Skip to content

পাকিস্তান পয়দার আগেই স্বাধীন বাংলার পূর্বাভাস

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভারত বিভাজনকালে দেওয়া কংগ্রেস পার্টির নেতা মাওলানা আবুল কালাম আযাদের একটি সাক্ষাৎকার নজরে এলো। সাক্ষাৎকারটি তিনি দিয়েছিলেন ১৯৪৬ সালে আগা শোরিশ কাশ্মিরি নামের একজন সাংবাদিককে। তখন ক্যাবিনেট মিশনের বৈঠক চলছে, পাকিস্তানের আন্দোলন তখন তুঙ্গে। উর্দুতে গৃহিত সাক্ষাৎকারটি লাহোরের 'মাতবুয়াত চাত্তান' প্রকাশনা সংস্থা থেকে কাশ্মিরির একটি বইয়ে প্রকাশিত হয়েছিল।

সম্প্রতি ভারতের সাবেক মন্ত্রী আরিফ মোহাম্মদ খান বইটির একটি কপি সন্ধান করে সাক্ষাৎকারটির ইংরেজি তর্জমা Covert নামের পত্রিকায় ছাপিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটিতে পাকিস্তানের ভবিষ্যত সম্পর্কে মাওলানা যে সমস্ত ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার সাথে পরবর্তী বাস্তব ঘটনা প্রবাহের মিল তাক লাগিয়ে দেবার মত। মাওলানার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি এবং ইতিহাস জ্ঞানের পরিচয় সাক্ষাৎকারের ছত্রে ছত্রে পাওয়া যায়। এই সাক্ষাৎকারের ভবিষ্যত পাকিস্তান (তখনও পাকিস্তান পয়দা হয়নি) থেকে পূর্ব বাংলার বিচ্ছিন্ন হবার পূর্বাভাস দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি অনেক বড়, এখানে কিছুটা অনুবাদ করে দিচ্ছি।

তার আগে বলে নেই, পত্রিকা ও ব্লগে যা দেখলাম, ভারতীয় মুসলমানরা এই সাক্ষাৎকারে প্রদত্ত বক্তব্য খুব ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছে, কিন্তু পাকিস্তানীদের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এমন কি সাক্ষাৎকারটি যে বানোয়াট, তাও প্রমাণের চেষ্টা চলছে।



পাকিস্তানের জন্ম অবশ্যম্ভাবী কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে মাওলানা এক পর্যায়ে বলেন

ধর্মের ভিত্তিতে রাজ্য বিভাজন মুসলিম লীগের আবিষ্কৃত ধারণা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হিসাবে তারা এটার পেছনে ছুটতে পারে কিন্তু ইসলাম বা কুর'আনে এর পক্ষে কোন সমর্থন নাই। একজন মুমিন মুসলমানের আরাধ্য লক্ষ্য কী? ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়া, নাকি রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থে ধর্মের ভিত্তিতে রাজ্য বিভাজন? পাকিস্তান দাবী মুসলমানদের কোন ভাবেই উপকৃত করেনি। ... মুসলিম লীগ যে পথে যাচ্ছে, তাতে নিশ্চিত ভাবে পাকিস্তান ও ভারতে ইসলাম একটি দুর্লভ জিনিসে পরিণত হবে। এটা একটা চিন্তা মাত্র, আল্লাহই একমাত্র জানেন পাকিস্তানের ভবিষ্যতের গর্ভে কী আছে।


পাকিস্তান হলে সমস্যা কী? মুসলমানদের ঐক্য অর্জন ও সুরক্ষার জন্যই তো ইসলামকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর উত্তরে মাওলানা বলেন

ইসলামের নাম আপনি যেভাবে ব্যবহার করছেন ইসলামি মানদন্ডে তা ঠিক না। মুসলিম ইতিহাসে এরকম ভয়ানক আচরণের অনেক উদাহরণ আছে। [ইমাম আলি ও হযরত আয়েশার মধ্যে সংঘটিত] জামালের যুদ্ধে বর্শার আগায় কুর'আন বিদ্ধ করে প্রদর্শন করা হয়েছিল। সেটা কি ঠিক ছিল? নবীর সাহাবা হিসাবে দাবী করে, এমন লোকদের হাতে কারবালায় মহানবীর পরিবারের সদস্যরা শাহাদৎ বরণ করেছিলেন। সেটা কি ঠিক ছিল? হাজ্জাজ একজন মুসলিম সেনাধিপতি ছিলেন, তিনি মক্কার পবিত্র মসজিদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিলেন। সেটা কি ঠিক ছিল? পবিত্র শব্দাবলী দিয়ে ভন্ড কোন উদ্দেশ্যকে যুক্তিযুক্ত বা গ্রহণযোগ্য করা যায় না।

[...]

আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে ঘৃণার মধ্যে দিয়ে যে সত্তার জন্ম, তার স্থায়িত্ব ঘৃণার মেয়াদ যতদিন ততদিন পর্যন্ত। এই ঘৃণা ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব ফেলবে। এই অবস্থায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বন্ধুত্ব ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব হবে না, যদি না কোন ভয়ানক দুর্যোগ সাধিত না হয়। [...] পাকিস্তানের ক্ষমতা নাই ভারতবর্ষের সব মুসলমানের স্থান সংকুলানের। অন্যদিকে বিশেষ করে পশ্চিম পাকিস্তানে হিন্দুদের পক্ষে থাকা সম্ভব হবে না। তারা হয় বিতাড়িত হবে নয়তো স্বেচ্ছায় বেরিয়ে আসবে। ভারতে এর প্রতিক্রিয়া হবে এবং ভারতীয় মুসলমানদের সামনে তিনটি পথ খোলা থাকবেঃ

১। তারা লুট ও নির্যাতনের শিকার হয়ে পাকিস্তানে হিজত করবে। কিন্তু সেখানে কতজন মুসলিমের পক্ষে আশ্রয় পাওয়া সম্ভব?

২। তারা হত্যা ও অন্যান্য বাড়াবাড়ির শিকার হবে। বহু মুসলমান এই বিভীষিকা মধ্যে দিয়ে যাবে যতক্ষণ না দেশভাগের তিক্ত স্মৃতি হারিয়ে যায় এবং দেশভাগকালের প্রজন্ম স্বাভাবিকভাবে বিদায় নেয়।

৩। বেশ কিছু সংখ্যক মুসলমান দারিদ্র, রাজনৈতিক দিগভ্রান্তি ও আঞ্চলিক অনুন্নতির তাড়নায় ধর্মত্যাগের সিদ্ধান্ত নিবে।

মুসলিম লীগের সমর্থক প্রভাবশালী মুসলমানরা পাকিস্তানে চলে যাবে। ধনী মুসলমানরা পাকিস্তানের শিল্প ও ব্যবসার হাল ধরবে ও অর্থনীতিতে একচেটিয়া ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু ৩ কোটিরও বেশি মুসলমান ভারতে রয়ে যাবে। তাদের জন্য পাকিস্তানের কী দেবার আছে? পাকিস্তান থেকে হিন্দু ও শিখদের বিতারণের পর ভারতীয় মুসলমানদের জন্য পরিস্থিতে আরো বিপজ্জনক হয়ে যাবে।

পাকিস্তান স্বয়ং নানা গুরুতর সমস্যায় জর্জরিত হবে। সবচেয়ে বড় বিপদ আসবে আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহ থেকে, যারা নতুন দেশটিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবে। সময়ের সাথে সেই নিয়ন্ত্রণ কঠোর হতে থাকবে। ভারতের এই সমস্যা হবে না, ভারতের বিপদ ও শত্রুতা আসবে পাকিস্তানের দিক থেকে।

অন্য যে গুরত্বপূর্ণ বিষয় জিন্নাহ সাহেবের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে তা হল বাংলা। তিনি জানেন না যে বাংলা বাইরের নেতৃত্ব পছন্দ করে না এবং আগে হোক পরে হোক তার বিরুদ্ধাচরণ করবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ফজলুল হক সাহেব জিন্নাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং তাঁকে মুসলিম লীগ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এইচ. এস. সোহরাওয়ারদি সাহেব জিন্নাহ সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করেন না। শুধু মুসলিম লীগ কেন, কংগ্রেসের ইতিহাসের দিকে তাকান। সুভাষ চন্দ্র বোসের বিদ্রোহের কথা সবার জানা। গান্ধিজি বোসের সভাপতিত্ব নিয়ে খুশি ছিলেন না এবং আমরণ অনশন শুরু করে বোসের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেন।

সুভাষ বোস গান্ধিজির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এবং কংগ্রেস থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। বাংলার পরিবেশ এমন যে তারা বাইরের নেতৃত্ব পছন্দ করে না এবং নিজেদের অধিকার এবং স্বার্থের উপর হুমকির আঁচ পেলে বিদ্রোহ করে।
জিন্নাহ ও লিয়াকত আলি যতদিন থাকবে, ততদিন পূর্ব পাকিস্তানের আস্থায় চিড় ধরবে না। কিন্তু তাঁদের পর যে কোন মামুলি ঘটনায় বিরূপ মনোভাব ও অসন্তোষ সৃষ্টি হবে। আমি মনে করি পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে দীর্ঘ দিন এক থাকা সম্ভব না। উভয় এলাকার লোক নিজেদের মুসলমান ডাকে, এ ছাড়া এই দুই এলাকার মধ্যে কোন মিল নাই। কিন্তু শুধু মুসলমান পরিচয়টাই পৃথিবীর কোথাও স্থায়ী রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টি করেনি। আরব জগত আমাদের সামনে আছে, তাদের ধর্ম এক, সভ্যতা ও সংস্কৃতি এক, তারা এক ভাষায় কথা বলে। বাস্তবে তারা ভূমির ঐক্যের কথা বলে কিন্তু তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য নাই। তাদের সরকার ব্যবস্থা পৃথক এবং তারা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও শত্রুতায় লিপ্ত হয়। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা, ঐতিহ্য, জীবনধারা পশিচম পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণ পৃথক. পাকিস্তান সৃষ্টির প্রাথমিক উচ্ছ্বাস কেটে যাবার পর বৈপরিত্যগুলো ফুটে উঠবে এবং অধিকার আদায়ের সুর উঠবে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাত তাতে ইন্ধন যোগাবে ফলে দেশটির দুই অংশ পৃথক হয়ে যাবে।
পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্ন হবার পর, যখনই তা হোক, পশ্চিম পাকিস্তান আঞ্চলিক সংঘাত ও বিবাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হবে। পাঞ্জাব, সিন্ধ, সীমান্ত ও বালুচিস্তানের জনগোষ্ঠির স্বতন্ত্র পরিচিতি প্রতিষ্টার প্রচেষ্টা বাইরের হস্তক্ষেপের দরজা খুলে দিবে। এরপর অচিরেই বাইরের শক্তি পাকিস্তানের নেতৃত্বের বিভিন্নমুখী উপাদানসমূহকে কাজে লাগিয়ে দেশটিকে বলকান বা আরব দেশগুলির মত খন্ড-বিখন্ড করে ফেলবে।

[...]

আমি মনে করি একদম গোড়া থেকে পাকিস্তান কিছু গুরুতর সমস্যায় ভুগবে।

১। অন্য অনেক মুসলিম দেশের মত অযোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব সামরিক স্বৈরাচারের পথ সুগম করবে।

২। বৈদেশিক ঋণের ভারী বো্ঝা।

৩। প্রতিবেশি দেশসমূহের সাথে বন্ধুত্বের অভাব এবং সশস্ত্র যুদ্ধের সম্ভাব্যতা।

৪। আভ্যন্তরিণ গোলযোগ ও আঞ্চলিক সংঘর্ষ।

৫। পাকিস্তানের নব্য ধনী ও শিল্পপতি কর্তৃক রাষ্ট্রিয় সম্পদ লুন্ঠন।

৬। নব্য ধনীদের শোষণের ফলে শ্রেণি যুদ্ধের ভয়।

৭। ধর্মের প্রতি তরুণ সম্প্রদায়ের অসন্তোষ, ধর্ম ত্যাগ এবং পাকিস্তান তত্ত্বের পতন।

৮। পাকিস্তানকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আন্তর্জাতিক শক্তিসমুহের চক্রান্ত।


পূর্ণ সাক্ষাৎকার (ইংরেজিতে)

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার আগ্রহের বিষয়!
পরে মতামত দিয়াম।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দারুন বয়ান জানলাম smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো । ধন্যবাদ ।
.......................................

