Skip to content

পদ্মা সেতুঃ বিশ্বব্যাংকের গোয়ার্তুমি এবং তথাকথিত দুর্নীতি

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


পদ্মা সেতু। স্বাধীনতা পূর্ব-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প, বড় স্বপ্ন। মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল তাদের ক্ষমতার এই মেয়াদের মধ্যেই পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের।আর এ লক্ষ্যে সরকার গঠনের ১৩ দিনের মাথায় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে চুক্তি হয়। ওই কমিটি একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শুরু করে।

অবশ্য ১৯৯৯ সালেই ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুর জেলার জাজিরার মধ্যে ৫.৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করা হয়েছিল। ২০০১ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করেছিলেন। কিন্তু ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় এলে পদ্মাসেতু প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ঝুলে যায়।
মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিলে কি হবে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশের আবাসিক প্রধান অ্যালান গোল্ডষ্টেইনের গোয়ার্তুমি আর নানামূখী ষড়যন্ত্রের কারনে ক্ষমতা গ্রহনের সাড়ে তিন বছর পরও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। এরই মধ্যে এই সেতু সংক্রান্ত কথিত দুর্নীতির অভিযোগে চাকুরী গেছে এক মন্ত্রীর। বিশ্বব্যাংকের প্রবল অসহযোগিতার মধ্যেই পদ্মা সেতু নির্মানের জন্য সহযোগিতার প্রস্তাব আসে মালয়শিয়ার, চীনের, কাতারের। কিন্তু তাতেও আপত্তি দেন নেপথ্যের শক্তি। সরকারের আবেদন ছাড়াই জানুয়ারি মাসে ৬ মাস ঋন কার্যকরের সময়সীমা বাড়িয়েছিল বিশ্বব্যাংক। চলতি মাসের মধ্যে সে সময় সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন বিনিয়োগকারীদের আগমন আর সরকারের কঠোর অবস্থানের কারনে এখন আমরা দেখছি তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সরে এসে আবার এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক তাদের ঋনপ্রস্তাব কার্যকর করার জন্যে বাংলাদেশকে রাজি করানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পা ধরেছে।



যাই হোক পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতিটি কি করে হল সেটা নিয়ে জানতে চাই বিশ্বব্যাংকে কর্মরত এক বড় ভাইয়ের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন করতেন, কথায় কথায় বলেন এখনও বেরোতে পারেন নি সেই আদর্শিক বৃত্ত থেকে। তিনি তার ল্যাপি থেকে সরকারকে দেয়া বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের কপি আমাকে দেখান। আমি পড়ি পুরোটা। (আমাকে এটার কপি দেবার রিকোয়েষ্ট করলে তিনি এড়িয়ে যান অবশ্য পরে। এর পরবর্তীতে প্রথম আলোর ১৪/১০/১১ তারিখে প্রকাশিত সংবাদের একটা লিংক দেন। সেই লিংক ধরে খুজতে খুজতে আরো অনেক তথ্য আমার চোখে, কানে চলে আসে। সিনিয়র ভাই দ্বীর্ঘশ্বাস ফেলে চুপ থাকেন।)

পদ্মা সেতুর প্রকল্পটির চুক্তি, কেনাকাটা ও বাস্তবায়নের সব দায়িত্ব যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ)। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হিসেবে তারা পদ্মা সেতু নিয়ে কাজ শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে ২৮ এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের ঋণচুক্তি হয়। এ ছাড়া ১৮ মে জেআইসিএ, ২৪ মে আইডিবি এবং ৬ জুন চুক্তি হয় এডিবির সঙ্গে। ১৬ মাসের নিবিড় কার্যক্রমের পর পদ্মা সেতু নিমার্ণের জন্য বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাথে ঋন চুক্তি করে অর্থায়ন নিশ্চিত করে সরকার, দাতা সংস্থাগুলোর অনুমোদন ক্রমে কর্তৃপক্ষ ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল সেতুর প্রধান অংশের জন্য প্রাক-যোগ্যতার দরপত্র আহ্বান করে। ৪০টি আবেদনপত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে চায়না রেলওয়ে ১৫ ব্যুরো গ্রুপ কর্পোরেশন, চায়না রেলওয়ে কন্সট্রাকশন কোম্পানী (সিআরসিসি) সহ মাত্র ১১টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে। বিশ্বব্যাংকও জুলাইয়ের আগেই প্রাক-যোগ্যতা তালিকায় অনাপত্তি পত্র দেয়। কিন্তু পরে আবার বিশ্বব্যাংকেরই আপত্তির কারনে আগের বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করে দেওয়া হয় ১০ অক্টোবর। বলা হয়, দুর্নীতি, প্রাক-যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন এবং সেতুর ভিত্তি (ফাউন্ডেশন) নির্মাণে প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতার কারণে তা বাতিল করা হয়। পরের দিনই নতুন প্রাক-যোগ্যতার জন্য দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেয় বিবিএ।

