Skip to content

পঁচাত্তরের ১৫ই আগষ্ট, আমি যেমনটা দেখেছি।

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পঁচাত্তরের আগষ্টে আমরা ছিলাম কুড়িগ্রামে, বাবার চাকুরী সূত্রে। আওয়ামী লীগের প্রথম শাসনামলে সবচেয়ে হৃদয় বিদারক যে ঘটনাটি ঘটেছিল- চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ, যে দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষের অনাহারে মৃত্যু ঘটেছিল, তাদের অধিকাংশ ছিলেন এই কুড়িগ্রাম অঞ্চলের মানুষ।

মংগাজনিত অভাব বহুযুগ ধরে এ অঞ্চলের নিত্যসংগী, বড় দুর্যোগে সে অভাব আরও বহুগুন বৃদ্ধি পেয়ে বহু মানুষর প্রান কেড়ে নিয়েছিল। মংগা দূর হবে, অভাব ঘুঁচবে, স্বাধীনতার এই অর্থ বুকে নিয়ে যাঁরা আশায় বুক বেঁধে ছিলেন, আশা পূর্ন হওয়ার আগেই তাঁদের বিদায় নিতে হয়েছে অত্যন্ত করুনভাবে। সেই মংগার দেশে, সেই মৃত্যুপুরীতে আমাদের স্বাধীনতার মহানায়কের মৃত্যুকালীন সময়ে আমি কুড়িগ্রামেই ছিলাম।

ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে তখন রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করছি। কাজকর্ম কিছু নাই, তাই বাসায় থাকা অল্প কিছু বই বারবার পড়ে, আর শুয়ে বসে দিন কাটছে। ১৫ই আগষ্টের ভোরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছি, হটাৎ কার যেন বিকট চেচামেচিতে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। বাবার একজন কলিগ, উচ্চস্বরে ডেকে বলছেন, তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠ, রেডিও খোল, দেখ, শয়তানটাকে শেষ করে দিছে। প্রায় সংগে সংগেই বাসার সবাই জেগে উঠলাম, রেডিও অন করা হলো, শোনা গেল- আমি মেজর ডালিম বলছি, স্বৈরাচারী শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে......!

দু তিন বার শোনার পর বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, আর্মী কি ক্যু করেছে? তিনি কোন উত্তর দিলেন না, দেখলাম তাঁর দুচোখে চিকচিক করছে অশ্রুর ধারা। ব্যাপারটা আমার কাছে মোটেও বিশ্বাসযোগ্য মনে হলো না, আমার মা বললেন- এটা হতেই পারে না, এই লোকটা মিথ্যা কথা বলছে।

বেলা এটু বাড়লে বাইরে বের হলাম, ব্যাপারটা আসলেই সত্য কি না তা যাঁচাই করে দেখার উদ্দ্যশ্যে। ষ্টাফ কোয়ার্টারে পরিচিত যে কয়েকজনকে পেলাম, তাঁদের কেউই আমার প্রশ্নের কোন উত্তর দিলেন না, কেমন যেন ফ্যাল ফ্যাল করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন, যেন আমার প্রশ্নটি তাদের জন্য অতি দুর্বোধ্য কোন কিছু। বেলা আরও একটু বাড়লে বাজারের দিকে গেলাম, যদি কোন তথ্য পাওয়া যায়!

সেখানে অস্বভাবিক এক দৃশ্য, কোন দোকানপাট খোলা নেই, রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য, যে দুএকজন মানুষ দেখছি তাদের সবার মুখ থমথমে, কিছু যে জিজ্ঞেস করবো, সে পরিস্থিতি নেই। কেমন যেন গা ছম ছম করা আতংকজনক পরিবেশ। পরিচিত একজনকে পেলাম, হনহন করে কোথাও যাচ্ছেন, আমাকে দেখে প্রায় ধমকের সুরে বললেন- এখানে কি করছো? যাও বাসায় যাও। অগত্যা বাসায় ফিরে এলাম। বাসায় ফিরে আবার রেডিওর কাছে গেলাম, দেখলাম এতদিনের বাংলাদেশ বেতার হটাৎ করে রেডিও বাংলাদেশ হয়ে গেছে।

