Skip to content

রবীন্দ্র-নজরুল সম্বন্ধ: মেঘে ঢাকা তারা

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পঁচিশে মে তারিখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষে একটি লেখা দিয়েছিলাম রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল: বাঙালির চেতনার সামিয়ানা শিরোনামে। বাঙালির অনন্য দুই প্রতিভার সম্পর্ক তুলে ধরার প্রয়াসেই লেখাটি তৈরি করা হয়েছিলো। লেখাটির জন্যে ব্যবহৃত গ্রন্থ ও প্রবন্ধের তালিকাও দেয়া হয়েছিলো তথ্যসূত্রে। বস্তুত রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক নিয়ে কয়েকটি প্রবন্ধ-নিবন্ধে নানা বিষয় এলেও এ নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ আমার পড়া হয়নি, ফলে উল্লিখিত লেখাতে কয়েকটি বিষয় অস্পষ্ট থেকে গিয়েছিলো।

বিষয়টি প্রথম নজরে আনেন ব্লগার অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন , মন্তব্যের ঘরে তিনি জানতে চেয়েছিলেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কে ঘাত-প্রতিঘাতের বিষয়টি কি ছিলো? স্বীকার্য, সে সময়ে এ সম্বন্ধে কোনো তথ্যই আমার হাতে ছিলো না, তবে তথ্যসূত্রে উল্লিখিত গ্রন্থ ও প্রবন্ধগুলোতে বিষয়টি সম্বন্ধে একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিলো। সুতরাঙ এ লেখাটির অনুপ্রেরণা ব্লগার অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন; তাঁকে একটি ধন্যবাদ না দিলে বড্ডো অন্যায় হয়ে যাবে।

পূর্বোক্ত লেখায় উল্লেখ করেছিলাম- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বসন্ত’ কাব্যগ্রন্থটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন। এ নিয়ে কবিগুরুর ভক্তদের অনেকেই খুশি হতে পারেননি। অনেকেই ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন-

বসন্ত দিল রবি
তাই তো হয়েছে কবি।


বস্তুত দুই কবির সম্পর্কে মানসিক টানাপোড়ন শুরু হয় বাঙলা ১৩৩৩ সালের পর থেকে। তখনকার সাহিত্য-সমালোচনার পত্রিকা ‘শনিবারের চিঠি’তে নজরুল সমালোচনার একটি নতুন অধ্যায়ের জন্ম হয়। তবে কেবল নজরুলই নন, ‘কল্লোল’ ও ‘কালিকলম’ পত্রিকার আধুনিক সাহিত্যিকরাও ‘শনিবারের চিঠি’র লক্ষ্য হন। ১৩৩৩ সালের আষাঢ় থেকে ১৩৩৪ সালের কার্তিক পর্যন্ত ‘শনিবারের চিঠি’র বিভিন্ন সঙখ্যায় নজরুলের বিভিন্ন রচনা ব্যঙ্গ করে অনেকগুলো প্যারোডি ছাপা হয়েছিলো। ‘শনিবারের চিঠি’ নব-পর্যায়ে মাসিক আকারে বের হতে থাকে ১৩৩৪ সালের ভাদ্র থেকে। এবারেও প্রধান লক্ষ্য হন কাজী নজরুল ইসলাম। ভাদ্র সঙখ্যায় নজরুলকে ‘বাংলার আধুনিক বরপুত্র নবযুগ ধুরন্ধর সাহিত্য সারথি’ আখ্যা দিয়ে তাঁর ‘অনামিকা’ কবিতার একটি প্যারোডি ছাপা হয় ‘বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ’ নামে, রচয়িতা আব্বাস বিটকেল। পরে সজনীকান্ত দাসকে নজরুলের ‘অনামিকা’, ‘মাধবী প্রলাপ’, ‘গোপন প্রিয়া’ কবিতা সম্বন্ধে অশ্লীলতার প্রশ্ন তুলে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত ছুটোছুটি করতে দেখা যায়, তারই ভূমিকা এই প্যারোডি।

মাসিক ‘শনিবারের চিঠি’র প্রথম সঙখ্যায় মধুকার কাঞ্জিলাল রচিত, ‘তোমাদের প্রতি’ নামে যে কবিতাটি ছাপা হয়, সেটিও নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাকে ব্যঙ্গ করে লেখা। এসব রচনার উদ্দেশ্য ছিলো নজরুলের চরিত্র হনন, যার সূত্রপাত ঘটে প্রমীলাকে বিয়ে করার পর থেকে। শুধু কবিতায় নয়, ১৩৩৪ সালের ভাদ্র থেকে পৌষ পর্যন্ত পাঁচটি সঙখ্যায় সাপ্তাহিক ‘গণবাণী’কে ব্যঙ্গ করে ‘কচি ও কাঁচা’ নামে একটি পঞ্চাঙ্ক নাটক ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। নাটকের পাত্রগণ ছিলেন: সম্পাদক, কার্ল মার্কস, শেলি, লেনিন, ট্রটস্কি, হুইটম্যান, প্রোলেতারিয়েত বাইরন আর পাত্রীগণ ছিলেন: বৌদি, পটলি, খেঁদি, ছেঁড়া, নেকড়া, ভাঙ্গা চুড়ী, ছেঁড়া চুল ইত্যাদি। চরিত্রগুলোর প্রকৃত পরিচয়- কার্ল মার্কস (মুজফফর আহমদ), ট্রটস্কি (সৌমেন ঠাকুর), প্রোলেতারিয়েত বাইরন (কাজী নজরুল ইসলাম)। নাটকে ঢেঁকির গান, কুলোর গান, চায়ের গান যা নজরুলের ‘কৃষাণের গান’, ‘শ্রমিকের গান’ ও ‘জেলেদের গান’ এর প্যারোডি।

