Skip to content

রূপকথার বৃত্ত

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক মাশরুম দিয়ে একটা সার্কেলের সৃষ্টি হলে সেটাকে রূপকথার বৃত্ত বা ফেইরি রিং হিসেবে কল্পনা করা হয়। রিং গুলি সাধারনতঃ ৩০ ফুট ডায়ামিটার হতে পারে। মাটিস্থ জৈবপদার্থের প্রাচুর্য্যের উপর নির্ভর করে এই মাশরুমের বৃত্তাকার সজ্জা।



মাশরুমের অনেক প্রজাতিই এইরকম গঠনের সৃষ্টি করে তবে Infundibulicybe geotropa সবচেয়ে বড় বৃত্ত তৈরি করে - প্রায় ২০০০ ফুট। এই ছত্রাকগুলি সরাসরি ঘাসে জন্মে না। মাটির অর্গানিক ম্যাটারকে ভেঙ্গে দেয়। ফলসরূপ নাইট্রোজেন মুক্ত হয়ে যায়, সেই নাট্রোজেন আবার ঘাসের গোড়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে সবুজাভ রিং এর তৈরি করে।




আবার অন্যদিকে যেখানে মাশরুমের ঘনত্ব বেশি সেখানে পানির চলাচলে বাধা পড়ে । ফলে ঘাসগুলো পানির বিবর্ন হয়ে যায়।




মাশরুম দিয়ে ফেইরি রিং বানানো দেখলাম, এইবার দেখি অন্য কোন অর্গানিজম দিয়ে রিং বানানো





এই ধরনের সার্কেল নামিবিয়া,দক্ষিন এংগোলা ও দক্ষিন আফ্রিকার উত্তরে দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় নামিবিয়া অংশে। পুরাটাই প্রত্যন্ত অঞ্চল। নিকটস্থ গ্রামের দুরত্ব ১০০ মাইলের বেশি । স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য অনুযায়ী এইসব বৃত্তাকার রিং দেবদেবী বা শয়তানের সৃষ্টি।




১৯২০ সালে কোন এক জার্নালে প্রথম এর কথা স্থান পায় , ১৯৭১ সালে প্রথম এইধরনের স্ট্রাকচার দেখা গেলেও বিজ্ঞানভিত্তিক নজরে আসে ২০০৫ সালে। ফ্লোরিডা স্টেট ইউনির কীটতত্ত্ববিদ ডঃ ওয়াল্টার সিঙ্কেল নামিবিয়ার "র‍্যান্ড নেচার রিজার্ভ" এ ২০০৫ সালে এইধরনের রিং প্রথম দেখেন। উনি তার পত্নী সহ রিং এবং এর আশেপাশে পরীক্ষা করে দেখেন এই রিংগুলোর ভেতর বা আশেপাশে কোন পোকা আছে কিনা ?




তারা বিভিন্ন রাসায়নিক পরীক্ষা করে দেখেন যে কোন উপাদানের ঘাটতির কারনে এইরকম বৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে কিনা। কিন্তু সেই টেস্টেও কোন রেজাল্ট না পেয়ে উনি ৪ বছর ধরে স্যাটেলাইজ ইমেজ নিয়ে পরীক্ষা চালান। লক্ষ করে দেখেন ছোট বৃত্তগুলো ২৪ বছর ধরে রয়েছে এবং বড়্গুলো ৭৫ বছরের।




