Skip to content

শেয়ার চক্র

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সময়টা ৯৬ সাল শেয়ার মার্কেটে সবাই হুড়মুড়িয়ে বিনিয়োগ করছে, কেউ দেশের বাড়ির জায়গা জমি বেঁচে, কেউবা সারা জীবনের ব্যাংকের শেভিংস তুলে, কেউবা ধার দেনা করে, সাপ্তাহিক বিচিত্রা ( কিংবা ২০০০ ? ) অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপে শেয়ার মার্কেটের প্রবৃদ্ধি যে নিছক কারসাজি সে সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু কার সময় আছে সেই সতর্কবানি শুনবার

সবাই তখন মশগুল লাভের টাকা দিয়ে কি করবে তার হিসেব নিকেশ করতে, অনেকেই যা লাভ করেছে তা দিয়ে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এ পার্টি দেয় প্রতি সপ্তাহে কেউবা গাড়ি কিনতে ব্যস্ত অথবা বউকে নিয়ে বিদেশ টুরে মশগুল , টিভি খুললেও সেখানকার রম্য নাটকে প্রেমে বিরহে শেয়ার বাজার পুরা বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত তখন শেয়ার বাজারের জ্বরে আক্রান্ত । কিন্তু কৃত্রিম ভাবে ফুলানো মার্কেট একদিন ঠিকই বাষ্ট করে অনেক লোককে পথে বসিয়ে সর্বস্ব লুটে নিয়ে , মিডিয়াতে হালকা পাতলা এই তান্তবলীলার নেপথ্যের কারিগরদের শুনা যায় এরপর কিছুদিন পর যথারীতি ঠাণ্ডা সব মতিঝিল ষ্টক একচেইনজে কবরের নীরবতা ।

এরপর অনেকটা বছর কেটে যায় , এদেশের মানুসের গোল্ড ফিসের মেমোরি ৯৬ সালে গুয়া খাওয়ার স্মৃতি তখন অনেকটা ঝাঁপসা হয়ে গেছে আবার মৃত মার্কেট জেগে উঠে তেজী ঘোড়ার মতো কোন এক দরবেশ বাবার জাদুর কাঠির ছুঁয়াতে, সবাই আবার পাগলের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে শেয়ার মার্কেটে

৯৬ থেকে ২০০৮ হিসেব করলে অনেকটা সময় কিন্তু সবকিছু যেনো একতা কাপুরের শাশুড়ি বউ সিরিয়ালের কাহিনীর মতো রিপিট হতে থাকে । অবশ্য প্রত্যেকটা সিরিয়ালের থিম সঙ এবং টাইটেলে যেমন ভিন্নতা থাকে এই কাহিনীতেও ছিল ৯৬ সালে মোবাইল ছিল না নেট ছিল না ছিল না ২৪ ঘণ্টার টিভি চ্যানেলগুলা কিন্তু ২০০৮ সালে তা আছে আগেরবারে শেয়ার জ্বরে খালি ঢাকা কেন্দ্রিক মধ্যবিত্ত পুড়েছিল কিন্তু এবার ধানমণ্ডির আসলাম সাহেব হতে আরম্ভ করে চুয়াডাঙ্গার গফুর মিঞা সবাই দরবেশ বাবাজির জালে ধরা দেয় ।

যে ডিজুস ছেলেটাকে ছেলেবেলা হতে গরু পিটা পিটিয়েও পেপার পড়ায় অভ্যস্ত করাতে পারেননি সেই ছেলেটা এখন নাস্তার টেবিলে পিতার হাত থেকে পেপার কেড়ে নিয়ে শেয়ার মার্কেটের সেনসেক্সের পাতায় চোখ বুলায় গম্ভীর হয়ে ।

অফিসে, রাস্তায় চায়ের দোকানের মোড়ে, বিআরটিসি বাসের ভীড়ে সব জায়গায় খালি একটাই আলোচনা কোনটা কিনতে হবে কোনটা ছাড়তে হবে , সবাই শেয়ার পণ্ডিত । কিছু কিছু ভীতু ৯৬ সালের গুয়া খাওয়াদের কথা মৃদু আওয়াজে স্মরণ করিয়ে দিতে চেষ্টা করে কিন্তু শেয়ার পণ্ডিতেরা হাতের বেনসনটায় একটা লম্বা টান দিয়ে লম্বা একটা ধোয়া ছেড়ে অভয় বানী দেয় শেয়ার মার্কেট এর ফ্যানডামেনটাল নাকি ষ্টিলের মতো শক্ত !

