Skip to content

নির্বাচন যখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রয়োজনে

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সরকারের কাছে যা ‘সংবিধান রক্ষার নির্বাচন’ বিরোধীদলের কাছে একই বিষয় ‘প্রহসনের পাতানো নির্বাচন’। আর সাধারণ মানুষের কাছে আংশিক ভোট উৎসব অথবা আশঙ্কার অপর নাম। বাংলাদেশ কী পারছে এই আশঙ্কাকে ওড়িয়ে দিতে? প্রশ্নটা যত স্বাভাবিক তারচেয়ে অস্বাভাবিক তার উত্তর এবং ফলাফল। এ পরিস্থিতিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধুমাত্র এক নিয়ম রক্ষায় পর্যবষিত হয়ে গেছে সন্দেহ নেই।

বিরোধীদল বিশেষ করে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের আলোচনার চাইতে আশঙ্কা বাড়ছে। বিরোধীদল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল প্রথমে। পরে এই বর্জন ঘোষণা চলে আসলো প্রতিহত-প্রতিরোধ বিষয়ে। প্রতিরোধের সাথে পেশিশক্তি ও অস্ত্রশক্তির যোগ আছে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। আর যখন তা রীতিমত প্রাণনাশি এক যুদ্ধসম সেখানে আতঙ্ক আর আশংকার উপলক্ষ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের গত কয়েক মাসের আন্দোলনের পোস্টমর্টেম করলে দেখা যাবে এটা স্রেফ জ্বালাও-পোড়াও আর মানুষ হত্যার এক নির্লজ্জ আস্ফালন। পুরো আন্দোলনের সময়কালকে হিসেবের মধ্যে না আনলেও গত ২৬ নভেম্বর ২০১৩ তারিখের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে এই মাসের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আন্দোলনের নামে মরণযজ্ঞে নিহত হয়েছেন ১২০ জনেরও বেশি এবং আহত হয়েছেন সহস্রাধিক। এই আহত এবং নিহতদের মধ্যকার রয়েছে আগুনে পুড়িয়ে মারাসহ, ককটেল হামলা যা আগেকার যে কোন সরকারবিরোধী আন্দোলনের সাথে কোনমতেই মিল খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী উচ্চ আদালত কর্তৃক বাতিলের পর এই রায় নিয়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ কিংবা বিরোধীদল আপীল করেনি। ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে এই রায় চুড়ান্ত রায় বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আদালতের রায়কে অবশ্যপালনীয় ভেবে আওয়ামীলীগ সরকার একে গ্রহণ করেছে। এই গ্রহণের পেছনে বিভিন্ন মহল বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে পারেন। অনেকেই একে আওয়ামীলীগ সরকারের দলীয় নির্বাচনের নীলনক্সা হিসেবেও চিহ্নিত করতে পারেন। তবে সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা সেটা হলো স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি নিয়ে বিরূপ ছিলেন। এই বিরূপতার একমাত্র কারণ ১/১১ সময়কার দুঃসহ স্মৃতি। দীর্ঘ দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে সেনা শাসন এবং প্রায় এক বছর কালের কারাবাস। এই কারাবাসের সময় তিনি একা ছিলেন তা নয়, বেগম খালেদা জিয়াও ছিলেন তাঁর সঙ্গী! বেগম খালেদা জিয়া স্বাভাবিকভাবেই একবছরের কারাবাসের স্মৃতিকে সামনে নিয়ে আসবেন না কারণ যে কোন মূল্যেই হোক তিনি আবারো ক্ষমতায় আসতে চাইছেন এবং তাঁর আশঙ্কা আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে দলীয় প্রভাবমুক্ত হবে না। সরকার ওখানে প্রভাব বিস্তার করবে এবং নিজেরা নিজেদের ব্যালট বাক্স ভরবে। বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অযৌক্তিক কিনা তা প্রশ্নসাপেক্ষ কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেশের প্রায় ছয় হাজার নির্বাচন দলীয় প্রভাবমুক্তভাবে হয়েছিল যা ছিল সরকারের ভাল একটি অর্জন; সন্দেহ নেই!

