Skip to content

যুদ্ধাপরাধ ১৯৭১ - পর্ব এক : পূর্বকথন

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

২৫ মার্চ,১৯৭১ এর কালরাত্রিতে যেসব অকুতোভয় বাঙালি বুকের কয়েকটি পাঁজর আর একটি করে লাল টুকটুকে হৃদপিন্ড নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম পশুদের বিরুদ্ধে,তাদের সেই ছেলেমানুষি দুঃসাহসকে উৎসর্গ করছি এই সিরিজটি




১৯৭১,বর্ষাকালের কোন একদিন।বরিশালের আগৈলঝড়া থানার রাজিহার গ্রামের সত্তর বছরের বৃদ্ধ শরৎ বাবু বাড়ির উঠানে বসে খই খাচ্ছিলেন,তাঁর গায়ে ছিল জ্বর।পাকিস্তানি মিলিটারি আসতে দেখে ভয়ে দৌড় দেন তিনি।আরও দুইজন তরুণের সাথে এই বৃদ্ধকেও ধরে এনে তারই উঠানের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।এর পর নিথর দেহ নিয়ে শরৎ বাবু হা করে তাকিয়ে ছিলেন আকাশের দিকে,তার মুখের মধ্যে তখনও সাদা খই।

১৯৭১ এ শরৎ বাবুর মত মৃত্যু সম্ভবত সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ছিল একজন বাঙালির জন্য।তবে এমন ভাগ্য সব বাঙালির হয়নি,হয়নি অধিকাংশেরই।কাউকে হত্যা করা হয়েছে জবাই করে,কাউকে তিরিশ কেজি ওজনের শাবলের ঘায়ে মাথা গুড়িয়ে দিয়ে।হত্যা করা হয়েছে পৌনঃপুনিক ধর্ষণের মাধ্যমে,হত্যা করা হয়েছে শরীরের মাংস এবং চামড়া আলাদা করে,হত্যা করা হয়েছে তিলে তিলে - আঙ্গুল কেটে,চোখ তুলে ফেলে,চামড়া চিরে লবন লাগিয়ে দিয়ে এবং সবশেষে গুলি করে।হত্যা করা হয়েছে টুকরো টুকরো করে কেটে।হত্যা-নির্যাতন-নৃশংসতাকে আক্ষরিক অর্থেই একটি শিল্পের পর্যায়ে তুলে আনা হয়েছিল ১৯৭১ সালে।হত্যা এবং নির্যাতনই শুধু নয়,ভিটে থেকে উচ্ছেদ,সম্পদ লুন্ঠন এবং ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে একটি জাতিকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দেবার সব ধরণের আয়োজন সম্পন্ন করে পাকিস্তান রাষ্ট্র,তার অনুগত সেনাবাহিনী এবং তাদের অক্সিলিয়ারি ফোর্স।

এই ধরণের কর্মকান্ডকে গণহত্যা,যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধের অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।এসব অপরাধের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানা যায় রোম সংবিধি থেকে,জানা যায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এক্ট ১৯৭৩ থেকে,জানা যায় বিভিন্ন দেশের গণহত্যার বিচারের জন্য প্রণীত আইনগুলো থেকে।এই অপরাধগুলোর যেসব শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে,যেসব কাজকে উপরের অপরাধগুলোর আওতাধীন ধরা হয় তার প্রায় সবকটিই সংঘটিত হয়েছে বাংলাদেশ ভূখন্ডে - ১৯৭১ সালে।সব মিলিয়ে মোট ৩৩ ধরণের অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী অন্যান্য বাহিনী।এই অপরাধ গুলো হল

গণহত্যা

## হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে গণহত্যা সাধন
## গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে গণহত্যা
## সুপরিকল্পিত ভাবে শারীরিক ধ্বংস ও জীবননাশের মাধ্যমে গণহত্যা পরিকল্পনা এবং সংঘটন যা পরিনামে মানবজীবনকে নিশ্চিহ্ন করে
## এমন কর্ম করে গণহত্যা সাধন যাতে অন্যের জন্ম চক্র থেমে যায়

মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ


## হত্যার মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## ব্যাপক নিধনযজ্ঞের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## ধর্ষণের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## যৌনদাসীতে পরিণতকরণের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## যৌন নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## জোর পূর্বক গর্ভধারণে বাধ্য করার মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণার মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## দাসত্বে আবদ্ধকরণের সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## জোর পূর্বক নির্বাসন ,দেশান্তর এবং জনগণকে ভিটা থেকে উৎখাতের সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## আইন বহির্ভূতভাবে কারাগারে নিক্ষেপ,বন্দীকরণ এবং স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করার মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## অত্যাচার ও নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ
## মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ

যুদ্ধাপরাধ

## উদ্দেশ্য প্রণোদিত হত্যার মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের উপর আক্রমণের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## শত্রু দেহ খন্ড বিখন্ড ও বিকৃত করণের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## ধর্ষণের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## যৌনদাসীতে পরিণত করার মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## যৌন নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## খুনের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## সাধারণ জনগণের উপর আক্রমণের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## অমানবিক আচরণের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## বৈরী পরিবেশে শত্রুপক্ষের লোকজন দিয়ে জোরপূর্বক শ্রম আদায়ের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## অন্তহীন কষ্ট ও দুর্ভোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## বেসামরিক ব্যক্তি ও স্থাপনার উপর আঘাতের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## লক্ষ্যবস্তুর বাইরে ব্যক্তি ও বস্তুর উপর সীমাহীন আঘাতের মাধ্যমে ধ্বংস,মৃত্যু ও শারীরিক ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## প্রতিরক্ষাহীন স্থান ও স্থাপনার উপর আঘাতের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## শত্রুসম্পত্তি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিসাধণের মাধ্যমে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ
## ব্যক্তিমর্যাদার উপর গুরুতর আঘাতজনিত যুদ্ধাপরাধ