ডালিমের ঘোষনা তখনও প্রচার করা হচ্ছে, সেই সাথে সারা দেশে কারফিউ জারির ঘোষনা প্রদান করা হচ্ছে, আর ইসলামী গান প্রচার করা হচ্ছে। কিছুক্ষন পর মোশতাক রেডিওতে ভাষন দিয়ে হত্যাকান্ডকে জাষ্টিফাই এবং নিজেকে প্রসিডেন্ট হিসেবে ঘোষনা করলো। তিন বাহিনীর প্রধানরাও একে একে মোশতাকের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করে গেল। ধীরে ধীরে বিশ্বাস হলো, আসলেই তিনি আর নেই, আমরা অবলীলাক্রমে হত্যা করেছি আমাদের আপন পরিচয়।

বিকেলে আবার বের হলাম বাসা থেকে। এবার এখানে সেখানে ছোট ছোট কিছু জটলা পাওয়া গেল। পরিস্কার করে মনের ভাব কেউ ব্যাক্ত করছে না, কিন্তু আভাসে ইংগিতে কেউ কেউ প্রকাশ করছে চাপা উল্লাস, তবে অধিকাংশেরই মুখ থমথমে, চোখেমুখে বেদনার ছাপ স্পষ্ট। অন্যদের কেউ কেউ ভবলেশহীন।

পরিচিত দুইটি বাসায় গেলাম, একটি ভোরবেলার সেই ভয়াল বার্তাবাহকের। সে বাড়ীতে খুশীর আবহ, তিনি বললেন- দিছে শালা ফেরাউনের বাচ্চাকে শেষ করে, এইবার দেশটার উন্নতি হবে ইনশাল্লাহ। অন্য বাসাটি একজন স্কুলশিক্ষকের। এ বাড়ীতে সর্বত্র শোকের চিহ্ণ বিরাজমান। তিনি বসে আছেন নির্বাক স্তব্ধ হয়ে, তাঁর স্ত্রী অদূরে বসে কোরান তেলাওয়াত করছেন। আমরা, বাঙালীরা বহুদিন ধরে যেন সেই দু বাসার উল্লাস আর শোক বুকে ধারন করে অতিক্রম করছি এক বিকৃত বিবর্ণ সময়।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জিয়ার সময়ে কি মঙ্গা হতে মাফ পাইছিলেন ?
আরেকটা প্রশ্ন গত পোস্টটা দিয়েছিলেন কি এই পোস্টটার অবতারনার জন্যই ?

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জিয়ার সময়ে কি মঙ্গা হতে মাফ পাইছিলেন?
না, তবে জিয়ার সময় এবং পরেও বহুদিন এই দুর্ভিক্ষ নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রাজনীতি হয়েছে। যতদূর জানি, কুড়িগ্রাম মংগামুক্ত হয়েছে অতি সম্প্রতি।
আরেকটা প্রশ্ন গত পোস্টটা দিয়েছিলেন কি এই পোস্টটার অবতারনার জন্যই ?
না। দুটি পোষ্ট সম্পূর্ন ভিন্ন প্রাসঙ্গিক, আপনার এরকম মনে হলো কেন?
লেখার শুরুতেই মঙ্গা এবং দুর্ভিক্ষের উল্লেখ করায় আপনি হয়তো বিভ্রান্ত হয়েছেন, এতে অবশ্য আমার লেখার দুর্বলতাই প্রকাশ পায়। মংগা তথা দুর্ভিক্ষের উল্লেখের কারন হলো, যে অঞ্চলে দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, মুজিবের হত্যাকান্ডে সেই অঞ্চলের মানুষের কি প্রতিক্রিয়া, সেটা যে আমি চাক্ষুষ করেছি-সেটা তুলে ধরা। বহুদিন থেকে বাংলাদেশে এক ধরেনের প্রচারণা ছিল, এখনও আছে, মুজিবের মৃত্যুতে বাংলার মানুষ উল্লাসে মেতে উঠেছিল, স্বস্তিতে শোকরানা নামাজ আদায় করেছিল, তেমনটি হলে সবচেয়ে বেশী হওয়ার কথা কুড়িগ্রামে। আমি সে সময় কুড়িগ্রামে ছিলাম, কেমন দেখেছি, তাই তুলে ধরেছি, নিজের কোন মনোভাব কিংবা মতবাদ প্রকাশ করতে চাই নি।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যদি কিছু মনে না করেন আপনার বয়স জানতে চাচ্ছি, বাকী কথা ইফতারের পর হবে।

