Skip to content

শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি আইন - দেশের এক কালো অধ্যায়

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত; সব ধর্মের লোকে যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ন ভাবে এ দেশে মিলে মিশে বসবাস করে আসছে, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সম অধিকার ’৭২ সাল থেকেই সংবিধানে স্বীকৃত। আমাদের অসাম্প্রদায়িক শান্তিপূর্ন চেহা্রায় মুগ্ধ হয়ে কোন এক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে আমরা ‘মডারেট মুসলিম’ কাউন্ট্রি খেতাব পেয়েও ধন্য হয়েছি, গর্বের সাথে সে পরিচয়ও আমরা পেশ করি। মোক্ষম প্রমান পাশের দেশ ভারতেও হিন্দু মুসলমান সাম্প্রতিক সময়েও ভয়াবহ দাংগায় লিপ্ত হলেও যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশে হিন্দু মুসলমান কোন দাংগা হয় না, শেষ দাংগা দেশে হয়েছে সেই ’৬৪ সালে। এ হিসেবে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুবাতাস বইছে তা অস্বীকার করার উপায় কই? মুশকিল হল এসব ভাল ভাল কথা সংখ্যালঘুরা (আসলে হিন্দু) কিছুতেই বুঝতে চায় না। তারা খায় দায় এ দেশের আর তালে থাকে কিভাবে ভারতে রাতারাতি সর্বস্ব পাচার করে পালিয়ে যাবে। এমন কথাবার্তা শুধু মৌলবাদী লোকজনে নয়, হিন্দু বান্ধব বলে খ্যাত আওয়ামী নেত্রী খোদ প্রধানমন্ত্রী হাসিনাও একবার নিউ ইয়র্কে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন।


সাম্প্রদায়িকতা/সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলতে ঠিক কি বোঝায় তা আমরা আসলে কতটুকু বুঝি? বিদেশে থাকি বলে দেশের অনেকেই আমাদের দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক মনে করেন। দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক আসলেই ঠিক কি জিনিস? সাম্প্রদায়িকতা মানে শুধুই দল বেঁধে অপর সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করা যেমনটা গুজরাটে দেখা গেছিল? নিজের দেশের বিশেষ এক সম্প্রদায়ের লোককে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ‘শত্রু’ আখ্যায়িত করে বিশেষ আইন বানিয়ে তাদের সহায় সম্পত্তি রাষ্ট্রের কব্জায় নিয়ে নিজের দলের লোকজনদের মাঝে বছরের পর বছর ধরে বিতরন প্রক্রিয়াকে ঠিক কি বলা যেতে পারে? আর আম জনতা যে যুগ যুগ ধরে নীরব দর্শকের মত এই অন্যায় দেখে এসেছে তারাও নিশ্চয়ই সকলে শান্তিপূর্ন অসাম্প্রদায়িক চেতনার জনগন যারা সংখ্যালঘুদের সমাধিকারে পূর্ন বিশ্বাসী? শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশেই (শুধু পাকিস্তান আমলেই নয়) এমন ঘটনা শত শত, হাজারে হাজারে ঘটেছে সম্পূর্ন আইন সম্মত প্রক্রিয়ায় – ‘শত্রু সম্পত্তি আইন’, পরবর্তিকালে নাম পালটে অর্পিত সম্পত্তি আইন নামে। রাষ্ট্র কর্তৃক এই আইন সম্মত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয় সম্পত্তি হাত করা বিষয়েই দুটো কথা বলব, আমার ধারনা এই আইনের কথা শুনে থাকলেও ব্যাপকতা বেশীরভাগ লোকেই জানেন না।


’৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে দেশভাগ হয়ে গেলেও হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক কোনদিন এ অঞ্চলে স্বভাবিক হয়নি। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ লাগে, ভারতকে সরকারী ভাবেই শত্রু দেশ হিসেবে গন্য করা হয়। 'দ্য ডিফেন্স অব পাকিস্তান অর্ডিন্যান্স ১৯৬৫'-এর মাধ্যমে আইনটি করা হয় যা শত্রু সম্পত্তি আইন নামে পরিচিত। ওই অধ্যাদেশের ১৬৯ উপবিধি অনুযায়ী তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের যেসব নাগরিক ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের আগে থেকে ভারতে ছিল এবং সেই তারিখ থেকে ১৯৬৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতে চলে গিয়েছিল, তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই সঙ্গে তাদের বাড়িঘর ও জমিজমা শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় যার মালিকানা সরকার অস্থায়ীভাবে নিয়ে নিতে পারে। তখনকার বিবেচনায় হয়ত আইনটি খুব একটা আপত্তিকর হবার কথা নয়, কারন হাজার হোক আপনার দেশের বিরুদ্ধে কোন দেশ যুদ্ধ করছে, আপনি পাততাড়ি গুটিয়ে সেই দেশের নাগরিকত্ব গ্রহন করলে আপনার দেশপ্রেম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। ভারতও সে সময় তাদের দেশে অনুরূপ এক আইন জারি করে পাকিস্তানে নাগরিকত্ব গ্রহনকারী ভারতীয় সম্পত্তি সরকারের অধিকারে নিয়ে আসার ব্যাপারে। সোজা কথায় এই আইনের আওতায় পাকিস্তানের কোন নাগরিক ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহন করলে সরকার তার নামে থাকা দেশের সব সম্পত্তি নিয়ে নিতে পারত।


এরপর স্বল্প সময়তেই বহু পানি গড়িয়েছে, শত্রু ভারতের সহায়তাতেই বাংলাদেশে স্বাধীন হয়, এক সময়ের শত্রু পরিনত হয় পরম মিত্রে। তবে ভারত মিত্র হয়ে গেলে কি হবে, স্বাধীন দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদেরই এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে শত্রু বিবেচনার পালা শুরু হল। বংগবন্ধুর প্রতিশ্রুতি ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়বেন, সে মোতাবেক ’৭৪ সালে এক সরকারী গেজেটে এই শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল করা হল, তবে জারী করা হল দেশে পরিত্যাক্ত অবাংগালীদের সম্পত্তি সরকারী অধিগ্রহনের জন্য ‘অর্পিত সম্পত্তি আইন’। আগের শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল হলেও পূর্ব পাকিস্তান থাকা অবস্থায় যাদের সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহন করেছিল সেসব আর ফেরত দেবার বন্দোবস্ত এ আইনেও রাখা হল না। আরো বিপদজনক হল যে এই ‘অর্পিত সম্পত্তি আইন’ এর আওতাতেও যেসব বাংলাদেশী দেশের স্থায়ী বাসিন্দা নন কিংবা অন্য কোন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহন করেছেন তাদের নামে থাকা সম্পত্তি অধিগ্রহন করার জন্য সরকারকে ক্ষমতা ঠিকই দেওয়া হল। যদিও এই আইনের লক্ষ্য ছিল আসলে পাকিস্তানে যুদ্ধের পর স্বেচ্ছায় হিজরত করা বাংগালীদের সম্পত্তি সরকারী তক্ত্বাবধনে আনা। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকে স্বভাবতই বাংলাদেশ ফেলে পাকিস্তানে যায়নি, কিন্তু কার্যত ভুগতে হয়েছে তাদেরই। অর্পিত সম্পত্তি আইনের ছত্রছায়াতেই মোটামুটি নির্বিঘ্নেই চলতে লাগল তাদের সহায় সম্পত্তি দখলের মহোতসব। কোন মুসলমান অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহন করলে তার নামে দেশে থাকা সম্পত্তি কোনদিন বাজেয়াপ্ত হবার প্রশ্ন আসে না, তবে সংখ্যালঘু হলেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত। আরো বিস্ময়কর ব্যাপার দেখা গেছে যে আসলে সব সংখ্যালঘুও নয়, এই আইনের একচেটিয়া শিকার কেবল হিন্দু সম্প্রদায়; বৌদ্ধ বা খৃষ্টানরাও এর শিকার হন না। ’৭৪ সালেই শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল হয়ে গেছে এমন দাবী অনেকে করে থাকলেও তা পুরোপুরি সঠিক নয়। ফাঁক রেখে দেওয়া হয়েছিল ঠিকই যার প্রমান পরবর্তিকালে সরকারের অধিগ্রহনকৃত হিন্দু সম্পত্তির বিশাল তালিকা, যা নানান সমীক্ষায় দেখা গেছে। কার্যক্ষেত্রে শুধু নামই পরিবর্তন করে শত্রু সম্পত্তি থেকে অর্পিত সম্পত্তি হয়েছিল। আইনের ভেতরেও কিন্তু সম্পত্তির মালিকদের শত্রু হিসেবেই লেখা ছিল। [১]


’৭৫ এর পটপরিবর্তনের পর অবস্থার আরো অবনতির ঘটানো হল। ’৭৬ এর নভেম্বরে ’৭৪ এর আইন পরিবর্তন করে সরকারের ক্ষমতা আরো বাড়ানো হল, এবার সরকার শুধু অধিগ্রহনই নয়, সম্পত্তি নিজের ইচ্ছেমত প্রদান করারও ক্ষমতা পেয়ে গেল, যা বিভিন্ন মেয়াদে লীজ দেওয়া শুরু হল। বিহারীদের সম্পত্তিও ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়, এবং তাদের পরিত্যাক্ত সম্পত্তি বাদ দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায় পরিনত হয় মূল টার্গেটে। শুরু হল নিজ নিজ দলীয় কর্মীদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিগ্রহন করা সম্পত্তির বাটোয়ারা করার নোংরা ও নিষ্ঠুর সংস্কৃতির। কোন দলীয় সরকারই এই লোভ সামাল দিতে পারেনি (পরে আসছি কিছু হিসেব নিয়ে)। আমাদের দেশে যে রাজনৈতিক দলের নেতা হবার জন্য দলীয় কর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যায়, এমনকি খুনাখুনিও হয় তার কারন তো নিশ্চয়ই আছে, আমাদের দেশের মত এত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক কর্মী মনে হয় না অন্য কোন দেশে পাওয়া যাবে বলে। এই ন্যাক্কারজনক আইন সম্মত সাম্প্রদায়িক লুটপাট নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে অনেকবার আপত্তি তোলা হয়, আন্তর্জাতিক অংগন থেকেও কিছু চাপ আসা শুরু হয়। ফলে এরশাদ আমলে ’৮৪ সালে আর কোন সম্পত্তি এই আইনে অধিগ্রহন করা হবে না ঘোষনা দেওয়া হয়, যদিও কার্যক্ষেত্রে এর কোনই প্রতিফলন দেখা যায়নি। [১]



৪ঠা জুলাই, ’৯১ সালে সংসদে দেশে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ একর জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের অধীনে আছে বলে জানানো হয়। সে সময় এই আইন দেশ বিদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলির প্রবল সমালোচনার শিকার হয়, ফলে ততকালীন বিএনপি সরকার শুরু করে অর্পিত সম্পত্তির ব্যাপারে জরীপ ও সমীক্ষা। সরকারের দাবী ছিল এ সমীক্ষার উদ্দেশ্য এ সমস্যা চিরতরে দূর করে অর্পিত সম্পত্তি ফেরত দেওয়া, বাস্তবে দেখা গেছে উলটো। সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আরো নুতন নুতন হিন্দু সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহন করে, বলাই বাহুল্য যে এ রিপোর্ট কোনদিন আলোর মুখ দেখেনি। ’৯৫ ও ’৯৭ সালে একটি এনজিও দুটি সমীক্ষায় প্রকাশ করে যে মোট ১.০৫ মিলিয়ন একর জমি শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি আইনে অধিগ্রহন করা হয়েছে, এবং দেশের শতকরা ৩০ ভাগ হিন্দু বসতবাড়ি এই কালো আইনের প্রত্যক্ষ শিকার হয়েছে। [১]


আগেই বলেছি যে অধিগ্রহনকৃত সম্পত্তি বাটোয়ারা করে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের ভোগেই যায়। আইন ও শালিস কেন্দ্র ’৯৫ সালে প্রকাশ করে যে মোট সম্পত্তির ৭২% বিএনপির লোকজনের গ্রাসে গেছে, যদিও ’৮৮ সালে ৪৪% আওয়ামী লোকদের ভাগে ও ৩২% বিএনপির ভাগে ছিল, জাতীয় পার্টি জামাতও পিছিয়ে নেই। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত ’৯৭ সালে 'Inquiry into Causes and Consequences of Deprivation of Hindu Minorities in Bangladesh through the Vested Property Act' নামের একটি গবেষনা মূলক গ্রন্থতে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। ওনার গবেষনায় বেরিয়ে আসে যে মোট ৯২৫,০৫০ হিন্দু বসতবাড়ি (বাংলাদেশের শতকরা ৪০% হিন্দু পরিবারের) এই আইনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। চাষাবাদের জমি হারায় ৭৪৮,৮৫০টি পরিবার। মোট জমির পরিমান ১.৬৪ মিলিয়ন একর, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের মালিকানাধিন মোট ৫৩% ভূসম্পত্তি। এই সম্পত্তির পরিমান সমগ্র বাংলাদেশের ৫.৩% ভাগ। অন্যদিকে সম্পত্তি দখল করে লাভবান হয়েছে মাত্র ০.৪% লোক। এই আইনের করাল গ্রাস সম্পর্কে তেমন সন্দেহের অবকাশ থাকে না। [২]


আবুল বারাকাতের হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ এর ওপর হিন্দু দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। নিজ জন্মভূমি কেউ স্বেচ্ছায় ছাড়তে চায়? হিন্দু জনসংখ্যা কি হারে দেশে কমেছে (নাকি কমানো হচ্ছে) সে হিসেব তো মোটামুটি সকলেরই জানা।


এই ভাগাভাগি/ দলীয় লোকদের প্রদান আইনসিদ্ধ, এর বাইরেও সরকারী দলের লোকজনের বলপূর্বক দখল তো আছেই যা স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় সহায়তা ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলগুলির দলের নেতাকর্মীদের নানান মহান আদর্শে উজ্জীবিত রাখার এটি একটি স্বীকৃত মাধ্যম; যার জন্যই বছরের পর বছর এই কালো আইন প্রায় বিনা চ্যালেঞ্জে চলে এসেছে। হয়ত মনে হতে পারে যে যারা ভারতে স্থায়ীভাবে চলে গেছে বা যাচ্ছে তাদের সম্পত্তি গ্রহন করায় এমন কি সমস্যা? আপত্তি কি কেবল একমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তিই দেশ ত্যাগ করে গেলে গ্রহন করা হয় এ যায়গাতেই? প্রবাসে স্থায়ী হওয়া মুসলমানদেরও সম্পত্তি এভাবে অধিগ্রহন হয়ে থাকলেই সমস্যা ছিল না? অনেকটা এই রকম আইন ভারতেও ক’বছর আগেও ছিল। ভারতীয়দের দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত ছিল না। তখন কেউ বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহন করলে তার ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যেত, ভারত সরকার তার সম্পত্তি গ্রহন করত। তবে সে আইনের আওতায় ধর্মীয় পরিচয়ের কোন ব্যাপার ছিল না। এ কারনে তখন প্রবাসে থাকা ভারতীয়দের স্বামী বা স্ত্রী একজন নাগরিকত্ব গ্রহন না করে গ্রীন কার্ড জাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থেকে যেতেন দেশের সম্পত্তি রক্ষার্থে।


প্রথমত, কাগজে কলমে এই আইনের আওতা প্রবাসে স্থায়ী হওয়া নাগরিকদের জন্য হলেও কার্যত এর আওতা শুধু সেখানেই ঠেকে ছিল না। এই আইন ছিল আসলে আইন সম্মত উপায়ে দূর্বলের সম্পত্তি গ্রাস করার এক চমতকার উপায়; এর আওতায় উইল করে মারা যাননি এমন বহু হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি হরির লুট হয়েছে। প্রক্রিয়া খুবই সহজ; সরকারকে দিয়ে তার জমি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে অধিগ্রহন করানো, এরপর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজ নামে লিজ নিয়ে ভোগদখল করা। বেশ কিছু উদাহরন আছে যা সমগ্র জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক।


বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেবার দাবী প্রথম পাকিস্তান গনপরিষদে ’৪৮ সালে বলিষ্ঠ কন্ঠে তুলেছিলেন কুমিলার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। পাক সরকার চিরদিনই ভদ্রলোকের ওপর তীব্র আক্রোশে ভুগেছে, ’৭১ এর ২৫শে মার্চ গনহত্যা শুরুর প্রথম প্রহরেই তাকে তার ছেলেসহ ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে অবর্ননীয় অত্যাচার করে হত্যা করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ তার এই সপরিবারে চরম আত্মত্যাগের প্রতিদান দেয় তার সম্পত্তিও শত্রু সম্পত্তি হিসেবে অধিগ্রহন করে? অপরাধ? জন্মই তাদের আজন্ম পাপ, তারা হিন্দু। তিনি দেশের শত্রু, কাজেই তার সম্পত্তি রাষ্ট্রের, এতে তার পরিবার পরিজনের আর অধিকার নেই। বিশ্বব্যাপি সাড়া জাগানো ব্রিটিশ রাজের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের নায়ক মাষ্টার দা সূর্যসেনের পারিবারিক সম্পত্তিও ’৭৬ সালে এভাবেই আমাদের সদাশয় সরকার হুকুম দখল করে নিয়েছে। কি বিস্ময়ের কথা, ভদ্রলোক সেই ’৩৪ সালে অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশে ফাঁসিতে আত্মহুতি দেন যখন ভারত পাকিস্তান বলেও কিছু ছিল না, অথচ সরকারী নথিতে তার স্থায়ী ঠিকানা লেখা হয়েছিল ভারত। এই চমকে যাবার মত তালিকায় আরো আছেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, রবি নিয়োগী (৩৪ বছর ব্রিটিশের জেল খেটে বাংলাদেশের শেরপুরেই মারা যান), কবি নবীন চন্দ্র সেন, পশ্চীম বংগের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। মুক্তিযুদ্ধের আরো দুই শহীদ বুদ্ধিজীবি দেবতূল্য অধ্যাপক জিসি দেব ও জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার জমিও শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে অবৈধ ভোগ দখলে আছে। [৩] অমর্ত্য সেনও আছেন এই তালিকায়।

সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন বলেন, 'রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি অবিচার করেছে জে এম সেন অর্থাৎ যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের প্রতি। তিনি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন সেনের প্রধান অনুসারী এবং ব্যারিস্টার। ১৯২১ সালে স্বাধীনতার জন্য তিনি অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে নিজের আইন পেশা পরিত্যাগ করেন। তাঁর স্ত্রী নেলী সেনগুপ্ত ছিলেন ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি। এমন সম্মান দেশের খুব কম মহিলার ভাগ্যেই জুটেছে। অথচ তিনি জীবিত থাকাকালে রহমতগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে নির্মমভাবে উচ্ছেদ করে সে বাড়ি দখল করে নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সেখানে তিনি শিশুবাগ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এখনো সে বাড়িটি দখল করে রেখেছেন। ১৯৩৩ সালে রাঁচী জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় দেশপ্রিয় মারা গেলেও তাঁকে দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি ১৯৬৫ সালের আইনে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।'
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থাপত্যশৈলীর কারুকাজ করা দোতলা বাড়ির ফটকে 'শিশুবাগ' লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নাম আছে সামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইসহাকের।
[৩]


কয়েকজন কুখ্যাত দেশের শত্রু (অন্তত সরকারী খাতায়)।


ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের শহীদ, ভাষা আন্দোলনের নেতা কি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এসব কিছুই হার মেনে গেছে ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ন গন্ডিতে, কারন তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন। আমাদের কি লজ্জা পাবার মত বিবেক বুদ্ধিও সকলের আছে? আমি ভালই জানি যে এসব জেনেও অনেকেরই চেতন হবে না। অসীম মেধা ওঁ বিবেচনা বোধের পরিচয় দিয়ে খুজে খুজে ভারতে কি হয় উদাহরন হাজির করে ফেলবেন। নিদেনপক্ষে কোন কালে হিন্দু ব্রাক্ষ্মনরা কিভাবে জাতপাতের বিচারে মুসলমানদের ছোঁয়া বাঁচিয়ে হাতে জল ঢেলে দিতেন এসব টেনে দায় মোটামুটি আধাআধি ভাগ করে ফেলতে পারবেন। যেমনটা কিছুদিন আগে দেখলাম আমার প্রিয় দুই ব্লগার সাম্প্রদায়িক সমস্যা নিয়ে সাম্প্রতিক এক লেখায় করেছেন। বৈষয়িক বা অর্থগত বিচার বাদ দিলেও ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের এহেন অবিচার আচরন কিভাবে এসব ব্যাক্তিত্বদের আত্মীয় স্বজনদের নিদারুন মর্মবেদনা দিতে পারে তা কি ভাবার নয়? তারা নিজেদের কোন শ্রেনীর নাগরিক বিবেচনা করতে পারে?


অমানবিকভাবে জবর দখল করা এসব সম্পত্তি ফেরত দেওয়া নিয়ে সংখ্যালঘু সমাজ, দেশী বিদেশী মানবাধিকার সংস্থাগুলি সব সময়ই সোচ্চার, স্বভাবতই অগতির গতি আওয়ামী সরকারই যা কিছু ভরসা। ’৯৬ সালের আওয়ামী সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এই আইন বাতিল করে গৃহীত সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া। ’৯৮ সালে আইন করার চেষ্টা করলেও নানান মহলের তীব্র চাপের মুখে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। অবশেষে বিএনপি জামাতের তীব্র আপত্তির মুখেও তড়িঘড়ি করে ২০০১ সালের মার্চ/এপ্রিলে অর্পিত সম্পত্তি ফেরত দেওয়া আইন সংসদে তড়িঘড়ি করে আধা খেঁচড়া আকারে বিল আকারে পাস করানো হয়। এটা অনেকটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল বলে অনেকে মনে করেন কারন এই বিলে যথেষ্ট ঝামেলার কারন ছিল এবং ততকালীন সরকার জানত যে এটা আইন আকারে পাশ করাতে রাষ্ট্রপতির সই লাগবে যা আর সেই টার্মে হত না। কার্যক্ষেত্রে হয়েছেও তাই, অব্যাহত গতিতেই চলতে থাকে ‘শত্রু’ সম্পত্তি অধিগ্রহন।

আওয়ামী সরকাররের গতবারের নির্বাচনেও অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন প্রতিশ্রুত ছিল। সরকার ক্ষমতায় বসার পর পরই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবাধিকার উন্নয়ন বিষয়ে একটি চিঠি দেয় যার মধ্যে এটা ছিল। অবশেষে গত বছরের নভেম্বরে সংসদে এই বিল আবারো সংশোধিত আকারে পাশ করানো হয়। বহু দেরী হবার পরেও একে স্বাগত জানাতে হয়, তবে এতে আগে যারা সম্পত্তি হারিয়েছেন তাদের বাস্তবিক অর্থে তেমন আশাবাদী হবার কিছু মনে হয় না আছে বলে। কারন সরকার যাদের কাছে সম্পত্তি ইতোমধ্যে বিতরন করে দিয়েছে তারা সুড়সুড় করে দাবী ছেড়ে দেবে এমন নয়, আরো মারাত্মক জটিলতা আছে যেসব ক্ষেত্রে সম্পত্তি হাত বদল হয়েছে সেসবের ক্ষেত্রে। যিনি নুতন মালিক এবার ভিক্টিম হবেন তিনি। এটাও অন্য আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এই যুক্তিতেই অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিলের ব্যাপারে অপর পক্ষ থেকে ’৯৮ সালেও আপত্তি এসেছিল। কিছু ভুল থাকে যা অমার্জনীয়, অমোচনীয়, রাষ্ট্রের পক্ষে তেমন ভুল করা হয়ে গেলে তা আর সংশোধনের কার্যকরি উপায় থাকে না।


আমি খুব আশাবাদী হতে চাই যে একদিন আমাদের দেশেও সংখ্যালঘুদের দাবী দাওয়া সমাধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে হবে না, কারন সেদিন সমাজে সংখ্যালঘু বলেই কিছু থাকবে না। সবাই হবে কেবল মানুষ, গুরু লঘু কেউ নয়। কালো সাদা হিন্দু, মুসলমান, শিয়া, সুন্নী, কাদিয়ানী এসবের কোন প্রভাব কোনভাবেই দৈনন্দিন জীবনে কোনভাবে পড়বে না। অন্য বহু দেশ এ ভাবেই অনেকটা এগিয়ে গেছে। আমরা কেন পারব না? এ দেশের বেশীরভাগ লোকেই সাম্প্রদায়িক নয়, এসব সমর্থন করে না জানি। তারপরেও কেন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর এত ক্ষীন?



সূত্রঃ
১। God Willing- The Politics of Islamism in Bangladesh : Ali Riaz; (Rowman & Littlefield Publishers, Inc., 2004)

Vested Property Act -A story of deprivation and exploitation

৩। প্রহসন - দেশের শত্রু তাঁরা!

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খাইছে আইজকা ব্লগে চাঁদের হাঁট।
সব রথি-মহারথিরা ঝাঁপি খুইল্লা দিছে।
আগে পইড়া লই, পরে কমেন্ট দিমুনে।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ তো এখন আওয়ামী মুসলিম লীগ!
তারা 'শত্রু সম্পত্তি আইন' নিয়ে কাজ করবে কেন?
কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামের এডভোকেট রানা দাস গুপ্ত এ আইন নিয়ে বর্তমান সরকারকে বেশ ভালো ধোলাই দিয়েছিলেন।
মনে হয় লাভ নেই। বাংগালীর মনস্তত্ত পালটে গেছে বলেই আমার ধারনা।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কালো বেড়াল বাবুও কিছুদিন আগে দূঃখিত সূরে বলেছিলেন যে দলের ভেতরেই চাপ আছে...টাকা পয়সা সম্পত্তির লোভের সামনে সব কয়টাই এক।

আসলে যা অমোচনীয় ক্ষতি হয়েছে তা সংশোধনের উপায় নেই।

তবে মন্দের ভাল যে অন্তত ভবিষ্যতে যেন আর আর না হয়।

চিন্তা করেন একবার, ধীরেন্দ্রনাথ, জিসি দেব, সূর্যসেন ওনারা সবাই দেশের শত্রু; নিজামী আমিনীরা সব জাতির মাথা।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চিন্তা করেন একবার, ধীরেন্দ্রনাথ, জিসি দেব, সূর্যসেন ওনারা সবাই দেশের শত্রু; নিজামী আমিনীরা সব জাতির মাথা।


এসব থেকে বের হয়ে আসার জন্য দরকার ছিলো রেজিমেন্টেড রাজনৈতিক দল-ত্যাগি কর্মী-জ্ঞানে সুশিক্ষিত কিছু অগ্রসর মানুষ। কিন্তু ১৯৯১ সালের নির্বাচনে হারার পর আওয়ামী লীগ হয়ে 'এডহক লীগ'। বি এন পি র মতো আওয়ামী লীগেও ব্যবসায়ী নেতারা সমাদর বাড়া শুরু হয়। যাদের এইসব আপাতঃদৃষ্টিতে বিনা দরকারী বিষয় নিয়ে আলোচনা কিংবা কাজ করার সময় কই? এখন চরিত্রগতভাবে আওয়ামী লীগ আর বি এন পির তেমন পার্থক্য নেই। শুধু 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' ছাড়া। তাও খোঁড়া কারন অসাম্প্রদায়িকতা ছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রান। দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়।
আশার কোনো আলো নেই।
চারিদিকে অন্ধকার।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

স্বার্থের বেলায় সব শালাই আসলে ডাকাত।

আমার ক্ষোভ তাদের ওপর নয়, আমার ক্ষোভ আম জনতার ওপরে। চোখের সামনে যুগ যুগ ধরে এরকম দিনে ডাকাতি প্রকাশ্যেই দেশে চলল, কারো বিবেক তেমন সাড়া দিল না? এগুলি নিয়ে যারা কিছুটা লেখালেখি করেন তারা আওয়ামী ভারতী দালাল লেবেলে চিহ্নিত।

আর কিছু নিরপেক্ষ লোক আছেন যারা কলম তুললে পাবলিক ইম্প্যক্ট হতে পারে তারাও নিজেদের নিরপেক্ষ, ধর্মের পেছনে কোনমতেই লাগবেন না এই নীতিতে এসব বিষয়ে কিছু বলবেন না। পাছে আমার ধর্মবি্দ্বেষী ট্যাগ পেয়ে যান কিনা।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আর কিছু নিরপেক্ষ লোক আছেন যারা কলম তুললে পাবলিক ইম্প্যক্ট হতে পারে তারাও নিজেদের নিরপেক্ষ, ধর্মের পেছনে কোনমতেই লাগবেন না এই নীতিতে এসব বিষয়ে কিছু বলবেন না। পাছে আমার ধর্মবি্দ্বেষী ট্যাগ পেয়ে যান কিনা।


রুখে দাঁড়াতে হবে রাজনৈতিক কর্মীদেরকে। ভাড়াটে লেখক দিয়ে কিছু হবেনা। এ এক মতাদর্শিক সংগ্রাম।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাউরে,ব্যপক পোস্ট। তবে হরতালের ডামাডোলে এইদিকে চোখ দেয়ার টাইম পাইব!!

এইসব জিনিশ বুঝি না। শেভ করলাম ধীরে ধীরে পড়ব

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

না বুঝার কই আছে, হিন্দু সম্পত্তি টারগেট করেন।

এরপর সরকারের খাতায় শত্রু সম্পত্তি বলে ঊঠায় দেন, দল ক্ষমতায় থাকতে লীজ নিয়া নেন। খুব সরল হিসাব। এই সুযোগ হেলায় হারাবেন না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল ভাই আমি আরোও আগে থেকে জানতে চাই। ইহুদী থেকে খৃষ্টান,খৃষ্টান হতে ইসলাম সব ধর্মকে যুদ্ধ করে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রে শত্রু সম্পদের ব্যাপারে নিয়ম কি ছিল? শত্রু সম্পত্তি বলতে কি শুধু জমি/বাড়ী না শত্রুর শত্রুর আত্বীয়-স্বজনরাও ?

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আল্লাহ তাও এইটুকু রহম করছে।

ধর্মওয়ালারা অন্তত এই আমলে নিজেদের ধর্মগ্রন্থের নির্দেশিত উপায়ে শত্রুদের পরিবারের সদস্যদেরও সম্পত্তি হিসাবে বাঁটোয়ারা নীতিতে ছাড়া দিছেন। ওনাদের এই মহানুভবতার প্রসংশা করতেই হয়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধর্মওয়ালারা অন্তত এই আমলে নিজেদের ধর্মগ্রন্থের নির্দেশিত উপায়ে শত্রুদের পরিবারের সদস্যদেরও সম্পত্তি হিসাবে বাঁটোয়ারা নীতিতে ছাড়া দিছেন। ওনাদের এই মহানুভবতার প্রসংশা করতেই হয়।


আমি বুয়েটিয়ান না, অত মাথা নাই Wink বুঝাইয়া কন

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তারপর আমারে নাস্তিক মুরতাদ বিদেশী নাগরিক ঘোষনা দিয়া আমার সয়সম্পত্তিই শত্রু সম্পত্তি হোক আর কি।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দেশে জমি-জমা আছে ?

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার নামে নাই। বাপ মায়ের আছে সামান্য কিছু।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তাইলে নাস্তিক-মুরতাদ কইলে সমস্যা কি?

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তাই তো।

তয় বাপের সম্পত্তিতে তো ভাগ একদিন পামুই।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল ভাই আপ্নে তো আর হিন্দু না। সোকইয়া ফালান। ডর নাই।আর বেশি ঝামেলা হইলে না হয় একবার তওবা করে ফেলবেন। তাইলেই তো শেষ

======================================================
তোমায় ভালবাসা ছাড়া আর কোন উপায় নাই,তাই কেবলি ভালবেসে যাই.........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এথনিক ক্লিন্সিং এর এক অনন্য টূলস।

======================================================
তোমায় ভালবাসা ছাড়া আর কোন উপায় নাই,তাই কেবলি ভালবেসে যাই.........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসলেই তাই, এটা এথনিক ক্লিন্সিং এর এক অনন্য সাইলেন্ট টুল ছাড়া আর কিছু নয়। এবং মানতেই হয় অত্যন্ত সফল।

হিন্দু জনসংখ্যার পরিসংখ্যান দেখলেই সফলতা টের পাওয়া যায়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শেভ করলাম ধীরে ধীরে পড়ব


ক্যান, শেভ করার পরে পড়ার গতি কি ধীর হয়ে আসে? ট্রাই করে দেখতে হবে ত!!!

Laughing out loud


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়লাম।

--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম।

সময় করে পড়বো।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

’৯৫ ও ’৯৭ সালে একটি এনজিও দুটি সমীক্ষায় প্রকাশ করে যে মোট ১.০৫ একর জমি শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি আইনে অধিগ্রহন করা হয়েছে, এবং দেশের শতকরা ৩০ ভাগ হিন্দু বসতবাড়ি এই কালো আইনের প্রত্যক্ষ শিকার হয়েছে। [১]


আদিল ভাই এইটা কি ঠিক আছে নাকি টাইপো?

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এ হে, টাইপো। আসলে মিলিয়ন হবে। ঠিক করে দিচ্ছি।

ধন্যবাদ।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল মাহমুদ,

আপনার লেখা পড়ার জন্যে অনেক দিন যবত হা পিত্যেশ করেছিলাম। অবশেষে তার অবসান হল। এমন দারূণ একটা লেখা দিয়েছেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ।

আপনি কি মুক্তমনার আফরোজা আপা?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হা আমি সেই। আদিল মাহমুদের লেখা পড়ে যারপরনাই আনন্দিত।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

’৯৫ ও ’৯৭ সালে একটি এনজিও দুটি সমীক্ষায় প্রকাশ করে যে মোট ১.০৫ একর জমি শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি আইনে অধিগ্রহন করা হয়েছে,


বোধহয় মিলিয়ন শব্দটা বাদ পড়েছে!!

আমি লীগ সরকারের কাছ থেকে এটা নিয়ে কিছু আশা করি না। যদি হয় তবে তা বোনাস। আর পুরোনো সম্পত্তি ফেরত দেওয়াটাও একটা সমস্যা, যেগুলো কেনা-বেচা হয়েছে সেগুলোরই বা কী হবে?? আর যাদের কোন উত্তরসূরি আর এই দেশে নেই, তাদের সম্পত্তির কী হবে??

একটা প্রশ্ন আছে। ১৯৭১ এর মার্চের শেষে ঢাকার শাঁখারি বাজার, লক্ষ্মী বাজার গণহারে হিন্দুদের হত্যা করা হয়। আর সেই বাড়িগুলো দেওয়া হয় বিহারিদের। তারা খুব অল্প সময়ের মাঝেই সেই বাড়িগুলো ধোয়ামোছা করে দখল নিয়ে নেয়। কিন্তু তাদের সেই সুদিন খুব বেশি দিন থাকে নি। ডিসেম্বরের মাঝে বিহারিরাও কচুকাটা হয়, অনেকে পালিয়ে যায়। সেই বাড়িগুলো তো তখন আর জামাতীরা দখল নেয় নি, কারণ তখন তারা নিজেদের পুটু বাঁচাতেও ব্যস্ত ছিল। এগুলো দখল নেয় মূলত লীগের লোকেরাই, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদেরও কেউ কেউ আছেন!! হিন্দুদের মাঝে যারা বেঁচে ছিলেন তাদের অনেকেই আর তাদের এই সম্পত্তি ফেরত পায় নি। ৭৬ এ বিহারিরা কি এই বাড়িগুলো পেয়েছিল?? ঐ সময়কার দলিলগুলো কি এখনো আছে??