কাজী নজরুল ইসলামের অধিকাঙশ কবিতা ও গানের প্যারোডি করেছেন সজনীকান্ত দাস। তিনি কেবল নজরুলকে ব্যঙ্গ করেই ক্ষান্ত হননি, নতুন সাহিত্যের মুখপত্র ‘প্রগতি’, ‘কল্লোল’, ‘কালিকলম’, ‘উত্তরা’, ‘ধূপছায়া’ এবঙ ‘আত্মশক্তি’ পত্রিকাসমূহকে তিনি ‘নব সাহিত্য বন্দনায়’ কটাক্ষ করেছিলেন। সজনীকান্ত দাস কেবল বিদ্রুপ করেই থেমে থাকেননি, আধুনিক বাঙলা সাহিত্য সম্বন্ধে তিনি রবীন্দ্রনাথকে ১৩৩৩ সালের ২৩ ফাল্গুন একটি পত্র লেখেন। উদ্দেশ্য ছিলো, নতুন সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের সম্বন্ধে তাঁকে বাজিয়ে দেখা। তিনি লিখেছিলেন-

সম্প্রতি কিছুকাল যাবত বাংলাদেশে এক ধরণের লেখা চলছে আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন। প্রধানত ‘কল্লোল’ ও ‘কালিকলম’ নামক দুটি কাগজে এগুলো স্থান পায়। যৌনতত্ত্ব, সমাজত্ত্ব অথবা এই ধরনের কিছু দিয়ে এগুলি লিখিত হচ্ছে।.. ..আমরা কতকগুলি বিদ্রুপাত্মক কবিতা ও নাটকের সাহায্যে শনিবারের চিঠিতে এর বিরুদ্ধে লিখেছিলাম।.. ..কিন্তু এই প্রবল স্রোতের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ এত ক্ষীণ যে, কোন প্রবল পক্ষের তরফ থেকে এর প্রতিবাদ বের হওয়া একান্ত প্রয়োজন আছে। যিনি আজ পঞ্চাশ বছর ধরে বাঙলা সাহিত্যকে রূপে রসে পুষ্ট করে আসছেন তাঁর কাছেই আবেদন ছাড়া আমি অন্য পথ না দেখে আপনাকে বিরক্ত করছি.. ..(আধুনিক বাংলা সাহিত্য, ‘শনিবারের চিঠি’ ভাদ্র, ১৩৩৪)


রবীন্দ্রনাথ সঙ্গে সঙ্গে পঁচিশ ফাল্গুন পত্রের উত্তর দিলেও সজনীকান্তের উত্থাপিত প্রসঙ্গ কৌশলে এড়িয়ে যান। অজুহাত দেন ‘কঠিন আঘাতে একটা আঙ্গুল সম্প্রতি পঙ্গু হওয়াতে সহজে লেখা সরচে না। ফলে বাক সংযম স্বতঃসিদ্ধ।’ তবে তিনি যা লেখেন তা ‘শনিবারের চিঠি’র ভাদ্র ১৩৩৪ সঙখ্যাতেই প্রকাশিত হয়।

.. ..আধুনিক সাহিত্য আমার চোখে পড়ে না। দৈবাৎ কখনো যেটুকু দেখি, দেখতে পাই, হঠাৎ কলমের আব্রু ঘুচে আছে। আমি সেটাকে সুশ্রী বলি এমন ভুল করো না। কেন করিনে তার সাহিত্যিক কারণ আছে, নৈতিক কারণ এ স্থলে গ্রাহ্য না হতেও পারে। এখন মনটা ক্লান্ত উদভ্রান্ত, পাপগ্রহের বক্র দৃষ্টির প্রভাব প্রবল- তাই এখন বাগবাত্যার দিগদিগন্তে ছড়াবার সখ একটুও নেই। সুসময় যদি আসে তখন আমার যা বলবার বলব।


রবীন্দ্রনাথ ব্যাপারটা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করলেও ‘শনিবারের চিঠি’র দল রবীন্দ্রনাথকে ছাড়েন নি, তাঁরা রবীন্দ্রনাথের কাছে ধরনা দিয়েছিলেন এবঙ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ‘শনিবারের চিঠি’ওয়ালাদের অন্তরঙ্গতায় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো ‘রবীন্দ্রজীবনী’র তৃতীয় খণ্ডে প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় তা উল্লেখ করেছেন-

এই সময় একদিন ‘শনিবারের চিঠি’র দল কবির সহিত দেখা করিতে আসেন, বাহিরের লোক ভাবিল কবি এই দলে যোগ দিয়েছেন এবং সে সম্বন্ধে লোকে পত্র লিখিয়া কৈফিয়ৎ দাবি করিল।.. ..


