Skip to content

রক্তাক্ত '৭৫ : একটা দিনের হেরফের যেভাবে বদলে দিলো বাঙালীর ইতিহাস

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


ভূমিকা:

১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডেই শেষ হয়ে যায়নি সব। যার মুক্তির ডাকে সাড়া দিয়ে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলো বাঙালী, তাদের সবার কণ্ঠ তখনও রোধ করা যায়নি। তবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চলছিলো। খুনীরা মুক্তিযোদ্ধা এবং নিহত মুজিব স্বৈরাচার। অস্থির সে সময়টায় ষড়যন্ত্রের একটা জাল বোনা হচ্ছিলো আসলে। সব মাথাগুলোকে সে জালে আটকে একসঙ্গে নিকেশ করার ষড়যন্ত্র। দক্ষ গ্র্যান্ডমাস্টারের মতো দেওয়া সে চালে খন্দকার মোশতাক আহমদ কিংবা স্বঘোষিত খুনীরা সাময়িক রাজত্ব ও রাজ্যশাসনে মশগুল। জালটা গুটিয়ে আনা হলো নভেম্বরে।

২ নভেম্বর সেনানিবাসে আবারও বিপ্লব। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ অভ্যুথান ঘটালেন। তারপর আমাদের গেলানো ইতিহাস বলে খালেদ একজন ক্ষমতালোভী ছিলেন মাত্র। আমাদের জানানো হয় ৩ নভেম্বর সকালে জেলখানায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। সেই চার নেতা যারা বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের খুনীরা দেশ ছাড়ে সেদিনই, খালেদ তাদের আপোষে যেতে দেন। জিয়াকে গৃহবন্দী করে খালেদ সেনাপ্রধান হয়েই খুশী। মোশতাক রাষ্ট্রপতি থেকে যান, দুদিন পর তাকে সরিয়ে বিচারপতি সায়েমকে আনা হয়।

৭ তারিখ আবারও অভ্যুথান। এবার সিপাহী-জনতা সম্মিলিতভাবে বিপ্লব ঘটিয়ে খালেদকে উৎখাত করে জিয়াকে উদ্ধার করলো। দেশও উদ্ধার পেলো। যদিও বিপ্লবীদের নেতা কর্ণেল তাহেরকে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে হলো। নির্মূল হয়ে যেতে হলো জাসদকেও। যারা টিকে গেলেন, তাদের মুখে আমরা শুনে গেলাম নানা বিপ্লবী কীর্তি এবং বিপ্লবের গল্প। সেসব গল্পে অসঙ্গতি থাকলেও এবং পরস্পর পরষ্পরের প্রতিপক্ষ হলেও কমন ভিলেন খালেদ মোশাররফ। তিনি একজন বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই রয়ে যান।

সিএমএইচের সামনে খোলামাঠে পড়ে থাকে তার লাশ, সেখানে থুতু দিয়ে যায় বিপ্লবীরা। সেই থুতুতে এখনও ভেজা ইতিহাসের বই। কিন্তু ইতিহাসকে রাবার দিয়ে ঘষে ফেলা যায় না, ইতিহাসকে নিজের মতো করে লেখা যায় না। ইতিহাস ক্লু রেখে যায় কোথাও না কোথাও। দুঁদে গোয়েন্দার মতোই কোনো নাছোড়বান্দা গবেষক ছেড়া টুকরোগুলো জোড়া দিয়ে আবিষ্কার করে বসেন ব্যাপক গড়মিল। তারপর? তারপর পাল্টে যায় ইতিহাস…

কে জানে খালেদের উদ্দেশ্য? কে বলবে তার কথা?

নভেম্বরের ঘটনাবলী নিয়ে আশ্চর্য্য নিশ্চুপ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। জেলহত্যায় বিমূঢ় এবং এর বিচার নিয়েই যত উদ্বেগ ও হতাশা। খালেদের অভ্যুথানের এন্ড প্রোডাক্ট ৭ নভেম্বরের তথাকথিত সিপাহী-জনতা বিপ্লব। আর এর কৃতিত্ব নিয়ে খেউয়াখেউয়ি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ (সাবেক মুসলিম বাংলা আন্দোলন) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রবাদ)। একদিকে জিয়াউর রহমান অন্যদিকে কর্ণেল আবু তাহের। স্বাধীন বাংলাদেশের যাবতীয় ক্ষমতা যেন ক্যান্টনমেন্টেই, তারাই নির্ধারণ করে দেবে জনগনের নিয়ন্তা হবে কারা।

স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানে যে চর্চাটা ছিলো, যাতে অভ্যস্ত এদেশবাসী। উর্দির বিরুদ্ধে লড়ে গণতন্ত্র ছিনিয়ে আনা লোকটা আর নেই, তাই প্রতিবাদও নেই। খালেদ নিয়ে কেউ বলেন না তা সত্যি নয়। বলেন, তার সহযোদ্ধাদের মধ্যে আশ্চর্য্যজনকভাবে বেঁচে যাওয়া শাফায়েত জামিল এখনও লিখে চলেছেন সেরাতের কল্পকাহিনী।

ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামান বেঁচে নেই। খালেদের পক্ষের কেউ বেঁচে নেই। শুধু শাফায়েত জামিলের মুখে শুনে আমরা বুঝে যাই কিরকম ভিতু ছিলেন আমাদের স্বাধীনতার অন্যতম বীরযোদ্ধা এস ফোর্স অধিনায়ক শফিউল্লাহ এবং কিরকম কেয়ারলেস ছিলেন নিজের বুঝটা বুঝতে উন্মাদ হয়ে ওঠা কে ফোর্স অধিনায়ক খালেদ। এবং কতটা মহান ছিলেন জেড ফোর্স অধিনায়ক জিয়াউর রহমান। খালেদের অনুসারী সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করলেও তাকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তার মুখে শুনেই কেউ কেউ হয়তো আফসোস করে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীরের করুণ মৃত্যুগাথা শুনে। তারপর ঝাপিয়ে পড়ে জিয়া-তাহের বিতর্কে। সে প্রসঙ্গে আমরা না হয় পরেই আসছি।

১৫ আগস্ট পরবর্তী ঢাকা সেনানিবাস, কিছু খন্ডচিত্র
১৯৭৫ সালে ঢাকা সেনানিবাসে যা কিছু ঘটছিলো তার অন্যতম স্বাক্ষী লে.কর্ণেল (অবঃ)এ.কে.হামিদ। বাংলার দাবা সম্রাজ্ঞী রাণী হামিদের স্বামী কিংবা ফুটবলার কায়সার হামিদের পিতা ছাড়াও তার আরেকটি পরিচয় আছে। কোর্সমেট হিসেবে তিনি জিয়াউর রহমানের বন্ধু এবং আগস্ট-নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তিনি মলাটবন্দী করেছেন ‘তিনটি সেনা অভ্যুথান ও কিছু না বলা কথা’ নামের এক স্মৃতিগ্রন্থে। ঘটনা বর্ণনায় তারও পক্ষপাত আছে, তারপরও অনেক অজানা প্রেক্ষাপট তিনি উন্মোচন করেছেন একদমই আঁধারে থাকা পাঠকের সামনে। তার বর্ণনায় কিছু সূত্র মিলে আমাদের, যেগুলো মিলিয়ে নেওয়া যায় ভিন্নসূত্রে পাওয়া কিছু কর্মকান্ডের সঙ্গে। আমরা মোটামুটি একটা ছবি পাই সে সময়কার বিভিন্ন ভূমিকায় বিভিন্ন চরিত্রের রূপায়নের। একইসময় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলো মার্কিন দূতাবাস। তাদের কিছু তারবার্তা আমাদের অনেক ঘটনার নতুন অর্থ যোগান দেয়। এই ঘটনাগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক কারণ ১৫ আগস্টের সঙ্গে নভেম্বরের ঘটনাবলী আসলে একই সুতোয় গাথা।

তার আগে আমরা সে সময়কার সেনাপ্রধান শফিউল্লাহর ভাষ্য শুনি। আত্মপক্ষ সমর্থনে অনেক কথাই তিনি বলেছেন। কিন্তু সেখান থেকে আমরা গুটিকতক তথ্যকে ছেকে আলাদা করে ফেলছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হচ্ছে : একজন সেনাপ্রধান সেনাবাহিনীর সার্বিক দায়িত্বে থাকলেও সেনাসদস্যদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তার হাতে না, সেটা ব্রিগেড কমান্ডারদের হাতে (In the army, the chief of staff commands the army but not the troops. The brigade commanders command the troops)। তারাই নির্দেশ দিয়ে পরিচালনা করতে পারেন তাদের অধীনস্থ সেনাদের। এই আইনটি ভবিষ্যতে আমাদের অনেক ঘটনায় সিদ্ধান্তে আসতে সাহায্য করবে। ১৫ আগস্ট ঢাকা ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন কর্নেল শাফায়াত জামিল। তাই ১৫ আগস্ট ভোরে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক কর্নেল সালাহউদ্দিন যখন শফিউল্লাহকে ঘুম ভাঙ্গিয়ে জানালেন রেডিও স্টেশন, গণভবন এবং বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে আর্মার্ড এবং আর্টিলারি ডিভিশনের সন্দেহজনক অভিযাত্রার কথা, তিনি শাফায়াতকে ১, ২ ও ৪ নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্ট দিয়ে তা প্রতিরোধের নির্দেশ দিলেন। নির্দেশনাটা সরাসরি নয় অবশ্য। কর্নেল সালাহউদ্দিনকে দিয়ে, কারণ শাফায়েতের ফোন এনগেজড পাচ্ছিলেন তিনি।

এরপর শফিউল্লাহ ফোন করেন বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গার্ড রেজিমেন্টের প্রধান কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদকে। জামিল জানান তিনি বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়েছেন যে কিছু লোক তার বাড়ির সামনে হল্লা করছে। শফিউল্লাহ জামিলকে বলেন যেভাবেই হোক বঙ্গবন্ধুকে অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে। কর্নেল জামিল সফল হননি। সোবহানবাগ মসজিদের কাছেই তাকে হত্যা করা হয় বজলুল হুদার নির্দেশে (হামিদ সম্ভাব্য খুনী হিসেবে বলেছেন মেজর নুরের কথা)। খুনীদের কাছ থেকে বাদানুবাদের মাধ্যমে লাশটি উদ্ধার করেন খালেদ মোশাররফ। খুনীদের শর্ত ছিলো জামিলের স্বজনরা এক ফোটা চোখের জলও ফেলতে পারবে না। খালেদ লাশ এনে তার গ্যারেজে রাখেন, সেখানেই জানাজা পড়া হয়।এবং পরে দাফন করা হয়। দারুণ ঝুঁকি নিয়েই কাজটি সারেন খালেদ। তিনি তখন চীফ অব জেনারেল স্টাফ। সেনাসদস্যদের বেতন-বদলি-ছুটি ইত্যাদির বাইরে কোনো এখতিয়ার নেই।


শফিউল্লাহ শাফায়েত জামিলকে ফোনে পেয়েছিলেন সকাল সাড়ে পাঁচটায়, তাকে নির্দেশনাটি দেন। ২০-২৫ মিনিট পর বঙ্গবন্ধূর সঙ্গে কথা হয় তার, এরপর লাইন ডেড। (শাফায়াত এ প্রসঙ্গে বলেছেন শফিউল্লাহ তাকে ঘটনা জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো অর্ডার দেননি, তিনি নাকি বিড়বিড় করছিলেন! তাকে উদভ্রান্ত দেখাচ্ছিল) এরপরের ঘটনাপ্রবাহে জানা যায় শফিউল্লাহ খালেদকে নির্দেশ দেন ৪৬তম ব্রিগেডের দায়িত্ব নিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু খালেদ জানান তার অফিসের সামনে একটি ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। খুনীদের একজন মেজর ডালিম শফিউল্লাহকে রেডিও স্টেশনে নিয়ে যায়, সেখানে শফিউল্লাহ আনুগত্যের শপথ পড়েন। ১৮ তারিখ পর্যন্ত শফিউল্লাহ বঙ্গভবনে থাকেন মোশতাক এবং খুনীদের সঙ্গে। সেনানিবাসে ফিরে তিনি উদ্যোগি হন সেনাবাহিনীতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার, বঙ্গভবনে এবং ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পজিশন নিয়ে থাকা সেনা ইউনিট এবং এদের কমান্ডারদের ক্যান্টনমেন্টে ফেরাতে এক সেনাবৈঠক ডাকেন তিনি। এসময় উপ-সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান তার সিদ্ধান্তে দ্বিমত জানান। বলেন, ভারত বাংলাদেশ আক্রমণ করতে পারে, তাই সেনাবাহিনীকে সেনানিবাসে না ফিরিয়ে বরং সীমান্তে সন্নিবেশ করানো উচিত হবে। ১৯ আগস্টের সে কনফারেন্সে উপস্থিত ছিল কর্নেল ফারুক-রশীদও। সেখানে হঠাৎ শাফায়েত জামিল উত্তেজিত হয়ে বলে ওঠেন- সব কিছুর জন্য এই লোকগুলো দায়ী, এদের কোর্টমার্শালে বিচার করতে হবে। বৈঠক ভেস্তে যায়, ফারুক-রশীদ ফিরে যায় বঙ্গভবন। ২২ আগস্ট মোশতাককে শফিউল্লাহ অনুরোধ জানান এদের ফিরিয়ে দিতে, কিন্তু মোশতাক জানান অফিসাররা ভয় পাচ্ছে, তারা কিছুদিন সময় চাচ্ছে। ২৪ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানীকে সামরিক উপদেষ্টা নিয়োগ দেন মোশতাক। একইদিন শফিউল্লাহর বদলে জিয়া সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন। সেদিন বঙ্গভবনে ডেকে তাকে বিদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দেওয়া হলেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন শফিউল্লাহ। তিনি মত পাল্টান ৩ নভেম্বর। জেলহত্যার পর মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়ে দেশ ছাড়েন।

শফিউল্লাহর বক্তব্যকে এত গুরুত্ব দিয়ে বর্ণনার অন্যতম কারণ হচ্ছে লে.কর্ণেল হামিদও বইয়ে তার ভাষ্যকেই ব্যবহার করেছেন । চমকপ্রদ সংযুক্তি হচ্ছে স্টেনের মুখে শফিউল্লাহকে ডালিম যখন রেডিওতে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন জিয়া তার অনুগামী হন। নিজের গাড়ীতে ডালিমকে বসতে অনুরোধ জানালে ডালিম সেটা প্রত্যাখান করে বলেন- নো স্যার, আই ডোন্ট গো ইন জেনারেলস কার। ১৫ আগস্টের সকালের একটি বর্ণনা উঠে এসেছে হামিদের জবানীতে। ৪৬ বিগ্রেডের সদরে উল্লসিত অবস্থায় তিনি শাফায়েত এবং খালেদকে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। শাফায়েত তাকে বলছেন, দেখলেন স্যার, ফ্রিডম ফাইটার্স হ্যাভ ডান ইট বিফোর অ্যান্ড দে হ্যাভ ডান ইট এগেইন। খালেদকে তিনি দেখলেন সাভারের রক্ষীবাহিনী সদরকে ফোন করে আত্মসমর্পন করতে নির্দেশ দিচ্ছেন একইসঙ্গে দুটো ফাইটার প্লেন পাঠিয়ে তাদের ভয় দেখাতে বলছেন বিমান বাহিনীকে। এই পর্যায়ে এসে আর্মির চেইন অব কমান্ড নিয়ে আসলেই বিভ্রান্তি বেড়ে যায় আমাদের। চীফ অব জেনারেল স্টাফ বিমান বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আদৌ রাখেন কিনা এ নিয়ে ধন্দে পড়ে যাই। কারণ শফিউল্লাহর ভাষ্যমতে তাকে ৪৬ বিগ্রেডের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সেখানে পাঠানোর একটু পরই ফিরে এসেছেন খালেদ, বলেছেন ট্যাঙ্কের কথা। উত্তরটা থাকতে পারে শফিউল্লাহর বলা সেই সামরিক আইনটিতেই: যদি চীফ অব আর্মি স্টাফ ট্রুপসদের কমান্ড করার ক্ষমতা না রাখেন, তাহলে সে ক্ষমতা চীফ অব জেনারেল স্টাফের কস্মিনকালেও হবে না। আবার বঙ্গভবনে শফিউল্লাহকে কৌশলে এক কাপড়ে ১৭ তারিখ পর্যন্ত ব্যস্ত (কিংবা আটকে) রাখার উল্লেখ করেছেন হামিদ, সেখানে তাকে ছায়ার মতো নাকি অনুসরণ করেছেন জিয়া। ১৯ আগস্টের সেই মিটিং এবং সেখানে শাফায়েতের উত্তেজিত কথাবার্তা আছে হামিদের বইয়েও। বাড়তি যোগ হয়েছে মিটিংয়ের আগে শফিউল্লাহকে বলা তার উক্তি: স্যার আপনি জেনে রাখুন, এগুলো সমস্ত গন্ডগোলের পেছনে রয়েছে জেনারেল জিয়ার হাত। শফিউল্লাহর উত্তর, শাফায়াত, এ কথাটা বুঝতে তোমার এত সময় লাগলো! হামিদের ব্যাখ্যা অভ্যুথানে সব ক্ষমতা মেজরদের হাতে চলে যাওয়ায় এবং তার ব্যক্তিগত কোনো লাভ না হওয়াতেই নাকি খেপে উঠেছিলেন শাফায়েত। ঘটনার পরবর্তী পাঠে তার এই মূল্যায়ন আমাদের ভুল মনে হয়েছে। বরং শাফায়াত তখন আসলে বিভীষণের ভূমিকায় অভিনয় করছেন।

সরিয়ে দেওয়ার আগে শফিউল্লাহ যে মুজিবের খুনীদের সেনানিবাসে ফিরিয়ে বিচারের তোড়জোর করছিলেন তার একটা প্রমাণ আমরা মার্কিন তারবার্তায় পাই ( আগেই একটা পোস্টে উল্লিখিত ) । ২০ আগস্ট ২ ফিল্ড আর্টিলারির মেজর মহিউদ্দিন স্বস্ত্রীক আশ্রয় নেন মার্কিন দূতাবাসে। আশ্রয় চাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে বলেন তার এবং অভ্যুথানকারীদের প্রাণ সংশয়ের কথা। ২৪ তারিখ মহিউদ্দিন ফেরত যান সেনানিবাসে, কারণ ঝামেলা মিটে গেছে। শফিউল্লাহকে হটিয়ে জিয়া হয়েছেন সেনাপ্রধান। নভেম্বরেও মহিউদ্দিন এবং ২ ফিল্ড আর্টিলারির ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। ৩ নভেম্বর প্লেনে চড়ে বঙ্গবন্ধুর সকল খুনী যখন ব্যাঙ্ককের পথে, তখন সবার চোখ ফাকি দিয়ে মহিউদ্দিন ঢাকাতেই। ৭ নভেম্বর গৃহবন্দীত্ব থেকে উদ্ধার পেয়ে জিয়া তার অপারেশনাল হেডকোয়ার্টার হিসেবে বেছে নেন টু ফিল্ড আর্টিলারিকেই। মহিউদ্দিন তখন তার সার্বক্ষণিক সঙ্গীদের একজন। হামিদ লিখেছেন শফিউল্লাহ নাকি জানতেন না তাকে সরানো হয়েছে, জিয়া নতুন পদের চিঠি হাতে পেয়েই কমান্ড নিয়ে নেন। এবং এই ঘটনাই নাকি হিংসায় পুড়ে ছারখার খালেদকে শাফায়াতের সঙ্গে মিলে ৩ নভেম্বরের অভ্যুথানের জন্য উদ্যোগী করে।


দূর্নীতির দায়ে চার জাতীয় নেতা গ্রেফতার!