বয়স জানার কারন হলো - হুবুহু এই কথাটা কেমনে মনে রাখলেন-

তিনি বললেন- দিছে শালা ফেরাউনের বাচ্চাকে শেষ করে, এইবার দেশটার উন্নতি হবে ইনশাল্লাহ।


আর ফেরাউন শব্দটা ইদানিং ছাগুদের প্রিয় শব্দ

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখন বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে, তখন পনের পার হয়েছে। সেদিনের ঘটনাটা কোন সাধারন ব্যাপার ছিল না, অন্ততঃ আমার কাছে তো নয় ই। ঐ কয়েকটা শব্দ আমার মনে তখন তুমুল অভিঘাত সৃষ্টি করেছিল, অনেকদিন ধরে আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করে চলেছিল। সে কারনেই এখনও মনে আছে।
ফেরাউন শব্দটা এখন যে ছাগুদের প্রিয়, তারা এটা তাদের বাপ চাচাদের কাছে উত্তরাধীকার সূত্রে পেয়েছে।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যুদ্ধকালীন সময় কোথায় ছিলেন ? আপনার লেখনী শক্তি ভালো,খুবই ভালো। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু লিখেন।

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@বেলের কাঁটা,
বাবা যুদ্ধে, আমরা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দেশের বাড়ীতে।

যাক, কষ্টিপাথরে যাচাই হয়ে প্রসংসাপত্র মিললো শেষ পর্যন্ত, ধন্যবাদ।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখার বহু মানুষ আছে, আমি অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে লিখতে চাই।
তবে এরকম টুকটাক দুকলমের স্মৃতিচারন হয়তো কখনো কখনো করবো।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর কারন হিসেবে অনেকেই ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের কথা বলে। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন যে দুর্ভিক্ষ ৭৪ এই শেষ হয়েছিল এবং ৭৫ এর আগস্টে দেশে কো দুর্ভিক্ষ ছিল না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু হত্যার কারন এতদিনে অনেকটাই পরিস্কার হয়ে উঠেছে, চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ না হলেও তা হতো।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সময়ের সার্থক চিত্রায়ন, ভাল লাগলো। ১৫ই আগষ্ট নিয়ে আমার একটা পোষ্ট ছিল গত বছরে, সময় পেলে পড়ে দেখবেন।
এখানে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়েছি, খুবই মানসম্পন্ন লেখা।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাল লাগ‌ল স্মৃতিচারন। আমি আমার বিশ্বস্ত আপন জনদের কাছে সে সময়কার যে বর্ননা শুনেছি তা অনেকটা এমনই ছিল।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোস্ট থেকে হয়ত ঐ সময়ের কিছু মানুষের ভাবমূর্তি বুঝলাম। ঐ বার্তাবাহক যুদ্ধের সময় কোন মতবাদে নিশ্বাসী ছিল জানেন কিছু? কেন মনে করত মুজিব থাকলে দেশের উন্নতি হবে না? আর আপনি কি এর আগে অন্য কোথাও ব্লগিং করতেন? করলে কোথায়?