যুদ্ধাপরাধ ১৯৭১ সিরিজে এইসব অপরাধের একটি ছোট বিশ্লেষণ দাঁড় করানো হবে।উপরের প্রত্যেকটি অপরাধের বিপরীতে কয়েকটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হবে।তুলে ধরা হবে হত্যা-নির্যাতন-নৃশংসতার একটি খন্ড চিত্র।মনে রাখা প্রয়োজন - এখানে তুলে আনা হবে অল্প কয়েকটি ঘটনা,গণহত্যার সার্বিক প্রেক্ষাপটের তুলনায় সেগুলো আক্ষরিক অর্থেই তেমন কিছু নয়,নৃশংসতার দিক দিয়ে এগুলোর চেয়েও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।এটা শুধু এই বীভৎস গণহত্যাকে এক পলকে দেখার একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র।শিরোনামে শুধু ' যুদ্ধাপরাধ ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে,এর একমাত্র কারণ শিরোনামের স্ফীতিরোধ,এই সিরিজে উপরের প্রত্যেকটি অপরাধ সম্পর্কেই আলোচনা করা হবে।



মূল আলোচনায় ঢুকবার আগে কয়েকটি ব্যাপার পরিস্কার করে নেয়া উচিৎ।হয়তো বেশিরভাগ পাঠকেরই জানা।তবুও অনেকের বিভ্রান্তি মোচনে হয়তো সহায়ক হতে পারে।

প্রথমত,একাত্তরের গণহত্যা আদৌ হয়েছে কি হয় নি এ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক আছে।সাম্প্রতিক কালে শর্মিলা বসু সহ আরো কয়েকজন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে রিয়ালিস্ট দৃষ্টিতে দেখতে গিয়ে এই গণহত্যাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন,বরং বাঙালিদের দ্বারাই ব্যাপক হারে হত্যা,ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন।তরুণ প্রজন্মের অনেক বিভ্রান্ত সদস্যও এই প্রচারণা গুলো বিশ্বাস করে বসে দুঃখজনকভাবে।এদের বক্তব্য হলো,একাত্তরে সার্বিকভাবে ধর্ষণ,লুটপাট,পরিকল্পিত ভাবে সিভিলিয়ান হত্যা - এই জাতীয় ঘটনা গুলো ঘটেনি,দুয়েকটি 'স্বাভাবিক' ব্যতিক্রম ছাড়া।এখানে অল্প দুয়েকটি প্রমান উপস্থাপন করছি যা এইসব প্রচারণার বিরুদ্ধে জবাব দিতে গিয়ে কার্যকরী অস্ত্র হতে পারে।

গণহত্যার অন্যতম নায়ক,শীর্ষ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী এ এ খান নিয়াজির একটি মেমো পাওয়া যায় তারই লেখা বিট্রেয়াল অফ ইস্ট পাকিস্তান বইয়ে।এই মেমোতে নিয়াজি স্বীকার করেছে পাকিস্তানি সৈন্যরা উপরের অপরাধগুলোতে জড়িত ছিল।সাত অনুচ্ছেদের এই মেমোটিকে সংক্ষিপ্ত করে তিন অনুচ্ছেদে এনে সর্বস্তরের অফিসারদের মধ্যে বিলি করা হয় ১৬ এপ্রিল ১৯৭১।এই মেমোর প্রথম অনুচ্ছেদ দেখুন

Numerous reports of troops indulging in loot,arson and rape have been reported.Even officers have been suspected of indulging in such degrading activities.


মজার ব্যাপার হল,এই মেমোর সাত অনুচ্ছেদের কপিতে পাকিস্তানি সৈনিকদের দ্বারাই পাকিস্তানি মহিলাদের ধর্ষিত হবার বিবরণ রয়েছে।অথচ শর্মিলা,কুতুবুদ্দিন আজিজ তাদের লেখায় বাঙালিদের হাতে ব্যাপক হারে পাকিস্তানি মহিলা ধর্ষণের পুরোপুরি বানোয়াট বিবরণ হাজির করেন।

অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায় হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টেও,পাওয়া যায় ২০৫ ব্রিগেডের জেনারেল ( অব ) তাজাম্মাল হোসেন মালিকের বক্তব্যে

I learned through many other officer that during the earlier operations against the Muktibahinis thousands of innocent people were killed.In one of my defensive position at Santahar,large numbers of people were massacred.General Tikka khan and lieutenant General Jahanzeb Arbab had earned reputation of being Butchers of East Pakistan.So were many Brigadiers and Generals.Mukti Bahinis too,may also have done so in retaliation but it was very negligible as compared to to the atrocities committed by the West Pakistani troops against the East Pakistan.


এধরণের প্রমান আরো অসংখ্য হাজির করা সম্ভব।গণহত্যা হয়নি - এধরণের বক্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণ করতে অবশ্য এরকম অল্প কয়েকটি ডকুমেন্টই যথেষ্ট।এখানে খেয়াল রাখা প্রয়োজন,উপরের বক্তব্য গুলোর একটিও কোন বাঙালির কাছ থেকে আসেনি,এসেছে খোদ পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের কাছ থেকেই।

গণহত্যা যে ঘটেছে তার প্রমাণ মেলে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডের ২৮ মার্চ,১৯৭১ এর টেলিগ্রামে,যার শিরোনাম ছিল সিলেক্টিভ জেনোসাইড

EVIDENCE CONTINUES TO MOUNT THAT THE MLA AUTHORITIES HAVE A LIST OF AWAMILEAGUE SUPPORTERS WHOM THEY ARE SYSTEMATICALLY ELIMINATING BY SEEKING THEM OUT IN THEIR HOMES AND SHOOTING THEM DOWN


... WITH SUPPORT OF PAK MILITARY,NON-BENGALI MUSLIMS ARE SYSTEMATICALLY ATTACKING POOR PEOPLE'S QUARTERS AND MURDERING BENGALIS AND HINDUS.

১৩ জুলাই ১৯৭১ দি সানডে টাইমসে প্রকাশিত এন্থনি ম্যাসকারেনহাসের সাড়া জাগানো প্রতিবেদন Genocide শুরু হয়েছে নিচের বাক্যটি দিয়ে
West Pakistan's Army has been systematically massacring thousands of civilians in East Pakistan since the end of March.



