ধারাবাহিক উপন্যাস: শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ (প্রথম খণ্ড—প্রথম পর্ব) | amarblog.com: Bangla Blog ( আমারব্লগ ) with no Moderation.

Skip to content

ধারাবাহিক উপন্যাস: শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ (প্রথম খণ্ড—প্রথম পর্ব)

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



ধারাবাহিক উপন্যাস:
শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ
(প্রথম খণ্ড—প্রথম পর্ব)
সাইয়িদ রফিকুল হক

অধ্যায় এক

৪ঠা এপ্রিল, ২০১১ খ্রিস্টাব্দ। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
আজ আবার কীসের হরতাল? আবু কায়েস তা মনে করতে পারছে না। তার মনে হলো: আজ তো এই দেশের কোনো মানুষ হরতাল ডাকেনি। তাহলে, হরতাল ডাকলো কে-বা-কারা? নাকি পশুরা?

ফজরের নামাজ আদায় করে আজ খুব একটা পবিত্র মন নিয়ে বাসার বারান্দায় এসে দাঁড়ালো আবু কায়েস। হঠাৎ সে দেখতে পেলো, তাদের বাসার সামনের রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি-পরিহিত কতকগুলো ছেলে-ছোকরা। আবার তাদের মাথায় টুপি, আর মুখে দাড়ি। তাদের প্রত্যেকের একহাতে কুরআনশরীফ, আরেক হাতে গজারির লাঠি। তাদের চেহারা দেখে আবু কায়েসের মনে হলো: এরা বিশ্বকুখ্যাত কোনো সন্ত্রাসীদলের সদস্য হবে।

আর আবু কায়েসের মনে হলো: এরা কোনো মুসলমান নয়। কিন্তু, এদের হাতে কুরআনশরীফ কেন? এইসব শয়তান, হাতে কুরআনশরীফ নিয়ে কী করছে? তার মাথায় এই একইচিন্তা বারবার ঘুরপাক খেতে লাগলো। কুরআনশরীফ থাকবে মানুষের হাতে। কুরআনশরীফ থাকবে মুসলমানের হাতে। কিন্তু, এই শয়তানগুলো কোন্ বদমতলবে আমাদের পবিত্র কুরআনশরীফ হাতে নিয়েছে? শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ! শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ কেন? আমাদের কুরআনশরীফ শয়তানের হাতে কেন? কেন? কেন? কেন? কেন? কেন? কেন?...
একটু পরে, এই ছোকরাগুলো সমস্বরে কয়েকবার নারায়ে তাকবীর... হরতাল! হরতাল! হরতাল!... বলে চেঁচিয়ে উঠলো।

আবু কায়েস আরও অবাক হলো: আজ আবার হরতাল কীসের? এখন দেশে কী সুন্দর একটা বিশ্বকাপ-ক্রিকেট-খেলা চলছে। এখন হরতাল কেন? কেন? কেন? এমন একটা গুরুতর প্রশ্ন আবু কায়েসের মনে বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে। সেইসঙ্গে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তাকে ভাবনায় ফেলে দেয়: শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ কেন? এই পৃথিবীতে এতো-এতো মানুষ থাকতে, মুসলমান থাকতে, শয়তানের হাতে পবিত্র কুরআনশরীফ কেন? হঠাৎ তার প্রচণ্ড-জিদে চিৎকার করে বলে উঠতে ইচ্ছে করছিলো: পৃথিবীতে মানুষ থাকতে, মুসলমান থাকতে, শয়তানের হাতে কুরআনশরীফ কেন? হে পৃথিবীর মানুষ, তোমরা কি এখনও বসে থাকবে? শয়তান আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হাতে নিয়েছে, আর আমাদের পবিত্র ধর্ম নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করেছে। কিন্তু, তোমরা আর কতোদিন শয়তানকে এভাবে সুযোগ করে দেবে? আমরা থাকতে শয়তান আমাদের কুরআনশরীফ হাতে নিয়ে এর অমর্যাদা করবে কেন? শয়তান কেন আমাদের কুরআনশরীফ হাতে নিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাস্তায় নামবে? কেন? কেন? কেন? কেন? কেন? কেন? কেন?...