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ পর্যন্ত আধুনিক সাহিত্য সম্পর্কে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন ১৩৩৪ সালের শ্রাবণ সঙখ্যা ‘বিচিত্রা’য় প্রকাশিত ‘সাহিত্যধর্ম’ প্রবন্ধে। এ প্রবন্ধের এক স্থানে তিনি লিখেছেন-

সম্প্রতি আমাদের সাহিত্যে বিদেশের আমদানিতে যে একটা আব্রুতা এসেছে সেটাকেও এখানকার কেউ কেউ মনে করেছেন নিত্য পদার্থ, ভুলে যান, যা নিত্য তা অতীতকে সম্পূর্ণ প্রতিবাদ করে না। এই ল্যাঙটপরা গুলি-পাকানো ধুলো মাখা আধুনিকতারই একটা স্বদেশীয় দৃষ্টান্ত দেখেছি হোলখেলার দিনে চিৎপুর রোডে।

মত্ততায় আত্মবিস্মৃতিতে এরকম উল্লাস হয়; কণ্ঠের অক্লান্ত উত্তেজনায় খুব একটা জোরও আছে, মাধুর্যহীন সেই রূঢ়তাকেই যদি শক্তির লক্ষণ বলে মানতে হয় তবে এই পালোয়ানির মাতামাতিতে বাহাদুরি দিতে হবে সে কথা স্বীকার করি। কিন্তু ততঃ কিম। ঐ পৌরুষ চিৎপুর রাস্তার, অমরপুরীর সাহিত্যকলার নয়।


রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে আমার ব্যক্তিগত অভিমত- তিনি বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোম্যান্টিক কবি হলেও, আধুনিক কবি নন মোটেও; এমনকি আধুনিকতার মতো নান্দনিক প্রপঞ্চকে গ্রহণ করার মতো সাহস-শক্তি কোনোটাই তাঁর ছিলো না। বাঙালি নেহায়েৎ আধুনিকতা ও আধুনিক সাহিত্যবোধ সম্বন্ধে যা জানে, তা স্বীকার করে না বলে প্রায়শই রবীন্দ্রনাথের আলখাল্লা ধরে ঝুলে পড়ে, তাঁর অতিন্দ্রিয়লোকের কাব্যসত্তাকে মিছে প্রাসঙ্গিতার মোড়কে উপস্থাপনা করে , রবীন্দ্রনাথকে ক্লান্ত করে, ক্লান্ত করে.. ..।

আধুনিকতার তীব্র বোধের স্রোতে কেবল রবীন্দ্রনাথ নন, শরৎচন্দ্রও ভেসে গিয়েছিলেন- অনুভব করেছিলেন মুকুট হারাবার সুড়সুড়ি। আর সজনীকান্ত ও মোহিতলাল মজুমদারের মতো রবীন্দ্রপন্থীরা সে সুড়সুড়ি বাড়িয়ে তুলবার জন্যে যথেষ্ঠ ছিলেন। সজনীকান্ত ‘শনিবারের চিঠি’তে লিখলেন-

.. ..বাঙ্গলাদেশের শতকরা ৯৯ জনের জন্যে অপঠিত থাকিয়াই যদি রবীন্দ্রনাথের যুগ চলিয়া যায়, মাসিকের পাতায় থাকিতে থাকিতেই যদি শরৎচন্দ্রের যুগের অবসান হয়, রবীন্দ্রনাথ শরৎচন্দ্রের জীবিতাবস্থাতেই যদি নরেশচন্দ্র, দীনেশরঞ্জন, নজরুল ইসলাম সাহিত্য-যুগাবতার বলিয়া ঘোষিত হন (কয়েক মাস পূর্বে Forward পত্রিকায় শ্রীযুক্ত গিরিজা মুখোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি প্রবন্ধে এই মর্মে লিখিত হইয়াছে, যে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্রের যুগ শেষ হইয়াছে, নরেশচন্দ্র, দীনেশরঞ্জন প্রভৃতি নতুন যুগাবতারণা করিতেছে, কাজী নজরুল ইসলাম ও শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় ইহার দুইটা Wing)। তাহা হইলে সমাপ্ত হউক এই সাহিত্যের। বটতলার দেশে সাহিত্য চলিবে না। ইহা নিশ্চয়ই জানিয়া আমরা নিশ্চিত থাকিব।


ওদিকে ‘সাহিত্যধর্ম’ প্রবন্ধটি লিখে রবীন্দ্রনাথ মালয় চলে যান; এরপর (১৩৩৪ সালে) তিনি বেশ কয়েকবার বিদেশযাত্রা করেন। ‘সাহিত্যধর্ম’ প্রবন্ধের মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েই তিনি চলে যান, আর দেশে পত্র-পত্রিকায় চলতে থাকে তা নিয়ে নানা ধরণের দ্বন্ধ। রবীন্দ্রনাথের ‘পালোয়ানির মাতামাতি’ উক্তিটি কোন সাহিত্যিকের উদ্দেশে করেছিলেন সে সম্বন্ধে শরৎচন্দ্র তাঁর একটি প্রবন্ধে বলেন-

