Skip to content

রোহিঙ্গা বিষয়ে

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গাজায় হামাসের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে এবং আরব বসন্তের বিপ্লবীরা যে আসলে শরীয়াভিত্তিক বর্বর রাস্ট্রপ্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া বিপ্লবী এটা বুঝা যাবার পরে , আইসিস ও লিবিয়া মিশরের পরে এখন আর পশ্চিম পূর্বের কোন শক্তিই কোন জায়গার নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলিম সংখ্যালঘুদের সাহায্য করতে অতটা উৎসুক না । সবাই বুঝে গেছে এদের জন্য কান্নাকাটি করে, বিশ্ব জনমত তৈরী করে , কূটনৈতিক চাপ দিয়ে এদের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করে লাভ নাই । নির্যাতন নিপীড়ন একটু থামলেই এরা চুরির জন্য হাত কাটা আর সমকামীদের ফাঁসি আর ব্যাভিচারের দায়ে পাথর ছুড়ে হত্যা করার মত আইন কায়েম করে সবার মুখে চুনকালি মাখাবে ।
রোহিংগাদের জন্য কেউ এখনো তেমনভাবে একটুও আগায়া আসে নাই, বাংলাদেশের ফেইসবুক ফিল্ড মার্শালরা বাদে । এরই মধ্যে তাদের ভিতরেও ইসলামি জিহাদভিত্তিক গোষ্ঠী তৈরী হয়ে গেছে গোটাকতক । পশ্চিমা বিশ্বের কেউ একটু সামান্য আগাইলেই বার্মা সবাইকে দেখাবে এদের কার্যকলাপের কথা । সবাই ঠান্ডা ।
বার্মাতে সামরিক শাসন চলছে সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর থেকেই । এর মধ্যে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা আর সংগ্রামের পর অং সান সুচি কিছুটা লোক দেখানো গণতন্ত্রের ব্যাবস্থা করতে পেরেছেন । কিন্তু ক্ষমতা ও অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি এখনো পুরোপুরি মিলিটারির হাতে রয়ে গেছে । সুচির করার মত আসলে তেমন কিছু নাই । প্রায় সারাজীবন কারাবন্দি , গৃহবন্দী হয়ে তার জীবন কেটে গেছে । এখন রোহিংগাদের জন্য কিছু করতে গেলে উনি বড়জোর পারবেন মুখ দেখানো গণতন্ত্রের কান্ডারির আসন থেকে সরে গিয়ে আবার আগের বিপ্লবী জীবনে ফিরে যাওয়া । সেটাতে লাভ মোটেও কিছু হবার নাই । সুচির দোষ দেয়া, সুচিরে হিটলারের সাথে তুলনা করা লোকজনের বার্মার আভ্যন্তরীন রাজনীতি নিয়ে ধারণা মোটেও পরিষ্কার না । এমনও হতে পারে সুচি হয়তো লাভ-ক্ষতির বিবেচনা করে দেখছেন যে মুখ দেখানো গণতন্ত্রের নেত্রী হয়ে নিজের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় । সেটা না পারলেও অন্য কোন উপায়ও তার হাতে নাই । লোক দেখানো ক্ষমতার আসন ছেড়ে দিয়ে তিনি যদি এখন রোহিংগাদের জন্য আবার আন্দোলনেও নামেন তাতেও বাইরের বিশ্ব থেকে সাহায্য পাওয়ার আশা নাই । কারণ ঐ যে মুসলিম কোন গোষ্ঠীর জন্য খুব বেশি কষ্ট স্বীকার করতে ইচ্ছুক কোন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী নাই ।
এমনিতে বার্মার আভ্যন্তরীন মানুষের জীবনযাপণ ও অর্থনীতি নিয়ে টুকটাক জানাশোনা আছে বার্মা থেকে পড়ালেখা করতে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে । সেসব একেকটা করুণ ও ভয়ানক অবিচারের কাহিনী । সমস্ত সুযোগ, সমস্ত সম্পদ মিলিটারির দখলে । আরাকান দূরের কথা খোদ রেংগুনেরই মিলিটারির সাথে সম্পৃক্ততা নাই এমন সব মানুষের জন্য তিনবেলা খাবারই বিশাল বড় বিলাসিতা । ডিমভাজি তো পুরোপুরি জেয়াফতের খাওয়া । বিদেশে এসে নিজের রক্ত পানি করা টাকাও নিজেরা দেশে গিয়ে ভোগ করার উপায় নাই । মিলিটারি কোন না কোনভাবে সেইসবের উপর খবরদারী করেই । এরকম অবস্থায় বার্মার নাগরিকত্ব পাওয়া আসলে রোহিংগাদের জন্য তেমন সেক্সি কোন চয়েস না । বরং রিফিউজি হিসাবে বাংলাদেশে আসাই লাভজনক তাদের জন্য । রোহিংগারাও জানে সেকথা । বাংলাদেশের ফেইসবুক বিপ্লবীরা বিশ্লেষকরা যেভাবে বলছেন বার্মার কাছে রোহিংগারা কেবল নাগরিক অধিকার চায় তাদের সম্ভবত এই বিষয়েও জানাশোনা নাই ।
অবশ্য এই সামান্য সংখ্যার একটা গোষ্ঠীকে তাড়ানোর জন্য বার্মার মিলিটারি কেনো এমন উঠেপড়ে লেগেছে সেটা কিছুটা রহস্যজনক বটে । সেই সাতচল্লিশ এর দেশভাগের সময়েই রোহিংগারা চেয়েছিলো আরাকানকে পূর্ব-পাকিস্তানের অংশ করতে । সেই ক্ষোভ নাকি হালের জিহাদিদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে নাকি অন্য কোন গূঢ় কারণে সেটা বুঝা যাচ্ছে না । তাড়ায়া দিতে পারলে তাদের জায়গা-জমি দখল করে সম্পদ বাড়াতে পারবে বটে , তবে শুধু এইটুকুর জন্য তারা এতদূর নির্যাতন-নিপীড়ন করবে কেনো সেটা বুঝা যাচ্ছে না । বার্মার মিলিটারির ভাবগতিকে মনে হচ্ছে তারা একেবারে পরিষ্কার গণহত্যাই করতে চাচ্ছে । হিটলারের মতই । এতদূর করতে চাওয়ার মত যৌক্তিক , আবেগী কোন কারণই খুজে পাচ্ছি না ।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠী যদি এখনই "ইসলামই তাদের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে" এই উদ্ভট বালছাল থেকে বেরিয়ে ন্যায়নীতি , আধুনিকতা, মানবিকতা, গণতন্ত্র এইসব মূলনীতি নিয়ে আন্দোলন শুরু করতে না পারে, অন্তত মুখে মুখে কাগজে কলমে হলেও, তাহলে আর কয়েক দশকের মধ্যেই বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিম মাইনরিটিকেই একেবারে সর্বশান্ত করে দেবে ঐসব অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠরা । কাশ্মীর, উইগুর, দাগেস্তান, চেচনিয়া, মিন্দানাও , প্যালেস্টাইন সহ সব জায়গায় । পশ্চিমা বিশ্বের কেউ টু শব্দটিও করবে না । অলরেডি হাসির পাত্রে পরিণত হওয়া লিবারেল আর বাংলার ফেইসবুক জেনারিলিসিমোরা বাদে ।

glqxz9283 sfy39587p07