Skip to content

শেয়ার বাজারের উত্থান পতন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে এটা আমার তৃতীয় লেখা। এর আগের দুটি লেখায় আমি বলেছি গুজব আর বাস্তবতা এক নয়। আমরা একটা সাময়িক টেনশনের মধ্যে আছি যদিও তবে অর্থনীতির অন্য সুচকগুলোর উর্ধ্বমূখী প্রবনতা সব ঝুকি কাটাতে সাহায্য করছে। হয়েছেও তাই। এই কদিনে ডলারের বিপরীতে আবার শক্তিশালী হয়ে উঠছে টাকা। লেনদেনের ভারসাম্যে স্থিতি এসেছে। সরকারে ঋণ ২১ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ১৬ হাজার কোটিতে নেমে এসেছে। প্রতিদিন আরো নামছে। আমদানি পণ্য হিসাবে মুলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে। বিলাসদ্রব্য আমদানি আপাতত কমেছে। রেমিটেন্স এবং রপ্তানি আয় বাড়ছে। জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট রেমিটেন্স পাঠায় ১২১ কোটি ডলার, ডিসেম্বর মাসে যা ছিল ১১৪ কোটি ডলার। সর্বশেষ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৯৭৫ কোটি ডলারে। টাকার বিনিময় হারের অবচয় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গতিশীল রাখার পাশাপাশি আমদানি প্রবৃদ্ধি পরিমিত করে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনছে। রেমিটেন্সের পরিমাণ বাড়ছে। টাকার মূল্যও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রফতানিতে ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, আমদানির চাপ কিছুটা কমাসহ নানা কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে। চলতি মাসেও একই চিত্র থাকবে বলে ধারণা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


আসুন প্রথমেই আমরা দেখি সর্ব সাম্প্রতিক যে সকল সমস্যা আমাদের মোকাবেলা করতে হয়েছে সে গুলো কি কি!
১। এক অতি গুজব আক্রান্ত ও মুনাফালোভীদের চক্রান্তের জালে বিদ্ধ শেয়ার বাজার,
২। ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত মুনাফা, রেমিটেন্সের বিপুল প্রবাহও রপ্তানি আয়ের উচ্চ প্রবৃদ্ধির দরুন বিপুল পরিমান ক্যাশ ফ্লো,
৩। সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংক ঋণ গ্রহনের প্রবনতা,
৪। জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমান বৃদ্ধি,
৫। স্থানীয় পণ্য সরবরাহ ব্যবসায় অব্যবস্থাপনা ও বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হেতু ভোগ পণ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধি,
৬। আর্থিক থাতের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের স্লথ গতি।

সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল শেয়ার মার্কেটে। আজকের আলোচনা তাই শুধু শেয়ার মার্কেটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে। আমরা দেখেছি কতিপয় ফাইনান্সিয়াল জিনিয়াস আইনের দৃশ্যমান কাঠামোর মধ্যে থেকে চমকপ্রদ কিছু কারসাজির পন্থা উদ্ভাবন করে পুজিবাজার লুটে নিয়েছে। অভিনব কৌশল, নতুন উদ্ভাবনী ও লোভের ফাঁদ তৈরি করে ঘটানো হয়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ।

আইপিওর আগে দেশের শেয়ারবাজারের জন্য নতুন ও অভিনব সব প্রস্তাব প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্ট বিক্রি, প্লেসমেন্টের কার্ব বাজার, প্রেফারেন্স শেয়ার, সরাসরি তালিকাভুক্তি, রিপিট আইপিও, কোম্পানি সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন, ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ইত্যাকার এনে প্রাথমিক বাজারকে অতি মূল্যায়িত করে এক দফা অর্থ তুলে নেওয়া হয়। আর সেকেন্ডারি বাজারে এই অতি মূল্যায়ন ধরে রেখে যোগসাজশ ও গোষ্ঠীবদ্ধ লেনদেন করে মূল্য বাড়ানো হয় আরেক দফা ।

সবশেষে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবিসহ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকে সংরক্ষিত অমনিবাস হিসাব থেকে ৮৩০০ (ডিএসই) সূচকের সময় লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, পিএফআই সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, আল আরাফাহ ব্যাংক ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস ও আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং লিমিটেড এই কটি শেয়ার হাউজের মাধ্যমে বড় অঙ্কের শেয়ার এগ্রসিভ সেল, ফোর্স সেল, পুষ সেল ইত্যাদি করে করে পতন ঘটানো হয়েছে বাজারের। শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে এমনকি অখ্যাত বিদেশি কোম্পানি ডেকে এনে তার প্রচারও চালানো হয়েছে। জেম গ্লোবাল নামের এই কোম্পানিও বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে উঠতি বাজারে ১৪২ শতাংশ মুনাফা করে।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত শেয়ারবাজার-বিষয়ক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসইসির সাবেক সদস্য সাহাবুব আলম, সরকারি দলের সাংসদ আ হ ম মুস্তফা কামাল ও সাবেক সাংসদ এইচ বি এম ইকবাল, বিরোধী দল বিএনপির সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু, তারেক জিয়ার বন্ধু লুৎফুর রহমান বাদল ও তার স্ত্রী এবং ছিয়ানব্বই সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির অন্যতম দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান এবং ইয়াকুব আলী খোন্দকার, গোলাম মোস্তফা, রকিবুর রহমানের নিকটাত্মীয় আরিফুর রহমানসহ আরও বেশ কয়েকজনকে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী করা হয়। বাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-এসইসি’র নির্বাহী পরিচালক (ওএসডি) আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া তার স্ত্রী রোকসানা আখতারের নামে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস, বিএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডে চারটি বিও একাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের শেয়ার লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ৭ই এপ্রিল কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার মাস খানেক আগে এসইসি আনোয়ারুলকে ওএসডি করে।
রোকসানা আখতার আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউসের আওতায় তিতাস গ্যাস, সামিট পাওয়ার, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, আফতাব অটো ও অন্যান্য কম্পানির শেয়ার কিনেছেন ৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। তা বিক্রি করেছেন ১০ কোটি ১১ লাখ টাকায়। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের আওতায় লংকাবাংলা ফিন্যান্স, সামিট পাওয়ার, তিতাস গ্যাস ও অন্যান্য কম্পানির শেয়ার কেনেন ছয় কোটি ১৩ লাখ টাকার। বিক্রি করেন তিন কোটি ৯১ লাখ টাকায়। আবার বিএলআই সিকিউরিটিজের আওতায় বেঙ্ফার্মার শেয়ার কেনেন চার লাখ ২৭ হাজার টাকায়। বিক্রি করেন চার লাখ ৯৮ হাজার টাকায়। এনবিএল সিকিউরিটিজের আওতায় বেঙ্টেঙ্, যমুনা অয়েল, লংকাবাংলা ও অন্যান্য শেয়ার কেনেন পাঁচ কোটি ছয় লাখ টাকার। বিক্রি করেন চার কোটি ৯৬ লাখ টাকায়।

