Skip to content

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে ফল সংরক্ষণ

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হঠাত করে ফরমালিন মুক্ত ফল নিয়ে দেশে হৈ চৈ শুরু হয়েছে। ফরমালিন মিশ্রিত ফল ধংস করতে প্রশাসন আদাজল খেয়ে লেগে পড়েছে। ফল মৌসুমের শুরুতেই (জৈষ্ঠ মাস) ফল চাষী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সাবধান বা ফরমালিন মিশ্রনে নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে ফরমালিন মিশ্রিত ফল জব্দ করে ফলচাষী ও ফল বিক্রেতাদের পথে বসানোর বিপক্ষে আমি। ফল জব্দ করেন আপত্তি নাই, তবে ওদের ফরমালিন বিরোধী চাষকে উৎসাহিত করতে ক্ষতিপূরন দেন। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে যেভাবে জেলেদের সহায়তা-ভর্তুকি দিয়ে জেলে ও ইলিশকে বাচিয়ে রাখেন সেভাবেই বাচান আমাদের চাষীকে।




খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন মিশানোর ব্যাপারটা আজকের নয়,গত কয়েকবছর ধরেই ব্যাপকভাবে ফরমালিন ব্যাবহার হচ্ছে খাদ্যের পচন ঠেকানোর জন্য। এতোদিন এটা নিয়ে সংশ্লীষ্ট সবাই চুপ-চাপ , আজ এই ব্যাপারে মিডীয়া থেকে চিল্লা চিল্লি সকরা হচ্ছে বিধায় হঠাৎ করে ফরমালিন ঠেকাও ব্যাপারটা কেমন লাগে ?

আমি ফরমালিনের পক্ষে না মোটেও। কিন্তু মৌসুমের শুরু থেকেই ফরমালিন হতে বিরত করার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী হাতে নিলে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্থ হত না। আমার জানামতে এই ধরনের কোন প্রোগ্রাম সরকারী বা বেসরকারীভাবে কোথাও নেয়া হয় নাই।

ফরমালিনের ব্যাবহার হঠাৎ করে হয় নি, এরজন্য দায়ী ভোক্তা। পচনশীল কাচা দ্রব্যে পচা গন্ধ ও মাছির উৎপাত হবেই। বিশেষ করে বাংলাদেশের মত অতি আর্দ্রতা ও অতি তাপমাত্রা সম্পন্ন দেশে পচন বৃদ্ধির হার আরোও বেশী। মাছের বাজারে মাছের উপর মাছি দেখলেই, পাকা ফলের উপর একটু ছ্যাচা দাগ বা স্পট থাকলেই আমাদের মাননীয় ভোক্তাসম্প্রদায় আমরা "ছ্যা ছ্যা" করে নাক চেপে ধরে পালিয়ে যান । সেক্ষেত্রে কি করনীয় ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের ?

আপনাকে আকৃষ্ট করতেই তখন পচন ঠেকানোর জন্য দু-নম্বরী না করলে চলে না। আপনে এত শ্রম আর এত টাকা খরচ করে উৎপাদিত পন্যকে যদি পচা বলে এভয়েড করেন তাহলে উৎপাদক তার জীবিকার জন্য আপনাদের ফাকি দেয়ার উপায় বের করে তাহলে আপত্তি কোথায় ? সব দোষ চাষী নামক দরিদ্র সম্প্রদায়ের।


আসেন আগে ফরমালিন সম্মন্ধে একটু জেনে নেই-

ফরমালডিহাইড বা মিথান্যাল (Methanal) গ্যাসের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলা হয়। ফরমালিন একটি কার্যকরী জীবাণুনাশক। প্রায় ৫০০০সে. তাপমাত্রায় উত্তপ্ত সিলভার অথবা কপার প্রভাবকের উপর দিয়ে মিথানলের বাষ্প ও বায়ুর মিশ্রণকে চালনা করলে মিথানল আংশিক জারিত হয়ে মিথান্যাল ও পানি বাষ্প উৎপন্ন হয়। ঐ মিথান্যাল গ্যাসকে পানিতে চালনা করলে উৎপন্ন হয় ৩০-৪০% জলীয় দ্রবণ বা ফরমালিন ।


