Skip to content

নারী সভ্য হয়েছিল পুরুষের আগে

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

[নারী পুরুষের চেয়ে পঞ্চাশ সহস্রাধিক বছর আগে সভ্য হয়েছিল। নারী মানুষ হয়েছিল, পুরুষ মানুষ হওয়ারই আগে।]



পৃথিবী জুড়ে গবেষণা চলছে মানুষ বর্তমান রূপে কিভাবে এল বিবর্তনের ধারায়। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রাপ্ত জীবাশ্ম, কঙ্কাল, মাথার খুলি, চোয়ালের হাড় প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন থিওরি এসেছে। বর্তমানে একটি থিওরি হচ্ছে ‘আউট অব আফ্রিকা’ থিওরি। মানে পৃথিবীর সকল মানব জাতির পূর্বপুরুষ আফ্রিকা থেকে এসেছে। পূর্ব আফ্রিকায় সবচেয়ে পুরাতন মানব-পূর্বপুরুষের চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে। গবেষকরা ধারণা করে করে পূর্ব আফ্রিকা থেকে প্রিথিবীর অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য পথ চিহ্নিত করে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান ও খনন চালিয়ে প্রাচীন মানবদের চিহ্ন পেয়েছেন এবং সময়কালও নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে। যদি আমরা সবাই আফ্রিকান হয়ে থাকি, তাহলে বর্তমানে আমরা কেন ভিন্ন ভিন্ন রঙের। এসবেরও বিভিন্ন ব্যাখ্যা এসেছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, পৃথিবীর বিরূপ আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করে করে অভিযোজিত হয়েছে মানব জাতি, তাদের অভিযোজনের প্রয়োজনেই এসেছে বিভিন্ন এলাকায় শরীরের বিভিন্ন বাহ্যিক রূপ। আমাদের সেই পূর্বপুরুষদের সময়কাল দেড় লক্ষ থেকে দুই লক্ষ বছর আগের, আর আফ্রিকা থেকে তাদের ছড়িয়ে পড়াও ছিল ষাট হাজার থেকে সোয়া এক লক্ষ বছর আগে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে অনেক বিশদ আকারে লেখতে হবে, আমার আজকের লেখাটি ঠিক এই বিষয়ে মূল বর্ণনা নিয়ে নয়। তাই তথ্যপিপাসু পাঠকদের জন্য আমি পথচিহ্ন দিয়ে যাচ্ছি, যারা আগ্রহী তারা বিস্তৃত পরিসরে জানতে ও দেখতে পারবেন নিচের লিংক থেকেঃ

The Incredible Human Journey (BBC)- Dr Alice Roberts



ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এর ‘দ্য জেনোগ্রাফিক প্রজেক্ট’ এর ‘হিউম্যান মাইগ্রেশন’ মানচিত্র দেখতে পারেন নিচের লিংক থেকে। এই লিংকে ক্লিক করলে যে পেইজ আসবে তার মাঝে দেখুন উপরে সময়কাল অংকে লেখা আছে। সেই সময়কালের নিচের বক্সে ক্লিক করুন। নিচে মানচিত্র পেয়ে যাবেন। অথবা একেবারে ডান দিকের প্লে চিহ্নতে ক্লিক করে করে দেখতে পারবেন।



The Genographic Project- Atlas of the Human Journey



New Research Confirms 'Out Of Africa' Theory Of Human Evolution







এখন আমার মূল আলোচ্য বিষয়ে যাচ্ছি। গবেষণালব্ধ তথ্যের সাথে আমার নিজস্ব ধারণার আলোকেই পরবর্তি অংশ আসবে। তা পাঠক মাত্রই বুঝতে পারবেন, গবেষণার প্রয়োজনীয় রেফারেন্স দুইটি দিয়েছি, স্থানে স্থানে আরও দেব।



বর্তমানে মানব পূর্বপুরুষ নির্ধারণে ‘মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ’ কথাটি বহুল শুনা যায়। প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল, এর সাথে বাইবেলের ঈভের কোন সম্পর্ক নেই। শুধু এভাবে নামকরণ করা হয়েছে। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভকে মাতৃসূত্রে পৃথিবীর সকল নারীর পূর্বসুরী মনে করা হয়। মানে এই নারী থেকেই পৃথিবীর সকল নারী এসেছে। এই গবেষণার মূল হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ। তা প্রজন্মের পরে প্রজন্ম অবিকৃত অবস্থায় থাকে। মানে দুই লক্ষ বছর আগের সেই মানব মাতার মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ অপরিবর্তিত অবস্থায় বর্তমান মাতাদের মাঝেও আছে। কিভাবে? আমরা জানি যেকোন কোষেই অনেক অনেক উপাদান রয়েছে, তার মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়া। যারা জীববিদ্যা পড়ে এসেছেন তারা স্মৃতি হাতড়ে দেখতে পারেন, পাঠ্য বইয়ে লেখা ছিল- মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাইজ বলা হয়। একটি ডিম্বানুতেও মাইটোকন্ড্রিয়া আছে। মাইটোকন্ড্রিয়াতে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ আছে। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ বংশ গতির ধারায় কোন ভূমিকা রাখে না, তবে অবিকৃত অবস্থায় অপত্য কোষে যায়। বংশগতির ধারায় ভূমিকা রাখে ক্রোমোসোমাল ডিএনএ যা নারী ও পুরুষ উভয়ের কাছ থেকেই আসে। নারীর ডিম্বাণুতে শুক্রাণু প্রবেশের পরে যে সকল পরিবর্তন ঘটে তা মাইটোকন্ড্রিয়ায় কোন পরিবর্তন সাধন করে। শুক্রাণুর নিউক্লিয়াস ২৩ টি ক্রোমোসোম বহন করে, ডিম্বানুর নিউকিয়াসের আরও ২৩ টি ক্রোমোসোমের সাথে মিলে ২৩ জোড়া কোমোসোম এই ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মাঝে ২২ জোড়াকেই অটোসোম বলে, এবং এই জোড়াগুলোর প্রত্যেকটি জোড়ায় ক্রোমোসোমদ্বয় পরস্পরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। শুধুমাত্র এক জোড়া ছাড়া, যাকে সেক্স ক্রোমোসোম বলে, আর এটাই নির্ধারণ করে ছেলে অথবা মেয়ে। তার উভয়ে সদৃশ(XX) হলে মেয়ে হয়, বিসদৃশ(XY) হলে ছেলে হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে নিউক্লিয়াসের ক্রোমোসোমাল ডিএনএ নারী-পুরুষ উভয়েরই জেনেটিক তথ্য বহন করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পরিবর্তনের বাইরে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ মা থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় সন্তানের মাঝে যায়, ছেলে মেয়ে উভয়ের মাঝে যায়। ছেলে পর্যন্ত গিয়েই থেমে যায়। কিন্তু মেয়ে থেকে তার মেয়েতে, সেই মেয়ে থেকে তার মেয়েতে-> তার মেয়েতে-> তার মেয়েতে; এভাবেই চলতে থাকে। এভাবেই বর্তমান থেকে প্রাচীনের দিকে খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীদের সামনে এসেছে যে পৃথিবীর বর্তমান সকল মানবের এক মাতা ছিল পূর্বে। তবে এখানে জেনে রাখা দরকার, সেই আদিমাতার সমসাময়িক আরও মাতা ছিলেন, তাদের জেনারেশনের পথ থেমে গেছে বা তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। গবেষণায় এটাও পাওয়া গেছে যে আরও অনেক মানব প্রজাতি ছিল, তারা হারিয়ে গেছে; তাদের প্রাপ্ত জীবাশ্ম-কঙ্কাল থেকে এসেছে এসব তথ্য। আদিমাতাদের জেনারেশন থেমে যাওয়ার সহজ নিদর্শন হচ্ছে ছেলে, কারণ ছেলে পর্যন্ত মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ যেতে পারে, কিন্তু ছেলে থেকে ছেলের সন্তানের মাঝে যাবে না। সেই মাতার কোন মেয়ে না থেকে থাকলে তার জেনারেশন সেখানেই থেমে গেছে। এই দিকটা হল জেনেটিক বিলোপ। এর বাইরে প্রাকৃতিক কারণ থাকতেই পারে। লক্ষ বছরের গতি ধারায় সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে গিয়ে অন্যরা হারিয়ে গেছে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভকে তাই বলা হয় ম্যাট্রিলিনিয়াল মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর। নিচের ছবির মাধ্যমে হয়তো সহজ ধারণা পাওয়া যাবে।



null

Matrilineal Ancestor



মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেঃ

'Mitochondrial Eve': Mother of All Humans Lived 200,000 Years Ago



Mitochondrial Eve



এবার আমরা পরিচিত হই ‘ওয়াই ক্রোমোসোমাল এডাম’ এর সাথে। আমরা জানি যে পুরুষ নির্ধারণের ক্রোমোসোম হচ্ছে ওয়াই-ক্রোমোসোম। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের পুরুষদের ওয়াই ক্রোমোসোমাল ডিএনএ এর উপর গবেষণা করে জেনেটিস্ট স্পেন্সার ওয়েলস বলেন যে পৃথিবীর বর্তমান সব পুরুষরা পৈতৃক ভাবে একই পিতা থেকে আগত। তাই এই ডিএনএ-কে প্যাট্রিলিনিয়াল মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর বলা হয়।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত পড়তে-

