী উর্ত্তীণ হবে যারা প্রথম পরীক্ষায় হয়নি। তারমানে প্রথমে উর্ত্তীণ হওয়া অনেকেই বাদ পরবে। তাছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে কিছু অযোগ্য শিক্ষার্থীও ঢুকে যাচ্ছে প্রতিবছর। সুতরাং কিছু মেধাবী ছাত্রছাত্রী, সবসময়ই মেডিক্যালে ভর্তি হবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

না, ২য় পরীক্ষায় ২০-৩০% এর হেরফের হবে না। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা লটারী না, এটা যোগ্যতার পরীক্ষা। ১ দিনেই তিনভাগের একভাগ লোকের যোগ্যতা পরিবর্তিত হবে না। দুয়েকজন ব্যাড লাকের কারণে পরীক্ষা এদিক-ওদিক হতে পারে; কিন্তু ওই পর্যন্তই। আমি এই কথা বলছি নিজে ১০টা অ্যাডমিশন টেস্ট দেয়ার অভিজ্ঞতা থেকে।

৩. আমরা অনেকটা ধরেই নিয়েছি যে, এডমিশন টেস্ট গুলোর মাধ্যমে সঠিকভাবে মেধা যাচাই হয়। কিন্তু আমাদের দেশের ভর্তি পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র কতটা স্ট্যান্ডার্ড? ... আমার ব্যক্তিগত মতামত হল, একমাত্র বুয়েট ব্যতিত কোন এডমিশন টেস্টেই মেধার সঠিক যাচাই হয় না। বুয়েটের টেস্ট স্ট্যান্ডার্ড এই কারনে যে, সেখানে রিটেন এবং অবজেক্টিভ মিলিয়ে লম্বা সময় নিয়ে একটি পরীক্ষা নেয়া হয়, যা মেডিক্যালের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। বুয়েটে প্রথমে ৪টি বিষয়ের জিপিএ বিবেচনায় এনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। মেডিক্যালে প্রতিবছর যে পরিমান শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়, তাদের রিটেন এক্সাম নিয়ে স্বল্প সময়ে রেজাল্ট প্রকাশ করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র অবজেক্টিভ দিয়েও স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে স্ট্যান্ডার্ড অবজেক্টিভ টাইপ প্রশ্ন করার মত শিক্ষক আছে বলে আমার মনে হয় না। একটা সময় ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের প্রশ্নপ্ত্র কিছুটা স্ট্যান্ডার্ড ছিল,কিন্তু এখন গত ১০ বছরের প্রশ্ন ভালো ভাবে সলভ করলে এবং কিছু টেকনিক প্রয়োগ করলেই বেশ ভাল ফল পাওয়া যায়। এভাবে যারা টিকছে তাদের সবাই কি প্রকৃত মেধাবী?

অ্যাডমিশন টেস্টের মাধ্যমে সঠিকভাবে মেধার বিচার না হলে অ্যাডমিশন টেস্ট পদ্ধতিকে আপগ্রেড করতে হবে। তার জন্য ভর্তি পরীক্ষাই উঠিয়ে দেয়া যাবে না। আমি বিভিন্ন ধরনের ১০টা অ্যাডমিশন টেস্ট দিয়েছিলাম - অনেক বছর আগের কথা যদিও - কোনোটা এমসকিউ, কোনোটা রিটেন, কোনোটা মিক্সড, প্রত্যেকটা পরীক্ষাকেই আমার কাছে চলনসই (গুড এনাফ) মনে হয়েছিলো।

৪. পৃথিবীর কোন উন্নত দেশে এডমিশন টেস্ট এর মত কোন সিস্টেম আছে বলে আমার সল্পজ্ঞানে জানা নেই। এইধরনের সিস্টেম সবসময়ই কোচিং বাণিজ্যের মত অসাধু প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। কে না জানে, কোচিং সেন্টারগুলোই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত থাকে। এছাড়াও এই বিশাল বাণিজ্য পরিবার, সমাজ ও দেশকে নানাভাবে ক্ষতি করে যা একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায় । যাইহোক, বাইরের দেশে এডমিশন টেস্ট নেই তবে কিছু স্ট্যান্ডার্ডাইজ টেস্ট আছে। যেমন, আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলের জন্য USA-তে SAT টেস্টের score বিবেচনা করা হয়। এইসব টেস্টের সাথে আমাদের এডমিশন টেস্ট-এর অনেক পার্থক্য। এসব ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের চেয়ে একজন শিক্ষার্থীর analytical power-এর উপর জোর দেয়া হয়। এইসব টেস্ট এবং একাডেমিক রেজাল্ট বিবেচনায় বাইরের দেশে ভর্তি করানো হয়। আমাদের দেশে এইধরনের কোন প্ল্যাটফরম আপাতত নেই, এবং খুব তাড়াতাড়ি হবে না, কারন স্ট্যান্ডার্ড কিছু স্বল্প সময়ে হয় না। যাইহোক, কোচিং বাণিজ্য বন্ধে এডমিশন টেস্টের বিকল্প না ভাবার কোন কারন নেই। একাডেমিক রেজাল্ট বিবেচনা করেই ভর্তি করানো যেতে পারে। আবারো বলি, এতে কিছু কম জিপিএধারী মেধাবী শিক্ষার্থী বাদ পরবে। কিন্তু সার্বিকভাবে যারা ভর্তি হবে তাদের ৮০%-ই মোটামোটি মেধাবী হবে। কোন সিস্টেমই সর্বোত্তম নয়, তবে সব কিছু বিবেচনায় যেটা বেশিরভাগ মানুষের জন্য ভাল, সেটাই ভাল। এক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের HSC, SSC-এর প্রশ্নপত্র এবং খাতা দেখার স্টাইলে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রশ্নের ৪০% হওয়া উচিত একদম পানি, ৩০% মোটামোটি, বাকি ৩০% খুবই কঠিন... এতে করে পাশের হার কমবে না, কিন্তু মেধার মূল্যায়ন হবে...