আজকে তার কলেজে-আরেকটা অফিসে জরুরি কাজ আছে। তাই, ফজরের নামাজ পড়েই আবু কায়েস তাড়াতাড়ি কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কলেজের কাজ শেষ করে সে প্রেসক্লাবে যাবে। সেখানে, আরেকটা অফিসে সে পার্টটাইম কাজ করে। কাজ না করলে তার চলবে না। সে প্রাইভেট কলেজের শিক্ষক। বেতন পায় নামকাওয়াস্তে। আর বেতনের টাকা বাসাভাড়া দিতেই শেষ হয়ে যায়। বেতনের সব টাকা চলে যায় বাড়িওয়ালার হাতে। আর সারা মাসের খাবার-জোগাড় করতেই তাকে আরেকটা কাজ করতে হচ্ছে। এই দেশে আগে ছিল: এক ভয়াবহ জালেম-সরকার। তারা নিজেদের স্বার্থে এই দেশটাকে শুধু শোষণই করেছে। আর এখন, এই দেশে আছে গণতান্ত্রিক সরকার-জনগণের সরকার-আমাদের সরকার-মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার। তবুও বেসরকারি-শিক্ষকদের জন্য এই দেশে আজ বিশেষভাবে প্রয়োজন―শিক্ষকবান্ধব দরদী-সরকার। একবার বঙ্গবন্ধু’র আমলে শুধু চৌত্রিশ-কি-পঁয়ত্রিশ হাজার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের চাকরি সরকারি করা হয়েছিলো। আর এখানেই সবকিছু থেমে গেছে। এখন আবু কায়েসের মতো হাজার-হাজার শিক্ষক আজ বৈষম্যের শিকার। অথচ, এই দেশ রক্তক্ষয়ীমুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতালাভ করেছে। আর মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল: সর্বপ্রকার শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজপ্রতিষ্ঠা করা। তবুও একজন আবু কায়েস আজ স্বপ্ন দেখে: এই দেশের প্রতিষ্ঠাতা-জন্মদাতা আওয়ামীলীগ একদিন বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষকদের দিকে মুখতুলে তাকাবে। আর বর্তমান বাংলাদেশআওয়ামীলীগ-সরকার ইচ্ছা করলেই দেশের সকল বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য পূর্ণ-সরকারি সুযোগ-সুবিধাপ্রদান করতে পারে। আর এই দেশে একমাত্র আওয়ামীলীগ ছাড়া তাদের চাকরি সরকারিকরণ কিংবা জাতীয়করণ করবে আর কে? তাই, আজ একজন অধ্যাপক আবু কায়েসসহ বাংলাদেশের এইরকম হাজার-হাজার আবু কায়েস আওয়ামীলীগের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
রাস্তায় নেমে আবু কায়েস হাঁটতে-হাঁটতে এইসব বিষয়ে ভাবছিলো। আহা! বঙ্গবন্ধু যদি এখন বেঁচে থাকতেন―তাহলে, সে সরাসরি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বলতে পারতো: ‘বঙ্গবন্ধু, আমাদের চাকরিটা একেবারে সরকারি করে দিন। আমরা তো এই দেশেরই লোক। পুরুষানুক্রমে-বংশানুক্রমে আমরা বাংলাদেশের সমর্থক। আর আমরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনায় বিশ্বাস করি। আমরা বড় কষ্টে আছি। এখন প্রায় সবাই আমাদের শুধু মিথ্যা-আশ্বাস দেয়। আর ক্ষমতায় যাওয়ার পরে প্রায় সবাই আমাদের কথা ভুলে যায়। আজকালকার দিনের এই বাংলাদেশে কেউ হয়তো বিশ্বাস করতে চাইবে না, আর শুনলে সবাই অবাক হবে যে, আমরা, বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীগণ প্রতিমাসে বাড়িভাড়াবাবদ সরকারের কাছ থেকে মাত্র একশ’ টাকা পাই!’ এইসব ভাবতে-ভাবতে আবু কায়েস শ্যামলী চলে এলো। তারপরও সে ভাবতে লাগলো: ‘আহা! আজ যদি সিংহপুরুষ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন!’