প্রশ্ন থাকে, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচনের আমেজ এক নয়! হ্যাঁ, এটা ঠিক স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়, এক হতে পারেনা। কিন্তু বর্তমান সময়ে মিডিয়া যেভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠেছে তাতে করে আমরা উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনগুলোকে আমলে নিতে পারতাম। উন্নত বিশ্বের কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়না। খোদ আমেরিকা, ভারতেও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দলীয় সরকারের অধীনে। আমরা ব্যতিক্রম কেন? আমাদের ভিন্ন ধারার মূল কারণ ছিল এরশাদের দীর্ঘ স্বৈরশাসন, যে সময়ে গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোটের অধিকার নির্বাসনে গিয়েছিল। ফলে একানব্বুইয়ে যখন দীর্ঘ আন্দোলনের পর নির্বাচন হলো তখন শ্লোগান ছিল- ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’! পরের বার এই শ্লোগান পাল্টে গিয়ে হলো- ‘আমার ভোট আমি দেব, দেখে শুনে বুঝে দেব’! এই শ্লোগানগুলোর মধ্যকার পার্থক্য পরিলক্ষিত। প্রথমে যেখানে আমরা শুধুমাত্র ভোটদানকেই অধিকার ভেবেছিলাম পরের বার তা গিয়ে দাঁড়ালো কাকে দেব, কাকে দিচ্ছি সে বিষয়ে! যা ছিল ক্রম সচেতনতার একটা শক্তিশালী দিক।

বলছিলাম, মিডিয়ার শক্তিশালী হয়ে ওঠার কথা। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়া এক প্রকার নির্বাচনের পাহারাদার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে তারা তাদের নিজস্ব কার্যপরিধিকে ছাড়িয়েছে অযৌক্তিকভাবে। গত বছরের জুলাইয়ে একই দিনে অনুষ্টিত বিগত চার সিটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে অগ্রাহ্য করে তারা নিজেরা নিজেদের মত করে ফল ঘোষণা করেছে যার সাথে নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমের মধ্যে কোন ধরণের মিল ছিল না। অনেক টিভি চ্যানেল আবার নিজেরা স্বপ্রণোদিতভাবে ভোট গণনা কক্ষে প্রবেশ করে সরাসরিও প্রচারও করেছিল। যা তাদের কার্যপরিধিকে অতিক্রম করেছে সন্দেহ নেই। এ নিয়ে এবং ঘোষিত ফলাফল নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কথা ওঠেছে কার্যপরিধিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে। তবে এটা যাই হোক বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দেশের ইলেকট্রিনিক মিডিয়াগুলো সাহসী ভূমিকা পালন করেছে যাতে করে তাদেরকে অনেকক্ষেত্রেই নির্বাচনের একেকটা পর্যবেক্ষক দল হিসেবেও নিরূপন করা যায়। এখানে কিছু মিডিয়ার অতি সাংবাদিকতাকে যদি ধর্তব্যের মধ্যে না রাখি তবে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকেই সবচেয়ে বড় তত্ত্বাবধায়ক গোষ্ঠী কিংবা উপকরণ হিসেবে আমি একবাক্যে মেনে নেবো। আমাদের দেশ এই উপকরণকে কাজে লাগাতে পারতো। আফসোসের কথা, আমরা তা হয়ত করিনি অথবা করতেও চাইনি!

