Skip to content

ধর্মান্ধদের হামলায় জ্বলছে সাতক্ষীরার ফতেপুর গ্রাম

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



চারদিকে পোড়া গন্ধ। হাঁড়ির ভাত, মেটেতে রাখা চাল, পোড়া কাপড়, হাঁড়ি পাতিল, ঘরের চালের টিন আর মাটির পোড়া গন্ধের মধ্যে বসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে চাকদহা গ্রামের ৭টি সংখ্যালঘু পরিবার। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ব্যবসায়ী পরিবারে সহায় সম্বল আর খাদ্য সবই ছিল। সোমবার সকালে এসব পরিবারে চলছে সব হারানোর বোবা কান্না। প্রচ- রোদে মাথা গোঁজার ঠাই নেই। গৃহবধূ থেকে স্কুলছাত্র সকলেই একটি পরিধেয় বস্ত্রে এখন দিন কাটাচ্ছে। রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ সব পরিবারে কোন চুলো জ্বালানো সম্ভব হয়নি। ভাংচুর, লুটপাট আর অগ্নিসংযোগে এরা এখন নিঃস্ব। কালিগঞ্জের ফতেপুরে ধর্মান্ধদের তা-বের পর চাকদহা গ্রামের নারকীয় তা-ব হার মানিয়েছে ’৭১-এর পাকসেনা ও তাদের দোসরদের।
চাকদহা গ্রামে যেভাবে হামলা করা হয়
ফতেপুর গ্রামের লক্ষ্মীপদ ম-লের মেয়ে নমিতা চাকদহা গ্রামের শ্যামাপদ সরদার পরিবারের গৃহবধূ। শনিবার রাতে হামলাকারীরা পুড়িয়ে দেয় ফতেপুরের লক্ষ্মীকান্তের বসতবাড়ি। রবিবার দুপুরে বাড়ির পুকুর ঘাটে বসে শ্যামাপদের স্ত্রী ললিতা সরদার (৪৫) ও পাশের গ্রামের ফজর আলির স্ত্রী আনুরা (৪০)এর মধ্যে কথা হয় ফতেপুরের হামলার ঘটনা নিয়ে। ফতেপুরের নিরীহ গ্রামবাসীর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া অন্যায় হয়েছে এমন মন্তব্যে নাখোশ হয় আনুরা বেগম। নবীজি সম্পর্কে কটূক্তি করেছে ললিতা এমন প্রচারে বিকাল থেকেই এই সরদার পরিবারের বাড়ির সামনে লোক জড়ো হতে থাকে। সন্ধ্যার কিছু আগে স্থানীয় নাজিমগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি ফিরোজ কবীর কাজল, স্থানীয় ইউপি মেম্বারসহ সকলে ললিতার বাড়িতে বসে তাকে এধরনের কথা বলার জন্য ক্ষমা চাইতে চাপ প্রয়োগ করে। সমঝোতা বৈঠকে উত্তেজিত হয়ে ওঠে বাইরের গ্রাম থেকে আসা ২ শতাধিক যুবক ও ক্যাডার। তারা লাথি মেরে তাদের ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে জড়ো হতে থাকে, এসব বাড়ি থেকে প্রায় ৫শ’ গজ দূরের চৌরাস্তায়।



পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে এই আশঙ্কায় সেখানে প্রায় ৩০ সদস্যের পুলিশ রাখা হয। সন্ধ্যার পর প্রায় ৭টার দিকে মোবাইলের মাধ্যমে ডেকে আনা হয় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক হাজার কিশোর যুবককে। পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে থাকা এসকল বহিরাগতরা আধাঘণ্টার মধ্যেই চিৎকার দিতে দিতে জড়ো হয় এসকল বাড়ির সামনে। পুলিশের উপস্থিতিতে তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে বাড়ির মধ্যে। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্র্রয়ের জন্য ছুটতে থাকলে শুরু হয় লুটপাট। দরজা জানালা ভেঙ্গে তারা ঘরে ঢুকে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান কাপড়সহ জমির দলিল, মূল্যবান কাগজপত্র সব কিছু লুট করতে থাকে দলবদ্ধ ভাবে। ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা সুজিতের স্ত্রীর কানের দুল খুলে নেয়। ললিতার হাতে থাকা সোনার গয়নার কৌটা কেড়ে নেয় তারা কৃষ্ণপদ, শ্যামাপদ, রন সরকার, সুধীর সরদার, নিরঞ্জন, শিবু, ভবরঞ্জন, জগদীশ, বিশ্বজিতসহ ১০টি পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুট করা হয়। লুটের মালামাল নিরাপদ স্থানে রেখে এসে তারা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্যামাপদ সরদারের পাকা ঘরে। এ সময় পুড়িয়ে দেয়া হয় কৃষ্ণপদের ৩টি, শ্যামাপদের ২টি, রনসরকারের ৩টি ও সুধীর সরদারের ১টি বসতঘর। পুলিশের উস্থিতিতে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে এই নারকীয় তা-ব চললেও পুলিশ ছিল নির্বিকার ও নীরব দর্শক।

আগুন নেভাতে বাধা
ধর্মীয় ইস্যুকে পুঁজি করে চাকদহা গ্রামে ধর্মান্ধদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের তা-বে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদ্যের নমনীয়তার কারণে আগুন নেভাতে যাওয়া অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যরা এলাকায় ঢুকতে পারেনি। আগুনের লেলিহান শিখায় ৮টি বাড়ি পুড়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলাকারীরা অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যদের ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। রাতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এডিশনাল ডিআইজি, র‌্যাব সদস্যসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

ঘটনার সূত্রপাত যে কারণে
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কালীগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ডিগ্রী বাংলা ভাষা পাঠ্য বইয়ের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের লেখা ‘হুজুর কেবলা’ নাটকটি অভিনয় করে। এই নাটকে নবীজী সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে এই অভিযোগে স্থানীয় একটি দৈনিকে ২৯ মার্চ রিপোর্ট প্রকাশিত হলে উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় বাদী আবু জাফর সাপুই লিখিত অভিযোগে বলেছেন, দৈনিক দৃষ্টিপাতে এ বিষয়ে লেখা প্রকাশিত হলে কালীগঞ্জসহ ফতেপুর ওই এলাকায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা মিছিল মিটিং করে আসামিদের বিচার দাবি করে। এ কারণে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলামসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন।
কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এই মামলায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকে ডেকে এনে গ্রেফতার করলেও শনিবার সকাল থেকে বহিরাগত কয়েক হাজার মানুষ গ্রামে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। রাতে তারা হাজতে আটক স্কুল শিক্ষিকা মিতা রানীর বাড়িসহ আরও ৩টি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং লুটপাট করে। পুলিশের উপস্থিতিতে এই নারকীয় তা-ব হলেও কালীগঞ্জ থানার ওসি ফরিদউদ্দিনসহ পুলিশের জেলা পর্যায়ের চেন অব কমান্ড ভেঙ্গে যায় বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ করেন। এই হামলা ও উত্তেজনায় মদদদাতা হিসেবে প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে কালীগঞ্জ থানায় থাকা ওসি ফরিদ উদ্দিনের প্রত্যাহারসহ জেলা পুলিশের প্রত্যাহার দাবি করেন। ফতেপুর গ্রামে অব্যাহত হামলা ও তান্ডবের পর রবিবার ফতেপুর গ্রামবাসী এলাকায় শান্তি মিছিল ও প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ফতেপুর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে চাকদহা গ্রামে একই ইস্যুকে পুঁজি করে এই হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়। হামলায় অংশ নেয়া অধিকাংশ ব্যক্তির ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

রাজনৈতিক নেতাদের তোপের মুখে ডিসি এসপি
জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অব্যাহত অবনতির মুখে সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরীভাবে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ডাকা হয়। জেলা প্রশাসক ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমান এমপি, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাক এডভোকেট মোস্তফা লুৎফুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যার্থতার অভিযোগ এনে ডিসি ও এসপিকে সাতক্ষীরা থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সভায় সদর এমপি আব্দুল জব্বার, জেলা পরিষদ প্রশাসক মনসুর আহমেদ, অধ্যাপক আবু আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছিম ময়না, কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। জেলা প্রশাসক এই ধর্মীয় ইস্যুকে উস্কে দেয়ার জন্য স্থানীয় একটি দৈনিককে চিহ্নিত করে বলেন, হামলাকারীরা ফতেপুরে একটি বাড়িতে আগুন দিয়ে সেখানে কোরান শরিফ পুড়িয়েছে। নতুন করে কাউকে ঘটনা ঘটাতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে প্রত্যককে আইনের আশ্রয়ে নেয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক জানান।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের চাকদহা গ্রামে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিজিবিকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সোমবার দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে হামলা ও বর্বরতার শিকার পরিবারগুলোতে রয়েছে অজানা আতঙ্ক। আবার হামলা হতে পারে এই আশংকায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতি, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির ঘটনাগুলোও তারা সাংবাদিকদের কাছে বলতে ভয় পাচ্ছেন।\

এদিকে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনার পরও শনিবার সকাল ১১টার দিকে কৃষ্ণনগর, বালিয়াডাঙ্গা ও রামনগর গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষ লাঠি নিয়ে হামলিয়ে পড়ে ফতেপুর গ্রামে। কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আনছার উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান জাপানেতা মোশারাফ হোসেনের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও অংগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটালেও সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা ছিল একেবারেই নির্বিকার। পুলিশ সুপার জানান, শনিবারের এই হামলার বিষয়টি সম্পর্কে তাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যর্থ হয়েছে। তারা কোন ভাবেই অবগত ছিলেননা।
সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের এই ফাতেপুর গ্রামে বেলা দেড়টায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১১টায় ধরিয়ে দেয়া আগুনে জিবির সদস্য আকুল মেম্বারসহ তার তিন ভাইয়ের বসতঘর তখনও জ্বলছে। হাজতে আটক মিতা রানীর বাড়িতে প্রথমে আগুন দেয়া হলেও প্রতিবেশীদের অনুরোধে আগুন না দিয়ে বাড়িটি ভাংচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে প্রতিটি জিনিস। ৩ বছরের ছোট ছেলে দীপুর বালিশটি পড়ে আছে পুকুর ধারে। মায়ের শাড়ির ছেড়া অংশ পড়ে আছে বাড়ির সামনে।
এই হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের পর সেখানে প্রায় ৪ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সকলে এলাকায় অবস্থান করছেন। হামলাকারীদের ভয়ে গ্রামের মানুষ এখন মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, ধর্মীয় ইস্যুর পাশাপাশি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষকে জব্দ করতে এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে। সরকারকে বিব্রত কর অবস্থায় ফেলতে এবং ইমেজ নষ্ট করতেই এই ঘটনা বলে অনেকের অভিযোগ। এ ছাড়া কালিগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ উদ্দিনের ভূমিকাও রহস্যজনক এমন অভিযোগ করে এলাকাবাসী জানান, পুলিশ সতর্ক থাকলে ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটতনা। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার করতে এই ওসির আগ্রহ অনেক বেশি- এমন অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি করেছে এলাকাবাসী।


জামায়াতে ইসলামীর শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিতি রয়েছে সাতক্ষীরার। জামায়াতের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতৃত্ব মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই খবর জনকণ্ঠ ছাড়া আর কোন দৈনিকে আসে নি। ঠিক হাটহাজারীর ঘটনার মত। এটা এখন আর মূলধারার মধ্যে পড়ে না। কালের কণ্ঠ ধর্মবাণী শুনায়া তো ভাসায়া দেয়, প্রথম আলোতে থাকে বোতল বোতল রসভরা গল্প। কিন্তু এতো বড় হামলার খবর তাদের কাছে কোন খবর হলো না! এভাবেই মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায় এরা। সুকৌশলে। এই মিডিয়া ব্ল্যাকআউট অত্যন্ত ভয়াবহ।
ভার্সিটি পড়ুয়া অনেক লোক, এমনকি সচেতন জনগণও ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকে না। তাই তারা মাথা দোলায় আর বলতে থাকে, আমরা সেরকম উউউউউউউচু মাপের অসাম্প্রদায়িক! এবং দিনশেষে হতাশ হয়ে মাথা নিচু করে বলতে হয় আমাদের, ‘না, কিচ্ছু বদলাবার না।’




১। দৈনিক জনকণ্ঠ, মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১২, ২০ চৈত্র ১৪১৮

২। দৈনিক জনকণ্ঠ, রবিবার, ১ এপ্রিল ২০১২, ১৮ চৈত্র ১৪১৮

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মনটা খারাপ হয়ে গেল। ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির এটাই আসল চেহারা, অন্তত আমাদের উপমহাদেশে।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি সবচেয়ে বড় দুর্নীতি-- আবুল ফজল

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বলেন কি? কিছুই তো জানতাম না। আলু কালু বাদই দিলাম, অনলাইনেও তো আচ পাই নাই।

***********************************************************************
"এহনবি জিন্দা আছি, মৌতের হোগায় লাথথি দিয়া
মৌত তক সহি সালামত জিন্দা থাকবার চাই"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মিডিয়া ব্ল্যাক আউট তাহলে সফল হয়েছে

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Jonathan Kay'র লেখা একটি কানাডা-ভিত্তিক ব্লগ থেকে উদ্ধৃতিঃ

In [...] Muslim-majority Bangladesh, Jamaat-e-Islami militants recently have been attacking Hindu temples, and looting Hindu-owned homes and shops in the southeastern part of the country. The campaign has nothing to do with Hindu predations against Muslims (as in Pakistan, the ethnic cleansing than [sic] began in the 1940s drove the vast majority of Hindus out of Bangladesh), but rather is a spillover from opposition to a tribunal that is prosecuting crimes committed by Islamists during the 1971 war. Like Jews and Westerners, Hindus make convenient targets for local demagogues.