----------------------------------------------------------
''কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো''
আমার সোনার বাংলা ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাকিস্তান রাষ্ট্র দর্শনের দুর্বলতা এবং মুসলমানদের জন্য এইটা কি পরিমান বিপর্যয় নিয়ে আসবে তা তিনি বিভিন্ন ভাষণে অনেকবারই উল্লেখ করেছেন



See video




মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই সময় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মুসলমানদের একটা বড় অংশ তাকে স্রেফ ইগনোরই করে গেছে যদিও এখন খোদ পাকিস্তানেও তার কথাগুলা নিয়ে টক শোতে জোর আলোচনা চলে



See video




মওলানা আবুল কালাম আজাদের অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনার একটা দৃশ্য ( গান্ধি মুভি থেকে)



See video


____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ। উর্দু বুঝি না, তাই ভাষণের ভিডিও ক্লিপ যুক্ত করিনি। ভারতীয় অনেক মুসলমান মাওলানার সুরে বলছেন ভারত ভাগ না হলে ভারতবর্ষের মুসলিম সম্প্রদায় আরো শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হত। মজার ব্যাপার হল ভারতের ইসলামপন্থী ও আলেম সমাজের একটা বড় অংশ পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধী ছিল। শরাবপায়ী, শুকরভূক, স্যুটেড-ব্যুটেড জিন্নাহ যখন পাকিস্তানের জন্য প্রাণাতিপাত করছেন, তখন মাওলানা আযাদ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামি, আহরার-ই-ইসলামির মত দল এবং দেওবন্দ ঘরানার মোল্লারা সরাসরি এর বিরোধিতা করেছে।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাকিস্তান আন্দোলন এবং মুসলিমলীগ দলকে বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যাবে তা হচ্ছে উত্তর প্রদেশের ঊর্দু ভাষী শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী ছিল দু নেশন থিয়োরির সবচেয়ে উৎসুক সমর্থক ছিল । তাদের ক্যালকুলেশন ছিল সিম্পল শিক্ষা দীক্ষায় আর্থ সামাজিক অবস্থার বিচারে তারা যেহেতু অন্যান্য অঞ্চলের মুসলমানদের থেকে অগ্রগামী সেই কারনে পাকিস্তান হলে তারাই হবে ক্রিমি লেয়ার হবে । পাঞ্জাবীরা তাদের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে

পাকিস্তান বলেন কিংবা বাংলাদেশ দুইটা জায়গাতেই এরা সমান ভাবে বাঁশ খেয়েছে নিজেদের অবস্থা না ঘরকা না ঘটকা হয়ে গেছে !

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অট: পোস্টে/কমন্টে ইউটিউব ভিডিও কিভাবে দেন?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

"ইংরেজ দুইশত বৎসর শাসন করেছে , বাংলার সম্পদ বাংলা থেকে চলে গেছে- বাংলার পাট, বাংলার চা, বাংলার চামড়া, বাংলার অন্যান্য সম্পদ লুট হয়েছে,সেই ইতিহাস গেল-তারপর দুর্ভাগ্যের ইতিহাস এলো ২৪ বৎসর আগে। জানতাম না,বুঝতাম না।তোমাদের মত যুবক ছিলাম,চোংগা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিলাম-রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি। ১৯৩৮ সালে প্রথম জেলে যাই- সেদিন এ দেশকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখেছিলাম- কি স্বাধিনতা ২৫ বৎসর আগ পেলাম-হায়, এখন তো বুঝতে পেরেছি, স্বাধীনতা পেলাম না, গোলামি পেলাম - নতুন গোলামী, সাদা গোলামির জায়গায় পেলাম কালো গোলামী।" - শেখ মুজিবর রহমান ১৩ ই ফেব্রুয়ারী ১৯৭৩ সালের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মওলানা আজাদ নিজেও বাঙালী এবং মুসলমান ছিলেন, আর ছিল তাঁর বৈদগ্ধ। তিনি কলকাতায় ঈদের নামাজে ইমামতি করতেন(গড়ের মাঠে নাকি নাখোদা মসজিদে, ঠিক মনে পড়ছে না)। মুসলিম লিগের ধর্মান্ধ আকরাম খাঁ গোষ্ঠী তাঁর ইমামতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি স্বেচ্ছায় ইমামতি থেকে সরে দাঁড়ান। ভারতীয়(অখন্ড) মুসলমানদের দুর্ভাগ্য, জাতি তাঁর সেবা থেকে বঞ্চিত থেকেছে, আর এক সীমাহীন বেদনা এই মনিষীর মননকে ক্ষতবিক্ষত করেছে।
পোষ্টে প্লাস..................

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাওলানা সাহেব কে আল্লাহ বেহেস্ত নসিব করুন। পোষ্টে ৫তারা

**************************************************************************
কি জানি কি মঞ্চায়.........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাল কিছু জানলাম।
Star Star Star Star Star

--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবের ভিতরেও স্বাধীন বাংলার বীজ নিহিত ছিল ।
আপনার পোস্ট পরে ভাল লাগল । Star Star Star

-----------------------------------------------

আসি আসি করে
আজও তার আসা হলনা
তবুও আমি আছি অপেক্ষায় ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসল, বোল্ড করা অংশ টুকু আর সমস্যার লিস্ট পড়ে বিস্ময়ে ভাষা হারিয়ে ফেলছি, এইরকম দূরদৃষ্টিও থাকে মানুষের?

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Sorry for writing again in English (from office I have no way).

I completely agree with Jamathater. This shows how intuitive and wise the great Maulana was.

শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসল, বোল্ড করা অংশ টুকু আর সমস্যার লিস্ট পড়ে বিস্ময়ে ভাষা হারিয়ে ফেলছি, এইরকম দূরদৃষ্টিও থাকে মানুষের?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাওলানা সাহেবের মূল কথাগুলি এতই সোজা সাপ্টা ছিল যে এসব বুঝতে খুব জ্ঞানী হবার দরকার ছিল না। সে সময় পাকিস্তান জ্বরে বেহুশ কারোই সামান্য বাস্তবের জগত চিন্তা করার সময় হয়নি।

তবে জামাত দেওবন্দী এদের পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতার কারন ভিন্ন। এরা জিন্নাহর ধর্মনিরপেক্ষ পাকিস্তান মানতে চায়নি, চেয়েছিল কড়া ইসলামী পাকিস্তান। তাদের মতে ধর্মনিরপেক্ষ পাকিস্তান মুসলমানদের সাথে প্রতারনা। মৌদুদী তখন জিন্নাহকে গালাগালিও করেছিল।

মাওলানার ৭ নং বাদে আর সবই মিলে দারুন ভাবে মিলে গেছে। বিশেষ করে ১ নম্বর।

এখানে গুরুত্বহীন একটি ঐতিহাসিক ভুল দেখছি।

[ইমাম আলি ও হযরত আয়েশার মধ্যে সংঘটিত] জামালের যুদ্ধে বর্শার আগায় কুর'আন বিদ্ধ করে প্রদর্শন করা হয়েছিল।


আলোচিত বর্শার আগায় কোরান প্রদর্শনের ঘটনা জামালের যুদ্ধে নয়, হযরত আলী ওঁ মোয়াবিয়ার মধ্যে সঙ্ঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের ঘটনা। মাওলানা এমন ভুল করলেন কিভাবে কে জানে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

May be it was a mistake by the translator.


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যারা দেখেন নাই, পাকী ডকু " The Fall of Dhaka " ও খুব ইন্টরেস্টিং।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধর্ম ভিত্তিক সীমানা ভিভাজন অবশ্যই একটা ক্ষমতা লোভী মহলের অসৎ উদ্দেশ্যের ফল ছিল।
পোস্ট ভাল লেগেছে।

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অত্যন্ত দরকারি একটা পোস্ট । আপনাকে ধন্যবাদ । এরকম পোস্ট আরও চাই ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাওলানা আজাদ যথার্থই সর্বভারতীয় নেতা ছিলেন ।

========================================================================

আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি-
কারন যুদ্ধে জিতেছি ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আজকের এই পোস্টটি অত্যন্ত ভালো লেগেছে। এই পোস্টের মাধ্যমে উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ মাওলানা আবুল কালাম আজাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার, দূরদর্শিতার একটি চমৎকার চিত্র পেলাম।

উপমহাদেশের উপনিবেশিক যুগে মাওলানা আজাদ ছিলেন সর্বাধিক মেয়াদের ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি। ১৯২৩ সালে তিনি প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে ১৯৪০-১৯৪৬ পর্যন্ত কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।

আমার বিশ্লেষণে আমি মনে করি ভারত বিভাগের জন্য মুসলিম লীগ কিংবা জিন্নাহ এককভাবে দায়ী নন। তার দ্বি-জাতি তত্ত্ব একটি অসার ও ভ্রান্ত তত্ত্ব এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটা মাওলানা আজাদের ভবিষ্যৎবানীতে যেমন এসেছে তেমনি বাস্তবে প্রমানিত হয়েছে। কিন্তু এই জিন্নাহই একসময় ভারতে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের দ্বন্দ্ব নিরসনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের মাধ্যমে যখন হিন্দু মুসলমানের দ্বন্দ্ব ও সন্দেহ চরম আকার ধারণ করে। তখন ১৯১৬ সালে লখনৌ চুক্তিতে মধ্যস্ততা করে ভারতীয়দের স্বশাসনের দাবীকে কংগ্রেস এবং মুসলিমলীগের যৌথ ইশতেহারে পরিণত করেন। এমনকি ১৯৩৩ সালে চৌধুরী রহমত আলী নামক এক ক্যামব্রিজ ছাত্রের পাকিস্তান শব্দের আবিষ্কার করেন তখনো জিন্নাহ এটাকে পাগলের প্রলাপ বলেই ঘোষণা করেন। তার মানে ১৯৩০ এর প্রথম দশকেও জিন্নাহ ভারত ভাগের কথা চিন্তা করেন নি।

মুসলিম লীগে যেমন একটি মুসলমান উগ্র গোষ্ঠী ছিল কংগ্রেসেও একটি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ক্রিয়াশীল ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গান্ধীজী তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন। একারণে সুবাস বসু, চিত্তরঞ্জন দাস, এবং স্বয়ং আবুল কালাম আজাদ ও গান্ধী কর্তৃক অসহযোগিতার স্বীকার হতেন। যার ফলশ্রুতিতে নেতাজির মতো জাতীয়তাবাদী নেতাকে কংগ্রেস থেকে বের হয়ে এক সময় আলাদা দল করতে হয়।

দেশ ভাগের একমাত্র দায় ভার মুসলিম লীগের উপর চাপানো যাবে না তখন বল্লভ ভাই প্যাটেল এর মত নেতারাও বিভিন্নভাবে দেশ ভাগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ছিলেন। তারা হয়তো ভারতীয় রাজনীতিতে জিন্নাহর অবস্থানকে মেনে নিতে চান নি। আবার জিন্নাহরতো একটা ক্ষমতার প্রতি উচ্চাভিলাষ ছিলই। কংগ্রেসে যেমন কারো করতিত্ত গান্ধী মেনে নিতে পারতেন না তেমনি জিন্নাহও তার আসে পাশে কোনো নেতাকে মেনে নিতে পারতেন না। যার ফলে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব ১৯৪৬ সালে সংশোধন করা হয়। ভারতের রাজনীতিতে যদি নেতাজী কিংবা আজাদের মতো নেতারা গান্ধীকে তাদের বিশ্বাসে ভেড়াতে পারতেন তাহলেও হয়ত ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা করা যেত। নেতাজী কিংবা চিত্তরঞ্জন দাসের মতো জাতীয়তাবাদী নেতাদের কংগ্রেসের অপর প্রতিক্রিয়াশীল অংশের কাছে পরাজিত হওয়াও জিন্নাহর দাবীকে মোকাবেলা করার পথগুলো রুদ্ধ করে দেয়। সবচেয়ে অবাক বিষয় পশ্চিম বাংলার লোকজন ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে যেভাবে মাতৃভূমির অঙ্গচ্ছেদ হিসেবে দেখেছিলেন ১৯৪৭ এ তারা টু শব্দও করলেন না।
--------------------------------------------------------------------------------------------------

