Skip to content

ঈশ্বর ও পুরুষের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহিণী : লিলিথ

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যৌন-মিলনের সময় নারীর অবস্থান কোথায় হবে ? পুরুষের নীচে না ওপরে ? এই বিতর্কের অপ্রত্যাশিত পরিণতি ঘটল পৃথিবীর প্রথম দাম্পত্য-বিচ্ছেদে । প্রথম মানবী লিলিথ তার পুরুষ-সঙ্গী আদমকে পরিত্যাগ করে স্বর্গ থেকে এই ধুলোমাটির পৃথিবীতে চলে আসে এবং লোহিতসাগরের তীরে দৈত্যদের সঙ্গে স্বাধীন যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে স্বশাসিত জীবন-যাপনে নিজের মুক্তি খুঁজে পায়।

বুক অব জেনেসিসে বলা হয়েছে , ঈশ্বর প্রথমে আদমকে সৃষ্টি করেন । পরে আদমের নিঃসঙ্গতা ও যৌন-তৃষ্ণা চরিতার্থ করার জন্য তিনি একই মাটির উপাদান দিয়ে লিলিথকে সৃষ্টি করেন । কিন্তু লিলিথ ও আদমের মধ্যে ছিল নিত্য কলহের সম্পর্ক। আদমের পুরুষতন্ত্রের স্বৈরাচারকে লিলিথ কখনোই মেনে নিতে পারেনি। দাম্পত্য-সম্পর্ককে সে অগ্রাহ্য করতে চায়নি, কেবল পুরুষের সমকক্ষতা দাবি করেছিল । নারীর এই আধিপত্য-স্পৃহা ও সাম্যের অধিকারকে আদি মানব আদম মেনে নিতে অস্বীকার করে । সে লিলিথকে বিছানায় নীচে শুইয়ে নিজে উপরে থেকে যৌন-সঙ্গম করতে চায়। শুধু তাই নয় , লিলিথের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও সে সঙ্গম করতে উদ্যোগী হয়। আর লিলিথ চেয়েছিল সে আদমের উপরে অবস্থান করে যৌনক্রিয়া করবে। এতে আদমের পৌরুষ আহত হয়। সে পুরুষ , সে কেন একজন স্ত্রীলোকের নীচে থাকবে ? তার ইচ্ছা অনুসারেই সঙ্গম-প্রক্রিয়া চালিত হবে । লিলিথকে সে জানায় : "You are fit only to be in the bottom position''.
তাছাড়া আমি তোমার থেকে শ্রেয়, সুতরাং আমি তোমার উপরেই থাকব।
কিন্তু লিলিথ কিছুতেই তার কথা মেনে নেবে না। সে বলল, আমরা কেউ কারো থেকে শ্রেয় নই বরং আমরা উভয়ে সমান।
তখন প্রবল কলহের পর লিলিথ স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে চলে আসে ।
দেখা যাচ্ছে, পুরুষতন্ত্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদী নারী লিলিথ। আর নারীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌনমিলনকে যদি ধর্ষণ বলা হয় তাহলে পৃথিবীর প্রথম ধর্ষক মানব হল আদম।
আবহমান কাল ধরে ঘর-পালানো, স্বেচ্ছাচারিণী নারীকে পুরুষের পৃথিবী সুনজরে দেখেনি। দানব-সঙ্গমে অভ্যস্ত লিলিথকে তাই চিরকাল সহ্য করতে হয়েছে নানা কদর্য অপবাদ । যুগে যুগে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে : বিদ্রোহিণী এক নেতিবাচক নারী চরিত্র হিসেবে । ইহুদি সমাজে ও ধর্মে লিলিথ হল অন্ধকারের নারী, অশুভ আত্মা, খুনি মহিলা, শিশু ভক্ষণকারী এক মায়াবিনী ডাইনি।
