Skip to content

সাইবার স্পেস সিকিউরিটি এবং বৈশ্বিক প্রস্তুতির আলোকে বাংলাদেশ

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাইবার স্পেস সিকিউরিটি এবং বৈশ্বিক প্রস্তুতির আলোকে বাংলাদেশ

বর্তমান সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা ও আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে সবকিছুই ইন্টারনেট ভিত্তিক তথা সাইবার জগতে হওয়ায় এর নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বে সাইবার আক্রমণজনিত কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। তাই দিনে দিনে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের সাইবার নিরাপত্তার জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করেছে। বাংলাদেশেও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে যে যুদ্ধ হবে তা যতটা না ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার জন্য, তার চেয়েও বেশি সাইবার জগতের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য। বিশ্বে সাইবার স্পেসের যুদ্ধকে বলা হচ্ছে পঞ্চম ডোমেইনের যুদ্ধ। অনেক দেশই স্থল, নৌ, বিমান ও আকাশ যুদ্ধ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনের পর পঞ্চম ডোমেইন সাইবার স্পেসে যুদ্ধ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ যুদ্ধে যে অস্ত্র ব্যবহূত হচ্ছে তা পরমাণু বোমা, বন্দুক, গোলাবারুদ নয়। এ যুদ্ধের অস্ত্রকে বলা হচ্ছে লজিক বোমা। কেউ কেউ একে ডিজিটাল কন্টিনেন্টাল ব্যালাস্টিক মিসাইল হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এ যুদ্ধে প্রযুক্তি পণ্যে প্রোগ্রামিং কোড সংযোজন, সফটওয়্যার টেম্পার ও ওয়েবসাইট হ্যাক করে মেধাস্বত্ব, তথ্য ও ডাটা চুরি এবং কম্পিউটার ইন্টারনেট চালিত ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অচল করে দেয়া যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কম্পিউটার ইন্টারনেট চালিত ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত ও নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য এরই মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে ডিজিটাল সম্পদ ও স্ট্র্যাটেজিক ন্যাশনাল সিকিউরিটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পেন্টাগনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাজেন্সি (এনএসএ)-এর পরিচালকের নেতৃত্বে রয়েছে একটি সাইবার কমান্ড (সাইবারকম)। এ কমান্ড আমেরিকার মিলিটারি নেটওয়ার্কের প্রতিরক্ষায় পূর্ণ শক্তিতে নিয়োজিত করেছে। একইসঙ্গে অন্য দেশের নেটওয়ার্ক আক্রমণের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে এ কমান্ডকে।

রাশিয়ান সেনাবাহিনীর জেনারেলরা যুদ্ধকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করেছেন। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী গোলাবারুদের প্রতিযোগিতার চেয়ে বর্তমান যুদ্ধ আরও বেশি কিছু। ক্রেমলিনের স্বার্থে তাঁরা সাইবার যুদ্ধকে একটি কেন্দ্রীয় যুদ্ধ নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। রাশিয়ার এই সাইবার যুদ্ধ কর্মসূচির বেশির ভাগই গোপনীয়তায় ঢাকা।

চীন ‘সাইবার স্পেস সার্বভৌমত্ব’ নাম দিয়ে পঞ্চবার্ষিক সাইবার নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও বসে নেই।

নরেন্দ্র মোদি সরকার ২০১৪ সালে গৃহীত ডিজিটাল ইন্ডিয়া পরিকল্পনার আলোকে ন্যাশনাল সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে।


সুতরাং এ ধরনের অপরাধ বা সন্ত্রাস থেকে সাইবার জগতকে নিরাপদ রাখার জন্যই বাংলাদেশেরও প্রতিরোধমূলক ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা থাকা দরকার। এ কারণেই সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নেটওয়ার্ক কীভাবে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখা যায় সে সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদেরকে হাতে কলমে জ্ঞানদান করা হবে। একই সঙ্গে যে কোনো ধরনের সাইবার আক্রমণ মোকাবেলা করার জন্য তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

glqxz9283 sfy39587p07