উন্নত দেশের সাথে তুলনাটা আসলে সবসময় বাস্তবসম্মত না। আমি কয়েকটা উন্নত দেশ দেখেছি। তারা অনেক আগে থেকেই ফিল্টারিং শুরু করে। স্টুডেন্ট তার সামর্থ্য ও পছন্দমতো বিষয়ের দিকে আগে থেকেই এগিয়ে যেতে পারে। উন্নত দেশে শিক্ষা লাভ করা একজন মানুষের আর্থিক নিশ্চয়তা আছে, সে যে বিষয়ই পড়ুক। আমাদের সামর্থ্য সীমিত। পঠিত বিষয়ের ওপর ভবিষ্যতের রুটি-রুজি প্রায় পুরোটাই নির্ভরশীল। উন্নত দেশে যেখানে এমনকি কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার জন্যই ছাত্র পাওয়া কঠিন, সেখানে আমাদের দেশে একটি আসনের বিপরীতে শয়ে শয়ে ক্যান্ডিডেট। সুতরাং আমাদের জন্য অ্যাডমিশন টেস্টের বিকল্প নাই। তবে উন্নত দেশেও ভর্তি পরীক্ষা একদমই নাই, এমন না। অনেক প্রোগ্রামেই ক্লাস শুরুর আগে অনেক কঠিন 'এন্ট্রান্স এক্সাম' পাস করতে হয়।

ভর্তি পরীক্ষা না নিয়েই তো কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হচ্ছে না। কোচিং নানান উপায়ে হয়। যেমন:

ক) স্কুল কলেজ শিক্ষকদের কাছে বাধ্যতামূলক কোচিং: এটা না করলে স্কুলের পরীক্ষার খাতায় কম নম্বর দেয়, বোর্ডের পরীক্ষায় প্রয়াকটিক্যালে বাঁশ।

খ) নার্সারি থেকে শুরু করে প্রতি ক্লাসেই ভর্তি কোচিং: এটা চলছে, চলবে।

গ) ক্যাডেট ভর্তি জাতীয় কিছু স্পেশ্যল কোচিং: এটাও বন্ধ করার উপায় নাই।

ঘ) প্রি-ইউনিভার্সিটি কোচিং: ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস শুরুর আগে পড়াশুনা এগিয়ে রাখার কোচিং।

ঙ) পাবলিক ইউনিভার্সিটি ভর্তি কোচিং: সব পাবলিক ইউনি।

চ) মেডিকেল ভর্তি কোচিং: মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য।

ছ) প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ভর্তি কোচিং: অনেক প্রাইভেট ইউনিও ভর্তি পরীক্ষা নেয়।

উপরের শ্রেণীগুলোর মধ্যে ক হলো সবচেয়ে বড়ো এবং ফিক্সড ব্যবসায়। স্টুডেন্টদের জন্য এটা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে চ বন্ধ করার কথা হচ্ছে। বাকিগুলো বহাল তবিয়তেই থাকছে।

আর কোচিং মানেই খারাপ জিনিস না। এইচএসসিতে সাজেশন করে পড়লেই এ প্লাস পাওয়া যায়। ফলে অনেক বিষয়ই ঠিকমতো বা মোটেই পড়া হয় না। ভর্তি কোচিং এই গ্যাপটা পূরণ করে।

৫. একটা কথা শুনতেছি, মেডিক্যাল এডমিশনের বেচে যাওয়া টাকা নাকি পদ্মা সেতু প্রকল্পে লাগানো হবে, সত্য-মিথ্যা জানি না। তবে একটা কথা ঠিক, আমাদের দেশে বিপুল পরিমাণ টাকা সিস্টেমলসে নষ্ট হয়। SSC, HSC এর মত দুইটি বড় পরীক্ষা দিয়ে এসেও মেডিকেল বা ভার্সিটিতে ভর্তি করাবার জন্য যদি এত বিপুল টাকা খরচ করে এডমিশন টেস্ট নিতে হয়, তাহলে আমার চোখে তা সিস্টেম লস। এরমানে এই নয় যে আমি শুধুমাত্র পদ্মাসেতুতে বিনিয়োগ করার জন্য ভর্তিপরীক্ষা বাতিলের সিদান্ত(যদি সত্যি তাই হয়) সমর্থন করছি। আমি শুধু বলতে চাই, এই ভর্তিপরীক্ষা সিস্টেমের বিকল্প ভাবা ভুল কিছু নয়।

হে হে, কোচিংয়ের বাঁচানো টাকা কি ছাত্ররা কোনো তহবিলে জমা রাখতেছে? কয়জন ছাত্র মেডিকেলে ভর্তি না হতে পেরেও কোচিং না করার কারণে বেঁচে যাওয়া টাকা সরকারকে দিবে? মেডিকেলে ভর্তি না হয়েও কেউ কোচিংয়ের টাকা পদ্মা সেতুতে দিবে, এইসব ছাত্ররা হাতের কাছে পাইলে এরকম বাণী দেওয়া লোকজনরে পাছা মাইরা কারবালা বানাইয়া দিবে।

