Skip to content

পায়ে হেঁটে সফর, পর্ব ৬

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পায়ে হেঁটে জিরো পয়েন্ট টু জিরো পয়েন্ট: পর্ব ৬
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফের গল্প বলিছিলাম। সংক্ষেপে লেখা প্রায় ৪ হাজার শব্দের এই লেখনীর আজ ৬ষ্ঠ পর্ব। আশা করি আগামী পর্বে শেষ হবে।
২৮ ফ্রেব্রুয়ারী টেকনাফে প্রবেশের পথেই দেখা হয়ে গেলো সাংবাদিক টেকনাফনিউজডটকমের সম্পাদক সাইফুল্যাহ সাইফি ভাইয়ের সাথে। ব্যস আর কিছু চিন্ত করতে হয়নি। টেকনাফের টিএনও মেয়রসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা তিনিই করে দিলেন। পরেরদিন শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে লক্ষ্য স্পর্শ করবো সেখানে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করলেন। আমার সাথে এসে যোগ দিয়েছেন আশরাফভাই এবং ছোটনভাই ছাড়াও দিনরাত্রি ডট কমের সিইও সাহ্বা ইউ শিপন ভাই। আমি সকাল ১১টার দিকে পায়ে হেটে শাহপরীর দ্বীপের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। কিন্তু পথে পথে দেখলাম বেশীরভাগ মানুষ বিষয়টা জানে সিরাজগঞ্জের পর আর কখনো এমনটা হয়নি। সাইফি ভাইয়ের অনলাইন পত্রিাকার বিস্তৃতি দেখে অবাক হলাম। যাইহোক চারটা নাগাদ ছোটনভাই এবং শিপনভাই শাহপরীর দ্বীপে ফৌছে গেলেন।
সেখানে সাংবাদিক জসীমভাই আমাদের জন্য আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন।আমরা তিনজনই ছিলাম ক্ষুধার্ত তাই আগে খেলাম, তারপর প্রায় এককিলোমিটার হেটে একেবারে সাগরের কিনারে গোলারচরে গেলাম।
তারপর এলো সে মাহেন্দ্রক্ষণ
আমাদের প্রত্যেকের জীবনের এই স্মরনীয় মুহুর্ত আমরা দেশ ও মানুষের প্রতি উৎসর্গ করে শেষ সীমানায় পত পত করে উড়িয়ে দিলাম লাল সবুজের নিশাণ। আমরা সেখানে যতক্ষণ ছিলা, ততক্ষণ একটি বাঁশের খুটিতে পতাকা লাগানো ছিলো। সে পতাকা পত পত করে উড়ছিলো আর জানান দিচ্ছিলো এই দেশ ও জাতির আগামী দিনের সম্ভাবনার কথা।
পরের দিন জাহোজে ছড়ে বিছ্চিন্ন অংশটুকু মানে সেন্টমাটিীন দ্বীপে গিয়ে আবারো চূড়ান্ত বিজয় নিশান হিসেবে উড়িয়ে দিলাম ত্রিশলাখ শহীদরে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকা। অন্যরা বোটে গেলেও আমি এবং ছোটন ভাই দুইজনেই হেটে গিয়েছিলাম সেন্টমার্টিন দ্বীপের এই প্রান্ত থেকে ছেড়াদ্বীপ।
শাহপরীর দ্বীপ বিচ্ছিন্ন অংশ হলেও সেটা এখন মূল ভূখন্ডের সহিত জোড়া লেগে গেছে। এই জোড়া লাগা অংশটার দৃশ্য বেশ ভিন্ন। সুন্দর তবে কিছুটা ভয়জাগানোও বটে, এখানে সাগরের জোয়ারভাটা খেলে। অন্যদিকে গোলারচরের বিশাল লোকালয় সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শাহপরীর দ্বীপের গোলারচরে শেষ সীমা স্পর্শ করার সময় উপস্থিত ছিলেন শাহপরীর দ্বীপ বিজিবি-বিওপির সুবেদার নজরুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক, রেজাউল করিম রেজু, হাফেজ আরমান, সাংবাদিক জসিম মাহমুদ, দিনরাত্রি ডট কমে এর নর্ািবাহী শিহাব উদ্দীন শিপন, ফোকাস ফ্রেম এর সিইও রুহুল কুদ্দস ছোটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সেদিন মানে যেদিন সেন্টমার্টিন এর শেষ করলাম সেদিন আশরাফভাই, ছোটন ভাই ছাড়াও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ, মেম্বার হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এই দীর্ঘ পথযাত্রায় মানুষ দেখেছি, মানুষের জীবন দেখেছি। এমন অনেক কিছু দেখেছি জেনেছি যা অন্যকোনোভাবে ভ্রমণ করলে সম্ভব হতো না। আমি প্রায় হাজার পঞ্চাশেক মানুষের সাথে মিশেছি, কথা বলেছি। তাদের ভাবনা জেনেছি। প্রান্তিক মানুষদের জীবন দেখেছি। এই ছোট দেশটিতে অনেক বৈচিত্র রয়েছে। অনেক কিছু দেখার বাকী আছে সেকথা বলা বাহুল্য। তবুওতো কিছু দেখেছি। তািই আমি বলতে পারি বাংলাদেশ আমি দেখেছি, আমি বাংলাদেশ দেখেছি।

জেনে রাখা ভালো
তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ এই জায়গার দূরত্ব কতো? এই প্রশ্নে জবোবে আপনি বিভিন্ন রকম হিসেব পাবেন। তেতুলিয়া যে মাইল ফলক রয়েছে সেখানে লেখা ৯৯২ কিলোমিটার আর টেকনাফে যে মাইল ফলক রয়েছে সেখানে লেখা ১০০৪ কিলোমিটার। ডিসটেন্ট ক্যালকুলেটর থেকে পাবেন ৯১৭ কিলোমিটার। তবে আমি হিসেব করে দেখেছি এটা যদি ঢাকা জিরোপয়েন্ট থেকে হয় তাহলে হাজারের কম হয়। এক হিসেবে ১০৩২ কিলোমিটার। তবে আমি যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো দেখেছি। এবং বিভিন্ন শহর ঘুরেছি। আবার শহরে অবস্থানকালে এদিক সেদিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছি সেহতু আমাকে অন্তত আরো দেড়শ কিলোমিটার রাস্তা বেশী হাঁটতে হয়েছে।
আপনাদের অবগতির জন্য বলছি। এই হাজার কিলোমিটার পথে আমি আমি অন্যেকোনো কাজে যেমন ধরুন মুল রুটর বাইরে দাওয়াতে বা কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্যও কোনো পরিবহন সেবা নিইনি। অবশ্য যমুনা সেতুর মতো পায়ে হেটে পারাপার নিষিদ্ধ এলাকার কথা নিশ্চই ধর্তব্য নয়।

glqxz9283 sfy39587p07