এখান থেকে আবু কায়েসের কলেজ খুব একটা দূরে নয়। সে আবার মনোযোগ দিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলো।
রিক্সা নেওয়ার পক্ষপাতী সে নয়। কারণ, সে ভেবে দেখেছে: রিক্সায় চড়লে অনেক ক্ষতি। আর রিক্সায় না চড়লে জীবনে অনেক লাভ। প্রথমত; রিক্সায় না চড়ে আধাঘণ্টা কিংবা একঘণ্টা হাঁটলে শরীরের অনেক বড় ব্যায়াম হয়। দ্বিতীয়ত; এতে চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি হয়। কারণ, হাঁটতে-হাঁটতে জীবনসম্পর্কে ভাবা যায়। তৃতীয়ত; এতে অর্থও বেঁচে যায়। তাই, আবু কায়েস সহজে রিক্সায় চড়ে না। সে নিয়মিত এই আমল চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাকে এই আমল শিখিয়েছেন, তার জীবনের একমাত্র গুরু: অধ্যাপক এ.কে.এম.আর.এইচ. লিটু মিয়া। আবু কায়েস তাকে খুব মান্য করে। আর সে মনে করে: প্রতিটি মানুষের জীবনে একজন গুরু থাকা আবশ্যক। আর এটি সবসময়ে আবশ্যিক বিষয়। আর সবার জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে—তাই, জীবনকে পরিপূর্ণভাবে সাজাবার জন্য একজন গুরু থাকা অত্যাবশ্যক। আর আবু কায়েস তার মনের মতো সেই গুরু খুঁজে পেয়েছে। অধ্যাপক লিটু মিয়াই তার জীবনগুরু।
গুরু-শিষ্য একই কলেজে অধ্যাপনা করছে। কিন্তু, আবু কায়েস সবসময় মনে রাখে যে, তিনি তার গুরু। তার জীবনে যেকোনো সমস্যা-তৈরি হলে সে তার গুরুর শরণাপন্ন হয়। জীবনে ছোটো-বড় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আবু কায়েস তার গুরুর পরামর্শ-গ্রহণ করে থাকে।
কলেজে পৌঁছুতে আবু কায়েসের বেশি সময় লাগলো না। শ্যামলী থেকে হাঁটা শুরু করে সে মাত্র দশ-মিনিটের মধ্যে কলেজে পৌঁছে গেছে। তার হাঁটায় গতি আছে।
কলেজে পৌঁছে শিক্ষক-মিলনায়তনে ঢুকে আবু কায়েস দেখলো, কেউ-কেউ ক্লাস না নিয়ে আড্ডা জমিয়েছে। এটা আবু কায়েসের ভালো লাগলো না। তার মনে হলো: এরা হয়তো বাংলাদেশকে পুরাপুরি ভালোবাসে না।
সে কিছু-একটা বলার আগেই তাকে দেখে কেউ-একজন বলে উঠলো, “আজ হরতালের দিনে আপনি আবার কষ্ট করে আসতে গেলেন কেন? বাসায় থাকতেন! সেই-তো ভালো ছিল।”
আবু কায়েস কিছু বলার আগেই আরেকজন শিক্ষক বললো, “বাসায় থাকবে কি! উনার বাসায় কেউ থাকলে তো উনি বাসায় থাকবেন! বেচারা, ব্যাচেলর মানুষ। একা-একা বাসায় বসে কী করবে? তাই, হরতাল-টরতাল না-মেনে এখানে আসাই ভালো মনে করেছে। তাছাড়া, এতিমের মতো বাসায় পড়ে থেকে লাভ কী?”

আবু কায়েস যে রীতিমতো বিবাহিত এবং তার যে একটি কন্যাও আছে, তা এরা এখনও পর্যন্ত জানে না। সে ইচ্ছে করেই এদের কাছে নিজে থেকে এইসবকিছু বলেনি, কিংবা এইসব-কথা বলার কোনো প্রয়োজনবোধ করেনি। তাই, তারা মনগড়াভাবে ধরে নিয়েছে, সে বিবাহ করেনি। আর তাকে নিয়ে তাদের প্রতিদিনের এই ঠাট্টা-মশকরা চলছে। আবু কায়েস এই কলেজে এসেছে বছর পাঁচেকের বেশি হলো। কিন্তু, সে সবার সঙ্গে এখনও ভালোভাবে মিশতে পারেনি। সে দেখেছে, সকলেই তার বন্ধু হওয়ার যোগ্য নয়। অনেকেই শুধু খেয়ে-পরে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চায়। কায়েস তাদের মতো হতে পারবে না কখনও। তবে কলিগদের এই ঠাট্টা-মশকরা সে প্রাণভরে উপভোগ করে।
তাদের কথা শুনে আবু কায়েস হাসলো। তারপর ধীরেসুস্থে একটা চেয়ার টেনে কলিগদের পাশে বসে বললো, “আজ আবার হরতাল কীসের? কে ডেকেছে এই হরতাল? আর হরতাল ডাকার উদ্দেশ্যটাই বা কী? কেন আজকের এই শয়তানীহরতাল?”