একদিন যথারীতি এই ষ্টিলের মধ্যে ফাটল দেখা দেয়, সেনসেক্স একটু করে নিম্নগামি হয় বিনিয়োগকারিদের সেক্স মাথায় উঠে তারা সেটা মতিঝিলে রাস্তায় মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুলিশ পিটিয়ে রিকশা গাড়ি ভেঙে , ইস্কুলগামি ছাত্রদের ভয় দেখিয়ে নির্গমন করেন । সব দেখে এতোদিন সর্পের মতো শীত নিদ্রা দেওয়া সরকারি আবুলেরা সেনসেক্স মেরামতে মাঠে নামেন নানাভাবে কিন্তু মার্কেট যেমন জাদুর কাঠির ছুঁয়ায় পাগলা ঘোড়া হয়ে গিয়েছিল তা এখন দরবেশের অভিশাপে উঁকুনে ভরা বুড়া কুত্তায় রূপ নিয়েছে ।

একসময় বিনিয়োগকারিদের অনেকের সেক্স মাথা হতে নামে তারা কল্পনার আকাশ হতে মর্তে অবতরণ করেন, সরকারকে অভিশাপ দিয়ে যে যার ডাল লাইফে ফিরে যান কিন্তু হাতের সব আঙুল যেমন সমান না সেরকম অনেকেই সব পাওয়ার স্বপ্ন থেকে বাস্তবে ফিরে আসতে চান না তারা ষ্টক একচেঞ্জের সামনে ঘেরাও দিয়ে সর্বহারা বিপ্লব করে ফেলার চেষ্টা করেন , পতিত স্বৈরাচার , সাফারি সুট পার্টি পুঁজিবাদ বিরোধি লাল ঝাণ্ডা সব জায়গা হতে অভয়ের বানী আসে ।


উদাস দরবেশ বাবার এই সর্বহারা বিপ্লবে দিকে মনোযোগ দেন না তিনি টক শো নিজের সাদা দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে পরবর্তী রাউন্ডের খেলার ছক মাথায় সাজাতে থাকেন ।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বিচারের বানী নিভৃতে কাঁদে ...........

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বহতা নদীর মতো বয়ে চলে সময়, সাথে চলে জীবন নামের তরী, কখন ডুবে যাবে, কে জানে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখন তো মিডিয়ার জামানা বিনিয়োগকারিরা একজোট হয়ে আওয়াজ তুলছেন আশা করি ন্যায় বিচার না পেলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কোন একটা রাস্তা পাবেন ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শেয়ার মার্কেট যে কলাপ্স করবে তার প্রেডিকশান ২০১০ এর শুরুতেই কয়েকজন অর্থনীতিবীদ করেছিলেন, সামুতে একটা পোস্টও পড়েছিলাম।

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমিও অনেক অর্থনীতিবিদের লেখা পড়ে ধারনা করেছিলাম মার্কেট কলাপস করবেই তাই প্রথম দিকে কিছু টাকা বিনিয়োগ করার কথা ভাবলেও পরে আর ওই দিকে পা বারাইনি ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ব্যাটা এইটা কেন, আমি কইলাম , আমার কাছে পাকা খবর আছে এইটার মধ্যে মারোয়াড়ি ঢুকছে! দেখ এইটার দাম কৈ যায়!

দুইমাস পরে, ঐ বন্ধু দেখলাম লোকজনকে বলে বেড়াচ্ছে, মাড়য়াড়িরা সব লইয়া গেছে।

টানা ছয় মাস আড্ডায় কোন ফ্রোর পাইনাই। বিরস বদনে দুইটা সিগারেট টেনে বলেছি আজকে যাইগা-

মাঝে মাঝে ফ্রোর পেলে মিনমিন করে বলেছি, তোরা পি রেসিও দেইখা শেয়ার কিনস না? আরে ধুর ঐ গুলির দাম বাড়েনা। এই ছিল উত্তর।

খারাপ লাগে, অনেকেই দাড়ি এখন কামাতে ভুলে যায়। প্রায় সবাই ঋণগ্রস্ত।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার দোস্ত মহলে মনে হয় আমি ছাড়া প্রত্যেকে কোমর বেঁধে নেমেছিল আমাকেও অনেক প্রেসার দিয়েছিল কিন্তু তা এড়িয়ে গেছি এখন তাদের সাথে দেখা হলে চা সিগারেটাও আমিই স্পনসর করি বেশির ভাগ সময় !