আমি আমার ভেতরে প্রতিনিয়ত বংশবৃদ্ধি করছি
যেমনটি করে থাকে অকোষী জীব হাইড্রা ।
বিলুপ্ততা ঠেকানোর কিংবা টিকে থাকার লক্ষ্যে নয়
নশ্বরতা আবিস্কারের লক্ষ্যে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সহমত। ভারত ভাগের জন্য মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেস উভয়ই দায়ী। কংগ্রেসের ব্যাপারে মাওলানার আক্ষেপ ছিল।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মুসলিম লীগে যেমন একটি মুসলমান উগ্র গোষ্ঠী ছিল কংগ্রেসেও একটি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ক্রিয়াশীল ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গান্ধীজী তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন। একারণে সুবাস বসু, চিত্তরঞ্জন দাস, এবং স্বয়ং আবুল কালাম আজাদ ও গান্ধী কর্তৃক অসহযোগিতার স্বীকার হতেন। যার ফলশ্রুতিতে নেতাজির মতো জাতীয়তাবাদী নেতাকে কংগ্রেস থেকে বের হয়ে এক সময় আলাদা দল করতে হয়।


আমি যতদূর জানি নেতাজী নিজ থেকে কংরেজ থেকে বের হয়ে গেছেন। তাঁর মতে অসহোযোগ দিয়ে হবে না, সশস্ত্র বিল্পব দরকার, খুনের বদলা খুন। তাই তিনি নতুন আজাদ-হিন্দ ফৌজ গঠন করেন।

আপনার বলা কারনের সাথে আমার জানা কারনটা মিলে না। সঠিক রেফারেন্স দেন।

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অকিঞ্চন ভাই শুভেচ্ছা নিবেন,
আপনার বক্তব্যের সাথে আমি সরাসরি দ্বিমত করছি না। আমি বরং কিছু নতুন তথ্য সংযোজন করছি।

নেতাজী নিজ থেকে কংগ্রেস থেকে বের হয়েছেন। কারণ ২য় মেয়াদে সভাপতি থাকাকালীন সময়েই তিনি নানা অসহযোগিতার স্বীকার হন। এবং ৩য় মেয়াদে নির্বাচনের সময় গান্ধীজী সরাসরি বিরোধিতা করেন। নেতাজীর মতো কংগ্রেস থেকে কেন বের হয়ে গেলেন তার কারণ খুঁজলেই এটা জানা যাবে। নেতাজী ১৯৪০ সালেও কলকাতার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কংগ্রেস এবং মুসলিমলীগকে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ করান। এখনেই দেখা যায় বাংলায় উভয় পার্টিতেই নেতাজীর গ্রহণযোগ্যতা ছিল বিশাল। এতো বড় নেতা কংগ্রেস ত্যাগ কংগ্রেস কেন ঠেকাতে পারলো না।

আর নেতাজী ১৯৪০ সালে তার দল গঠন করেন ফরোয়ার্ড ব্লক। আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয় ১৯৪২ সালে। নেতাজী চেয়েছিলেন ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা তখনো গান্ধী ডোমিনিয়ন মর্যাদা লাভের জন্য ইংরেজের সাথে দেন দরবার করছিলেন।

এটাও সত্য গান্ধীজীর সত্যাগ্রহ থেকে নেতাজীর ধ্যান ধারণা ছিল অনেক পৃথক। নেতাজী পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য বিপ্লবের পক্ষে ছিলেন। উভয়ের মতের সিন্থিসিস এর মাধ্যমে একটি নতুন চিন্তা বিকশিত হতে পারতো। কিন্তু ভারতীয় কংগ্রেসএ তা সম্ভব ছিল না। বড় বটগাছের নীচে অন্য গাছের বেড়ে উঠা যেমন সম্ভব নয় তেমনি গান্ধীজীর চিন্তার বিপরীতে কিছু করা যায় নি।

এটা অনস্বীকার্য ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গান্ধীজী প্রধান পুরুষ এবং তাঁর সত্যাগ্রহ কিংবা অহিংস তত্ত্ব প্রধান অস্ত্র। তাই বলে আমরা মাস্টার দা, ক্ষুদিরাম, কিংবা প্রীতিলতার বিপ্লবী আত্ম বলিদানকে স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত করি নি। তাইলে আমরা নেতাজীর চিন্তাকে কীভাবে ভুল মনে করি।

আর কংগ্রেস থেকে বের হবার পরেও ভারতে নেতাজীর জনপ্রিয়তা কখনো কমে নি। তার ফরোয়ার্ড ব্লক ও অনেক সমর্থন পেয়েছিলো।এমনকি নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজ এ ও অনেক বিপ্লবীর সমাগম ঘটেছিলো। এই মুহূর্তে আমি সরাসরি রেফারেন্স দিতে পারছি না। তবে ভারতের ইতিহাসবেত্তা শৈলেশ রঞ্জন, কিংবা জ্যোৎস্না কামাত নামে একজন ইতিহাসবেত্তার পুস্তকে দেখতে পারেন।
----------------------------------------------------------------------------

আমি আমার ভেতরে প্রতিনিয়ত বংশবৃদ্ধি করছি
যেমনটি করে থাকে অকোষী জীব হাইড্রা ।
বিলুপ্ততা ঠেকানোর কিংবা টিকে থাকার লক্ষ্যে নয়
নশ্বরতা আবিস্কারের লক্ষ্যে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি যা জানতাম, তাই লিখেছেন। কিন্তু আমি যে পয়েন্টের উপর আপত্তি জানিয়েছিলাম সে পয়েন্টের কোন ব্যাখ্যা দেন নি। গান্ধী ধার্মীক হলেও নিজের বিশ্বাস অন্যের উপর চাপিয়ে দেন নি।

মুসলিম লীগে যেমন একটি মুসলমান উগ্র গোষ্ঠী ছিল কংগ্রেসেও একটি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ক্রিয়াশীল ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গান্ধীজী তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন। একারণে সুবাস বসু, চিত্তরঞ্জন দাস, এবং স্বয়ং আবুল কালাম আজাদ ও গান্ধী কর্তৃক অসহযোগিতার স্বীকার হতেন। যার ফলশ্রুতিতে নেতাজির মতো জাতীয়তাবাদী নেতাকে কংগ্রেস থেকে বের হয়ে এক সময় আলাদা দল করতে হয়।


গান্ধীর মত মানুষ কারো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হত মানা সম্ভব নয়। আপনাকে এই প্রমানটা দিতে বলেছিলাম।

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রিয় অকিঞ্চন, ভাই আমি আপনার প্রশ্নের টু দ্যা পয়েন্ট উত্তর মনে হয় দিতে পারি নি। তবে আমি নীচে কিছু সুত্র দিচ্ছি এগুলোর ভেতর দিয়ে গেলে হয়তো আমার বক্তব্যের একটি প্রতিচ্ছবি পেতে পারেন। তাতে যদি আপনি সন্তুষ্ট না হয়ে থাকেন আরও দলিল দস্তাবেজ হাজিরের জন্য আমাকে আরও কিছু সময় মঞ্জুর করতে হবে। আমার সময়ের সীমাবদ্ধতা ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন। আসলে আমরা যাকে শ্রদ্ধা করি তার সমালোচনা শুনতে অভ্যস্ত নেই। আর আমাদের জানার জগতটা বিকশিত হয় বিভিন্ন জনের ভাষ্য অনুসরণ করে। তাতে আমাদেরও কিছুটা পক্ষপাত দুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। গান্ধীজী যেহেতু মানুষ এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন তাঁর ভেতরে কিঞ্চিত সংকীর্ণতা থাকা দূষণীয় নয়।

Was Gandhi a British Creation?
It is my firm conviction that Gandhi was a creation of the British. He was artificially propped up and promoted by the British government and the church to serve their own interests and prolong their rule in India. The British were willing to go to any extent to raise the profile of Gandhi as well as his side-kick Nehru in the eyes of the Indian people.
On the other hand, they were brutal beyond belief with the real threats to their rule — Savarkar (jailed for life), Aurobindo Ghosh (exiled), Lala Lajpat Rai (beaten to death), Bhagat Singh (hanged), Subhash Bose (dissappeared for ever) Chandrashekhar Azad (shot dead) … You have to see the treatment given to Gandhi and Nehru by the British to realise the game.
There are many things about Gandhi and Nehru’s career that made me think along the lines of both of them as a British creation:
1. The British handled Gandhi and Nehru with kid-gloves. They were jailed in five-star comfort with their own helpers and aides. A British doctor was even deputed to look after their health. Both never faced the batons of the police (unlike Lala Lajpat Rai) or were tortured in jail (like Savarkar). Nehru even used to get six-months off from jail to visit his wife in Switzerland. Why was this so? Why did British treat them differently than others? Why were Gandhi and Nehru never beaten by the British police?
2. Gandhi’s career begain in South Africa from Tolstoy farm. Who were his friends there? They were all church-men and missionaries. Now, why would Christian priests befriend an unknown Indian who is going to take on the British colonial government? Church is an instrument of White Man’s colonialism. So this behaviour of such priests was very strange. These priests arranged for his marches and publicity and gave him guidance. I have a feeling these people were shaping Gandhi’s thoughts and encouraging him to start a “passive resistance” movement. This was the beginning of his career as a leader, carefully nurtured and guided by the white missionaries. They were trying to create an Indian Jesus with “turn the other cheek” philosophy. This kind of thing was going to benefit no one except the British, of course.
3. As long as the British ruled India, they followed a strategy of “support the Muslims and hate the Hindus.” This attitude — then, as now — was a result of Christian evangelical bigotry and pagan-hatred. But I am surprised that both Nehru and Gandhi adopted exactly the same philosophy and made it the central pillar of their politics. What kind of leaders were they that they began to hate the people whom they allegedly represented and promoted the interests of those who were trying to crush them? Is this kind of behaviour normal in leaders? Gandhi’s pro-Muslim policy began as soon as he landed in India. He blindly supported Moplah riots and the Khilafat agitation. Was he inserted into India only for this purpose after his profile had sufficiently been raised in South Africa by the church and British government?
The reality is that after 1857, the British got a fright and wanted the revolt never to be repeated again. In fact, so deep was this fear that General Dyer confessed after Jallianwalah Bagh that he thought there was a conspiracy in Punjab for a 1857-type revolt and he wanted to teach Indians a bloody lesson to nip it in the bud.
The British after the revolt desperately needed a leader of Indians with the central message of pacifism, non-violence against the invaders and the philosophy of “never pick up arms again even if the Brits kill you all.”
Gandhi was aggressively propped up and promoted by missionaries and General Smutts. General Smutts “agreed” many times to Gandhi’s demands, thus tremendously boosting his name in India. Nobody had heard of Gandhi before, neither in South Africa nor in India. The concessions of Smutts “extracted” by Gandhi spread his fame far and wide as a man who can get the British government to bend. It is a different matter that the “bending” was deliberate.
Strategically, to make a show, the British government in South Africa and India sometimes bowed to Gandhi’s wishes to “prove” the effectiveness of Gandhi’s method of non-violence and impress other Indians with Gandhi’s leadershp. It was just a show to promote Gandhi as India’s tallest leader. Notice how when Gandhi arrived in India, the British government kept bowing before him in all his agitations and conceded what he had demanded. Is it a coincidence?
In contrast, the Brits were brutal with nationalist Hindus such as Savarkar and Subhash Bose and simply refused to meet them, while all doors were kept open for Gandhi. Gradually, Indians began to rally behind Gandhi as the “leader who gets the work done.”
Historians should do serious research about this angle of Gandhi as a British creation and prop. Unfortunately, even after 60 years, British intelligence reports and personal files about Gandhi and Nehru are still classified by the British government. Nobody can have access to them.

http://indianrealist.wordpress.com/2009/07/08/was-gandhi-a-british-creation/

উপরোক্ত বিশ্লেষণকে আমি সহি বলে দাবী করছি না। কিন্তু এটা গান্ধী চরিত্র বিশ্লেষণের পথকে উন্মুক্ত করে।

আরও দেখতে পারেন,
সলিমুল্লাহ খানের আদম বোমা গ্রন্থের ২০৩-২০৯ পৃষ্ঠা
এবং স্বাধীনতা ব্যবসায় গ্রন্থের ২৮১- ২৯০ পৃষ্ঠা।
____________________________________________

আমি আমার ভেতরে প্রতিনিয়ত বংশবৃদ্ধি করছি
যেমনটি করে থাকে অকোষী জীব হাইড্রা ।
বিলুপ্ততা ঠেকানোর কিংবা টিকে থাকার লক্ষ্যে নয়
নশ্বরতা আবিস্কারের লক্ষ্যে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাওলানা আবুল কালাম আযাদের মতে, আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে ঘৃণার মধ্যে দিয়ে যে সত্তার জন্ম, তার স্থায়িত্ব ঘৃণার মেয়াদ যতদিন ততদিন পর্যন্ত। বাংলার পরিবেশ এমন যে তারা বাইরের নেতৃত্ব পছন্দ করে না এবং নিজেদের অধিকার এবং স্বার্থের উপর হুমকির আঁচ পেলে বিদ্রোহ করে।


এত দুরদর্শি সম্পন্ন নেতা বানানো কি আল্লাহ পাক ছাইড়্যা দিছে নাকি? কি সব নেতাপেতা বানায়, ওয়ান টাইম প্লেটের মত! অথচ এই ওয়ান টামই প্লেটকেই বারবার ব্যাবহার করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।

কাঠ মোল্লাকে ধন্যবাদ।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান কখনই এক দেশ হয়ে থাকতে পারতো না তাই আলাদা হয়ে গেছে । যা হবার ছিল তাই হয়েছে । মনের মধ্যে বিদ্রোহ অকারনে উকি দেয় না । এই মৌলানা আযাদ কখনই পূর্ব বঙ্গের মানুষের অধিকারের পক্ষে বলেননি । আমাদের বর্তমানকে নিয়েই থাকতে হবে । তবে সাউথ এশিয়ার রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যদি ঐক্য গড়ে উঠতো তাহলে পুরো সাউথ এশিয়েকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদলে একটি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করা যেতো ।
...................................................................

