Skip to content

ইসলামের অপর পৃষ্টা

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইসলামের অপর পৃষ্টা



আকাশ মালিক।





ব্লগে ইদানিং একতরফা ইসলামী ওয়াজ শুনতে শুনতে ঈমানদাররাও ক্লান্ত। কেউ কেউ অবাক হচ্ছেন এর বিপরীতে কোন সমালোচনামূলক লেখা না আসায়, কেউ আবার দাম্ভিকতার সুরে বলেছেন- অপর পৃষ্টা জানা থাকলে প্রচার করুন। বিগত কয়েক মাস ওয়াজের শীর্ষস্থানে যে বিষয়গুলো ছিল তা হলো-

- সুরা মাইদার ৫১ নং আয়াত, হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।

- ৫:৫১ আয়াতের ইয়াহুদী-নাসারা

- আল্লাহ পাক সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের উত্তর

- বেলা শেষে জাহান্নাম। (৯৮:৬)।

- মানুষ কি আল্লাহর ইচ্ছায় বাঁধা তাকদির নিয়ন্ত্রিত রোবট?

- রজব মাসের দোয়া

- ইসলামের যুগে মদ্যপান

- মদ খাইত মন চায়

- পরিবার-সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সুরা আনআমের আয়াতকে মেনে চলা

- মুহাম্মদের পুত্রবধু জয়নাব কাহিনি

- হাদিসে কুদসী আল্লাহর না মুহাম্মদের মুখের বাণী

- নাস্তিক কে কেন নাস্তিক বলা যাবেনা?

- মুহাম্মদ (সাঃ) ও চেঙ্গিস খাঁন



অনেকে সন্দেহ করেছেন ব্লগ বুঝি মাদ্রাসা হতে চলেছে। এখন আর অবিশ্বাসীদের বা নাস্তিকদের ধর্মগ্রন্থের সমালোচনা করার খুব একটা প্রয়োজন পড়েনা কারণ যারা ইসলাম প্রচারের পবিত্র দায়ীত্ব হাতে নিয়েছেন তাদের লেখাই সেই কাজটার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। তাই চেঙ্গিস খাঁনকে নিয়ে লেখা প্রবন্ধে চেঙ্গিস খাঁনের নৃশংসতা চাপা পড়ে গিয়ে বনি খোরায়জার উপর মুহাম্মদের অত্যাচার আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে।



পৃথিবীতে কোন ধর্মই মানুষের রক্ত আর রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা ছাড়া প্রতিষ্ঠালাভ করতে পারেনি। ইসলামের প্রতিষ্ঠালাভের ইতিহাস এর ব্যতিক্রম নয়। হানিফি, মোতাজিলা, সুফী, সন্যাসী, বৈ্রাগী বৈষ্ণব রামকৃষ্ণ সকলই ব্যর্থ হয়েছেন, এদের স্থান এখন শুধুই ইতিহাসে বা যাদুঘরে। আজকের এই লেখাটা নতুন কিছু নয়, বলা যায় চর্বিত চর্বণ বা কপি পেষ্ট। মুহাম্মদ (সাঃ) ও চেঙ্গিস খাঁন প্রবন্ধের আলোচনায় বনি খোরায়জা গোত্র-হত্যার সুত্র ধরেই অনেকে জানতে চেয়েছেন মুহাম্মদ কি আদতেই কোনদিন কোন মানুষ খুন করেছেন? ইসলামের একতরফা ওয়াজ, ইতিহাসের এক পৃষ্টাই আমাদেরকে পড়ে শুনানো হলো, এবার একটু অপর পৃষ্টার দিকে তাকানো যাক। চলুন দেখা যাক এ নিয়ে কোরান, হাদিস ও ইতিহাসবিদদের কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া যায়।



মুহাম্মদ একদিন বদর যুদ্ধের পূর্বে মক্কায় থাকাকালীন সময়ে আরববাসীর প্রতি ভীষণ শক্ত একটি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ে দিলেন: “আম য়্যাকুলু-নাফতারাহু কুল ফা’তু বি আ’শরি ছু-রিম মিছলিহি...ইন কুনতুম ছাদিক্বিন”। “তারা কি বলে সে (মুহাম্মদ) এ কোরান বানিয়েছে? বলো, তাহলে এর মতো দশটি সুরা বানিয়ে নিয়ে এসো, আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাকে খুশি তাকে ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” (সুরা ১১, হুদ, আয়াত ১৩)। অন্যত্র বলা হয়েছে “এই কোরান এমন নয় যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ রচনা করতে পারে, ...তারা কি বলে সে (মুহাম্মদ) এ কোরান রচনা করেছে? বলো, তবে এর মতো এক সুরা আনো...।” (সুরা ১০, ইউনুস, আয়াত ৩৭-৩৮)। এই সুরাও মক্কায় রচিত। এবার কবিতার মালজোড়া প্রতিযোগিতা হবে, আল্লাহ বনাম মানুষ। মুহাম্মদ এই চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছিলেন তাঁর মক্কি জীবনের শেষপ্রান্থে এসে। ‘এর মতো দশটি সুরা বানিয়ে নিয়ে এসো’ বলে মুহাম্মদ এখানে যা করেছিলেন তা হলো ইংরেজি ‘আই ডোন্ট নো’-এর আরবি কী বল?’ কোরানের অনুরূপ কিছু লিখলে তৌরাত, জবুর, বাইবেল হয়, আর তৌরাত, জবুর, বাইবেলে যা আছে তা-ই কোরান। সুতরাং তালগাছ সব সময়ই মুহাম্মদের । পারস্য দেশ ভ্রমণকারী কোরায়েশ গোত্রের বিখ্যাত সাহিত্যিক-চারণকবি নাদির বিন আল-হারিস মুহাম্মদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন। উল্লেখ্য, পারস্য ছিল তখন শিক্ষা-দীক্ষায়, ধনে-মানে, শিল্পকলায়, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, মক্কাবাসীর চেয়ে অনেক উন্নত। পারসিয়ানদের প্রতি চিরদিনই মুহাম্মদের তীব্র হিংসা ছিল। কবি নাদির ‘ফেরদৌসি’ নামে সুন্দর একটি কবিতা লিখে এক গণজমায়েতে পাঠ করে শুনালেন। নাদির প্রায়ই গর্ব করে বলতেন কোরানে যেভাবে আদ-সামুদ-লুত-নুহ-সাবা প্রভৃতি সম্প্রদায়ের কাহিনী বলা হয়েছে, তার থেকে অনেক আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে সুন্দর করে রুস্তম, ইসফানদার প্রমুখ পারস্য সম্রাটের কাহিনী তিনি বলতে পারেন। মক্কাবাসীরা কবি নাদিরের গান-কবিতা-আগ্রহ নিয়ে-মনযোগ দিয়ে শুনতেন। আরবের এই জনপ্রিয় কবির চ্যালেঞ্জ গ্রহণে বিব্রত মুহাম্মদ কোরানের আয়াত নিয়ে এসে বললেন: “মানুষের মধ্যে কেউ-কেউ অজ্ঞ লোকদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসাড় বাক্য বেছে নেয় ও আল্লাহর প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ করে। ওদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। যখন ওদের কাছে আমার আয়াত আবৃত্তি করা হয় তখন ওরা দেমাকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা এ শুনতে পায় নি, যেন ওদের কান দুটো বধির। সুতরাং ওদের নিদারুণ শাস্তির সংবাদ দাও।” (সুরা ৩১, লুকমান, আয়াত ৬-৭)। সুরাটি মক্কায় লিখা হয়েছিল। কৌশলগত কারণে শুধু হুমকি প্রদান করে মুহাম্মদ তৎক্ষণাৎ প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকলেন। বদরের যুদ্ধে কবি নাদির বিন হারিস বন্দী হলে নবীর আদেশে হজরত আলি তরবারি দিয়ে তাঁর মস্তক বিচ্ছিন্ন করে দেন। (দ্রষ্টব্য: The History of al-Tabari, Translated by McDonald & Watt, vol. VII, page 65)| মক্কায় থাকতে নিজের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-লোকবল না থাকার দরুন মুহাম্মদকে শুনতে হয়েছিল : ‘আমরা কি এক পাগল কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে বাদ দিয়ে দেব?’ (সুরা ৩৭, সাফ্ফাত, আয়াত ৩৬)। এই সুরাও মক্কায় রচিত। মুহাম্মদের মতাদর্শে অবিশ্বাসী কবি-সাহিত্যিকরা ছিলেন তাঁর বড় অশ্বস্তির কারণ। কোরানে মুহাম্মদ (দঃ) বললেন: ‘এ কোনো কবির রচনা নয়, যদিও তোমরা অল্পই বিশ্বাস কর’। (সুরা ৬৯, হাক্কা, আয়াত ৪১)। এই সুরাও মক্কায় রচিত। ‘কবিরা বিভ্রান্ত, কবিরা লক্ষ্যহীনভাবে উপত্যকায় ঘোরাঘুরি করে বেড়ায়, ওদের কথাবার্তার ঠিক-ঠিকানা নেই’। (সুরা ২৬, শোআরা, আয়াত ২২৪-২২৬)। এই সুরাও মক্কায় রচিত।



