Skip to content

মিডিয়া নিয়ে টুকরা ভাবনা

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালোবাসা না স্বৈরাচার কারে পিরিত করব ?


গতকাল ছিল ১৪ ই ফ্রেব্রুয়ারি দিনটা দুনিয়ার সব জায়গায় ভ্যালেনটাইন ডে হিসাবে পালন করা হলেও বাংলাদেশে কতো কয়েক বছরের সাইবার এক্টিভিজমের কল্যানে অনেকেই এখন অবগত ১৯৮২ সালের এই দিনে এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রেরা আর্মির বন্দুকের গুলিকে হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছিল দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত রাখার অভিপ্রায়ে । ফলে প্রচুর মানুষ অন্তত যারা রাজনীতি সমাজ সচেতন দিনটাকে স্বৈরাচারবিরোধী দিবস হিসেবে দেখতেই পছন্দ করেন এবং এই ধরনের মানুষেরা সংখ্যায় এখনও সংখ্যালঘু হলেও তাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনলাইন বিকল্প ধারার মিডিয়াতে আমি নিশ্চিত জরিপ করলে দিনটাকে স্বৈরাচারবিরোধী দিবস হিসাবেই পালনের স্বপক্ষেই বেশি ভোট পড়বে কিন্তু আমি এই বাস্তবতার সাথেও ওয়াকিবহাল যে মূল ধারার মিডিয়ার কাছে ভ্যালেনটাইন ডেকে জনপ্রিয়তা করবার একটা অপ্রাণ প্রচেষ্টা গত কয়েক বছর ধরেই ক্রমাগত করা হয়ে আসছে কারন এর সাথে তার মুনাফা অর্জনের অর্থনীতি লাভের হিসেব নিকেশ জড়িত ভ্যালেনটাইন ডে নিয়ে কভারেজে আরচি, হলমার্ক, জুয়েলারি মোবাইল কোম্পানীগুলা হতে বেশি বেশি নগদ নারায়ন লাভের সম্ভাবনা থাকে, প্রথম আলো পত্রিকা ভ্যালেনটাইন ডে নিয়ে এক্সটা ফিচার পাতা যুক্ত করে কিন্তু স্বৈরাচারবিরোধী দিবসের ইতিহাসকে ১৯ পাতার বাম সাইডের একটা চিপায় জায়গা করে নিতে হয়।

কালকে সারাদিন মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করছিলাম ভ্যালেনটাইন ডে নিয়ে আসলে আমার অবস্থান কি ? আসলে ভ্যালেনটাইন ডে উদযাপন নিয়ে আমার ভিতরে যেমন বিশেষ কোন উত্তেজনা বিরাজ করছিল না ঠিক তেমনি আবার সন্ধ্যা বেলায় দিবস খানি সব বয়সের মানুষদের মাঝে যে আনন্দ উচছ্বাস নিয়ে এসেছিল তাও ভালো লাগছিল ! ইট পাথরের এই জঙ্গলের মধ্যে এখনও যে ইশক মোহাববত করনেওয়ালা প্রচুর মানুষ আছে এই উপলব্ধি খানা একটা ভালো লাগার আবেশ তৈরি করে দিয়েছিল মনের মাঝে !

তাহলে দেখা যাচ্ছে ভ্যালেনটাইন ডে উদযাপন কারিদের সাথে আমার কোন অহি নকুলের রিলেশন নাই আমার আপত্তি মুনাফা অর্জনের খাতিরে মিডিয়ার আমাদের ইতিহাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশকে পুরাই অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার অন্যভাবে বলা যায় কারপেটের নিচে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার সাথেই আমার মূল দ্বন্দ্ব।

সদিচ্ছা ও দূরদর্শীসম্পন্ন অসচলায়তনের বাহিরে চিন্তার সক্ষমতা থাকলে দেশের মূলধারার মিডিয়াগুলা ভ্যালেনটাইন ডে এবং স্বৈরাচারবিরোধী দিবস দুইটাকে সমানতালে কভারেজ দিতে পারত এবং মিডিয়ার উপভোক্তারা যে যার পছন্দ মতো খবর বেছে নিতে পারত তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে কাজটা সম্পাদন করা খুব একটা কঠিন না ।