জিয়াকে সেনাপ্রধান বানিয়ে সামরিক সুরক্ষার আগে রাজনৈতিক সুরক্ষাটুকুও সেরে নিয়েছেন মোশতাক ও খুনীর দল। ২৩ আগস্ট অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মু্ক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, দুই মন্ত্রী মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ২৪ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে শিরোনাম হয়, “দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ২৬জন গ্রেফতার”। ভেতরে লেখা হয়:

দূর্নীতি, সমাজবিরোধী তৎপরতা, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ ও সম্পত্তি হস্তগত করার অভিযোগে সামরিক আইনের বিধিমালার আওতায় সাবেক সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব মনসুর আলী, সাবেক উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী জনাব তাজউদ্দিন আহমদ, জনাব কোরবান আলী, আবদুস সামাদ আজাদ এবং কয়েকজন এমপিসহ মোট ২৬জনকে গতকাল (শনিবার) গ্রেফতার করা হইয়াছে।


এ বিষয়ে বাড়তি তথ্য জানা গেছে মার্কিন তারবার্তায় যেখানে মোশতাক সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম বর্ণনায় উল্লিখিত হয়েছে যে তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে দূর্নীতি মামলাটি দূর্বল এবং একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে রাজস্বাক্ষী বানিয়ে এটাকে আরেকটু ভারি করার চেষ্টা চলছে। আরো জানা গেছে এসব এবং ভবিষ্যত মামলাগুলো পর্যালোচনার জন্য ৫ সদস্যের একটি দূর্নীতি দমন কমিশন গঠনের কথা। এই ৫ সদস্যের একজন নতুন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান।

১৫ তারিখ রাতেই তাজউদ্দিনের বাসভবন ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী। তার বাসভবনের ছাদে এন্টি এয়ারক্রাফট গান বসানো হয়, নীচতলায় কন্ট্রোলরুম। টেলিফোন সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। ক্যাপ্টেন শহীদ নামে একজন অফিসার এসে জানান বাসার কেউ বাইরে যেতে পারবে না, বাইরে থেকেও কেউ আসতে পারবে না। রাতে মেজর ডালিম বাসায় এসে তাজউদ্দিনকে বলেন, ‘আপনার নিরাপত্তার জন্যই এ ব্যবস্থা, সব ঠিকঠাক আছে তো?’ তাজউদ্দিন নাকি ধমক দিয়ে বলেন, ‘তুমি নিজের চোখে দেখতে এসেছ্ আমাকে সত্যি বন্দী করা গেছে কিনা। সত্যি আমি বন্দী হয়েছি কিনা।’ তার মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি বাবার ভাষ্যে আরো লিখেছেন: আমি আমার এই জীবনে কোনদিন সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করিনি। ১৫ আগস্ট বাসা থেকে বের না হওয়াটাই আমার জীবনের মারাত্মক ভুল ছিলো। অর্থাৎ তাজউদ্দিন সেদিন আত্মগোপন না করার জন্য আফসোস করেছেন। অথচ আত্মগোপন করেও লাভ হয়নি মনসুর আলীর। ওবায়দুর রহমান ও শাহ মোয়াজ্জেমের আশ্বাসে তার ছেলেরা বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে।তাকে নতুন সরকারে প্রধানমন্ত্রীর পদ নিতে অনুরোধ করা হয়, কিন্তু মনসুর আলী তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলাফল তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এম আর আখতার মুকুলের লেখা আমি খালেদ বলছি বইয়ের এই অংশটুকু ইত্তেফাকের রিপোর্ট এবং রিমির স্মৃতিকথার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুকুল লিখেছেন তাজউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ২২ আগস্ট, মনসুর আলীকে ১৭ আগস্ট। বাকিদের আটক করে জেলে পাঠানো হয় ২৩ আগস্ট।

তাজউদ্দিনের ডায়েরির শেষ পাতা…

গ্রেফতার হওয়ার পর মাত্র দু’বার তাজউদ্দিনের দেখা পান তার পরিবার। ১৫ অক্টোবর কয়েকজন কারাকর্মকর্তা, গোয়েন্দা অফিসার এবং সামরিক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আধ ঘন্টার জন্য বেগম জোহরা তাজউদ্দিন স্বামীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পান। দ্বিতীয় এবং শেষ সাক্ষাতটি ১ নভেম্বর। এদিন তিনি কিছু তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেন যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে,‘আমাদের আর বাঁচিয়ে রাখা হবে না।… আজ রাতে ডায়েরির শেষ পাতা লেখা হবে, সেই সাথে শেষ হবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা।’ তার মানে বাতাসে গুঞ্জন ছিলো ঘাতকদের প্রস্তুতি নিয়ে, আর তার আঁচ পাচ্ছিলেন তাজউদ্দিনসহ অন্যরা। ৫৬০তম পাতা সেই ডায়েরির শেষ পাতা। রিমি তার স্মৃতিকথায় (আমার ছোটবেলা ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দিন আহমদ) লিখেছেন: সন্ধ্যায় আম্মা বাসায় ফিরলেন। আম্মার মুখ তখন অস্বাভাবিক করুণ। আম্মা বারবার বলছিলেন, কিছু ভালো লাগছে না। বাসায় ফেরার আগে উদভ্রান্তের মতো আম্মা ঢাকা-টঙ্গী রাস্তায় ঘুরেছেন অনেকক্ষণ। আমাকে বললেন: তোমাদের আব্বুকে আজ অন্যরকম লাগছিলো।বারবার সে কালো বর্ডার দেওয়া লাল ডায়েরির কথা বলছিল। বলছিল আজ রাতে ডায়েরির শেষ পাতা লেখা হবে, সেই সাথে শেষ হবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনা। বলছিল- আর বোধহয় বাঁচব না। আম্মা বললেন- আজ জেল কর্তৃপক্ষ খুব রুক্ষ ব্যবহার করেছে। জেলের মূল গেটের ভেতরে বাইরে মনে হচ্ছিল যেন সাদা পোষাকে বিশেষ কোনো সংস্থার অতিরিক্ত লোকজন। আব্বুর সাথে আম্মাকে কথা বলতে সময় দিয়েছে মাত্র ১৫/২০ মিনিট।

এবং একটি চাঞ্চল্যকর তারবার্তা:

৫ নভেম্বর ইসলামাবাদ থেকে পাকিস্তানের মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাইরোড একটি জরুরী বার্তা পাঠান ট্রাবল ইন বাংলাদেশ নামে যে সিরিজ বার্তাগুলো চালাচালি হচ্ছিলো তখন তার মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর এটি এবং এখন পর্যন্ত কোন সংবাদ মাধ্যমে এটি আমার চোখে পড়েনি। বাইরোডের বার্তাটির ভাবানুবাদ এমন:

১.(পাকিস্তানের)পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বাংলাদেশ বিষয়ক পরিচালক আজমত হাসান ৫ নভেম্বর দূতাবাস কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের (আইসিআরসি) পাকিস্তান প্রতিনিধি এইমাত্র টেলিফোন করেছিলেন ঢাকা রেডক্রস প্রতিনিধির বার্তা পেয়ে। ঢাকা প্রতিনিধির মতে শেখ মুজিবের চার সঙ্গীকে ১ নভেম্বর রাতে আবারও বলছি ১ নভেম্বর রাতে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিনিধি দাবি করেছেন ২ নভেম্বর তিনি তাজউদ্দিনকে কবর দিতে দেখেছেন। হাসানের মতে ঢাকা রেডক্রস খালেদ মোশাররফের অভ্যুথানকে এই হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখছে, সম্পূরক তারবার্তার তথ্য মতো নয় যেখানে খালেদের অভ্যুথানের প্রতিক্রিয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

২.হাসানের সঙ্গে দুতাবাস কর্মকর্তার বৈঠকের মাঝপথে সুইস (সুইজারল্যান্ড) দুতাবাস থেকে একটি ফোন আসে পরিচালকের (হাসান) কাছে, তারা তাদের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় ৫ নভেম্বর সকালে খন্দকার মোশতাক আহমদকে ঢাকা বিমানবন্দরে দেখা গেছে। সুইসরা বলছে মোশতাক ঢাকা ত্যাগের চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু সেনাবাহিনী তাকে বাধা দেয়।

৩.সম্পূরক তারবার্তা ‘বি’ (যেখানে মুজিবের খুনীরা সম্ভাব্য আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে পাকিস্তানের নাম নিয়েছিলো) এখনও না পড়লেও দূতাবাস কর্মকর্তা হাসানের কাছে জানতে চায় ব্যাংককে অবস্থানরত মেজররা পাকিস্তানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে পাকিস্তান সরকারের অবস্থান কি হবে। হাসান জানায় তাদের প্রার্থনা সম্ভবত নামঞ্জুর করা হবে কারণ পাকিস্তান সরকার মাত্র ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছে এবং সেখানে যেই ক্ষমতায় আসুক এই সম্পর্ক তারা নষ্ট করতে চায় না।

আলোচিত তারবার্তার ২ ও ৩ নং অনুচ্ছেদ নিয়ে আমরা পরের পর্বে দলিলপত্রসহ বিস্তারিত আলোচনায় যাবো। আমাদের আপাতত মনযোগ এর ১নং অনুচ্ছেদে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস (যেখানে বেশীরভাগই বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কাজ করেন কিংবা বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে এদের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ থাকে) এবং মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তার (সন্দেহাতীতভাবে পাকিস্তানের সিআইএ স্টেশনচীফ) তরফে পাওয়া তথ্যকে আমলে নিলে এটি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযুক্তি। একটা সময় এদেশে ৪ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হতো, সেটি এখন দলিলপত্রের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বরে চলে এসেছে। সেই দলিলপত্রও মহল বিশেষের যোগান দেওয়া কিনা এনিয়ে অনুসন্ধানের সময় এসেছে। কারণ সত্যিই যদি ২ নভেম্বর ভোরে জাতীয় নেতাদের হত্যা করা হয় এবং খালেদ মোশাররফ সেরাতেই অভ্যুথান করেন তাহলে ইতিহাসের চরিত্রগুলোর অবস্থানে একটা বড় ধরণের ওলটপালট হয়ে যায়। রেডক্রসের ওই কর্মকর্তা সত্যি যদি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন তার মানে দাড়ায় তাজউদ্দিনসহ চার জাতীয় নেতাকে হত্যার পর কবর দেওয়া হয় এবং খালেদের অভ্যুথানের পর তাদের আবারও সেখান থেকে তুলে নতুন করে সমাধিস্থ করা হয়।

জাতীয় চারনেতার সুরতহাল রিপোর্ট:

১৯৯৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মতিউর রহমান সম্পাদিত দৈনিক ভোরের কাগজ একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন ছাপে। মাঈনুল আলমের সে প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিলো ‘জেলহত্যার প্রামাণ্য দলিল উদ্ধার’। সেখানে’৭৫এর ৫ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র সচিবকে আইজি প্রিজন নুরুজ্জামানের দেওয়া প্রতিবেদন এবং ডিআইজি প্রিজনের প্রতিবেদন (আইজি প্রিজনকে দেওয়া), দুই ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আজমল চৌধুরী ও খন্দকার মিজানুর রহমান চার নেতার মৃতদেহের যে সুরতহাল রিপোর্ট করেছিলেন তা ছাপে। ২৫ নভেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত এই সুরতহাল রিপোর্টে আমরা কিছু অসঙ্গতি পাই। এর একটি ছাপার ভুলও হতে পারে। যেমন মনসুর আলীর সম্ভাব্য মৃত্যু তারিখ ৪ নভেম্বর, বাকিদের ৩ নভেম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টগুলো গৎবাধা, একইভাষায় লেখা দুয়েকটি জায়গা বাদে। তবে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে মৃতদেহের শরীরে পচন ধরেছে (একদিন এবং দুইদিনের মৃতদেহের পার্থক্য রয়েছে) এবং দুই ম্যাজিস্ট্রেটকেই স্বল্পআলোতে দায়িত্ব সারতে হয়েছে। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে প্রতিবেদনের তারিখ ৫ নভেম্বরও মোশতাক সরকার এবং তার ক্যাবিনেট বহাল যাদের এই প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। ৬ নভেম্বর জেল হত্যা তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের তিনজন বিচারক নিয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন বাস্তবে কোনো তদন্তই করতে পারেনি এবং এ বিষয়ে যাবতীয় তারবার্তা মার্কিন আর্কাইভে ডিলিটেড অবস্থায় পাওয়া গেছে।

নীচে দুজনের সুরতহাল রিপোর্ট তুলে দেওয়া হলো:

সৈয়দ নজরুল ইসলাম:
আমি খন্দকার মিজানুর রহমান, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা সদর (উঃ) কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি সাহেবের ৪-১১-৭৫ ইং লিখিত ১/ডিআইজি/১(৪) চিঠি মূলে জানিতে পারিয়া আমি ৪-১১-৭৫ ইং তাং ১৮-০০টার সময় কেন্দ্রীয় কারাগারে উপস্থিত হইয়া জেলার সাহেবের শনাক্তমতে ও পার্শ্বলিখিত স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে আমি মৃত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেবের সুরতহাল প্রস্তুত করিলাম। মৃতদেহ কেন্দ্রীয় কারাগারের নূতন জেলের পূর্ব পার্শ্বের ১ নং কোঠায় বারান্দায় একটি কাঠের চৌকিতে উত্তর শিয়রে শায়িত অবস্থায় দেখিতে পাইলাম। তাহার মৃতদেহ সাদা ডোরাকাটা চাদরে আবৃত।
তাহার শরীর উলট-পালট করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করিয়া বুকের ডান পার্শ্বে ৬টি বেয়নেটের রক্তাক্ত জখম আছে বলিয়া মনে হয়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩ তারিখের সকাল আনুমানিক ৪-৩০ মিঃ সময় মৃত্যু সংঘটিত হয়। মৃতদেহ পচিয়া যাইতেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করিয়া ময়না তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া গেল।
স্বাক্ষর/মি.রহমান ৪-১১-৭৫ ইং
মৃতদেহটা জনাব সৈয়দ নজরুল ইসলাম সাহেবের বলিয়া শনাক্ত করিলাম। স্বাঃ আমিনুর রহমান ৪-১১-৭৫ইং
আমাদের সামনে সুরতহাল করা গেল। স্বাঃ আঃ ওয়াহিদ মৃধা, সোবেদার স্বাঃ মোঃ ইছহাক মিয়া, ৪-১১-৭৫ইং
সত্যায়িত, স্বাক্ষর অস্পষ্ট, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিচার বিভাগ, ঢাকা।


তাজউদ্দিন আহমদ
আমি মোঃ আজমল চৌধুরী, ১ম শ্রেণীর হাকিম, ঢাকা সদর (দঃ) কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি সাহেবের ৪-১১-৭৫ ইং লিখিত ১/ডিআইজি/১(৪) চিঠি মূলে জানিতে পারিয়া আমি ৪-১১-৭৫ ইং তাং ১৭-৪৫ মিঃ কেন্দ্রীয় কারাগারে উপস্থিত হইয়া জেলার সাহেবের শনাক্তমতে ও পার্শ্বলিখিত স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে জনাব তাজউদ্দিন আহমদের মৃতদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করিলাম। মৃতদেহ কেন্দ্রীয় কারাগারের নূতন জেলের পূর্ব পার্শ্বের ১ নং কোঠায় বারান্দায় একটি কাঠের চৌকিতে উত্তর শিয়রে শায়িত অবস্থায় দেখিতে পাই। তাহার মৃতদেহ সাদা চাদর দিয়া আবৃত আছে।
তাহার শরীর উলট-পালট করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন দেখা গেল। জখমগুলা বুলেটের বলিয়া মনে হয়।
কারাগার কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন দেখিলাম। মৃত্যুর সময় ৩-১১-৭৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৪-৩০ ঘটিকার সময় বলিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। আজ রাত ৭ ঘটিকার সময় মৃতদেহ পচিয়া যাইতেছে বলিয়া মনে হইতেছে। সেহেতু এখানেই জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করিয়া ময়না তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া গেল।
স্বাক্ষর/মোঃ আ. চৌধুরী ৪-১১-৭৫ ইং
মৃতদেহটা জনাব তাজউদ্দিন সাহেবের বলিয়া শনাক্ত করিলাম। স্বাঃ আমিনুর রহমান ৪-১১-৭৫ইং
আমাদের সামনে সুরতহাল করা গেল। স্বাঃ আঃ ওয়াহিদ মৃধা, সোবেদার স্বাঃ মোঃ ইছহাক মিয়া, ৪-১১-৭৫ইং
সত্যায়িত, স্বাক্ষর অস্পষ্ট, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিচার বিভাগ, ঢাকা।