এরশাদ শাসনের পতনের পর নির্বাচনের প্রয়োজনে বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল। যখন একটা সরকারের পতন হয় তখন আরেক সরকার আসার জন্যে নির্বাচনের দরকার ছিল। এই নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে যে সরকারের প্রধানের দরকার ছিল তাতে করে মনে হয়েছিল একমাত্র প্রধান বিচারপতিই এই পদের জন্যে যোগ্য। ঘটনাক্রমে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হয়েছিলেন। এই সময়ে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হয়ত ছিয়ানব্বুইয়ের জাতীয় নির্বাচনও তাদের অধীনেই অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু মাগুরার উপনির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করেছিল তাদের অধিনে কোন সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। বিএনপি যদি দলীয় প্রভাবমুক্ত ভাবে মাগুরার উপনির্বাচন করতে পারতো তাহলে বাংলাদেশে একানব্বুইয়ের পর কোনদিনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ওঠতো না। এ নিয়ে কোন আন্দোলনেরও প্রয়োজন হতো না।

শুধুমাত্র মাগুরার উপনির্বাচনে কারচুপির কারণে সংবিধানে অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্যে এই অভিনব সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছিল। এরপর ছিয়ানব্বুই এবং দুই হাজার এক সালেও একই ধরণের সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল। আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দুই দলই বিজয়ী হয়েছিল। এই বিজয়ী এবং বিজিত দলের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়ার প্রবণতা ইতিবাচকভাবে ছিল না। দুই দল যখনই পরাজিত হয়েছিল তখনই কারচুপির অভিযোগ এনেছিল। এবং এই কারচুপির অভিযোগের কারণে অবিসংবাদিতভাবে কেউ কোনদিনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রতি অনুগত ও আস্থাশীল তা বলা যাবে না। তার ওপর তিন মাসের মেয়াদ নিয়ে একটা সরকার যখন সর্বশেষ দুই বছর কাটিয়ে দেয় এবং এই দুই বছর সময়কালের মধ্যে বড় দুই দলকে ভেঙে, দুই নেত্রীকে মাইনাস করার অনৈতিক মিশনে জড়িয়ে যায় তখন অনির্বাচিত এই সরকারের প্রতি অনাস্থা আসাটাই স্বাভাবিক!

সর্বোচ্চ আদালত থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর, এই রায়ের পর কোন ধরণের আপিল না করায় পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া কঠিনই। তবু বিরোধীদলের দাবির মুখে সরকার সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় না গিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সর্বদলীয় সরকারের যে আহ্বান জানিয়েছিল তা ছিল দেশের গণতন্ত্রের জন্যে সুস্থ একটা লক্ষণ। কিন্তু বিএনপি সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। সুশীল সমাজের যারা নাকি গেয়ো মানসিকতায় সব সময়ই সরকারবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে ভালোবাসেন তারাও একে গ্রহণে দ্বিধান্বিত ছিলেন। ফলে নিতান্ত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। যেখানে ইতোমধ্যে বিএনপি বর্জন করায় ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এখন বাকি ১৪৭ আসনের নির্বাচন স্রেফ নিয়ম রক্ষার একটা উপলক্ষ। এই আসনগুলোর প্রায় সবগুলোতেই সরকারদলীয় জোট নির্বাচিত হয়ে যাবে। পরবর্তীতে আবারো সরকার গঠন করছে আওয়ামীলীগ তা নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় অনেকেই আগ্রহী হবে না স্বাভাবিকভাবেই।

নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির নেতৃতাধীন ১৮ দলীয় জোট। এই জোটের মধ্যে আছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির ইতোমধ্যেই সারাদেশে নাশকতা শুরু করে দিয়েছে। তাদের হাতে নিরীহ কেউই রেহাই পাচ্ছেনা। জামায়াত-শিবির আদালত কর্তৃক নিবন্ধন হারানো এক দল। নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোট অংশগ্রহণ যদি করতো তাহলেও তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ছিল। তার ওপর তাদের প্রায় সব নেতাই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে শাস্তির মুখোমুখি। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪২ বছর পর রাজাকারদের বিচারের কারণে তাদের প্রধান শত্রু হচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকার। তাই যে কোন মূল্যে এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মরিয়া তারা। তাদের প্রধান আশ্রয়দাতা বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে সম্ভব সব ধরণের নাশকতা করেই চলেছে। শুধুমাত্র জোট রক্ষার তাগিদে বিএনপি জামায়াতকে প্রশ্রয় দিয়েই যাচ্ছে। এবং ইতোমধ্যে বিএনপি আর জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান খুব কাছাকাছি পর্যায়েও চলে গেছে যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্যে হুমকির কারণ বৈকি!

