Skip to content

ছাগু ছাগু ডাক পাড়ি-৩

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব


'৭১ এর রাজাকার, আল বদর, শান্তি কমিটির সদস্য গনের (সোজা কথায় স্বাধীনতা বিরোধী) ধর্মীয় ইনক্লাইনেশন অত্যন্ত প্রকট। বর্তমান নুতন প্রজন্মের ছাগুকূল মূলত এই ধারারই পরবর্তি জেনারেশন। এ তিক্ত প্রসংগ স্বভাবতই ধর্ম প্রিয় লোকদের অত্যন্ত অপছন্দ। তারা নানান ভাবে এই অপ্রিয় সত্য এড়াতে চান, এড়ানোর একটি ভাল কায়দা হল যাবতীয় স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার বদর সবাইকে গণহারে জামাতী, ধর্ম ব্যাবসায়ী এ জাতীয় নামে অভিহিত করা (ভাবখানা এমন যে জামাতীরা ইসলাম জানে না, কিংবা কাদিয়ানীদের মত তাদের অমুসলমান গন্য করা হয়)। একই প্রবনতা ধর্মের নামে সমাজে চলে আসা নানান কুসংস্কার, অমানবিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত মোল্লা আলেমদের রক্ষার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রেও মূল সমস্যা এড়িয়ে অশিক্ষিত, ধর্ম ব্যাবসায়ী, কাঠ মোল্লা এ জাতীয় কিছু গতবাধা কথা বলে দারুন ভাবে দায় এড়ানো যায়। এহেন ঊটপাখী নীতির ফলাফল হল এই চক্রের হাত থেকে রেহাই পাওয়া তো দুরের কথা আরো দিনে দিনে উতপাত বাড়ছে, একই ভাবে স্বাধীন বাংলাদেশেও স্বাধীনতা বিরোধীরা ঝাড়ে বংশে বেড়ে চলেছে। বাস্তব অবাস্তব যাইই হোক সাধারন মানুষও অবশ্য এমন ধরনের ব্যাখ্যাই শুনতে চায়, হাজার হোক বাপ দাদার প্রচলিত ধর্মে বা ধর্মীয় শিক্ষা যাইই বলা হোক সেগুলিতে বড় ধরনের কোন মৌলিক সমস্যা আছে এমন কথা হজম খুবই শক্ত ব্যাপার। সে চিন্তা মনে ঠাঁই দেবার চাইতে ধর্ম ব্যাবসায়ী, জামাতী, অশিক্ষিত, কাঠমোল্লা এ ধরনের কথাবার্তা বলে মোটামুটি দুই কুল রক্ষা অনেক বেশী নিরাপদ। হাজার হোক যাদের কাছে তারা ধর্মশিক্ষা নেন, সন্তানকেও পাঠান, যাদের মোহময় কন্ঠে স্রষ্টার পবিত্র বানী ও পরকালের নানান বর্ননা শোনেন, এমনকি মৃত্যুর পর পরকালে যাদের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করবেন তাদের মাঝে কোন রকম গুরুতর মৌলিক সমস্যা আছে এমন কথাবার্তা সরাসরি বলা সহজ কাজ নয়।



ফ্যাক্ট যা বলে তা হল চিহ্নিত স্বাধীনতা বিরোধী বলতে জামাতীদের চেহারা প্রথমেই মনে হলেও (জামাত নিয়ন্ত্রিত নৃশংস আল বদর বাহিনীর কল্যানে) ’৭১ সালের কিংবা আজকের স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সকলেই জামাতী এমন কথা খুবই ভ্রান্ত। নিজের ধর্মবিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষার্থে জেনেশুনে পুরো স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে জামাতী লেবেল লাগিয়ে দেওয়া ইতিহাস বিকৃতি থেকে কম কিছু নয়। প্রথমত জামাতীদের নাম নৃশংসতায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও সে সময় ইসলাম ধর্মভিত্তিক সব রাজনৈতিক দলেরই (যেমন মুসলিম লীগের বিভিন্ন অংশ, নেজামে ইসলামী, পিডিপি, খেলাফত মজলিশ ইত্যাদী) ভূমিকাই ছিল এক। কিছু অংশ আবার রাজাকারি করলেও রাজনৈতিক ভাবে ছিল জামাত বিরোধী। যেমন মৌলবি ফরিদ আহমেদ নামের একজন মূখ্য স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের সাথে মতবিরোধের কারনে নিজে ভিন্ন নামে আরেক শান্তি কমিটি গঠন করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল করলেও এসব রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাই ছিলেন দেশ বিদেশের খ্যাতিমান আলেম। রাজনৈতিক দলের সদস্য বলেই তাদের ধর্মীয় পরিচয় কিভাবে গুরুত্বহীন হয়ে যায়? যেমন জামাতের তাত্ত্বিক গুরু মওদুদী অনেকের কাছে বিতর্কিত হলেও আবার অনেকের কাছে বিরাট আলেম। তার একনিষ্ঠ ইসলাম সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে দিয়েই ’৭৯ সাল থেকে আরব বিশ্বের নোবেল প্রাইজ হিসেবে পরিচিত বাদশাহ ফয়সল পুরষ্কার দেওয়া শুরু হয়। এই পুরষ্কার প্রাপ্তিতে ইসলাম প্রিয় কয়জনা ‘জামাতী’ ইস্যু তুলে প্রশ্ন করেছিলেন? দেশের আরেকজন সুপ্রসিদ্ধ আলেম মাওলানা মুহম্মদ উল্লাহ হাফেজি হুজুর (আমিনী হুজুরের শ্বশুড়) ছিলেন আরেক মূখ্য স্বাধীনতা বিরোধী, তিনি খেলাফত মজলিশ নামের একটি রাজনৈতিক দল করতেন (’৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন)। উনি শুধু নিজের দলবল নিয়েই নয়, দেশের আরো অন্যান্য রাজনৈতিক অরাজনৈতিক, মাদ্রাসা সমূহের শিক্ষক ছাত্রদের রাজাকার বাহিনীতে সুশৃংখলভাবে সংগঠিত করতে বিশেষ ততপরতা দেখিয়েছিলেন [১]। এখনো দেশের আলেম, মোল্লা, মসজিদের ইমাম এই শ্রেনীর এক বড় সংখ্যক সদস্যই ধর্মভিত্তিক নানান রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী কিংবা সমর্থক।