-----------------------------------------------------

আমি পথ চেয়ে আছি মুক্তির আশায়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দেবা/কাঠ মোল্লা ভাই,

আপনাদের আশংকা ষোল আনা সঠিক। আমিও লেখায় বলেছি যে এটা এমনই একটা অমার্জনীয় এবং অমোচনীয় ভুল যার সংশোধনের বাস্তব উপায় আসলে নেই। শুধু মন্দের ভাল হিসেবে এই আশাই করতে চাই যে আর কোন পরিবার যেন নিজেদের জন্মের পাপে পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার না হারায়। বিরজাবালা পরিবারের পরিনতি যেন বাংলায় আর না শুনতে হয়।

দেবা,

আমি প্রথম রেফারেন্স বইতে পেয়েছিল যে '৭৫ এর পর বিহারীদের সম্পত্তি ফেরত দেবার পালা শুরু হয়। খুব একটা আর বিস্তারিত নেই নভেম্বর '৭৬ এ '৭৪ এর আইন বদলে নুতন আইন করা হয় যাতে সরকার শুধু অধিগ্রহনই নয়, নিজের মর্জিমত দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেবার অধিকার রাখে। নামমাত্র মূল্যে লিজ দেওয়া তখন থেকেই মূলত শুরু হয়। আপনি যা বলছেন তা হতে পারে, প্রেক্ষাপট মিলে যায়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই কাল আইনের লোপের একটা ব্যবস্থা করা দরকার। তবে এতদিন দিন পর এটা করতে গিয়ে অনেক ঝামেলা হবে। ইচ্ছে থাকলেও এই ঝামেলায় সরকার এই মুহূর্তে জড়াতে চাইবে না। ইচ্ছে যে আছে, তাও মনে হয় না।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দুর্দান্ত পোস্ট। আদিল ভাই নমস্য।

..................................................................

বারান্দা জুড়ে হাসি অচেনা চোখের জল
বিকেলের শরীর ছুঁয়ে আমার কবিতা চঞ্চল
.. .. .. .. ..
শুধু কবিতাটুকু সত্যি আর সব মিথ্যে নামে আসে
ওই আকাশটাকে দেখো- সে কবিতাই ভালোবাসে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Enemy Property Act, 1965
Vested Property Act in 1974

এই দুই আইন নিয়ে যত্তসব ঝামেলা হইতেছে। এক জমি ১৪বার হাতবদল হওয়ার পরও আবার সেই পুরানো জমির মালিক আসছে জমির কাগজ-পত্র নিয়ে।

======================
শিশু অপরাধ করে না ভুল করে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বীজের মধ্যেই যদি রোগের জীবানু থাক্যা সেই বীজ থেকে পয়দা হওয়া গাছের ফল আর কতটা পুষ্টি দেবে?

আপনারা যারা আইন পেশার সাথে জড়িত তারা এসব নিয়ে কেন সোচ্চার হন না? আমি এইসবের তেমন কিছুই বুঝি না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল ভাই,
বর্তমানে এই সম্পত্তির দখল কোন কোন দলের লোকের কত পার্সেন্ট?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অতি সাম্প্রতিক হিসেব জানি না, আবুল বারকাত স্যারের পর আর কেউ সেভাবে গবেষনা করেছেন কিনা নিশ্চিত না।

তবে ষ্টাডি দেখায় যে যে দল যখন ক্ষমতায় আসে সেই দলের লোকেই বেশী লুটের ভাগ পায়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোস্টে Star Star Star Star Star

----------------------------------------------------------------
ইচ্ছে আছে উড়ব সোজা, কিম্বা বেঁকে ...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি খুব আশাবাদী হতে চাই যে একদিন আমাদের দেশেও সংখ্যালঘুদের দাবী দাওয়া সমাধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে হবে না, কারন সেদিন সমাজে সংখ্যালঘু বলেই কিছু থাকবে না। সবাই হবে কেবল মানুষ, গুরু লঘু কেউ নয়। কালো সাদা হিন্দু, মুসলমান, শিয়া, সুন্নী, কাদিয়ানী এসবের কোন প্রভাব কোনভাবেই দৈনন্দিন জীবনে কোনভাবে পড়বে না। অন্য বহু দেশ এ ভাবেই অনেকটা এগিয়ে গেছে। আমরা কেন পারব না? এ দেশের বেশীরভাগ লোকেই সাম্প্রদায়িক নয়, এসব সমর্থন করে না জানি। তারপরেও কেন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর এত ক্ষীন?


যে কথাগুলি মনের ভিতর মেঘের মত উড়াঊড়ি করে - আপনে কেমনে জানি সেটাকে কথার বৃষ্টি বানিয়ে ঝরিয়ে দেন।

লং লীভ মাই ফ্রেন্ড - এর বেশি আর কিইবা বলতে পারি।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কথাগুলি খুব সহজ। মনের দীর্ঘদিনের সংস্কার ফংস্কার ভুলে গিয়ে সহজভাবে চিন্তা করলেই দেখবেন বের হয়ে আসে।

অন্য সম্প্রদায়ের লোককে যতদিন না আপনার লোক বলেই মনে করবেন ততদিন কোন স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংখ্যালঘুদের অধিকার এভাবে চিন্তা করলে তাদের ন্যায্য অধিকার মনে হবে দয়া করে দিলাম।

যাদের মনে করবেন অন্য সম্প্রদায়ের লোক; যাদের সাথে মেলামেশায় ধর্মীয় রেষ্ট্রিকশন আছে তাদের আপন করে কিভাবে চিন্তা করা যাবে? এভাবে চিন্তা করলে সবসময়ই মনে হবে তাদের আমরা বিরাট দয়া দেখালাম।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শুধু মাত্র এই পোষ্টে মন্তব্য করার জন্য লগইন করলাম । একটানে পড়ে ফেললাম । এত বিস্তারিত পরিসরে লিখাটি অনেক যত্ন নিয়ে লিখেছেন, ধন্যবাদ সেজন্য ।

আমার ক্ষোভ হচ্ছে আমাদের মত সাধারণ মানুষের প্রতি, আমাদের কোন সচেতনতা নেই এইসব বিষয়ে । আর সত্যি কথা বললে থাকবেই বা কি করে, ধর্মীয় পরিচয় যেখানে বড় হয়ে দাঁড়ায় মানুষের মানবিক অনুভূতি সেখানে ভোতা হয়ে যায় । আশপাশে থাকা মানুষদের দেখে শুনে এটা আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ । রাজনীতিকদের শুধু দোষ দিতে চাইনা, আমাদের অস্থি-মজ্জায় মিশে আছে ভয়ংকর লোভ, সেই লোভের মাত্রা ষোলকলা পূর্ণ হতে সাহায্য করে ধর্মীয় জোশ আর যদি সেখানে থাকে রাজনীতির আড়াল তবে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ বোধ হয় এই শত্রু/ অর্পিত সম্পত্তি আইন ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুবই ভাল বলেছেন। আমার মূল্যায়নও অনেকটা এই রকমই। ধর্মীয় জাতীয়তাবোধের বিপদজনক দিক হল এই জাতীয়তাবোধের জোশে অনেক সময় শুভ/অশুভ বোধের পরিমান কমে আসে। অন্য সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার প্রদান মনে হয় দয়া করে দিলাম।

রাজনীতির সাথে জড়িত লোকজন নিয়ে তেমন আশা করার কিছু নেই, বেশীরভাগ লোকে রাজনীতি করে আদর্শ ফাদর্শের বড় বড় কথায় নয়, হালুয়া রুটির লোভে। এত বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক কর্মী আর কোন দেশে মনে হয় না পাওয়া যাবে বলে।

সাধারন বিবেকবান মানুষেরই দায়িত্ব বেশী। ধর্মীয় জাতীয়তার ছাপ থাকলে বিবেকের দ্বার অনেক সময়ই সেভাবে খূলতে চায় না। ভারতে মুসলমান নির্যাতন জ্বলন্ত সত্য, তবে আমাদের দেশে হিন্দু নির্যাতন হতে পারে না, সবই ইসলাম বিদ্বেষীদের অপপ্রচার। প্যালেষ্টাইনী ইরাকী ভাইদের জন্য প্রান কাঁদে, তবে ধীরেন্দ্রনাথ জিসি দেবের মত ব্যাক্তিত্বকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শত্রু ঘোষনা করে সম্পত্তি কেড়ে নিলে সেসব নিয়ে কাঁদার মানুষ তেমন পাওয়া যায় না। ২০০১ সালের হিন্দু নির্যাতনের সময় মিডিয়া সরব হলেও সাধারন মানুষের মাঝে ঘটনা যত ব্যাপক ছিল তেমন প্রতিক্রিয়া হয়নি।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এত বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক কর্মী আর কোন দেশে মনে হয় না পাওয়া যাবে বলে।


তিনকোটি বেকারের দেশে আপনিও আজ একটা রাজনৈতিক দল খোলেন, কিছু কানাডিয়ান ডলার ঢালেন, মিছিল, হরতালের জন্য লোকের অভাব হবে না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বুয়েটের রুই কাতলার মত লেখা হইছে।

(প্রশংসার কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে যেয়েন না, তাতে আপনার লেখা থেমে থাকবে)
Wink


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সম্পত্তি জবর দখলকারিদের তালিকায় নিশ্চিত বুয়েটিয়ানদের নাম পাওয়া যাবে সবচেয়ে বেশী।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

২০০১ এর নির্বাচনের পরে সারাদেশে যখন সংখ্যালঘু ( হিন্দু বললেই পারফেক্ট হয় ) নির্যাতন শুরু হয়,তখন আমার বাবা এবং অন্যান্য আত্মীয় স্বজন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল আমাকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।তখনকার মত পড়াশুনা করার জন্য,কয়েক বছরের মধ্যে সব সেটল করে সপরিবার হিজরত করা হবে।সেদিন আমার মা একা বেঁকে বসার কারণে প্রীতমের ভারত যাত্রা আটকে গিয়েছিল।ভাগ্যিস ! নাহলে আজকে শত্রু বলেই পরিচিত হতাম Laughing out loud

কেউ হয়তো বলতেই পারেন,এই ঘটনা হিন্দুদের চিরন্তন ভারতপ্রীতির নমুনা।সে তারা বলতেই পারেন।নিরুপায় হিন্দু তখন বড়জোর উত্তর দিতে পারেন - নিজ দেশে যখন বাঁচতে হয় ব্রাত্য হয়ে তখন পরদেশকে আপন ভেবে বসা অনৈতিক হলেও অন্যায় নয়,কারণ জান বাঁচানো ফরজ।

এতসব কিছুর পরেও খুব বোকার মত আমি বিশ্বাস করি,বাংলাদেশের ভূখণ্ড সাম্প্রদায়িক নয়,এক খণ্ড সাতক্ষীরা অথবা হাটহাজারি সারা বাংলাদেশের নমুনা নয়।নির্বোধ,একগুঁয়ের মত বিশ্বাস করি,কোন এক কল্পিত স্রষ্টাকে কী নামে ডাকা হয় তার ভিত্তিতে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় না বাংলাদেশে।ভারতে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হলে বাংলাদেশে মন্দির ভেঙ্গে দেবার লোকের অভাব হয় না সত্য,কিন্তু চুকনগরের মৃত হিন্দু মায়ের সন্তানকে নিজের বুকে টেনে নেয়া এরশাদ আলী মোড়লেরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ - এটা বিশ্বাস করতে খুব ইচ্ছে করে।

সব ধরণের সাম্প্রদায়িকতা এবং ফ্যানাটিসিজম নিপাত যাক।

( অট - আপনার পাঁচশো সত্তর ইয়াহু চেক করেন সময় করে )

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সে সময় আপনার পরিবারের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলা যায় না। সে সময় বহু পরিবারই চলে গেছিল, ভারতে '৭১ সালের মতই অভ্যার্থনা কেন্দ্র খোলা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে হিজরত করা হিন্দুদের জন্য।

কেন দেশ ছেড়ে যাবেন, এই দেশ আপনাদেরও এইসব কথা বলতে পারলে খুশীই হতাম, তবে আত্মবিশ্বাস তেমন পাই না। আজ আমার কথায় গেলেন না, আর কাল আপনাদের সম্পত্তি কেউ গাপ করল কিংবা বাড়ির মেয়ে তুলে নিয়ে গেল তখন আমি কি বলতে পারি? আইন আদালত থানা পুলিশ আছে, মামলা করেন? ২০০১ সালের সন্ত্রাসের কয়টির বিচার হয়েছে?

'৪৭ সালের দেশভাগ খুবই মর্মন্তুদ হলেও ঠিকই ছিল, এ অঞ্চলের মানুষের ধর্ম নিয়ে আদিখ্যেতা এতই বেশী যে এদের এটা দরকার ছিল।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আচছা বাংলাদেশে এখন শতকরা কত ভাগ হিনদু?ইদানিং কয়েকজনকে দেখলাম মুসলমান ৯৭% বলে দাবি করতেছে। এটা হলে তো কয়েকবছর পরে বাড়ির বাইরে গেলে বাড়ি দখল করে নিবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

৯৭% এর দাবী যারা করে সেটা মনে হয় তাদের টারগেট, এখনো সেই টারগেট পূরন হয়নি এতে হয়ত মর্মবেদনা বোধ করে, তবে পূরন হয়ে যাবে বর্তমান হারে হিন্দু হিজরত চলতে থাক লক্ষ্যমাত্রা পূরন হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। বর্তমানে ৯-১০ এর মত হিন্দু আছে, মুসলমান ৮৮%, বাকিরা খ্রীষ্টান/বৌদ্ধ।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


-----------------------------------------------------

আমি পথ চেয়ে আছি মুক্তির আশায়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তারা খায় দায় এ দেশের আর তালে থাকে কিভাবে ভারতে রাতারাতি সর্বস্ব পাচার করে পালিয়ে যাবে। এমন কথাবার্তা শুধু মৌলবাদী লোকজনে নয়, হিন্দু বান্ধব বলে খ্যাত আওয়ামী নেত্রী খোদ প্রধানমন্ত্রী হাসিনাও একবার নিউ ইয়র্কে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন।


হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল লোকজন যে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার তালে থাকে টা হয়ত সঠিক নয়। তবে অনেকে, বিশেষ করে দুর্বলেরা এই ভাবনা মাথায় রাখে সেটা সঠিক। শেখ হাসিনা যদি বিদ্বেষ করে থাকে তাহলে খারাপ করেন নাই। কারন অত্যাচারের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া কোন বিকল্প হতে পারে না।

এই আইন যদি বাতিল হয় তাহলে সরকারের যেইসব রাঘব বওয়ালেরা স্বাধীনতার পর থেকে নানান সময় গুলশান বনানি সহ সরকারি বাড়ি ৯৯ বছরের লিজ নিয়েছেন তাদের কি হবে?

স্বাধীনতা বহু দূর।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কিছুতেই যাবো না, শেষ দেখে ছাড়বো... এমন শুনতে ভাল তবে প্র্যাকটিকেলি বোকামিও হতে পারে। সারাক্ষন মনে ভীতি নিয়ে, দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক হবার জ্বালা নিয়ে মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকা সাহসিকতার কাজ আপতত চোখে মনে হলেও বিপদেরও কারন হতে পারে। যেই লোকে মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকল তার মেয়ে ২০০১ সালের মত অত্যাচারের স্বীকার হলে তার মনে হতেই পারে যে সে এতদিন ভুল করেছিল।

শেখ হাসিনার মত দায়িত্বশীল ব্যাক্তিত্বের এভাবে বলা ঠিক হয়নি।

বাস্তবিকতার বিচারে প্রত্যার্পন আইনের মূল্য বেশী নেই। ৩০ বছর আগে যে সম্পত্তি অধিগ্রহন করে দুই হাত বিক্রি হয়েছে তা কিভাবে আজ আর আসল মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া যাবে। এসবের ফল ভোগ করেছে সব দলেরই লোকজন, তারা আজ কেন চাইতে যাবে নিজেদের দখলকৃত সম্পত্তি ফেরত দিতে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কিছুতেই যাবো না, শেষ দেখে ছাড়বো... এমন শুনতে ভাল তবে প্র্যাকটিকেলি বোকামিও হতে পারে। সারাক্ষন মনে ভীতি নিয়ে, দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক হবার জ্বালা নিয়ে মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকা সাহসিকতার কাজ আপতত চোখে মনে হলেও বিপদেরও কারন হতে পারে। যেই লোকে মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকল তার মেয়ে ২০০১ সালের মত অত্যাচারের স্বীকার হলে তার মনে হতেই পারে যে সে এতদিন ভুল করেছিল।


বাংলাদেশে যুদ্ধের পর পর জামাতি/রাজাকাররা, ধর্মের ভিত্তিতে না হলেও, আদর্শের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু ছিল। তারা তো দলে দলে পালায় যায় নাই। যতজন মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা সবাই জোট সরকারের বিরুদ্ধে একত্রে অথবা নিজ নিজ ভাবে মামলা করতে পারে। সরকারের উপর চাপ তৈরী করতে পারে। আমি এখনও মনে করি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ধিমায় ধিমায় চলার মুল কারন সরকারের উপর কোন চাপ নাই। মোট কথা পালানো কোন সমাধান না। যেকোনো সমস্যা সামনা করতে হবে।

শেখ হাসিনার মত দায়িত্বশীল ব্যাক্তিত্বের এভাবে বলা ঠিক হয়নি।


তিনি সব সময়ই একটু বেফাস কথা বলেন। তবে তার এই বিদ্বেষ, খালেদা জিয়ার "বাংলাদেশ সংখ্যালঘু বলে কিছু নাই" "বাংলাদেশ মোডারেট মুসলিম কান্ট্রি" এই সব ডায়লগের চেয়ে ভাল এবং সজাসাপ্টা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রাষ্ট্র যেখানে নিজেই ধর্মীয় পরিচয় তুলে সম্পত্তি গ্রহন করার মত আইন প্রয়োগ করতে থাকে সেখানে কতটা আশাবাদী হওয়া যায়? রাষ্ট্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে লাগার চাইতে নিরাপদে হিজরত অপেক্ষাকৃত অনেক নিরাপদ মনে হতেই পারে। মূলধারার লোকের সমর্থন না পেলে আন্দোলনের ফল তেমন আশা করা যায় না।

যুদ্ধের পর পর রাজাকার বদররা পালিয়েই গেছিল, যারা বুদ্ধিমান তারা বর্ন বদল করতে পেরেছিল, আর যারা পারেনি তা গর্তে গর্তেই লুকিয়েছিল।

এ দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ সম্পর্কিত সব ব্যাপারেই আইন আদালতের ভূমিকা অতি উদার। ফতোয়াবাজির কেসে প্রকাশ্যে দোররা মারা কয়জন মোল্লা সাজা পেয়েছে? বলাকা মূর্তি ভাংগা মোল্লারা কয়জনে সাজা পেয়েছিল, যদিও কাজটি ছিল বিশুদ্ধ সন্ত্রাস? দেশের কত মহিলা স্কুল মোল্লারা বন্ধ করে দিয়েছে সেসবে কয়জন সাজা পায়?

