ধারাবাহিক উপন্যাস: শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ (প্রথম খণ্ড—দ্বিতীয় পর্ব) | amarblog.com: Bangla Blog ( আমারব্লগ ) with no Moderation.

Skip to content

ধারাবাহিক উপন্যাস: শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ (প্রথম খণ্ড—দ্বিতীয় পর্ব)

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



প্রথম পর্বের লিংক:
https://www.amarblog.com/Syeed-Rafiqul-Haque/posts/192775


ধারাবাহিক উপন্যাস:
শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ
(প্রথম খণ্ড—দ্বিতীয় পর্ব)

সাইয়িদ রফিকুল হক

অধ্যায় দুই

ঢাকার পল্টনে পায়জামা-পাঞ্জাবি-টুপিপরা, আর দাড়িওয়ালা একদলীয়-একজাতীয় সন্ত্রাসীহুজুর। এরা সেই ঐতিহাসিক সিফফিনের যুদ্ধে ইসলাম থেকে চিরবহিষ্কৃত ও চিরতরে বিতাড়িত শয়তান, এবং চিরবিভ্রান্ত খারিজীসম্প্রদায়ের একমাত্র উত্তরাধিকারী: নব্যখারিজীসম্প্রদায়।

পল্টনের কাছাকাছি এসে ওরা তিনজন অবাক হলো। আর দেখলো: একদল পাতিহুজুর লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক, লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে সারা রাস্তায় ১৯৭১ সালের পাকবাহিনীর মতো টহল দিচ্ছে। এদের ভাব-সাব দেখে ওদের মনে হলো: এরা বুঝি অন্য কোনো দেশের নাগরিক। পথভুল করে এখানে এসেছে। তা নয়তো কী? এদের তো এই দেশের মানুষ বলে মনে হয় না। এরা এতোটাই উগ্র যে, এদের দেখলে মনে হয়: এরা পাকিস্তানী ‘লস্কর-ই-তৈয়্যেবা’, কিংবা সন্ত্রাসী ‘হামাস’, কিংবা ‘এলটিটিই’-এর গেরিলা। আর এরা যেন আইনের ঊর্ধ্বে। তাদের এই মুহূর্তের হাবভাব বলে দিচ্ছে: এরা সাক্ষাৎ শয়তান। আর মানুষের জন্য এক মূর্তিমান-আতংক। তাই, মাত্র গুটিকতক হুজুর গোটা এলাকাটা যেন চরদখলের মতো দখল করে নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব-কায়েম করেছে।

এদের দেখলে লিটু মিয়ার মনে পড়ে: ১৯৭১ সালের রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের কথা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ে জেনেছেন: ওরাও নাকি এভাবে পাকবাহিনীর সঙ্গে চলাফেরা করতো। আর যার যা-ইচ্ছে, তা-ই নাকি করতো। ঊনিশশ’ একাত্তর সালের রাজাকারদের কোনো ধর্ম ছিল না। এরা তাদেরই বংশধর। তাই, এরাও কোনোকিছুর পরোয়া করে না। সন্ত্রাসীহুজুররা পল্টনের গোটা এলাকা দাপিয়ে বেড়াতে লাগলো। তারপর হঠাৎ তারা শুরু করলো: ব্যাপক গাড়ি-ভাংচুর।
গাড়ি চলছিলো অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু, ওরা গাড়ি-ভাংচুর করে তা থামিয়ে দিলো। মুহূর্তের মধ্যে এই এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। যেন সন্ত্রাসীহুজুররা গোটা এলাকায় হঠাৎ করে কারফিউ-জারী করেছে।
কয়েকটা সন্ত্রাসীপাতিহুজুর একটা গাড়ির ভিতরে ঢুকে যাত্রীদের এবং বাসের ড্রাইভার-হেলপারকে সমানে মারধর শুরু করলো। ওদের দেখে মনে হচ্ছিলো: এইব্যাপারে ওরা বিশেষ-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ওরা বুঝিয়ে দিতে চাচ্ছে যে, এই দেশে ওদের চেয়ে বড় কোনো সন্ত্রাসী আর নেই।
আরও একটা সন্ত্রাসীহুজুরের দল এলো বিজাতীয় শ্লোগান দিতে-দিতে: জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদ! বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ! আসলে, ওরা বলতে চাচ্ছিলো: পাকিস্তান-জিন্দাবাদ! শয়তান-জিন্দাবাদ! ওদের ভাব দেখে মনে হলো: ওরা বহু কষ্ট করে মুখ ফুটে বলতে পেরেছে―বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ!
আর তখনই লিটু মিয়ার কানে এলো―ওরা যেন বলছিলো: পাকিস্তান-জিন্দাবাদ! শয়তান-জিন্দাবাদ! তা-ই শুনে লিটু মিয়া মনে-মনে কয়েকবার আসতাগফিরুল্লাহ পড়লেন। আর তিনি বারবার আসতাগফিরুল্লাহ পড়তে লাগলেন। আর তিনি খুব গভীরভাবে ভাবলেন: এরাই তো এই পৃথিবীর আদি-আসল ইবলিশ শয়তান!

মোটা-মোটা গজারির লাঠি হাতে খারিজীহুজুররা দৌড়ের বেগে রাস্তায় ছুটাছুটি করছে। এদের মধ্যে অনেকেই আবার একেবারে নাবালক। এরা ঠিকভাবে হয়তো অজু-গোসল করাও শেখেনি। আর এরা ধর্মের কিছুই বোঝে না। মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে―এই আরকি! আর তাতেই সে ধরেই নিয়েছে: সে এখন থেকে একখান বিরাট আলেম! ওরা মনে করে: মাদ্রাসায় ভর্তি হলে আর লম্বা জামা-জুব্বা, আর আলখাল্লা-পাঞ্জাবি-পায়জামা পরলে, আর মাথায় একটা টুপি থাকলে, আর মুখে কিছু দাড়ি রাখলেই―সে বিরাট এক-আলেম! তার আর কোনোকিছুর প্রয়োজন নেই। তাই, শুধু লোকদেখানো-নামাজআদায় করে সহজেই আলেম হওয়ার ফন্দি-ফিকির করা যে―এই দেশে কতো সহজ―তা আজ নিজের চোখে দেখে লিটু মিয়া অবাক হলেন।
আবু কায়েস ভাবছিলো: এভাবে চলতে থাকলে মানুষ প্রকৃত-ইসলাম থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাবে। এদের এই সন্ত্রাসী-চেহারা দেখলে কোনো ভালোলোক আর কোনো ভালোমুসলমান আর মসজিদে যাবে না। সস্তা রাজনীতির নামে, আর সস্তা ক্ষমতার লোভে, এরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ ছেড়ে এ কোন্ পথ ধরেছে? এই পথ তো সরাসরি জাহান্নামের দিকে চলে গেছে। আর-যাই-হোক, জাহান্নামের দিকে রওনা হয়ে কেউ তো বেহেশতে যেতে পারবে না। কারণ, কারও গন্তব্য যদি ভুল হয়―তাহলে, সব বরবাদ। তার জন্য দোজখের পথ সবসময় খোলা।
আরও একটা জঙ্গিহুজুরের দল এসে রাস্তায় যা-পেলো তা-ই ভাঙ্গতে লাগলো। তারা কয়েকটা রিক্সা ভেঙ্গে তা মুহূর্তের মধ্যে একেবারে দলা বানিয়ে ফেললো।
আর তারা মোটা-মোটা গজারির লাঠি, আর মোটা-মোটা রড দিয়ে বেধড়কভাবে পিটিয়ে-পিটিয়ে রিক্সাগুলোকে মুহূর্তের মধ্যে টুকরা-টুকরা করে ফেললো। এরা একেকটা দক্ষ ও পাকা কসাইয়ের মতো খুবই অভিজ্ঞ। এদের দেখলে মনে হবে: এদের পূর্বপুরুষরা বুঝি কসাইই ছিল!

লিটু মিয়া যারপরনাই বিস্মিত হলেন। এ-কী আজব ঘটনা? ধর্মের নামে এ-কী ছেলেখেলা পেয়েছে এরা? আর যার যা-খুশি তা-ই করছে। পবিত্র ইসলামধর্মের কোথাও লেখা নাই: এই সন্ত্রাস জায়েজ। অথচ, এরা সেই পবিত্র ইসলামধর্মের দোহাই দিয়ে মনের খুশিতে নজিরবিহীন সন্ত্রাসসৃষ্টি করছে। চলন্ত গাড়িতে ঢিল ছুঁড়ে মানুষকে আহত করছে। গাড়ির সাধারণ যাত্রীকে পেটাচ্ছে। মহিলাদের দিকে অশ্লীলভঙ্গিতে তাকাচ্ছে। এরা আসলে কারা? এরা কোন্ জাতের হুজুর? এরা আসলে পশু। কিন্তু, এরা আমাদের ধর্মে কী চায়? এরা পশুদের সমাজে মিশে যাক। শিয়াল-কুকুর-শূয়র কি মানুষের সমাজে থাকতে পারে? মানুষের সমাজ শুধুই মানুষের। এখানে, পশুদের অনধিকার-প্রবেশের কোনো মানে হয় না। এরা কবে আমাদের সমাজ ছেড়ে চলে যাবে? এদের জন্য সমাজের প্রকৃত-ধার্মিক আর প্রকৃত-আলেমসমাজ আজ সাধারণ মানুষের চোখে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে। এরা গজারির লাঠিকে এতো ভালোবাসে যে, প্রত্যেকে গজারির লাঠিটাকে খুব শক্ত করে ধরেছে। আর মনে করছে: এটা যতক্ষণ তার হাতে থাকবে, ততক্ষণ সে ঈমানদার থাকবে। এই লাঠিই যেন ওদের ঈমান। আর এই লাঠির জোরেই ওরা সমাজে টিকে আছে। ওরা লাঠিবাজ, ধড়িবাজ, ফেরেববাজ, চালবাজ, ধোঁকাবাজ আর মতলববাজ পাতিহুজুর আর ভণ্ড-মুসলমান।