মুহাম্মদের পূর্ববর্তি আরবকে আইয়্যামে জাহিলিয়াত বলা সঠিক নয়। নারী-পুরুষের ব্যবসা বানিজ্যে অংশগ্রহণ, শিক্ষা-দীক্ষায়, সাহিত্যে সংস্কৃতে তারা বেশ উন্নতই ছিল। মরুর বিভিন্ন গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যে অদৃশ্য বন্ধন গড়ে তুলেছিল আরবের কবিতা। প্রাক-ইসলামি যুগের কবিরা কবিতা লিখতেন আমজনতার জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ্যভাবে অবলোকন করে, মরু জীবনের সুখ-দুঃখ, সামাজিক ন্যায়বিচার, সাহস, বিশ্বস্ততার মহিমা, আতিথিয়েতা, আত্মত্যাগ, দেব-দেবীর প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা, নারীদের প্রতি মুক্ত প্রেম-ভালবাসা, ইত্যাদি বিষয়কে কেন্দ্র করে। আরবের লোকজনের কাছে কবির মর্যাদা ছিল সবচেয়ে শ্রদ্ধা ও সম্মানের। অনেক কবিই আরবের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিচরণ করতেন, সংবর্ধিত হতেন, মানুষ তাঁদের কাছ থেকে কবিতাগাঁথা শুনতে ভালবাসতেন। তাদের অত্যন্ত প্রচলিত লোকবাণী হচ্ছে, কবিদের বাণী মরুর উপর দিয়ে তীরের চেয়ে দ্রুত বেগে উড়ে বেড়ায়। ইসলামপূর্ব আরবে নিয়মিত কবিতা প্রতিযোগিতা হতো, সাথে তর্ক-বির্তক, তাৎক্ষণিকভাবে রচিত কবিতা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হতো। ইসলাম যতোই নিজের কর্মকাণ্ডকে ‘ন্যায্যতা’ দানের জন্য আগের যুগকে ‘আইয়াম জাহেলিয়াত’ (বর্বরতার যুগ) বলে চি‎হ্নিত করার চেষ্টা করুক না কেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় ততকালিন আরবীয় সমাজে যথেষ্ট মুক্তচিন্তার পরিবেশ বিরাজ করছিল। দক্ষিণের নাজরান শহর, মক্কার নিকটে মাজনাতে, আরাফাত পাহাড়ের নীচে ধুউল মাজাজে কবিতা মেলা হতো; সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা হতো মক্কার পূর্বে নাখালা উপত্যকার পাশে বাণিজ্য নগরী ‘ওকাজ’-এ। যিলক্কাদ মাসে সাতদিনব্যাপী (ভিন্নমতে বিশদিন) ওকাজে বিশাল মেলার আয়োজন করা হতো; বলা বাহুল্য এ মাসে আরববাসীর কাছে হত্যা-মারামারি-হানাহানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। ওকাজের মেলা সম্পর্কে প্রচলিত প্রবাদ হচ্ছে, ‘ওকাজ আজকে যা বলে, সারা আরবে আগামীকাল তার পুনরাবৃত্তি হয়।’ ওকাজের মেলা ছিল আরবের বিভিন্ন সম্প্রদায়-গোত্র ও বহু ধর্মের মানুষের সমন্বয়শীল মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক মিলন মেলা। মুক্ত আলোচনা, যুক্তি-তর্ক-বিতর্ক, জনপ্রিয় কবিদের ‘কাসিদা’ (গীতিকবিতা) প্রতিযোগিতা ছিলো মেলা বা সাহিত্য সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক। স্বাভাবিকভাবেই এই সাহিত্য সম্মেলনের ফলাফল সারা আরব পেনিনসুলার মধ্যে ছড়িয়ে পড়তো। এখানে এসে কবিতা পাঠ করা কবিদের কাছে অত্যন্ত সম্মানের ও জীবনের আরাধ্য একটি বিষয় ছিল। ঐ সময় বিজয়ী কবিতাকে পুরস্কারস্বরূপ স্বর্ণাক্ষরে পর্দার কাপড়ে লিখে কাবা ঘরসহ দেব-দেবীর মন্দিরের দেওয়ালে টানিয়ে দেয়ার রেওয়াজ ছিল। তখন আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ইমরুল কায়েস (যার কবিতার পংক্তি কোরানে আছে) সহ আমর ইবনে কুলসুম, তারাফা, অন্তরা, নাবিঘা, জুহাইর, আশা প্রমুখ শ্রেষ্ঠ কবিদের স্বর্ণাক্ষরে লিখিত মোয়াল্লাকাত বা ঝুলন্ত কবিতায় কাবা ঘরের দেওয়াল অলংকৃত হতো। মুহাম্মদের অন্যতম ‘ওহি’ লেখক আরবের বিখ্যাত কবি লাবিদ বিন রাবিয়া ইবনে জাফর আল-আমিরির কবিতাও এই তালিকায় সংযোজিত হতো। তাই নবীর কাছে কবিদের চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ ছিল না। মক্কা দখলের পর আরবের ‘অলিম্পিক’ হিসেবে পরিচিত ওকাজের মেলাসহ অন্যান্য কবিতা উৎসব মুহাম্মদ বন্ধ করে দেন। নিজের রাজনৈতিক অভিলাষ সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক করতে হলে প্রথমে আরববাসীকে বিশ্বাস করাতে হবে যে কোরান ‘আল্লাহর বাণী’ এবং তিনি শেষ ‘নবী’ বা ‘রসুল’। তাই মুহাম্মদ ‘আল্লাহ-ও রসুলের মনে আঘাত দেওয়ার’ অভিযোগে আরবের বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিককে হত্যার সিদ্ধান্ত নিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় কবি নাদিরের মতো আরেক কবি উকবা বিন আবু মুয়াত হন পরবর্তী টার্গেট। বদরের যুদ্ধে আবু মুয়াত বন্দী হন। নবীর জীবনীকারক ইবন ইসহাক জানিয়েছেন, মুহাম্মদ যখন কবি আবু মুয়াতকে হত্যা করতে আদেশ দেন, তখন কবি মুহাম্মদের কাছে কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে জানতে চান, আমি মারা গেলে আমার সন্তানদেরকে কে দেখাশোনা করবে? মুহাম্মদ উত্তর দিলেন, দোজখ! সঙ্গে সঙ্গে মুহাম্মদের এক সাহাবি তরবারি দিয়ে উকবা বিন আবু মুয়াতের মস্তক কেটে ফেলেন। (দ্রষ্টব্য : মুসলিম শরিফ, চ্যাপ্টার ৩৮, বুক নম্বর ১৯ নম্বর ৪৪২১, ৪৪২২ এবং Muhammad b. Yasr Ibn Ishaq, Sirat Rasul Allah, page 308)| মুহাম্মদ এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ঐশীনির্দেশ’ বলে ঘোষণা করলেন : It has not been for any prophet to take captives until he has slaughtered in the land. দেশে সম্পূর্ণভাবে শত্রুনিপাত না করা পর্যন্ত বন্দি রাখা কোনো নবীর পক্ষে সমীচীন নয়। (সুরা ৮, আনফাল, আয়াত ৬৭)। এই সুরা মদিনায় রচিত।



বদর যুদ্ধের আশাতীত, অকল্পনীয় জয় মুহাম্মদের জন্যে সারা আরবকে তাঁর পদানত করার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত করে দেয়। বদর যুদ্ধের পর মুহাম্মদ হয়ে যান মদিনার অঘোষিত সম্রাট । David Samuel - এর ভাষায় He bacame a captain of bandit. (Mohammed and The Rise of Islam, Page 63) যুদ্ধের পর যাদের প্রকাশ্যে হত্যা করা সম্ভব হয়নি, মুহাম্মদ এমন কিছু লোককে গুপ্তহত্যার উদ্যোগ নিলেন। গুপ্তহত্যার তালিকায় ছিলেন মদিনার বিভিন্ন গোত্র-নেতা, আর বেশির ভাগই কবি-সাহিত্যিক। হাদিস এবং অন্যান্য ইসলামিক সূত্র থেকে মুহাম্মদ এবং তাঁর সাহাবিগণ কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের কয়েকটি ঘটনা নীচে উল্লেখ করা হলো :

বদর যুদ্ধের পরই বেশিরভাগ অমুসলিম কবি মুহাম্মদের বিরোধিতা শুরু করলেন। তাঁদের কাছে মুহাম্মদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে গেছে, মক্কা এবং মদিনার জন্য আশু বিপদ অপেক্ষা করছে এটা তাদের কবিতার মাধ্যমে মানুষদের বুঝাতে লাগলেন। বদর যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে মক্কার নাম না-জানা এক কবি ব্যথিত চিত্তে লিখেন:



সম্মান রাখতে তারা (বদরে মৃত কোরায়েশরা) দিল প্রাণ

আগন্তুকের কাছে স্বজনকে তারা করেনি দান।

তোমাদের তো নতুন বন্ধু এখন ‘গাসসান’!

তারা নতুন বন্ধু খোঁজে না মক্কায়,

বরং বলে, কি নির্লজ্জ এরা, হায়!

রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করা বড় অপরাধ

ন্যায্যবিচারে তোমরাই পাবে না রেয়াত।

(দ্রষ্টব্য : আরবী সাহিত্যের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ১৭৮)।



মদিনার ইহুদি কবি আসমা বিনতে মারোয়ান বদর যুদ্ধের পরপরই ‘ইসলাম’ নিয়ে মুহাম্মদের মনোভাব বুঝতে পেরে মদিনাবাসীকে সাবধান করে কবিতা লেখা শুরু করেন। কবিতায় তিনি বুঝাতে চাইলেন: “যে ব্যক্তি ধর্মের নামে স্বজাতি-স্বগোত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে পারেন, তাদেরকে নির্দয়ভাবে হত্যা করতে পারেন; তিনি হয়তো একদিন তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থে মদিনাবাসীকেও হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করবেন না।” আসমা মদিনার ইহুদি বনি খাতমা গোত্রের অধিবাসী ছিলেন, স্বামীর নাম ইয়াজিদ বিন জায়েদ, পাঁচটি সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার। আসমা বিনতে মারোয়ান কবিতা লিখে ইসলাম ও মুহাম্মদের সমালোচনা করতেন পাশপাশি ‘মুহাম্মদ’ সম্পর্কে মদিনাবসীর নিঃস্পৃহ ভূমিকারও উপহাস করতেন। আরবি থেকে ইংরেজিতে অনূদিত আসমা বিনতে মারোয়ানের এরকম একটি কবিতা নীচে তুলে ধরা হল:

I despise Banu Malik and al-Nabit

And Auws and Banu al-Khazraj.

You obey a stranger who is none of yours,

Who is not of Murad or Madhhij.

Do you expect good from him after the killing of your chiefs

Like a hungry man waiting for a cook’s broth?

Is there no man of pride who would attack him by surprise

And cut off the hopes of those who expect aught from him?



এই কবিতায় উল্লেখিত বানু মালিক, আউস, বানু আল-খাজরাজ, মুরাদ, মাদ্হিজ ইত্যাদি মদিনার বিভিন্ন গোত্রের নাম, যারা নানাভাবে মুহাম্মদ এবং মক্কা থেকে আসা মুসলমানদের সহযোগিতা করতেন। এই গোত্রভুক্ত লোকেরা ‘আনসার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বানু আউস এবং বানু খাজরাজ গোত্রের মধ্যে দীর্ঘদিনব্যাপী তিক্ত সম্পর্ক বিরাজমান ছিল; এই দুই গোত্রের লোকেরা তাদের সেই তিক্ত সম্পর্ক নিরসন করে ঐক্য-স্থাপনে সহায়তা করার জন্য মুহাম্মদকে মদিনায় (পূর্ব নাম ইয়াতরিব) এসে বাস করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। (দ্রষ্টব্য : আরব জাতির ইতিহাস, পৃষ্ঠা ৮৪, ১১০)। কবিতাটি শুনতে পেয়ে মুহাম্মদ খুবই ক্ষিপ্ত হলেন। আসমা বিনতে মারোয়ানের কবিতার জবাবে মুহাম্মদের বিশ্বস্ত কবি হাসান বিন থাবিত আরেকটি কবিতা লিখেন। নীচে কবিতাটি (আরবি থেকে ইংরেজিতে অনূদিত) তুলে ধরা হল :

Banu Wa’il and Banu Waqif and Banu Khatma

Are inferior to Banu al-Khazraj.

When she called for folly woe to her in her weeping,

For death is coming.

She stirred up a man of glorious origin,

Noble in his going out and in his coming in.

Before midnight he dyed her in her blood

And incurred no guilt thereby.



কবিতার জবাবে কবিতা লিখে উত্তর দেওয়ার কৌশলে মুহাম্মদ সন্তুষ্ট নন। তিনি ঘোষণা দিলেন ‘কে আছ. মারোয়ান কন্যা আসমাকে হত্যা করতে পারো’? উমায়ের বিন আদিয়া আল-খাতমি নামের একজন নব্য-মুসলমান হাত তুললেন। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ (মার্চ মাস), রমজান মাসের ২৫ তারিখে রাতে তরবারি হাতে ঘাতক উমায়ের বিন আদিয়া কবি আসমার বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং শিশুকোলে ঘুমন্ত অবস্থায় আসমাকে হত্যা করেন। পরের দিন ভোরে ফজরের নামাজে আসমার মৃত্যুর সংবাদ শুনে মুহাম্মদ খুবই উল্লাসিত হয়ে উমায়েরের উচ্চ প্রশংসা করেন। এই ঘটনার পরপর বানু খাতমা গোত্রের সকলেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, কারণ তারা ইতিমধ্যে ইসলামের ‘ক্ষমতার জোর’ ও নৃশংসতা দেখেছেন। (দ্রষ্টব্য : Muhammad b. Yasr Ibn Ishaq, The Life of Muhammad, page 675-676)| কবি আসমা বিনতে মারোয়ানকে হত্যার পর এপ্রিল মাসে একশত বছরের বৃদ্ধ কবি আবু আফাককে মুহাম্মদের নির্দেশে হত্যা করা হয়। তাঁর অপরাধ, তিনি ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা লিখে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে মদিনাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতেন। বদর যুদ্ধের আগে কবি আবু আফাককে নবী একবার কবিতা না-লেখার জন্য সাবধান করে দিয়েছিলেন, কিন্তু যুদ্ধের পরপরই কবিকে হত্যার ঘোষণা দেন। সলিম বিন উমায়ের নামের একজন সাহাবি মুহাম্মদের নির্দেশে আবু আফাককে হত্যা করেন। (দ্রষ্টব্য: Muhammad b. Yasr Ibn Ishaq, The Life of Muhammad, page 995)| এরপর মুহাম্মদ মদিনার ইহুদি কবি কা’ব বিন আল-আশরাফকে হত্যার নির্দেশ দেন। কবি আশরাফের পিতা ছিলেন তাঈ গোত্রের এবং মাতা ইহুদি নাদির গোত্রের। মক্কাবাসীর সাথে মদিনার এই কবির ভালো সম্পর্ক ছিল, তাই বদর যুদ্ধে কয়েকজন পরিচিত মক্কাবাসীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কবিতা লিখলেন। কবিতাটি তিনি মক্কাতে প্রচার করেন কিন্তু খবরটি মুহাম্মদের কানে পৌঁছে যায়। কিছুদিন পর (সেপ্টেম্বর ৬২৪ সালে) কা’ব মদিনাতে ফিরে এলেন। পরের ঘটনা হজরত জাবির বিন আব্দুল্লাহর (রাঃ) বর্ণীত হাদিস থেকে শোনা যাক :

“আল্লাহর রসুল (দঃ) বললেন, কে পারবে কা’ব বিন আল-আশরাফকে হত্যা করতে, যে আল্লাহ ও আল্লাহর রসুলের মনে আঘাত দিয়েছে? মুহাম্মদ বিন-মাছলামা বললেন, হে আল্লাহর রসুল (দঃ), আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি কি তাকে হত্যা করতে পারি? রসুল বললেন, হ্যাঁ অনুমতি দেওয়া হল। মুহাম্মদ বিন-মাছলামা বললেন, তাকে খুন করতে যদি মিথ্যা বলা ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে হয়, আমি কি তা করতে পারবো? রসুল বললেন, হ্যাঁ তুমি তা করতে পারো। মুহাম্মদ বিন-মাছলামা দুজন সঙ্গী (আবু বিন জবর আল-হারিস বিন আউস এবং আব্বাদ বিন বশির) নিয়ে কা’ব বিন আল-আশরাফের কাছে গিয়ে বললেন, ঐ মানুষটি (নবী মুহাম্মদ) আমাদের কাছে কর (ট্যাক্স) দাবি করছে, সে আমাদেরকে বড়ই জ্বালাতন করছে। কা’ব বললেন, আল্লাহর কসম ঐ লোকটির উপদ্রবে তোমাদের জীবন অতীষ্ঠ হয়ে ওঠবে। মুহাম্মদ বিন-মাছলামা বললেন, যেহেতু আমরা তাকে নবী বলে মেনে নিয়েছি, তাই সহজে ছেড়ে আসতে পারি না; আমরা এখন দেখার অপেক্ষায় আছি কোন্ পথে কিভাবে তাঁর ধ্বংস হয়। আমরা এসেছি তোমার কাছে, তুমি যদি এক বোঝা খাদ্য কর্জ দিয়ে সাহায্য করো। কা’ব বিন আল-আশরাফ রাজি হলেন। মুহাম্মদ বিন-মাছলামা যাবার আগে বললেন, আমরা আগামীকাল আসবো। পরের দিন গভীর রাতে তারা আসলেন। পথিমধ্যে মুহাম্মদ বিন্ মাছলামা তার সঙ্গীদেরকে বললেন, ‘আমি যখন কাবের মাথায় দুহাতে চেপে ধরবো তখনই তোমরা তাকে আক্রমণ করবে।’ কা’ব ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, এতো গভীর রাতে কোথায় যাওয়া হচ্ছে? কা’ব বললেন, আমার বন্ধুরা এসেছে একটু সাহায্য চায়। কা’ব বিন আল-আশরাফকে দেখে মুহাম্মদ বিন-মাছলামা বললেন, কি দারুন মিষ্টি সুগন্ধ তোমার চুলে, আমি কি একটু শুঁকে দেখতে পারি? সহাস্য মুখে গর্বিত কণ্ঠে কা’ব বললেন, আরব দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী আমার ঘরে, তাই। মুহাম্মদ বিন-মাছলামা চুলের সুগন্ধ শুঁকার ভান করে চুলসহ কা’বের মাথা শক্ত করে দুহাতে চেপে ধরেন। সাথে-সাথেই সঙ্গীদ্বয় দুদিক থেকে কা’বের দুবাহু বরাবর তরবারি ঢুকিয়ে দেয়। তারপর মুহাম্মদ বিন-মাছলামা, কা’ব বিন আল-আশরাফের মস্তক কেটে নবীর পায়ের কাছে নিয়ে রাখলেন।” (ঈষৎ সংক্ষেপিত)। (দ্রষ্টব্য : বোখারি শরিফ, ভলিউম ৫, বুক ৫৯, নম্বর ৩৬৯ এবং Why I am not a Muslim, Page 94-95)|