ফরমালিনের বৈশিষ্ট্য/ধর্মঃ


ফরম্যালডিহাইড (H-CHO) এক ধরনের কার্বনাইল যৌগ। কার্বনাইল যৌগসমূহকে প্রধানত দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়, যেমন: অ্যালডিহাইড ও কিটোন। দ্বিযোজী কার্বনাইল (>C=0) মূলকের সাথে ২টি হাইড্রোজেন পরমানু যুক্ত হয়ে যে যৌগ উৎপন্ন হয় সেটিই ফরমালডিহাইড।

ফরম্যালডিহাইড সাধারণ তাপমাত্রায় একটি গন্ধযুক্ত বর্ণহীন গ্যাস তবে এর ৪০% জলীয় দ্রবণের বাণিজ্যিক নাম হলো ফরমালিন। এটি একটি দাহ্য পদার্থ। এটি একটি তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ। রাসায়নিক পদার্থ এবং একটি গুরত্বপূর্ণ ইন্ডাষ্ট্রিয়াল কেমিক্যাল।

ফরমালিনের অপব্যবহারঃ
সাধারনত ইন্ড্রাষ্টিয়ালে ফরমালিন বেশি ব্যাবহারিত হয়,ঔষুধ শিল্প আর ল্যাবরটরীতে টিস্যু সংরক্ষন ও স্টাফ সংরক্ষনে ফরমালিনের ব্যাবহার যুগ যুগ থেকে। তাছাড়াও ছত্রাকনাশক ও জীবানুনাশক হিসেবেও বহুল প্রচলিত। এই পয়েন্ট থেকেই এই দেশে কাচা দ্রব্যাদিতে অপব্যাবহার করা হচ্ছে।




জীবিত বস্তুর উপর ছত্রাক/ব্যাক্টেরিয়ার এক্টিভিটির জন্যই পচনক্রীয়া সংঘটিত হয়। সেই এক্টিভিটি বন্ধ করতে হলে ফরমালিন ইউজ করা হয়। কাজেই আর পচার সুযোগ নেই। ফলাফল- পচনমুক্ত,গন্ধমুক্ত, মাছিমুক্ত ফল-মাছ।


যাই হোক ফরমালিন ব্যাবহার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। মানব দেহে ফরমালিনের ক্ষতিকরপ্রভাব-

১। যারা ফরমালিন নিয়ে কাজ করে তাদের নাকের প্রদাহ, শ্বাস কষ্ট এবং চর্ম প্রদাহ দেখা দেয়
২। ফরম্যালডিহাইডের সংস্পর্শে যারা কাজ করেন তাদের ন্যাজাল ক্যান্সার, ন্যাসোফেরিঙ্গিয়াল ক্যান্সার হয়
৩। পেশার যারা ফরমালিন নিয়ে কাজ করেন তারা সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় লিউকোমিয়াএবং ব্রেন ক্যান্সারের উচ্চ ঝুকির মধ্যে রয়েছেন। ফরমালিন ফুসফুস ক্যান্সারের জন্যও দায়ী।
৪। কিডনি রোগ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে;
৫। গর্ভবতী মহিলাদের ফরমালিন নিয়ে কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আমাদের দেশে ফল সংরক্ষনের জন্য তেমন কোন সুবিধা নাই। তবুও তাত্ত্বিক সিস্টেমগুলি একটু দেখে নেই-