ওরা তিনজন পল্টনের পুলিশ-বক্সের কাছে এসে দাঁড়ালো। এই জায়গাটুকু অনেকটা নিরাপদ। এদিকে পিকেটরা সহজে আসবে না। কারণ, এখানে আছে সদাপ্রস্তুত শতাধিক আর্মড-পুলিশ। আর-যাই-হোক, পাতিহুজুররা এদের ভয় করে। ওরা জাতে মাতাল, আর তালে ঠিক। আর শয়তানের চেয়েও এককাঠি সরেস! আর এইসব পাতিহুজুর খুবই ধূর্ত। এরা সবসময় নিজের জান-বাঁচিয়ে সবরকমের শয়তানী করে থাকে।
লিটু মিয়া বারবার ব্যস্তভাবে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিলেন। তা-ই দেখে আবু কায়েস বললো, “স্যার কি কাউকে খুঁজছেন?”
লিটু মিয়া খুব চিন্তিতভাবে বললেন, “হ্যাঁ, একটাকে খুঁজছি। আর তাকে খুব ভালোভাবে খুঁজছি।”
সে বললো, “কাকে?”
লিটু মিয়া বললেন, “ওই শয়তানের পাপিষ্ঠপুত্র মুফতীকামিনীকে খুঁজছি। ও-কে ধরে জুতাপেটা করা দরকার। আজ ও-কে যদি একবার বাগে পেতাম―তাহলে, ধরে গণপিটুনি তো দিতামই, সঙ্গে সঙ্গে ও-কে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করতাম। আর ও-কে দেখতে পেলে ধরে নিয়ে যাবো বায়তুল মোকাররম মসজিদে। তারপর নামাজশেষে সমবেত মুসল্লীদের সঙ্গে নিয়ে, মুসল্লীদের সামনে ও-কে আচ্ছামতো জুতাপেটা করে তারপর ছেড়ে দেব। আমার তো মনে হয়: এই দেশের ষোলো-কোটি মানুষের মধ্যে কমপক্ষে দশ-বারো কোটি মানুষ ও-কে জুতাপেটা করার জন্য বসে আছে। ধর্মের নামে ওর এহেন শয়তানী আর মানা যায় না। এইসব বদমাইশকে আর সহ্য করা যায় না। আমরা অনেক সয়েছি। কিন্তু, আর নয়। এবার এদের দমনের পালা। চোখের সামনে আর কতো অনাচার-ব্যভিচার দেখবো? চোখের সামনে আর কতো ধর্মের নামে আর রাজনীতির নামে এমন জঘন্য শয়তানী-ব্যভিচার দেখবো?”
তারপর তিনি ওদের দিকে চেয়ে হেসে বললেন, “আমি কিন্তু আরেকটা বিষয় ভেবেছি। যদি আজ মুফতীকামিনীকে দেখতে পাই। আর ও যদি আজ রাস্তায় নামে―তাহলে, ও-কে জুতাপেটা-শেষে ধরে নিয়ে যাবো গুলিস্তানের ঐতিহাসিক কামানের কাছে। তারপর ও-কে মোটা রশি দিয়ে কামানের সঙ্গে বাঁধবো। আর তারপর ও-কে ২৪ ঘণ্টার রিমান্ডে নেবো। আমার বিশ্বাস: ও-কে ওই ঐতিহাসিক কামানের সঙ্গে বেঁধে, রিমান্ডে নিয়ে, কিছু-সময় পেটালেই ও হয়তো ভালো হয়ে যাবে। আর শয়তানী করবে না। আর যদি ভালো না হয়―তাহলে, ও-কে সহজে ছাড়া যাবে না। ও-কে বেধড়ক পিটিয়ে, ওর মুখ থেকে বের করতে হবে আজকের এই শয়তানী-হরতালের পিছনে কারা রয়েছে। ক্রমান্বয়ে এদের সবাইকে গুলিস্তানের ওই ঐতিহাসিক কামানের সঙ্গে খুব শক্ত করে বেঁধে একে-একে গণ-রিমান্ডে নিতে হবে। গুলিস্তানের ওই ঐতিহাসিক কামানটাকে আজ থেকে আমরা পাবলিক-রিমান্ড-সেল বানালাম। এখন থেকে সর্বস্তরের দেশদ্রোহীদের এখানে বেঁধে পিটাবো। তোমরা কী বলো?”
আবু কায়েস খুশি ধরে রাখতে না পেরে বললো, “খুব সুন্দর আইডিয়া, স্যার। বদবখ্ত-শয়তানগুলোকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আজ থেকে আমরা সেই চেষ্টাই করবো, স্যার। আর দেখি, আজ শয়তানটা হরতালে বাহির হয় কিনা? ও-কে একবার বাগে পেলে আর ছাড়বো না।”
পাতিহুজুরদের আস্ফালন দেখতে-দেখতে ওরা একেবারে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। শয়তানী আর কতো দেখা যায়? কতো-রকমের শয়তানী যে এরা জানে, তার কোনো ইয়ত্তা নাই। আর খুব উন্নতজাতের শয়তান এরা।
আবু কায়েসের মনে হচ্ছিলো: গুলিস্তানের ওই কামানটা যদি আজ-এখন সচল থাকতো―তাহলে, সে ঠেলেঠুলে কামানটাকে এখানে এনে, এইজাতীয় নরকের কীটদের মাত্র একটা-গোলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন করে দিতো। তাইলে, বেঁচে যেতো এই দেশটা। ওরা কেমন করছে! আর তো সহ্য হয় না। আর তো সহ্য করা যায় না। এই দেশ এইজাতীয় নরপশুদের আর কতোদিন ধারণ করবে? আর এইজাতীয় নরপশুরা আমাদের আর কতো জ্বালিয়ে খাবে? আর কতো নরপশু জন্মাবে এই দেশে?
দেখতে-দেখতে আরেক-দল শয়তান এলো। এই শয়তানগুলো আরও উন্নতজাতের। এরা আল্লাহর দুনিয়ায় মরার আগেই স্বেচ্ছায় পরেছে ধবধবে সাদা-কাফনের কাপড়! ইসলামী-রীতিনীতি-অনুযায়ী: একজন মৃত-মুসলমানকে গোসল করিয়ে, কাফনের কাপড় পরিয়ে, আতর-গোলাপ মাখিয়ে, তারপর তাকে কবরে দাফন করা হয়। এটা কোনো তামাশার বিষয় নয়। কাফনের কাপড় নিয়ে হাসি-তামাশা-ঠাট্টা-মশকরা চলে না। এরা আজ-এখন যা-করছে, তা রীতিমতো ফাজলামি-বাঁদরামি-ইতরামি। এদের উন্মাদনা-আস্ফালন আমাদের পবিত্র ধর্মকে জনসমক্ষে হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল। আর মাদ্রাসার কতকগুলো নাবালক ছেলেও কাফনের কাপড় পরে আষাঢ়-মাসের নবযৌবনপ্রাপ্তব্যাঙের মতো খুব লাফাচ্ছে। আর একেকটা এমন জোরে লাফ দিচ্ছে, যেন একলাফে ওরা এখনই বেহেশতে চলে যাবে। ওদেরকে এভাবে শেখানো হচ্ছে, আর এখন থেকেই ওদেরকে এভাবে অমানুষরূপে তৈরি করা হচ্ছে। তাই, এইজাতীয় নাবালক-সন্তানরা ব্যাঙের মতো লাফাচ্ছে, আর সরকারবিরোধী অশ্লীল কথা বলছে। আর আমাদের পবিত্র ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে এইসব নাবালক-সন্তান, পাপের পথে নাম লিখিয়ে, ভুলশিক্ষাগ্রহণ করে, ধর্মের লেবাসধারী-অধার্মিকদের সঙ্গে মিশে-মিশে শিশুকাল থেকে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। তাই, এদের রক্ষা করার জন্য সমস্ত দায়দায়িত্ব আমাদের-আজকের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মহাসরকারকেই নিতে হবে। এই অমানুষদের মানুষ বানানোর পথও দেখাতে হবে সরকারকে।
লিটু মিয়া এদের দেখে আবু কায়েসের দিকে তাকিয়ে বললেন, “একটা ব্যাপার লক্ষ্য করছো, এই ছোকরাগুলো ব্যাঙের মতো কেমন লাফাচ্ছে। ওরা ভেবেছে, এভাবে ব্যাঙের মতো লাফালেই বুঝি গুনাহ মাফ হবে। আর ওরা সরাসরি বেহেশতে চলে যাবে। কিন্তু, ওরা জানে না যে, বেহেশতে যাবে একমাত্র পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী বিশ্বাসীগণ। আমাদের ধর্মগ্রন্থের কোথাও কিন্তু লেখা নেই যে, এভাবে ব্যাঙের মতো লাফালে তাড়াতাড়ি বেহেশতে যাওয়া যাবে। আর এদের আচরণ-পর্যালোচনা করে আমার যা-মনে হলো: তাতে, এরা এই দেশের প্রতি আস্থাশীল নয়। তাই, বিদেশীদের টাকা খেয়ে, ওরা এইভাবে লাফালাফি করছে। এইজাতীয় কোমলমতী-শিক্ষার্থীদের পিছনে রয়েছে সেইসব বড়-বড় শয়তান।”
আবু কায়েস বললো, “স্যার, এই পুলিশগুলো এইভাবে ঝিম-মেরে ভদ্রলোকের মতো দাঁড়িয়ে আছে কেন? ওরা কি কিছু করতে পারে না? মাত্র যে-কয়েকটা পাতিহুজুর! ওদের একটুখানি ভালো করে পিটুনি দিলেই তো ওরা আর পালানোর সময় পাবে না।”
তার কথা শুনে লিটু মিয়া হেসে বললেন, “তোমার কথা ঠিক। একটু পিটুনি দিলেই এইসব জীব পালিয়ে বাঁচবে। জীবনের প্রতি ওদের খুব মায়া। ওরা জানে: শয়তানীও করতে হবে, আবার বেঁচেও থাকতে হবে। কারণ, শয়তানী করে মরে গেলে ওদের উপার্জিত সম্পদ কে ভোগ করবে? তাই, ওরা বেঁচে থাকার জন্য দৌড়ে পালাতো। কিন্তু পুলিশ মারছে না কেন, তারও কারণ আছে। ওদের কারও-কারও হাতে পবিত্র কুরআনশরীফ দেখতে পাচ্ছি। পুলিশ ওদের পিটুনি দিতে শুরু করলে ওরা সঙ্গে সঙ্গে পালাতে শুরু করবে ঠিকই, আবার সঙ্গে সঙ্গে একটা ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রেও মেতে উঠবে। আর তা হলো: ওরা সবার অলক্ষ্যে নিজের হাতে কুরআনশরীফ মাটিতে ফেলে দেবে। খুব কৌশলে পবিত্র কুরআনের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে-ছিঁড়ে রাস্তা ভরে ফেলবে। আর ওদের পোষা-মিডিয়ার লোকজন এগুলো ধারণ করবে। আর মিডিয়ার সামনে এইজাতীয় কাফেররা বলবে: ‘সরকার পুলিশ দিয়ে কুরআন-অবমাননা করেছে।’ আর তুমি তো জানো, আমাদের দেশে এখন ব্যাঙের ছাতার মতো অজাত-কুজাত ও নামপরিচয়হীন পাপের ফসল―একাধিক প্রাইভেট-টিভি-চ্যানেল চালু হয়েছে। এরা সম্পূর্ণ সেক্স-নির্ভর। এরা অর্থলোভী। এরা দেশবিরোধী। আর এরা অর্থলোভী-বেশ্যা। এরা আরেক শয়তান। টাকার বিনিময়ে এরা সবকিছু করতে পারে। এরা নতুন যুগের, নতুন ধাঁচের, নতুন ধরনের নামি-দামি ভিভিআইপি-বেশ্যা। এইরকম সম্পূর্ণ অর্থকেন্দ্রিক চিন্তা-চেতনার ফসল: একশ্রেণীর প্রাইভেট-টিভি-চ্যানেল। এইসব প্রাইভেট টিভি-চ্যানেল-মালিকদের জন্মপরিচয়ের কোনো ঠিক নাই। এরা সবাই স্বার্থপর। দেশের বিরুদ্ধে এরা সবাই এক। দেশপ্রেম না থাকলে যা-হয় আরকি। তাই, হয়তো সরকার সাবধান হয়েছে। তাই, ওরা গুটিকতক লোক সবার চোখের সামনে এই নারকীয়-তাণ্ডব চালালেও পুলিশ নীরব রয়েছে। নইলে, ওদের মতো জংলীদের শায়েস্তা করতে পুলিশের মতো পুলিশ হলে―আর দেশপ্রেমিক হলে একশ’ পুলিশই যথেষ্ট।”

আবু কায়েস বুঝতে পারলো। ওদের শয়তানীর জাল অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। কখন-কোন্ শয়তানী করতে হবে, তা ওরা আগে থেকে সব ঠিক করে রেখেছে। ওরা মনে হয়: শয়তানীর একাধিক পাঞ্চবর্ষিক পরিকল্পনা-মহাপরিকল্পনা করে রেখেছে। আর ধীরে ধীরে, তা-ই নিয়ে মাঠে নামছে।
রায়হান কবির ভিতরে-ভিতরে ফুঁসতে লাগলো। এমনিতে সে খুব শান্তপ্রকৃতির মানুষ। কিন্তু, চোখের সামনে সে কোনো অন্যায় দেখতে পারে না। তাই, সে উসখুস করে বললো, “স্যার, কয়েক বছর আগে তো এই দেশে কোনো সরকারই ছিল না। একদল চিহ্নিত শয়তান রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করেছিলো। তাই, ২০০১ সালের ১৫ই জুলাই থেকে, ২০০৭ সালের ১০ই জানুআরি পর্যন্ত―এই দেশটা তো একেবারে শয়তানশাসিত ছিল। আর ওই শয়তানশাসিত-সরকারের একটা পাণ্ডা ছিল এই কামিনীমোল্লা। তখন দেশে ইসলামের লেশমাত্র ছিল না। সেই সময় দলের স্বার্থে দিনে দুপুরে এদের সহায়তায় মানুষহত্যা করা হতো। আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সেই সময় হাজার-হাজার নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তখন তো এই কামিনীশয়তান টুঁশব্দটি পর্যন্ত করেনি। এই যে ২০০৪ সালে, ২০০৫ সালে, দেশে ভয়াবহ-গ্রেনেডহামলা হয়েছিলো, কতো মানুষ জীবন দিলো। কিন্তু, এই কামিনীশয়তান তখন তো একদিনও রাজপথে নেমে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেনি। বরং সে এইসব হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে, তার পছন্দের শয়তানীশক্তিকে আরও বৃদ্ধি করেছে। আর এই কামিনীই বি.এন.পি.-সরকারের আমলে ঢাকা-১০-আসনের নির্লজ্জ-ভোটচুরির সংসদ-উপনির্বাচনকে শুধু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বলেই ক্ষান্ত হয়নি―সে আরও বলেছিলো: ‘এতো ভালো নির্বাচন এই দেশে আর কখনও হয়নি!’ তাই, ওর মতো এমন জঘন্য শয়তান আমি আর কোথাও-কখনও দেখিনি, স্যার।”
লিটু মিয়া বললেন, “আমরা কেউই ইতঃপূর্বে এমন জঘন্য শয়তান আর দেখিনি। ও-যে কতবড় ধূর্ত, আর কতবড় জঘন্য শয়তান, তার প্রমাণ: এই চারদলীয় রাজাকার বি.এন.পি.-জামায়াতের জোট-সরকারের আমলে যে-সমস্ত পাপ ও নাজায়েজ অপকর্ম-সংঘটিত হয়েছে, এই কামিনী তার সবকিছুই মেনে নিয়েছে। আর সে নিজের স্বার্থে ইসলামবিরোধী চারদলীয়-শয়তানী রাজাকারজোট-সরকারকে মদদ দিয়েছিলো। তাই, সেই সময় বি.এন.পি.-জামায়াতের মদদে জঙ্গিরা যখন সিলেটে হজরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহ আলাইহির পবিত্র মাজার-প্রাঙ্গণে বোমা-ফাটালো তখন এই কামিনী নামক কালশয়তান কোনো প্রতিবাদ তো করেইনি―বরং আরও খুশি হয়েছিলো। বাংলাদেশের ওলীশ্রেষ্ঠ হজরত শাহজালাল রহ.। আর তাঁর পবিত্র মাজারে বোমা-ফাটায় কতকগুলো নাপাক-নাজায়েজ-হারামখোর-বেজন্মা ব্যক্তি! আর সেই সময় হজরত শাহজালাল রহ.-এর মাজারের বিরল প্রজাতির মাছ ও কাছিমগুলোকে পর্যন্ত হিংসার বশবর্তী হয়ে নিধন করেছিলো আল্লাহ-রাসুলের দুশমনরা। এইসবকিছু সেই সময় মেনে নিয়েছিলো ওই শয়তানকামিনী। বি.এন.পি.-নেতারা তৎকালে মদের ব্যবসা করেছে, মদের কারখানা বানিয়েছে। কিন্তু, কামিনী একদিনও তার বিরোধিতা করেনি। আর এখন, আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে ইসলাম-অবমাননার মিথ্যা-অভিযোগ আনয়ন করে, স্বয়ং ইবলিশ-শয়তানের নির্দেশে, ইবলিশ-শয়তানের একজন গুপ্তঘাতক-প্রধানমন্ত্রী হয়ে, সে মাঠে নেমেছে। আর একের-পর-এক এইজাতীয় হারামজাদাগিরি করছে। আরে, ও কীসের ইসলাম-রক্ষা করবে? ওর নিজের ভিতরেই তো কোনো ইসলাম নাই। আর ইসলাম বুঝার জন্য মানুষ হতে হয়।”


ওরা তিনজন এইসময় এই জায়গাটাকে নিরাপদ মনে করে এখানে দাঁড়িয়েছিলো। কিন্তু, এইমুহূর্তে তা আর মনে করতে পারলো না। কারণ, দেখতে-দেখতে তাদের চোখের সামনেই পাতিহুজুররা আরও অশান্ত, আরও অসহিষ্ণু-মারমুখী-উন্মাদজঙ্গি হয়ে উঠতে লাগলো। একপর্যায়ে তারা বিনা উস্কানিতে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল-ঢিল ছুঁড়তে লাগলো।
আর তখন পুলিশও বাঁচার জন্য টিয়ার-গ্যাসের টিয়ার-সেল নিক্ষেপ করতে লাগলো। একটার-পর-একটা টিয়ার-সেল নিক্ষেপ করছে পুলিশ। তবুও যেন শয়তানগুলোকে দমানো যাচ্ছে না। সামুদ্রিক হাঙ্গরের মতো ওরা দাঁত বের করে এগিয়ে আসছে। আর হিংস্র-হায়েনার মতো ওরা উন্মত্তক্রোধে সমানে তেড়ে আসছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে―আর বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে। ওরা এখন দাঁতাল-শূয়রের মতো হিংস্র ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে।
ওরা তিনজন জায়গাটাকে আর নিরাপদ মনে না-করে অন্যদিকে সরে যেতে লাগলো। দেখতে-দেখতে একটা আধা-ইটের ঢিল আবু কায়েসের গায়ের একদম কাছে এসে পড়লো। ওরা তাড়াতাড়ি সরে পড়লো। তাছাড়া, টিয়ার-সেলের ধোঁয়ায় চারদিকটা অন্ধকারে ছেয়ে গেল।