দুর্নীতির চিত্র-২ অংশে তুলে ধরা হয় আইসিবির সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক ও বর্তমান হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক কফিলউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর দুর্নীতির নানা ঘটনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি শেয়ার লেনদেন করেছেন তাঁর স্ত্রী ফারজানা আকতার ও স্ত্রীর ভাই মনসুর বিল্লাহর অ্যাকাউন্টে। তাঁদের লেনদেন সংঘটিত হয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। তাঁরা দুজনই আইএফআইসি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। এই কৌশলে দুই মাসে কফিলউদ্দিন অর্জন করেন তিন কোটি টাকা। কফিল উদ্দিনের শ্যালক ২০১০ সালের ২২ মার্চ শেয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে ২০৫৬৬৯৯ নম্বর চেকের মাধ্যমে আইএফআইসি ব্যাংক হিসাবে ৭২ লাখ টাকা জমা করেন এবং ওই টাকা একই বছরের ২৪ মার্চ উত্তোলন করে দুটি এফডিআর করেন এনসিসি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায়। কফিল উদ্দিনের নামে ৩৬ লাখ টাকা এবং ফারজানা আকতারের নামে ৩৬ লাখ টাকার এফডিআর। তদন্তে বলা হয়, মনসুর বিল্লাহর নামে 'ডামি' অ্যাকাউন্ট খোলা হয় এবং এর প্রকৃত সুবিধাভোগী ছিলেন কফিলউদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী ফারজানা আকতার। একই ভাবে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি মনসুর বিল্লাহ ২০৫৬০৯৩ এবং ২০৫৬০৮৭ নম্বর চেকের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা জমা করেন এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি একই অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আইএফআইসি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় ফারজানা আকতারের নামে ৪০ লাখ করে মোট ৮০ লাখ টাকার দুটি এফডিআর করে দেন। একই প্রক্রিয়ায় ২০১০ সালের মার্চ মাসে আইডিএলসি ফাইন্যান্স থেকে ফারজানা আকতারের ইনভেস্টর্স অ্যাকাউন্টের টাকা হাতবদল হয়ে তাঁর স্বামী কফিল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর যমুনা ও এঙ্মি ব্যাংকে তিনটি ফিঙ্ড ডিপোজিটে মোট এক কোটি টাকা জমা করা হয়। ফারজানা আকতারের নামে এনসিসি ব্যাংক মতিঝিল শাখায় দুটি এফডিআরে ৬০ লাখ টাকা জমা হয়। এভাবে মাত্র দুই মাসের মধ্যে কফিলউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর নামে এফডিআর হয়েছে তিন কোটি টাকা এবং হিসাবে আরো জমা আছে ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে তাঁর অর্জন তিন কোটি টাকা।

তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে বলেছে, এবারের পুঁজিবাজার ধস ছিয়ানব্বই সালের ধসের মতো নয়। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির এবং ভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত। ছিয়ানব্বইয়ের ধস ছিল সম্পূর্ণ সেকেন্ডারি বাজারের ঘটনা। কিন্তু এবারের মূল ঘটনা অনেকটা পর্দার অন্তরালে প্রাথমিক বাজারের কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত, যা এসইসির সমর্থন-সহায়তায় ইস্যুয়ার, ইস্যু-ম্যানেজার, ভ্যালুয়ার, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট এবং প্লেসমেন্টধারীদের একটি শক্তিশালী চক্রের সিন্ডিকেশনের কুফল। বলা হয়েছে, আইপিও ইস্যুর আগে প্রিমিয়াম, বুক বিল্ডিং, প্লেসমেন্টের অপপ্রয়োগে যে বিশাল মূল্যস্ফীতির (শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি) চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, সে চাপেই সেকেন্ডারি বাজারে বা উন্মুক্ত পুঁজিবাজারে অতি মাত্রায় অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করেছিল। প্রাক-আইপিও মূল্য কেলেঙ্কারি রোধ করতে এসইসি ব্যর্থ না হলে সম্ভবত এবার বাজারে ধস হতো না। তারা বলেছে, প্রথম পর্বে আলোচিত ব্যক্তি/সংস্থার সম্ভাব্য ভূমিকার তুলনায় প্রাক-আইপিও সিন্ডিকেটের ভূমিকা পর্বতপ্রমাণ।

ডিএসই ও সিএসই সারা দেশে ব্রোকারেজ হাউস ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে বাজারে আকৃষ্ট করেছে। তারা রোড শো করে, গণমাধ্যমে আহ্বান জানিয়ে বাজারে লোভের পরিবেশ তৈরি করে। তদন্ত কমিটি বলেছে, যদিও সংগত কারণেই মনে হতে পারে যে অধিকসংখ্যক বিনিয়োগকারীকে শেয়ারবাজারে সম্পৃক্ত করা অর্থনীতির জন্য ভালো একটি পদক্ষেপ। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং আর্থিক ঝুঁকি বহনের ক্ষমতা নিশ্চয়ই নজরে রাখতে হবে। উপরন্তু যেখানে স্টক মার্কেটে সংশ্লিষ্ট সবাই একবাক্যে বলে আসছে, বাজারে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা কম, সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ক্ষুদ্র, অপরিপক্ব, অ-তথ্যসমৃদ্ধ বিনিয়োগকারীকে বাজারে টেনে আনা কোন মতেই সুচিন্তিত পদক্ষেপ হতে পারে না।
তদন্ত কমিটির কাছে প্রকাশ পেয়েছে যে গ্রাম পর্যায়ে শেয়ার বাজার সম্বন্ধে নিম্নমাত্রায় শিক্ষিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে কর্মরত অথবা বিনিয়োগরত তাঁদের ভাই-বন্ধু-আত্মীয়র উৎসাহে বা প্ররোচনায় বিও হিসাব খুলে তাঁদের সাধ্যের অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। শেয়ারবাজারের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতিতে এ রকম স্বল্পসংখ্যক বিনিয়োগকারী লাভবানও হয়েছেন। তবে অধিকাংশই এখন উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতা রোধে বা নিয়ন্ত্রণে এসইসি লক্ষণীয় ভূমিকা পালন করেনি।

তদন্ত কমিটি বলেছে, স্টক মার্কেটের বাইরে এসইসির প্রত্যক্ষ সহায়তায়, সহযোগিতায় এবং সম্ভবত শীর্ষ নির্বাহীদের সংশ্লিষ্টতায় প্রাক-আইপিও পর্যায়ে যে মূল্য কারসাজি ঘটেছে, তা অপ্রত্যাশিত, অনৈতিক এবং সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেশনের ফল। প্রকৃতপক্ষে এসইসির ছত্রচ্ছায়ায় একটি বেআইনি কার্ব বাজার সৃষ্টি করা হয়েছিল, যেখানে ডিম্যাট (শেয়ারের যান্ত্রিকী উপস্থাপন) তো দূরের কথা, কাগুজে শেয়ারও নয়, টোকেনের মাধ্যমে শেয়ার প্লেসমেন্ট ও প্লেসমেন্ট ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়েছে। যদিও এসইসির অনুমোদন ছাড়া শেয়ার ইস্যু ও বিক্রি আইনসিদ্ধ নয়, তবু সেটাই ঘটেছে।এসইসির শীর্ষ কর্মকর্তা, ডিএসই/সিএসইর সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্টজনদের এই প্লেসমেন্ট শেয়ার দিয়ে শুধু সিন্ডিকেট শক্তিশালী করা হয়নি, সমাজের উচ্চস্তরকে দুর্নীতির জীবাণু দ্বারা সংক্রমিতও করানো হয়েছে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৭০ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৪২৫ কোটি টাকায়। জিএমজি এয়ারলাইনসের ৬০ কোটি টাকার শেয়ার মৌখিক প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৩০০ কোটি টাকায়। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ এর পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার প্লেসমেন্টে বিক্রি হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। এসটিএস হোল্ডিংয়ের শেয়ারপ্রতি আয় ১.৪৪ টাকা। ২০০৬ থেকে ’০৮ পর্যন্ত এটা ছিল লোকসানি কোম্পানি। অথচ বুক বিল্ডিংয়ে এর নির্দেশক মূল্য হয়েছে ১২৫ টাকা। এই ১২৫ টাকার শেয়ার মাত্র ১৫ টাকা করে কোম্পানি তাদের অর্ধেকের বেশি শেয়ার প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করেছে। কিন্তু কাদের কাছে বিক্রি করেছে, তা প্রকাশ করেনি। এসইসি তদন্তও করেনি, যথার্থতাও দেখেনি।
আবদুস সালাম নামের এক ব্যক্তির লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের অমনিবাস অ্যাকাউন্টে শেয়ার লেনদেনের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, তিনি ২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল ৮৭৮৩৮০৭ ও ৮৭৮৩০৬ নং চেকের মাধ্যমে এক কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা করেন এবং ১৫ এপ্রিল তা তুলে পে-অর্ডারের মাধ্যমে দুই কোটি টাকা জিএমজি এয়ারলাইনস লিমিটেডকে প্রদান করেন। তদন্তে দাবি করা হয়, এই টাকা জিএমজি কম্পানিকে প্লেসমেন্ট বাবদ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও জিএমজি এখনো আইপিও অনমুতি পায়নি। জিএমজি এয়ারলাইনসের সম্পদ পুর্নমূল্যায়ন, শেয়ারমূল্য নির্ধারণ, প্লেসমেন্ট, আইপিও ইত্যাদি বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ও সুশীল সমাজে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
এবি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কম্পানি এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও আরআই শমসেরের নামে ১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার গ্রহণের তথ্য দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নিজ নামে প্লেসমেন্ট নিয়ে অধিক মূল্যে বিক্রয় করে লাভবান হয়েছেন এবং এ কাজটি অনৈতিক ও স্বার্থসংঘাতমূলক। আরআই শমসের যেসব কম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার পেয়েছেন তা হলো_ওরিয়ন ফার্মা ১০ লাখ শেয়ার, মালেক স্পিনিং দুই লাখ, বিকন ফার্মা চার লাখ, ইউনাইটেড এয়ার ৪০ হাজার, ট্রাস্ট ব্যাংক আড়াই লাখ, জনতা ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড দুই লাখ, প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও স্যালভো কেমিক্যালের এক লাখ শেয়ার।