সরকার নির্বাচন করবে এটা অবশ্যম্ভাবীই বলা যায়। বাংলাদেশে কেউ কোনদিন কোন নির্বাচন প্রতিহত করতে পারেনি। আটাশি, ছিয়ানব্বুইয়ের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনও হয়েছে, এবারেও হবে। তবে এই নির্বাচন নির্বাচনবিরোধী শক্তি কর্তৃক যেভাবে নাশকতা আর সন্ত্রাসযুক্ত তা আগে কখনই ছিল না!

এরকম নির্বাচনে কম সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি থাকে। এই কম সংখ্যার চাইতে সবচেয়ে বড় বিষয় সরকার গঠনের জন্যে প্রয়োজনীয় আসন ইতোমধ্যেই পাওয়া হয়ে গেছে আওয়ামীলীগের। ফলে স্রেফ নিয়মরক্ষার নির্বাচন নিয়ে ভোটারের আগ্রহে ঘাটতি থাকবে স্বাভাবিকভাবেই। তার ওপর যদি থাকে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার ইতিহাস আর হুমকি তাহলে তা নিশ্চিতভাবেই আশঙ্কার!

‘সংবিধান রক্ষার নির্বাচন’ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কতটা তারচেয়ে বেশি প্রয়োজন এই মুহুর্তে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা। আমাদের বিশ্বাস সংবিধানকে উচ্চে ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সুস্থ গণতন্ত্রের পথে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সময়পযোগী একটি সুন্দর বিশ্লেষনাত্নক লেখা উপহার দেবার জন্য ধন্যবাদ। আপনার এই লেখার মধ্যে তাদের জন্য সুন্দর কিছু পয়েন্ট আছে যারা অন্ধ ভাবে আন্দোলনের নামে সন্ন্ত্রাস অথবা তত্বাবধায়ক সরকারের নামে অগনতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় যাবার প্রচেষ্টায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

অনেকে বলছে ১০ম নির্বাচনের পর আওয়ামীলীগ বাকশাল কায়েম করবে। আমি বুঝি না সে জন্য তো ১০ম নির্বাচনের প্রয়োজন আওয়ামীলীগের নাই। তারা তো ১৫তম সংশোধনীতেই সেটা করতে পারতো। সেটা যখন আওয়ামীলীগ করে নাই তাহলে কোন যুক্তিতে ১৬তম সংশোধনীতে আওয়ামীলীগ সেটা করবে? এটা নিছক তাদের আওয়ামী সম্পর্কে উদ্ভট কল্পনা প্রসুত প্রোপাগান্ডা ছাড়া আমি কিছু দেখি না।

তারপরও তাদের যুক্তি এ নির্বাচন ডেকোরোটিভ অথচ তারা এ সম্পর্কে কোন স্পষ্ট উদাহরনও দিতে পারে না। অনেকে বলছে তারা ১৯৭৫ এর আগের অবস্থায় ফিরতে চায় না তাই এই সরকারের পতন দরকার। আমার ধারনা তারা শুধু এই সরকারের্তই পতন চায় না তারা চায় আমাদের জাতীয় সংবিধানের অপমৃত্যু ও পতন যা রাজাকারাও চায়। তাদের মনে বাস করছে পাকিস্থানের অবস্থায় ফিরে যাবার বাসনা। তারা কিভাবে বলে ১৯৭৫ এর পরবর্তী সময়ে আমরা সুখে ছিলাম অবশ্য তারা রাজনৈতিক ভাবে সুখে ছিল নিশ্চিত।

-------------------------------------------------------------------------------------------------