৬. সবশেষে বলব, আমরা যারা বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে ভাল জায়গায় অবস্থান করছি তারাই ভর্তিপরীক্ষার সমর্থনে বেশি তৎপর। কিন্তু এমন অনেকেই আছে, যাদের জিপিএ ভাল, তারা মেধাবীও... কিন্তু একঘন্টার একটা টেস্ট খারাপ হবার কারনে তাদের স্বপ্নপূরন হয়নি। ... এখন পর্যন্ত আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে, এইটুকু বুঝেছি, অনেকে আছে যারা পরীক্ষা ভাল দেয়, তাই বলে তারাই মেধাবী নয়। পরীক্ষার হলে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে কিছু প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারাই মেধার পরিচয় না। বরং মাঝারি মানের শিক্ষার্থীরা যাদের রেজাল্ট মাঝারি এবং পড়ালেখাবাদেও অন্যান্য অকাজে যারা বেশ তৎপর তারাই প্রফেশনাল লাইফ-এ ভালো করে। তবে এটাও ঠিক, আমাদের মেধাযাচাইয়ের একটা সিস্টেম লাগবে এবং পরীক্ষা ছাড়া তা সম্ভব না। আমি শুধু এটাই বলতে চাই, সবকিছু বিবেচনা করে মেধাযাচাই-এ ভর্তিপরীক্ষার সিস্টেম থেকে SSC, HSC এর রেজাল্ট বিবেচনা করাই অপেক্ষাকৃত উত্তম। এতে করে, যারা চান্স পাবে তারা অযোগ্য হবে না। এই যোগ্যতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠতেছে, সে গুলাও থাকবে না যদি SSC, HSC এর প্রশ্নের মান উন্ন্যয়ন হয়। সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের implementation অবশ্যই ভাল দিক... সববিষয়ে আস্তে আস্তে সৃজনশীল প্রশ্ন শুরু করা উচিত এবং difficulty level-নিয়েও বেশ চিন্তাভাবনা দরকার। ... আর এইবছর যেহেতু আগে থেকে জানানো হয়নি সেহেতু ভর্তিপরীক্ষা নেয়া উচিত। আগামী বছর থেকে নতুন নিয়ম চালু হলে তা বেশি ethical হয় বলে আমার ধারনা।

উপরে বলা কথাগুলোই আবার একসাথে করি:
ক) ভর্তি পরীক্ষা লটারী না।
খ) মেধা বিষয়ভিত্তিক, মেধা অ্যাবসলিউট জিনিস না।

তাই ১ ঘন্টা হোক আর ৪ ঘন্টা হোক, ভর্তি পরীক্ষায় যোগ্যরাই চান্স পায়। বাদ পড়াদের মধ্যে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চান্স না পাওয়া অ্যাক্সিডেন্ট খুব কম। উসাইন বোল্টের মাত্র ৯ সেকেন্ড দৌঁড়াইয়া অলিম্পিকে সোনা পাওয়া কোনো লটারী না। হয়তো ৫০ বার দৌঁড়াইলে সে ১ বার ফলস স্টার্টের কারণে বাদ পড়বে, হয়তো দুয়েকবার ইয়োহান ব্লেকের কাছে সেকেন্ড হবে; কিন্তু মাত্র ৯ সেকেন্ডই তার সামর্থ্য প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট।

শেষের কথাটা ভালো বলেছেন। আসলে আগে থেকে না জানানো পয়েন্টেই এই সিস্টেম বাতিল হয়ে যাওয়া উচিত।

--------------------------------------
সুশীলরা গণমানুষের শত্রু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার সাথে আমার বিশেষ কোন দ্বিমত নেই... যেগুলো আছে সেগুলা হল

-

না, ২য় পরীক্ষায় ২০-৩০% এর হেরফের হবে না। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা লটারী না, এটা যোগ্যতার পরীক্ষা। ১ দিনেই তিনভাগের একভাগ লোকের যোগ্যতা পরিবর্তিত হবে না। দুয়েকজন ব্যাড লাকের কারণে পরীক্ষা এদিক-ওদিক হতে পারে; কিন্তু ওই পর্যন্তই। আমি এই কথা বলছি নিজে ১০টা অ্যাডমিশন টেস্ট দেয়ার অভিজ্ঞতা থেকে।


যেহেতু এইমুহুর্তে দুটি পরীক্ষা নিয়ে আমার কথার যথার্থতা প্রমাণ করা সম্ভব নয়, সেহেতু আমি শুধু একটি বাস্তব উদাহরনই দিতে পারি। কিছুদিন আগে ঢাবি সি ইউনিটএর এক্সাম দুবার নেয়া হয়েছে। আপনি একটু কষ্ট করে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন ওখানে নতুন টিকা ছাত্র ছাত্রীর % ২০-৩০ এর কম নয়। আমার জানামতে আরো বেশি... আপনি এখন দুটি এক্সামের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।। কিন্তু আমার বিশ্লেষন অনুযায়ী, দুটি এক্সামেই কম বেশি মুখস্ত বিদ্যার প্রাধান্য থাকে, analytical power এর মুল্যায়ন তেমন হয় না...

বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষায় এরকম বিষয়ভিত্তিক মেধা যাচাই করা হয় না। তাই পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ইউনিভার্সিটি বা মেডিকেলের মতো স্পেশিয়ালাইজড ফিল্ডে ভর্তি হওয়া উচিত না।


অ্যাডমিশন টেস্টের মাধ্যমে সঠিকভাবে মেধার বিচার না হলে অ্যাডমিশন টেস্ট পদ্ধতিকে আপগ্রেড করতে হবে। তার জন্য ভর্তি পরীক্ষাই উঠিয়ে দেয়া যাবে না। আমি বিভিন্ন ধরনের ১০টা অ্যাডমিশন টেস্ট দিয়েছিলাম


আমি মনে করি, আমাদের পাব্লিক পরীক্ষার সিস্টেমকে আপগ্রেড করতে হবে, তাহলেই সকল কিছু ঠিক হয়ে যায়। অন্তর্বতীকালীন সময়ে আপনি অ্যাডমিশন টেস্ট রাখতে চাইলে রাখতে পারেন। পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ের উপর আলাদা আলাদা এক্সাম নেয়া হয়, অই জায়াগটা ঠিক করলেই একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ও সার্বিক মেধা যাচাই করে তার ভবিষ্যত নির্ধারন করা যায়... সবশেষে, আপনি ১০টি এডমিশন টেস্ট দিয়েছেন... আপনি কি একবারও ধারনা করত পারতেছেন না যে কি অসুস্থ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমারা যাচ্ছি?

সবশেষে আমার ফেসবুকে করা একটা কমেন্ট এখানে পেস্ট করতেসি।। আশা করি, কমেন্ট টা আশপাশ বাদ দিয়ে মূল কথাটা বুঝতে পারবেন...