আজমল চৌধুরী এম. মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানের সুরতহালও করেন। প্রতিবেদনে সময়কালও একই থাকে। (চলবে)

ছবি:
১। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ দেশে ফেরার পর চার জাতীয় নেতার সান্নিধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বঙ্গবন্ধু
২। চীফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ বীরউত্তম
৩। মোশতাকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধান। সবার বাঁয়ে জিয়াউর রহমান, সবার ডানে শফিউল্লাহ
৪। তাজউদ্দিনের মৃতদেহ
৫। মনসুর আলীর সুরতহাল রিপোর্ট
৬। কামরুজ্জামানের সুরতহাল রিপোর্ট

(এই পোস্টটির লিংক শেয়ার করা যাবে, কিন্তু কোনো অংশ লেখকের অনুমতি ছাড়া কোথাও ছাপা যাবে না- অমি রহমান পিয়াল।)

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাথে আছি কমরেডস।
এতো তারবার্তা প্রেরনের পরেও আমাদের ভয় মার্কিনীদের 'খুনী' কিংবা 'সাম্রাজ্যবাদী' বলতে!!
রেড স্যালুট আমারব্লগ ।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ। মার্কিনিদের তারবার্তা নিঃসন্দেহে অনেক অজানা দিককে উন্মোচিত করেছে এবং অনেক ইতিহাসবেত্তার স্বরচিত ইতিহাসকে মিথ্যা বলে প্রমাণিত করবে যার প্রমাণ আমরা সামনের অধ্যায়েই পাবো


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়তে গেলে ঘৃনা ধরে যায়-আগুন জ্বালাতে ইচ্ছে করে।
আমরা মনে হয় এখোনো আমাদের সঠিক ট্র্যাকে ফিরিনি।
ধন্যবাদ বস।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এইখানে কিন্তু একটা ইনট্রেস্টিং উপাত্ত আছে। আমাদের জেলহত্যা দিবস আমার মনে পড়ে ছোটবেলায় ছিলো ৪ নভেম্বর। সেটা এখন ৩ নভেম্বর পালিত হয়। কিন্তু উপাত্ত বলতেছে দেয়ার ইজ আ পসিবলিটি দ্যাট দ্য কিলিংস হ্যাপেনড অন সেকন্ড নভেম্বর মর্নিং। এইটা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটা আবিষ্কার


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লে.কর্ণেল (অবঃ)এ.কে.হামিদ এর বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে মূলতঃ তিনি ১৫ই আগষ্ট ঘটনার সমর্থক ছিলেন, এবং তাকে উপযুক্তভাবে মূল্যায়ন না করে মীর শওকত ও এরশাদকে অধিকতর মূল্যায়ন করার মত নির্বুদ্ধিতার জন্য জিয়ার উপরে বেশ ক্ষুদ্ধ ছিলেন। পুরো বইটি তিনি লিখেছেন অনেকটা ধরি মাছ না ছুঁই পানি কৌশল অবলম্বন করে, শুধুমাত্র তাহেরের প্রতি তিনি একটু বেশী পরিমানে নির্দয়।

জেলহত্যার তারিখ বিষয়ে বাইরোডিয় ভাষ্যকে একটা বিভ্রান্তি বলেই আমার মনে হয়:
তথ্যটি বাইরোড জেনেছেন আজমত হোসেনের কাছে, আজমত জেনেছেন আন্তর্জাতিক রেডক্রসের পাকিস্তান প্রতিনিধির কাছ থেকে ফোনে, সেই প্রতিনিধি জেনেছেন রেডক্রসের ঢাকা প্রতিনিধির বার্তা পেয়ে। এতবার তথ্য হাত বদল হতে যেয়ে সম্ভবতঃ তারিখ বিভ্রাট ঘটেছে, কারন ঢাকা প্রতিনিধি তাজউদ্দিনকে নভেম্বরের ২ তারিখে কবর দিতে দেখলেন, আর সে খবর ২ তারিখে অন্য কেউই জানলেন না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া ঘটনাটি ২ তারিখে ঘটলে এত গুরুত্বপূর্ন ঘটনা আজমল ৫ তারিখে জানবে না, ২ তারিখেই, খুব দেরী হলে ৩ তারিখে জানবেন। দ্বিতীয়তঃ যাদের পক্ষে এ বিষয়ে গ্রহনযোগ্য ভাবে কোন তথ্য জানানো সম্ভব, তাদের কেউই এমনটা বলেন নি যে ঘটনাটি ১ তারিখে ঘটেছে।
প্রথম দিকে দিবসটি ৪ তারিখে পালিত হওয়ার বোধ হয় এটাই কারন যে খুনিরা ছাড়া সবাই ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন নভেম্বরের ৪ তারিখে, এমনকি খালেদ জানেন ৩ তারিখ গভীর রাতে। ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ পেতে কয়েক বছর লেগে যায়।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

২ তারিখ ঘটনা ঘটার পর খালেদ মুভ করেছেন এ তথ্য লিখিত না থাকলেও সেনাবাহিনীর অনেকের মুখেই আমার শোনা হয়েছে। এই তারবার্তাটি সেই ধারণাটিকে সমর্থণ করেছে মাত্র। আসল বিপত্তি অন্য জায়গায় এটার রিলেভেন্ট তারবার্তাগুলো ডিলেটেড। না হলে সিআইএর ভাষ্যটা জানা যেত। হামিদকে তাহেরের চেয়ে খালেদের প্রতি আরো বেশী নির্দয় মনে হয়েছে আমার। কারণ তার কিছু বর্ণনা বাস্তবতার সঙ্গে একদমই মেলে না। তবে প্রচুর ক্লু দিয়েছেন হামিদ। এ কারণে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যদি ধরে নেই ২ তারিখে হত্যাকান্ডটি ঘটে যাওয়ার ফলস্রুতিতে খালেদ মুভ করেছিলেন, তাহলে প্রশ্ন আসে কেন তড়িঘড়ি এই অভিনব হত্যাকান্ড, বরং একটি সাজানো সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমেই তা হওয়া অধিকতর যুক্তিসংগত।
যদি ধরে নেই ২ তারিখে খালেদের মুভমেন্টের কারনে পূর্বনিধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তড়িঘড়ি খালেদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক নির্ভরতা ধংস করে দেয়া হয়েছিল, তাহলে এই মতটিই অধিক যুক্তিগ্রাহ্য মনে হয়।

হামিদকে তাহেরের চেয়ে খালেদের প্রতি আরো বেশী নির্দয় মনে হয়েছে আমার।
সেটা বলাইবাহুল্য, ৭ই নভেম্বরের পাল্টা ক্যু সফল হওয়ার পর সে ক্যু এর প্রয়োজনীয়তা বর্ননার জন্য সকল পক্ষের কমন ভীলেন ছিলেন খালেদ। খালেদ যদি স্বার্থপর দেশদ্রোহী না হবে, তাহলে আর ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব কেন।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শেষ লাইনটাতেই বলে দিয়েছেন সব smile :) :-) সেসব কাহিনিই তুলে আনবো পাঠকদের জন্য

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাথে আছি বস। পরের পর্ব কবে নাগাদ আশা করতে পারি? অপেক্ষা করা বেশ টাফ লাগছে।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অমি ভাই, আমি ছোটোখাটো মানুষ হলেও বেশ অহঙ্কারী। এবঙ আমি এতোই নচ্ছাড় যে- এই অহঙ্কারগুলোকে আমি পাগলের মতো ভালোবাসি। অহঙ্কারী হবার অনেক কারণই আমার আছে। এগুলোর মধ্যে মোটাদাগে আছে রবীন্দ্রনাথ-বঙ্গবন্ধু-পঞ্চপাণ্ডবের উত্তরসুরী আমি, চর্যাপদ আমার উৎসমূলের স্রোতধারা।
কিন্তু এর বাইরে ছোটোখাটো নানা কারণেই আমি অহঙ্কারী। এই কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো অমি রহমান পিয়াল ভাইয়ের লেখার পাঠক হওয়া। আমার রক্তজবার অনুভূতিগুলো থেকে কয়েকটা আপনার জন্যে।
গ্রেট স্যালুট।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট ছোট ভাই। তোমার মতো লেখতে পারি না, এই নিয়া বিন্দুমাত্র হিংসা নাই আমার, বরং গর্ব আছে যে আমিও তোমার পাঠক smile :) :-)

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইতিহাস পঁচে না, জীবাশ্মের মত বেরিয়ে আসে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একমত, সেই জীবাশ্মই টটেম, তাতেই মেলে দিশা

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আচ্ছা বাংলাদেশের হওয়া সামরিক অভ্যুত্থান গুলা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বেশির ভাগ সময়ে মার্কিন দূতাবাসের দলিলগুলার কথাই আসে সোভিয়েত দূতাবাসের পুরা ঘটনায় যে এসেসমেণ্ট গুলা তা কি পাওয়া যায় না কোন বইয়ে ?

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সোভিয়েত এসেসমেন্টগুলা মার্কিনরাই সংকলিত করতো প্রাভদা, তাস ইত্যাদি রিপোর্টের ভিত্তিতে। এগুলোতে মোটামুটি সোভিয়েত পার্টিলাইন পাওয়া যেত। সোভিয়েত পতনের পর আমি মিত্রোখিন আর্কাইভ নিয়ে খুবই উত্তেজিত ছিলাম। পরে দেখলাম সেটা আসলে এমআইফাইভ আর সিআইএর যৌথ অপারেশনে কেজিবির কিছু ফাইলকে ডক্টরড করে দেওয়া মাত্র, যা দিয়ে সিআইয়ের ওপর থেকে নজর সরে যায়, কেজিবিও হাস্যকর হয়।

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সেগুলো রাশিয়ান দূতাবাসে খোঁজ করলে পাওয়া যেতে পারে ।
কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগী রাশিয়ানদের কে কেউ কি মূল্যায়ন করে ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাংলাদেশের মতো দেশে এখনকার সময় আর্মি এখন আর দরকার নেই একটুও .এদের বিলুপ্ত করা দরকার .এরা শুধু ই দেশের মানুষের অর্থ ধংশ করছে

........................................................................................................
একদিন আমি করি ভুল ..হাতে নিয়ে একটা ফুল ...তোমার একপিঠে মুখ কানের দুল ... আর আমার হারিয়ে যাওয়া এনামুলের মূল ............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আর্মি দরকার নাই এইটা ঠিক না। তবে পাকিস্তান টাইপের আর্মি দরকার নাই যারা ক্ষমতা দখল করতে পারে কিন্তু দেশ রক্ষা করতে পারে না

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আরে ভাই আর্মি কবে দেশ বাচাইসে ??? পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশএ আর্মি নাই. আর অন্য কোনো দেশ এই দেশ লৈয়াগেলে তো আমগো ই ভালো ভাই.

........................................................................................................
একদিন আমি করি ভুল ..হাতে নিয়ে একটা ফুল ...তোমার একপিঠে মুখ কানের দুল ... আর আমার হারিয়ে যাওয়া এনামুলের মূল ............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আর্মি বিলুপ্ত করলে আমাদের কে ছাগলে খাবে ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ছাগলে খাইতে আসলে আপনে ছাগলের দুধ খাইয়েন তাতেও ও লাভ )

........................................................................................................
একদিন আমি করি ভুল ..হাতে নিয়ে একটা ফুল ...তোমার একপিঠে মুখ কানের দুল ... আর আমার হারিয়ে যাওয়া এনামুলের মূল ............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সরকারের উচিৎ স্বাধীনতা বিরোধীদের কে চিরতরে নির্মূল করে দেশ কে পবিত্র করে দেওয়া ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট। আরো অজানা ইতিহাস বেরিয়ে আসুক গবেষণার মধ্য দিয়ে।

পরের পর্বের জন্য অধীর অপেক্ষায়।

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট। সিগনেচার চরম হইছে Wink

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চলুক। প্রিয়তে

_________________________________________________________________________________

সিগনেচার নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এমন জায়গায় থামাইলেন

কয়েকটা প্রশ্নঃ
১।কর্নেল হামিদের ভাষ্যে খালেদ কর্তৃক খুনী মেজরদের ট্যান্কের গোলা সাপ্লাইয়ের ঘটনাটাও কি মিথ্যা?

২। এটা বিশ্বাসযোগ্য যে বিমান বাহিনীকে ফাইটার পাঠাতে বলা খালেদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। আর একটা ট্যাংক নিয়ে বের হওয়ার সাথে একটা ফাইটার নিয়ে বের হওয়ার পার্থক্যও আছে, চাইলেই একটা ফাইটার নিয়ে কেউ বের হতে পারে না, প্রস্তুতি লাগে, প্রস্তুতিতে লোকবল লাগে। সো সেসময় ফাইটার উড়ার পেছনেও আরও উপরের কাজকারবার আছে।

শাফাত জামিল জেড ফোর্সে ছিলো, এই লোকেরে খালেদ কি জন্য বিশ্বাস করছিলো কে জানে? মাঝখান থেকে খালেদ- হায়দার সহ শেষ হলো তিনজন। আর অতিচালাক বিপ্লবী তাহেররও জিয়ার সাথেও ৭১ থেকেই দহরম-মহরম। কি থেইকা কি বের হয় কে জানে? Stare

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
রাজাকার ইস্যুতে মানবতা মুছে ফেল টয়লেট টিস্যুতে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১। সিজিএস হিসেবে উনি স্লিপে সই করতে পারেন হয়তো। গোলা কোথায় সাপ্লাই হবে সেটা তার জানার কথা না।
২. এখানে কোনো প্রশ্ন পাইলাম না।
৩. শাফায়েত জামিল ৭১ এর কমরেড তার। ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় তার ফোর্স ছিলো। শাফায়াত আসলে ধুরন্দর। কতখানি সেটা ক্লিয়ার হবে তৃতীয় পর্বে।

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১৯ আগস্টের সে কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল ফারুক-রশীদও।

উপস্থিত ছিল কর্ণেল ফারুক-রশীদও।
জানোয়ারদের সম্মান দিয়ে কথা বলাতে আমার আপত্তি।

--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আরে তাইতো! ঠিক করে দিতেছি

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জেল হত্যার তারিখ নিয়ে কিভাবে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই।এই ঘটনা নিয়ে যত লেখা লেখি হয়েছে, সবাই ২রা নভেম্বর দিবাগত রাতের কথাই বলেছেন। তবে আশ্চার্যজনক ব্যাপার হলো, এই ঘটনা সবাই কখন জানেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি।
শাহায়েত জামিলের ভাষায় অভ্যুথ্থান শুরু হয় ২রা নভেম্বর দিগত রাতে।ততক্ষনে ৩ তারিখ।
"৩ নভেম্বর ভোর থেকে শুরু হয় ১৫ই আগস্টের হত্যাকারী বিদ্রোহী অফিসার তথা ক্ষমতা দখলকারীদের সঙ্গে টেলিফোনে আমাদের বাক যুদ্ধ।----
ক্ষমতা দখলকারীদের সঙ্গে আমাদের টেলিফোনে যখন বাকযুদ্ধ চলছিল, তখন ঘুনাক্ষরেও আমরা জানতে পারি নি জেলে চার জাতীয় নেতার হত্যাকান্ডের কথা। অথচ আগের রাতেই সংঘটিত হয়েছিল ঐ বর্বর হত্যাকান্ড। ওসমানী ও খলিলুর রহমান ঐ ঘটনার কথা তখন জানতেন বলে ধারনা করা হয়।কিন্তু তারা আমাদের কিছুই জানান নি।জানলে এভাবে ১৫ আগস্টের খুনিদের নিরাপদে চলে যেতে দেয়া হত না। আমাদের নেগোসিয়েশন টিমকেও এ বিষয়ে কেউ কিছু আভাস দেয় নি।"

একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধ রক্তাক্ত মধ্য-আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর: শাফায়েত জামিল।

তা হলে কখন জানলেন?
"৩রা নভেম্বর সকালের জেল হত্যার খবর আজ বিকেলে (৪ঠা নভেম্বর) কেবিনেট মিটিং চলাকালে জানা গেছে। বস্তুত এ হত্যা ফারুক, রশীদরা দেশে থাকতেই হয়েছে কিন্তু ঘটনা চেপে রাখা হয়েছে যাতে তারা নিরাপদে দেশের বাইরে যেতে পারে। এখবর জেনারেল খলিল (পরবর্তিতে আওয়ামি লীগ নেতা) জানতেনকিন্তু কেন যেন যে তিনি এ কথা কাউকে জানালেন না এটা রহস্যজনক।"
বাংলাদেশঃ রক্তাক্ত অধ্যায়: ব্রগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন। পৃ: ৯৩

জেনারেল খলিল যে জানতেন তা জানা যায় মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি'র (মেজর রফিক নয়) বইতে---

" সকাল দশটায় ইনস্পেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ নুরুল ইসলাম বঙ্গভবনে জেনারেল খলিলকে ফোনে জেল হত্যার খবর দেন। জেনারেল খলিল এই খবর পেয়ে আতংকগ্রস্ত হয়ে রাস্ট্রপতির সচিব মাহবুবুল আলম চাষীকে অবগত করেন। চাষী তৎক্ষনাৎ রাস্ট্রপতির কক্ষে গেলেন এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে ফিরে এসে জানালেন মোশতাক সবকিছুই অবগত আছেন।