তদন্ত প্রতিবেদনে সাতটি কোম্পানির প্রেফারেন্স শেয়ার ছাড়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাত্র দু-তিন মাসের জন্যয অগ্রাধিকার বা প্রেফারেন্স শেয়ার ছাড়া হয়েছে। পিপলস লিজিং মাত্র এক মাসের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। অগ্রাধিকার শেয়ারগুলো সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সময় বাজারমূল্যের গড়ের চেয়ে ২৫ থেকে ৪৫ ভাগ ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রূপান্তরের আনুপাতিক হার এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে ইস্যু কোম্পানি বেশ কিছু প্রিমিয়াম (উপরি মূল্য) পায়। যেমন ১০ টাকার অগ্রাধিকার শেয়ার মেয়াদ শেষে তিনটি সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর হয়েছে অর্থাৎ ১০: ৩ অনুপাত।

ব্যক্তি খাতে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রিমিয়াম মূল্যে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পাঁচটি কোম্পানি বড় অঙ্কের মুনাফা তুলে নিয়েছে। তদন্ত কমিটি বলেছে, এমজেএল ও এমআই সিমেন্ট অতি উচ্চ প্রিমিয়ামে অর্থ সংগ্রহ করেছে। সে তুলনায় আরএকে সংযতভাবে গ্রহণযোগ্য প্রিমিয়ামে পুঁজি সংগ্রহ করেছে। একই কারণে আরএকের বাজারমূল্য সেভাবে না কমায় বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ।রিপিট আইপিও ছেড়ে গোল্ডেনসন ১০ কোটি টাকার পুঁজি সংগ্রহ করেছে। শেয়ারের মূল্য প্রশ্নের সম্মুখীন মনে করে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া বে-লিজিংয়ের আইপিওতে প্রিমিয়াম মূল্য ১৫০ টাকা, মেরিকোতে প্রিমিয়াম মূল্য ৮০ টাকা নেওয়ার ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলেছে তদন্ত কমিটি।
আবার লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ আদৌ আইপিওতে যেতে পারে কি না, সেটাই প্রশ্নবোধক মনে করে কমিটি। তার ওপর ২৪০ টাকা প্রিমিয়াম দাবি করে আইপিও আবেদনে! ইউনিক হোটেলের ১৮৫ টাকা প্রিমিয়াম দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।

সেকেন্ডারি বাজারে কারসাজি: কমিটির প্রতিবেদনে সেকেন্ডারি বাজারে মূল্য কারসাজির তথ্য রয়েছে। কিছু লেনদেনকারী নিজেদের মধ্যে কেনাবেচা করে দর বাড়িয়েছেন। আর মূল্যবৃদ্ধির একপর্যায়ে তাঁরা বেরিয়ে গেছেন। প্রতিবেদনে কয়েকজনের এমন লেনদেনের তথ্য দিয়েছে। সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা এবং সহযোগীরা রাশেদা আক্তার মায়া (সিরাজদ্দৌলার স্ত্রী), হাবিবুর রহমান (সিরাজদ্দৌলার অ্যাকাউন্ট শনাক্তকারী)। ইয়াকুব আলী খোন্দকার এবং সহযোগীরা সারাহ খন্দকার (ইয়াকুবের কন্যা) ও ইয়াসিন খোন্দকার (ইয়াকুবের ভাই) ইত্যাদি। এঁদের দুজনের নাম এসেছে বারবার। ২০১০ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে আবু সাদাত মো. সায়েম এবং আবদুল মোবিন মোল্লাহ (প্রথমজনের ভাই) ‘সিরিয়াল ট্রেডিং’-এর মাধ্যমে “ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড (ইএইচএল)-এর শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে মুনাফা করেছেন। ২৭ শে জুলাই থেকে ১৯শে আগস্ট পর্যন্ত এই দু’জন ৮টি ভিন্ন বিও একাউন্টে প্রতিদিন একাধিক ট্রেডের মাধ্যমে বাজারে এই শেয়ারে লেনদেনের প্রায় ২৫ শতাংশ সম্পন্ন করে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছেন। এ সময়কালে ইএইচএল-এর শেয়ারের দাম ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৪৫ টাকা হয়। এ একাউন্টগুলোর মাধ্যমে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯২০টি শেয়ার ৪৮ কোটি ১৮ লাখ টাকায় কেনা হয়। আর ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৪০টি শেয়ার ২৫ কোটি ৮১ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। এতে ১৬ দিনের ব্যবধানে ওই দু’জন ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা মুনাফা করেন বলে তদন্ত কমিটি দেখতে পেয়েছে। সৈয়দ সিরাজুল হক, রাশেদা আকতার মায়া, হাবিবুর রহমান, ইয়াকুব আলী খোন্দকার, সাহারা খোন্দকার এবং আনোয়ার খান নিজেদের মধ্যে ‘বাল্ক ট্রানজ্যাকশন’-এর মাধ্যমে অতি সহজে ‘আর্টফিসিয়াল অ্যাকটিভ ট্রেডিং এনভায়রনমেন্ট’ সৃষ্টি করে বাজারে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অভিনব কায়দায় কারসাজি করে গোলাম মোস্তফা নামের আরেক বিনিয়োগকারী বাজারে শেয়ারের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন। ২০০৯ সালের ২৭শে ডিসেম্বর ‘অলিম্পিক’ শেয়ার কেনার জন্য গোলাম মোস্তফা ১৩টি ‘বাই অর্ডার’ দিয়েছিলেন এবং রহস্যজনকভাবে প্রত্যেকটি ‘বাই অর্ডার’ই প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তার সেই ‘বাই অর্ডার’ বাজারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করায় অলিম্পিকের শেয়ারের দাম বেড়েছিল। ২৭শে ডিসেম্বর অলিম্পিকের দাম ১০০ টাকা বেড়ে ১৪৮০ টাকা হয়।