‘সিস্টেম লস’ , ‘সিস্টেম লস’- বলে মুখে ফেনা বের করে ফেললেও কাউকেই বুঝাইতে পারলাম না সিস্টেম লস কিভাবে হচ্ছে... সবার কথাবার্তা শুনে এই সিদান্তে উপনীত হইলাম যে, HSC এক্সাম নেয়ার আসলে কোন দরকারই নেই। সকলে SSC পাশ করিবার পর ২ বছর পড়ালিখা করিবে, তারপর নানাবিধ এডমিশন টেস্টে অংশগ্রহন করিয়া নিজ নিজ মেধা অনুযায়ী ভর্তি হইয়া যাবে। যে পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়া কার মেধার লেভেল সম্পর্কে কোন ধারনা লাভ করা যায় না, তাহার জন্য এতো কষ্ট এবং অর্থ ব্যয় করিবার দরকার কি?

HSC এক্সামের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সায়েন্স-এর স্টুডেন্টদের ৬-টি আলাদা বিষয়ে পরীক্ষা নেয়ার মাধ্যমে ওই ৬টি বিষয়ে তার মেধা অনুযায়ী ৬টি সিল (মানে বিষয়ভিত্তিক গ্রেড পয়েন্ট) মারা এবং তার গড় মেধার ভিত্তিতে আরেকটি সিল (জিপিএ) মারা। এই সিল গুলা সারাজীবনের জন্য থাকিয়া যাইবে। সকলেই এই সিল দেখিয়া বুঝিতে পারিবে, এ কেমন মাল! কিন্তু দেখা যাইতেছে আমরা এই সিল ঠিক মত মারতে পারতেছি না, তাই মাল কেমন বুঝিবার জন্য নতুন সিস্টেম বাইর করিতে হইতেসে... আমার কথা হইল, নতুন সিস্টেম এ যখন মালের পরিচয় ভাল ভাবে বুঝা যাইতেছে তাহলে পুরান সিস্টেমখানা রাখিয়া আর কি লাভ? পুরান সিস্টেম-এর পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করিবার কোন মানে হইতে পারে কি? নাকি আমাদের সরকারের টাকা বেশি হইয়া গেছে?

আমরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান, তাই কোথায় সমস্যা না বুঝিয়া আমরা নতুন সিস্টেম প্রসব করি। সেই সিস্টেম এর পিছনে অর্থ, শ্রম সবই অকাতরে ঢালি...ঢালব না কেন? আমাদের কি অর্থের অভাব নাকি? নাকি আমাদের বলের অভাব?

বিকাল হইতে তর্ক করিয়া কাউকেই বুঝাইতে পারিলাম না যে, একই উদ্দেশ্যে একই সাথে দুটি পৃথক সিস্টেম থাকার মানে হচ্ছে সময়, অর্থ এবং মেধার অপচয়, যাকে বলে সিস্টেম লস। কোন একটি পরীক্ষার মাধ্যমে যদি মেধা যাচাই না হয়, তাহলে সেই পরীক্ষাই অর্থহীন... উহা বাদ দেয়া অবশ্যকর্তব্য। তাই আমার বক্তব্য হইল, যেকোনো একটি থাকবে... HSC অথবা এডমিশন টেস্ট। যেটি থাকবে, সেটিরই মান উন্ন্যয়ন করতে হবে যাতে করে আরেকটি নতুন এক্সাম নেবার দরকার না পরে, যাতে করে সিস্টেম লসে পড়তে না হয়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মেধা কী আগে সেইটা বুঝেন । তার পর তা যাচাই এর পদ্ধতি নিয়া লিখেন । বুয়েটে ৪ লাইনে একটা ২ পাতার সমাধান করতে দেয় যা সমাধান করতে কোন কোচিঙ এর টেকনিক ছাড়া কোন ভাল ছাত্রের পক্ষে সম্ভব না যে কিনা আজীবন কষে কষে অংক করতে শিখেছে। এইটা হল আপনার স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট পদ্ধতি!!!!!!!!!!!! আপনি ত দেখছি স্ট্যান্ডার্ড কি তাও বুঝেন না।

****************************
ঘৃণার চাষাবাদ জারি থাকুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।মানবতা মানুষের জন্যই সংরক্ষিত থাক।পশুদের জন্য বরাদ্দ থাক শুধুই উগ্র ঘৃণার দাবানল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনি কি বুয়েট পাশ? অথবা বুয়েটে পড়ছেন? নতুবা বুয়েটে চান্স পেয়েছেন? নিদেন পক্ষে বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার ফর্ম কেনার যোগ্যতা অর্জন করেছেন? না হলে ব্যাটা ফাউল তুমি কে হে বুয়েটের অ্যাডমিশন টেস্ট স্ট্যান্ডার্ড কি না সেইটা নিয়া প্রশ্ন করো? তোমার তো কোন বুয়েটিয়ান যেই রাস্তায় হাইটা যায়, সেই রাস্তায় ঢুকার যোগ্যতাও নাই।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নাস্তিকদের দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হোক, যেন তারা ঈদের সেমাই না খেতে পারে। ( রাইট টু কপিঃ ডঃ আইজুদ্দিন)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই যুদ্ধদেব, আপনি একজন পুরাতন এবং বেশ ভালো ব্লগার, তাই আপনার কথার উপর একটি কথা বলছি - এটাও একটা ভয়ের বিষয় । যাই হোক, বলি -

দূরন্ত ভাই কিন্তু বুয়েটের অ্যাডমিশন টেস্টের বিরুদ্ধে কিছুই লেখেননি । তিনি শুধু বলেছেন যে বুয়েটে যে প্রশ্ন গুলো দেয়া হয় সেগুলো অনেক কঠিন হয় । এখন, আমাদের তো আর কলেজের শিক্ষকেরা ট্রিকস-টিপস কোনটাই শেখান না । যা শিখি তা সবই কোচিং এর ভাইয়ারাই কিন্তু শেখান । দূরন্ত ভাই এটাই বুঝিয়েছেন । তিনি আপনার বুয়েটের বিপক্ষে নয়, কোচিং এর পক্ষে বলেছেন । তাই এরকম টেম্পার হওয়ার কিচ্ছুটি নেই ।