এ ঘটনাটি সেতু বিভাগের সূত্র এভাবে জানায় পদ্মা সেতুর ডিজাইন-পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়নে চায়না রেলওয়ে ১৫ ব্যুরো গ্রুপ কর্পোরেশন, চায়না রেলওয়ে কন্সট্রাকশন কোম্পানী (সিআরসিসি)অযোগ্য বিবেচিত হয়েছিল। অথচ বিশ্বব্যাংক মূল্যায়নটি গ্রহণ না করে চীনের ওই চায়না রেলওয়ে কন্সট্রাকশন কোম্পানিটিকে অন্তর্ভুক্ত করানোর ইচ্ছায় আরো কয়েকবার প্রাক-যোগ্যতা যাচাই করতে বাধ্য করে মূল্যায়ন কমিটিকে। কিন্তু প্রতিবারই কোম্পানিগুলো অযোগ্য বিবেচিত হয়ে বাদ পড়ে। একপর্যায়ে ধরা পড়ে এদের এজেন্টদের জালিয়াতি। কিন্তু বিশ্বব্যাংক সেসব বিবেচনায় না নিয়ে তাদের গো অনুসারে সেতুর কাজ শুরু করার অনুমোদন প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে দরপত্র বাতিলের জন্য চাপ দেয়। তাদের চাপে আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করতে বাধ্য হয় সেতু বিভাগ।

প্রাক যোগ্যতার জন্য দরপত্র আহবান করা হয় সাধারনত এটা যাচাই করার জন্য মূল দরপত্রে এ প্রতিষ্টানগুলোর কাজ করার যোগ্যতা আছে কিনা দেখার জন্য। সেই মতে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিদেশী পরামর্শকসহ বিবিএর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কর্তারা বসে যাচাই বাচাই করে একটা শর্টলিষ্ট তৈরী করে সেটা অনুমোদনের জন্য বিশ্বব্যাংককে দেন। বিশ্বব্যাংক সেটা আরো যাচাই বাচাই করে চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

তো এক্ষেত্রেও তাই হচ্ছিল। কিন্তু সমস্যা হয় অন্য জায়গায়। পচন্দের প্রতিষ্টান চায়না রেলওয়ে কন্সট্রাকশন কোম্পানী (সিআরসিসি) দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রাথমিক বাচাই থেকে এবারও বাদ পড়ে যাওয়ায় এ নিয়ে দফায় দফায় বিশ্ব ব্যাংক মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের উপর চাপ প্রয়োগ করেও কাজ আদায় না করতে পেরে অর্থায়ন স্থগিত করে রাখে বিশ্বব্যাংক।

প্রথমেই উল্লেখ করেছি পদ্মা সেতু প্রকল্পের দরপত্রে প্রাক-যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রথমবার ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সেতু বিভাগ জানায়, এর মধ্যে প্রাক-যোগ্য বিবেচনা করে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা ২০১০ সালের ২০ জুলাই বিশ্বব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠায় তারা। ডিজাইন-পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়নের(প্রাকযোগ্যতা মূল্যায়ন কমিটির নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী; সদস্য হলেন ড. শফিউল্লাহ, ড. আইনুন নিশাত, বিশ্বব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ড. দাউদ, ড. ফিরোজ আহমেদ ও অধ্যাপক আলমগীর মুজিবুল হক) পরই এ তালিকা বিশ্বব্যাংকে পাঠানো হয়। কিন্তু অনুমোদন না দিয়ে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বিশ্বব্যাংক তিন মাস পর আবার প্রাক-যোগ্যতা যাচাইয়ের পরামর্শ দেয়। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে দ্বিতীয় দফায় প্রাক-যোগ্যতার জন্য আহ্বান করা দরপত্রে ১০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দ্বিতীয় দফায়ও প্রথমবার মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ করা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই যোগ্য বিবেচিত হয়। সেতু কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি এই তালিকা বিশ্বব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠায়। কিন্তু বিশ্বব্যাংক একই বছরের ২৯ মার্চ বিশেষজ্ঞদের যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য বিবেচিত চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে বিবেচনা করার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সুপারিশ করে। পরে ডিজাইন-পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সিআরসিসির দাখিল করা কাগজপত্র পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাক-যোগ্য বিবেচনা করা যায় না উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে। সেতু কর্তৃপক্ষ ২০১১ সালের ৩০ মার্চ এ প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠায়। প্রায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৬ এপ্রিল বিশ্বব্যাংক সিআরসিসিকে প্রাক-যোগ্য বিবেচনা করার বিষয়টি পুনরায় পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের অনুরোধ করে।