Y-chromosomal Adam





ধারণা করা হয় মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ দুই লক্ষ বছর আগে বেঁচেছিল। যা ওয়াই ক্রোমোসোমাল এডামের চেয়ে পঞ্চাশ থেকে আশি হাজার বছর আগের। এখানেই অনেকেই হয়তো চমকে উঠেছেন, এটা কি করে সম্ভব। এমন হলে বংশগতির ধারা চলল কিভাবে? আপনারা খেয়াল করে থাকবেন এই মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ বা এডামের ব্যাপারে বলা হচ্ছে মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর। তার মানে দাঁড়ায় ঈভের আগেও আরও ঈভ ছিল। ঈভের সময়েও আরও ঈভ ছিল। ঠিক তেমনি এডামের আগেও আরও এডাম ছিল। মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভকে বলা হচ্ছে আধুনিক মানব জাতির এনসেস্টর। তেমনি ওয়াই ক্রোমোসোমাল এডাম আধুনিক মানব জাতির সব পুরুষের আদি পিতা। আরেকটু বিস্তারিতভাবে বলি।



মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ যখন বিবর্তন ধারায় আধুনিক মানব জাতির মাতা হয়ে গেছে, তখন তাদের সমসাময়িক পুরুষ বিবর্তনের ধারায় আধুনিক হয়নি। মানে তখনও তারা মানুষ হয়ে উঠেনি। তারা রূপান্তরের পথে ছিল। তখনও নারী-পুরুষে যৌনতা হয়েছে, সন্তান এসেছে, কিন্তু বিবর্তন ধারায় পুরুষ পিছিয়ে ছিল। এটা তাদের কাছে ধরা পড়েনি, ধরা পড়ার কথাও না। এটা ডিএনএ গবেষণায় এসেছে। একটু উদাহরণ দিয়ে বুঝাতে গেলে, মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভের সমসাময়িক পুরুষ তখনও লোমশ পশুর মত হয়তো ছিল, তাদের মুখাকৃতি, তাদের দাঁত, তাদের শরীর তখনও হয়তো বিবর্তন ধারার পূর্বপুরুষদের মত ছিল- মানে গরিলা ও শিম্পাঞ্জির কাছাকাছি প্রজাতির ছিল। কিন্তু তখনকার নারীরা এখনকার নারীদের মতই হয়ে গিয়েছিল। তাহলে দেখা যাচ্ছে বিবর্তনের ধারায় সভ্যতার পথে নারীরা এগিয়ে ছিল। নারীরা যখন পশু থেকে মানুষ হয়েছে, পুরুষরা তখনও পশু ছিল। এটা এখনও লক্ষ্য করা যায়, সমবয়সী ছেলে ও মেয়ের মাঝে মেয়েটির শরীর ছেলেটির শরীরের আগে বয়োপ্রাপ্তির পথে যায়। সমবয়সী একটি ছেলের আগে একটি মেয়ের মানসিকতার বিকাশ ঘটে। তারপর একসময় থেমে যায়। ছেলেটির দেরীতে আরম্ভ হয়, দেরীতেও শেষ হয়; মানে উভয়ই নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত চলে।



জেনেটিক থেকে এখন আমরা সমাজ বিজ্ঞানের দিকে আসি। এখানকার আলোচনা উপরের আলোচনার আঙ্গিকে আমার নিজস্ব ধ্যান-ধারণাকে রিপ্রেজেন্ট করবে।



জেনেটিক্যালি আমরা দেখেছি নারী পুরুষের চেয়ে আগে সভ্য হয়েছে। সামাজিক জীবনেও কিন্তু তারা পুরুষের আগেই আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। কিভাবে? সভ্যতার মূল ভিত্তি হল কৃষি। আর তার পত্তন নারীর হাতেই। পুরুষরা তখনও বন্য-শিকারী। অস্ত্র হাতে দল বেঁধে শিকার করত। নারীরা শিকারে যেত না, তারা ফলমূল, লতাপাতা সংগ্রহের কাজে থাকত। হ্যাঁ কন্ডিশনালী উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে, শিকারেও নারী সাহায্য করেছে, ফলমূল সংগ্রহে বা আবাসের কাজে পুরুষও সাহায্য করেছে। কিন্তু মোস্ট কমন কাজ ছিল পুরুষদের জন্য শিকার। নারীদের জন্য গৃহস্থালি। এখনও আফ্রিকার অরণ্যে বসবাসরত আদিবাসীদের জীবন ধারায় এমনটাই লক্ষ্য করা যায়। যারা ডক্যুমেন্টারী দেখেছেন তাদের নিশ্চই ধারণা আছে এ ব্যাপারে। পুরুষরা শিকার করে, আক্রমনকারী পশু বা অন্যদলের কাছ থেকে নিজেদের রক্ষা করে- যুদ্ধ করে। এভাবেই পুরুষরা যখন বাইরে শিকারে অথবা যুদ্ধে ব্যস্ত নারী দেখেছে খাবারের উচ্ছিষ্ট থেকে নতন ফসল ফলছে। তখন সেটাকে তারা এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকল পরিচর্যা করে, কষ্ট করে গহীন অরণ্য থেকে ফলমূল আনার বদলে তারা আবাসের পাশেই ফলমূল পেতে থাকল। এমনকি পুরুষরা শিকার করে যেসব প্রাণী ধরে আনত, সেই প্রাণীদের মাঝে হিংস্র নয় এমন প্রাণীও ছিল। যেমন বন্য গরু-ছাগল জাতীয় অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণী। আমরা আমাদের বাংলাদেশী গ্রামীন সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখব যে গোবাদি পশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে নারীরাও ভূমিকা রাখেন। মাঠে ঘাস খাওয়ানো ছাড়া ঘরের বেশিরভাগ কাজই কৃষক ও গৃহস্থ বাড়িতে নারীকে করতে দেখেছি। গরুঘর পরিস্কার করা, গরুকে ভাতের মাড়-কুড়া খাওয়ানো ইত্যাদি কাজ নারীরাই করেন। ঠিক এভাবেই আমাদের প্রাচীন মাতারাও পশু পালন ও পরিচর্যার গোড়া পত্তন করেছিলেন। এটুকু আমরা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি।



তাই দেখা যাচ্ছে সভ্যতার পথে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিক নারীরাই শুরু করেছেন। পুরুষরা যখন সহিংস পথে, তখন তারা অহিংস পথের সন্ধানে ছিলেন। এই উভয় পথের মূলেই কিন্তু আমরা পাব কোমলতা ও অহিংসার চিন্তা-চেতনা। ফসলের পরিচর্যায়ও মমতা লাগে, শ্রম লাগে। যেন তেন করলে ফসল হয়তো ফলে কিন্তু ভাল ফলে না। তেমনি পশু পালনেও মমতা লাগে। আর আমি বাস্তবে অনেক নারীর সাথেই কথা বলে দেখেছি, তারা নিজেরা মাংস খান ঠিক আছে, কিন্তু চোখের সামনে পশু হত্যা সহ্য করতে পারেন না। আমরা ধরে নিতেই পারি আমাদের আদি মাতাদের মাঝেও ঠিক এমন চেতনা ছিল। আর এই চেতনাগুলোই আজ আমাদেরকে সভ্য করেছে। যাযাবর পশু-শিকারি মানুষ বসত গড়েছে। কৃষি কাজে লেগেছে। গ্রাম হয়েছে। নগর হয়েছে। দেশ হয়েছে।