দূঃখজনক সত্য হল সামগ্রিকভাবেই দেশের আলেম সমাজ বলতে যা বোঝায় তারা ’৭১ সালে ছিল প্রকাশ্যেই স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী, এই পরিষ্কার ট্রেন্ড কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না। ইতিহাস বলে যে সে সময়কার দেশের রাজনৈতিক/অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠনের নেতা, শীর্ষ আলেম, মাওলানা, পীর, বড় বড় মসজিদের ঈমামগণ প্রকাশ্যেই পাক বাহিনীর কিংবা প্রশ্বস্থিমূলক বিবৃতি দেওয়া থেকে শুরু করে নানান কুকর্মে সরাসরি অংশ নিয়েছেন । হাই-প্রোফাইল আলেমগনের বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মসজিদের ইমাম মোল্লাগনও সামগ্রিকভাবে পাক বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ইসলামী শিক্ষার আদর্শ প্রতিষ্ঠান (যেগুলি ইমাম মুয়াজ্জীন তৈরী করে থাকে) হিসেবে সুপরিচিত মাদ্রাসা শিক্ষক/ছাত্রগণ ব্যাপক মাত্রায় যোগ দিয়েছিল নানান রকমের রাজাকার বাহিনীতে। অবশ্যই এর সামান্য কিছু ব্যাতিক্রম পাওয়া যেতেই পারে, অতি বিরল ব্যাতিক্রম হিসেবেই সেসব ধরা যায়। সেভাবে হিসেব করলে পাকিস্তানী কিছু লোকেও মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি সাহায্য করেছে এমনও আছে। ‘দুয়েকটি বিছিন্ন ঘটনা’ বলে মোল্লা মাওলানাদের রাজাকারি প্রবনতা এড়ানোর কোন উপায় নেই। এসব হাক্কানী আলেম মোল্লা মাওলানারা সকলে জামাতী ছিলেন, ইসলাম জানতেন না, কিংবা ধর্মব্যাবসায়ী ছিলেন বিশ্বাস করা যায়? নাকি তারা তাদের কঠিন ধর্মীয় জ্ঞান খাটিয়ে যা ইসলাম সম্মত মনে করেছিলেন সে মতেই চলেছিলেন? এরা ছাড়াও উচ্চশিক্ষিত দালাল বুদ্ধিজীবিদের কথাও আসছে, এরপর আসছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রের ভূমিকা। এনারাও সকলে জামাতী, প্রকৃত ইসলাম জানতেন না? এসব তথ্য ইতিহাসের দলিল থেকে শুরু করে ব্যাক্তিগত স্মৃতিচারনে নানান ভাবে এসেছে। বেশী বড় হচ্ছে বলে তৎকালীন হাই-প্রোফাইল আলেমগণের বক্তৃতা বিবৃতি কান্ডকীর্তন টানছি না। তবে কেউ সংশয় প্রকাশ করলে অবশ্যই বেশ কিছু রেফারেন্স দেব। আপাততঃ এইটুকু কোট করে রাখছি, “উগ্রপন্থী সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলি ছাড়াও কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কার্যকলাপে আলেম ও মওলানা শ্রেনীর লোকের অধিকাংশই যোগ দিয়েছিল। এদের মধ্যে.........”। “বাংলাদেশে গণহত্যাকারী দালালদের পূণঃবাসনের প্রক্রিয়াও সূচনা হয়েছিল এই সমস্ত তথাকথিত মওলানাদের তবলিগ, ওয়াজ মাহফিল, সিরাত সম্মেলন ইত্যাদী কার্যকলাপের মাধ্যমে। তবলিগ জামাতের মূল কেন্দ্র কাকরাইল মসজিদ ’৭১ এ ছিল বুদ্ধিজীবি নির্যাতনের উন্য আল বদরের অন্যতম কেন্দ্র”। [১]




মোল্লা আলেমদের ব্যাপারে কাঠমোল্লা, জামাতী কিংবা বড়জোর আধুনিক শিক্ষা বা মূল্যবোধের অভাব (যদিও ধর্মই নৈতিকতা শিক্ষার একমাত্র পথ এই দাবী অনুসারে আলেমগনের নৈতিকতার মান হবার কথা সবচেয়ে উচ্চ; এ অনুসারে সকলের আগে তাদেরই মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের কথা) এ ধরনের হালকা যুক্তি দিয়ে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করা গেলেও অতি উচ্চ শিক্ষিত, পৃথিবীর সেবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী বুদ্ধিজীবি যারা আবার ইসলামের আদর্শে গর্বিত এবং একাধারে ইসলাম গবেষক এমনকি আলেম হিসেবে আন্ত্ররজাতিক খ্যাতি আছে তাদের ব্যাপারে কি বলা যেতে পারে? শিক্ষার অভাব, ভুল ইসলাম জানতেন? শুধু মুখে মুখে নৈতিক সমর্থন নয়; এমনকি স্বাধীনতাকামী নিজেদের সহকর্মীদের নামের হিট লিষ্ট বানিয়ে পাকবাহিনী/বদর বাহিনীর কাছে পৌছে দিতেন। মোল্লা আলেমদের কথা না হয় বাদই দেই; সাধারন মানুষ ওনাদের বাইরে বাইরে অতি সম্মানের ভান করলেও বাস্তব ক্ষেত্রে ধর্মীয় রিচ্যূয়াল মানার গাইড ছাড়া আর কোনই গুরুত্ব দেয় না। তার চাইতে দেখা যাক সমাজ যাদের কাছে সবচেয়ে বেশী আশা করে সেই আলোকিত শিক্ষিত সম্প্রদায়ের শীর্ষ কিছু দালাল বুদ্ধিজীবির ভূমিকা, কেন মানবতার স্বাভাবিক ন্যায় নীতি মাড়িয়ে তারা বর্বর পাকবাহিনীর দালালিতে নেমেছিলেন। যদিও এনাদের স্বাধীনতা বিরোধী ততপরতা সম্পূর্ন আলোচনা এখানে উদ্দেশ্য নয়, সম্ভবও না।


ঢাঃবিঃ এর ততকালীন ভিসি অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন ও ডঃ হাসান জামানের কথা প্রথমেই বলতে হয়। দুজনেই ছিলেন অসামান্য প্রতিভার অধিকারী, অসামান্য জ্ঞান ও পাবলিক এক্সপোজারের কারনে সে আমলে তারা ছিলেন রীতিমত সেলিব্রিটি ধরনের বুদ্ধিজীবি। সাজ্জাদ হোসেন ইংরেজী সাহিত্যে প্রথম বাংলাভাষী মুসলমান পিএইচডি ডিগ্রীধারী। ইংরেজীর অধ্যাপক হলেও বাংলা সাহিত্য বিষয়েও জ্ঞান ছিল অনেক বাংলার অধ্যাপকের চেয়েও ভাল। ’৪০ এর দশকে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে তিনি বংগবন্ধুরও শিক্ষক ছিলেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন প্রচন্ড রকমের ধর্মপ্রান, তাঁর বাড়িতে মধ্যযুগের মতই কঠোরভাবে পর্দাপ্রথা প্রচলিত ছিল (আমাদের মত দুষ্ট লোকের ভাষায় ধর্মীয়ভাবে গোঁড়া)। তারই ফলাফল ছিল ইসলাম এবং ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান এক করে দেখা, ফলশ্রুতিতে সরাসরি পাকবাহিনীর দালালি। ঢাঃবিঃ এর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হাসান জামান ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান, অসামান্য বক্তা, শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার যাদুকরী প্রতিভা তার ছিল। তিনিও ছিলেন ব্যাক্তিগত জীবনে প্রচন্ড রকমের ইসলাম ভক্ত। ইসলামী ব্রাদারহুড বিরোধী বাংগালীর স্বাধীনতার আন্দোলন তিনি অনেক আগ থেকেই সরাসরি বিরোধীতা করতেন। ইসলামী জ্ঞানও ছিল তার প্রখর, পাকিস্তান আমলে তিনি টিভিতে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ইসলামী অনুষ্ঠান করতেন যেখানে তার স্বভাবসূলভ মোহময় সুমিষ্ট ভাষায় ইসলামের মানবিক বিষয়গুলি চমতকারভাবে আলোচনা করতেন। এই দুজন স্বভাবতই যুদ্ধের পর জেলে যান, পরে সাধারন ক্ষমার আওতায় বেরিয়ে আরো অনেক রাজাকার বদরের মতই তীর্থভূমি আরব দেশে বহাল তবিয়তে পূণঃবাসিত হন। আরেক প্রতিভাবান সদ্য প্রয়াত কাজী দীন মুহম্মদও এই দলের। বাংলা ভাষার ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব কেন্দ্রিক মৌলিক গবেষনায় তার অসামান্য অবদান আছে, ’৭১ এর দালালির ভূমিকা বাদ দিলে তিনি অত্যন্ত সত সজ্জন ব্যাক্তি ছিলেন। আজীবন জড়িত ছিলেন নানান ইসলামী সংগঠনের সাথে, ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবেও তার পরিচয় অনন্য। এই ব্যাক্তিও যুদ্ধের পর ২ বছর দালালির দায়ে জেল খাটেন। মেধার কি নিদারুন অপচয়, এই ব্যাক্তিরা ধর্মীয় মৌলবাদের বাইরে বেরুতে পারলে হয়ত জাতিকে করতে পারতেন অনেক সমৃদ্ধ। দালাল রাজাকার টাইপের লোক মানেই যে নাটক সিনেমায় দেখানো কুটিল চেহারার দৈত্য দানো কিসিমের কিছু এমন ধারনাও সঠিক নয়। পাক দালালি বাদ দিলে এদের অনেকেই ব্যাক্তিগত জীবনে অতি সত সজ্জন ভাল মানুষ এটাও সত্য। বাস্তবতা ও মানবতার সাধারন উপলব্ধির বিপরীতে ধর্মীয় মৌলবাদের চেতনা থেকে বের হতে পারেননি, তাই ’৭১ এ পাকবাহিনীর পক্ষালম্বন করেছিলেন।


