Skip to content

মাস্টারের বগা দর্শন

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বহুযুগ আগে বান্দরবান সদর হতে প্রায় সত্তর কিলোমিটার দুরে কেওকারাডং পর্বতের গা ঘেষে গহীন সবুজ অরণ্য এবং পাহাড় ঘেরা একটা জনপদ যাকে আজকে সবাই রুমা উপজেলা নামে চিনে। যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে সেই সময়টা এই দুর্গম এলাকার যাওয়ার জন্য গাড়ির রাস্তা ছিল না, জঙ্গলের ভিতরের পায়ে হাটা পথ অথবা জলপথই ছিল বড় নগরে যাওয়ার একমাত্র অবলম্বন।

রুমা এলাকায় বম, মুরং , ম্রো, তঞ্চংগ্যা এবং ত্রিপুরাসহ অন্যান্য আদিবাসীর বসবাস তবে বসতিগুলা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফাঁকা ফাঁকা করে গড়ে উঠছে । জুম চাষ এবং পশুপালন তাদের জীবিকা নির্বাহের মূল উৎস , পার্বত্য অঞ্চলের বাকি দশটা দুর্গম অঞ্চলের বসবাসকারি লোক জনের মতো এখানকার আদিবাসিরাও পরিশ্রমি কিন্তু নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপন করছিল । কিন্তু বিঁধিবাম তাদের এই উত্তেজনাহীন একঘেয়ে জীবন যাপনকে পণ্ড করতে আকাশ হতে হঠাৎ করে

উদয় হয় এক বহিরাগত , এই বহিরাগতের দেহগঠনের সাথে মানব অপেক্ষা সরীসৃপ প্রাণীর সাথে কিছু কিছু মিল পাওয়া যায়, এই সরীসৃপ আগুন্তকের নানারকম অলৌকিক কাণ্ডকারখানা দেখে আদিবাসিরা নিশ্চিত হয় যে এই আগুন্তক নিশ্চয় স্বর্গ হতে নেমে আসা কোন দেবতা ফলে আদিবাসিরা তাকে বগা বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় সরীসৃপ দেবতা বলে আখ্যায়িত করতে থাকে ।

দেবতা বগা স্বর্গ হতে মর্ত্যে এসেই রুমা এলাকার একটা পাহাড়ের গুহাকে নিজের আস্তানায় রূপান্তরিত করে , সহজ সরল আদিবাসীরা বগা দেবতাকে খুশি করতে নিয়মিত তাকে নানা ধরনের জীবজন্তু উপহার দিতে থাকে তাদের সাধ্যমতো

এইভাবে কিছুদিন ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই রুমা জনপদের গ্রামগুলা হতে ছোট বাচ্চারা হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে থাকল, চারিদিকে থেকে সন্তানহারা পরিবারগুলা থেকে বিলাপ মাতম শুনা যেতে লাগল ।

বম, মুরং বা ম্রো, তঞ্চংগ্যা এবং ত্রিপুরাসহ অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্বিগ্ন কারবারিরা ( নেতারা) ছোট ছোট বাচচাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ বের করতে জরুরী বৈঠকে বসলেন একসাথে । সন্দেহের তীর তল্লাটে নয়া আগত বগা দেবতার দিকে ঘুরতে খুব একটা সময় নিল না । ঠিক হলো সকল সম্প্রদায় হইতে বেছে বেছে সাহসী শক্তপোক্ত নওজোয়ানদের একটা দল গঠন করা হবে এবং তারা তীর ধনুক বল্লম লাঠি মশাল নিয়ে গভীর রাতের বেলা বগা দেবতার পাহাড়ের গুহায় হানা দিবে ।

আদিবাসী তরুনদের দল বগা দেবতার আস্তানায় চুপি চুপি গিয়ে মানুসের হাড্ডি রক্ত মাংস মেঝেতে ছড়িয়ে থাকতে দেখে তাদের বুঝতে বাকি থাকে না বগা দেবতাই মূল কালপ্রিট ক্ষিপ্ত প্রতিশোধ উন্মত্ত তরুনের দল বগা দেবতাকে সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করে বসে বগা দেবতা তার জাদুশক্তি দিয়ে তাদের রুখতে চেষ্টা করে কিন্তু সংঘবদ্ধ শক্তির কাছে তাকে হার মানতেই হয় একটা সময় অবস্থা বেগতিক দেখে বগা তার রথে চরে পলায়ন করতে উদ্যত হয় কিন্তু আদিবাসী তরুনেরা তার আগেই তাকে হত্যা করতে সক্ষম, বগার মৃত্যুর পর তার রথে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় প্রচণ্ড বিস্ফোরণে পুরা গুহা কেঁপে উঠে, এবং পাহাড়ের মাঝে একটা হ্রদের সৃষ্টির করে ।


চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশিষ রায়ের বাবা ত্রিদিব রায় পঞ্চাশের দশকের দিকে পার্বত্য অঞ্চলের জনপদগুলার ঘুরে সেখানকার লোক কাহিনীগুলা লিপিবদ্ধ করবার চেষ্টা করেছেন বগা লেককে সর্বপ্রথম আবিষ্কার করি তার এইরকম একটা লেখার মধ্য দিয়ে ।
নগর কেন্দ্রিক ফেসবুক ব্লগ ইউটিউবে মজে থাকা আধুনিক জেনারেশন বগা লেক সৃষ্টি সম্পর্কিত লোক কাহিনী গাঁজাখুরি বলে আদিবাসীদের অলীক কল্পনা বলে হেসে উড়িয়ে দিবেই সেটাই স্বাভাবিক ।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি র বাংলাপিডিয়ায় বগা লেকের সৃষ্টির পিছনে মহাকাশ হতে পতিত উল্কাপিণ্ডকে দায়ি করা হয়েছে ।
বর্তমানের বম, মুরং , ম্রো, তঞ্চংগ্যাদের পূর্ব পুরুষদের লোক কাহিনীর বগা দেবতা কি তাহলে ভিনগ্রহ হতে আগত কোন প্রাণ যে ধরণীতে এসেছিল মুখের রুচি পরিবর্তন করতে ? যেরকমটা আমরা করি বাসার রান্না খেয়ে খেয়ে বিরক্ত হলে গুলাশান ধানমণ্ডির কোন দামি চাইনিজ কিংবা তন্দুরি রেস্টুরেন্ট এ ঢুকে পয়সা খসিয়ে ?