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চা সিগারেটের স্পন্সরের ভূমিকার কথা লিখতে গিয়ে ভুলে গিয়েছিলাম। অবস্থা সবখানে একই।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই অর্থনীতি খুব কম বুঝি দেখে শেয়ার মার্কেটের দিকে ভুলেও পা বাড়াই নাই, অথচ পরিচিত পোলাপাইন শেয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ হয়েও নির্দ্বিধায় পয়সা ঢালছে। এর নেতিবাচক ইফেক্ট পড়তে বাধ্য। যেমন অনেকেই স্বল্প পূঁজির ব্যবসা দাঁড় করাতে পারত, কিন্তু তা না করে ফাটকা খেলতে গেছে, বিনাশ্রমে দ্রুত লাভের লোভে পড়ে আম, ছালা সবই হারাইছে।

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসলে আমাদের দেশে লোক শর্টকার্ট রাস্তায় বিনা শ্রমে বড়লোক হওয়ার ইচ্ছা সবাই মনের মাঝে পোষণ করে ফলে কিছু জালিয়াত সব সময় ফায়দা উঠায়

হুণ্ডি ডেসটিনি ইউনিপে আরও কতো লোভনীয় ফাঁদ বের হয় বাজারে !

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই অর্থনীতি খুব কম বুঝি দেখে শেয়ার মার্কেটের দিকে ভুলেও পা বাড়াই নাই


আমার মাথায় ও এইসব তেমন ঢুকেনা। একদিকে বাচোয়া।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ফেবু থেকে একটি লেখা শেয়ার করলাম:

বানরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ ছিল গ্রামবাসী। ওই গ্রামে হঠাৎ একদিন আগমন ঘটাল এক অচেনা লোকের। লোকটি ১০ টাকা দামে গ্রামের বানরগুলো কিনে নেওয়ার ঘোষণা দিল। গ্রামের লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ল বানর ধরতে। তারা বানর ধরে ধরে ওই অচেনা লোকের কাছে বিক্রি শুরু করল।
মাঠের কাজ ফেলে এভাবে প্রায় ২০০ বানর ধরে ওই অচেনা লোকের কাছে বিক্রি করল। লোকটি বানর কিনে খাঁচায় পুরে রাখল। এরপর গ্রামে বানরের সংখ্যা কমে গেল। লোকটি ২০ টাকা দরে বানর কেনার ঘোষণা দিল। এভাবে আরো ৩০টি বানর কিনতে সক্ষম হলো। এরপর গ্রামে আর কোনো বানর খুঁজে পাওয়া গেল না। অচেনা লোকটি ৫০ টাকা দরে বানর কেনার ঘোষণা দিল। এ সময় আরেকজন অচেনা লোক হাজির হলো ওই গ্রামে। সেই লোকের কাছে সে ৩৫ টাকা দরে দুটি বানর বিক্রি করল। নতুন অচেনা লোকটি ওই গ্রামের একজনের কাছে সেটা ৪০ টাকা দরে বিক্রি করল। গ্রামের লোকটি সেটা আবার প্রথম অচেনা লোকের কাছে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করে দিল। দ্বিতীয় লোকের কাছ থেকে এভাবে ৪০ টাকা দরে বানর কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ল গ্রামবাসী। প্রথম অচেনা লোকের কাছ থেকে দ্বিতীয় লোকটি সব বানর কিনে নিল ৩৫ টাকা দরে। দ্বিতীয় লোকটির কাছ থেকে ৪০ টাকা দরে গ্রামবাসী একে একে সেই ১০ টাকা দামের বানরগুলো কিনে নিল। এর পর তারা যখন সেটা প্রথম অচেনা ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতে গেল তাকে আর খুঁজে পেল না। দ্বিতীয় অচেনা ব্যক্তিকে খুঁজতে গিয়ে দেখে সেও নেই। গ্রামটি আবার বানরময় হয় উঠল।


আর অচেনা লোক দুজন বাজারের কারসাজি চক্র। যার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাজার সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি অনেক খ্যাত-বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম। যারা আমাদের কাছে বানরগুলো বিক্রি করল, তাদের কি কোনো ঠিকানা নেই? আবার অচেনা লোকগুলো গ্রামে ফিরবে, সেদিনই হয়তো বানরগুলো বিক্রি হবে। তারা আর কোনো দিন ফিরবে না।

----------------------------
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শেয়ার বাজারের কোমড় বেঁধে নামার পূর্বে সকলেরই উচিত এই গল্পখানি একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া মাতরিয়শকা আপনাকে ধন্যবাদ গল্পটা এইখানে শেয়ার করবার জন্য ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পৃথিবীর সবচেয়ে স্মার্ট ব্যবসা করতে গেলো কিছু সাধারন মানুষ।
যা হওয়ার তাই হলো।
Sad Sad Sad Sad Sad Sad Sad

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় না এইটা সবাই বুঝতে চায় না আফসোস !

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?

glqxz9283 sfy39587p07