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক রায়হান কবির বললো, “এই হরতালের কোনো উদ্দেশ্য নাই। দেশে নাকি ইসলামধর্ম নেই! কুরআনশরীফ নাকি উঠে যাচ্ছে! তাই, কুরআনশরীফ বাঁচাতে, ইসলামধর্মকে রক্ষা করতে, ওই স্বঘোষিত-মুফতী ফজলুল হক আমিনী ওরফে বজলুল হক কামিনী-নামীয় এক মৌলোভী আজকের এই হরতাল ডেকেছে। কেন, আপনি কি সত্যি-সত্যি আগে থেকে এই হরতালের কথা জানতেন না? নাকি এখন হেঁয়ালি করছেন?”
আবু কায়েস একটুখানি হেসে বললো, “না, সত্যি, আমি আজকের এই তথাকথিত-হরতালের কথা জানতাম না। এইসব বিষয় নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু, আমি তো রাস্তা দিয়ে আসার সময় দেখলাম, সবধরনের গাড়িই চলছে। তাহলে, হরতাল হচ্ছে কোথায়? আর সবচেয়ে বড় কথা: ওই তথাকথিত-মুফতীকামিনী নামের জগতকুখ্যাতশয়তান হরতাল ডেকে মিথ্যা দম্ভোক্তি করেছে যে, আজ নাকি দেশের সমস্ত মানুষ এই হরতালকে সমর্থন করেছে। কিন্তু, আমি তো কলেজে আসার সময় দেখলাম, ঢাকা-শহরের সমস্ত মানুষ নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। তারা যার-যার কাজে যাওয়ার জন্য রাস্তায় নেমেছে। কেউ-তো হরতালপালন করছে না। মুফতীকামিনীশয়তানের কথায় কেউ বাড়িতে বসে নেই। সবাই যার-যার কাজ করছে। বাস চলছে। মিনিবাস চলছে। সিএনজি-গাড়ি চলছে। দোতলা-বাস চলছে। দামি-দামি সিটিং গাড়িগুলো পর্যন্ত চলছে। ট্রাক চলছে। আর রিক্সা-ভ্যানগাড়ি চলাচলের তো কোনো হিসাব নেই। সবকিছুই তো আগের মতোই চলছে। আর খুব অবাক হলাম যে, প্রাইভেট-কারগুলো পর্যন্ত আজকে চলছে। রাস্তাঘাটে মানুষের ভিড় লেগে আছে। মানুষকে গাড়ির জন্য অপেক্ষমাণ দেখতে পেলাম। নারী-পুরুষ সমানে বাসে উঠছে, আর নামছে। আর যে-যার গন্তব্যে যাচ্ছে। এমনকি ঢাকার সব স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা পর্যন্ত আজ খোলা রয়েছে। তাহলে, হরতাল হচ্ছে কোথায়? এবার বুঝেছি, হরতাল পালিত হচ্ছে―ওই মুফতীকামিনী ওরফে জালেমশয়তানের মনের মধ্যে। সে মনে-মনে নিজে-নিজে হরতালপালন করছে। আর তার মতো শয়তানের সঙ্গে রয়েছে―কতকগুলো দেশদ্রোহী ঘাতক-জল্লাদ-বেঈমান। এরা মক্কার আবু জেহেল-এর প্রকৃত উত্তরসূরী। এরা মুফতীকামিনীকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু, এদের সংখ্যা আর কতো? এই দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও ইসলামের অনুসারী। এখানে, ওই মুফতীকামিনীর মতো ধর্মহীন কাফের-মোনাফেক-মোশরেক-জালেম-জাহেল-বদমাইশদের কোনো স্থান নাই। আর সবচেয়ে বড় কথা: এইরকম একটা প্রথম-শ্রেণীর শয়তান ও বদমাইশ হরতাল ডাকার সাহস পায় কোত্থেকে? বলি, দেশে কি এখন সরকার নাই? নিশ্চয় দেশে সরকার আছে। আর দেশে সরকার থাকলে এই কুকুরটাকে শায়েস্তা করতে পারে না? এই সরকারকে