.. ..তবে এমনও হইতে পারে কবির লক্ষ্য নরেশচন্দ্র নহেন, আর কেহ। কিন্তু সেই কেহরও সব বই তাঁহার পড়িয়া দেখা উচিৎ বলে মনে করি। (সাহিত্যের রীতি ও নীতি, বঙ্গবাণী, ১৩৩৪, আশ্বিন সঙখ্যা)


এখন এই ‘আর কেহ’ যদি কাজী নজরুল ইসলাম হয়ে থাকেন তাহলে নজরুল কাব্যের যৌবন বন্দনাকে ‘মত্ততার আত্মবিস্মৃতিতে মাধুর্যহীন রূঢ়তা বা পালোয়ানির মাতামাতি’ আখ্যাত করা ‘শনিবারের চিঠি’র পক্ষে শোভন হলেও, রবীন্দ্রনাথের জন্যে মোটেও শোভন নয়- কিন্তু তিনি তা-ই করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ১৯২৭ সালের আগস্ট মাসে ইন্দোনেশিয়া সফরে যাচ্ছিলেন, বালি দ্বীপের পথে প্লানসিইউ জাহাজে বসে ২৩ আগস্ট তিনি ‘যাত্রীর ডায়রী’ শিরোনামে ‘সাহিত্যে নবত্ব’ নামে আর একটি প্রবন্ধ লেখেন, যা ‘প্রবাসী’তে প্রকাশিত হয় ১৩৩৪ সালের অগ্রহায়ণ মাসে। রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধের কোনো কোনো অঙশে নজরুলের প্রতি খোঁচা ছিলো মনে হতে পারে। উক্ত প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ মোহিতলাল মজুমদারের প্রশঙসা করতে গিয়ে পক্ষান্তরে যেনো নজরুলেরই সমালোচনা করেছেন।

মোহিতলাল সাধারণের কাছে ইতিমধ্যেই খ্যাতিলাভ করেছেন। এই খ্যাতির কারণ তাঁর কাব্যের অকৃত্রিম পৌরুষ। অকৃত্রিম বলচি এই জন্য, তাঁর লেখায় তাল ঠোকা পাঁয়তারা মারা পালোয়ান নেই। যথার্থ যে বীর, সে সার্কাসের খেলোয়াড় হতে লজ্জা বোধ করে। পৌরুষের মধ্যে শক্তির আড়ম্বর নেই, শক্তির মর্যাদা আছে; বাহাদুরী নেই.. ..


রবীন্দ্রনাথের এ ধরণের সমালোচনার পর নজরুলের গজল নিয়েও বেশ তিক্ত আলোচনা শুরু হয়। রবীন্দ্রনাথ অবশ্য সে বিষয়ে কোনো কথা বলেননি, তবে রবীন্দ্রানুসারীদের কণ্ঠে বিষের মতো প্যারোডি হতে থাকলো নজরুলের গজলগুলো। এ সময় নজরুলও খানিক অসহিষ্ণু হয়ে পড়েন, এবঙ সম্ভবত রবীন্দ্রনাথের উপর অভিমানবশতই, রবীন্দ্রনাথ পর পর দুইবার খবর পাঠানোর পরও নজরুল দেখা করতে যাননি। এ প্রসঙ্গে ইব্রাহিম খাঁকে এক পত্রে বলেন-

.. ..গুরুদেবকে শ্রদ্ধা করি, তবে তিনি পারলে, আমারও অভিমান করিবার জো আছে.. ..সবাই সম্প্রদায় আক্রোশ দেখাতে পারেন, কিন্তু গুরুদেব পারেন না।


প্রেসিডেন্সি কলেজ রবীন্দ্র পরিষদে এক সংবর্ধনার উত্তরে বাঙলা কবিতায় ‘খুন’ শব্দের ব্যবহার সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের এক মন্তব্যে যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ১৯২৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর (২৭ অগ্রহায়ণ, ১৩৩৪) প্রেসিডেন্সি কলেজে রবীন্দ্রনাথ যা বলেছিলেন তা এক এক কাগজে এক এক রকম করে ছাপা হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় মহাফেজখানা, আগারগাঁওতে ‘প্রবাসী’ পাওয়া গেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়-

.. ..সেদিন কোন একজন বাঙ্গালী হিন্দু কবির কাব্যে দেখলুম তিনি রক্ত শব্দের জায়গায় ব্যবহার করেছেন ‘খুন’। পুরাতন ‘রক্ত’ শব্দে তাঁর কাব্যে রাঙ্গা রং যদি না ধরে তা হলে বুবং সেটাতে তাঁরি অকৃতিত্ব। তিনি রঙ্গ লাগাতে পারেন না বলেই তাক লাগাতে চান। আমি তরুণ বলব তাঁদেরই যাঁদের উষাকে নিয়ুমার্কেটে ‘খুন’ ফরমাস করতে হয় না।