সব শেষে আর একটি কথা যোগ করি,গণহত্যা অস্বীকার করাকে পাশ্চাত্য রাষ্ট্রগুলোতে আধুনিক কালে একটি অপরাধ হিসেবে ধরা হয়।ইউরোপের চৌদ্দটি রাষ্ট্রে Genocide Denial একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

দ্বিতীয়ত,এই গনহত্যার দায় কার উপরে বর্তায়?এইসব অপরাধে অপরাধী কারা?

এখানে মনে রাখতে হবে, জেনোসাইড কনভেনশন অনুসারে,গনহত্যার অপরাধে শাস্তিযোগ্য তারাই,যারা এর পরিকল্পনা,বাস্তবায়ন,সহায়তার সাথে জড়িত তাদের প্রত্যেকেই।এমনকী,গণহত্যা সংঘটিত যদি নাও হয়,এর উদ্যোগ নেয়াও একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

১৯৭১ এর গণহত্যার পিছনে প্রধান উস্কানিদাতা হিসেবে কাজ করেছিল জুলফিকার আলী ভুট্টো,ইয়াহিয়া খান।মন্ত্রণাদাতা হিসেবে ছিল পাকিস্তানের কিছু রাজনৈতিক নেতা,শিল্পপতি,সামরিক বেসামরিক ও তথাকথিত এলিট শ্রেণি।এ ব্যাপারে ভুট্টোর সাথে সমঝোতাও হয় ইয়াহিয়ার।গণহত্যার মূল পরিকল্পনা তৈরির কাজটি সম্পন্ন করে জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা,জেনারেল রাও ফরমান আলী খান।সমান ভাবে দায়ী জেনারেল হামিদ,জেনারেল মিটঠা,জেনারেল ইফতেখার জানজুয়া,জেনারেল পীরজাদা।সেই সময় বাংলাদেশ ভূখন্ডে অবস্থানকারী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রায় প্রত্যেকটি সদস্য গণহত্যা,যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল।

যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের বাঙালি সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়,১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমান সংগ্রহ করা হয়।এর মধ্যে ১৯১ জনের তালিকা এখানে সংযুক্ত করা হল

লে. জে. টিক্কা খান,জে. নিয়াজি,মে. জে . রাও ফরমান আলী,ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব আরবাব,ব্রিগেডিয়ার বশির,ব্রিগেডিয়ার রাজা,ব্রিগেডিয়ার আব্দুল কাদের,ব্রিগেডিয়ার আসলাম,ব্রিগেডিয়ার শরীফ,ব্রিগেডিয়ার শফি,ব্রিগেডিয়ার বেগ,ব্রিগেডিয়ার আনসারী,ব্রিগেডিয়ার সাদুল্লাহ খান,ব্রিগেডিয়ার সফি,ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার রানা,ব্রিগেডিয়ার আল ফালা,ব্রিগেডিয়ার সলিমুল্লাহ,লে. কোরবান,লে. রফিক,লে. আতাউল্লাহ,লে. নেওয়াজ রিজভি,লে. কর্নেল ইয়াকুব মালিক,লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ খান,লে. কর্নেল সাফায়েত,লে. কর্নেল টিক্কা খান,কর্নেল আকবর জং,কর্নেল সরফরাজ মালিক,কর্নেল তাজ,কর্নেল জানজুয়া,কর্নেল ভাদী,কর্নেল সরফরাজ মালিক,কর্নেল খটক,কর্নেল আতিক,কর্নেল বাদশা,কর্নেল হান্নান,কমান্ডার গুলজারিন,মেজর ইসতিয়াক,মেজর বেলায়েত খান,মেজর একরাম,মেজর জাফর,মেজর বানোরি,মেজর আসলাম,মেজর আইয়ুব,মেজর সিদ্দিক,মেজর সুলতান,মেজর রিয়াজ,মেজর ইফতেখার,মেজর আনসারী,মেজর ইফতেখার,মেজর আকরাম কোরেশী,মেজর চীমা খান,মেজর সেলিম,মেজর খটক,মেজর মঞ্জু,মেজর বোখারী,মেজর জেড খান,মেজর আসলাম,মেজর হাদি,মেজর জামান,মেজর আব্দুল্লাহ,মেজর সুলতান,মেজর মোহাম্মদ ইয়াসিন খন্দকার,মেজর গার্দিজী,মেজর আজিজ খটক,মেজর আজিজ,মেজর আব্বাসী,মেজর ইকবাল বাহার,ক্যাপ্টেন আকরাম,ক্যাপ্টেন গণি,মেজর আব্দুল্লাহ,মেজর জুবলি,মেজর আলতাফ করিম,মেজর রাজ্জাক,মেজর শাকিল খান,মেজর রিয়াজ খান,মেজর রিয়াজ,মেজর শোয়েব,মেজর নাদের পারভেজ,মেজর ইয়ামিন,মেজর রাজা,মেজর শেরওয়ানী,মেজর আখতার শাহ,মেজর হাজী আব্দুল মজিদ,মেজর আসলাম,মেজর আবুল কালাম মেলাল,মেজর শাহেদ,মেজর নিসার আহমেদ খান শেরওয়ানি,মেজর উইলিয়াম,মেজর আখতার,মেজর গুল,মেজর ফতেখান,মেজর মাহমুদ,মেজর আফজাল,মেজর তাহসিন মির্জা,মেজর শের খান,মেজর খোককার,মেজর জাকি,মেজর আজমল।মেজর আফজাল হোসেন,মেজর মোস্তফা,মেজর কামরুজ্জামান,ক্যাপ্টেন মোখতার,ক্যাপ্টেন আজিজ,ক্যাপ্টেন রাজা ইসহাক,ক্যাপ্টেন ইলিয়াস,ক্যাপ্টেন এজাজ,ক্যাপ্টেন কাদরি,ক্যাপ্টেন এরশাদ,ক্যাপ্টেন আতাউল্লাহ শাহ,ক্যাপ্টেন খালেক,ক্যাপ্টেন আবদুর রহিম,ক্যাপ্টেন সাঈদ,ক্যাপ্টেন তারেক,ক্যাপ্টেন আমানুল্লাহ,ক্যাপ্টেন ইয়াসিন,ক্যাপ্টেন আঞ্জু,ক্যাপ্টেন ফয়েজ,ক্যাপ্টেন সেলিম,ক্যাপ্টেন বোখারী,ক্যাপ্টেন জাহিদ কামাল,ক্যাপ্টেন ইফিতেখার হায়দার শাহ,ক্যাপ্টেন নাহিম মালিক,ক্যাপ্টেন আগা বোখারী,ক্যাপ্টেন নুরুউদ্দিন খান,ক্যাপ্টেন ইউসুফ,ক্যাপ্টেন গোলাম রসুল,ক্যাপ্টেন রফিক,ক্যাপ্টেন গোলাম রসুল,ক্যাপ্টেন আজমল,ক্যাপ্টেন মুনির,ক্যাপ্টেন মুনির হোসেন,ক্যাপ্টেন শাফায়াত,ক্যাপ্টেন মুনির,ক্যাপ্টেন আজমত,ক্যাপ্টেন আজমল খান,ক্যাপ্টেন কার্নি,ক্যাপ্টেন নাসের,ক্যাপ্টেন ইকবাল,ক্যাপ্টেন উলফাত,ক্যাপ্টেন নিয়াজি,কর্নেল এস এম ইকবাল,গুল বাদশা,সুবেদার মেজর ফয়েজ সুলতান,সুবেদার মেজর হানিফ,সুবেদার সিদ্দিক,সুবেদার মুশতাক,সুবেদার শের শাহ খান,সুবেদার লাল খান,সুবেদার সেলিম,সুবেদার সেলিম,সুবেদার সেলিম,হাবিলদার গফফার খান,হাবিলদার ইমরান খান,হাবিলদার আলাউদ্দিন,হাবিলদার সুফি,হাবিলদার শাহনেওয়াজ,হাবিলদার শাহাদত হোসেন,হাবিলদার ইকবাল,হাবিলদার খালেক,সিপাহী সিদ্দিকুর রহমান,সিপাহী ইউসুফ খান,সিপাহী রাশিদ খান,সিপাহী আব্দুর রহিম,মো: আলী খান( সাধারণ সৈনিক),রমজান ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),সাদেক ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),আকবর ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),সরফরাজ খান ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),রাশেদ খান ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),মালেক ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),খান মোশাররফ ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),আব্দুস সালাম খান ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),মোসলেম খান ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),হাবিলদার ওহিদ মিয়া ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),নায়েব লতিফ খান( র‍্যাঙ্ক অজানা ),নাসির খান( র‍্যাঙ্ক অজানা ),ইউনুস( র‍্যাঙ্ক অজানা )ইয়ামিন( র‍্যাঙ্ক অজানা ),হানিফ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),ইউসুফ( র‍্যাঙ্ক অজানা ),আসলাম( র‍্যাঙ্ক অজানা ),সমুন্দর খান( র‍্যাঙ্ক অজানা ),সরফরাজ খান ( র‍্যাঙ্ক অজানা )।