এই জাতের আরেকজন দালাল শিক্ষক ছিলেন ঢাঃবিঃ এর ইতিহাসের অধ্যাপক মোহর আলী। ওনারও ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক হিসেবে আন্তর্জাতিক অংগনে বিশেষ অবদান আছে। ইসলাম বিষয়ক গবেষনার কারনে তিনিও ২০০০ সালে বাদশাহ ফয়সল পুরষ্কার অর্জন করেন। উনি এবং হাসান জামান সে সময় ঢাকা বেতারে পাক সরকারের হয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী নিয়মিত অনুষ্ঠান করতেন। বিস্ময়কর ব্যাপার হল যে ২৫শে মার্চ কাল রাতে হাসান জামানের আপন ভাই ঢাঃবিঃ এর পরিসংখ্যানের অধ্যাপক মনিরুজ্জামানকে ছেলে এবং ভাগ্নেসহ পাক সেনারা হত্যা করে। ভাই, ভাতিজা, ভাগ্নে হত্যাও হাসান জামানের অসীম পাক ভক্তিতে কোন রকম পরিবর্তন আনতে পারেনি। নিষ্ঠার সাথে পুরো ন’মাস পাক সেবা করে গেছেন। সাজ্জাদ হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাঃবিঃ এর ভিসির দায়িত্ব নেবার পর রাঃবিঃ এর ভিসি হন ইসলামের ইতিহাসের অধ্যাপক আবদুল বারী। উনিও ছিলেন আরেক সেলিব্রিটি বুদ্ধিজীবি, ’৬৯ সালে তিনি পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের পুরষ্কার পান। উনিও চিরদিনই ইসলামী আদর্শে গভীরভাবে অনুরক্ত ছিলেন, ’৬০ সালে থেকে দীর্ঘ তিন যুগেরও অপরে তিনি জমিয়তে আহলে হাদিস নামের একটি সংগঠন পরিচালনা করে বহু মাদ্রাসা মসজিদ গড়ে তুলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি জাতীয় ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানান শিক্ষা সংস্কার কমিটিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। এই শীর্ষ দালাল বুদ্ধিজীবিরা (দীন মোহাম্মদ, আবদুল বারী বাদে) অনেকেই দালাল আইনে ২ বছর জেল খাটার পর আরব মূলুকে সসম্মানে পূনঃবাসিত হন। মোহর আলী লন্ডনের ইসলামিক ইনষ্টিটিউটেরও প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ওনারা আগাগোড়াই একনিষ্ঠভাবে ইসলামের সেবা করে গেছেন। এই ধারার বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ব্যাতিক্রম ছিলেন অধ্যাপক আলী আহসান যিনি মুজিব নগর সরকারে যোগ দিয়ে রীতিমত বিস্ময় সৃষ্টি করেছিলেন।


ধর্মীয় মৌলবাদ যে এসব দালাল শিক্ষকদের চালিকা শক্তি ছিল তার আরো প্রমান অন্যান্য দালাল বুদ্ধিজীবিদের ক্ষেত্রেও কম বেশী দেখা যায়। যেমন গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবদুর রহমান। রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করার দাবী করে উনি ’৬৭ সালেই বিবৃতি দিয়েছিলেন। ’৭১ সালে তার দালালি ছিল বাড়াবাড়ি রকমের। বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডের অপারেশনাল ইনচার্জ চৌধূরী মঈনুদ্দিনের ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তি ছিল ফার্মেসীর অধ্যাপক আবদুল জব্বার। তার ভাষায় শহীদ মিনার ছিল পূজার বেদী, মুক্তিযোদ্ধারা জারজ সন্তান। গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের অধ্যাপক আহমেদ হোসেন ঢাঃবিঃ এর লাইব্রেরীর মত পবিত্র অংগনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়েছিলেন “পাকিস্তানী বাহিনী যদি বাংগালী নারীদের শ্লীলতাহানী করে তবে তাদের কোন পাপ হবে না, কারন তারা ইসলাম রক্ষার জন্য জেহাদে নিয়োজিত। তাদের জন্য এই কাজ মূতা বিবাহের পর্যায়ে পড়ে“ [১]। হুবহু একই ধরনের বক্তব্য ফতোয়া আকারে শোনা গেছিল শর্ষিনার পীর, চরমোনাইর পীর জাতীয় আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ আলেমকূলের কন্ঠে যাদের ভক্ত এখনো দেশে বহু লোক আছে। শর্ষিনার পীর ও তার মাদ্রাসার তালেবে এলেমদের কান্ডকীর্তন নাজী বাহিনীর সাথেও নয়, কেবলমাত্র চেংগিস কিংবা হালাকু খানের বাহিনীর সাথেই তূলনা করা চলে। আল্লাহর রহমতেই হয়ত হবে, এই কামেল ব্যাক্তি স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসকদের কুদরতে দুইবার স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। বাংলাদেশ যে সব সম্ভবের দেশ এতে কোন রকম সংশয় প্রকাশ করা যায় না।



ধর্মীয় মৌলবাদী জাতীয়তাবাদ কি নিদারুনভাবে উচ্চশিক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আধুনিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ বিবর্জিত ধর্মগুরুদের মানবিকতার ন্যূনতম নীতিবোধ খুইয়ে এক কাতারে নিয়ে আসতে পারে। গভীর ইসলামী জ্ঞান সম্পন্ন এসব উচ্চশিক্ষিত ব্যাক্তিরাও সবাই জামাতী, ধর্মব্যাবসায়ী, কাঠমোল্লা? এখানে একটি গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট আসতে পারে যে সে সময় অনেক লোক ’৪৭ এর চেতনায় গঠিত পাকিস্তান ভেংগে যাক সেটা চাননি, তাই তারা মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করতে পারেননি। কথাটায় সত্যতা আছে, এ ধরনের মতবাদের লোক তখন ছিল, তবে তারা সবাই এভাবে পাক বাহিনীর নির্লজ্জ দালালিতে নামেননি। যাদেরই সূস্থ বিবেকবুদ্ধি ছিল তারা মুক্তি সংগ্রাম সমর্থন করতে না পারলেও পাক/রাজাকার বাহিনীর নৃ্সংশ কার্যকলাপও সমর্থন করতে পারেননি, তারা ছিলেন অনেকটাই নিরপেক্ষ। ’৪৭ এর ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের চেতনার কারনে পাক/রাজাকার বাহিনীর নৃশংসতা চোখের সামনে দেখেও সমর্থন দিতে হবে, নিজের ভাই ভাতিজা ভাগ্নের হত্যাকারীদের হয়ে দালালি করে বেড়াতে হবে এটা কোন সূস্থ যুক্তিবোধের মধ্যে পড়ে? আর ’৪৭ সালে ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান চায়নি পূর্ববংগে এমন মুসলমান বাংগালী ছিল ছিল কয়জনা? তো সেই একই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের কাছে ’৪৭ এর চেতনা ’৭১ এ এসে হারিয়ে গেল আর কিছু দালাল তাবেদার রাজাকার বদর বাহিনীর লোকের কাছেই কেন ’৪৭ এর চেতনা বড় হয়ে দেখা দিল? এর কারন ছিল ইসলামের নামে প্রচলিত কিছু মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি এই গ্রুপের অন্ধ বিশ্বাস। এই মৌলবাদী বিশ্বাসের কারনেই এই গ্রুপের কাছে স্বাভাবিক মানবিকতা বোধ হয়ে গেছিল পরাভুত। মুরুব্বীরা নাহয় বোঝা গেল যে পাকিস্তান ভেঙ্গে আবারো হিন্দু আধিপাত্য কায়েম হবে এই আতংকে ছিলেন। আজকের প্রজন্মের ছাগুরা ’৪৭ সালের কি বোঝে? তারা কি পাকিস্তান আমল দেখেছে যে সেই আমল কত ভাল ছিল তার সুখস্মৃতি রোমন্থন করতে পারে? অল্প দুয়েকটি ব্যাতিক্রম বাদে পুরো আরব বিশ্ব, সামগ্রিকভাবে মুসলমান বিশ্ব যে ’৭১ সালে পাকিস্তান সরকারকে সমর্থন দিয়ে গেছে তাদের সাথে ’৪৭ সালের কি সম্পর্ক? এমনকি ভারতীয় জনগন প্রচন্ডভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ সমর্থন দিলেও ভারতীয় মুসলমানরা বিশেষ করে উর্দুভাষী মুসলমানরা ছিল সরাসরি বিরোধী। '৪৭ এর মহান চেতনায় আলোকিত হয়ে এরা অনেকে প্রানের ভয়ে পালিয়ে আসা উদ্বাস্তু বাংগালী মুসলমানদের গালিগালাজ করেছেন, এমনকি মুসলমান দোকানদার জয় বাংলার লোক শুনলে জিনিস বিক্রি করতে অস্বীকার করেছেন। '৪৭ এর চেতনা সত্যিই খুব মহান।