পরবর্তীতে অনেকেই অনেকভবাবে মতবাদ দিয়েছেন , কেউ দিয়েছেন গাছের শিকর থেকে বিষাক্ত তরল নিঃসরণ,কেউবা বলেন মাটি থেকে গ্যাসের উদ্ভবের কারনে এইজাতীয় রিং এর সৃষ্টি হয়েছে । প্রথম দিকে ধারনা ছিল একধরনের উইপোকা এই রিং এর জন্য দায়ী । ২০০৪ সালে প্রিটোনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রয়েন এই তত্ত্ব বাদ দেন। ২০০৮ সালে এঞ্জোলি জোবার্ট ইউফোরবিয়া গাছের শিকরের বিষাক্ত ক্যামিকেলের কথা বলেন । ২০১২ সালে প্রফেসর মোল আবার সেই উইপোকার তত্ত্ব দেন। ২০১৩ সালে নরবার্ট জরগেন ইন্টারেস্টিং এবং বিশ্বাসযোগ্য একটা থিওরি প্রমান করে দেখান। বেশিরভাগ পুরাতন সার্কেলে ৮০-৯০% এইধরনের উইপোকা পাওয়া যায়,অন্য কোন পোকা পাওয়া যায় নাই । তিনিও দায়ী করেন উইপোকাকেই। তিনি প্রমান করেন যে Psammotermes গনের উইপোকা একধরনের ইকোসিস্টেম তৈরি করে যার ফলে এইধরনের রিং এর সৃষ্টি হয়।




এরা পানির প্রয়োজনে বৃত্তকার করে মাটিতে নালার মত নালা তৈরি করে ,এই নালা দিয়ে পানি চুইয়ে মাটির ভেতর জমা হয়ে স্থানটিকে আর্দ্র করে রাখে। এমনকি মারাত্বক শুকনা মৌসুমেও জায়গাটা আর্দ্র থাকে। পানির প্রাচুর্যতার কারনে নালার চারদিকে ঘাস জন্মে,যা এই উইপোকারা খাদ্য হিসেবে ব্যাবহার করে।

এখনও শতভাগ নিশ্চিত হয় নি এই ধরনের রিং তৈরির কারন, ভুমিক্ষয় থিউরী ওঠে এসেছে নতুন করে, বিজ্ঞান এগিয়ে চলুক, রহস্য উদ্ঘাটিত হোক।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাহ দারুনতো,ভিনন সাদ পাইলাম,আউল ফাউল লেখার মাঝে এই লেখা দেয়ার লাইগা আপনারে ধন্যবাদ বেকাদা।

__________________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমৎকার কিছু বিষয় নিয়ে লিখছেন বেকাঁদা। দয়া করে গায়েব হয়ে যাবেন না আবার।

.
.
(অন্ধকারে ঘামে ভেজা আতঙ্কে কুঁকড়ে বলতে চাইনা, আমি বিশ্বাস করি
শুধু জানি আলো চাই, বিশুদ্ধ জ্ঞানের আলো
অজ্ঞানতার আঁধার ফুঁড়ে আলো ফোটাবো বলে, বিশ্বাসের টুঁটি চেপে ধরি )


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাল লাগলো লিখাটা। এবার "Crop Circle" নিয়ে একটা লিখে ফেলো।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ক্রপ সার্কেল নিয়ে মাটিবাবার লেখা আছে

___________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমত্কার পোস্ট ভাইজান !!!

মজার ব্যাপার ,মানুষের শরীরে দাদ ও রিং আকারে হয় ,এটাও মনে হয় ছত্রাক জনিত !!

--------------------------------------------------------

আয়না বসায়ছি মোর কলবের ভিতর।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এইত ব্লগ মজারু হয়ে উঠছে - আসাধারন বেকা'দা স্পেশাল।

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালো, আনন্দিত হয়েছি

------------------------------------------------------------------
আমি ঈশ্বর পুত্র


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ইন্টারেষ্টিং। পোষ্টের জন্য ধইন্যা।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ন্যায় আর অন্যায়ের মাঝখানে নিরপেক্ষ অবস্থান মানে অন্যায়কে সমর্থন করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ফাঙ্গাস বা ছত্রাক নামে এক প্রকার জীবাণু আছে , যারা মানুষের শরীরে ও মাথায় রিং বা সার্কেল তৈরি করে। এই রিংয়ের সাথে সকলেই কম বেশি পরিচিত।



-------------------------------------------------------------------------------------------------------
৫৪:১৭ আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমৎকার, এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। এই টাইপের আরো আরো লেখা চাই বেকা ভাই

....................................................................................................
আমি ফাজিল শ্রেষ্ঠ মহা ফাজিল, খুব খেয়ালে

glqxz9283 sfy39587p07