Skip to content

বাবা জানিস, “ওরা আসত ?”

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রাতের অন্ধকারে কি-না হয় ? রাত কারও জন্য সুখকর হয় আবার মাঝে মাঝে সেই রাত কারও জন্য বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে । নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়, যদি তার প্রাণ যাওয়ার ভয় থাকে । মানুষ মানুষকে ভালবেসে কাছে টেনে নেয় । আবার মানুষ ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য আপন মানুষকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে ।

বাবা জানিস,“ওরা আসত?” । পাক-হানাদার বাহিনীগুলো যেমন রাতের অন্ধকারে আমাদের ত্রিশ লক্ষ লোককে হত্যা ও দুই লক্ষ লোক মা- বোনকে নির্যাতিত করেছিল সেই একই রকমভাবে । ছোট ছোট অস্ত্র নিয়ে বাসায় আসত । আর বলত “ যদি আমাগো দলরে ভোট না দিস তাহলে এটা দেখছস, বইলা কোমরের পেজ থাইকা একখানা অস্ত্র বাহির কইরা দেখাত,আরও বলত তোর যুবতী মাইয়া আছেনা । ভোট যদি আমাদের দলরে না দেস তো কি হইব তোর মাইয়ার দিকে একটু চাইয়া দেখ ।” এই কথাগুলো বলতে বলতে নির্বাক হয়ে যায় কোন
এক সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য । আর হতাশার চোখে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থেকেছিল আমার দিকে । মনের গভীর থেকে আসা দীর্ঘশ্বাস ফেলত ,আর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল ।

২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী পক্ষ পরাজিত পক্ষের ওপর যে আচরণ করেছিল, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত ছিল না। বিজয়ী পক্ষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখল, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ধর্মীয় উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার মত ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেখা গেছে । সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার দেশ-বিদেশের অনেক পত্রিকার কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ পাতার বড় অংশে জায়গা করে নেয় । সরকার উচ্চ আদালতের আদেশ মেনে অপরাধের অভিযোগ তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে। তদন্ত কমিশন সে সময় সংঘটিত ১৮ হাজার সহিংস ঘটনার মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ৬২৫টির তদন্ত করতে সমর্থ হয় এবং গত এপ্রিলে কমিশন সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। সরকার গত বৃহস্পতিবার ওই রিপোর্টটি প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, তৎকালীন জোট সরকারের ২৫ মন্ত্রীসহ ২৬ হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মী-সমর্থক এসব জঘন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কমবেশি জড়িত ছিলেন।

জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হলে আর তো কথাই নেই সংখ্যালঘুদের উপর কি যে নির্যাতন চলে তা জামায়াত অধ্যুষিত এলাকার সংখ্যালঘুদের কাছে শুনতে পাবেন । শুধু অপলক দৃষ্টিতে আপনার দিকে তাকিয়ে থেকে একের পর এক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে যাবে ।

আর বলবে আপনাকে “ বাবা, স্বাধীন দেশে তো থাকি কিন্তু আমাদের ভাগ্যে-তো স্বাধীনতা জোটেনি । দেশ স্বাধীন হলেও আমরা থাকি পরাধীন । ভোটাধিকার সেটাতো সুশীল সমাজের মুখের কথা । আমরা সংখ্যালঘু এক সরকার ক্ষমতায় আসলে একটু রাতে ভালভাবে ঘুমাতে পারি, আর অন্য সরকার ক্ষমতায় আসলে প্রতিটা রাত বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে।”

কান্নার এক পর্যায়ে বৃদ্ধ মহিলাটি,“ তোমাদের কি মনে আছে, বাঁশখালির সাধনপুর গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শীল পরিবারের ১১ জন সদস্যকে আগুনে পুরিয়ে মেরেছিল তারা ?”

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আর বলবে আপনাকে “ বাবা, স্বাধীন দেশে তো থাকি কিন্তু আমাদের ভাগ্যে-তো স্বাধীনতা জোটেনি । দেশ স্বাধীন হলেও আমরা থাকি পরাধীন । ভোটাধিকার সেটাতো সুশীল সমাজের মুখের কথা । আমরা সংখ্যালঘু এক সরকার ক্ষমতায় আসলে একটু রাতে ভালভাবে ঘুমাতে পারি, আর অন্য সরকার ক্ষমতায় আসলে প্রতিটা রাত বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে।”
বাঁশখালির সাধনপুর গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শীল পরিবারের ১১ জন সদস্যকে আগুনে পুরিয়ে মেরেছিল তারা ?”

কথা সত্য কিন্তু এর দায়ভার আমরা যারা সাধারন তাদের উপরও বর্তায়। যাই হোক আমাদের উচিত সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্যে সুশিক্ষার ব্যবস্হা নিশ্চিত করা।আর তার জন্যে কেবল সরকারের দিকে হাত পেতে তাকিয়ে থাকলে হাবেনা।আমাদের সচেতন প্রতিটি লোককে এগিয়ে আসতে হবে।

----------------------------------------------------------------
আমার ভাল লাগার প্রতিটি মুহূ্র্ত আমি আমার মতই উপভোগ করে যাব।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কেবল সরকারের দিকে হাত পেতে তাকিয়ে থাকলে হাবেনা। আমাদের সচেতন প্রতিটি লোককে এগিয়ে আসতে হবে।

ধন্যবাদ,আপনার মত সবার যদি বোধদয় হত, দেশটা অনেক এগিয়ে যেত । @ Shujon.

.................................................
প্রাচীরের ছিদ্রে এক নাম গোত্রহীন
ফুটিয়াছে ছোট ফুল অতিশয় দীন
ধিক্ ধিক্ বলে তারে কাননে সবাই
সূর্য উঠি বলে তারে “ভালো আছো ভাই ? ”


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাইজান শুধু বোধ দিয়ে কি হবে, সমাজের জন্যে ত কিছুই করছিনা।তবে ইচ্ছে আছে পথ শিশুদের নিয়ে কিছু করার। কিন্তু সে উদ্যোগ সফল হবে কিনা ত সময়ই বলে দিবে।

----------------------------------------------------------------
আমার ভাল লাগার প্রতিটি মুহূ্র্ত আমি আমার মতই উপভোগ করে যাব।

glqxz9283 sfy39587p07