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

“The dead, it is said, do not live to tell the tale, but this is not true in ethnic cleansing. The dead do tell the tale; it is the living who are reluctant to speak”. — Horowitz, 2001, p. 224

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আশংকার বিষয় হচ্ছে মূল ধারার মিডিয়া হাটহাজারির মতো এই ঘটনাকেও ধামা চাপা দিয়ে দিয়েছে ফলে সংখ্যালঘু নিষ্পেষনের ঘটনাগুলা সম্পর্কে অনেকেই অন্ধকারেই থাকে ।

হাসান ভাই ফেসবুকে একটা ষ্ট্যাটাস দিয়েছেন

“যাদের ঘর পুড়লো, সম্পদ লুট হলো, প্রাণ নিয়ে পালাতে হলো যাদের- তাদের কাছে স্বাধীন দেশ, ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধান আর 'শান্তির ধর্ম' কোন বানীটা পাঠালো? ”


প্রশ্নখানা আমারও ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রশ্নখানা আমারও ।

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Tired Tired Tired Tired

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোস্টটি অন্তত ০৩ দিনের জন্য হলেও স্টিকি করা হোক


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাহারা কিতা বলে?

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখনও কিছু বলছে নাকি?

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুভ ই মর্মান্তিক _____ দুই পক্ষের ই উচিত ছিল আলাপ - আলোচনা করে সমাধান করা । আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন নির্লিপ্ত ছিল তা খতিয়ে দেখা দরকার ।

মুক্তি এখনো আসে নি, বিপ্লব অপেক্ষমাণ ।

" মুক্তি এখনো আসে নি, বিপ্লব অপেক্ষমাণ "


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুভ ই মর্মান্তিক _____ দুই পক্ষের ই উচিত ছিল আলাপ - আলোচনা করে সমাধান করা ।


হাসালেন। জামাতিরা ডাইরেক্ট অ্যাকশনে বিশ্বাসী

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইসলাম নামধারীরা ক্ষমতাই আসলে আমাদেরকে কি উপহার দিবে এটা তার স্যাম্পল,বিবেচনা করে পথ চলুন।

সত্য সহায়।গুরুজী।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঘটনা এতদূর গেছে কেউ শব্দ করেনা ক্যান?

----------------------------------
© সমান্তরাল ®


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গায়ের চামড়া শক্ত হয়ে গিয়েছে তাই।

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্র্রয়ের জন্য ছুটতে থাকলে শুরু হয় লুটপাট। দরজা জানালা ভেঙ্গে তারা ঘরে ঢুকে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান কাপড়সহ জমির দলিল, মূল্যবান কাগজপত্র সব কিছু লুট করতে থাকে দলবদ্ধ ভাবে। ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা সুজিতের স্ত্রীর কানের দুল খুলে নেয়। ললিতার হাতে থাকা সোনার গয়নার কৌটা কেড়ে নেয় তারা কৃষ্ণপদ, শ্যামাপদ, রন সরকার, সুধীর সরদার, নিরঞ্জন, শিবু, ভবরঞ্জন, জগদীশ, বিশ্বজিতসহ ১০টি পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে সর্বস্ব লুট করা হয়। লুটের মালামাল নিরাপদ স্থানে রেখে এসে তারা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্যামাপদ সরদারের পাকা ঘরে।


আগুন লাগিয়ে পুর্ন্য করেছে, লুট করে পাপ করেছে। সমস্যা নাইক্যা নেক্সট সবেবরাতের রাতে সব গুনা মাপ হই যাবে।

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Puzzled Puzzled Puzzled Puzzled Puzzled Puzzled

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জ‌ন‌ক‌ন্ঠ জাতীয় পক্ষপাত দূষ্ট পত্রিকায় ছাপা খবরে সব সময়ে পুরো বিশ্বাস রাখা যায় না, বিশেষ করে অন্য কোন মিডিয়ায় না আসলে। মিডিয়া এসব নিয়ে বেশী ঘাঁটাঘাটি করতে না চাইলেও কিছু পত্রিকাতে এসব খবর ছাপা হয়। যা হোক, ঘটনা সত্য ধরে নেওয়া যায়, আমাদের দেশে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক বা অভূতপূর্ব কিছু নয়।

কিছুই জানতাম না ঘটনাটি সম্পর্কে। অবশ্য জেনেও এমন কিছু লাভ হত না। জামাত শিবির চক্র যুদ্ধপরাধীদের থেকে দৃষ্টি সরাতে এসব করে যাবে এটা বুঝতে কষ্ট হয় না। তারা '৯২ সালেও যখন যুদ্ধপরাধীদের বিচারের গণদাবী চরম পর্যায়ে তখনো দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাবাজি করে দেশ জুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি অন্য দিকে সফল ভাবেই নিয়ে যেতে পেরেছিল। সেক্যুলার শক্তি বলে পরিচিতরা তাদের চালের কাছে পরাজয় মেনেছিল।

ঘটনার দায় জামাত শিবিরের ওপর দেওয়া গেলেও মূল সমস্যা অতটা সরল নয়। সাম্প্রদায়িকতার বীজ সমাজে ভালই আছে, জামাত শিবির এর প্রয়োগ করে ফায়দা লোটে সেটা মেনে নিলেও বলতে হয়। ডাইনামাইটের যেমন দরকার অগ্নি স্ফুলিংগের তেমনি জামাত শিবির জাতের চক্র সেই স্ফুলিংগ হিসেবে কাজ করে। তবে সুপ্ত ডাইনামাইট থেকেই যায়। এর কিছু আলামত নীচে দেখেনঃ

ধর্মীয় ইস্যুকে পুঁজি করে চাকদহা গ্রামে ধর্মান্ধদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের তা-বে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদ্যের নমনীয়তার কারণে আগুন নেভাতে যাওয়া অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যরা এলাকায় ঢুকতে পারেনি। আগুনের লেলিহান শিখায় ৮টি বাড়ি পুড়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলাকারীরা অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যদের ব্যারিকেড দিয়ে রাখে।

- এই নমনীয়তার আসল কারন কি? দেশে বিএনপি জামাত সরকার থাকলে এই প্রশ্ন হয়ত আসত না।

এদিকে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনার পরও শনিবার সকাল ১১টার দিকে কৃষ্ণনগর, বালিয়াডাঙ্গা ও রামনগর গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষ লাঠি নিয়ে হামলিয়ে পড়ে ফতেপুর গ্রামে।


- দুই চার জন দশজন লোকে ধর্ম ব্যাবহার করে ফায়দা লোটে অবশ্যই মানা যায়। হাজার হাজার লোকের কেন এইভাবে জংগী কায়দায় নিরীহ লোকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ব্যাখ্যা অত সরল ভাবে হয় না। কারন সরল, ডিনামাইটে অগ্নিসংযোগ।

ধর্মের দায় নেই, মানুষের দোষে ধর্ম দোষী এসব বলে যেমন পাশ কাটানো যাবে তেমনি সত্য হল আমাদের মত সম্পদ সীমিত এবং ধর্মের চরম প্রভাব ওয়ালা দেশে এসব ঘটনা নিয়মিতই ঘটতে থাকবে। মিডিয়া ব্ল্যাক আউট করে হয়তবা বিবেক কিছুটা দমিয়ে রাখা যাবে।

এসব ঘটনা এড়াবার কিছু মোক্ষম সুশীলিয় উপায় আছে যা ২০০২ সালের অভিজ্ঞতায় জেনেছি, এ সব উপায় কিন্তু জামাত শিবিরের লোকদের বা আধা শিক্ষিত মোল্লাদের নয়। রীতিমত উচ্চশিক্ষিত সুশীল শ্রেনীর প্রতিক্রিয়া।

১। ভারতে আরো ভয়াবহ মুসলমান নির্যাতন হয়, সে তূলনায় আমাদের দেশে কিছুই হয় না।
২। অত্যাচার নিপীড়ন আমাদের দেশে কমন, কেবল ভিক্টিম হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেই মিডিয়া হাইলাইট করে।

সারমর্ম হল আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, এখানে এমন কিছু হতে পারে না, আর একেবারে অস্বীকার করা না গেলে মাত্রা অতি সামান্য যা নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই, এবং অবশ্যই এ ব্যাপারে নিজের ধর্ম বা ধর্মগোষ্ঠির লোকের কোনই দায় থাকতে পারে না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদের ঐ ঘটনার পরও হাজার হাজার লোক একইভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মন্দিরে হামলা করেছিল। ১৯৮৯-৯০ এর একটা ঘটনা আপনার মনে আছে? ইনকিলাবে ইচ্ছাকৃতভাবে বাবরী মসজিদ ধ্বংস করার মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছিল। সেই সময় গোটা লালবাগ এলাকায় তাণ্ডব বয়ে গিয়েছিল। ঢাকেশ্বরী মন্দির লুট হয়েছিল। যার জন্য সামরিক সরকার কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়েছিল।

সারমর্ম হল আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, এখানে এমন কিছু হতে পারে না, আর একেবারে অস্বীকার করা না গেলে মাত্রা অতি সামান্য যা নিয়ে চিন্তিত হবার কিছু নেই, এবং অবশ্যই এ ব্যাপারে নিজের ধর্ম বা ধর্মগোষ্ঠির লোকের কোনই দায় থাকতে পারে না।


প্রতি মাসেই কমপক্ষে একটি করে মন্দিরে হামলার খবর পাবেন। মানুষ পড়ে এবং পরে ভুলে যায়। এই ঘটনাও একসময় মিথে পরিণত হবে।

আর ধর্ম নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমি চিন্তিত মানুষ নিয়ে। মানুষ মানুষকেই পণ্য করে।

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার কাছে ধর্ম নয়, মানুষই বড়। ধর্ম মানুষের জন্যই, মানুষ ধর্মের জন্য নয়। যেই মূল্যবোধ বা দর্শনের কারনে হাজার হাজার লোকে ভিন্ন ধর্মী দূর্বল জনগোষ্ঠির ওপর দা কুড়াল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে সেই বিশ্বাস বা দর্শনের প্রতি সুশীল সাজার জন্য সাফাই গেয়ে পরকালের মেওয়া কুড়ানো আমার দ্বারা সম্ভব নয়।

৮৯/৯০ সালের ইনকিলাবের বদমায়েশী ভালই মনে আছে। রাজাকার মান্নান মাওলানার পেছনে আসলে লেজে হোমো এরশাদ নামের শুকরটাও ছিল। এখানেও লক্ষ্য করার বিষয় ছিল একটা ভুল খবর ( তাও নিজ দেশের নয় অন্য দেশের) কেন্দ্র করে কিভাবে গোটা লালবাগ/ পুরান ঢাকা এলাকায় তান্ডব বয়ে গেল। এই তান্ডবে নিশ্চয়ই দুজন দশজন জড়িত ছিল না, হাজার হাজার লোকের উইলিং পার্টিসিপেশনই ছিল, এটা কি এড়ানো যায় বা কেবল ইনকিলাবি জামাতিদের দেখিয়ে দায় সারা যায়? এই ইনকিলাব ছিল এক সময় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা, এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই, এখন জানি না।

বাবড়ি মসজিদ সত্য সত্যই গুড়িয়ে দেবার পরও দেশে কম তান্ডব হয়নি। অনেক অসাম্প্রদকায়িক নিরীহ লোককেও তখন দেখেছি কিছুদিন রাতারাতি সাম্প্রদায়িক বনে যেতে। আমাদের এক প্রতিবেশী উনি দলগত ভাবে লীগ সমর্থক ছিলেন, ধর্মকর্ম নিয়েও তাকে কোনদিন ঈদের বা জুমার নামাজের বাইরে তেমন ভাবিত দেখিনি।। আমাদের উদ্দেশ্য করে একদিন বললেন, আমাদের তো এখন বয়স হয়ে গেছে, তোমরা ইয়ং ম্যান, দুই চারটা মন্দির ভাংগতে পার না?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধর্ম মানুষের জন্যই, মানুষ ধর্মের জন্য নয়।


এটা কয়জন বুঝে বলুন?

