Skip to content

পত্রিকায় রুমানা মঞ্জুর

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সমাজবদ্ধ একজন সচেতন মানুষ হিসেবে সংবাদ পত্রে প্রকাশিত সংবাদ গুলোর সত্য-মিথ্যা নিরুপণের একটা অবচেতন প্রচেষ্টা সবসময়ই থাকে।
গত ১৪ জুন ২০১১ তারিখ থেকে প্রতিদিন প্রায় সবগুলো জাতীয় দৈনিকে একটা খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছ। খবরটি হলো-গত ৫জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষিকা রুমানা মঞ্জুর স্বামীর হাতে নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনাটি পত্রিকায় প্রতিদিন গুরুত্ব সহকারে ফলোআপ আসতে থাকে। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে সবার মাঝে কম-বেশি আলোচনা হতে থাকে।
অনেকে এ ঘটনাকে নিয়ে সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। আবার কিছু পত্রিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তারা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনসেশন তৈরি করছে। মূলত ঘটনাটিকে পত্রিকা গুলো কীভাবে উপস্থাপন করেছে,তারা কতটা পক্ষপাতিত্বহীন তথা নিরপেক্ষ থেকে সংবাদটি প্রকাশ করেছে, এবং কতটা সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে চলেছে; এ বিষয় গুলোই আমি আমার এই লেখাটিতে দেখার চেষ্টা করব।

রুমানা মঞ্জুরের ঘটনায় মিডিয়া কাভারেজ ও গণমাধ্যমের এজেন্ডা সেটিংঃ

এজেন্ডা সেটিং বা আলোচ্য সূচি নির্ধারণ বলতে বোঝায় অনেকগুলো ইস্যুর মধ্যে হতে এক বা একাধিক ইস্যুকে এমনভাবে কাভারেজ দিবে যাতে দর্শক -শ্রোতা -পাঠক সে বিষয়টি নিয়ে ভাবে বা ভাবতে বাধ্য হয়। এজেন্ডা সেটিং মূলত এক ধরনের ধারণা যাতে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার বা আলোচনার মাধ্যমে কোন বিষয় জনগনের সামনে নিয়ে আসে যেন জনগন তা নিয়ে চিন্তা করে এবং কথা বলে।
গত ৫ জুন রুমানা মঞ্জুর তার স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন,১৩ জুন ঘটনাটি মিডিয়াতে আসে। মূলত বাংলাদেশের গণমাধ্যম সে থেকেই রুমানা মঞ্জরের ঘটনা নিয়ে এজেন্ডা সেটিং শুরু করে। এখনও তা চলছে।
সাধারণত প্রিন্ট মিডিয়া রুমানা মঞ্জরের ঘটনার সংবাদ প্রথম বা শেষ পৃষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ছাপায়। এ দ্বারা সহজেই বোঝা যায় যে, ক্রসফায়ার বা বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ড গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা।
মিডিয়া আমাদের মনোভাব তেমন পরিবর্তন করতে পারে না। কিš‘ এজেন্ডা সেটিং এর মাধ্যমে কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা পরিবর্তন করতে পারে। তবে এ পরিবর্তন নেতিবাচক বা ইতিবাচক দু’ভাবেই হতে পারে। যেমন- প্রথমে লোকজন রুমানা মঞ্জুরকে সমর্থন করতে থাকে। পরে আবার কিছু পত্রিকায় রুমানার পরকীয়ার কথা শুনে হাসান সাঈদের পক্ষে কথা বলতে থাকে।
গণমাধ্যমের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য জনমত গঠন করা। জনমত গঠন করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সমূহের প্রধান হাতিয়ার এজেন্ডা সেটিং। গণমাধ্যম বিকাশের শুরুর দিকে মনে করা হতো গণমাধ্যমের বিশাল শক্তি রয়েছে। গণমাধ্যম ম্যাজিক বুলেটের মতো কাজ করে। গণমাধ্যম কোন বার্তা দিলে গ্রাহক সাথে সাথে প্রভাবিত হবে। গণমাধ্যমের সরাসরি ও তাৎক্ষনিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে ম্যাজিক বুলেট বা হাইপোডারমিক নিডল তত্ত্ব । পরবর্তী সময়ে দেখা গেলো গণমাধ্যমের প্রভাব যতোটা সরাসরি ও তাৎক্ষণিক মনে করা হতো আসলে ততোটা নয়। অর্থাৎ গণমাধ্যম কিছু সচেতন মানুষের ভাবনায় পরিবর্তন আনলেও তা এখনো বেশির ভাগ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারেনি।
মতাদর্শের ভিন্নতা, গণমাধ্যমের পলিসি এবং এজেডা সেটিং আন্ত:সম্পর্কিত একটি বিষয়, ফলে একটি বিষয় বা ইস্যুকে গণমাধ্যম ভিন্ন ভিন্ন পলিসির কারণে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করে।

গবেষণার পূর্বানুমান ঃ
 সংবাদপত্র নিরপেক্ষ নয়।
 আদালত দোষী হিসেবে রায় দেওয়ার আগেই সংবাদপত্র অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে উল্যেখ করে।
 অনেক সময় সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী রিপোর্ট প্রকাশ করে।

