Skip to content

এটা বাংলাদেশ নাকি, পাকিস্তান ?

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

“আলোক ব্যতীত যেমন পৃথিবী জাগে না, স্রোত ব্যতীত যেমন নদী টেকে না, স্বাধীনতা ব্যতীত তেমনি জাতি কখনো বাঁচিতে পারে না ।”
------------প্রখ্যাত চিন্তাবিদ মনীষী সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ।

বিশ্ব-মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র । আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক । আমরা কি আসলেই স্বাধীন ? এই দেশের আবার নব্য রাজাকারের উৎপত্তি হয়েছে । যে জানোয়ারগুলো এখনও বেঁচে আছে তাদের বাচ্চাগুলো (শিবির) এখনও দেশটাকে পাকিস্তান মনে করে ।

যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে যখন ট্রাইব্যুনাল তৈরি হচ্ছিল তখন সাঈদি এক প্রেস ব্রিফিং বলেছিল “বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই, হয়নি কোন মুক্তিযুদ্ধ । ”

আর আমাদের বিরোধীদলীয় নেত্রী তার এক জনসভায় বলেছে “নিজামী-মুজাহিদ কোন যুদ্ধাপরাধ করেনি।”
তাহলে আমরা কি বলতে পারি নিজামী-মুজাহিদের জন্য তার এত দরদ কেন ? নাকি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জিয়া সাহেবের বাইরে রাজাকার নিজামী-মুজাহিদের সাথে তার কি কোন সম্পর্ক ছিল ?
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জামায়াত ইসলামি ও মুসলীম লীগের একাংশ,পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাঙালির কৃতী সন্তানদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানিদের জামায়াতের ও মুসলীম লীগের একাংশ দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস নামে বিভিন্ন ঘাতক বাহিনী গড়ে তোলে । তারা এদেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, ডাক্তার, শিল্পী ও সাংবাদিকসহ বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে । ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা এবং দুই লক্ষ মা-বোনকে নির্যাতিত করেন । তবুও, তারা দেশটাকে পাকিস্তান তৈরি করতে পারেনি ।

জিয়াউর রহমান রাজাকারদের করেছে পুরুষ্কৃত আর তারই স্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া এখন নিজামী-মুজাহিদের সাথে কোলাকুলি করছেন । হয়তবা, জিয়াউর রহমান গত হওয়ার আগে তার স্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে চুপিসারে নিজামী-মুজাহিদের সাথে সম্পর্ক রাখতে বলেছিলেন ।
বিএনপির অনেক নেতাই জামায়াতকে বিএনপির সাথে দলভুক্ত না করার জন্য অনুরোধ করে । কিন্তু কার কথা কে শুনে, ম্যাডাম খালেদাতো সে দিকে কোন নজরই দেননি । আরও তাদের সাথে এক হয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিলেন ।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ তার এক টকশোয় বলেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সাথে জিয়াউর রহমানের সাথে কোন তুলনাই হয় না । আর তারই প্রেক্ষিতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাকে ডেকে ভৎর্সনা করেন । বিএনপির কাছে সত্যবাদীদের কোন দাম নেই । জামায়াত ও নব্য রাজাকাররা তার কাছেই খুব প্রিয় ।
দেশটা স্বাধীন হয়েছে ঠিকই কিন্তু তা এখনও অর্থনৈতিক গণ্ডি থেকে মুক্তি পায়নি । ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ বলেন
“এ যুদ্ধ বাংলাদেশের দু:খী মানুষের যুদ্ধ । খেটে খাওয়া সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, ছাত্র-জনতা তাদের সাহস, তাদের আত্মাহুতি, তাদের ত্যাগ ও তিতিক্ষার জন্ম নিলো এই স্বাধীন বাংলাদেশ । …. বাংলাদেশের নিরন্ন দু:খী মানুষের জন্য রচিত হোক এক নতুন পৃথিবী, যেখানে মানুষ মানুষকে শোষণ করবে না । আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক ক্ষুধা, রোগ, বেকারত্ব আর অজ্ঞতার অভিশাপ থেকে মুক্তি ।”
------সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ । (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ; দলিলপত্র, পৃ.৯৫)

মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে তিনি আরও বলেন,“ যারা আজ রক্ত দিয়ে উর্বর করেছে বাংলাদেশের মাটি, যেখানে উৎকর্ষিত হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন মানুষ, তাঁদের রক্ত আর ঘামে ভেজা মাটি থেকে গড়ে উঠুক নতুন গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ।”
বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমেদ, মাওলানা ভাসানী তাদের স্বপ্নের দেশ কি আমরা তৈরি করতে পেরেছি ? হয়তবা সেই স্বপ্ন আমরা কখনও কি পূরণ করতে পারব ? জিয়াউর রহমান, ম্যাডাম খালেদা জিয়া, এরশাদ সাহেব রাজাকারগুলোর স্ত্রীদেরকে সুযোগ করে দিয়েছিল বাচ্চা প্রসব করার জন্য । আর সেই থেকে নব্য রাজাকার(শিবিরের)জন্ম । এখন এই নব্য রাজকারগুলো আবারো বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা শুরু করেছে । আমাদের সবার প্রিয় স্যার হুমায়ুন আজাদকে তারা হত্যা করেছে ।
আমরা চাই বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমেদ ও মাওলানা ভাসানীর স্বপ্নের দেশ গড়ে তুলতে । আর সেই সাথে আমাদের দেশের যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে । আর ঐসব নব্য রাজাকারদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে । আর সেই দিন হবে সোনার বাংলা যেদিন রাজাকার মুক্ত দেশ হবে ।

মন্তব্য

glqxz9283 sfy39587p07