Skip to content

নীল বেদনার নীল (তিতুমীর বিদ্রোহের শেষভাগ)

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


ইষ্ট ইন্ডিয়া কম্পানি যখন বাংলার উপর ভুতের মত চেপে বসে ছিল, বাংলার জমিদারেরা তখন নীচে থেকে হায়েনাদের মত উছিষ্ট খেয়ে পেট ভরছিল। অঞ্চলভেদে কিছু কিছু চাষী নেত্রিত্বে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিপ্লব হয়েছিল কিন্তু পরিকল্পিত অথবা জোরালো না থাকায় বিদ্রোহগুলি আঞ্চলিক অসন্তোষ কিংবা সন্ত্রাসী আক্রমন বলে সারা পৃথিবিতে চালিয়ে দেয় ব্রিটিশ সরকার। অন্যদিকে ১৮২৭ সালে তীতুমীর হজ্জ থেকে ফিরে এসে এর একটা বিহিতের লক্ষ্যে মুক্তিবাহিনী গড়ে পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত আন্দোলনের জন্য মাঠে নামলেন। মুক্তিরা দলেদলে বাহীনিতে যোগ দিল। প্রাথমিক ভাবে তিনি জমিদারদেরকে চিঠির মাধ্যমে সতর্ক হতে পরামর্শ দেন। অর্থাৎ তিনি নিজেদের মধ্যে কোন রক্তপাত চাননি। কিন্তু যে হায়েনা একবার মানুষের রক্ত খেয়েছে তার কি অন্য কিছু রুচি হয়!

স্থানিয় জমিদার কৃষ্ণদেব রায় তিতুমীরের এই উদ্ধত আচরনে ক্ষিপ্ত হয়ে সরফরাজপুরে শত শত লোক জড় করে লাঠিসোঁটা, ঢাল-তলোয়ার, সড়কিসহ শুক্রবার জুমার নামাজরত অবস্খায় মসজিদে আক্রমন করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এই আক্রমনে দু’জন শহীদ হন, আহত হন অসংখ্য। অতর্কিত এই আক্রমনে সাড়া দেওয়ার জন্য মুক্তিবাহিনী তখনও প্রস্তুত ছিল না। ফলে তিতুমীর যুদ্ধের কৌশল হিসাবে নিজের লোকজন নিয়ে সরফরাজপুর থেকে ১৭ অক্টোবর ১৮৩১ সালে নারকেলবাড়িয়া চলে যান। ২৯ অক্টোবরেই কৃষ্ণদেব নারকেলবাড়িয়াও আক্রমণ করে বহু লোক হতাহত করে। ৩০ অক্টোবর এই সংক্রান্ত মামলা দায়ের করতে গেলে কোনো ফল হলো না। ৬ নভেম্বর কৃষ্ণদেব আবার নারকেলবাড়িয়ার চাষীদের উপর আক্রমণ করে। জমিদারেরা যখন তাদের অত্যাচার অভিরাম চালিয়ে যাচ্ছিল তিতুমীর তখন নিজেদেরকে আরো সুসংগগঠিত করার কাজে ব্যাস্ত ছিলেন। জমিদার ও ইংরেজদের যৌথ আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাঁশের মজবুত খুঁটি দিয়ে কেল্লা তৈরী করেন । ইতিহাসে এটাই ‘তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা’ নামে পরিচিত।


শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমঝোতা করার সব উপায় ব্যর্থ হবার পর তীতুমীর বারাসাতে জমিদার ও ইংরেজ সরকারের বিপক্ষে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন । চব্বিশ পরগনার কিছু অংশ, নদীয়া ও ফরিদপুরের একাংশ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন । এটাই বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত হয় । বর্নবাদী হিন্দুর অত্যাচারে জর্জরিত অনেক হিন্দু কৃষকও এই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন। বারাসাত বিদ্রোহে গোবরাগোবিন্দপুরের জমিদার নিহত হয় । বারাসাত বিদ্রোহের পর তীতুমীর উপলদ্ধি করেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত লড়াই আসন্ন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সরকার কর্নেল স্টুয়ার্ডকে সেনাপতি করে একশত ঘোড়া, তিনশত পদাতিক সৈন্য, দু'টি কামানসহ নারকেলবাড়ীয়াতে রওনা করায় ১৩ নভেম্বর। মেজিষ্ট্রেট আলেকজান্ডার নারকেলবাড়ীয়ায় একজন হাবিলদার, একজন জমাদ্দার, পঞ্চাশ জন বন্দুক ও তরবারীধারী সৈন্য নিয়ে নারকেলবাড়িয়ার কাছাকাছি ভাদুড়িয়ায় উপস্খিত হন। পরে বশিরহাটের দারোগা সিপাহী নিয়ে ভাদুড়িয়ায় আলেকজান্ডারের সাথে মিলিত হয়। ফলে ইংরেজদের সাথে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয় মুক্তিবাহিনীর। এতে উভয় পক্ষের লোক হতাহত হয়। যুদ্ধে দারোগা ও জমাদ্দার মুসলমানদের হাতে বন্দী হয়, বারাসাতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট মি: আলেকজান্ডার পালিয়ে বেঁচে যান।


পরের দিন ১৪-নভেম্বর কর্নেল স্টুয়ার্ডের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার প্রধান দরজায় পৌঁছে । সুশিক্ষিত ইংরেজ সৈন্য মেজর স্কটের পরিচালনায় ও তাদের ভারী কামানের গুলীর সামনে লাঠি আর সড়কির কৃষকসেনারা দাঁড়িয়ে গেলো । রাতের বেলায় মুক্তিরা ইট-পাথর ছুড়ে ইংরেজ বাহিনীকে পিছু হটালেও কর্নেল চূড়ান্ত আক্রমণের জন্য ভোরবেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করল। এ দিকে তিতুমীর বুঝতে পারলেন কেল্লা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ধর্মপ্রান এই বীর তখন শেষ ভরসা হিসাবে পরম শক্তির সাহায্য প্রার্থনা করেন। ফজরের নামাজের জন্য মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসছিল আজানের ধ্বনি। এমন সময় তিতুমীর সবাইকে নিয়ে কেল্লায় একত্র হলেন। তিনি বললেন, "ভাই সব , একটু পরেই ইংরেজ বাহিনি আমাদের কেল্লা আক্রমণ করবে । লড়াইতে হার-জিত আছেই । এতে আমাদের ভয় পেলে চলবে না । দেশের জন্য শহীদ হওয়ার অনেক মর্যাদা। তবে এই লড়াই আমাদের শেষ লড়াই নয়। আমাদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েই এ দেশের মানুষ একদিন দেশ উদ্ধার করবে। আমরা যে লড়াই শুরু করলাম এই পথ ধরেই একদিন দেশ স্বাধীন হবে।"


কালো আঁধারের চাদর ভেদ করে ভোরের আলো চার দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সময় শুরু হলো তুমুল এক যুদ্ধ। ইংরেজ সিপাইরা মুক্তিবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করল। অপ্রতিরোধ্য এই বাহিনীকে কাবু করতে না পেরে কামান চালাল। এইবার বাশেঁর কেল্লা প্রচন্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হল। এ কঠিন সময়ে তিনি মুক্তি বাহিনীর উদ্দ্যেশে বললেন, ‘বন্ধুরা। বাঁশের কেল্লায় আগুন জ্বলছে। আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। নারকেলবাড়িয়ার পতন হলেও আমাদের লড়াই শেষ হবে না। তোমরা লড়াই চালিয়ে যাও।’ এর কিছুক্ষন পরেই বাঁশের কেল্লা ধ্বসে পড়লো । সাথীদের অনেকেই শহীদ হলেন, আহত হলেন অনেকে, বন্দী হলেন আট শ’। নারকেলবাড়িয়ার পতন ঘটল। এরপর বেনিয়া ইংরেজরা বন্দীদের নিয়ে বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করল এবং তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করল। সেনাপতি মাসুদকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।