আর আরেকটি কথা ! আমি খুবই খারাপ ছাত্র ! কোনমতে একটি প্রাইভেট ভার্সিটিতে মাথা গুজে আছি । কিন্তু আমার পরিচিত অনেক ভাই-ই আছেন যারা "বুয়েটিয়ান" ! কিন্তু, কই - কখনোই তো দেখিলাম না যে তাঁরা কোন স্পেশাল পথ দিয়ে হাটে ? যেখান দিয়ে নন-বুয়েটিয়ান কারও হাঁটার অনুমতি নাই !! কথাটি এজন্যেই বললাম, কেননা, আপনার

তোমার তো কোন বুয়েটিয়ান যেই রাস্তায় হাইটা যায়, সেই রাস্তায় ঢুকার যোগ্যতাও নাই
কথাটি ভালো লাগেনি । জানি আপনি আমাকে বলেননি, তবুও লেগেছে ! কেননা, আমিও একজন নন-বুয়েটিয়ান । আর বুয়েটিয়ানরাই শুধু সফল নন !


অবশ্যই আমি পাকা পাকা কথা বলে ফেলেছি ।
আপন গুণে ক্ষমা করে দেবেন ।

ঈদ মুবারক ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি বুয়েটে ২০ এ ২০ পেয়ে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ লাভ করি... কিন্তু বাবা মায়ের ইচ্ছায় ওখানে পরীক্ষা না দিয়ে মেডিক্যালে দেই... মেডিক্যালে দুর্ভাগ্য বশত ওয়েটিং লিস্টে টিকি তবে সৌভাগ্য বশত দিনাজপুরে হয়ে যায়...পরর্বতীতে DU এর Genetic Engg and Biotechnology তে হয়ে গেলে আমি আর মেডিক্যালের পথ মাড়ানোর প্রয়োজন বোধ করি নাই...আশা করি এখন কিছু বললে পাপ হইবে না...

ভাইজান, এডমিশন টেস্টের প্রশ্ন হার্ড হোক না হোক সেটা কোন কথা না...ধরুন, কোন কোচিং সেন্টার নাই... তাইলে, কঠিন করলে যে পারবে যে উত্তর দিবে, যে পারবে না সে দিবে না... কেউ না পারল কেউ দিবে না...কোচিং এর টেকনিক টাইনা আইনা, কোচিংরে সাপোর্ট করা কেন? কোচিং এর কারনে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার সুত্রপাত...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আচ্ছা মানলাম ! আমি আল্লাহর রহমতে এইচ এস সিতে খুবই খারাপ ফল করি । আমার মন ভেঙ্গে যায় ! পড়াশোনা লাটে ওঠে । ফলাফলঃ আমি বেশ কয়েক স্থানে পরীক্ষা দিয়ে ওয়েটিং লিস্টে পর্যন্ত আমার নাম উঠাতে পারিনি । আশা করি, নিজের গুণ এত খোলাসা করে বলার পর, আমি কিছু বললেও আমাকে হায়াহীন বলা হবেনা ...।

দাদা, কোচিং সেন্টার খারাপ । কিন্তু এর জন্ম কেন হল ? গার্জিয়েনদের দ্বারা নাকি স্কুলের শিক্ষাব্যাবস্থা দ্বারা ? আমাদের সবার মাথায় সমন চাপ সহ্য করার ক্ষমতা আছে দেখেই আজ আপনি DU তে পড়ছেন, আর আমার নাই দেখেই আমি প্রাইভেটে পড়ছি । আমি যা বলতে চাচ্ছি, তা হলো, একটি স্কুলের একটি ক্লাসের সবার মাথাই ভালো থাকে না । কিন্তু, বর্তমান যুগের স্যাররা এসে ভালোভাবে ব্যাখ্যা না করিয়ে হিন্টস সরবারহ করেন (অবশ্যই ব্যাতিক্রম আছে); এবং সেই হিন্ট গুলোর মাঝে হিডেন অবস্থায় একটা নির্দেশনা থাকেঃ আমার বাসায় এসো, বুঝে যাও ! ওটা কি কোচিং নয় ? তখন সেই স্যারদের বাসায় পরীক্ষার আগে "হট"-"কুল"-"সুপার-ডুপার" নামে সাজেশন দেয়া হয়, যেগুলো পরবর্তী দিনের পরীক্ষায় প্রায় হুবহুই চলে আসে । ফলাফলঃ পরের পরীক্ষার আগে স্যারের বাসার ব্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধি পায় । এই ব্যাবস্থা যদি খারাপ না হয়, তবে কোচিং কেন খারাপ হবে ? সব ছাত্ররাইতো ভালো হয়না, দূর্বল ছাত্ররা তাই তখন স্যারদের সেই সংক্ষেপিত পড়া বুঝতে পারেনা ! আর এভাবেই তো আজকের উদ্ভাস, ফোকাস, রেটিনা, ইউসিসি ... ইত্যাদি, তাইনা ?? আর যারা ক্লাসের ভালো স্টুডেন্ট তাঁরা আরও ভালো ফলাফলের উদ্দেশ্যে কোচিং সেন্টারগুলোতে যায় । আমাদের বাংলাদেশের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বলা চলে এগুলো কোচিং নয় - অন্য রকম স্কুল !

ভাই, এত কথা বলছি, এর মানে এই নয় যে আমি কোচিং ব্যাবস্থাকে সাপোর্ট করছি । তবে এই কোচিং ব্যাবস্থাকে উচ্ছেদ করতে হলে তা বিখ্যাত স্কুল গুলোর ক্লাস ওয়ানের ভর্তি কোচিং গুলো থেকে শুরু করতে হবে; হুট করে এভাবে কোচিং ব্যাবস্থাকে কোন দিনই বন্ধ করা সম্ভব নয় । কেননা, দেখা যাবে কিছুদিন পর আপনার বাচ্চাও সেই আলোচিন কোচিং-এই যাচ্ছে । সিস্টেমে ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, তবে সেই ত্রুটি সাময়িক ভাবে না সারিয়ে পুরোপুরি সারানোর চেষ্টা করা উচিৎ ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই, আপনার কথা ঠিক, আর এই কারনেই আমাদের এই ব্যবস্থা বদলাতে হবে যাতে করে কোচিং না টিকতে পারে। আপনি বদলানোর জন্য সময় চাইতে পারেন । কিন্তু আজহোক কাল হোক আপনেকে এগিয়ে আসতেই হবে। আমি বামার পোস্ট এ বলছি যে এইবছর নতুন সিস্টেম চালু করা ঠিক হবে না, আপনি হয়ত সেটা দেখেননি। আপনার জন্য আমার করা প্রথম কমেন্টটা আবার পেস্ট করলাম।