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কি ভয়ানক!!!

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Puzzled

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই নিয়ে মন্তব্য করলে আবার আমার বাড়ি পোড়াইয়া দিবে ।তাই আমি নিশ্চুপ


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অন্ধ থাকিলেই কি প্রলয় বন্ধ থাকে?

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রতিহিংসা পূরণ ও স্বার্থ হাসিল করার সবচেয়ে নিরাপদ এবং সুবিধাজনক উপায় হল ধর্মের ব্যবহার। যুগ যুগ ধরে ব্যবহার হয়ে আসা এই পদ্ধতির আরো একবার মাত্র পুনরাবৃতি হল সাতক্ষীরার ফতেপুর গ্রামে। বাঙালি বরাবরই শান্তিপ্রিয় জাতি, তাই চুপচাপ থাকাই শ্রেয় নয় কি!!! smile :) :-)

=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=*=
বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়।
বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে।
বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমরা আসলেই শান্তিপ্রিয়। ভিনদেশীদের জন্য মিছিল মিটিং করি আর পাশের বাড়ির প্রতিবেশীর পা* মারতে দ্বিধা করি না।

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যে দেশের সংবিধান থেকে 'ধর্ম নিরপেক্ষতা' বাদ দেয়া হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে সেই দেশে সাম্প্রদায়ীকতার বিষ বাষ্প ছড়াবে নাতো কোথায় ছড়াবে? সংবিধান ঠিক না করে আগায় পানি দিয়ে কোন লাভ নেই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

"বাঙালীর ধর্মীয় অনুভূতি যৌন অনুভূতির চেয়েও তীব্র–যেখানেই ধর্মের গন্ধ পায় সেখানেই তার ধর্মাঙ্গ খাড়া হয়ে যায়।" - সংগৃহীত

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাতক্ষীরার এসপি ও কালীগঞ্জের ওসি ক্লোজড হইছে নাকি? ঘটনা বর্ণনায়

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শুনলাম তো তাই।

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুবই দু:খ জনক ঘটনা। যতদিন **** ধর্ম নিয়ে জনগনের মাতামাতি/উন্মাদন থাকবে, এই ধরনের অপকর্ম ও চলতে থাকবে।

জানিন এই ঘটনা আপানারা জানেন কিনা, গত মাসের বাইশ তারিখে কোলকাতায় কিছু স্পর্শকাতর জায়গায় দাঙ্গা হয়েছিলো। আর কারন শুনলে ঘোড়াও হাসবে। কোন এক নিউজ পেপার মডেল পুনম পাণ্ডের এক খোলামেলা ছবি ছাপায়, আর তা থেকেই দাঙ্গার সৃষ্টি। তবে একটা ভালো বিষয় যে, কোলকাতা এবং ভারতের সব মিডিয়া পুরোপুরি ব্লাকআউট হয়ে যায় যাতে গুজব না ছড়িয়ে পড়ে অন্য জায়গায় আবার দাঙ্গা শুরু হয়। খবর এতটা চেপে রাখা হয়যে কোলকাতার অপর প্রান্তের লোকেরাও এখনও জানে কিনা সন্দেহ। একদিন আনন্দবাজারে পড়লাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আবেদন জানিয়ে বলছেন, “বাংলার মানুষ কোনও দিন প্ররোচনা এবং গুজবে কান দেননি। এ বারও দেবেন না। আমার সেই বিশ্বাস আছে।” ব্যাপার ঠিক বুঝতে পারিনি। কিছুদিন আসল খবর পেলাম এক বাঙলাদেশী অনলাইন নিইজ পেপারে। তখন তারিখ মিলিয়ে সত্যতা বুঝতে পারি।


মানুষের মধ্যে ধর্মের বিষবৃক্ষ এখন ফলবতী হয়েছে, তাই ছোটখাট নাড়া দিলেই ফল পড়ে যায়।

____________________________

মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দিরও ভাঙে ধার্মিকেরা, তারপরও তারা দাবি করে তারা ধার্মিক, আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই তারা অধার্মিক বা নাস্তিক।.......... হুমায়ুন আজাদ
____________________________


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মানুষের মধ্যে ধর্মের বিষবৃক্ষ এখন ফলবতী হয়েছে, তাই ছোটখাট নাড়া দিলেই ফল পড়ে যায়।

কিন্তু কথাটা যুধীষ্ঠিরের দল বিশ্বাস করে না।

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জানি। পুনম পাণ্ডে নগ্ন হয়ে দাড়িয়ে আছে সামনে বিষ্ণুর ফটো। বিষ্ণুর মাথায় সচিনের মাথা তাতে এক পাকিস্তানী খেলোয়াড় সালাম দিচ্ছে।

২০১০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দেগঙ্গাতে হিন্দু মন্দির হিন্দু বাড়ি ভেঙ্গে ফেলে তৃনমূল এমপি হাজি নুরুলের অনুসারীরা। সেটাও মিডিয়া ব্ল্যাক আউট করে। অনেকে ঐ দাঙ্গাকে নোয়াখালী দাঙ্গার সাথে তুলনা করে।

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মর্মান্তিক । আনেকসেপ্টেবল ।

এতো বড় ঘটনা জাতীয় দৈনিকে না আসার কারন একজন সাংবাদিককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম । উনি যা বললেন যে ঘটনার পেছনের ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত এবং খুবই স্পর্শ কাতর ইস্যু । এই সাধারন ইস্যুটাকে পুঁজি করে আর যেন কেউ এই ধরনের জ্বালাও পোড়াও এর সুযোগ না পায় তার জন্য যতটা
সম্ভব এই ধরনের সংবাদকে হাইড করার চেস্টা করেন ।
আমি জার্নালিজম জানিনা । এই ব্লগে অনেকেই আছেন যারা সাংবাদিকতায় আছেন
উনারাই ভালো বলতে পারবেন ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আগের কমেন্টে কিছু মিস করে গেছি। সাতক্ষীরার ঘটনা কোলকাতা থেকে বেশ ফারাক। সাতক্ষীরায় হয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতন আর কোলকাতায় হয়েছিলো দুই সম্প্রদায়ের দাঙ্গা। কোলকাতার মিডিয়াকে আমি অবশ্য ধন্যবাদ দেই খবরটা একেবারে চেপে দেওয়ার জন্য। বাঙগালীদের কোন বিশ্বাস নেই, হুযুগে মাতামাতি করা পাব্লিক। কয়েকবছর আগে তসলিমা নাসরিনকে কোলকাতায় থাকা নিয়ে দাঙ্গা হয় আবার এই বছর বই মেলায় তসলিমার বই্য়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায়।

____________________________

মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দিরও ভাঙে ধার্মিকেরা, তারপরও তারা দাবি করে তারা ধার্মিক, আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই তারা অধার্মিক বা নাস্তিক।.......... হুমায়ুন আজাদ
____________________________


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাতক্ষীরায় হয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতন আর কোলকাতায় হয়েছিলো দুই সম্প্রদায়ের দাঙ্গা।


যথার্থই বলেছেন।




See video


-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ন্যাক্কারজনক ঘটনার পটভূমি:

গত ২৭ মার্চ, ২০১২ কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিদ্যালয়ের মাঠে মঞ্চস্থ্ হয় ‘হুজুর কেবলা’ নামের চরম ইসলাম বিদ্বেষী এক নাটক। নাটকটির রচয়িতা একই গ্রামের জিয়াদ আলীর কুলাঙ্গার পুত্র শাহীন (২৮) এবং পরিচালক হিন্দু শিক্ষিকা মিতা রানী। নাটকের বিভিন্ন অংকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে চরম ভাবে গোস্তাকি করে নারী লোভী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। (নাউযুবিল্লাহ)

সাতক্ষীরায় উগ্রবাদী হিন্দুদের দ্বারা ঘটিত এধরনের আরেকটি ঘটনা:

বলাবাহুল্য হিন্দু শিক্ষিকা কুলাঙ্গার মিতা রাণীর ঘটনা সাতক্ষীরায় এই বারই প্রথম নয়। এর আগেও ২০১১ সালে ১৬ই অক্টোবর সুশান্ত নামক এক চরম ইসলাম বিদ্বেষী উগ্রবাদী হিন্দু একই ঘটনা ঘটায়।সংবাদ ভাষ্য, “নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র আমিনুর, মাহফুজ, দেলোয়ারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, গত রোববার নবম শ্রেণীর ‘ক’ গ্রুপের বাংলা ব্যাকরণের কাস নিচ্ছিলো কুলাঙ্গার শিক্ষক সুশান্ত কুমার ঢালী (২৬)। এ সময় সে বলে, আমি তোমাদের একটি গল্প বলব। যদিও গল্পটি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসতে পারে। তবে এতে তোমরা কেউ কিছু মনে করবে না। গল্পটি হলো- এক জায়গায় একজন হিন্দু সাধু, মুসলমানদের একজন মৌলভী ও একজন বিদেশী ভদ্রলোক ছিলো। এদের মধ্যে প্রথমে হিন্দু সাধু বলে, কৃষ্ণচূড়া নামটি আমাদের কৃষ্ণের নামের সাথে মিলিয়ে রাখা হয়েছে। তখন মৌলভী বলে, এটি মোহাম্মদ চূড়া হলে ভালো হতো। এরপর হিন্দু সাধু একইভাবে কৃষ্ণনগর ও গোপালগঞ্জের কথা উল্লেখ করলে মৌলভী বলে, এটা মোহাম্মদনগর এবং মোহাম্মদগঞ্জ হলে ভালো হতো। অতঃপর একটি রাম ছাগল সেখানে আসার পর মৌলভী একই ভঙ্গিতে বলে, রাম ছাগলের পরিবর্তে মোহাম্মদ ছাগল হলে ভালো হতো। এ কথা বলার পর শিক সুশান্ত ঢালী ব্যঙ্গাত্মকভাবে হাসতে থাকে।” (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)
(বিষয়গুলো সরাসরি লেখা আদবের খেলাফ হলেও বর্তমান পরিস্থিতি কতটুকু ভয়াবহ অবস্থানে পৌছেছে এবং হিন্দুরা কতটুকু ইসলাম বিদ্বেষী তা বুঝানোর জন্যই বিস্তারিত উপস্থাপন করা)

প্রিয় নবীজি উনার শান মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানকে বুলন্দ করেছেন। পবিত্র কুরআন শরীফ ইরশাদ হয়েছে,
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ ﴿الشرح: ٤﴾

“আমি আপনার সুমহান মর্যাদাকে বুলন্দ করেছি।” (সূরা ইনশিরাহ-৪)
মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানকে বুলন্দ করে স্বয়ং নিজের নাম মুবারকের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। যা আমরা পবিত্র কলেমা শরীফ এ দেখতে পাই,
“ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসুলুল্লাহ” (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
বলাবাহুল্য কোন ব্যক্তি যদি সারা জীবন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করে তবে সে কষ্মিনকালেও মুসলমান হতে পারবে না,
যতক্ষণ যে মুহম্মদুর রসুলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ না করবে। (সুবহানাল্লাহ)
অর্থাৎ আমাদের প্রিয় নবীজি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক কথায় শুধু আল্লাহ পাক নন, এছাড়া সকল মর্যাদা, শান-মান মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাদিয়া করেছেন। (সুবহানাল্লাহ)

মুবারক শানের খেলাফ করার শাস্তি:
হাদীসে কুদসী শরীফে আছে, “কোন ব্যক্তি যদি কোন আল্লাহ পাক উনার ওলী, উনার বিরোধীতা করে, তবে স্বয়ং আল্লাহ পাক তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।”
তাহলে যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম বন্ধু, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানের খেলাপ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কতটুকু অস্তুষ্ট হবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
উদারহণ স্বরূপ আমরা, সূরা লাহাব-এর কথা বলতে পারি। যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানের খেলাপ বলায় এবং উনাকে কষ্ট দেয়ায় স্বয়ং আল্লাহ পাক আবু লাহাবের ধ্বংস কামনা করেছেন, লানত দিয়েছেন। আর তাই আবু আবু লাহাবের মৃত্যু ঘটেছে পচে গলে, চরম লাঞ্চিত হয়ে।

অপরাধীদের বার বার রক্ষা করা হচ্ছে:
৯৭% মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে গত কয়েকবছর যাবত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে অবমাননা করার ঘটনা বেশ কয়েকবার ঘটেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তো এদের বিরুদ্ধে তো এর বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, মুসলমানদের মধ্যে বড় ধরনের কোন প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেনি। সরকার এদের লোক দেখানো সাময়িক গ্রেফতার করলেও পরিস্থিতি ঠান্ডা হলে পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দিচ্ছে। অপরাধীদের কোন বিচারই হয়না।