আসল কথা হল যাদের কাছেই ইসলামী জাতীয়তাবোধ বড় বলে মনে হয় তাদের মাঝেই স্বাধীনতাবিরোধী চেতনার বিকাশের হার অতি প্রকট, এটা ’৭১ ও দেখা গেছে, আজকের দিনেও দেখা যায়। এর মাঝে জামাতী, অজামাতী, ধর্মব্যাবসায়ী এসব ব্যাপার নেই। যারা অহঃনিশি ধর্মীয় জগতে ডুবে থাকেন, জীবনের প্রতি পদক্ষেপ ধর্মীয় চেতনায় চালানোর চেষ্টা করেন তাদের মাঝে স্বভাবতই ইসলামী জাতীয়তাবাদ খুব বড় ব্যাপার। এরই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে মোল্লা মাওলানা থেকে শুরু করে আধুনিক শিক্ষায় আলোকিত উচ্চশিক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মাঝেও। আদর্শিক কারনেই তারা রাজাকারি করেছিলেন বলেই স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও তাদের মানসিকতার কোনই পরিবর্তন হয়নি। নিজামী গোলাম আজম যেমন বলে যে ’৭১ সালে তারা কোন ভুল করেনি তেমনি সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনও তার বইতে আরো জঘন্য ভাষায় ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের হয়ে নানান সাফাই (পাক বাহিনীর সাফাই নয় কিন্তু), মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, বংগবন্ধু, স্বাধীন বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে গেছে। যারা হালুয়া রুটির লোভে সরকারের দালালি করে তারা সাধারন দ্রুতই নুতন সরকার আসলে বর্ন পরিবর্তন করে, এরা মোটেও সে জাতের না।



স্বাভাবিকভাবেই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিরও সিংহভাগও মুসলমান এই প্রশ্ন আসবে যা পরের পর্বে আলোচনা করব। সাথে ওপরে বর্নিত চক্রের মনমানসিকতা আজকের দিনে কতটা পরিবর্তিত হয়েছে তা আলোচনা করব।



সূত্রঃ

১। একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায় – মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভিসি অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন ও ডঃ হাসান জামানের


'ষোল আনাই মিছে' র দলের লোক


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দারুন হয়েছে। আজকের লেখায় একেবারে মূল অংশে ঢুকেছেন। আসলে আমাদের ভাবা দরকার স্বাধীনতাবিরোধীদের শুধু পাকিপ্রেমী-জামাতী বলাটা কতটা যুক্তিসংগত। কারন দেখা যাচ্চে এই প্যাথলজিক্যাল সমস্যার রুট আরও গভীরে। পাকিস্থান-পাকবাহিনী একটা উপলক্ষ মাত্র। আজকে যদি কোনো কারনে পাকিস্থান দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিন্হ হয়ে যায়, তবু এই স্বাধীনতাবিরোধীতার মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে না।

আজকের যেসব হিজবুতেরা ধর্মীয় জাতিয়তাবাদের নামে খেলাফতের ঝান্ডা উড়িয়ে বেড়ায়, এদের সাথে ৭১এর স্বাধীনতাবিরোধীদের কোনো পার্থক্য নেই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এ কথাগুলিই আসলে গুছিয়ে তথ্য প্রমান সহ বলার চেষ্টা করছি। আমার খুব হতাশ লাগে যে এসব অতি মৌলিক অ গুরুত্বপূর্ন বিষয় আলোচনা করার মত লেখক পাঠক কেউই তেমন নেই। গোলাম আজম কত খারাপ সাঈদী কয় মহিলাকে পাক ক্যাম্পে সাপ্লাই দিয়েছে কিংবা ছাগুদের কতভাবে গালিগালাজ করা যায় এসবে যতটা আগ্রহ পাবলিকের আছে সেই পরিমান আগ্রহ এ জাতীয় আলোচনায় দেখা যায় না।

নিজামী গোলাম আজম ফাঁসীতে ঝুললেও তাতে কেবল আবেগময় মনেরই সান্তনা হবে, কিন্তু মূল সমস্যা রয়েই যাবে, আরো ভয়াবহ টাইপের লোক নিত্যই পয়দা হবে ও হচ্ছে। এই সরল ব্যাপার এখনো সেভাবে মানুষের বিবেচনায় আসচে না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Star Star Star Star Star এটাই মূল কথা।

'সদালাপে' স্টিকি রাখার মতন পোষ্ট Tongue


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আবার পড়বো।
ধন্যবাদ আদিল ভাই।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অজকের পোস্টাটা একেবারে জায়গামত হয়েছে। সিরিজ জমে গেছে। লেখার সাবলীলতার কারনে একটানে পড়ে গেছি। আগামী পোস্ট আর ইন্টারেস্টিং হবে। অপেক্ষায় থাকলাম।

__________________________________
শোনহে অর্বাচিন, জীবন অর্থহীন.............


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসল কথা হল যাদের কাছেই ইসলামী জাতীয়তাবোধ বড় বলে মনে হয় তাদের মাঝেই স্বাধীনতাবিরোধী চেতনার বিকাশের হার অতি প্রকট, এটা ’৭১ ও দেখা গেছে, আজকের দিনেও দেখা যায়।


আপনার এই থিওরীতে "বাংলাদেশ ওলামালীগ" বা এই রকম নামে ইসলামিক চিন্তাধারার অলেমাদের নিয়ে গঠিত আওয়ামীলীগের অংগ সংগঠনকে আপনি কি ভাবে দেখেন?

-------------------------------------------------------------------------------------------------

মানুষের দোষে ধর্ম দোষী
রাজা'র দোষে রাজ্য দোষী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বিস্তারিত, অন্তত কমেন্ট করার মত তথ্য না জেনে কথা বলা আমার স্বভাব নয়। আমি এদের সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। তবে আওয়ামী লীগের সাথে থাকলেই এরা স্বাধীনতা বিরোধী হবে না এই জাতের চিন্তা খুবই অবাস্তব। খোদ আওয়ামী লীগেই কম হলেও আসল রাজাকার ছিল বা আছে।

প্রশ্নের জবাব প্রশ্ন দিয়ে করা উচিত নয়, তাও করছি। এর জবাবের ওপর আপনার প্রশ্নের জবাব নির্ভর করে।

একই সাথে বৃহত্তর মুসলিম ঊন্নায় পূর্ন বিশ্বাস এবং মুসলমান পাকিস্তান ভেংগে বাংলাদেশ গঠন সমর্থন কি সম্ভব?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একই সাথে বৃহত্তর মুসলিম ঊন্নায় পূর্ন বিশ্বাস এবং মুসলমান পাকিস্তান ভেংগে বাংলাদেশ গঠন সমর্থন কি সম্ভব?