হাসিনার কথা আর কি বলব? মন্দের ভাল তো বটেই। তবে তার দলেও তো বহু প্রিয়জনেই এসবের সুবিধেভোগী হয়েছিল ভালই জানেন। হিন্দুরা চিল্লাচিল্লি না করলে তাকে আর দোটানায় পড়তে হত না, তাই হয়ত মনের যন্ত্রনা সেভাবে প্রকাশ করে ফেলেছিলেন, তিনি সরলমনা, মনে যা আসে বলে ফেলেন।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রাষ্ট্র যেখানে নিজেই ধর্মীয় পরিচয় তুলে সম্পত্তি গ্রহন করার মত আইন প্রয়োগ করতে থাকে সেখানে কতটা আশাবাদী হওয়া যায়?

আপনার মনে হয় বাংলাদেশের আইনের ব্যাপারে ধারনা আছে। বাংলাদেশের অনেক আইন ব্রিটিশ আমাল থেকে চলে আসছে। আপনি যেই আইনের কথা বলছেন সেটা পাকিস্তান আমলের করা আইন। এই আইনের তৈরির সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্র জড়িত না।

দ্বিতীয়ত, আইনটা কালো আইন বলে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে এমন কোন কথা নাই। দেশ ছেড়ে পালালে এই আইন বরং গ্রহন যোগ্যতা পাবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনি মনে হয় আইনের বিবর্তন ভাল করে পড়েননি।

পাকিস্তান আমলের আইন '৭৪ সালে কেবল নাম পরিবর্তন করে হয় শত্রু সম্পত্তি থেকে অর্পিত সম্পত্তি আইন। ভেতরের জিনিস একই থাকে। এই আইন বলেই স্বাধীন বাংলাদেশেই চলতে থাকে অবাধে হিন্দুদের সম্পতি অধিগ্রহন।

রেকর্ড বলে সবচেয়ে বেশী অধিগ্রহন হয়েছে ৭০/৮০ এর দশকেই।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনি মনে হয় আইনের বিবর্তন ভাল করে পড়েননি।

পাকিস্তান আমলের আইন '৭৪ সালে কেবল নাম পরিবর্তন করে হয় শত্রু সম্পত্তি থেকে অর্পিত সম্পত্তি আইন। ভেতরের জিনিস একই থাকে। এই আইন বলেই স্বাধীন বাংলাদেশেই চলতে থাকে অবাধে হিন্দুদের সম্পতি অধিগ্রহন।

রেকর্ড বলে সবচেয়ে বেশী অধিগ্রহন হয়েছে ৭০/৮০ এর দশকেই।


এই ব্যাপারে পরে লিখব। smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোষ্টটা মনে হয় পড়েন নাই,পড়লেও বুঝেন নাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এ দেশে ধর্মীয় মৌলবাদ সম্পর্কিত সব ব্যাপারেই আইন আদালতের ভূমিকা অতি উদার। ফতোয়াবাজির কেসে প্রকাশ্যে দোররা মারা কয়জন মোল্লা সাজা পেয়েছে? বলাকা মূর্তি ভাংগা মোল্লারা কয়জনে সাজা পেয়েছিল, যদিও কাজটি ছিল বিশুদ্ধ সন্ত্রাস? দেশের কত মহিলা স্কুল মোল্লারা বন্ধ করে দিয়েছে সেসবে কয়জন সাজা পায়?


তবুও বাংলাদেশ একমাত্র মুসলিম দেশ যেখানে ফতোয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। আমি মনেকরি না এইটা কম অর্জন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রায় দিয়ে রায় বজায় রাখতে পারেনি, মিন মিন করে আবার তুলেও নিয়েছে।

কেবল মান রক্ষাকারী ফতোয়া দেওয়া যাবে কিন্তু জোর করা যাবে না এমন হাস্যকর বক্তব্য দিয়েছে। জয় তো হয়েছে আসলে মোল্লাদেরই।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রায় দিয়ে রায় বজায় রাখতে পারেনি, মিন মিন করে আবার তুলেও নিয়েছে।

কেবল মান রক্ষাকারী ফতোয়া দেওয়া যাবে কিন্তু জোর করা যাবে না এমন হাস্যকর বক্তব্য দিয়েছে। জয় তো হয়েছে আসলে মোল্লাদেরই।


বিজয় অর্জনের চেয়ে বিজয় রক্ষা কঠিন।

তার জন্য প্রগতিশীলরাই দায়ি। কারন মোল্লারা দলে দলে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে আর প্রগতিশীলরা ব্লগ আর ফেসবুকে ভাষার চর্চা করেছে। আমার দৃষ্টিতে ব্লগ ফেস বুকেও মোল্লারা এগিয়ে।

যৌক্তিকতা আমাদের দেশে কোন সমাধান/বিজয় আনে নাই। বিজয় এনেছে আন্দোলন। সেইটা আদালতে হোক আর রাজনীতিতে হোক।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এবার আসল কথা বলেছেন।

তার জন্য প্রগতিশীলরাই দায়ি। কারন মোল্লারা দলে দলে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে আর প্রগতিশীলরা ব্লগ আর ফেসবুকে ভাষার চর্চা করেছে। আমার দৃষ্টিতে ব্লগ ফেস বুকেও মোল্লারা এগিয়ে।


-মৌলবাদ, উগ্রবাদ এসব টিকিয়ে রাখতে অশিক্ষিত গ্রাম্য মোল্লাদের দ্বারা সম্ভব নয়। শিক্ষিত মৌলবাদী যারা সুশীল ভদ্রলোকের লেবাস ধরে চলে তারাই দায়ী। আইন আদালত দেশের বাইরে নয়, এই দেশেই তাদের বসবাস করতে হয়; স্থানীয় কালচার মেনে চলতে হয়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাসিনার কথা আর কি বলব? মন্দের ভাল তো বটেই। তবে তার দলেও তো বহু প্রিয়জনেই এসবের সুবিধেভোগী হয়েছিল ভালই জানেন।


আওয়ামীলীগ যারা করে সবাই ধর্ম নিরপেক্ষ তা নয়। তবে আপনি যদি হাসিনাকে তার মন্তব্বের জন্য কট্টরপন্থী ট্যাগ করতে চান তহলে আপনার উদ্দেশ্য নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

হিন্দুরা চিল্লাচিল্লি না করলে তাকে আর দোটানায় পড়তে হত না, তাই হয়ত মনের যন্ত্রনা সেভাবে প্রকাশ করে ফেলেছিলেন, তিনি সরলমনা, মনে যা আসে বলে ফেলেন।


বাংলাদেশের হিন্দুরা খুব বেশি চিল্লাচিল্লি করে বলে আমার চোখে পরে না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাসিনা কি পন্থী তা আমার তেমন বিবেচনা নয়। তার বক্তব্য প্রাসংগিক হিসেবে এসেছে।

হিন্দুরা যা ভরসা তার দলের কাছেই করে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাসিনা কি পন্থী তা আমার তেমন বিবেচনা নয়। তার বক্তব্য প্রাসংগিক হিসেবে এসেছে।

হিন্দুরা যা ভরসা তার দলের কাছেই করে।


একজন মানুষকে তার একটা উক্তি দিয়ে বিবেচনা করা ঠিক না। বরং তার সার্বিক কর্মকাণ্ড দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

আমি মনে করি না হিন্দুদের ভরসার কোন অযৌক্তিকতা আছে।

আপনার পোষ্টের মুল অংশে আমি দ্বিমত পোষণ করছি না। কিন্তু আমার সমস্যা

১। আপনি আপনার পোস্টকে বেশি গ্রহণযোগ্য করতে হাসিনাকেও হিন্দু বিদ্বেষী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

২। হিন্দুদের দেশত্যাগ কড়া আপাত দৃষ্টিতে সঠিক মনে হলেও, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এইদেশে রয়ে যাওয়া হিন্দুরা এবং ধর্মনিরপেক্ষরা।

মনে রাখবেন, হিন্দুদের উপর অত্যাচারের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অবশ্যই যেন হিন্দুদের সংখ্যা কমানো।

কিছু কিছু বাস্তবতা একটু কঠিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাসিনাকে হিন্দু বিদ্বেষী বলিনি। ঐ ধরনের উক্তি দেশের এক বড় সংখ্যক লোকেই করে, তারা সবাই হিন্দু বিদ্বেষী কিন্তু নয়। বাস্তবতার অভাব, সনাতন পন্থায় একপেশে দৃষ্টিভংগী পোষনের প্রবনতা থেকে অনেক উদারপন্থী লোকেও এমন উক্তি করে।

হাসিনার মত গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তিত্বের এমন উক্তি করা কোনমতেই উচিত হয়নি।

আর এর প্রেক্ষাপট আমার মনে হয়েছে যে এই ইস্যু নিয়ে উনি দোটানায় থাকেন। একদিকে মানবিকতার দায়, আরেক দিকে দলের ভেতর থাকা সুবিধেভোগি নিজের বহু নেতা কর্মী যারা চায় না এই সমস্যার সমাধা হোক। এ ক্ষেত্রে সম্ভবত তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের বলি দেওয়াই সংগত মনে করেন, যার বহিঃপ্রকাশ সেই উক্তি।

হাসিনার বক্তব্য বাদ দিলেও আমার পোষ্টের কিছুই যায় আসে না। আমি নিজে নীতিগত ভাবে আওয়ামী সমর্থক বলা যায়, তাই বলে তাদের বাঁচাতে সত্য গোপন করব না। হাসিনা বাদ দেন, আওয়ামী লীগের লোকেরা '৮৮ সালের হিসেবে ৪৪% অর্পিত/শত্রু সম্পত্তির মালিকানায় ছিল। যদিও পরে বিএনপি তাদের টেক্কা দেয়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রথমে বলছেন সব হিন্দু পালিয়ে যাবার তালে থাকে না তা সঠিক না,আবার বললেন দুর্বল হিন্দু পালিয়ে যাবার তালে থাকে সেটা সঠিক।এখন দুইটা প্রশ্ন

সব হিন্দু যদি পালিয়ে যাবার তালে না থাকে তাহলে শেখ হাসিনার এই সরলীকৃত উক্তি কীভাবে 'খারাপ করেন নাই' পর্যায় ভুক্ত হয়?
নির্যাতনে ভয়ে পালিয়ে যাওয়া কোন সমাধান না সেটা সত্যি।সমাধানের উপায়গুলো কী হতে পারে বলে মনে করেন?

মুক্তিযুদ্ধের পরে জামাতের লোকজন দলে দলে পালায় নাই বলেছেন।গোলাম আযম কোথায় ছিল তখন?জামাতের সাথে হিন্দুদের ঠিক কীভাবে মেলালেন একটু বুঝিয়ে বলবেন?

*****************************
আমার কিছু গল্প ছিল।
বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো
বলার ছিল।
সময় হবে?
এক চিমটি সূর্য মাখা একটা দু'টো বিকেল হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধীরেন্দ্রনাথের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিরুদ্ধে তার পরিবার লড়তে চেয়েছিল। এক অদ্ভূত যুক্তি দেখিয়ে রাষ্ট্র এই শহীদের সম্পত্তি নিয়ে নিয়েছিল, যেহেতু তার মৃতদের পাওয়া যায়নি তাই রাষ্ট্রের চোখে তিনি মৃত এমন বলা যায় না, রাষ্ট্রের যুক্তি ছিল তিনি যে আসলে ভারতে পালিয়ে যাননি তার প্রমান কি?? অকাট্য যুক্তি নয় কি? তাকে ছেলেসহ পাক আর্মি ধরে নিয়ে গেল, তারপর আদর করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পৌছে দিয়েছিল।

জহির রায়হানেরও লাশ পাওয়া যায়নি, তার সম্পত্তিও রাষ্ট্র কেন নেয় না, তিনি যে পাকিস্তান পালিয়ে যাননি এটা তো প্রমান করা যাচ্ছে না। শহীদদের নিয়ে কত বিজয় গাঁথা, কত আবেগের বিচ্ছুরন...

নিজেরা সারা জীবন দেশের জন্য বিলিয়েও ধীরেন্দ্রনাথ, জিসি দেব, সূর্যসেনরা দেশের শত্রু হয়েই থেকে গেলেন। আর নামগোত্রহীন হরিপাল, সাধন দত্তরা কিভাবে কতটুকু লড়বে বুঝতে খুব বেশী জ্ঞান লাগে না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঠিক বলেছেন। আপনার এই পোষ্টে আপত্তিকর কিছুই দেখি নাই।

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধীরেন্দ্রনাথের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিরুদ্ধে তার পরিবার লড়তে চেয়েছিল। এক অদ্ভূত যুক্তি দেখিয়ে রাষ্ট্র এই শহীদের সম্পত্তি নিয়ে নিয়েছিল, যেহেতু তার মৃতদের পাওয়া যায়নি তাই রাষ্ট্রের চোখে তিনি মৃত এমন বলা যায় না, রাষ্ট্রের যুক্তি ছিল তিনি যে আসলে ভারতে পালিয়ে যাননি তার প্রমান কি??


রাষ্ট্রের যুক্তি সরকার বদলের সাথে সাথে পরিবর্তনশীল। আশাকরি বুজতে পেরেছেন। smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রথমে বলছেন সব হিন্দু পালিয়ে যাবার তালে থাকে না তা সঠিক না,আবার বললেন দুর্বল হিন্দু পালিয়ে যাবার তালে থাকে সেটা সঠিক।এখন দুইটা প্রশ্ন

সব হিন্দু যদি পালিয়ে যাবার তালে না থাকে তাহলে শেখ হাসিনার এই সরলীকৃত উক্তি কীভাবে 'খারাপ করেন নাই' পর্যায় ভুক্ত হয়?


ঠিক যেই ভাবে অর্পিত সম্পত্তি আইন অনেক হিন্দু নাগরিকের জন্য সমস্যা হলেও সকল হিন্দু নাগরিকের সমস্যা নয়, তবুও মুল পোষ্টে এইটা সংখ্যালঘু তথা হিন্দুদের জন্য অবিচার অন্যায় হিসাবে ভাষাগত ব্যাবহার হয়েছে, একই ভাবে তার বক্তব্যে আমি কোন ত্রুটি দেখি না।

নির্যাতনে ভয়ে পালিয়ে যাওয়া কোন সমাধান না সেটা সত্যি।সমাধানের উপায়গুলো কী হতে পারে বলে মনে করেন?


সমাধানের অনেক পন্থাই আছে।

মুক্তিযুদ্ধের পরে জামাতের লোকজন দলে দলে পালায় নাই বলেছেন।গোলাম আযম কোথায় ছিল তখন?জামাতের সাথে হিন্দুদের ঠিক কীভাবে মেলালেন একটু বুঝিয়ে বলবেন?