সেতু কর্তৃপক্ষ ডিজাইন-পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন যোগ করে সিআরসিসিকে প্রাক-যোগ্য বিবেচনা না করার কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দেয়। একই বছরের ১৩ এপ্রিল বিশ্বব্যাংক পুনরায় সিআরসিসির কাছ থেকে সেতু নির্মাণের পাইলের বিষয়ে অধিকতর তথ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাক-যোগ্য বিবেচনার অনুরোধ করে চিঠি দেয় সেতু বিভাগে। এরপর সিআরসিসির কাছে রেকিং পাইলের অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি ছবিসহ কিছু প্রমাণ সেতু বিভাগে দাখিল করে। ডিজাইন-পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি রেকিং পাইলের অভিজ্ঞতার এ ই প্রমাণপত্র পর্যালোচনায় দেখতে পায়, অন্য প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ করা সেতুর ছবি পরিবর্তন করে সিআরসিসি নিজের নামে জমা দিয়েছে । ২০১১ সালের ৭ মে ডিজাইন-পরামর্শক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সিআরসিসি মিথ্যা তথ্য দাখিল করেছে। এ অবস্থায় ঢাকার চীন দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সিলরকে সেতু কর্তৃপক্ষের অফিসে ডেকে এনে সিআরসিসির চিঠি দেখানো হলে তিনি জানান, চীনা ভাষার চিঠিতে করা স্বাক্ষরটি নকল।

জাল জালিয়াতি ধরা পড়ার প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৯ মে সিআরসিসি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে মূল সেতুর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে। তারা তাদের স্থানীয় এজেন্ট ভেঞ্চার ইন্টারন্যাশনালের এজেন্সিশীপও বাতিল করে। সেতু বিভাগ ধারনা করে সিআরসিসির পক্ষে স্থানীয় এজেন্ট ভেঞ্চার ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন ভুল তথ্য ও জাল প্রমাণপত্র দিয়েছে। অথচ এই ভূয়া তথ্যদানকারী এজেন্টের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। পরে একই বছরের ১১ মে সেতু কর্তৃপক্ষ ডিজাইন-পরামর্শকের প্রতিবেদন ও সিআরসিসির প্রাক-যোগ্যতা প্রত্যাহারের প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের কাছে দেয় এবং মূল সেতুর প্রাক-যোগ্যতার জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে সম্মতি চায়। পরদিন বিশ্বব্যাংক হালনাগাদ প্রাক-যোগ্যতার মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সেতু কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে। প্রাক-যোগ্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য সর্বশেষ ১৮ মে বিশ্বব্যাংকে হালনাগাদ প্রতিবেদন পাঠানো হয়। প্রায় দেড়মাস পর বিশ্বব্যাংক ১ জুলাই প্রাক-যোগ্য এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সম্মতি দেয়।

কিন্তু এরপর শুর হয় আরেক কাহিনী। অযোগ্য ঘোষিত চায়না রেলওয়ে ব্যুরো কর্পোরেশনের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. হেলাল উদ্দিন ২০১০ সালের ৩ অগাস্ট বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি চীফ ও পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনের সঙ্গে সাঁকো ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক (উন্নয়ন) খন্দকার এম এন ইসলাম কর্তৃক চায়না রেলওয়ে ১৫ ব্যুরো গ্রুপ কর্পোরেশনকে ২০১০ সালের ২৭ জুলাই দেওয়া একটি চিঠি সংযুক্ত করেন তিনি। ওই আবেদনে এই দলিল দেখিয়ে বলা হয়, সাঁকো ইন্টারন্যাশনাল চায়না রেলওয়ে ১৫ ব্যুরো গ্রুপ কর্পোরেশনকে পদ্মা সেতুর অন্যান্য প্যাকেজের কার্যাদেশ পেতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