If u have a system that is not correct, u hav to correct it... u can't compensate the loss by making another good system..... এই কথাটা বললাম এই কারনে যে, ssc, hsc এর রেজাল্ট বিবেচনা করে মেধার মূল্যায়ন হবে, এটাই সহজ সরল নিয়ম হওয়া উচিত ছিল... কিন্তু যেহেতু আমরা নিজেরাই এই সিস্টেম এ ভরসা রাখি না, তাই নিউ সিস্টেম বানাইছি যাতে আগের ভুল ঠিক করা যায়... কিন্তু এভাবে করে যেটা হয় সেটা হল সিস্টেম লস... আমাদের মেইন সমস্যাটা ঠিক করতে হবে... পুরান ভুল সিস্টেমকে ঠিক করতে নতুন সিস্টেম তৈরী করলে সেই নিউ সিস্টেম চালাইতে সিস্টেম লসের সাথে সাথে নতুন নতুন প্রব্লেম দেখা দিবে...


আশা করি আমার অবস্থানটা বুঝতে পারবেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রুমার আপনে যুদ্ধ দেবের পয়েন্ট টা ধরতে পারেন নাই Laughing out loud Wink

সোজা করে বলি যে, বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন কোচিং কে উৎসাহিত করে আর যা কোচিং এর মত একটা বিষয় কে উৎসাহিত করে তা কোন ভাবেই স্ট্যান্ডার্ড হতে পারে না। আর সেটা কখনই মেধা যাচাইয়ের সঠিক পথ না।

****************************
ঘৃণার চাষাবাদ জারি থাকুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।মানবতা মানুষের জন্যই সংরক্ষিত থাক।পশুদের জন্য বরাদ্দ থাক শুধুই উগ্র ঘৃণার দাবানল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সরকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধ না করে বৈধতা দিয়েছে এবং প্রকারান্তরে বাধ্যতামূলক করেছে।

------------------------------------------
যতক্ষন দেহে আছে প্রাণ
প্রানপনে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রয়াস সাহেব আপনার যুক্তি গুলি ভাল, সরকার রুল টা আরও আগে করলে ভাল হত।কারন অনেক স্টুডেন্ট ২য় বার মেডিকেল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়েছে এখন এটা যদি কার্যকর হয় তবে তারা সরষে ফুল দেখবে।কেননা আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে মেডিকেল ও ইউনিভার্সিটি পরীক্ষার ধরণ আলাদা।তাই আমার মতে নিয়ম টা আগামী বছর থেকে কার্যকর করলে ভাল হয়।

thembs


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি আপনার সাথে পুরোপুরি সহমত । কেননা, শুধুমাত্র মেডিকেলের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়া হওয়া একজন ছাত্রের কাছে ভার্সিটির প্রশ্নের ধরন অনেকটাই কঠিন হয়ে যায় । ব্যাতিক্রমও অবশ্য আছে, তবে খুবই কম । দোয়া করি, যেন এই নিয়ম কার্যকরী হলেও আগামী বছর থেকে এটি কার্যকর হয় ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার পোস্ট এর লাস্ট লাইনটা পড়লে, আমিও একটা সহমত পাইতাম Sad


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখন পর্যন্ত আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে, এইটুকু বুঝেছি, অনেকে আছে যারা পরীক্ষা ভাল দেয়, তাই বলে তারাই মেধাবী নয়। পরীক্ষার হলে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে কিছু প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারাই মেধার পরিচয় না। বরং মাঝারি মানের শিক্ষার্থীরা যাদের রেজাল্ট মাঝারি এবং পড়ালেখাবাদেও অন্যান্য অকাজে যারা বেশ তৎপর তারাই প্রফেশনাল লাইফ-এ ভালো করে।