ইবন ইশহাকের বর্ণনানুযায়ী, কিনান বিন আল-রাবীকে মুহাম্মদের কাছে নিয়ে আসা হলো, যার হস্তগত ছিল বানু আন-নাদিরের কিছু সম্পদ। আল্লাহর রসুল ঐ সম্পদের ব্যাপারে কিনানকে জিজ্ঞেস করলেন। কিনান বললো, সে কিছুই জানে না। তারপর সাক্ষী হিসেবে একজন লোককে ডেকে আনা হলো। সাক্ষী ( আসলে গুপ্তচর) বললো যে, সে কিনানকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিদিন ঘুরাফেরা করতে দেখেছেন। মুহাম্মদ বললেন, হে কিনান, যদি ঐ নির্দিষ্ট জায়গাটির মাটির নীচে সম্পদ পাওয়া যায় তাহলে আমি তোমাকে খুন করবো। রসুল ঐ জায়গার মাটি খোঁড়ার আদেশ করলেন। মাটির নীচে কিছু সম্পদ পাওয়া গেলো। মুহাম্মদ বললেন, কিনান বাকি সম্পদ কোথায়? কিনান উত্তর দিলো, আমি বলবো না। নবী তাঁর সাহাবিদেরকে বললেন, কিনানকে চরম যন্ত্রণাদায়ক, নিষ্ঠুরতম নির্যাতন করতে থাকো, যতক্ষণ পর্যন্ত— সে সকল সম্পদ বের করে না দেয়। নবীর আদেশ পেয়ে সাহাবি হজরত আল-জুবায়ের (রাঃ) জ্বলন্ত অগ্নিকাঠি দিয়ে কিনানের বুকে আঘাত করতে থাকেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে কিনানের যখন মৃতপ্রায় অবস্থা, নবী তাকে মুহাম্মদ বিন-মাছলামার (রাঃ) হাতে তুলে দিয়ে বললেন, এবার তোমার ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নাও। মুহাম্মদ বিন-মাছলামা (রাঃ) কিনানের মস্তক কেটে দেহ দ্বিখণ্ডিত করে ফেলেন।



৬২৭ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে খন্দকের যুদ্ধের পর মুহাম্মদ তাঁর দশ হাজার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে মদিনার বানু কোরাইজা গোত্রকে পঁচিশ দিন অবরোধ করে রাখার পর তাদের এলাকা দখল করে নেন। ইহুদি বানু কোরাইজা গোত্রের লোকেরা মাতৃভূমি ত্যাগ করে নির্বাসনে চলে যেতে রাজি হলেন কিন্তু মুহাম্মদ তাদেরকে ছেড়ে দিতে রাজি হলেন না। তিনি বললেন, তাঁরা এক শর্তে বাঁচতে পারে, যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে রাজি হয়। মাত্র একজন লোক এই শর্ত মেনে নেন। যারা শর্ত মেনে নিলেন না, তাদের ব্যাপারে হজরত আবু সাঈদ আল্ কুদরী বর্ণনা করেন : বন্দী কোরাইজা গোত্রের লোকজন সাহাবি হজরত সাদ ইবন মুয়াদের (রাঃ) রায় মেনে নিবেন বলে রাজি হলেন। মুহাম্মদ (দঃ) হজরত সা'দকে (রাঃ) আসতে খবর পাঠালেন। সাদ (রাঃ) একটি গাধায় চড়ে আসলেন। তিনি যখন মসজিদের নিকটে আসলেন, মুহাম্মদ (দঃ) মদিনার আনসারগণকে দাঁড়িয়ে সাদ (রাঃ) এর প্রতি সম্মান দেখাতে বললেন। মুহাম্মদ (দঃ) সা'দকে (রাঃ) বললেন, “কোরাইজা গোত্রের এই লোকজন তোমার দেয়া রায় গ্রহণ করবে বলে সম্মতি জানিয়েছে।” সাদ (রাঃ) রায় দিলেন, “এদের সকল পুরুষকে মেরে ফেলা হউক এবং সকল নারী ও শিশুদেরকে দখলকৃত গনিমতের মাল হিসেবে গ্রহণ করা হউক।” মুহাম্মদ (দঃ) বললেন, “তুমি রায় দিয়েছো আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী।” (দ্রষ্টব্য : বোখারি শরিফ, ভলিউম ৫, বুক ৫৯, নম্বর ৪৪৭)। পরবর্তি হাদীসে আল-বারা বর্ণনা করছেন-

Narrated Al-Bara:

The Prophet said to Hassan, "Abuse them (with your poems), and Gabriel is with you (i.e, supports you)." (Through another group of sub narrators) Al-Bara bin Azib said, "On the day of Quraiza's (besiege), Allah's Apostle said to Hassan bin Thabit, 'Abuse them (with your poems), and Gabriel is with you (i.e. supports you).' " Sahih Bukhari Shareef, Volume 5, Book 59, Number 449:



বন্দীশালায় মুসলিম সৈন্যদের হাতে নারীবন্টন ও যুবক-বালকদের কাপড় তুলে গুপ্তাঙ্গের লোম পরীক্ষা ছিল আরেক জঘন্য কাহিনি। হাদীসে এসব বর্ণীত আছে, লেখা সংক্ষিপ্ত রাখার লক্ষ্যে আমরা সেদিকে যাচ্ছিনা।

সাদের (রাঃ) গাধায় চড়ে আসা, তাঁকে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানো এবং তাঁর রায় কি মুহাম্মদের পূর্ব পরিকল্পিত নয়? সাদ (রাঃ) ছিলেন নবীর চরমপন্থী গ্রুপের অন্যতম সদস্য। বানু কোরাইজরা অনেক আগে থেকেই সাদ ইবন মুয়াদের চক্ষুশূল ছিলেন। তাছাড়া অবরোধ চলাকালীন সময়ে সাদ (রাঃ) মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। বানু কোরাইজ গোত্রের আটশ’র অধিক বন্দীকে হত্যা করার জন্য শহরের বাজারে খাল কাটা হয়েছিল। প্রত্যেক বন্দীর হাত পেছনে বেঁধে খালের ধারে নিয়ে পাঁচজনের একেকটি দল করে গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সারা দিন, সারা রাত ধরে বাতি জ্বালিয়ে চলে গণহত্যাকাণ্ড। ইসলাম এবং মুহাম্মদের প্রতি সহানুভূতিশীল লেখকরাও বলেছেন, এই নিষ্ঠুর, বিভৎস গণহত্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চলাকালীন নাৎসি বাহিনীর নিষ্ঠুরতাকেও হার মানায়। (দ্রষ্টব্য : Karen Armstrong, Muhammad: a Western Attempt to Understand Islam, London, 1991, page 207)| কোরাইজা গোত্রের গণহত্যাকে মুহাম্মদ চিরাচরিত ধারায় ‘ঐশ্বরিক নির্দেশ’ বলে ঘোষণা করলেন : “কিতাবিদের মধ্যে যারা (ইহুদি বানু কোরায়েজরা) ওদেরকে সাহায্য করেছিল তাদেরকে তিনি দুর্গ থেকে নামতে বাধ্য করলেন। তোমরা ওদের কিছুকে খতম করেছিলে ও কিছু বন্দী করেছিলে। আর তিনি তোমাদেরকে ওদের জায়গাজমি, ঘরবাড়ি ও ধনসম্পদের উত্তরাধিকারী করলেন, আর উত্তরাধিকারী করলেন এমন এক দেশের যেখানে তোমরা এখনও পা দাও নি।” (সুরা ৩৩, আহজাব, আয়াত ২৬-২৭)। বানু কোরাইজা গোত্রের হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন পর সাদ ইবন মুয়াদ মারা যান। মুহাম্মদ বললেন, সাদের (রাঃ) মৃত্যুর জন্য আল্লাহর সিংহাসন আকাশে কেঁপে কেঁপে উঠেছিল!



হজরত আবু জিনাদ থেকে বর্ণীত হাদিসে রয়েছে, মুহাম্মদ যখন ঐ লোকদের হাত-পা কেটে ফেললেন যারা তাঁর উট চুরি করেছিল এবং তিনি আগুনে পোড়া বর্শা-ফলক দিয়ে তাদের চক্ষু উপড়ে ফেললেন, তখন আল্লাহ নবীর উপর রাগান্বিত হলেন। (দ্রষ্টব্য : আবু দাউদ শরিফ, বুক ৩৮, নম্বর ৪৩৫৭)। আগুনে পোড়া বর্শা-ফলক দিয়ে তাদের চক্ষু উপড়ে ফেলার পর আল্লাহ বুঝতে পারলেন উট চুরির শাস্তি হিসেবে হাত-পা কেটে চোখ উপড়ে ফেলা সঠিক হয়নি। এ সম্পর্কে A Dictionary of Islam থেকে জানা যায় : The Prophet ordered their hands and their feet to be cut off as a punishment for theft, and their eyes to be pulled out. But the Prophet did not stop the bleeding, and they died." And in another it reads, "The Prophet ordered hot irons to be drawn across their eyes, and then to be cast on the plain of al-Madinah; and when they asked for water it was not given them, and they died.