এভাবে নারকেল বাড়িয়ায় তিতুমীরের বিদ্রোহের শেষ হয়। ১৪ নভেম্বর এই উদিয়মান নক্ষত্রটি সম্পুর্ন আলো ছড়ানোরে আগেই ভুপাতিত হয়। বাংলার তথা উপমহাদেশের স্বাধিনতার সুর্য্যটি পুবের দিগন্তে উঠতে না উঠতেই পশ্চিমে ঢলে পড়ল। ভারতবর্ষের স্বাধিনতার স্বপ্নের দুয়ার বন্ধ হয়ে গেল আরও ১০০ বছরের জন্য। তিতুমীরের মৃত্যুর পর নীল বেদনার নীল আরও মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে বেঁচে ছিল আরও ৫০ বছর। কৃত্রিম নীল আবিস্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত্য জোকের মত রক্ত চুষে খেয়েছে নীলকর, জমিদার আর ব্রিটিশের নীল হনুমানে। এই আমাদের নীল বেদনার নীল। আমাদের রংগিন স্বপ্নের অন্তরালে কষ্টের বসতবাড়ি।


কিছু কিছু মৃত্যুর কোন মরন নাই। তারা প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠে মানুষের হ্রিদয়ে। বীর তিতুমীরের মৃত্যুরও কোন মরন নাই। এই মৃত্যু থেকে জন্ম নেয় বাংলার স্বাধীনতার স্বপ্ন। পরিশেষে বলতে চাই, এই নীলকুঠিগুলিকে অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষন করা খুবই জরুরী। এই প্রত্নতত্ব থেকে আমাদের পুর্ব পুরুষের উপর অত্যাচার, আর বিদ্রোহের প্রতীক। এর এক একটি ইট মানব ইতিহাসের জঘন্যতম ঘঠনার নিরব সাক্ষি। এদের বাচিয়ে না রাখলে নিজেদের প্রতি অবিচার করা হবে।







নীল বেদনার নীল এই সিরিজের অনেক পাঠক ফেইসবুকে কিংবা আই এমতে আমাকে "নীল বেদনার নীল" ভাই বলে সম্মোধন করে কথা বলতে চেয়েছেন। সময়ের অপ্রতুলতার কারনে আমি প্রতিউত্তর দিতে পারি নাই - তাই খারাপ লেগেছে। এই সিরিজের যারা আমাকে তথ্য ও উৎসাহ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এদের মধ্যে অন্যতম বেলের কাঁটা, কর্নফুলির মাঝি, শনিবারের চিঠি, জটিল বাক্য, কবি নীরব, জিনিয়াস, কে?, অনিমেষ, ফারমার, উদাসী পথিক, সাদা স্বপ্ন, এনামুল হক কবির , সন্ন্যাসী পাঠক, অকিঞ্চনে বৃথা, বদমাইশ, পঁচিশে বৈশাখ, প্রত্যয়, মীরা দি, উদভ্রান্ত, চলনামৃত, দুরন্ত.. , অধম রফিক, আমি বাঙ্গাল সহ আরও অনেকে। ‘একলা চলো’ ব্রত নিয়ে সিরিজ শুরু করলেও আমরা সবাই জানি রবীন্দ্রনাথ নিজেও এত সাহিত্য রচনা করতে পারতেন না যদি তার কোন পাঠক না থাকত। তাই নিঃসন্দেহে বলতে পারি, সকলের কৌতুহল ছাড়া এতটা পথ পাড়ি দেয়া অসম্ভব ছিল।

(নীল বেদনার নীলের কোন শেষ নেই - কেবল এই সিরিজটি এইখানে এসে শেষ করলাম)

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ই বুক কবে পাইমু ?

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শরমিন্দা হইলাম। Laughing out loud
ব্লগের জন্যি লেখা - ইবুক হবে, এতটা পরিচ্ছন্ন মানের লেখা হয় নাই, বেকা বদ্দা!