যে সকল পত্রিকার রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়েছেঃ

১.দৈনিক প্রথম আলো- বাংলাদেশী পত্রিকা গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সার্কুলেশনের দাবিদার হিসেবে দৈনিক প্রথম আলোকে গবেষণায় নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
২.দৈনিক কালের কন্ঠ-দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিদ্বন্দি হিসেবে দৈনিক কালের কন্ঠ কে নির্বাচন করা হয়েছে।
৩.দৈনিক আমার দেশ -ডানপন্থী’ পত্রিকা গুলোর প্রতিনিধি হিসেবে এই পত্রিকাটি নির্বাচন করা হয়েছে।
৪.দৈনিক মানব জমিন-টেবলয়েড পত্রিকার প্রতিনিধী হিসেবে এই পত্রিকাটি নির্বাচন করা হয়েছে।
পত্রিকার রিপোর্টবিশ্লেষণঃ
“গতকাল দুপুরে এভাবেই সাংবাদিকদের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষিকা রুমানা মঞ্জুর পাষণ্ড স্বামীর হাতে নির্যাতিত হওয়ার ঘটনার বর্ণনা দেন। গত ৫ জুন স্বামী সাইদ হাসান সুমনের নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হন তিনি। আহত শিক্ষিকা রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় এসব কথা বলেন”। (দৈনিক আমার দেশ-১৪ জুলাই)

এখানে সাংবাদিক নিজের আবেগকে সংবরন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি সম্ভবত রুমানা মঞ্জুরের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনার বর্ণনা শুনে আবেগের বশে অভিযুক্ত হাসান সাঈদেও নামের আগে ‘পাষণ্ড’ শব্দটি যোগ করেন। যা নিরপেক্ষতার প্রতি হুমকি স্বরূপ।

“মামলার এজাহারে সাইদের পরিচয়ে বলা হয়েছে তিনি বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার। চোখে সমস্যা থাকার কারণে চাকরি করতে পারেননি। পরবর্তীকালে ব্যবসায় নেমেও লোকসানের মুখ দেখেন। তার মা-বাবা প্রবাসী”।(দৈনিক আমার দেশ-১৪ জুলাই) “বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হলেও চোখের সমস্যার কারণে তৃতীয় বর্ষেই তাঁর পাঠ চুকাতে হয়েছে”।(দৈনিক প্রথম আলো-১৭ জুলাই)

পত্রিকা গুলোতে হাসান সাঈদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্ঠতার সৃষ্টি করা হয়েছে। কিছু সংবাদে বলা হয়েছে- সে ৩য় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। আবার কখনো বলা হয়েছে সে বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার।

“গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানার নির্যাতনকারী পলাতক পাষণ্ড স্বামীকে গ্রেফতারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।তবে বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রমতে, সরকারের লোকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে সাঈদ আমেরিকায় থাকা তার বাবা-মায়ের কাছে চলে যেতে চাচ্ছে”।(দৈনিক আমার দেশ-১৫ জুলাই)

এই সংবাদটিতেও হাসান সাঈদকে পাষণ্ড হিসেবে উল্যেখ করা হয়েছে। আবার জেনে শুনেই অসমর্থিত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যকে ছাপিয়ে দিয়েছে। আবার ভালো মানুষী দেখাতে গিয়ে সেটা যে অসমর্থিত সূত্র তাও উল্যেখ করেছে।

“আসামি হাসান সাইদের দুই দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন মহানগর হাকিম আদালত”। (দৈনিক প্রথম আলো-১৬ জুলাই)

এই সংবাদটিতেও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে ‘আসামি’ হিসেবে উল্যেখ করা হয়েছে।

“রক্তাক্ত হাত আমার মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে কণ্ঠনালি ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। শত কাকুতি করেও সাহায্য না পেয়ে একপর্যায়ে পালানোর জন্য সর্বচেষ্টা করি। কিন্তু‘ ততক্ষণে নিজের রক্তে রক্তাক্ত পিচ্ছিল মেঝেতে পিছলে পড়ে যাই”।(দৈনিক কালের কন্ঠ-২২ জুলাই)

উক্ত সংবাদ ভাষ্যটি যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা দূর্বল হার্টের লোকের পক্ষে সহ্য করা কঠিন। এভাবে ভাষা চিত্র আঁকা অনুচিত বলেই মিডিয়া বিদরা মনে করেন।

“রুমানা শুধু পরকীয়াই করেনি। নাভিদ বিন তাহের’র সঙ্গে পানশালায় গিয়েছে। মদ পান করে ফুর্তি করেছে। একসঙ্গে আইস স্কেটিং ও ইয়োগা ক্লাস করেছে। এসব কীর্তিকলাপ জেনেও আমি ওকে ক্ষমা করেছিলাম। ভালবেসেছিলাম পাগলের মতো। কিন্তু‘ বিনিময়ে ও শুধু প্রতারণাই করেছে।”(দৈনিক মানব জমিন-২৭ জুলাই)

“রুমানা ইরানি বয়ফ্রেন্ডকেই ভালবাসতো, আমাকে নয়।”(দৈনিক মানব জমিন-২৭ জুলাই)

এই সংবাদটিতে শুধুমাত্র হাসান সাঈদের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে রগরগে একটা কাহিনী ছাপিয়ে দিয়েছে। যা কোন ভাবেই সাংবাদিকতার নীতিমালার মধ্যে পড়ে না।