হজরত আলি (রাঃ) বলেন, একজন ইহুদি নারী প্রায়ই আল্লাহর রসুলকে (দঃ) ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতো। একজন লোক ঐ মহিলার গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে টানতে থাকেন যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয়। নবী ঘোষণা দিলেন, “ঐ মহিলার জীবনের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া যাবে না।” (দ্রষ্টব্য : আবু দাউদ শরিফ, বুক ৩৮, নম্বর ৪৩৪৯)।



মক্কা দখলের পর মুহাম্মদ আবার কয়েকজন নির্বাচিত ব্যক্তিকে গোপনে হত্যার জন্য তালিকা প্রস্তুত করেন. মুহাম্মদের সন্দেহ ছিলো এরা একদিন তাঁর ‘নবীত্ব’ ও ‘ইসলাম’কে মিথ্যা প্রমাণিত করে ফেলবেন। গুপ্তহত্যার নির্বাচিত তালিকায় ১০ জন লোকের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন ছিলেন নারী । নারীদের মধ্যে ছিলেন : (১) হজরত আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা বিন উতবা, (২) সারা (আমর ইবনে হাশিমের ‘মুক্তদাসী’), (৩) ফারতানাহ্, ও (৪) কারিবাহ, আর পুরুষদের মধ্যে ছিলেন (৫) ইকরিমা বিন আবি জেহেল (৬) হাব্বার ইবনে আল-আসওয়াদ, (৭) আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারাহ্ (কোরান লেখক ও পরবর্তীতে মিসরের গভর্নর), (৮) মিকাস ইবনে সাবাবা আল-লায়থি, (৯) আব্দুল্লাহ ইবনে হিলাল ইবনে খাতাল আল-আদ্রমি ও (১০) আল হুরায়েস ইবনে নুকায়েদ বিন ওহাব। এদের মধ্যে কেউ কেউ মক্কার প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য, কেউ পেশাদার কবি-সাহিত্যিক, আবার কেউবা ক্রীতদাস। (দ্রষ্টব্য : Ibn Ishaq, Sirat Rasul Allah, ‘The Life of Muhammad’, (translated in English by A. Guillaume), Oxford University Press, London, 1955, 2004, Page 136, 163, 181, 262, 308)| নারীদের মধ্যে ফারতানাহ্ ও কারিবাহ তাঁরা উভয়েই ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে হিলাল ইবনে খাতালের ত্রীতদাসী। মুহাম্মদের বিরুদ্ধে বিদ্রুপাত্তক গান গাওয়ার অভিযোগে তাদের হত্যার নির্দেশ দিলে একজনকে হত্যা করা হয়, আরেক জন মুহাম্মদের (দঃ) পায়ে ধরে প্রাণভিক্ষা চাইলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আবু সুফিয়ান (রাঃ) (অস্ত্রের মুখে বাধ্য হয়ে) ‘ইসলাম’ গ্রহণ করায় তাঁর স্ত্রী হিন্দা বিন উতবাকে হত্যা করানো থেকে মুহাম্মদ (দঃ) বিরত থাকেন। যদিও ৬২৮ সালে মুহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে হত্যা করার জন্য, মক্কার একজন পেশাদার খুনি আমর ইবনে উমাইয়াকে নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু আমর ইবন উমাইয়া বেশ কয়েকবার চক্রান্ত করেও আবু সুফিয়ানকে হত্যা করতে ব্যর্থ হন, অবশেষে হত্যাকারী আবু সুফিয়ানের পরিচিত মক্কার তিনজন লোককে খুন করেন এবং একজনকে ধরে মদিনাতে মুহাম্মদের কাছে নিয়ে যান। বানু আব্দুল মোত্তালেব গোত্রের আমর বিন হাশেমের ‘মুক্ত দাসী’ বিভিন্ন সময় মুহাম্মদের বিরক্তির কারণ ছিলেন, তিনিও অনেক অনুনয়-বিনয় করে মুহাম্মদের কাছ থেকে প্রাণভিক্ষা প্রার্থনা করেন। তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে হজরত ওমর (রাঃ) ঘোড়ার নীচে পদদলিত করে তাকে হত্যা করেন। (দ্রষ্টব্য : The History of Al-Tabari, vol 8, translated by Michael Fishbein, Page 179)| পুরুষদের মধ্যে হজরত উসমানের বৈমাত্রেয় ভাই আব্দুল্লাহ বিন সাদ বিন আবি সারাহ-এর ব্যাপারে মুহাম্মদ কি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা আমার লেখা ‘ইসলামের জন্ম-বিকাশ ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ’ প্রবন্ধে আলোচনা করা হয়েছে।

মুহাম্মদ মক্কা বিজয়ের আগেই ইসলাম ধর্ম ত্যাগের কারণে আব্দুল্লাহ ইবনে হিলাল ইবনে খাতাল আল-আদ্রমিকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন। মক্কায় প্রবেশের সময় একজন লোক নবীকে জানালেন, ইবনে খাতালকে আটক করে কাবা ঘরে বেঁধে রাখা হয়েছে। নবী বললেন, “যেখানেই পাও তাকে হত্যা করো!” (দ্রষ্টব্য : বোখারি শরিফ, ভলিউম ৫, বুক ৫৯, নম্বর ৫৮২)। নবীর নির্দেশ পেয়ে হজরত আবু বারজাহ্ (রাঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে খাতালের পেট কেটে ফেলেন। নবীর জীবনীকারক ইবনে হিশাম জানিয়েছেন, মক্কায় থাকাকালীন একদা নবীর এক সন্তান উটের পিঠে চড়ে খেলা করছিলেন, তখন আল হুরায়েস ইবনে নুকায়েদ বিন ওহাব উঠটিকে তাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে নবীর সাথে ইবনে নুকায়েদ বিন ওহাবের কথা কাটাকাটি হয়। এতে মুহাম্মদ অপমানিতবোধ করেন। মক্কা বিজয়ের পর পুরানো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে নবী ঐ লোকটিকে হত্যা করতে হজরত আলিকে (রাঃ) নির্দেশ দিলেন। নবীর নির্দেশ মতো হজরত আলি (রাঃ) নুকায়েদ বিন ওহাবকে হত্যা করেন। মিকাস ইবনে সাবাবা মক্কাবাসী মুসলমান ছিলেন। তিনি মুহাম্মদের সাথে মদিনাতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে কোনো এক ‘আনসার’ মিকাস ইবনে সাবাবার ভাই হিশামকে দুর্ঘটনাক্রমে মেরে ফেলেন। মিকাস মুহাম্মদের কাছে ভাতৃহত্যার বিচার দাবি করেন। কিন্তু মিকাস ইবনে সাবাবা বিচারের জন্য অপেক্ষা না করে ঐ ‘আনসার’কে হত্যা করে ফেলেন। এ ঘটনায় মদিনাবাসী মুসলমানদের মধ্যে দারুন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, অনেকেই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। আস্তে আস্তে ইবনে সাবাবার সাথে অন্যান্য মুসলমানের মনোমালিন্য এবং কোন্দল দেখা দেয়। পরবর্তীতে মিকাস মুহাম্মদের ‘সঙ্গ’ ত্যাগ করে মক্কায় ফিরে গিয়ে অমুসলিম কোরায়শদের দলে যোগ দেন। মক্কা দখলের পর মিকাস ইবনে সাবাবাকে ‘ইসলাম ধর্ম ত্যাগের কারণে’ হত্যা করা হয়। কারণ নবী বলেছেন : Whoever changed his Islamic religion, then kill him. (দ্রষ্টব্য : বোখারি শরিফ, ভলিউম ৯, বুক ৮৪, নম্বর ৫৭)। আরেকজন ধর্ম ত্যাগী হাব্বার ইবনে আল-আসওয়াদ মক্কা থেকে পালিয়ে ইয়েমেনে আশ্রয় নিয়েছিলেন; কিন্তু মুহাম্মদের গুপ্তঘাতক তাকে ইয়েমেন গিয়ে হত্যা করেন। (দ্রষ্টব্য : বোখারি শরিফ, ভলিউম ৫, বুক ৫৯, নম্বর ৬৬২ এবং বোখারি শরিফ, ভলিউম ৪, বুক ৫৬, নম্বর ৮১৭)।



এতোকিছুর পরেও মুহাম্মদ তার সমর্থকদের কাছে, তাদের লিখিত ইতিহাসে সর্বকালের, সর্বযুগের শ্রেষ্ট মহামানব হতে পারেন, তেমনি হতে পারেন চেঙ্গীস খান মঙ্গোলিয়ানদের কাছে, হতে পারেন শেখ মুজিব হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী বাংলাদেশীদের কাছে। কিন্তু সকলের কাছে সকল যুগের মানদন্ডে সকল সমাজের জন্য কেউই শ্রেষ্ট মহামানব হতে পারেন না।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এসব ইডিয়টিক পোস্ট ব্লগিং এর উদ্দেশ্য ব্যাহত করেছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারমার,





~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে ...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারমার,



ব্লগিং এর সুমহান উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার কাছ থেকে একটা উপদেশ মূলক পোষ্ট

আশা করছি।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার ল্যাঞ্জা কত বড় ....সেটাই ভাবছি .... দেখিয়েই যাচ্ছেন দেখিয়েই যাচ্ছেন ..শেষই হচ্ছে না ....... ..... ......

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বহতা নদীর মতো বয়ে চলে সময়, সাথে চলে জীবন নামের তরী, কখন ডুবে যাবে, কে জানে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@মাধুকরী,





আপনি নিজেই তো বললেন-



মাধুকরী জুন ২৭, ২০১১ @ ৬:৫৪ অপরাহ্ন ২

আজকে এত ধর্মিয় পোষ্ট নাজেল হইতাছে ..ঘটনা কি ...