টাটকা অবস্থায় ফল সংরক্ষণঃ

ফল সংরক্ষণের জন্য হিমাগারে নিম্ন তাপমাত্রা ও উচ্চ আর্দ্রতায় রাখা হয়। এতে ফলের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিমান প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। নিম্ন তাপমাত্রার কারণে ফলের মধ্যকার জারকের ক্রিয়া সীমিত থাকে এবং উচ্চ আর্দ্রতার কারণে এগুলো শুকিয়ে সংকুচিত হয় না। আঙ্গুর, আপেল, আনারস, কমলালেবু, কাঠাল, নাশপাতি ইত্যাদি ফল টাটকা অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। এখানে একটু চোখ বুলিয়ে নেন কোন ফল কতদিন সংরক্ষন সম্ভব।

সমস্যাঃ হাতে গোনা দুইটা বা তিনটা খুব কম আয়তনের কোল্ড স্টোরেজ আছে,যেখানে শুধুমাত্র এক্সপোর্টের জন্যই ফল সংরক্ষন হয়, সেগুলো সাধারন চাষীদের জন্য নয়। ব্যায়বহুল বিধায় ব্যাবসায়ীরা এই পথে পা বাড়ায় না। সীমিত পরিসরে বিভিন্ন প্রসেসিং করে বড়জোড় ১-২ মাস টাটকা ফল খাওয়া সম্ভব।


শুকিয়ে ফল সংরক্ষণঃ রসাল হওয়ার কারণে ফলে দ্রুত পচন ধরে। তাই শুকিয়ে ফলে পানির পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারলে এগুলো সহজে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় না। সঠিক মাত্রায় শুকিয়ে নিয়ে ফল সংরক্ষণ করা যায়।

এতে বড়জোড় দুইমাস ফল সংরক্ষন করতে পারা যায়, রসালো ফল হলে তো সম্ভবই না


প্রক্রিয়াজাত করে ফল সংরক্ষণঃ কয়েকটি মাধ্যমে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যায়-

১।চিনি ও লবণের দ্রবনে ফল সংরক্ষণ : আনারস, লিচু, আম, পেঁপে, কমলা, নাশপাতি, আঙ্গুর ইত্যাদি ফল চিনি ও লবণের দ্রবণে সংরক্ষণ করা যায়।
২।রস আকারে ফল সংরক্ষণ : লেবু, আনারস, আপেল, আম, আঙ্গুর ইত্যাদি ফলের রস তৈরি করে সংরক্ষণ করা যায়।
৩।জ্যাম বা জেলি : আম, আনারস, আপেল, পেঁয়ারা, আঙ্গুর ইত্যাদি ফলের জ্যাম বা জেলি করা যায়।
৪।আচার, চাটনি : আম, জলপাই, কুল, কাগজি লেবু, করমচা, তেঁতুল, আমলকী ইত্যাদি ফলের আচার, চাটনি করা যায়।
৫।মোরব্বা : পেঁপে, আমলকী, আনারস ইত্যাদি ফলের মোরব্বা করা যায়।





তাইলে উপায় ?


উপায় ১ - মৌসুমের ফল মৌসুমেই খাওয়ার অভ্যাস করুন, আমাদের সৌভাগ্য যে এই দেশে সারা মৌসুমেই কোন না কোন ফল পাওয়া যায়, সংরক্ষনের কোন দরকার নাই।

উপায় ২- অনেক ফল এর বিভিন্ন জাত আছে, একেকটি জাতের একেকটি হারভেস্ট টাইম। সেদিকে লক্ষ্য রেখে সিডিউল মেইন্টেইন করে বাগান করলে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না। যেমন আমের মধ্যে একটু আগে পাকে, এরপর ল্যাংড়া এরপর ফজলি, এরপর ধরেন ক্ষীরসাপাত। এইগুলা মেইন্টেইন করে আম গাছ লাগালে কমপক্ষে ৩-৬ মাস যাবৎ ধরে একই বাগান থেকে আম উৎপাদন করা যাবে, চাষীও লাভ করবে, ফরমালিনের কোন দরকারই পড়ে না। তাছাড়া অনেক আমই আছে সারাবছরই ফল দেয়। যুগ চেঞ্জ হইছে আপনের লাভের জন্য দেশের লাভের জন্য পুরান একই জাতের কিছু গাছ কেটে নতুন নতুন জাত দিয়ে প্রতিস্থাপন করেন।