গত বছর এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যে একটা আলোচিত ঘটনা ছিল ব্রিটিশ রাজপরিবারের যুবরাজ উইলিয়াম এবং ক্যাথরিন মেডিলটনের বাগদানের অনুষ্ঠান এই বিয়ে অনুষ্ঠান নিয়ে যেমন একদিকে ছিল ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা মাতামাতি মিডিয়া কভারেজ একই সাথে অর্থনীতিক মন্দা, বেকারত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রিটিশ নাগরিক সমাজের একটা অংশ জনগনের ট্যাক্সের পয়সায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ডে খরচ করে বিয়ে অনুষ্ঠান করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন করেছিল

ট্যাক্স পেয়ার এলায়েনসের পরিচালক ইমা বুনের মতে “ Of course it should be an event for the whole nation to celebrate, but ordinary taxpayers should not be left with a bill fit for a king.” ট্যাক্স পেয়ার এলায়েনস একা নয় এরকম অনেক সংগঠন উইলিয়াম এবং ক্যাথরিন মেডিলটনের বিয়ের অনুষ্ঠান বয়কট করবার ডাক দিয়েছিল গার্ডিয়ান পত্রিকা যারা বিয়ের খবর আগ্রহী এবং যারা তা বয়কয়টে খবর পরতে ইচ্ছুক তাদের উভয়কেই সন্তুষ্ট করতে তাদের অনলাইন ভার্সনে পৃথক সেকশন খুলেছিল ইচ্ছা করলে এই কাজটা আমাদের দেশের পত্রিকাগুলা করতে পারে ।

বাংলা ব্লগগুলার কুলখানি

কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি বাংলা ব্লগগুলার আগে যাদেরকে খুব একটিভ দেখতাম তাদেরকে বাংলা ব্লগগুলাতে খুব একটা দেখা যায় না, এমন না যে তারা ব্যস্ততার কারনে নেটে ঢুকার টাইম পান না কারন ফেসবুকে তাদের সাথে প্রত্যেকদিনই বলতে গেলে ইনটারএকশন হয় তার নানা ইস্যুতে পোস্ট দেন নানা ইনফো শেয়ার করেন ফেসবুকে তর্ক বিতর্ক হয় না ইস্যুতে অথচ এর ফলে বাংলা ব্লগগুলা হয়ে যাচ্ছে প্রাণহীন নিশ্চল সেইগুলাতে পোস্ট পড়ে কম পোস্ট পড়লে কমেনট বা আলোচনা আরও কম এর কারনগুলা কি হতে পারে ?

সবগুলা ব্লগই কমবেশি এই সমস্যার সম্মুখিন ,আমার মনে হয় আগে ছিল হাতে গুনা কয়েকটা ব্লগ এখন নিত্য নতুন এতো বেশি ব্লগ আসছে যে প্রত্যকে ছোট ছোট গ্রুপ বানিয়ে একটা ব্লগসাইট খুলে নিজেরাই ব্লগ করছে নিজেরাই মন্তব্য করছে এছাড়া আদর্শিক এবং বিষয়ভিত্তিক ব্লগতো আছেই আগে এই ধরনের ব্লগ বলতে স্রেফ মুক্তমনাকেই বুঝাতো এখন চিনা ধারার বামেরা উন্মোচন খুলেছে যারা স্রেফ গল্প কবিতা ভালোবাসে তারা চতুরে যায় ধার্মিকদের জন্য আছে সদালাপ ফলে আগে একটা প্ল্যাটফর্মের তলে নানা লোক এসে পোষ্ট দিতো নানা টপিক নিয়ে তর্ক বিতর্ক করতো ব্লগ থাকতো সরগরম আমার মনে হয় না এই ধরনের পরিবেশ কোন ব্লগ আর তৈরি করতে পারবে