ওরা আর-একটা নিরাপদ জায়গা খুঁজে পেলো। এই জায়গাটা আগের চেয়েও ভালো। বেশ নিরাপদ। তিনজন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে বিশালাকৃতির সামুদ্রিক হাঙ্গরসদৃশ পাতিহুজুরদের সন্ত্রাস দেখতে-দেখতে একসময় অধৈর্য হয়ে পড়লো। ওদের তিনজনেরই ইচ্ছে করছিলো: এদের ধরে পেটাবে। আর একনাগাড়ে কয়েক ঘণ্টা এদের শুধু পেটাতেই থাকবে। এদের পেটাতে-পেটাতে কোনোভাবে একবার গুলিস্তানের সেই ঐতিহাসিক কামানের সঙ্গে বেঁধে ফেলতে পারলেই, বাংলাদেশের ফাঁড়া কেটে যেতো। এই দেশটার উপর কতো বিপদাপদ। আর এর একদিকে রয়েছে―বিভিন্নরকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগ: কালবৈশাখী, টর্নেডো, ঝড়-ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক ঝড়-জলোচ্ছাস, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা, খরা ইত্যাদি। আর অন্যদিকে তার সঙ্গে রয়েছে: এইসব বেজাত, বেআক্কেল, বেওকুফ, বেদ্বীন, বেএলেম, বেআমল, বেআদব, বেশরম, বেঈমান, ভণ্ড পাতিহুজুর। এরা এই দেশের জন্য একেকটা আইলা, সিডর, নার্গিস, সুনামি কিংবা আরও ভয়ংকর কোনোকিছু। আর যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়ে এরা হিংস্র। এদের হিংস্র-থাবা থেকে মানুষের জানমাল ও ঈমান-রক্ষা করা বড়ই কঠিন। আর এরা ধর্মের নামে হাঙ্গরের মতো সাধারণ মুসলমানদের ঈমান-আকিদাহকে সাবাড় ও হরণ করতে সদাব্যস্ত রয়েছে। এরাই পৃথিবীর আদিমশয়তান। এদের পাপপূর্ণ জীবনাচার, জীবনদর্শন, জীবনাদর্শ ও জীবনবৃত্তান্ত আজ সকলের চোখের সামনে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্টতঃ ও প্রতিভাত।
আবু কায়েস বললো, “স্যার, সেদিন একটা প্রাইভেট-টিভি-চ্যানেলে দেখলাম, ধর্মকথা-প্রসঙ্গে ওরা ধর্মের নামে ধর্মবিরোধী কথাই প্রচার করছে। আর ধর্মের অপব্যাখ্যা করছে। আর সবচেয়ে বড় দুঃখের ব্যাপার হলো: ওরা ধর্মবিষয়ে যা জানে, তারচেয়ে বেশি বলছে। আমি ওদের কথার কোনো মাথা-মুণ্ডু খুঁজে পেলাম না। ওরা অনুষ্ঠানের শেষের দিকে বললো: ‘দর্শক, এবার আপনাদের চিঠিপত্রের জবাব দেবার পালা।’ আর সেখানে কোথা থেকে যেন আগত একটা প্রথম-শ্রেণীর বদমাইশের চিঠি পড়া হলো। ওই বদমাইশচিঠিওয়ালা ওই অনুষ্ঠানের এক লালদাড়িওয়ালা-হুজুরের কাছে লিখেছে: ‘আচ্ছা হুজুর, মিলাদশরীফ কি বিদআত? অনেকে বলে থাকে: মিলাদপড়া নাকি হারাম। এইব্যাপারে আপনার সুচিন্তিত মতামত জানতে চাচ্ছি।’ আর আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে: এই চিঠিটাকে ওই অনুষ্ঠানে খুব গুরুত্ব দিয়ে পড়া হলো।”
লিটু মিয়া আর সহ্য করতে না-পেরে একটুখানি উত্তেজিত হয়ে বললেন, “তখন, ওই লালদাড়িওয়ালা-লালবান্দর ওরফে লালশয়তান কী বললো? ওর কথাটা আগে বলো, শুনি। আমার তো আর সহ্য হচ্ছে না।”
আবু কায়েস বলতে লাগলো, “তখন, ওই লালদাড়িওয়ালা-লালবান্দর ওরফে লালশয়তান বললো, ‘মিলাদপড়া বিদআত। তার কারণ, এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ছিল না। আর যেহেতু, এটা বিদআত―সেহেতু, এটা হারাম। তাই, মিলাদপড়া যাবে না।’ স্যার, এরা এইসব কী বলছে? আমি রাগে ওই শয়তানের টিভিচ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আর মনে-মনে ওদের ‘জারজ’ বলে কষে গালি দিয়েছিলাম।”

লিটু মিয়া একটুখানি শান্ত হয়ে ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন, “তুমি ভালোই বলেছো। আর শোনো: মিলাদ বা মিলাদশরীফ বিদআত নয়। আর হারামও নয়। মিলাদশরীফ সম্পূর্ণ জায়েজ, সম্পূর্ণ হালাল, সম্পূর্ণ সহীহ, এবং এই পবিত্র মিলাদশরীফের একটি পবিত্র ইতিহাসও আছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মমুহূর্ত থেকে এটা চলে আসছে। আর আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের সময় পবিত্র ফেরেশতারা আসমানে তাঁর নামে, তাঁর সম্মানে, মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। তাই, মিলাদের আরও অনেক ইতিহাস আছে। আর তাই, এর উত্থানপরিচয়, প্রচলনইতিহাস সবকিছুই সম্পূর্ণ সহীহ। আর যারা বলে: ‘মিলাদ বিদআত ও হারাম’ তারা নিজেরাই বিদআত, আর হারাম। কারণ, তার বাবা-মা ও সে নিজে তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় বিদ্যমান ছিল না। তাই, যারা মিলাদকে বিদআত ও হারাম বলবে: তারা নিজেরাই একেকটা আস্ত শয়তান ও আস্ত হারামজাদা। আর এরা এক-হারামজাদার ঘরে পয়দা হওয়া আরেক হারামজাদা। আর এরা ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মনগড়া-ব্যাখ্যা দিয়ে বলে: ‘মিলাদশরীফ পড়া যাবে না, মিলাদ-মাহফিলপালন করা যাবে না, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-পালন করা যাবে না, মিলাদপড়া জায়েজ না ইত্যাদি।’ এগুলো বলার অর্থ হলো: মুসলমানদের দৃষ্টিকে ইসলাম থেকে সরিয়ে―তাদের এজিদীয়-ধর্মে দীক্ষিত করা। তবে সরাসরি তো আর সেইসব কথা বলা যায় না। তাই, এরা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এইসব কথা বলে। এরা নামপরিচয়হীন-বিষবৃক্ষ―ধর্মের বিষাক্ত আগাছা-পরগাছা। এদের কাজের, জন্মের ও চরিত্রের সঠিক ইতিহাস কারও জানা নাই। এরা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে, ইসলামের ভিতরে থেকে, ইসলামের বিরুদ্ধেই নিত্যনতুন ষড়যন্ত্র করছে। এরা আমাদের পবিত্র ধর্মের ভিতরে বিরাট একটা ফিরকাসৃষ্টির জন্যই এমন জঘন্য শয়তানী করে যাচ্ছে। এজন্য, একটি শক্তিশালী-শয়তানচক্র আমাদের ধর্মের ভিতরে ঘাপটিমেরে, তথাকথিত ধার্মিক সেজে, এই দেশের মুসলমানদের ঈমান-আকিদাহ-হরণ করার কাজে সদাসর্বদা লিপ্ত রয়েছে। আর মুসলমান সেজে, মুসলমানদের ঈমান-আকিদাহ-হরণ করার এই শয়তানী-অপকর্মটি সর্বপ্রথম শুরু হয়: বিশ্বশয়তান ও শয়তানের জারজপুত্র এজিদের আমল থেকে। সে এমনই এক ভয়াবহ শয়তান ছিল যে, সে তার শক্তি-ক্ষমতা চিরস্থায়ী ও সুসংহত করার জন্য, সেকালের আলেম-নামধারী তথা মুসলমানের লেবাসধারী ৩৬০টা জীবন্তশয়তানকে নিজের দরবারে ঠাঁই দিয়েছিলো। আলেম-নামধারী এই ৩৬০টা শয়তান ছিল এজিদের পোষা-কুকুর, পোষ্যপুত্র ও চির-ক্রীতদাস। তাছাড়াও, এই এজিদশয়তানের অধীনে ছিল আরও চোদ্দ হাজার (১৪,০০০) আলেম-নামধারী খবিসশয়তান, পাতিহুজুর এবং স্বার্থলোভী মোল্লা-মৌলোভী। এরা সবাই মিলেমিশে, সেকালে সর্বপ্রথম ইসলামের ভিতরে ফিতনা-ফাসাদসৃষ্টির লক্ষ্যে, ধর্মের নামে ধর্মবিরোধী-অতিসস্তা মোল্লা-মৌলোভীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী-সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলো।
এই শয়তানী-সিন্ডিকেটের প্রধান ছিল: এজিদের ডানহাতখ্যাত মারোওয়ান। অন্যান্যদের মধ্যে ছিল আব্দুল্লাহ জেয়াদসহ আরও কতিপয় পাপিষ্ঠচক্র। আরও অনেকে এই শয়তানী-সিন্ডিকেটের সদস্য ছিল। এদের কাজ ছিল: আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে, তাঁর পরিবারপরিজনের নামে, হজরত আলীর নামে এবং সমগ্র ইমামবংশের নামে মিথ্যাচার ও কলংক রটানো। আলেম-নামধারী এই ৩৬০টা খবিসশয়তান এজিদের বেতনভুক্ত-কর্মচারী হিসাবে মুসলমানদের ইমাম: হজরত ইমাম হোসেন আলাইহিস সালামের বিরুদ্ধে আজেবাজে (তাঁকে ‘কাফের’ বলে) ফতোয়া দিয়েছিলো! তোমরা, এজিদবংশীয় জারজদের ধৃষ্টতা ও স্পর্ধা দেখেছো? হজরত ইমাম হোসেন ‘কাফের’ হলে ইসলাম বলে কিছু থাকে? আর ওদের এই শয়তানীচক্রান্ত এখনও চলছে। আমাদের দেশে এজিদবংশীয়রা এখনও ভয়ানক সক্রিয়। তারা নানাভাবে আমাদের ধর্মের ভিতরে ফিতনাসৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তোমরা হয়তো শুনেছো, আমাদের দেশে একশ্রেণীর চিহ্নিত পাপিষ্ঠ ও আলেম-নামধারী-শয়তান বিভিন্ন টিভি-চ্যানেলে ধর্মকথার নামে ‘শয়তানীমতবাদ’ প্রচার করে থাকে। যেমন, ওরা বলে: ‘ইসলামে শবে বরাত বলে কিছু নাই। ইসলামে তারাবির নামাজ বলে কিছু নাই। ইসলামে ‘পীর-মুরীদ’ বলে কিছু নাই। ইসলামে ওলীআল্লাহর মাজার বলে কিছু নাই। মাজার-জিয়ারত করা হারাম। মাজার-সংরক্ষণ করা হারাম, কবর-জিয়ারত করা হারাম। কবর-সংরক্ষণ করা হারাম। জানাজার নামাজশেষে কোনো মুনাজাত করা যাবে না। পাঁচ-ওয়াক্ত নামাজের শেষে কোনো মুনাজাত করা যাবে না। দৈনিক পাঁচবার আজান শোনার পরে আজানের শেষে মুনাজাত করা যাবে না। আজান দেওয়ার আগে ও আজানের শেষে দরুদশরীফ পড়া যাবে না। আজানের সময় আমাদের প্রিয়-নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম শোনার পর দরুদশরীফ পড়া যাবে না, তাঁর নাম শুনে পবিত্র নামে চুম্বন করা যাবে না। আর তাঁর নাম-মোবারকে চুম্বন করে, তা দু’হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে ঘষে তা চোখে-মুখে লাগানো যাবে না, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা-মোবারকে চুম্বন করা যাবে না ইত্যাদি।’ এইসব কথা কখনও-কারও মুখে শুনলে, এদের সরাসরি বলতে হবে: ‘তোমরা যা বলেছো, তা সম্পূর্ণ ভুল-মিথ্যা। আর এইসব পালন করা সম্পূর্ণ জায়েজ। তোমরা ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী’ জীবন্তশয়তান। আর তোমরাই শুধু নাজায়েজ-হারাম ব্যক্তি। আর তোমরাই শুধু জারজ ও হারাম শয়তান। তোমাদের মতো নাজায়েজ-হারামী আর জারজ ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেলে, আমাদের ইসলাম আরও শক্তিশালী হবে। আর আমাদের ইসলামে, তোমাদের মতো হারাম-নাজায়েজ-জারজ, আর হারামজাদাদের কোনো ঠাঁই নাই।’ তাহলে, এরা ঠিক হবে। এবার তাহলে তোমরা বুঝতে পেরেছো, এজিদীয়-ফিতনা আমাদের সবাইকে এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আর ওই লালদাড়িওয়ালা-লালবান্দরগুলোও পাপিষ্ঠএজিদ থেকে এসেছে। কারণ, এজিদের প্রধান অনুচরদের একজন―কুফার গভর্নর আব্দুল্লাহ জেয়াদেরও লালদাড়ি ছিল। আর সে সবসময় পছন্দ করতো: লালচুলের লালবাঁদরকে। এজিদেরও বানর খুব প্রিয় ছিল। এরা ইসলামের সমস্ত পবিত্র বিষয়কে বাদ দিয়ে―শয়তানী-উপকরণকে ইসলামের বিষয় বলে চালানোর চক্রান্ত করছে সুদীর্ঘকাল-যাবৎ। অতএব, এদের থেকে আমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে। আর খুব সাবধানে আমাদের ঈমান-আকিদাহকে বাঁচাতে হবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হবেন, ইনশা আল্লাহ।”