২০১০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী নাসিমা আকতার ‘ইউনিয়ন ক্যাপিটাল’- এর ৭ লাখ ৫২ হাজার এবং ৮০০০ শেয়ার কেনেন যথাক্রমে পিএফআই সিকিউরিটি এবং উইফ্যাং সিকিউরিটি লিমিটেডের মাধ্যমে। একই সময়ে মোস্তফা ওই দু’টি ব্রোকারেজ হাউজের মাধমে তার অন্য একটি একাউন্টে ‘ইউনিয়ন ক্যাপিটাল’-এর ৬ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ শেয়ার বিক্রি করেছেন।
একই দিনে মোস্তফা উইফ্যাং সিকিউরিটিজের মাধ্যমে ‘নাভানা সিএনজি’র ৩ লাখ ২ হাজার ৭০০টি শেয়ার কেনেন এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ একাউন্টের নামে পিএফআই সিকিউরিটির মাধ্যমে ‘নাভানা সিএনজি’র ৪ লাখ ২ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন।

২০১০ সালের অক্টোবরে ডিইসি সুচকের অতি উর্ধ্বগতি দেখে বোদ্ধারা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন পতন সন্নিকটে। সেই অনুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন ও শুরু হয়েছিল। কিন্তু নতুন যে সব বিনিয়োগকারী পুজিবাজারের কিছুই না বুঝে সপ্তাহের বিনিয়োগে দশগুন লাভ নিয়ে ফিরে যাবেন বলে তখনও আসছিলেন তারা সবাই ধরা পড়ে যান পুঁজিবাজারের হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালাদের ফাঁদে। ফলাফল কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ। প্রাতিষ্টানিক বিনিয়োগকারীরা সবাই উচ্চ মুনাফা ঘরে তুলে নিল কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা যারা বেশী লাভের আশায় ঘটি বাটি বিক্রি করে ধার কর্জ করে মার্কেটে এসেছিল তারা সবাই নিমিষে ফতুর হয়ে গেল। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত শেয়ারবাজার-বিষয়ক তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর একবারে কিছুই করার চেষ্টা হয় নি তাও নয়। সরকার যে দুয়েকবার এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইছিল সে কবারই এরা বাজারকে শুইয়ে দিয়ে বিনিয়োগকারীদের রাস্তায় নামিয়ে এনেছে এবং সরকারকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। শংকার বিষয় হলো এরা এরই মধ্যে সাধারন বিনিয়োগকারীদের রাজপথে নামিয়ে বাজার স্বাভাবিক করার কথা বলে দায়মুক্তি পাবার চেষ্টাও করেছে।
কিন্তু এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি? কারসাজি যারা করেছে তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজে অতি প্রভাবশালী লোক। তাদের গ্রেফতারের পরিনাম ভয়াবহ হতে পারে। দৈনন্দিনের বাজারে আগুন লাগতে পারে, মুদা বাজার চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বেশ কিছু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অসংখ্য শ্রমিক বেকার হয়ে যেতে পারে। দেশে একটা চরম নৈরাজ্যশীল পরিস্থিতি এরা এদের আর্থিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তৈরী করতে পারে। কিন্তু তারপরও এদের বিরুদ্ধে চরম একটা ব্যবস্থা এখনই নেয়া দরকার। এসব সমস্যা মোকাবেলা করার মতো প্রস্তুতি কেনো এখনো অর্থমন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট আমলারা নিতে পারলনা সেটা ও একটা গুরুতর প্রশ্ন বটে। অবশ্য এর মধ্যেও সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের শিল্পখাতের সবাই চোর নয়। আর পুঁজি সরবরাহের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার নয় বরং ব্যাংকিং খাতই প্রধান ভুমিকা রাখছে। যে কারনে এই পতনের পরেও পুঁজির অভাবে দেশে কোন শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যায় নি। চাকুরির বাজার বিধ্বস্থঃ হয়ে যায়নি। বেকারত্বের হার বাজেনি। বরং শিল্প প্রবৃদ্ধির উচ্চহার অব্যাহত থেকেছে।

এখন কথা হচ্ছে ভঙ্গুর এই পুঁজিবাজার, যে বাজার গুজব নির্ভর, যে বাজারে অনভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর প্রাধান্য, যে বাজার স্বল্প পরিমান শেয়ার নিয়েই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে তার ভবিষ্যত কি? যারা সপ্তাহের বিনিয়োগে দশগুন লাভের লোভে পড়ে এসে সর্বস্ব খুইয়েছেন তাদেরই বা কি হবে? যারা চাইছেন সরকার অপরাধী কারসাজিকারকদের গ্রেফতার করে পুজিবাজারে আরও ঝামেলা তৈরী না করে তাদের বিনিয়োগকৃত টাকা কোনভাবে ফিরিয়ে দিক বা তাদের বিনিয়োগ যাতে শেয়ারবাজার থেকে তারা অদ্যই ফিরে পান সে লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক তা কতটা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন হবে? কৃত্রিম বাজার দেশের জন্য দায়ই হবে আর এতে বারবার ধরা খাবে বিনিয়োগকারীরাই। কথা হচ্ছে ব্যবসায় লাভ লোকসান হবেই। আজ যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে এসে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তারা শুধু লাভ করতেই এখানে এসেছিলেন তা তো নয়। উচ্চ মুনাফার জন্য উচ্চ ঝুঁকি গ্রহন করতেই হয়। আর ঝুঁকি যেখানে বেশী সেখানে বিনিয়োগের আগে বিবেচনার প্রয়োজনও বেশী। কারন লোকসানের দায়টা তো তাকেই বহন করতে হবে যে বিনিয়োগ করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতারকদের মার্কেটে রেখে প্রাতিষ্টানিক বিনিয়োগকারীদের জোর করে সেখানে ফেরত পাঠিয়ে মার্কেটে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে পুজিবাজারকে আবার আগের মতো অতি মুল্যায়িত অবস্থানে ফিরিয়ে নেবার যে ভয়াবহ প্লান এসইসি সংশ্লিষ্টরা করেছে তা যে ভূল সিদ্ধান্ত সেটা আবার প্রমানিত হবে মনে হচ্ছে। বাজারকে তার নিজের মতো করে চলতে না দিয়ে পুশ করে বাজারকে গতিশীল করার প্রচেষ্টা এবং নতুন নতুন নীতিমালা চাপিয়ে দিয়ে ব্যক্তি শ্রেনীর বিনিয়োগকারীদের আরও আতঙ্কিত করে তোলা হয়েছে বরং। হাউসগুলো প্রতিদিন ছড়াচ্ছে নানা গুজব। এখন এখানে গোয়েন্দারা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র খুজে পাচ্ছে। অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার মধ্যদিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ার চক্রান্ত দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।

প্রশ্ন হলো তাহলে কি করে এ সকল চক্রান্তকে এড়িয়ে পুজিবাজারকে আবার স্বাভাবিক করে তোলা যায়? সব হাউজের লাইসেন্স বাতিল করে আইসিবির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এক হাউজে একত্রিত করা, ক্ষতিগ্রস্থদের মোট লেনদেন হিসাব করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার তুঘলকি সিদ্ধান্ত সমুহ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কতটা জটিল হতে পারে ভাবা দরকার। অবশ্য এটি এখন এদেশে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নও বটে।
পুজিবাজার স্থিতিশীল করার স্বার্থে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কিছু পদক্ষেপ নেয়া দরকার, যেগুলো এমনটা হতে পারে-

