Skip to content

ভালোবাসার নয়া নমুনা

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার ব্লগ-এর সকল ব্লগার,পাঠক,প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শুভানুধায়ী এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা আমার এই লেখা পড়ছেন তাদের সব্বাইকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেছা ও ভালোবাসা।
এটা আমার প্রথম ব্লগ লেখা।তাই কারো যদি ভালো না লাগে অথবা অজান্তে কারো মনে যদি আঘাত করে থাকি তবে আমি বিশেষভাবে দুঃখিত।
আমার এক চাচাত ভাই একটি মেয়েকে (আমার ছোট বোনের বান্ধবী) পছন্দ করতো এবং ভালোবাসতো।আমার সাথে সে এই বিষয়ে অনেক কথায় বলতো যার বেশীর ভাগই ছিলো মেয়েটির প্রশংসা করে।অবশ্য মেয়েটিকে প্রশংসা করার মত যথেষ্ট কারণও ছিল।দেখতে আহামরি কিছু না হলেও ভদ্র আচার-ব্যবহার,শিক্ষা-দীক্ষায় মেয়েটা বেশ ভালই।কিন্তু কোন কারনে মেয়েটির আমার চাচাত ভাইকে পছন্দ নয়, ভালোবাসাতো দুরের কথা।তাই প্রস্তাব পাওয়ার পর মেয়েটি অতি ভদ্রভাবে সরাসরি তা প্রত্যাখান করে।তারপরও আমার চাচাত ভাই মেয়েটিকে বাগে আনতে ব্যর্থ হয়ে একদিন আমাকে ( আমার ধারণা আরো অনেককেই বলে থাকতে পারে) মেয়েটি সর্ম্পকে কিছু খারাপ কথা বলেছিলো।অর্থাৎ যে মুখ দিয়ে আমি একদা একটি মেয়ের প্রশংসা শুনেছিলাম সে একই মুখে এখন মেয়েটির দুর্নাম শুনতে হচ্ছে।অনেকটা ঈশপের বিখ্যাত-শিয়াল পন্ডিতের আংগুর ফল টক গল্পের মত।
তো এই হল আধুনিক যুগের ভালবাসার একটি ছোট নমুনা।
বর্তমানে ছোট-বড় কমবেশি সবাই ভালোবাসার ব্যাপারে মোটামুটি অভিজ্ঞ।অনেকে কথায় কথায় বলেনা-মায়ের পেট থেকে শিখে আসা,অনেকটা সেই রকম।তো সকলের কাছেই জিজ্ঞাসা,আপনারাই বলুন,আপনাদের কাছে কি মনে হচ্ছে না যে, ইদানিং ভালোবাসা ব্যপারটা যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে।মনে হচ্ছে না যে ভালোবাসার সঙ্ঘা,আবেগ,আবেদন সব নিচু স্তরে নেমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
কি জানি, কারো মনের খবরতো আমার জানার কথা নয়।তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে,যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ভালোবাসার ধরন ধারনে পরির্বতন এসেছে ঠিকই তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা ক্রমে আগ্রাসী রুপ নিতে দেখা যাচ্ছে। যে দৃঢ় ভিতগুলোর উপর ভালোবাসা দাঁড়িয়ে থাকে সেই বিশ্বস্ততা,নির্ভরতা,নির্লোভতা,নির্স্বাথপরতা এর সবটাই দিনে দিনে হাঁরিয়ে যাচ্ছে ভালোবাসা নামক স্বর্গীয় অনুভুতি থেকে।পরিবর্তে মানুষের মনে ভালবাসার বদলে স্থান করে নিচ্ছে কাম-ক্রোধ,লোভ-লালসা, ঈর্ষা এবং সন্দেহ।ফলে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক হয়ে যাচ্ছে বড় বড় শিং,দন্ত,নখর যুক্ত পশুর মত।যারা প্রায়শই কোন কারণ ছাড়াই নিজেদের মধ্যে মারামারিতে লিপ্ত হয়।যার শেষ পরিনতি হয়ে দাড়ায় অত্যন্ত ভয়াবহ।
এ কথা আমরা সকলেই জানি যে, ভালোবাসা ব্যাপারটি অত্যন্ত ব্যাপক।এক কথায় যার প্রকাশ বা ব্যাখ্যা অসম্ভব। ভালোবাসা জন্ম-মৃত্যুর মতই শ্বাশ্বত,চিরন্তন।প্রানের উৎপত্তি লগ্ন থেকেই যার সূচনা। কেবল দুজন নর-নারীর প্রেমের মধ্যেই ভালোবাসা সীমাবদ্ধ নয়।
সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার স্নেহ-মমতা বা পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য,ভাই বোনের একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহনশীল আচরণ এই সবের সমষ্টিইতো ভালো্বাসা। এমনকি রক্তের বন্ধনের বাইরেও দুজন মানুষের (হোক তা নারী-পুরুষ উভয়ই)মধ্যে বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে যে মিত্রতার সৃষ্টি হয়(যাকে আমরা বলি বন্ধুত্ব)সে বিশ্বাসটাইতো ভালোবাসার একটি রুপ।
অথচ আজকাল এই আধুনিক যুগে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি?দেখতে পাচ্ছি,অর্থ-সম্পত্তির মোহে, অনেক ক্ষেত্রে অন্যের প্ররোচনায় অথবা এই রকম কতিপয় কারনে সন্তান তার পিতা-মাতাকে চুড়ান্ত অবহেলা করছে,অপমান করছে।এমনকি ঘরের চাকর-বাকরের চেয়েও খারাপ আচরন করছে জন্মদাতা পিতা-মাতার সাথে। আরো দেখা যায়,মাদকে আসক্ত হয়ে অথবা অসৎ সংগে জড়িয়েও কিছু সন্তান পিতা-মাতার সাথে অত্যন্ত অশোভণ আচরন করছে।এমন নয় যে,এ ধরণের ঘটনাগুলো আদিকার যুগে সংঘঠিত হয়নি।এবং এ রকম ঘটনাগুলো নতুনও নয়।তবে সময়ের বির্বতনে এর ব্যপক বিস্তার এবং এসব ঘটনায় যে নিষ্ঠুরতা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে তা পূর্বের যে কোন সময়ের চাইতে ভয়াবহ।বিশেষ করে,প্রিন্ট এবং ইল্যেক্ট্রনিক মিডিয়ার বরাত দিয়ে আমরা যখন এই খবরগুলো জানতে পারি যে,অমুক জায়গায় সন্তান কর্তৃক পিতা-মাতা খুন,ভাইয়ের হাতে ভাই খুন,বন্ধুর হত্যাকারী বন্ধু ইত্যাদি আরো অনেক মর্মস্পর্শী ঘ্টনা তখন প্রত্যক্ষদর্শী না হয়েও এর প্রকৃত ভয়াবহতা সম্পর্কে সহজেই অনুমান করা যায়।
এত গেল ভালবাসার একটি স্তর।যা সার্বজনীন।ভালবাসার আর একটি স্তর যেটাকে আমরা বলি প্রেম।যা বিশেষ কারো জন্যে অন্তরের অন্তরস্থলে সৃষ্ট বিশেষ এক অনুভুতি। প্রেমের মানে একেক জনের কাছে একেক রকম।কারো কাছে প্রেম একটা বিশ্বাস, কারো কাছে প্রেম এক আশ্চর্য ভালোলাগা, কারো কাছে প্রেম একটা পবিত্র অনুভতি, আবার কারো কাছে প্রেম এক স্বর্গীয় সুখ যা অবনর্নীয়। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আধুনিক প্রেম রুপান্তরিত হয়েছে ক্ষণিকের ভাল লাগায়।আগের জামানার মত চন্ডীদাস-রজকীনির প্রেম এ যুগে অচল।এখনকার প্রেম হল আজ একে ভাল লাগে তো কাল ওকে ভাল লাগে।আজ এর সাথে প্রেম তো কাল ওর সাথে।অনেকটা ঘুর্নীঝড়ের মত।ক্ষণে এখানে তো ক্ষণে ওখানে।আর যে জায়গা ত্যাগ করে যায় তা লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায়।যখন কেউ ছ্যাকা খায় তখন তার জীবন তো লন্ডভন্ড হয়েই যায়।