মাঝে মাঝে উল্টোস্রোতে চলা ভাল, ঠিক না?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মুত্রমনা ওন ফায়ার Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud Laughing out loud

==========================================================
-> সাম্প্রদায়িক কথা বললেই সাম্প্রদায়িকতা না, কে বলছে সেইটাই গুরুত্বপূর্ণ!
-> ইসলাম= জামাত-শিবির, প্রচারে ফায়দা আছে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনি ত বিশেষজ্ঞদের ফেল মারছেন, আপনার এলেখায় যে মাপের বোলচাল আছে তাতে 'ইসলামী বিশেষজ্ঞ'র সঙ্গা নতুন করে লেখা হবে ;;)








ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসততা বনাম অপারগতা: মুক্তমনা আকাশ মালিক


সততার কাঠগড়ায় আকাশ মালিক : যে সত্য বলা হয়নি-২



সততার কাঠগড়ায় আকাশ মালিক : যে সত্য বলা হয়নি-১



আর কত মিথ্যাচার করবেন?



মহিলা কবি হত্যা নিয়ে মাতামাতির কি আছে? কবিতা লেখার দায়ে মহিলা হত্যা নিয়ে মানবতার মায়া কান্না? পশ্চীমা অমুসলিম গবেষকদের গবেষনায় প্রমান হয়েছে যে এই হত্যাকান্ড বিশ্বশান্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন ছিল। কারন নইলে এই পাপিষ্ঠা মহিলা কবির কবিতায় ইসলাম বিদ্বেষীরা উদ্ধুদ্ধ হয়ে ইসলামের মহা সর্বনাশ ঘটাতে পারতো। ফলশ্রুতিতে আমরা আর আজকের এই শান্তিময় জগত পেতাম না, আমাদের প্রাগ ঐতিহাসিক যূগের বা বেশী হলে জাহেলিয়তের যুগেই আটকে থাকতে হত।



আর আপনার প্রিয় কবি আল আশরাফ ও নেহায়েত সাধু ছিল না। একটি হাদিস দ্বারা প্রমানিত (এই মুহুর্তে রেফারেন্স জানা নেই, কিন্তু আছে) যে সে মক্কায় একবার নামাজরত অবস্থায় নবীজির গায়ে পশুর নাড়িভূড়ি ঢেলে দিয়েছিল। যে লোকে গায়ে নাড়ি ঢালতে পারে সে স্কাড মিসাঈলও নিক্ষেপ করতে পারে। শত্রুকে প্রেম বিলানো আপনার মত ভন্ডের নীতি হতে পারে, কিন্তু তাতে জগত চলে না।



আর এমন কত লিখবো?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আদিল মাহমুদ,



গত কয়েক মাস ধরে অনবরত ব্লগে ওয়াজ মাহফিল হলো, আজ বহুদিন পরে একটা লেখা দিলাম তাও সবকিছু মুসলমানদের হাদীস ইতিহাস থেকে ধার করে। হাদীস, ইতিহাস যদি সত্য হয় তাহলে আমার উপর বেজার হয়ে কোন লাভ নাই কারণ ওদের লেখা তো আর মিথ্যা হয়ে যাবেনা, লুকিয়ে রাখাও যাবেনা। একদিন বলেছিলাম না আপনাকে ধর্ম নিয়ে আর লেখবোনা, এরপর কিন্তু আমি আর লেখি নাই। এখন এই ব্লগে যে হারে ইসলামের নামে কুসংস্কার আর অপবিজ্ঞান ছড়ানো হচ্ছে, মাঝে মাঝে এক-আদটু কথা বলতেই তো হয়। হাদিস কোরান অনুবাদের ভুল হতে পারে, হাদিস মিথ্যা হতে পারে, তা ভদ্রভাবেও তুলে ধরা যায়। চারটা মন্তব্যের সবটাই প্রবন্ধের বাইরে ব্যক্তিগত আক্রমন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আকাশ মালিক,



এখন এই ব্লগে যে হারে ইসলামের নামে কুসংস্কার আর অপবিজ্ঞান ছড়ানো হচ্ছে,




উদাহরণ দিন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আকাশ মালিক ও আদিল মাহমুদ,

ইসলাম এবং মুহাম্মদের প্রতি সহানুভূতিশীল লেখকরাও বলেছেন, এই নিষ্ঠুর, বিভৎস গণহত্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চলাকালীন নাৎসি বাহিনীর নিষ্ঠুরতাকেও হার মানায়।


এটা সত্য যে আর্টিক্যালে কোন স্টেটম্যান্টকে সঠিক প্রমান করতেই রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়। তবে রেফারেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাইটারের পূর্ন স্বাধীনতা থাকে। লেখক হিসেবে আপনি এমন কোন কিছু রেফারেন্স দিবেন না যা আপনি নিজে সঠিক মনে না করেন বা প্রমান করতে পারবেন না। আর যদি আপনি কোন কিছু রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেন তবে তা প্রমানের দায়ভারও লেখক হিসেবে আপনাকে নিতে হবে। তাই আপনাকেই এখন প্রমান করতে হবে যে আপনার দেয়া এই স্টেটম্যান্টটি সত্য। যদি আপনি প্রমান করতে ব্যর্থ হন তাহলে বুঝে নেব আপনি হোরাসের মতই একজন 'ব্যক্তি' বিদ্বেষী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@পল!!এরর @আদিল মাহমুদ হবে না প্রশ্নটা শুধুমাত্র আকাশ মালিকের কাছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গত কয়েক মাস ধরে অনবরত ব্লগে ওয়াজ মাহফিল হলো, আজ বহুদিন পরে একটা লেখা দিলাম তাও সবকিছু মুসলমানদের হাদীস ইতিহাস থেকে ধার করে। হাদীস, ইতিহাস যদি সত্য হয় তাহলে আমার উপর বেজার হয়ে কোন লাভ নাই কারণ ওদের লেখা তো আর মিথ্যা হয়ে যাবেনা, লুকিয়ে রাখাও যাবেনা। একদিন বলেছিলাম না আপনাকে ধর্ম নিয়ে আর লেখবোনা, এরপর কিন্তু আমি আর লেখি নাই। এখন এই ব্লগে যে হারে ইসলামের নামে কুসংস্কার আর অপবিজ্ঞান ছড়ানো হচ্ছে, মাঝে মাঝে এক-আদটু কথা বলতেই তো হয়। হাদিস কোরান অনুবাদের ভুল হতে পারে, হাদিস মিথ্যা হতে পারে, তা ভদ্রভাবেও তুলে ধরা যায়। চারটা মন্তব্যের সবটাই প্রবন্ধের বাইরে ব্যক্তিগত আক্রমন।


কিছু মনে করবেন না ভাই, আপনি কি মুক্ত মনার আকাশ মালিক?আমি কিন্তু এই ব্লগে আপনার নাম দেখেই রেজিস্ট্রি করেছি, আপনার লেখাগুলো পড়ার জন্য।
ভাইয়া আপনার উপর কে বেজার হল আর না হল তাতে আপনার কি? আপনি লিখে যান। অনেকে যেমন আকাশ মালিক বিদ্বেষী আছে , তেমনি আকাশ মালিকের ভক্ত সংখ্যাও কম না।
আর আপনি ধর্ম নিয়ে লিখবেন না কেন? আপনি তো কোন ভুল কথা লেখেন না।তাহলে কে মাইন্ড করল আর না করল, এসব মাথায় রেখে লেখা থামিয়ে দিয়ে আপনার ভক্তদের তথা আমাদের বঞ্চিত করবেন এটা কেমন কথা?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার ভারতীয় তামিল বন্ধুরে জিগাইলাম তোমাদের ভারতে তো হাজার হাজার ব্লগ। ওখানেও কি আস্তিক নাস্তিক বিতর্ক খুবই জমজমাট নাকি। বন্ধূ আমার হেসে বলে শুরুর দুই বছর এমনই ছিল আর বামপন্থী নাস্তিকরা ছিল হেভি গেয়ার্ড অবস্থায় (ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাল বিপ্লব ঘটায়ে দেশ উদ্ধার করে ফেলব)। এখন প্রতিদিন একটা করে নাস্তিক-আস্তিক পোস্ট পরে ঠিকই কিন্তু সেই সমস্ত পোস্ট পড়ার মত লোক নাই কিংবা পড়লেও ইহার কোন ইফেক্ট নেই। ব্লগে এই তর্কের জের ধরে ভারতে মন্দির একটাও বন্ধ হয় নাই। এমন কি মন্দির বানানোও বন্ধ হয় নাই। বরং উল্টা ধর্মীয় বাবার সংখ্যা ও রাজনীতিতে উহাদের প্রভাব বেড়েই চলছে। আপনাদের কি মনে হয় 'আমার ব্লগের' এই নাস্তিকদের ধর্মীয় ক্যাচালে বাংলাদেশের মসজিদের সংখ্যা কিংবা মসজিদগামী মানুষের সংখ্যা কমে যাবে কিংবা এই তর্কের ফলে দেশের মানুষ ধর্মের প্রভাব মুক্ত হয়ে যাবে!!??! আওয়ামী লীগের গোবলেট মার্কা সংবিধান দেখেও তো মনে হচ্ছে না আপনাদের এই জাতীয় ধর্মীয় ক্যাচালের কোন মিনিমাম ইফেক্ট কারও উপর হচ্ছে। জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি বাংলায় সকল ইসলামপন্থী দলের ভোট টোটাল ভোটের সেই নেগলেজিবল ফ্রেকশানে স্থির হয়ে আছে (এই ভোমধ্যে বড় অংশ রাজাকার বংশ জাত জামাইত্যা আর বাকী দলগুলোর অবস্থা বাম দলগুলোর মত হাস্যকর) আর নাস্তিকতার ধারক ও বাহক বামপন্থী দলগুলোর থাকার মধ্যে আছে কেবল গুটি কয়েক নেতা (যে দলের নেতা সেই দলের সদস্য আর সেই দলের একমাত্র ভোটার)।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@পল!!,



যে জিনিস যত বেশীদিন ধরে প্রতিষ্ঠা হয় তার প্রভাব মুক্ত হতে ততই বেশী সময় লাগে, সেটাই স্বাভাবিক। বিশ্ব ধর্মের প্রভাবে পড়েছে হাজার হাজার বছর ধরে, আর তা কেবল ২/৪ বছর ইন্টারনেট লেখালেখি দিয়েই চলে যাবে এমন ভাবনা কি বাস্তব সম্মত?