এ সময়েই হঠাৎ করে সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসাবেল এম গেরেরো ঢাকায় আসেন। তিনি তখন জানালেন যে তাদের কাছে মূল সেতু নির্মাণের প্রাকযোগ্য ঠিকাদার নির্বাচন নিয়ে কিছু অভিযোগ আছে এবং সেগুলো তারা খতিয়ে দেখছে।
গতবছরের সেপ্টেম্বরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে ওয়াশিংটন গেলে সংস্থাটি লিখিতভাবে অভিযোগ করে, তারা মনে করে মূল সেতুর প্রাকযোগ্য ঠিকাদার তালিকা বিবেচনার সময় দুর্নীতি হয়ে থাকতে পারে'দুর্নীতি'র তদন্তের জন্য সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। বিশ্বব্যাংক তাদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য সরকারকে দেবে বলেও জানায়। অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরার পর 'দুর্নীতি' তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়।

দুদক এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখতে পায় সাঁকোর প্যাডে লিখিত ঔ চিঠিটির নিচে সাঁকো ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক (উন্নয়ন) খন্দকার এম এন ইসলাম এর স্বাক্ষরটি সুপার ইম্পোজ করে বসানো হয়েছে। দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান পরে গণমাধ্যমকে জানান “এম এন ইসলাম বলেছেন, ওই চিঠিটি তিনি লেখেননি, স্বাক্ষরও তার নয়। স্বাক্ষরটি কারসাজি (সুপার ইম্পোজ) করে বসানো হয়েছে। সাঁকো ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মো. নুরুল হকও ওই চিঠির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। চায়না রেলওয়ে ব্যুরো গ্রুপ কর্পোরেশনের ওভারসিজ প্রোজেক্ট ইনচার্জ উ জিয়াংদং সাঁকোর কথিত ২০১০ সালের ২৮ জুলাই তারিখের চিঠি পাওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন।”

“এবিষয়ে হেলাল উদ্দিন দাবি করেন, তিনি চিঠিটি ই-মেইলের মাধ্যমে পেয়েছেন। তার কাছে এর মূল কপি নেই,” বলেন তিনি।

হেলালউদ্দিনের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে মূল সেতুর প্রাক-যোগ্যতা যাচাই ও পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে বলে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অবহিত করে প্রকল্পে অর্থায়ন স্থগিত করে। একই সময়ে প্রাক যোগ্যতা লিষ্টে টিকে যাওয়া কানাডীয় প্রকৌশল প্রতিষ্টান এসএনসি-লাভালিনের ট্যাক্স ফাঁকি ও দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে কানাডা সরকার। বিষয়টিকে দ্রুতই ইস্যু বানায় বিশ্বব্যাংক। তারা দাবি করে শর্ট লিষ্টে নাম তোলাতে লাভালিন মন্ত্রী আবুল হোসেনের পারিবারিক কোম্পানীকে সুবিধা দিয়েছে। এর মধ্যে খবর আসে পদ্মা সেতু নিয়ে এডিবি আর বিশ্বব্যাংকের মতানৈক্যের

পরে বিশ্বব্যাংক যে প্রতিবেদন দেয় তাতে উল্লেখ করে- সেতুর মূল অংশের প্রাক-যোগ্যতা চুক্তি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি-সংক্রান্ত অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছে বিশ্বব্যাংক। অভিযোগগুলো মূলত যোগাযোগমন্ত্রী ও তাঁর মালিকানাধীন কোম্পানি সাকোর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। যোগাযোগমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বলা হয়, যোগাযোগমন্ত্রী ও সাকোর কর্মকর্তারা মিলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেন, সাকো হলো পদ্মা সেতু নির্মাণের যেকোনো কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে এক ধরনের নীরব প্রতিনিধি (সাইলেন্ট এজেন্ট)। কোনো কাজ পেতে হলে বা প্রাক-যোগ্যতায় টিকতে হলে সাকোকে অর্থ দিতে হবে। সাকোর পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ডঃ আইনুন নিশাত বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ সম্পর্কে ৫ সেপ্টেম্বর জনকণ্ঠকে বলেন, পত্রপত্রিকায় যে খবর ছাপা হয়েছে তা দিয়ে কোন বিষয়ে পরিস্কার ধরনা পাওয়া কঠিন। আসলে কি হয়েছে বা কি হচ্ছে বিশ্বব্যাংক তা বাংলাদেশেকে জানালেই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, দরপত্রে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক মার্কিং নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই মার্কিং ধরেই প্রত্যেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মার্কস দেয়া হয়েছে। এখানে কোন ক্ষেত্রে ভুল হলে সেখানে কি করতে হবে তাও বিশ্বব্যাংকের গাইড লাইনে ছিল। দরদাতাদের ক্ষেত্রে যা প্রয়োগ করা হয়েছে। মার্কিং করে খাতাসহ বিশ্বব্যাংকের কাছে মতামতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক কিছু পছন্দ না করলে আমাদের জানাবে। কিন্তু কেন তারা এটা পছন্দ করল না তাও জানাতে হবে। তিনি বলেন, এসএনসি-লাভালিন যে দরপত্র দিয়েছে তার প্রত্যেকটি কাগজপত্র পদ্মা সেতুর মূল পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সঠিক বলে ছাড়পত্র দেয়ার পরই তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। তিনি জানান দরপত্রে অংশ নেয়া অন্য দু'-একটি প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে বরং জালজালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসএনসি-লাভালিন এদের চেয়ে অনেক স্বচ্ছ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। আইনুন নিশাত বলেন, জাপানীরা প্রস্তাব দিয়েছিল দুটো কন্ট্রাক্টারকে কাজ ভাগ করে দিতে। সেতুর পাইলিংয়ের কাজ একটি কোম্পানি এবং ওপরের অংশের কাজ অন্য একটি কোম্পানিকে দিয়ে করানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রাজি হয়নি বলে জানান তিনি।
যোগাযোগমন্ত্রীর কোন প্রভাব আছে কিনা জানতে চাইলে আইনুন নিশাত বলেন, এখনও পদ্মা সেতুর বিষয়ে এক পয়সাও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়নি। কারণ কোন কোম্পানিকে এখনও কাজই দেয়া হয়নি। দরপত্র মূল্যায়নের সময় কোন দিন যোগাযোগমন্ত্রী তাদের কোন বিষয়ে কথা বলেননি বলে জানান তিনি।