প্রতিবাদ হচ্ছে, চাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি:
সাতক্ষীরাবাসী ইসলাম বিদ্বেষী ঘটনায় এর জোর প্রতিবাদ করেছে। এই সকল নবী প্রেমীদের জানাই আন্তরিক অভিবাদন, তাদের জন্য থাকল অন্তরের অন্তস্থল থেকে অফুরস্ত দোয়া। কিন্তু এখানেই যেন শেষ না হয়। সারা বিশ্বের মুসলমানদের উচিত এর বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করা, একই সাথে অপরাধীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, এমনভাবে জনসম্মুখে তাদের শাস্তি কার্যকর করা, যেন ভবিষ্যতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার আর পূনরাবৃত্তি না ঘটে। প্রকৃতপক্ষে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়ার অভাবেই এই ধরনের ঘটনা বার বার ঘটে চলেছে।

অপরাধীদের সহযোগীদেরও শাস্তি চাই:
এখানে আরেকটি বিষয় বলা যেতে পারে, যে ব্যক্তিরা এই অপরাধগুলো করছে শুধু তাদের শাস্তি দিলেই হবে না, যারা এগুলোর পক্ষে কথা বলছে এবং অপরাধীদের সাহায্য করে যাচ্ছে তাদের গ্রেফতার করা দরকার আছে।
যেমন: আলপিনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন লেখার পর কার্টুনিস্ট আরিফকে বাচানোর জন্য অনেক সংগঠন উঠে পড়ে লাগে।
আবার সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ঘটনা অনেক পত্রিকায় বিকৃত করে লেখা হয়।
দৈনিক জনকণ্ঠে লেখা হয়, “ধর্মান্ধদের হামলায় জ্বলছে সাতীরার ফতেপুর গ্রাম,পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক।”
আইএনবি সংবাদ সংস্থায় বলা হয়, “সাতীরায় হুজুর কেবলার নাটকের জের : বাড়িঘরে আগুন ও ভাংচুর”। উক্ত খরবে মুসলমানরা হিন্দুদের বাড়িঘর লুট করেছে বলে দাবি করা হয়। (নাউযুবিল্লাহ)

আমরা কি ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ জানাব না? আমরা কার শাফায়াত চাই?
আমরা যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত বলে দাবি করে থাকি তারা উনার মুবারক উনার শানের খেলাফ দেখলে কি করব?
আমাদের উম্মতদের উচিত এর জোর প্রতিবাদ করা। কারণ কিয়ামতের ময়দানে মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাদের জিজ্ঞাসা করেন, “হে ব্যক্তি তোমার সামন্ েআমার প্রিয়তম বন্ধু, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানের খেলাপ করা হয়েছিল, তুমি কি এর প্রতিবাদ করেছিলে, তোমাকে আজ কে নাযাত দিবে?”—–
তখন আমরা কি বলব?
আবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি জিজ্ঞেস করেন,
“হে ব্যক্তি, তুমি তো আমার উম্মত দাবি কর, আমার শাফায়াত চাও, তাহলে যখন আমার বিরুদ্ধে বলা হল, তখন তোমরা কেন এর প্রতিবাদ করলে না? অপরাধীর কেন শাস্তি দিলে না? এখন, তোমাদের কে শাফায়াত করবে?
তখন আমরা কি উত্তর দেব?

মুসলমানগন প্রতিবাদ করতে জানে:

বাংলার মুসলমানগন প্রতিবাদ করতে জানে। ১৯৫২ সালে তারা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র নজির। ১৯৭১ সালে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে ।তাহলে সেই বাংলার মুসলমানগণ নিজেদের প্রাণের চেয়ে অধিক প্রিয়, যিনি মুসলমানদের ঈমান উনার সম্মানার্থে কি প্রতিবাদ করতে পারে না? উনার শানে বেয়াদবী প্রদর্শনকারী কুলাঙ্গারগুলোকে জমিনের সবচেয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারে না?
সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা যদি চিরতরে এসব কুলাঙ্গারদের শয়তানী বন্ধ না করে, তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতগণ কখনো চুপ থাকবে না।

এই ন্যাক্কারজন অপরাধের শাস্তি প্রদানের প্রতিদান কি?

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ , হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে বেয়াদবী করার কারনে কা’ব বিন আশরাফ, আবু র’ফে র মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করা হয় এবং হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা তা কার্যকর করেন। নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ, হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য পরিপূর্ন নিবেদিত হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের জন্য আখিরতে অসীম প্রতিদানতো রয়েছেই দুনিয়াতেই আল্লাহ পাক উনাদের জন্য চিরতরের সন্তুষ্টি ঘোষনা করলেন।

আল্লাহপাক ইরশাদ করেন,
رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
অর্থ: আল্লাহপাক উনাদের উপর সন্তুষ্ট, উনারা ও আল্লাহপাক উনার উপর সন্তুষ্ট।

সুরা বাইয়্যিনাহ (আয়াত শরীফ নং-৮)

ঠিক উম্মতের কেউ যদি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ , হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য নিবেদিত হয়ে কোন খিদমত করে তাহলে তিনি ও একই পুরস্কার অর্থাৎ আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অনন্তকালের সন্তুষ্টি লাভ করবে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে অবমাননা করে ব্রিটিশ আমলে এরকম এক মুরতাদ ‘রঙ্গীলা রসূল’ নামক বিদ্রুপাত্মক বই লিখেছিলো। তখন একজন মুসলমান তাকে কতল করে ইসলামে বর্ণিত মুরতাদের শাস্তি বাস্তবায়ন করেন। কোর্টে উকিল তাকে একটু মিথ্যা বলার জন্য অনুরোধ করলে সে জবাব দেয়, “আমি দেখতে পাচ্ছি দয়ার নবীজী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে জান্নাতে আহ্বান করছেন। সুতরাং আমার মিথ্যা বলার দরকার নেই”। (সুবাহানাল্লাহ)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিগত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলোর পিছনে দেখা গেছে উগ্রবাদী হিন্দুরাই সরাসরি জড়িত। শতকরা ৯৭% মুসলমানের দেশে ১.৭৫% হিন্দু কি করে এ সাহস পায়? তাহলে এর পিছনে কি কোন ষড়যন্ত্রকারীগোষ্ঠী রয়েছে? বাংলার মুসলমানদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, এর পিছনে যারাই থাকুকনা কেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তাদেরকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



আপনার তথ্য ও যুক্তিপূর্ন লেখা পড়ে ধন্য হইলাম।

‘হুজুর কেবলা’ নামের চরম ইসলাম বিদ্বেষী এক নাটক। নাটকটির রচয়িতা একই গ্রামের জিয়াদ আলীর কুলাঙ্গার পুত্র শাহীন (২৮) এবং পরিচালক হিন্দু শিক্ষিকা মিতা রানী।


- 'হুজুর কেবলা' নামের তথাকথিত চরম ইসলাম বিদ্বেষী নাটকের লেখক সুপ্রসিদ্ধ লেখক ও রাজনীতিবিদ জনাব আবুল মনসুর আহমেদ। সমসাময়িক সমাজের বহু কুসংস্কার, পশ্চাতপদত্‌ দূর্ণীতি নিয়ে তিনি এমন বহু স্যাটায়ার লিখে গেছেন।

তিনি কোন কুলাংগার হিন্দু মহিলা এমন তথ্য এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। আপনি এই কৃতিত্ব অবশ্যই পেতে পারেন।

যাক, অনলাইনে সেই আলোচিত ইসলাম বিদ্বেষী গল্প পাওয়া গেছে। আপনার প্রদত্ত দেশের হিন্দু মুসলমানের পরিসংখ্যানেও বেশ নুতনত্ব আছে মানতে হবে।

এমদাদ তার সবগুলি বিলাতি ফিনফিনে ধুতি, সিল্কের জামা পোড়াইয়া ফেলিল; ফেক্সের ব্রাউন রঙের পাম্পশুগুলি বাবুর্চিখানার বঁটি দিয়া কোপাইয়া ইলশা-কাটা করিল। চশ্মা ও রিস্টওয়াচ মাটিতে আছড়াইয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিল; ক্ষুর স্ট্রপ, শেভিংস্টিক ও ব্রাশ অনেকখানি রাস্তা হাঁটিয়া নদীতে ফেলিয়া দিয়া আসিল; বিলাসিতার মস্তকে কঠোর পদাঘাত করিয়া পাথর বসানো সোনার আংটিটা এক অন্ধ ভিক্ষুককে দান করিয়া এবং টুথক্রিম ও টুথব্রাশ পায়খানার টবের মধ্যে ফেলিয়া দিয়া দাঁত ঘষিতে লাগিল।
অর্থাৎ এমদাদ অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করিল! সে কলেজ ছাড়িয়া দিল।
তারপর সে কোরা খদ্দের কল্লিদার কোর্তা ও সাদা লুঙ্গি পরিয়া মুখে দেড় ইঞ্চি পরিমাণ ঝাঁকড়া দাড়ি লইয়া সামনে-পিছনে সমান-করিয়া চুলকাটা মাথায় গোল নেকড়ার মতো টুপি কান পর্যন্ত পরিয়া চটিজুতা পায়ে দিয়া যেদিন বাড়িমুখে রওনা হইল, সে দিন রাস্তার বহুলোক তাকে সালাম দিল।
সে মনে মনে বুঝিল, কলিযুগেও দুনিয়ায় ধর্ম আছে।
কলেজে এমদাদের দর্শনে অনার্স ছিল।
কাজেই সে ধর্ম, খোদা, রসূল কিছুই মানিত না। সে খোদার আরশ, ফেরেশ্তা, ওহী, হযরতের মেরাজ লইয়া সর্বদা হাসিঠাট্টা করিত।
কলেজ ম্যাগাজিনে সে মিল, হিউম, স্পেন্সার, কোমতের ভাব চুরি করিয়া অনেকবার খোদার অস্তিত্বের অসারতা প্রমাণ করিয়াছিল।
কিন্তু খেলাফৎ আন্দোলনে যোগদান করিয়া এমদাদ একেবারে বদলাইয়া গেল।
সে ভয়ানক নামাজ পড়িতে লাগিল। বিশেষ করিয়া নফল নামাজ সে একেবারে তন্ময় হইয়া পড়িল।
গোল-গাল করিয়া বাঁশের কঞ্চি কাটিয়া সে নিজ হাতে একছড়া তস্বিহ তৈরি করিল। সেই তস্বির উপর দিয়া অষ্টপ্রহর অঙ্গুলি চালনা করিয়া সে দুইটা আঙ্গুলের মাথা ছিঁড়িয়া ফেলিল।
কিন্তু এমদাদ টলিল না। সে নিজের নধর দেহের দিকে চাহিয়া বলিল : হে দেহ, তুমি আমার আত্মাকে ছোট করিয়া নিজেই বড় হইতে চাহিয়াছিলে! কিন্তু আর নয়।
সে আবার দ্বিগুণ উৎসাহে তস্বিহ চালাইতে লাগিল।