জেনারেল খলিল জেল হত্যাকান্ডের সংবাদে ক্ষুদ্ধ হলেও কাউকে কিছু বললেন না। এই কারনেই ৩৬ ঘন্টা পরে শাফায়েত জামিল খলিলকে গ্রফতারের হুমকি দেন এবং বলেন যে তার নিরবতার কারনেই হত্যাকারীরা দেশত্যাগ করতে পেরেছে।"

পঁচাত্তুরের রক্তক্ষরন : মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি: পৃ: ৭৪

মোশতাক যে আগেই জানতেন তা অবাক হওয়ার বিষয় নয়। কারন হত্যাকান্ডটি তার অনুমোদনেই হয়েছিল।

" পাল্টা অভ্যুথ্থান শুরু হওয়ার কারনে যে সাংঘাতিক অবস্হা বিরাজ করছিল তার প্রতিফলন প্রেসিডেন্ট ভবনেও পড়তে শুরু করে।-------
ভোর ৪টা বাজার একটু পরেই রশিদ আর একটি টেলিফোনের রিসিভার উঠায়।রশিদের ভাষায়, ঐ বিশৃংখল অবস্হার মাঝেই টেলিফোনটি বেজে উঠে। টেলিফোন উঠিয়ে আমি শুনতে পেলাম, একজন ভারী কন্ঠে বলছে, "আমি ডিআইজি প্রিজন কথা বলছি, মহামান্য রাস্ট্রপাতির সঙ্গে আমি আলাপ করতে চাই।"

রশিদ মোশতাককে টেলিফোনটি দিলে, তিনি কতক্ষন ধরে কেবল হ্যা, হ্যা, করতে থাকেন। তার কথা পরিস্কার বুঝা না গেলেও যে কোন ব্যাপারেই হোক, তিনি সম্মতি জ্ঞাপন করছিলেন- এতে কোন সন্দেহ নেই।"

বাংলাদেশ রক্তের ঋন: এন্হনি ম্যাসকার্নহাস। পৃ:১০৬

আহা! কি নিঃশ্পাপ শিশু! তিনি কিছুই জানতেন না !!! পরের ঘটনা-----

" এরপর ডিআইজি আউয়াল ঘাতক মুসলেহ উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন চার কালো পোষাকধারীদের জেলের ভিতর প্রবেশের অনুমতি দেন। তারা পাশের একটি সেল থেকে কামরুজ্জামান ও মনসুর আলীকে নজরূল, তাজউড্দিনের সেলে একত্র করে খুব কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে নৃশংসভাবে খুন করে।তাদের কেউ কেউ সাথে সাথে মারা যান, কেউ কেউ অস্ফুট কন্ঠে পানি পানি বলে মর্মভেদী আর্তনাদ করে করে নিস্তেজ হয়ে অনন্ত তেস্ঠা নিয়ে ধীরে ধীরে মারা যান।"

বাংলাদেশের রাজনীতি: হালিম দাদ খান। পৃ:১৭০


৪ তারিখ বিকেলে কেবিনেট মিটিংএ ব্যাপারটি জানার পর ঘটে এক কৌতুকর ঘটনা-----

" এমন সময় ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স এর ডাইরেক্টর, এয়ার কমোডের ইসলাম তাজউদ্দিন ও তার সংগীদের জেলের ভিতরে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর নিয়ে আসে।

ওসমানী স্মৃতিচারন করতে গিয়ে বলেন,"প্রচন্ড হৈ চৈ এর সৃস্টি হয়ে যায়। ............................আর যাই হোক মোশতাক একজন চমতকার অভিনেতা। তিনিও অন্যান্যদের মত সজোরে বিলাপ করতে শুরু করেন। ভাব খানা এইরকম, যেন তিনি এই সংবাদ শুনে আকাশ থেকে পড়লেন।"
: প্রাগুক্ত

১৯৭৫ এর নভেম্বরে , তিনজন সূপ্রীম কোর্টের বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু জেনারেল জিয়া, তার সাড়ে পাঁচ বছর শাসনকালে ঐ তদন্ত কমিশনকে তাদের কাজ পরিচালনা করতে সন্মতি দেন নি।কেন দেন নি সে কথা আজ আর কাউকে বুঝিয়ে বলতে হবে না।

৩রা নভেম্বর অভ্যুথ্থান পাল্টা অভ্যুথ্থান না হলেও সব জাতীয় নেতাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার সব ব্যবস্হা করে রেখছিলেন মোশতাক জিয়া চক্র।সব জাতীয় নেতাকে গ্রেফতার করে বিচার করার জন্য সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জারি করা এক সামরিক ফরমানে বলা হয় " কোন ব্যাক্তি যদি দূর্নীতি করে, এমন কি তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগও উঠে ( reputed to be corrupt) , তা হলে তাকে বিচারপূর্বক মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে।"

আজ যারা দেশে আইনের শাসন নেই বলে মুখে ফেনা তুলেন, তারা এই সব তথ্য পড়ে একটু গু খয়ে নিন।

--------------------------------------------------------------------------------
ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস। বিশ্বাসে কোন যুক্তি প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

smile :) :-) ইন্টরেস্টিঙ আরেকটা ব্যাপার তাইলে আপনার চোখে পড়ার কথা। জিয়া গৃহবন্দী, তার ফোন লাইন কাটা। শুধু তাহেরের সঙ্গে বাচাও বলতে পারলেন। পরদিন ওসমানী ফোন করে খালেদার সঙ্গে কথা বললেন। হামিদও।

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তারও একটা ব্যাখ্যা চালু আছে,

"প্রথম ইস্ট বেঙ্গলের ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহকে জেনারেল জিয়ার বাস ভবনে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়।হাফিজুল্লা ক্ষিপ্ত্র গতিতে সৈন্যদের নিয়ে জিয়ার বাসভবনে ঢুকে পড়েন। এর আগে রশিদের টেলিফোন পেয়ে জিয়া জাগ্রত অবস্হায় ছিলেন। জিয়া ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাকে জিজ্ঞেস করলেন 'এখানে কি হচ্ছে? ' ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লা জিয়ার বুক বরাবর বন্দুক তাক করে বল্লেন ' স্যার আপনি বন্দী।' হাফিজুল্লা জিয়াকে এইভাবে গৃহবন্দী করলেন এবং ড্রইংরূমে সশস্ত্র প্রহরায় রাখলেন। হাফিজুল্লা টেলিফোনের তার ছিঁড়ে ফেলেন কিন্তু এই টেলিফোনটি ছিলো বেডরুমের সম্প্রসারন।অন্য টেলিফোন থেকে জিয়া জেনারেল ওসমানী ও মেজর রশিদের (লক্ষ করুন) সাথে কথা বলছিলেন।"

ওই দিকে রশিদও জিয়াকে ফোন করেন।

" বঙ্গভবনে মেজর রশিদ ৩রা নভেম্বর রাত তিনটায় জেনারেল জিয়ার কাছ থেকে ফোনের অপেক্ষা করছিলেন। পরিস্হিতির দ্রুত অবনতি ঘটছিল।রশিদ দ্বিতীয়বার জিয়ার বাসায় ফোন করেন। বেগম জিয়া ক্রন্দনরত অবস্হায় ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানালেন যে তার স্বামীকে গৃহবন্দী করা হয়েছে।"

পঁচাত্তুরের রক্তক্ষরন: মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি।

তার মানে জিয়াকে বন্দী করার পরও ঐ বাসা থেকে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করা হচ্ছিল এবং আসছিল। অভ্যুথ্থান কারীদের তাড়াহুড়ায় এইটাও জানা ছিল না যে সেনা প্রধানের বাসায় শুধুমাত্র ড্রইং রুমে একটি টেলিফোন থাকে না। লাল টেলিফোন বেডরুমেই থাকে। এসবের ফল অভ্যুথ্থানের ব্যার্থতা।

--------------------------------------------------------------------------------
ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস। বিশ্বাসে কোন যুক্তি প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওইটাই। তারমানেই তাহেরের কাছে কলই শেষ কল না

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইতিহাস পঁচে না, জীবাশ্মের মত বেরিয়ে আসে।


লাল সেলাম। পরের পর্বের অপেক্ষায়। Arrow


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

"একজন সেনাপ্রধান সেনাবাহিনীর সার্বিক দায়িত্বে থাকলেও সেনাসদস্যদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তার হাতে না, সেটা ব্রিগেড কমান্ডারদের হাতে" - শফিউল্লাহর কথা মিথ্যা না, এইটা বুঝতে সেনাবাহিনীর জ্ঞানও লাগে না। একজন সেনাপ্রধান নির্দেশ দিয়ে সেটা পালন করা হচ্ছে কিনা না তা দেখার জন্য পিছু পিছু দৌড়াতে পারেন না। এটাই আর্মি চেইন অফ কমান্ড, যা মেনটেন করার জন্যই সেনাবাহিনীতে আনুগত্য মানার ট্রেনিং দেওয়া হয় রোবটের মত। শফিউল্লাহর ভুল হতে পারে এই যায়গায় যে এমন অতি সংকটময় মুহুর্তে তিনি শুধু নির্দেশ দিয়ে খালাস না হয়ে সেটা পালন করা হচ্ছে কিনা, ব্যাক আপ কি করা যেতে পারে এসব বিবেচনা করেননি। তার মধ্যে হতবুদ্ধিতা কাজ করছিল এতে সন্দেহ নেই।

সেনাবাহিনী মানেই সব ইউনিটের অস্ত্র হাতে ফোর্স মুভ করার মত ক্ষমতা সব সময় থাকে না, বিশেষ করে সাধারন সময়। সেনাবাহিনীর এই জাতীয় ক্ষমতা যেসব ফোর্সের থাকে তাদের কমান্ড দেওয়া হয় খুবই সতর্কতার সাথে, রাজনৈতিক বিবেচনায় সম্ভাব্য ক্যু এড়াতে। শুধু সেনাপ্রধানের ওপর ভরসা করা হয় না। যেমন ধাকার মূল ক্ষমতা সে আমলে, আজকেও আছে ৪৬ ব্রিগেডের ওপর (শাফায়াত জামিলের ব্রিগেড, ১৫ই আগষ্ট অভ্যূত্থানেরও সৈনিকরা এই ব্রিগেডেরই)। এই ব্রিগেডের কমান্ড আজকের দিনেও ক্ষমতাসীন দলের আস্থাভাজন ছাড়া কাউকে দেওয়া হয় না। এমনকি ব্রিগেড কমান্ডারও যখন তার অধীন্স্থ কোন ইউনিট কমান্ডারকে কোন এসাইনমেন্ট দিয়ে ফিল্ডে পাঠান তাকেও তখন ভরসা করতে হয় সেই ইউনিট কমান্ডারের ওপরই। তিনি সরাসরি সেই ইউনিটে হাজির হয়ে ক্যাপ্টেন সুবাদারদের নির্দেশ দেন না।

১৫ই আগষ্টে শফিউল্লাহর ভূমিকা নিয়ে মুজিব ভক্তরা একটি বেশীই নির্মম হন বলে আমার মনে হয়। তাক্যা ব্যার্থতা বা দূর্বলতার দায়ে অভিযুক্ত করা যায়, তবে সে হিসেবে দূঃখের সাথে বলতে হয় যে সেই দায় পুরো সেনাবাহিনীর ঘাড়েই পড়ে। ১৫ই আগষ্ট অন্তত ঢাকা ক্যান্ট এ ফূর্তির আমেজ ছিল এটা শুধু হামিদের কথায় নয়, ব্যাক্তিগতভাবে বহু লোকের কথায় শুনেছি। ঐ অবস্থায় শফিউল্লাহর একা কোন ব্যাবস্থা নেওয়া ফোর্স মুভ করার কোন বাস্তব উপায় ছিল না। তার অপরাধ হতে পারে যে তিনি কর্নেল জামিলের মত প্রান দেননি। সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে সেদিন শফিউল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ অন্তত দূঃখিত হয়েছিলেন এমন প্রমান পাওয়া যায় না। বেশীরভাগ লোকে সরসরি খুনীদের কংগ্র্যাচুলেট করেছিলেন, আর যারা আপাত নিরপেক্ষ বা এখন বংগবন্ধু ভক্ত সাজেন তারা দুই দিকই বজায় রাখছিলেন, কর্নেল হামিদ সম্ভবত এই দলে পড়েন। উনি শাফাত জামিল খালেদের কথা বলেছেন উল্লসিত ছিলেন বলে, তবে নিজেও যে উল্লসিত না হলেও অন্তত হেসে হেসে ফারুকের সাথে হালকা আলাপ করছিলেন তার কথা নিজেই বলেছেন। মানে ১৫ই আগষ্টের ঘটনায় উনি অন্তত নারাজ হননি (যা সে সময়কার টিপিক্যাল সেনা দৃষ্টিভংগী)।



খুনী মেজররা ঘটনা ঘটিয়ে ক্যানটনমেন্টে এসে হাসি মুখে ঘুরে বেড়ালো, সকলে তাদের সাথে হাসিমুখে করমর্দন করে কংগ্র্যাচুলেট জানালো আর দায় পড়ে কেবল এক শফিউল্লার ঘাড়ে কেবল তার পদের জন্য এই এসেসমেন্ট খুবই দূর্বল মনে হয়। জীবনে কেউ শুনেছে যে দেশের প্রেসিডেন্টকে কিছু নিম্ন পদের লোকে সপরিবারে খুন করে এসে হাসিমুখে বহাল তবিয়তে ক্যান্ট এ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে? এটা সম্ভব হয় তখনই যখন পুরো পরিবেশ থাকে খুনীদের ফরে। ১৫ই আগষ্ট অন্তত ঢাকা ক্যান্ট এ তেমন পরিবেশই ছিল।

গোটা সেনাবাহিনীর দায়ভার, ব্যার্থতা বা খুনীদের সমর্থন দানের দায় এক শফিউল্লার ঘাড়ে চাপানো কিছুটা উদ্দেশ্যমুলকও।

খালেদ বা শাফাত জামিলরা কি কারনে প্রকাশ্যে হাসিমুখে ঘুরে বেড়ানো মেজর পদের ফারুক/রশিদ/ডালিমদের এমপি দিয়ে গ্রেফতার করাননি এর কি জবাব হতে পারে? শাফাত জামিল বহাল তবিয়তেই ক্ষমতায় ছিলেন, এবং ঘটনা জেনে শুনেই চুপচাপ ছিলেন (ধরে নিলাম যে হামিদের বক্তব্য অনুযায়ী তারা উল্লসিত ছিলেন এমন হয়ত সঠিক না)। খালেদের ভূমিকা কি ছিল? সেদিন সেনাবাহিনীর চেইন অফ কমান্ড শৃংখলা এসব কোথায় ছিল? এর একমাত্র সম্ভাব্য উত্তর হল যে ঘটনায় তারাও খোশই ছিলেন।

আর্মি এয়ার্ফোসের জেট সরাসরি ব্যাবহারের নির্দেশ দিতে না পারলেও বিশেষ সময় পারে, এটা এমন কিছু বড় পয়েন্ট না। যেমন চিটাগাং এ শান্তি বাহিনী সমস্যার সময় আর্মির একজন লেঃকর্নেল পদের জি-১ অফিসারও সরাসরি এয়ারফোর্সের হেলিকপ্টার চাইতে পারতেন আমি নিজে দেখেছি। সাধারনত এয়ার চীফের অনুমতি লাগে, তবে বিশেষ করে জরুরী সংকটময় মুহুর্তেীই প্রটোকল হয়ত সেভাবে মানা হয় না। আর খালেদ যে এয়ার চীফকে ডিংগিয়ে সরাসরি কোন পাইলটকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন এমন কোন কথা হামিদের বইতে নেই। তিনি ঠিক কি প্রটোকল পেরিয়েছিলেন এমন কিছু জানা নেই। এই পয়েন্ট খুব শক্তিশালী না বলেই মনে হয়।

জেল হত্যার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তির মনে হয় না তেমন অবকাশ আছে বলে। এই ব্যাপারে এত লোক, প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষ্য আছে যেগুলি ইরিফিউটবেল। শুধু তাই না, স্বাক্ষ্যদের মাঝে ভ্যারাইটিও আছে; রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে নানান পর্যায়ের কারা কর্মকর্তা সবাই আছেন। এত লোকে তারিখ নিয়ে জেনে শুনে ভুল করবেন খুবই বিস্ময়কর। তাদের একবার কবর দিয়ে আবার তুলে এনে জেলখানায় শুইয়ে রাখা কল্পকাহিনীর মতই শোনাবে।

ঘটনার পর সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে সম্ভবত জেনারেল খলিল শুনেছিলেন সবচেয়ে আগে, তবে তিনি আগ বাড়িয়ে কাউকে বলেননি।

তাজউদ্দিন সহ অন্য বন্দীরাও জানতেন যে এমন কিছু হবে। এর কিছুদিন আগ থেকেই সেনাবাহিনীর বিশেষ কিছু বাহিনীর লোকজন এসে সন্দেহজনকভাবে জেলের ভেতর ঘুরে বেড়াতো, ঘটনার দুই দিন আগে মনে হয় খোদ রশীদ নিজে এসে দেখে গেছিল (এগুলি সম্ভবত রেকি করা)। তাজউদ্দিন এমনকি চেষ্টা করেছিলেন জেলখানাকে রেডক্রসের নিরাপত্তা জোনে নিয়ে আসতে।

খালেদ যে ১৫ই আগষ্টের পর ফারুককে জয়দেবপুর থেকে ট্যাঙ্কের গোলা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছিলেন এ ব্যাপারে কি বলেন? আর তিনি যে ফারুকের মামু লাগতেন??

আমার নিজের ধারনা আগেই কইছি, ৩/৭ নভেম্বরের ঘটনায় আসলে খালেদ মেইন প্লেয়ার ছিলেন না। উনি জাষ্ট ইউজড।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল ভাই আর্মির এই ৪৬ ব্রিগ্রেড কথা আরোও দুই এক জায়গায় হালকা পাতলা শুনেছি বিগ্রেডের বিশেষত্বগুলা বিস্তারিত বলা যাবে কি ?