 ফলাফল ঃ
সংগৃহিত তথ্য-উপাত্য গুলো বর্ণনাত্মক ভাবে বিশেøষণ করে যে ফলাফল পেলাম-
ক্স সংবাদ পত্র নিরপেক্ষ নয়, এই পূর্বানুমানটি সর্বাংশে সঠিক বলা ঠিক হবে না। তবে রুমানা মঞ্জুরের ঘটনায় অধিকাংশ পত্রিকায় ভিক্টিমের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে শুধুমাত্র রুমানা মঞ্জুরের পক্ষের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে; এক্ষেত্রে পত্রিকাগুলোতে অপর পক্ষের বক্তব্যকে হয় গুরুত্ব দেয়া হয়নি, নয়তো কোন বক্তব্যই নেয়া হয় নি।
ক্স আদালত দোষী হিসেবে রায় দেওয়ার আগেই সংবাদ পত্র অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে উল্যেখ করে। এ পূর্বানুমানটির যথার্ততা সঠিক। কারণ পত্রিকাগুলোয় অভিযুক্ত ব্যাক্তি হাসান সাঈদকে সরাসরি দোষী হিসেবে দেখানোর বা উল্যেখ করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
 অনেক সময় সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী রিপোর্ট প্রকাশ করে। এ পূর্বানুমানটির যথার্ততা সর্বাংশে সঠিক বলে প্রমানিত হয়েছে। কারণ অনেক ত্রেই দেখা গেছে সংবাদের সূত্র উল্যেখ করা হয় না। সকল পক্ষের বক্তব্য নেয়ার গরজ দেখায় না, যদিও তা সাংবাদিকতার নীতিমালায় রয়েছে।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এবার মাপ করা যায়না। রূমানা ভালা না সাইদ ভালা এডাতে আপনার আমার জীবন যাত্রার কি কোন ডিফারেনস হবে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ মেকী ভদ্রলোক,

“রক্তাক্ত হাত আমার মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে কণ্ঠনালি ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। শত কাকুতি করেও সাহায্য না পেয়ে একপর্যায়ে পালানোর জন্য সর্বচেষ্টা করি। কিন্তু‘ ততক্ষণে নিজের রক্তে রক্তাক্ত পিচ্ছিল মেঝেতে পিছলে পড়ে যাই”।(দৈনিক কালের কন্ঠ-২২ জুলাই)

উক্ত সংবাদ ভাষ্যটি যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা দূর্বল হার্টের লোকের পক্ষে সহ্য করা কঠিন। এভাবে ভাষা চিত্র আঁকা অনুচিত বলেই মিডিয়া বিদরা মনে করেন।"


এই মিডিয়াবিদ কারা ?


ফলাফল ঃ
সংগৃহিত তথ্য-উপাত্য গুলো বর্ণনাত্মক ভাবে বিশেøষণ করে যে ফলাফল পেলাম-
ক্স সংবাদ পত্র নিরপেক্ষ নয়, এই পূর্বানুমানটি সর্বাংশে সঠিক বলা ঠিক হবে না। তবে রুমানা মঞ্জুরের ঘটনায় অধিকাংশ পত্রিকায় ভিক্টিমের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে শুধুমাত্র রুমানা মঞ্জুরের পক্ষের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে; এক্ষেত্রে পত্রিকাগুলোতে অপর পক্ষের বক্তব্যকে হয় গুরুত্ব দেয়া হয়নি, নয়তো কোন বক্তব্যই নেয়া হয় নি।
ক্স আদালত দোষী হিসেবে রায় দেওয়ার আগেই সংবাদ পত্র অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে উল্যেখ করে। এ পূর্বানুমানটির যথার্ততা সঠিক। কারণ পত্রিকাগুলোয় অভিযুক্ত ব্যাক্তি হাসান সাঈদকে সরাসরি দোষী হিসেবে দেখানোর বা উল্যেখ করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
 অনেক সময় সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী রিপোর্ট প্রকাশ করে। এ পূর্বানুমানটির যথার্ততা সর্বাংশে সঠিক বলে প্রমানিত হয়েছে। কারণ অনেক ত্রেই দেখা গেছে সংবাদের সূত্র উল্যেখ করা হয় না। সকল পক্ষের বক্তব্য নেয়ার গরজ দেখায় না, যদিও তা সাংবাদিকতার নীতিমালায় রয়েছে।