কথিত এই দুর্নীতির কারনে অর্থায়ন স্থগিত করে বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংবাদের শিরোনাম করে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সকল ক্রিয়াকর্মের আগেই কি করে দুর্নীতি হল সেটা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের কোন কথা নেই। ভূয়া কাগজপত্র দাখিলকারী একটি প্রতিষ্টানের পক্ষে কেন বিশ্বব্যাংক অফিশিয়ালি তদবির করল তার পক্ষে তাদের কোন বক্তব্য নেই। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ১.২% বৃদ্ধি এবং প্রতি বছর তা ০.৮৪% হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করবে। এর মানে দাড়ায় বিশ্ব ব্যাংকের ঢিলেমির কারনে ইতোমধ্যে ৩৮,৮৯৭ কোটি টাকার শুধু আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের। যা দিয়ে দুইটি পদ্মা সেতু নির্মান করা যেত। যত দিন যাচ্ছে এই ক্ষতির পরিমান বাড়ছে। এর দায় টানছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কিন্তু তাতে ভূক্ষেপ নেই এদেশর কতিপয় সুশীল আর রাজনীতিকের। তারা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকেই অর্থায়ন হতে হবে বলে হুংকার ছাড়ছেন।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈঘ্যের এবং ২৩ দশমিক ৬ মিটার প্রস্তের পদ্মা সেতু এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলির একটি। সেতু বিভাগের মতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সেতু। দ্বিতল এ সেতুর ওপরে সড়ক আর নিচ দিয়ে যাবে রেলপথ। এছাড়াও রয়েছে রোড ভায়াডাক্ট ৩.৮ কিলোমিটার ও রেল ভায়াডাক্ট ০.৫৩২ কিলোমিটার। সেই সাথে থাকবে ১৪ কিলোমিটার নদী শাসন এবং টোল প্লাজা, সেবা অঞ্চল নির্মাণসহ ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। ঢাকা- মাওয়া-খুলনা মহাসড়কের মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে হবে এই সেতু। পদ্মা সেতুর জন্য মাদারীপুর জেলা থেকে অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল মিলিয়ে মোট ২৯৮ হেক্টর ভূমি নেওয়া হয়েছে। আর শরিয়তপুর জেলা থেকে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৩৯৭ হেক্টর ভূমি। এর ক্ষতিপূরণ মূল্য প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা। মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে নেওয়া হচ্ছে ২১৪ হেক্টর ভূমি এবং এর জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে প্রায় ৫১৮ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবাযন দেরী হওয়ায় এই ক্ষতির পরিমানও আরো বাড়ছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ কোটি ডলার দেশীয় টাকায় যা প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৮ হাজার কোটি টাকাই ঋণ-সহায়তা থেকে ব্যয় হবার কথা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক-এর ১২০ কোটি ডলার বা প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৬১ কোটি ডলার, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার এবং জাইকা ৪০ কোটি ডলার। আর বাকি অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার। মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু না হলেও এরই মধ্যে এ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও গাড়ীক্রয়সহ নানা কর্মকান্ডে এক হাজার ২১ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। এ অর্থের বেশিরভাগই সরকারের রাজস্ব খাত থেকে ব্যয় হয়।

কেন এতো বেশি ব্যয়?