পশ্চিমা সভ্যতায় ইতিহাসকে সংরক্ষণ করবার তাকে লিপিবদ্ধ করবার একটা চমৎকার ট্রাডিসান যুগ যুগ ধরে চলে আসছে দক্ষিণ এশীয়ায় মানুষেরা ইতিহাস সংরক্ষণ করতে বরাবরই উদাসীন, কাজেই বগা দেবতার প্রকৃত ওরিজিন সম্পর্কে , ওই সময়ে আসলে কি ঘটেছিল তা অনুসন্ধান করতে চাইলে খড়ের গাদার মধ্যে ছুঁচ খুঁজার অভিযানে বের হওয়ারই সামিল হবে ।

বগা দেবতার সমাধি সন্ধান করবার চিন্তা ছাড়াও বগা লেকে যাওয়াটা আমার জন্য ফরজ হয়ে পড়ছিল বেশ কয়েকটা কারনে কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করছিলাম ঢাকায় যাদের আদি নিবাস অথবা ফরিপুদ রংপুরে যাদের বাড়ি তারাও যখন আমাকে বগা লেক ট্রেকিংয়ের গল্প সেইখানে হাতি ঘোড়া মারার গল্প শুনায় এবং আমি যখন তাদের বলি চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোক হয়েও বগালেক কেন বান্দরবান শহরেও যাইনি জীবনে তখন তারা আমার দিকে যেভাবে করুনার দৃষ্টিতে তাকায় তখন মনে মনে রামের পত্নী সিতার মতো বলই হে মা ধরণী তুমি দ্বিধা হও লুকানোর একটা জায়গা করে দাও আমায় !

অবশেষে সম্ভবত বগা দেবতার কৃপায় নিজের কলংক ঘুচানোর সেই মাহেণ্ড্রক্ষন উপস্থিত হল আমার সামনে পার্বত্য মন্ত্রনালয় হতে সরকারি কর্মকর্তাদের দল তিন পার্বত্য জেলায় ইউএনডিপি ইউনিসেফ সহ নানা এনজিও সংস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম স্থানীয় সরকারের নানা প্রকল্প সরজমিনে পরিদর্শন করবে আমিও কিভাবে কিভাবে যেনো তাদের কাফেলায় ঢুকে গেলাম লাষ্ট সময়ে । খাগড়াছড়ি থেকে এই সফর আরম্ভ হয়ে চন্দ্রঘোনা হয়ে বান্দরবানে বগা লেকে তা সমাপ্ত হবে।

পুরা সফর খানাই নিয়ে লিখতে বসলে একটা আস্ত বই হয়ে যাবে তাই আজকে খালি বান্দরবান জেলা হয়ে বগা লেক ভ্রমণখানাই সবিস্তারে বর্ণনা করি ।

বান্দরবানে জেলা সদর আয়তনে খুবই ছোট বলা যায় তবে যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নতি কক্সবাজারে যাওয়ার পথে পড়ে বলে পর্যটন সেক্টর খুব দ্রুত সেইখানে বিকাশ লাভ করছে এই কারনে শহরে মধ্যে প্রচুর হোটেল মোটেল কটেজের সাইনবোর্ড চোখে পড়বে। একজন স্থানিয় লোক জানালেন গত শীত মৌসুমে নাকি হাজারে হাজারে পর্যটক এসেছেন তাদের মধ্যে অর্ধেকই রাতে ঘুমানোর জায়গা করতে না পেরে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে একটু আশ্রয় চেয়ে রাতের বেলা দরজায় কড়া নেড়েছেন আমাকে অবশ্য এই হ্যাপায় পড়তে হয় নাই সরকারি লোকদের সাথে টুরে থাকায় জেলার সরকারি সারকিট হাউজেই থাকার রুম পেয়ে যাই ।

চন্দ্রগোনা থেকে বান্দরবান জেলায় সকাল এগারোটার মধ্যেই পৌঁছে যাই কাজেই হাতে অনেক সময় সকলের সাথে কথা বলে ঠিক হল আজকের দিনটা বান্দরবান জেলা শহরটা ঘুরে দেখে পরের দিন রুমা উদ্দেশ্যে রওনা দিব । বান্দরবান জেলায় শহরের মধ্যেও দেখার মতো অনেক দর্শনীয় স্থান আছে স্বর্ণ মন্দিরের কথা তো সকলেই শুনেছেন মোটামুটি নতুন আরেকটা মন্দিরও হয়েছে এর নাম রাম জাদি মন্দির তবে লোকে মুখে তা শট ফর্মে হয়ে গেছে রাম মন্দির যদিও এইটা বৌদ্বদের উপাসনালয় ! এছাড়া শহরের কাছাকাছি নীলাচল পাহাড়ের চূরাও টুরিষ্টদের আখড়াতে পরিণত হয়েছে , আমার কাছে জেলা পরিষদের অফিসখানার সামনে যে চমৎকার উদ্যান খানা আছে সেটাও ভালো লাগল দেখে । সরকারি অফিসগুলা সাধারণ বিশ্রীরকম শ্রী সৌন্দর্য বিহীন হয় বান্দরবান জেলা পরিষদের অফিসখানা এর ব্যতিক্রম মনে হল ।







ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে রাতের বেলা সারকিট হাউজে প্রবেশ করলাম তাড়াতাড়ি ডিনার সেরে বিছানায় গেলাম পরের দিন একটা দীর্ঘ ভ্রমনের মধ্যে থাকতে হবে ।

পরের দিন সকাল বেলায় তাড়াতাড়ি বিছানা সেরে উঠে এলাম আমার বাকি সহযাত্রীরাও দেখি বগা লেকের অভিযানের উত্তেজনায় সকলেই তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়েছে
নাশতা সম্পন্ন করে আমাদের দল সকাল ৮ টার মধ্যেই বের হয়ে গেল সারকিট হাউজ থেকে


বান্দরবান জেলা সদরের বাইরে পা রাখলে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি আপনার নজর কেড়ে সেইটা হচ্ছে পাহাড়ি রাস্তার আশেপাশে জায়গায় প্রচুর লজ রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, ট্রেকিং করার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেরও সাইনবোর্ডও দেখলাম এক জায়গায় ।