আরও বেশি দায়িত্বশীল এবং আরও বেশি কঠোর হতে হবে। আর তাই, যে-সে হরতাল ডাকলেই তাকে ছাড় দেওয়া যাবে না। এজাতীয় কাফেরদের পিটাতে-পিটাতে একেবারে সেই আন্দামান-দ্বীপপুঞ্জে নিয়ে ফেলতে হবে। এই বাংলাদেশে এদের স্থান হবে না। এরা বাংলাদেশরাষ্ট্রকে জন্মলগ্ন থেকে স্বীকার করেনি, বাংলাদেশকে কখনও মানেনি, বাংলাদেশকে কখনও সামান্যও ভালোবাসেনি এবং বাংলাদেশের জন্য কিছুই করেনি। আর তারা শুধু মুখে-মুখে নামকাওয়াস্তে বাংলাদেশকে মেনেও এখনও পাকিস্তানপ্রেম ছাড়েনি এবং এরা এখনও বাংলাদেশকে নিজের মাতৃভূমি-জন্মভূমি কিংবা একান্ত-আপনস্বদেশ মনে করে না। তাই, এইজাতীয় জানোয়ারদের এখনই দেশ থেকে বের করে দিতে হবে। এরা এই দেশের কে যে, এদের কথা আমাদের মানতে হবে। তাছাড়া, এরা কথায়-কথায় ধর্মের কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা-হাসিল করার সহজপন্থা খুঁজে নিতে চায়। তাই, কিছু হলেই তারা কিছু না-বুঝে, ভাঙ্গা-রেকর্ড-বাজানোর মতো করে কুরআনরক্ষার নামে নিজেরা ভয়াবহ সন্ত্রাসসৃষ্টির সুযোগ খুঁজে বেড়ায়। এরা সবসময়ের জন্য ভয়াবহ কালসাপ। এদের আর ক্ষমা করা ঠিক হবে না।”
রায়হান কবির মৃদু হেসে বললো, “আপনার কথাই ঠিক। এদের সাহস দিন-দিন এতো-এতো বেড়ে যাচ্ছে যে, এরা সবসময় মনে করে: এরাই শুধু মুসলমান! আর বাকী সবাই ধর্মপালন করে না। এদের স্পর্ধার সীমা দিন-দিন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ঠিকই বলেছেন, এদের আর ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না।”
আবু কায়েস বললো, “এই যে কতকগুলো শয়তান, কুরআনরক্ষার দাবিতে মনগড়া-কথিত হরতাল-সন্ত্রাস ডেকেছে। এরা কি আসলে কুরআন পড়ে, কিংবা কুরআন বোঝে, কিংবা কুরআন জানে, কিংবা কুরআন মানে? আমার মনে হয়: এরা কেউই কুরআন পড়েও না এবং কুরআন বোঝেও না। আর এরা কুরআন মানেও না এবং কুরআনসম্পর্কে কিছুই জানে না। তাই, এরা শুধু রাজনৈতিক স্বার্থহাসিলের জন্য, বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতার জন্য, রাজপথে নেমে ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলাসৃষ্টি করছে। যে-ব্যক্তি ধর্ম বোঝে, সে কখনও অধার্মিকের মতো কাজ করতে পারে না। এরা কেউই ধার্মিক কিংবা মুসলমান নয় বলেই এইজাতীয় শয়তানী-বাঁদরামি-ইতরামি করতে পারে। তাছাড়া, ভেবে দেখুন তো একবার, এই কামিনীশয়তান বলেছে, ‘দেশে নাকি কুরআন-হাদিস নেই। দেশে নাকি ইসলাম নেই।’ আসলে কি তাই? আমি তো সকালে ফজরের নামাজ পড়েছি। জিকির করেছি। তাসবিহ-তাহলিল করেছি। প্রতিদিনের ওজিফাপাঠ করেছি। দরুদশরীফপাঠ করেছি। আর দেশে এখন সবাই যার-যার ধর্মপালন করতে পারছে। আর ধর্মপালনে কারও কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তাহলে, অসুবিধা কোথায়?”