অট : আমি যতটুকু জানতাম, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সিরাজ শিকদার আর জাসদের হর্তাকর্তা বাদে আর কেউ মুজিব বিরোধী ছিলেন না। আর তারাও, এতটাই বিরোধী ছিলেন না যে মুজিবহত্যায় কেউ আনন্দিত হবেন। এমনকি পাওয়া যায়, জাসদই ঢাবি'তে ১৫ আগস্ট প্রথম বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সমর্থিত সূত্র থাকলে কেউ জানাবেন।

তাই, এ সিদ্ধান্তে আসতেই পারছি, মুজিব হত্যায় যদি কেউ বিন্দুমাত্র আনন্দিত হয়ে থাকে, তাহলে ঐ কুত্তার বাচ্চা নিঃসন্দেহে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের জারজদের কেউ।

-------------------------
ওরা কাদা ছুড়ে বাধা দেবে ভাবে -ওদের অস্ত্র নিন্দাবাদ,
মোরা ফুল ছড়ে মারিব ওদের, বলিব - ‘‘আল্লাহ জিন্দাবাদ”


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জাসদ বিক্ষোভ করেছে কথাটা সত্যি। ৫ নভেম্বরের হরতালেও জাসদ ছিলো।

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি যতটুকু জানতাম, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সিরাজ শিকদার আর জাসদের হর্তাকর্তা বাদে আর কেউ মুজিব বিরোধী ছিলেন না। আর তারাও, এতটাই বিরোধী ছিলেন না যে মুজিবহত্যায় কেউ আনন্দিত হবেন।


বিষয়টা আমার কাছে সত্য মনে হচ্ছে!!

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@পাপী,
উনি আমার বাবার মতই একজন সরকারী চাকুরীজীবি ছিলেন্, তবে আমার বাবার মতো মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন নি। এটা ঠিক, এই পোষ্টে আমি সেদিনের একটি ছোট অঞ্চলের মাত্র দুটি(আমাদেরটি সহ তিনটি) বাসার বিবরন আংশিকভাবে বর্ননা করেছি, কিন্তু তার আগে পরে অনেক মানুষের অনেক কথা কিন্তু আমি শুনেছি।
এখন দেশের অনেক বিখ্যাত মানুষ বলেন, এবং অনেকেই তা বিশ্বাসও করেন যে মুক্তিযুদ্ধকালে দেশের ৯৯% মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। আমার পর্যবেক্ষন মতে এ কথাটি মোটেই ঠিক নয়। এটা ঠিক যে মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের কোন গুরুত্ব ছিল না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সবাই মুক্তিযুদ্ধের এবং পাকিস্তানের ভাঙ্গনে খুশী হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর দেশের চরম দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থা সাধারন অভাবী মানুষদের সংগত কারনেই ক্ষুদ্ধ করেছিল। খুবই দুঃখের বিষয়, জাসদ এবং সর্বহারা পার্টি জনগনের এই দুর্দশা এবং ক্ষোভকে পুঁজি করে তাদের রাজনীতি পরিচালিত করেছিল। তার সাথে পাকিস্তান পন্থী রাজনীতি সচেতন মানুষেরা প্রাত্যহিক জীবনে প্রচন্ডভাবে আওয়ামী লীগ, মুজিব এঁদের জঘন্যভাবে সমালোচনা করতো, নানারকম অবাস্তব গুজব রটনা করতো। আমার বর্নিত ঐ লোকটির মত মানুষ দেশে একজন দুজন ছিল না, অনেক ছিল। সত্তর এর নির্বাচনে জামায়াত ৬% ভোট পেয়েছিল, তিনটি মুসলিম লীগ মিলে হয়তো আরও ৫% পেয়েছিল। তাছাড়া ভোটে আওয়ামী লীগই জিতবে, এটা মনে করে তাদের অনেকে ভোটও দেয় নি, সুতরাং আমার মতে অন্ততঃ ১৫% শতাংশ মানুষ এমনিতেই আওয়ামী লীগ এবং স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ ছিল না। স্বাধীনতার পরের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারনে আওয়ামী বিরোধী মানুষের সংখ্যা আরও বেড়েছিল। তবে এটা ঠিক, যাঁরা চুয়াত্তর/পঁচাত্তরে আওয়ামী লীগের উপর খুবই ক্ষুদ্ধ ছিল, তাদেরও অনেকেই বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক হত্যাকান্ডে ব্যাথিত হয়েছিল।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার এই বিশ্লেষন খুবই গুরুত্বপূর্ন এবং বাস্তবধর্মী বলেই মনে হয়।

আমার আরো মনে হয় যে মুক্তিযুদ্ধের পর এই পাল্লা নানান কারনে ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শিবিরের দিকে আরো বেড়েছে বই কমেনি।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ আদিল ভাই,
আপনার এই উপলব্ধিও খুবই গুরুত্বপূর্ন, আমার কাছে।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@চলনামৃত, একটা প্রশ্ন করেছিলাম আগে।

আর আপনি কি এর আগে অন্য কোথাও ব্লগিং করতেন? করলে কোথায়?