অবশ্যই আমি মুসলিম উম্মায় পূর্ন বিশ্বাসী হয়েও পাকিস্থান ভেঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন হবার প্রতি পূর্ন সমর্থন করি এবং করি বলেই যুদ্ধে ছিলাম এখনও তারই পক্ষে রাজনীতি করি, না বাম না ডান।

সেজন্যই আমি আগের মন্তব্যে কোড করেছিলাম "ইসলাম" আর "জাতীয়তাবাদ" এর পার্থক্য দেখার জন্য যে আপনি ধরতে পারেন কিনা। এ দুটি আপনি কি ভাবে এক করে দেখছেন? পলিটিক্যাল সায়েন্স জার্নালে বহু আর্টিকেল দেখবেন "ইসলাম" ও "জাতীয়তাবাদ" এর মধ্যে পার্থক্য কোথায়।

-------------------------------------------------------------------------------------------------

মানুষের দোষে ধর্ম দোষী
রাজা'র দোষে রাজ্য দোষী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইসলাম আর জাতীয়তাবাদের মিল অমিলের কি ব্যাপার বুঝলাম না। ইসলাম হল একটা বিশ্বাস; আর ইসলামী জাতীয়তাবাদ হল সে বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি জাতীয়তাবাদের কন্সেপ্ট যা সাধারনভাবে সব মুসলমানেরই থাকে যেমনি থাকে খৃষ্ট কিংবা হিন্দু জাতীয়তাবাদ।। ইসলাম/মুসলিম জাতীয়তাবাদ এক কি না সেটার প্রশ্ন আসলেও আসতে পারে।


তবে যারা মনেপ্রানে বিশ্বাস করেন যে বাংগালী/বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ বলে কিছু নেই, ইসলামী জাতীয়তাবাদই তাদের প্রকৃত পরিচয় সমস্যা হয় তাদের নিয়ে। '৭১ সালে রাজাকারি করার পেছনের মাইন্ডসেট এটা দিয়েই মূলত নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। মনেপ্রানে বিশ্বাস করলেন যে আপনি সকল মুসলমান সমন্বয়ে এক রাষ্ট্র গড়বেন আর চোখের সামনে দেখলেন যে ধর্মের নামে গঠিত নিজের দেশে ভেংগে দুই টুকরা হচ্ছে সেটা গ্রহন করা খুব সহজ ব্যাপার ছিল না।

বাংগালী/বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস বলে কিছু আছে কি নেই সেটা মুখে বলা খুব বড় প্রমান নয়। কাজে কর্মেই বোঝা যায়। আজকের দিনেও যারা রাজাকার বা ছাগু হয় তাদের ও রাজনৈতিক কনসেপ্ট এই দ্বি-জাতীয়তাবাদের দ্বন্দ্ব থেকেই হয়। এ নিয়ে সামনের পর্বে বিস্তারিত থাকবে, আপতত খুব বেশ বলছি না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মনেপ্রানে বিশ্বাস করলেন যে আপনি সকল মুসলমান সমন্বয়ে এক রাষ্ট্র গড়বেন


আপনি কোথায় পেলেন যে আমি মুসলিম সমন্বয়ে রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখি? মুসলিম উম্মা এর ব্যাখ্যা পারলে কোথাও জেনে নিবেন। পলিটিক্যাল সায়েন্স জার্নালে অনেক লেখা পাবেন "ইসলাম ও জাতীয়তাবাদ" শিরনামে।

আর চোখের সামনে দেখলেন যে ধর্মের নামে গঠিত নিজের দেশে ভেংগে দুই টুকরা হচ্ছে সেটা গ্রহন করা খুব সহজ ব্যাপার ছিল না।


এ বাক্যের অর্থ আমি বুঝি নাই।

পলিটিক্যাল সায়েন্সের সূত্র অনুযায়ী "জাতীয়তাবাদ" হচ্ছে একই রাজনৈতিক আদর্শে একটি প্লাটফর্ম আর ইসলাম উম্মা হচ্ছে ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাসে প্লাটফর্ম। তবে ধর্মীয় আদর্শ যখন (ইদানিং) রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয় তখন সেটাকে আপনার ভাষায় ইসলামি জাতীয়তাবাদ বলা যায়। তখন ইসলামের মূল আকিদার চেয়ে রাজনীতিটাই বেশূ মূখ্য হয়। সেকারনেই মোহাম্মদ বা তার চার খলিফা আমলের ইসলামিক উম্মা আর এখনকার যুগের ইসলামি উম্মার মধ্যে তফাত আছে। এখন যে ইসলামিক আন্দোলন হচ্ছে বা হয় তা ইসলামিক জাতীয়তাবাদের ফসল (যা ইসলামের রাজনৈতিক ভার্সন) আর মোহাম্মদের সময় যে ইসলামিক আন্দোলন হয়েছিল সেটা ছিল ইসলামি উম্মার ফসল (যা ইসলামের মূল আকিদা)।

পাকিস্থান থেকে বাংলাদেশের আলাদা হবার ভিক্তি ছিল বাঙালী জাতীয়তাবাদী যা একটি রাজনৈতিক আদর্শ সেটি ইসলামিক উম্মা'র কোন ভিক্তি ছিল না। সে কারনে আমি পাকিস্থানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে।

মুসলিম উম্মা আর মুসলিম রাষ্ট্র গঠন দুটি পৃথক বিষয়। আমি মুসলিম উম্মার পক্ষে মুসলিম রাষ্ট্রের বিপক্ষে।

-------------------------------------------------------------------------------------------------

মানুষের দোষে ধর্ম দোষী
রাজা'র দোষে রাজ্য দোষী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মনেপ্রানে বিশ্বাস করলেন


- এটা ঠিক আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলিনি। কথা বোঝাতে গেলে বা কোন হাইপোঠিটিক্যাল সিচুয়েশন বোঝাতে গেলে অনেক সময় এমন ধরনের টেন্স ব্যাবহার হয়ে যায়। এটা ব্যাক্তি আপনাকে উদ্দেশ্য করে নয়। ব্যাক্তি করতোয়াকে নিয়ে আমার তেমন আগ্রহ আপাতত নেই।

আর চোখের সামনে দেখলেন যে ধর্মের নামে গঠিত নিজের দেশে ভেংগে দুই টুকরা হচ্ছে সেটা গ্রহন করা খুব সহজ ব্যাপার ছিল না।


- এটাও ব্যাক্তি আপনাকে উদ্দেশ্য করে নয়। সে সময় যারা পাক সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা করা ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছিল তাদের মানসিকতা কেমন ছিল, কিসের তাড়নায় তারা সেসব করেছিল তা বর্ননা করার চেষ্টা করেছি নিজে যা বুঝেছি তার ভিত্তিতে। যারা সে সময়ের কৃত কর্মের জন্য অনুতপ্ত নয়, আত্মপক্ষ সমর্থন করে নানান সাফাই গায় তাদের সবার মূল কথা এটাই থাকে। তারা অনেক ত্যাগ তীতিক্ষা করে '৪৭ সালে স্বপ্নের পাকিস্তান গড়েছিলেন, '৭১ এ এসে সেটা ভেংগে যাওয়া গ্রহন করতে পারেননি। এতে কি আপনার কোন দ্বি-মত আছে? থাকলে আমাকে বেহুদা এখন গোলাম আজম থেকে শুরু করে সৈয়্যদ সাজ্জাদ হোসেন সবার কথাবার্তা কোট করা শুরু করতে হবে।

প্রথাগত যে কোন ধর্মানুসারীই তত্ত্বীয়ভাবে দ্বৈত জাতীয়তাবাদ পায়। আমেরিকান একজন খৃষ্টান একই সাথে আমেরিকান আবার খৃষ্টান। তেমনি মুসলমানরাও পায়। বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানের মুসলমানরা একই সাথে বাংলাদেশী এবং মুসলমান। এর মাঝে পলিটিক্যাল সায়েন্সের কোন গভীর তত্ত্ব মনে হয় না বোঝা লাগে। ডুয়েল আইডেন্টিটি যখন মানুষের থাকে তখন কিছু ক্রিটিক্যাল ষ্টেটে সে কোন আইডেন্টিটি বড় করে দেখে সেটা খুব গুরুত্বপূর্ন হয়। '৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি এবং আজকের স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের মনমানসিকতা বিচার করলে সেটাই দেখা যায়। এ নিয়ে বিস্তারিত পরের পর্বে থাকবে।

আপনার তত্ত্বীয় কথাগুলি '৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে তখন বোঝানো গেলে খুব ভাল হত।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি খুব শক খাইলাম। আমাকে নিয়ে আপনার কোন আগ্রহ নাই এতে আমি মাইন্ড খাইলাম। যদি খারাপ কিছু কইরা থাকি মাফ কইরা দিয়েন। আর কখনও আপনার পোষ্টে ঢুকুম না যান কসম খাইতাছি।