মসজিদ মন্দির বানানোর সংখ্যা দিয়ে ধর্মের প্রভাব এমন কিছু বোঝা যায় না। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব সমাজে কতটা কমে আসছে সেটাই বড় কথা। কাগজে কলমে ধর্ম থাকলে বা মন্দির মিদ গীর্জায় যে যার মত গেলে তাতে কার কি? ধর্মের নামে নানান আগাছা কুপ্রথা দূর হলেই হল। সেটা তো ভালই হচ্ছে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যে জিনিস যত বেশীদিন ধরে প্রতিষ্ঠা হয় তার প্রভাব মুক্ত হতে ততই বেশী সময় লাগে, সেটাই স্বাভাবিক। বিশ্ব ধর্মের প্রভাবে পড়েছে হাজার হাজার বছর ধরে, আর তা কেবল ২/৪ বছর ইন্টারনেট লেখালেখি দিয়েই চলে যাবে এমন ভাবনা কি বাস্তব সম্মত?

আপনি কি মুক্ত মনার আদিল মাহমুদ? মানে মুক্ত মনাতেও এই নামে একজন ব্লগার কে দেখেছি।
আপনি যদি সেই ব্যক্তি হন তবেতো আপনার কাছে এমন মন্ত্যব্য আশা করিনি আমি।

ভাই শুনেন ২/৪ বছর ইন্টারনেট লেখা লেখি দিয়ে হয়ত সেটা চলে যাবে না, কিন্তু এটা মানুষ কে সচেতন করার যে একটা বড় উপায় এটা আপনি কি অস্বীকার করতে চান?নাকে তেল দিয়ে ঘুমানোর থেকে যারা অন্তত লেখালেখির মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন তাঁরা অনেক বেশী প্রশংসার দাবীদার।

প্রথমেই কেউ লাফ দিয়ে কলা গাছে উটতে পারেনি। খ্রিষ্টান ধর্মের প্রাদুর্ভাব ইউরোপে কমেছিল কিন্তু কিছু সৎ মানুষের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে। তাই যদি কেউ ইন্টারনেটএ লেখালেখি করে মানুষ কে সচেতন করতে চায় তবে তার বিরুদ্ধে একদম মানুষ এত খেপা কেন?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মনে হয় না , আপনার এই পোস্টে সহীহ হাদীস সমূহে বিশ্বাসী মুসলমান ভাইয়েরা বিষয়ভিত্তিক আপনার বক্তব্যকে খন্ডন করতে এগিয়ে আসবেন। কিছ গালাগালি আপনার কপালে জুটতে পার.



আমার ৩ টি প্রশ্ন আছে-



১)তাবারী বর্ণীত ইতিহাস ও বুখারি মুসলিম প্রমুখ হাদিস থেকে প্রাপ্ত ইতিহাসকে আপনি কতটুকু সত্য মনে করেন?



২)ইবনে ইসহাকের সিরাতুন্নবীর অরিজিনাল বা কোন কপি সেই অষ্টম শতাব্দি থেকেই অবশিষ্ট নেই। আল-বাক্কাই বা ইবনে হিশামের লেখার মাধ্যমে ইবনে ইসহাকের সিরাতুন্নবীর বর্ণনা ছিল বলা হয়ে থাকে কিন্তু সেগুলোর ও একি অবস্থা (কোন কপি নেই)। এখন ইবনে ইসহাকের নামে যেটা প্রচলিত , সেটা প্রধানত তাবারীর থেকে নেয়া আল্ফ্রেড গিলমের গবেষণার ফসল বলেই যতদুর জানি। আপনি ইবনে ইসহাকের সীরাতুন্নবী থেকে যে ইতিহাস বর্ণনা করেছেন , তা আপনার নিজের কাছেই কতটুকু সত্য বলে মনে হয়?



৩) এ প্রশ্নটি আগেও করেছিলাম , জবাব পাইনি (হয়তো বা আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে) -



আচ্ছা বলুন তো দেখি কার জামানায় কার নির্দেশে দরুদ ও তাশাহুদ নামাজে ঢুকানো হয়েছিল।




জানিনা। আপনার জানা থাকলে , উত্তরটা দিলে খুশি হব। আরো খুশি হব , যদি রেফারেন্সটাও সাথে দেন।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
৫৪:১৭ আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক,



কেন ফারুক ভাই, আমি তো এগিয়ে এসেছি বিষয় ভিত্তিক পালটা রিফিউটাল নিয়ে।



ষ্ট্র্যাটেজি খুবই সোজা; যে কাজ অন্য লোকে করলে ঘৃণ্য, সে কাজ মহাপুরুষরা করে গেলে নানান ভাবে জাষ্টিফাই করা। বড়জোর "সে যুগে হিসেবে" যোগ করা যেতে পারে। যদিও আবার মহাপুরুষরা সব কালের জন্যই অনুকরনীয় বলে মৌলিক বিশ্বাস বলে আত্মার দাবী, ওনারা সর্বকালের ঊর্ধ্বে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক,



সত্যি কথা কি জানেন ফারুক সাহেব, যারা ব্লগে ইসলাম প্রচারের মিশন নিয়ে আবির্ভাব হন, তারা তাদের ইলিম জাহিরের লক্ষ্যে মনে মনে আশা করেন, কেউ কাউন্টার দিক। কুড়িটা লেখা প্রকাশ হওয়ার পরেও কেউ কোন লেখা দেয়না দেখে তার হতাশ হন।



সহীহ হাদীস সমূহে বিশ্বাসী মুসলমান ভাইয়েরা বিষয়ভিত্তিক আপনার বক্তব্যকে খন্ডন করতে এগিয়ে আসবেন। কিছ গালাগালি আপনার কপালে জুটতে পারে।




আপনি একজন বিশ্বাসী হয়ে যা আপনার কপালে ঘটছে আমার ভাগ্যে গালি পড়লে আমি দুঃখিত হবোনা বরং আশির্বাদই মনে করবো। আমি তো জানি কিছু মানুষের নৈ্তিক অবক্ষয়ের কারণটা কী?







তাবারী বর্ণীত ইতিহাস ও বুখারি মুসলিম প্রমুখ হাদিস থেকে প্রাপ্ত ইতিহাসকে আপনি কতটুকু সত্য মনে করেন?




তর্কের খাতিরে আমি মেনেই নিলাম সবটুকুই মিথ্যা। প্রত্যেকটা ঘটনার পেছনে অবশ্যই একটা কারণ থাকতে হবে। বস্তুজগতের ঘটনা আমরা বস্তুবাদী দর্শন তথ্য তত্ত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করবো এটাই তো কাম্য?



আচ্ছা বলুন তো দেখি কার জামানায় কার নির্দেশে দরুদ ও তাশাহুদ নামাজে ঢুকানো হয়েছিল।




আপনি তাশাহুদ নিয়ে প্রবন্ধ লিখলেন আর আমি আপনাকে উপরের প্রশ্ন করলাম, এখন আপনিই আমার কাছে উত্তর চাইছেন। আমিও মনে করি তাশাহুদ ইসলামের প্রথম দিকে নামাজে ছিলনা, পরে ঢুকানো হয়েছে। নবী নিজের ও নিজের আত্বীয়ের নামে দোয়া প্রশংসা নামাজে ঢুকাবেন কেন? বেশ কিছু হাদিস আছে তাশাহুদ আর তারাবিহর নামাজ নিয়ে, যা মুহাম্মদ নিজে করতেন না। হাদীসের বর্ণনানুযায়ী বেশির ভাগ আইন কানুন হয়েছে খলিফা ওমরের দ্বারা। রোজার নিয়ম কানুনটাও পরে ঢুকানো হয়েছে। ক্ষমতার বলে সেকালের খলিফারা নবীর চেয়েও জ্ঞানী শক্তিশালী ছিলেন, আর আজকের মুসলমানরা খলিফা, নবী এমন কি আল্লাহর চেয়েও বেশী জ্ঞানী হয়ে গেছেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আদিল মাহমুদ, আপনার সহীহ হাদীস সমূহে বিশ্বাসী মুসলমানে রুপান্তরিত হতে দেখে খুশিতে আমি আটখান হয়ে গেলাম। নেন আট টি ফুল নেন- (F) (F) (F) (F) (F) (F) (F) (F)



আমি আপনার থেকে নয় , আকাশ মালিকের জবাব শুনতে চাই।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
৫৪:১৭ আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আকাশ মালিক,



তর্কের খাতিরে আমি মেনেই নিলাম সবটুকুই মিথ্যা।


ধন্যবাদ , এই স্বীকারোক্তির জন্য।

আপনি যখন জানছেন এই ইতিহাস মিথ্যা , তখন এই মিথ্যা ইতিহাসের উপরে ভিত্তি করে মুহম্মদ নামের একজনের বা যে কারো চরিত্র হণন কোন বস্তুবাদী ভদ্রলোকের কাজ তো হতে পারে না।