সভ্যাতার দৌঁড়ে নারীরা যখন সভ্যতার গোড়া পত্তনে, তখন পুরুষও কিন্তু ভূমিকা রেখেছে। শিকার করে আমিষের চাহিদা মিটিয়েছে। বন্য প্রাণীর হাত থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। শত্রুদলের হাত থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। আদিবাসী জীবন ধারায় বিভিন্ন অঞ্চলে এটা খুব সাধারণ ছিল যে একদল আরেকদলকে আক্রমন করত। নারীদের ধরে নিয়ে যেত। পুরুষদের হত্যা করে যেত। পুরুষরাও এসব মাথায় রেখেই বর্তমান সমাজ ধারার পথে এগিয়ে গেল। যুদ্ধের প্রয়োজনে অস্ত্র বানানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। অস্ত্র শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। দলবেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল। শুধু তাই নয় বৃহত সুরক্ষার জন্য রাজনীতিরও প্রয়োজন অনুভব করল। এক দলের সাথে অন্যদলের সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজন অনুভব করল। যার মধ্যে ছিল পরস্পরের মাঝে উপহার আদান-প্রদান, বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন। পুরুষ এভাবেই চলার পথে নিজেদের মধ্যে আইন-কানুন ও প্রথার সৃষ্টি করল। শিকার জীবন থেকে পিছিয়ে পড়া নারী মহান দুটি ধারার সূচনা করলেও তারা ঘরেই রয়ে গেল। পুরুষ তখন বাইরের দিকেই আধিপত্য গড়তে থাকল। আর সেই আধিপত্যের মনোভাব এখনও পুরুষদের মাঝে চলমান। সবচেয়ে হাস্যকর বিষয়, আমি যখন কথায় কথায় বলছিলাম- নারীরা পুরুষদের চেয়ে আগে সভ্য হয়েছে, তখন কিছু পুরুষের রিএকশন ছিল- “এটা কি বলেন? তাহলে এটা আর কাউকে বলা যাবে না। ইজ্জতের প্রশ্ন মিয়া”। বিবর্তনের ধারায় হাজার বছরের আধিপত্য মানসিকতাকে কত বদলে দিয়েছে। অথচ না এই প্রসঙ্গ কোন লজ্জার, না কোন গৌরবের। না বিবর্তনের ধারায় কারও নিজের হাত আছে। বিবর্তন এখনও চলে, সময়ের সাথে সাথে আমাদের অনেক ফিজিক্যাল পরিবর্তন আসছে। ট্রান্সজেন্ডার সমস্যা হচ্ছে- কেউ ছেলে না মেয়ে বুঝার উপায় নেই, কেউ ছেলে হয়েও মেয়ে, কেউ মেয়ে হয়েও ছেলে। আমরা লম্বাকৃতি থেকে খর্ব হচ্ছি। আমাদের চুল আগে পাকছে। দাঁত আগে পড়ছে। চোখের দৃষ্টি কমছে। এভাবে সবগুলো পরিবর্তন বা রোগ বংশগত না হলেও অনেকগুলো বংশগত হয়ে পড়ছে। যদিও এটাকে ঠিক সেই বিবর্তনের কাতারে ফেলা যায় না। আমি মাত্র হালকা উদাহরণ দিলাম। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, তাই আগে থেকেই বলে নেই সেই বিবর্তনে লেগেছে লক্ষ লক্ষ বছর, পৃথিবীর জলবায়ুও অনেক বিষমভাবাপন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এসেছে। যা এখন স্ট্যাবল আছে বলা যায়। তাই আমরাও স্ট্যাবল আছি। তবে ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে চারপাশে তাকালে এখনও আমরা দেখতে পাব, আমাদের মাঝে অনেক অনেক পরিবর্তন রয়ে গেছে। আমরা সবাই ভেতরে-বাইরে সদৃশ নই।



এ বিষয়ে পরবর্তিতে কোন পর্ব লেখলে সেখানে বিবর্তনের ধারায় মানুষের জীবনে পোশাকের প্রভাব ও ধর্মবিশ্বাসের কথা লেখার চেষ্টা করব। আজ এদিকটাই থাক।



শেষ করার আগে, মানব প্রজাতির মধ্যে একমাত্র হোমো স্যাপিয়েন্সই বেঁচে আছে। এই প্রজাতি ছাড়াও আরও অনেক প্রজাতি ছিল। যাদের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। কঙ্কাল পাওয়া গেছে। তাদের বেঁচে থাকার সময়কালও নির্ধারণ হয়েছে। এমনকি দুই প্রজাতির একসাথে অবস্থানেরও বিষয়টি পাওয়া গেছে। যেমন, হোমো স্যাপিয়েন্স ও হোমো নিয়ান্ডার্থাল প্রজাতির একসাথে অবস্থানের প্রমান পাওয়া গেছে। কিন্তু অজানা কারণে তারা হারিয়ে গেছে। হতে পারে হোমো স্যাপ্যিয়েন্সদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি; অথবা কোন প্রাকৃতিক কারণ। অনেকে মনে করেন, বিভিন্ন প্রজাতির মানবদের মাঝেও ইন্টারসেক্স হয়েছিল। হয়তো হয়েছিল, কিন্তু তার কোন প্রমান এখনও মেলেনি। এ ব্যাপারে ডিএনএ জরীপ চালানো হয়েছিল সম্ভাব্য এলাকায়, নিয়ানডার্থাল ও স্যাপিয়েন্সদের মাঝে কোন আন্ত-যোগাযোগ ছিল কি না দেখতে, কিন্তু কোন ক্লু পাওয়া যায়নি। নিয়ানডার্থাল পুরুষের চেহারা কদাকার ছিল, তাই স্যাপিয়েন্স নারীর পছন্দ না হবারই কথা। ঠিক এমনই ভাবে বিপরীতেও হয়েছে হয়তো, স্যাপিয়েন্স পুরুষ সুদর্শন হলেও, নিয়ানডার্থাল নারী কুরূপা ছিল। অথবা ইন্টারসেক্স-জেনারেশনের অভিযোজন ক্ষমতা ছিল না যে পরবর্তি প্রাকৃতিক দূর্যোগের চড়াই-উতরাই পার হবে। কারণ একমাত্র বিশুদ্ধ স্যাপিয়েন্সরাই বেঁচে আছে। অন্যদিকে চায়নিজরা নিজেদের আলাদা জেনারেশন মনে করে, তারা নিজেদের হোমো ইরেক্টাস মনে করে, সেখানে পাঠ্য বইয়ে তাই পড়ানো হয়। এ নিয়ে বিতর্ক আছে, গবেষণায় দেখা গেছে, বাহ্যিক ব্যবধান থাকলেও এরাও হোমো স্যাপিয়েন্স। প্রাপ্ত জীবাশ্ম ও কঙ্কালের উপর ভিত্তি করে স্পেশ্যালিস্ট চিত্রকরের আঁকা কিছু ছবি দিচ্ছে, ছবিগুলো নেট থেকে নিয়েছি।



null

প্রাপ্ত কঙ্কাল থেকে স্পেশ্যালিস্ট চিত্রকরের আঁকা (হব্বিট বা হোমো ফ্লোরেসিয়েনসিস)



null

হোমো নিয়ানডার্থাল



null

হোমো হাইডেলবারজেন্সিস



null

Homo erectus



null

Homo ergaster



null

Homo rudolfensis



null

Homo sapiens



কৃতজ্ঞতা: মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ ও ক্রোমোসোমাল এডাম বিষয়ে সরবরাহকৃত লিংক ছাড়াও তথ্য পেয়েছি ব্লগার বেলের কাঁটা, যুদ্ধদেব, হোরাসঋণগ্রস্থের আলোচনা থেকে। আর এই বিষয়ে আমার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ধন্যবাদ জানাই তথ্যপথের পিপাসু ব্লগার রাতের আকাশকে, ইউটিউব লিংক ও জেনোগ্রাফিক প্রজেক্টের লিংক তিনিই আমাকে পাঠিয়েছিলেন।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ব্যাপক পোস্ট

____________________________________________
- ১৭:৭


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@অরণ্য আনাম, ধন্যবাদ আপনাকে। (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই পোষ্ট কি সাইদ মিয়ার সম্মানে দিলেন নাকি? তার পশুর মত কামড়াকামড়ি মনে হয় এইভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়।



ঘটনা সত্য বলেই জানি। তবে বিবর্তনের আরো প্রাথমিক ধারায় নারী পুরুষ কিভাবে ভাগ হইল এই নিয়া আরো জানার ইচ্ছা আছে।



লেখা ব্যাপক হইছে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আদিল মাহমুদ, আরে না, আমার কি এত খাইয়া দাইয়া কাম নাই সাইদরে এত দাম দিতে যাব। এই ব্যাপারে লেখার ইচ্ছা আরও অনেক আগে থেকে। সাইদের ঘটনা তো রিসেন্ট।



হাসির একটা কথা মনে হয়েছে, জাপানী এক কুত্তা নিয়ে লেখতে চেয়েছিলাম। লেখব লেখব করে মনস্থ করলাম, তার মাঝে জাপানে সুনামী। পরে ঐ লেখা আজ পর্যন্ত লেখি নাই। অচিরে লেখব বলে আশা রাখি।



