Skip to content

পৃথিবীর বিভিন্ন মিসাইল পরিচিতি ।

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক দূরনিক্ষেপণ ও অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি হচ্ছে মিসাইল। পারমানবিক প্রযুক্তি বহন করে এ মিসাইলের মাধ্যমে নিমিষেই গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হাজার হাজার বছরের সাধনায় গড়ে তোলা মানব সভ্যতাকে। তাই বর্তমান বিশ্বে পরাশক্তির মেরুদণ্ড হচ্ছে এ মিসাইল।

রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম আলোচিত মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল ।


সম্প্রতি ইরানও মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইলের অনুরূপ একটি মিসাইল তৈরি করেছে যেটি রাডার ফাঁকি দিয়ে দুরের লক্ষ বস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম । এটির নাম নাসর ।

বিশ্বে রণাঙ্গনে প্রথম রকেট তথা মিসাইল প্রযুক্তির ব্যবহার হয় আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে। যিনি এ প্রযুক্তিটি প্রথম ব্যবহার করেন তাকে আমরা সবাই চিনি, তিনি আর কেউ নন-মহাবীর হায়দার আলীর সুযোগ্য সন্তান এবং মহীশূরের অধিকর্তা টিপু সুলতান।তবে এর আগে কোরীয়রা ও মোঙ্গলরাও ১৫ শতকে মিসাইল ব্যবহার করেছিল বলে জানা যায়,যদিও এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।



টিপু সুলতানের সাথে ব্রিটিশদের সর্বশেষ যুদ্ধ বাধে ১৭৯৯ সালে। তুরুখানাল্লি নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে টিপুর বাহিনী দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরাজিত হয় এবং নিহত হন মুসলিম বীর টিপু সুলতান। ফলে টিপু কর্তৃক ব্যবহৃত প্রায় ৭০০ এর অধিক রকেট ও ৯০০ এর অধিক রকেটের উপকরণ ব্রিটিশদের হাতে চলে যায়। উইলিয়াম কংগ্রিভ নামের এক ইংরেজ সেনাপতি এগুলো ইংল্যান্ডে নিয়ে যান। ব্রিটিশরা এগুলোকে পরীক্ষা ও গবেষণা করে কারিগর পদ্ধতি জেনে যায়।বৃটিশরা টিপুর রকেট নকল করে কংগ্রিভ রকেট তৈরি করে টিপুর বিরুদ্ধেই ব্যবহার করেছিল। আর আজকের আধুনিক মিসাইল তারই ধারাবাহিকতা মাএ। তবে আধুনিক মিসাইল আবিষ্কার বৃটিশরা নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানরা করে, এগুলো ভি-১ (ক্রুজ) ও ভি-২ (ব্যালিস্টিক)। এগুলো বিশ্বযুদ্ধে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। রাশিয়ানরা ও কাতিউশা নামের একটি মিসাইল তৈরি করেছিল যা যুদ্ধে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ে জার্মান টেকনোলজি থেকে তাদের মিজাইল প্রজেক্ট সমৃদ্ধ করে। তাই আধুনিক মিজাইলের প্রবর্তক জার্মানি। মিসাইল (তৎকালে রকেট) ধারণাটি এসেছিল মূলত কামানের গোলা নিক্ষেপ করাকে কেন্দ্র করে।কামানের গোলা আর রকেটের মধ্যে তফাত হল, কামানের গোলা যে বেগে ছুঁড়ে দেয়া হয়, বাতাসের বাধার কারণে তার গতি ক্রমেই কমতে থাকে, অন্যদিকে, রকেটে

জ্বালানি থাকায় তার গতি জ্বালানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রায় সমবেগে চলতে থাকে। রকেটে রিমোট কন্ট্রোলের ব্যবস্থায় পূর্ব-নির্ধারিত টার্গেটে চালিত করে আঘাত করা যায়।বলা বাহুল্য, টিপু সুলতানের রকেটে রিমোট কন্ট্রোল ছিল না।

মিসাইলে ওয়ারহেড থাকে যা লক্ষবস্তুকে ধ্বংস করে। মিসাইলে কম্পিউটার গাইডেড সিস্টেম থাকে যার মাধ্যমে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় ।
ওয়ারহেডে থাকে হাই এক্সপ্লোসিভ (এইচই) ।আর মিসাইলের জ্বালানি হিসাবে থাকে সলিড বা লিকুইড লো এক্সপ্লোসিভ জেট ফুয়েল যাকে প্রোপোল্যান্ট বলে।
পাল্লা বা দূরত্বের ভিত্তিতে মূলত তিন ধরনের মিসাইল রয়েছে-স্বল্প,মাঝারি ও দূরপাল্লার মিসাইল।
ব্যবহারের দিক থেকে মিসাইল তিনধরনের.....
১.প্রচলিত ধারার মিসাইল(Conventional guided missiles)
* Air-to-air missile(আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণ যোগ্য)
* Air-to-surface missile(আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণ যোগ্য)
* Anti-ballistic missile(ব্যালিস্টিক প্রতিরোধক মিসাইল)
* Anti-satellite weapon( স্যাটেলাইট বিধ্বংসী মিসাইল)
* Anti-ship missile(জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল)
* Anti-submarine missile(ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল)
* Anti-tank guided missile(ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল)
* Land-attack missile(ভূমিতে ব্যবহারযোগ্য মিসাইল)
* Surface-to-air missile (ভুমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য )
* Surface-to-surface missile(ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য)