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এ সিরিজের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ন অধ্যায়। চমৎকার একটি সিরিজ উপহার দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাথে থাকার জন্য কৃতজ্ঞ।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই সিরিজ আরও চলবে ভেবেছিলাম। যাই হোক একটি বিশাল কাজ। অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আমি আমার ভেতরে প্রতিনিয়ত বংশবৃদ্ধি করছি
যেমনটি করে থাকে অকোষী জীব হাইড্রা ।
বিলুপ্ততা ঠেকানোর কিংবা টিকে থাকার লক্ষ্যে নয়
নশ্বরতা আবিস্কারের লক্ষ্যে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হুম আবার কোন এক পরিসরে এই সিরিজ অন্য রুপে প্রকাশে ইচ্ছা রাখি। সাথে ছিলেন বলে শক্তি পেয়েছি। আন্তরিক ধন্যবাদ।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রায় ২০০ বছর আগের ঘটনা, বলার কিছু নেই; তবে, অটোম্যানরা, এডেন ও সিরিয়াতে মুসলমানরা বন্দুক ও কার্তুজ তৈরি করতে জানতো। উনি মক্কায় থাকাকালীন যদি সেসব শিখে আসতেন, ইতিহাস অন্য রকম হতো।

কেল্লা তৈরি করা ছিল ভুল, উনার অবস্হানে উনাকে আক্রমণ করা সহজ হয়েছিল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সেই সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে হয়ত তিনিই যুক্তিযুক্ত কাজই করেছেন।
সাথে ছিলেন ফারমার ভাই এজন্য ধন্যবাদ।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সুন্দর একটা লেখা।

ㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡㅡ
হাসির শব্দে তবু কান্নার সুর শুনি, এ কেমন অভাগা জীবন
খুজেছি বলেই তারে পাইনিকো আজবধি, যে সমীপে অতি প্রয়োজন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

smile :) :-)

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সুন্দর লেখা !!
শেষ পর্যন্ত থাকলাম।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মনযোগহীন পাঠক? কিসের শেষ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সরি-

(নীল বেদনার নীলের কোন শেষ নেই - কেবল এই সিরিজটি এইখানে এসে শেষ করলাম)


শুধু তীতুমীর পর্ব এখানে শেষ? বাকিটা চল্বো?
মনোযোগ দিয়েই আছি।
smile :) :-) smile :) :-) smile :) :-) smile :) :-)

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আনি দা, তিতুমীর সহ এই সিরিজ এখানেই শেষ। কনফিউজ করার জন্য দুঃখিত।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Wink Tongue Tongue Shock

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ পাভেল ভাই,
সিরিজ লেখা অনেক কঠিন। আরো কঠিন তা শেষ পর্যন্ত টেনে নেয়া।
আমি একদম পারিনা Sad

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ উদাস বদ্দা।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক সুন্দর ভাবে শেষ করলেন smile :) :-)

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
" যারা পাকিস্তানের সাথে রিকন্সিলিয়েশন এর ধুয়া তোলে , থুথু ছিটাই সেসব বেজন্মাদের মুখে "


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

থ্যাংকস।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাথে আছেন জেনে ভাল লাগল।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তিতুমীর কি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন ? কি ছিল তার উদ্দেশ্য,তার তরিকিয়া আন্দোলনকে কি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে সাথে জড়ানো যায় ? ফরায়েজিরা একটি ধর্মান্দোলনের পথে চলেছিল,যা আবার ইসলামি সাম্রাজ্য হারানো সিংহাসনকে ফিরিয়ে আনা-তার সাথে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতার কোন সম্পর্ক নেই ।
এই বিষয়ে গোলাম মুর্শিদ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন-
-‘তিতুমির আরবদেশে গিয়ে শিখে এসেছিলেন এখন আমরা যেটাকে মৌলবাদি আন্দোলনের কথা,-সেই ইসলাম ।তিনি এসে বললেন ,এসব (ইংরেজ আইন,জমিদারদের দেয় পূন্যাহ) আমরা মানিনা ।আমরা হিন্দুদের খাজনা টাজনা দেবনা । আমরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো,নাসারাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো ইত্যাদি । সেখানে সেটা দেশাত্ববোধ থেকে আসেনি, এসেছে ধর্মীয় বোধ থেকে, এখন যেটাকে জেহাদ বলা হচ্ছে –সেটাই ছিল তীতুমীরের আন্দোলন । তীতুমির হিন্দুদের নিয়ে আন্দোলন করেনি,বাঙালিদের নিয়ে আন্দোলন করেনি । তীতুমির আন্দোলন করেছেন মুসলমানদের নিয়ে।’গোলাম মুর্শেদ ।-সাক্ষাৎকার,সংবাদ