আপনার যুক্তি এক্কেবারে ১০০ ভাগ পাক্কা (ফলাফল মিলে গেলে ভেতরে ঘাপলা থাকলেও কিছু যায়-আসে না) তবে এর মধ্যেও হাসান সাঈদ-কে দোষী বলার ব্যাপারটা নিয়ে একধরনের প্রচ্ছন্ন গাত্রদাহ টের পাওয়া যাচ্ছে । আসলে হাসান সাঈদের অপরাধ তো বিমূর্ত কোনও বিষয় নয়, চোখ দুটো নিজের হাত দিয়ে সে উৎপাটন করেই ফেলেছে এবং এটা দৃশ্যমান । সুতরাং তার স্ত্রীর কোনও অপরাধ ছিলো কি না সেটা নির্ণয় করার জন্য হাসান সাঈদ এর থেকে ভালো রাস্তা পায়নি । হাসান সাঈদ নিতান্তই সন্দেহের বশে কাজটি করেছে ।যে কাজটা সাঈদ করে ফেলেছে তাতে তাকে অপরাধী বলার জন্য কেউ অপেক্ষা করবে না। তবে মিডিয়ার দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে আমি আপনার সাথে একমত ।ব্লগের লেখাগুলো নিয়েও সমস্যা আছে ।রুমানা মঞ্জুর এবং হাসান সাঈদ-কে ব্যাক্তিগতভাবে যারা চেনে তাদের খুব সামান্য একটি অংশ তাদের নিয়ে লিখেছে, এর মধ্যে নিরপেক্ষ লেখা আরো কম।বেশির-ভাগই পত্রিকার সংবাদের উপর ভিত্তি করে লেখাগুলো লিখেছে ।আমরা যারা রুমানা মঞ্জুরের ছাত্রী এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত, তাঁর সাথে প্রায় ৮ বছরের জানাশোনা তাঁরা নিয়মিতই এই ব্লগগুলো ফলো করি । কিন্তু মন্তব্য করার প্রবৃত্তি বেশিরভাগ সময়ই হয় না । মানুষের সবচে বড় সমস্যা হলো মানুষ যখন অন্য কারো প্রসঙ্গে কিছু বলে, লিখে বা ভাবে, নিজেকে বাদ দিয়েই হিসেব করে । মানুষ যদি কিছু করার আগে ওই জায়গায় নিজেকে একবার চিন্তা করতো বা নিজের খুব প্রিয় কাউকে যার সাথে প্রতারণা অসম্ভব তাহলে বিবেকহীন কর্মকান্ড অনেকটাই হ্রাস পেতো ।এটা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পত্রিকা বা ব্লগে লেখার ক্ষেত্রেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ।পত্রিকার দায়িত্বহীনতার কথা বলতে গিয়ে মূলত পত্রিকার পক্ষপাতমূলক আচরণকেই তুলে এনেছেন । আপনার লেখার শেষের অংশে ফলাফল বিশ্লেষনেও একধরনের পক্ষপাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে । খেয়াল করে দেখবেন ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ মেকী ভদ্রলোক,

“রক্তাক্ত হাত আমার মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে কণ্ঠনালি ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে। শত কাকুতি করেও সাহায্য না পেয়ে একপর্যায়ে পালানোর জন্য সর্বচেষ্টা করি। কিন্তু‘ ততক্ষণে নিজের রক্তে রক্তাক্ত পিচ্ছিল মেঝেতে পিছলে পড়ে যাই”।(দৈনিক কালের কন্ঠ-২২ জুলাই)

উক্ত সংবাদ ভাষ্যটি যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে তা দূর্বল হার্টের লোকের পক্ষে সহ্য করা কঠিন। এভাবে ভাষা চিত্র আঁকা অনুচিত বলেই মিডিয়া বিদরা মনে করেন।"


এই মিডিয়াবিদ কারা ?


ফলাফল ঃ
সংগৃহিত তথ্য-উপাত্য গুলো বর্ণনাত্মক ভাবে বিশেøষণ করে যে ফলাফল পেলাম-
ক্স সংবাদ পত্র নিরপেক্ষ নয়, এই পূর্বানুমানটি সর্বাংশে সঠিক বলা ঠিক হবে না। তবে রুমানা মঞ্জুরের ঘটনায় অধিকাংশ পত্রিকায় ভিক্টিমের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে শুধুমাত্র রুমানা মঞ্জুরের পক্ষের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে; এক্ষেত্রে পত্রিকাগুলোতে অপর পক্ষের বক্তব্যকে হয় গুরুত্ব দেয়া হয়নি, নয়তো কোন বক্তব্যই নেয়া হয় নি।
ক্স আদালত দোষী হিসেবে রায় দেওয়ার আগেই সংবাদ পত্র অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে উল্যেখ করে। এ পূর্বানুমানটির যথার্ততা সঠিক। কারণ পত্রিকাগুলোয় অভিযুক্ত ব্যাক্তি হাসান সাঈদকে সরাসরি দোষী হিসেবে দেখানোর বা উল্যেখ করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
 অনেক সময় সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী রিপোর্ট প্রকাশ করে। এ পূর্বানুমানটির যথার্ততা সর্বাংশে সঠিক বলে প্রমানিত হয়েছে। কারণ অনেক ত্রেই দেখা গেছে সংবাদের সূত্র উল্যেখ করা হয় না। সকল পক্ষের বক্তব্য নেয়ার গরজ দেখায় না, যদিও তা সাংবাদিকতার নীতিমালায় রয়েছে।