আপনার তত্ত্বীয় কথাগুলি '৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে তখন বোঝানো গেলে খুব ভাল হত।


সে সময় তো এই ত্বত্তগুলো আমাদের জানা ছিল না। যাদের ছিল তারা যে কি করেছিল বুঝি না।

আমার মনে হয়, সে সময় বঙ্গবন্ধু বাঙালী'র "ইসলাম উম্মা" আর "জাতীয়তাবাদ" দুটিকে আলাদা করেই ৬ দফা রচনা করেছিলেন কিন্তু তার সাগরেদরা সম্ভবত শুধু "জাতীয়তাবাদ" নিয়েই বেশী ফোকাসে ব্যস্ত ছিল (যে কোন উদ্দেশ্যে হতে পারে)। কারন তা নাহলে বঙ্গবন্ধু'র "জাতীয়বাদ" স্বাধীন হবার সাথে সাথেই ভারতের পরামর্শ উপেক্ষা করে ওআইসি মিটিং এ যোগদান করতে গেলেন বাঙালী'র "ইসলাম" উম্মা'র প্রতি সমর্থন ঘোষনার জন্য। বঙ্গবন্ধু সঠিকভাবেই বাঙালী'র "ইসলাম উম্মা" আর "জাতীয়তাবাদ"কে পৃথক করতে সমর্থ হয়েছিলেন কিন্তু তাঁর পরবর্তীতে আমরাই দুটো মিলে একটা খিচুরী বানিয়ে ফেলেছি।

-------------------------------------------------------------------------------------------------

মানুষের দোষে ধর্ম দোষী
রাজা'র দোষে রাজ্য দোষী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার শক পাবার কি হল বুঝলাম না। আপনি কি আমার পরিচিত কেউ নাকি আত্মীয় স্বজন যে আপনাকে নিয়ে আমার গভীর কোন আগ্রহ থাকবে? নেহায়েত ব্লগে মাঝে মাঝে কথাবার্তা হয়। আপনি রাজাকারি করলে নাহয় এই লেখার খাতিরে আপনাকে নিয়ে কিছুটা হলেও আগ্রহ বোধ করতাম। তেমন সম্ভাবনা আছে মনে হয় না।

আমরা বংগবন্ধুর পরবর্তি যুগে কিভাবে জাতীয়তাবাদ বিবর্তিত হল কিংবা কেন তিনি ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের সাথে আপোষ করে ওয়াইসিতে যোগ দিতে গেলেন এসব আলোচনায় এখানে যাচ্ছি না। আমার বিষয়বস্তুর সাথে এসবের সরাসরি সংযোগ নাই।

বংগবন্ধুর ৬ দফায় কোন ধরনের জাতীয়তাবাদ ছিল আর তাতে ততকালীন রাজাকার সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করেছিল এমন কোন তথ্য প্রমান উদাহরন থাকলে বলতে পারেন।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল ভাই স্যালুট আপনাকে।
আমার পড়া ব্লগের অন্যতম সেরা লেখা এটা।
এতো সহজ করে কিভাবে যে লিখেন এরকম জটিল ব্যাপার গুলো।

Star Star Star Star Star

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চেষ্টা করি রে ভাই।

আপনাকেও বিরাট স্যালুট এই বীর বন্দনার কারনে।

আমারো মনে হয় ব্লগের সেরা কমেন্ট এটা।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চালান , পড়ছি Star Star Star Star Star

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
" যারা পাকিস্তানের সাথে রিকন্সিলিয়েশন এর ধুয়া তোলে , থুথু ছিটাই সেসব বেজন্মাদের মুখে "


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বস, আপনার সাথে একশত ভাগ সহমত না হয়ে কোন উপায় নেই। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেও দেখেছি যারা ৭১ এ স্বাধীনতার যুদ্ধের বিরোধী ছিল বা যারা আজও জামাত বা অন্যান্য ধর্মীয় রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের মধ্যে এই মুসলিম জাতীয়তাবাদ খুবই প্রবল। আর ইতিহাস বলে যে কোন ধারার উগ্র জাতীয়তাবাদ এক ভয়ঙ্কর ব্যধি যা নিরাময় করাও প্রায় অসম্ভব। তবুও যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আপনি লিখছেন তা সফল হোক। সাথে আছি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক ধন্যবাদ। আসল সমস্যা সে যায়গাটাতেই। দ্বৈত জাতীয়তাবাদের উগ্র ভুত হল মূল পয়েন্ট। দূঃখজনকভাবে আমরা জেনে বা না জেনেই এই জিনিস প্রমোট করি, ধর্মীয় অনুভূতির আড়ালে এর বিরুদ্ধে কিছু বলার মত পরিবেশও পাওয়া যায় না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক কিছু জানলাম....

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ক্যাঁচাল করবেন না Laughing out loud ?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধমাধমের একটা যুতসই পোস্ট না পাওয়া পর্যন্ত ক্যাচাল চলবেই Tongue

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Star Star Star Star Star

ছাগুচীফের লেখা প্রিয়তে নিলাম। শেয়ার দিলাম

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঠিক আছে বেলু ছাগু।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঠিক আছে বেলু ছাগু।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাসেন? তার মুখোশ যে খুলে গেছে জানেন না এখনো?

সে এইখানে ভালমানুষের মত থাকে আর বাইরে যত ছাগু পাগুদের পুষে, সব ছাগু তার জিগরি দোস্ত। যে সে লোকে ধরলে কথা ছিল না। ধরছে ফারমার ভাই। '৭১ সালের পর আবারো মুক্তিযোদ্ধার হাতে ছাগু ধরা।

ধরা খাওয়ার পরেও কথা বলতে আসছিল, দুই ধমক দিছি পর ভয়ে চুপ করছে।

http://www.amarblog.com/pavelcc/posts/143890

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সিরিজটা মিস যায় নাই, কমেন্ট করা হয় নাই দৌড়ের উপর আছি বইলা। পরের পর্বের অপেক্ষায়

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ছাগু চীফ,

ভাল আছেন? অনেকদিন দেখি না।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বেহেস্তে যাওয়ার প্রচন্ড আখাংকা থেকে এইসব ধর্মিয় জাতিয়তাবাদই মানুষগুলা কোনো লজিক প্রমান বিশ্বাস করে না, তাদের চোখে থাকে বেহেস্তে যাবার তীব্র বাসনা।

-------------------------------------
বাংলার আপদে আজ লক্ষ কোটি বীর সেনা
ঘরে ও বাইরে হাঁকে রণধ্বনি, একটি শপথে
আজ হয়ে যায় শৌর্য ও বীরগাথার মহান
সৈনিক, যেন সূর্যসেন, যেন স্পার্টাকাস স্বয়ং সবাই।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মানুষকে যা শেখানো হয়, যেভাবে গাইড করানো হয়ে সে সেভাবেই শেখে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

“পাকিস্তানী বাহিনী যদি বাংগালী নারীদের শ্লীলতাহানী করে তবে তাদের কোন পাপ হবে না, কারন তারা ইসলাম রক্ষার জন্য জেহাদে নিয়োজিত। তাদের জন্য এই কাজ মূতা বিবাহের পর্যায়ে পড়ে“ [১]।


বাহ বাহ ,,,, কি সুন্দর বাণী। মন প্রাণ জুড়ায়া গেল। ধমাধমে আছে নাকি এরকম কিছু?

এই পর্বটা খুবই ভাল হয়েছে।

.
~ ‎"বিদ্যা স্তব্ধস্য নিস্ফলা" ~


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাল হইছে ক্যান? উপরে কোট করা নিজের মনের মতন থিয়োরী পাইছেন তাই?

ধমাধম যেহেতু আগের ধর্মগুলির কন্টিনিউশন তাই বলাই বাহুল্য। তবে হ্যা, এসব নিয়ে ধমাধমের কোন সমালোচনা চলবে না, আপনাকে আগে কন্টেক্সট বুঝতে হবে......