হ্যাঁ, অনেক প্রশ্ন আমারও আছে। নারী পুরুষ কেমনে হল, এটাও একটা প্রশ্ন। তবে এ ব্যাপারে আমার ধারণা, কোন এক সময়ে উভলিঙ্গ ছিল। এই যেমন উভলিঙ্গ উদ্ভিদের মত। পরবর্তিতে পরিবর্তিত হয়ে আলাদা হয়েছে। আর তা এত এত আগে যে ট্রেস করা যাবে না। Laughing out loud


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আদিল মাহমুদ, আরে না, আমার কি এত খাইয়া দাইয়া কাম নাই সাইদরে এত দাম দিতে যাব। এই ব্যাপারে লেখার ইচ্ছা আরও অনেক আগে থেকে। সাইদের ঘটনা তো রিসেন্ট।



আশ্চর্যের একটা কথা মনে হয়েছে, জাপানী এক কুত্তা নিয়ে লেখতে চেয়েছিলাম। লেখব লেখব করে মনস্থ করলাম, তার মাঝে জাপানে সুনামী। পরে ঐ লেখা আজ পর্যন্ত লেখি নাই। অচিরে লেখব বলে আশা রাখি।



হ্যাঁ, অনেক প্রশ্ন আমারও আছে। নারী পুরুষ কেমনে হল, এটাও একটা প্রশ্ন। তবে এ ব্যাপারে আমার ধারণা, কোন এক সময়ে উভলিঙ্গ ছিল। এই যেমন উভলিঙ্গ উদ্ভিদের মত। পরবর্তিতে পরিবর্তিত হয়ে আলাদা হয়েছে। আর তা এত এত আগে যে ট্রেস করা যাবে না। Laughing out loud


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@শর্মা-ই-আযম,



ব্যাপারটা মোটামুটি মনে হয় তেমনই। প্রাথমিক পর্যায়ে খুব সম্ভবত উভলিংগই ছিল, বিবর্তনের কোন এক পর্যায়ে লিংগ ভাগ হয়। ২ লিংগের বাইরেও হয়ত লিংগ ছিল।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক কিছু জানতে পারলাম (*) smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আপনাদের সবায়কে ভালোবাসি= ইমরান হক সজীব, নামটা আরও লম্বা করতে পারলে আরও সুন্দর লাগত। Laughing out loud



ধন্যবাদ আপনাকে। (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জীবনের সব গান হবে না গাওয়া

যদি না সেখানে থাকে

নারী পুরুষের মিলিত ছোয়া।




এইখানেও নারী এগিয়ে - Laughing out loud পোষ্ট ভাল হয়েছে - (Y) (Y)

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@পাভেল চৌধুরী, Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud



পুরুষেরা বুদ্ধি আর রাজনীতিতে এগিয়ে। না হলে নারীকে টেক ওভার করতে পারত না। :] :]


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোস্ট ভাল লাগছে। আপনাকে ধন্যবাদ। (Y)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@(সিসিফাস), আপনাকেও ধন্যবাদ। (F) (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

(Y) (Y) (Y) (Y) (Y)

............................................................................................................
ভালোবাসা মানে আগাম চলার সুর,ভালোবাসা মানে অবিরাম চলাবসা


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@রাতের আকাশ, (F) (F) (F) (F) (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সভ্য হওয়া মানে কি? সভ্য-অসভ্যের সঙ্গা তো দিন বদলানোর মতই বলে যায় ... ডারউইন তত্বে বিশ্বাসীদের জন্যে এটা একটি উপাদেয় পোষ্ট। (Y)

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বহতা নদীর মতো বয়ে চলে সময়, সাথে চলে জীবন নামের তরী, কখন ডুবে যাবে, কে জানে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@মাধুকরী, সভ্য হওয়া বলতে আপনি যা বুঝেন সেটাই হচ্ছে সভ্য হওয়া। smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই রকম গবেষনামূলক টাইপ পোস্ট ব্লগে আরো বেশি বেশি আশা করি। লেখা ভালো হয়েছে।

চলুক

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@উদাসী পথিক, অনেক অনেক ধন্যবাদ। (F) (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

(Y) (Y) (Y) (Y) (Y) (Y)

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@অনিমেষ রহমান, (F) (F) (F) (F) (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পুষ্ট ভালো পাইলাম। আর এতদিন পর কনফার্ম হইলাম ডাঃ আইজু ছবি আসলেই অর্জিনাল। উনি মনে লয় হোমো ফ্লোরেসিয়েনসিস শেষ প্রতিনিধি! Laughing out loud

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
-- --


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@পথেরহাট, ডাক্তার সাবকে জিজ্ঞেস করলে উনি নিশ্চই কোন সদুত্তর দিতে পারবেন। Laughing out loud Laughing out loud


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ব্যাপক তথ্যবহুল পোস্ট ।এরকম আপনার কাছ থেকে পেয়ে থাকি। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ভাল থাকবেন। (F) (F) (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@দুষ্টমন, আপনাকেও ধন্যবাদ। (F) (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাইটোকন্ড্রিয়াল ইভের সমসাময়িক পুরুষেরা যে বিবর্তনের ধারায় নারীদের তূলনায় পিছিয়ে ছিলো ৫০-৮০ হাজার বছর, এটা একটা ভ্রান্ত ধারনা। তাদের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য ছিলোনা। শারীরিক কিছু বৈশিষ্টগত পার্থক্য থাকবেই, যেমন সিংহের কেশর থাকে, ময়ুরের পেখম থাকে, তেমনি পুরুষ মানুষের ও দেহে অপেক্ষাকৃত বেশী লোমশ থাকে। কিন্তু সেই জন্য কোনভাবেই তাদের নারীদের অপেক্ষা বেশী শিম্পাঞ্জীর কাছাকাছি ছিলো বলা যাবেনা। Tongue



আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে যে মেয়েদের মানসিক বিকাশ ছেলেদের আগে ঘটে বলে একটা ধারনা প্রচলিত আছে। এটা আসলে পুরোপুরি সঠিক না। আসল কাহিনী হচ্ছে মেয়েদের এবং ছেলেদের মস্তিস্কের বিকাশ একই ভাবে বা একই লাইনে হয়না। মেয়েদের ভাষা, সুক্ষ্মতর কাজ এবং অন্যদের চেহারা এবং ভাব ভঙ্গী দেখে আবেগ এবং প্রবনতা বুঝতে পারার অংশ আগে বৃদ্ধি পেয়ে বিকশিত হয়, আর ছেলেদের এই সময়ে বাড়ে Spatial Awareness, লক্ষ্য (টার্গেট) খেয়াল করা ও নজরে রাখা, হ্যান্ড আই কো অর্ডিনেশন এবং গানিতিক এবং জ্যামিতিক হিসাবের অংশগুলো। তাই দেখবেন যে এই সময়টাতে মেয়েদের গনিত এবং বিশেষ করে জ্যামিতিতে সমস্যা হলেও ছেলেদের হয় চারু, কলা এবং ভাষা বিষয় গুলোতে। এইজন্যে সাধারন চোখে বর্তমানে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় যে মেয়েরা আগে মানসিক পূর্নতা পায় কিন্তু গনিত এবং যুক্তিতে দূর্বল থাকে, এটা শ্রেফ আমাদের বুঝার ভুল।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নাস্তিকদের দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হোক, যেন তারা ঈদের সেমাই না খেতে পারে। ( রাইট টু কপিঃ ডঃ আইজুদ্দিন)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@যুদ্ধদেব, হয়তো আর কাছাকাছি লাগিয়ে বলেছি, মানে হাইপোথিসিসের সাথে আমার ধারণা জুড়ে দিয়েছি।



ঈভ আর এডামের বয়সের পার্থক্য তো নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তথ্য পেলাম। তাই ধারণা করা যেতে পারে যে পার্থক্য ছিল। যদিও নারী-পুরুষে এমনিতেই পার্থক্য আছে। আর যদি পঞ্চাশ থেকে আশি হাজার বছর পার্থক্য আসলেই থেকে থাকে, তাহলে মনে হয় মূল নারী-পুরুষের পার্থক্যের চেয়েও বেশি কিছু পার্থক্য ছিল। এ ব্যাপারে আপনিই ভাল জানবেন, কারণ আমি তথ্যসীত্র আপনাদের আলোচনা থেকেও পেয়েছিলাম। আমি তথ্যের সাথে আমার ধারণা যোগ করেছি মাত্র।