আগে বাংলা ব্লগেই শুধুমাত্র বাংলায় লেখালিখি করা যেতো কিন্তু নতুন অভ্র ভার্সনের ফলে ফেসবুকেও এই কাজটা চমৎকার করা যাচ্ছে এবং ক্ষেত্রবিশেষে পুরানাদিনের বাংলা ব্লগের আমেজখানা সেইখানে কিছুটা হলেও পাওয়া যাচ্ছে তাছাড়া এই লেখা শেয়ার করা/ লাইক / ইউজার ব্লকড সহ কিছু ফিচারের কারনে এইখানে ব্লগার তার মনের খুশিমতো মডারেশন করতে পারে। যেদিন মাইক জুকারবর্গ ফেসবুকের বাংলা নোট লেখা ডেপলেপড করতে মনোনিবেশ করবে সেদিন থেকেই ধরে নিতে হবে অনেক বাংলা ব্লগের এমনিতেই মৃত্যু ঘটবে । যদিও আমি মনে প্রাণে কামনা করি আমার এই চিন্তা ভুল প্রমানিত হোক ।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি বাংলা ব্লগগুলার আগে যাদেরকে খুব একটিভ দেখতাম তাদেরকে বাংলা ব্লগগুলাতে খুব একটা দেখা যায় না, এমন না যে তারা ব্যস্ততার কারনে নেটে ঢুকার টাইম পান না কারন ফেসবুকে তাদের সাথে প্রত্যেকদিনই বলতে গেলে ইনটারএকশন হয় তার নানা ইস্যুতে পোস্ট দেন নানা ইনফো শেয়ার করেন ফেসবুকে তর্ক বিতর্ক হয় না ইস্যুতে অথচ এর ফলে বাংলা ব্লগগুলা হয়ে যাচ্ছে প্রাণহীন নিশ্চল সেইগুলাতে পোস্ট পড়ে কম পোস্ট পড়লে কমেনট বা আলোচনা আরও কম এর কারনগুলা কি হতে পারে ?


প্রশ্নটা আমারও ।

মাইক জুকারবর্গ ফেসবুকের বাংলা নোট লেখা ডেপলেপড করতে মনোনিবেশ করবে সেদিন থেকেই ধরে নিতে হবে অনেক বাংলা ব্লগের এমনিতেই মৃত্যু ঘটবে


এইটা কি কইলেন,বাংলা নোট তো এখন এভেইলেবল Sad

পোস্টে পাচ তারা

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ফেসবুকের নোটে এখনই বাংলায় লেখা যায় তবে কিছু সমস্যা এখনও বিদ্যমান যেমন অভ্র দিয়ে লিখতে গেলে লেখার মাঝখানে বক্স বক্স চিহ্ন দেখায় এছাড়া কোন লিংক দিয়ে দিলে তা অনেক সময় ভালো ভাবে দেখা যায় না ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ফেসবুক কখনোই বাংলা ব্লগের স্থান দখল করতে পারবে না; ব্লগ-অ্যাক্টিভিজম তো বটেই। আবার বাংলা ব্লগও ফেসবুকের স্থান নিতে পারবে না। দুটির ধরণই আলাদা।

ফেসবুকের মোবাইল ফোন ভার্সন হওয়ায় সেখানে তর্ক-বিতর্কে খুব সহজে অংশ নেওয়া যায়--এটি একটি বড়ো সুবিধা। ভবিষ্যতে বাংলা ব্লগগুলো মোবাইল ভার্সন বের করলে লেখক/পাঠক অংশ গ্রহণ হয়তো আরো বাড়বে।

ভাবনাটিকে উস্কে দেওয়ায় অনেক ধন্যবাদ।
হেপি ব্লগিং। smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালো মোবাইল ব্লগ ভার্সনের আসলেই দরকার আছে

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসলে মানুষ গতি পছন্দ করে।
দ্রুত কাজের/লেখার রেসপন্স/ফিডব্যাক পছন্দ করে।
খেয়াল/খুশী মতো দ্রুত মোডিফিকেশন করার সামর্থ্য কে পছন্দ করে।
এই ব্যাপার গুলো যেসব ব্লগ যতো দ্রুত নিশ্চিত করতে পারবে তারাই এগিয়ে যাবে। টিকে থাকবে।

পাঠক ও লেখকদের মাঝে দ্রুত ইন্টেরকশন করার সহজ সরল উপায় বের করতে হবে।

আমারব্লগের কথাই ধরুন, ইন্টারেকশনের প্রধান বা একমাত্র যে মাধ্যম "মন্তব্য" সেটার অবস্থাই করূন।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার ব্লগের নতুন ভার্সনের স্পীড ঠিক আছে তবে বাকি ফিচারগুলার ইম্প্রুভমেটের কাজ আরম্ভ করে দেওয়া দরকার ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হুম !!
Star Star

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মিডিয়া নিয়ে ভাবনা গুলো ভাল লাগলো

চিন্তার বাঁধ ভেঙ্গে দাও


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমৎকার বিশ্লেষণ। প্রিয়তে।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে

glqxz9283 sfy39587p07