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ কোটি ডলার । অথচ ২০০৯ সালে নির্মিত আধুনিক স্থাপত্যবিদ্যার অসাধারণ নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত চীনের হাঙজু ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এ ব্রিজের দৈর্ঘ্য ৩৬ কিলোমিটার। যা পদ্মা সেতুর চেয়ে প্রায় ছয়গুণ বড়। তাছাড়া পদ্মা সেতু তৈরি হবে নদীর ওপর। আর হাঙজু তৈরি করা হয়েছে সাগরের বুক চিরে। চীন সাড়ে তিন বছরে এ ব্রিজের কাজ শেষ করে ২০০৯ সালে একে উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

পদ্মা সেতুর ব্যয় সম্পর্কে এর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধূরীর বক্তব্য হচ্ছে, পদ্মা সেতুতে একই সাথে সড়ক ও রেল সুবিধা থাকছে। তাছাড়া ১২০ মিটার গভীরে গিয়ে এ সেতুর কাজ করতে হবে। এজন্য এতে ব্যয় বেশি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ প্যানেল সদস্য ড. আইনুন নিশাত একই কথা বলেন। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু হাঙজু সেতুর চেয়েও পদ্মা সেতুর ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে পদ্মায় নদীশাসনে ব্যয় হচ্ছে প্রচুর অর্থ। এটা ছাড়াও পদ্মা সেতুতে হেভি লোড বহন করার মতো রেললাইন ও সড়ক থাকছে। জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে অনেক ব্যয় হচ্ছে। যমুনা সেতু নির্মাণের সময়ও সেতু নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে নদীশাসনে খরচ হয়েছিলো বেশি।

পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের বিষয়ে এবার অনেক হার্ড লাইনে সরকার। সিনিয়রভাই সহ বিশ্বব্যাংকের ন্যুইয়র্কস্থ অফিসে সবাই প্রকল্পটি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন এখন। সম্ভবত বিশ্বব্যাংকের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রজেক্টে ব্যবসা করার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দেখে মার্কিন কুটনৈতিকরা বাংলাদেশ সরকারের সাথে বিষয়টি মিটমাটের জন্য বিশ্বব্যাংকের পক্ষে উদ্যোগ নিয়েছেন। হয়তো মিটমাটও একটা হবে। কিন্তু দুর্নীতির জন্য কলঙ্কের যে কালিমা এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ইমেজে লাগিয়েছে তার ক্ষতি পূরন কি করে হবে? বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করুক বা না করুক পিপিপির আওয়ায় বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রজেক্টের বাস্তবায়নের কাজ অচিরেই শুরু হবে আশার করা যাচ্ছে। আর এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং অবকাটামো খাত ইঞ্জিনিয়ারিং এর নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সুন্দর ছবি ও কাউয়ার মগজের ভাবনা।

পদ্মাসেতুর বাজেট ২ বিলিয়নের নীচে হওয়া উচিত; হাসিনা ও সবাই মিলে চুরি করার জন্য ওভার বাজেট করা হয়েছে।

পুতুলের জামাই ঘুষ নিয়ে জাতির ৭ বিলয়ন ডলার ক্ষতি করাচ্ছে। জাতি যেদিন টের পাবে, ভয়ানক কিছু ঘটবে: এমনকি শেখ সাহেবের নামও মুছে ফেলতে পারে রাগে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ফার্মার সাহেব, কোথায় উনি ভুল করলেন তা ধরিয়ে দিলে উনার সাথে আমরাও জানতাম। আর ধরিয়ে দিতে না পারলে ললিপপ খান

------------------------------------
ছোট বেলায় গাধার দুধ খেয়ে বড় হয়েছি বলে এখন মনে হয় সবাই আমার মত গাধার দুধ খেয়েই বড় হয়- আফসান চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

উনি হাসিনার কথাটাকে পোস্ট আকারে দিয়েছেন।

বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশকে সব সময় সাহাযয় করে আসছে; টাকা দইতে নিয়ম মেনে চলতে চাইছে; বিশ্ব ব্যাংকের কন্ট্রাকটর 'ল্যাভলীন' ঘুষ দি্যেছে পদ্মাসেতু তৈরির সময় ম্যানেজ করার জন্য টিমে থাকতে; ধরা পড়ে সাজা পেয়েছে, সেতুতে থাকতে পারবে না।
তারা স্বীকার করেছে ঘুষ দিয়েছে; এখন এটার বিচার না হওয়া পর্যন্ত টাকা দিতে পারবে না। হাসিনা বিচার করতে পারছেনা, তার মেয়ের জামাই এতে যুক্ত। বাহির থেকে ফাইন্যান্স করলে সর্বমোট বাংলাদেশকে ১১ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে। বিশ্ব বয়াংক থেকে নিলে পৌনে ৪ বিলিয়ন দিতে হবে।