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ হোরাস,


“পাকিস্তানী বাহিনী যদি বাংগালী নারীদের শ্লীলতাহানী করে তবে তাদের কোন পাপ হবে না, কারন তারা ইসলাম রক্ষার জন্য জেহাদে নিয়োজিত। তাদের জন্য এই কাজ মূতা বিবাহের পর্যায়ে পড়ে“ [১]।


বাহ বাহ ,,,, কি সুন্দর বাণী।


হুজুর ইসলামিক আদর্শ বা কিতাব বহির্ভুত কিছু বলেন নি। বর্তমান সময়ের ছাগু প্রজাতি মাদ্রাসা থেকে উৎপন্ন ৭১এর রাজাকার -আলবদরের বিবর্তিত রূপ। মাদ্রাসা যতদিন থাকবে, ইসলামিক আদর্শ তথা মুসলিম জাতীয়তাবাদ ও বাঙ্গালী বা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মধ্যকার সঙ্ঘাত ততদিন চলবে। ফলস্বরূপ সময়ে সময়ে বিভিন্নরূপে, বিভিন্ন নামে ছাগু প্রজাতির বিবর্তন ঘটবে তারা কোনদিনই সমূলে বিলুপ্ত হবেনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোষ্টে Star Star Star Star Star

----------------------------------------------------------------
ইচ্ছে আছে উড়ব সোজা, কিম্বা বেঁকে ...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল ভাই, আমরা যারা এই ঘটনাগুলির প্রত্যক্ষদর্শি কিন্তু আমাদের লেখালেখির অক্ষমতার কারনে প্রকাশ করতে পারিনা, আপনারা আমাদের সেই অক্ষমতা অনেকটাই পূরন করে দিচ্ছেন। শুধু ধন্যবাদ দিয়ে এইসব লেখাকে ছোট করতে চাই না।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরোধিতার অনেক কারনের মধ্যে ধর্ম নিস্ঠতা যে অন্যতম অনুপান হিসেবে কাজ করছে, তা আজকের অনেক ধর্মনিস্ঠ মানুষ স্বীকার করতে চায় না।অথচ তখন এইসব বিরোধীরা একে তাদের জেহাদ মনে করতেন। ৬ই ডিসেম্বর দৈনিক পাকিস্তান এ প্রকাশিত একটি খবরে বলা হয়--

" জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মওদুদি ছাত্র প্রতিনিধিরদের সঙ্গে আলাপ করতে গিয়ে বলেন, নাস্তিক ও বিধর্মীদের বিরুদ্ধে জেহাদ প্রত্যেকটি মুসলমানের জন্য শরীয়তের হুকুম।"

মুক্তিযোদ্ধা মানেই তাদের কাছে ছিল নাস্তিক ও বিধর্মী।

সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন (যাকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত "চরমপত্রে" এম আর আখটার মুকুল বলতেন "সৈ্যদ বজ্জাত হোসায়েন") তার "সৃতিকথায়" ৭১ এ তার কর্মকান্ডের কৈফি্যত দিতে গিয়ে তার ঘিনঘিনে সাম্প্রদায়িক চেহারাটাই আরো উন্মোচিত করেছেন।তার কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধুই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন।তার কৈফিয়ত তিনি পাকিস্তান সৃস্টির ইতিহাস বর্ননা করে বলেন--

" যে আদর্শের ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তান প্রতিস্ঠিত হয়, তার প্রতি ছিল আমার অকুন্ঠ সমর্থন।"

সেই ভিত্তি ইসলামী জাতীয়তাবাদের বদলে যখন বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিস্ঠিত হল, তার সেই মর্মবেদনা জিয়াউর রহমান এসে কিছুটা হলেও মুছে দিতে পেরেছিলেন-----

" বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ সম্বন্ধে সালাম সাহেব পরোক্ষভাবে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন এবং যে কথা আমরা আগাগোড়াই বলে এসেছি, তার যথার্থতা প্রমানিত হয়, যখন প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘোষনা করেন যে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদই হবে এদেশের মূল নীতি। এ ঘোষনার মধ্যে এই স্বীকৃতিই ছিল যে, এ অন্চলে সংখ্যাগুরু সমাজের যে বিশ্বাস এবং জীবনধারা তার উপর নির্ভর করেই নতুন রাস্ট্রকে এগুতে হবে। বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ বললে বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় স্বাতন্ত্রের কোন যৌক্তিকতা থাকে না।

এই বই টি ১৯৯৩ সনে অনুকূল পরিস্হিতিতে প্রকাশিত হয় কারন তখন অনেক তুচ্ছ্য কারনে বিভিন্ন বউ নিষিদ্ধ হলেও সাঝ্জাদ এসব কথা বলেও পরি্ত্রান পেয়ে যান, যখন তিনি বলেন-----

"আরো আশ্চর্যের কথা যে, তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা যারা ৭১ এ তাদের ভূমিকা নিয়ে গর্ব করে বেড়ায় তারাই আবার দেশের অভাব অরাজকতার অজুহাত তুলে খোলাখুলিভাবে বলতে শুরুন করেছে যে বাংলাদেশের পক্ষে ইন্ডিয়ার একটা প্রদেশ হিসাবে পুনঃপ্রত্যাবর্তনই হবে তার ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক। তার মানে তারা কোনদিনই এ অন্চলের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে নি। যে বাংলা ভাষা নিয়ে এতো লম্ফঝম্ফ তা নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথা নেই। তারা নিশ্চয়ই জানে যে ভারতের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে রাস্ট্রভাষা হবে হিন্দি। তাহলে পাকিস্তান বিরোধী যে আন্দোলনের পরিনতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিস্ঠিত হয়েছিল, একদল লোক এটাকে পুর্ব পাকিস্তানের ভারতভুক্তির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। এরাই বলছে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবংসাংস্কৃতিক কারনে একটা অবাস্তব স্বপ্ন মাত্র।"

কবে কখন কোথায় কোন মুক্তিযোদ্ধা এই দাবী তুলেছিলেন, তা কিন্তু তিনি বলেন নি।এ্ত মিথ্যা তথ্য দিয়েও তিনি পার পেয়ে যান শুধু অনুকূল সরকার পেয়ে।

বড় কমেন্টের জন্য ক্ষমা করবেন আদিল ভাই।

--------------------------------------------------------------------------------
ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস। বিশ্বাসে কোন যুক্তি প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বড় কমেন্টে সমস্যা কি? বড় কমেন্টই কাম্য। শুধু লেখা ভাল হয়েছে খারাপ হয়েছে এমন শর্ট কাট কমেন্ট তেমন কাজে আসে না।

'৭১ এর ঘটনায় পাক/তাদের এ দেশীয় দালাল দুই সম্প্রদায়ের মননেই উগ্র ধর্মীয় চেতনা খুব গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছে। এই সত্য কিভাবে এড়ানো যায় আমি বুঝি না। অনেকে জেনেশুনেও ইচ্ছে করেই এড়াতে চান। এতে হয়ত তাদের ধর্মীয় অনুভূতি আপাতত রক্ষা পাচ্ছে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশ। কারন সেই অনাঘ্রাত বীজ থেকে জন্ম নিচ্ছে নুতন প্রজন্মের গোলাম আজম চৌধূরি মঈনুদ্দিনরা। বিষদাঁত দেখাবারঅপেক্ষায় আছে কেবল অনুকূল পরিবেশের জন্য। '৭১ এর আগে যেমন টের পাওয়া যায়নি গোলাম আজম গং কি জিনিস তেমনি এখনো টের পাওয়া যাচ্ছে না আমাদের আশেপাশেই কি সব জিনিস দিনে দিনে পয়দা হচ্ছে।

'৭১ এ ধর্মের ভূমিকা ঢাকার কিছু ভাল পদ্ধুতি আছে। তার অন্যতম হল "জামাতি' পদ্ধুতি। ভাবখানা এমন যে জামাতি ছাড়া কেউ স্বাধীনতা বিরোধী ছিল না। আর জামাতিরা মুসলমান নয়, সেকালের একালের দুই কালেরই জামাত শিবিরের যে কোন সাধারন কর্মী যে কোন সাধারন মুসলমানের চাইতে ভাল তত্ত্বীয় ইসলামের জ্ঞান রাখে। তার স্বীকৃতিও তারা পায়, আমরা যাদের স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী ধর্মব্যাবসায়ী বলি তারা আলেম হিসেবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়, ইসলাম সেবার পুরষ্কারও পায়। গণহারে জামাতি লেবেলের মূল কারন হল যেহেতু জামাতিদের দেশের মানুষ সাধারনভাবে ঘৃণা করে তাই যাবতীয় দায় এখন তাদের ঘাড়েই চাপানো নিরাপদ।