এই রিপোর্টে বলা হয়েছে ‘হিন্দু কবি’- কিন্তু বাঙলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক উত্তরাধিকারের বৈশাখ ১৪০৯ সঙখ্যায় ‘পাণ্ডুলিপি ও পত্রিকা’ শিরোনামে মাসুদুজ্জামানের এক প্রবন্ধের ব্যবহৃত উদ্ধৃতিতে ‘হিন্দু কবি’ শব্দটি পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সজনীকান্তের প্রতিবেদনেও পাই ‘বাঙ্গালী কবি’। অতএব নজরুলের পক্ষে এটা ভাবা অস্বাভাবিক নয় যে- রবীন্দ্রনাথ তাঁকে উদ্দেশ্য করেই এ কথা বলেছেন। নজরুল ১৩৩৩ সালের গোড়ার দিকে (২২ মে ১৯২৬) লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত গান ‘কাণ্ডারী হুশিয়ার’- যেখানে একটি চরণ-

কাণ্ডারী! তব সম্মুখে ওই পলাশির প্রান্তর,
বাঙ্গালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লা্ইভের খঞ্জর।


গানটি নজরুল রবীন্দ্রনাথকে শুনিয়েছিলেন এবঙ সেটা পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছিলো। কাজেই রবীন্দ্রনাথের ভাষণ থেকে নজরুলের এমন মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। এর পরই নজরুল এমন একটি কাজ করেন যা রবীন্দ্র-নজরুল সম্বন্ধকে একটি ঘোলাটে দীঘির ঘাটে এনে দাঁড় করায়। ‘আত্মশক্তি’ পত্রিকার ১৪ পৌষ সঙখ্যায় ‘বড়োর পিরীতি বালির বাঁধ’ শিরোনামে তিনি একটি প্রবন্ধ লেখেন- যেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সাহিত্যধর্ম’, ‘সাহিত্যে নবত্ব’ ও রবীন্দ্র পরিষদের অভিভাষণের উত্তর দান করেন। নজরুলের দীর্ঘ প্রবন্ধে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর স্নেহ-ভালোবাসা-শ্রদ্ধার সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁর দীর্ঘ এ প্রবন্ধটি পড়ে পরবর্তীতে প্রমথ চৌধুরী লিখেন আরেকটি প্রবন্ধ ‘বঙ্গ সাহিত্যে খুনের মামলা’- যেখানে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্কের ধার ঘেঁষে তিনি আলোচনা করেন সার্বিক সাহিত্যতত্ত্ব। বাঙলা সমালোচনা সাহিত্যে এখনও এটি ঐতিহাসিক ‘খুনের মামলা’ নামেই পরিচিত, যার উল্লেখমাত্রই সাহিত্য-বিশারদগণ বুঝে নেন- এখানে সাহিত্যালোকে নতুন-পুরোনো দ্বন্ধ চলছে।

রবীন্দ্রনাথ গেয়েছিলেন- ‘এসো এসো আমার ঘরে এসো আমার ঘরে.. ..’ অন্যদিকে নজরুল লিখেছিলেন- ‘আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ..’। বস্তুত ঘটেও ছিলো তাই, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই এই দ্বন্ধ অবসানের উদ্যোগ নেন। ১৩৩৪ সালের চার ও সাত চৈত্র বিশ্বভারতী সম্মেলনের উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্বে জোড়াসাঁকোর বিচিত্র ভবনে সাহিত্যিকদের সভা বসে। সেখানে অনেকেই ছিলেন- ছিলেন আধুনিক কবিদেরও অনেকে। নজরুল প্রথম দিন আসেননি, রবীন্দ্রনাথ পরে লোক পাঠিয়ে তাঁকে ডেকে এনেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম- দুজনেই বাঙালির অসামান্য প্রতিভা। পরস্পরের প্রতি স্নেহ ও শ্রদ্ধার আকাশটা এমনই উদার ছিলো যে- সাহিত্য খাতিরে সামান্য টানাপোড়ন হলেও আকাশটা মেঘে ঢাকেনি। এখনও নিশীথের গভীর প্রণয়ে ‘চকিত প্রিয়ার চপল চাহনি’তে চোখ রেখে বলতে পারি-

কিছু নাই ভয়
জানি নিশ্চয়- তুমি আছো, আমি আছি।


৩ শ্রাবণ, ১৪১৯

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Star Star Star Star Star
---------------------------------------------

আমি আমার ভেতরে প্রতিনিয়ত বংশবৃদ্ধি করছি
যেমনটি করে থাকে অকোষী জীব হাইড্রা ।
বিলুপ্ততা ঠেকানোর কিংবা টিকে থাকার লক্ষ্যে নয়
নশ্বরতা আবিস্কারের লক্ষ্যে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক ধন্যবাদ জটিল বাক্য। শুভ কামনা রইলো।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অর্ধেক পড়ে থামলাম। আগে হৃদয়ঙ্গম করি।তারপরে বাকিটা পড়ুম।

======================================================
তোমায় ভালবাসা ছাড়া আর কোন উপায় নাই,তাই কেবলি ভালবেসে যাই.........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়ার জন্যে কৃতজ্ঞতা। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়লাম এবং মুগ্ধ হলে প্রতিটি চরণে ......অসাধারণ একটি দলিল, অনেক কিছুই জানতাম না। জানা হলো এবং পোষ্টটি সরাসরি প্রিয়তে।
ভাই ছোট্ট একটি প্রশ্ন....