খুব মজা পাইলাম ১ ছাগলের সাথে ১ কোটি লোকের তুলনা করায়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সম্পত্তির অধিকার গনতান্ত্রিক-সভ্যরাষ্ট্রের একেবারে মৌলিক অধিকারগুলির অন্যতম। বলা যায় মধ্যযুগের ইংল্যান্ডে রাজার হাত থেকে সম্পত্তি সুরক্ষার তাগিদ থেকেই গনতান্ত্রিক আইনের শাসনের সূচনা হয়েছিলো। ইংল্যন্ড-আমেরিকাতে কোন নাগরিক প্রকাশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করলেও, তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া যেতে পারে কিন্তু উপযুক্ত কম্পেনসেশন ছাড়া সম্পত্তির উপরে হাত দেয়ার কোনো অধিকার সরকারের নেই।

বাংলাদেশ যে একটি সভ্য রাষ্ট্রের পর্যায়ে উঠতে পারে নি তার অনেক আলামতই আছে। এভাবে রাষ্ট্রিয় মদদে একটি বড়ো জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে তাদের সম্পত্তির অধিকার খর্ব করা মতো নগ্ন অসভ্যতা সংখ্যাগরিষ্ঠের চোখ এড়িয়ে যায়। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নয়। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িকতার প্রধান কারন মুসলিম লীগ-বিএনপি-জামাত গোষ্ঠী নয়। বাংলাদেশের জনগনই সাম্প্রদায়িক।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এভাবে রাষ্ট্রিয় মদদে একটি বড়ো জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে তাদের সম্পত্তির অধিকার খর্ব করা মতো নগ্ন অসভ্যতা সংখ্যাগরিষ্ঠের চোখ এড়িয়ে যায়। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নয়। বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িকতার প্রধান কারন মুসলিম লীগ-বিএনপি-জামাত গোষ্ঠী নয়। বাংলাদেশের জনগনই সাম্প্রদায়িক।


- কথাগুলি মর্মে মর্মে সত্যি। সেজন্যই বলেছিলাম যে সাম্প্রদায়িকতা কি তাও মনে হয় অনেকেই বোঝেন না। মার মার কাট কাট করে সাতক্ষীরা ষ্টাইলে আক্রমনই যে কেবল সাম্প্রদায়িকতা নয় এটাও মনে হয় অনেকেই জানেন না। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নিয়ে যতটা গর্ব আমরা করি তাতে যথেষ্ট গলদ আছে, কৃতিত্ব শুধু সফল ভাবে চেপে রাখতে পারার মধ্যে।

বিএনপি জামাত হল যাবতীয় দায় চাপানোর ইজি এস্কেপ রুট। সকলে সাধু আর তারাই যাবতীয় পাপের ভাগীদার; সে একাত্তুরের রাজাকারি হোক সাম্প্রদায়িক সমস্যা ছড়ানো হোক।

'ইসলাম বিদ্বেষী' মুসলমানের জাতশত্রু আমেরিকা শত্রু সম্পত্তি জাতীয় আইন করে মুসলমানদের শতকরা ১% ও সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করা শুরু করল, সাধারন জনগন কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে আমরা অন্তত জানি। অথচ আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশেই কয়েক যুগ ধরে ৪০% এর ওপরে হিন্দু সম্পত্তি গ্রাস করা হয়েছে, জনগনের প্রতিক্রিয়া বলতে গেলে শূন্য। কেবল দাবী দাওয়া জানাতে হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থদেরই, আর কিছু মানবাধিকার সংস্থার। দেশে গাদিগাদি বুদ্ধিজীবি আছে কিন্তু তাদের এসব বিষয়ে কলম উঠবে না, পাছে আবার না ইসলাম বিদ্বেষী লেবেল গায়ে লাগে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধীরেন্দ্রনাথ সাহেবের পরিবারের উপরে এই নগ্ন অবিচারই দেখিয়ে দেয় দোষ কোথায়। পুরো আইন পেশার লোকদেরই দাড়ানো উচিৎ ছিলো এই ধরনের রাষ্ট্রের এই ধরনের ডিসক্রিমিনেশনের বিরুদ্ধে। ডাক্তারদের মতো আইনের লোকরাও শপথ নেয় 'আইনের চোখে সবাই সমান' এধরনের প্রফেশনাল ওথ-এ। এরকম সরকারী অবিচার মেনে নেয়াতেই স্বাধীনতার পর হতে কোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট, বার, বিচারপতি, ব্যারিস্টার সবাই পরিনত হয়েছে ক্ষমতার দাসে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধীরেন্দ্রনাথ , জিসি দেব ওনারা যে প্রকৃতির মানুষ ছিলেন তাতে কোনদিন ভূসম্পত্তির চিন্তা করেননি। জিসি দেব তার জীবদ্দশায়ই অধিকাংশ সম্পত্তি মানব কল্যানে দান করে দিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধীরেন্দ্রনাথও আজীবন আর্ত মানবতার সেবায় নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন। এরা মৃত্যুর সময় দেশের জন্য প্রান দিচ্ছেন এমন প্রগাঢ় শান্তি নিয়েই নিশ্চিত জীবন দেন। দূঃস্বপ্নেও মনে হয় চিন্তা করতে পারেননি যে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিচ্ছেন সেই দেশ যে তাদেরই সরকারী নথিতে শত্রু সাব্যস্ত করবে।

দেশের শত্রু ধীরেন্দ্রনাথের নামে সম্প্রতি কুমিলার একটি সড়কের নাম করন করা হয়েছে। গরু মেরে জুতা দান মনে হয় একেই বলে।

মুক্তিযুদ্ধের পদক প্রদানেও এই ভূতের আছর আছে মনে করার ভাল কারন আছে। জগতজ্যোতি দাসকে প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ পদক স্বাধীন বাংলা বেতারে ঘোষনা দিয়েও কোন এক অজ্ঞাত কারনে তাকে বীর বিক্রমে নামিয়ে দেওয়া হয়।

দেশে ডিগ্রীধারী লোক প্রচুর আছে, তবে শিক্ষিত বিবেকবান লোকের অভাব বড় প্রকট।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কাউকে দাঁড়াতে হবে কেন,যে দেশের জন্মই হয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনায়,সেই দেশে এরকম আইনের চিন্তা আসে কি করে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সেটাই কথা।

দেশ পরাধীন কিংবা কোন সাম্প্রদায়িক শক্তির অধীনে থাকলে কথা ছিল।

স্বাধীন দেশে কিভাবে এমন কালা কানুন করা হয় এবং তা বছরের পর বছর বিনা চ্যালেঞ্জে এত ব্যাপক মাত্রায় ব্যাবহৃত হয়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কাউকে দাঁড়াতে হবে কেন,যে দেশের জন্মই হল অসাম্প্রদায়িক চেতনায়,সেই দেশ স্বাধিন হওয়ার বছর দুয়েকের ভেতর এইরকম আইন গৃহিত হল কি বিবেচনায়!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দেশে গাদিগাদি বুদ্ধিজীবি আছে কিন্তু তাদের এসব বিষয়ে কলম উঠবে না, পাছে আবার না ইসলাম বিদ্বেষী লেবেল গায়ে লাগে।


কোথায় দেখলেন??


-----------------------------------------------------

আমি পথ চেয়ে আছি মুক্তির আশায়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কলম উঠলে তবেই না দেখব। না উঠলে দেখব কেমন করে?

হুমায়ুন সাহেবের কথাই ধরেন। তিনি এইসব বিষয় জানেন না বিশ্বাস করতে বলেন? যে কারনে তিনি জামাতে ইসলামীর নাম কোন বইতে লেখেন না, মৌলবাদের বিরুদ্ধে যথাসম্ভব এড়িয়ে ধরি মাছ না ছুই পানি নেন, হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করেন একই কারনে এসব নিয়েও কোনদিন লিখবেন না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@লেনিনরহমান

বাংলাদেশের জনগনই সাম্প্রদায়িক।

আজকাল সবাই এত সত্য কথা বলছে কেন?

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার দাদারা তিন ভাই আছিলেন। বড় ও মেঝ ভাইয়ের কয়েকজন পুলা ইন্ডিয়াতে চইলা গেছিল যুদ্ধের আগে। হেতাল্লাই বলি, তাদের দুই ভাইয়ের সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি হইয়া যায়। একটা জিনিষ এহনও আঁর মাথাত ন আয়ি, কেমতে সরকার জাইনল যে তাদের কয়েকজন পুলা ইন্ডিয়া পঁচাবাসি।

আমার বাপে আছিল করিৎ কর্মা। তাই বলি মেঝভাই মানে তেনার বাপের সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি ট্যাগ বাতিল কইরা দেন। বাপের যেই ভাই ইন্ডিয়া আছিল সে ভাইয়েরে ডাকি আনেন। ভাইয়েরে কন তাঁর সম্পত্তিগুলান দেশে থাকা কারো নামে এফিডেফিট করে দিবারলাই। ওই ভাই আমার বাপের নামে লেইখ্যা দেন তাঁর ভাগের সম্পত্তি। তারপর কোর্টে মামলা করেন এই মর্মে যে, যে ভাই ইন্ডিয়াতে আছে সেই ভাই তাঁর সব জমি আমার নামে লেইখ্যা দিছে। কোর্টে রায় দেয় এই সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি নয় এখন। এইভাবে আমার দাদার ভাগের সম্পত্তি রক্ষা পাইলেও দাদার বড়ভাইয়ের সকল সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি হইয়া যায়, কারন কারন ওই ভাইয়ের দেশে থাকা পুলাটা অত চালু আছিল না। এইভাবে অনেকের সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তির করাল গ্রাস হইতে উদ্ধার পায় নাই।

জনাব, আপনে যে যাত্রা মোহন সেনগুপ্তের নাম বইল্লেন তার সবই ঠিক আছে। তিনি আছিলেন আমার মামার দেশের লোক। আমার মায়ে কইতেন হেতারা ছিল চট্টগ্রামের জমিদার। চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ জমি তাদের আছিল। পাথরঘাটা হইতে শুরু কইরা আন্দরকিল্লা - জামালখান সব তাদের সম্পত্তি। আমার মায়ে কইত তিনি নেলী সেনগুপ্তকে দেখেছেন। তিনি বিলাতি মহিলা আছিলেন। লম্বা, ফর্সা মহিলা। চট্টগ্রামে জে এম সেন হল নামে ছোট্ট যে মাঠটা আছে সেটা যাত্রামোহন বাবু দান কইরা গেছিলেন। হেইডা দেবোত্তর সম্পত্তি। তাই কেউ হাত দিতে পারে নাই।

আপ্নেরে ধন্যবাদ দিয়া ছুডু করমু না। তয় একটা জিনিষ আঁই ন জাইনতাম। হেইডা হইল নিচের ছবির লুকেরা বাংলাদেশের শত্রু

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনি যে চাটগাঁইয়া জানতাম না। আমার বাল্যকাল সেখানে কেটেছে, জামালখান রোডেই।

হেইডা হইল নিচের ছবির লুকেরা বাংলাদেশের শত্রু


এটা যে পুরো জাতির জন্য কত বড় লজ্জা, অপমানের বিষয় সেটাও বোঝার ক্ষমতা আজ হারিয়ে গেছে। এসব শহীদদের নিয়ে কত রচনা, স্মৃতিচারনা সিজন আসলে হয়, অথচ সরকারী দলিলে এরা দেশের শত্রু।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বড়ই পরিতাপের বিষয় Sad Sad Sad
এইডা খুবই কলঙ্কজনক

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মানুষের কল্যানের জন্য আইন তৈরি করার মতো ব্যক্তিত্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশে ছিল না, এখনো নেই। ফলে, যেসব আইন তৈরি হয়েছে, প্রতিবারেই মানুষ ক্ষতিগ্ড়স্ত হয়েছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কথাটায় কিছুটা ফাঁক আছে। এই কালো আইন যখন '৬৫ সালে করা হয় তখন কিন্তু দেখেন ভারতও একই জাতীয় আইন করেছিল পাকিস্তানে চলে যাওয়া ভারতীয়দের সম্পত্তি অধিগ্রহনের জন্য। সে আমলের পরিপ্রেক্ষিতে আইনের যুক্তি কিছুটা হলেও ছিল।

কিন্তু তফাত হল সে আইনের অপব্যাবহার ভারতীয়রা আমাদের মত করেনি। তারা এই আইনের ছায়ায় একচেটিয়া যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের সম্পত্তি হাত করে দলীয় লোকদের বিতরন করেছে কিনা, দেশের উজ্জ্বল ব্যাক্তিত্বদের সম্পত্তিও হাত করেছে কিনা জানি না।

আমরা করেছি। আমরা ভুল স্বীকার করতেও জানি না, ভুল ধরালে উলটা তেড়ে আসি।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাংলাদেশের জনগনই সাম্প্রদায়িক।
লেনিন রহমান সাহেবের এই কথাটা মেনে নিতে পারলামনা ।

@ আদিল ভাই
আমার কাছে আপনি চলমান এনসাইক্লোপিডিয়া । ভয়ে আপনার সাথে কথা বলিনা ।
আপনার পোস্ট থেকে অনেক কিছু জানলাম । ভালো থাকবেন ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি তেমন কিছু না রে ভাই, বুদ্ধি বিবেকমত যা বলার চেষ্টা করি এই আরকি। আমাকে কেউ ভয় পায় তাও মুরুব্বী গোছের কেউ তা নিতান্তই লজ্জার ব্যাপার।

কিছুদিন আগেই এখানকার মূল রেফারেন্স বইটা কিনে পড়েছিলাম, শত্রু সম্পত্তি বিষয়ে আমিও তেমন কিছু জানতাম না এই বই পড়ার আগে। আসলে আমাদের ইচ্ছে করেই জানানো হয়নি মনে করার কারন আছে। এরপর কিছু নেট সার্চ দেই। তবে এ নিয়ে লেখার ইচ্ছে তখনো ছিল না। গত সপ্তাহে সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ক এক পোষ্টে অনুলেখা আর জুলিয়েন ভাই এর দুটি কমেন্টে বেশ বিস্মিত হই, মনে হয়েছিল কিছু বলা দরকার।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমাদের গ্রামের জনসংখার অর্ধেক ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায় । সিক্সটি ফাইভের পর
একে একে সবাই ভারতে চলে গেছেন । এখন আমার সতীর্থ সুনিল ছাড়া আর
কেউ নাই । যারা চলে গেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই সম্পত্তি এক্সচেঞ্জ করেছিলেন
এবং অনেকে একই সম্পত্তি গোপনে কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেছিলেন ,
পরবর্তিতে এই নিয়া গ্রামে মারা মারি মামলা মোকদ্দমা শুরু হয় । ৭২ এর
জানুয়ারিতে আমাদের গ্রামে একটা হাই স্কুল করি যে সব সম্পত্তি নিয়ে
কাইজ্যা কেরেঙ্গাল মামলা মোকদ্দমা চলতেছিলো তা' সব স্কুলের নামে দানপত্র
আদায় করি এবং সেই থেকে শত্রু সম্পত্তি নিয়া আমাদের গ্রামে আর কোন
ঝামেলা নাই ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যারা ভাগ্যবান তারা ওপারের কারো সাথে সম্পত্তি বদল করে অপেক্ষাকৃত কম ঝঞ্ঝাটে চলে যেতে পেরেছেন।

ভাবতেই অবাক লাগে যে এত লাখ লাখ কোটি কোটি মানুষের দূর্ভাগ্যের মূল কারন নিহিত আছে কে কোন না দেখা অস্তিত্ব অপ্রমানিত গড মানে, আর কে ভিন্ন জাতের গড গডেস মানে এই রকম একটা বায়বীয় ব্যাপারে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই , ভাল পোস্ট । অনেক কিছু জানতে পারলাম । অনেক ছোট বেলায় এক হিন্দু পরিবারের আহাজারি দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছিল , তাদের ও নাকি ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের জমির দখল নিয়ে নেয়া হচ্ছিল , তবে ,জানিনা সেটি এই আইনের আওতায় নাকি অন্য কোন ভাবে ।

এ দেশের বেশীরভাগ লোকেই সাম্প্রদায়িক নয়, এসব সমর্থন করে না জানি। তারপরেও কেন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর এত ক্ষীন?

---- এখানে আমার কিছুটা দ্বিমত রয়েছে । এই দেশের বেশিরভাগ লোকেই সাম্প্রদায়িক বলেই প্রতিবাদের কণ্ঠ এত ক্ষীণ । আপাত দৃষ্টিতে যাদের অসাম্প্রদায়িক বলে মনে হয়েছে , সময়ে সময়ে তাদের সাম্প্রদায়িক চেহারা দেখার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। তাই দেশের বেশিরভাগ মানুষ অসাম্প্রদায়িক , এই মতবাদে সমর্থন যোগাতে পারলাম না ।

কিছুদিন আগে আমাদের এক সহব্লগার এর পোস্ট এ নিয়ে অনেক মন্তব্য প্রতিমন্তব্য হয়েছে যেখানে কোনও এক কালে হিন্দু বাড়ীর সামনে দিয়ে খালি পায়ে হেটে যাবার সাথে তুলনা করা হয়েছে একালের ভিটামাটি ছাড়া করা , ভিটেমাটি ধ্বংস করা ,ভাতে মারা আর সর্বোপরি মানসম্মান হানি করার অপরাধ কে । ব্যাপার টা এমন যে , তুমি একগুন করলে আমি দশগুন করব কিন্তু দিন শেষে আমি অসাম্প্রদায়িক । কিছু বললে বলে দিব তোমাদের ও এককালে দোষ ছিল ।

এতকিছুর পর ও আমি আশাবাদী । বিশ্বাস করতে চাই , দিন বদলাচ্ছে । সাম্প্রদায়িকতা চিরতরে লোপ পাক । আর সর্বোৎকৃষ্ট উপায়ে এই আইন পুরোপুরি বিলুপ্ত করে সবদিক রক্ষাকারী একটি সময়োপযোগী আইন প্রণীত হোক ।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
" যারা পাকিস্তানের সাথে রিকন্সিলিয়েশন এর ধুয়া তোলে , থুথু ছিটাই সেসব বেজন্মাদের মুখে "


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কে কতটা সাম্প্রদায়িক এটা আসলে কিছুটা আপেক্ষিকতার ব্যাপার আছে।

আমাদের দেশের বেশীরভাগ লোকে সাম্প্রদায়িক বলতে আমরা যা বুঝি সে অর্থে সাম্প্রদায়িক নয়। তবে বলতে বাধ্য হই যে সম্পূর্ন ভাবে অসাম্প্রদায়িক চেতনার লোকের যে বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ নিরপেক্ষতা তার অভাব আম জনতার মধ্যে কম বেশী আছে। এর বহু উদাহরন দেওয়া যায়। নিজ দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে নীরব থেকে কেবল দুনিয়ার অপর প্রান্তের নিজ ধর্মগোষ্ঠির মানুষের মানবাধিকারের চিন্তায় কাতর হওয়া তার একটি উদাহরন। আমার নিজের ধারনা এই ধরনের পক্ষপাতিত্বও যে এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা এটাও বেশীরভাগ লোকে বোঝেন না।

প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক লোক কারোই মানবাধিকার বিষয়ে নীরব থাকবে না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপানার নামে বাজারে একটা কথা চালু আছে যে আপনি আসলে ছদ্মবেশী হিন্দু। তাই কথা বার্তা যা বলার সাবধানে বইলেন। কবে আপনার পৈতৃক সম্পত্তি 'গাপ' হয়ে যায় তার ঠিক নাই!

বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা তাতে যে যেম্নে পারে অন্যের সম্পত্তি দখলের ধান্ধায় থাকে। এর মধ্যে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় যদি দলের নেতা কর্মীরা মুফতে এমন সম্পত্তি দখল করার সুযোগ পায় তাইলে ছাড়বে কেন? মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা এসব তখন শুধু গালভরা বুলি ছাড়া আর কিছু না। আর এসব সম্পত্তি যদি হয় বিধর্মীদের তাইলে তো পোয়াবার।

আপনি কেন খালি খালি নিজেরে কস্ট দিতেছেন? কোন সরকারই এই নিয়ম বদলাবে না। সাধারন জনগণও এটা নিয়ে কোন আন্দোলনে যাবে না।

.
~ ‎"বিদ্যা স্তব্ধস্য নিস্ফলা" ~


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নগ্ন সত্য। স্বার্থে চিন্তা যেইখানে সেইখানে সবই ফেল, লীগও যা করে তা হল লোক দেখানো, নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ব্যাবহারের জন্য।

নিজের প্রতিবেশীর চিন্তা বাদ দিয়ে ইরাক প্যালেষ্টাইনের মানবাধিকার চিন্তায় কাতর থাকাই নিরাপদ।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার মনে হয় না আদিল সাহেব সরকারের গুনগত পরিবর্তনের জন্যে এসব লিখছেন। দেশের ১০/১৫ জন লোকের মতও যদি কিছুটা পরিবর্তন হয় তবে তার চেষ্টার ফল অনেক। Admission is the First Step to Recovery। সেই ৪৭ থেকে যে এথনিক ক্লিনসিং চলছে তা ৭১ এর আত্মত্যাগের পরও কমে নি। উপরন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠদের 'বাংলাদেশ সা্ম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লীলাভূমি' নামের চরম হিপোক্র্যাসীটা বেড়েছে। আমরা সংখ্যালঘিষ্ঠদের জান-মান-সম্পত্তির অধিকারই শুধু খর্ব করি নি, তাদের প্রতিবাদ-অভি্যোগের গ্রাউন্ডও কেড়ে নিয়েছি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একদম ঠিক কথা, আমি সরকারের গুনগত মান পরিবর্তনের কোন আশা করি না, এসব সমস্যা রাতারাতি সংসদে এক আইন পাশ করে সমাধা করা যায় না। সমস্যা নেক জটিল; কালচারাল, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক সব কিছুর কিছু না কিছু মিশেল আছে।

প্রতিটা দলই এই কালো আইনের সুবিধেভোগী, কে ছাড় দেবে, কাকে আমি লিখে সহজে পাওয়া সম্পত্তির অধিকার ছাড়াতে পারব? প্রধানমন্ত্রী হয়ত নিজে চাইলেও পারবেন না, কারন তার দলের অসংখ্য নেতাকর্মী যাদের ওপর তিনি রাজনীতির জন্য নির্ভরশীল নাখোশ হবে।

আমার মূল উদ্দেশ্য, Admission is the First Step to Recovery

বেশীরভাগ বাংলাদেশী নাগরিকেরই ধারনা নেই তাদের নিজ ভূমে থাকা সম্পূর্ন একই অধিকারের অধিকারী একটি গোত্রের ওপর রাষ্ট্র কিভাবে যুগের পর যুগ দলন চালাচ্ছে।

'বাংলাদেশ সা্ম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লীলাভূমি' এমন দাবী জোর গলায় করার সময় কারো মনে যদি সামান্যতম দ্বিধাও আসে তাও মনে করব অনেক কিছু পাওয়া হয়েছে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেখা পড়ে শেষ করার পরেই যেই কথাটা মাথার মধ্যে সবার আগে আসল পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ নামে একটা নতুন দেশ হলেও কায়েদে আযম জিন্নাহর আদর্শ ভালোভাবেই রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে অটুট আছে JINNAH IS STILL ALIVE AND STILL KICKING !

আজকাল সংখ্যালঘুদের সমস্যা অভাব অভিযোগ নিয়ে সিভিল সোসাইটি ও করপোরেট মিডিয়াও খুব একটা আগ্রহ বোধ করে না কারন এইটা নিয়ে কাম করলে বিদেশী ফান্ড কিংবা নগদ নারায়ণ জুটে না যেহেতু উন্নত দেশগুলা হইতে এখন wild life conservation sustainable development নিয়ে কাজ করলে বেশি পয়সা পাওয়া যায় তাই ওইটা নিয়াই সবার আগ্রহ ।

এই কারনে প্রথম আলু সাতক্ষীরা হাটহাজারি ঘটনা চেপে যাইতে পারে কিন্তু এপাড় বাংলা ওপাড় বাংলার লেখক শিল্পীদের মৈত্রীর বন্ধন করতে ফাইভ স্টার ভাড়া করে অনুষ্ঠান করতে সমস্যা হয় না ।

শান্তিতে নুবেল পাইছেন ইউনুস সাব তার বাড়ি চট্টগ্রামে অথচ হাঁটহাজারির ঘটনা নিয়েই তার কোন বক্তব্যই নাই ! তিনি বিশ্ব জুড়ে শান্তি কায়েমে ব্যস্ত বাংলাদেশের শিক্ষিত মিডিল ক্লাস বলে পরিচিতরা তাকে মডেল মানে বাকিটা এমনেই বুইঝা লন ।

আদিল ভাই আপনারে স্যালুট প্রবাসী থাকলেও খালি দেশে থাকা দিনগুলার স্মৃতিচারন মূলক লেখা কিংবা দেশরে কতোটুকু মিস করেন কিসিমের পোস্ট দিতে হবে এই বৃত্ত হইতে আপনে ভাঙছেন

স্রোতের বিপরীতে চলে অচলায়তন ভাঙার আপনার এই যাত্রা চলতে থাকুক ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাষ্টার,

চেষ্টা করি চোখের সামনে থাকা কিন্তু অদৃশ্য বিষয়গুলি নিয়ে লিখতে।

আমাদের জাতির কিছু মৌলিক দূর্ভাগ্য আছে, তার অন্যতম হল যারা এলিট বুদ্ধিজীবি, জাতির বিবেক হিসেবে যারা কথাবার্তা বলতে পারেন তাদের অবস্থা অনেকটা ইউনুস সাহেবের মত। বুদ্ধিজীবিদের এক অংশ হল রাজনৈতিক ভাবে কালারড। এদের কথা তেমন কেউ গুরুত্ব দেয় না। সংখ্যালঘুদের এই জাতীয় ইস্যু নিয়ে যারা কিছুটা সোচ্চার তারা বাজারে আওয়ামী দালাল ভারতীয় দালাল বলে পরিচিত।

ইউনুস/হুমায়ুন আহমেদ এই জাতীয় বুদ্ধিজীবিরা নিজেদের গায়ে কোন আঁচ লাগে এমন কিছুর মধ্যে যাবেন না। হুমায়ুন সাহেব মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গাদা গাদা বই লিখলেওঁ এ কারনে সযত্নে জামাতে ইসলাম কথাটা এড়িয়ে চলেন। এরাই আমাদের নিরপেক্ষ বিবেক। ওনারা সংখ্যালঘুদের ইস্যু নিয়ে লিখে ভারতীয় দালাল গালি খাবার ঝুকি নিবেন নাকি।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সংখ্যালঘু ইস্যু পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা নিয়ে লিখবেন আর আওয়ামীলীগের দালাল কিংবা ভারতের দালাল ট্যাগ পাবেন না এইটা হয় না , আপনেও এই লেখাটা ব্লগে দেওয়ার পর অলরেডি এই তকমা পাইয়া গেছেন Laughing out loud

আফসুস আপনের আর জাতীর বিবেক কিংবা নিরপেক্ষ চিন্তক হওয়ার সুযোগ রইল না ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি এমনিতেই বিবেকহীন, ইসলাম বিদ্বেষী, মুক্তমনার দালাল, ভারতের দালাল তো বটেই।

ন্যাংটার নাই বাটপাড়ের ভয়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারণ পোস্ট । ফেসবুকে শেয়ার করলাম


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মানিক ভাই, থাকেন কই?

মাঝে মাঝে একটু দীর্ঘ সময়ের জন্য দেখা দিলেও তো পারেন।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ সময়োপযোগী এই গুরুত্বপূর্ণ পোস্টের জন্য।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে নীতিগতভাবে কোন পার্থক্য নেই। এই কালো আইনের সুফল এই দুই দলেরই লোকজনই ভোগ করে। অতএব বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা বাধবে কে ?

=========================================================
স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে আমার অনেক ঋণ আছে......


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নিরাপত্তাবোধ প্রানীজগতের মধ্যে সয়ংক্রিয়। হিন্দুরা ভারতে সংখ্যাগুরু, সংখ্যার দিক দিয়ে নিরাপদ।
মুসলমানরা বিভিন্নভাবে হিন্দুদের সেই কথা মনে করিয়ে দেয়। প্ররোচিত করে সেই নিরাপত্তা বেঁছে নিতে। এটা শুধু মতলববাজ বা রিয়েল বেনিফিসিয়ারিরা করে এমন না, এটা করা হয় সার্বিক ভাবে। ক্লাসের ভাল মুসলমান বন্ধুটিও করে। করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ত জাহির করতে। রাতের আঁধারে মুর্তি ভাঙা মুসলমান কিশোরের সৈর্য্য, বীর্জ গঠনের প্রতীক বহু কাল থেকেই। আওয়ামিলীগ জাসদ পয়দা করে আবার মুসলিম জুড়ে নিয়েছে লেজে। যদিও সেটা তারা স্বী্কার করে না। সংখ্যলঘুদের উৎপাতে আওয়ামিলীগ বাঁধা দেয় না কারন নাম মাত্র মূল্যে তারাই সেটা কিনে থাকে।

আশাকরা যায় সংখ্যলঘু মুক্ত হতে বড় জোর এক থেকে দেড় দশক লাগবে। এর পরে শুরু হবে ভাল মুসলমান ও খারাপ মুসলমানের যুদ্ধ। যেটা পাকিস্থানে এখন চলছে।

পুজা মন্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলে দেয় কি পরিমান সাম্রদায়িক সম্প্রিতী দেশে বিরাজ করছে।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ক্লাসের ভাল মুসলমান বন্ধুটিও করে।


- এক কালে আমিও করেছি। খুব নীচু ক্লাসে হিন্দু বন্ধুকে দেখিয়ে দেখিয়ে হিন্দু পিপড়া বলে লাল পিপড়া মেরেছি। তারা কচ্ছপ খায় কিনা এসব জিজ্ঞাসা করেছি। পরিবেশের সামগ্রিক প্রভাব।

এর পরে শুরু হবে ভাল মুসলমান ও খারাপ মুসলমানের যুদ্ধ। যেটা পাকিস্থানে এখন চলছে।


- আমারও তেমনই আশংকা। ব্লগেও এর আলামত দেখা যায়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওফ্ বলতে ভুলে গেছি, গ্রেট পোস্ট। অনেক শুভেচ্ছা। দীর্ঘজিবী হোন।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাংলাদেশে বর্তমানে হিন্দুদের শতকরা পরিমাণটায় একটু সমস্যা আছে। এখানে মূলটা তুলে ধরলামঃ
সাল--শতকরা পরিমাণ
1941----28.0
1951----22.0
1961----18.5
1974----13.5
1981----12.13
1991----11.62
2001----9.2

বর্তমানে ৯ শতাংশের মতন হবে!!


-----------------------------------------------------

আমি পথ চেয়ে আছি মুক্তির আশায়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাকিস্তানে তো ১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে গিয়েছে

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আইনের নাম, ধারা ইত্যাদি থাকতে পারে যেমন, শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি আইন! কিন্তু বর্তমানের বাস্তবতা হোল, ট্যাকার জোর নাই- রাজনৈতিক কানেকশন নাই, তাহলেই সারছে আপনার সম্পত্তি শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে!

বিবেক নাড়া দেয়ার জন্য লেখক কে ধন্যবাদ!

------------------------------------------------------
"আমরা সবাই রাজা আমাদেরই রাজার রাজত্বে..."


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কথায় সত্যতা আছে। এসব কালো আইনেও আসলে ফাঁক থাকে কারন রাষ্ট্রের মূলনীতির সাথে এসব আইন আসলে সাঙ্ঘর্ষিক। মুশকিল হল কয়জনে পারে আদালতের অসংখ্য ধাপ পার হতে? তেমন সফলতার নজিরও দুয়েকটি আছে। এর মাঝে চলতে থাকে নানান কায়দায় ভয় ভীতি হুমকি ধামকি। যারা সবল; রাজনৈতিক যোগ আছে কিংবা গাঁটের জোর আছে তারাই পারে এসব লড়াই চালাতে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

smile :) :-) প্রধান মন্ত্রীর হাতেই তো সব ক্ষমতা, কিছু করেন না !

=========================================================
স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে আমার অনেক ঋণ আছে......


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারণ লাগলো, এগুলো শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে নয়, মানবিকতা দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আইনের মারপ্যাঁচ বুঝি না, তবে এইটুকু বুঝি যে ধর্ম কখনোই সবার উপরে হতে পারে না, সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। সবার অধিকার সমান হতে হবে। পোস্টে পাঁচতারা।
Star Star Star Star Star

------------------
ন্যায় এবং অন্যায়, দুইটার মধ্যে মাঝামাঝি কোন অবস্থান বলে কিছু নাই। মাঝামাঝি থাকা মানেই অন্যায়কে সাপোর্ট করা। নদীর দুইপারের যেকোন একপারেই আপনাকে থাকতে হবে, মাঝামাঝি থাকতে চাইলে হয় ডুবে যাবেন, অথবা ভাসতে ভাসতে যেকোন একপারেই আবার ভিড়বেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মজার ব্যাপার, আম্রা বিদেশে এসে যখন সংখ্যালঘুতে পরিনত হই - তখন সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে আমাদের থেকে বেশী সোচ্চার আর কেউ থাকেনা। দেশে থাকতে এই আমরাই কত অন্যায় দেখেও না দেখার ভান করে থাকি। একদম ছোট বেলায় অসীম নামে আমার স্কুলের এক বন্ধু ছিল। বাবরী মসজিদ ভাঙার ঘটনার পর কিছুদিনের জন্য তারা ভারত চলে যায়। আর ফিরতে পারে নাই। তাদের বাড়ি-ঘর আমাদের চোখের সামনেই দখল হয়। দখলকারী এখনো সিলেট শহরে সম্মানিত ব্যাক্তি, আমার মামা-চাচা অনেকের সাথেই উনার ওঠা-বসা আছে।

বাংলাদেশ সংখ্যালঘুমুক্ত হতে মনে হয়না বেশী সময় লাগবে। ফেইসবুকে লেখাটা শেয়ার দিলাম।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কত পরিবারের কান্না এভাবে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে কয়জনে তার গরজ করে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সংখ্যালঘু শব্দটাই একটা কুৎসিত শব্দ। মানুষের আবার লঘু আর গুরু থাকবে কেন!!

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এটাই আসল কথা।

এটা যতদিন না না মানব ততদিন সংখ্যালঘুর অধিকার দেওয়া মনে হবে দয়া দেখানো।

দয়া দেখানো কোনদিন নিজের অধিকারের সমানে যায় না, তফাত থেকেই যায়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চরম একটা লেখা! ধন্যবাদ আদিল মাহমুদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার বাড়িটি আমার বাড়ির কাছে। এটাওতো মহাশত্রু সম্পত্তি।
ভাবছি ইহা যেভাবেই হোক দখল করতে হইবেক। Tongue

পোস্টে পাঁচ তারা। অস্সাধারণ বলেছেন! যাদের শোনা দরকার তারা আজ অন্ধ, বধির!

.
.
__________________
অপণা মাংশেঁ হরিণা বৈরী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তাড়াতাড়ি গায়ে মুজিব কোট লাগায় আমরা বংগবন্ধু্র সৈনিক শ্লোগান দিতে দিতে দখল দেন, আমি যে খবরটা দিলাম আমারেও ভাগ দিয়েন কিছু যা বিবেচনা হয়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওয়েল আদিল ভাই, ছোট্ট একটা কোশ্চেন।
আমার এলাকায় একদাগে কয়েকশত বিঘা জমিন আছে যেগুলো রেভিন্যু সার্ভেতে ( R.S ) পর্চাতে লাল দাগে এনিমি ল্যান্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও দখলদারেরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সময়ে ভূয়া দলিল দেখিয়ে বর্তমানেও দখলে আছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, আঈনগত ভাবে কোন উপায়ে কি এই সব এনিমি ল্যান্ডকে উদ্ধার করার অপশন আছে?
(সম্পত্তির অরিজিনাল উত্তরাধীকারীরা এখনো দেশেই আছে, দুষ্টু লোকের থাবায় বেদখলকৃত ও এনিমি সম্পত্তি হিসেবেই এখনো ভুমি অফিসে জমিগুলা রেকর্ডকৃত)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুবই জটিল প্রশ্ন রে ভাই, আমি তো উকিল নই, বলতে পারব না। যতটুকু বুঝি গত নভেম্বরে পাশ হওয়া বিল আইনী গেজেট আকারে পাশ হলে আশা আছে, যেহেতু অরিজিল্যান উত্তরাধিকারী দেশেই আছেন। তিনি এমনকি এখনও আপিল করতে পারেন শত্রু সম্পত্তি ঘোষনার বিরুদ্ধে।

তবে সম্পত্তি ঘটিত ব্যাপারে অনেক সময়ই যে ভোগ দখলে আছে তারই কোর্টে বল থাকে, বেশী হলে সামান্য কিছু দেন দরবার করে পাওয়া যায়।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হুম, নাতিপুতিরা দেশে আছে কিন্তু দাদা মরে ভুত!
দখলদারেদের কাছে ভুয়া দলিল আছে যে তারা অরিজিনিয়াল মালিকের কাছে সম্পত্তি কিনে রেখেছে। এখন টিপসহির সত্যতা জাচাই করার কোন উপায় আর নাই!
কিন্তু যদি কিনেই রাখল তবে সেগুলো এনিমি হওয়ার প্রশ্নই আসে না! অর্থাৎ স্পষ্টই বুঝা যায় দলিলগুলো এনিমি হওয়ার অনেক পরে করা এবং এগুলোর কোন সরকারী রেকর্ড নেই!
সব কিছুই নষ্টের দখলেরে ভাই!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত হোক আমাদের চারপাশ।

.....................................
মায়ের লাঞ্ছিত বুকে শকুন নখের দাগ... কে পেরেছে ভুলে যেতে কবে? ধর্ষিতা বোনটির বিভীষিকা মাখা চোখ আমায় জাগিয়ে রাখে, ডেকে বলে,
মনে রেখো এদিনের শোধ নিতে হবে!! , যদি বল ঘৃনাবাদী, দ্বিধাহীন মেনে নেব তাও


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষদের ভীড় আর ভন্ডামীতে এতোই ক্ষুব্ধ যে বাংলাদেশে আসলেই কেউ সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ আছেন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়! এদের মাৎকার(আসল চেহারা)দেখা যায় ইহুদি/নাসারাদের দেশে আসলে। বিমান ধর-এর সাম্প্রতিক লেখাটা পড়লে কিছুটা বোঝা যায়, প্রপিতামহের জন্মভূমিতে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হওয়ার কষ্টটা যে কোথায়! নিজেরা সংখালঘু হবার আগে কেউ বুঝতে পারেনা এর কি জ্বালা, সে কারণেই হয়তো দেশের প্রচন্ড প্রগতিশীল মানুষগুলি বিদেশে এসে নামাজরোজা, হারাম-হালাল বাছবিচারে ব্যস্ত আর খুব ফ্যাশন সচেতন মেয়েটি হঠাৎ করে হিজাবে জড়ায় নিজেকে। বাচ্চাদের ইসলামি স্কুলে পড়াতে দেখি এমন মানুষদের যাদের সন্তানরা দেশে থাকলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়তো বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। হিন্দুরা প্রতিবাদ করে কি করে, আজ জমি জমা, কাল ঘরবাড়ী, পরশু বাড়ীর মেয়েদের জবরদখলের ভয় কার নেই! সাম্প্রতিক সব ঘটনাই তো তার প্রমাণ। সাহসী প্রতিবাদী হয়ে সব হারাণোয় কোণ বীরত্বের গাঁথা লেখা হয়না, বরং ভবিষ্যত প্রজন্মের নিরাপত্তা দিতে না পারার গঞ্জনা থাকে অবধারিত। আওয়ামী লীগ, বিনপি দিয়ে কিচ্ছু হবে না যতদিন না রাষ্ট্রীয়ভাবে এসবের মূলোৎপাটন করা হয়। কথা হলো বেড়ালের গায়ে ঘন্টা বাঁধবে কে!