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সংকীর্নতা একটি মানসিক ব্যাধি।
এক গোলাম মুর্তজার উদাহরন থেকে একজন বীরকে ফ্রেম আপ করা বাতুলতা মাত্র।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এক গোলাম মুর্তজা' নয়,-সম্মানিত শ্রদ্ধাভাজন লেখক গবেষক গোলাম মুর্শেদ ।
দুই পক্ষে লড়াইয়ে কে বীর , সেটা নির্ভর করছে - যে বলছে সে কোন পক্ষে তার উপর । সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকার চোখে যিনি সন্ত্রাসী ,অন্যপক্ষের চোখে সে বীর ।পাকিদের চোখে তো আমরাই সন্ত্রাসী ।
তীতুমীরকে আমরা বীর বলি- তবে তিনি ইংরেজ হটিয়ে তুর্কী, মোঘল ভিনভাষী মুসলিম সাম্রাজ্য ফিরিয়ে আনার পক্ষের দলে। ইরেজপুর্ব মুসলিম শাসনের সাথে একাত্বতা বোধের কোন কারন আমাদের নেই । মোঘলরাও এ দেশ থেকে গাড়ী বোঝাই ধনসম্পদ নিয়ে যেত। (দ্রঃ বাংলার কৃষক-রমেশচন্দ্র দত্ত)।
ফারায়েজিরা এ দেশে বিচ্ছিন্নতা বাদের জনক- । দেশটাকে হিন্দু মুসলিম হিসেবে ভাগও তারাই করেছে ।তারা এদেশকে বলতো দারুল-হরব বা শত্রুর দেশ- যেহেতু এদেশের রাজা মুসলিম নয় তাই এ দেশ শত্রুর দেশ । এ দেশে জুম্মার নামাজ জায়েজ নয় বলে ফতোয়া দিয়েছিল ।
তিতুমীর সহ অনেকেই সে কারণেই এ দেশ ছেড়ে মক্কায় হিযরত করেছিলেন । ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমরা জাতীয় বীর খুঁজছিলাম -তখন সিরাজদ্দৌলা,তিতুমীর প্রভৃতিদের ইংরেজ বিরোধীতাকে জাতীয়তার সাথে মেলান হয় ।আসলে তারা লড়েছিল আপন গদী রক্ষায়, কেউ বা ধর্ম রক্ষায় ।তখনও আমরা পরাধীনই ছিলাম ।
দেশ ,জাতী এই বোধগুলো ইংরেজদের দান ।জাতীয়তাবোধ তাদের কাছ থেকেই পেয়েছি ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমরা জাতীয় বীর খুঁজছিলাম -তখন সিরাজদ্দৌলা,তিতুমীর প্রভৃতিদের ইংরেজ বিরোধীতাকে জাতীয়তার সাথে মেলান হয় ।আসলে তারা লড়েছিল আপন গদী রক্ষায়, কেউ বা ধর্ম রক্ষায় ।তখনও আমরা পরাধীনই ছিলাম ।


কথা মিছা না - তবে একটা জিনিস ভুললে চলবে না। সবকিছু নিয়ে যুক্তি তর্ক চলে না। কিছু কিছু বিষয় প্রেক্ষাপট হিসাব করে হ্রিদয় দিয়েও অনুভব করতে হয়।

তীতুমীরের লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য কি ছিল সেটা হয়ত তাঁর চরিত্র ব্যাপক বিশ্লেষন করেলে জানা যাবে। এই ক্ষুদ্র পরিষরে আমি নীলকরের বিরুদ্ধে যারা লড়েছিল তাদের অংশ তুলে ধরতে চেয়েছি - তিতুমীরের জীবন কাহিনী ঘটনা ক্রমে এসেছে।

তাও স্বীকার করে নিচ্ছি যে উনি ইসলামি এংগেল থেকেই যুদ্ধে অনুপ্রানিত হয়েছিলেন। তার সেই লড়াইয়ের শেষের দিকে হিন্দু নীপিড়িত সমাজও যোগ দিয়েছিল।

যাওজ্ঞ, আপনে ভালই জানেন - পাল্টা একটা লিখা দেন। সেটা পড়ি, জানি এবং তক্ক করি! Laughing out loud

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'

glqxz9283 sfy39587p07