দুই
দিন যাইতে লাগিল।
ক্রমে এমদাদ একটা অস্বস্তি বোধ করিতে লাগিল।
বহু চেষ্টা করিয়াও সে এবাদতে তেমন নিষ্ঠা আনিতে পারিতেছিল না। নিজেকে বহু শাসাইল, বহু প্রক্রিয়া অবলম্বন করিল; কিন্তু তথাপি পোড়া ঘুম তাকে তাহাজ্জতের নামাজ তরক্ করিতে বাধ্য করিতে লাগিল।
অগত্যা সে নামাজে বসিয়া খোদার নিকট হাত তুলিয়া কাঁদিবার বহু চেষ্টা করিল। চোখের পানির অপেক্ষায় আগে হইতে কান্নার মতো মুখ বিকৃত করিয়া রাখিল। কিন্তু পোড়া চোখের পানি কোন মতেই আসিল না।
সে স্থানীয় কংগ্রেস ও খেলাফৎ কমিটির সেক্রেটারি ছিল।
সেখানে প্রত্যহ সকাল-বিকালে চারিপাশের বহু মওলানা মওলবী সমবেত হইয়া কাবুলের আমিরের ভারত আক্রমণের কতদিন বাকি আছে তার হিসাব করিতেন এবং খেলাফত নোট-বিক্রয় লব্ধ পয়সায় প্রত্যহ পান ও র্জদা এবং সময়-সময় নাশ্তা খাইতেন।
ইহাদের একজনের সুফী বলিয়া খ্যাতি ছিল। তিনি এক পীর সাহেবের স্থানীয় খলিফা ছিলেন এবং অনেক রাত পর্যন্ত ‘এলহু’ এলতু করিতেন।
অল্পদিন পূর্বে ‘এস্তেখারা’ করিয়া তিনি দেখিয়াছিলেন যে, চারি বৎসরের মধ্যে কাবুলের আমির হিন্দুস্থান দখল করিবেন।
তাঁহার কথায় সকলেই বিশ্বাস করিয়াছিলো; কারণ মেয়েলোকের উপর জিনের আসর হইলে তিনি জিন ছাড়াইতে পারিতেন।
এই সুফী সাহেবের নিকট এমদাদ তার প্রাণের বেদনা জানাইল।
সুফী সাহেব দাড়িতে হাত বুলাইয়া মৃদু হাসিয়া ইংরাজী-শিক্ষিতদের উদ্দেশ্য করিয়া অনেক বাঁকা বাঁকা কথা বলিয়া উপসংহারে বলিলেন : হকিকতান যদি আপনি রুহের তরক্কী হাসেল করিতে চান, তবে আপনাকে আমার কথা রাখিতে হইবে। আচ্ছা; মাস্টার সাহেব, আপনি কার মুরিদ?
এমদাদ অপ্রতিভভাবে বলিল : আমি ত কারো মুরিদ হই নাই।
সুফী সাহেব যেন রোগ নির্ণয় করিয়া ফেলিয়াছিলেন এইভাবে মাথা নাড়িতে নাড়িতে বলিলেন : হ-ম্, তাই বলুন। গোড়াতেই গলৎ। পীর না ধরিয়া কি কেহ রুহানিয়ৎ হাসেল করিতে পারে? হাদীস শরীফে আসিয়াছে : [এইখানে সুফী সাহেব বিশুদ্ধরূপে আইন-গাইনের উচ্চারণ করিয়া কিছু আরবী আবৃত্তি করিলেন এবং উর্দুতে তার মানে-মতলব বয়ান করিয়া অবশেষে বাংলায় বলিলেন] : জয্বা ও সলুক খতম করিয়া ফানা ও বাকা লাভে সমর্থ হইয়াছেন এরূপ কামেল ও মোকাম্মেল, সালেক ও মজ্যুব পীরের দামন না ধরিয়া কেহ জমিরের রওশনী ও রুহের তরক্কী হাসেল করিতে পারে না।
হাদীসের এই সুস্পষ্ট নির্দেশের কথা শুনিয়া এমদাদ নিতান্ত ঘাবড়াইয়া গেল।
সে ধরা-গলায় বলিল : কি হইবে আমার তাহা হইলে সুফী সাহেব?
সুফী সাহেব এমদাদের কাঁধে হাত রাখিয়া বলিলেন : ঘাবড়াইবার কোন কারণ নাই। কামেল পীরের কাছে গেলে একদিনে তিনি সব ঠিক করিয়া দিবেন।
স্বস্তিতে এমদাদের মুখ উজ্জ্বল হইয়া উঠিল।
সে আগ্রহাতিশয্যে সুফী সাহেবের হাত চাপিয়া ধরিয়া বলিল : কোথায় পাইব কামেল পীর? আপনার সন্ধানে আছে?
উত্তরে সুফী সাহেব সুর করিয়া একটি ফরাসী বয়েত আবৃত্তি করিয়া তার অর্থ বলিলেন : জওহরের তালাশে যারা জীবন কাটাইয়াছে, তারা ব্যতীত আর কে জওহরের খবর দিতে পারে? হাজার শোকর খোদার দরগায়, বহু তালাশের পর তিনি জওহর মিলাইয়াছেন।
সুফী সাহেবের হাত তখনও এমদাদের মুঠার মধ্যে ছিল। সে তা আরো জোরে চাপিয়া ধরিয়া বলিল : আমাকে লইয়া যাইবেন না সেখানে?
সুফী সাহেব বলিলেন : কেন লইয়া যাইব না? হাদীস শরীফে আসিয়াছে : (আরবী ও উর্দুু) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আসিতে চায়, তার সাহায্য কর।
সংসারে একমাত্র বন্ধন এবং অভিভাবক বৃদ্ধা ফুফুকে কাঁদাইয়া একদিন এমদাদ সুফী সাহেবের সঙ্গে পীর-জিয়ারতে বাহির হইয়া পড়িল।

তিন
এমদাদ দেখিল : পীর সাহেবের একতলা পাকা বাড়ি। বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অন্দরবাড়ির সব ক’খানা ঘর পাকা হইলেও বৈঠকখানাটি অতি পরিপাটি প্রকা- খড়ের আটচালা।
সে সুফী সাহেবের পিছনে পিছনে বৈঠকখানায় প্রবেশ করিল। দেখিল : ঘরে বহু লোক জানু পাতিয়া বসিয়া আছেন। বৈঠকখানার মাঝখানে দেওয়াল ঘেঁষিয়া অপেক্ষাকৃত উচ্চ আসনে মেহেদি-রঞ্জিত দাড়ি বিশিষ্ট একজন বৃদ্ধ লোক তাকিয়া হেলান দিয়ে আলবোলায় তামাক টানিতেছেন।
এমদাদ বুঝিল : ইনিই পীর সাহেব।
‘আসসালামু আলাইকুম’ বলিয়া সুফী সাহেব সোজা পীর সাহেবের নিকট উপস্থিত হইয়া হাঁটু পাতিয়া বসিলেন। পীর সাহেব সম্মুখস্থ তাকিয়ার উপর একটি পা তুলিয়া দিলেন। সুফী সাহেব সেই পায়ে হাত ঘষিয়া নিজের চোখে মুখে ও বুকে লাগাইলেন।
তৎপর পীর সাহেব তাঁর হাত বাড়াইয়া দিলেন। সুফী সাহেব তা চুম্বন করিয়া দাঁড়াইয়া উঠিলেন এবং পিছাইয়া-পিছাইয়া কিছু দূর গিয়া অন্যান্য সকলের ন্যায় জানু পাতিয়া বসিলেন।
পীর সাহেব এতক্ষণে কথা বলিলেন : কিরে বেটা, খবর কি? তুই কি এরই মধ্যে দায়েরায়ে হকিকতে মহব্বত ও জয্বায়েযাতী-বনাম হোব্বে এশ্ক হাসিল করিয়া ফেললি নাকি?
পীর সাহেবের এই ঠাট্টায় লজ্জা পাইয়া সুফী সাহেব মাথা নিচু করিয়া মাজা ঈষৎ উঁচু করিয়া বলিলেন, হযরত, বান্দাকে লজ্জা দিতেছেন!
পীর সাহেব তেমনি হাসিয়া বলিলেন : তা না হইলে নিজের চিন্তা ছাড়িয়া অপরের রুহের সুপারিশ করিতে আমার নিকট আসিলেন কেন? কই তোর সঙ্গী কোথায়? আহা! বেচারা বড়ই অশান্তিতে দিনপাত করিতেছে।
এই বলিয়া পীর সাহেব চক্ষু বুজিলেন এবং প্রায় এক মিনিট কাল ধ্যানস্থ থাকিয়া চক্ষু মেলিয়া বলিলেন: সে এই ঘরেই হাজির আছে দেখিতেছি।
উপস্থিত মুরিদগণের সকলে বিস্ময়ে মুখ যাওয়া-চাওয়ি করিতে লাগিল। এমদাদ ভক্তি ও বিস্ময়ে স্তব্ধ হইয়া একদৃষ্টে পীর সাহেবের মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। মেহেদি-রঞ্জিত দাড়ি-গোঁফের ভিতর দিয়া পীর সাহেবের মুখ হইতে এক প্রকার জ্যোতি বিকীর্ণ হইতে লাগিল।
সুফী সাহেব এমদাদকে আগাইয়া আসিতে ইশারা করিলেন। সে ধীরে ধীরে পীর সাহেবের সম্মুখে উপস্থিত হইয়া সুফী সাহেবের ইঙ্গিতে অনভ্যস্ত হাতে কদম-বুসি করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইয়া রহিল।
পীর সাহেব “বস বেটা, তোর ভাল হইবে। আহা, বড় গরীব!” বলিয়া আলবোলার নলে দম কষিলেন।
সুফী সাহেব আমতা-আমতা করিয়া বলিলেন : হযরত এর অবস্থা তত গরীব নয়। বেশ ভাল তালুক সম্পত্তি
পীর সাহেব নলে খুব লম্বা টান কষিয়াছিলেন; কিন্তু মধ্যপথে দম ছাড়িয়া দিয়া মুখে ধোঁয়া লইয়াই বলিলেন : বেটা, তোরা আজিও দুনিয়ার ধন-দওলত দিয়া ধনী-গরীব বিচার করিস। এটা তোদের বুঝিবার ভুল। আমি গরীব কথায় দুনিয়াবী গোরবৎ বুঝাই নাই। মুসলমানদের জন্য দুনিয়ার ধন-দওলত হারাম। এই ধন-দওলত এন্সানের রুহানিয়ত হাসেলে বাধা জন্মায়, তার মধ্যে নফসানিয়াত পয়দা করে। আল্লাহতালা বলিয়াছেন : (আরবী ও উর্দু) বেশক দুনিয়ার ধন-দওলত শয়তানের ওয়াস-ওয়াসা, ইহা হইতে দূরে পলায়ন কর। কিন্তু দুনিয়ার মায়া কাটান কি সহজ কথা? তোদের আমি দোষ দিই না। তোদের অনেকেই এখন যেকেরের দরজাতেই পড়িয়া আছিস। যে করে জলী ও যেকরে খফী। এই দুই দরজার যেকের সারিয়া পরে ফেকেরের দরজায় পৌঁছিতে হয়। ফেকের হইতে যহুর এবং যহুর হইতে মোরাকেবা-মোশাহেদার কাবেলিয়ত হাসেল হয়। খোদার ফজলে আমি আরেফিন, সালেহীন ও সিদ্দিকিনের মোকামাতের বিভিন্ন দায়েরার ভিতর দিয়া যেভাবে এলেম-লাদুন্নির ফলেজ হাসেল করিয়াছি, তোদের কলব অতটা কুশাদা হইতে অনেক দেরি অনেক। বলিয়া তিনি হুক্কার নলটা ছাড়িয়া দিয়া সোজা হইয়া বসিলেন এবং চোখ বুজিয়া ধ্যানস্থ হইলেন।
কিছুক্ষণ চোখ বুজিয়া থাকিয়া হাসিয়া উঠিলেন এবং চিৎকার করিয়া বলিলেন : কুদরতে-ইয্দানী, কুদরতে-ইয্দানী। মুরিদরা সব সে-চিৎকারে সন্ত্রস্ত হইয়া উঠিলেন।
কিন্তু কেহ কোনও কথা জিজ্ঞাসা করিতে সাহস করিলেন না।
পীর সাহেব চিৎকার করিয়াই আবার চোখ বুজিয়াছিলেন। তিনি এবার ঈষৎ হাসিয়া চোখ মেলিয়া বলিলেন : আমরা কত বৎসর হইল এখানে বসিয়া আছি?
জনৈক মুরিদ বলিলেন : হযরত, বৎসর কোথায়? এই না কয়েক ঘণ্টা হইল।
পীর সাহেব হাসিলেন। বলিলেন : অনেক দেরি। অনেক দেরি। আহা বেচারারা চোখের বাহির আর কিছুই দেখিতে পায় না।
অপর মুরিদ বলিলেন : হুজুর কেবলা, আপনার কথা মোটেই বুঝিতে পারিলাম না।
পীর সাহেব মৃদু হাসিয়া বলিলেন : অত সহজে কি আর সব কথা বুঝা যায় রে বেটা? চেষ্টা কর, চেষ্টা কর।
মুরিদটি ছিলেন একটু আবদেরে রকমের। তিনি বায়না ধরিলেন : না কেবলা, আমাদিগকে বলিতেই হইবে। কেন আপনি বৎসরের কথা জিজ্ঞাসা করিলেন?
পীর সাহেব বলিলেন : ও-কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করিস না। তার চেয়ে অন্য কথা শোন। এই যে সাদুল্লাহ (সুফী সাহেবের নাম) একটি ছেলেকে আমার নিকট মুরিদ করিতে লইয়া আসিল, আমি সে-কথা কি করিয়া জানিতে পারিলাম? আজ তোমরা তাজ্জব হইতেছ। কিন্তু ইন্শাআল্লাহ, যখন তোমরা মোরাকেবায়ে-নেসবতে বায়নান্নাসে তালিম লইবে, তখন অপরের নেসবত সম্বন্ধে তোমাদের কলব আয়নার মতো রওশন হইয়া যাইবে। আল্গরয ইহাও খোদার এক শানে-আযিম। সাদুল্লাহ যখন আমার দস্ত-বুসি করে, তখন তার মুখের দিকে আমার নজর পড়িল এবং সঙ্গে সঙ্গে আমার রুহ সাদুল্লাহর রুহের দিকে মোতাওয়াজ্জাহ হইয়া গেল। সেখানে আমি দেখিলাম, সাদুল্লাহ্র রুহ আর একটা নূতন রুহের সঙ্গে আলাপ করিতেছে। উহাতেই আমি সব বুঝিয়া লইলাম। আল্লাহু আযিমুশ্শান।
বলিয়া পীর সাহেব একজন মুরিদকে হুক্কার দিকে ইঙ্গিত করিলেন।
মুরিদ হুক্কার মাথা হইতে চিলিম লইয়া তামাক সাজিতে বাহির হইয়া গেল।
পীর সাহেব বলিলেন : তোমরা আমার নিজের নুৎফার ছেলের মতো। তথাপি তোদের নিকট হইতে আমাকে অনেক গায়েবের কথা গোপন রাখিতে হয়। কারণ তোমরা সে-সমস্ত বাতেনি কথা বরদাশ্ত করিতে পারিবে না। যেকের ও ফেকের দ্বারা কলব কুশাদা করিবার আগেই কোনও বড় রকমের নূরে তজল্লী তাতে ঢালিয়া দিলে তাতে কলব অনেক সময় ফাটিয়া যায়। এলমে-লাদুন্নি হাসেল করিবার আগেই আমি একবার লওহে-মাওফুযে উপস্থিত হইয়াছিলাম। তখন আমি মাত্র দায়েরায়ে-হকিকতে-লাতা আইউনে তালিম লইতেছিলাম। সায়েরে-নাযাবীর ফয়েজ তখনও আমার হাসেল হয় নাই। কাজেই আরশে-মওয়াল্লার পরদা আমার চোখের সামনে হইতে উঠিয়া যাইতেই আমি নূরে-ইয্দানী দেখিয়া বেহুশ হইয়া পড়িলাম। তারপর আমার জেসমের মধ্যে আমার রুহের সন্ধান না পাইয়া আমার মুর্শেদ-কেবলা, তোরা তো জানিস আমার ওয়ালেদ সাহেবই আমার মুর্শেদ লওহে মাহফুজ হইতে আমার রুহ্ আনিয়া আমার জেসমের মধ্যে ভরিয়া দেন, এবং নিজের দায়রার বাহিরে যাওয়ার জন্য আমাকে বহুৎ তম্বিহু করেন। কাজেই দেখিতেছিস, কাবেলিয়ত হাসেল না করিয়া কোনও কাজে হাত দিতে নাই। খানিকক্ষণ আগে আমি জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম : আমরা কত বৎসর যাবত এখানে বসিয়া আছি? শুনিয়া তোরা অবাক হইয়াছিলি। কিন্তু এর মধ্যে যে ঘটনা ঘটিয়াছে, তা শুনিলে তো আরো তাজ্জব হইয়া যাইবি। সে জন্যই সে কথা বলিতে চাই না। কিন্তু কিছু কিছু না বলিলে তোরা শিখবি কোথা হইতে? তাই সে কথা বলাই উচিত, মনে করিতেছি। সাদুল্লাহ এখানে আসিবার পর আমি আমার রুহকে ছাড়িয়া দিয়াছিলাম। সে তামাম দুনিয়া ঘুরিয়া সাত হাজার বৎসর কাটাইয়া তারপর আমার জেসমে পুনরায় প্রবেশ করিয়াছে। এই সাত হাজার বৎসরে কত বাদশাহ ওফাত করিয়াছে, কত সুলতানাৎ মেস্মার হইয়াছে, কত লড়াই হইয়াছে; সব আমার সাফ-সাফ মনে আছে। সেরেফ এইটুকুই বলিলাম; ইহার বেশি শুনিলে তোদের কলব ফাটিয়া যাইবে।
ইতিমধ্যে তামাক আসিয়াছিল।
পীর সাহেব নল হাতে লইয়া ধীরে ধীরে টানিতে লাগিলেন।
সভা নিস্তব্ধ রহিল। কলব ফাটিয়া যাইবার ভয়ে কেহ কোনও কথা জিজ্ঞাসা করিল না।
এমদাদ পীর সাহেবের কথা কান পাতিয়া শুনিতেছিল। কৌতূহল ও বিস্ময়ে সে অস্থিরতা বোধ করিতে লাগিল।
সে স্থির করিল, ইহার কাছে মুরিদ হইবে।