কেউ যদি এই মিথ্যা ইতিহাসের উপরে ভিত্তি করে মুহম্মদকে অতি মানব বা শ্রেষ্ঠ মানব হিসাবে দাবী করে , তাহলে এই ইতিহাসের ভিত্তি যে দুর্বল বা মিথ্যা সেটা তাকে দেখিয়ে দেয়া এবং তাকে তার ইতিহাস থেকেই দেখিয়ে দেয়া যে তার দাবীর বিপরিত কথাই বলছে তারই উদ্ধৃত ইতিহাস। তাহলেই না সেটা বস্তুনিষ্ঠ হবে। মিথ্যা ইতিহাসের উপরে ভিত্তি করে মুহম্মদের চরিত্র হণন বা প্রশংসা কোনভাবেই বস্তুনিষ্ঠ নয়।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
৫৪:১৭ আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আদিল মাহমুদ, (Y)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আকাশ মালিক,

প্রবন্ধ টা পড়লাম। অনেক পরিশ্রম করে লিখেছেন।

তাশাহুদ সম্ভবত ইসলামের প্রথম দিকের নামাযে ও ছিল।



সহীহ মুসলিম ঘেটে যা পেলামঃ







Book 004, Number 1202:



'Abdullah b. Zubair narrated on the authority of his father that when the Messenger of Allah (may peace be upon him) sat for supplication, i. e. tashahhud (blessing and supplication), he placed his right hand on his right thigh and his left hand on his left thigh, and pointed with his forefinger, and placed his thumb on his (milddle) finger, and covered his knee with the palm of his left hand..








Book 004, Number 1203:



Ibn 'Umar reported that when the Messenger of Allah (may peace be upon him) sat for tashahhud he placed his left hand on his left knee. and his right hand on his right knee. and he raised his right finger, which is next to the thumb, making supplication in this way, and he stretched his left hand on his left knee. Another version on the authority of Ibn Umar says: When the Messenger of Allah (may peace be upon him) sat for tashahhud, he placed his left hand on his left knee and placed his right hand on his right knee, and he formed a ring like (fifty-three) and pointed with his finger of attestation.











Book 004, Number 1204:



'Ali b. 'Abual-Rahman al-Mu'awi reported: 'Abdullah b. Umar saw me playing with pebbles during prayer. After finishing the prayer he forbade me (to do it) and said: Do as the Messenger of Allah (may peace be upon him) used to do. I said: How did Allah's Messenger (may peace be upon him) do? He said that he (the Messenger of Allah) sat at tashahhud, placed his right palm on the right thigh and closed all his fingers and pointed with the help of finger next to the thumb, and placed his left palm on his right thigh.







সহীহ মুসলিম এ দেখলাম একটা অধ্যায় ই আছে তাশাহুদ নিয়েঃ

The Book of Prayers (Kitab Al-Salat)

Chapter 14: THE TASHAHHUD IN PRAYER



ধন্যবাদ।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আকাশ মালিক,



তাশাহুদ সম্পর্কে বোখারী শরীফে ও দেখলাম আছেঃ



Volume 2, Book 22, Number 322:



Narrated 'Abdullah bin Buhaina Al-Asdi:



(the ally of Bani 'Abdul Muttalib) Allah's Apostle stood up for the Zuhr prayer and he should have sat (after the second Raka but he stood up for the third Raka without sitting for Tashah-hud) and when he finished the prayer he performed two prostrations and said Takbir on each prostration while sitting, before ending (the prayer) with Taslim; and the people too performed the two prostrations with him instead of the sitting he forgot.




ধন্যবাদ।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক,



হাদিস ইতিহাসে বিশ্বাসী হলে আর উপায় আছে, আপনিই বলেন?



অন্যরা কেউ এখনো জবাব দিচ্ছেন না দেখেই (হয়ত নেট সার্চ চলছে, বের হয়ে আসবে সহসাই, আমি যা যা বলেছি মোদ্দা কথা তেমনই পাওয়া যাবে) না আমি স্বতপ্রবৃত্ত হয়ে সাহায্যে এগিয়ে এলাম।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ফারুক,



তাকে তার ইতিহাস থেকেই দেখিয়ে দেয়া যে তার দাবীর বিপরিত কথাই বলছে তারই উদ্ধৃত ইতিহাস।




- অসাধারন কথা। কথা হল এটা বোঝার মত ঘিলু আছে কয়জনার?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আল্লারে এ এ এ ...আমার ঈমান কইম্মা গেল.. Sad

______________________________________
নিজেকে কখনও একা ভাবতে নেই......


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জটিল লখা।

আমার লেখা পড়ে দেখতে পারেন

/~~<(O|O)>~~\
...........~............
শান্তির জন্য যুদ্ধ


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@যাযাবরমন,

আপনার লেখার লিঙ্ক দিতে ভুলে গেছেন বোধহয়।

ধন্যবাদ।

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আকাশ মালিক,



আসলেই ব্লগ ওয়াজ মাহফিল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে সমস্যা হল, একই বিষয় নিয়ে দু তিন পরে পরে একই রকমের ধর্মীয় প্যাচাল। নতুন কিছু নেই। ফলে আমার মনে হয়, মোহাম্মদের নৃশংসতা, বা তার লিখিত কোরানের হাবিজাবি নিয়ে আর কত ক্যাচাল করা যায়। তবে এটা ঠিক, সত্যের সেনাণীরা তো বিশ্রাম নিচ্ছেনা। কারন এটা তাদের পবিত্র দায়িত্ব। মো কে নিয়ে ঘ্যানর ঘ্যনর করা হল সোয়াব কামানোর আরেকটি রাস্তা। অবিস্বাসীদের জন্য এটা তো সে অর্থে ম্যান্ডেটরি কোন বিষয় নয়। ফলে এই চর্বিত চর্বনের জবাব আর কি হবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@বকলম,



একটা জিনিস খেয়াল করেছেন, ব্লগ মোল্লারা কিন্তু দেশ, সমাজ, জাতি, পরিবারের সমস্যা ও সমাধানের কল্যাণে ইসলাম কী দিতে পারে কী শেখায়, কিংবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নৈ্তিক চরিত্র গঠনে ইসলামের উপকারিতা কী, তারা এ নিয়ে কথা বলেন না। এ সব লিখতে নিজের মাঝে সততা নৈ্তিকতা সত্যবাদীতা সর্বোপরি ইলিম কিছুটা লাগে। দ্বীনি শিক্ষা বলতে যা বুঝায় এদের কয়জনের তা আছে তাতে আমার সন্দেহ আছে। তাই তারা ইসলামের দৃষ্টিতে চুরি করা, পরনিন্দা করা, গিবত গাওয়া, পরশ্রীকাতরতা, মিথ্যা বলা, ব্যক্তিস্বার্থপরতা এসব নিয়ে কোনদিন লেখেন না। সমাজে ধর্মের নামে হাজারটা সমস্যা সৃষ্টি করে নিজেদের মধ্যে খুন-খারাবী, মারামারি, হত্যা-ধ্বংস নিত্যনৈমিত্তিকভাবে চলছে, কয়জন হেনা, নুরজাহান কোথায় মরলো, কয়টা ইসলামী বোমা কোথায় পড়লো, ব্লগের মোল্লাদের তা নিয়ে মোটেই মাথাব্যথা নেই। তারা বিজ্ঞান দিয়ে আল্লাহর অস্তিত্ব, মুহাম্মদের নবীত্ব, ও ইসলামের শ্রেষ্টতা প্রমাণে ব্যস্ত আছেন। ভাবখানা এই যেন, আল্লাহ, মুহাম্মদ, কোরান বিরাট অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গেছে তারা এদের উদ্ধার করেই ছাড়বেন। এতে লাভটা হচ্ছে, কাঠের আগুনে তারা পেট্রোল ঢেলে চলেছেন আর কিছু নয়। আবেগ ও অন্ধবিশ্বাসের বিহবলতা আচ্ছন্নতায় তারা অবচেতন মনে নিজেই যে আল্লাহকে খুনের দায়ে দায়ী করে ছলেছেন তা বুঝতেই পারেন না। মায়ের গর্ভে মৃত শিশু আল্লাহর পরীক্ষার উপকরণ এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এই কথাটা কোরান-হাদীসের কোথাও পড়েছি বলে মনে পড়েনা। যদি পড়তাম আমি সেই দিনই নাস্তিক হতাম। এ নিয়ে আগামীতে একটা লেখা তৈ্রী করার চেষ্টা করবো।



ভাল থাকুন,

ধন্যবাদ, লেখাটি পড়ে মন্তব্য করার জন্যে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাঁচ শিশু সন্তানসহ ঘুমন্ত অবস্থায় আসমাকে হত্যা করেন।




- এর সুত্র কি? আমি ইশাক এ শিশু সন্তান সমেত হত্যার কথা পাইনি। শুধু আসমাকেই হত্যার কথা আছে। তার শিশু সন্তান ছিল, তবে তাদের হত্যার কথা নেই। অন্য কোণ সূত্রে আছে কি?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শান্তি চাই।
শান্তিতে থাকতে যুদ্ধ চাই।
---
লড়াই লড়াই লড়াই চাই,
লড়াই হলে আমরা নাই।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
সভ্যের বর্বর লোভ নগ্ন করে আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।

glqxz9283 sfy39587p07