সেতুতে ওভার বাজেট করা হয়েছে, এ ধরণের সেতুতে ২ বিলিয়নের নীচে খরচ হওয়ার কথা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জনাব ফামার্র, আপনি তি অধ্যাপক জামিলুর রেজা স্যার অথবা ডঃ আইনুন নিশাত থেকেও বড় বিশেষজ্ঞ নাকি? ট্যাকিলা খান নাকি আজকাল? বেশী মাতাল হলে ব্লগে আসা ঠিক না। বি এন পির চামচামি করেন ঠিকাছে কিন্তু তথ্য প্রমান ছাড়াই কানাডার কোম্পানী হওয়ায় ওমুকের নিকট হতে ওমুক ঘুষ খাইছে এমন দাবী করা কি আপনার বিবেচনা মতে সঠিক?

কি নিয়া ঝামেলা হইছিল সেটা পোষ্টে বিস্তারিত উল্লেখ করা আছে। চায়না রেলওয়ে কন্সট্রাকশন কোম্পানী (সিআরসিসি) ভূয়া কাগজ জমা দেয়ায় প্রাকযোগ্যতা মূল্যায়ন কমিটি যার নেতৃত্বে আছেন অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী; সদস্য হলেন ড. শফিউল্লাহ, ড. আইনুন নিশাত, বিশ্বব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ড. দাউদ, ড. ফিরোজ আহমেদ ও অধ্যাপক আলমগীর মুজিবুল হক...... এরকম দেশখ্যাত স্বনামধন্য ব্যক্তি যারা দলবাজি করেন না বলেই সর্ব মহলে স্বীকৃত তারা বিশ্বব্যাংকের অনুরোধ মেনে সিআরসিসি কে প্রাথমিক তালিকাভূক্ত করেন নাই।

কেন সিআরসিসি'র পক্ষে বিশ্বব্যাংক অবস্থান নিয়েছিল বা সেতু বিভাগকে চিঠির পর চিঠি লিখে বারবার রিটেন্ডার করতে বাধ্য করেছিল এমনকি মূল্যায়ন কমিটির শর্টলিষ্ট অনুমোদনের দুই মাস পর সেটি বাতিল করে অর্থায়ন স্থগিত করা হয়েছিল তার কারন শুধু লাভালিন নয়। তার পেচনে আছে যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীক একটা দেশীয় গোষ্টির তদবির। লিংকে সূত্র দেয়া আছে। লোকমুখে শুনি বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের আবাসিক প্রধান অ্যালন গোল্ডষ্টেইন কোন এক সভায় বলেছিলেন তিনি বাংলাদেশে থাকতে পদ্মাসেতু হতে দেবেন না। কারন মূল্যায়ন কমিটি তার তদবির বাতিল করেছিল। হয়তো সিআরসিসি তালিকাভূক্ত না হওয়ায় তিনি হালুয়া রুটির ভাগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। সাদা চামড়ার ইগোর কারনে কালা আদমিদের জান গেল কি না তাতে কার কি? টেন্ডার কারা পাবে ঠিক নাই। কেবল শর্টলিস্ট হইছে। আমাদের দেশে ব্যবস্থা এমন বিশ্বব্যাংক ঋন দিল তো টেন্ডার কি করে হবে, কারা কাজ পাবে, পরামর্শক কে হবে সব ঠিক করে বিশ্বব্যাংক। আমাদের সাদা চামড়ার প্রীতির কারনে, আত্মমর্যাদা কম হওয়ার কারনে সেসব নির্দ্বিধায় মেনে নেই।
মাল মাথায় উঠলে সেটা ফালানোর ব্যবস্থা করেন মিষ্টার ফার্মার। তথ্য প্রমান খুজুন। কি নিয়ে ঝামেলঅ হইছে তা নিয়া বিস্তারিত জানুন। তথ্য সূত্র দিন এটা একারনে হইছে। তা না হলে ফালতু বক্তব্য দিয়ে পোষ্ট নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। আর আবলামী বারবার করতে থাকলে আমার পাতায় আপনার প্রবেশাধিকার সীমিত করার কঠিন পদক্ষেপ নিতে আমি বাধ্য হবো।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Star Star Star Star

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাইরে কার কথা যে সত্য তাই মাঝে মাঝে বুঝতে পারিনা


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাদা চামড়াদের কথাকে সদা সর্বদা সত্য বলিয়া মানিয়া নিতে পারেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঠিকাছে কিন্তু তথ্য প্রমান ছাড়াই কানাডার কোম্পানী হওয়ায় ওমুকের নিকট হতে ওমুক ঘুষ খাইছে এমন দাবী করা কি আপনার বিবেচনা মতে সঠিক?



ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তো আপনার মতে কি ঘুষ খাইলে তার তথ্য প্রমান থাকে না? ঘুষ নগদেই হোক বা চেকেই হোক বা অন্য কোন ভাবে হোক সিঙ্গাপুরের ব্যাংক একাউন্ট থেকে এফবিআই ঠিকই তা খুজে বের করেছে অতীতকালে। অপরাধ তার পেছনে প্রমান রেখে যায় সবসময়। ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বিশ্ব ব্যাংক কোন ভুল-দুর্নীতি করতে পারে না। তারা ধোয়া তুলসি পাতা। তাদের চামড়া সাদা। তাদের ষাষ্ঠাঙ্গে প্রণাম করতে হবে। সব দোষ আমাদের। আমরা মগজহীন লিলিপুট।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কিছু কিছু অতি সুবিধাবাদী মানুষের মতে হয়তো তাই। আপনাকে দেখে ভাল লাগল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পূরাই প্যাজগি Laughing out loud তয় ফার্মার আঙ্কেল কে দিয়ে কয়েক কূড়ি টাকাতেই এই ব্রিজ বানানো সম্ভব হাসিনা গংরা ক্যান যে এই লোকটারে মুল্য দিতাছে না! পরে বুঝব সব হারাইয়া Sad

**************************************************************************
কি জানি কি মঞ্চায়.........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এটা নিয়ে অবশ্য একখান পুষ্ট দেয়া যায়। আর সেই পুষ্টখানাকে অনির্দিষ্টকাল ষ্টিকি করে ঝুলায়ে রাখার অগ্রিম দাবী করে গেলাম যাতে করে সরকারের উচু মহলের কারও না কারও চোখে এটা পড়ে। অনির্দিষ্ট সুত্রে প্রধানমন্ত্রীও মাঝে সাঝে আমার ব্লগ ঘুরে যান শুনেছি। যদি সেসময় এটা তার চোখে পরে তবে যাতি রক্ষা পাবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পদ্মাসেতুর বাজেট ২ বিলিয়নের নীচে হওয়া উচিত; হাসিনা ও সবাই মিলে চুরি করার জন্য ওভার বাজেট করা হয়েছে।


বিশ্ব ব্যাংকেও শিটহেড আর ইডিয়ট লোকজন ঢুকেছে নাকি? এত ছোট ঘুষের অভিযোগ নিয়ে হাউকাউ করছে আর এদিকে হাসিনা বিলিয়ন ডলার চুরি করতে যাচ্ছে , তা নিয়ে কোন কথা বলছে না !!!!!!!!!

জনাব ফামার্র, আপনি তি অধ্যাপক জামিলুর রেজা স্যার অথবা ডঃ আইনুন নিশাত থেকেও বড় বিশেষজ্ঞ নাকি?


জ্বী, উনারাও ইডিয়ট আর শিট হেড।

--------------------------------------------------------------------------------
ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস। বিশ্বাসে কোন যুক্তি প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমত্কার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্যাচগী তো ভালৈ মনে হইতেছে।

ফারমার ভাইরে মাফ দেন,উনি আর এই পোস্টে আসবেন না।

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ল্যাদানি কাহাতক সহ্য করা যায়? আপনাকে দেখে খুশি হলাম। ভাল থাকবেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মোটামুটি বোঝা গেল। ধন্যবাদ পোস্টের জন্য।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শালা টক শোর মত ব্লগ গুলাও পোষা শালিকের ক্যাচরম্যাচরে শব্দদুষিত। একটা বিশ্লেশনধর্মী পোষ্ট, সেখানেও ল্যাদাইতে শুরু করে কিছু লোক। পারলে যুক্তীর প্রতিযুক্তী দেখাও, তা না করে ল্যাদায়।

পোষ্টে প্লাস।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইশ্বর তাদের ল্যাদানির অবিশ্বাস্য ক্ষমতা দিয়েছেন। তাদের যন্ত্রনায় ব্লগে লেখালেখি করাই ঝামেলা মনে হয় মাঝে মাঝে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোস্ট ভাল হইছে কিন্তু সামনে কি ?

হিজিবিজি

glqxz9283 sfy39587p07