চার
পীর সাহেব অনেক নিষেধ করিলেন। বলিলেন : বাবা, সংসার ছাড়িয়া থাকিতে পারবে না, তাসউয়াফ বড় কঠিন জিনিস ইত্যাদি।
কিন্তু এমদাদ তাওয়াজ্জোহ লইল।
পীর সাহেব নিজের লতিফায় যেকের জারি করিয়া সেই যেকের এমদাদের লতিফায় নিক্ষেপ করিলেন।
এমদাদ প্রথম লতিফা যেকরে-জলী আরম্ভ করিল।
সে দিবানিশি দুই চোখ বুজিয়া পীর সাহেবের নির্দেশমত ‘এল্হু এল্হু’ করিতে লাগিল।
পীর সাহেব বলিয়াছিলেন : খেলওয়াৎ-দর-অঞ্জুমান দ্বারা নিজের কলবকে স্বীয় লতিফার দিকে মুতাওয়াজ্জাহ করিতে পারিলে তার কলবে যাতে আহাদিগয়াতের ফয়েজ হাসেল হইবে এবং তার রুহ ঘড়ির কাঁটার ন্যায় কাঁপিতে থাকিবে।
কিন্তু এমদাদ অনেক চেষ্টা করিয়াও তার কলবকে লফিতায় মুতাওয়াজ্জাহ করিতে পারিল না। তৎপরিবর্তে তার চোখের সামনে পীর সাহেবের মেহেদি-রঞ্জিত দাঁড়ি ও তার রূপা-বাঁধানো গড়গড়ার ছবি ভাসিয়া উঠিতে লাগিল।
ফলে তার কলবে যাতে-আহাদিগয়তের ফয়েজ হাসেল হইয়া তার রুহ্কে ঘড়ির কাঁটার মতো কাঁপাইবার পরিবর্তে ফুফু-আম্মার স্মৃতি বাড়ি যাইবার জন্য তার মনকে উচাটন করিয়া তুলিতে লাগিল।
দিন যাইতে লাগিল।
অনাহারে অনিদ্রায় এমদাদের চোখ দুটি মস্তকের মধ্যে প্রবেশ করিল। তার শরীর নিতান্ত দুর্বল ও মন অত্যন্ত অস্থির হইয়া পড়িল।
সে বুঝিল, এইভাবে আরও কিছুদিন গেলে তার রুহু বস্তুতই জেস্ম হইতে আযাদ হইয়া আল্মে-আমরে চলিয়া যাইবে।
সে স্থির করিল : পীর সাহেবের কাছে নিজের অক্ষমতার কথা নিবেদন করিয়া সে একদিন বিদায় হইবে।
কিন্তু বলি বলি করিয়াও কথাটা বলিতে পারিল না।
একটা নূতন ঘটনায় সে বিদায়ের কথাটা আপাতত চাপিয়া গেল! দূরবর্তা একস্থানে মুরিদগণ পীর সাহেবকে দাওয়াত করিল।
প্রকা- বজরায় একমণ ঘি, আড়াই মণ তেল, দশ মণ সরু চাউল, তিনশত মুরগী, সাত সের অম্বুরি তামাক এবং তেরজন শাগরেদ লইয়া পীর সাহেব ‘মুরিদানে’ রওয়ানা হইলেন।
পীর সাহেবের ভ্রমণ বৃত্তান্ত ইংরাজীতে লিখিয়া কলিকাতার সংবাদপত্রে পাঠাইবার জন্য এমদাদকেও সঙ্গে লওয়া হইল। নদীর সৌন্দর্য, নদীপারের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এমদাদের কাছে বেশ লাগিল।
পীর সাহেব গন্তব্যস্থানে উপস্থিত হইলেন।
তিনি মুরিদগণের নিকট যে অভ্যর্থনা পাইলেন, তাহা দেখিলে অনেক রাজা-বাদশাহ রাজত্ব ছাড়িয়া মোরাকেবা-মোশাহেদায় বসিতেন।
পীর সাহেব গ্রামের মোড়লের বাড়িতে আস্তানা করিলেন।
বিভিন্ন দিন বিভিন্ন মুরিদের বাড়িতে বিরাট ভোজ চলিতে লাগিল।
পীর সাহেবের একটু দূরে বসিয়া গুরুভোজ করিয়া এমদাদ এত দিনের কৃচ্ছ্র সাধনার প্রতিশোধ লইতে লাগিল। ইহাতে প্রথম প্রথম তার একটু পেটে পীড়া দেখা দিলেও শীঘ্রই সে সামলাইয়া উঠিল এবং তার শরীর হৃষ্টপুষ্ট ও চেহারা বেশ চিকনাই হইয়া উঠিতে লাগিল।
পীর সাহেবের ভাত ভাঙিবার কসরত দেখার সুযোগ ইতিপূর্বে এমদাদের হয় নাই। এইবার সে ভাগ্য লাভ করিয়া এমদাদ বুঝিল : পীর সাহেবের রুহানীশক্তি যত বেশিই থাকুক না কেন, তাঁর হজমশক্তি নিশ্চয়ই তার চেয়ে বেশি।
সন্ধ্যায় পুরুষদের জন্য মজলিশ বসিত।
রাতে এশার নামাজের পর অন্দর মহলে মেয়েদের জন্য ওয়াজ হইত। কারণ অন্য সময় মেয়েদের কাজে ব্যস্ত থাকিতে হয়।
সেখানে পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ ছিল।
স্ত্রীলোকদিগকে ধর্মকথা বুঝাইতে একটু দেরী হইত। কারণ মেয়েলোকের বুদ্ধিসুদ্ধি বড় কম, তারা নাকেস-আকেল।
কিন্তু বাড়িওয়ালার ছেলে রজবের সুন্দরী স্ত্রী কলিমন সম্বন্ধে পীর সাহেবের ধারণা ছিল অন্যরকম। মেয়ে-মজলিশে ওয়াজ করিবার সময় তিনি ইহারই দিকে ঘন-ঘন দৃষ্টিপাত করিতেন।
তিনি অনেক সময় বলিতেন : তাসাউওয়াফের বাতেনী কথা বুঝিবার ক্ষমতা এই মেয়েটার মধ্যেই কিছু আছে। ভাল করিয়া তওয়াজ্জোহ দিলে তাকে আবেদা রাবেয়ার দরজায় পৌঁছাইয়া দেওয়া যাইতে পারে।
এশার নামাজের পর দাঁড়িয়ে চিরুনি ও কাপড়ে আতর লাগান সুন্নত এবং পীর সাহেব সুন্নাতের একজন বড় মো’তেকাদ ছিলেন।
ওয়াজ করিবার সময় পীর সাহেবের প্রায়ই জয্বা আসিত।
সে জয্বাকে মুরিদগণ ‘ফানাফিল্লাহ’ বলিত।
এই ফানাফিল্লাহ্র সময় পীর সাহেব ‘জ্বলিয়া গেলাম’ ‘পুড়িয়া গেলাম’ বলিয়া চিৎকার করিয়া চিৎ হইয়া শুইয়া পড়িতেন। এই সময় পীর সাহেবের রুহ আলমে-খাল্ক্ হইতে আলমে-আমরে পৌঁছিয়া রুহে ইয়াদানির সঙ্গে ফানা হইয়া যাইত এবং নূরে ইয়াদানি তাঁর চোখের উপর আসিয়া পড়িত। কিন্তু সে নূরের জলওয়া পীর সাহেবের চক্ষে সহ্য হইত না বলিয়া তিনি এইরূপ চিৎকার করিতেন।
তাই জয্বার সময় একখ- কাল মখমল দিয়া পীর সাহেবের চোখ-মুখ ঢাকিয়া দিয়া তাঁর হাত-পা টিপিয়া দিবার ওসিয়ত ছিল।
এইরূপ জয্বা পীর সাহেবের প্রায়ই হইত।
এবং মেয়েদের সামনে ওয়াজ করিবার সময়েই একটু বেশি হইত।
এই সব ব্যাপারে এমদাদের মনে একটু খট্কার সৃষ্টি হইল।
কিন্তু সে জোর করিয়া মনকে ভক্তিমান রাখিবার চেষ্টা করিতে লাগিল।
সে চেষ্টায় সফল হইবার আগেই কিন্তু ও-পথে বাধা পড়িল। প্রধান খলিফা সুফী বদরুদ্দীন সাহেবের সঙ্গে পীর সাহেবকে প্রায়ই কানাকানি করিতে দেখিয়া এমদাদের মনের খট্কা বাড়িয়া গেল। তার মনে পীর সাহেবের প্রতি একটা দুর্নিবার সন্দেহের ছায়াপাত হইল।
এমন সময় পীর সাহেব অত্যন্ত অকস্মাৎ একদিন ঘোষণা করিলেন : তিনি আর দু-এক দিনের বেশি সে অঞ্চলে তশরিফ রাখিবেন না।
এই গভীর শোক সংবাদে শাগরেদ-মুরিদগণের সকলেই নিতান্ত গম্গিন হইয়া পড়িল।
জনৈক শাগরেদ সুফী সাহেবের ইশারায় বলিলেন : হুজুর কেবলা আপনি একদিন বলিয়াছিলেন; এবার এ-অঞ্চলের মুসলমানগণকে কেরামতে-নেস্বতে বায়নান্নাস দেখাইবেন? তা না দেখাইয়াই কি হুজুর এখান হইতে তশরিফ লইয়া যাইবেন? এখানকার মুরিদগণের অনেকেই বলিতেছেন : হুজুর মাঝে মাঝে কেরামত দেখান না বলিয়া উম্মী মুরিদগণের অনেকেই গোমরাহ হইয়া যাইতেছে। মওলানা লকবধারী ঐ ভ-টা ও-পাড়ার অনেক মুরিদকে ভাগাইয়া নিতেছে; সে নাকি বৎসর বৎসর একবার আসিয়া কেরামত দেখাইয়া যান।
পীর সাহেব গম্ভীর মুখে বলিলেন : (আরবী ও উর্দু) আল্লাহ্ই কেরামতের একমাত্র মালিক, মানুষের সাধ্য কি কেরামত দেখায়? ও-সব শয়তানের চেলাদের কথা আমার সামনে বলিও না। তবে হ্যাঁ, মোরাকেবায়ে-নেস্বতে বায়নান্নাস-এর তরবিক দেখাইব বলিয়াছিলাম বটে, কিন্তু তার আর সময় কোথায়?
সমস্ত সাগরেদ ও মুরিদগণ সমস্বরে বলিয়া উঠিলেন : না হুজুর, সময় করিতেই হইবে, এবার উহা না দেখিয়া ছাড়িব না।
অগত্যা পীর সাহেব রাজি হইলেন।
স্থির হইল, সেই রাত্রেই মোরাকেবা বসিবে।
সারাদিন আয়োজন চলিল।
রাত্রে মৌলুদের মহফেল বসিল। হযরত পয়গম্বর সাহেবের অনেক অনেক মোওয়াজেযাত বর্ণিত হইল।
মৌলুদ শেষে খাওয়া-দাওয়া হইল এবং তৎপর মোরাকেবার বৈঠক বসিল।

