Skip to content

কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরা।

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আওয়ামীলীগ, বিএনপির ঘন্টার পর ঘন্টা সমালোচনা করার পর প্রশ্ন করি" তাহলে এখন উপায়? এর থেকে উত্তরনের উপায় কি? আমাদের কি করা উচিত?”বক্তা তখন নিরব হয়ে যায়। আমিও জানি প্রশ্নটা যত সহজ উত্তর এত সহজে দেয়া যায় না।
আমাদের সামনে যত প্রশ্ন আসে তার কোন সমাধান দেখতে পাইনা। এই রাজনৈতিক অন্ধকার বলে আমি পাশ কাটিয়ে যেতে পারিনা। আমি থমকে দাঁড়াই। কিছু না করতে পারলেও একটু চেষ্টা করি। যদি কোন সমাধান পেয়ে যাই! এই আশায়।

পুঁজিবাদের ঘন্টার পর ঘন্টা সমালোচনা শুনার পর। আমি একই প্রশ্ন ছুড়ে দিই বামপন্থিদের দিকে। এবং এবার আশা রাখি একটু মুখস্ত বুলি ছুড়ে দিবে। এবং তাই হয়। সমাজতন্ত্র।
কিন্তু কি এই সমাজ তন্ত্র? যে তন্ত্রের জাদুকরি ছোয়ায় এক নিমিষে সব দূর হয়ে যাবে? কি ভাবে এই ঔষধ কাজ করে? কোন একসময় নিশ্চয় কাজ করবে এই আশায় সেবন করতে থাকব? সমাজতন্ত্রের সমাজ কি সমস্যাহীন থাকবে? সেই সমাজেও যে একই সমস্যা ভিন্ন ভাবে আসবে না তার নিশ্চয়তা পাব কি করে?

আমরা কি তবে সোভিয়েত কিংবা চীন ঘুরে আসব, এর উত্তরের জন্য? উহু। তারা তাও মানবেন না। এখানেও দুটি দল জুটে যাবে। একদল অন্ধের মতো প্রশংসা করে যাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের এবং চীনের। আর একদল থাকবে তার বিপরীতে। তারা কোন সমাজতন্ত্রের কোন সফলতাই দেখতে পাবেন না। তারা স্টেলিনের নিষ্ঠুরতার লোমহর্ষক বর্ণনা দিতে থাকবেন,কিন্তু মানবিকতাকে নয়। সোভিয়েতের ত্রুটি গুলিই তার চোখে বড় করে ধরা পরে। উন্নয়ন বা অগ্রগতি কখনোই দেখতে পান না। কারন তারা পুঁজিবাদের চশমা পড়েই দেখতে অভ্যস্ত।আর অন্য দল বলবে সেই সময় সেই পরিপ্রেক্ষিতে অন্য কোন উপায় ছিলনা। অথবা বলে দিতে পারেন,এসব সত্য নয় ,সব আমেরিকার প্রচারণা।

কিন্তু প্রশ্নের কোন উত্তর আসে না। অথবা যে উত্তর গুলো আসে এগুলো বেশির ভাগই একপেশে। একদল মেনে নিলে আর একদল বিরোধীতা করেন।

সমাজের বিশৃঙ্খলা নিয়ে আমাদেরও ক্ষোভের শেষ নেই। আমরাও শাসকদের সকাল বিকাল গালাগাল করি। আমরা মানে আমজনতা। এই জনতার সাথেই অংশগ্রহন করেন ইসলামপন্থীরা। তারাও সমাজ,রাষ্ট্রের এই অনাচার,দুর্নীতির জন্য দায়ী করেন অধর্ম কে। ধর্মের প্রভাব কমে যাওয়াতেই এত অনাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্নীতিতে ভরে গেছে দেশ।ইহুদি নাসারা মিলে ইসলামকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। তাই এই দেশে বে-ইসলামী আইন পাশ হচ্ছে একে একে। তার পর বামপন্থিদের সাথে তাদের ও সুর মিলিয়ে সাম্রাজ্যবাদের নিন্দা করতে দেখা যায়। ইসলামিস্টরা কিছুটা আমেরিকা বিদ্বেষী(সবসময় না) ।

তাদেরকেও প্রশ্ন করি। তাহলে উপায়?