চার হাজার বছর ধরে সুমেরীয় মিথে, ইহুদিদের সমাজে ও গ্রন্থে, ইজিপ্ট, গ্রিক সভ্যতায় লিলিথ চরিত্রটি বেঁচে আছে। বেবিলনীয় ধর্মগ্রন্থে লেখা আছে--পুরুষ মানুষ যদি বাড়িতে একা ঘুমোয় তাহলে লিলিথের ফাঁদে সে ধরা পড়তে পারে। পুরুষের সাথে সঙ্গমের মাধ্যমে লিলিথ শয়তানদের জন্ম দেয় এমনই এক ধারণা তাদের মধ্যে বদ্ধমূল ছিল।
লিলিথকে বলা হয় ‘উন্নাসিক নারী’ যিনি আদম কিংবা ঈশ্বর কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হতে চান নি। অন্য একটি মিথে দেখা যাচ্ছে : লিলিথ সাপ হয়ে স্বর্গের বাগানে চলে যায় এবং ইভ’এর সাথে বন্ধুত্ব করে। পরবর্তীকালে তারা একে অন্যের সাথে নিজেদের ভাবনা ভাগ করে নেয়। তাদের বন্ধুত্ব হয় এবং তারা একত্রে জ্ঞানের অন্বেষণ করে। এভাবেই ইভ স্বর্গীয় বৃক্ষের নিষিদ্ধ আপেলটি খায়।
এই কাহিনীর উপর ভিত্তি করে বহু কবি দুই নারীর সমকামিতার কবিতাও লিখেছেন।
হিব্রু ভাষায় লিলিথ শব্দের অর্থ রাত্রি বা রাত্রির নারী বা অপদেবতা। সুমেরীয় ভাষায় লিলিথ অর্থ হাওয়া বা শ্বাস বা বায়ুর উপাদান । হিব্রুতে এর অর্থ আত্মা বা আত্মা-সম্বলিত প্রাণী।
বাগদাদের কাছে চার হাজার বছরের পুরোনো একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ভিতর লিলিথের দুর্লভ একটি মূর্তি খুঁজে পায় একজন ইরাকি।
মন্দিরের ভূ-গর্ভস্থ দেয়ালে আটকানো একটি ফলকে খোদাই করা ছিল লিলিথের মূর্তি। আর ঐ মূর্তির পায়ের কাছে প্রাচীন কুনিফর্ম লিপিতে লেখা ছিল- রাতের রানী লিলিথ বেবিলনের সমস্ত বেশ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করে।
সেই ফলকে দেখা যাচ্ছে, যুবতী লিলিথ একটা সাপকে জড়িয়ে ধরে আছে, যার মাথাটা ঝুলে আছে তার কাঁধের ওপর। আর তার দু’দিকে দাঁড়িয়ে আছে তরুণীর পায়ের মত পা বিশিষ্ট দুটি পেঁচা।
লিলিথ চলে যাবার পর ঈশ্বর কয়েকজন দূতকে পাঠালেন তাকে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সে আর ফিরল না। বরং মেনে নিল ঈশ্বরের ভয়াবহ অভিশাপ। তখন আদম ঈশ্বরের কাছে এমন একজন নারীকে প্রার্থনা করল যে হবে তার অনুগত , বিনম্র, পতি-অন্ত-প্রাণ।
ঈশ্বর এবার আর কোনও ঝুঁকি নিলেন না । তিনি নারীকে পুরুষের অনুগত করে রাখার অভিপ্রায়ে ঘুমন্ত আদমের বাম পাঁজরের হাড় থেকে ইভকে সৃষ্টি করলেন । ইভ হয়ে উঠল আদমের প্রিয়তমা নারী।
নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল আস্বাদন করার অপরাধে আদম ও ইভ যখন স্বর্গ থেকে দুঃখ-কষ্টের পৃথিবীতে নির্বাসিত হল তখন ইভ আদমকে বলতে পেরেছিল : এই নির্বাসনে আমার কোনও দুঃখ নেই । কারণ তুমি যেখানে থাকবে সেটাই আমার কাছে স্বর্গ।