ধন্যবাদ আদিল মাহমুদ, আমার অনেক কিছু জানা হলো! কমেন্ট আর তার উত্তরগুলোও অনেক উপভোগ করলাম। এত্তসব সত্য কথা একদিনে হজম করা কষ্ট হয়ে যাবে! শেয়ার করলাম।

--

রীতু
"আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, এই আকাশে। আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায়, ঘাসে ঘাসে.."


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যতদিন না সংখ্যালঘু ভূত ঘাড় থেকে না নামামো যাবে ততদিন আসলে স্থায়ী সমাধান হবে না। সংখ্যালঘু চিহ্নিত করে বড়জোর দয়া দেখানো যায়, ফেবার করা যায়, তারও যে সমান স্বীকৃত অধিকার আছে এটা মনে করা যায় না।

বিশেষ করে আমাদের মত সীমিত সম্পদের দেশে ধর্ম নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে খেলা করা মারাত্মক, এর এক প্রমান এটা। ধর্ম নিয়ে আদিখ্যেতা হবে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদের শিক্ষা দেওয়া হবে আর সুবিধেবাদী গোষ্ঠী সুযোগ তুলবে না তা হতে পারে না। ধর্ম দায়ী না মানুষ দায়ী এভাবে গলা ফাটিয়ে চেঁচানো যায় সত্য, তেমনি ধর্মের নামে যতদিন মানুষে মানুষে বিভেদ করা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষা দেওয়া হবে ততদিন এসব চলবেই এটাই সত্য।

যারা কোনদিন এসব আইনের অপব্যাবহার করবে না তারাও গোষ্ঠীগত এক ধরনের পক্ষপাতিত্বে পরোক্ষভাবে হলেও ভোগে, নিজ সম্প্রদায়ের দোষ স্বীকার করাকে নিজে ধর্মের ত্রুটি স্বীকার করার সমতূল্য ধরে নেয়; ফলে নীরবতা পালন শ্রেয় ও নিরাপদ মনে করে।

আপনাকে ধন্যবাদ।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যতদিন না সংখ্যালঘু ভূত ঘাড় থেকে না নামামো যাবে ততদিন আসলে স্থায়ী সমাধান হবে না। সংখ্যালঘু চিহ্নিত করে বড়জোর দয়া দেখানো যায়, ফেবার করা যায়, তারও যে সমান স্বীকৃত অধিকার আছে এটা মনে করা যায় না।

একশোভাগ সহমত।

--

রীতু
"আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, এই আকাশে। আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায়, ঘাসে ঘাসে.."


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাঙলাদেশে এখনও ‘শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি আইন’ বলবৎ আছে, এটা সত্যি দুঃখজনক ঘটনা। আদিল ভাইকে ধন্যবাদ এই কালা আইন নিয়ে চমৎকার পোস্ট দেওয়ার জন্য।


পোস্ট কয়েকদিন আগেই পড়েছিলাম। মন্তব্য করা উচিৎ হবে কিনা তাই নিয়ে একটু দ্বিধায় ছিলাম। যাইহোক পোস্টের কমেন্ট-টমেন্ট পড়ে মনে হল বর্তমান পরিস্থিতি এখন কেমন সেইটা নিয়ে একটু লিখি। যদিও অভিজ্ঞতা ঠিক নিজের নয় তবে আমার খুব কাছের আত্মীয়ের। একাত্তরের পরপরই আমাদের পরিবার ভারতে চলে আসতে বাধ্য হয়। তবে মায়ের দিকের পরিবার (মানে মামারা) বাঙলাদেশেই থেকে যান। কয়েক বছর অন্তর অন্তর ট্রেজারি আপিস থেকে মামাদের কাছে চিঠি আসে যে তাদের সম্পত্তি ‘শত্রু/অর্পিত সম্পত্তি’ হয়ে গেছে। তখন এক প্রকার বাধ্য হয়েই পয়সা টয়সা দিয়ে সেইসব ঠিকঠাক করতে হয়। এই গত মাসেও চিঠি আসে এবং সেই একই ঘটনা।



অ.ট. আর একটা কথা বলার লোভ সামলাতে পারছিনা। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আমার বাবা এবং মা বাঙলাদেশে ঘুরতে গেছিলেন। মা কয়েক বছর পর পর গেলেও বাবা প্রায় ৩৫ বছর পর দেশে গেলেন। স্বভাবতই এত বছর পরে যাওয়ায় ইউনিভার্সিটি এবং পুরনো বন্ধুবান্ধবদের দেখা সাক্ষাৎ করতে রাজশাহী যান। সৌভাগ্যক্রমে দুতিন জনকে পেয়ে যান যারা ওখানে ফ্যাকাল্টি ছিলেন। ফিরে এসে বাবা বলছেন এখন আর ইউনিভার্সিটি চেনাই যাচ্ছেনা। পঁয়ত্রিশ বছর আগেও মেয়েরা স্বাধীন ভাবে ক্লাসে আসা যাওয়া করতো। আর এখন ইউনিভার্সিটি পুরোই বোরখা ময়। হায়রে দেশটা কোথায় চলেছে কে জানে ?

____________________________

মসজিদ ভাঙে ধার্মিকেরা, মন্দিরও ভাঙে ধার্মিকেরা, তারপরও তারা দাবি করে তারা ধার্মিক, আর যারা ভাঙাভাঙিতে নেই তারা অধার্মিক বা নাস্তিক।.......... হুমায়ুন আজাদ
____________________________


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ ৫০ বছরেরও আগে বলেছিলেন যে দেশে শস্যের চেয়ে টুপির সংখ্যা বেশী। অবস্থার দিনে দিনে আরো অবনতি হচ্ছে।

ধর্ম নিয়ে আদিখ্যেতা দিনে দিনে বাড়ছে, নৈতিকতার মান পাল্লা দিয়ে নামছে। ঢাঃবিঃ তেও এক সময় ছেলে মেয়ে কথা বলতে হলে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি লাগত, সেই আমলেও হিজাব বোরখার এত বাহুল্য ছিল না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাষ্টার পিসটা প্রিয়তে নিছিলাম নাকি চেক করতে আবার আইলাম।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চেক করাই ভাল।

আমেরিকা হল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুশমন, খুব সাবধান; দেখবেন আপনের যায়গা সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি হিসাবে ব্যাটারা দখলে নিয়ে নিছে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একটা জিনিস মাথায় রাখেন নাই - সংখ্যা লঘু খালি ধর্মে হয় না, অপজিসনে থাকলে শক্তি লঘু হিসাবেও কিন্তু মাইর খাওন লাগে, সম্পত্তি হারানো লাগে।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এইটাই সভ্যতার মানের ষ্ট্যান্ডার্ড। সভ্যতার মান শুধু কে বিবাহ ছাড়া সেক্স করে এমনে বোঝা যায় না, কে দুর্বলের মাথায় কাঠাল ভাংগে সেইটার উপরে বেশী নির্ভর করে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অফটপিকসঃ
আদিল ভাই ঢাকা শহরের জায়গা জমি, এপার্টমেন্টের দাম/আদাম নিয়া একটা পোষ্ট দিওনের আবদার জানাই।
এই হারে জমি/এপার্টমেন্টের দাম বাড়লে বাসা ভাড়া দিয়া মানুষ থাকব কেমনে?

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

কারে কি কন, আমার এইসব নিয়া একেবারেই আগ্রহ নাই।

যেইসব দেশে যায়গা জমি সম্পদ সংকট সেইসব দেশে আসলে ধর্ম ভাঙ্গায় নানান আকাম কুকাম হালাল করা খুব সহজ; যার এক উদাহরন এই পোষ্ট।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দাদায় দেখি বিণয় দেখায়? Shock
এইটা পোষ্ট না - একটা জলন্ত তীর।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ব্যতিক্রম পোস্ট। আদ্যপান্ত মনের কোণে ঠাঁই পেয়েছে....

‍‍‌‍‍‍‍**********
স্বপ্নের কারিগর


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দাদার আমলে আমাদের সম্পত্তিও শত্রু হিসেবে নাম উঠিয়েছিল। পরে মামলা করলে রায় আমাদের পক্ষে আসে, এবং শত্রু নামের কলঙ্ক থেকে মুক্তি মেলে। সেই থেকে নিষ্কন্টক ভূমিতে চলছে নাগরিক জীবন।

এসব ব্যাপারে এলাকার ভূমিরাক্ষস গুটি কয়েক মানুষ দায়ী ছিল সেই আমলে, যাদের বংশধর এখনও শত শত একরের অধিকারী। এক চেটিয়া সবাইকে বা সাধারণ মানুষকে দায়ী করা যায় না, কোন ট্যাগ দেওয়া যায় না। কারণ তারা এত বুঝে না, এত সাহসী না। তারা হাজার বছর আগে মহারাজাদের হাতে মার খেয়েছে, তারপর সুলতানদের হাতে, তারপর জমিদারদের হাতে। আর এখন তারা নেতাদের কাছে মার খায়। আর এই সাধারণ মানুষরা এখানে-ওখানে যে পরিচয়েই থাকুক না কেন, ভূলুন্ঠিত লতার মতই পদপৃষ্ঠ হয়েছে।

তবে আমাদের আরেকটি বিরাট তালুক ছিল, কিন্তু 'দ্য পার্টিশন' এর প্রভাব সেই তালুককে বংশীয় ইতিহাসে পরীদের এক কাহিনী করে ফেলেছে। না কেউ গ্রাস করেনি, লুট করেনি, বিনিময় মূল্যেই লুপ্ত হয়েছে। বিরাট তালুক ছিল যে, সেই এলাকার বসতকারী তার বাড়িতে পানি ফেললে তা আমাদের জমিতেই এসে পড়ত। সেই আমলের পাকা বাড়ি ছিল, সোনার মোহর ছিল। মাঝে মাঝে যখন বংশের ইতিহাস নিয়ে ভাবি, তখন আফসোস হয়; নেহেরু-জিন্নাহ্‌ গদি পেল, আর আমরা কতকিছুই হারালাম! এরকম হারানোর ইতিহাস এপার-ওপারের ঘরে ঘরে।

উপমহাদেশের ভাগ্য যেমন এক কথায় বলতে গেলে নির্ভর করেছিল নেহেরু-জিন্নাহ্‌ দ্বন্ধের উপর, আর লক্ষ লক্ষ মানুষ ভূমিকম্পের সেই আফটার শক খেয়েছিল। তেমনই; এদেশে হোক, ও দেশে হোক আর সেই দেশে হোক; গুটি কয়েক মানুষের উপরই নির্ভর করে ম্যাংগোদের ললাট লিখন। কখনও মূলত মাত্র একজন বা দুইজন বা অনুর্দ্ধ পাঁচজন।

স্যাটলমেন্ট জরীপের সময় দেখলাম মানুষের কি দৌঁড়-ঝাঁপ, কত লৌড়ালৌড়ি আর কত টাকার বস্তা ঢালাঢালি। কারণ, ইতিহাসের একেকটি মোড় কিছু মানুষকে করে যায় ভুক্তভোগী, কিছু মানুষকে করে যায় সুবিধাভোগী। মাঝে মাঝে দেখে হাসতাম, কার জমি কে খায়! তবে আমাদের এলাকায়, বিনিময় বেশি ঘটেছে; হিন্দু ওপারে চলে গেছে ওপারের মুসলমান বাড়িতে, ওপারের মুসলমান এপারে এসেছে সেই হিন্দু বাড়িতে। আমাদের পাশের বাড়ির একজন, যিনি শিক্ষক ছিলেন সেই আমলে, চলে যান ওপারে বিনিময় করে। তাঁর বাড়িতে আসে ওপারের মুসলমান পরিবার, তবে সেই মুসলমান পরিবারের এক অংশীদার ওপারেই রয়ে যায়। সেই থেকে ওপারের বাড়ির অর্ধেকে সেই মুসলমান পরিবার এবং অর্ধেকে এপার থেকে যাওয়া হিন্দু পরিবার বসবাস করে আসছে।
আবার প্রতিবেশী আরেক ততকালীন হিন্দু বাড়ির কাহিনী শুনলাম- নদীপারের আত্মীয়ের বাড়িতে যুবতী মেয়ে ও স্ত্রীকে বেড়ানোর নাম করে সকালে পাঠিয়ে দেয় ঐ লোক। সন্ধ্যার সময় শুনা গেল, ঐ লোক তার মেয়ে ও স্ত্রীকে গালি দিচ্ছে, ওরা কেন এখনও ফিরছে না, সন্ধ্যা হয়ে গেল, কেন দেরী করছে। তারপর লোকটি গালি দিতে দিতে ওদের নিয়ে আসতে গেল। সেই যে গেল, এদেশ থেকে একেবারেই চলে গেল। ঐ লোকের সেই বাড়িতে ওপার থেকে আসা সহায়-সম্বলহীন এক মুসলমান পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল পরবর্তিতে, এখন তাদের নামেই বন্দোবস্থ।
আরও এক কাহিনী; একটি বড় গোসাই পরিবার, যাদের বাড়িই ছিল প্রায় পাঁচ একরের। বিস্তৃত সম্পত্তি ছিল। 'দ্য পার্টিশন' এর প্রথম কম্পনেই চলে যায় তারা, এত সম্পত্তি ফিরেও তাকায়নি। স্বাভিমান! তাদের হাতে নগদের অভাব ছিল না। ঐ টাকাতে ওপারে এরকম বিশাল সম্পত্তি তারা করেছে। আর এ পারে শত্রুসম্পত্তি হয়ে অন্যরা বন্দোবস্থ পেয়েছে।

এবার একটি মজার মায়ের দিকের বংশের ঘটনা বলি। আমার মায়ের দাদা 'দ্য পার্টিশন' এর প্রথম ধাক্কাতে গিয়েছিলেন ওপারে। ওপারে যাওয়ার পরে সেখানকার এক অধিবাসী তাকে গালি দিয়েছিল, 'উঠরা' বলে। প্রমাতামহের আত্মসম্মান খুব বেশি ছিল। সেই সময়ে আবার দেশের দিকে রওয়ানা দিলেন। চলার পথে ক্লান্তিতেও ওইপারের পানিও গ্রহন করেননি। তারপর যতদিন বেঁচেছিলেন, ততদিন তো নয়ই। এদেশেই মরলেন। বংশধররাও এদেশেরই রইল।


অতীতকে সংশোধন করা যায় না। বর্তমানকে সংশোধন করা যায়, ভবিষ্যতকে সাজানো যায়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যারা শক্তভাবে মামলা করে লেগে থাকতে পারেন তাদের ক্ষেত্রে সুফল পাবার কিছু উদাহরন আছে। বিশেষ করে যারা ভারতে বা অন্য কোথাও যাননি কিন্তু অন্যায়ভাবে তাদের পরিবারকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাদের না পাবার এই কালো আইনের ছায়াতেও তেমন যুক্তি সংগত কারন নেই। মুশকিল হল জবর দখলকারি প্রতিপক্ষ আইনী ছাড়াও নানান ভয়ভীতি হুমকি ধামকি দিয়ে এসব ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে।

যারা ভাগ্যবান তারাই বিনিময় পদ্ধুতিতে ওপারের মুসলমান পরিবারের সাথে সম্পত্তি বদল করতে পেরেছে, তবে আমার জানা মতে স্বাধীন বাংলাদেশ আমলে এ পদ্ধুতি খুব বেশী হয়নি। কারন ওপার থেকে মুসলমান এপারে আসা বাংলাদেশ আমলে মনে হয় না তেমন একটা হয়েছে বলে।