আপনার যুক্তি এক্কেবারে ১০০ ভাগ পাক্কা (ফলাফল মিলে গেলে ভেতরে ঘাপলা থাকলেও কিছু যায়-আসে না) তবে এর মধ্যেও হাসান সাঈদ-কে দোষী বলার ব্যাপারটা নিয়ে একধরনের প্রচ্ছন্ন গাত্রদাহ টের পাওয়া যাচ্ছে । আসলে হাসান সাঈদের অপরাধ তো বিমূর্ত কোনও বিষয় নয়, চোখ দুটো নিজের হাত দিয়ে সে উৎপাটন করেই ফেলেছে এবং এটা দৃশ্যমান । সুতরাং তার স্ত্রীর কোনও অপরাধ ছিলো কি না সেটা নির্ণয় করার জন্য হাসান সাঈদ এর থেকে ভালো রাস্তা পায়নি । হাসান সাঈদ নিতান্তই সন্দেহের বশে কাজটি করেছে ।যে কাজটা সাঈদ করে ফেলেছে তাতে তাকে অপরাধী বলার জন্য কেউ অপেক্ষা করবে না। তবে মিডিয়ার দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে আমি আপনার সাথে একমত ।ব্লগের লেখাগুলো নিয়েও সমস্যা আছে ।রুমানা মঞ্জুর এবং হাসান সাঈদ-কে ব্যাক্তিগতভাবে যারা চেনে তাদের খুব সামান্য একটি অংশ তাদের নিয়ে লিখেছে, এর মধ্যে নিরপেক্ষ লেখা আরো কম।বেশির-ভাগই পত্রিকার সংবাদের উপর ভিত্তি করে লেখাগুলো লিখেছে ।আমরা যারা রুমানা মঞ্জুরের ছাত্রী এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত, তাঁর সাথে প্রায় ৮ বছরের জানাশোনা তাঁরা নিয়মিতই এই ব্লগগুলো ফলো করি । কিন্তু মন্তব্য করার প্রবৃত্তি বেশিরভাগ সময়ই হয় না । মানুষের সবচে বড় সমস্যা হলো মানুষ যখন অন্য কারো প্রসঙ্গে কিছু বলে, লিখে বা ভাবে, নিজেকে বাদ দিয়েই হিসেব করে । মানুষ যদি কিছু করার আগে ওই জায়গায় নিজেকে একবার চিন্তা করতো বা নিজের খুব প্রিয় কাউকে যার সাথে প্রতারণা অসম্ভব তাহলে বিবেকহীন কর্মকান্ড অনেকটাই হ্রাস পেতো ।এটা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পত্রিকা বা ব্লগে লেখার ক্ষেত্রেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ।পত্রিকার দায়িত্বহীনতার কথা বলতে গিয়ে মূলত পত্রিকার পক্ষপাতমূলক আচরণকেই তুলে এনেছেন । আপনার লেখার শেষের অংশে ফলাফল বিশ্লেষনেও একধরনের পক্ষপাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে । খেয়াল করে দেখবেন ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখন যে রুমানা লাভিদের ড্যান্সিং চীত্র সহ ফেস বুকের রেফারেন্স এবং নাভিদের কাছে লেখা শারীরিক মেলামেশার আহ্বান সংক্রান্ত প্রেম পত্র প্রচারিত হচ্ছে সেটার ব্যপারে কিছু বলুন। কেন এখন এগুলো বের হচ্ছে। তখন কেন বের হয় নাই ............ মিডিয়ারা কি এখনই বিষয়টি জানলো,নাকি জেনেও চেপে ছিলো? কেন চেপে ছিলো? এটা কি হলুদ সাংবাদিকতার আওতায় পড়ে?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বহতা নদীর মতো বয়ে চলে সময়, সাথে চলে জীবন নামের তরী, কখন ডুবে যাবে, কে জানে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নারীর প্রতি আমাদের দুর্বলতা যতদিন না যাবে ততদিনই নারীরা এমন সুযোগের সদব্যাবহার করে যাবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার প্রশ্নের উত্ত এখোনো পাই নাই .....

http://sonarbangladesh.com/blog/kolmilota/80119

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
বহতা নদীর মতো বয়ে চলে সময়, সাথে চলে জীবন নামের তরী, কখন ডুবে যাবে, কে জানে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Ziauddin Fahad এর মর্ম ব্যদনা পাঠকদের গোচরে আনতে চাই>>>

চলে গেলেন হাসান সাঈদ। তাকে মেরে ফেলে চক্রান্তকারীরা সেটাকে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দিল।এর পিছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে সামাজিকভাবে পরকীয়াকে বৈধতা দেওয়ার একটা ধাপ পার করল ষড়যন্ত্রকারীরা। কিন্তু এটা কি আসলে আত্নহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড? এটা যে হত্যাকান্ড সেটা নিচের প্রশ্নগুলোর উওর খুজলে সহজে আপনি বুঝতে পারবেন?

(ক) মৃত্যুর পর হাসান সাঈদের হাতে, পিঠে ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন কেন? সে নিশ্চয়ই জেলখানায় নিজেকে নিজে পিঠায়নি।যদি না পিঠিয়ে থাকে তবে তাকে আঘাত করল কে?

(খ)পুলিশ বলছে,তার মুখে ও গলায় পলিথিন প্যাচানো ছিল এবং পিছনে হাত পা বাঁধা ছিল। হাত পা বাঁধা অবস্থায় একজন লোক কিভাবে মুখে ও গলায় পলিথিন প্যাঁচাতে পারে? এটা কি সম্ভব?

(গ) তাছাড়া পুলিশি হেফাজতে আসামীর কাছে এমন কিছুই থাকেনা যার দ্বারা সে আত্নহত্যা করতে পারে। তাহলে কি এখন থেকে আমরা ধরে নেব, পুলিশ আত্নহত্যা করার জন্য জেল খানায় পলিথিন, দড়ি সহ বিভিন্ন জিনিস পত্র মজুদ রাখে?

(ঘ) হাসান বুয়েটের একজন স্টুডেন্ট। সে ভাল করেই জানে, আত্নহত্যা করলে রুমানার বিরুদ্ধে তার অভিযোগের নৈতিক ভিত্তিটা অনেক দুর্বল হয়ে যাবে। তাছাড়া তার আদরের মেয়ের ব্যাপারটাও তার মাথায় ছিল। সবকিছু বুঝে সে কি কখনো চাইবে আত্নহত্যা করতে?

(ঙ) মৃত সাঈদের হাতে দড়ির দাগ ছিলো। ভাবুন, কেউ কি হাতে দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করে ??