চিরকাল ধরে পুরুষ এমন নারীকেই মনে মনে প্রার্থনা করে এসেছে। আজও এই মাটির পৃথিবীতে নারী মূলত দুই প্রকার : ১) লিলিথপন্থী ২) ইভপন্থী ।
সাহিত্যে শিল্পে এই দুই রূপেরই সাক্ষাত্‍ পাই । রবীন্দ্রনাথের চিত্রাঙ্গদা অর্জুনের কাছে দাসীত্ব বা দেবীত্ব চায়নি। চেয়েছিল সম-মর্যাদার অধিকার :
‘আমি চিত্রাঙ্গদা।
দেবী নহি, নহি আমি সামান্যা রমণী।
পূজা করি রাখিবে মাথায়, সেও আমি
নই; অবহেলা করি পুষিয়া রাখিবে
পিছে, সেও আমি নহি। যদি পার্শ্বে রাখ
মোরে সংকটের পথে, দুরূহ চিন্তার
যদি অংশ দাও, যদি অনুমতি কর
কঠিন ব্রতের তব সহায় হইতে,
যদি সুখে দুঃখে মোরে কর সহচরী,
আমার পাইবে তবে পরিচয়।‘
‘স্ত্রীর পত্রে’র মৃণাল ইবসেনের নোরার মতো স্বামীর সংসার ছেড়ে বেরিয়ে এসে অসীম সাগরতীরে দাঁড়িয়ে লিখেছিল : আমি আর তোমাদের সেই সাতাশ নম্বর মাখন বড়ালের গলিতে ফিরব না। ... সংসারের মাঝখানে মেয়েমানুষের পরিচয়টা যে কী তা আমি পেয়েছি। আর আমার দরকার নেই ।
তোমাদের গলিকে আর আমি ভয় করি নে। আমার সন্মুখে আজ নীল সমুদ্র, আমার মাথার উপরে আষাঢ়ের মেঘপুঞ্জ।
তোমাদের অভ্যাসের অন্ধকারে আমাকে ঢেকে রেখে দিয়েছিলে। ... আজ বাইরে এসে দেখি, আমার গৌরব রাখবার আর জায়গা নেই। আমার এই আনাদৃত রূপ যাঁর চোখে ভালো লেগেছে সেই সুন্দর সমস্ত আকাশ দিয়ে আমাকে চেয়ে দেখছেন। এইবার মরেছে মেজোবউ’।
ইহুদিদের লোকবিশ্বাসে লিলিথ একজন শয়তান চরিত্রের অধিকারী হলেও ইহুদি নারীবাদীরা লিলিথ’কে একটি বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে দেখেন। তাঁরা মনে করেন লিলিথ হল সেই নারী যিনি পুরুষের সমান ছিলেন। পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থই নারীকে পুরুষের সমান উপাদান দিয়ে সৃষ্টি করেনি কিংবা পুরুষের মতন অধিকার দেয় নি, যা একমাত্র লিলিথকে দেওয়া হয়েছিল সৃষ্টির শুরুতে।এবং সেই ভুল করে ঈশ্বর নিজেই যথেষ্ট অনুতপ্ত হয়েছেন । এই ঈশ্বর আসলে পুরুষের তৈরি ঈশ্বর, পুরুষের যাবতীয় সুবিধা-ভোগ ও ইচ্ছা-পূরণের ঈশ্বর।
তথাপি যুগে যুগে লিলিথ কবি শিল্পী সাহিত্যিকদের বিবেককে জাগ্রত করেছে । কবি দান্তে গ্যাব্রিয়েল রোসেত্তি (Dante Gabriel Rossetti) লিলিথ নামের একটি সনেটে লিলিথের মায়াময় চুল নিয়ে লিখেছেন- “Was the first gold”
এবং
‘Of Adam's first wife, Lilith, it is told
(The witch he loved before the gift of Eve,)
That, ere the snake's, her sweet tongue could deceive,
And her enchanted hair was the first gold.
And still she sits, young while the earth is old,
And, subtly of herself contemplative,
Draws men to watch the bright web she can weave,
Till heart and body and life are in its hold’.