----------------------------------------------------------
''কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো''
আমার সোনার বাংলা ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দারুন পোস্ট।
Star Star Star Star Star


-----------------------------------------------------

আমি পথ চেয়ে আছি মুক্তির আশায়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক অজানা বিষয়গুলো জানা হয়ে গেল।

&.....&......&

উত্তরাধিকার


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জানলাম কিন্ত আবার ও পড়ছি--

**********************************************
"Do not make any decisions when you are angry And never make any promises when you are happy."


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যাঁরা ভাবেন, তাঁরা সামনে দেখেন; যারা ভাবতে পারেন না, তারা ঘটলে টের পান, তারপরেও কেন ঘটলো তা বুঝতে হিমশিম খান!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কোন এক পত্রিকায় সম্ভবত অনুবাদ প্রকাশ হয়েছিল। সম্ভবত বছর খানেক বা দুয়েক আগে ব্লগেই কোথাও পড়েছিলাম। তখন অবাক হয়েছিলাম, একজন মানুষ এত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হতে পারেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দূর্দান্তিস পোস্ট।
Star Star Star Star Star

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাঝ থেকে আমরা বের হয়ে গেলাম। না উর্দুভাষীর না হিন্দিভাষীর গোলাম। জিন্নাহ ভারত ভেঙ্গে আমাদের উদ্ধার করেছে

পাঞ্জাব, সিন্ধ, সীমান্ত ও বালুচিস্তানের জনগোষ্ঠির স্বাতন্ত্র্য পরিচিতি প্রতিষ্টার প্রচেষ্টা বাইরের হস্তক্ষেপের দরজা খুলে দিবে।
পাকিস্তান আন্দোলন এবং মুসলিমলীগ দলকে বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যাবে তা হচ্ছে উত্তর প্রদেশের ঊর্দু ভাষী শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী ছিল দু নেশন থিয়োরির সবচেয়ে উৎসুক সমর্থক ছিল । তাদের ক্যালকুলেশন ছিল সিম্পল শিক্ষা দীক্ষায় আর্থ সামাজিক অবস্থার বিচারে তারা যেহেতু অন্যান্য অঞ্চলের মুসলমানদের থেকে অগ্রগামী সেই কারনে পাকিস্তান হলে তারাই হবে ক্রিমি লেয়ার হবে । পাঞ্জাবীরা তাদের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে

~~~~~~~~
নিজেদের জন্যে হুইস্কি, ডাবল;
ছোটলোকদের জন্যে ইমাম হাম্বল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভারত অখণ্ড থাকলে এই দেশেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থাকতো।

~~~~~~~~
নিজেদের জন্যে হুইস্কি, ডাবল;
ছোটলোকদের জন্যে ইমাম হাম্বল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একটা কথা মনে প্রায় আসে বাংলাদেশের পরবর্তীকালের প্রায় সব অসাম্প্রদায়িক নেতা ফাকিস্তান আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আর ততকালীন কমিউনিষ্টদের উপলব্দি সত্যের কাছা-কাছি ছিলো। মোল্লা ভাই পরবর্তীতে একটা মেগা পোষ্ট করার ইচ্ছে আছে।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অপেক্ষায় রইলাম।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং হুসাইন আহমদ মাদানি ছিলেন উল্লেখযোগ্য মুসলিম নেতা যারা ভারত ভাগের বিপক্ষে ছিল।


ইসলামের নাম আপনি যেভাবে ব্যবহার করছেন ইসলামি মানদন্ডে তা ঠিক না। মুসলিম ইতিহাসে এরকম ভয়ানক আচরণের অনেক উদাহরণ আছে। [ইমাম আলি ও হযরত আয়েশার মধ্যে সংঘটিত] জামালের যুদ্ধে বর্শার আগায় কুর'আন বিদ্ধ করে প্রদর্শন করা হয়েছিল। সেটা কি ঠিক ছিল? নবীর সাহাবা হিসাবে দাবী করে, এমন লোকদের হাতে কারবালায় মহানবীর পরিবারের সদস্যরা শাহাদৎ বরণ করেছিলেন। সেটা কি ঠিক ছিল? হাজ্জাজ একজন মুসলিম সেনাধিপতি ছিলেন, তিনি মক্কার পবিত্র মসজিদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিলেন। সেটা কি ঠিক ছিল? পবিত্র শব্দাবলী দিয়ে ভন্ড কোন উদ্দেশ্যকে যুক্তিযুক্ত বা গ্রহণযোগ্য করা যায় না।

শেষের লাইনটা থেকে জামাতের মত ভণ্ড রাজনৈতিক দলের মুখোশ উন্মোচন হইছে।ইসলাম কখনো এটা পছন্দ করে না


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাকিস্থান ভাগ হওয়ার পেচনে রাজনৈতিক লাভালাভের ব্যাপার ছিল। ক্ষমতার ভাগাভাগির ব্যাপার ছিল। জিন্নাহ সাহেব বুঝতে পেরেছিলেন সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তিনি আমৃত্যু বিরোধীদলীয় নেতা হয়েই থাকবেন। তিনি সেটা চাননি। বিরোধীদলের নেতা হওয়ার চেয়ে একটা রাষ্ট্রের জন্মদাতা হওয়া অনেক বড় ব্যাপার।

বাংলা কখনই দিল্লির শাসন মানতে চায়নি। ইতিহাস তার সাক্ষি। ভারত এক থাকলেও বাংলা ভাগ সময়ের ব্যাপার ছিল। ইতিহাস দেখলে দেখি ভাগীরথীর তীর বারবার বাংলাকে ভাগ করেছে হাজার বছর ধরে।

আবুল কালাম আজাদের সাক্ষাতকারটা পুরো অনুবাদ করে ব্লগে দিলে ভাল হতো। তারপরও ধন্যবাদ আপনাকে। যা পাওয়া গেছে তাই অনেক।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাওলানা কংগ্রেসের জন্য সারা জীবন কাজ করলেন। কিন্তু কী পেলেন, তা কি তার জবানীতে কোথাও আছে?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কংগ্রেস নেতা মাওলানা আবুল কালাম আযাদ লিখেছিলেন, ‘‘আফ্রিকার কোন জঙ্গলে কোন মুসলমান সৈনিকের পায়ে যদি কাঁটাবিদ্ধ হয় আর সে কাঁটার ব্যাথা যদি তুমি হৃদয়ে অনুভব না কর তবে খোদার কসম তুমি মুসলমান নও।” -সুত্রঃ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ রচনাবলী, প্রকাশক: ইসলামী ফাউন্ডেশন, ঢাকা




ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাওলানা আযাদ দু’বার নিখিল ভারত কংগ্রেসের সভাপতি হন এবং ১৯২৩ সালের পর চারবার জেলে যান। ‘রাঁচীর নজরবন্দী হতে জুন, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বন্দী জীবনের মোট দশ বছর সাত মাস তথা জীবনের প্রায় এক-সপ্তমাংশ।‘ তিনি ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে (স্বাধীনতার পর) ভারত সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হন এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত উক্ত পদেই বহাল থাকেন। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি মাওলানা আযাদ দিল্লীতে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে দিল্লীর জামে মসজিদের সম্মুখস্থ ময়দানে দাফন করা হয়।
মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ছিলেন উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রসেনানী, বীর সিপাহসালার, দক্ষ রাজনীতিক, বিজ্ঞ কূটনীতিক, হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের অগ্রদূত, সুদক্ষ সংগঠক, সমাজ সংস্কারক, মহান সমাজসেবক ও একনিষ্ঠ উর্দু সাহিত্য সাধক। তিনি তাঁর উর্দু সাংবাদিকতার মাধ্যমে পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার পথে আহ্বান করেছিলেন। তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর স্বাধীনতার আওয়াজ পরাধীন জাতির জন্য স্বাধীনতা লাভের পথে এক জাদুকরী মন্ত্র প্রমাণিত হয়েছিল। তিনি পরমত সহিষ্ণু রাজনীতিক ছিলেন। জীবনের প্রথম থেকেই আযাদ (স্বাধীন) নাম ধারণ করে মানব তৈরি সকল শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতার জন্য জাতীয়তাবাদী মনোভাব লালন ও প্রচার করতেন। তাঁর জাতীয়তাবাদ অখ- ভারতের জাতীয়তাবাদ। তিনি দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভেঙ্গে পাকিস্তান পরিকল্পনার ঘোর বিরোধী ছিলেন।
পৃথিবীর কোন অংশ পাক আর অবশিষ্ট অংশ নাপাক এ জাতীয় মনোভাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। অখ- স্বাধীন ভারতের স্বপ্নদ্রষ্টা আযাদ মনে করতেন-ভারতের হিন্দুদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য যেমন কয়েক হাজার বছরের পুরনো তেমনি মুসলমানদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যও হাজার বছর ধরে লালিত। তাই স্বাধীন ভারতে হিন্দুদের যেমন মাতৃভূমি মুলক অধিকার আছে তদ্রƒপ মুসলমানদের সমহারে অধিকার বিরাজমান। আর তা কোন শক্তি অস্বীকার করতে পারে না। যে ভারতে মুসলমানগণ তাদের পিতৃভিটায় কোণায় কোণায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাস করছে সে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ভেঙ্গে পাকিস্তানের জন্ম দেয়া মানে ভারতে রয়ে যাওয়া সংখ্যালঘু মুসলমানদের অবহেলা করে আরও দুর্বল করে চলে যাওয়া ও অবস্থা আরও সঙ্কটাপন্ন করে তোলা। আযাদ বলতেন-ভারতীয় মুসলমানদের নিছক স্বার্থ যা ভারত ভাগ করে পাকিস্তান নামক একটি পৃথক রাষ্ট্র স্থাপনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ যুযুধান ভঙ্গীতে সামনাসামনি দ-ায়মান দু’টি রাষ্ট্রের কোনটিই নিজ নিজ সংখ্যালঘু সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। বরং এর পরিণামে কেবল উভয় দেশে সংখ্যালঘুরা প্রতিভু হয়ে পড়বে এবং তাদের ওপর প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসামূলক আচরণ হবে ও মানবতা লংঘিত হবে। এ জন্য পাকিস্তান পরিকল্পনাকে তিনি ‘‘পরাভূত মনোভাবের প্রতীক... এবং ভারতে মুসলমানদের স্বাধিকার বজায় রাখতে না পারার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি... ও নিশ্চিতভাবে ভীরুতার নিদর্শন” মনে করতেন। পাকিস্তান সৃষ্টি হয়ে যাবার পর আযাদ ইতিহাসের শিক্ষার উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছিলেন যে ইসলাম তথা ধর্ম নিজে থেকে সব মুসলমানদের একই রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় আনতে পারেনি। পারলে মুসলমানদের জন্য খন্ড খ- প্রায় অর্ধশত রাষ্ট্র না হয়ে একটিমাত্র রাষ্ট্র হতে পারত। তিনি পুনরুপী জোর দিয়ে বলেছিলেন, শুধু ধর্মীয় অভিন্নতা ভৌগোলিক, আর্থিক, ভাষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে ভিন্ন মানুষদের একসূত্রে আবদ্ধ করতে পারে একথা বলা জনগণের সঙ্গে প্রচ-তম প্রতারণার তুল্য। দূরদৃষ্টিসহকারে আযাদ যুক্তি উত্থাপন করেছিলেন যে দেশের আসল সমস্যা হলো আর্থিক, সাম্প্রদায়িক নয়। পার্থক্য শ্রেণীভিত্তিক, সম্প্রদায়ভিত্তিক নয়। তাই তিনি তাঁর স্বজাতিকে সাম্প্রদায়িক বিবাদ ত্যাগ করে শিক্ষা-দিক্ষা ও আর্থিক উন্নতির দিকে আহ্বান করেছিলেন। শুধু ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান তাদের সব ভেদাভেদ ভুলে একই জাতি ও রাষ্ট্র হতে পারবে কিনা বা টিকবে কিনা এ বিষয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ ছিল। আর তাঁর উক্ত সন্দেহই ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে সত্যে পরিণত হয়েছে। তাঁর বাণী আজ দৈব বাণীর মর্যাদা লাভ করেছে। তবে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর তাঁর সঙ্গে পারস্পরিক সৌহার্দ্যরে সম্পর্ক গড়ে ওঠা উচিত বলে তিনি মনে করতেন। কারণ তিনি সাম্প্রদায়িকতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদের উপরে উঠে এক সত্যিকার দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী, আদর্শবাদী ও মানবতাবাদী রাজনীতিবিদের আসনে সমাসীন হয়েছিলেন। তাই তো ভারত বিভক্তির অব্যবহিত পরেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গারকালে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে নির্যাতিত সংখ্যালঘু, আশ্রয়হীন, অত্যাচারিত ও বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মানবতার দিশারী মাওলানা আযাদ। মাওলানা আযাদের রাজনীতি বরাবরই মানব কল্যাণে নিয়োজিত ছিল। খিলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও তিনি সাম্প্রদায়িকতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন। তাঁর মতে শেষ নবী হযরত মুহম্মদ সাঃ যেহেতু বিশ্বাবাসীর প্রতি প্রেরিত, তাঁর ওপর অবতীর্ণ আল কুরআন যেহেতু বিশ্ব মানবতার জন্য পথ নির্দেশক, পুরো পৃথিবী যেহেতু মুসলমানের জন্য পাক-পবিত্র ও নামাজের উপযোগী ঘোষিত হয়েছে সেহেতু এ পৃথিবীর কোন অংশকে পাক আর অন্য অংশকে নাপাক মনে করা, পৃথিবীর কিছু অংশকে ভাগ করে নিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়া সঙ্কীর্ণ মনের পরিচয়, নবীর শিক্ষাবিরোধী কর্ম। বরং ভারতজুড়েই মুসলমানদের আবাস ও পুরোটাতেই তাদের অধিকার এবং তা পিতৃ প্রদত্ত অধিকার আর তার দাবি ত্যাগ করা হীনম্মন্যতার পরিচায়ক। দেশ বিভাজন ও ধর্মের দোহাই দিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হিন্দুদের মতো মুসলমানদের পক্ষেও ক্ষতিকর হয়েছে। পাকিস্তান অর্জনের প্রাথমিক উল্লাস একটু থিতিয়ে আসতেই, সেই মুসলিম রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জন্ম নেবার পূর্বেই তার জন্য আন্দোলনকারী মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দের একাংশের মনে তাদের একান্ত কাম্য সেই রাষ্ট্রে তাদেরই স্থান হচ্ছে না দেখে যে হতাশা ও আত্মগ্লানি হয়েছিল তার বর্ণনা লীগের প্রথম সারির নেতা চৌধুরী খলিকুজ্জামানের জবানীতে মিলে। সাধারণ মুসলমানের কথা না বলাই ভাল। একদিকে সীমান্ত গান্ধী, খান আব্দুল গফ্ফার খানও তাঁর মতো হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলিত জাতীয়তাবাদের প্রবক্তাদের ‘নেকড়ের মুখে’ ফেলে দেয়া এবং অন্যদিকে ভারতে সাড়ে চার কোটি মুসলমান রয়ে যাওয়ায় বিভাগপূর্ব দেশের মুসলমান সমাজ ও সংহতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেল। আর দ্বি-জাতিতত্ত্বকে নস্যাত করে দিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হবার পর তো তা আজ ত্রিধাবিভক্ত। যারা নিজেদের পিতৃ-পিতামহদের বাস্তুভিটা ছেড়ে তাদের আকাক্সিক্ষত দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তাদের সেই সাধের সব পেয়েছির দেশে যে কেবল আর্থিক পুনর্বাসন লাভের জন্যই অসীম কষ্ট বরণ করতে হয়েছিল তাই নয় এর চেয়েও এক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা-সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নেও তাদের পীড়িত হতে হয়। এর ফলে নতুন করে আরেকবার প্রমাণিত হয় যে তাদের মিল্লাত আসলে অখ- ও অবিভাজ্য নয়। পাকিস্তানে মুহাজির আর বাংলাদেশে বিহারী নামে পরিচিত এরা মূলত নতুন রাজ্যে অবাঞ্ছিত। মিলনের বদলে বিভেদকে বড় করে দেখার শিক্ষা ও অভ্যাসের পরিণতি তাই আজও ভোগ করতে হয়।





http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=13&dd=2012-02-22&ni=87396


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধারা বিভক্ত রাজনীতির বৃত্ত থেকে আমরা বেরোতে পারছি না। এটা যেন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজনৈতিক ঐতিহ্য। একসময় কংগ্রেস-মুসলিম লীগ ছিল ধারা বিভক্ত ও মেরুবদ্ধ রাজনীতির উপমা। অনেক ইস্যু ছিল, সমস্যা ছিল, সেগুলো ঘুরেফিরে কংগ্রেস-মুসলিম লীগের বিষয় হয়ে যেত। ভারতীয় হিন্দু-মুসলমানের বিষয় ছিল না, কিন্তু সেসব বিষয়েও জড়িয়ে যেত মুসলিম লীগ-কংগ্রেস। রাজনীতি এমন এক বিষয়, এর অনেক সমস্যারই ভ্রান্ত সমাধান হয়; অন্য কোনো প্রয়োজনে নয়, শুধু মেরুবদ্ধ রাজনীতির কারণে। ভারতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেশ বিভাগের আগে সব কিছুর সাথে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিভেদ নীতি কাজে লাগানো হতো। কংগ্রেস দাবি করত, তারা অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির পুরোহিত। বাস্তবে অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া হিন্দি, হিন্দু ও হিন্দুত্ববাদের বাইরে কংগ্রেসের রাজনীতি কখনো যেতে পারেনি। অখণ্ড ভারতের ্লোগান দিয়েও আধিপত্যবাদের অনড় অবস্থান নিয়ে কংগ্রেসই ভারত বিভক্তি অনিবার্য করেছে। ১৯০৫ সালে বঙ্গমাতার অঙ্গ ছেদনের মাতম করেছিল যে কংগ্রেস­ বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের ষোলোআনা ‘কৃতিত্ব’ সেই কংগ্রেসেরই। তাই কংগ্রেসের রাজনীতি ও কংগ্রেসের যেকোনো নেতার বক্তব্যকে সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখেই মূল্যায়ন করতে হবে।

সম্প্রতি মাওলানা আজাদের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে আলোচনার মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। লক্ষ্য আর কিছুই নয়, ’৪৭-এ দেশ বিভক্তি এবং দ্বিজাতিতত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করা। শুধু আহাম্মকই এ জন্য মাওলানা আজাদকে উপাত্ত বানাতে পারে। তা ছাড়া দ্বিজাতিতত্ত্ব ভুল হলে অখণ্ড তত্ত্বও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সার্বভৌম বাংলাদেশ তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।


ব্যক্তিগতভাবে মাওলানা আজাদকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করি তার রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য নয়, আদর্শিক চৈতন্য জাগানোর জন্য। তিনি কংগ্রেসী ছিলেন এই জন্য তার প্রতি সামান্যতমও অশ্রদ্ধা জাগে না। তার অসাধারণ পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখাজোকা যেকোনো শিক্ষিত মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে তার অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু উপমহাদেশের মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও স্বকীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাকে আলাদাভাবে মূল্যায়নের তেমন কোনো তাকিদ নেই। এ তাগিদ না থাকার কারণ তিনিই ব্যাখ্যা করেছেন। তার অছিয়ত অনুসারে যে চিঠি মৃত্যুর আগে খোলা হয়নি তাতে এবং ‘ভারত যখন স্বাধীন হচ্ছিলা’ বইতে সেসব তথ্য-উপাত্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে। একজন মুসলিম মনীষা হিসেবেই তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। প্রথম জীবনে তার ভূমিকা ছিল উজ্জীবিত হওয়ার মতো। কিন্তু সেই অবস্থানে তিনি আমৃত্যু ছিলেন না। তার সম্পর্কে তারই সময়ের একজন অনুজ কিন্তু প্রভাবক চিন্তাবিদ বলেছেন, ‘মাওলানা আহ্বান করে বা ডাক দিয়ে বসে গেছেন।’ যাকে বলে আজান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া মুয়াজ্জিনের মতো। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় মাওলানা আজাদ ছিলেন তার মতো করে সমৃদ্ধ। সেই অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে, ইসলাম ও পাকিস্তান এক বিষয় ছিল না। কিন্তু মুসলমান ও পাকিস্তান ধারণা সঠিক ছিল না­ এ কথা বলার সুযোগ নেই। তাই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ভ্রান্ত সমাধান নয়, দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে কংগ্রেসের একগুঁয়েমি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অনিবার্য পরিণতি। মুসলিম লীগের পোকা খাওয়া পাকিস্তান ও এর ভণ্ড শাসকদের কারণে কংগ্রেস কিংবা মাওলানা আজাদের অবস্থান সঠিক হয়ে যায় না। লাহোর প্রস্তাবের পথ ধরে পাকিস্তানের অভ্যুদয় ছিল রাজনৈতিক বাস্তবতা, এই ইস্যুতে শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী, বঙ্গবন্ধুসহ পূর্ববাংলার জাতীয় নেতাদের ভূমিকায় কোনো ভুল ছিল বলে মনে করা যায় না। সেই ধরনের ভাবনা আত্মবিনাশী। কারণ এরই ফলোআপ বাংলাদেশের সার্বভৌম অবস্থান ও আজকের মানচিত্র।

মাওলানা আজাদের ভবিষ্যদ্বাণীর এক দিকে রয়েছে মুসলমানদের ভবিষ্যৎ ভাবনা। সেটি সামগ্রিক অর্থে নীতিগত বিষয়, যা সারা বিশ্ব মুসলিমের বেলায় প্রযোজ্য। ভারত, পাকিস্তান, কাশ্মীর, বাংলাদেশ­ সে বিবেচনায় আলাদা কিছু নয়। অন্য দিকে ভারতীয় রাজনীতি সম্পর্কেও তার ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, যা গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে। তার যে সাক্ষাৎকারটিতে পাকিস্তান সৃষ্টি ও তার পরিণতি সম্পর্কে অভিমত রয়েছে, সেটি একমাত্র সাক্ষাৎকার নয়। অন্যান্য সাক্ষাৎকার, বক্তব্য, বিবৃতি ও ভাষণে কংগ্রেসের রাজনীতি ও ভারতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও প্রচণ্ড নেতিবাচক মন্তব্য রয়েছে। সেই সব মন্তব্যে ও লেখায় তার রাজনৈতিক চিন্তার স্ববিরোধিতার জন্য তার অনুশোচনাও আছে। রাজনীতিবিদ হিসেবে তার ভূমিকা বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল না, এ অকপট স্বীকৃতি ‘ইন্ডিয়া উইন্স ফ্রিডম’ বইতে আছে। অনেক ক্ষেত্রে মাওলানা আজাদ কংগ্রেসি ধ্যান-ধারণার ঊর্ধ্বে ছিলেন না, তাই দ্বিজাতিতত্ত্বে বিশ্বাসী আলেম-ওলামা, নেতা ও জিন্নাহ চরিত্র চিত্রণে তাকে আমরা নির্মোহ হিসেবে পাই না। সেখানে একধরনের স্ববিরোধিতার ভেতর মাওলানা আজাদ তার ধর্মচিন্তা এবং রাষ্ট্রচিন্তাকে গুলিয়ে ফেলেছেন।