দুর্বল যুক্তি। কারন তার উল্টাটাও ঠিক।
চোরের মন্তব্যগুলি ভালমত পড়ার পরামর্শ।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চোর ভাই যা বলেছেন সেটা সঠিক । আমার কথাটা একটু ভালভাবে বুঝার চেষ্টা করুন। কেউ কেউ আছে যারা পরীক্ষা ভাল দেয়, কেউ আছে মাথায় থাকা স্বত্তেও পরীক্ষায় উগ্রে দিয়ে আসতে পারে না। পরীক্ষা ভাল দেয়ার মেধা, আর বাস্তবে সফল হয়ার মেধা, এই দুইএর মাঝে পার্থক্যটা বুঝলে আশা করি আমার সাথে সহমত প্রদান করবেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি দেখলাম সবাই অনেক গুরুগম্ভীর কথা বললেও সাধারন কয়েকটা জিনিস কেনো বুঝতে পারছেন না-
১। দেশে ৭ টা শিক্ষা বোর্ড, ৭ টার প্রশ্ন পত্র ৭ প্রকার, তার মানে প্রশ্ন পত্রের হের ফেরেই একি মেধার ছাত্র ছাত্রীর রেজাল্ট ৭ রকমের হয়ে যেতে পারে, তাহলে গোড়াতেই গলদ হয়ে গেলো, সেখানে শুধু জিপিএ ভর্তির মান দন্ড হয় কীভাবে।
২। এস এস সি ও এইচ এস সি পরীক্ষার হাজারো গলদ আছে যেমন- খাতা কাটার পদ্ধতি, আর ব্যাবহারিক এ টাকা দিলে নম্বর না দিলে নাই, এটা কে না জানে, সেখানে ভর্তি পরীক্ষায় একটা প্রশ্ন পত্রে সবাই পরীক্ষা দিয়ে অন্তত নিজেকে যাচাই করার সুযোগটুকু সমানভাবে পাচ্ছে।
৩। যারা এখানে নন মেডিকেলরা এ বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন এবং এ সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলছেন তাদের অনুরোধ করব পরীক্ষা পদ্ধতি ও পরীক্ষা বিষয়ে সঠিকভাবে জেনে কথা বলুন, না জানা থাকলে জেনে নিন কিন্তু ছাগলের মত ১টা কথা বলে বসবেন না।
৪। দেশে এখন প্রায় ২০,০০০ গোল্ডেন, আগের বছরের আছে ধরলাম ৫০০০, মোট ২৫,০০০, সিট সব মিলে ৮,০০০, এখন তাহলে কোন ১টা পদ্ধতিতো নিতেই হবে, যেখানে ১টা চলনশীল পদ্ধতি আছেই সেখানে আরেকটা পদ্ধতি মানে আরেকটা সিস্টেম লস, কিন্তু আবেদন করতে বলা হয়েছে কিন্তু সর্বনিম্ন ২টা মিলে ৮ পেলেই, যেখানে গোল্ডেনদেরই পাতলা পায়খানা ছুটে যাচ্ছে সেখানে ৮ পেলেই আবেদন করতে বলাটা কি ধরনের গাজাখুরি? তাই গোল্ডেন পেয়ে যারা এই সিদ্ধান্তে নাচতে শুরু করেছো তারা একটু ব্রেক কষো।
৫। এমনতো না যে আগে জিপিএ কে গুরুত্ত দেয়া হয়নি, জিপিএ থেকে ১০০ এবং ভর্তি পরীক্ষার এমসি কিউ থেকে ১০০, তার মানে আগেও অই জিপিএ কাজে এসেছে, তাহলে যারা ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ফলে জিপিএ এর কার্যকারিতা নষ্ট হয় বলে ধোয়া তুলছেন তাদের কথা ধোপে টিকছেনা।
৬। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপারটা হচ্ছে, আগে যেখানে এই ২০০ নাম্বার এর ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করে সেই অনুযায়ি উপর থেকে নিচের দিকে ভর্তির অনুমতি দেয়া হত, সেখানে এখন এ বিষয়ে কি করা হবে তার কোন খবর কোথাও দেখতে পাচ্ছিনা । কমন সেন্স থাকলেই বুঝতে পারবেন, এখানেই এসে যাচ্ছে মামা চাচার জোরের কথা, আর যদি কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে চায় তাহলে ১টা ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করতে গিয়ে আরো ২টা পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটানো হবে, যার স্বচ্ছতা নিয়ে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে লিখতে গেলে আঙ্গুল বাকা হয়ে যাবে।
৭। একই যাত্রায় ২ ফল কেনো হবে?, যদি মেডিকেলের মত যায়গায় জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয় তাহলে আর সব বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে নয় কেনো?, এই সিদ্ধান্তের ফলে হয়তো মেডিকেল কোচিংগুলো বন্ধ হল কিন্তু অন্য সেক্টরে কোচিংগুলোতো রয়েই গেলো, তাহলে লাভের লাভ কি হল?, যারা এই সিদ্ধান্তে কোচিং বন্ধ হবে ধুয়া তুলেছিলেন তারাও এখন অফ যাবেন। আর মন্ত্রি সাহেব যে সকল ছাত্র ছাত্রীকে পড়ালেখা বাদ দিয়ে কক্সবাজার যেতে বললেন তা কি এই জন্যেই যে তিনি সবার ভর্তির ব্যবস্থা করে দিবেন? যেখানে ১সেশনে সবসময় কিছু ছাত্র ছাত্রীর কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই ভালো ফল করেও জায়গা হয়না, তার এ কথা কি তাদের জন্যও প্রযোজ্য?
৮। তাই সর্বপরি বলতে চাই মেইন ২ পাবলিক পরীক্ষার কাঠামোতে স্বচ্ছতা না এনে এই সিদ্ধান্ত নিলে তা অবিবেচকের মত সিদ্ধান্ত হবে, আগে চারা রোপন করুন তার পর না ফলের চিন্তা।

HHH


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার প্রতিটি কথাই সঠিক ভাইয়া । Star Star Star Star Star


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার ফেসবুকে করা একটা কমেন্ট এখানে পেস্ট করতেসি।। আশা করি, কমেন্ট টা আশপাশ বাদ দিয়ে মূল কথাটা বুঝতে পারবেন...

‘সিস্টেম লস’ , ‘সিস্টেম লস’- বলে মুখে ফেনা বের করে ফেললেও কাউকেই বুঝাইতে পারলাম না সিস্টেম লস কিভাবে হচ্ছে... সবার কথাবার্তা শুনে এই সিদান্তে উপনীত হইলাম যে, HSC এক্সাম নেয়ার আসলে কোন দরকারই নেই। সকলে SSC পাশ করিবার পর ২ বছর পড়ালিখা করিবে, তারপর নানাবিধ এডমিশন টেস্টে অংশগ্রহন করিয়া নিজ নিজ মেধা অনুযায়ী ভর্তি হইয়া যাবে। যে পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়া কার মেধার লেভেল সম্পর্কে কোন ধারনা লাভ করা যায় না, তাহার জন্য এতো কষ্ট এবং অর্থ ব্যয় করিবার দরকার কি?

HSC এক্সামের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সায়েন্স-এর স্টুডেন্টদের ৬-টি আলাদা বিষয়ে পরীক্ষা নেয়ার মাধ্যমে ওই ৬টি বিষয়ে তার মেধা অনুযায়ী ৬টি সিল (মানে বিষয়ভিত্তিক গ্রেড পয়েন্ট) মারা এবং তার গড় মেধার ভিত্তিতে আরেকটি সিল (জিপিএ) মারা। এই সিল গুলা সারাজীবনের জন্য থাকিয়া যাইবে। সকলেই এই সিল দেখিয়া বুঝিতে পারিবে, এ কেমন মাল! কিন্তু দেখা যাইতেছে আমরা এই সিল ঠিক মত মারতে পারতেছি না, তাই মাল কেমন বুঝিবার জন্য নতুন সিস্টেম বাইর করিতে হইতেসে... আমার কথা হইল, নতুন সিস্টেম এ যখন মালের পরিচয় ভাল ভাবে বুঝা যাইতেছে তাহলে পুরান সিস্টেমখানা রাখিয়া আর কি লাভ? পুরান সিস্টেম-এর পিছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করিবার কোন মানে হইতে পারে কি? নাকি আমাদের সরকারের টাকা বেশি হইয়া গেছে?

আমরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান, তাই কোথায় সমস্যা না বুঝিয়া আমরা নতুন সিস্টেম প্রসব করি। সেই সিস্টেম এর পিছনে অর্থ, শ্রম সবই অকাতরে ঢালি...ঢালব না কেন? আমাদের কি অর্থের অভাব নাকি? নাকি আমাদের বলের অভাব?

বিকাল হইতে তর্ক করিয়া কাউকেই বুঝাইতে পারিলাম না যে, একই উদ্দেশ্যে একই সাথে দুটি পৃথক সিস্টেম থাকার মানে হচ্ছে সময়, অর্থ এবং মেধার অপচয়, যাকে বলে সিস্টেম লস। কোন একটি পরীক্ষার মাধ্যমে যদি মেধা যাচাই না হয়, তাহলে সেই পরীক্ষাই অর্থহীন... উহা বাদ দেয়া অবশ্যকর্তব্য। তাই আমার বক্তব্য হইল, যেকোনো একটি থাকবে... HSC অথবা এডমিশন টেস্ট। যেটি থাকবে, সেটিরই মান উন্ন্যয়ন করতে হবে যাতে করে আরেকটি নতুন এক্সাম নেবার দরকার না পরে, যাতে করে সিস্টেম লসে পড়তে না হয়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাদের কি মনে হয় ?
ভর্তি পরীক্ষা না দিয়ে ভর্তি নেবে এই নিয়ম কি আসলেই কার্যকর রাখতে পারবে ?

No More .


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার মনে হয় না। তবে, এই দেশে সবই সম্ভব ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দেখা যাক কি ঘটে শেষ পর্যন্ত ।

No More .


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই পদ্ধতিটা আরো আগেই চালু করা উচিত ছিল, তাহলে পাঠ্য-পুস্তকের বাইরের বইগুলো প্রাণ ভরে পড়ার একটা বিশাল সুযোগ পেতো সবাই, কিঙবা অন্য কিছু যার জা ভালো লাগে । smile :) :-)
আমার কাছে ভর্তি পরীক্ষা সব সময়ই লটারির মত মনে হয়েছে, ১২ শিক্ষাবর্সের মেধা দিয়েই ছাত্রছাত্রীর মুল্যায়ন করা উচিত। আমরা যেভাবে ভর্তি পরীক্ষার ভয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছি তা একেবারেই অমানবিক। ভাবতে কষ্ট হয় যে, আমাদের অভিভাবকরা গর্ব বোধ করে এবঙ খুশি হয় যখন আমরা জীবনের আর সব কিছু বাদ দিয়ে গাধার মতন এক বই এর প্রতিটা লাইন চর্বিত-চর্বন করতে দিনের ১৬-১৭ ঘণ্টা ব্যয় করি আর মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে কাজ চালাই।

..............................................................

সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
কবি এক জাগে_
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
কত অনুরাগে
একদিন শতবর্ষ আগে।।
আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্ নূতন কবি
তোমাদের ঘরে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি একজন নতুন ব্লগার।একটু বেশি সাহসই বোধ হয় দেখাচ্ছি।মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন,মোট বারটি ধাপ অনুসরণ করা হবে ভর্তির ক্ষেত্রে।কিন্তু এখনো সেই বারোটি ধাপ কি তা তিনি জানাননি।জনশ্রুতি এই যে-প্রথমেই দেখা হবে,এসএসসি ও এইচএসসি তে ২টি গোল্ডেন আছে কি না এবং ২টি তেই জীববিজ্ঞান বাধ্যতামূলক কি না।অথচ যারা ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা দেবে,তাদেরও এখন আর বিষয় পরিবর্তনের কোন সু্যোগ নেই।বিষয়টি এমন নয় যে,অপশনাল বিষয়কে ছাত্রছাত্রীরা কম গুরুত্ব দিয়ে পড়ে।গোল্ডেন পেতে হলে বাধ্যতামূলক বিষয় ও অপশনাল-২টিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে পরতে হয়।তাই এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হওয়া উচিত ২০১৬ সাল থেকে।
এমবিবিএস,বুয়েট বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সমমানের।তাহলে পরীক্ষা কেন শুধু এমবিবিএস কোর্সে বন্ধ হচ্ছে?
এতদিন ভর্তি পরীক্ষা ছিল।কেউ একটি প্রতিষ্ঠানে চান্স না পেলে অন্যটিতে পরীক্ষা দিয়ে পড়ার সু্যোগ পেত।তবে যদি সকল ক্ষেত্রেই নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি নেয়া হয়,তবে বেশি নম্বরধারীরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই চান্স পাবে।বিষয়টি ভেবে দেখেছেন কি?
আরেকটি কথা-একজন শিক্ষার্থী যখন ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়,সে তখন বইয়ের প্রতিটি লাইন বুঝে এবং খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে।যারা মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্ন দেখেছেন,তারা ভাল বলতে পারবেন যে,শুধু মুখস্থ করে খুব বেশি কিছু সেখানে করার সুযোগ নেই।একই সাথে বোর্ড প্রশ্ন দেখলে দেখতে পাবেন,সেখানে পুরো বই না পড়ে হাতে গোণা কিছু প্রশ্ন পড়লেই কমন পাওয়া যায় এবং বলা বাহুল্য,ভাল ফলও করা যায়।
আশা করি,যুক্তিগুলো বিবেচনা করবেন।

---আলোর খোঁজে---

glqxz9283 sfy39587p07