গাড়ির ড্রাইভার স্থানিয় লোক তিনি জানালেন যে বান্দরবান জেলায় জমির দাম হু হু করে ঊর্ধ্বমুখি ঢাকা হতে অনেকেই নানা কায়দায় স্থানীয় হেডম্যানদের ঘুষ দিয়ে স্থানিয় হওয়ার সার্টিফিকেট নিয়ে জায়গা কিনছে, প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমিও জবর দখল করে নিচ্ছে অনেক দরিদ্র পাহাড়ীদের নিজ জায়গা হতেই উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। বুঝা যাচ্ছে টুরিজম শিল্পের বিকাশে স্থানিয়রা খুব একটা লাভ পাচ্ছে না ।

এইভাবে নানা কথা বলতে বলতে পাহাড়ের দুদিকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে একটা সময় আমরা শংক নদীর একটা শাখার কাছে এসে পৌঁছলাম। নদী ওপর পারে রুমা উপজেলা সদরে গাড়ি যাওয়ার কাজ রাস্তা নেই , তাই নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে অপর পারে গিয়ে স্থানীয় গাড়ি নিয়ে আরো ১৬ কিলোমিটার গেলেই বগা লেকের দেখা পাব তাই আমাদের দল গাড়ি থেকে নেমে পড়ল , পাশেই দেখি একটা ব্রিজ নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে মোটামুটি কাজ কমপ্লিটই বলা যায় ।


খেয়া পারাপার হওয়ার সময় স্থানীয় এমপি বীর বাহাদুর সাহেবের সাথে দেখা হয়ে গেল ইলেকশনের আসতে আর মাত্র দুই বছর বাকি তাই তিনি এখন হতেই জন সম্পর্ক অভিযান আরম্ভ করেছেন ।

নদীর পানি খুব একটা বেশি না কিছুক্ষনের মধ্যেই আমরা অপর পারে চলে গেলাম সেখানে যে গাড়িগুলো অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য সেগুলার লক্কর ঝক্কর অবস্থা অথচ রুমা পাহাড়ী রাস্তা খুবই খাড়া কিন্তু সুরু এবং গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকলে খাদ দেখা যায় আমি যে গাড়িতে উঠলাম সেইটাতে আবার ড্রাইভারের পাশে জসিম নামে এক পিচ্চি ছেলে বসা পাহাড়ের সুরু খাড়া রাস্তা দিয়ে যাওয়ার মধ্যিখানে মাঝে মাঝে গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাচ্ছিল সেই সময় পিচ্চি জসিম গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির বনেট খুলে নানা কেরামতি করে গাড়ির ইঞ্জিন সচল করছিল

চলার পথে আমরা কয়েকটা জায়গায় থেমে কয়েকটা পাহাড়ী গ্রামে গেলাম ইউনিসেফ ও ইউএনডিপি কিছু স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রকল্প আছে যা দেখার জন্য গ্রামিবাসিদের অনেক অভিযোগ আমাদের কাছে , কিন্তু মনে হল আমাদের মধ্যে কমিউনিকেশন ঠিক মতো হচ্ছিল না কারন বম মুরং অধ্যুষিত এই সব গ্রামের লোকেরা বাংলায় কথা বলতে পারে না বেশির ভাগ মানুষ তবে এলাকার হেডম্যান অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন তিনি জানালেন বন বিভাগের জমি অধিগৃহন কর্মসূচী করার কারনে তাদের চাষ বাসের জমি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে যা তাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ।

সাময়িক টুরিষ্টদের কাছে পাহাড়ের নৈসর্গিক রুপ ছবির মতো লাগবে পাহাড়ের ট্রেকিংয়ের মধ্য দিয়ে হয়তো থ্রিলিংয়ের নেশাও পেতে পারে কিন্তু যারা এইখানে যুগ যুগ ধরে আছে তাদের কাছে প্রত্যেকদিন বেঁচে থাকার জন্য করতে হয় অমানুষিক
পরিশ্রম । জীবন ধারনের জন্য সবচেয়ে জরুরী যে জিনিসটা সেটা হলো সুপেয় পানি সেইটা এই অঞ্চলে অনেক কষ্ট করে সংগ্রহ করতে হয় এছাড়া ম্যালেরিয়া জণ্ডীসের এবং সীমান্তের অপর পাশ হতে ইন্দুর এবং শুঁয়োর বন্যার ফসলের উপর আক্রমনের উপদ্রুপ তো আছেই ।

এইভাবে নানা সেইখানকার আর্থ সামাজিক অবস্থার নিরক্ষন করতে করতে একটা সময় আমাদের গাড়ি এক জায়গায় এসে ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষল ইটের খোয়া বিছানো পুরা রাস্তায় ঝাকুনি এবং ধুলোয় হাঁসফাঁস করতে অবশেষে গন্তব্য স্থলে এসে গেলাম তাহলে বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম ।

কিন্তু ড্রাইভার দেখি মাথা ঘুরিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দেয় না বগা দেবতার দর্শন এতো সোজা নয় তার জন্য আমাদের এখন পায়ে হেঁটে পাহাড় বেয়ে অর্ধ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে হবে। কারন সামনের সুরু রাস্তা যাত্রী নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত বিপদজনক কয়েকদিন আগেই নাকি একটা গাড়ি উল্টে পড়ে গিয়ে ব্যাপক প্রানহানি ঘটিয়েছে ।

অগত্যা পদুকাই ভরসা বলে গাড়ি থেকে নেমে গেলাম মাথায় ক্যাপ এবং হাতে পানির বোতল নিয়ে পাহাড়ের পথে দিয়ে হাটা আরম্ভ করলাম কিন্তু কিছুক্ষণ হাটার পরেই উপলব্ধি করলাম দুপুর বেলার ঝা ঝা তীব্র গায়ের চামড়া পুরানো রোদ এবং বাতাস বিহীন ঘুমোট আবহাওয়া এক কিলোমিটারের এই পথকে যেনো প্রচণ্ড কণ্টকাকীর্ণ করে তুলছে ।

কিছুক্ষনের মধ্যেই আমার জামা ঘামে ভিজে জবেজবে হয়ে গেল , গলা হয়ে গেল শুকিয়ে কাঠ , নিজেদের হৃদ পিণ্ডের ধুকধুঁকানির আওয়াজ নিজেই শ্রবন করতে লাগলাম ফলে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য পাহাড়ের একটা কোনায় আমাকে বসতেই হল