সিফফিনের যুদ্ধের মতো চক্রান্তকারীরা ছোটো-ছোটো দলে বিভক্ত হয়ে―খুব উৎপাত করছে। এই এলাকা দখল করে ওরা মনে করছে, আজ বুঝি একচান্সে এই দেশের রাজা হয়ে যাবে। এভাবে, রোদের মধ্যে গরমে ঘেমে-নেয়ে, সারাগায়ে ধূলাবালি মেখে, হাতে পবিত্র কুরআনশরীফ-ধারণপূর্বক চিৎকার ও চেঁচামেচি করলেই বুঝি কুরআনের মানসম্মান বেড়ে যাবে? এরা অকাট মূর্খ। তাই, এইরকম করছে। সিফফিনের যুদ্ধেও ওরা যখন দেখলো: ওদের পরাজয় অত্যাসন্ন, তখন শয়তানের পরামর্শে ওরা বর্শার অগ্রভাগে ঝুলিয়ে দিলো পবিত্র কুরআনশরীফ। অথচ, জান্নাতী হজরত আলী আলাইহিস সালাম তখনও তাদের শান্তিপূর্ণ-আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন। কিন্তু, তারা সেই ডাকে সাড়া দেয়নি। এরাও তাই। আমাদের পরহেজগার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদের বারবার আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন। কিন্তু, ওরা তাতে কর্ণপাত না-করে, রাষ্ট্রীয় নারীনীতি-বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুলব্যাখ্যা দিয়ে, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে, উদ্ধত ও রূঢ়ভঙ্গিতে রাস্তায় নেমে আজ পবিত্র ধর্মের গায়ে কাদা ছিটাচ্ছে। প্রকাশ্য-দিবালোকে এই ভণ্ডামি আর এই শয়তানী―আর কতো সহ্য করা যায়? ধিক্, এই কুলাঙ্গারদের ধিক্। আর ধিক্, এই নরপশুদের।
আর এদের―মানে, এইসব বিষবৃক্ষের শিকড় বাংলার জমিন থেকে চিরতরে উপড়ে ফেলার জন্য ওরা তিনজন পরস্পর হাতে-হাত-রেখে চিরপ্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো। এদের শিকড়-উপড়ে ফেলার জন্য, তারা রাষ্ট্রের পক্ষে নিজেদের জীবনবাজি রাখবে। তারা ঠিক করেছে, পবিত্র ইসলামধর্মকে এদের হাতে আর কলংকিত হতে দেবে না, ইনশা আল্লাহ।
ওরা তিনজন আবার একজায়গায় এসে থমকে দাঁড়ালো। আর দেখলো: শ’খানেক পাতিহুজুর একজায়গায় দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে যেন একটা গোলমিটিং করছে। হতে পারে―এটা তাদের কোনো শয়তানী-গোপনীয় গোলমিটিং। তাই, পাতিহুজুররা এখানে, কী শয়তানী করছে, আর কী বলাবলি করছে, তা জানার জন্য ওদের তিনজনের মনের মধ্যেই এক বিরাট কৌতূহলের জন্ম হলো। তিনজনই গুটি-গুটি পায়ে সেদিকে এগিয়ে গেল।
ওরা তিনজন কাছে গিয়ে দেখলো: এই গোলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বেঁটে মতো একটা, বিদঘুঁটে-আজব চেহারার পাতিহুজুর। সে জমায়েতের উদ্দেশ্যে খালি গলায় খুব জোরে চেঁচিয়ে-চেঁচিয়ে বলছে: “ভাইসব, আওয়ামীলীগ দেশে কুরআনবিরোধী-আইন করছে! দেশে মেয়ে-ছেলেরে সমান-অধিকার দিয়ে কী নাজায়েজ-কাজ করছে। কুরআনে মেয়েদের সমান-অধিকার নাই। এই দেশে মেয়েদের সমান-অধিকার মানা হবে না। কোনো মুসলমান এটা মানবে না। আমরা আওয়ামীলীগের নারীনীতি মানি না। ১৯৭১ সালে, আমাদের পীরসাহেবও আওয়ামীলীগ মানে নাই। তাই, তিনি ইসলামের পাকিস্তান-ভেঙ্গে বাংলাদেশসৃষ্টির নাজায়েজ-মুক্তিযুদ্ধও মানে নাই। আর আমরাও এখন এই সরকারের কোনোকিছুই মানবো না। আমরা...।”
এমন সময় একজন ছোকরাবয়সী-কর্মী তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো: “হুজুর, চুপ করেন তো, আর কোনো কথা বলবেন না। একটা কথা ভুল বইলে ফেলেছেন। ভাগ্য ভালো, কেউ শোনে নাই।”
মুখফসকে এই পাতিহুজুর তার পীরসাহেবের আদি-আসল কারামত এতোকাল পরে ফাঁস করে দিলো। এতে উপস্থিত লোকগুলোর মধ্যেও একটা মিশ্র-প্রতিক্রিয়া দেখা দিলো। কিন্তু, তারা এতে মনে কষ্ট পায়নি। তারা মনে করছে: এইসব কথা আওয়ামীলীগের কোনো লোক শুনলে বিপদ হতে পারে। তারা বিপদে পড়তে পারে। তাই, সবাই চারদিকে একটু তাকালো। হঠাৎ তাদের দৃষ্টি ওদের তিনজনের উপর পড়ায়―পাতিহুজুররা সবাই কেমন যেন চুপসে গেল। আর আস্তে-আস্তে জমায়েত ভেঙ্গে যেতে লাগলো। আর সেই বেঁটে-হুজুরও আস্তে-আস্তে হরতাল-সমর্থনকারীদের মধ্যে মিশে যেতে লাগলো।
অপর একটা পাতিহুজুর নিজেদের মধ্যে আলোচনার সময় বললো: “মাওলানা ইকবাল হোসেন বদরপুরীসাহেবের কথার কোনো ব্রেক নাই। যখন যা-মুখে আসে তা-ই বলে ফেলে। ইনার দিয়ে রাজনীতি হবে না। ভিতরের কথা কেউ কি মুখে বলে নাকি? এইসব কথা আওয়ামীলীগের লোকজন শুনলে তো আমাদের বিপদ হবে। আর এগুলো আসলেই খুব বিপজ্জনক কথা।”
তারপর এই হুজুরগুলোও একদিকে চলে গেল। আর এদের সবার সঙ্গে ঈমানদণ্ডস্বরূপ একটা-না-একটা গজারির লাঠি আছেই। এই লাঠিই যেন ওদের খোদা। এমনিতেই ওদের প্রভু স্বয়ং ইবলিশ শয়তান।

লাঠিবাজ-হুজুরদের দেখে লিটু মিয়া বললেন, “ওরা মনে হয়, জন্মের সময় একেকটা একখান করে লাঠি হাতে নিয়েই দুনিয়ায় এসেছে। তাই, লাঠির প্রতি ওদের এতো মায়া। নইলে, আমাদের পবিত্র ইসলামে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নাই। আর ওরা কিনা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে দিনে দুপুরে ডাকাতি করার মতো প্রকাশ্য-দিবালোকে সন্ত্রাস করছে। এদের ধর্মপালনের নমুনা দেখলে মনে হয় প্রাণভরে এদের গায়ে কেবল প্রবল ঘৃণামিশ্রিত থুথু ছিটাই।”
আবু কায়েস এতোগুলো জঙ্গিহুজুরের মাঝেও ওদের কয়েকটাকে ধরে পেটাতে চেয়েছিলো। বিশেষত ওই ইকবাল বদরপুরীর কথা শুনে তার মাথাটা ভীষণ গরম হয়ে গিয়েছিলো। পরে অবশ্য লিটু মিয়ার কথায় তার মাথা ঠাণ্ডা হলো। লিটু মিয়া বলেছিলেন, “কুকুরের আচরণ দেখে কখনও উত্তেজিত হতে নেই। হাজার হলেও তুমি একজন মানুষ―তুমি একজন মুসলমান। ধৈর্যেই তোমার ঈমানের পরিচয়। যারা এখনও এই দেশটাকে ভালোবাসে না, আর যাদের মনের ভিতরে এই দেশটার প্রতি প্রবল বিদ্বেষভাব রয়েছে, হঠাৎ-হঠাৎ তাদের মুখ দিয়ে এইরকম সত্য বেরিয়ে আসতে পারে। তাই বলে, পাগল-ছাগলের কথা শুনে মারামারি বাঁধিয়ে ফেলা যাবে না। ধীরস্থিরভাবে আমাদের সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। এই ধরনের ঘৃণ্য শয়তানদের আমরা অবশ্যই প্রতিহত করবো। তবে তা ভিন্নভাবে। এতোগুলো জঙ্গি-লোকের মাঝে ওদের সঙ্গে মারামারি করে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনা যাবে না। আর আমরা যা-কিছু করবো―তা ভেবেচিন্তেই করবো। আর তা বুদ্ধি খাটিয়ে কৌশলের সঙ্গেই করবো।”
এতে আবু কায়েসের রাগ ম্যাজিকের মতো প্রশমিত হয়েছে। আর শান্ত হয়েছে রায়হান কবিরও। ওরা ভেবে দেখেছে: শয়তানের সঙ্গে শয়তানী করতে গেলে এই দুনিয়ায় আদৌ ধর্মপালন করা যাবে না। মানুষকে মানুষের মতো থাকতে হবে। আর মানুষকে মানুষের মতো বাঁচতে হবে। তাই, সবসময় মানুষকে মানুষের মতো আচরণ-প্রকাশ করতে হবে।
আবু কায়েস হাঁটতে-হাঁটতে চিন্তিতমুখে বললো, “স্যার, আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেই―এই লোকগুলো রাস্তায় নামে। আর অহেতুক ধর্মকেন্দ্রিক একেকটা ইস্যু-তৈরি করে। এর কারণ কী?”
মাঝে মাঝে অতিদুঃখের মধ্যেও লিটু মিয়া হাসেন। এটা করুণ হাসি আরকি! এখনও তিনি কায়েসের কথা শুনে হাসলেন। তারপর কায়েসের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলেন, “তোমার কথা সম্পূর্ণ সত্য। আমি তোমার বর্তমান পর্যবেক্ষণশক্তির প্রশংসা করছি। আর সবাই যদি তোমার মতো এমন করে ভাবতো―তাহলে, এই দেশটা বেঁচে যেতো। তোমার কথাই ঠিক। আওয়ামীলীগ সরকারগঠন করার সঙ্গে সঙ্গে এরা―মানে, এইসব পাতিহুজুর, জঙ্গিহুজুর রাস্তায় নেমে পড়ে। আওয়ামীলীগ সরকারগঠন করার সঙ্গে সঙ্গে, আমাদের দেশের কিছুসংখ্যক বিজাতীয় কীট-পতঙ্গ, অনেকটা বিষধর-বিছাসদৃশ পাপিষ্ঠজীব, এমনি এমনি কিছুক্ষণ নীল-যন্ত্রণায় শুধু লাফাতে থাকে। আর ওদের সারাগায়ে কে যেন খুব করে বিছুটিপাতা লাগিয়ে দেয়। আর ওদের গায়ে হয়তো কোনো বিষাক্ত-পদার্থ কিংবা বিষাক্ত-গাছের রস লাগিয়ে দেওয়া হয়। আর তাই, ওরা স্থির থাকতে পারে না। রাস্তায় নেমে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ধর্মঅবমাননার ভিত্তিহীন-অভিযোগ এনে, নিজেরাই ধর্মঅবমাননা করে সামাজিক ও রাষ্ট্রিক ক্ষেত্রে এক বিরাট বিশৃঙ্খলার জন্ম দেওয়ার অপচেষ্টা করে থাকে। এরা বহু পুরাতন পাপী। আর এরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ-শয়তান। এরা সুদীর্ঘকাল-যাবৎ বাংলাদেশে গায়ের জোরে ধর্মব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে, শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ যখন প্রথমবারের মতো সরকারগঠন করলো, তখনও এরা এইসব ভিত্তিহীন-অভিযোগের ভিত্তিতে রাস্তায় নেমে আস্ফালন করেছিলো। এরা একই অপশক্তি। বারবার ভিন্ন-ভিন্ন কৌশলে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে, এরা এই দেশের সাধারণ-নিরীহ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে চায়। আর শয়তানীই এদের একমাত্র নেশা ও পেশা। এর পিছনে আরও কারণ তো অবশ্যই আছে। আর এরা কেন এমন শয়তানী করে―তা আমি এখন তোমাদের কাছে সবিস্তারে বলছি:

তোমরা তোমাদের মস্তিষ্কের ভিতরে সযত্নে সংরক্ষিত বহু মূল্যবান হার্ডডিস্কে তা সংরক্ষণ করে নাও। যাতে, তোমরা বিভ্রান্ত-মানুষগুলোকে পথের দিশা দিতে পারো। এইসব পাতিহুজুর কিছু বুঝে, না-বুঝে, কেন আওয়ামীলীগ-সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে―তার কারণ হলো: এরা ধর্মীয় বিশ্বাস ও আকিদাহগত দিক থেকে এজিদপন্থী। আর এরা ইসলামের মূলধারা হজরত ইমাম হোসেনী-ধারার বাইরে। এর বিরুদ্ধে। এরা এজিদীয়-বংশধারার ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী’। এরা আমাদের মূল ইসলামের কিছুই না―কেউ না। আর আকিদাহগত পার্থক্যের কারণে এরা জন্মগতভাবে আমাদের প্রিয়-নবীজী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ও তাঁর বংশধরদের বিরুদ্ধে, এবং এই একই কারণে এরা হজরত ইমাম হোসেনী-ধারার বিরুদ্ধে। আর সেইসঙ্গে এরা আমাদের বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীন-সার্বভৌম-পবিত্র বাংলাদেশের প্রথম ইমাম: হজরত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহমাতুল্লাহ আলাইহির বিরুদ্ধে। কারণ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আকিদাহগত দিক থেকে আমাদের ইমাম: হজরত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহমাতুল্লাহ আলাইহি ছিলেন, হজরত ইমাম হোসেন আলাইহিস সালামের রাজনৈতিক বংশধারার উত্তরাধিকারী। আর তিনি ছিলেন পরিপূর্ণভাবে একজন মুসলমান। তাই, ওরা আজও আমাদের ইমাম: হজরত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহমাতুল্লাহ আলাইহির বিরুদ্ধে। আর সঙ্গত-কারণেই এইসব পাতিহুজুর ইসলামের মূলধারারও বিরুদ্ধে। ১৯৭১ সালে, ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের জন্মের পরে আমাদের ইমাম: হজরত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহ. রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রকৃত ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতাদান করতে শুরু করলেন। তিনি বুঝেশুনে পবিত্র-ঈদে-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের নির্দেশ দিলেন। আর পরবর্তীকালে তদীয় কন্যা: শেখ হাসিনা এই পবিত্র দিনটিকে সরকারি-ছুটি হিসাবে ঘোষণা করলেন। তিনি, মানে, আমাদের জাতির পিতা, আমাদের প্রিয়-নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রকৃত ইসলাম বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত করলেন: আন্তর্জাতিকমানের ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন-বাংলাদেশ’। মাদ্রাসাশিক্ষাকে আধুনিক ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য তিনিই প্রতিষ্ঠা করলেন: মাদ্রাসাশিক্ষাবোর্ড। আমাদের প্রিয়-নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতো তিনি উদার-গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ-রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা করলেন। তাই, এখানে, তোমাদের বলে রাখছি: আমাদের প্রিয়-নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মনিরপেক্ষ-ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আর সকল ধর্মের মানুষ ছিল তাঁর কাছে আদরণীয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আরবরাষ্ট্রে, আদর্শরাষ্ট্রে, আর মানবরাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষই অনেকক্ষেত্রে প্রায় পরিপূর্ণভাবে সমান অধিকার ভোগ করতো। বাইরে থেকে মনে হতো, এটি বুঝি শুধুই একটি সাধারণ আরবরাষ্ট্র। কিন্তু, এর ভিতরে কিছুদিন অবস্থান করলেই যেকোনো-মানুষ বুঝতে পারতো: এটি দুনিয়ার ‘সর্বশ্রেষ্ঠ-সুসভ্য-ধর্মনিরপেক্ষরাষ্ট্র।’ আর এখানে, কারও সামাজিক-অধিকারক্ষুণ্ন করা হতো না। ইসলামের ইতিহাসের ধারা-অনুযায়ী আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুও এমনই একটি ধর্মনিরপেক্ষরাষ্ট্র গড়ে তোলার আপ্রাণ-চেষ্টা করছিলেন।
অনেকে বলে থাকে, আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি মদীনায় তথা আরবে একটি ইসলামীরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন! আসলে, এসব মিথ্যাকথা। আর একদল শয়তান নিজেদের দুনিয়াবী ও রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এসব শয়তানী-কথাবার্তা বলে থাকে। আমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরবের কোথাও কোনো ইসলামীরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেননি। আর দুনিয়ার কোথাও কোনো ইসলামীরাষ্ট্র বলে কোনোকিছু নাই। আমাদের বঙ্গবন্ধুও মানবকল্যাণে একটি ধর্মনিরপেক্ষরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর তিনি দেশের ‘প্রকৃত আলেমদে’র সমন্বয়ে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে একটি ‘উলামা ও শরীয়া-বোর্ড’ গঠন করে দিয়েছিলেন। তবুও তাঁকে হত্যা করলো বাংলার কুখ্যাত এজিদবংশীয় তথা উমাইয়াবংশীয় ঘাতকচক্র। ১৯৭৫ সালে, তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে ইসলামের ইতিহাসে দ্বিতীয় কারবালার জন্ম দিয়ে, সদ্যো-স্বাধীন বাংলাদেশে উমাইয়াবংশের রাজতন্ত্রের সূচনা ঘটে। তাই, এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে ছলে-বলে-কলে-কৌশলে এজিদবংশীয়রা বারবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করে নিতে থাকে। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শয়তানী-উমাইয়াবংশীয়রা এজিদীয়-রীতিনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপরিচালনার নামে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে থকে। সাধারণ-অশিক্ষিত মুসলমানসমাজকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য তারা পবিত্র ইসলামধর্মকে তখন থেকেই রাজনৈতিক কাজে অপব্যবহার করতে শুরু করে। আর নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির রাষ্ট্রক্ষমতা-টিকিয়ে রাখার জন্য তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করতো না। আর এখনও তারা এই ধারা অব্যাহত রেখেছে। তাই, আওয়ামীলীগ ইসলামের জন্য ভালোকিছু বললেও, আর ভালোকিছু করলেও―তারা কোনোকিছু না-বুঝে, সম্পূর্ণ অন্ধের মতো না-দেখেই বিরূপ মন্তব্য ও শয়তানী করতে থাকে। এই দেশের সকল প্রকৃত মুসলমান ও আওয়ামীলীগ ইসলামের মূলধারা থেকে তথা হজরত ইমাম হোসেন আলাইহিস সালামের বংশধারা থেকে উদ্ভূত। তাই, আমাদের প্রতিপক্ষ এজিদবংশীয় ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদীরা’ সবসময় খেয়ে, না-খেয়ে, আর আদাজল খেয়ে, আমাদের পিছনে লেগে থাকে। ওদের কাজই হচ্ছে: আমাদের পিছনে এভাবে লেগে থেকে, মূল ইসলামের ক্ষতিসাধন করার মাধ্যমে ওদের এজিদবংশীয়-ধারাকে শক্তিশালী করা। আওয়ামীলীগ ইসলামের বংশধারায় প্রকৃত মুসলমান। তাই, তারা সবসময় ইসলামকে, আর প্রকৃত মুসলমানদের ভালোবাসে। কিন্তু, এটা সহ্য করতে পারে না বাংলার ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী’ পাপিষ্ঠ-সম্প্রদায়। আর আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দেশ থেকে শয়তানী-এজিদীয় অনৈসলামিকধারা-বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা আর কোনো সুবিধা করতে পারে না। তারা সাপের হাইবারনেশনের মতো তখন গা-ঢাকা দিয়ে থাকে। কিন্তু, কতো আর গা-ঢাকা দিয়ে থাকা যায়। অন্যায়-অপকর্ম করা যাদের স্বভাব, তারা তো কখনও নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকতে পারবে না। তাই, তারা মাঝে-মাঝে উত্তেজিত হয়, আর এই রাষ্ট্রে আবার এজিদীয়-অনৈসলামিকধারাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একেবারে মরীয়া হয়ে ওঠে। আর আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে একের-পর-এক মিথ্যা-অপপ্রচার চালায়। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছো, ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৮-এ অক্টোবর পর্যন্ত―এই দেশে যে-ভয়াবহ কাফেরিশাসন চলেছিলো, তার বিরুদ্ধে কিন্তু কোনোদিন, একদিনও, প্রতিবাদ করতে এইসব পাতিহুজুর একটা মিছিলও করেনি, এবং ঈমানী-দায়িত্বপালন করতে প্রতিবাদের জন্য তারা সেদিন রাস্তায়ও নামেনি। আর এখন দেশ চলছে―আইনের মাধ্যমে। আর দেশে এখন মুসলমানের শাসন। এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে কারও উপর কোনো জুলুম-নির্যাতন করা হচ্ছে না। কোনো ভুল হয়ে গেলে তজ্জন্য রাষ্ট্রপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে সেই-বিষয়ে তদন্তের আদেশ দিচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এখন কোনো অন্যায়কারী-অপরাধীর পক্ষে আর সাফাই গাওয়া হচ্ছে না। আধুনিক গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখীরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে: নাগরিক-অধিকারসমুন্নত রাখা। আর আমাদের সরকার সেই কাজটি করার জন্য যারপরনাই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর একদল আহাম্মক, শয়তানীচক্রান্তে নিজেদের শামিল করে, আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে কথিত-মিথ্যাচারে কুরআন-অবমাননার ভিত্তিহীন-অভিযোগ এনে, রাজপথে নেমেছে। আর এখন নিজেরাই পবিত্র কুরআনের অবমাননা করছে। ওদের স্পর্ধা দেখে আমি বিস্মিত হই। ওরা নিজেদের কী ভাবে? আরে, এই দেশে আওয়ামীলীগ হচ্ছে: প্রকৃত মুসলমানদের চির-আস্থার প্রতীক। আর এই স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ সবসময় আদর্শগতভাবে, ধর্মগতবিশ্বাসে, বংশগতভাবে, উত্তরাধিকারসূত্রে, রুহানীয়াত-ত্বরীকামতে হজরত ইমাম হোসেনী-বংশধারার পথিকৃৎ। তারা এই দেশে প্রকৃত ইসলামের ধারক-বাহক। আর তারা কিনা পবিত্র কুরআনের অপমান করবে? আরে, আওয়ামীলীগ তো খাঁটি মুসলমান-ইমামের সংগঠন। আরে, আমাদের জাতির পিতা প্রতিদিন সকালে দিনের কার্যক্রম শুরু করতেন ফজরের নামাজ-শেষে পবিত্র কুরআন-তেলাওয়াতের মাধ্যমে। আর যেদিন তিনি ওই শয়তান-এজিদবংশীয়দের হাতে শাহাদাতবরণ করেছিলেন, তার আগের দিনও তিনি এই পবিত্র কুরআন-তেলাওয়াত করেছিলেন। আমাদের ইমাম: হজরত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহ., একজন অসাধারণ মুসলমান ছিলেন। শুধু এই জাতির মুক্তির জন্য তিনি প্রায় ১৪বছর জেল খেটেছেন। আর তিনি পাকিস্তানীদের শতসহস্র জুলুম-নির্যাতন-সহ্য করেও কারও সঙ্গে একবিন্দু আপস করেননি। তিনি বলেছিলেন: ‘মুসলমান একবার মরে―দুইবার মরে না।... ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলবো―আমি বাঙ্গালী, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। জয়-বাংলা।’ আর এমন একজন মহান নেতাকে অবজ্ঞা করে যারা শয়তানের পদাঙ্ক-অনুসরণ করে এজিদবংশে নাম লেখায়, তারা তো শুধু স্বার্থের কারণে আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করবেই। তাই, দেশে আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করলে এদের ধর্মভিত্তিক সমস্ত ভণ্ডামি, শয়তানী, বাঁদরামি, ইতরামি ও বদমাইশী বন্ধ হয়ে যায়। এদের এজিদীয়-শয়তানীমিশনও বন্ধ হয়ে যায়। ধর্মের নামে এরা আর অধর্ম-কায়েম করতে পারে না। তাই, এদের পিঠ চুলকায়, মাথা চুলকায়, আর সমস্ত শরীর চুলকায়―বিষাক্ত-বিছুটিপাতার সংস্পর্শে। আর এদের সমস্ত দেহ হিংসার আগুনে পুড়তে থাকে। এরা চুপচাপ ঘরে বসে আমল কিংবা তাসবিহ-তাহলিল করতে পারে না। আর তখনই, এদের আদিপিতা: শয়তান হুকুমজারী করে বলে: ‘তোরা এখনও ঘরে বসে আছিস? যা, এখনই আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে পড়। তোদের কোনো ইস্যু লাগবে না। এমনিতে চেঁচামেচি কর। তোদের নামাজও পড়তে হবে না। তোরা শুধু দিনরাত আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে চেঁচামেচি করবি। আর এতেই তোদের বহুত ফায়দা হবে। তোরা এজিদবংশের সন্তান। তোদের আবার ভয় কী? শেখ মুজিব এই দেশ থেকে মদ-জুয়া-হাউজিসহ সব অনাচার নিষিদ্ধ-ঘোষণা করেছিলেন। তোরা ইসলামের নামে এখন আবার এইসব চালু করবি। আর তার আগে চাই: আবার তোদের রাষ্ট্রক্ষমতা। যা, তোরা এখনই আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ইসলামের যেকোনো একটা বিষয়-অবমাননার অভিযোগ এনে রাস্তায় নেমে পড়। নেমে পড়। নেমে পড়। আর এখনই নেমে পড়। এতেই তোদের বহুত মঙ্গল হবে।’ সরাসরি ইবলিশ শয়তানের আদেশে এইসব পাতিহুজুর সেই ১৯৪৭ সাল থেকে, বাংলাদেশের স্বার্থপরিপন্থী-অপকর্মে নিয়োজিত। তখন তারা ছিল তাদের পিতৃভূমি পাকিস্তানের ঘোর-সমর্থক। ওদের কাছে পাকিস্তান মানে জান্নাত। আর পাকিস্তান মানে পবিত্র-কিছু। ওরা ইসলামধর্মের চেয়ে পাকিস্তানকে বেশি ভালোবাসে। আর এই পাকিস্তানকে ভেঙ্গে খান-খান করে, একেবারে ছিন্নভিন্ন করে, ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশ নামক এক পবিত্র-রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে: আমাদের আওয়ামীলীগ। তাই, বংশপরম্পরায় ওরা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে লেগে আছে। ওরা মনে করে: এই আওয়ামীলীগ ওদের পিতাকে দ্বিখণ্ডিত করেছে। তাই, ওরা পিতৃশোক ভুলতে পারে না। তাই, ওরা কখনও আওয়ামীলীগ করে না। তাই, ওরা কখনও বাংলাদেশের ভালো দেখতে পারে না। ওরা বংশপরম্পরায় জেনেছে: ‘আওয়ামীলীগ পাকিস্তানকে ভেঙ্গেছে। আর তারা ইসলামবিরোধী-কাজ করেছে।’ কিন্তু, আফসোস ওদের জন্য। ওরা কতো বদবখ্ত! ওরা এখনও বলতে শিখলো না যে, আওয়ামীলীগ সাহসের সঙ্গে পাকিস্তান-ভেঙ্গে, গুঁড়িয়ে দিয়ে, দেশস্বাধীন করে, বাংলাদেশের জন্ম দিয়ে, পবিত্র ইসলামের পক্ষে এক সুমহান দায়িত্ব-কর্তব্যপালন করেছে। আর এভাবে, আওয়ামীলীগ প্রকৃত মুসলমানদের জন্য বাংলাদেশ নামক এক-স্বতন্ত্র আবাসভূমির জন্ম দিয়ে সারা পৃথিবীর বুকে বাঙালি-মুসলমানদের মুখ-উজ্জ্বল করেছে। তাই, বাংলাদেশআওয়ামীলীগের এই মহাকীর্তি ওরা মনে-মনে, প্রকাশ্যে ও আন্তরিকভাবে মেনে নিতে পারে না বলেই সবসময় আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করে থাকে। এদের বিরোধিতার আরও অনেক কারণ আছে। এই আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মেনে চলে। জন্মলগ্ন থেকেই এই দলটি বাঙালি-জাতির নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ে বিশ্বাসী বলেই তারা ‘বাঙালি-জাতীয়তাবাদে’ বিশ্বাস করে। বাংলার গবেষকগণ প্রমাণ করেছেন যে, আমরা নৃতাত্ত্বিক-দৃষ্টিকোণ থেকে বাঙালি-জাতি। আর হাজার-বছরের বাঙালি-জাতি। আর আমাদের দেশীয় পরিচয় ‘বাংলাদেশী’ হতে পারে। এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহারও করা যেতে পারে। কিন্তু, আমাদের আদি ও আসল পরিচয়: আমরা সেই আদ্যিকালের বাঙালি-জাতি। কিন্তু, এই দেশের একটি চিহ্নিত-কুলাঙ্গারগোষ্ঠী: স্বাধীনতাবিরোধী-রাজাকারগোষ্ঠী সহজে তা স্বীকার করে না, মানে না, আর বিশ্বাসও করে না। এরা পাকিস্তানীভাবধারায় রাজনীতির নামে ছেলেখেলা ও ধর্মব্যবসা শুরু করেছে। এতে তাদের লাভ হয় বেশি। এতে জনগণের প্রতি কোনো দায়দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বলে কিছুই নাই। আছে শুধু ধর্মের নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকুক্ষিগত করে নিজেদের আখের গোছানো। আর এই সমস্ত শয়তানীঅপকর্ম করে আপদবিপদ থেকে বাঁচার জন্য এরা ঘন-ঘন ‘বিসমিল্লাহ’ বলে থাকে। এরা কখনও ভাবে না, ‘বিসমিল্লাহ’ কোথায়-কোথায় বলতে হবে। আর জায়েজ-নাজায়েজ-হারাম সকল কাজে তারা ‘বিসমিল্লাহ’ বলে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে রাজনীতি করে খাচ্ছে। আর এই-ধারাটির সঙ্গেই আঁতাত করে, হাত মিলিয়ে, শয়তানীধারার রাজনীতি করে যাচ্ছে এইসব ভণ্ড-পাতিহুজুর। এদের ধর্ম-অধর্ম, হিত-অহিত, পাপ-পুণ্য-বোধ বলে কিছুই নাই। এরা এই দেশে থাকে―বাস করে। কিন্তু, নিজেদের ‘বাঙালি’ ভাবতে নারাজ। এরা এই দেশে বাস করেও এই দেশের ‘কৃষ্টি-সংস্কৃতি’ মানতে চায় না। এরা আমাদের ‘বাঙালি-জাতিসত্তার’ প্রধানতম অংশ: বাংলা-ভাষা, বাংলা-সাহিত্য, বাংলা-গান, বাংলা-নববর্ষ, বাঙালিয়ানা ইত্যাদি কোনোকিছুই মানতে চায় না। আর বাংলাদেশআওয়ামীলীগ এগুলোকে খুব ভালোবাসে। আওয়ামীলীগ সবসময় এগুলো আঁকড়ে-আগলে ধরে থাকতে চায়। আর আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রীয়-ক্ষমতায় এলে বাংলা-ভাষা, বাংলা-সাহিত্য, বাংলা-গান, বাংলা-নববর্ষ ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতালাভ করে থাকে। আর এগুলোর ভাবমূর্তি ক্রমশ উজ্জ্বল হতে থাকে। কিন্তু, ওই রাজাকারবংশের পাতিহুজুরগুলো আওয়ামীলীগের এই মহৎ-কাজসমূহকে কোনোভাবেই সহ্য করতে পারে না। তাই, ওই খবিসশয়তানগুলো, আওয়ামীলীগকে আজও সহ্য করতে পারে না। ওরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই দেশে পাকিস্তানীভাবধারায় ‘সাহিত্য-সংস্কৃতি’ গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু, ওরা এও জানে যে, আওয়ামীলীগের একজন কর্মীও বেঁচে থাকতে এই দেশে তা করা সম্ভব নয়। তাই, ওরা মনের দুঃখে সমস্ত শয়তানীকে গভীরভাবে ভালোবেসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লেগে থেকে, সবসময় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধেও লেগে থাকে। এছাড়াও, আরও অনেক কারণে এইসব পাতিহুজুর সবসময় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে। সেইসব-কথা তোমাদের পরে একদিন বলবো। আজ এই পর্যন্তই থাক। আমাদের কথা হচ্ছে: যে-কেউ আওয়ামীলীগের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারে। আওয়ামীলীগ এই দেশের মাটি ও মানুষের সংগঠন। আর মাটির মানুষের ভুল তো হবেই। তাই, আওয়ামীলীগও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। আওয়ামীলীগের গঠনমূলক সমালোচনা করা হলে, এতে দেশের মঙ্গল হবে। আর জনগণের বিরাট উপকার হবে। কিন্তু, সমালোচনার নামে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, অপবাদ, কুৎসা-রটনা ইত্যাদি করা যাবে না। আমরা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কারও কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেবো না। কিন্তু, এইসব পাতিহুজুর ও চিহ্নিত-রাজাকারগোষ্ঠী: রাজনীতির নামে বিশেষ-কায়দায় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে একের-পর-এক চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও কুৎসা-রটনা শুরু করেছে। এদের এই শয়তানী আমরা কোনোদিন মানতে পারবো না। আওয়ামীলীগ আজ এই দেশের এক অবিচ্ছেদ্য-অংশ। এ-কে বাদ দিয়ে স্বাধীনবাংলাদেশের কথা ভাবাই যায় না। আর আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বড় গুণ: তারা এই দেশটাকে ও দেশের মানুষগুলোকে ভালোবাসে। আর এই দেশে আওয়ামীলীগ টিকে থাকলে, রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকলে এই দেশটা কখনও, কোনো-কারণে, এক-সেকেন্ডের জন্যও ‘পাকিস্তান’ হবে না। এই দেশ চিরদিন ‘বাংলাদেশ’ই থাকবে। বর্তমানে এইসব পাতিহুজুরের পাশাপাশি একশ্রেণীর দেশবিরোধী, নামসর্বস্ব ও তথাকথিত-সামাজিকপ্রতিষ্ঠান আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে লেগে আছে। এরা আসলে, পাকিস্তানবাদী ঘাতকসংগঠক। এরা সবাই জোট বেঁধে, তাদের বিদেশীপ্রভুদের টাকা খেয়ে, বিদেশীপ্রভুদের দালালি করে, আর বিদেশীপ্রভুদের চিরগোলাম হয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাকে থামিয়ে দিতে চায়। এদের পূর্বপুরুষগণও পাকিস্তানী-নরঘাতকদের সঙ্গী হয়ে, হয় মুসলিমলীগ করতো, আর নয়তো নেজামে ইসলাম কিংবা জামায়াতে ইসলামীপাকিস্তানের দালাল ছিল। আজও এদের প্রত্যেকের বিষাক্ত-শিকড় পাকিস্তানের গভীরে প্রোথিত। এরা এখন গায়ে পড়ে দেশপ্রেমের কথা বলে। আর বিদেশী-দাতাদের সুকৌশলে-কুকৌশলে বশ করে আমাদের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনার বিরুদ্ধে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের বিরুদ্ধেই কাজ করছে। আর এইজাতীয় আগাছা-পরগাছা-দেশবিরোধী এবং পাকিস্তানবাদী যাবতীয় শয়তানীসংগঠনের মধ্যে রয়েছে:

বেলা বা বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল-ল-ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন; বাপা বা বাংলাদেশ-পরিবেশআন্দোলন; টিআইবি বা ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ; সিপিডি বা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ; ফেমা বা ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স; সুজন বা সুশাসনের জন্য নাগরিক-কুজন; দৈনিক প্রথম আলো; দৈনিক আমার দেশ; দৈনিক ইনকিলাব; দি ডেইলি স্টার; দৈনিক মানবজমিন; সুশীলসমাজ; বুদ্ধিজীবীসমাজ; অর্থনীতিবিদসমাজ; নাগরিকসমাজ; বাংলাদেশ-নাগরিকসমাজ; কুবুদ্ধিজীবী-কোম্পানী লিমিটেড; পিএফভি বা পিপলস ফর ফোরাম ভয়েস; পবা বা পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন; ড্যাব বা ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ; জাতীয়তাবাদী রিপোটার্স-ফোরাম; বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংঘ-সংস্থা-পরিষদ-কমিটি ইত্যাদি; বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত ইসলামবাদী, জাতীয়তাবাদী ও পাকিস্তানবাদী শিক্ষকসমিতি-শিক্ষকগ্রুপ; দেশের বিভিন্নস্থানের তথাকথিত-ইসলামবাদী, জাতীয়তাবাদী ও পাকিস্তানবাদী আইনজীবীসমিতি; ‘তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ-বন্দর ও বিদ্যুৎ-রক্ষা জাতীয় কমিটি’ ইত্যাদি। দেশের ভিতরে এই যে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন শয়তানীসংগঠন গড়ে উঠেছে, এদের কাজ কী?―এদের কাজ কিন্তু একটাই―আর তা হলো: এরা সবসময় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে লেগে থাকবে, যে-যতটুকু পারে আওয়ামীলীগের ক্ষতি করবে। আর যে এখন আওয়ামীলীগের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, সে ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের ক্ষতি করার জন্য সদাসর্বদা তৎপর থাকবে। এইসব শয়তানীসংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে―শুধু মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তিকে, আওয়ামীলীগকে, আর বাংলাদেশকে চিরতরে ঘায়েল করার জন্য। তাই, বাংলাদেশবিরোধী সকল টাউট, বাটপাড়, ঘাতক, দালাল, জল্লাদ, স্বার্থপর, লোভী, ধান্দাবাজ, মতলববাজ, চালবাজ, ফেরেববাজ ইত্যাদি মিলেমিশে এইসব শয়তানীসংগঠন গড়ে তুলেছে। এদের কাজই হচ্ছে―খেয়ে, না-খেয়ে, বুঝে, না-বুঝে, জেনে, না-জেনে, তাদের বিদেশীপ্রভুদের টাকা খেয়ে সবসময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পিছনে ও বিরুদ্ধে লেগে থাকা। এরা কখনও চায় না যে, এই বাংলাদেশ মাথা-উঁচু করে দাঁড়াক। এরা একজাতীয়-একদলীয় ভণ্ডশয়তান। এইসব আগাছা-পরগাছার জন্মপরিচয় পরে দেবো।

একটুখানি ধৈর্য ধরো, আমাদের প্রিয়-বাংলাদেশকে আমরা সকলপ্রকার আগাছা-পরগাছা-মুক্ত করবো, ইনশা আল্লাহ। আর আমাদের শুধু একটুখানি ধৈর্য ধরতে হবে। এই দেশটাতে এখনও একজাতীয় চিহ্নিত-জীবন্তশয়তান: রাজাকার, নব্য-রাজাকার, পাপিষ্ঠ-দেশদ্রোহী, একাত্তরের ঘাতক-দালাল-জল্লাদসহ নামধারী-ইসলামপন্থী―আর আসলে, আমাদের পরিচিত সেই এজিদবংশীয় ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদীগং কুপরিকল্পিতভাবে নিজে-নিজেই বিরাট-বিরাট বুদ্ধিজীবী, অর্থনীতিবিদ, মানবাধিকারকর্মী, সমাজকর্মী, আইনজ্ঞ, আইনবিশারদ, শ্রেষ্ঠ-ব্যারিস্টার, শ্রেষ্ঠ-অ্যাডভোকেট, শ্রেষ্ঠ-বিশেষজ্ঞ, অমুক বিশেষজ্ঞ-তমুক বিশেষজ্ঞ, আইনবিশেষজ্ঞ, সংবিধানবিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিবিশেষজ্ঞ, শ্রেষ্ঠ-সাংবাদিক, শ্রেষ্ঠ-সাংঘাতিক, সাবেক সচিব, সাবেক আমলা ইত্যাদি সেজে―বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই অবস্থান করছে, এবং এরা বাঙালি-জাতির অহংকার: মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার বিরুদ্ধে একের-পর-এক বেসামাল-নাজায়েজ ও শয়তানী-বদমাইশী উক্তি করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশটাকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এরা, এদের বিদেশীপ্রভুদের আদেশে-নির্দেশে-অনুরোধে-হুকুমে-পরামর্শে পরিচালিত হয়। এরা দেশের ভিতরে কিছু-হলেই এদের বিদেশীপ্রভুদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে যা-মুখে আসে তা-ই বলে বেড়ায়। আর মধ্যপ্রাচ্যে এদের যে-সব রাষ্ট্রপতি ও মহাপ্রভু রয়েছে, তাদের কাছে অহেতুক আওয়ামীলীগের নামে ধর্মহীনতার এক মিথ্যা, সম্পূর্ণ শয়তানী ও ভিত্তিহীন অভিযোগ-উত্থাপন করে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বদনাম রটায়। এদের কাজই হচ্ছে: বিদেশ থেকে কেউ-একজন এলে তার কাছে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে সরাসরি বদনাম করা। আর আরব-দেশের কোনো হোমরাচোমরা ধনকুবের এলে, তাকে কাছে পেয়ে এইসব মানবাধিকারকর্মী, সমাজকর্মী, তথাকথিত-ইসলামীএনজিও-কর্মীসহ সব ধরনের মানুষখুনী-শয়তান ও দেশবিরোধী-কর্মী একজোট হয়ে অহেতুক আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি-ক্ষুণ্ন করার জন্য যা-যা বলা দরকার তা-ই বলে থাকে। এরা মানুষ কিনা তোমরা ধীরে ধীরে তা ভেবে দেখো। এদের মধ্যে রয়েছে: দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-নামধারীনরপশু। এরা ধর্মীয়-আকিদাহগত দিক থেকে―রাজনৈতিক বিশ্বাসের দিক থেকে ভ-শয়তান ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী সেইসব ‘বাতিল-কুফরী-আকিদাহ’র অনুসারী। এরা সবসময়ে ভ্রান্তপথিক। তাই, এরা সবসময় পাকিস্তানবাদী, পাকিস্তানী-জাতীয়তাবাদী ও এজিদের মতো মুসলমান-নামধারী ইসলামবাদী। এরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বী। এরা এখনও নিজে যা-বোঝে, তা-ই যখন-তখন দেশের মানুষের উপর, জনগণের উপর, আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এইসব শয়তানের মধ্যে রয়েছে আবার কতকগুলো ডক্টরেট-ডিগ্রিধারী, আর অধ্যাপক-নামধারী জাতীয় শয়তান। এইসব শয়তান সবসময় জেনেশুনে রাষ্ট্রবিরোধী-বাংলাদেশবিরোধী বিবিধ জঘন্য শয়তানী-অপকর্মে নিয়োজিত। এইসব ‘জঘন্য জাতীয় শয়তান’ বাংলাদেশের যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার জন্য অনুপযুক্ত। কিন্তু, দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে, বিভিন্ন সময় রাজাকারি-শাসনের কুফলে, সামরিকজান্তাদের অপতৎপরতায় এরা দলীয়-পরিচয়ে, দলীয়-প্রভাবে, দলীয়-কোটায়, দলীয়-বংশগতভাবে, আর ঐতিহাসিক-রাজাকারপরিচয়ে স্বাধীনদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাকরি পেয়েছে, চাকরি নিয়েছে। তাই, আজ আমাদের এই স্বাধীনবাংলাদেশের ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, জাহাঙ্গীরনগর, সিলেট, খুলনা, পটুয়াখালী, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লাসহ ইত্যাদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এইসব দেশবিরোধী-পাপিষ্ঠ ‘আবর্জনায়-আগাছায়-পরগাছায়-নর্দমার কীটে’ একেবারে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। এখন এইসব জঞ্জাল যেকোনোমূল্যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাফ করতে হবে। এরা এই দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বহাল তবিয়তে থেকে ‘মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ-ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদ’ নামক শয়তানী, কুফরী ও বাতিল মতবাদপ্রতিষ্ঠার জোরপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব সহ্য করা আর ঠিক হবে না।