মানুষের দোষে ধর্ম দোষী
রাজা'র দোষে রাজ্য দোষী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেকে যারা ভাবছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাকশাল কায়েম করবে তাদের মনে রাখা উচিত ছিল বাকশাল আদতে বাংলাদেশে কখনই কায়েম হয়নি। বাকশাল বাস্তবায়নের আগেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। সেটা প্রকৃতই কী ছিল এবং সদ্য স্বাধীন দেশে তার প্রয়োজনীয়তা কতখানি ছিল তাও ধোঁয়াটে। বাকশাল মানেই এক অপপ্রচার তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যা বাস্তবায়ন হয়নি তা কী ছিল তা কেমনে বুঝবে মানুষ?

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁর পরিবার বিশেষ করে ছেলেদের নিয়ে যে অপপ্রচার হয়েছিল তা ছিল মিথ্যাচারে পূর্ণ। এখন যা প্রকাশ হচ্ছে ধীরে ধীরে।

শীলদের ফাঁদে পা দিয়ে যদি শেখ হাসিনা নির্বাচন স্থগিতের উদ্যোগ নিতেন তাহলে ২৪ জানুয়ারির পর তাঁর সরকার অবৈধ হয়ে যেতো। প্রতিপক্ষ হিসেবে নখদন্তহীণ বিরোধীদল কিংবা যতই সাংগঠনিক ক্ষমতা থাকুক না কেন সে সরকারকে ২৪ দিনও টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে যেতো। সরকারের ওপর নানামুখি চাপ নিষেধাজ্ঞার খড়গ কাঁটিয়ে ওঠা হয়ে যেত অসম্ভব এক কাজ।

সুশীল এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নামধারিদের চরিত্র এমন তারা নিজেরা রাজনীতি করবে আবার সুশীল সমাজ দাবি করে মতামতও দেবে। তাদের রাজনৈতিক চরিত্রে সকালে একদলের কাছে গিয়ে ধরণা ত বিকেলে আরেক দলের কাছে ধরণা। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে জামায়াত-শিবিরের জন্যে জায়গা করে দেয়া তাদের জন্যে নতুন কোন কিছু নয়। নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনে তারা জামায়াত-শিবিরের পক্ষে যাবে এমনও কাজ করতে পারঙ্গম। যত দল তত নেতা মার্কা দলগুলোর এমন ভূমিকা কখন কোথায়, কীভাবে দৃষ্টান্তযোগ্য হয়েছিলো তা খুঁজতে ল্যাবরেটরি টুলসের সাহায্যই নিতে হবে!

এটা আশার কথা, এবারের নির্বাচন জামায়াত- শিবিরমুক্ত হতে যাচ্ছে। এটাকে অনেক অপ্রাপ্তির সাথে একটা প্রাপ্তি হিসেবেও ধরে নেয়া যায়। জামায়াত নির্বাচনে না থাকায় বিএনপি নির্বাচনে আসেনি এটা পরিষ্কার। কিন্তু কিছু দল যারা সারাজীবন জামানত বাজেয়াপ্ত করেই আসছে তারা শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কায় নির্বাচনে আসেনি, না এর সাথে জামায়াতি যোগ রয়েছে তা পরিষ্কার হয়নি। নানা মুনির নানা মত এখানে আছে। তবে অনেকের ধারণা বিএনপি এবং জামায়াত নির্বাচনে না আসায় তারাও আসেনি। এই যুক্তিকে কোনক্রমেই হালকা করে দেখছি না!

জামায়াত-শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করে দেবার সব কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। বর্তমান জামায়াত-শিবির তার আগেকার অবস্থার একটা ধ্বংসাবশেষ। এবং এই ধ্বংসাবশেষ গঙার জলে ভাসিয়ে দেবার সময় খুবই সন্নিকটে। যারা একে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছে তারাও শেষ পর্যন্ত তাদের সাথে ভেসে যায় কীনা সেটাই দেখার বিষয়!

glqxz9283 sfy39587p07