মাওলানা আজাদের রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পর্ব ছিল প্যান ইসলামইজমের ধারণাস্নাত। খেলাফতে প্রত্যাবর্তনের একধরনের আকুতি তিনি সতত লালন করেছেন। এই সময়টিতে তার চিন্তাচেতনা ছিল অনেকটা পিউরিটান কনসেপ্ট লালিত। আবার কংগ্রেসের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে তিনি অখণ্ড ভারত ভাবনায় কংগ্রেসের রাজনীতির প্রতি নিষ্ঠাবান ছিলেন এবং পরিণত বয়সের রাজনীতি ছিল কতকটা নিদের্শনাহীন ও ক্ষমতানির্ভর।

প্রথম জীবনে তিনি ধর্ম থেকে রাজনীতিকে আড়াল করার ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। আমৃত্যু সেই বিশ্বাস পরিবর্তন না করলেও কংগ্রেসের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকে তার রাজনীতি কোনো দর্শনভিত্তিক ছিল না। সেটি ছিল অখণ্ড ভারত চিন্তায় কংগ্রেসেরই রাজনীতি। সেখানে তার কোনো স্বকীয় রাজনৈতিক অবস্থান চোখে পড়ে না। কিন্তু তার লিটারেচার তাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে একজন মনীষীর কাতারে তুলে ধরে। তাই রাজনৈতিক আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় মাওলানা আজাদ কংগ্রেসের একজন নেতা। সেই অবস্থানের সপক্ষে মাওলানা কংগ্রেস রাজনীতির প্রতিপক্ষের তুখোড় সমালোচকও। সেই সমালোচনা কোনো কোনো সময় নিন্দার স্তরে পৌঁছে যাওয়ার কারণে তিনি দ্বিজাতিতত্ত্বের ভেতরই তার অবস্থান ও রাজনীতিকে বড় করে দেখেছেন, যা তার অতীত অবস্থান ও আদর্শিক ভাবনার সাথে ছিল চরমভাবে সাংঘর্ষিক। আবার তার ধর্মীয় চিন্তায় তিনি ছিলেন আগাগোড়া মুসলিম উম্মাহ ধারণায় দ্বিজাতিতত্ত্ববাদী এবং ইসলামিস্ট। কারণ মুসলিম উম্মাহর ধারণায় তার নিষ্ঠা ছিল প্রশ্নাতীত। কেউ ইচ্ছে করলে তার সম্পাদিত পত্রিকা দুটো খুঁজে পড়ে দেখতে পারেন।

রাজনীতির ভেতর দলান্ধ ও মতান্ধ ভাবনায় পঙ্কিলতা আছে। আছে প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বিষ্ট হওয়ার মতো বিষয়-আশয়। তাই কংগ্রেস বলয়ের মধ্যে নেহরু-প্যাটেল তার কাছে নন্দিত চরিত্র ছিল না। এর বাইরে জিন্নাহ, লিয়াকত আলী, আকরম খাঁ, সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা, নাজিমউদ্দিন প্রমুখ ছিলেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। এটা আমরা ভুলে যেতে পারি না। মাওলানা আজাদকে খণ্ডিতভাবে দেখলেই শুধু সেটা ভুলে যাওয়া সম্ভব।

তাই মাওলানা আজাদকে নিজস্ব মতলবি রাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষে সাফাই সাক্ষী বানানো নিরাপদ নয়। তাতে দোষে-গুণে এবং মানবিক সীমাবদ্ধতায় আচ্ছন্ন একজন রাজনীতিবিদকে সামগ্রিকভাবে পাওয়া যাবে না­ এ কথা যেমন ঠিক, তেমনি স্ববিরোধী ভূমিকাগুলো শ্রদ্ধা-অশ্রদ্ধার মাপকাঠি হয়ে যেতে পারে। অথচ মাওলানা আজাদকে আমরা শ্রদ্ধার আসন থেকে আড়াল করতে চাই না। মাওলানা আজাদসহ ভারতীয় উপমহাদেশের সেই ক্রান্তিকালীন রাজনীতিবিদদের অবদান অপকৃণভাবে স্বীকার করা কল্যাণকর। হিন্দু-মুসলমান মিলনের দূত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টির রূপকারদের রাজনীতি বিনা কারণে ঊনবিংশ শতকের ত্রিশের দশকের পর থেকে ইউটার্ন করেনি। সেই সব ঐতিহাসিক কারণ বস্তুনিষ্ঠভাবে চিহ্নিত না করে আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আমরা তাদের দোষ-গুণ চর্চা করে রাজনীতির গুণগত অবস্থান বিবেচনা করতে পারি না। ইতিহাসের স্বার্থে বাস্তবতা সামনে রেখে অগ্রজদের ভূমিকার পর্যালোচনা হতে পারে। তবে সেই প্রেক্ষাপটকে আজকের সাথে সাযুজ্য করে দেখার তেমন কোনো সুযোগ নেই। সেই ধরনের স্থূল ভাবনা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বিচারের একমাত্র মাপকাঠি হওয়াও সমীচীন নয়। মাওলানা আজাদের সমসাময়িক অসংখ্য আলেম-ওলামা তার রাজনৈতিক চিন্তার সাথে একমত হননি, কিন্তু তাকে অশ্রদ্ধা করার ভানও করেননি। এই দেশের মানুষের কাছে তারা যেমন শ্রদ্ধাভাজন, রাজনৈতিক ভিন্ন মতের পরও মাওলানা আজাদ কম শ্রদ্ধার পাত্র নন। কাউকে বেশি শ্রদ্ধা করা যেতে পারে। কিন্তু একজনকে বেশি শ্রদ্ধা করতে গিয়ে অন্যদের প্রতি অশ্রদ্ধা জানানোর মতো কোনো ভূমিকা পালন করা বাঞ্ছনীয় হতে পারে না। মাওলানা আজাদকে নিবিড়ভাবে জানার জন্য তার জীবনীর ওপর খানিকটা নজর দেয়া যেতে পারে।

মাওলানা আজাদের জন্ম মক্কায়। ১৮৮৮ সালের ১১ নভেম্বর। তার পূর্বপুরুষ আফগানিস্তানের হেরাত থেকে ভারত এসেছিলেন সম্রাট বাবরের আমলে। তার মা ছিলেন আরব। বাবা ছিলেন আফগান বংশোদ্ভূত বাঙালি। মাওলানার পুরো নাম ছিল আবুল কালাম গোলাম মহিউদ্দীন। ‘আজাদ’ ছিল কলমি নাম। তবে তিনি মাওলানা আজাদ হিসেবেই খ্যাত ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার আজাদ নামের স্বার্থকতা আছে।

বহু ভাষাবিদ ও তুখোড় বক্তা মাওলানা আজাদকে বলা হতো ‘লর্ড অব ডায়ালগ’। ব্যক্তিত্বের প্রখরতা ও পাণ্ডিত্যের কারণে তিনি প্রথমবার ১৯২৩ ও দ্বিতীয়বার ১৯৪০ সালে ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন ১৯২০ সালে। স্বাধীন ভারতের প্রথম সরকার নেহরু কেবিনেটের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। মাওলানা আজাদকে ১৯৯২ সালে ভারতরত্ন খেতাবে ভূষিত করা হয়। ভারতের মাটিতে তার রাজনৈতিক জীবন এতটাই বর্ণাঢ্য যে, তাকে একটিমাত্র সাক্ষাৎকার দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করা সম্ভব নয়। যে অর্থে আজকের পাশ্চাত্য ভাবনায় মৌলবাদী, চরমপন্থী ও বিপ্লবী, আজাদ ছিলেন বাস্তবে তাই। তবে তার ভেতর ধার্মিকতা ছিল, সাম্প্রদায়িকতা ছিল না। সাপ্তাহিক উর্দু আল হিলাল ছিল তার সম্পাদিত ইসলামী আদর্শের বিপ্লবী চেতনার মুখপত্র। এটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১২ সালে। আপসহীন বিপ্লবী মুসলিম চেতনা ধারণ করার জন্য সরকার ১৯১৪ সালে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল করে দিয়েছিল। মাওলানার আল বালাগ নামে দ্বিতীয় পত্রিকাটিরও ভাষ্য ছিল ইসলামের বিপ্লবী চিন্তা ও স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করা। একই সাথে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রচেষ্টা জোরদার করার প্রচেষ্টাও ছিল। ১৯১৬ সালে এ পত্রিকাটিও সরকার বন্ধ করে দেয়।

মিসরের শায়খ মুহাম্মদ আবদুহু, সাঈদ পাশা ও জামাল উদ্দীন আফগানির প্রতি তিনি ছিলেন বিশেষভাবে অনুরক্ত। সাইয়েদ আহমদ খানের প্রতিও তার বিশেষ অনুরাগ ছিল। আবার বাংলার দুই বিপ্লবী হিন্দু নেতা অরবিন্দ ঘোষ ও শ্রী শ্যাম চন্দর চক্রবর্তীর সাথে সাক্ষাৎ করে তিনি বিপ্লবী তৎপরতায় জড়িয়ে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে বাংলা ও বিহারে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছেন। ইংরেজি, বাংলা ও উর্দু সাহিত্য ছাড়াও তিনি বিশ্বের ইতিহাস ও রাজনীতি সম্পর্কে বিশেষভাবে জ্ঞাত ছিলেন। আরবি, ফার্সি, দর্শন, জ্যামিতি, অঙ্ক ও বীজগণিত ছিল তার পাঠ্যসূচি।

ইংরেজ সরকার তাকে কলকাতা থেকে বহিষ্কার করা ছাড়াও দু-দুবার জেলে পাঠিয়েছে। খেলাফত আন্দোলন, অসহযোগ-সত্যাগ্রহ আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল স্মরণে রাখার মতো। দেশ বিভাগবিরোধী মাওলানা আজাদের নিজস্ব একটি রাজনৈতিক তত্ত্ব ছিল। তিনি চাইতেন অনেকগুলো স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ। যাদের আলাদা সংবিধান থাকবে, শুধু অর্থনৈতিক বিষয়াদি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্র। তার এই তত্ত্ব মুসলিম লীগ, কংগ্রেস ও ইংরেজ কারো কাছে গুরুত্ব পায়নি। এই দুঃখবোধ নিয়েও মাওলানা কংগ্রেসের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ১৯৫৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি স্ট্রোকে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

এখন দিল্লিকেন্দ্রিক ভাবনা যেমন অপাঙ্‌ক্তেয়, তেমনি পিন্ডিকেন্দ্রিক চিন্তাও। মাওলানা আজাদের কলকাতায় দাঁড়িয়ে কান পাতলে বাংলা ও বাঙালির আর্তনাদ শোনা যায়। একইভাবে দিল্লির ছায়ার তলে, হিন্দির চাপে বাংলার মাতম শোনা খুবই স্বাভাবিক। আর ভারতীয় মুসলিমদের কপালে কী জুটেছে­ মাওলানা আজাদ জীবিত থেকে দেখতে পারলে বাবরি মসজিদের ভাঙা পাথরকুচির সামনে কপাল ঠুকতেন। সেভেন সিস্টারসের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও শিখ বিদ্রোহ তাকে কতটা ভাবাত জানি না। তবে শিবসেনা বিজেপি’র উত্থান তাকে অবশ্যই ভাবাত। ভারতজুড়ে মাওবাদীদের নতুন স্লোগানে নিশ্চয়ই বিব্রত হতেন। জাত-পাত ও বর্ণপ্রথায় পিষ্ট গণমানুষের সাথে ভারতীয় মুসলমানদের বোবা কান্নাও দেখতে পেতেন। চার দিকের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ভারতীয় আচরণে নিশ্চয়ই খুশি হতেন না। অথচ বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম। বাংলাভাষার রাজধানী ঢাকা। ঢাকার এই উত্থান দ্বিজাতিতত্ত্বের বাইরে আর কিভাবে সম্ভব হতো। ভারত বিভক্তির প্রাক্কালে মাওলানা আজাদ সোরিশ কাশ্মীরিকে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন সেটি লাহোরের চাতান নামের উর্দু পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সেই ১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসের কথা। কংগ্রেসের নেতা হিসেবেই তিনি সেই সব মন্তব্য করেছিলেন।