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এমন কিছু বিশেষত্ব নাই। এটা ঢাকা ক্যান্ট এর একমাত্র ফুল ফেজ ব্যাটেল ব্রিগেড যার অধীনে পদাতিক, গোলন্দাজ, ট্যাংক সব ইউনিটই থাকে, দায়িত্বে থাকেন ইনফেন্ট্রির একজন ব্রিগেডিয়ার কখনোবা সিনিয়র কর্নেল। ঢাকা ক্যান্ট এর অন্য সেনা ইউনিটগুলি যুদ্ধ সময় ছাড়া অন্য সময় এই রকম পূর্নাংগ অপারেশনাল না।

হতে পারে ১৫ই আগষ্ট এর শিক্ষা থেকেই, এখন এই ব্রিগেডের দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্ষমতাসীন দলের আস্থা বিবেচনায়, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অনুমোদন নিয়ে। যিনি এই পদে থাকেন তিনি সরকার বদল হলে বেশ ঝামেলায় পড়েন। আমার এক আত্মীয় এক আমলে এই পদে ছিলেন, তিনি রিটায়ারড; কিন্তু তার মেয়ের জামাই এক নিরীহ মেজর বেচারা শ্বশুড়ের পরিচয়ে বিরাট ঝামেলায় পড়ে, তার ক্যারিয়ার অন্ধকার।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হতে পারে ১৫ই আগষ্ট এর শিক্ষা থেকেই, এখন এই ব্রিগেডের দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্ষমতাসীন দলের আস্থা বিবেচনায়, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অনুমোদন নিয়ে। যিনি এই পদে থাকেন তিনি সরকার বদল হলে বেশ ঝামেলায় পড়েন।


ঘটনা সত্য। আমার এক আত্ত্বী্য বিএনপি মাইন্ডেড তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৪৬ বেঙ্গল এর ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ৩১শে ডিসেম্বর মঈন ইউ আহমেদ উনাকে ব্রিগেডিয়ার পদ থেকে মেজর জেনারেল পদে প্রমোশন দিয়ে ফাইলে সই করেন। আওয়ামি লীগ ক্ষমতায় এসে সেই প্রমোশন বাদ দিয়ে উনাকে ব্রিগেডিয়ার পদেই রেখে দেন। এই বছর তিনি এই পদে থেকেই স্বাভাবিক অবসরে যান।

--------------------------------------------------------------------------------
ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস। বিশ্বাসে কোন যুক্তি প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওনার বাড়ি কি গোপালগঞ্জ?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আরে ধুর !! গোপালগন্জ বাড়ি আর বিএনপি?? উনার বাড়ি কুমিল্লা।

--------------------------------------------------------------------------------
ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস। বিশ্বাসে কোন যুক্তি প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তেমন উদাহরনও আছে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শফিউল্লাহর ব্যাপারে আপনার এসেসমেন্টে আমি একমত। দ্বিতীয় পর্যায়টা নিয়া আমার কথা হইলো যখন টানা ১৫ বছর ধরে একটা নির্দিষ্ট পয়েন্টে ইতিহাসের স্রোতকে ডাইভার্ট করা হয়, এইটার রিলেটেড প্রতিপক্ষ সবাইরে নির্মূল করা হয়, তখন সন্দেহের অবকাশ থাকে বৈকি। '৭৫এর আগের অনেক গেজেটই বাজার থেকে লাইব্রেরি থেকে গায়েব করে দিছিলো জিয়া-এরশাদ। এগুলা এখনও দূর্লভ। খালেদরে জেনুইন ভিলেন বানাইতে জেলহত্যার টাইম নিয়া ডক্টরিং করাটা খুব জরুরী। মুজিবরে অপছন্দ করা অনেকেও তাজউদ্দিনের প্রতি দূর্বল। তার খুনীদের খালেদ ছেড়ে দিছেন এটা একটা বড় এজেন্ডা। সামনের পর্বগুলোতে এটা ক্লিয়ার হবে যে নেগোসিয়েশনটা আসলে কিভাবে হইছিলো, কারা আসলে এতে বড় প্রভাবক ছিলো, কাদের চাপ ছিলো। আমাদের তারবার্তার সোর্স সেখানে উপস্থিত ছিলেন দাবি করছেন। রেডক্রসের একজন কর্মী বিদেশীই সম্ভবত এমন জায়গায় উপস্থিত থাকেন কিভাবে? উত্তর হইতে পারে ১৫ আগস্টের পর সারা দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড মনিটর করছেন চিকেনপক্স নিরাময়ের জন্য আসা মার্কিন চিকিৎসকরা। পিটার কাস্টার্সের মতো লোক ১৫ আগস্ট তাহের-মোশতাকের ঝগড়া ঝাটিতে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন এবং সেটা লেখেন, বক্তৃতা দেন। আমাদের একটা নির্দিষ্টভাবে ভাবতে শেখানো হইছে। আমরা না হয় এই সম্ভাবনাটা নিয়াই একটু ভাবি। দেখি এতে আমাদের পরিচিত ইতিহাসে কি প্রভাব পড়ে। কাম অন ম্যান, লেটস টেক দ্য চ্যালেঞ্জ smile :) :-)

ওহ হ্যা, ফারুকের মামু লাগতেন খালেদ এটা মার্কিন নথিতেই উল্লিখিত। এইখানে আমরা কিছুদিন আগে আলোচনা করা সেই তারবার্তাটা নিয়া আলাপ করতে পারি, যেখানে দাবি করা হইছিলো যে ১৫ আগস্ট দুইটা ক্যু হইছে। সোভিয়েতপন্থী ক্যুর ওপর ট্রাম্প করছে ডানপন্থীরা। খালেদ চীনপন্থী ছিলেন। ডালিম এই দিকটা দেখতেন। তার সঙ্গে তাহের-সর্বহারা-জাসদ-তাজউদ্দিন-খালেদের যোগাযোগ ছিলো। বিস্তারিত আলোচনা একটু পরে দিতেছি

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শফিুল্লাহ একম্ন হাঁটু কাপা ভীতু ছিলেন আজকাল অনেকে গর্বের সাথে বলেন। মজার ব্যাপার হইল যে এই ১৫ই আগষ্ট সকালে যখন ডালিম কম্ব্যাট ড্রেসে ষ্টেনগান হাতে জীপ থেইকা ফিল্মী কায়দায় সেনাসদরে আসছিল তা দেইখা আজকের অনেক স্বঘোষিত বীর ইদুরের মতন দৌড় দিয়া এইদিক সেইদিক খাম্বার আড়ালে আশ্রয় নিছিলেন। শফিউল্লাহ ডালিমের উদ্যত ষ্টেনগান দেইখা মোটেও ভয় পান নাই। ডালিমরে ধমকাইয়া ষ্টেনগান নামাইতে বলছিলেন।

শফিউল্লাহ আসলে সেইদিন ছিলেন পুরা হতবিহবল, ক্ষমতাহীন, ঘটনার অসহায় স্বীকার। তবে বংগবন্ধু হত্যায় তার কোন ভূমিকা ছিল না। শুধুমাত্র পদের জন্যই যা দায় তার অনেক বেশী গালি খাইছেন। আর খুনীদের পিঠ চাপড়ানো বীরেরা পরে বড় বড় বংগবন্ধু প্রেমিক সাইজা বসছেন।

জেলহত্যার দায় খালেদের উপরে আবার কে কবে দিল? জেল হত্যা যদি খালেদের অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় হয় তাহলেও তার দায় খালেদের ওপর পড়ে না। জেলহত্যা খালেদের অভ্যুত্থানের আগে না পরে হইল এইটা মনে হয় না খুব গুরুত্বপূর্ন, ৪ নেতারে এনি হাউ মারতই। হইতে পারে খালেদের নামেরর ক্যু এর পরপর হইছে।

খুনীদের দেশ থেকে বাইর করার নেগোসিয়েশন নিয়া কি কন দেখি। আমি এই পার্ট তেমন জানি না। এখন পর্যন্ত মনে হয় সম্ভাব্য আরেক রক্তারক্তি এড়ানোর জন্যই এদের নিরাপদে দেশের বাইর করা হইছিল। ফারুক মিয়া তো তার ট্যাংক বাহিনী নিয়া পুরা পজিশন নিয়া ছিল, সে শুনছিলাম যে দেশত্যাগ বা নেগোসিয়েশনেও রাজী ছিল না। যতদূর জানি যে তোয়াবের দায়িত্ব ছিল তাগোরে বিদেশী কোন দেশে পাঠানোর ব্যাবস্থা করা।

শাফাত/খালেদ ক্ষমতার কারনেই নভেম্বরে ক্যু করছিল এইটা হামিদ সাহেবের মত আমারো লজিক্যাল লাগে এই কারনে যে ১৫ই আগষ্ট থেকে শুরু করে বহুদিন ওনারা খুনীদের নিজেদের আয়ত্বের ভিতরে পাইয়াও কিছু কন নাই, দিব্ব্যী তাদের সাথে হাসিমুখে দোস্তের মত আচরন করছেন। হঠাত আড়াই মাস পর মনে হইল যে চেইন অফ কমান্ড ভাংছে? হাস্যকর। মোর লজিক্যাল মনে হয় নিজেদেরে আস্তে আস্তে ক্ষমতা বলয়ের বাইরে যাইতে দেখার প্রতিক্রিয়া। সম্ভবত ওনারা প্রথমদিকে মেজর গংদের আন্ডার এষ্টেমেট করছিলেন, হতে পারে ওনারা মেজরদের উপরের বিদেশী ভূমিকা তখনো জানতেন না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শাফাত/খালেদ ক্ষমতার কারনেই নভেম্বরে ক্যু করছিল এইটা হামিদ সাহেবের মত আমারো লজিক্যাল লাগে এই কারনে যে ১৫ই আগষ্ট থেকে শুরু করে বহুদিন ওনারা খুনীদের নিজেদের আয়ত্বের ভিতরে পাইয়াও কিছু কন নাই, দিব্ব্যী তাদের সাথে হাসিমুখে দোস্তের মত আচরন করছেন। হঠাত আড়াই মাস পর মনে হইল যে চেইন অফ কমান্ড ভাংছে? হাস্যকর। মোর লজিক্যাল মনে হয় নিজেদেরে আস্তে আস্তে ক্ষমতা বলয়ের বাইরে যাইতে দেখার প্রতিক্রিয়া। সম্ভবত ওনারা প্রথমদিকে মেজর গংদের আন্ডার এষ্টেমেট করছিলেন, হতে পারে ওনারা মেজরদের উপরের বিদেশী ভূমিকা তখনো জানতেন না।
খালেদ/শাফাত সম্পর্কে চুরান্ত মন্তব্য করার সময় এখনও আসে নি, হয়তো পরবর্তী পোষ্টসমূহে আসবে। এখানে হামিদ সাহেবের দুর্বল লজিক নিয়ে বরং কিছু বলা যায়। ১৫ই আগষ্টেই কিংবা কাছাকাছি সময়েই অ্যাকশনে না যাওয়ার প্রধান কারন হলো তখনকার আর্মী দৃশ্যতঃ ব্যাপকভাবে মুজিববিরোধী ছিল, কেন সে বিষয়ে এ ব্লগেও বহু আলোচনা হয়েছে। আমরা যদি ধরে নেই খালেদ/শাফাত জোট একটি মুজিবপন্থী পাল্টা ক্যু করার কথা ভাবছিলেন, তাহলে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে যায়- তারা আসলে একটি অনুকূল পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। চট করেই মুজিবপন্থী একটি ক্যু করার মত পরিস্থিতি তখন ছিল না, অধিকাংশ সেনা সদস্যের চোখে মুখে স্পষ্ট সন্তোষ বিরাজ করছিল। প্রভাবশালী অফিসারদের আচরণেও এটা স্পষ্ট ছিল যে তারা এই ক্যু সুনজরেই দেখছেন। তবুও শাফাত একেবারে শুরু থেকেই এই ক্যু এর বিরুদ্ধে অন্ততঃ মৌখিকভাবে হলেও প্রকাশ্যে সোচ্চার ছিলেন, হয়তো পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় কিছু করতে পারেন নি। জিয়া সেনাপ্রধান হলে পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়ে ওঠে। তখন কৌশল হিসেবে জিয়ার উপর এই বলে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন যে জুনিয়র অফিসারেরা চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা দরকার।
ফারুক রশীদের সংগে হেসে হেসে কথা বললেও ভিতরে ভিতরে একটা মেরুকরনের কাজ যে চলছিল, এবং শাফাত/খালেদই যে তার একটি পক্ষ, তা কিন্তু অনেকেই অনুভব করতে পারছিলেন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও গ্রহন করছিলেন।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তাজউদ্দিনের ডায়েরি এবং তার উক্তিটা কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের কবর দেওয়া নিয়া আরেক কাহিনী হইছে, যা পরের পর্বে দিবো। নেগোশিয়েশনের ব্যাপারটা এইরকম যে খালেদ যখন শুরু করছেন, তখন রাতেই মোশতাক এম্বেসিতে ফোন কইরা বলছে সে পালাইতে চায়। সকাল থেকে চাষী নেগোশিয়েট শুরু করছে, সে,ওসমানী, খলিল সব পালাইতে চায়। এই ব্যাপারে কিসিঞ্জার নিজে ইনভলভড হইছে। দুপুরে প্যারালাল লাইনে খালেদ গ্রুপরে শোনানো হইছে আমেরিকা মোশতাকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করবে। আমেরিকা ডাইরেক্ট ইনভলভড আবার খালেদ ইন্ডিয়ার হেলপ ও চাইতেছিলেন না। তিনি চায়নার দিকে তাকায়া, কিন্তু তাহের ওইদিক আগেই ম্যানেজ করে রাখছেন, পুরা ক্যাডাভারাস অবস্থা। আরেকটা মজার ব্যাপার হইলো সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতেছে শাফায়াত, খালেদ কিছুই জানেন না। বগুড়া, চিটাগাং থেকে ট্রুপ মুভ করতেছে ঢাকার দিকে। সেনাপ্রধান জানেন না! তিনি রাতে পালাইলেন, কিন্তু শাফায়েত তার সঙ্গী হইলেন না।

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খালেদ যখন ক্যান্ট ছাড়েন, তখন শাফায়াত যতদূর জানি বংগভবনে ছিলেন, উনি ষ্টেনগান হাতে মোশতাকরে ধমকায় বাইর করছিলেন। তবে পালটা ক্যু এর খবর টেলিফোনে পাওয়ার পর বংগভবনের দেওয়াল টপকায় পালায় যান। পরে মনে হয় নরসিংদী না মানিকগঞ্জ এমন কোথাকার থানায় নিজেই সারেন্ডার করেন।

খালেদের গোটা অভ্যুত্থানে খালেদের নির্দেশ দাতা হিসেবে তেমন ভূমিকা দেখি নাই। ট্রুপ মুভমেন্টের ব্যাপারে মাঠে ছিল পুরাই শাফায়াত, খালেদ শুধু সিনিয়র হিসেবে দেন দরবার করছিলেন।

মোশতাকের ব্যাপারে দুয়েকটা ব্যাক্তিগত সূত্রে শুনছি যে উনি শেষ দিকে খালি কইত, "আমার কি, আমি রিক্সা একটা ডাইক্কা যামু গা"।

সে পালাইতে চাইল, আমেরিকা রাজীও ছিল তারে নিত তারপরেও ক্যান গেল না এইটারও ব্যাখ্যা দরকার।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দেখা যাক, সব আলোচনা মন্তব্যেই দিয়া দিলে আর পোস্ট করুম কি দিয়া Wink

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জানার আছে অনেক কিছু।

ইতিহাসের ধারা কি পরিবর্তিত হবে?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঢালাও অর্থে তা হয়তো হবে না, কিন্তু নিজের জানা ইতিহাসে অনেক ফোকড় ভরার পর একটা লাইনআপ পাওয়া যাবে নিশ্চিত

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক অজানা। অস্সাধারণ। চলুক।

.
.
__________________
অপণা মাংশেঁ হরিণা বৈরী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তাইলে আসল কথাটা হৈলো পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে লাশ কতটুক পচছে সেইটা নিয়া আনুবীক্ষনিক গোয়েন্দাগিরি কৈরা এইটা দাড় করানি যে জেলহত্যা হৈছে নভেম্বরের ১ বা ২ তারিখে। আপনে লেখেন ভালো ঠিকাছে , তয় সামুতেও আপনার সমালোচনা শুনছি যে সবকিছুতে আম্লীগরে ভালা দেখানির জন্য আপনি ফিকশনের দিকে ঝুইকা পড়েন। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট নিয়া যেমনে লাগছেন তাতে কথাটার সত্যতা পাইলাম। এনিওয়ে সামুতে নিক সেফ করনের তরিকা জানেন কিছু ? হালারা আমার নিক সেফ করতেছেনা ২ মাস হৈলো।

....................................................................................................................................................................................................................