১। এসইসি র বর্তমান স্ট্রাকচার খোলনলচে সহ বদলে ফেলতে হবে। নতুন অর্গানোগ্রামে নতুন করে এসইসি, ডিএসসি, সিএসসি পূর্নগঠন করতে হবে।

২। কারসাজির জন্য দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের অর্জিত স্থাবর অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশ ফান্ডের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

৩। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

৪। শর্টসেল, জমাকৃত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত শেয়ার ক্রয়, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি মার্জিন ঋণ প্রদান, অনুমোদিত শেয়ারে আর্থিক সমন্বয় (নেটিং) সুবিধা প্রদানসহ ব্রোকারেজ হাউজের অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

৫। যে সকল ব্রোকারেজ হাউজ ইতিপূর্বে কারসাজির সাথে জড়িত ছিল তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

৬। ব্যাংকিং খাত কে পুজিবাজারে বিনিয়োগ না করাতে প্রয়োজনে আইন প্রনয়ন করে নিরুত্সাহিত করতে হবে।

৭। প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্ট বিক্রি, প্লেসমেন্টের কার্ব বাজার, প্রেফারেন্স শেয়ার, সরাসরি তালিকাভুক্তি, রিপিট আইপিও, কোম্পানি সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন, ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ইত্যাদি কর্মকান্ডকে নিরীক্ষা চালুনের ভেতরে নিয়ে আসতে হবে।

৮। অভিযোগ সেলকে কার্যকর এবং যথাযথ ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। কারসাজি রোধে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পুজিবাজার নিয়মিত মনিটরিং করা ইত্যাদি।

বিনিয়োগকারীদের প্রতি পরামর্শ হলো হুজুগ আর গুজবে কান দিবেন না। তাহলেই অর্ধেক সমস্যার আপনাআপনি সমাধান হয়ে যাবে। মার্কেটে বড় পুজির বিনিয়োগকারীরা খেলা খেলতেই আসবে সবসময়। সারা দুনিয়ায় তাই হয়। কিন্তু সবখানে বিনিয়োগকারীরা সর্তক থাকেন। ফলে ব্লাইন্ডগেম যারাই খেলতে আসে তারা খুব বেশী দুর যেতে পারে না। তবে আমাদের আরেকটি সমস্যা হল আমাদের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্টানে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগই অসৎ। সমস্যার যে কারনেই শুরুতেই চিহ্নিত করা গেলেও সমাধান হয় না।
সরকার এদের রেসকিউ করার জন্যে ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন:
১। ঋনের সুদ মাফ করে দেয়া
২। ফোর্স সেলের কারনে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের ক্ষতিপুরনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।(এরাই সত্যিকারের ক্ষতিগ্রস্থ)
৩। ৫০০০ কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ডের মাধ্যমে বাজারে নগদ অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি।(যেটি জঘন্য পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু আর কদিনের মধ্যে ৫০০০ কোটি টাকার এই ফান্ড আসতে যাচ্ছে গুজবে আজকের মার্কেটে লেনদেনের উঠানামা ছিল লক্ষনীয়। সমস্যা হচ্ছে আমাদের পুজিবাজারে কোম্পানীর মৌলিক ভিত্তির উপর বা বিনিয়োগের উপর বা লাভ লসের উপর ভিত্তি করে শেয়ারের মূল্যের উঠানামা নিয়ন্ত্রিত হয় না। এখানে অকারনে গুজবকে কেন্দ্র করেই এই উঠানামা চলে। ফলে গুজবের কারনে মার্কেট পতন যখন ঘটবে তখন এই ফান্ড ব্যবহার করে শেয়ার ক্রয় করে মার্কেট পতন সামলানোর যে চিন্তা আখেরে সেটা বাজার কারসাজিকারীদেরই আর লাভ ঘরে তুলতে সাহায্য করবে।)

কিন্তু যে সব বিনিয়োগকারী আনরিয়ালাইসড লসের শিকার হয়েছেন তাদের কে কোম্পানীল মুনাফা ডিক্লারেশনের জন্য ওয়েট করতে হবে। দুটো বোনাস পেলেই তাদের বেশিরভাগেরই লস উঠে যাবে। অথাৎ যেটা তারা লাভ করার চিন্তা বা স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটা হয়তো হেব না। সেক্ষেত্রে আনরিয়ালাইসড গেইনটা আর হবে না। কি আর করা। এটুকু মেনে নিতেই হবে।

রেফারেন্স:
১। http://songbadprotidin.com/pageid.php?id=3779
২। http://bdnews24.com/bangla/details.php?cid=54&id=185739
৩। http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&catid=49:2010-08-31-09-43-32&id=7738:2011-04-19-16-36-15&Itemid=68&month=3&year=2011
৪। http://banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=09586f3a443fd7ab6d9655064a0e5e37&nttl=0802201287226
৫। http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/07/27/36281
৬। http://www.dailynayadiganta.com/details/16778
৭। http://www.dailykalerkantho.com/print_news.php?pub_no=487&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=0
৮। http://www.shokalerkhabor.com/online/details_news.php?id=40828&&%20page_id=%2014?sid=
৯। http://www.bonikbarta.net/details.php?newsId=347
১০। http://www.asholkhobor.com/2012/02/03/2693/
১১। http://www.fbulletin.com/forum/read.php?forum=209&id=7561&quote=50103
১২। http://dailystockbangladesh.com/newspaper/news/details/29192
১৩। http://www.bdipo.com/blog/placement-share-to-come-in-market/
১৪। http://ekush.wordpress.com/2010/11/04/%E0%A7%AE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87-%E0%A7%AE%E0%A7%A6-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%9C-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%9C/
১৫। http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=5288eb0e18c0baec3d682e42a28013e7&nttl=1202201288323

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমতকার এনালাইসিস- আপনার বক্তব্য বেশ তথ্যনির্ভর- তবে উপসংহারে দুর্বল- সমস্যা উত্তরনের স্টেপ গুলা কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার গোল্ডিলক ইনভেস্টমেন্ট এর খবর কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাছা ইট উইল হেপেন! একটু পেসেনস ধরো--আগামী ডিসেম্বরে ২০১২ আপডেট দিবো তোমাকে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওকে বস। যদি বেটিং মাইন্ডেড হন তবে একটা ছোট বেট ধরবেন নাকি ডিসেম্বর ২০১২, ডিএসসি ইনডেক্স নিয়ে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এটা তো বেটিং এর ব্যাপার না! ধরো আরেকটা ইওরোপ রিসেশন গেলো সেকেনড বা থার্ড কোয়াটারে তকন কি আমার প্রেডিকশন কাজ করবে? না মডেল এ ভেরিয়েবলে ডুকানোর পরে নতুন কনক্লুশেন আসবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মানুষ প্রেডিক্ট করে আোনসার্টেনিটিকে ফ্যাক্টর করেই। যদি এসব অনিশ্চয়তা নাই থাকবে তবে আবার প্রেডিকশন কি?

এনিওয়ে, গত বিশ বছরে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটের ওয়ার্লড ইকোনমীর সাথে কোনো কোরিলেশন নেই। ইউরোপের জাহাজ নিয়ে মতিঝিলের আদার ব্যাপারীর অতো মাথাব্যাথা নাই। আপনি যখন ডাক দিয়ে সবাইরে গোল্ডিলক্স এর বাটির লোভ দেখাইছিলেন তখনও ইউরোপের ডেবট ক্রাইসিস ছিলো তুংগে, এখনও তার বিশেষ পরিবর্তন হয় নাই। সুতরাং মুখের পিছনে কিছু পয়সা ঢালতে তো অসুবিধা নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সরি আমি প্রেডিকট করি ম্যাক্রো ইকনোমিক এনালাইসিস দিয়া।

ভেরিবেয়েলিটি চেইনজ দ্যা সিচুয়েশন

কালকা সকালে ইসরাইল যদি ইরান আক্রমন করে আর তেলের দাম ১৫০ ডলার হয়, আই হ্যাভ টু রি এসেস মাই সিচুয়েশনস। সিমিলারলি- এক্সপোরট টু ইওরোপ যদি শ্রিনক করে ডবল ডিজিট দেন আই হ্যাভ টু রি এসেস!

