Skip to content

খণ্ডগল্প- আবু তাহের

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



চতুর্থ পরিচ্ছেদ

সাড়ে তিন মাস পর বেশ হৃষ্ট-পুষ্ট একজন অচেনা লোক এসে হাজির হলো ক্যাম্পে। কেউ তাকে চিনতে পারলো না। এমনকি কারো মনে এ ভাবনার উদয় হলো না যে, আবু তাহের জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আসলেও আসতে পারে। কিন্তু লোকটির চেহারা অনেকটা আবু তাহেরের মতোই। যেহেতু সে আবু তাহেরের রুমে এসেছে। তার বেডেই শুয়ে আছে।
ব্যাপারটা প্রথমেই ধরা পরলো মশু মিয়ার কাছে। হঠাৎ চিনতে পেরে সে বলে উঠলো, বস কেমন আছেন? দাড়ি-মোচ ফালাইয়া দিসেন আপনেরে তো চিননই যায় না!

-দাড়ি-মোচ না ফালাইয়া উপায় কী? সাড়ে তিনমাসে সব জঙ্গল অইয়া গেছলো!

-ভালাই অইসে। আপনে নাই দেইখ্যা আমরা অহন নতুন এক ফিলিপিনির লগে কাম করি।

-হ্যার কি গাড়ি আছে?

-আছে। নতুন গাড়ি।

-আমার যে কবে গাড়ি অইবো আবার!

আবু তাহেরের কণ্ঠে আক্ষেপ শত ধা হয়ে রুমের ভেতর অনুরণন তোলে যেন।

অন্য আরেকজন আবু তাহেরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে বলে তাকে বদলি করে দেওয়া হলো আরেক প্রজেক্টে। সেখানে গাড়ি না হলে তার কাজ বন্ধ থাকে। অন্যান্য তাকে তেমন একটা সাহায্য করতে পারে না।
সিরিয় প্রজেক্ট ম্যানেজার সিমির বললো, এই দুই আড়াই বছরে তো ড্রাইভিং ভুলে গেছ। নতুন করে ট্রেনিং নাও!

পরদিন থেকেই আবু তাহেরের ট্রেনিং শুরু হয় পাকিস্তানি এক ড্রাইভারের সঙ্গে। নতুন করে হাত-পা চালু করতে তার সময় লাগে তিন মাস।

ড্রাইভিঙে পুনরায় হাত চালুর পর খুব শীঘ্রই যেন বদলে যেতে থাকে আবু তাহের। বাঙালিদের আশপাশে তাকে দেখা যেতে লাগলো খুব কমই। পাকিস্তানিদের ক্যাম্পে যেন নতুন করে খুঁজে পেলো তার নিজস্ব তপসিল। নতুন গাড়ি পেয়ে সে উৎসব করে পাকি ক্যাম্পে। পাকি বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যায় নতুন গাড়ির জিরো মিটারে পরিবর্তন আনার জন্য।

জুম্মার নামাজের দিনে আবু তাহেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন কি পাকি ক্যাম্পেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায় না। বেতন পেতে দেরি হচ্ছে দেখে কাদের মিয়া সকাল থেকে ঘুরে ঘুরে বেশ কিছু রিয়াল ধার করেছে বাঙালিদের কাছ থেকে। দেশে টাকা না পাঠালে মায়ের চিকিৎসা, স্ত্রীর সমিতির টাকা, মেয়ের স্কুলে ভর্তি সবই বন্ধ থাকবে।
বিকেলের দিকে আবু তাহেরকে দেখা যায় বেশ কিছু সবজি দু হাতে ঝুলিয়ে গাড়ির কাছ থেকে ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে আসতে। তাকে দেখতে পেয়ে মশু মিয়া আর কাদের একই সঙ্গে ছুটে যায়, বস, আপনেরে সকাল থাইক্যা খুঁজতাসি।

-মোখ মাফি বাঙালিরা তো হামকো আভি বেশি বেশি খোঁজ করেগা! আমারা পাস জাদিদ গারী হায়!

-বস, দেশে টাকা পাঠানের লাইগ্যা কিছু ধার-কর্য করসি। বুরাইদা যাওন দরকার। ট্যাকা ছাড়মু!

-আনা মাফি ওয়াক্ত। দুসরা জাগামে ট্রাই কর!

-বাঙালি হইয়া বাঙালিরে দেখবেন না বস!

-বাঙালি খাল্লিবাল্লি!

আবু তাহের একই মেজাজে দুলকি চালে হেঁটে যেতে থাকে। পেছন থেকে মশু মিয়া ডাকতে থাকলেও তার মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

-দেখছস হালার কারবারটা? তারপর বিড়বিড় করে যেন খুব বিশ্রী একটি গালি দেয় কাদের যা মশু মিয়া ধরতে পারে না।

(সমাপ্ত)
আগস্ট ৭, ২০১১।


প্রথম পরিচ্ছেদ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জু সি ভাই - আপনের কল্পনা শক্তির প্রখরতায় মুগ্ধ হইলাম - অবশ্য নতুন করে না। Laughing out loud

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

---------------------------------
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়ছি !!

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

smile :) :-)

---------------------------------
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গোটা পথটা আবু তাহেরের সাথেই ছিলাম

***********************************************************************
"এহনবি জিন্দা আছি, মৌতের হোগায় লাথথি দিয়া
মৌত তক সহি সালামত জিন্দা থাকবার চাই"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

---------------------------------
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!

glqxz9283 sfy39587p07