শারীরিক বৃদ্ধিতে সমবয়সী ছেলে ও মেয়ের মাঝে পার্থক্য নজরে পড়ে, এটা থেকেই এই ধারণার জন্মেছে। তবে বাস্তবে মানসিক দিক থেকেও পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। তবে আমিও মনে করছি, এসব আপেক্ষিকই হবে যেহেতু দুইটি দুই ধারায় হচ্ছে। কিন্তু আরেকটি ব্যাপার জীববিজ্ঞান না কোন এক বইয়ে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনের তালিকা ছিল সেখানে কিন্তু ছেলে মেয়ে উভয়ের বয়সের পার্থক্য ছিল।



আপনার কাছ থেকে আরও বিস্তারিত আশা করছি। তাতে পোস্ট আরও সমৃদ্ধ হবে। (F) (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@যুদ্ধদেব, আদিল মাহমুদ জানতে চেয়েছিলেন-





তবে বিবর্তনের আরো প্রাথমিক ধারায় নারী পুরুষ কিভাবে ভাগ হইল এই নিয়া আরো জানার ইচ্ছা আছে।




এ ব্যাপারে আমার ধারণার কথা বলেছিলাম-





নারী পুরুষ কেমনে হল, এটাও একটা প্রশ্ন। তবে এ ব্যাপারে আমার ধারণা, কোন এক সময়ে উভলিঙ্গ ছিল। এই যেমন উভলিঙ্গ উদ্ভিদের মত। পরবর্তিতে পরিবর্তিত হয়ে আলাদা হয়েছে।






এ ব্যাপারে আপনার কোন ধারণা বা গবেষণালব্ধ কোন তথ্য আছে কি? জানালে কৌতূহল নিবৃতির পথে পাথেয় হয়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@শর্মা-ই-আযম, ইভ আর অ্যাডামের বয়সের পার্থক্যের সাথে আসলে বিবর্তনীয় ধারায় পার্থক্যের কোন কথা বলা হয়নি। ইভ এর সময়েও অন্য নারী ছিলো, কিন্তু তাদের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ এর লিনিয়েজ এখন আর পাওয়া যায়না, তাই তাকে বলা হয় ম্যাট্রিলিনিয়াল মোস্ট রিসেন্ট কমন এনসেস্টর (M MRCA)। একই ঘটনা পাওয়া যায় যে একজন পুরুষের ওয়াই ক্রোমজম ই বর্তমানে সবার মাঝে পাওয়া যায়, তাই তাকে বলায় হয় ওয়াই ক্রোমজমাল মোস্ট রিসেন্ট কমন এনসেস্টর (Y MRCA). এর মানে এই না যে ইভের সমকক্ষ হতে মানব পুরুষের এতো হাজার বছর দেরী হয়েছে। ইভের আমলে যেই পুরুষরা ছিলো, তাদের একজনের বংশধরের কোন এক উত্তর পুরুষ ই হচ্ছে এই অ্যাডাম। সেই অ্যাডামের ওয়াই ক্রোমজম ই আমরা পুরুষেরা বয়ে বেড়াচ্ছি। এই অ্যাডাম ইভের নাম করনের সাথে রূপকথার অ্যাডাম ইভের সমসাময়িকতা এবং সমকক্ষতা আউলিয়ে ফেললে বেশ ঝামেলা হবে। Tongue



আর মেয়েদের শারিরিক পূর্নতা আগে আসার কারন হচ্ছে প্রজনন এবং গর্ভধারন বেশ সময়সাধ্য ব্যাপার মানুষের বিশেষ করে নারীদের জন্য। একবার গর্ভধারন, বাচ্চা প্রসব এবং পুনরায় গর্ভধারনের মধ্যবর্তী সময় অনেক বড়। অর্থাৎ মেয়েদের লং টার্মে ইনভেস্ট করতে হয়। অন্য দিকে ছেলেরা শুধু কম্মো করেই খালাস! তাও আবার একই সাথে একাধিক নারীকে গর্ভ ধারন করাতে সক্ষম :"> Wink তাই ছেলেদের পরে পরিপক্কতা আসলেও সেটা আগে পরিনত মেয়েদের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখে। তাই মেয়েদের পিউবার্টি আগে হয়, আর ছেলেদের পরে।



আশা করি কিছুটা বুঝাতে পেরেছি। Tongue

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নাস্তিকদের দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হোক, যেন তারা ঈদের সেমাই না খেতে পারে। ( রাইট টু কপিঃ ডঃ আইজুদ্দিন)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@যুদ্ধদেব, (Y) (Y) (Y)

............................................................................................................
ভালোবাসা মানে আগাম চলার সুর,ভালোবাসা মানে অবিরাম চলাবসা


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@যুদ্ধদেব, (Y) (Y) (Y)



হো ছেলে মেয়েদের শারীরিক গঠনের ব্যাপারটা সবচেয়ে ভাল বুঝেছি। আসল জিনিস দিয়া তো বুঝাইছেন। Tongue Tongue তবে আগের ব্যাপারটা হাইপোথিসিস হিসেবেই মনে হচ্ছে, কিন্তু আপনার তথ্যে ভাবনার জগতের উপকার হবে আমার।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@যুদ্ধদেব, (Y) (Y) (Y) (Y)



মাষ্টার মশাইরে ধইন্যা

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@যুদ্ধদেব, (Y) (Y) (Y)



হ্যাঁ ছেলে মেয়েদের শারীরিক গঠনের ব্যাপারটা সবচেয়ে ভাল বুঝেছি। আসল জিনিস দিয়া তো বুঝাইছেন। Laughing out loud Laughing out loud বর্তমান স্থবির সময়ে যে এই পার্থক্য আসে, এই যেমন প্রস্তুতিমূলক শারীরিক-মানসিক পার্থক্য। আপনি কি মনে করেন না সেই সময়ে তা আরও প্রকট ছিল দুটি অংশের মাঝেই। তা যেভাবেই হোক। বর্তমান স্থবির সময়ে যদি এই প্রস্তুতি আসে, তাহলে তখনকার চলমান বিবর্তনে সেই প্রস্তুতি নিশ্চই অনেকটা এম্পলিফাইড ছিল। তাছাড়া সেই সময়কার আরও মনুষ্য প্রজাতির উপস্থিতি এটাই তো প্রমান দেয় তখন বিবর্তনের ধারা ফুল ভলিউমে চলছিল যা অপেক্ষাকৃত বর্তমান সময়ে স্থির ও অপেক্ষাকৃত ধ্রুব হয়েছে। এ ব্যাপারে আমার ধারণা এটাই যে দুটি অংশের মাঝেই পার্থক্য ছিল। আর আমার ধারণা বয়সের পার্থক্যের সাথেও এর কারণ নিহিত। তবে এসব ব্যাপারকে তো হাইপোথিসিস হিসেবে মানা হয়, সেটার সাথে আমার নিজের ধারণাও জুড়ে দিলাম।



ও হ্যাঁ, ভাববেন না যে আমি কথা টেনে লম্বা করছি। আমি কিন্তু এ দিকটায় আলোচনার আগেই বলে দিয়েছিলাম আমার নিজস্ব ধারণার কথা থাকবে। তাই আপনার সাথে তা শেয়ার করে নিচ্ছি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@শর্মা-ই-আযম, বর্তমানেও যে স্থবির তা কিন্তু না। প্রয়োজনে অনেক ক্ষুদ্র পরিবর্তন কিন্তু হচ্ছে। হান্টার গ্যাদারার দের সময়ে, কৃষি এবং গবাদী পালনের আগে মানুষের গবাদী দুধ হজমের ক্ষমতা ছিলোনা। আস্তে আস্তে সেটা আসে। খুব বেশী আগের কথা না। তবে যে কোন প্রানীর ক্ষেত্রেই যখন সে একটা পার্ফেক্ট নীশ খুজে পায়, বা ফুড চেইনের শীর্ষে থাকে, তার বিবর্তন ও প্রায় থমকে যায়। তার ফলে দেখবেন যে হাঙ্গর, কুমীর এবং তেলাপোকা সহ অনেক কিছুই কিন্তু বহু আগে থেকে প্রায় অপরিবর্তীত আছে। কারন তাদের আর প্রয়োজন পরেনি পরিবর্তিত হওয়ার।



আর আগে থেকে এই শারীরিক-মানসিক বৃদ্ধির ব্যাপারটা চলে আসলেও এখনো কিন্তু কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। একটা ব্যাপার খেয়াল করবেন হয়তো যে এখন কার বাচ্চাদের মধ্যে চশমা নেয়ার হার অনেক বাড়ছে। এর সম্ভাব্য কারন হতে পারে যে আমাদের দূরে দেখার প্রয়োজন এবং প্রবনতা কমছে। সবাই চার দেয়ালের মধ্যে, টিভি, বই অথবা মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকে। এক সময় দেখা যাবে সকল শিশু দূরের কিছু দেখতে পাচ্ছেনা কোন যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া। এগুলোও কিন্তু বিবর্তনের মধ্যে পড়ে।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নাস্তিকদের দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হোক, যেন তারা ঈদের সেমাই না খেতে পারে। ( রাইট টু কপিঃ ডঃ আইজুদ্দিন)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@যুদ্ধদেব, এমন বিবর্তন আমিও ধারণা করেছিলাম।