উপায় ৩- দেশের চাহিদা অনুযায়ী বাগান করেন, ইচ্ছামত বাগান করে আলু চাষীদের মতন ধসে পইড়েন না

উপায় ৪- সাময়িকভাবে সঙ্গরক্ষনের জন্য অনেক ক্যামিকেল পাওয়া যায় যার ক্ষতিকারক দিক খুব কম সেগুলোর প্রচারনা দরকার, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা দরকার।

উপায় ৫- মৌসুমের শুরুতেই ফল চাষীদের সাথে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উচিত ফল উৎপাদক ও বিক্রেতার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা। স্থানীয় প্রশাসন প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন কমিটি করে মিটিং করেন। ফল অঞ্চলে ফল চাষী ও ব্যাবসায়ীদের নিয়েও নিয়মিত মিটিং দরকার।

উপায় ৬- খাদ্যের ভেজাল নিয়ে দেশে কার্যকর ভালো আইন দরকার এবং সেই আইনের বাস্তবায়ন দরকার।

উপায় ৭- শুরুতেই চাষিকে চাপিয়ে দিয়েন না, তাদের ক্ষতিপূরন দিয়ে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে ধীরে ধীরে কাজ করেন।

উপায় ৮- এলাকাভিত্তিক ফলবাগান অনুযায়ী কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করতে হবে, এক্সপোর্টের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।


অনেক গ্যাজাইলাম, যাই গা, আমি ফল খাই না,তাই টেনশনও নাই। ও হ্যা,আরেকটা কথা অনেকেই বলবে ফরমালিন মুক্ত করা সম্ভব, এইসব ভুয়া কথা কথা। ফরমালিন মুক্ত আম খান smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক দিন পর, লাইনের পোষ্ট

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দরকারি লেখা,প্রিয়তে নিলাম।

__________________
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

উপায় -১ যেটা বললেন আসল কথা সেটাই। বেশি খাইতে খাইতে আমাদের অবস্থা হইছে 'যত পাই, তত খাই'
অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক না জেনেও আমরা খেয়েই চলেছি।

লেখায় তারা। সময়োপযোগী লেখা। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাগান চাষীদের ব্যাপারে লেখা আসা প্রয়োজন ছিলো।
যেহেতু কৃষিবান্ধব সরকার ক্ষমতায়; আশা করি কিছু ভর্তুকি দিয়ে হলেও তাদের ব্যাপারটা দেখবে

```````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````
সত্য-মিথ্যাময় এ চিড়িয়াখানায় ভ্রমনরত এক চিড়িয়া...
{ঋতানৃতঃ সত্য-মিথ্যা ; TourZoo: চিড়িয়াখানা ভ্রমন}

জয় বাঙলা, জয় বঙ্গবন্ধু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাই,সময়োপযোগী লেখা,লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো৷
আচ্ছা ভাই,একটা কথা-
আমরা কি ফরমালিন বা কার্বাইড পলিথিন ব্যাগ যেমন কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করতে পেরেছি ,তখন এটা হয়তো পারা যায় ওটার মত৷ শুধু গোড়ায় হাত দিতে হবে খেল খতম,মানে এগুলোর বিক্রেতা কে বা কোম্পানি কে ধরতে হবে,তাহলে এটা অনেক টায় নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করি৷ আমার মতামত পেশ করলাম,ভুল হলে সংশোধন করবেন৷

আমার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ঠিকানা:
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট

আমার বাংলা ওয়েবসাইট ঠিকানা:
বর্ণনীড়


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চমত্কার পোস্টের জন্য "বেলের কাটা" কে "বেল ফুল" দিয়া ধন্যবাদ।

--------------------------------------------------------

আয়না বসায়ছি মোর কলবের ভিতর।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ফল খান না তো এত প্যাঁচাল পাড়লেন কেন?

glqxz9283 sfy39587p07