আজ সেই বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা প্রশ্নাতীত নয়। ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না, মাওলানা আজাদ তার সমসাময়িক আরব-তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংগ্রামী চেতনায় বিশ্বাসী আলেম-ওলামা-মাশায়েখদের সান্নিধ্য পেয়েছেন। তাদের আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবগাথা প্রচারই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।

কংগ্রেস তাকে রাজনীতি শিখিয়েছে, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে স্বকীয় সত্তা। তাই খেলাফত ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন প্রয়াসী এই প্রাজ্ঞ লোকটিকে কংগ্রেসী ধারায় মূল্যায়ন করলে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। প্যান ইসলামের প্রতি অনুরক্ত মাওলানা আজাদের রক্তে বিপ্লবের স্রোতধারা প্রবাহিত হয়েছে। তার দাদা ও বাবা সিপাহি বিপ্লবের সাথে এতটাই সম্পৃক্ত ছিলেন যে, বিপ্লব-উত্তর সময়ে তাদেরকে ভারত ছাড়তে হয়েছিল। তার বাবা মক্কায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ১৮৯০ সালে তারা কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।

একটি পুরনো সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলাম। কিন্তু সাক্ষাৎকার একমাত্র প্রসঙ্গ নয়। প্রসঙ্গ মাওলানা আজাদ। তাই মাওলানা আজাদকে তার কিছু খণ্ডিত বক্তব্য ও শুধু কিছু ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য মূল্যায়ন করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বিবেচনার দাবি রাখে। তিনি জ্যোতিষী ছিলেন না। তবে উপমহাদেশের রাজনীতির ওপর তার বিশ্লেষণ অভিজ্ঞতার ফসল। সে ক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তান, কংগ্রেস-মুসলিম লীগের রাজনীতির বাইরে তার দরদি মনে মুসলিম মানসটা গৌণ নয়।

মৃত্যু তার সেই আদর্শিক চরিত্রের যবনিকা টানেনি। উপসংহার টেনেছে কংগ্রেসী ধারার রাজনীতির। তাই তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নেই, কিন্তু আদর্শিক উত্তরাধিকার অগণন। মৃত্যুর চৌত্রিশ বছর পর ভারতরত্নের খেতাব মিললেও ভারতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে মাওলানা আজাদ অনেকটা বিস্মৃত, ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে নিঃসঙ্গও বটে।


আপনি মাওলানার সাক্ষাতকার যেমন লিখেছেন, অন্যরা তেমন নিজের মত করে লিখেছে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঠিকই বলেছেন, 'অন্যরা' নিজেদের মত করে লিখেছে, মাওলানার বক্তব্য অনুযায়ী লেখেননি। এখানের অন্যরা বলতে বুঝাচ্ছি আপনি উপরে যার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আমি তা করিনি। মাওলানার বক্তব্য তর্জমা করে দিয়েছি। পুরোটা তর্জমা করতে পারলে মাওলানার রাজনীতি ও জীবন নিয়ে 'অন্যদের' মতলব্বাজি রাজনীতির (অন্যদের ভাষায়) পক্ষে গাওয়া সাফাই আরও অসার প্রমাণিত হত। তবে পোস্টে লিঙ্ক আছে, যে কেউ পড়ে নিতে পারেন।

কোন কোন 'অন্যদের' লেখা তো পুরো সাক্ষাৎকারকে বানোয়াট প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, তার লিঙ্কও পোস্টে আছে। যারা এই সাক্ষাৎকারের বক্তব্যে অস্বস্তি বোধ করে, তারাই মতলববাজি রাজনীতির হোতা।

মতলব্বাজি রাজনীতিঃ

সম্প্রতি মাওলানা আজাদের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে আলোচনার মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। লক্ষ্য আর কিছুই নয়, ’৪৭-এ দেশ বিভক্তি এবং দ্বিজাতিতত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করা। শুধু আহাম্মকই এ জন্য মাওলানা আজাদকে উপাত্ত বানাতে পারে।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নুরহাদি

আপনার ২য় লেখাটার সোর্স হচ্ছে মাসুদ মজুমদার নয়া দিগন্ত, ২৭/০৫/২০১০

সোনাতে নিয়া গেল সার্চ দেওয়ার পর !

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাওলানা আবুল কালাম আযাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিবর্তন নিয়ে নেহেরু চমৎকার বিশ্লেসন করেছেন তার The Discovery of India বইয়ে




In the early years of the twentieth century there were two trends among the Moslem intelligentsia: one, chiefly among the
younger element, was towards nationalism, the other was a deviation from India's past and even, to some extent, her present, and a greater interest in Islamic countries, especially Turkey, the seat of the Khilafat.

The Pan-Islamic movement
encouraged by Sultan Abdul Hamid of Turkey, had found some response in the upper strata of Indian Moslems, and yet Sir Syed had opposed this and written against Indians interesting themselves in Turkey and the Sultanate. The young Turk movement produced mixed reactions. It was looked upon with some suspicion by most Moslems in India to begin with, and there was general sympathy for the Sultan who was considered a bulwark against the intrigues of European powers in Turkey.

But there were others, among them Abul Kalam Azad, who eagerly welcomed the young Turks and the promise of constitutional and social reform that they brought When Italy suddenly attacked Turkey in the Tripoli War of 1911, and subsequently, during the Balkan Wars of 1912 and 1913, an astonishing wave of sympathy for Turkey roused Indian Moslems. All Indians felt that sympathy and anxiety but in the case of Moslems this was keener and something almost personal.

The last remaining Moslem power was threatened with extinction; the sheet-anchor of their faith in the future was being destroyed Dr. M. A. Ansari led a strong medical mission to Turkey and even the poor subscribed; money came more rapidly than for any proposal for the uplift of the Indian Moslems themselves. World War I was a time of trial for the Moslems because Turkey was on the other side. They felt helpless and could do nothing. When the war ended their pent-up feelings were to break out in the Khilafat movement


The year 1912 was notable also in the development of the Moslem mind in India because of the appearance of two new weeklies, the Al-Hilal in Urdu and The Comrade in English. The Al-Hilal was started by Abul Kalam Azad (the present Congress President), a brilliant young man of twenty-four, who had received his early education in AL Azhar University of Cairo and, while yet in his teens, had become well-known for his Arabic and Persian scholarship and deep learning.

To this he added a knowledge of the Islamic world outside India and of the reform movements that were coursing through it, as well as of European developments. Rationalist in outlook and yet profoundly versed in Islamic lore and history, he interpreted scripture from a rationalist point of view. Soaked in Islamic tradition and with many personal contacts with prominent Moslem leaders and reformers in Egypt, Turkey, Syria, Palestine, Iraq and Iran, he was powerfully affected by political and cultural developments in these countries.



Because of his writings he was known in the Islamic countries probably more than any other Indian Moslem The wars in which Turkey became involved aroused his intense interestand sympathy; and yet his approach was different from that of the older Moslem leaders. He had a wider and more rationalist outlook which kept him away from the feudal and narrowly religious and separatist approach of these older leaders, and inevitably made him an Indian nationalist.

He had himself seen nationalism growing in Turkey and the other Islamic countries and he applied that knowledge to India and saw in the Indian national movement a similar development. Other Moslems in India were hardly aware of these movements elsewhere and, wrapped up in their own feudal atmosphere, had little appreciation of what was happening there. They thought in religious terms only and if they sympathised with Turkey it was chiefly because of that religious bond. In spite of that intense sympathy, they were not in tune with the nationalist and rather secular movements in Turkey. Abul Kalam Azad spoke in a new language

weekly Al-Hilal. It was not only a new language in thought and approach, even its texture was different, for Azad's style was tense and virile, though sometimes a little difficult because of its Persian background. He used new phrases for new ideas and was a definite influence in giving shape to the Urdu language, as it is to-day. The older conservative leaders among the Moslems did not react favourably to all this and criticized Azad's opinions and approach.

Yet not even the most learned of them could easily meet Azad in debate and argument, even on the basis of scripture and old tradition, for Azad's knowledge of these happened to be greater than theirs. He was a strange mixture of mediaeval scholasticism, eighteenth century rationalism, and the modern outlook.


There were a few among the older generation who approved of Azad's writings, among them being the learned Maulana Shibli Nomani, who had himself visited Turkey, and who had been associated with Sir Syed Ahmad Khan in Aligarh College. The tradition of Aligarh College was, however, different and conservative, both politically and socially. Its trustees came from among the princes and big landlords, typical representatives of the feudal order.


Under a succession of English principals, closely associated with government circles, it had fostered separatist tendencies and an anti-nationalist and anti-Congress outlook The chief aim kept before its students was to enter government service in the subordinate ranks. For that a pro-government attitude was necessary and no truck with nationalism and sedition.

The Aligarh College group had become the leaders of the new Moslem intelligentsia and influenced sometimes openly, more often from behind the scenes, almost every Moslem movement. The Moslem League came into existence largely through their efforts.

Abul Kalam Azad attacked this stronghold of conservatism and anti-nationalism not directly but by spreading ideas which undermined the Aligarh tradition. This very youthful writer and journalist caused a sensation in Moslem intellectual circles and, though the elders frowned upon him, his words created a ferment in the minds of the younger generation. That ferment had already started because of events in Turkey, Egypt, and Iran, as well as the development of the Indian nationalist movement.


Azad gave a definite trend to it by pointing out that there was no conflict between Islam and sympathy for Islamic countries and Indian nationalism. This helped in bringing the Moslem League nearer to the Congress. Azad had himself joined the League, whilst yet a boy, at its first session in 1906. The Al-Hilal was not approved of by the representatives of the British Government. Securities were demanded from it under the Press Act and ultimately its press was confiscated in 1914


Thus ended the Al-Hilal after a brief existence of two years. Azad thereupon brought out another weekly, the Al-Balagh, but this, too, ended in 1916 when Azad was interned by the British Government.

For nearly four years he was kept in internment, and when he came out at last he took his place immediately among the leaders of the National Congress Ever since then he has been continuously in the highest Congress Executive looked upon, in spite of his youthful years, as one of the elders of the Congress, whose advice both in national and political matters as well as in regard to the communal and minority questions is highly valued. Twice he had been Congress president, and repeatedly he has spent long terms in prison.

(The Discovery of India page:344-349)

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, খুব প্রিয় একজন মানুষ।

..............................................................

সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
কবি এক জাগে_
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
কত অনুরাগে
একদিন শতবর্ষ আগে।।
আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্ নূতন কবি
তোমাদের ঘরে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসসালামো আলাইকোম। কেমন আছ দাদাভাই?
পড়ার চাপে ব্লগে ঠিকমতো বসাতে পারি না। অনেক দিন পর তোমার এ পোষ্টটি পড়লাম। পড়ে অনেক কিছুই জানলাম। অনেক শেখার আছে তোমার এ পোষ্টটিতে।
মজার বিষয় হলো মন্তব্যগুলো আরও সুন্দর। আমি মনদিয়ে পড়েছি ওসব। সত্যিই খুব রিচ একটি পোষ্ট। মন্তব্যগুলিও রিচ। আমার খুব ভালো লাগল। লেখার জন্য তোমাকে ও মন্তব্যকারীদেরকে অনেক ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা দিলাম। ভালো থেকো। সুন্দর থেকো। আচ্ছা?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়ে মনে হচ্ছে উনি দিব্য দৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন।

===================================================================
যেখানে পাইবে ছাগু আর বাদাম

চলিবে নিশ্চিত উপর্যপরি গদাম...............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসংখ্য শুভেচ্ছা আপনাকে। মৌলানা আবুল কালাম আযাদ-এর বৈদদ্ধতা ঈর্ষনীয়। তাঁর দূরদর্শিতাপূর্ণ সাক্ষাৎকারটি বঙ্গানুবাদ করে পোস্ট করার জন্য কৃতজ্ঞটা জানাচ্ছি । শুধু ধর্মের ছদ্মাবরন যে সামগ্রিকতাকে ধারন করতে পারে না, এ সত্য আমাদের উপলপদ্ধি করতেই হবে। বরং ধর্ম যখন ক্ষুদ্র স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তখন বিপত্তির আর অন্ত থাকে না। আপনাকে আবারও ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আলোচনায় দেরিতে যোগ দেয়ার লাভ হল, কষ্ট করে আর টাইপ করতে হয় না। সবাই সব বলে দিয়েছে। তবে আজাদ যে দিন আবিস্কার করেন দ্বীজাতি তত্ত্ব শুধু জিন্নার একার মনের কথা না, সেটার আরেক প্রবক্তা বল্লভ ভাই প্যাটেল, সেদিন অনেক দুঃখ পেয়েছিলেন। নেহেরুর মুখে সান্তনা খুঁজতে গিয়ে দেখেন প্যাটেলের মুখ ওখানে বসান। শেষ ভরসার জন্য তাকান গান্ধীর মুখের দিকে,সেখানে দেখেন ক্লান্ত এক পরাজিত মানুষের মুখ, যে কিনা সব সময়ই বলেছে পাকিস্থান ভাগ হতে পারে কেবল মাত্র তাঁর লাসের উপর দিয়েই।