শনিবারের চিঠির
পরিবর্তে
রবিবারের জবাব
প্রকাশিত হয়েছিল নাকি সেইসময়, সঠিক জানা নাই, আপনার জানা থাকলে জানতে চাই??

------------------
স্বাধু সেজনা, স্বাধু হও....


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার জানা মতে হয় নাই; তবে আপনি যখন বলেছেন, আমি খুঁজে দেখবো অবশ্যই।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রিয়তে, আরো একটি অসাধারণ পোষ্ট শনিদা smile :) :-)

এই নিয়ে তাহলে ব্যাস্ততা

পোষ্টের জন্য রইল অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা। ভাল থাকুন সতত smile :) :-)

------------------------------------------------------------
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়াভরা পথে হেঁটেছি এতটাদূর


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সব দোষ অকিঞ্চণ দা’র, তারে কইষ্যা মাইনাস দিয়া পরে এক কাপ চা। অনেক কৃতজ্ঞতা লেখাটা পড়ার জন্যে।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার কুনু দুষ নাইক্যা, আপ্নে কষ্ট করে বের করছেন, কৃতিত্ত্ব আপনার ।

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খোঁচা দেয় কেডা?

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শনিদা,
অল্প কিছুদিনের মধ্যে আপনার সাথে একত্রে চা পান করার ইচ্ছা আছে কবির smile :) :-) সাথে কৃতজ্ঞতা আরো একবার।


অকিঞ্চন দা,
এইরকম একটা গ্রেট লেখা শনিদারে দিয়া বইর করানির লাইগ্যা আপনেরে চিয়ার্স Beer

------------------------------------------------------------
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়াভরা পথে হেঁটেছি এতটাদূর


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আরে ওয়েলকাম দাদা। কবে- আমি অপার হয়ে বসে আছি।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রমজান মাস এল বলে, এর মধ্যে বিরক্ত করব না। সময়টা আপনার সুবিধামত ঠিক করে দিয়েন smile :) :-)

------------------------------------------------------------
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়াভরা পথে হেঁটেছি এতটাদূর


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনি কী বলেন এইসব। বিরক্ত কে হবে? আমি সব সময় ফ্রি। সব সময়। খালি সময় জানাবেন।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওক্কে ডান, কোন পাড়ায় আইসা হুক্কা-হুয়া করুম সেইটা একটু কষ্ট কইরা ফেবুতে টেক্সট কইরা দিয়েন smile :) :-)

------------------------------------------------------------
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়াভরা পথে হেঁটেছি এতটাদূর


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দারুন বিশ্লেষণ, তবে, এখানে একটু খটকা লাগলো, আমি বুঝে উঠতে পারিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ পর্যন্ত আধুনিক সাহিত্য সম্পর্কে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন ১৩৩৪ সালের শ্রাবণ সঙখ্যা ‘বিচিত্রা’য় প্রকাশিত ‘সাহিত্যধর্ম’ প্রবন্ধে।
আবার
ওদিকে ‘সাহিত্যধর্ম’ প্রবন্ধটি লিখে রবীন্দ্রনাথ মালয় চলে যান; এরপর (১৩৩৩ সালে) তিনি বেশ কয়েকবার বিদেশযাত্রা করেন।

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রথমত অনেক কৃতজ্ঞতা লেখাটা পড়ার জন্যে দাদা। দ্বিতীয়ত, ওইটা ভুল হয়েছিলো। ১৩৩৪ সাল হবে ওইটা, মানে


ওদিকে ‘সাহিত্যধর্ম’ প্রবন্ধটি লিখে রবীন্দ্রনাথ মালয় চলে যান; এরপর (১৩৩৩ সালে) তিনি বেশ কয়েকবার বিদেশযাত্রা করেন।

এইখানে ১৩৩৪ হবে।

আবারো ধন্যবাদ উদভ্রান্ত দা।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাধারণ নয়
শুধুই অবাক হই
কতকিছু যে জানতে পারি শনির লেখা থেকে --


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক কৃতজ্ঞতা। ধন্যবাদ পড়ার জন্যে।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রিয়তে রাখালাম ।

প্রিন্ট করে পড়তে হবে Sad

বরাবরের মত সুন্দর হবে নিশ্চয়।

===================================================================
যেখানে পাইবে ছাগু আর বাদাম

চলিবে নিশ্চিত উপর্যপরি গদাম...............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কৃতজ্ঞতা দাদা।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুব সুন্দর। এতো গুছানো। অসাধারণ বিশ্লেষণ। ব্লগজুড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াই এমন একটা লেখা পড়ার জন্যে।
তবে আধুনিকতা নিয়ে বলা তত্ত্বগুলো মানা যায় না কিছুতেই।
রবীন্দ্রনাথের আলখেল্লা ধরে ঝুলে পরার কথা লিখলেন, ভয় হয় এক শনিবারের চিঠির দল রবির যে হাল করেছিলো, আরেক চিঠি না জানি কি করে বসেন; জানেন তো রবি কাউকে ফেরাতেন না। কল্লোলপন্থিরাও তো প্রতিশোধ নেয়াতে আর সমালোচনায় কিচ্ছুটি কম ছিলেন না, তাই ঠিক ভরসা পাই না, সমালোচনায় ভয় নেই, তাই বলে জাপটে ধরবেন না যেনো, রবি আর রবিভক্তদের এই শ্রাবণের আকাশে হিল্লোল নিঃশ্বাস নিতে দিন। smile :) :-)

..............................................................

সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
কবি এক জাগে_
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
কত অনুরাগে
একদিন শতবর্ষ আগে।।
আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্ নূতন কবি
তোমাদের ঘরে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পঁচিশে বৈশাখ

কমেন্টে ঝাঁ ঝাঁ। আপনি কেমন আছেন?

------------------------------------------------
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঝিঁ ঝিঁ পোকার গান শুনে, খারাপ থাকা যায়??
smile :) :-)

..............................................................

সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
কবি এক জাগে_
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
কত অনুরাগে
একদিন শতবর্ষ আগে।।
আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্ নূতন কবি
তোমাদের ঘরে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পঁচিশে বৈশাখ

ঝিঁ ঝিঁ পোকার গান শুনে, খারাপ থাকা যায়??


এতে কিন্তু মাথাও ধরে Wink

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পঁচিশে, তবে তো বেশ

------------------------------------------------
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাটির মানুষ

আপনে আইস্যাই দালালী শুরু কইরা দিলেন? আর একটা কথা- জায়গার জিনিশ জায়গায় আলোচনা হওয়া ভালো।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দালালী না বস- আপনে রবীন্দ্রনাথের আধুনিকতার প্রসঙ্গটা বলতেছেন তো? আলোচনাটা পঁচিশ শুরু করছিল, আমি সেইখানে সাপোর্ট দিছি কেননা মনে হইছে বিষয় সত্য।

------------------------------------------------
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বিশ্লেষণ ভাল লাগল শনি, তবে পঁচিশে বৈশাখের সাথে একমত। নজরুল নিয়ে আপনার কাজের প্রশংসা করলাম। করতেই হল। আপনার পরিশ্রমটা আমি দেখেছি। ভাগ্যিস আপনার ডাস্ট এলার্জি নাই। smile :) :-)

------------------------------------------------
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud
একমতের জন্যে থাঙ্কু থাঙ্কু। যাক একটু ভরসা পাইলাম, তর্ক শুরু হইলে পাশে থাইকেন।

..............................................................

সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
কবি এক জাগে_
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
কত অনুরাগে
একদিন শতবর্ষ আগে।।
আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্ নূতন কবি
তোমাদের ঘরে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অবশ্যই পঁচিশ, শনির একদিন আর আমাগোর যে কয়দিন লাগে

------------------------------------------------
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার ডাস্ট এলার্জি নাই, কিন্তু মাটি এলার্জি আছে।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হ- পাওনাদারের এলার্জি সকল ভবঘুরেরই আছে। আপনে ত আবার কবি। দুনিয়ার সব কবির প্রতিষ্ঠার পিছনেই একজন কইরর‌্যা পাওনাদার আছে।

------------------------------------------------
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পঁচিশে বৈশাখ

আপনার সাথে আমার একটা পুরোনো বিতর্ক ছিলো- আপনি তা শেষ করলেন না।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ অজানা এই বিষয় জানাবার জন্য। হয়ত আমার মত ছাপোষাদের এই ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব অজানাই থেকে যেত।

আমার মনে কয়েকটা প্রশ্নের উদয় হয়েছে এখানে-
রবীন্দ্রনাথ কি তাইলে "খুন" প্রশ্নে 'বাঙালি হিন্দু কবি' অথবা "বাঙালি কবি" বলতে নজরুলকে বুঝান নি? আমি মনে করি 'বাঙালি কবি' বলেন নাই কারন বাঙলায় যারা লিখত তারা তো বাঙালিই।

গোপন প্রিয়া কবিতা কিভাবে অশ্লীল হয়?

পরে সজনীকান্ত দাসকে নজরুলের ‘অনামিকা’, ‘মাধবী প্রলাপ’, ‘গোপন প্রিয়া’ কবিতা সম্বন্ধে অশ্লীলতার প্রশ্ন তুলে রবীন্দ্রনাথকে পর্যন্ত ছুটোছুটি করতে দেখা যায়

পরিষ্কার হল না । "দৈবাৎ কখনো যেটুকু দেখি, দেখতে পাই, হঠাৎ কলমের আব্রু ঘুচে আছে। আমি সেটাকে সুশ্রী বলি এমন ভুল করো না।" এই কথা নজরুলের দিকেই বেশী ইঙ্গিত করে কি? তবে "পালোয়ানির মাতামাতি" এই উক্তি নজরুলকেই ইঙ্গিত করে বলে মনে করি।

শনিবারের চিঠি’র আক্রোশে কাজী নজরুল : বারীন ঠাকুর-- এখানে শনিবারের চিঠির আক্রোশের কিছু প্রমান আছে।

অটঃ অ-নামিকা ভালু পাইলাম। বিশেষ করে এই লাইনগুলো--
যে-দিন স্রষ্টার বুকে জেগেছিল আদি সৃষ্টি-কাম,
সেই দিন স্রষ্টা সাথে তুমি এলে, আমি আসিলাম।
আমি কাম, তুমি হ’লে রতি,
তরুণ-তরুণী বুকে নিত্য তাই আমাদের অপরূপ গতি!