আমাদের দলের বয়স্ক একজন ব্যক্তির তো আরো খারাপ অবস্থা তিনি হাঁসফাঁস করতে করতে বলা যায় শুয়েই পড়লেন তার গায়ে মুখে পানি ছিটিয়ে তাকে সতেজ করতে উদ্যত করল বাকিরা ।

এইভাবে একটু একটু হেঁটে একটু বিশ্রাম নিয়ে অবশেষে আমাদের সবার যখন জম্বীর মতো অবস্থা তখনই একটু দূরে চিক চিক স্বচ্ছ পানির একটা লেক দৃষ্টিগ্রাহ্য হলো তা দেখে আমাদের হাঁটার গতি আপনাতেই বৃদ্ধি পেল কিছুক্ষণের মধ্যেই আমারা লেকের কিনারায় চলে গেলাম


পাহাড়ের মাঝখানে লেকের চারিদিকে শীতল বাতাসের সমাহার অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই আমাদের ঘমাক্ত অবসন্ন দেহতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করল ।



বগা লেকের কিনার ধরেই ছব্বিশখানা বোম পরিবারের নিবাস তারা সেখানে একটা দোকান এবং ভাতের হোটেল খুলছে যদিও সেইখানে বিদুৎ এখনও যায়নি কিন্তু সৌর শক্তির কল্যাণে বিদুৎ এখন তাদের ঘরে ঘরে চলে গেছে তাই ঠাণ্ডা পানি পাওয়া যাবে কিনা জিজ্ঞেস করতেই হিম শীতল এক বোতল পানি একজন ফ্রিজ থেকে বের করে দিল পানির অপর নাম যে জীবন তা আরেক বার নতুন করে উপলব্ধি করলাম ।


একটু জিরিয়ে গ্রাম ও লেকখানা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম লেকের ধারের বাড়িরগুলা বেশিরভাগই একতলা কিন্তু কিছু কিছু দো তলা ঘরও আছে রুমে আসবাব পত্রের কোন বালাই নেই সবাই মেঝেতে ফ্লোরিং করে রাতে ঘুমিয়ে যায়

একটু পড়ে খাবারের জন্য ডাক পড়ল দুপুরের খাবারের মেনু ছিল অত্যন্ত সাধারন আলুর তরকারি আর বুনো মুরগির ঝোল দিয়ে ভাত কিন্তু বনজঙ্গল পাহাড় ডিঙানোর ফলে সেই খাবারই অমৃতের মতো লাগছিল ।

খাবার দাবার পর্ব চুকে গেলে স্থানীয় লোকদের সাথে বৈঠকে বসলাম তারা তাদের এই এলাকায় একটা ইস্কুল চায় কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোন শিক্ষকই এই দুর্গম জায়গায় আসতে চায় না বর্তমানে একটা ইস্কুল ঘর আছে বটে কিন্তু সেইটা গরু ছাগল রাখার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিকেলের দিকে আবহাওয়া মনোরম হয়ে গেল রাতের দিকে ক্যাম্পফায়ার করে গানবাজনার আয়োজন করা হল ।

তা দেখতে দেখতে হারিয়ে গেলাম যেনো অন্য এক দুনিয়ায় ।


সকাল , বিকাল বেলা এবং রাতের বেলা রজনীর পরিবর্তনের সাথে সাথে বগালেকের চারপাশেরও যেনো রূপান্তর ঘটে দিনের বেলা লেকের পানিতে যদি আকাশের নীল মেঘের প্রতিফলন দেখা যায় তাহলে রাতের বেলা চাঁদের আলো চারিদিকে যেনো অন্যরকম আপার্থিব পরিবেশে তৈরি করে । ঢাকার মতো কলকারখানার কালো ধোঁয়াতে আকাশ ঢাকা থাকে না বলে যতোদূর চোখ যায় তারাদের ঝিকিমিকি দেখা যায় বগা লেকের রুপ অবলোকনের এই অভিজ্ঞতা আসলে লিখে ব্যক্ত করা সম্ভব নয় যদি কেউ নিজের চোখে প্রত্যক্ষ না করে। গান শুনতে শুনতে তন্ময় হয়ে যখন এই সবই ভাবছি তখন সহযাত্রীরা আমাকে গুতা দিয়ে বাস্তব দুনিয়ায় নিয়ে আসল , কালকে যে সকালের দিকে আমাদেরকে জেলা সদরে ফিরে যেতে হবে সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিল । দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি হঠাৎ করে শরীরকে অবসন্ন করে দিল কিন্তু চমৎকার একটা ভ্রমণ করতে পারার জন্য এই অবসন্নতাকে তেমন একটা পাত্তা দিলাম না ।



মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমৎকার পোষ্ট। আমি রাঙ্গামাটি-বান্দরবান ঘুরে আসলাম গত সপ্তাহে। পোষ্ট দিবো কিন্তু তা আপনার মত ভালো হবেনা। বান্দরবান গত বছরও গিয়েছিলাম। আমার খুবি প্রিয় একটা জায়গা। গতবছর মাত্র ১ দিনের জন্য গিয়েছিলাম। কেবল স্বর্নমন্দির, আর মেঘলা দেখার সুযোগ হয়েছিলো। এবার নীলাচল, নীলগিরী, চিম্বুক পাহাড়, শৈলপ্রপাত দেখে আসলাম। বগা লেক, নাফাখুম বাকি থাকলো ভবিষ্যতের জন্য smile :) :-) সব একবারে দেখে ফেললে তো আর যাওয়ার সুযোগ করতে পারবোনা!!! যেমন এবার নীলগিরি দেখবই এই পন করেছিলাম বলেই দেখা হল!

