Skip to content

পায়ে হেঁটে ভ্রমণ: পর্ব ৫

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ:
পর্ব ৫: বন বনানী সাগর পেরিয়ে
জাহাঙ্গীর আলম শোভন।

ফেনী থেকে বারেইয়ার হাট আসলাম। ফেনী ছেড়েছি দুপুরের খাবার খেয়ে। রাত আটটা নাগাদ বারইয়ার হাঁট এর চেয়ে বেশী আগানো গেলনা।
এখানে বলে রাখি আপনারা হয়তো মনে করতে পারেন যে বারইয়ার হাট মিরশ্বরাই উপজেলার একটি বাজার এখান থেকে বেশী সু্বধিা মিরশ্বরাইতে থাকতে পারে। কিন্তু অন্য সুবিধা যাই থাকুক মিরশ্বরাইতে হোটেল নেই। হোটেল সব বারইয়ার হাট। এর কারণ হলো এখান দিয়ে খাগড়াছড়ি যাওয়ার রাস্তা।
পরের দিন অবশ্য লাঞ্চ করতে পেরেছিলাম মিরশ্বরাইতে। আর থাকার জন্য চলে যেতে পেরেছিলাম সীতাকুন্ড পর্যন্ত। আর এখানে থাকার ব্যবস্থা খুব বেগতিক। বেশ কষ্টকরেই থাকতে হয়েছিলো বলা যায়। বোদা, চান্দিনাসহ বেশকিছু স্থানে কষ্ট করে ছিলাম খুব নিন্মমানের হোটেলে এজন্য ঘুমের ব্যাঘাত হয়েছে শরীরের উপর চাপটা গেছে আর কি? আমি ছারপোকার ব্যাপারে খুব সেনসেটিভ সেটা আগে জিজ্ঞেস করে নিই এবং লক্ষণগুলো দেখে নিই। এজন্য এক জায়গা ছাড়া কোথাও ছারপোকার উৎপাত পাইনি। তাও সেটা আবার ঢাকাতে। আাশুলিয়া জার্মুকিতে, তিন তলার একটা মাত্র বোর্ডিং আছে যে সেখানে থাকতে যাবেন ধরা খাওয়া নিশ্চিত।
সীতাকুন্ড থেকে ভাটিয়ারী। ভাটিয়ারী থেকে চ্ট্গ্রাম। চ্ট্গ্রামে বেশ কয়েকটা সামাজিক অনুষ্ঠান আগেই ঠিক করা ছিলো। যেমন প্রথমত রোটাক্টর ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সিটিজি ব্লাড গ্রুপ এর জন্য রক্তদান। দুটোই বেশ ভালোভাবে হয়েছে। রোটারেক্টর ক্লাবের প্রোগ্রামে দরিদ্র নারীদের জরায়ু বের হয়ে যাওয়া রোগের চিকিৎসা দিতে রোগী বাছাই চলছে। ২শ রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য তারা একটা বিদেশী ফান্ড পেয়েছে। আর রেজিস্ট্রেশন এর জন্য ৫শ টাকা করে নিচ্ছে। আমি দেখলাম বহু রোগীর সেই ৫শ টি টাকা দেয়ার ক্ষমতাও নেই। তো আমি ৫ জনের দায়িত্ব নিলাম।
আর সিটিজি ব্লাড গ্রুপের হয়ে রক্ত দেয়ার মাঝে আমি একটা মেসেজ দিতে চাইলাম যে, আমি যেহেতু ৮শ কিলোমিটার হেটে এসে রক্ত দিলাম আবার রক্ত দিয়ে ২শ কিলো হেটে গিয়েছি সুস্থ্য সবল ভাবে সূতরাং রক্ত দেয়া ভয় বা আশংকার কিছু নয়।
১৯ মার্চ চট্টগ্রাম রেডিও ফূর্তিতে আমার একটি অনুষ্ঠান ছিলো সেটি সেরে আমি যাত্রা শুরু করলাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। কর্ণফূলি ব্রিজ, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, পাঁচলাইশ পেরিয়ে ঠেকে গেলাম চুনুতি গিয়ে। আমি একটি এগিয়ে যেতে চাইলাম। স্থানীয় লোকেরা বারণ করলো সামনে বন, একেতো হাতীর ভয় তার উপর রয়েছে নিরাপত্তার প্রশ্ন। আমিও আর ঝুকি না নিয়ে চুনতি থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম প্রথম ইছ্ছে ছিলো পুলিশ ফাঁড়িতে থাকবো এব্যাপারে আলাপ করে নিয়েছি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যদের সাথে, তারাও পরামর্শ দিলো। কিন্তু পরে জেলা পরিষদের একটি বাংলো মিলে গেলো, ছোট একটি পাহোড়ের উপর দুই রুমের বাংলো। রাতে একা থাকতে খুব ভালো লাগলো। ভোরো নামলো ঝুম বৃষ্টি আমি বৃষ্টি দেখতে এসে পুর্নেন্দুপূত্রীর সেই কবিতাটা আবৃতি করলাম
বৃষ্টিভেজা ভোর
মুখ দেখেছি তোর
মুখের পাশে আলো
ও মেয়ে ত্ইু ভালো
মেয়ে মানে এখানে আমার জন্য রুপসী বাংলা।