এদেরই কেউ-কেউ এখনও পর্যন্ত অব্যাহতভাবে দেশের চিহ্নিত-রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠীকে সবরকমের সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় কথা: এইসব এজিদবংশীয় নামধারী-শিক্ষক ক্লাসে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাতিল ফিরকা ও যুক্তিতর্কের অবতারণা করে শিক্ষার্থীদের মনের মধ্যে আমাদের জাতীয় আশা-আকাক্সক্ষা ও জাতীয় মূলনীতির বিরুদ্ধে সন্দেহের বীজ-রোপণ করছে। তাই, খুব শক্তহাতে, খুব শক্তভাবে, এইসব বিভ্রান্ত-জাতীয় শয়তানকে দেশের সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনতিবিলম্বে-একযোগে অপসারণ করতে হবে। কারণ, এইসব শয়তানকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সপদে-চাকরিতে বহাল রাখলে, এদের সীমাহীন-নীতিহীন অশিক্ষায়-কুশিক্ষায় দেশের যুবসমাজের, ছাত্রসমাজের ও সর্বস্তরের মানবসমাজের ঈমান-আকিদাহ ও চরিত্রবিনষ্ট হতে বাধ্য। কথায় আছে না: দশের চক্রে ভগবান ভূত! এইসব জঘন্য শয়তান একাই দশজনের মতো কাজ করে। আর তারা দশ-রকমের শয়তানী করে আমাদের ভবিষ্যৎযুবসমাজ-ছাত্রসমাজের নীতি-নৈতিকতার মূলভিত্তি ধ্বংস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাই, বর্তমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এদের চিরতরে অপসারণ না-করলে, একদিন সংগ্রামী-মহাবিপ্লবীজনতা এদের সবক’টাকে ঘাড় ধরে, জুতাপেটা করে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বের করে দিতে বাধ্য হবে। তাই বলে, এদের বাড়াবাড়ি আর সহ্য করা যাবে না।
দেশের ভিতরে সবসময় শয়তানী করার জন্য রাজনৈতিক দলের আদলে ও রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে আরও কতকগুলো দেশবিরোধী-শয়তানীসংগঠন রয়েছে। এগুলো হচ্ছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল; নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা; জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ; জাগপা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি; গণতান্ত্রিক ফোরাম; ফারাক্কা-প্রতিরোধ ও লংমার্চ-কমিটি; সিপিবি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি; ছাত্র-ইউনিয়ন, যুব-ইউনিয়ন; জাসদ, আ.স.ম. আব্দুর রব; স্বাধীনতা ফোরাম; পাকিস্তানী ফোরাম; জনদল-জাগদল; জাতীয় দল; ন্যাপ, ভাসানী; শয়তানের নাজায়েজ তথা জারজপুত্র খন্দকার মোশতাক আহমেদের ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক-লীগ’; বিজেপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি; ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, এনডিপি; লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, এলডিপি; ‘বিকল্পধারা’ নামক শয়তানীধারা; জনগণ-ফোরাম; গণ ফোরাম; জাতীয় গামছা-পার্টি ওরফে কৃষক-শ্রমিক-জনতা-লীগ; শয়তানের নাজায়েজপুত্রদের ‘ফ্রিডম পার্টি’; গণসংহতি আন্দোলন; বাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল; প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট; প্রগতিশীল ছাত্র জোট; সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট; কল্যাণ পার্টি; আলিম আল রাজী’র ‘পিপলস পার্টি’ ইত্যাদি। এইসব শয়তানীসংগঠনের কাজ হচ্ছে: দেশের কথিত-সেবার কথা বলে, দেশের কথিত-মঙ্গলের কথা-প্রচার করে, এদের বিদেশীপ্রভুদের সামনে খুব নতজানু হয়ে, সাষ্টাঙ্গপ্রণামসহকারে স্বধর্মের খোলসে গোলামি করা। এরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শয়তানী করার জন্য বিভিন্ন-রকম-ইস্যু নিজের হাতে তৈরি করে নিয়ে, আমাদের সামনে হাজির হয়। এদের শয়তানীর কোনো শেষ নাই। এরা মনে হয়: জন্ম থেকে শয়তানী শুরু করে অদ্যাবধি তা চালু রেখেছে। তাই, এরা বিভিন্ন সময় দেশের তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ-বিদ্যুৎ ইত্যাদি রক্ষার কথা বলে মায়াকান্না জুড়ে দেয়। আর তারা এইসব শয়তানী শুরু করে আওয়ামীলীগ সরকার-গঠন করলে। আসলে, ওরা এভাবে এগুলো―মানে, জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ-বিদ্যুৎ ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ওদের নির্দিষ্ট বিদেশীপ্রভুদের হাতে তুলে দিয়ে, এগুলো ধ্বংস করতে চায়। ওরা সরাসরি রাজাকার-আলবদর-আলশামসের সন্তান। ওরা পাকিস্তানের নাজায়েজ-গোয়েন্দাসংস্থা: আইএসআই-এর নির্দেশে ও সহযোগিতায় কথিত-জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ-বিদ্যুৎ ইত্যাদি রক্ষার নামে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থানগ্রহণ করে দেশের ভিতরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলাসৃষ্টি করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এইসব দেশদ্রোহী-ঘাতক-জল্লাদবংশের পাপিষ্ঠশয়তান কিন্তু ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের ১০ই জানুআরি পর্যন্ত দেশ ও দেশের সম্পদরক্ষার জন্য কোনো আন্দোলন করেনি। তখন, এই দেশটা পৃথিবীর এক ভয়াবহ-জাহান্নামে পরিণত হয়েছিলো। তবুও এইসব নামধারী-শয়তানীসংগঠনের রাজাকারচক্র তখন চুপচাপ ঘরে বসে ছিল। আর বিলাসী-আয়েশী-আরামপ্রিয় জীবনযাপন করেছে। আর তারা সবসময় রাজাকারদের সঙ্গে দহরম-মহরমসম্পর্ক বজায় রেখে সহবাস করতে-করতে পরম সুখে জাবর কাটছিলো। এজাতীয় কুচক্রীমহল তখন বাংলাদেশের পক্ষে একটি কথাও বলেনি। আর এই দেশটাকে বাঁচাবার জন্য তারা কোনো পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি। আর তারা পরম বিশ্বাসে চারদলীয় শয়তানী-রাজাকারজোটের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলো। আর এখন, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তি-আওয়ামীলীগ সরকার-গঠন করে দেশরক্ষা করছে। আর তাই, রাজনীতির নামে শয়তানী করার জন্য এখন এদের ‘জাতীয় তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ’ ইত্যাদি রক্ষার কথা মনে পড়েছে! শয়তান আর কাকে বলে। এরা ভয়াবহ শয়তান। আসলে, এরা দেশের একটি চিহ্নিত-রাজাকারগোষ্ঠী, যুদ্ধাপরাধীচক্র, এবং একাত্তরের পরাজিত-দালালবর্গ। বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়ার জন্যই এরা বারবার কুপরিকল্পিতভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের-গণতন্ত্রের পক্ষের সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এই ধরনের জঘন্য শয়তানীপরিচালনা করছে। আর তাই, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে মিছামিছি-আন্দোলনের নামে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে শত্রুতা শুরু করেছে। আর ‘জাতীয় তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ’ ইত্যাদি রক্ষার কথা বলে এরা বারবার দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাচ্ছে। এরা কীভাবে দেশের ‘তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ-বিদ্যুৎ’ ইত্যাদি রক্ষা করবে? এরাই তো এগুলো ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। এরা পুরাপুরি ভণ্ড আর মানুষ-নামধারী একেকটা জীবন্ত-খবিসশয়তান। এদের ধরে-ধরে পিটাতে হবে। আর সবচেয়ে ভালো হয়: যদি এদের সবক’টাকে একসঙ্গে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলিস্তানের কামানের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পিটানো যায়। এদের এমনভাবে পিটাতে হবে, যেন এদের গতর থেকে, মাথা থেকে, দেশবিরোধী শয়তানী-ভূতটা একনিমিষে নেমে যায়। এই মুখচেনা-শয়তানগুলো বিদেশীরাষ্ট্রের টাকা খেয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের চাকা থামিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষের সুখশান্তি ও অগ্রগতির প্রধান নিয়ামক: মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তি-আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে সস্তা-বাহবা কুড়াতে চায়। এরা বিদেশীদের কেনা গোলাম, কেনা দালাল, আর পোষা-এজেন্ট। এরা এতোই হারামী যে, এরা এদের বিদেশীপ্রভুদের টাকা খেয়ে, তাদের ইঙ্গিতে তাদের পক্ষে দালালি করতেই―আজ এরা এই দেশের নাগরিক হয়েও খোদ বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করছে। এদের সবাইকে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে, প্রকাশ্য-জনসভায় বিচার করতে হবে। তার আগে এদের ধরে অন্তত একদিনের জন্য হলেও গুলিস্তানের ওই কামানের সঙ্গে বেঁধে পিটাতে হবে। মনে রাখতে হবে: এরা যুদ্ধাপরাধীদের বংশধর। এদের ক্ষমা করা মহাপাপ। আর দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া-নস্যাৎ করতেই এরা কথিত ‘জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ-বিদ্যুৎ’ ইত্যাদি রক্ষার কথা বলে এভাবে দিনের-পর-দিন শয়তানী করে যাচ্ছে। কিন্তু, আমরা তো এইসব মেনে নিতে পারবো না। এই দেশের একজন নাগরিক হিসাবে আমরা ওদের শয়তানী চিরতরে বন্ধ করে দেবো, ইনশা আল্লাহ। আর আল্লাহ আমাদের সাহায্য করলে আমরা যেকোনো শয়তানকে মোকাবেলা করতে সদাপ্রস্তুত। তাই, সকল খবিসশয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেই বাংলাদেশটাকে আজ আমাদের রক্ষা করতে হবে। আর দেশের ভিতরে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজসম্পদ-রক্ষার নামে এজাতীয় এই শয়তানীআন্দোলন শুরু করেছে সেই এজিদবংশীয় পাপিষ্ঠসন্তান ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীসন্তান অধ্যাপক-নামধারী বেঅধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও আনইঞ্জিনিয়ার শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ নামক দুই ভয়াবহ-জীবন্ত খবিসশয়তান। আর এই দুই-শয়তানের সঙ্গে রয়েছে আরও কতক খবিসশয়তান। এদের একমাত্র কাজ হচ্ছে: জাতীয় তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজসম্পদ-রক্ষার কথা বলে দেশের ভিতরে একটি ভয়াবহ-গোলোযোগসৃষ্টি করে তাদের পাকিস্তানী-বাবাতো ভাই―যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া-নস্যাৎ করা। তাই, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার যেন শান্তিপূর্ণভাবে তাদের রাষ্ট্রীয় কোনো কাজ করতে না-পারে―সেইজন্য, যা-যা করা দরকার, তারা তা-ই করবে। এই দুইটা শয়তান―আনু মুহাম্মদ ও শেখ শহীদুল্লাহ শয়তানী করতে-করতে একেবারে পেকে গেছে। এদের এখন শয়তানীই ভালো লাগে। এদের সঙ্গে রয়েছে বিবিধ শয়তানীতে পারদর্শী দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত-কতিপয় পুরুষ ও মহিলা অধ্যাপক। এই শয়তানরা, এই চিহ্নিত-শয়তানচক্র, ১৯৭০ সালেও বাঙালি-জাতির মুক্তির প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, ‘নৌকা-মার্কা’য় ভোট দেয়নি। তাই, এরা বংশগতভাবে আজও বাংলাদেশবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাবিরোধী, এবং এরা সবসময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারবিরোধী। এরা কয়েক মাস আগে, কিছুদিন আগে, একাধিকবার পুলিশের সঙ্গে মারামারি করে ‘হিরো’ হতে চেয়েছিলো। এরা ধীরে ধীরে এই শয়তানীপ্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে অপরাজনীতিতে থিতু হতে চাচ্ছে। এরা আসলে, বিএনপি-জামায়াতের বিশ্বস্ত গোলাম এবং পা-চাটা-কুকুর। এই দুই-কুকুর আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-বন্ধ করার জন্যই জাতীয় তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজসম্পদ-রক্ষার নামে এক শয়তানী ‘জাতীয় কমিটি’ গঠন করেছে। বাংলাদেশের সমস্ত শয়তান এখানে একে-একে জড়ো হয়েছে। এদের উদ্দেশ্য জাতীয় তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজসম্পদ-রক্ষা করা নয়। তাদের একমাত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য: যেকোনোভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-বন্ধ করা। তাই, এরা এইভাবে মরীয়া হয়ে, একজোট হয়ে, আন্দোলনের নামে একের-পর-এক বিশৃঙ্খলা ও শয়তানীসৃষ্টি করে চলেছে। কারণ, আমার বিশ্বাস: এই বাংলাদেশের জন্মদাতা-প্রতিষ্ঠাতা: বাংলাদেশআওয়ামীলীগ কখনও কোনো বিদেশী-কোম্পানীর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী-চুক্তি করতে পারে না। তাই, এইসবকিছু এইসব যুদ্ধাপরাধী’র অপপ্রচার ও অসৎ-রাজনীতি। তাছাড়া, এই আনু মুহাম্মদ ও শেখ শহীদুল্লাহকে তৈরি করেছে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কতিপয় বিদেশীদালাল। আর এই বিদেশী-দালালদের ডলার-ইউরো-পাউন্ড-টাকা ইত্যাদি খেতে-খেতে আমাদের দেশের আনু-কানু-চানু-ভানু-শহীদুল্লাহসহ আরও অসংখ্য দালাল আজ একেবারে বেপরোয়া। আর তাই, তারা তাদের বিদেশীপ্রভুদের হুকুম-তামিল করতে আজ একপায়ে খাড়া। আর এজন্যই দেশের ভিতরে তারা একের-পর-এক শয়তানী করে যাচ্ছে। এই-কুকুরদের ধরে প্রকাশ্যে জুতাপেটা করা দরকার, এবং এই শয়তানদের সাংবিধানিকভাবে ‘জাতীয় কুলাঙ্গার’ ও ‘জাতীয় শয়তান’ হিসাবে আখ্যায়িত করে―তা আমাদের ভবিষ্যৎ-বংশধরদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। এর আগেও বাংলাদেশের এই দুই চিহ্নিত-শয়তান―এই দুই ভণ্ড-প্রতারক-বদমাইশ দিনাজপুরের ‘ফুলবাড়ী’ ও ‘বড়পুকুরিয়া’তেও আন্দোলনের নামে নানাবিধ শয়তানী-বদমাইশী করে স্থানীয় এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণের মধ্যে এক ভয়াবহ শয়তানী ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিলো। এদের কাজই হচ্ছে: সবসময় বাংলাদেশের ভিতরে একটা অস্থিতিশীল-অগণতান্ত্রিক-পরিবেশ তৈরি করা। এরা সরাসরি পাকিস্তানের বংশধর-বশংবদ। এদের জন্মই হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লেগে থেকে সবসময় একের-পর-এক শয়তানী-বদমাইশী করে যাওয়া। এরা এই চলমান শয়তানীপথপরিক্রমা থেকে কখনও পিছু হটবে না, সরেও দাঁড়াবে না। এইসব চিহ্নিত-বদমাইশের সঙ্গে আছে এই দেশেরই একশ্রেণীর নাজায়েজ পত্রিকাব্যবসায়ী-পত্রিকাওয়ালা ক্ষিপ্ত-কুকুর। এরা এদের নাজায়েজ-শয়তানী পত্রিকায় এদের―মানে, আনু-কানুদের সম্পর্কে সবসময় প্রশংসাসূচক বড়-বড়-শয়তানী হেডলাইন ও নিউজ পরিবেশন করে থাকে। আর এদের―মানে, আনু-কানুদের মতো চিহ্নিত-শয়তানদের জনগণের সামনে ভালোমানুষ-প্রমাণের বিশেষ-প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকে। অথচ, এরাই, মানে, এই আনু-কানুরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাদানের পরিবর্তে বিবিধ শয়তানীতে মেতে আছে। আর এইভাবে একের-পর-এক দেশবিরোধী-অকাজ করেও এইসব শয়তান নিজেকে এই দেশের বড় ধরনের অর্থনীতিবিদ মনে করে থাকে। যাক, এই শয়তানরাও একদিন শায়েস্তা হবে, ইনশা আল্লাহ।