_________________________________________________________________________________

সিগনেচার নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বান্দরবানে যাওয়ার প্ল্যানটা আসলে হঠাৎ করেই হয়ে গিয়েছিল পরিচিত এক সরকারি কর্মকর্তার বদৌলতে এর আগে যতোবার যাব বলে পরিকল্পনা করেছিলাম ততোবার নানা কারনে তা পন্ড হয়ে গিয়েছিল ।

অফটপিক আপনি ফেসবুকে আমাকে মেসেজ দিয়েছিলেন ওইটা ঢাকায় ব্যাক করে আমি দেখতে পাই পরের বার যাওয়ার প্ল্যান করলে এক সাথেই করা যায় সম্ভব হলে ব্লগের সদস্যদের নিয়ে নীলগিরিতে এক রাত কাটালে খারাপ হয় না ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অতি উত্তম প্রস্তাব। নীলগিরীতে বর্ষাকালে রাত কাটাতে পারলে দারুন হবে

_________________________________________________________________________________

সিগনেচার নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নীলগিরীতে চোত বোশেখ নাই, সব সময়ি দারুন। তবে হ্যা, বর্ষাটা দুর্দান্ত।

***********************************************************************
"এহনবি জিন্দা আছি, মৌতের হোগায় লাথথি দিয়া
মৌত তক সহি সালামত জিন্দা থাকবার চাই"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মেঘ বলে চৈত্রে যাব"

মেঘ বলে চৈত্রে যাব

আর চৈত্র যাবে মেঘে।

এর পিছেই ছুঁটছে তারা

বাঘ-হরিণের বেগে।

ফলাফলটা বিশাল কিছু

প্রকৃতির সার্কেল।

উপভোগ করি ঋতুর খেলা,

ভাবি তার আছে প্রচুর তেল।



আমরাও আছি দৌড়ের মাঝে

টানাটানির কারবার।

কেউ আজ তাই মুক্তিযোদ্ধা,

কেউ বা রাজাকার।



মেঘ চৈত্রের ঝগড়া-লীলা

দেখে ভরে মন।

কারনটা তো কিছুই না আর

নতুনের অবগাহন।

অবদান দুই’য়েরই অস্তিত্ব রক্ষায়,

পরস্পর কৃতজ্ঞ প্রতিক্ষন।



শোভন নয় সেই দৃশ্য

যখন দেখায় কেউ নীচ্‌ মন,

ভালোবাসা যায় পালিয়ে

ঘৃনায় করে বন্ধন।

হয়ে যায় তখন বিবেকের ক্রাইসিস,

অস্তিত্বের অস্বীকার।

মাটির খেয়ে, মাটির পড়ে

সেই মাটিকেই ধিক্কার!

dalower


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বগা লেকের ছবি কই? ছবি দেন আরো বেশি কইরা

_________________________________________________________________________________

সিগনেচার নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমৎকার লাগলো আপনার লেখাটা। ছবিগুলো আরো যত্ন নিয়ে তোলা হলে খুব ভালো হতো। smile :) :-)




বগালেক নিয়ে বেশ আগে আমিও ছবিসহ একটা লেখা লিখেছিলাম। লেক ভ্রমণকালে বগালেকের যে উপাখ্যান পেয়েছিলাম, তা আপনারটির চেয়ে খানিকটা ভিন্ন। ...

যাত্রা বিরতি হয়, নাম বিস্মৃত একটি ছড়ার পাশে। শীতলতর অবাক জলপানের পর ভূপতিত মৃত গাছের গুঁড়ির ওপর বসলে কারবারি দা' খুলে বসবেন মালাকাইটের ঝাঁপি। ...

বম ভাষায় বগা লেক হচ্ছে-- বগা রেলি। 'বগা' মানে অজগর, আর 'রেলি' হচ্ছে লেক। লেকের উত্তরে বাস ছিলো এক ম্রো পাড়ার। সেটি ব্রিটিশ আমলেরও আগের কথা। একবার ম্রো' শিকারিরা পর্বতের গুহা থেকে বিশাল এক অজগর সাপ জ্যান্ত ধরে ফেলে। পাড়ার সবচেয়ে বুড়ো লোকটি অনুরোধ জানান, সাপটিকে যেন অবিলম্বে আবার বনে ছেড়ে দেওয়া হয়; কারণ এটি কোনো সাধারণ অজগর নয়, এটি হচ্ছে পাহাড় দেবতা। বুড়োর কথায় কেউ কান দেয় না।

ওই রাতে সবাই মিলে গ্রামের উঠোনে জ্বালে বড়সড় এক অগ্নিকুণ্ড। তারা সাপটিকে আগুনে ঝলসে মহা আনন্দে মদ দিয়ে খায়। সুস্বাদু সাপের মাংসর ভাগ পায় গ্রামের সকলেই। কেবল সেই বুড়ো লোকটি সাপের মাংস ছুঁয়েও দেখেন না। সেদিনই ভোর রাতে বিরাট এক পাহাড়ি ঢল নেমে আসে ম্রো গ্রাম জুড়ে। পানির তোড়ে ভেসে যায় পুরো গ্রামটি, অজগর-পাহাড় দেবতার অভিশাপে মারা পড়ে সবাই। কিন্তু অলৌকিক আশির্বাদে বেঁচে যান একমাত্র সেই বুড়ো লোকটি।

অজগর-অভিশপ্ত ওই পানির ঢল থেকেই বগালেকটির সৃষ্টি। এখনো নাকি সেই ম্রো বুড়োর ভিটে আর অজগরটির গুহা অবিকল টিকে আছে।…


অনেক ধন্যবাদ। চলুক। Arrow


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই পাহাড় বেয়ে বগা লেকে যেতে যেতে দম ফুরিয়ে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম এই কারনে ছবিগুলা ভালো হয় নাই ।

উপাখ্যান গুলার ফরম্যাট আসলে লোকে হতে লোকে ট্রানসফার হতে হতে ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকে রায়ামন মহাভারতের ক্ষেত্রেও তো এটাই ঘটেছে

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই সব উপকথা রূপান্তরিত হওয়াই ভালো তো! smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একটা প্রশ্ন ছিলো। আমি শুনেছি বগালেক যেতে রুমা বাজারে সেনাবাহিনীর কাছে হাজিরা নাকি দেয়া লাগে? এবং প্রায় ৬-৭ ঘন্টার পাহাড়ি পথে হেটে বগালেক পৌছাতে হয়? আপনার লেখার সাথে মিললোনা! আমি শুনেছি যুদ্ধদেবের কাছ থেকে। প্রথম আলোতেও কিছুদিন আগে একটা ফিচার বের করেছিলো। সেখানেও একি কথা পড়েছিলাম

_________________________________________________________________________________

সিগনেচার নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসলে রথ দেখা কলা দেখা দুইটা করতেই এবারে পাহাড়ে গিয়েছিলাম ভ্রমণ যেমন উদ্দেশ্য ছিল তেমনি ছিল সরকারি বেসরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ কেমন সেখানে মানুষের জীবনের উপর প্রভাব ফেলছে সেই সমিক্ষাও আমাদের টিমটার লক্ষ্য ছিল এই কারনে আমারা গাড়ি ব্যবহার করেছি সময় বাঁচাতে যারা থ্রিল চায় তারা পায়ে হেঁটে পথ পাড়ি দেয় হয়তো তাদের জন্য অন্য একটা রুটও থাকতে পারে

আমাদের সাথে সরকারের টপ লেভেলের একজন হর্তাকর্তা ছিল এই কারনে জলপাই মামুরা নাম রেজি করতে বলতে সাহস পাই নাই নাহলে এর আগে আমার এক দোস্ত ট্রেকিং করতে গিয়েছিল সে আমাকে বলছে যে পথে সবগুলা ক্যাম্প এ তাকে নাম লিখে আসতে হয়েছে

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বগালেক দর্শন ভাল লেগেছে।
একদিন আমরাও...