শুরু হলো বন পাহাড়ের ভেতর দিয়ে ভিন্নরকম এক দৃশ্যপট ধরে এগিয়ে চলা। এভাবে এক সময় কক্সবাজার সীমানায় প্রবেশ করি। এর আগে একটি রাত কাটালাম কেরানীহাটে। চমৎকার ছোট একটি শহর। বেশ ভালো কিছু হোটেল আছে কারণ এই শহর থেকে রয়েছে বান্দরবান যাওয়ার রাস্তা। এখান থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান শহর। শহরটা বেশ উন্নত এরকমউন্নত একটি শহর আমিরাবাদ। মানে লোহাগড়া থানা। কিন্তু চট্টগ্রাম শহরের মতো অপরিচ্ছন্ন। আগে কখনো আমার এমনটা হয়নি। কিন্তু এবার চ্ট্গ্রাম শহর পাড়ি দেয়ার সময় বেশ কয়েকবার আমার বমি হতে হতে বেচে গিয়েছিলাম। দেখলাম শহরে প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে আর পরিচ্ছন্নতার অবস্থা খুব খারাপ। আমরা কি উন্নয়ন আর পরিছ্ছন্নতা দুটো আলাদা জিনিস মনে করছি কিনা কে জানে।
কক্সবাজারে অপ্রতাশিতভাবে ফুলেল শুভেচ্চা জানিয়ে বরন করলো প্রেট্রোনাইজ হাউজিং নামে একটি কোম্পানী। হোটেল উপল ম্যানেজার বেশ চটপটে আন্তরিক তিনিও বাগান থেকে তোলা সজিব ফুল গুচ্ছ দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন। কক্সবাজার থেকে পরদিন সমুদ্রকুল ধরে রওনা দিলাম টেকনাফের পথে। একপাশে পাহাড় অন্যপাশে সমুদ্র এভাবে প্রায় আশি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলাম। দুইদিনের মুহুর্তগুলো অবশ্যই স্মরনীয়। তবে একদিনের কথা উল্লেখ করা যাক:
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। সেদিন আমি যাত্রা শুরু করলাম ইনানী রয়েল রিসোর্ট থেকে। আজকের দিনটিতে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিলো এই জায়গাটাতে পথে দোকান পাট নেই অন্তত মেরিনড্রাইভ রোডে যে রোড দিয়ে আমি চলছি। আমি কিন্তু বেশীরভারগ জিনিসপত্র কক্সবাজার রেখে এসেছি। সকালের নাস্তা, পানি, চিড়া, গুড়, কাঁচা সবিজ কিছু আমার সাথে নেই। এই চ্যালেঞ্জগুলো কষ্ট করে জয় করেছি। কিন্ত উল্লেখ করবো অন্য একটি চ্যালেঞ্জের কখা এই দিন আমি কোনো গন্তব্য ঠিক করে বের হয়নি। আজকের তত্বছিলো যেখানে রাত সেখাতে কাত। তো স্থাণীয় লোকদের ভরসা পেয়ে রাত দশটা পর্যন্ত হাটলাম। প্রায় ৩৭/৩৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নোয়াখালী বাজার নামে একটি এলাকায় এলাম। এখানে ৫/৭টি দোকান তার মধ্যে দুটি দোকান খোলো রয়েছে। প্রথমে একটি দোকান থেকে একটি কয়েল কিনে নিলাম। ম্যাছ আমার সাথে আছে। দারুন চাঁদের আলো সমুদ্র শান্ত ভাবলাম আজ কোনো গতি না হলে সমুদ্রের ধারেই রাত্রি যাপন করবো।
একটি দোকানে গিয়ে রাতের খাবার খেতে চাইলাম। তারা জানালো এই বেলায় আর কোনো খাবার নেই। পরে তারা বাসা থেকে ভাত এনে খাওয়ালো। ভাত ডিম খেয়ে আশ্রয়ের সন্ধান করলাম। মসজিদের সামনে গেলাম বারান্দা খোলা কিনা দেখতে? দেখতে পেলাম একটি মাদ্রাসা- দরজা জানালা নেই, খোলা পাকা মাদ্রাসা, লাইট ফ্যানও আছে। আমিতো মহাখুশি শুধুযে ঘুমুতে পারবো তা নয় আমার ডিভাইসগুলো রিসার্জ করা যাবে।
কিন্তু স্থানীয় আট দশজন যুবক এসে নিয়ে গেলো মোরগমার্কা মেম্বারের নির্বাচণী অফিসে সেখানে তারা বাসা থেকে বিছানা এনে দিয়ে বালিশ দিয়ে বেশভালো ব্যবস্থা করে দিলো। পরে রাতে তাদের সাথে সাগরের পাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম।
(চলবে)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শুভব্লগিংশুভব্লগিং

শুভ কামনা রইল

glqxz9283 sfy39587p07