এটা বেটিং এর বিষয়ে না- শেয়ার বাজার যদি বেটিং মনে করো তাইলে আর লস করলে কান্দো কেন?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যারা স্টক মার্কেটকে বেটিং মনে করে তারা লস করলে কানবে কেনো? আর বাংলাদেশের ম্যাক্রোইকোনমীর সাথে শেয়ার বাজারের সম্পর্ক নিয়ে কোনো স্টাডি আছে নাকি আপনার কাছে?

যাই হোক, যদি ডিসেম্বরেও আপনার ইনভেস্টমেন্ট সন্চয়পত্রের চেয়ে ভালো রিটার্ন না দেয় তবে আশাকরি সবার সামনে ব্লগে একটা 'মাফ চাহিয়া' পোস্ট দিবেন। এতো জবাবদিহিতা জবাব দিহিতা করেন, নিজেও সেটা ফলো করতে হবে, নাকি?

যদি রিটার্ন ভালো হয় তবে আমি নিজেই আপনার প্রশংসা করে একটা পোস্ট দিবো, সেখানে কোনো কার্পণ্য থাকবে না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১। এসইসি র বর্তমান স্ট্রাকচার খোলনলচে সহ বদলে ফেলতে হবে। নতুন অর্গানোগ্রামে নতুন করে এসইসি, ডিএসসি, সিএসসি পূর্নগঠন করতে হবে।

২। কারসাজির জন্য দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের অর্জিত স্থাবর অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশ ফান্ডের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

৩। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

৪। শর্টসেল, জমাকৃত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত শেয়ার ক্রয়, নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি মার্জিন ঋণ প্রদান, অনুমোদিত শেয়ারে আর্থিক সমন্বয় (নেটিং) সুবিধা প্রদানসহ ব্রোকারেজ হাউজের অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

৫। যে সকল ব্রোকারেজ হাউজ ইতিপূর্বে কারসাজির সাথে জড়িত ছিল তাদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।

৬। ব্যাংকিং খাত কে পুজিবাজারে বিনিয়োগ না করাতে প্রয়োজনে আইন প্রনয়ন করে নিরুত্সাহিত করতে হবে।

৭। প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্ট বিক্রি, প্লেসমেন্টের কার্ব বাজার, প্রেফারেন্স শেয়ার, সরাসরি তালিকাভুক্তি, রিপিট আইপিও, কোম্পানি সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন, ঋণকে শেয়ারে রূপান্তর, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ইত্যাদি কর্মকান্ডকে নিরীক্ষা চালুনের ভেতরে নিয়ে আসতে হবে।

৮। অভিযোগ সেলকে কার্যকর এবং যথাযথ ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। কারসাজি রোধে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পুজিবাজার নিয়মিত মনিটরিং করা ইত্যাদি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দুইটা শেয়ার কেলেংকারির দুইটাই আওয়ামি সরকারের আমলে। মূল উপসংহার হইল সরিষায় ভুত আছে।সরকার কোন ভাবেই দায় এড়াতে পারে না। টাকা সরকারের কর্তা ব্যাক্তিদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গেছে যে কারনে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওায়া হচ্ছে না। ব্যাবস্থা না নিলে আস্থাও ফিরে আসবেনা। চোর দের প্রভাব এত বেশি যে সরকার ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না, ওরা দেশকে বেকার সমস্যা সহ অর্থ বাজার একেবাকে নাংগা করে ফেলবে বললেত আস্থা ফেরার প্রশ্নই উঠেনা। জনগন ভুল কইরা হইলেও এখনো এইটা ভেবে সান্তনা পায় যে কেউ আইনের উর্ধে না আর এই আইনটা সরকার প্রয়োগ করবে। সরকারের চেয়ে শক্তিশালি কার অস্তিত আছে এবং সেটা চোরেদের তাহলে কোন ভরসায় লোকজন আবার সেয়ার মার্কেটে যাবে? হয়ত ইনভেস্টররা অনভিজ্ঞ এইটাই সবার জন্য সান্তনা এবং বারে বারে চিট করার বিশাল সুযোগ।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

টাকা সরকারের কর্তা ব্যাক্তিদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গেছে যে কারনে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওায়া হচ্ছে না।


সোর্স কি?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এইটা সোর্স এর ব্যাপার না, কান্ডজ্ঞানের ব্যাপার। হাওয়া ভবনে বসে তারেক কি করছে সেইটা বোঝার জন্য সোর্স লাগে না। সরকার একটা তদন্ত করছে, রিপোর্ট পাইছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয় নাই। এইখানে লেখক বুঝানোর চেষ্টায় আছে তারা খুব ক্ষমতাধর তাই কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই, কথাটা অর্থমন্ত্রী নিজেও বলছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কাওরে তার ভয় পাবার কথা না।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমারও একই কথা, ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা উদ্ধারের উপায় কি?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শেয়ার বাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে যাতে কোন কেলেঙ্কারী না হয় সে জন্যে সরকার আগে থেকেই সতর্ক ছিল। আর তাই পুজিবাজারের এইসব জিনিয়াসরা প্রাইমারি মার্কেটকে টার্গেট করে পুজিবাজার লুটে নেয়। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি সিকিউরিটিজ, আল আরাফাহ ব্যাংক ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস এগুলো কাদের প্রতিষ্টান আপনি জানেন নিশ্চই! এদের মালিকরা বাংলাদেশের আর্থিক খাতের মোগল, মিডিয়া ব্যবসায় সম্রাট। সরকার এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেছে ইতোমধ্যে। কিন্তু তারপরই পাল্টা আঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। আপনার মনে আছে নিশ্চই, রিপোর্ট প্রকাশের পর এরা এদের টাকার ক্ষমতা দিয়ে, মিডিয়ার ক্ষমতা দিয়ে জনাব ইব্রাহিম খালেদকেই খলনায়ক বানিয়ে ফেলেছিল বা ফেলেছে। সরকার যখন বড় ধরনের সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাজারকে সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছাকাছি নিয়ে আসতে চাইছে তখন এরা বড়ধরনের পতন ঘটিয়ে সাধারন বিনিয়োগকারীদের বারবার মাটে নামিয়েছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হরতালের মতো কর্মসূচী পালন করতে এদের প্ররোচিত করেছে। আর এসবই ঘটে গেছে সরকারের এ খাতে অমনোযোগিতার কারনে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে পুজিবাজার সংশোধনের যে সকল প্রস্তাব এসইসি কর্তৃপক্ষ গ্রহন করেছিল এরা সেসব পদেপদে বাধাগ্রস্থ করছে। তবে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই হয়তো।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আচ্ছা সন্নাসী সাহেব, আমাদের এই এতো আন্তরিক সরকার তাহলে আবার সালমান এফ রহমানকে কেনো শেয়ার মার্কেটের দ্বায়িত্ব দিলেন, এব্যাপারটা একটু খোলাসা করবেন কি? আপনি তো মনে হয় সরকারের অন্দরমহলে কে কি ভাবছে সবই জানেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সালমান এফ রহমানকে সরকার দায়িত্ব দেয়নি। এই ভদ্রলোক পৌরনিক দৈত্যের মতো ক্ষমতাবান হয়ে গেছেন। যে কারনে অনেকে বা ক্ষমতার শীর্ষের ব্যক্তিরা না চাইলেও তিনি জানেন কি করে জায়গা করে নিতে হয়। শুধু এই উর্দুভাষী ভদ্রলোক নয় কেলেংকারীর সাথে জড়িত আরো অনেকেই এসইসি, ডিএসসি আর সিএসসি এর মাথায় বসে আছেন। আর তারা আইনকে বগলে নিয়েই সেখানে বসে আছেন।

আপনার নিশ্চই মনে থাকার কথা ৯৬ এর কেলেঙ্কারীল পর বিএনপি এদের বা উনার বিচার টিচার নিয়ে যথেষ্ট হইচই করার পরও সাত বছরে কিছুই করেনি। কেন করে আমাদেরকে একটু বলবেন কি?