.
.
__________________
অপণা মাংশেঁ হরিণা বৈরী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার স্বপ্ন অবশ্যই পুরণ হবে ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাহাড়ে নিরাপত্তার নামে প্রতি পদে সেনা হয়রানী বেশ ভালোই আছে। বগালেক এলাকায় সেনা বাহিনীর বাড়াবাড়ি নিয়ে একবার সাবেক কর্মস্থল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম - এ লিখেছিলাম। Tongue

ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমৎকার পোষ্ট।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ছবিগুলো সুন্দর; ছবি থেকে বুঝা যাচ্ছে বনভুমি বিরাণ হয়ে গেছে।

অত্যন্ত সাধারন আলুর তরকারি আর বুনো মুরগির ঝোল দিয়ে ভাত


মুরগী কে খেলো?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার অনুমান সঠিক, বড় কোন গাছ কোথাও চোখে পড়বে না ন্যাড়া হয়ে গেছে চারিদিক ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইশ>>>>>>>

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া---------------


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভোর হল দোর খুল ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সকলের উপর বগা দেবতার কৃপা বর্ষিত হোক।

ভ্রমন কাহিনী বালা পাইলাম। যাইবার ইচ্ছা জাগল। আমার ঘুরাঘুরির লিস্ট খুব বেশি না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বগা দেবতার যে কাহিনী শুনলাম তাতে তার দর্শন লাভ করলে হয়তো এই ভ্রমণ কাহিনী লেখা হতো না ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভ্রমণ এবং ছবি ভালো পেলাম।

--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ব্যতিক্রমী পোস্টটি স্টিকি করায় আমারব্লগ কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই। smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখনো যাবার সৌভাগ্য হয়নি। Sad

----------------------------------
© সমান্তরাল ®


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সময় করে নেন পাহাড়ের তিন জেলার মধ্যে বান্দরবান এখন সবচেয়ে বেশি টুরিষ্ট ফ্রেন্ডলি ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বগা চখা কিছুই দেখা হল না Sad

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনে তো মনে হয় দেশেই খুব পা দেন না বগা দেখবেন কেমনে ? আমারও খুব ইচ্ছা ব্লগের সবাই যারা নিয়মিত প্রবাসী ও দেশি একসাথে হয়ে দেশ ঘুরার জানি না এই সাধ খানা কখনো পূরণ হবে কিনা ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখন তেমন পা না দিলেও জীবনের বেশীরভাগ তো দেশেই কাটাইছি। তখনো দেশে ট্যুরিজমের অবস্থা অনেক খারাপ ছিল। মামার বাড়ি চাচার বাড়ি ছাড়া কক্সবাজার ছিল সবেধন নীলমনি। কাপ্তাই রাংগামাটি এইগুলিও পরিচিত কেউ না থাকলে অনেকটা পাবলিক ডোমেইনের বাইরে ছিল। কুয়াকাটার নাম মোটে শোনা যাচ্ছে। সুন্দরবন ভ্রমনও অতি বিরল। নীলগিরি বগা লেকের নামও শুনি নাই দেশে থাকতে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনে যখন দেশে ছিলেন তখন আসলেই কমিউনিকেশন বলেন থাকা খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা বলেন খুব একটা জাতের ছিল না তাই মানুষও কক্সবাজার ছাড়া অন্য কোন দিকে ঘুরতে যেতো না

আর পাহাড়ে ঘুরার কথা তো চিন্তাই করতে পারতো না ইনসারজেনসির কারনে কিন্তু এখন দেশের মানুষের পকেটে পয়সা আসছে ভাত কাপড়ের সাথে সাথে ভ্রমণের ব্যাপারে উৎসাহি হচ্ছে দিন দিন ফলে টুরিষ্টদের উপযোগী ভালোই ব্যবস্থা গড়ে উঠছে


বান্দরবানে যেরকম ভালো মানের লজ্ হোটেল আছে আমার মনে হয় যেকোন কোন প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই সেগুলাতে পরিবার নিয়ে আরামে কাটাতে পারবে আর সেগুলার চার্জ হয়তো আমাদের জন্য বেশি কিন্তু প্রবাসিদের ইনকামের সেইটা মনে হয় না খুব বেশি

নীলগিরিতে আর্মির তত্ত্বাবধানে কয়েকটা চমৎকার কটেজ হয়েছে পার নাইট ১০ হাজার ২ হাজার ফুট উপরে সেইগুলাতে যে ডেকোরেশন সাজ সজ্জা তা ঢাকার অনেক অভিজাত হোটেলগুলাকেও হার মানাবে ।


সমস্যা হচ্ছে অনেকে প্রবাসীই মিডিয়াতে বাংলাদেশ সম্পর্কে খারাপ খবর পড়ে একটা ধারনা করে ফেলেছেন আফ্রিকার থেকেও এইখানের পরিস্থিতি আরো বেশি ভয়ংকর

আমি এক প্রবাসী ডাক্তার ভাইরে চিনি যিনি প্রতিবছর ফ্যামিলি নিয়ে ঢাকায় আসেন কিন্তু এখন পর্যন্ত একবারও ঢাকার বাইরে কোথাও পা দেন নাই তার ভয় ফ্যামিলি নিয়ে ঢাকার বাইরে গেলেই তাদের আততায়ি গুম করে ফেলবে । অথচ এই ভাই ফ্যামিলি নিয়া আফ্রিকা পর্যন্ত ঘুরে আসছেন !