এর পাশাপাশি ছিল শান্তি কমিটি,রাজাকার বাহিনী,আল বদর বাহিনী,আল শামস বাহিনী,মুজাহিদ বাহিনী।গণহত্যায় যুক্ত ছিল বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিহারি জনগোষ্ঠীর একটি বৃহৎ অংশ।শান্তি কমিটি ছিল সিভিল প্রশাসনের সমতুল্য ক্ষমতার অধিকারি,দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলে গনহত্যাকে ছড়িয়ে দিতে এই শান্তি কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যায় এই কমিটি,সেনাবাহিনীকে পৌছে দেয় সাধারণ জনগণের সাধারন মানুষের কাছাকাছি জায়গায় - সুচারু রূপে গণহত্যা সম্পন্ন করার জন্য।সবসময় যে শুধু সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিয়োজিত ছিল তা নয়,স্থানীয়ভাবে এই কমিটির সদস্যরাই চালিয়েছে হত্যাযজ্ঞ,লুটপাট,ধর্ষণ,অগ্নিসংযোগ।প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে শান্তিকমিটির সদস্যরাই রাজাকার বাহিনী গঠন করেছে অনেক ক্ষেত্রে।

রাজাকার বাহিনী ছিল সেনাবাহিনীর সমান্তরালে কাজ চালানো একটি সশস্ত্র সামরিক বাহিনী।বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জে এরাই ছড়িয়ে পড়েছিল।এই বাহিনীর ক্ষমতা সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায় রাজাকার অর্ডিন্যান্স থেকেই

১৯৫২ সালের পাকিস্তান আর্মি এক্ট ( এক্ট নং ৩৯/১৯৫২ ) এর ৫ নং ধারার ( ১ এবং ৩ উপধারা ) প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কেন্দ্রীয় সরকার সন্তুষ্টির সাথে নির্দেশ প্রদান করিতেছি যে, (ক) উক্ত আইনের সমস্ত ধারা সমূহ,যতদূর সম্ভব,পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অধ্যাদেশ ১৯৭১ ( পূর্ব পাকিস্তান অধ্যাদেশ নং ১০/১৯৭১ ) এর অধীনে সংগঠিত রাজাকারদের প্রতি প্রযোজ্য।


আল বদর এবং আল শামস বাহিনীর মাধ্যমে গণহত্যা পূর্ণতা পায় বলা চলে।সারাদেশের কৃতি সন্তানদের তালিকা তৈরি করে হত্যা করার কাজটি সম্পন্ন করে এরা।এর বাইরেও সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করাও তাদের নিয়মিত কাজ ছিল।আল বদর বাহিনী মূলত শিক্ষিত পাকিস্তানপন্থী,উগ্র মৌলবাদি যুবকদের সংগঠন।ইসলামি ছাত্র সংঘকে( বর্তমান ছাত্র শিবির ) আল বদরে রূপান্তরিত করা হয়।