আইরিশ ঔপন্যাসিক জেমস জয়েস (James Joyce) লিলিথকে চিত্রায়িত করেছেন ‘Patron of abortions’ হিসেবে। আধুনিক নারীবাদীরা আদম থেকে মুক্তিকামী এক নারী হিসেবে লিলিথকে কল্পনা করেন। এছাড়া ইহুদিদের একটি ম্যাগাজিনের নাম রাখা হয়েছে লিলিথ-এর নাম অনুসারে। দুস্থ মহিলাদের সাহায্যের জন্য নির্মিত একটি কনসার্ট ও স্তন ক্যান্সার ইনিস্টিটিউট Lilith Fair নামে পরিচিত। রেনেসাঁসের যুগে মাইকেল এঞ্জেলো লিলিথের একটি ছবি আঁকেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে লিলিথ অর্ধেক নারী অর্ধেক সর্প এবং যিনি জ্ঞান বৃক্ষকে কুণ্ডলিত করে আছেন।আমেরিকান লেখিকা Judith Plaskow’র সুপরিচিত গ্রন্থ The Coming of Lilith।
১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে গ্যেটে তাঁর ফাউস্ট-এ লিখেছেন :
Faust:
Who's that there?
Mephistopheles:
Take a good look.
Lilith.
Faust:
Lilith? Who is that?
Mephistopheles:
Adam's wife, his first. Beware of her.
Her beauty's one boast is her dangerous hair.
When Lilith winds it tight around young men
She doesn't soon let go of them again.
লিলিথকে কেন্দ্র করে রবার্ট ব্রাউনিং এর একটি কবিতা আছে, যেখানে মৃত্যুহুমকিতে হাওয়া বা ইভ বলেছে যে, আদমকে সে আসলে ভালবাসেনি, কিন্তু লিলিথ উল্টোটা জানায়| লিলিথ ভালোবাসতেই চেয়েছিল আদমকে, কিন্তু আদম চেয়েছিল লিলিথের আনুগত্য ও বশ্যতা। কারণ তার কাছে ভালোবাসার চাইতে যৌন-আকাঙ্ক্ষাই ছিল বড় । কোনও কোনও ইহুদি মিথে দেখা গেছে, নারী-সম্ভোগের আগে আদম তার নারীবিহীন নিঃসঙ্গ জীবনে পশু-সঙ্গম করতে অভ্যস্ত ছিল । এই প্রবৃত্তি ইস্রায়েলি রাখাল-বালকদের মধ্যে সেসময় যথেষ্ট প্রচলিত ছিল । সম্ভবত এই মিথে তারই প্রভাব পড়ে থাকবে ।
কিছুকাল আগে বাংলাদেশের একজন কবি ‘লিলিথের ডানা’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও প্রকাশ করেছেন । (রিমঝিম আহমেদ)।
ইবসেনের নোরা, প্রথম প্রতিশ্রুতি উপন্যাসের সত্যবতী, যোগাযোগের কুমু …. এরা তো আসলে লিলিথেরই ছোটো-বড় ভগ্নাংশ ।
হেনরিক ইবসেনের বিখ্যাত নাটক ‘আ ডলস হাউস’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক মুম রহমান বলেছেন, ‘পৃথিবীর নাট্য-ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী (নোরা) তার নিজের সাজানো সংসার ছেড়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়ায় স্বেচ্ছায়, সচেতনভাবে। পেছনে তার নিজ হাতে বন্ধ করা নিজের ঘরের দরজা আর সামনে তার অচেনা অবাধ পৃথিবী। তবু তার আত্মোপলব্ধি ,নারী ব্যক্তিত্বের উন্মেষ, পুরুষশাষিত সমাজের বিরুদ্ধে তার সংঘর্ষ, তাকে আলাদা মানুষ হিসেবে বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করে। নোরা হয়ে ওঠে নারীমুক্তির বিশ্বপ্রতীক। ’
নরওয়েজিয়ান নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের লেখা তিন অঙ্কের নাটক ‘এ ডলস হাউস’। বই আকারে নাটকটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৯ সালের ডিসেম্বরে। একই মাসের ২১ তারিখ ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের রয়েল থিয়েটারে বড়দিন উপলক্ষে প্রথম নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।