বাংলাদেশে আছে আরও একটি চিহ্নিত-নাজায়েজ-হারামচক্র। এরা দীর্ঘদিন-যাবৎ আমাদের দেশে মুসলমানের বেশে, মুসলমানের পরিচয়ে, পবিত্র ইসলামধর্মের নামে, কুপরিকল্পিতভাবে সরল-ধর্মপ্রাণ-মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে। এরা এমনই পাপের সন্তান যে, এরা রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করার জন্য আজকাল যেকোনো অন্যায়-অপকর্ম ও নাজায়েজ-হারাম-কাজ করতে পারে। অথচ, এরা এই দেশে দীর্ঘদিন-যাবৎ মুসলমানের পরিচয়ে, সর্বস্তরের সাধারণ মুসলমানদের কুকৌশলে বছরের-পর-বছর, একের-পর-এক, ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে। এরা নিজেদের মুসলমান-দাবি করলেও―আসলে, এরা আমাদের পবিত্র ধর্মমতে―কাফের, মোনাফেক, মোশরেক, ফাসেক, ফুজ্জার, তাগুত ও মুরতাদ। আর এরাই বিধর্মী-বিজাতীয় খবিস, আর একেকজন স্বয়ং ইবলিশ শয়তান। এরা কুকুর-শূয়রের চেয়েও অধম-নিকৃষ্ট। এদের মনুষ্যত্ব, মানবতা, মানবপ্রেম কিংবা ধর্মবোধ―কোনোটাই নাই। এরাই আওয়ামীলীগের বিপুল-জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের শয়তানী জাতীয় সংসদ-নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা-ক্ষুণ্ন করতে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে, এক ভয়াবহ-শয়তানীষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। এরা ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ-নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে সিরাজগঞ্জে’র একজায়গায় নিজেরা একটা কুকুরের মূর্তি বানিয়ে তার মাথায় একটা সাদা-টুপি পরিয়ে রাখে। আর তার নিচে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে লিখে রাখে―প্রচারে: বাংলাদেশআওয়ামীলীগ। এইভাবে, সেদিন, তারা দেখাতে চেয়েছিলো: আওয়ামীলীগ মুসলমানদের দাড়ি-টুপি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করে থাকে। কিন্তু, আসল-সত্য কী? আসলে, ওইসব পাপের সন্তান, আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তায় ধস নামাতেই এই জঘন্য-শয়তানীচক্রান্ত করেছিলো। আর এই শয়তানীচক্রান্তের মূলহোতা ছিল বঙ্গবন্ধুর খুনী খন্দকার মোশতাকের আপন-ভাগ্নে ‘দৈনিক আমার দেশ পাকিস্তান’ নামক জারজপত্রিকার জারজসম্পাদক, রাজাকারসন্তান মাহমুদুর রহমান। এই শয়তানের জারজপুত্র মাহমুদুর রহমান জীবনের শুরু থেকে একইভাবে সবসময় আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে লেগে রয়েছে। এই বেজন্মা মাহমুদুর রহমান ২০০৬ সালের বহুল আলোচিত রাষ্ট্রবিরোধী ‘উত্তরা-ষড়যন্ত্রে’র নায়ক। সে তার কথিত ‘দৈনিক আমার দেশ’ নামক পত্রিকায় সবসময় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনা ও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, আবোলতাবোল, আলতুফালতু, উদ্ভট, কাল্পনিক, আজেবাজে ও ডাহা মিথ্যা সংবাদ ও খবর পরিবেশন করে থাকে। এছাড়াও, তার বাংলাদেশবিরোধী আরও নানারকম ষড়যন্ত্র ও অপকর্মের কোনো শেষ নাই। সেও এজিদবংশীয় নামকাওয়াস্তে এক মুসলমান। সেদিন, তার সঙ্গে এই শয়তানী অপপ্রচারে ও চক্রান্তে আরও শামিল হয়েছিলো একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার, মাওলানা-লকবধারী শয়তানের জারজপুত্র আব্দুল মান্নানের ‘দৈনিক ইনকিলাব’ নামক একটি জারজপত্রিকা। এরাও চিরদিন বাংলাদেশবিরোধী এক ভয়াবহ শয়তানগোষ্ঠী। আর এদের কাজই এইসব শয়তানী করে বেড়ানো। এরা যেকোনো-হীনভাবে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা নষ্ট করার অপচেষ্টা করে থাকে। আর তাই, সেদিন নিজেরা কুকুরের মূর্তি বানিয়ে তার মাথায় টুপি পরিয়ে তা আওয়ামীলীগের নামে প্রচার করার মতো জঘন্য-দুঃসাহস দেখিয়েছিলো। আসলে, এরা নিজেরাই পাগলা-কুকুর। তাই, আওয়ামীলীগের বিপুল-জনপ্রিয়তা দেখে যখন-তখন কুকুরের মতো ক্ষেপে যায়। আর তাই, আওয়ামীলীগকে ঘায়েল করার জন্য তারা বারবার ধর্মকে রাজনীতিতে টেনে আনে, আর পবিত্র ধর্মকে বারবার রাজনীতিতে ব্যবহার করে থাকে। তাই, সেদিন তারা কুকুর নিয়ে রাজনীতির নোংরা-খেলায় মেতে উঠে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে বিরাট আঘাতসৃষ্টি করে আওয়ামীলীগের বিপুল-জনপ্রিয়তায় ভাটাসৃষ্টি করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। বাংলার মানুষ সেদিনও এই শয়তানী বুঝতে পেরে ভোট দিয়েছিলো নৌকা-প্রতীকে। কিন্তু, সেই ভোট, সেদিন আওয়ামীলীগ নিজেদের ঘরে তুলতে পারেনি, সেদিনের রাষ্ট্রবিরোধী, বাংলাদেশবিরোধী, আর পাপিষ্ঠ রাজাকারপন্থী-তত্ত্বাবধায়কসরকার-কর্তৃক চারদলীয়-শয়তানজোটের পক্ষে নগ্নপক্ষপাতিত্বের কারণে। আর এইভাবে, একই প্রক্রিয়ায়, একইপথে, এই পর্যন্ত দেশের তিনটি কথিত তত্ত্বাবধায়কসরকারই আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে থেকে―আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অবস্থানগ্রহণ করে, জাতীয় নির্বাচনপরিচালনা করেছে। ১৯৯১ সালে, সাবেক-প্রধান-অবিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহাম্মদের নেতৃত্বে নবগঠিত: প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন-সরকার, আওয়ামীলীগের সঙ্গে কুকৌশলে ও কূটকৌশলে নির্বাচনী-খেলা খেলেছে। আর এতে সরাসরি পরাজিত হয়েছে: আওয়ামীলীগ। ১৯৯৬ সালে, সাবেক-প্রধানবিচারপতি হাবিবুর রহমান কিছুটা দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনীকার্যক্রমসম্পন্ন করলেও সে কারও প্ররোচনায় বিজয়ী-দল হিসাবে আওয়ামীলীগকে সরকারগঠনের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে। এইসময় আওয়ামীলীগের ঐতিহাসিক-বিজয় ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিলো আমাদের এই দেশেরই একটি চিহ্নিত-রাজাকারগোষ্ঠী। আর ১৯৯৬ সালে, ২১বছর পর আওয়ামীলীগ সরকার-গঠন করে সবচেয়ে বড় যে-ভুলটি করে তা হলো: তারা ভুলমানুষ-শাহাবুদ্দীনকে দেশের প্রেসিডেন্ট বানায়। তাই, এই ভুল তারা যেন আর কোনোদিন না-করে। মহান আল্লাহ তাদের সেই তওফিক দিন। আর ২০০১ সালের চিহ্নিতযুদ্ধাপরাধী-রাজাকারগোষ্ঠীর শয়তানী-দেশবিরোধী তত্ত্বাবধায়কসরকার নির্বাচনের অনেক আগেই ছক কাটে, পরিকল্পনা করে, কীভাবে আওয়ামীলীগকে এবার রাষ্ট্রীয়-ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা যায়। তাদের শয়তানীপরিকল্পনা সফল হয় দেশের সকল ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী’ যুদ্ধাপরাধীচক্রের শয়তানী-গোপন-ষড়যন্ত্রে। এই নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয় আমাদের আওয়ামীলীগকে। কিন্তু, রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়―সেই চারদলীয় ইসলামবিরোধী ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী’রাজাকারজোট। ২০০১ সালের এই শয়তানীনির্বাচনপরিচালনা করেছিলো হাওয়া-ভবনের একজন এজেন্ট-পরিচালক ও বিচারপতি-নামধারী অবিচারপতি শয়তানপুত্র লতিফুর রহমান। আর দেশের তৃতীয় তথাকথিত-তত্ত্বাবধায়কসরকার গঠিত হয় অনেক জল্পনা-কল্পনার পর অনেক বিলম্বে। এই তত্ত্বাবধায়ক-সরকারের গঠন নিয়ে বিএনপি কয়েক মাস-যাবৎ নানান টালবাহানা ও শয়তানী শুরু করলে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে যায়। তখন, আমাদের দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গঠিত হয়: সামরিক-তত্ত্বাবধায়কসরকার। এদের অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি আছে। পরে যেকোনো একসময় এতদসম্পর্কে তোমাদের কাছে বিস্তারিত এর সবকিছু বলবো। তবে ভুলত্রুটি যাই থাকুক না কেন―এই তত্ত্বাবধায়ক-সরকারের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে: দেশের প্রাপ্তবয়স্ক সব মানুষের জন্য আধুনিক ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’ বা ডিজিটাল ভোটার-আইডি-কার্ড তৈরি করা, বিএনপি-জামায়াত-সরকারের অসৎউদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিত: ‘এক-কোটি তেইশ-লক্ষ’ ভুয়া-ভোটার বাতিল করা, এবং বিএনপি-জামায়াতের বিনা-বাধায় দেশের সংখ্যালঘু-সম্প্রদায়কে ভোটদানের অধিকারনিশ্চিত করা। দেশের প্রতিটি তত্ত্বাবধায়ক-সরকারই আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু, ২০০৮ সালের ২৯-এ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ-নির্বাচনে মহান আল্লাহ, বাংলাদেশকে ও আওয়ামীলীগকে রক্ষা করেছেন। তাই, দেশের চিহ্নিত-রাজাকারগোষ্ঠী ও এদের দোসরদের কালোহাত থেকে আমাদের সবসময় সাবধানে থাকতে হবে। আর সবসময় চোখ-কান খোলা রেখে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতিটি নেতা-কর্মীকে সজাগ থেকে, অতন্দ্র প্রহরীর মতো কর্মতৎপর থাকতে হবে। তাই, যেকোনো ষড়যন্ত্র হোক-না-কেন, ইনশা আল্লাহ, আমরা সফল হবোই। কিন্তু, আমাদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে। কারণ, এদের শয়তানী কখনও শেষ হবে না। এদের বিবিধ শয়তানী-সম্পর্কে আজ-না-হোক আগামীকাল, কিংবা পরশু, কিংবা তরশু, আমি আরও বিস্তারিতভাবে তোমাদের কাছে বলবো। এইসব কথা শুনে তোমাদের কিন্তু সবকিছু মনে রাখতে হবে। আর তা দেশের নতুন-প্রজন্মের কাছে, এদের এহেন, সমস্ত শয়তানীর কথা বলে দিয়ে তাদের খুব সর্তক করে দিতে হবে, যেন তারা কেউ-ই এইসব চিহ্নিত-জাহেলের খপ্পরে পড়ে―এদের দলে ভিড়ে না যায়। আর মনে রেখো: এই পৃথিবীতে এখন যতো-রকমের শয়তানী আছে, এইসব শয়তান তার সবই আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করবে। তাই, দেশের স্বার্থে আওয়ামীলীগকে সবসময় দিনরাত-চব্বিশঘণ্টা এদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। আর আওয়ামীলীগের একেকজন নেতা-কর্মীকে, তৃণমূল-পর্যায়ের কর্মী ও নেতৃবৃন্দকে―সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীদের মতো চব্বিশঘণ্টা সজাগ থাকতে হবে। যাতে, আমাদের দেশে আর কখনও এইজাতীয় দেশবিরোধী-ধর্মব্যবসায়ী শয়তানগোষ্ঠী ও পাপিষ্ঠচক্র কোনোদিক দিয়ে কোনোভাবে যেন আমাদের ভিতরে ঢুকে কোনো-রকমের শয়তানী করতে না-পারে। আর মনে রাখবে: আমাদের এই দেশে, এই চিহ্নিত-রাজাকারগোষ্ঠী, সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠী, ধর্মব্যবসায়ীগোষ্ঠী, যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী, আর এজিদবংশীয় ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদীগোষ্ঠী’ একই অপশক্তি, এবং এরা সেই ‘বাতিল-কুফরী-আকিদাহপন্থী’গোষ্ঠী-গুষ্টি। তাই, এরা সবসময় প্রকৃত মুসলমানদের পিছনে লেগে থাকে, এবং সবসময় প্রকৃত মুসলমানদের পিছনে এভাবে লেগেই থাকবে। কিন্তু, এতে আমাদের বিচলিত না-হয়ে মহান আল্লাহর নামে সাহসের সঙ্গে, ঈমানের সঙ্গে, ধৈর্যের সঙ্গে, বুদ্ধির সঙ্গে ও দৃঢ়তার সঙ্গে―এইসব-শয়তানী আমাদেরই মোকাবেলা করতে হবে। ইনশা আল্লাহ, আমরাই জয়ী হবো। আমরা যদি এই দেশটাকে ভালোবাসি, আর বাংলাদেশআওয়ামীলীগকে ভালোবাসি―তাহলে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘাপটি-মেরে থাকা কোনো-শয়তান আমাদের কোনো-ক্ষতি করতে পারবে না। ইনশা আল্লাহ, আমরা সফল হবোই। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।”
আবু কায়েস অবাক হয়ে বললো, “স্যার, এই বাংলার আসল-ইতিহাস আপনাকে আজ থেকে নতুন করে লিখতে হবে। আর সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয়-বিষয়ে আপনার যৌক্তিক মতামত সকলের কাছে তুলে ধরতে হবে। আমার মন বলছে: আপনিই পারবেন, এই বাংলাকে সমস্ত শয়তানী থেকে মুক্ত করতে। আপনি, আজ আমাদের মাঝে জ্ঞানের চক্ষু খুলে দিয়েছেন। আমরা যেন এতোদিন অন্ধ হয়ে ছিলাম। আজ আমি একজন মুসলমান হিসাবে আমার বংশ চিনে নিতে পেরেছি। কিন্তু, আমি চাই: এই দেশের সব মুসলমান তার বংশধারা চিনে সত্যিকারের মুসলমান হোক। তারা ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদীদের খপ্পর থেকে আজই বেরিয়ে আসুক। আমার আর সহ্য হচ্ছে না, স্যার, আমার এখন ইচ্ছে করছে, বাংলাদেশের সব মানুষকে এইসব-সত্যকথা জানাতে। আর এতোদিন ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী ‘বাতিল-কুফরী-আকিদাহ’র লোকগুলো আমাদের সর্বনাশ করেছে। আজ থেকে সেই-পথ বন্ধ হয়ে গেল, স্যার। আমি আপনার সঙ্গে থেকে বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে তার বংশ চিনে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ-সংবাদ পৌঁছে দেবো। আর কোনো মুসলমানকে ঠকতে দেবো না। আর কোনো মুসলমানকে জেনেশুনে এই ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী’ভাইরাসদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে অধর্ম করতে দেবো না। ইসলামের ভিতরে এজিদীয়-ত্বরীকার সর্বনাশা এক-ভাইরাস ঢুকেছে। এই ভাইরাসের নাম―‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদ।’ এরসঙ্গে আরও যুক্ত হয়েছে ভারতীয়-উপমহাদেশের বিরাট ফিতনাবাজ ‘দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা’র দেওবন্দীফিতনাসমূহ। আজ থেকে আমাদের অ্যান্টি-ভাইরাস হয়ে, ওদের বিরুদ্ধে কাজে নেমে পড়তে হবে। বাংলার মানুষ, বাংলার মুসলমান, ওই ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদী’দের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে আর ঈমানহারা-ধর্মহারা হতে চায় না। ওদের বিরুদ্ধে আমাদের সর্বাত্মক প্রতিরোধ-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। এবার আমাদের জয় সুনিশ্চিত, ইনশা আল্লাহ!”

রায়হান কবিরও স্মিতহাস্যে বললো, “আজ থেকে আমিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলাম যে, এখন থেকে শুধু চাকরি নয়―এই দেশটার কথাও একটুখানি আমাদের ভাবতে হবে। তাই, আজ দেশসেবার কঠিন শপথ নিলাম। আর এই দেশ থেকে―মানে, আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে ও আমাদের পবিত্র ইসলামধর্ম থেকে আমাদের সবার একমাত্র, প্রধানতম ও চিরশত্রু: শয়তানী ‘ওহাবী-খারিজী-দেওবন্দী-মওদুদীবাদীদের’ সমূলে উৎখাত করবো, ইনশা আল্লাহ।”

আর অধ্যাপক লিটু মিয়া ওদের কথা শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে শুধু বললেন, “আমীন! আল্লাহুম্মা আমীন! ছুম্মা আমীন। জয়-বাংলা।”


(চলবে)

সাইয়িদ রফিকুল হক
২৮/০৭/২০১৮
(রচনাকাল: ২০১১ খ্রিস্টাব্দ)

glqxz9283 sfy39587p07