ধরে নিলাম,এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন জাগে......

(ক) কেন পুলিশ তাকে হত্যা করল?

(খ) আমরা সবাই জানি, পুলিশের সাথে তার কোন শত্রুতা নেই। তাহলে কাদের স্বার্থে পুলিশ তাকে হত্যা করল?

(গ)পুলিশি হেফাজতে যতগুলো হত্যাকান্ড বাংলাদেশে ঘটেছে তার বেশিরভাগই ঘটেছে রাজনৈতিক কারনে। কিন্তু হাসান সাঈদ তো কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। তাহলে কাদের স্বার্থে পুলিশ হাসানকে মেরে ফেলল?

(ঘ) তাছাড়া পুলিশ ও এলাকার লোকজন বলেছে, হাসান সাঈদের সাথে কারো কোন পূর্ব শত্রুতা ছিলনা। তাহলে কেন তাকে জীবন দিতে হল?

(ঙ) তাহলে কি রুমানা মনজুর প্রভাবশালী কেউ? আমরা জানি, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন অধ্যাপিকা । একজন অধ্যাপিকার চোখের দৃষ্টি হারানোর জন্য পুলিশ একজন মানুষকে মেরে ফেলবে এটা কি যুক্তিগ্রাহ্য? তাহলে কি ধরে নেব,রুমানার সাথে প্রভাবশালী মহলের কারো সাথে কোন লেনদেন ছিল যারা সব আইন আদালতের উর্ধ্বে?

(চ) তাছাড়া হাসান সাঈদ সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর আত্নীয়। রুমানাকে আঘাতের পর এই আত্নীয়ের বাসায় সে কয়েকদিন আত্নগোপন করে ছিল। পুলিশ ভাল করেই জানত, হাসানের সেই প্রভাবশালী আত্নীয়ের কথা। সব কিছু জেনে শুনে পুলিশ তাকে হত্যা করার মত কঠিন পথ বেছে নেবে, এটা অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে হাস্যকর। তাহলে কি ধরে নেব,রুমানার পরকীয়ার মদদ দানকারীরা আরো অনেক প্রভাবশালী?

পুলিশি হেফাজতে হাসান সাঈদের মৃত্যুর পিছনে কার কি স্বার্থ সেটা জানার আগে রুমানার ব্যাক্তি চরিত্রের একটু বিশ্লেষন দরকার। রুমানাকে আমাদের সুশীল সমাজ ও কায়েমী স্বার্থের দালাল মিডিয়া একবারে ধোঁয়া তুলসে পাতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। আসলে কি সে একবারে নির্দোষ ছিল? হাসানের অভিযোগগুলো কি একবারে ভিত্তিহীন? চলুন দেখি একটু বিশ্লেষন করি......

(ক) রুমানার মত মেয়েরা আমাদের সমাজের জন্য জীবন্ত বিষফোঁড়া। সে যে ভদ্রতার আড়ালে কত বড় শয়তান সেটা এখন সবাই বুঝতে পারছে। কানাডা যাওয়ার কিছুদিন পরই রুমানা স্বামী ও সন্তানের খোঁজ খবর নেওয়ার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েন। তখন হাসান জানতে পারে ইরানি বংশোদ্ভুত কানাডার নাগরিক তাহেরদিন নাভিদের সাথে রুমানার অনৈতিক সম্পর্কের কথা। দেশে ফেরার পর সে বিষয়টি হাসানের কাছে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। দেশে ফেরার পর সে দিনভর পরে থাকত ফেসবুক নিয়ে। রুমানা সর্বশেষ গত ৮ই মার্চ ১০.৩১.২৫ সেকেন্ডে নাভিদের কাছে ইমেইল করেন। সে ইমেইলে রুমানা লেখে " আমি আমার স্বামীর সাথে প্রতারনা করছি।তার মানে আমি খারাপ বা সস্তা মেয়ে নই। তোমার সাথে অবৈধ শারীরিক মেলামেশা করছি বলে মনে করার কোন কারন নেই,আমি খারাপ মেয়ে ।" তাহলে বুঝুন,কত বড় ভদ্রবেশী মুখোশধারী শয়তান সে।

(খ) রুমানা এক ভয়ংকর ডাইনীর নাম। রুমানা যখন সাঈদকে তার জীবন থেকে সরাতে পারছিল না তখনি সে তাকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়। রুমানা সাঈদকে বেলের শরবতের মধ্যে ঘুমের ওষধ খাইয়ে দরজা বন্ধ করে বাপের বাড়ি চলে যায়। পরের দিন রুমানার ভাই ফারুক এসে তাকে বাসা থেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসান সাঈদ এর সর্বশেষ পরিনতি ঐ পরিকল্পনার ধারাবাহিক অংশ বলে তার পরিবারের ধারনা।

(গ) রুমানাকে আঘাতের পর সুশীল মিডিয়া রুমানার সাথে তার ছোট্ট মেয়ের আবেগঘন ছবি চাপায়।আর আমরা আবেগপ্রবন জাতি সেটা দেখেই সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি, কে এই ছোট্ট মেয়েটিকে লালন পালন করে বড় করেছে, কে তাকে বাবা হয়েও মায়ের আদর দিয়ে বড় করেছে?