২.ক্রুজ মিসাইল(Cruise missiles)





Hypersonic(হাইপারসনিক)ঃ-শব্দের চেয়ে কমপক্ষে ৫ গুণ গতিসম্পন্ন মিসাইলকে হাইপারসনিক মিসাইল বলা হয়।যেমনঃArcLight (যুক্তরাষ্ট্র),BrahMos II ( যৌথভাবে ভারত ও রাশিয়ার তৈরি)

Supersonic(সুপারসনিক)ঃ-শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির মিসাইলকে সুপারসনিক মিসাইল বলা হয়। এই মিসাইল ১০০-৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।যেমনঃ রাশিয়ার তৈরি 3M-54 ,চীনের তৈরি C-101,ফ্রান্সের তৈরি Air-Sol Moyenne Portée


Long-range subsonic(দূর পাল্লার সাবসনিক)ঃ- এ মিসাইলগুলো প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম এবং প্রতি ঘন্টায় গতিবেগ ৮০০ কিলোমিটার।এগুলো ১৫০০ কিলোগ্রাম প্রচলিত মানের বিস্ফোরক কিংবা পরমানু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।যেমনঃ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি AGM-86B, চীনের তৈরি DH-10

Medium-range subsonic(মাঝারি পাল্লার সাবসনিক)ঃ- এ মিসাইলগুলোর পাল্লা ১০০০ কিলোমিটারের কম। যেমনঃ পাকিস্তানের তৈরি Babur ,যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি AGM-158 JASSM


Short-range subsonic(স্বল্প পাল্লার সাবসনিক)ঃ- এ মিসাইলগুলোর পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারের মত এবং সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। যেমনঃ চীন ও ইরানের তৈরি C-802/Noor,ব্রাজিলের তৈরি AVMT-300

৩.আন্ত:মহাদেশীয় মিসাইল(Ballistic missiles)
* Short-range ballistic missile((স্বল্প পাল্লার)
* Medium-range ballistic missile(মাঝারি পাল্লার)
* Intermediate-range ballistic missile(সেমি-দূরপাল্লার)
* Intercontinental ballistic missile(আন্ত:মহাদেশীয়)
* Submarine-launched ballistic missile(টর্পেডো)
* Air-launched ballistic missile(বিমান /হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপণযোগ্য)
বর্তমান বিশ্বের কতিপয় আলোচিত ও ব্যবহৃত মিসাইলঃ-
১.টোমাহক ক্রুজ মিসাইল- এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূর পাল্লার মিসাইল,সম্প্রতি ইরাক,আফগান যুদ্ধে এর ব্যবহার লক্ষ করা গেছে
২.প্যাট্রিয়ট মিসাইলঃ এটি একটি এন্টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ।দূর থেকে উড়ে আসা যে কোন ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়।এর মূল মালিক যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরাইল ও তাইওয়ানের কাছে এ মিসাইল স্বল্প পরিমাণে আছে বলে ধারণা করা হয়।অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে এ মিসাইল দিতে সম্মত হয়েছে।
৩. আল সামূদ-২ ঃ এটি ইরাক যুদ্ধে ব্যবহৃত সাদ্দামের রিপাবলিকান গার্ডের তৈরি মিসাইল
৪. স্কার্ড মিসাইলঃ উপসাগরীয় যুদ্ধে সাদ্দাম কর্তৃক বহুজাতিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত মিসাইল।যুক্তরাষ্ট্র,ইরান,সিরিয়া সহ বিশ্বের অনেক দেশে এ মিসাইল রয়েছে।
৫. গ্রাদ মিসাইলঃ সাম্প্রতিক কালে এ মিসাইলের ব্যবহার দেখা গেছে। এমনকি লেবাননের গেরিলা সংগঠন "হিজবুল্লার" কাছে এটি আছে।
৬. হাতফ ঃ হাতফ সিরিজের মিসাইলগুলো ইরানের তৈরি। এ মিসাইলগুলো রাশিয়া ও চীনের সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে। মিসাইলগুলো মাঝারি ও দূর পাল্লার।
৭.শাহীন : এ মিসাইলের মালিক পাকিস্তান। এগুলো মধ্য ও দূর পাল্লার ।পরমানু বোমা বহনে সক্ষম।
৮. অগ্নি ও পৃথ্বিঃ এ মিসাইলের মালিক ভারত । এগুলো মধ্য ও দূর পাল্লার ।পরমানু বোমা বহনে সক্ষম।
৯.তাইপেডং ঃ উত্তর কোরিয়া কর্তৃক নির্মিত এ মিসাইল পরমানু বোমা বহনে সক্ষম ।
১০. স্ট্রিংগার মিসাইলঃ কাঁধে বহনযোগ্য এ মিসাইলের কার্যকর ব্যবহার দেখা যায় আফগান-রাশিয়া যুদ্ধে।আফগান মুজাহিদরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে ।
১১.কাশেম রকেটঃ ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এ মিসাইল ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে ।