10000 ডাইঅপ্টার


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হ, আমি জয় বাংলা ফিকশন লেখি। সামুর এত কিছু জানেন আর সেফ হওয়ার তরিকা জানেন না কেমন ছাগু আপনে? সোনা বা বর্নমালা ব্লগে গিয়া টিপস চাইয়া সাময়িক পোস্ট দেন। ভাইবেরাদর বহুত পাইবেন, ক্যামনে কি বইলা দিবো। এইখানে এইসব বয়ান দিলে পোন্দাইয়া লাল কইরা দিবে পোলাপাইন, বহুত খ্রাপ এরা, ছাগু দেখলেই লাইন ছাড়া লৌড় পারে, মুরুব্বী মানে না, সিরিয়াল মানে না।

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারন পোষ্ট ও আলোচনা। জেল হত্যার অপরাধীদের যথার্থ বিচারে বর্তমান বিএনপির অনীহার কারনগুলাও পরবর্তী পোষ্টে আসবে আশা করি।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বর্তমান রাজনৈতিক ধারার যে স্রোতটা এইটা তো আসলে '৭৫এর ওই সময়টা থেকে মেরুকরণ হইছে। কারো অনীহা বা অনিচ্ছার চেয়ে বরং আদি অবস্থানটাই প্রকাশ পাবে আগামী পর্বগুলাতে। পড়ার জন্য থ্যাঙ্কস

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চলুক।
পরের পর্বের অপেক্ষায়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক অপেক্ষার পোস্ট। এই মুহূর্তে মাথা কাজ করতেছেনা, সারাদিন ঈদের খাওয়া শেষে ফিরলাম। পড়লাম। ৩-৭ নভেম্বারের অনেক কাহিনীই আলিফ-লায়লার মতন মনে হয়। ফাঁক-ফোঁকর একটা এখানে আছে, দেখা যাক সত্য বের হয় কি না। কিছু স্পেসিফিক জিজ্ঞাসা সহ মন্তব্য করবো কালকে। আপাতত উপস্থিতি জানান দিলাম।

এই মুহূর্তে ছোট একটা অনুরোধ-- পরের পর্ব দিতে আরো ২-৩ দিন দেরী করতে পারেন। এইসব পোস্ট পাব্লিকের পড়া উচিত এবং চিন্তা করা উচিত সম্ভাব্য ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে। যারা ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত ব্যাপক ভাবে।

সাথে আছি, ছড়িয়ে দিচ্ছি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@(সিসিফাস), একমত।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হ্যা, আমিও ওই কারণেই অপেক্ষা করছি

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্কুলে থাকতেই আমার আব্বা একটা কথা বলেছিল- "রাইফেল এবং উর্দিধারী কাউকেই কখনই বিশ্বাস করবে না"। কথার সত্যতা আবারও প্রমাণ পেলাম। দুই একজন ব্যতিক্রম বাদে অধিকাংশই দেখলাম গ্রিডি বাস্টার্ডস।
পরের পর্বের অপেক্ষায়

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রাইট ইউ আর

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এটা মনে হয় আমাদের দেশ এবং পাকিস্তানের মত দেশের জন্যই খাটে। ভারতেও এমন পরিস্থিতি না।

আমেরিকা কানাডায় দেখেছি সাধারন মানুষ সেনা সদস্যদের মন থেকে আন্তরিকভাবে সম্মান জানায়। কোন প্লেনে সেনা সদস্য ইউনিফর্ম পরে থাকলে তাদের ভিআইপি ট্রিট্মেন্ট দেওয়া হয়, পাইলট এনাউন্ম করে যে তাদের সার্ভিসের জন্য জাতি কৃতজ্ঞ। হাইওয়ের গ্যাস ষ্টেশনে কফি কিনলে পুলিশদের থেকেও সাধারনত কেউ পয়সা নেয় না।

এসব কোন ভয় ভীতি বা চাপের কারনে না, আন্তরিকভাবেই মানুষ করে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জিয়াউর রহমান ছিলো লর্ড সাউরন কিংবা ডার্ক লর্ড ভল্ডেমর্ট এর চেয়েও ভয়ংকর। তার অদৃশ্য অংগুলী হেলনে মুজিব হতে শুরু করে মুক্তি্যুদ্ধের সব রাজনৈতিক নেতা, সামরিক নেতা সাফ হয়ে গেলো কয়েক মাসের মধ্যেই। গনতন্ত্রের মানসপুরুষ মুজিব পরে আবার ফিরে আসলো তার কন্যার মধ্য দিয়ে। একসময় ডার্ক টাওয়ার গেলো ভেংগে আর ডার্ক লর্ড জিয়ার পতন হলো। এই আখ্যান এর কাছে কোথায় লাগে মহাভারত, লর্ড ওফ দ্যা রিংস কিংবা ইলিয়াড-ওডিসি! শত শত বছর ধরে এই নতুন শাহনামা বেচে থাকবে মানুষের মাঝে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বালের আলাপ চুদান?

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঈদ মোবারক লেনিন ছাগু। তোমারে ঈদের বাজারে কেউ কিনে নাই দেখে খারাপ লাগল। Sad

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই চুত্মারানীর পোলাডারে এই পোষ্টের ঐতিহাসিক অসত্য খুইজ্যা বাইর কইরা দেখাইতে বলেন।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ও পিছলায়ে যাইব। সুশীল ছাগু যে।

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দুই একটা সুশীল ছাগু পুন্দানোর টাইম হইছে মনয়।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি ভয়ে কাপছি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হেগে দাওনি তো আবার?

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বীর শ্রেষ্ঠ মুজিব ফাকাররা পিছনে লাগলে প্যান্ট তো খারাপ হবেই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেঞ্জা দিয়া পুটকি মুছ, আর দয়া করে পোষ্টটা গান্ধা কইর না। পোন্দানি খাওয়ার শখ থাকলে আলাদা পোষ্ট দাও, দেখি কত পোন্দানি খাইতে পার।

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোস্ট গান্দা করা! কুৎসিততম গর্দভগুলো আবার পোস্ট করার কথা বলে!!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হে মহা বুদ্ধিমান লেনিন ছাগু, পোষ্ট করার ক্ষমতা আপনার নেই। আপনি পোষ্ট নামক ল্যাদা ছাড়ুন, সেখানে মুতে আসি।

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

* ব্লগারঃ লেনিনরহমান
* ব্লগ লিখেছেনঃ ৩টি
* মন্তব্য পেয়েছেনঃ ৪৯টি
* অন্যের ব্লগে মন্তব্য করেছেনঃ ৭৪৪টি
* নিজের ব্লগে মন্তব্য করেছেনঃ ৫টি
* সদস্য হয়েছেনঃ ৫২ সপ্তাহ ১৯ ঘণ্টা আগে


ওস্তাদ সালাম Laughing out loud

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

" তবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চলছিলো। খুনীরা মুক্তিযোদ্ধা এবং নিহত মুজিব স্বৈরাচার"

এখানে বিভ্রান্তির কি ছিলো?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তা খুনীরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, সেই যুদ্ধের নেতৃত্বে কে ছিল? তোমার জিয়া আব্বা? কার ডাকে বাংগালী স্বাধীনতার সংগ্রামে নেমেছিল? স্বৈরাচার কি বুঝ? যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে সাড়ে ৩ বছরের মাথায় দেশী বিদেশি ষড়যন্ত্রে দেশ এর অবস্থা যখন খারাপ, তখন শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিতে গেলে স্বৈরাচার? বঙ্গবন্ধু স্বৈরাচার হলে তোর জিয়া বাপে কি ছিল লেনিন ছাগু? গণতন্ত্রের প্রবক্তা? জামাতরে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করে?

তোরে আর তোর ১৪ গুষ্ঠিরে গদাম।

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ডায়াপার বদলাইয়া আসো, দূর্গন্ধ বাইরায়।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মুজিব ছাড়া আর কোনা মানুষের পিছন দিয়ে তো বেহেশতী খুশবু বেরোয় না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ লেনিন রহমান-


মুজিব ছাড়া আর কোনা মানুষের পিছন দিয়ে তো বেহেশতী খুশবু বেরোয় না।



"বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রচলনকারী, জামাত শিবিরের পূণর্বাসনকারী, মুসলিম জিয়া"র একনিষ্ঠ মুরিদ "নাস্তিক লেনিন রহমান"এর ল্যাদানিতে ব্যাপক গন্ধ

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেলিন রহমান, যাক ধরতে পারছেন তাইলে ব্যাপারটা।

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

"--তবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চলছিলো। খুনীরা মুক্তিযোদ্ধা এবং নিহত মুজিব স্বৈরাচার। অস্থির সে সময়টায় ষড়যন্ত্রের একটা জাল বোনা হচ্ছিলো আসলে। সব মাথাগুলোকে সে জালে আটকে একসঙ্গে নিকেশ করার ষড়যন্ত্র। দক্ষ গ্র্যান্ডমাস্টারের মতো দেওয়া সে চালে খন্দকার মোশতাক আহমদ কিংবা স্বঘোষিত খুনীরা সাময়িক রাজত্ব ও রাজ্যশাসনে মশগুল। জালটা গুটিয়ে আনা হলো নভেম্বরে--"

১৫ ই আগস্ট ওয়ালাদের দিয়ে জেলহত্যা করানো, খালেদকে প্ররোচনা দিয়ে চরম আ্যামেচার ক্যু করানো, তাহেরকে প্ররোচনা দিয়ে কাউন্টার-ক্যু করানো, তাহের-খালেদেকে হতবুদ্ধি Bungler করে রাখা--- এসবই মহাপরিকল্পনার অংশ। স্বয়ং ইবলিসও তো মানুষকে প্ররোচনা দিয়ে এভাবে নিজের ইচ্ছামতো খেলার পুতুল বানাতে পারে না।

এজন্যেই তো বলেছি, এই আখ্যান ইতিহাসের এক নতুন শাহনামা'র জন্ম দেবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অওসাম লেনিন রহমান। ফেরদৌসি আপনার মতো সমঝদার পেলে বর্তে যেতেন। আসলেই দেখি আপনে ধরে ফেলেছেন জিয়া স্যারের প্যাচঘোচ Laughing out loud

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অতটা না হলেও জিয়ার হাত দৃশ্য বা অদৃশ্যভাবে ৭৫ কেন্দ্রিক বহু ঘটনার সাথেই জড়িয়ে আছে, অস্বীকারের তেমন পথ নেই।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জিয়া ৭৫ এর বিভিন্ন ঘটনার সাথে জড়িত এটা সামান্যতম ইতিহাস জানা লোকজনও অস্বীকার করতে পারে না।

আপনি নিজেই বলেছেন যে '৭৫ এর আগস্টে ক্যান্টনমেন্টগুলোতে কিরকম স্বস্তির বাতাস বয়ে গিয়েছিলো। আমি একখানে পড়েছিলাম যে ৬০ এর দশকের শেষদিকে পাকিস্তান আর্মীতে বাংলাদেশী মেজর-ক্যাপ্টেন রা নিজস্ব প্রাইভেট গ্যাদারিং-এ একে অপরকে মজা করে জেনারেল অমুক বলে সংবোধন করতো। কারন তারা বিশ্বাস করতো যে বাংলাদেশ অচিরেই পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে চলেছে এবং নতুন দেশের নতুন আর্মীতে এই সব মেজরেরা, জেনারেল হয়ে আসবে।

এই মেজরেরাই যুদ্ধের পরে নিজেদের আর জেনারেলে সীমাবদ্ধ দেখেন নি। এরা নিজেদেরকে বাংলাদেশী আইয়ুব কিংবা ক্যাস্ট্রো হিসেবে ভাবা শুরু করেন। সবাই মনে করা শুরু করে, সে নিজে বিশংখল নতুন দেশের পরি্ত্রাতা হয়ে আবির্ভাব হবে। ৭০-৮০ দশকে বাংলাদেশ আর্মী'র অফিসার কালচারের সাথে পরিচয় যাদের আছে, তারা সবাই জানে জিয়া-খালেদ-তাহের-মন্জুর এরা সবাই কিরকম অ্যাম্বিশাস ছিলেন। বাংলাদেশের দূর্বলতম প্রশাসক মুজিব মিয়া যখন সমাজতান্ত্রিক-পারিবারিক রাজবংশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে মগ্ন, তখন শুধু ফারুক-রশীদ গংই নয়, আরও অনেক গ্যাং স্ট্রাইক করার প্ল্যানে ব্যস্ত। মুজিবকে বারবার বলা হয়েছিলো আ্রর্মীর কাছ থেকে সম্ভাব্য আক্রমনের কথা।

৭৫ ছিলো বিষাক্ত সাপে ভরা পিটের মধ্যে একটা ভিশিয়াস স্লাগিং ম্যাচ। এসময়ে ইতিহাস যেকোনো দিকে যেতে পারতো। এই সবকিছুকে একটা মাস্টারপ্ল্যানের অংশ বলে প্রচার করা বুদ্ধিহীন কনসপিরেসী থিয়োরী বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়। এরকম


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

৭১র পরবর্তি দেশে সবাই এমবিশাস হয়ে গেছিলেন এতে নো ডাউট। জিয়া/তাহের/খালেদ সবাই পাওয়ার ফাইটে মত্ত ছিলেন, শফিউল্লাহ ফাইটে প্রথমেই অনেকটা নো কন্টেষ্ট এ জিতে নিজেকে নিরাপদ মনে করে আসলে হেরে বসে ছিলেন। সবাইকে টেক্কা মেরে জিয়াই জেতেন নিজ গুন বলেই, সম্ভব ঠান্ডা মাথায় ক্যালকুলেটিভ ভাবে অন্যদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারা ও ব্যাবহারের পর সফল ভাবে ছুড়ে ফেলতে পারার অনন্য কোয়ালিটি তার ছিল।

জিয়ার যায়গায় তাহের খালেদ এরা জিতে গিয়েও ক্ষমতায় আসলেও হয়ত আমাদের নাম বদলাতে হত মাত্র। তবে ষড়যন্ত্রী বুদ্ধিতে জিয়ার ধারে কাছেও এই দুজন যেতে পারেননি।

অনেকে এখন নিজ নিজ দলীয় দৃষ্টিভংগী থেকে কেউ জিয়া তাহের, কেউ খালেদকে হিরো বা ভিলেন বানান। আমি যতটুকু বুঝি যে এরা সবাই মুজিবের পতনে উল্লসিতই ছিলেন, উল্লসিত ছিলেন ব্যার্থ সরকারের কবল থেকে দেশ উদ্ধারের আনন্দে নয়, নিজেদের পথ পরিষ্কার হল এই মনে করে। সরকারের ব্যার্থতা ওনাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ দেখা দিয়েছিল।

তবে জিয়ার ম্যানিপুলেশ বাকি দুইজন থেকে স্বতন্ত্র, কতটুকু বৃহত্তর আমি নিশ্চিত নই, কিন্তু ওনার প্ল্যানিং অন্যদের তূলনায় অনেক ম্যাচিওর এবং প্রি-মেডিটেটেড ছিল বলেই মনে হয়। অন্যরা সিনে আসেন ১৫ই আগষ্ট ঘটনা ঘটার পর, উনি এ ক্ষেত্রে আগে থেকেই ছিলেন এতে কোন সন্দেহ নেই।

সেদিন ক্যান্ট এ আন্দন্দময় পরিবেশ ছিল এটা মুজিব ভক্তরা এড়াতে চান বা স্বীকার করতে চান না সম্ভবত বংগবন্ধুর ইমেজের পক্ষে ক্ষতিকর মনে করে। এ জন্যই শফিউল্লাহ বেচারার ঘাড়ে এক তরফা দায় চাপিয়ে পুরো সেনাবাহিনীর দায় চাপানোর মত অবাস্তব এনালাইসিস করেন।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই ফাইট ওফ দ্যা মেজর'স কিন্তু ৭৫ এই শেষ হয় নাই। এর অবসান একমাত্র হয় ৮১ তে, মন্জুর এর মৃত্যু এবং আরো এক রাউন্ড অফিসারের ফাসী'র মাধ্যমে।

জিয়ার চেয়েও গভীর জলের মাছ ছিলেন আরো একজন, আমাদের এরশাদ চাচা। তার মতো কুল কাস্টোমার বাংলাদেশের ইতিহাসে আসে নাই।

খালি তার লাজ-লজ্জা একটু কম ছিলো আর ঢাকার নাগরিক সেন্টিমেন্টকে ঠিকমতো ক্যালকুলেট করতে পারেন নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইন দ্যা সেন্স জাতি এরশাদের কাছেও কৃতজ্ঞ, সেই নিজে এই পদ্ধুতির লাষ্ট বেনেফিশিয়ারী হিসাবে ফাইনাল টাচ দেয়, তারপর এই রক্তাত পাওয়ার ফাইট শেষ হয়। তবে শেষ কতটুকু হয়েছে বলতে পারি না। তার আমলেও বেশ কিছু ছোট খাট ক্যু হয়েছিল, সেগুলি সেভাবে পাবলিকের কাছে আসেনি। সে খুবই লাকি, বড় দুই দলের কামড়াকামড়ির সুযোগে অনেকটা অয়াক ওভার পেয়ে গেছে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@লেনিনরহমান,
আপনার অনেক কথার সাথেই একমত, "মুজিব বাংলাদেশের দুর্বলতম প্রশাসক ছিলেন" এই মতের সমর্থক নই। একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বরে বাংলাদেশের কিছুই ছিল না, অতি দরিদ্র একটি দেশের সব কিছু আক্ষরিক অর্থেই ধংস হয়ে গিয়েছিল। সারে তিন বছর সময়কালে সকল পক্ষের মন রক্ষা করে তিনি যতটুকু করতে পেরেছিলেন, সেই সময়ে অন্য কেউ তার অংশমাত্রও পারতেন না।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি আপনাকে এটা সমর্থন করতেও বলছি না। আপনার মতের প্রতি পূর্ন শ্রদ্ধা আমার আছে এবং এই মতের লজিক্যাল ভিত্তি সম্পর্কেও আমি জ্ঞাত আছি।

কিন্তু সেই সাথে আপনার মতের বিরুদ্ধমত থাকার লেজিটিম্যাসিকে আশা করি অস্বীকার করবেন না। ৭১ পরবর্তী মুজিব এবং তার প্রশাসনের ক্রিটিসিজমের সাথে স্বাধীনতাবিরোধীতা একত্র করে ফেলা কিংবা ক্রিটিক এর মোটিভ নিয়ে প্রশ্ন তোলা, এটিই অসহ্য।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

৭৫ এ সব ওলট পালট করে ইতিহাসের নায়কদের নামের তালিকা বদলায়েছে ও হত্যাকারীরা এ দেশ চালানোর লাইসেন্ষ পেয়েছে; তবে জাতির ভাগ্য যা ছিল, তাই আছে।

৪০ বছরে কেহ জাতিকে নিয়ে চিন্তিত হয়নি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

"মীর জাফর" প্রবাদ কে "মাচো জিয়া" দিয়ে অতিসত্তর প্রতিস্থাপন করা হউক।
এরকম ঠান্ডা মাথার হিসাবি গিরিঙ্গিবাজ খুনী ইতিহাসে আর একটা খুজে পাওয়া যাবে কিনা আমি সন্দিহান।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সহমত জানাইলাম

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জেলহত্যা ও নভেম্বারের ক্যু, পালটা ক্যু এবং অন্যান্য হত্যাকান্ড আমার নিজের কাছে যথেষ্ঠ ধোঁয়াশার মনে হয়।নীচে কিছু প্রাসংগিক বক্তব্য রাখছি।

আপাতত, জেলহত্যাকে খালেদ মোশাররফের ক্যু এর প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া ১৫ ই আগস্টের বিদ্রোহীদের পদক্ষেপ ধরেই আলোচনা শুরু করি—

১৫ই আগস্টের হত্যাকান্ডের পর সম্ভবত ২৪-২৫ আগস্টের দিকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব চলে যায় জেনারেল জিয়ার হাতে এবং জেনারেল জিয়াকে সেনা প্রধান বানানোতে বিদ্রোহীরাই অগ্রগণী ভূমিকা পালন করে। কারণ তারা জিয়াউর রহমানকেই “পছন্দ” করতো এবং সম্ভাব্য পরিবর্তন ও বিদ্রোহের নিয়ে কথাবার্তা চালাতে একসময় জিয়ার সাথেই প্রথম যোগাযোগ করেন। এসঙ্ক্রান্ত কিছু লেখা এখানে।

উপরের কথাগুলো বলার উদ্দ্যেশ্য এতটুকুই যে জেনারেল জিয়ার সাথে ১৫ই আগস্টের বিদ্রোহীদের একধরণের সখ্যতা বজায় ছিল এবং এই সিদ্ধান্তটুকু নিতে লুকোচুরি বা কনস্পিরেসী থিওরী আবিষ্কারের প্রয়োজন পড়েনা।

১৫ আগস্টের বিদ্রোহের পর সেনাঅফিসারদের মধ্যে বিভিন্ন মতভেদ শুরু হয় এবং তা অনেকের লেখাতেই উঠে এসেছে। সেসময়ের লসএঞ্জেলস টাইমের সংবাদের ভাষায়

The group, known collectively as “The Majors”, quickly drew the animosity of large numbers of other military officers, many of whom had given active support to the plot against Mujib.