রায়হান কবির বললো, “আমি প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও কুরআন-তিলাওয়াত করেছি। দেশে তো কুরআন আছে। হাদিস আছে। কুরআন-হাদিস না থাকলে আমরা কুরআনপাঠ করলাম কীভাবে? আসলে, এরা একদম বিজাতীয় শয়তান। হারামজাদার চেয়ে যদি বড় কিছু থাকে―তাহলে, এরা সেই বিজাতীয় কিছু। এদের মানুষ বললে ভুল হবে। এরা সেই ১৯৪৭ সাল থেকে, সেই ১৯৫২ সাল থেকে, সেই ১৯৬৮ সাল থেকে, সেই ১৯৬৯ সাল থেকে, আর সেই ১৯৭১ সাল থেকে, পাকিস্তানকে বাপ ডাকতে-ডাকতে এদের পাকিস্তানী-বাপের মায়া আর ছাড়তে পারছে না বলেই―মাঝে মাঝে ইসলাম গেল! ইসলাম গেল! কুরআন বাঁচাও! ইত্যাদি বলে চেঁচামেচি করে। আর এভাবে, লোকদেখানো ধর্মপ্রীতির আস্ফালন করে নিজেদের ইমেজবৃদ্ধি করতে চায়।”

তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় মশগুল হয়েছিলো। এমন সময় তাদের কাছে এসে দাঁড়ালেন অধ্যাপক লিটু মিয়া। তিনি কাছে আসতেই তারা দু’জন উঠে দাঁড়ালো। লিটু মিয়া তাদের বসতে বলে নিজেও একটা চেয়ারে বসে পড়লেন। তারপর তিনি ওদের কাছে জানতে চাইলেন―“তোমরা কী নিয়ে আলোচনা করছিলে?”
আবু কায়েস কিছু-একটা বলার আগেই রায়হান কবির বললো, “ওই যে কামিনী না ভামিনী নামের একশয়তান আজ আবার হরতাল ডেকেছে, সেই প্রসঙ্গে আমরা কথা বলছিলাম। আর আসল কথা কি স্যার, ওর শয়তানী নিয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম।”
লিটু মিয়া হেসে বললেন, “খুব ভালো কথা। শয়তান, আর তার শয়তানী নিয়ে গভীর আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কারণ, আমাদের পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এই পৃথিবীতে আগেও শয়তান ছিল, আর এখনও শয়তান আছে। আর শেষবিচারের দিন পর্যন্ত শয়তান থাকবে। তারপর মহান আল্লাহর বিচারে শয়তান চিরজাহান্নামে চলে যাবে। আর এখানেই শয়তানের রাজনীতির সার্থকতা যে, শয়তান এই দুনিয়ায় খুবই বাহাদুরী করার দুর্লভ সুযোগ পাবে। কিন্তু, পরকালে সে হবে: গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল―ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। তাই, শয়তানকে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। আর আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে: পৃথিবীতে শয়তান আছে এবং শয়তান থাকবে। আর সবসময় শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আমাদের বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু, আশার কথা যে, শয়তান আমাদের সঙ্গে পারবে না। তাই, নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে সবসময় শয়তানের কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। আমরা খাঁটি মুসলমান এবং খাঁটি মানুষ হলে শয়তান আমাদের পায়ের নিচে গড়াগড়ি খাবে। আর শয়তান আমাদের মুত খেয়ে জাহান্নামে চলে যাবে।”
তারপর তিনি একটুখানি থেমে বললেন, “এখন আসা যাক, আসল আলোচনায়। আমরা কেউই আসল শয়তানকে―মানে, সেই বিখ্যাত-কুখ্যাত-আলোচিত ইবলিশ-শয়তানকে দেখিনি। আর কেউ কি দেখেছি?”