মওলানা তাঁর জীবনীতে আফসোস করেছিলেন শেষবার কংগ্রেসের সভাপতি পদ স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেবার জন্য। যদিও সভাপতি পদ এক বছরের জন্য কিন্তু প্রায় সব নেতা বিভিন্ন সময় জেলে থাকার জন্য ঘটনা ক্রমে মওলানা বেশ কয়েক বছর যাবৎ টানা সভাপতি থেকে যান। দলের জিনিয়র নেতাদের মধ্যে এই নিয়ে মৃদু গুঞ্জন শুরু হলে তিনি কিছুটা সংকোচ বোধ করতে থাকেন। আবার ক্রিপস মিশনের পুরোটা দর কাষাকষি তার দ্বা্রা হওয়াতে এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তাকে ছাড়া বেশ কঠিন হবে সেটাও তাকে ভাবাচ্ছিল। তখন দলে তার জনপ্রিয়তা এতই বেশি ছিল যে কাউন্সিলরদের মধ্যে থেকে যে কেউ শুধু মুখে তার নাম উচ্চারন করলে সে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় পুনরায় সভাপতি হতেই। তিনি সেটা জানতেন, ফলে কোন কাউন্সিলরকে সে তার নাম উত্থাপন করতে দেননি বরং নিজেই নেহেরুর নাম উত্থাপন করেন। তিনি স্মৃতীচারনে বলেছেন জিনিয়রিটির বিচারে প্যাটেলের নামই আসার কথা ছিল কিন্তু কিছুটা ব্যাক্তিগত ভাললাগার কারনে নেহেরুর নাম তিনি উত্থাপন করেন এবং বিনা বাক্যব্যায়ে সবাই তা মেনে নেয়। ক্রিপস মিশন তখন প্রায় চুড়ান্ত। মওলানা, জিন্নাকে রাজি হতে বাধ্য করে। তিনটি সায়ত্ত্বশাষিত অঞ্চল নিয়ে ফেডালের ভারতের প্রস্তাব ছিল ক্রিপস মিশনে। একটা উত্তর ও পূর্ব ভারতের মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে বাকিটা হিন্দু প্রধান অঞ্চল নিয়া। কিন্তু কংগ্রেসের সভাপতি হবার পর পরই এক সংবাদ সম্মেলন নেহেরু বলে বসলেন, স্বাধীন ভারত চাইলে; মেজরিটির ম্যান্ডেট নিয়ে ক্রিপস মিশনের প্রস্তাব পুনঃবিবেচনা করতে পারবে। এই কথাকে মওলানা তুলনা করেছেন নিক্ষিপ্ত তীরের সাথে যা আর কখনই ফেরত আসে না। তিনি এই ঘটনাকে নিজের পাপের সাথেও তুলনা করেছেন। প্যাটেলের নাম কংগ্রসের সভাপতি পদের জন্য প্রস্তাব না করে তিনি যে অন্যায় করেছিলান এটা তারই ফল। এই ঘটনার পরে জিন্নাকে আর কোন দিন কোন ভাবেই পাকিস্থান প্রস্তাব থেকে ফেরান যায় নি। নেহেরু নিজে বহু চেষ্টা করেছেন, স্যার ইকবালের স্বরনাপন্ন হয়েছেন জিন্নাকে বোঝাতে কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

মওলানার আজীবন বিশ্বাস ছিল, ৪৭ এ তিনি কংগ্রেসের সভাপতি থাকলে ভারত বিভক্ত হত না।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক কিছু জানতে পারলাম । ধন্যবাদ লেখককে ।

" মুক্তি এখনো আসে নি, বিপ্লব অপেক্ষমাণ "

" মুক্তি এখনো আসে নি, বিপ্লব অপেক্ষমাণ "


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পবিত্র শব্দাবলী দিয়ে ভন্ড কোন উদ্দেশ্যকে যুক্তিযুক্ত বা গ্রহণযোগ্য করা যায় না

শুধু মুসলমান পরিচয়টাই পৃথিবীর কোথাও স্থায়ী রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টি করেনি

এই কথাগুলো যদি মানুষ ( 'মুসলমান' নয়,'মানুষ' )একটু স্মরণে রাখতো পৃথিবীর প্রচুর অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা হয়তো সৃষ্টিই হতো না কোনদিন।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণাটাই যে আগাপাশতলা অবৈজ্ঞানিক ছিল সেটাই প্রমানিত হল মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বক্তব্যে।ওনার দূরদর্শিতা এবং বৈদদ্ধ সম্পর্কে যে ধারণা ছিল সেটা আরো শক্ত হলো।

মোল্লা ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জিন্নাহ্'র মতন একজন হারামজাদা পাঁড় মাতাল ও তদীয় গংদের সাথে বুদ্ধিমান আ কা আযাদ ও তাঁর অনুসারীরা পেরে ওঠেননি। শেষতক ভারত নিভক্ত হয়েছে। অত^পর পাকিস্তানও দ্বিখন্ডিত। বাকিটুকু দেখার ইচ্ছে।

পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ফেবারেট এ রাখলাম । ঐতিহাসিক পোষ্ট।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
পৃথিবীটা হচ্ছে একটা উর্বর খামাড় যেখানে মানুষ নামের প্রাণীগুলো বিভিণ্ন মতবাদে নিজেরাই নিজেদের মুরগী বানিয়ে রেখেছে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কাঠ মোল্লা আমার নমস্কার নেবেন। "পাকিস্তান পয়দার আগেই স্বাধীন বাংলার পূবাভাস" খুব মন দিয়ে পড়লাম। পড়লাম মানে, এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম বললেই বোধহয় আমার প্রতিক্রিয়া সুস্পষ্ট করা সম্ভব হবে। মোল্লাভাই আমি প্রীত হলাম, আমি মুগ্ধ হলাম, আমি সমৃদ্ধ হলাম,আমি প্রাজ্ঞ হলাম। এটি যে একটি খুবই মূল্যবান রচনা সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। লেখাটি আমি আমার সংগ্রহে তুলে রাখলাম। তবে মোল্লাভাই, এখানে দুটি না-বলে থাকতে পারছি না। দেশ ভাগ হয়েছে এটা জলন্ত বাস্তব। এই দেশভাগের জন্য দায়ি কে বা কারা সে বিষয়ে আপনি কয়েকজন ব্যক্তিত্বের নামও উল্লেখ করেছেন।কিন্তু আপনি নাম উল্লেখ করেননি, সেই নাটের গুরুর নাম জওহরলাল নেহরু, যিনি ধোয়ি তুলসিপাতা হয়ে সারাজীবন কাটিয়ে এখন ভুবনপারে অবস্থান করছেন। এটা সত্য যে দেশ ভাগ না-করলে জওহরলাল নেহরুর স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যেত। কারণ তৎকালীন সময়ে স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রনেতা হিসাবে জওহরলাল নেহরুর অপেক্ষা মোহম্মদ আলি জিন্নাহর গ্রহণযোগ্যতাই বেশি ছিল। জিন্নাহ ছিলেন নেহরুর পথের কাঁটা । অতএব দেশের অভ্যন্তরে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বৈরীতা বাড়ানো এবং সেইসঙ্গে দেশের মহানায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে যাওয়া দুটোই একসাথে চলতে থাকল--এটি জাতীয় কংগ্রেসের কূটনৈতিক চাল। মহাভারতে যখন কৌরব-পাণ্ডবের দ্বন্দ্ব চলছে ঠিক তখনি শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হল, যার নাম লর্ড মাউন্টব্যাটেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম আমরা, বাঙালিরা। বাঙালি দ্বিধাবিভক্ত হল। বাঙালির শক্তি ক্ষয় হল। বাঙালি-শরীরের অর্ধেকটার নাম বাংলাদেশ, যাঁরা ভারতীয়দের বাঙালিদের "মালুর বাচ্চা" বলে অপমান করে, বাঙালি-শরীরের অন্য অর্ধেকটার নাম পশ্চিমবঙ্গ, যাঁরা বাংলাদেশীদের " লেড়ের বাচ্চা " বলে বাঙালি মুসলমানদের অপমান করে। এই দু-পক্ষই আমার কাছে ঘৃণ্য কীটাণুকীট। এদের কবে সুমতি হবে বলতে পারেন ? "আমার ব্লগ" -এর সদস্য হলাম শুধুমাত্র বাঙালি বলেই, বাংলা ভাষার টানে। আমরা বাঙালিরা নিশ্চয়ই সীমানা ভেঙে কোনোদিন এক হতে পারব না, কিন্তু পারবই বাঙালিরা এক-হৃদয় হয়ে থাকতে। আসুন আমরা শপথ নিই দেশ ভাগ হলেও বাঙালি ভাগ হতে দেব না। আমরা কেউই " লেড়ের বাচ্চা " বা "মালুর বাচ্চা" নই, আমরা বাঙালি। বাঙালি ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বের প্রতিটি কোণায়-কোণায়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। মন্তব্যের ঘরে আলোচনার সূত্রে ভারত বিভাজনের ব্যাপারে খুব হাল্কাভাবে দায়ী ক'জনের নাম এসেছে। এটা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়নি। মূল কথা ছিল যে দায়িত্ব মুসলিম লীগের একার ছিল না, কংগ্রেসেরও দায়িত্ব ছিল। কংগ্রেসের হিন্দুত্ববাদী অংশ ছাড়াও নেহরুর ভূমিকাও অস্বীকার করা যায় না। বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের ভারত কীভাবে ভাগ হল বইতে তার উল্লেখ আছে। বাংলার প্রেক্ষিতে জয়া চ্যাটার্জির বইতেও প্রদেশ কংগ্রেসের ভূমিকার কথা আছে, সেই নেতারা যে হিন্দুত্ববাদী ছিলেন তা না।

নেহেরুর দোষ যাই হোক, তার তুলনায় জিন্নাহর যোগ্যতা বেশি ছিল, এটা আমার কাছে পরিষ্কার না। তবে ব্যক্তি হিসাবে জিন্নাহও নেহেরুর মতই অসাম্প্রদায়িক ছিলেন, কিন্তু রাজনীতির চাল হিসাবে সাম্প্রদায়িকতা ব্যবহার করতে কসুর করেননি।

মালু আর লেড়ের চক্র থেকে আমরা সবাই বের হতে চাই। আমার ব্লগের অধিকাংশ ব্লগার অসাম্প্রদায়িক ও সাম্প্রদায়িক পোস্টদাতাদের তুলোধুনো করতে ইতস্তত করেন না। তাদের ব্যাপারে কোন গালিগালাজই অপাংক্তেয় গণ্য হয় না।

আপনাকে স্বাগতম।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভারত বিভাজিন না হলে লাভালাভের হিসাব কষে কি মিলত বলা বড় দুষ্কর, তবে এটুকু বলা যায় যে বিনা টিকিটে আইপিএল দেখার সুযোগ না হলেও বিনা ভিসায় 'তা দেখা যেত। আর ফেলানিদের লাশ হয়ে ঝুলতে হত না।
আর বিভাজনের ফলে যে লাভ হয়েছে, পয়লা নম্বরে বলা যায় যত্রতত্র গরু কুরবানি দেয়া যায়। গরুর গোশত খেতে আমজাদিয়া হোটেলে দৌড়াতে হয় না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পুরোকবির কমেনট আমার কাছে ভালোই লাগছে

দেশ ভাগের সুবিধা অসুবিধা কয়েকটা লাইন দিয়েই সাম আপ করে ফেললেন smile :) :-)

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কেউ কেউ দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হন। মাওলানা সাহেব তাঁদের একজন।

glqxz9283 sfy39587p07