বিক্ষুব্ধ সেনাঅফিসারেরা এ যাত্রায় ক্যু-এর নেতৃত্বের খোঁজে মাঠে নামলেন (ব্যাপারটা অনেকটা সেই ফারুক-রশীদদের জিয়াউর রহমানের সাথে ২০ মার্চের সময় দেখা করবার মতনই মনে হয় তবে এ যাত্রায় জিয়াউর রহমান নিজেই সেনাপতি এবং) এবং সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকেই ১৫ ই আগস্টের বিদ্রোহী মেজরদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থার নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে অনুরোধ করেন। তবে জিয়াউর রহমান যথারীতি অপারগতা প্রকাশ করেন। লস-এঞ্জেলস টাইমসের ভাষায়-
A number of these embittered officers, from the army and air force, decided that they would remove the mjors and Mushtaq, install a “neutral” president and put the country under a military dictatorship


এখন নেতৃত্বের খোঁজ নিয়ে সংবাদপত্রটির ভাষ্য এরকম-

After sounding out several senior officers for leadership, they settled on the army chief of staff, Maj. Gen. Ziaur Rahma, to direct a coup against the majors and reestablish the miliary chain of command which they have overridden.


এখানে ১৫ই আগস্টের পর বিদ্রোহী মেজরদের বঙ্গভবন কেন্দ্রিক প্যারালাল সেনা কমান্ড চালানোকে বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
বিক্ষুব্ধ মেজরদের প্রস্তাবের ফলাফল ছিল নিম্নরুপ—

Zia refused. The other officers, fearing they had “let tha cat out of the bag”, turned quickly to Zia’s deputy, Lt. Gen. Khalid Mosarraf. Khalid, notably ambitious, immediately agreed.


এখন এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এসে যায়—

ক্যু এর নেতৃত্ব চেয়ে জিয়াউর রহমানকে ক্যু-এর উদ্দ্যেশ্য সম্মন্ধে নিশ্চই কিছুটা ধারণা দেওয়া হয়েছিল (এখানে Neutral President এবং Army dictator অংশটুকু বিবেচ্য) সেক্ষেত্রে Neutral President হিসেবে সম্ভাব্যদের ব্যাপারে কি ক্যু-কারীরা কোন ধারণা জেনারেল জিয়াকে দিয়েছিল?

জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হয়ে ক্যু-এর প্রস্তাব নিয়ে আগত বিক্ষুব্ধ সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে সেনা আইনে কোন ব্যাবস্থা নেননি কেনো?

জিয়াউর রহমান কি ক্যু-এর ব্যাপারে ১৫ই আগস্টের বিদ্রোহী মেজরদের অগ্রিম আভাস দিয়ে থাকতে পারেন?

উপরের প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে ২রা নভেম্বারের দিবাগত রাতের ক্যু এবং সেসময়েই বা তার কিছুটা আগেই চার জাতীয় নেতার হত্যার এমন তড়িত উদ্যোগ কিভাবে এতটা এলাইন্ড হলো তা অবশ্যই সন্দেহজনক।

লস-এঞ্জেলস টাইমের ভাষায়-

But unknown to the coup leaders, the majors (15 ই আগস্টের বিদ্রোহী) had dispatched an officer, reported Lt. Moslemuddin Khan, and a senior non-commissioned officer to Dhaka central jail where they murdered gour of Mujib’s former senior aides in their cells.


উক্ত সংবাদের ভাষ্য অনুযায়ী

The plotters claim they had not learn of the murders untill Tuesday morning, by which time they had agreed to left the majors and some of their dependents, 29 in all, fly out of Dacca to Bangkok.


পাশাপাশি, জেল হত্যা যদি শুধুমাত্র মোশতাকেরই প্রতিশোধ হবে তবে মোশতাক কেন ৩ রা নভেম্বারের আগেই সেটা করে ফেলেননি সেটাও চিন্তা করবার প্রয়োজন রয়েছে। মোশতাক সরকার শুধুমাত্র দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যাবহার ইস্যুতেই চার জাতীয় নেতাকে গ্রেফতার করে। তবে হঠাত হত্যার প্রয়োজন কেন পড়লো?

মোশতাকের বিশেষ আগ্রহ ছিল তাজউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে যার প্রমাণ এই পোস্টেই উল্ল্যেখ আছে। এছাড়া, তদানীন্তন আওয়ামী রাজনীতির ডানপন্থী ও বামপন্থী ব্লকের বাস্তবতাকে বিবেচনায় রাখলে তাজউদ্দিন আহমেদ ছাড়া অন্য তিন নেতার বিরুদ্ধে মোশতাকের বিরোধীতা ও ঘৃণার উল্ল্যেখযোগ্য কোন উদাহরণও আমার জানা নাই। স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে তবে কোথাও পড়েছিলাম যে ৭৪ এর মধ্যভাগে যখন অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী ইস্যুতে আওয়ামীলীগের বাম ও ডানপন্থীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়, সেক্ষেত্রে সৈয়দ নজরুলের সমর্থনও ছিল মোশতাক নিয়ন্ত্রিত ডানপন্থীদের দিকে। তাই মোশতাকের নির্দেশেই চারজনকে মেরে ফেলার আদেশ আসলে মোশতাকের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পাখি শিকারের সম্ভাবনার দিকেই ইংগীত দেয়। আমার-বিশ্বাস যুক্তি-তর্কের আদলে এখনও এখানেই থেমে থাকে। দেখা যাক আগামীতে আরও কি কি পাওয়া যায়।

অন্তত আমার কাছে নভেম্বারের সেই দিনগুলো মারাত্নক রকমের অস্পষ্ট এখনও, ।

অমিপিয়াল ভাইকে ধন্যবাদ এই অনুসন্ধানী পোস্টটির জন্য।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাংলাদেশের দূর্বলতম প্রশাসক মুজিব মিয়া যখন সমাজতান্ত্রিক-পারিবারিক রাজবংশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে মগ্ন,


লেনিন মিয়া বঙ্গবন্ধুর পলিটিক্যাল ক্যারিয়ারে আখের গোছানোর সুযোগ বারে বারে পেয়েছিলেন আইউবের জামানায় তাকে কাউনসিল মুসলিমলীগে যোগদান করে বড় মন্ত্রি করার হওয়ার প্রস্তাব সাকার পিতার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল পারিবারিক রাজবংশ কায়েম করতে ইচ্ছুক হলে তিনি সেই প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করতেন বাকিদের মতো দশ বছর জেলে নষ্ট করতেন না ,



বঙ্গবন্ধু যে দল দিয়ে রাজনীতিক জীবন আরম্ভ করেছেন অর্থাৎ মুসলিমলীগ পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর তারাই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় পয়সাপাতি করবার ধান্দা থাকলে তিনি খাজা নাজিমের মুসলিম ফ্যাকশনে চলে যেতে পারতেন

নাকি তিনি কোন আধ্যাত্মিক ক্ষমতাবলে অবগত ছিলেন যে একদিন পাকিস্থান ভেঙে টুকরো হবে বাংলাদেশ হবে এবং তিনি হবেন রাষ্ট্রপতি তখন পারিবারিক রাজবংশ প্রতিষ্ঠা কায়েম করেন এই ধরনের পরিকল্পনা মনের মধ্যে পোষণ করে তিনি পুরা পাকিস্তানকাল সততার অভিনয় করে গেছেন !


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাকশালের অভ্যান্তরে রাজবংশ কিভাবে প্রতিষ্ঠা হতো ঠিক বুঝে উঠিনি smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যারা বাকশাল নিয়ে কথা বলতে চান তাদেরকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পর জাপানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম দশ বছর কি ধরনের সরকার ব্যবস্থা ছিল তা দয়া করে অধ্যায়ন করে দেখতে অনুরোধ করি ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জাপানে ১৯৪৭ সালে সরাসরি আমেরিকান তত্বাবধানে ম্যাক আর্থার সংবিধান প্রনিত হয়। এখানে সরাসরি গনতন্ত্র এবং নির্বাচন এর কথা বলা আছে। এখানে রাজনৈতিক এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

১৯৪৮ থেকে ১৯৬০ সালে দ: কোরিয়ার একনায়ক ছিলেন সিংমান রি, যিনি কুখ্যাত ছিলেন তার প্রহসনের নির্বাচন, রাজনৈতিক দমন আর প্রশাসনে ব্যর্থতার জন্যে। ১৯৬১ সালে ক্যু করে ক্ষমতা নেন জেনারেল পার্ক চুং হি (ক্ষমতা ১৯৬১-১৯৭৯), তিনি বিশ্বে পরিচিত আধুনিক কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এবং কোরিয়ার ইকনোমিক মিরাকলের স্থপতি হিসেবে।

আপনি বাকশাল নিয়ে কি যেনো বলছিলেন?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জেনারেল পার্ক চুং হি বিরোধী মত দমনের রেকর্ড দেখলে আপনার মতো সুশীলেরা তার বিরুদ্ধে লাফ দিয়ে উঠতেন । আমি ব্যক্তিগতভাবে এক দক্ষিন কোরিয়ান পলিটিক্যাল সায়েনসের টিচারকে চিনি যাকে স্রেফ বাম চিন্তা করবার সন্দেহে সরকারের গোয়েন্দারা নানা ভাবে নির্যাতন করেছে পরে বাধ্য হয়ে উনি দেশ ছেড়েছেন সহপরিবারে কানাডাতে সেইখানেও তাকে সরকারি মনিটরে রাখা হয়

আর আমাদের দেশে বাকশাল প্রবর্তন হওয়ার পরেও গোপন পার্টি করা কমরেড হায়দার খান রনোর মতো কট্টর চিনা বাম নেতা বঙ্গবন্ধুর বাসায় কোন প্রকার সিকিউরিটি চেকের ছাড়াই তার বাসায় ঢুকে তাকে সমালোচনা করেছেন মুখের উপর ( হায়দার খান রনোর জীবনী দয়া করে পড়ে দেখুন)






আমার মেইন পয়েণ্ট প্রত্যেকটা এশীয়ান দেশের স্বাধীনতার পর নানা রকম রাজনীতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে ক্রাইসিস মোকাবেলায় প্রত্যেকটা দেশের লিডার নানা ডেসপারেট এটেমড নিয়েছেন

বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিল্লবের ডাক খাদ্য সংকট মোকাবেলায় দেশের সর্বত্র পুলিশ লাইনের মধ্যেও ধান চাষ করবার উদ্যোগ এই রকমই কয়েকটা প্রচেষ্টা

খাদ্য সংকট মোকাবেলা শেখ মুজিবের সবুজ বিপ্লবের যে কর্মসূচি নিয়েছিলেন তা খাদ্য সংকট অনেকখানি কমিয়ে দিয়েছিল এই নিয়ে একটা সেই সময়ের একটা গবেষনা পত্র পড়ে দেখার সুযোগ হয়েছিল একদিন সময় করে ব্লগে তা তুলে ধরব


বাকশাল জুনে গঠিত হওয়ার পরে তাকে হত্যার মাধ্যমে আগস্টেই খতম হয়ে যায় এ র সফলতা বিফলতা নিয়ে আলোচনা অর্থহীন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পার্ক চুং হিকে কখনোই গনতন্ত্রী বলে কেউ বলে নি। তিনি ছিলেন তৃতীয় বিশ্বের অনেক সামরিক শাসকেরই প্রিয় আদর্শ (জেনারেল জিয়া'র ও)।

মুজিবের ডেসপারেট এটেম্পট এর কথা বলবেন আবার তাকে গনতন্ত্রের ধবজাধারী বলে ফেনা তুলবেন সেটা তো হবে না। বেচারা'র আজীবন পেসিডেন হওয়ার খায়েশ কয়েক মাসের মধ্যেই মিটে যাওয়া তার ব্যর্থতার পাল্লায় শেষ বাটখারা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

উপরে একটা কমেণ্ট করেছিলাম সম্ভবত আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে দয়া করে আরেকবার পড়ে আসুন ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও মালপানি কামানোর রাজনীতি করতে চাইলে সেই সুযোগ শেখ মুজিবের সারা জীবনেই বারে বারে পেয়েছেন তিনি দেশভাগের আগে মুসলিলীগে ছিলেন পাকিস্তান হওয়ার পর সেই পার্টি ক্ষমতায় আসে কাজেই নিজ বাঙালি অধিকার নিয়ে সোচ্চার না হয়ে চুপচাপ মালপানি কামিয়ে যেতে পারতেন তা না করে মুসলিমলীগ হতে বিদ্রোহী হয়েছেন




আইয়ুবের সময়েও কেন্দ্রিয় মন্ত্রি হওয়ার লোভনীয় অফার পান তিনি তাও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন জেল খেটেছেন বছরের পর বছর
এইরকম যার সলিড ট্রাক রেকর্ড তাকে ক্ষমতালোভী বলে মুজিব মিয়া নামে যারা উপহাস করে সেই সব সুশীলের দল আসলেই নিজেদেরকেই হাসির পাত্র করছে নিজেদের মানসিক দৈনতা প্রকাশ করছে ।


গনতন্ত্র এবং একই সাথে সর্বহারারা ও জাসদের অস্ত্রে দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের রাজনীতি

একই সমান্তরালে গতিতে চলতে পারত না সংঘাত ছিল অনিবার্য বাকশাল তারই ফসল

বাকশালের আগে ও পরেও শেখ মুজিব সর্বহারা করা দলগুলাকে অস্ত্র ছেড়ে প্রকাশ্যে রাজনীতি করবার জন্য তাদের সাথে দফায় দফায় গোপনে বৈঠকে বসেছেন আকবর হায়দার রনোর বইতে এইটা পাওয়া যায় ক্ষমতালোভী আঁকড়ে ধরতে চাইলে ষ্টানিলের মতো স্রেফ সবাইকে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলাতেন আলোচনা করে সময় নষ্ট করতেন না

গণতন্ত্রী ছিলেন বলে এদের সাথে ডায়ালগে গেছেন আফসোস জাফর মাণ্ণান ভূইয়ারা তখন এইটাকে মনে করেছিল শেখ মুজিবের দুর্বলতা তাই গরম গরম কথা বলে তার প্রস্তাব নাকচ করেছে পরে এরাই পরবর্তীতে সামরিক সরকার গুলির সময় কেউ অস্ত্র জমা দিয়ে কেউ গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা কেউবা আবার চিনি চোর মন্ত্রি হতে লজ্জা পায় নাই


ইন্দিরা গান্ধি ভারতে কিছু সময়ের জন্য ইমারজেনসি জারি করেছিলেন সর্বময় ক্ষমতা নিজের কাছে হাতে তুলে নিয়েছিলেন কারন তার মনে হয়েছিল জনসঙ্ঘ এর মতো হিন্দু ফ্যাসিবাদি দলগুলাকে রুখতে এই রাস্তা তার কাছে উত্তম মনে হয়েছিল পরে তিনি নিজেই এই ডিসিশন রদ করেন ১৫ আগষ্ট না হলে বাংলাদেশেও আমরা অনুরূপ ঘটনার পুনারবৃত্তি দেখতে পেতাম বলে আমি বিশ্বাস করি কারন ইন্দিরা এবং শেখ মুজিবের রাজনীতি করবার ধরনে মিল আছে দুজনেই সারা জীবন প্রকাশ্য গনতান্ত্রিক রাজনীতি করে এসেছেন কোনদিন কুদেতা কিংবা সামরিক শাসকদের সেলটারে ক্ষমতায় আসাকে ঘৃণা করেছেন