সেক্টর কমান্ডার'স ফোরাম কর্তৃক শীর্ষ এদেশীয় যুদ্ধপরাধীর একটি তালিকা তৈরি করা হয় ,তালিকাটি এখানে তুলে দেয়া হল।

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযম, বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. কামারুজ্জামান,খুলনার মওলানা এ কে এম ইউসুফ, পিরোজপুরের দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, বরিশালের মওলানা আব্দুর রহিম, জামায়াতের সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্বাস আলী খান, ঢাকার মীরপুরের আব্দুল কাদের মোল্লা, নোয়াখালীর মো. হামিদুল হক চৌধুরী, ঢাকার খাজা খয়েরুদ্দিন, সিলেটের মাহামুদ আলী, বগুড়ার মো. আবদুল আলীম, ঢাকার এ এম এস সোলায়মান, চট্টগ্রামের সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ফজলুল কাদের চৌধুরী, ময়মনসিংহের জুলমত আলী খান, রংপুরের কাজী কাদের, খুলনার খান আবদুস সবুর খান, মওলানা ফরিদ আহমেদ, কুষ্টিয়ার শাহ মো. আজিজুর রহমান, কুমিল্লার মাওলানা আব্দুল মান্নান, মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ডা. আবু মোতালেব মালেক, সে সময় ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মো. ইউনুস, কুমিল্লার এ বি এম খালেক মজুমদার, সিলেটের এ এন এম ইউসুফ, ময়মনসিংহের নুরুল আমিন, কুমিল্লার এ কিউ এম শফিউল ইসলাম, পাবনার আবদুল মতিন, রাজশাহীর অ্যাডভোকেট মো. আইনুদ্দিন, মাওলানা নুরুজ্জামান (আইআরপি),পূর্ব পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী মাওলানা মো. ইসহাক, নওয়াজেস আহমেদ, মো. আকতার উদ্দিন আহমেদ, নোয়াখালির গোলাম সরোয়ার, পাবনার মাওলানা আবদুস সোবহান, টাঙ্গাইলের আব্দুল বাছেদ, ময়মনসিংহের আব্দুল মতিন ভূঁইয়া, রংপুরের মো. আবদুল কাশেম, নোয়াখালির ওবায়দুল্লাহ মজুমদার, চট্টগ্রামের মীর কাশেম আলী, বরিশালের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার, ফরিদপুরের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহের মো. আবদুল হান্নান, পাবনার ব্যারিস্টার কোরবান আলী, জামালপুরের আশরাফ হোসাইন, খুলনার অ্যাডভোকেট আনসার আলী, সিলেটের মো. কায়সার, বগুড়ার আবদুল মজিদ তালুকদার, ও ময়মনসিংহের এ কে মোশাররফ হোসেন।

এর মধ্যে মাওলানা আব্দুর রহিম, আব্বাস আলী খান, মাওলানা এ কে এম ইউসুফ, হামিদুল হক চৌধুরী, খাজা খয়রুদ্দিন, শাহ আজিজুর রহমান, খান আব্দুস সবুর খান, নুরুল আহমেদ, ডা. আবু মোতালেব মালেক ও মাওলানা আব্দুল মান্নান মৃত।

এর বাইরেও আছে অনেক নাম।কুষ্টিয়ার সা'দ আহমদ ইদানিং জামাতি বুদ্ধিজীবী সেজেছে,তার বই থেকে কোট করে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়।সা'দ আহমদ কুষ্টিয়ার গণহত্যার অন্যতম প্রধান নায়ক।জয়পুরহাটের আবদুল আলীম এরকম আরো একজন,এই ব্যক্তি বাংলাদেশের মন্ত্রীও হয়েছে।উল্লেখ করা যেতে পারে বাগেরহাটের কুখ্যাত রাজাকার রজ্জব আলী ফকিরের ( মৃত ) কথা।এরকম নাম অসংখ্য আছে।

বিহারি জনগোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে বাঙালি নিধনে অংশ নেয়।বস্তুত ২৫ মার্চের আগে থেকেই বাঙালিদের উপরে তারা হত্যা যজ্ঞ চালাতে থাকে,পেছনে ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মদদ।এভাবেই পরিকল্পিত উপায়ে গণহত্যার প্রথম ধাপ শুরু করা হয়।চট্টগ্রাম রেলওয়ে কলোনিতে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা সৃষ্টি করা হয়,গুম করা শুরু হয় চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানের বাঙ্গালিদের।এর সত্যতা পাওয়া যায় জিয়াউর রহমানের একটি জাতির জন্ম প্রবন্ধে
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে উঠছিল,তখন আমি একদিন খবর পেলাম তৃতীয় কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের সৈনিক চট্টগ্রামে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিহারীদের বাড়িতে বাস করতে শুরু করেছে।খবর নিয়ে আরও জানলাম,কমান্ডোরা বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বিহারী বাড়িগুলোতে জমা করেছে এবং রাতের অন্ধকারে বিপুল সংখ্যক তরুণ সামরিক বাহিনীতে ট্রেনিং নিচ্ছে।

... খবর নিয়ে জানলাম প্রতিরাতেই তারা কতগুলি বাঙালি পাড়ায় যায়।সেখানে তারা বেছে বেছে বাঙালিদের হত্যা করছে।এই সময় প্রতিদিনই ছুরিকাহত বাঙ্গালিকে হাসপাতালে ভর্তি হতে শোনা যায়।

রেলওয়ে কলোনির দাঙ্গা সম্পর্কে জানা যায় চট্টগ্রামের তৎকালীন রেজিমেন্টাল সেক্টর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. আর মজুমদারের ভাষ্যে।তিনি জানান,
মার্চের শুরুতে রেলওয়ে কলোনিতে একটি দাঙ্গা হয়েছিল।ঐ দাঙ্গাটি পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের কমান্ডো দ্বারা সৃষ্ট ছিল।ঐ দাঙ্গায় রেলওয়ে কলোনি এলাকায় নিহতদের মধ্যে বাঙালিদের সংখ্যাই ছিল বেশি এবং তাদের ঘরবাড়িই বেশী পোড়ানো হয়েছিল।