আর আপনার

আপনি তো মনে হয় সরকারের অন্দরমহলে কে কি ভাবছে সবই জানেন।
এই বাক্যটি আমার কাছে অপমানসূচক মনে হওয়ায় এর উত্তর দেয়অ থেকে বিরত থাকলাম। ভাল থাকবেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সরকার নিয়োগ দেয় নি, উনি নিজে যেয়ে ক্ষমতায় বসেছেন? যে হাসিনা হিলারী, ইউনুস কে কেয়ার করে না সে দরবেশের ভয়ে তটস্থ থাকে? আপনি কি পাগল না পেট খারাপ? মানুষে অন্ধ সাপোর্টের একটা লিমিট থাকে, আপনার সেটাও নেই। আপানকে বুদ্ধিবেশ্যা বললে সেটা বেশ্যাদের জন্যে অপমানকর, তাদেরও বুদ্ধি বিবেক আপানার চেয়ে বেশী।

এটা স্পষ্ট যেয়ে শেয়ার মার্কেট ময়ানিপুলেশন থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব টাকা খেয়েছে। ১৯৯৬ সালে শেখ রেহানার স্বামী ছিলেন শেয়ার কেলেংকারীর অন্যতম হোতা। এবার শেখ রেহানা-হাসিনা আউট সোর্সিং করে টাকাটা খেয়ে নিয়েছে। তাদের অন্যতম ব্যাগম্যান সালমান রহমান ভালোই সার্ভিস দিয়েছে এবার।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সালমানকে বসানো হয়েছে, সে নিজে ওখানে পৌঁছার কথা নয়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঠিক তাই। ফারমার।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সুন্দর প্রয়াস। প্রশংসনীয়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই আমি এইসব জটিল ব্যাপার স্যাপার কিছুই বুঝি না। শুধু বুঝলাম না যে সালমানের মত একজন যদি নিজের যায়গা করে নিতে পারে তবে সেক্ষেত্রে সরকারকে আমরা কেমন করে ছাড় দিতে পারি। সরকার তার ক্ষমতা খাটিয়ে চোর বাটপাড় শায়েস্তা করবে আমরা সেটাই বুঝি, সেজন্যই ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন করি। চোখের সামনে চোর বাটপাড় ক্ষমতায় বসবে আর আমরা সাফাই গাইবো যে এতই ক্ষমতাধর যে আমরা নাচার, আমরা যায়গা দেই না তবে এরা যায়গা করে নিচ্ছে?

আমি নিজে আওয়ামী সমর্থক, তাও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে শেয়ার কেলেংকারী কেন কেবল আওয়ামী আমলেই ঘটে এই প্রশ্ন আমার মত অনভিজ্ঞ মাথায় যখন খেলে তখন বোদ্ধাদের মনে আরো ভাল খেলে। যদিও কাগজে কলমে সরকারের শেয়ার বাজারে হস্তক্ষেপের অধিকার নাই বলে জানি। তারেক কত হাজার খেয়েছে সেই হিসেব দেখিয়ে কি মানুষকে বুঝ দেওয়া যাবে? উর্দুভাষী সালমান সাহেব শেখ কামালের বন্ধু ছিলেন, এই সম্পর্ক ধরে কেউ টান দিলে তার জবাব কি হতে পারে? বিএনপি আমলে উনি কেন যায়গা করে নিতে পারেননি?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার সাথে সহমত আদিল ভাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারিকে কিভাবে রেসকিউ করা যায় এই সম্পর্কে আপনার চিন্তাভাবনা কি ?

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বিনিয়োগকারীদের প্রতি পরামর্শ হলো হুজুগ আর গুজবে কান দিবেন না। তাহলেই অর্ধেক সমস্যার আপনাআপনি সমাধান হয়ে যাবে। মার্কেটে বড় পুজির বিনিয়োগকারীরা খেলা খেলতেই আসবে সবসময়। সারা দুনিয়ায় তাই হয়। কিন্তু সবখানে বিনিয়োগকারীরা সর্তক থাকেন। ফলে ব্লাইন্ডগেম যারাই খেলতে আসে তারা খুব বেশী দুর যেতে পারে না। তবে আমাদের আরেকটি সমস্যা হল আমাদের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্টানে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগই অসৎ। সমস্যার যে কারনেই শুরুতেই চিহ্নিত করা গেলেও সমাধান হয় না।
সরকার এদের রেসকিউ করার জন্যে ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন:
১। ঋনের সুদ মাফ করে দেয়া
২। ফোর্স সেলের কারনে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের ক্ষতিপুরনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।(এরাই সত্যিকারের ক্ষতিগ্রস্থ)
৩। ৫০০০ কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ডের মাধ্যমে বাজারে নগদ অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি।(যেটি জঘন্য পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। কিন্তু আর কদিনের মধ্যে ৫০০০ কোটি টাকার এই ফান্ড আসতে যাচ্ছে গুজবে আজকের মার্কেটে লেনদেনের উঠানামা ছিল লক্ষনীয়। সমস্যা হচ্ছে আমাদের পুজিবাজারে কোম্পানীর মৌলিক ভিত্তির উপর বা বিনিয়োগের উপর বা লাভ লসের উপর ভিত্তি করে শেয়ারের মূল্যের উঠানামা নিয়ন্ত্রিত হয় না। এখানে অকারনে গুজবকে কেন্দ্র করেই এই উঠানামা চলে। ফলে গুজবের কারনে মার্কেট পতন যখন ঘটবে তখন এই ফান্ড ব্যবহার করে শেয়ার ক্রয় করে মার্কেট পতন সামলানোর যে চিন্তা আখেরে সেটা বাজার কারসাজিকারীদেরই আর লাভ ঘরে তুলতে সাহায্য করবে।)

কিন্তু যে সব বিনিয়োগকারী আনরিয়ালাইস লসের শিকার হয়েছেন তাদের কে কোম্পানীল মুনাফা ডিক্লারেশনের জন্য ওয়েট করতে হবে। দুটো বোনাস পেলেই তাদের বেশিরভাগেরই লস উঠে যাবে। অথাৎ যেটা তারা লাভ করার চিন্তা বা স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটা হয়তো হেব না। সেক্ষেত্রে আনরিয়ালাইস গেইনটা আর হবে না। এটুকু মেনে নিতেই হবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বোঝার বিষয় আছে, পড়ছি।
অন্ততঃ চেষ্টা করেছেন বিশ্লষন করতে সহজ ভাষায় তা বলা যেতেই পারে।
গুড পোষ্ট।

**********************************************
"Do not make any decisions when you are angry And never make any promises when you are happy."