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রবীন্দ্রনাথ কি তাইলে "খুন" প্রশ্নে 'বাঙালি হিন্দু কবি' অথবা "বাঙালি কবি" বলতে নজরুলকে বুঝান নি? আমি মনে করি 'বাঙালি কবি' বলেন নাই কারন বাঙলায় যারা লিখত তারা তো বাঙালিই।


আসলে উনি ঠিক কী বলেছিলেন তার সঠিক বিবরণটা আমি পাই নাই; তবে অধিকাঙশ খানেই উল্লেখ ছিলো যে- বাঙালি কবি। তাই সেটাই হবার কথা। আর বাঙালি কবি যে বলেছেন সেটা সজনীকান্তের রিপোর্টে ও উত্তরাধিকারে আছে।

পরে সজনীকান্ত দাসকে নজরুলের ‘অনামিকা’, ‘মাধবী প্রলাপ’, ‘গোপন প্রিয়া’ কবিতা সম্বন্ধে অশ্লীলতার প্রশ্ন তুলে রবীন্দ্রনাথকে পর্যন্ত ছুটোছুটি করতে দেখা যায়


এইখানে একটু ভুল হয়েছে- আসলে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত হবে। ঠিক করে দিয়েছি মূল পোস্টে।

বাকি বিষয়গুলো সম্বন্ধে

আমাদের দেশে নজরুল-রবীন্দ্রনাথ পুরোই আনুষ্ঠানিকতার মোড়কে বন্দী- তাঁদের নিয়ে কাজ যা আছে, তা বড়োই নিতান্ত। সম্প্রতি কিছু কাজ করছে বেঙ্গল- যা আসলে করা উচিত ছিলো বাঙলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। দুটোই লবডঙ্কা।

পড়ার জন্যে ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক তথ্য জানলাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
যদিও অনেক কষ্টে পড়তে হয়েছে, এত পড়ি তবুও শেষ হয় না। তবে পড়া শেষে পড়াটা সার্থক হয়েছে সেটা বলতেই হবে। এই বিষয় নিয়ে জানার আগ্রহ আমারও ছিল, সব সময় সুধু পড়ি তাদের মাঝে প্রবলেম ছিল বাট প্রবলেম টা আজই ফার্স্ট এত ডিটেইলস জানলাম।
ধন্যবাদ চিঠি।

________________________________

পাপ হলে ভবে আসি, পূণ্য হলে স্বর্গবাসী
লালন বলে নাম উর্বশী
নিত্য নিত্য তাঁর প্রমাণ পাই।

পাপ পূণ্যের কথা আমি কারে বা শুধাই
একদেশে যা পাপ গণ্য
অন্য দেশে পূণ্য তাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তুমার কিন্তু বানান ভুল আছে গৃহ, শনি ছ্যাঁচবো নে

------------------------------------------------
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হা হা মাটি ছেঁচা ছেঁচির দিন শেষ

________________________________

পাপ হলে ভবে আসি, পূণ্য হলে স্বর্গবাসী
লালন বলে নাম উর্বশী
নিত্য নিত্য তাঁর প্রমাণ পাই।

পাপ পূণ্যের কথা আমি কারে বা শুধাই
একদেশে যা পাপ গণ্য
অন্য দেশে পূণ্য তাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গৃহ- মাটিরে ছেঁচতে চাই। আপনি রাজী?

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হুম !!
অনেক কিছু বুঝলাম আবার অনেক কিছু বুঝি নাই।
সাহিত্যের ফাউন্ডেশন খারাপ তাই।
আবারো পড়বো।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দাদা কেমন আছেন?

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক সুন্দর একটা বিশ্লেষণ। আপনাকে ধন্যবাদ।

&.....&......&

উত্তরাধিকার


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়লাম।

পরে সজনীকান্ত দাসকে নজরুলের ‘অনামিকা’, ‘মাধবী প্রলাপ’, ‘গোপন প্রিয়া’ কবিতা সম্বন্ধে অশ্লীলতার প্রশ্ন তুলে রবীন্দ্রনাথকে পর্যন্ত ছুটোছুটি করতে দেখা যায়

এখানে ঠিক বুঝালাম না কে ছুটোছুটি করেছিল নাকি রবীন্দ্রনাথ??


প্রায় পুরো লেখাতেই তাদের সম্পর্কের টানাপোড়নের কথা। শেষ দিকে একটু এসে রবীন্দ্র উদ্যোগে জোড়াসাঁকো তে ভুল বোঝাবুঝির কিছুটা আভাস পেলাম।

এর পরে কি ২য় খন্ড আসবে!!

অট ঃ আপনার এই লেখা খালেদার লোকজন পেলে শেষ দু প্যারা বাদ দিয়ে নজরুলকে সাচ্চা মুসলমান কবি বানিয়ে দেবে Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

===================================================================
যেখানে পাইবে ছাগু আর বাদাম

চলিবে নিশ্চিত উপর্যপরি গদাম...............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

না বস- ওইখানে একটা ভুল ছিলো, ঠিক করে দিয়েছি। ‘কে’ টা বাড়তি পড়েছিলো। শেষ লাইনগুলোতে একমত।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে

glqxz9283 sfy39587p07