-------------------------
ওরা কাদা ছুড়ে বাধা দেবে ভাবে -ওদের অস্ত্র নিন্দাবাদ,
মোরা ফুল ছড়ে মারিব ওদের, বলিব - ‘‘আল্লাহ জিন্দাবাদ”


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@পাপী, অতি সামান্য, উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু নয়, নামি কোন ব্লগ নয়।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমরা, বাঙালীরা বহুদিন ধরে যেন সেই দু বাসার উল্লাস আর শোক বুকে ধারন করে অতিক্রম করছি এক বিকৃত বিবর্ণ সময়।


এই একটা কথাতেই আসলে বলে দিছেন সব।

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাকশালের ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

______________________
Do U Chase Ur Dreams?
or
Do They Chase U?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@বাউলা,
সেই সময়, পৃথিবীর অল্প কয়েকটি মাত্র দেশে গনতান্ত্রিক ব্যাবস্থা বলবত ছিল। বাকশলের মতো একদলীয় ব্যাবস্থা অনেক দেশেই ছিল, বিশেষতঃ মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত কিংবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন দেশেই গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থা প্রচলিত ছিল না। এর নিশ্চয়ই একটা কারন ছিল তাই না? কিন্তু বঙ্গবন্ধু গণতান্ত্রিক পথেই হাঁটতে চেয়েছিলেন, তিনি ৭২ সালে বাকশাল গঠন করলে কেউ কিছুই মনে করতো না। বাকশাল গঠন করাটা অন্যায় বলে আমার মনে হয় না।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শুনেছি "ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ" হয়েছিল ৫-৭ দিনের জন্য, তবে জুজুর ভয়ে নাকি ডালিমদের জিহাদী জোশেও ভাটা পরে। মিষ্টি বিলানোর কথা শুনেননাই?

বাংলাদেশের প্রতিটা ঘরে নাকি সেদিন মিষ্টির বন্যা বয়ে গিয়েছিল, তবে আমার বাপ-চাচাদের এলাকায় নাকি আবার "ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশের" বাইরে ছিল বলে সেখানে মিষ্টির প্রকোপ পরিলক্ষিত হয়নাই! "মালাউন-মুসলমান" বা "হাফ-মুসলমান" এলাকা ছিল আমাদের, তাই বোধয় মিষ্টি বিলায় নাই পাব্লিক।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মিষ্টির কথা শুনেছি, আমি নিজে দেখি নাই। তবে মিষ্টি খাওয়া এবং বিলানোর মত মানসিকতার অভাব কিন্তু ছিল না।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালো লাগলো


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমরা, বাঙালীরা বহুদিন ধরে যেন সেই দু বাসার উল্লাস আর শোক বুকে ধারন করে অতিক্রম করছি এক বিকৃত বিবর্ণ সময়।


কথাটি ধ্রুব সত্য হয়েই বিঁধে আছে জাতির বুকে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেখাটা ভালো লাগল, চালিয়ে যান ভাই। আমাদের আচরণে মনে কষ্ট পাবেন না, ছাগুদের দ্বিচারী দ্বিমুখী স্বভাবের কারণেই নতুন কেউ এলে কিঞ্চিৎ চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ি। তবে আপনার স্বাভাবিক লেখা চালু রাখুন, আসলেই আপনি স্বাধীনতা বিরোধী না হলে আমরাই আপনার লেখা পড়ে বাহবা দিয়ে মাথায় তুলে নেবো।

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেখা চলুক। বাকিটা দ্রোহের মন্ত্র \m বলে দিয়েছেন।
ভালো থাকবেন।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।

glqxz9283 sfy39587p07