দাঙ্গা তৈরি করা হয় সৈয়দপুরে,ঢাকার মিরপুরে,মোহাম্মদপুরে।২৩ মার্চ মিরপুর এবং ২৪ মার্চ সৈয়দপুর আক্রমণ করে বিহারীরা।বিহারীদের দ্বারা ঢাকার মিরপুর,চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এবং সৈয়দপুরের গোলাহাটায় বীভৎস গনহত্যা সংঘটিত হয়।এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিহারীরা বাঙালিদের সাথে দাঙ্গা সৃষ্টি করে এবং সক্রিয়ভাবে গণহত্যায় অংশ নেয়।

ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে করা ১৪০৬ জনের একটি তালিকা আছে,এর মধ্যে ১০০১ জন রাজাকার,৬৯ জন আলবদর,১০৬ জন রাজনৈতিক দালাল,১৫২ জন শান্তি কমিটি সদস্য এবং ৭৮ জন বিহারি দালাল।এরা সবাই গুরুতর যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত।এখানে মনে রাখা প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘদিন পরে এসে এই অনুসন্ধান চালানো হয়েছে,অনেকের নামই এখানে উঠে আসেনি নানা ধরণের সীমাবদ্ধতার কারণে।এই তালিকায় আরো বহু যুদ্ধাপরাধীর নাম যোগ হওয়ার বড় সম্ভাবনাই শুধু নেই,বরং এটিই স্বাভাবিক।

তৃতীয়ত,গণহত্যার লক্ষ্যবস্তুতে কারা ছিল?

পাকিস্তান রাষ্ট্র এবং সেনাবাহিনী চেয়েছিল বাঙালি জাতিতে শেঁকড় সহ নির্মূল করে দিতে।আওয়ামীলীগ কর্মী-সমর্থক,হিন্দু জনগোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষ ছিল তাদের হত্যার শিকার।তবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,গণহত্যার প্রধান লক্ষ্য ছিল

## বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী
## সেনাবাহিনী,পুলিশ,ইপিআর ও আনসারের বাঙালি অংশ
## কথিত আওয়ামীলীগ,স্বেচ্ছাসেবক কর্মী ও কল কারখানায় তাদের শ্রমজীবী সমর্থক
## ব্যাপক হিন্দু সম্প্রদায়
## যুব সম্প্রদায়
## বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী
## মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক গ্রামীণ জনগণ

বোঝাই যাচ্ছে বাঙালি জাতিকে শুধু নিধন নয়,বরং চিরতরে অথর্ব করে দেয়ার পরিকল্পনাই হাতে নেয়া হয়েছিল।

চতুর্থত,বাঙালিদের সম্পর্কে পাকিস্তানিদের মনোভাব সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা প্রয়োজন।

বাঙালিদের পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এবং সেনাবাহিনী কখনোই মানুষ মনে করেনি,বাঙ্গালিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেবার মানসিকতাও তাদের ছিল না কোনদিন।বাঙালিদের হত্যার ব্যাপারেও তারা ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ,এবং একেই চূড়ান্ত সমাধান বলে বিশ্বাস করত তারা।

ইয়াহিয়া খান বলেছিল,
Kill three million of them, and the rest will eat out of our hands.


নিয়াজির একটি চিঠিতে বাঙালি নিধন সম্পর্কে বলা হয়েছিল
There must be more killing,more mopping up and more witch hunting


এই নিয়াজিই অন্য এক জায়গায় বাঙালিদের বানর এবং মুরগি বলেছিল,তার ভাষায় বাংলাদেশ হল low-lying land of low-lying people.

চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে আসা একজন মার্কিন ইঞ্জিনিয়ার বলেছিলেন একজন পাকিস্তানি মেজরের সাথে আলাপচারিতার কথা
পুলিশ লাইন্স ও যেখানে কিছু বাধা দেয়া হয়,সেখানে যারা বেঁচে গিয়েছিলেন,তাদের লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে গুলি করে মারা হয় এবং তাদের মৃতদেহ,মেজরটি বলেন,কুকুরকে খাওয়ানো হয়,কারণ কুকুররা প্রায় এক মাস খায়নি।






অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র কর্তৃক বাঙালি নিধনযজ্ঞ,এর পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী,এবং তাদের এদেশীয় সহযোগীরা এই গণহত্যা চালিয়ে গেছে যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত,কয়েকটি এলাকায় এই হত্যাযজ্ঞ স্থায়ী হয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের পরেও।তবে গণহত্যার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে আরো আগে।১ মার্চ ১৯৭১ আর্চার ব্লাডের টেলিগ্রাম থেকে জানা যায় ঢাকা বিশ্ববিধ্যালয়ের রোকেয়া হলে ছয়জন ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা।বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত কিন্তু পরিকল্পিত ভাবে বাঙালিদের হত্যা করা হতে থাকে।২৫ মার্চের পর এই গণহত্যা একটি দিনের জন্যও থেমে থাকেনি,নৃশংসতার মাত্রা বেড়েছে দিনে দিনে।এর পরের নয় মাস ধরে সংঘটিত হয় মানবতার ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা,নারীদের উপর চালানো হয় ইতিহাসের বীভৎসতম নির্যাতন।১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রুমুক্ত হলেও গণহত্যার নীল দংশন থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হয়নি এখনো পর্যন্ত।অসংখ্য মানুষ এই গণহত্যার জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে পঙ্গু হয়ে বেঁচে আছেন।অসংখ্য নির্যাতিতা নারী সমাজচ্যুত হয়ে,বিভিন্ন ধরণের শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে বেঁচে আছেন পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ভাবে।কেউ কেউ হারিয়ে ফেলেছেন সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতা,স্বাভাবিক ভাবে মল-মুত্র ত্যাগ করার ক্ষমতা।অসংখ্য যুদ্ধ শিশু বিদেশের মাটিতে বড় হয়েছে নিজের মাতৃ পরিচয় না জেনেই।