এবারও সহজ মুখস্ত জবাব পাই। কুরানের আইন চালু করতে হবে। সব সমস্যার সমাধান কোরানে অনেক আগেই দেয়া আছে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে কোরআনের আইন চালু করলে এসব দুর্নীতি,রাহাজানি, আর থাকবে না। মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকবে।

আবার যদি প্রশ্ন করি। কোরআনের আইন চালু করলেই যে মানুষ ভাল থাকবে তার ভিত্তি কি? পৃথিবীর যে সকল রাষ্ট্রে কোরানের আইন চালু সেই সকল রাষ্ট্র কি ভাল আছে? ইসলামী রাষ্ট্র গুলোর বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালে তো কোন সুখের অভাস পাইনা। পাকিস্তান কিংবা সৌদি আরকে কি ইসলামী রাষ্ট্র বলতে পারি না? আমাদের দেশ যদি পাকিস্তান কিংবা সৌদির মতো হয় । একে কি আমরা উন্নতি বলব নাকি অবনতিতে?

আমার প্রশ্ন তবু শেষ হয়না। চলতেই থাকে। সকল মত পথের কাছেই আমার প্রশ্ন "তাহলে আমরা কোথায় যাব? “
মাওলানা ভাসানীর উপর পড়তে গিয়ে দেখলাম। তিনি ছিলেন ধার্মিক কিন্তু অসাম্প্রদায়িক। এটা কি করে সম্ভব? আমিও তাজ্জব হয়ে গেলাম। আমাদের চেনা-জানা সূত্র দিয়ে তাকে মাপতে পারিনা। সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন,সিংহাসনের লোভ করেননি। কৃষকের কল্যাণে কাজ করেছেন কিন্তু একই সাথে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। ধর্ম তাকে অন্ধ করে দিতে পারেনা।

"মাটির মায়না" সিনেমার মাঝি করিম ভাই এর কথা মনে আছে? তিনি বলেছিলেন "সত্যিকারের ধর্ম কখনো মানুষকে অন্ধ করতে পারেনা"। আমি জানি না তিনি সত্য বলেছিলেন কিনা? অথবা এ কথাটা আদৌ সত্য কিনা। কিন্তু কথাটা আমার ভাল লেগেছিল। তাই মনে করি যুগ যগের প্রতিষ্ঠিত হওয়া ধর্ম এক লাথিতে উড়িয়ে দেয়ার সম্ভব নয়। সমাজ উন্নয়নের সাথে সাথেই হয়তো ধর্ম বিলুপ্ত হবে। কিন্তু জোর করে তাকে তাড়িয়ে দিতে গেলে হিতে বিপরিত হয়।

আমাদের সমাজের যে ব্যবস্থা। সমাজের মানুষের যে অসন্তোষ। সমাজের যে আচরন। এসব কিছুরও দ্রুত কোন সমাধান নেই। চাইলেই এসব ভেঙ্গে রাতারাতি সমাজতন্ত্র কায়েম করা যাবে না। যারা করেছে তারা সফল হয়নি। ইতিহাসের চাকা পেছনে ঘুরে না। কিন্তু সোভিয়েতে ঘুরেছে।মার্কস তত্ত্ব মতে, পুঁজিবাদের পরে আসবে সমাজতন্ত্র। তার পরে আসবে সাম্যবাদ। কিন্তু সমাজতন্ত্রের পরে কি করে আবার পুঁজিবাদে ফিরে এসেছে? না আমি তত্ত্ব ভুল কি শুদ্ধ কোন সিদ্ধান্তে আসছি না। আমি বলতে চাই জোর করে কোন কিছু প্রতিষ্ঠা করলে তা বেশি দিন টিকে না। সোভিয়েত হতে পারে তার উদাহরণ।


আমাদের দেশের বামপন্থিদের সাথে আমার সংঘর্ষটা হয় এই জায়গাতেই। বাস্তবতাকে অস্বীকার করে কোন তত্ত্ব দেয়া চলবে না। তারা তা মানবেন না। লেনিনের বই থেকে তারা কোট করে দেখিয়ে দেন যে,আমি ভুল। আমাকে ভুল প্রমাণ করা যত সহজ,সমাজের আমপাবলিক কে বোঝানো এত সহজ নয়। তাই লেনিনের কোট করা অংশ মুখস্ত করে বামপন্থি নেতা হওয়া যায়। কিন্তু জনগনের নেতা হওয়া যায় না।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওজনদার পোষ্ট।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কন কি? তাহলে এখন উপায় কি?ওজন তো কমাতে হবে। Laughing out loud Laughing out loud


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পেলাস চিহ্নটা কই???? খুঁজে পাচ্ছি না।
ভাল লাগছে।।