পাঁচ
পীর সাহেব বলিলেন : আজ তোমাদের আমি যে মোরাকেবার তরকিব দেখাইব, ইহা দ্বারা যে-কোনও লোকের রুহের সঙ্গে কথা বলিতে পারি। আমি যদি নিজে মোরাকেবায় বসি, তবে সেই রুহ গোপনে আমার সঙ্গে কথা বলিয়া চলিয়া যাইবে। তোমরা কিছুই দেখিতে পাইবে না। তোমাদের মধ্যে একজন মোরাকেবায় বস, আমি তার রুহের দিকে তোমরা যার কথা বলিবে তার রুহের তাওয়াজ্জোহ দেখাইয়া তারই রুহের ফয়েজ হাসিল করিব। তৎপর তোমরা যে-কেহ তার সঙ্গে কথা বলিতে পারিবে।
সকলে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করিতে লাগিল।
কেহই কোন কথা বলিল না, মোরাকেবায় বসিতে কেহই অগ্রসর হইল না।
এমদাদ দাঁড়াইয়া বলিল : আমি বসিব।
পীর সাহেব একটু হাসিলেন।
বলিলেন : বাবা, মোরাকেবা অত সোজা নয়, তুই আজিও যেকরে খফা-আম করিস নাই, মোরাকেবায় বসিতে চাস?
বলিয়া তিনি হো হো করিয়া হাসিয়া উঠিলেন।
দেখাদেখি উপস্থিত সকলেই হাসিয়া উঠিল।
লজ্জায় এমদাদের রাগ হইল। সে বসিয়া পড়িল।
পীর সাহেব আবার বললেন : কি, আমরে মুরিদগণের মধ্যে আজও কারও এতদূর রুহানী তরক্কী হাসেল হয় নাই, যে মোরাকেবায় বসিতে পারে? আমার খলিফাদের মধ্যেও কেহ নাই?
বলিয়া তিনি শাগরেদদের দিকে দৃষ্টি ফিরাইলেন।
প্রধান খলিফা সুফী সাহেব উঠিয়া বলিলেন : হুজুর কেবলা কি তবে বান্দাকে হুকুম করিতেছেন? আমি ত আপনার আদেশে কতবার মোরাকেবায়-নেস্বতে-বায়নান্নাসে বসিয়াছি। কোনও নূতন লোককে সবাইলে হইত না?
সুফী সাহেব আরও অনেকবার বসিয়াছেন শুনিয়া মুরিদগণের অন্তরে একটু সাহসের উদ্রেক হইল।
তারা সকলে সমস্বরে বলিল : আপনিই বসুন, আপনিই বসুন।
অগত্যা পীর সাহেবের আদেশে সুফী সাহেব মোরাকেবায় বসিলেন।
পীর সাহেব উপস্থিত দর্শকদের দিকে চাহিয়া বলিলেন : কার রুহের ফয়েজ হাসিল করিব?
মুরিদগণের মুখের কথা যোগাইবার আগেই জনৈক সাগরেদ বলিলেন : এই মাত্র মৌলুদ-শরীফ হইয়াছে; হযরত পয়গম্বর সাহেবের মোয়াজেযা বয়ান হইয়াছে। তাঁরই রুহ আনা হোক।
সকলেই খুশী হইয়া বলিলেন : তাই হউক, তাই হউক।
তাই হইল।
সুফী সাহেব আতর-সিক্ত মুখম-লের গালিচায় তাকিয়া হেলান দিয়া বসিলেন। চারিদিকে আগরবাতি জ্বালাইয়া দেওয়া হইল। মেশক্ যাফরান ও আতরের গন্ধে ঘর ভরিয়া গেল।
পীর সাহেব তাঁর প্রধান খলিফার রুহে শেষ পয়গম্বর হযরত মোহাম্মদের রুহ-মোবারক নাযেল করিবার জন্যে ঠিক তাঁর সামনে বসিলেন।
শাগরেদরা চারিদিক ঘিরিয়া বসিয়া মিলিত-কণ্ঠে সুর করিয়া দরুদ পাঠ করিতে লাগলেন। পীর সাহেব কখনও জোরে কখনও বা আস্তে নানা প্রকার, দোওয়া কালাম পড়িয়া সুফী সাহেবের চোখে-মুখে ফুঁকিতে লাগিলেন।
কিছুক্ষণ ফুঁকিবার পর শাগরেদগণকে চুপ করিতে ইঙ্গিত করিয়া পীর সাহেব বুকে হাত বাঁধিয়া একদৃষ্টে সুফী সাহেবের বুকের দিকে চাহিয়া রহিলেন।
সুফী সাহেবের বুকের দুইটা বোতাম খুলিয়া তাঁর বুকের খানিকটা অংশ ফাঁক করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। পীর সাহেব তাঁর দৃষ্টি সেইখানেই নিবদ্ধ করিলেন।
অল্পক্ষণ মধ্যেই সুফী সাহেবের শরীর কাঁপিতে লাগিল। কম্পন ক্রমেই বাড়িয়া গেল। সুফী সাহেব ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলিতে লাগিলেন এবং হাত পা ছুঁড়িতে ছুঁড়িতে মূর্ছিতের ন্যায় বিছানায় লুটাইয়া পড়িলেন।
পীর সাহেব মুরিদগণের দিকে চাহিয়া বলিলেন : বদর বাবাজীর একটু তদ্লিফ হইল!
কি করিব? পরের রুহের উপর অন্য রুহের ফয়েজ হাসেল আসানির সঙ্গে করে বেলকুল না-মোমকেন। যা হউক, হযরতের রুহ তশরিফ আনিয়াছেন। তোমরা সকলে উঠিয়া কেয়াম কর।
বলিয়া তিনি স্বয়ং উঠিয়া পড়িলেন। সকলেই দাঁড়াইয়া সমন্বরে পড়িতে লাগিল : ইয়া নবী সালাম আলায় কা ইত্যাদি।
কেয়াম ও দরুদ শেষ হইলে অভ্যাসমত অনেকেই বসিয়া পড়িল।
পীর সাহেব ধমক দিয়া বলিলেন : হযরতের রুহে পাক এখনও এই মজলিশে হাজির আছেন, তোমরা কেহ বসিতে পারিবে না। কার কি সওয়াল করিবার আছে করিতে পার।
এমদাদ একটা বিষয় ধাঁধায় পড়িয়া গেল। সে ইহাকে কিছুতেই সত্য বলিয়া মানিয়া লইতে পারিল না।
মাথায় এক ফন্দি আঁটিয়া অগ্রসর হইয়া বলিল : কেবলা আমি কোন সওয়াল করিতে পারি?
পীর সাহেব চোখ গরম করিয়া বলিলেন : যাও না, জিজ্ঞাসা কর না গিয়া!
বলিয়া কণ্ঠস্বর অপেক্ষাকৃত মোলায়েম করিয়া আবার বলিলেন : বাবা সকলের কথাই যদি রুহে পাকের কাছে পৌঁছিত, তবে দুনিয়ার সব মানুষই ওলি-আল্লাহ হইয়া যাইত।
এমদাদ তথাপি সুফী সাহেবের দিকে চাহিয়া বলিল : আপনি যদি হযরত পয়ম্বর সাহেবের রুহ হন, তবে আমার দরুদ-সালাম জানিবেন।
হযরতের রুহ কোন জবাব দিলো না।
পীর সাহেব এমদাদের কাঁধে হাত দিয়ে তাকে একদিকে ঠেলিয়া দিয়া বলিলেন : অধিকক্ষণ রুহে পাককে রাখা বে-আদবি হইবে। তোমাদের যদি কাহারও সিনা সাফ হইয়া থাকে, তবে আসিয়া যে কোন সওয়াল করিতে পার।
বলিতেই পীর সাহেবের অন্যতম খলিফা মওলানা বেলায়েতপুরী সাহেব আসর হইয়া ‘আস্সালামো আলায়কুম ইয়া রসূলুল্লাহ’ বলিয়া সুফী সাহেবের সামনে দাঁড়াইলেন।
সকলে বিস্মিত হইয়া শুনিল সুফী সাহেবের মুখ দিয়া বাহির হইল : ওয়া আলায়কুমস্ সালাম, ইয়া উম্মতী।
মওলানা সাহেব বলিলেন : হে রেসালাত-পনা, সৈয়দুল কাওনায়েন, আমি আপনার খেদমতে একটা আরজ করিতে চাই।
আওয়াজ হইল : শীগগির বল, আমার আর দেরী করিবার উপায় নাই।
মওলানা : আমাদের পীর দস্তগির কেবলা সাহেব নূরে-ইয-দানির জওয়াশা সহ্য করিতে পারেন না, ইহার কারণ কি? তার আমলে কি কোনও গলৎ আছে?
কঠোর সুরে উত্তর হইল : হ্যাঁ, আছে।
পীর সাহেব শিহরিয়া উঠিলেন। তিনি কাঁদ-কাঁদ সুরে নিজেই বলিলেন : কি গলৎ আছে, ‘ইয়া রসূলুল্লাহ? আমার পঞ্চাশ বৎসরের রঞ্জ-কশি কি তবে সব প- হইয়াছে? বলিয়া পীর সাহেব কাঁদিয়া ফেলিলেন।
সুফী সাহেবের অচেতন দেহের মধ্যে হইতে আওয়াজ হইল : হে আমার পিয়ারা উম্মৎ, ঘাবড়াইও না। তোমার উপর আল্লাহর রহমৎ হইবে। তুমি মারফৎ খুঁজিতেছ। কিন্তু শরীয়ত ত্যাগ করিয়া কি মারফৎ হয়?
পীর সাহেব হাত কচলাইয়া বলিলেন : হুজুর, আমি কবে শরীয়ত অবহেলা করিলাম?
উত্তর হইল : অবহেলা কর নাই, কিন্তু পালনও কর নাই। আমি শরিয়তে চার বিবি হালাল করিয়াছি। কিন্তু তোমার মাত্র তিন বিবি। যারা সাধারণ দুনিয়াদার মানুষ তাদের এক বিবি হইলেও চলিতে পারে। কিন্তু যারা রুহানী ফয়েজ হাসিল করিতে চায়, তাদের চার বিবি ছাড়া উপায় নাই! আমি চার বিবির ব্যবস্থা কেন করিয়াছি, তোমরা কিছু বুঝিয়াছ? চার দিয়াই এ দুনিয়া, চার দিয়াই আখেরাত। চারদিকে যা দেখ সবই খোদা চার চিজ দিয়া পয়দা করিয়াছেন। চার চিজ দিয়া খোদাতা’লা আদম সৃষ্টি করিয়া তার হেদায়েতের জন্য চার কেতাব পাঠাইয়াছেন। সেই হেদায়েত পাইতে হইলে মানুষকে চার এমামের চার তরিকা মানিয়া চলিতে হয়। এইভাবে মানুষকে চারের ফাঁদে ফেলিয়া খোদাতা’লা চার কুরসির অন্তরালে লুকাইয়া আছেন। এই চারের পরদা ঠেলিয়া আলমে-আমরে-নূরে-ইয্দানিতে ফানা হইতে হইবে, দুনিয়াতে চার বিবির ভজনা করিতে হইবে।
পীর সাহেব সকলকে শুনাইয়া হযরতের রুহের দিকে চহিয়া বলিলেন : এই বৃদ্ধ বয়সে আবার বিবাহ করিব?
তুমি বৃদ্ধ? আমি ষাট বৎসর বয়সে নবম বার বিবাহ করিয়াছিলাম।
পীর সাহেব মিনতি ভরা কণ্ঠে বলিলেন : না রেসালাত-পানা আমি আর বিবাহ করিব না।
না কর, ভালই। কিন্তু তোমার রুহানী কামালিয়ত হাসেল হইবে না, তুমি নূরে ইযদানির জলওয়া বরদাশত করিতে পারিবে না। তোমার মুরিদানের কেহই নফসানিয়তের হাত এড়াইতে পারিবে না।
পীর সাহেব হাঁটু গাড়িয়া বসিয়া বলিলেন : আমি নিজের জন্য ভাবি না ইয়া রসূলুল্লাহ; কিন্তু যখন আমার মুরদিগণের অনিষ্ট হইবে, তখন বিবাহ করিতে রাজি হইলাম। কিন্তু আমি এক বুড়িকে বিবাহ করিব।
তুমি তওবা আসতাগফার পড়। তুমি খোদার কলম রদ করিতে চাও? তোমার বিবাহ ঠিক হইয়া আছে। বেহেশতে আমি তার ছবি দেখিয়া আসিয়াছ।
সে কে, ইয়া রসূলুল্লাহ?
এই বাড়ির তোমার মুরিদের ছোট ছেলে রজবের স্ত্রী কলিমন।
ইয়া রসূলুল্লাহ, আমি মুরিদের স্ত্রীকে বিবাহ করিব? সে যে আমার বেটার বউ-এর শামিল।
ইয়া উম্মতি, আমি আমার পালিত পুত্র যায়েদের স্ত্রীকে নিকাহ্ করিয়াছিলাম, আর তুমি একজন মুরিদের স্ত্রীকে নিকাহ্ করিতে পারিবে না?
ইয়া রসূল্লাহ, সে যে সধবা।
রজবকে বল স্ত্রীকে তালাক দিতে। কলিমন তোমার জন্যই হালাল। এ মারফতি নিকায় ইদ্দত পালনের প্রয়োজন হইবে না। আমি আর থাকিতে পারি না। চলিলাম। অররহহুমাতুল্লাহ আলায়কুম, ইয়া উম্মতি।
মূর্ছিত সুফী সাহেব একটা বিকট চিৎকার করিলেন। পীর সাহেবের অপর অপর শাগরেদরা তাঁকে সজোরে পাখার বাতাস করিতে লাগিলেন।
মুরিদগণের সনির্বন্ধ অনুরোধ সত্ত্বেও পীর সাহেব মাথা নাড়িয়া বলিতে লাগিলেন : চাই না আমি রুহানী কামালিয়ত। আমি মুরিদের বউকে বিবাহ করিতে পারিব না।
গ্রাম্য মুরিদগণ আখেরাতের ভয়ে পীর সাহেবের অনেক হাতে-পায়ে ধরিল। পীর সাহেব অটল।
এই সময় প্রধান খলিফা সুফী সাহেব স্মরণ করাইয়া দিলেন : এই নিকাহ না করিলে কেবল পীর সাহেবের একারই রুহানী লোকসান হইবে না, তাঁর মুরিদগণের সকলের রুহের উপরও বহুত মুসিবত পড়িবে। তখন পীর সাহেব অগত্যা নিজের রেজামন্দী জানাইয়া দাঁড়িতে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিতে লাগিলেন ছোবহান আল্লাহ! এ সবই কুদরতে এলাহী! তাঁরই শানে-আজিম! আল্লাহ্ পাক নিজেই কোরান-মজিদ ফরমাইয়াছেন (আরবী ও উর্দু)…।
বাপ-চাচা পাড়া-পড়শীর অনুরোধে, আদেশে, তিরস্কারে ও অবশেষে উৎপীড়নে তিষ্টিতে না পারিয়া রজব তার এক বছর আগে বিয়া-করা আদরের স্ত্রীকে তালাক দিল এবং কাপড়ের খুঁটে চোখ মুছিতে মুছিতে বাড়ির বাহির হইয়া গেল।
কলিমনের ঘন-ঘন মূর্ছার মধ্যে অতিশয় ত্রস্ততার সঙ্গে শুভকার্য সমাধান হইয়া গেল।
এমদাদ স্তম্ভিত হইয়া বর বেশে সজ্জিত পীর সাহেবের দিকে চাহিয়া ছিল। তার চোখ হইতে আগুন ঠিক্রাইয়া বাহির হইতেছিল।
এইবার তার চেতনা ফিরিয়া আসিল। সে এক লাফে বরাসনে-উপবিষ্ট পীর সাহেবের সম্মুখে উপস্থিত হইয়া তাঁর মেহেদি-রঞ্জিত দাড়ি ধরিয়া হেচ্কা টান মারিয়া বলিল : রে ভ- শয়তান! নিজের পাপ-বাসনা পূর্ণ করিবার জন্য দুইটা তরুণ প্রাণ এমন দুঃখময় করিয়া দিতে তোর বুকে বাজিল না?
আর বলিতে পারিল না। শাগরেদ-মুরিদরা সকলে র্মা র্মা করিয়া আসিয়া এমদাদকে ধরিয়া ফেলিল এবং চড়-চাপড় মারিতে লাগিল।
এমদাদ গ্রামের মাতব্বর সাহেবের দিকে চাহিয়া বলিল : তোমরা নিতান্ত মূর্খ। এই ভ-ের চালাকি বুঝিতে পারিতেছ না? নিজে শখ মিটাইবার জন্য যে হযরত পয়গম্বর সাহেবকে লইয়া তামাসা করিয়া তাঁর অপমান করিতেছে। তোমরা এই শয়তানকে পুলিশে দাও।
পীর সাহেবের প্রতি এমদাদের বেয়াদবিতে মুরিদরা ইতিপূর্বে একটু অসন্তুষ্ট হইয়া ছিল। এবার তার মস্তিষ্ক বিকৃতি সম্বন্ধে তারা নিঃসন্দেহ হইল। মাতব্বর সাহেব হুকুম করিলেন : এই পাগলটা আমাদের হুজুর কেবলার অপমান করিতেছে। তোমরা কয়েকজন ইহাকে কান ধরিয়া গ্রামের বাহির করিয়া দিয়া আস।
ভূলুণ্ঠিত পীর সাহেব ইতিমধ্যে উঠিয়া ‘আস্তাগফেরুল্লাহ’ পড়িতে পড়িতে তাঁর আলুলায়িত দাঁড়িতে আঙ্গুল দিয়া চিরুনি করিতেছিলেন। মাতব্বর সাহেবের হুকুমের পিঠে তিনি হুকুম করিলেন : দেখিস বাবারা, ওকে বেশি মারপিঠ করিস না। ও পাগল। ওর মাথা খারাপ। ওর বাপ ওকে আমার হাতে সঁপিয়া দিয়াছিল। অনেক তাবিজ দিলাম। কিন্তু কোনও ফল হইল না। খোদা যাকে সাফা না দেন, তাকে কে ভালো করিতে পারে?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল মাহমুদ ভাই আপনাকে ধন্যবাদ