ট্রান্সজেন্ডার সমস্যা হচ্ছে- কেউ ছেলে না মেয়ে বুঝার উপায় নেই, কেউ ছেলে হয়েও মেয়ে, কেউ মেয়ে হয়েও ছেলে। আমরা লম্বাকৃতি থেকে খর্ব হচ্ছি। আমাদের চুল আগে পাকছে। দাঁত আগে পড়ছে। চোখের দৃষ্টি কমছে।



তবে এখন শ্লথ হয়ে আছে। জলবায়ু সমভাবাপন্ন আছে। বিষমভাবাপন্ন হতে থাকলে আরও বিষম পরিবর্তন আসবে বলে মনে করি।



চোখে চশমা ব্যবহারের কথাটা কিন্তু খুব সুন্দর একটি উদাহরণ। এই দিক নিয়ে আমিও এভাবে ভাবিনি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মোসাদীয় বিজ্ঞানী এইরা!! মাইনাছ! খাইদাই আর কাম নাই!! ডিম আগে না মুরগী আগে সেইটা নিয়া ফাল্পাড়ে!

_____________
"আমরা সবাই নিজেকে নিয়েই ভাবি। কিন্তু এই এক একটি জীবন নিয়েই আমাদের এই গোটা পৃথিবী। যেমন কিনা, ছোট ছোট বালি কণা বিন্দু বিন্দু জ্বল, গড়ে তোলে মহাদেশ.. সাগর অতল।
তাই.. অপরের জন্যও ভাবুন। ভালোবাসতে শিখুন শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য।" ..


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@দ্যা রক, আপনার কমেন্ট দিয়ে কি বুঝিয়েছেন ?মাইনাচ কেন ?

............................................................................................................
ভালোবাসা মানে আগাম চলার সুর,ভালোবাসা মানে অবিরাম চলাবসা


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@দ্যা রক, দুনিয়ার সব বিজ্ঞানীগো খালি মোসাদই রিক্রুট করে? আর কেউ করেনা? Wink >:) >:) >:)

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নাস্তিকদের দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হোক, যেন তারা ঈদের সেমাই না খেতে পারে। ( রাইট টু কপিঃ ডঃ আইজুদ্দিন)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@দ্যা রক, ইজরাইলি ডলারের চালানটা আইতে কেন যে দেরী হইতাছে বুঝবার পারলাম না। Sad


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@দ্যা রক, (Y)



ব্যাটার নাম আবার সজল শর্মা, বুঝতে আর কিছু বাকি থাকে? আমি তারে একটু খেলাচ্ছিলাম। এদের মুখোশ খুলে দিতে হবে, স্ক্রীন শট নেওয়া হচ্ছে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@দ্যা রক, বলেন তো যারা ঐশী কেতাবে বিজ্ঞান খোঁজে, তারা কিসের বিজ্ঞানী? smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আদিল মাহমুদ, :] :] :] :]

_____________
"আমরা সবাই নিজেকে নিয়েই ভাবি। কিন্তু এই এক একটি জীবন নিয়েই আমাদের এই গোটা পৃথিবী। যেমন কিনা, ছোট ছোট বালি কণা বিন্দু বিন্দু জ্বল, গড়ে তোলে মহাদেশ.. সাগর অতল।
তাই.. অপরের জন্যও ভাবুন। ভালোবাসতে শিখুন শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য।" ..


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আদিল মাহমুদ, আপনার অমৃত বচনে বতস তো যারপরনাই খুশী হইয়াছে। Laughing out loud Laughing out loud


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রিয়তে নিলাম। আপাতত গ্যালারীতে বইলাম।

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@বেলের কাঁটা.., গ্যালারীতে বইলে শুধু কাম চলবে না। আপনার নিজস্ব হাইপোথিসিস শেয়ার করেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দারুন তো অনেক লেখা সময় নিয়ে পড়তে হবে ধন্যবাদ


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@শাহীনুর আ. নাছিম, অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ব্যাপক উৎসাহ নিয়া পোষ্টে ঢুকসিলাম, সাইজ দেইখা মন খারাপ হইলো Sad

_________________________________________________________________________________

সিগনেচার নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@মৌচাকে ঢিল (এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি ফেল), সাইজ কি ছোট হয়ে গেছে? ছোট হলে বড় করে দিতে পারব। কিন্তু বড় হলে ছোট করতে পারব না। Laughing out loud Laughing out loud



অনেক ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারণ! ব্যাক্তিগতভাবে বিবর্তনের ধারাটা জানতে সবসময়ই আগ্রহী। একবার পড়ে ভালভাবে বুঝিনি, আবার পড়বো। এবিষয়ে আরও পোস্ট আশাকরি। নিচের লিংক দুটি দেখতে পারেন। ধন্যবাদ।



------------------------------------------------------------------------
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ভীরুমন, অনেক অনেক ধন্যবাদ। লিংকের জন্য কৃতজ্ঞতা। (F) (F) (F) (F) (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@শর্মা-ই-আযম, ধন্যবাদ, নিচেরটা দয়াকরে মুছে দিন।

------------------------------------------------------------------------
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

http://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-2002684/Were-getting-smaller-brains-shrinking--farming-blame.html



http://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-2004705/Interbreeding-Neanderthals-helped-protect-modern-man-diseases-suggests-new-research.html

------------------------------------------------------------------------
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ভীরুমন, লিংকের জন্য ধন্যবাদ। (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

http://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-2002684/Were-getting-smaller-brains-shrinking--farming-blame.html

------------------------------------------------------------------------
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন।"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ প্রজন্মের পরে প্রজন্ম অবিকৃত অবস্থায় থাকে




তাহলে তো এখন পৃথিবীতে বসবাসকারী সকল নারী ও পুরুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ আইডেন্টিকাল হওয়া উচিৎ। নয় কী? আসলেই কি আইডেন্টিকাল?



অনুরুপভাবে সকল বানর ও মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ আইডেন্টিকাল হওয়া উচিৎ , কারন বলা হয়ে থাকে বিবর্তনের ধারায় মানুষ ও বানরের উদ্ভব হয়েছে কমন এন্সেস্টর থেকে। এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত?

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
৫৪:১৭ আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক,





মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেঃ



Mitochondrial Eve





The variation of mitochondrial DNA between different people can be used to estimate the time back to a common ancestor, such as Mitochondrial Eve. This works because, along any particular line of descent, mitochondrial DNA accumulates mutations at the rate of approximately one every 3,500 years.[7][8][9] A certain number of these new variants will survive into modern times and be identifiable as distinct lineages. At the same time some branches, including even very old ones, come to an end, when the last family in a distinct branch has no daughters.



Mitochondrial Eve is the most recent common matrilineal ancestor for all modern humans. Whenever one of the two most ancient branch lines dies out, the MRCA will move to a more recent female ancestor, always the most recent mother to have more than one daughter with living maternal line descendants alive today. The number of mutations that can be found distinguishing modern people is determined by two criteria: firstly and most obviously, the time back to her, but secondly and less obviously by the varying rates at which new branches have come into existence and old branches have become extinct. By looking at the number of mutations which have been accumulated in different branches of this family tree, and looking at which geographical regions have the widest range of least related branches, the region where Eve lived can be proposed.


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক, ৩৫০০ বছরের অনুপাতে মিউটেশন ঘটে থাকে। এত বছরের ব্যবধানে বেশ কয়েক প্রজন্ম অবিকৃত অবস্থায় চলতে যায়। মিউটেশন অংশ ছাড়া অবিকৃত অবস্থায়ই থাকে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ। আর এই মিউটেশন স্বাভাবিক স্থানান্তরের সাথেও পড়ে না। তাছাড়া মিউটেশন অংশ চিহ্নিত করা যায় বলেও তথ্য বলছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক, আপনি জানতে চেয়েছেন, তাই বিস্তারিতভাবে আমার জানামতে যা আছে তা আপনাকে জানানো দরকার। দুঃখিত এটা আগেই দিয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু অন্যদিকে ব্যস্ত থাকায়আলাদা আলাদা করে অনেকগুলো জড় হয়ে গিয়েছিল।





অনুরুপভাবে সকল বানর ও মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ আইডেন্টিকাল হওয়া উচিৎ , কারন বলা হয়ে থাকে বিবর্তনের ধারায় মানুষ ও বানরের উদ্ভব হয়েছে কমন এন্সেস্টর থেকে। এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত?








মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ পর্যন্ত সময়কাল ২ লক্ষ বছর হিসেবে সর্বোচ্ছ পর্যায়ে ধরা হয়। এটাকে বিবর্তনের ইতিহাসে তুলনামূলক আধুনিক পর্যায় বলা যায়, মানে মানুষের আধুনিক রূপে আসার পর্যায়। এর আগেকার বিবর্তনের ইতিহাস যে ঈভের সাথে কমন হবে এমন তো কোন কথা নেই, তাই না? ঈভের আগেও ঈভ ছিল, ঈভের সময়েও আরও ঈভ ছিল। আর বিবর্তনের ধারাটাই তো এমন। এই ধারাতেই মানুষের অন্যান্য প্রজাতিও ছিল। মানুষের প্রজাতিগুলোর মাঝেই পার্থক্য ছিল। সে হিসেবে পূর্বপুরুষদের মাঝে থেকে অনেক আগে আলাদা যাওয় জেনারেশন লাইনে তো আরও বিস্তর পার্থক্য থাকবে। যা সহজেই অনুমেয়। তাই দূর অতীতে কমন এনসেস্টর হলেও সব পর্যায়ে সবকিছু কমন থাকবে বলে কোন কথা নেই। সব কমন থাকলে সেটা আর বিবর্তন থাকত না। বিবর্তন মানেই তো বিশেষ ধরণের পরিবর্তন। তাই না?



ডিএনএ এর জন্য মিউটেশন স্বাভাবিক। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে মিউটেশন ঘটে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ এর ক্ষেত্রে যা ধরা হয়েছে ৩৫০০ বছর। এটা কিন্তু স্বাভাবিক স্থানান্তরের মধ্যে পড়ছে না। স্বাভাবিকভাবে অবিকৃত স্থানান্তরই হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কিছু অংশে মিউটেশন হয়ে যাচ্ছে একটি সময়সীমা পরে। তবে যে সময় নিয়ে হচ্ছে বলে নিরধারণ করা হয়েছে সেই সময়ে কয়েক প্রজন্ম পার হয়ে যায়। আর মিউটেশন হওয়ার পরে তার বাকি অংশ অবিকৃত রয়ে যায়। এই মিউটেশন বিবর্তন ধারার ইতিহাস রেখে যায়। আর অবিকৃত অংশই মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টরের পথে নিয়ে যায়।









বানর ও মানুষের আঁদি মাতার মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ নিয়ে কিছু বল্লেন না যে?






বিবর্তন হয়েছে। মিউটেশনও বিবর্তন ধারা। আর আমাদের আলোচনাও সেখানেই আছে।









যাই হোক আপনার দেয়া আর্টিকেল পড়ে যেটা বুঝলাম -



পোস্টে যেটা বলেছেন ," মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ প্রজন্মের পরে প্রজন্ম অবিকৃত অবস্থায় থাকে" , এটা ভুল।






মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ তে মিউটেশন ঘটে ৩৫০০ বছর সময়ের পরিসরে। যা হাওয়া থেকে প্রাপ্ত নয় অবশ্যই। প্রতিটি মিউটেশন তার চিহ্ন রেখে যায়। আর সেই চিহ্ন ব্যবধানেই নির্ধারিত।



মিউটেশন ডিএনএ এর জন্য স্বাভাবিক ধরা যায়। কিন্তু মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ স্থানান্তরের জন্য তা স্বাভাবিক না। কারণ স্থানান্তর অবিকৃত অবস্থায় ঘটার কথা। সেটাই তার সরল সূত্র। কিন্তু নির্দিষ্ট মেয়াদ পরপর মিউটেশন ঘটে। এই মিউটেশন তার ছাপ রেখে যায়। আর এটাই বিবর্তনের পথ। তবুও মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএতে মিউটেশনে পরেঅ অবিকৃত অংশ রয়ে গেছে যা দিয়ে মোস্ট কমন এনসেস্টর ঈভ পর্যন্ত ট্রেস করা সম্ভব হয়েছে। আর মিউটেশনের চিহ্নগুলো বিবর্তনের ইতিহাস রেখে গেছে, সাক্ষী হয়ে আছে বিবর্তন ঘটছে। হ্যাঁ এটা বলা যেতে পারে একেবার অবিকৃত অবস্থায় আছে তা সরাসরি ভুল নয় আবার সরাসরি শুদ্ধ নয়। কিন্তু মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর পাওয়ার সুবাদে তাকে শুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা যায়। মোবাইল কোম্পানীর বিজ্ঞাপনের শর্তপ্রযোজ্যের মত ভেতরে গেলে কিছু কথা সেখানে এসে যায়। বাইরে থেকে জেনারেলাইজড মন্তব্যে বলা যায় যে অবিকৃত আছে, যেহেতু তা মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর পর্যন্ত যেতে পারছে।



ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@শর্মা-ই-আযম, আপনার অভিমত কই?



যাই হোক আপনার দেয়া আর্টিকেল পড়ে যেটা বুঝলাম -



পোস্টে যেটা বলেছেন ," মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ প্রজন্মের পরে প্রজন্ম অবিকৃত অবস্থায় থাকে" , এটা ভুল।



প্রতি ৩৫০০ বছরে মিউটেশনের মাধ্যমে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএতে কিছু পরিবর্তন হয়। (৩৫০০ বছরের ধারনাটা কি হাওয়া থেকে পাওয়া? মিউটেশন তো সবসময় হওয়ার কথা , কোন টাইমফ্রেম মেনে চলার কথা নয়। ১ দিনেই উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন হতে পারে আবার ১০/২০ হাজার বছরেও উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন নাও হতে পারে)



বানর ও মানুষের আঁদি মাতার মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ নিয়ে কিছু বল্লেন না যে?

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
৫৪:১৭ আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক, নিচে আমার অভিমত দিয়েছি। আপনি দেখেননি। ব্যস্ত থাকায় একটু দেরী হয়েছিল আর কি।



৩৫০০ বছরে কয়টা প্রজন্ম যায়? একাধিক প্রজন্ম হলেই তো প্রজন্মের পরে প্রজন্ম হয় তাই না? Laughing out loud

না কোন কিছুই হাওয়া থেকে পাওয়া না। গবেষণা করেই পাওয়া। নিছক অন্ধ বিশ্বাসের কোন লেনাদেনা এখানে নেই। অনেক কিছু হাইপোথিসিস হিসেবে ধারণা করতে পারেন মাত্র।



আর মিউটেশন ডিএনএ এর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। মিউটেশনের সংজ্ঞা থেকে গেলেই পাবেন।



বানর ও মানুষের আঁদি মাতার মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ নিয়ে কিছু বল্লেন না যে?

বিবর্তন হয়েছে। মিউটেশনও বিবর্তন ধারা। আর আমাদের আলোচনাও সেখানেই আছে।



আশাকরি আমার অভিমত পেয়েছেন। আর কিছু?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক, আপনার এই মন্তব্য ৯ টা ৩৫ এ পোস্ট করা। অথচ ৯ টা ১৭ মিনিটের আমার কমেন্টের আরেক অংশ দেখেননি। হয়তো পেইজ রিফ্রেশ করেননি। যাই হোক।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক, আপনি জানতে চেয়েছেন, তাই বিস্তারিতভাবে আমার জানামতে যা আছে তা আপনাকে জানানো দরকার। দুঃখিত এটা আগেই দিয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু অন্যদিকে ব্যস্ত থাকায়আলাদা আলাদা করে অনেকগুলো জড় হয়ে গেছে।



অনুরুপভাবে সকল বানর ও মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ আইডেন্টিকাল হওয়া উচিৎ , কারন বলা হয়ে থাকে বিবর্তনের ধারায় মানুষ ও বানরের উদ্ভব হয়েছে কমন এন্সেস্টর থেকে। এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত?



মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ পর্যন্ত সময়কাল ২ লক্ষ বছর হিসেবে সর্বোচ্ছ পর্যায়ে ধরা হয়। এটাকে বিবর্তনের ইতিহাসে তুলনামূলক আধুনিক পর্যায় বলা যায়, মানে মানুষের আধুনিক রূপে আসার পর্যায়। এর আগেকার বিবর্তনের ইতিহাস যে ঈভের সাথে কমন হবে এমন তো কোন কথা নেই, তাই না? ঈভের আগেও ঈভ ছিল, ঈভের সময়েও আরও ঈভ ছিল। আর বিবর্তনের ধারাটাই তো এমন। এই ধারাতেই মানুষের অন্যান্য প্রজাতিও ছিল। মানুষের প্রজাতিগুলোর মাঝেই পার্থক্য ছিল। সে হিসেবে পূর্বপুরুষদের মাঝে থেকে অনেক আগে আলাদা যাওয় জেনারেশন লাইনে তো আরও বিস্তর পার্থক্য থাকবে। যা সহজেই অনুমেয়। তাই দূর অতীতে কমন এনসেস্টর হলেও সব পর্যায়ে সবকিছু কমন থাকবে বলে কোন কথা নেই। সব কমন থাকলে সেটা আর বিবর্তন থাকত না। বিবর্তন মানেই তো বিশেষ ধরণের পরিবর্তন। তাই না?



ডিএনএ এর জন্য মিউটেশন স্বাভাবিক। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে মিউটেশন ঘটে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ এর ক্ষেত্রে যা ধরা হয়েছে ৩৫০০ বছর। এটা কিন্তু স্বাভাবিক স্থানান্তরের মধ্যে পড়ছে না। স্বাভাবিকভাবে অবিকৃত স্থানান্তরই হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কিছু অংশে মিউটেশন হয়ে যাচ্ছে একটি সময়সীমা পরে। তবে যে সময় নিয়ে হচ্ছে বলে নিরধারণ করা হয়েছে সেই সময়ে কয়েক প্রজন্ম পার হয়ে যায়। আর মিউটেশন হওয়ার পরে তার বাকি অংশ অবিকৃত রয়ে যায়। এই মিউটেশন বিবর্তন ধারার ইতিহাস রেখে যায়। আর অবিকৃত অংশই মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টরের পথে নিয়ে যায়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক, আপনি জানতে চেয়েছেন, তাই বিস্তারিতভাবে আমার জানামতে যা আছে তা আপনাকে জানানো দরকার। দুঃখিত এটা আগেই দিয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু অন্যদিকে ব্যস্ত থাকায়আলাদা আলাদা করে অনেকগুলো জড় হয়ে গেছে।







অনুরুপভাবে সকল বানর ও মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ আইডেন্টিকাল হওয়া উচিৎ , কারন বলা হয়ে থাকে বিবর্তনের ধারায় মানুষ ও বানরের উদ্ভব হয়েছে কমন এন্সেস্টর থেকে। এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত?








মাইটোকন্ড্রিয়াল ঈভ পর্যন্ত সময়কাল ২ লক্ষ বছর হিসেবে সর্বোচ্ছ পর্যায়ে ধরা হয়। এটাকে বিবর্তনের ইতিহাসে তুলনামূলক আধুনিক পর্যায় বলা যায়, মানে মানুষের আধুনিক রূপে আসার পর্যায়। এর আগেকার বিবর্তনের ইতিহাস যে ঈভের সাথে কমন হবে এমন তো কোন কথা নেই, তাই না? ঈভের আগেও ঈভ ছিল, ঈভের সময়েও আরও ঈভ ছিল। আর বিবর্তনের ধারাটাই তো এমন। এই ধারাতেই মানুষের অন্যান্য প্রজাতিও ছিল। মানুষের প্রজাতিগুলোর মাঝেই পার্থক্য ছিল। সে হিসেবে পূর্বপুরুষদের মাঝে থেকে অনেক আগে আলাদা যাওয় জেনারেশন লাইনে তো আরও বিস্তর পার্থক্য থাকবে। যা সহজেই অনুমেয়। তাই দূর অতীতে কমন এনসেস্টর হলেও সব পর্যায়ে সবকিছু কমন থাকবে বলে কোন কথা নেই। সব কমন থাকলে সেটা আর বিবর্তন থাকত না। বিবর্তন মানেই তো বিশেষ ধরণের পরিবর্তন। তাই না?



ডিএনএ এর জন্য মিউটেশন স্বাভাবিক। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে মিউটেশন ঘটে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ এর ক্ষেত্রে যা ধরা হয়েছে ৩৫০০ বছর। এটা কিন্তু স্বাভাবিক স্থানান্তরের মধ্যে পড়ছে না। স্বাভাবিকভাবে অবিকৃত স্থানান্তরই হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কিছু অংশে মিউটেশন হয়ে যাচ্ছে একটি সময়সীমা পরে। তবে যে সময় নিয়ে হচ্ছে বলে নিরধারণ করা হয়েছে সেই সময়ে কয়েক প্রজন্ম পার হয়ে যায়। আর মিউটেশন হওয়ার পরে তার বাকি অংশ অবিকৃত রয়ে যায়। এই মিউটেশন বিবর্তন ধারার ইতিহাস রেখে যায়। আর অবিকৃত অংশই মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টরের পথে নিয়ে যায়।









বানর ও মানুষের আঁদি মাতার মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ নিয়ে কিছু বল্লেন না যে?






বিবর্তন হয়েছে। মিউটেশনও বিবর্তন ধারা। আর আমাদের আলোচনাও সেখানেই আছে।







যাই হোক আপনার দেয়া আর্টিকেল পড়ে যেটা বুঝলাম -



পোস্টে যেটা বলেছেন ," মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ প্রজন্মের পরে প্রজন্ম অবিকৃত অবস্থায় থাকে" , এটা ভুল।




মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ তে মিউটেশন ঘটে ৩৫০০ বছর সময়ের পরিসরে। যা হাওয়া থেকে প্রাপ্ত হয় অবশ্যই। প্রতিটি মিউটেশন তার চিহ্ন রেখে যায়। আর সেই চিহ্ন ব্যবধানেই নির্ধারিত।



মিউটেশন ডিএনএ এর জন্য স্বাভাবিক ধরা যায়। কিন্তু মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ স্থানান্তরের জন্য তা স্বাভাবিক না। কারণ স্থানান্তর অবিকৃত অবস্থায় ঘটার কথা। সেটাই তার সরল সূত্র। কিন্তু নির্দিষ্ট মেয়াদ পরপর মিউটেশন ঘটে। এই মিউটেশন তার ছাপ রেখে যায়। আর এটাই বিবর্তনের পথ। তবুও মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএতে মিউটেশনে পরেঅ অবিকৃত অংশ রয়ে গেছে যা দিয়ে মোস্ট কমন এনসেস্টর ঈভ পর্যন্ত ট্রেস করা সম্ভব হয়েছে। আর মিউটেশনের চিহ্নগুলো বিবর্তনের ইতিহাস রেখে গেছে, সাক্ষী হয়ে আছে বিবর্তন ঘটছে। হ্যাঁ এটা বলা যেতে পারে একেবার অবিকৃত অবস্থায় আছে তা সরাসরি ভুল নয় আবার সরাসরি শুদ্ধ নয়। কিন্তু মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর পাওয়ার সুবাদে তাকে শুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা যায়। মোবাইল কোম্পানীর বিজ্ঞাপনের শর্তপ্রযোজ্যের মত ভেতরে গেলে কিছু কথা সেখানে এসে যায়। বাইরে থেকে জেনারেলাইজড মন্তব্যে বলা যায় যে অবিকৃত আছে, যেহেতু তা মোস্ট কমন রিসেন্ট এনসেস্টর পর্যন্ত যেতে পারছে।



ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Shock Shock Shock Shock Shock এয়াল্লাই তো কই! বায়োলজী এত ফালতু লাগতো ক্যান? Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

_____________
"আমরা সবাই নিজেকে নিয়েই ভাবি। কিন্তু এই এক একটি জীবন নিয়েই আমাদের এই গোটা পৃথিবী। যেমন কিনা, ছোট ছোট বালি কণা বিন্দু বিন্দু জ্বল, গড়ে তোলে মহাদেশ.. সাগর অতল।
তাই.. অপরের জন্যও ভাবুন। ভালোবাসতে শিখুন শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য।" ..


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@দ্যা রক, এই কারণেই তো গুরুজনেরা বলেন, গাধা জল খায় ঘোলা করে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

(Y) (Y) (Y) (Y) (Y) এই নিয়ে তিন বার এলাম এখনো কিছু না বললে লেখককে অসম্মান জানানো হবে, তাই এই অক্ষম অনুপ্রবেশ। আপনার লেখাগুলো পড়ে যাই প্রায়ই মন্তব্য করা হয়নি। দারুন হয়েছে লেখাটা।

@ যুদ্ধদেব - (Y) (Y) (Y) (Y) (Y)







প্রিয়তে নিলাম।

Sabar Upare Manush Satya Tahar Upare Nai.


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@চেনামানুষ, অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। (F) (F)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারণ পোস্ট। প্রিয়তে নিলাম।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@শনিবারের চিঠি, (F) (F) (F) (F) (F)

glqxz9283 sfy39587p07