(ঘ ) একবার ভাবুন, কোন সত্যিকারের মা কি পারে তার ৩ বছরের শিশু সন্তানকে রেখে বিদেশ চলে যেতে? রুমানা কেমন মা? কেমন তার মাতৃত্ববোধ? কিসের নেশায় স্বামী ও ৩ বছরের কন্যাসন্তানকে রেখে সে কানাডায় পিএইচডি ডিগ্রীর জন্য ছুটে গিয়েছিল? সন্তানের চাইতে ডিগ্রী কি বড় হয়ে গেল?

(ঙ ) রুমানা কি ডিগ্রীটা তার মেয়ে আরেকটু বড় হলে নিতে পারত না?একটা ছোট্ট মেয়ের প্রতি মায়ের যে দায়িত্ববোধ তার কিছুই পালন করেনি রুমানা।মাতৃত্বের প্রতি তার এই অবজ্ঞাই প্রমাণ করে রুমানা ছিল ব্যাভিচারিনী, নারী জাতির কলঙ্ক।

(চ)হাসান সাঈদের সাথে রুমানার প্রেমের সম্পর্ক ছিল ৭ বছর। হাসান সাঈদ যদি এতই খারাপ হবেন তাহলে রুমানার মত একজন মেধাবী ছাত্রী কোন দুঃখে তার সাথে এত বছর প্রেম করল? (ছ) হাসান বুয়েটে লেখাপড়া করেছেন। নিজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ না করে নিজের সিএনজি বিক্রি করে রুমানাকে সেই টাকায় কানাডা পাঠিয়েছেন।যে স্বামী তার স্ত্রীকে এত ভালবাসে সে কি কখনো কোন কারন ছাড়া তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ আনতে পারে? সুশীল মিডিয়া কি এই প্রশ্ন কখনো তুলেছে?

(জ)কেন দেশে ফেরার কয়েকদিন পর রুমানা আবার কানাডা যাওয়ার জন্য হাসানের সাথে ঝগড়া করে? কেন স্বামী হাসানের কথা না শুনে সে আবার বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে? কিসের নেশায়? কার টানে? রুমানার এই আচরন কি স্বামী ও সংসারের প্রতি তার দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে? যে নারী কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারন ছাড়া তার স্বামীর বিরুদ্ধচারন করে, যে নারী স্বামী সংসারকে তুচ্ছজ্ঞান করে নিজের চাওয়াকে বড় করে দেখে তাকে কোন বিবেচনায় সুশীল মিডিয়া স্বর্গীয় নারী বানালো সেটা বোধগম্য নয়।

(ঝ)রুমানা যদি এতই ভাল হবেন তবে কেন সে হাসানের সাথে ঝগড়ার পর তাড়াতাড়ি করে মোবাইল থেকে ইরানী যুবকের সব অস্লীল মেসেজ ডিলেট করে দিলেন। কেন ফেইসবুক থেকে সেই ইরানী যুবককে ডিলিট করলেন? এটা কি চোরের মন পুলিশ পুলিশ নয়?

(ঞ)রুমানাকে পাপের পথ থেকে ফেরাতে না পেরে হাসান নিজে ঘুমের বড়ি খেয়ে মরতে ছেয়েছিলেন।তাকে হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়। কিন্তু সে বেঁচে যায়।।আমরা কি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেছি, যে মানুষটি তার স্ত্রীকে ভালবেসে মরতে ও পারে, কতোটুকু সহ্যের সীমা পার হয়ে গেলে সে এমন হিংস্র হতে পারে?

(ট )হাসান বলেছে, রুমানা দুই একবার আপত্তিকর অবস্থায় তার সামনে ধরা পড়ে। হাসান দুই একবার তাকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারপর ও এসব অভিজাত শ্রেনীর দুষ্ট ব্যাভিচারী মেয়েরা শরীরের কামনার আগুনে ভালবাসার চিরায়ত আহবানকে পায়ের নীচে পিষ্ট করতে দ্বিধাবোধ করেনা।

এত কিছুর পরো হাসান যে অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিল, তার মৃত্যুর পর সেটার প্রশংসা না করলে তাকে ছোট করা হবে।


যাই হোক, এবার আসি মূল কথায়। কার স্বার্থে হাসানকে মেরে ফেলা হল? চলুন আরেকবার আমরা বিবেক দ্বারা তাড়িত হই।

(ক)হাসানকে মেরে ফেলে অবশেষে চক্রান্তকারীরা পরকীয়াকে সামাজিকভাবে বৈধতা দেওয়ার প্রথম ধাপটা সফলতার সাথে অতিক্রম করল।

(খ) হাসানের মৃত্যুর মাধ্যমে চক্রান্তকারীরা এই মেসেজ দিল যে, এখন থেকে পরকীয়ার প্রতিবাদ করলে সবাইকে হাসানের মত পরিণতি ভোগ করতে হবে।

(গ)হাসানের মৃত্যুর মাধ্যমে অভিজাত সোসাইটির নোংরা নগ্ন গৃহবধুদের যারা নাকি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করে শাহরুখের অনুষ্ঠান দেখে শাহরুখের সাথে নাচবার জন্য পাগল হয়ে যায়, সন্ধ্যা নামলে যারা অভিজাত পাড়ার ক্লাবগুলোতে ভিড় জমায়, তাদের পরকীয়ার ফ্রি লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হল।

(ঘ) হাসানের মৃত্যুর পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মিডিয়া। সাইদ এর বাবা বলেন, রুমানা মনজুর ছিল আত্মস্বীকৃত ব্যাভিচারিনী। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী মিডিয়া।।মিডিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা মিসইউজ হয়েছেন। তখন রুমানা মনজুরের বেশকিছু ঘটনার তথ্য প্রমাণ নিয়ে আপনাদের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা বলেছেন আমি ক্রিমিনালের বাবা বড় ক্রিমিনাল।এখন প্রশ্ন হল, মিডিয়া কেন এমন ভূমিকা পালন করল? কেন একজন বাবার মুখ তারা রুদ্ধ করে দিল? আমরা জানি, বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া সুশীল নিয়ন্ত্রিত এবং ভারতের অর্থে পরিচালিত। তাহলে কি আমরা ধরে নেব, সুশীল ও তার দাদা ভাইরা পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে ভারতের মত পরকীয়ার প্রেমের অবাধ বিস্তার ঘটানোর সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে?