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মুসলমানগন প্রতিবাদ করতে জানে:

বাংলার মুসলমানগন প্রতিবাদ করতে জানে। ১৯৫২ সালে তারা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র নজির। ১৯৭১ সালে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে ।তাহলে সেই বাংলার মুসলমানগণ নিজেদের প্রাণের চেয়ে অধিক প্রিয়, যিনি মুসলমানদের ঈমান উনার সম্মানার্থে কি প্রতিবাদ করতে পারে না? উনার শানে বেয়াদবী প্রদর্শনকারী কুলাঙ্গারগুলোকে জমিনের সবচেয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারে না?
সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা যদি চিরতরে এসব কুলাঙ্গারদের শয়তানী বন্ধ না করে, তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতগণ কখনো চুপ থাকবে না।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিগত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া এধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলোর পিছনে দেখা গেছে উগ্রবাদী হিন্দুরাই সরাসরি জড়িত। শতকরা ৯৭% মুসলমানের দেশে ১.৭৫% হিন্দু কি করে এ সাহস পায়? তাহলে এর পিছনে কি কোন ষড়যন্ত্রকারীগোষ্ঠী রয়েছে? বাংলার মুসলমানদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, এর পিছনে যারাই থাকুকনা কেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তাদেরকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে।



তুমি যে একটা ছাগু আর না বললেই হলঃ

১। ১৯৪৮ সালের ২৫ আগস্ট পাকিস্তান গণপরিষদে অধিবেশনের সকল কার্যবিবরণী ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাতেও রাখার দাবি উত্থাপন করেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত । তিনি কি মুসলিম ছিলেন? তোমরা ভাষা আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেও সাম্প্রদায়িক রূপ দিতে চাও সেলুকাস।

২। আদমশুমারির রিপোর্ট ও জানো না।

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাতক্ষীরায় রাজনৈতিক গ্যাঞ্জাম নাই। সেখানে হিন্দু মানেই বুঝায় আওয়ামিলীগ মুসল্মান মানেই বুঝায় জামাত।
চ্রম অশিক্ষিত গ্রাম্যঅঞ্চলে এইতো হওয়ার কথা। গ্রামগুলিতে চরম অসাম্প্রদায়িকতা দেখা যায়।

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অশিক্ষিত অঞ্চলে হিন্দু আওয়ামী লীগ মুসলমান জামাতি - এইটা কেমনে কাজ করে?

অশিক্ষিত হইলে ধর্ম হিসাবে আওয়ামী জামাতি কেমনে হয়?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল ভাই এইটা কেমনে বুঝামু !! শিক্ষার হার যত কম তত বেশি ধর্মীয় রেশারেশি বেশি।

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি বুঝি ঠিকই, তবে অনেকে বুইঝাও স্বীকার করতে চায় না। ওনারা জীবন বাজি রাইখা প্রমান কইরা দিব যে টাকা পয়সা ক্ষমতার লাইগাই মাইনষে জামাতি হয় আর রাজাকারি করে, ধর্মের কোন ভূমিকাই নাই, থাকতে পারে না।

উচ্চ শিক্ষিতের মাঝেও ঘটনা যে উলটা এমন না। জামাতি থিং ট্যাং এ বহু উচ্চ শিক্ষিত পাবলিকও আছে। এদের চেনা একটু মুশকিল কারন এরা সরাসরি সবসময় চেহারা দেখায় না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দস্তার টাইপের মাল আমার ব্লগে কি করে?

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আজীব কাহিনী শুনাইলেন মিয়া,হিন্দুগো এই দেশে থাকতে দিছি,মাঝে মধ্যে দুই একটা চড় থাপ্পড় দিলে কী সমস্যা?এত বেশি চুলকানি উঠলে ইন্ডিয়া যাউকগা,তলে তলে তো ওইখানে ব্যবস্থা কইরা রাখছে সব শালা মালাউন।

মালাউন মালাউনের মতই থাক,মানুষ হইতে না চাওয়াই মঙ্গলজনক।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে বর্বরতার বর্ণনা দেন শেখ রিয়াজউদ্দিন। তিনি বলেন, যারা লুটপাট করেছে তাদের কেউ খালি হাতে যায়নি। সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা হামলায় মিতা রানীর ৩ বছরের শিশুকে আগুনের মধ্যে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করে হামলা কারীরা। বাচ্চাটি মিতারানীর নয় বলে এবং নিজের দাবি করে প্রতিবেশী একজন বাচ্চাটিকে রক্ষা করেন। তিনি ঘটনার মদদদাতা হিসাবে স্থানীয় একটি দৈনিককে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এবং স্থানীয় সংবাদদাতাকে গ্রেফতারের দাবি জানান। ।

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হুজুর কেবলা’ নাটকের লেখক আবুল মনসুর আহমেদকে স্বশ্রদ্ধ সালাম জানাই। নাটকটি পড়ে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লেগেছে শিক্ষিত মুসলমানদেরই। নির্যাতিত- নিপীড়িতদের প্রতি এদের মায়াকান্না একপ্রকার ভণিতা, প্রতারণা। এ সমস্ত অমানবিক-পাশবিক ঘটনার সাথে বেশীরভাগ শিক্ষিত মুসলমানের পরোক্ষ সমর্থন আছে বলেই ঘটনা বারবার ঘটছে আরো ঘটবে। একদিন এ দেশে একজন অমুসলিমও থাকবেনা। চলার পথে শিক্ষিতদের বউয়ের পাছা অশিক্ষিতের বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত হবে। নারীদেরকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মাথার চুল কেটে, মুখে আলকাতরা মাখিয়ে, হিজাব-নেকাব, বোরকা পরিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে আর শিক্ষিত মুসলমানেরা মাথা নত করে তা মেনে নিবে। একদিন আল্লাহর চেয়ে ব্যক্তি মুহাম্মদের পূজারী হবে বেশী। আর তখন সবকিছু চলে যাবে নষ্টের হাতে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই গানের কথাগুলো থাকবে তখন ইতিহাস



See video


-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!

glqxz9283 sfy39587p07