তিরিশ লক্ষ শহিদের রক্ত শুকোয় না কোনদিন।উত্তুরে বাতাসে কান পাতলে চিরদিনই শোনা যাবে সাড়ে চার লক্ষ বাঙালি নারীর দীর্ঘশ্বাস।




তথ্যসূত্র

১)মুক্তিযুদ্ধের ছিন্ন দলিলপত্র,মুনতাসীর মামুন
২)মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১,মুনতাসীর মামুন
৩)পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন,ডা. এম এ হাসান
৪)যুদ্ধাপরাধীর তালিকা ও বিচার প্রসঙ্গ,ডা. এম এ হাসান
৫)'৭১ এর গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ,ডা. এম এ হাসান
৬)একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা,আজাদুর রহমান চন্দন
৭)Genocide,Anthony Mascarenhas,june 13,1971,The Sunday Times
৮)Massacre,Robert Payne

যুদ্ধাপরাধ ১৯৭১ - পর্ব দুই : হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রিয় প্রীতম স্যালুট


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ আইজুদা smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট ।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট

----------------------------------
© সমান্তরাল ®


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট আপনাকেও

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট ব্রাদার।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ এবিসি১০

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ প্রীতম
তোমরা আছো বলেই আমরা নিশ্চিন্ত ।
তোমরা কয়েকজন আছো , যাদের লেখায়
সাহস এবং ভরসা পাই । সীমাবদ্ধতার জন্য
আমরা অনেক কিছু পারিনি ।
দায়ীত্ব এখন তোমাদের হাতে ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অশেষ প্রেরণা দিলেন।
আপনাদের কাছে আরো কিছু চাওয়াটা আমাদের জন্য একটা অপরাধ।আমাদের প্রজন্ম একটা দেশ পেয়ে গেছে একেবারে ফ্রিতে,সেটা আপনাদের রক্ততেই এসেছে।
আপনারা যা শুরু করেছিলেন সেটা চালিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব এখন আমাদের।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দারুন বস, এইটার কি বই হবে ? Star Star Star Star Star
বই হলে এদেশীয় শীর্ষ ঘাতক দালালদের ছবি সহ দিও

-------------------------------------
বাংলার আপদে আজ লক্ষ কোটি বীর সেনা
ঘরে ও বাইরে হাঁকে রণধ্বনি, একটি শপথে
আজ হয়ে যায় শৌর্য ও বীরগাথার মহান
সৈনিক, যেন সূর্যসেন, যেন স্পার্টাকাস স্বয়ং সবাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একটা ভালো কথা বলেছেন,মাথায় থাকলো।প্রধান পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের ছবিগুলোও যোগ করা যায়,কী বলেন?

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমতকার । অনেক কিছু জানলাম । ব্লগে ভালো ভালো রাইটার আসছে । এখন থেকে নিয়মিত
হাযীরা দিতে হবে ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি তেমন কিছু ন smile :) :-)
তবে ব্লগে নিয়মিত ভালো লেখক সবসময়ই ছিলেন,এখনো আছেন,ভবিষ্যতেও থাকবেন।আপনাকে ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট প্রীতম

পুরা সিরিজ ইবুক চাই।

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১ মার্চ ১৯৭১ আর্চার ব্লাডের টেলিগ্রাম থেকে জানা যায় ঢাকা বিশ্ববিধ্যালয়ের রোকেয়া হলে ছয়জন ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা।


এটার কি কোন লিঙ্ক বা টেলিগ্রাম টির স্ক্যান্ড কোন কপি দেয়া যাবে?

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এইটার কপি খুজতেছি বস,আপাতত মুনতাসীর মামুনের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ বই থেকে তথ্যটা এবং ঐ নির্দিষ্ট বাক্যের উদ্ধৃতিটা পাওয়া গেছে

six naked female bodies at Rokeya Hall Dacca U.Feet tied together.Bits of rope hanging from ceiling fans.Apparently raped,shot and hanged by their heels from fans.


মূল ডকুমেন্টটার সন্ধান হয়তো পিয়াল ভাই দিতে পারবেন।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চলুক। শেয়ার দিলাম

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা পিয়াল ভাই smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট বস।সরাসরি প্রিয়তে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ কাঠ মোল্লা ভাই

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মনটা ভরে গেলো ব্লগটি পড়ে, আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য এইরুপ তথ্যসমৃদ্ধ লেখা আরও বেশী বেশী প্রয়োজন, আপনার প্রতি রইল আকুন্ঠ ভালবাসা। আমার সেলুট।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাকেও স্যালুট

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আবারো প্রিতম স্পেশাল, অনেক ধন্যবাদ।

======================
শিশু অপরাধ করে না ভুল করে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ অনুলেখা ভাই smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এমন তথ্যবহুল লেখার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে বিহারিদের ৭১ এর ভূমিকা কেন যেন বারবার অনুল্লিখিত থেকে যায়। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এমন আর একটা জায়গা। এখানে বিহারিরা কি করেছে সেটা ইতিহাসের কোন বইই নাই, আমি অন্তত পড়ি নাই। অথচ ঈশ্বরদীর লোকশেড অন্যতম বিহারি অধ্যষিত জনপদ ছিল। এ সংক্রান্ত কোন তথ্য যদি কোথাও পান, জানাবেন প্লিজ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বিহারিদের ভূমিকার কথা কিছুটা তুলে আনার চেষ্টা করব এই সিরিজে,তবে খুব বেশি বিস্তারিত যে সম্ভব নয় সে তো বুঝতেই পারছেন।