অতীতকে সংশোধন করা যায় না। বর্তমানকে সংশোধন করা যায়, ভবিষ্যতকে সাজানো যায়।


- সেটাই কথা। কারা কয় পুরুষ আগে কাকে শোষন করেছে, কে কার ছোঁইয়া ঘৃনা করেছে সেসবের জের আজকের দিনেও পূণঃজন্ম দেবার কোন মানে হয় না। কদর্য অতীত থাকুক ইতিহাসেই, ভবিষ্যত হোক সুন্দর।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এমন মর্মস্পর্শী বিষয় নিয়ে লেখা পোষ্টটি আগ্রহ সহকারে পড়লাম(দেরীতে হলেও), আরও ভাল লাগলো অনেক ব্লগারের সহৃদয় মন্তব্য পড়ে। পাকিস্তান তার জন্মলগ্ন থেকেই, আরও পরিস্কারভাবে বললে জন্মের আগে থেকেই উদ্ভট এক রাষ্ট্র। হিন্দুরা কেন পেয়ারা পাকিস্তান ত্যাগ করে হিন্দুস্তানে চলে যাবে, যারা গেছে তারা তাই দেশের শত্রু। আবার তারা যাতে এ দেশ ত্যাগ করে চলে যায়, তার জন্য যত রকম ফন্দি-ফিকিরেরও কমতি ছিল না। শত্রু সম্পত্তি আইনে যতটুকু সমস্যা, তার চেয়ে অনেক বড় সমস্যা হয়েছিল শত্রু সম্পত্তি চিণ্হিতকরনে। শত্রু সম্পত্তির তালিকায় যত জমি দেশত্যাগীদের ছিল, তার চেয়ে বেশী ছিল যারা দেশেই ছিলেন, তাদের। বিষয়ে আপনার পোষ্টের মূল সুরের সাথে আমার মতপার্থক্য আছে। এর সুবিধাভোগীদের তালিকায় রাজনীতিক সংশ্লিষ্ট মানুষ যুক্ত হয়েছে অনেক পরে, প্রথমে এই দুস্কর্মগুলি সাধিত হয়েছিল ভূমি রাজস্ব অফিসের লোকজন, মতলববাজ টাউট শ্রেনীর মানুষ এবং একই মনোভাবাপন্ন উকিল মোক্তারদের তৎপরতায়। শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি যে এই তালিকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনও ছিল। আরও একটি বিষয়ে মতপার্থক্য আছে, শত্রু সম্পত্তি আইন হিন্দু সম্প্রদায়ের দেশ ত্যাগে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও তাঁদের দেশ ত্যাগের মূল কারন সেটা নয়। অনেকেরই (এবং তারাই সংখ্যাগুরু) এই সমস্যা না থাকার পরও তাঁরা দেশ ত্যাগ করেছেন। তাঁদের কেউ বিনিময়ের মাধ্যমে, কেউ বাজার দরে বিক্রি করে, কেউ পানির দরে ঘর-বাড়ী, জমি-জমা বিক্রী করে পারি জমিয়েছেন ভারতে। বলাইবাহুল্য সেইসব জমির পরিমানও বিপুল এবং তা কিনে নিয়েছেন এদেশের প্রধানতঃ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন।
স্বাধীনতার পর, হিন্দু সম্প্রদায়ের যে সকল মানুষ শত্রু সম্পত্তি আইনের শিকার হয়েছেন এবং যাঁরা নামমাত্র মূল্যে জায়গা জমি বিক্রয় করে চলে গিয়েছেন, তাঁদের অনেকের মনে আশা জেগেছিল তাঁরা হয়তো আবার ফিরতে পারবেন সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত স্বদেশে। তাদের এই মনোভাব তাদের জমি ভোগদখলকারীদের মনে অভিঘাত সৃষ্টি করেছিল, এ কারনেও অনেক মানুষ মুজিব সরকারের উপর অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হয়েছিল।
এই জটিল সমস্যার সমাধান করার জন্য মুজিব সরকার খুব বেশী সময় পেয়েছিল বলা যাবে না, পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলো এই জটিলতা অনতিক্রম্য করে ফেলেছে।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চলন ভাই,

ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য। আপনাদের মতামত খুব গুরুত্বপূর্ন কারন আমাদের প্রজন্ম নিজের চোখে এসব দেখিনি, আপনারা অনেক কিছু দেখেছেন।

আমি পরিসর ছোট রাখতে অনেক কিছু সংক্ষেপে সেরেছি, বিস্তারিত যাইনি, অতি সরলীকরন মনে হয়েছে হয়ত এজন্য।

প্রথমেই বলে রাখি যে আমার এই লেখার উদ্দেশ্যে হিন্দুরা কেন ভারতে চলে যায় তার সামগ্রিক কারন বিশ্লেষন নয়। তবে প্রসংগক্রমে এই ইস্যু খুব ছোট আকারে এসেছে, খুব বেশী ঘাটাঘাটি এখানে করিনি। হিন্দুরা শুধু শত্রু সম্পত্তি আইনের কারনে দেশত্যাগ করে এমন দাবী আমি করিনি। তবে দেশত্যাগের পেছনে এই আইনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকার বড় প্রভাব আছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। দেশের ৪০-৫০% হিন্দু সম্পত্তি এই আইনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাকি যাদের হয়নি তাদের মানসিকতা কেমন হবে, কতটা নিরাপদ তারা বোধ করবে তা বুঝতে খুব বেশী গবেষনা নিশ্চয়ই লাগে না।

আজকে আমেরিকায় মুসলমানদের শত্রু সাব্যস্ত করে কোন আইনী ফ্যাঁকড়া বার করে তাদের সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহন শুরু করল। ধরা যাক ১০% মাত্র মুসলমান পরিবারই ক্ষতিগ্রস্থ হল। এখন বাকি ৯০% মুসলমান যারা আইনে ক্ষতিগ্রস্থ হল না তারাই বা নিজেদের আমেরিকায় কতটা নিরাপদ বোধ করতে পারে? তা্দের মধ্যে অনেকেই আমেরিকা ত্যাগ করে অন্য মুসলমান প্রধান দেশে কি হিজরত শুরু করবে না?

আপনি যেমন বলেছেন অনেক হিন্দু স্বেচ্ছায় কোন রকম জোর জবরদস্তি বা ভয় ভীতি দেখানো ছাড়াই নিজে নিজে ভারত মাতার কাছে চলে গেছে। তাদের শতকরা হার মূল দেশত্যাগিদের কতভাগ তা আমি জানি না, হয়ত কোন গবেষনায় আছে বা ভবিষিতে কোনদিন আসবে। আমার লেখার সাথে এর তেমন সম্পর্ক নেই।

তবে আমি অবশ্যই মনে করি যে হিন্দুরা দেশত্যাগ করে এই তথ্যের সাথে সাথে যেন কিভাবে তাদের ওপর যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্যায় করা হয়েছে সেটাও মানুষ কিছুটা হলেও উপলব্ধি করে। হিন্দুদের সম্পর্কে মূল অভিযোগ তাদের বাংলাদেশের প্রতি কোন মমতা নেই। এ ধরনের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চরম নিপীড়ন মূলক আইন করে যুগ যুগ ধরে তার শিকার তারা হলে মমতা কতটা থাকতে পারে সে প্রশ্ন আসা উচিত। সেজন্যই প্রথম প্যারায় কিছুটা ব্যাংগাত্মক সুরে প্রসংগটা এনেছি।

জমি দখলের প্রক্রিয়া অনেক জটিল। ব্যাপারটা যেহেতু আইনী লেবাসেই হয় তাই আপনার তথ্যমতই এর সাথে ভূমি অফিস, আইন আদালত, উকিল মোক্তার অনেকেই জড়িত। আগে তো সরকারী ভূমি অফিস থেকেই শত্রু সম্পত্তি ঘোষনা করে ভূমি অধিগ্রহন করা হয়। এসবের দীর্ঘ বর্ননা দিয়ে লেখা বড় করতে চাইনি। হ্যা, খোঁজ করলে দেখা যাবে যে এসব উকিল মোক্তার আদালতের লোকজন, স্থানীয় টাউট এসব লোকের মাঝেও হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোক অবশ্যই আছে। সরকারী অফিস, উকিল এসব তো আর একচেটিয়ে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের নয়।

তবে চুড়ান্তভাবে সম্পত্তি দখলকারিদের মধ্যে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির সরাসরি ছায়া খুবই প্রকট। হিসেব মূল লেখায় দিয়েছি, তা কিন্তু অস্বীকার করা যায় না। তারা ভূমি অফিস, আদালত উকিল এদের সাহায্যেই কাজটি করে, তবে মূল ভোগ যায় এদের ভাগেই।

মুজিব সরকারের ভূমিকায় আমি অন্তত হতাশ হয়েছি। '৭৪ সালে তারা একদিকে পাকিস্তান আমলের শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিল করেছিলেন, আবার অন্য দিনে অর্পিত সম্পত্তি আইন করেছিলেন। যদিও অর্পিত সম্পত্তি আইনের টার্গেট হিন্দু সম্প্রদায় ছিল না, ছিল স্বাধীনতার পর দেশে থেকে যাওয়া বিহারী/উর্দুভাষীদের সম্পত্তি সরকারের আয়ত্বে আনা। মুশকিল হল যে এই আইনের অধীনেও শত্রু সম্পত্তি আইনের মতই অন্য দেশে স্থায়ী হওয়া বাংলাদেশীদের সম্পত্তি সরকারের গ্রহন করার অধিকার রাখা হয়েছিল, যার প্রত্যক্ষ শিকার হয়েছে একচেটিয়া ভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাই। সরকার বিচক্ষনতার বড় ধরনের অভাব দেখিয়েছিল বলেই আমি বলব।

তবে অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়েছে '৭৬ থেকে।

আর হ্যা, আমি তেমন মর্মস্পর্শী লেখার চেষ্টা করিনি। ইচ্ছে করেই বহু অসহায় পরিবারের কান্নাকাটির করুন আবেগময় কাহিনীর বয়ান এড়িয়ে গেছি, লেখা বড়ও হত, আমার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠত। এমনিতেই এই ধরনের লেখার লেখকদের আমাদের সমাজে অনেকে ঘরের শত্রু বিভীষন হিসেবে দেখে। আমার ব্লগ বা তেমন কোন ব্লগ ছাড়া সব ব্লগে এই লেখা দিতামও না। সেধে সেধে এক তরফা গাল খেতে যায় কে। তবে '৭১ এর শহীদ পাকিস্তানে পালিয়ে গেছে এই যুক্তিতে সম্পত্তি অধিগ্রহন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সারা জীবনে জেল খেটে এই দেশেই মৃত্যুবরন করা লোক ওনাদের ঘটনাগুলি জেনে নিজের অজান্তেই চোখের পানি পড়ে গেছে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বোধ জাগানিয়া এই লেখাটির জন্য আবারও ধন্যবাদ!

আপনি যেমন বলেছেন অনেক হিন্দু স্বেচ্ছায় কোন রকম জোর জবরদস্তি বা ভয় ভীতি দেখানো ছাড়াই নিজে নিজে ভারত মাতার কাছে চলে গেছে। তাদের শতকরা হার মূল দেশত্যাগিদের কতভাগ তা আমি জানি না, হয়ত কোন গবেষনায় আছে বা ভবিষিতে কোনদিন আসবে। আমার লেখার সাথে এর তেমন সম্পর্ক নেই।
আমি এরকম বলি নি বা বুঝাতে চাই নি। আমি বলেছি "দেশত্যাগের মূল কারনটি শত্রু সম্পত্তি আইন নয়", মূল কারন হলো জাতিগত নিষ্পেষন, যার উৎকট অস্তিত্ব এ আইন প্রনয়নের আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল।
তবে চুড়ান্তভাবে সম্পত্তি দখলকারিদের মধ্যে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির সরাসরি ছায়া খুবই প্রকট। হিসেব মূল লেখায় দিয়েছি, তা কিন্তু অস্বীকার করা যায় না। তারা ভূমি অফিস, আদালত উকিল এদের সাহায্যেই কাজটি করে, তবে মূল ভোগ যায় এদের ভাগেই।
প্রদত্ত হিসাবটি আমার মতে বিভ্রান্তিকর। যে সকল হিন্দু জনগন সম্পত্তি বিক্রয় বা বিনিময় করে চলে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ঘটনা অতি নগন্য, বিশেষতঃ বিএনপি'র তখন জন্মই হয়নি, আওয়ামী লীগ রাজৈতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিল না। শত্রু বা অর্পিত সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎকারীদের মধ্যেও রাজনৈতিক সংশ্লেষের চেয়ে সামাজিক সংশ্লেষ অনেক অনেক বেশী। শুধুমাত্র সে সকল সম্পত্তি লীজ প্রদানের ক্ষেত্রেই মূলতঃ রাজনীতিকরন হয়েছে।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চলন ভাই,

হিন্দুদের দেশত্যাগের মূল কারন সামাজিক নিষ্পেষন, যার বহু মাত্রা আছে। এরই এক মাত্রা আমি এখানে এনেছি। সামাজিক নিষ্পেষন এভাবেই হয়। এর চেইন এফেক্টে যে হয়ত আক্রান্ত হবে না সেও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

একটি ব্যাপার মনে হয় পরিষ্কার করা দরকার। আমি যেসব তথ্য উপাত্তের রেফারেন্স এখানে দিয়েছি সেসব কিন্তু এপার/ওপার হিন্দু মুসলমানের সম্পত্তি বিনিময়ের হিসেব নয় (যেমনটা ওপরে শর্মা উদাহরন দিয়েছে), বিক্রয়ের হিসেব তো অন্তর্ভুক্ত হবার প্রশ্নই আসে না। স্বেচ্ছায় কেউ সম্পত্তি বিক্রয় করে থাকলে বা বিনিময়কৃত সম্পত্তির ক্ষেত্রে শত্রু সম্পত্তি আইন বা কোন রকম জোরাজুরির প্রশ্ন তেমন আসে না।

ড বারাকাতের ষ্টাডির নামঃ 'Inquiry into Causes and Consequences of Deprivation of Hindu Minorities in Bangladesh through the Vested Property Act'.

এসব তথ্য উপাত্ত সম্পুর্নই শত্রু/অর্পিত সম্পত্তির হিসেব, যেগুলি সরকার থেকে অধিগ্রহন করে পরবর্তিতে লীজাকারে প্রদান করা হয়েছে, ব্যাক্তিগত পর্যায়ে বিক্রয়/বিনিময়ের প্রশ্ন নেই। অধ্যাপক বারাকাতের মত লোকে বিনিময়কৃত সম্পত্তি আর অধিগ্রহনকৃত সম্পত্তির মৌলিক তফাত বুঝবেন না এটা খুব বিশ্বাস্য নয়। কিছু যায়গায় তাকে আওয়ামী দালাল চিহ্নিত করতেও দেখেছি। অন্য ষ্টাডিও তারই মত ফলাফলই দেখায়।

The greatest appropriation of Hindu property took place immediately after independence during the first Awami League government (1972-75) and during the first period of the rule of Bangladesh Nationalist Party (1976-1980). এখানে ব্যাক্তিগত পর্যায়ে বিক্রয়/বিনিময়ের ব্যাপার নেই, আছে রাষ্ট্র কর্তৃক জবরদখল, এবং পরবর্তিতে অনুগতদের মাঝে বিতরন।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসলে সাম্প্রদায়িকতা সংস্কৃতির মহাকাশে এক দুষ্টগ্রহ।
বিষয় হিসেবেও সংস্কৃতির সঙ্কট ও সাম্প্রদায়িকতা নতুন নয়, আজকাল তাতে স্পষ্ট নতুন কোনো মাত্রা যুক্ত হচ্ছে বা হয়েছে এমন্ও নয়। তবু, তারপর্ও অনেকেই লিখছে বা লিখেছে কিংবা আরো হয়তো বহুকাল লিখতে হবে।কারণ বিষয় দু'টি জ্বলন্ত ও প্রাসঙ্গিক-
.
সাম্প্রদায়িকতা তো আক্ষরিক অর্থেই জ্বলন্ত বিষয।
যাকে নতুনভাবে দেখা, ব্যাখ্যা করা, এবং সত্যকে- বিশেষত ঘটনা ও তথ্যের সত্যকে-
সমকালী প্রেক্ষাপটে বারবার বিশ্লেষণ করে দেখা সবার জন্যেই কম- বেশি জরুরি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসলে সাম্প্রদায়িকতা সংস্কৃতির মহাকাশে এক দুষ্টগ্রহ।
বিষয় হিসেবেও সংস্কৃতির সঙ্কট ও সাম্প্রদায়িকতা নতুন নয়, আজকাল তাতে স্পষ্ট নতুন কোনো মাত্রা যুক্ত হচ্ছে বা হয়েছে এমন্ও নয়। তবু, তারপর্ও অনেকেই লিখছে বা লিখেছে কিংবা আরো হয়তো বহুকাল লিখতে হবে।কারণ বিষয় দু'টি জ্বলন্ত ও প্রাসঙ্গিক-
.
সাম্প্রদায়িকতা তো আক্ষরিক অর্থেই জ্বলন্ত বিষয।
যাকে নতুনভাবে দেখা, ব্যাখ্যা করা, এবং সত্যকে- বিশেষত ঘটনা ও তথ্যের সত্যকে-
সমকালী প্রেক্ষাপটে বারবার বিশ্লেষণ করে দেখা সবার জন্যেই কম- বেশি জরুরি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি এই এপিক পোস্ট কীভাবে মিস করলাম?

পোস্ট নিয়ে আর কী বলবো- আমি নিজ জাতির পরিচয়ে লজ্জিত বোধ করি আজকাল। Sad

এই পোস্ট প্রিয়তে না নিলে অবিচার করা হবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একজন শত্রু সবসময়ই শত্রু।যেহেতু আমরা মুসলমান সেহেতু ভারত এবং হিন্দু, তারা ৬৫ তে আমাদের শত্রু ছিল, এখনও আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একটু ফ্রি হলে আপনার লেখাগুলো পড়ব। আর কোথাও কি আপনি লেখেন?

অনেক অনেক শুভকামনা আদিল ভাই।

glqxz9283 sfy39587p07