এই নোরা তো লিলিথেরই আধুনিক উত্তরাধিকারী । ১৮৫৮ সালে সুজানা থোরেসনকে বিয়ে করেন ইবসেন। তাঁদের একমাত্র পুত্রসন্তান জন্মানোর পর ইবসেন অনুভব করতে থাকেন, সংসারে নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকার চেয়ে সম-অধিকার নিয়ে থাকাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘এ ডলস হাউস’ নাটকেও তাঁর এই উপলব্ধির কথা উঠে এসেছে।
কিন্তু সমালোচকেরা সব সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে সমাজের প্রচলিত বিবাহব্যবস্থাকে অসম্মান করার অভিযোগ এনেছেন। তবু নিজের প্রায় সব লেখাতেই নরওয়েজিয়ান সমাজের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লিখেছেন ইবসেন।
তবে সমালোচকরা শুধু তাঁর লেখালেখি নয়, ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কটূক্তি করা শুরু করলে ১৮৬৪ সালে নরওয়ের সরকারের বৃত্তি নিয়ে অসলো ছেড়ে ইতালিতে চলে যান ইবসেন। জীবনের বাকি ২৭ বছর তিনি প্রবাসেই কাটিয়ে দেন। ইতালি ও জার্মানিতেই কাটে তাঁর এই সময়গুলো।
মানুষের সভ্যতা আজ বহুদূর অগ্রসর হয়েছে। সারা দেশে শিক্ষিতের হার ক্রম-বর্ধমান । তথাপি সংখ্যাগরিষ্ঠ পুরুষের মধ্যে লিলিথ-পন্থী নারীদের প্রতি একটা অনীহা, ভীতি, ঘৃণা ও বিবমিষা বর্তমান। প্রায় সকলেরই লক্ষ্য তার জীবন আলো করে আসুক একজন ইভ । ইবসেনের মতো মানুষের সংখ্যা এখনো হাতের করে-ই গোনা যায় । অথচ লিলিথ নিজেকে পুরুষের চাইতে বড় বলে কখনো দাবি করেনি। কেবল সমাজে ও সংসারে নিজেকে পুরুষের সমান বলে ঘোষণা করেছিল। মিথলজির ঈশ্বর কিংবা পৃথিবীর প্রথম পুরুষ সেই দাবি মেনে নিতে পারেনি। দেখা যাচ্ছে, স্বয়ং ঈশ্বরও কিছুটা নারী-বিদ্বেষী। কারণ নিজের সৃষ্টি লিলিথকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তাঁর ঈশ্বরত্ব প্রথম গুরুতরভাবে আহত হয়েছিল ।
মনোবিজ্ঞান বলছে, আদিকাল থেকে পুরুষের অবচেতন মনে একটা বদ্ধমূল অন্ধকার ধারণা লুকিয়ে আছে যে, তার উত্থিত লিঙ্গটিই হলো শাসন-দন্ড । তার বলেই সে নারীকে শাসন করতে চায়। নারীর শরীরে সেই শাসন-দন্ড নেই । সুতরাং শাসিত হওয়াই তার নিয়তি।
যৌন-সঙ্গমের সময় কে ওপরে থাকবে আর কে নীচে থাকবে সে প্রসঙ্গ আসলে রূপক মাত্র। আদম চেয়েছিল, তাদের দম্পত্যে তার ইচ্ছেই বলবতী হোক। সে উত্তম আর লিলিথ অধম ও অনুগত যৌন-সঙ্গী । এই অসম্মানের বিরুদ্ধেই লিলিথের প্রথম বিদ্রোহ । সেই লড়াইটা ছিল তার একার লড়াই । লিলিথ ঈশ্বর ও পুরুষের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহিণী , সর্বগ্রাসী পুরুষতন্ত্রের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসমানি কিতাবগুলোতে কি লিলিথের অস্তিত্ব আছে?
ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লিলিথ এর বিষয়টি কোন ধর্ম গ্রন্থ থেকে উপস্থাপন করলেন, দয়া করে জানাবেন?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারন একটা লেখা পরলাম
শুভকামনা থাকলো।

================= দুঃস্বপ্নও কখনো স্বপ্ন হয়ে যায়
বাস্তবতার হাতে গড়ে উঠে জীবনের সৌখিন বিন্যস ========

glqxz9283 sfy39587p07