(ঙ)রুমানার বাবা বলেন, যখনই ছেলের জামিনের জন্য যেতাম, সেখানে কিছু নারী নেত্রী তার প্রতিবাদ করে আর সবাই,বিশেষ করে মিডিয়া সেটা সমর্থন করে। ঘটনার নেপথ্যে কি আছে আপনারা কখনও তা জানতে চান না। একজন বাবার এই আকুলতা কি আমাদের চোখকে খুলে দেয়না? কেন নারী নেত্রীরা হাসানের বাবাকে জামিন নিতে বাঁধা দেয়? এরা কি সেসব নারী নেত্রী যারা দিনের বেলায় শহীদ মিনারের পাদদেশে নারী অধিকার নিয়ে বড় বড় বক্তৃতা দেয় আর রাতের বেলায় নিজ বাসায় কাজের মানুষকে অমানুষিক অত্যাচার করে? এরা কি সেসব নারী নেত্রী যারা প্রভাবশালী মহলের মনোরঞ্জনের জন্য ইডেন কলেজের মেয়েদের সাপ্লাই দেয়? এরা কি তারা, যারা নিজেদের পাপকে ঢাকতে রুমানার পাপকে সমাজে জায়েজ করতে চায়? আমার মনে হয়, সুশীল সমাজের ধারক ও বাহক এসব নারী নেত্রী হাসান হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত।

(চ) আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করুন। আর কিছুদিন পর হাসান সাঈদের চূড়ান্ত বিচার শুরু হত। আর এই বিচার শুরু হলে রুমানা মনজুর এবং তার ব্যাভিচারকে সমর্থন দেওয়া মিডিয়া, সুশীল সমাজ এবং মূল চক্রান্তকারীদের অনেকের মুখোশ খুলে যেত। আর চক্রান্তকারীরা এটা খুব ভাল করেই জানত। তাই আমার ধারনা, নিজেদের রক্ষার জন্য বিচারের আগেই তারা পরিকল্পনা করে পুলিশের সহযোগিতায় হাসান সাঈদকে সরিয়ে দিয়েছে।

(ছ) হাসান সাঈদের বাবা বলেন, রুমানা মনজুরের সব কিছু ঠিক আছে। এখনও সে সব দেখতে পায়। কিন্তু মিডিয়ার সামনে আসলে সে চোখে কালো চশমা দিয়ে আসে। এই কথা কি ইঙ্গিত দেয়? রুমানা কি আসলে দেখতে পায় না? আমরা জানি, রুমানার চোখের ডাক্তার তার আত্নীয়। তাহলে কি তার আত্নীয়ের কারসাজিতে কোন False মেডিকেল রিপোর্ট দিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।

(জ)রুমানা সাঈদের ঘটনাটা নিয়ে আড়াল থেকে কেউ যে গুটি নেড়েছে তা সহজেই বুঝা যায়। কারন মূল ঘটনা ঘটার এক সপ্তাহ পরে সেটা মিডিয়ার নজরে আসে। একবার ভাবুন, ঢাবির একজন শিক্ষিকা মারা গেল সেটা এক সপ্তাহ মিডিয়া বা ঢাবি কতৃপক্ষ কেউ কিভাবে জানল না? জানলে তারা চুপ করে ছিল কেন? আসলে সবাই সব কিছু জানত। কিন্তু যখনি মূল ষড়যন্ত্রকারীরা এক্টিভ হল তখনি তারা চায়ের কাপে ঝড় তুলল

সব কিছু বিচার করলে একটা বিষয় স্পষ্ট। এই ঘটনা নিছক হত্যাকান্ড নয়। হাসান সাঈদ চলে গেলেন। কিন্তু আমাদের জন্য রেখে গেলেন এক কঠিন ও ভয়াবহ ভবিষ্যতের আগাম সতর্ক বার্তা। এখনি পরকীয়ার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে, এই বিষ খুব দ্রুত সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়বে। তাই চলুন, আমরা সবাই মিলে পরকীয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।
কে জানে, হয়ত হাসান সাঈদের মত পরিনতি আমাকে বা আপনাকে ও ভোগ করতে হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই, বেশ বলেছেন। তবে কিছু কিছু জিনিস নিয়ে বিতর্ক উঠতে পারে। তাই আরেকটু কাটছাট করে এই লেখা গুলোকে একটা আলাদা ব্লগ হিসেবে পোস্ট করুন। শেয়ার করা নিয়ে ভাব্বেন না।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
পথের প্রান্তে নয়, পথের দু'ধারে আমার গন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ক্যাটেগরি:
আমারব্লগ রিসার্চ



Shock কেমনে কি?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে

glqxz9283 sfy39587p07