ইশ্বরদীর ঘটনা নিয়ে খোঁজ লাগালাম,কিছু পেলে অবশ্যই জানাবো।

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঈশ্বরদী আমার দাদা বাড়ি। যুদ্ধে দাদাবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল বিহারিরা, আমার ফুফুর বাড়িও লুট করেছিল তারা। আমার আব্বার চাচাত ভাই যিনি পরিবারের অন্যতম মেধাবী সন্তান ছিলেন, ১৯৬৯ সালে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভেটেরেনারি সায়েন্সে এম এস করে এসেছিলেন তাকে জবাই করে মেরেছে ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল, আমি এটুকু জানি, আরও খোজ করছি, কিছু তথ্যও পেয়েছি, আসলে অনেক গবেষনা করা দরকার। বিদেশে বসে কাজটা করা বেশ কঠিন। তাও চেষ্টা করছি আমিও।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@দৃপ্ত কণ্ঠস্বর,
ঈশ্বরদীতে বিহারিদের কার্যকলাপের কিছু বিবরণ পাবেন আতোয়ার রহমানের একাত্তর : নির্যাতনের কড়চা বইয়ে।আরো তথ্য পেলে অবশ্যই জানাবো।ধন্যবাদ।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ অনেক।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চরম!! পুরো সিরিজ শেষ হলে ইবুক চাই।
প্রীতম দা গ্রেট।

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গ্রেট পোষ্ট। এক সাথে অনেক বিস্তারিত তথ্য!!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ নীড় দা

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি অনেকেরই নেই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হুমমম।আমারও নেই খুব বেশি,যেটুকু জানছি,সেটুকু জানানোর চেষ্টা করছি smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আর কিছু না; শুধু প্রতিশোধ চাই।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রীতম এক্সপ্রেস চলছে, চলুক। স্যালুট। প্রিয়তে এবং শেয়ার্ড

_________________________________________________________________________________

সিগনেচার নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বর্বরগুলো নির্বিচারে গণহত্যা, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ করতে দ্বিধাবোধ করে নি কারন ওরা চেয়েছিল বাংলার মাটি, মানুষ নয়। পোস্টে Star Star Star Star Star

----------------------------
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঠিক কথা।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালো লেখা।আপনার তথ্য সমৃদ্ধ লেখা থেকে আপনার কাছে কিছু তথ্য জানতে পারব মনে হয়, তাই করছি-

"১৯৭১ এর গণহত্যার পিছনে প্রধান উস্কানিদাতা হিসেবে কাজ করেছিল জুলফিকার আলী ভুট্টো,ইয়াহিয়া খান।মন্ত্রণাদাতা হিসেবে ছিল পাকিস্তানের কিছু রাজনৈতিক নেতা,শিল্পপতি,সামরিক বেসামরিক ও তথাকথিত এলিট শ্রেণি।"
একই ভাবে বলা যায় না-"১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পিছনে প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছিল ...................................... (বিভিন্ন নাম)।মন্ত্রণাদাতা হিসেবে ছিল বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক নেতা ,শিল্পপতি,সামরিক বেসামরিক ও তথাকথিত এলিট শ্রেণি-যারা পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।
ব্যতিক্রম-নিউক্লিয়াস, যারা ভুল পথে হেটেছিল। আর যারা উপরের অংশ থেকে অনুপ্রানিত তাদের খাটি অনুভুতির ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই"-
আপনি প্রমাণ চাইবেন হয়তঃ
অন্য প্রমাণ সরিয়ে রাখলাম শুধু যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশকে দেখুন।

......................
আসুন কোদালকে কোদাল বলতে শিখি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক।এই বিষয়টা টেনে আনার মানে বুঝলাম না।নিউক্লিয়াস নিয়ে অন্য কোন পোস্টে আলোচনা করা যাবে।

গণহত্যার পরিকল্পনার সাথে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের পরিকল্পনার এই তুলনা যেকোন বিচারেই অর্থহীন।আর এভাবে যদি বলতেই চান,তাহলে মূল পরিকল্পনাকারী ছিল বাঙালি জনগণ।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অপ্রাসঙ্গিক বিষয় উঠিয়ে এনে আপনার একাগ্রতায় হামলার ইচ্ছা নেই। এই পোস্ট দিয়ে ভেবেছিলাম মুছে ফেলব, পারলাম কই।
নিজেতো কিছু করিই না আবার অন্যের কিছু করাকে আটকে দেই। ক্ষমা হোক। চালিয়ে যান।

......................
আসুন কোদালকে কোদাল বলতে শিখি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দারুন Star Star Star Star Star

----------------------------------------------------------------
ইচ্ছে আছে উড়ব সোজা, কিম্বা বেঁকে ...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট

''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""

কষ্ট পোড়াতে চাই বলে অশ্রু খুঁজি........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্যালুট বস।

*********************************

আমি তাদের দলে যারা নিকৃষ্টকে ভালোবাসে
নিকৃষ্ট থেকেই উৎকৃষ্টের সৃষ্টি....
তাই চেয়ে থাকে অবিরত অপলক দৃষ্টি......।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ, এত তথ্যবহুল বিশ্লেষনের জন্য।

*********************************

আমি তাদের দলে যারা নিকৃষ্টকে ভালোবাসে
নিকৃষ্ট থেকেই উৎকৃষ্টের সৃষ্টি....
তাই চেয়ে থাকে অবিরত অপলক দৃষ্টি......।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঘরে বসে বসে আয় করুন বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন । আপনাদের বিরক্ত করার জন্য আমি দুঃখিত


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এডমিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

"সাবাস" এবং "জয়বাংলা"
আপনাকে স্যালুট।

---------------------------------------------------------------------------------
'মুক্তিযোদ্ধা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, দেশ ও জনগণের অতন্দ্রপ্রহরী ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোসলেম উদ্দিন...।'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাকেও স্যালুট

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তথ্যবহুল পোস্ট। উপকৃত হলাম।

‍‍‌‍‍‍‍**********
স্বপ্নের কারিগর


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ।এটা একটা সামান্য চেষ্টা মাত্র,কারো উপকারে যদি লেগে যায় দৈবাৎ - সেটা অনেক বড় অর্জন হবে আমার জন্য smile :) :-)

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?

glqxz9283 sfy39587p07