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেখায় পঞ্চতারকা। আপনি সমাধানের যে পথগুলো মন্তব্যে প্রস্তাব করেছেন, সেগুলো মূল লেখায় যুক্ত করে দিলে পূর্ণাঙ্গ হবে লেখাটি।

বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষকে শেয়ার বিক্রি করতে দেয়নি গত একবছর। কেউ যদি লসে বিক্রি করতে চায়, তাহলে সেটাকে ঠেকিয়ে রাখার দরকার কী? লসে বিক্রি করলেও মানুষের হাতে এতক্ষণে টাকা চলে যেত এবং সেই টাকায় আস্তে আস্তে কিছু কেনাবেচা হতো। কিন্তু এখন মানুষের হাতে টাকা নেই, শুধু কম্পিউটারের মনিটরে শেয়ার আছে। এখন তাই এই সস্তার বাজারেও ক্রেতা নেই। আর ক্রেতা না থাকায় বাজার বাড়তেও পারছে না। দুষ্ট এক চক্র।

একটা দেশের সরকার কত বড় আবাল হতে পারে, শুধুমাত্র শেয়ার বাজার নিয়ে তাদের গত একবছরের কাণ্ড দেখলেই সেটা বুঝা যায়, আগের বছরগুলো দেখার প্রয়োজন পড়ে না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ। আপনার পরামর্শ মান্য করা হল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সহমত আরিফ ভাই। আরেকটা কথা, আপনার ফেসবুক আইডি'র কি হইছে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনি তথ্যগুলো পান কোথা থেকে ভাই, কোনো বিশেষ আওয়ামী তথ্যকেন্দ্র হতে নাকি। আপনি বলছেন "ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রফতানিতে ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি" আজকে ডেলি স্টারে বলছে "Exports grew 4.11 percent to $2.14 billion in January, compared to the previous month, as orders were shifting to Bangladesh from other competing countries"। সংবাদটার শিরোনামটাই হলো "Export growth falls short of target" http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=222180।

ডেলি স্টারেই ৫ দিন আগে" Bangladesh's inflation hits 15yr high"
Fuel import, energy price hike, and taka's devaluation against the US dollar have jacked up Bangladesh's non-food inflation to 13.16 per cent in January -- which is the highest in the last fifteen years.

At a media conference yesterday, BBS shared the latest data on inflation and said for the first time in the country's history non-food inflation has been staying in double digit for the last three months. It was 11.38 per cent in December."

লক্ষ্যকরুন বাংলাদেশ বুরো ওফ স্ট্যাট বলছে স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রথম নন-ফুড ইনফ্লেশন পর পর তিন মাস দুই অংক ছাড়িয়েছে।

আপনি কোন দেশের ম্যাক্রোইকোনমী দেখে তাথৈ তাথৈ শুরু করেছেন ভাই?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=5288eb0e18c0baec3d682e42a28013e7&nttl=1202201288323 এই লিংকে গিয়ে হেটে আসেন। ইনফ্লুয়েশন সংকান্ত কোন তথ্যটা আমার ভূল?শেয়ার মার্কেট সম্বন্ধে যদি কোন তথ্য থাকে সেটা বলেন। এখানে না কুলালে আরেকটা ব্লগ লিখেন। আমি যেটা বলছি তার বিরুদ্ধ মত থাকতেই পারে। আমি তো আর আপনের মতো ইশ্বর না। স্টাটিসটিকগুলার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকেও পারলে একটু চোখ দিয়ে চেক করেন। ভাল থাকবেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রেমিটেন্স পর পর দুই মাস রেকর্ড ছাড়িয়েছে, কেম্নে কি? কোন দেশে এত লোক গেল? কবে গেল?

নচিকেতার গানে আছে, সবাই পন্য সেজে কাকে কিনবে কেযে, গোটাদেশ জুড়ে সোনাগাছি!

আমাগো গোটা দেশ জুড়ে আবাল গাছি অবস্থা। কুকুরের বাচ্চারা সেয়ার মার্কেটের টাকায় হুন্ডি করে বিদেশে পাঠিয়ে এখন রেমিটেন্স আকারে আনতেছে, টাকা হোয়াইটো হইতেছে। এটা পরিসংখ্যানের জন্য সাময়িক সস্তি হতে পারে কিন্তু লং রানে এগুলি কোন কাজে দেবে না।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জামাতি আবালর কানা চোখে অনেককিছু দেখে না, নিজের কানে অনেক কিছুই শোনে না। এখানে দেখেন আর চোখ ধন্য করেন।
http://www.bangladesh-bank.org/econdata/wageremitance.php?txtPeriod=1
http://www.bangladesh-bank.org/econdata/index.php
http://www.bangladesh-bank.org/econdata/intreserve.php
http://www.bangladesh-bank.org/econdata/monetarysurvey.php
http://www.bangladesh-bank.org/econdata/export/exp_rcpt_overall.php

আমাগো গোটা দেশ জুড়ে আবাল গাছি অবস্থা। কুকুরের বাচ্চারা সেয়ার মার্কেটের টাকায় হুন্ডি করে বিদেশে পাঠিয়ে এখন রেমিটেন্স আকারে আনতেছে, টাকা হোয়াইটো হইতেছে। এটা পরিসংখ্যানের জন্য সাময়িক সস্তি হতে পারে কিন্তু লং রানে এগুলি কোন কাজে দেবে না।


আর গাজা খাইয়া মন্তব্য করা দোষের কিছু না বাহে। করেন পইড়া আরাম পাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই লিংক গুলি আমারে দিলেন না কারে দিলেন বুঝলাম না। গাজা বিষয়ে আপনার উৎসাহ আছে সেইটা প্রপিক দেখলেও বোঝা যায়।

রেমিটেন্স বাড়ছে এটাতেতো আমি দ্বী্মত করিনাই। কেমনে বাড়ছে সেইটার ব্যাপারে আমার সন্দেহ আমি জানাইলাম। দুঃখের বিষয় আপনার লিংকগুলি থিকা ঘুইরা এমন কিছু পাইনাই যাতে সন্দেহ দূর হয়, তয় হুংকার শুইনা ডরাইছিলাম। সত্য।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এইসব কম বুঝি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কথা হচ্ছে ব্যবসায় লাভ লোকসান হবেই। আজ যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে এসে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তারা শুধু লাভ করতেই এখানে এসেছিলেন তা তো নয়। উচ্চ মুনাফার জন্য উচ্চ ঝুঁকি গ্রহন করতেই হয়। আর ঝুঁকি যেখানে বেশী সেখানে বিনিয়োগের আগে বিবেচনার প্রয়োজনও বেশী। কারন লোকসানের দায়টা তো তাকেই বহন করতে হবে যে বিনিয়োগ করেছে।


এই কথা মেনে নিলে আর কেদে লাভ কি? ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অতি মুনাফালোভী দৃষ্টিভিংগী আর রাঘব বোয়ালদের বেয়াড়াপনা যদি ঠেকানো না যায় তবে এইসব ধ্বস বার বার হবে। গ্যাম্বলিং শেয়ারগুলোর দাপটে যখন মৌলিকগুলো চান্স পায় না তখন মনিটরিং কোথায় ছিল? আমাদের নীতিনির্ধারকদের মাথায় কেন ঢুকে না যে, কাচায় না নোয়ালে বাশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস?

______________________________________
নিজেকে কখনও একা ভাবতে নেই......


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কথা হইল অতি মুনাফার লোভ কি বাঙালীর খালি আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসলেই পয়দা হয় কিনা?
যদি একটা আমাদের জাতিগত সমস্যা হয় তবে সব সরকারের আমলেই এই চরিত্র অটুট, এখানে টাউট রাঘব বোয়ালদের কন্ট্রোল কইরা ক্ষুত্র বিনীয়োগকারিদের প্রটেকশন দেবার কথা সরকারের। সাইফুর রহমানের আ্মলে এরা চান্স পায় নাই। মালের আমলে পাইছে , কিবরিয়ার আমলে পাইছে, এইটাত ফ্যাক্ট।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............

glqxz9283 sfy39587p07