------------------------------------------------------------
যে শতভাগ সত্য কথা বলে, সে কখনো ভাল মানুষ না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সমালোচনা করুন। পেলাসের দরকার নেই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রোগই সঙ্ক্রামক, স্বাস্থ্য নয়। সমাজতন্ত্রের ভালো মন্দ দুই দিকই আছে, যেমন আছে পুঁজিবাদের। দুইটির ভালো দিক গ্রহন করে রাষ্ট্র চালনা করলে সেটা সবার জন্যই মঙ্গল জনক। কিন্তু আমরা মানুষেরা যে কোন সিস্টেম কেই কলুষিত করে ফেলি নিজের স্বার্থের জন্য, অথবা অন্যকে টেনে নামানোর জন্য।

নিয়ন্ত্রিত ভাবে পুঁজিবাদ খারাপ না। তবে লাগামহীন ভাবে স্বেচ্ছাচারী আচরন করতে দিলে যে কি হয় সেটা বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাই বলে দিচ্ছে। পুঁজিবাদ ও একটা সিস্টেম, সিস্টেমের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রন না করতে পারলে সেইটা কলাপ্স করবেই।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নাস্তিকদের দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হোক, যেন তারা ঈদের সেমাই না খেতে পারে। ( রাইট টু কপিঃ ডঃ আইজুদ্দিন)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হুম। এই কথাটা আমার খুবই পছন্দের "রোগই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়" । এটা কার কথা আমি ভুলে গেছি।


আমি এই স্বেচ্ছাচারিতা নিয়েই কথা বলতে চেয়েছি। এই সময়ে এসব তত্ত্ব আবেগের চোখ দিয়ে না দেখে যুক্তির চোখ দিয়ে দেখা উচিত।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুব সম্ভবত প্রমথ চৌধুরীর, নিশ্চিত নই।

সমাজতান্ত্রিকরা তাদের সাম্যবাদের ধারনা খুবই আবেগপ্রবন ভাবে ডিফেন্ড করতে চায়। প্র্যাক্টিকাল ইমপ্লিমেন্টেশনে যে এই পর্যন্ত কোথাও কাজ করতে পারেনি সেটা পুরোপুরিই উপেক্ষা করতে চান।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নাস্তিকদের দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হোক, যেন তারা ঈদের সেমাই না খেতে পারে। ( রাইট টু কপিঃ ডঃ আইজুদ্দিন)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এগজাক্ট কথাটা মনে হয় "ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নহে"।

======================================================
তোমায় ভালবাসা ছাড়া আর কোন উপায় নাই,তাই কেবলি ভালবেসে যাই.........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুব সম্ভবত। Tongue Tongue

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নাস্তিকদের দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হোক, যেন তারা ঈদের সেমাই না খেতে পারে। ( রাইট টু কপিঃ ডঃ আইজুদ্দিন)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সমাজতান্ত্রিকরা তাদের সাম্যবাদের ধারনা খুবই আবেগপ্রবন ভাবে ডিফেন্ড করতে চায়। প্র্যাক্টিকাল ইমপ্লিমেন্টেশনে যে এই পর্যন্ত কোথাও কাজ করতে পারেনি সেটা পুরোপুরিই উপেক্ষা করতে চান।


বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে, বামপন্থীদের মাঝে এখনো অনেক সৎ ,উদার,ডেডিকেটেট লোকজন আছে। তাদের কাজ এবং সততার উপর আস্থা রাখা যায় কিন্তু তাদের তত্ত্ব বিশ্লেষণে আমি আস্থা পাইনা। তারা জানে ভাল, কিন্তু বেশির ভাগই বুঝে কম।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালো লাগল, মাওলানা ভাসানিকে নিয়ে লিখুন না।

..............................................................

সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
কবি এক জাগে_
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
কত অনুরাগে
একদিন শতবর্ষ আগে।।
আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্ নূতন কবি
তোমাদের ঘরে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাসানী নিয়ে লিখার ইচ্ছা আছে। ইতিহাস নিয়ে লিখতে গেলে প্রচুর রেফারেন্স দিতে হয়। এজন্য সময় লাগে অনেক বেশি। তাই পারতপক্ষে আমি ইতিহাস বিষয়ে লিখতে যাইনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Puzzled Puzzled Puzzled

===================================================================
যেখানে পাইবে ছাগু আর বাদাম

চলিবে নিশ্চিত উপর্যপরি গদাম...............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এটা খুঁইজা পাইলেন ক্যামনে?

glqxz9283 sfy39587p07