জামাতি তত্ত্ব মানলে বলতে হয় যে সে সময় দেশের সমগ্র মোল্লা আলেম সম্প্রদায়ই ছিল জামাতি (দূঃখজনকভাবে সেটা '৭১ এর আগে জানা যায়নি!)। সাজ্জাদ হোসেন, হাসান জামান, দীন মোহাম্মদ যাদের সাথে রাজনীতির কোন সংশ্রবই ছিল না তারাও সব জামাতি, ধর্মব্যাবসায়ী।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতেও পাকিস্তানকে অন্ধভাবে সমর্থনকারী সব দেশ ছিল জামাতি (ধর্মীয় চেতনার কোনই ভূমিকা নাই)। সৌদী তো জামাতি বটেই, এমনকি সেক্যুলার তুরষ্কও আসলে জামাতি।

মান্নান মাওলানার মত শীর্ষ রাজাকার পরের দিকে হয়েছিল কড়া জামাত বিরোধী। তাতেও অবশ্য কিছু যায় আসে না, সবই জামাতি।

অন্ধ সাজার সীমা থাকা দরকার।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার ধারনা, অন্যান্য উপযোগের পাশাপাশি "পাকিস্তান মানেই পাক স্থান" এবং তার বাইরে যাওয়া মানেই "হিন্দু স্তান" এর কাছে সমর্পিত হওয়া, জাতীয় একটা মনোভাব তখন ধর্মান্ধ মুসলমানদের ভেতরে গেঁড়ে বসেছিল!

পোস্ট প্রিয়তে রাখলাম।

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কিছু সংশোধন আছে।

গেঁড়ে বসেছিল!


- আজও সেটা আছে।

আপত দৃষ্টিতে পাকিস্তান মনে হলেও সমস্যা পাকিস্তান ভিত্তিক নয়। আসল ডেষ্টিনেশন আরো বৃহত। আজকের প্রজন্মের ছাগুরা পাকিস্তানের কি বোঝে যে তারা রাতারাতি যে দেশের জন্ম নিয়ে সে দেশের জল হাওয়ায় বড় হয়ে সে দেশ অস্বীকার করে পাকিস্তানপ্রেমী হয়ে পড়ে? পাকিস্তান কি আমেরিকা?

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখানে ধর্মের চাইতেও বড় প্রভাবক মনে হয় "সুবিধাবাদী" মনোভাব। যেমন, আজকেই যদি ভারত বাংলাদেশ আক্রমণ করে, গণহত্যা শুরু করে তাহলে কি ইসলামের ঝান্ডাধারী জামাতশিবির হিযবুতিগুলা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে ? মনে হয় না। বরং মনে হয় যে তারা নগদে টুপি খুলে দাড়ি কামিয়ে পৈতা-ধূতি পরে বিপক্ষ শিবিরে হিন্দু-রাজাকার হিসেবে কাজ করবে। যুদ্ধ তখনও করেছিল অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার লোকজন, এখনোও তারাই করবে। যেমন, অতি মুসলিম পাইক্যাদের কিন্তু নাস্তিক চিনাদের সাথে প্রবল দহরম মহরম, ইহুদি-নাসারা আম্রিকার কাছ থেকেও ডলার নিতে তাদের বাঁধে না।
অবশ্য আমার অবজারভেশন ভুলও হতে পারে।

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সুবিধেবাদী ফ্যাক্টর কিছু আছে ঠিক। তবে মূল পয়েন্ট তারা নয়।

'৭১ এর দালাল তাবেদারদের মাঝেও সুবিধেবাদী শ্রেনী ছিল। এরা সব আমলেই সরকারের দালালি করে নিজেদের আখের গোছায়, আবার সরকার পরিবর্তন হলে দ্রুত ভোল পালটে ফেলে। ততকালীন এই শ্রেনীর দালালও ছিল, এদের অনেকে এমনকি বংগবন্ধু সরকারের গুরুত্বপূর্ন কিছু পদেও ছিল।

তবে সবচেয়ে বিপদজনক ছিল যারা তারা এই শ্রেনীর না, তারা কোনদিন তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ বোধ করেনি, আজো করে না। সেজন্যই আমি বলেছি "আদর্শিক কারনেই তারা রাজাকারি করেছিলেন বলেই স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও তাদের মানসিকতার কোনই পরিবর্তন হয়নি। নিজামী গোলাম আজম যেমন বলে যে ’৭১ সালে তারা কোন ভুল করেনি তেমনি সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনও তার বইতে আরো জঘন্য ভাষায় ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের হয়ে নানান সাফাই (পাক বাহিনীর সাফাই নয় কিন্তু), মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, বংগবন্ধু, স্বাধীন বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে গেছে। যারা হালুয়া রুটির লোভে সরকারের দালালি করে তারা সাধারন দ্রুতই নুতন সরকার আসলে বর্ন পরিবর্তন করে, এরা মোটেও সে জাতের না।"

নুতন প্রজন্মের ছাগুরা সুবিধেবাদী শ্রেনীর নয়। আপনি জীবনে আবু তাহের কিংবা মুসাফিরদের আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াতে পারবেন? মুখে হয়ত এরা কেন আওয়ামী লীগ পছন্দ করে না তা ব্যাখ্যা করতে নানান ধানাই পানাই গাইবে, তবে মূল কারন আদর্শিক।

পাইক্যারা কোন উপায় নেই দেখেই চীনা আমেরিকানদের থেকে সাহায্য নেয়। তার মানে এই না যে তারা চীনা আমেরিকানদের আত্মার বন্ধু মনে করে। কোনদিন তারা চীনা আমেরিকানদের থেকে এগিয়ে গেলে আসল চেহারা দেখাবে।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তবে মূল কারন আদর্শিক।


এই হল আসল কথা। কিছু বৈষয়িক সুবিধা নেওয়ার জন্য একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে ফুট সোলজার হিসেবে কিছু মানুষ স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল বটে, কিন্তু উচ্চ পর্যায়ে পুরো ব্যাপারটাই ছিল আদর্শিক। এতটাই আদর্শিক ডক্টর হাসান জামান তার বড় ভাই ডক্টর মনিরুজ্জামান তার ছেলে এবং ভাগনে সহ ২৫ শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হওয়া সত্বেও তার আদর্শিক জায়গা থেকে এক চুল সরে আসেন নি। তিনি মন প্রান দিয়ে পুরো ৭১ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সকল কর্মকান্ড সমর্থন করে গেছেন।তার ভাইয়ের হত্যাকান্ডও তার আদর্শের জায়গা তাকে থেকে বিচ্যুত করা যায় নি।

--------------------------------------------------------------------------------
ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস। বিশ্বাসে কোন যুক্তি প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাসান জামান গোছের লোকরা কি ধাতুতে গড়া ঠিক বুঝি না। এমন নয় যে লোকটা টাকা পয়সার লোভে নিজের ভাই ভাগনা ভাতিজার খুনীদের দালালি করেছে। কিংবা সে লাদেন বা বাংলা ভাই গোছের লোক হলেও তাও বোঝা যেত যে ফ্যানাটিক। সে হয়ত ব্যাপারটাকে সিষ্টেম লস কিংবা দূর্ঘটনা হিসেবেই নিয়েছিল। ইসলাম এবং পাকিস্তান সেবার এমন প্রকৃষ্ট উদাহরন সত্যিই অনন্য।

------------------------------------------------
পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত। আস্তিক এবং নাস্তিক; আমি অবশ্যই আস্তিকের দলে। যে কম্পিউটরে ব্লগিং করছেন সেও কিন্তু হতে পারে এক ভয়াবহ ঘৃন্য নাস্তিক, আজই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার পাগলা ঘোড়ারে কইত্থিকা কই লইয়া যাও....

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে

glqxz9283 sfy39587p07