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আগে মনে হয় না সিকিউরিটি কন্সার্ন মূল কারন ছিল, মূল কারন ছিল ফ্যাসিলিটির অভাব। সিকিউরিটি তো ২০/৩০ বছর আগেও অনেক ভাল ছিল।

আগে অবস্থা এমন ছিল যে টাকা পয়সা থাকলেও যাবার উপায় ছিল না তেমন। মধ্যবিত্তের জন্য লিটারালি বেড়ানো মানেই অন্য শহরে মামা চাচার বাড়ি। সে সব দিনে বেড়াতে গিয়ে পরিবার নিয়ে হোটেল/মোটেলে থাকা খাওয়ার কালচারও এ কারনে হয়নি। প্রবাসীরা দেশে আসলে কম সময়ের জন্য আসে, তারা তখন না বেড়িয়ে পরিবার নিয়ে শহরে কাটানোই উত্তম মনে করে মনে হয়। আমি দেশে গেলে আমার অবস্থাও তেমনই হবে।

প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া খুবই দরকার। আমার ব্যাক্তিগত ধারনা সবুজ শ্যামল জলপানি ওয়ালা যায়গার লোক শুষ্ক খটখটা যায়গার লোকের থেকে কোমল স্বভাবের হয়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাস্টারের সাথে বগা লেক ঘুরে আসলাম, ভালো লেগেছে।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেখার পড়ার জন্য আপনাকেও ধইন্যাপতা ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যাইতে মঞ্চায় Sad

পোস্ট পছন্দ হইছে।

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

থ্যানকু

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভীষণ ভাল ভ্রমণ কাহিনী। ছবিগুলোও অদ্ভুত সুন্দর। পড়ছিলাম আর দেখছিলাম। মনে হল, আমি যেন ওখানেই বিচরণ করছি....

‍‍‌‍‍‍‍**********
স্বপ্নের কারিগর


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

smile :) :-)

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাল লাগল। Star


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখনো মনে পড়ে চিম্বুকের শীতল ঝর্নায় গোসলের কথা। নষ্টালজিক হয়ে গেলাম মাষ্টার সাব।
চমতকার লেখা!!
মনে হলো আবারো ঘুরে আসলাম।
Star Star Star Star Star

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বলেন কি চিম্বুকের শীতল ঝর্নার কথা তো কেউ বলে নাই আমাকে ? ইস মিস হয়ে গেল ! জলদি এইটা নিয়ে একটা পোস্ট নামান

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চিম্বুকের শীতল ঝরনা এইটা কই বস? আমি চিম্বুক পাহাড়, শৈল প্রপাত আলাদাভাবে ঘুরসি Sad @অনিদা

_________________________________________________________________________________

সিগনেচার নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চিম্বুকে ঝর্না নাই তো, আপনে বোধহয় শৈল্প্রপাতের কথা কৈতাছেন।

***********************************************************************
"এহনবি জিন্দা আছি, মৌতের হোগায় লাথথি দিয়া
মৌত তক সহি সালামত জিন্দা থাকবার চাই"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কইতাছি রে ভাই-
চিম্বুকের টিলার নিচেই ছিলো একটা রিজার্ভার; অনেকটা ট্যাঙ্কের মতো-পাহাড়ের পানি এসে জমতো। সেই পানির কথাই বলছি। তখন অবশ্য চিম্বুকে ছিলো এক টিলায় একটা রেষ্ট হাউস আর এক টিলায় একটা পুলিশ ক্যাম্প। বালতি কেটে পানি উঠিয়ে গোসল করেছিলাম। সেই শীতল পানি এখোনো গায়ে লেগে আছে। আহা!

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোষ্ট বেশ বড়, কিন্তু পড়তে একদম অসুবিধা হয় নাই। ৪/৫ বার বান্দরবন গেলেও বগা লেকটা দেখা হয় নাই Sad বুঝলেন মাস্টার সাব জীবনে বিয়া স্বাদী করনের সমস্যাই এইটা। বাই দ্য উয়ে, আপনার ডান্ডা দিয়া ঠান্ডা পোজটাও কিন্তু সুন্দর হইছে smile :) :-)

***********************************************************************
"এহনবি জিন্দা আছি, মৌতের হোগায় লাথথি দিয়া
মৌত তক সহি সালামত জিন্দা থাকবার চাই"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হ এই সত্য কথাটা সবাই বিয়ার পড়েই বুঝতে পারে কেন জানি আগে কিছুতেই বুঝতে চায় না ।

পোস্ট দিতে গিয়ে দেখি রচনা সাইজ হয়েছে গেছে ভয় পেয়েছিলাম পাবলিক হয়তো পোস্ট পড়বেই না, আপনে ধৈর্য ধরে পড়ছেন দেখে ভালো লাগল ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

টান অনুভব করলাম। পালিয়েও গেলাম।
ঘরে ফেরা হবে না আর।

--------------------------------------
সুশীলরা গণমানুষের শত্রু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দেশের টান হতে মুক্ত হওয়া এতোটা সোজা না পালিয়ে যাবেন কই ঠিকই সে আপনারে টেনে নিজের কোলে নিয়ে আসবে পরম মমতায় ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সুন্দর পোষ্ট।
গেছিলাম অনেক আগে। ট্রেকিং কইরা। গাড়িতে না।
লারাম এর বাড়িত আছিলাম।
মনে পইড়া গেল।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি ঘরে ফিরবো, কিন্তু ফিরতে গিয়ে দেখলাম আমি বাড়ি ফিরেছি। আমার ঘরে ফেরা আর হল না...(সংগৃহীত)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বুঝা যাচ্ছে আপনে ঘুরইনা পাবলিক , আসলে হাতে সময় থাকলে ট্রেকিং করবার অপশন নিতাম , কিন্তু গ্রুপে বয়স্ক হার্টে পেস মেকার বসানো পাবলিকও ছিল তাই সেই রিস্ক আর নেই নাই ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালো করেছেন।
ট্রেকিং সবার জন্য না। আমরা জোয়ান হইয়াও তিন দিন পরে রুমা বাজারে ফিরে তিন ঘন্টা কাইত হইয়া পইড়া ছিলাম। তিন দিনে ২৪ ঘন্টা হাটার দুর্ভোগ সবাই সইতে পারবেনা। এর জন্য নিয়মিত অভ্যাস লাগে। বয়স্ক আর মহিলাদের নিয়া আরও না। তয় আজকাল উদ্যমী বেশ কিছু মাইয়ারা ট্রেকিং কইরা যাইতেছে জাইনা ভালা লাগছে।
আমার ট্যুর নিয়া পোষ্ট দিছিলাম একখান, যদিও আপনেরটার মত সুন্দর না এত। চাইলে দেখবার পারেন।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি ঘরে ফিরবো, কিন্তু ফিরতে গিয়ে দেখলাম আমি বাড়ি ফিরেছি। আমার ঘরে ফেরা আর হল না...(সংগৃহীত)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বগার গল্পটা পইড়া থ্রিল লাগছে। ধন্যবাদ।
ছবিগুলান কি সৌন্দর্য