১২. শাহাব ঃ এই মিসাইল ইরানের আবিস্কার । শাহাব সিরিজের মিসাইল গুলো পুরো মধ্যপ্রাচ্য অতিক্রম করে ইজরাইলে আঘাত হানতে সক্ষম । সেই সাথে এগুলো পারমানবিক বোমা বহনের যোগ্য ।
১৩.জেরিকো ঃ এটি ইজরাইলের তৈরি । ইরানের শাহাবের বিকল্প হিসাবে এটা তৈরি করা হয়েছে । এটিও শাহবের অনুরূপ মধ্যপ্রাচ্য পারি দিয়ে ইরান বা এশিয়ার যে কোন দেশে আঘাত হানতে সক্ষম ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ নৌবাহিনী চিনের সহায়তায় CR-802 মিসাইল তৈরিতে সফলতা অর্জন করেছে । এটি প্রায় ১৭৫ কেজি ওয়ারহেড বিস্ফোরক বহনে সক্ষম । এর রেঞ্জ ২০০ কিমি ।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই বাংলাদেশের কি হবে ? কিছুইতো নাই মনে হয় ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কেন রে ভাই । CR-802 মিসাইল তো আমাদের নৌ বাহিনীর আবিষ্কার । আর এইটা মোটামুটি বড় আকারের যুদ্ধ জাহাজ ধংস্ব করতে সক্ষম ।

-----------------------------------------------

আসি আসি করে
আজও তার আসা হলনা
তবুও আমি আছি অপেক্ষায় ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইনফরমেটিভ পোস্ট ।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
" যারা পাকিস্তানের সাথে রিকন্সিলিয়েশন এর ধুয়া তোলে , থুথু ছিটাই সেসব বেজন্মাদের মুখে "


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ ।

-----------------------------------------------

আসি আসি করে
আজও তার আসা হলনা
তবুও আমি আছি অপেক্ষায় ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জার্মান রকেটের পিতা যদি হয় হারমেন ওবের্থ এবং আমেরিকান রকেটের পিতা যদি হয় রবার্ট গডার্ড তাহলে তাদেরও পিতা অর্থাত্ রকেটের দাদা হচ্ছে রাশিয়ান কনস্টানটিন সিওলকোভস্কী । রকেটের আলোচনায় তার নামটা আসতেই হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ নৌবাহিনী চিনের সহায়তায় CR-802 মিসাইল তৈরিতে সফলতা অর্জন করেছে


আমার মনে হয় বাংলা ভাষায় "তৈরী" শব্দটা সাবধানে ব্যবহার করা উচিৎ। তৈরী মানে নিজ ডিজাইনে তৈরী, এটা হবে সংযোজন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাফ করবেন লিখতে গেলে একটু ভুল হতেই পারে ।

-----------------------------------------------

আসি আসি করে
আজও তার আসা হলনা
তবুও আমি আছি অপেক্ষায় ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

টিপুর বাহিনী দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরাজিত হয় এবং নিহত হন মুসলিম বীর টিপু সুলতান। ফলে টিপু কর্তৃক ব্যবহৃত প্রায় ৭০০ এর অধিক রকেট ও ৯০০ এর অধিক রকেটের উপকরণ ব্রিটিশদের হাতে চলে যায়। উইলিয়াম কংগ্রিভ নামের এক ইংরেজ সেনাপতি এগুলো ইংল্যান্ডে নিয়ে যান। ব্রিটিশরা এগুলোকে পরীক্ষা ও গবেষণা করে কারিগর পদ্ধতি জেনে যায়।বৃটিশরা টিপুর রকেট নকল করে কংগ্রিভ রকেট তৈরি করে টিপুর বিরুদ্ধেই ব্যবহার করেছিল।


ব্যাপারটা ক্যামন গোলমেলে হয়ে গেলো, টিপু সুলতান মারা যাবার পরে তার রকেট গুলো ব্রিটিশ রা নিয়ে যায়, সেগুলো থেকে প্রযুক্তি নিয়ে নতুন রকেট তৈরি করে আবার টিপুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করে!!
কোথায়? টিপুর কবরে?

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একটু বুঝুন ।
টিপুর বিরুদ্ধে বলতে টিপুর উত্তরশুরিদের বিরুদ্ধে ব্যাবহার করেছিল ।
এত বিস্তারিত না লিখলেও হবে ।
**********************************************************
অন্ধকারের চিতা ।

-----------------------------------------------

আসি আসি করে
আজও তার আসা হলনা
তবুও আমি আছি অপেক্ষায় ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দারুন পোস্ট।

glqxz9283 sfy39587p07