এই কারনেই সুশীলদের মতো ইন্দিরা মুজিব হোসনে মুবারকে আমি একভাবে স্বৈরচারের তকমা লাগিয়ে দিই না ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার মতো অন্ধ বাকশালীর সাথে কথা বারানো বৃথা। পৃথিবীর কোনকিছু সম্পর্কেই কোনো জ্ঞান আপনার নেই শুধু মুজিব মিয়া ছাড়া।

ইমার্জেন্সীর কারনে ইন্দিরা ভারতে কি পরিমানে নিন্দিত সেব্যাপারে আপানর কোনো আইডিয়া আছে? স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কলংকময় পর্ব বলে ইমার্জেন্সী পরিচিত। ইমার্জেন্সী'র ইতিহাস সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারনা আপনার নেই। ইমার্জেন্সীর আগে ইন্দিরার প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলো সমাজতন্ত্রীরা। ইমার্জেন্সীর পরই ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা কংগ্রেস বিরোধীতার সু্যোগে রাজনৈতিক ক্যাপিটাল পায়।

গুডবাই এন্ড গুডলাক।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সুশীলদের এই একটা জিনিস খুবই ভালো লাগে আলোচনায় সুবিধা না করতে পারলে অন্ধ মূর্খ এইরকম না ট্যাগ দিয়ে লেজ গুটিয়ে দৌড় মারে


বাংলাদেশে যেমন বাকশাল নিয়ে জামাত বিএনপির কলামিষ্টগণ শেখ মুজিবকে ধুয়ে ফেলতে চায় ভারতেও একই ট্রেনড লক্ষ্য করা যায়

ইমার্জেন্সীর বিরোধিতা করে ভারতে যারা লেখালিখি করে এদের মধ্যে অগ্রগামী হচ্ছে এস কে গুরুমূর্তি বলবীর পুনজ , তরুন বিজয়, স্বপন দাশ গুপ্তা , চন্দন মিত্রা , এদের মধ্যে তরুণ বিজয় এবং চন্দন মিত্রা বিজেপির টিকেট সরাসরি রাজ্য সভার এমপি হয়েছেন

ইমার্জেন্সীর করে কিভাবে ইন্দিরা ভারত ধ্বংস করেছে এই নিয়ে নিয়ে এদের অসংখ্য আর্টকেল আছে তবে এই ইমার্জেন্সী বিরোধী গনতন্ত্র প্রেমি বুদ্ধিজীবিগন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পক্ষে মোদীকে কেন প্রধানমন্ত্রি করা দরকার তা নিয়েও কলাম লিখেছেন আরএসসের পত্রিকা পাওনিয়ারে এবং ওরাগানাইজারে

খুশয়ানত শিংয়ের ডানগের মতো প্রগতিশীল লেখকেরা বিনোদা ভাবে মাদার টেরেসার মতো প্রখ্যাত সমাজককর্মী জের ডি টাটার মতো বড় ব্যবসায়ীরা দেশ বাঁচাতে ইমার্জেন্সীর একটা দরকারী পদক্ষেপ ছিল বলেই মনে করেন এই নিয়ে তাদেরও অনেক লেখা আছে

কোন বিষয়ে হালকা পাতলা নলেজ নিয়ে সুশীলতা চোদানো আপনার অনেক পুরানা রোগ এই রকম সুশীলদের সাথে আলোচনা করে মজা পাই না ।

ভালো থাকেন ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@কালো ওঝা, এইসমস্ত বালছাল সুশীল ছাগুর লগে কেনো যে বিতর্কে জড়ান বুঝি না, স্রেফ উপ্তা কইরা একখান উষ্ঠা দিবেন।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যে লোক লিখতে পারে -- "জনসঙ্ঘ এর মতো হিন্দু ফ্যাসিবাদি দলগুলাকে রুখতে এই রাস্তা তার কাছে উত্তম মনে হয়েছিল -- ", ইমার্জেন্সী সম্পর্কে তার জ্ঞান নিয়ে কথা না বাড়ানোই ভালো। ইমার্জেন্সীর সময়ে ইন্দিরা বিরোধী নেতৃত্বের প্রধান অংশই ছিলো বামপন্থী।

ভারতে এসময়ে ইমার্জেন্সী'র পক্ষে বুদ্ধিজীবি পাওয়া যাবে না ১০০ জনে একজন কে। সকল ইমার্জেন্সী-বিরোধীকে বিজেপি পন্থী করা আপনাদের সকল আওয়ামী বিরোধীকে জামাতী ট্যাগ দেয়ার মতোই সহজ।

প্রথম থেকেই একের পর এক মিথ্যাচার করে আসছেন মুজিবের ফাইনাল ব্লান্ডারকে রং চড়াতে। অন্ধ মৌলবাদীর মতো একপ্রসংগ থেকে আরেকটাতে চলে যান অনায়াসে। আপনার প্রথম কথা থেকেই ধরি - -- যারা বাকশাল নিয়ে কথা বলতে চান তাদেরকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পর জাপানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম দশ বছর কি ধরনের সরকার ব্যবস্থা ছিল তা দয়া করে অধ্যায়ন করে দেখতে অনুরোধ করি--

জাপানে কি ধরেনের বাকশালী সরকার ছিলো একটু জানাবেন কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইমার্জেন্সীর আগে ইন্দিরার প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলো সমাজতন্ত্রীরা। ইমার্জেন্সীর পরই ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা কংগ্রেস বিরোধীতার সু্যোগে রাজনৈতিক ক্যাপিটাল পায়।

ইমার্জেন্সীর সময়ে ইন্দিরা গান্ধি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন কমিউনিসট পার্টি অব ইন্ডিয়া ( সিপিআই) হতে সেই সমকার সিপিআইয়ের পত্রিকা নিউ এজের লেখাগুলা একটু ঘাটলেই এর সত্যতা পাবেন

ইন্দিরা বিরোধী আন্দোলনে প্রধান পক্ষ কখনই সমাজতন্ত্রীরা ছিল না মূল আন্দোলন পরিচালনা করেছে জনসংঘ এবং অখিল ভারতিয় বিদ্যাথি পরিষদ যদিও এই আন্দোলনের সারফেসে জয় প্রকাশের মতো কয়েকজন সমাজবাদি ব্যক্তিত্ব ছিল কিন্তু পুরা আন্দোলনের আসল শক্তি ছিল হিন্দু মৌলবাদি সংগঠন সংঘ পরিবার এইটা আমার ওপিনিয়ন না এইটা ফ্যাক্ট

মূলত ইন্দিরার ব্যাংক জাতীয়করন, রাজা রাজড়াদের বিশেষ ভাতা বন্ধ করে দেওয়া ভূমি সংস্কার করবার ঘোষনা ডান পন্থার রাজনীতিক শিবিরে এক প্রকার ভীতি তৈরি করে তারা ভিতরে ভিতরে ইন্দিরা হটানোর প্রস্তুতি নেয়

The History of the World's Largest Democracy নামে বইটা সময় করে পড়ে দেখুন আপনার অজ্ঞতা ঘুচবে


ভারতে এসময়ে ইমার্জেন্সী'র পক্ষে বুদ্ধিজীবি পাওয়া যাবে না ১০০ জনে একজন কে। সকল ইমার্জেন্সী-বিরোধীকে বিজেপি পন্থী করা আপনাদের সকল আওয়ামী বিরোধীকে জামাতী ট্যাগ দেয়ার মতোই সহজ।


মাদার তেরেসা খুশয়ানত সিং সবার কাছে পরিচিত নামে বলে তাদের নাম বললাম ইমার্জেন্সীর সমর্থন করেছে সেই সময় এমন একশ উপরে লোকের নাম আমি দিতে পারব আমি আপনাকে

উপরে করা কমেণ্টে যে কয়জন ইমার্জেন্সী-বিরোধী লোকের নাম দিলাম তাদের নাম দয়া করে গুগুলে সার্চ দিয়ে উইকিপিডিয়াতে দেখুন তাদেরকে বিজেপিপন্থীর ট্যাগ আমার দেওয়া না তাদের কাজ কর্মের কারনেই তারা বিজেপি ঘরনার বলে পরিচিত


জাপানে তো বাকশালের চেয়েও আরোও ভয়ানক জিনিস ছিল যা সুপ্রীম কমান্ডার ফর এলাইড পাওয়ারস যা সংক্ষেপে SCAP নামে পরিচিত জেনারেল ডগলাস যার হেড ছিল দেশ দখলের পড় কয়েকবছর তো তিনি দেশ চালিয়েছেন নিজের মর্জিমতো পরে গনতন্ত্রের নামে মার্কিনিরা সেইখানে কয়েকটা কারজাই মার্কা রাজনীতিক দল তৈরি করেছিল কিভাবে এই নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে ত একটা আলাদা পোস্ট হয়ে যাবে !

সবচেয়ে বড় কথা আমাকে তো আগেই অন্ধ বাকশালি বলে ফতোয়া দিয়েছেন কাজেই অনর্থক আলোচনা চালিয়ে লাভ নাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঠিক বলেছেন। যেলোক যুদ্ধে পরাজিত জাপানে আমেরিকান অন্তবর্তী সরকারের সাথে বাকশালের তুলনা করে তার সাথে কথা চালিয়ে লাভ নেই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বলেন, তার সহযোদ্ধাদের মধ্যে আশ্চর্য্যজনকভাবে বেঁচে যাওয়া শাফায়েত জামিল


এই বেঁচে যাওয়াটা কে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পারি অনুসন্ধানের খাতিরে।

তাহেরে নেতৃত্বে হয়ে যাওয়া বিদ্রোহীরা জানত যে শাফায়াত জামিল ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের সাথে ক্যু করেছেন। তাদের সাথে আরও ছিল হায়দার, হুদা ও অন্যান্য আরও মুক্তিযোদ্ধা অফিসার। খালেদ মরলো, হায়দার-হুদা মরলো অথচ শাফায়াত জামিল তার ঢাকা ব্রিগেট মুভ করিয়ে ক্যু-এর নেতৃত্ব পর্যায়ে থাকার পরও কিভাবে বেঁচে গেলেন, সত্যানুসন্ধানে এই প্রশ্ন উত্থাপিত না হওয়াটাই অযৌক্তিক।

অজয় রায়ের লেখায় উধৃত-- ক্যু যখন ব্যর্থ হয়ে যায় তখন খালেদ নাকি হায়দার হুদা এর সাথে বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার সময় শাফায়াত জামিলকে বঙ্গভবনে থাকবার কথা বলেন। বঙ্গভবন, ঢাকাতে শাফায়ত জামিলকে ব্যর্থ ক্যু এর বাস্তবতায় থেকে যতে বলে নিজেরা (খালেদ, হায়দারম হুদা) ঢাকা ছাড়বার প্রস্তুতি নিলেন আর সেই কথা শাফায়াত জামিল মেনে নিয়েই ঢাকা থেকে গেলেন, এতটা সরলীকরণ করলে কিছু একটা খটকা লেগে যায়! (শাফায়াত জামিল কি নিজের নিরাপত্ত্বা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন? )

যেখানে তাহেরের পালটা ক্যু এর সমর্থকেরা প্রায় শত মানুষ মেরে ফেলেছে সেখানে খালেদের ক্যু-এর অন্ত্যতম প্রধান একজন নেতা কিভাবে অক্ষত থাকেন তা সত্যই খতিয়ে দেখবার প্রয়োজন রয়েছে। লস-এঞ্জেলস টাইমস-ওয়াশিংটন পোস্টের মতে,

So far, at least 34 officers, as well as a number of their wives and children, and nearly 100 enlisted men are understood to have been killed.


তাই, এতজনের মধ্যেও ক্যু-এর অন্যতম নেতা কোন বাস্তবতায় নিরাপদ থাকলেন তা বুঝে উঠতে পারিনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সে খালেদের ক্যু'র সময় গৃহবন্দী করার বুদ্ধি দিয়ে জিয়াকে জানে বাচিয়েছে, জিয়াও তাকে জানে বাচিয়েছে। আর যাই হোক তার সে খালেদ বা তাহেরর মত নেতৃত্বের গুন ছিলো না। সর্বোচ্চ আরেকজনের ডেপুটি হতে পারতো সে। এমন জিনিসকে কেই বা মেরে হাত গন্ধ করে।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
রাজাকার ইস্যুতে মানবতা মুছে ফেল টয়লেট টিস্যুতে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

৭ই নভেম্বরের মহান বিপ্লবে যে ৩৪ জন অফিসার মৃত্যুবরন করেছেন, তাদের মধ্যে খালেদ, হায়দার আর হুদা ছাড়া আর কেউ ৩রা নভেম্বরের ক্যু প্রচেষ্টার অপরাধে নিহত হন নি, তারা তাহেরের মহান শ্রেনী সংগ্রামের বলি হয়েছেন। আর শোনা যায়, খালেদের হত্যাকান্ডে সবচেয়ে বেশী তৎপর ছিলেন তার পক্ষে ভূমিকা পালনের জন্য রংপুর থেকে আসা একজন জুনিয়র অফিসার। পরবর্তীতে ৩রা নভেম্বরের ক্যু প্রচেষ্টার জন্য অন্য কারও মৃত্যুদন্ড হয়েছে বলে শুনি নি। এর কারন হয় তো এই যে অন্ততঃ মেজরদের বিতারনের ব্যাপারে সবারই সম্মতি ছিল।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@লেনিনরহমান,


ইমার্জেন্সীর কারনে ইন্দিরা ভারতে কি পরিমানে নিন্দিত সেব্যাপারে আপানর কোনো আইডিয়া আছে? স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে কলংকময় পর্ব বলে ইমার্জেন্সী পরিচিত। ইমার্জেন্সী'র ইতিহাস সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারনা আপনার নেই। ইমার্জেন্সীর আগে ইন্দিরার প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলো সমাজতন্ত্রীরা। ইমার্জেন্সীর পরই ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা কংগ্রেস বিরোধীতার সু্যোগে রাজনৈতিক ক্যাপিটাল পায়।
ইন্দিরা গান্ধীর ইমার্জেন্সী ইন্দিরা বিরোধী কারও কারও মনে চিরস্থায়ী কলংক চিত্র অংকন করে দিয়েছে, আমি আমাদের দেশের কিছু মানুষের কথাই বলছি। ভারতে অন্ততঃ ব্যাপারটা তেমন ছিল না, যেমনটা আপনি বলতে চেয়েছেন। আপনার বক্তব্য যদি সঠিকই হবে তাহলে কোন হিসাবে দুবছরের মাথায় তিনি বিপুল ভোটে পুনঃনির্বাচিত হয়ে এলেন? আর সমাজতন্ত্রীরা মোটেও তার প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল না। তাকে প্রতিহত করার জন্য জনতা পার্টি নামে যে মোর্চা গঠিত হয়েছিল, তাতে সমাজতন্ত্রী নামধারী নেতা শুধু জর্জ ফার্নান্দেজ, যার কোন সর্বভারতীয় ভিত্তি ছিল না। এ ছাড়া মোরারজি দেশাই, চরন সিং, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদভানি, জগজীবন রাম, সর্বোপরি জয়প্রকাশ নারায়ন, জনতা পার্টির এইসব প্রধান কুশীলবদের মধ্যে কেউ সমাজতন্ত্রী নন। আমাদের দেশে বহু মানুষ ইন্দিরা গান্ধীকে চরমভাবে ঘৃনা করতেন, অনেকে এখনও করেন। এই ঘৃনার পিছনে একাত্তরের পরাজয় প্রধানতম কারন, সে ডানপন্থীই বলুন কিংবা বামপন্থী অথবা মিশ্রপন্থী।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এইটা পেয়ারা লেনিন্বাইয়ের লাইগা Laughing out loud


ছাগুরে ছাগু করছো হাগু
হাগায় তোমার গন্ধ খুব
এবার ঈদেই গোস্তে তোমার
রান্না হবে মাটন স্যুপ



Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চরম কোবতে!

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সুন্দর কবিতা। আওয়ামী প্রতিভার বিচ্ছুরন ঘটেছে প্রতিটি ছত্রে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাল হয়েছে। অনেক তথ্য ও সূত্রের সমন্বয়ে সুন্দর একটি অনুসন্ধানিমূলক লেখা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইতিহাসের এই সময়টা সম্পর্কে সবসময়ই একটা ধোয়াশা কাজ করেছে। যদি আসলেই প্রমাণ করা যায় যে জেলহত্যা ২ নভেম্বর হয়েছে তাহলে বেশকিছু মিসিং লিংক জোরা লেগে যায়।

পোস্টের জন্য লেখককে ও আমার ব্লগ গবেষণা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালো লাগাটা জানিয়ে গেলাম। পরের পর্বের অপেক্ষায়।

.
~ ‎"বিদ্যা স্তব্ধস্য নিস্ফলা" ~


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১ নভেম্বরের ব্যাপারে বাইরোডের কনফার্মেশনটা খুবই কৌতুহলোদ্দীপক।তাজউদ্দিনের আহমদের কথাগুলোও যথেষ্ট নাড়া দিয়ে যায়।

চলুক,অপেক্ষায় থাকলাম পরের পর্বের।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সঠিক ইতিহাস জানতে চাই। পরের পর্বের অপেক্ষায়

___________________________________________________
রাজাকার শুধু একাত্তরেই ছিল না, এখনও আছে এবং তৈরী হচ্ছে,
দেশের স্বার্থ বাদ দিয়ে অন্য দেশের স্বার্থ যে দেখবে সে ই রাজাকার,
তা সে পাকিস্থান হোক বা ভারত, বা অন্য কোন দেশ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বস,মোবাইলে আগেই পড়েছি।
বই মেলায় এই সিরিজ গুলির একটা ক্ষুদে সংকলন বের করা যায় কি? হোক না নিউজপ্রিন্টের পাতাতেই ?

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বইটা আমি পড়েছি। বইটার একজায়গায় আছে জিয়া করপোরালদের মিটিং ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন তখন সবাই তাকে ফিরিয়ে আনে এবং কোর আন শরীফে হাত রেখে শপথ পড়ানো হয়। তাহলে কি সবই জিয়ার সাজানো নাটক ?

Speedy trail for war-criminals

glqxz9283 sfy39587p07