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

থ্যাংকস এইরকম থ্রিলার সাসপেনস ভরা কাহিনী পাহাড়ের বাকে বাকে আছে যেমন ১৮০০ শতকের দিকে ইংরেজ এক আর্মি ক্যাপটেন সাহেব গুরখা এক রেজিমেনট নিয়ে চন্দ্রঘোনায় এসেছিলেন তিনি বাঘাইছড়ির গহীন অরণ্যে গিয়েছিলেন সিকাম নামে একটা দুর্ধর্ষ লড়াকু পাহাড়ী সম্প্রদায়ের সাথে লড়াই হয় তার অভিযানের কাহিনি ওয়েস্টান গল্পগুলা হতে কম উত্তেজনা পূর্ণ না

সময় পেলে এইটা নিয়ে একটা পোস্ট দেওয়ার ইচ্ছা আছে ।

ক্যামেরার ব্যাটারির চার্জ না থাকার দরুন অনেক চমৎকার সিনারি ইচ্ছা থাকার পরেও ফ্রেম বন্দী করতে পারিনি ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাস্টার দা, মাথিনের কুপের কাহিনী- একবার এক পাহাড়ি মেয়েকে এক বাঙালী পুলিশ অফিসারের প্রেমে পড়েছিল। পড়ে পুলিশ অফিসার নিজ দেশে গিয়ে আর ফিরে আসে নি। এই কাহিনীটা জানা আছে? থাকলে যদি পোষ্ট দিতেন।

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেখকের সাথে সাথে বগা লেইক ঘুরে এলাম - অসাধারন সাবলীল বর্ননা মুগ্ধ হয়ে পড়লাম - পড়তে পড়তে একটা সুরই কানে বাজছিল - আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

থ্যাংকস ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অমন নীল শান্তিরধারাতে লেখকের সাথে ঘুরে এলাম, বর্ণনাতে, আলেখ্যে, অনুভবে। মাস্টার- নিটোল ধন্যবাদ আপনাকে।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই রকম কাব্যিক মন্তব্যের জন্য আপনাকেও পাঁচ তারা

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওয়াও !!! দারুন পোস্ট Star Star Star Star Star

বগা লেকের মৎস্য প্রজাতী নিয়ে জানতে চাই, শুনেছি একটু ব্যাতিক্রম ইকোলজীর প্রভাব আছে।

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বগা লেকের পাশে বসবাস করা লোকদের সাথে লেক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করাতে তারা বলল বছরের বেশিরভাগ সময়েই তারা লেকের পানি ফুটিয়ে পান করতে পারে নিত্যদিনের কাজে ব্যবহার করতে পারে কিন্তু কিছু কিছু সময় হঠাৎ করে পুরা লেকের পানি ঘোলা হয়ে যায় এবং সেই সময় তা নাকি প্রচণ্ড বিষাক্ত হয়ে পড়ে ওই সময়টাতে তারা পানির উৎসের জন্য অন্যত্র গমন করে ।

তবে কেন এমনটা হয় তার কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেনি আমাকে ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভার্চুয়ালি ভ্রমনের সাথী হতে পেরে ভালো লাগলো। নয়নাভিরাম অপার সৌন্দর্য। ২০০১ সালে গিয়েছিলাম। তবে আন্ডা-বাচ্চা সাথে থাকায় বগা লেকে যাওয়া হয়ে ওঠে নি। চিম্বুক, নীলগিরিতে গিয়েছিলাম চান্দের গাড়িতে। আবারো কোনো এক সময়ে অবশ্যই যাবার ইচ্ছে আছে (আন্ডা-বাচ্চা ক্যানসেল)। বগা লেকের ছবিগুলো দেখে ভীষণ খায়েশ জেগে উঠেছে।

----------------------------
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পুরা সফর খানাই নিয়ে লিখতে বসলে একটা আস্ত বই হয়ে যাবে তাই আজকে খালি বান্দরবান জেলা হয়ে বগা লেক ভ্রমণখানাই সবিস্তারে বর্ণনা করি ।


-আস্ত বই হইলেও মন্দ হবে না মনে করি। আপনার দেখার চোখ আছে যেমন, তেমন বলার মুখও আছে। আমি এইটা পারি না।

পরের অংশ কই?

---------------------------------
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বান্দরবন!!!!! যা লাগলো না পড়ে। এমন পোস্ট আরও চাই মাস্টার ভাই। Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

..................................................................

আনন্দের অশ্রু দুখের অশ্রু
একটি অপরটিকে ধ্বংস করতে পারেনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমৎকার লেখা। আমি গেছিলাম ২০০৯ এ।
এবার সেপ্টেম্বরে আবার যাচ্ছি। বগা থেকে তাজিনডং হয়ে থানচি পর্যন্ত পায়ে হেঁটে। আগ্রহ, সময় থাকলে চলে আসুন। বয়স যাবার আগেই দেখে ফেলি।

...............................................................................................................
ঠায় দাঁড়িয়ে দাঁড়কাক


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়ে খুব আনন্দ পেলাম । ছবি দেখেও । বগা লেকের সৃষ্টি তত্ব ( লোক কাহিনী ) বিস্বাস-গ্রাহ্য না হলেও এমন লোক-কথা পৃথিবীর সব দেশেই প্রচলিত । বগা লেকের নৈসর্গিক সৌন্দর্য অনিন্দ-মধুর । এটাই আমাদের বড় উপহার । আপনাকে ধন্যবাদ ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

---------------------------------------
জীবনের প্রত্যেক প্রবাহ অমৃত চায়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওয়াও !!!!!!!!!

glqxz9283 sfy39587p07