Skip to content

শাহপরীর দ্বীপ আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শাহপরীর দ্বীপ আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

শাহপরীর দ্বীপ। বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের সর্বদক্ষিনের অংশ। টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ গঠিত। এই দ্বীপের লোকসংখ্যা ৪০ হাজারের মতো। এদের প্রধান পেশা মাছধরা ও লবণ চাষ। দ্বীপে হাট-বাজার স্কুলে মাদ্রাসা মসজিদ সবিই আছে। নেই শুধু ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা আর দ্বীপবাসির আকাংখার বেড়ীবাঁধ।
এখানে বেড়াতে এলে ঘুরতে পারবেন তিনটি সৈকতে। এখানে একটি বাংলো এবং একটি জেটি রয়েছে। শাহপরীর দ্বীপের গোলার চর প্রকৃত অর্থে শেষ ভূখন্ড। এখানে নির্জন বালুময় সৈকত তার সব দিকে সমুদ্র। কেবল একপাশে ভূখন্ডের সাথে একটু লাগানো।
শাহপরীর দ্বীপ যেতে হয় টেকনাফ থেকে ট্রলার নৌকা বা সিএনজিতেও যাওয়া যায়। শাহপরীর দ্বীপ যাওয়ার দৃশ্য বড়ো মনোরম। টেকনাফের নোয়াপাড়া পার হলেই একটি বিজিবি ক্যাম্প। এখান থেকে শুরু হয়ে রাস্তার দুপাশে লবণক্ষেত। যেদিকে দুচোখ যায় দিগন্তবিস্তৃত লবণপ্রান্তর। জরাজীর্ণ রাস্তা ধরে এগুতে হবে। লবণক্ষেতে দেখা মিলবে চক চক সাদা গাংচিলের, তারা লবণ ক্ষেত্রের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের মতো নদীতে আহারের সন্ধ্যানে ব্যস্ত। আরেকটু সামনে গেলে জালিয়া পাড়া বা জেলে পাড়া। সমুদ্রের একেবারে কুলঘেঁষে জেলেদের ছোট ছোট কুড়েঘর দেখে আপনার ভয় হবে যে একটি ভাঙ্গা ছোট কুঁড়েঘরে থেকে সমুদ্রের সাথে লড়াই করছে। হয়তো এই অসীম সাহসী মানুষগুলো সাহস আপনাকেও ভয়ের বদলে সাহস যোগাবে।
তারপর পাবেন জেটিঘাট। বেশকিছুদিন এখান থেকে জাহাজ ছেড়ে যেত সেন্টমার্টিন এর উদ্দেশ্যে। এখানে এলজি ইডির একটি ডাকবাংলো রয়েছে। রয়েছে ছোট একটি বাজার। এখানে থাকতে চাইলে বাংলোতে থাকা আর বাজারে খাওয়ার ব্যবস্থা হয়ে যাবে সহজেই। এখানে আরো পাবেন সমুদ্র থেকে মাছ ধরে ফিরে আসা জেলেদের কাছে তাজা মাছ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে তাজা শুটকি।
আমি যখন পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ যাই। তখন এখানেই আনুষ্ঠানিক পতাকা উত্তোলন করি। আমার স্মৃতিতে আজো জল জল করছে সেই স্মৃতি। শাহপরীর দ্বীপ আমারকাছে এতই ভালো লেগেছে যে চলতি বছর ডিসেম্বর মাসে আমি আবারো শাহপরীর দ্বীপে বেড়াতে যাই।

এখান থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত জায়গাকে বলে বাংলা চ্যানেল। ইংলিশ চ্যানেলের মতো খরস্রোতা নাহলে সামুদ্রিক এই চ্যানেল পার হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। সৌখিন সাতারু ও এডভেঞ্চার প্রিয় অনেকেই এটি পাড়ি দিয়েছেন।
চাইলে এখান থেকে বোট কিংবা ট্রলারে চড়ে যেতে পারেন সেন্টমার্টিন দ্বীপেও। সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেহেতু হোটেল ভাড়া একটু বেশী তাই আপনি শাহপরীর দ্বীপে রাতে থেকে সকালে সেন্টমার্টিনে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসতে পারেন অনায়াসে। তবে বোট বা ট্রলার নিয়মিত চলাচল করে না। কখন কে যাবে যেটা আগেই জেনে নিবেন।

glqxz9283 sfy39587p07