Skip to content

ইসলাম ধর্মের সত্যতাঃ পর্ব ৩

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যে বৈশিষ্টগুলো ইসলামের সত্যতাকে প্রমান করে তার সংক্ষিপ্ত তালিকা:

(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত।

একজন ব্যক্তির সত্যবাদীতা তার দাবী গ্রহনযোগ্য হওয়ার প্রথম শর্ত।আর সত্যবাদীতা যদি কোন ব্যাক্তির সার্বক্ষণিক বৈশিষ্ট হয়, মানুষ তাকে সহজেই বিশ্বাস করে। মক্কার কাফেররা পর্যন্ত তাকে আল-আমিন বলে ডাকত যার অর্থ বিশ্বস্ত। তার কাছে তাদের আমানত রাখত। নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাহারের উপর দাঁড়িয়ে বলেছিলেন " আমি যদি বলি পাহাড়ের পেছন থেকে শত্রুদল মক্কায় হামলা করতে আসছে তোমরা কি তা বিশ্বাস করবে? তখন মক্কার সবাই একথাই বলেছিল যে, তুমি সত্যবাদী আমার অবশ্যই মেনে নেব। তখন নবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবাইকে ইসলামেত দাওয়াত দিয়েছিলেন।

(২) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন নিরক্ষর।

নিরক্ষর গ্রন্থ রচনা করে না করতে সক্ষম নয় এ কথা সকলেরই জানা। আর এজন্য আল্লাহ নিজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলেছেন:
" আর তুমি তো এর আগে কোন কিতাব তিলাওয়াত করনি এবং তোমার নিজের হাতে তা লেখনি যে, বাতিলপন্থিরা এতে সন্দেহ পোষন করবে। ( সূরা আল আনকাবুত, ২৯: ৪৮)

আল কুরআন এর মত জ্ঞানগর্ভ বই তো দূরে থাক, এর চেয়ে কোন সহজ সরল বই রচনা করতেও লাগে দীর্ঘ দিনের জ্ঞানচর্চা। তাই যখনই মানবজাতি কোন চমৎকার বই উপহার পায় তখনই, তারা এর লেখকের অতীতের দিকে তাকিয়ে খুজতে থাকে যে, কোন কোন বিখ্যাত ব্যক্তি তার শিক্ষক ছিল, কোন বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে তিনি অধ্যয়ন করেছেন, কেননা রচনার উতকর্ষ* একটি সংস্কৃতি, কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ও পটভূমি ছাড়াই মানুষ এ কাজ করতে পারে না। আল কুরআন যে আরবি সাহিত্যের সর্বশেষ্ঠ নমুনা, এটা ইসলামের শত্রুরাও স্বীকার করে। এছাড়া এতে যে চমৎকার জীবন দর্শন, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক দর্শন রয়েছে, পূর্ববর্তী জাতিদের কাহিনি এবং ধর্মতত্ব রয়েছে তাতে দীর্ঘ জ্ঞান চর্চার কোন অতিত ইতিহাস ছাড়াই একজন নিরক্ষর ব্যক্তি হঠাত* এটা রচনা করেছেন, এটা কল্পনাতেও ভাবা যায় না।

(৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবি ছিলেন না।

ততকালিন* আরবের অন্যতম সংস্কৃতি ছিল কাব্যচর্চা। কবিদেরকে সকলে সমীহ করত। তাই সে যুগে কেউ সাহিত্যে আল-কুরআনের অনুরুপ অতি উন্নত কিছু রচনা করলে একমাত্র বড় কবিদের পক্ষেই এটা করা সম্ভব হতে পারত। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবি ছিলেন না সাহিত্য চর্চার কোন অতিত ইতিহাসই তার নেই।

(৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সততা।

তিনি তার আহবানে সৎ ছিলেন। তাকে বহু লোভ লালসা দেখানো হয়েছিল কিন্তু তিনি ইসলামের দাওয়াত দেয়া ত্যাগ করেননি। তাকে বলা হয়েছিল তিনি কত টাকা চান? তিনি কি নেত্রীত্ব চান কি না ইত্যাদি। তিনি বলে ছিলেন এক হাতে চাঁদ আর একহাতে সূর্য এনে দিলেও তিনি ইসলামের দাওয়াত দেয়া ত্যাগ করবেন না।

(৪) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য ধর্মের গ্রন্থ অধ্যয়ন করেননি।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন নিরক্ষর তাই তার পক্ষে অন্য ধর্মের অধ্যয়ন ছিল অসম্ভব। আল কুরআনে ইহুদী, খ্রীস্টানদের যে ধর্মতত্বের বিবরন ও এর বিস্তারিত খন্ডন পাওয়া যায়, সেটা একজন নিরক্ষর ব্যক্তির দ্বারা সম্ভব নয়। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পক্ষে এটা সম্ভব নয়।

(৫) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বৈশিষ্টগুলোর সম্মিলিত ফল।

আমরা যখন উপরের সবগুলো বৈশিষ্টগুলোকে একত্র করব: সত্যবাদীতা, বিশ্বস্ততা, নিরক্ষরতা, সাহিত্যিক না হওয়া, সততা এবং অন্য ধর্ম অধ্যয়ন না করা - এবং আল-করআনের বিষয়বস্তুকে সামনে রাখব, এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে যে আল-কুরআন এর উতস* মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নন। বরং আল-কুরআন এর বৈশিষ্ট ও ইসলামের সার্বিক শিক্ষার দিকে তাকিয়ে কোন সৎ সত্যাণ্বেষী স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে আল-কুরআনের উতস* আদৌ কোন মানুষ নয়।

glqxz9283 sfy39587p07