আগে আমরা সিনেমায় দেখতাম,গরীবের ছেলে আর বড়লোকের মেয়ের প্রেম কাহিনী।যার বাস্তবতাও আছে অনেক।কিন্তু এখন ছেলে-মেয়েরা সমানে সেয়ানা।প্রেমে ডুব দেয়ার আগে একে অন্যের প্রতিপত্তি নিয়ে চুলচেরা হিসেব কষে নেয়।তাও ভাল ছিল যদি ব্যাপারটা হিসাব কষা-কষি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকত।কিন্তু শেষ পর্যন্ত থাকল না।অবক্ষয়ের পিচ্ছিল পথ বেয়ে নিচে নামতে নামতে প্রেম বিষয়টা এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে,কারো কারো কাছে প্রেম বিষয়টা আর সর্গীয় নেই হয়ে গেছে শরীরিয়।প্রেমের ছলনায় এক বা একাধিক মেয়ের সর্বস্ব কেড়ে নিতেও কারো কারো বিবেকে বাঁধে না।এমন অনেকেই আছে যারা এত নিচতার পরও ক্ষান্ত হয় না।এসিড নিক্ষেপ ও খুন-গুম করে তারা মেতে ওঠে চরম পৈশাচিকতায়। আবার বিপরীত চিত্রও দেখা যাচ্ছে ইদানিং।কিছু ভাল মনের পুরুষ মানুষও তাদের সর্বস্ব খোঁয়াচ্ছে সমাজের তথাকথিত সম্ভ্রান্ত,অভিজাত রমনীকুলের সাজান প্রেমের ফাঁদে পড়ে।তবে আমাদের সমাজে পুরুষ মানুষের তো ইজ্জত যাওয়ার ভয় নেই।কারণ তারা হল হাঁসের পালকের মত।যতই কাদা পানিতে হুটোপুটি খাক না কেন তবুও সর্বদায় পরিপাটি।তাদের যায় শুধু ধন-সম্পত্তি।ক্ষেত্র বিশেষে প্রানের বলিও ঘটে।তবে রক্ষা যে, সামগ্রিক চিত্রটা এই রকম নয়।তাহলে যে খারাপ মানুষের ভারে পৃথিবীটা রসাতলে যায়।কিন্তু মনে হয়, এভাবে চলতে থাকলে রসাতলে যেতে খুব একটা সময়ও লাগবেনা।
এখন যে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন(কারণ প্রশ্ন করাটা সহজ),কেন এমন হচ্ছে?কারণও পেয়ে যাবেন মূর্হুতেই হাজারটা।কেউ বলবেন-সামাজিক বৈষ্যেমের কথা,কেউ বলবেন অশিক্ষা-কুশিক্ষার কথা, কেউ বলবেন-অভিভাবকদের দায়বব্ধতার কথা,কেউ দোষারোপ করবেন আকাশ সংস্কতিকে,আবার কেউ কেউ বা স্বভাবসুলভভাবে দায়ি করবেন রাষ্ট্র পরিচালকদের।সবই না হয় হল কিন্তু সমাধান?কারো কাছে কি আছে এর কোন সমাধান?
বিজ্ঞজনেরা অনেক উপদেশ দিয়ে গেছেন।পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে অভিনব সব সমাধানের পথও বাতলে দিয়ে গেছেন।কিন্তু এ থেকে কেউ কি কোন উপদেশ বা শিক্ষা গ্রহন করছে কিংবা এসব সমাধানের প্রয়োগ কি বাস্তবে সমাজের সর্ব স্তরে আছে। জানি নেই।
তবে একজন সাধারণ ও সচেতন মানুষ হিসেবে এটা বলতে চাই,আসুন আমরা ভালোবাসি,অর্থ,সম্পদ,কামকে নয়।সষ্টির সেরা জীব-মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালবাসি।যার যতটুকু প্রাপ্য,যাকে যতটুকু দেয়া যায় তাকে ততটুকু ভালোবাসাই আমরা দিই।তাতে আমাদের কিছু হারাবে না বরং আমরা লাভ করব এক অনন্য প্রশান্তি যা হবে সত্যি সত্যিই স্বর্গীয়।
পরিশেষে,আপনাদের উদ্দ্যেশে একটা প্রশ্ন রেখে দিয়ে আমি এ লেখার ইতি টানতে চাই।
আমার চাচাত ভাইয়ের ওই আচরনের পর যে উপলদ্ধিটা আমার হয়েছিলো তা হলো,মেয়েটি সঠিক কাজটিই করেছিলো।আর দশটা বাঙ্গালী মেয়ের মত মনের মানুষ চিনে নিতে মেয়েটি ভুল করেনি।কারণ যাকে ভালোবাসা যায় আর যায় হোক অন্তত তার অমঙ্গল চাওয়া যায় না,অন্যের কাছে তার বদনাম করা যায় না।
এটা একান্তই আমার ধারণা। আপনাদের মত কি?যাকে সত্যিই ভালোবাসা যায় তার কি অনিষ্ট কামনা করা যায়...............।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চপিকলু !! Wink

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নামটা কি ইচ্ছে করেই বিকৃত করেছেন?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Puzzled

.
.
.
~ ~ ~ * * * মানবতাই হোক মানুষের ধর্ম * * * ~ ~ ~

glqxz9283 sfy39587p07