এইচ.এস.সি.-প্রোগ্রামের ফার্স্ট-ইয়ারে পড়া ছাত্রদের মতো রায়হান কবির ও আবু কায়েস একসঙ্গে বললো, “জ্বি-না-স্যার।”
লিটু মিয়া বললেন, “আমিও সেই ইবলিশ-শয়তানকে আজ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখিনি। কিন্তু, তার অনুসারীদের দেখেছি। আদি-আসল শয়তানকে সহজে দেখা যাবে না। তাই, সরাসরি ইবলিশ-শয়তানকে দেখা না গেলেও―তার কাছ থেকে যারা খিলাফাতপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের কিন্তু আমরা অতিসহজেই প্রায় প্রতিদিন দেখতে পারি। এই ইবলিশ-শয়তানেরও কিন্তু একটা বিশ্বসরকার আছে। আর সে জমিনে আমাদের মতো চেহারার মানুষদের মধ্য থেকে, তার দৃষ্টিতে একেকটা পাপীকে―যোগ্য সেনাপতিকে বাছাই করে। তারপর তাদের নিয়ে গঠিত হয় তার শয়তানী-সাম্রাজ্যবিস্তারের জন্য শয়তানীসরকার। পৃথিবীর সকল দেশে শয়তানের শয়তানীশক্তিবৃদ্ধির জন্য একটি করে সরকার রয়েছে। বাংলাদেশেও ইবলিশ-শয়তানের একটি শক্তিশালী-সরকার গঠিত হয়েছে। এই শয়তানী-সরকারের প্রধান হচ্ছে: আজকের হরতাল-আহ্বানকারী মুফতী কামিনী-ভামিনী। অদৃশ্যভাবে তার শয়তানীশক্তিবৃদ্ধির জন্য সে একইসঙ্গে এই শয়তানী-সরকারের একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। পরে এই শয়তানী-সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এখন শুধু এই পর্যন্তই শুনে রাখো। আর একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, আমাদের দেশের সরকার যে-ভাবে একজন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, ঠিক তেমনিভাবে শয়তানের সরকারও একই কায়দায় অদৃশ্যভাবে একটা দক্ষ শয়তান-প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। সে এই পাপিষ্ঠ ইবলিশ-শয়তানের সরকারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে সে কখনও-কখনও আবার একজন প্রেসিডেন্টও বটে। আর তাদের প্রভু স্বয়ং ইবলিশ-শয়তান এই শয়তানী-সাম্রাজ্যের স্বঘোষিত-বাদশাহ। আমাদের দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের অন্যান্য দায়িত্বশীল অনেকেই অনেক কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক। আর সময়ের অভাবে প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গে দেখাও করতে পারবেন না। তবুও তাঁর প্রতিনিধিগণ―মন্ত্রীবর্গ-এমপিবর্গ-সচিববর্গ তাঁর অধীনে থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্বপালন করে থাকে। সবজায়গায় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দেখা দেওয়ার কিংবা যাওয়ার প্রয়োজন নাই। কিন্তু, তাঁর নির্দেশে সব কাজই সম্পন্ন হচ্ছে। তাই, ইবলিশ-শয়তানও আমাদের সবার সামনে কখনও না এলেও, তার আদেশে-নির্দেশেই, আর তার নেতৃত্বেই তার নির্বাচিত-অনুমোদিত সরকারের মাধ্যমেই বাংলাদেশে সমস্ত শয়তানী-অপকর্মসাধিত হচ্ছে। এই শয়তান একটা নেপথ্যের অদৃশ্যশক্তিধর। সে একইসঙ্গে সারাপৃথিবীর শয়তানী-সাম্রাজ্যের বাদশাহ। তার অধীনে রয়েছে আবার দেশে-দেশে একেকটা দক্ষ প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী। আর শয়তানের মন্ত্রীপরিষদ এই পৃথিবীতে খুবই শক্তিশালী। এরা ধর্মের নামে পৃথিবীতে অধর্ম-কায়েম করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং ইবলিশ-শয়তানের নিযুক্ত-মনোনীত এইসব প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্টের অধীনে আবার রয়েছে―একাধিক কুদক্ষ মন্ত্রী, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীপরিষদ। আর তারা আমাদের সামনে দৃশ্যমান। ইবলিশ-শয়তানের এইরকম একেকটা শয়তানমন্ত্রী হচ্ছে: আমাদের পবিত্র বাংলাদেশের তথাকথিত-মুফতী, শয়তানের চিরদোসর বজলুল হক কামিনী ওরফে দখলবাজ―দখলদার-রংবাজ-এর শিষ্যগণ। সে দেশের ভিতরে নির্বিঘ্নে শয়তানী ও বদমাইশী করার জন্য তার শিষ্যদের নিয়ে শয়তানী-মন্ত্রীপরিষদগঠন করেছে। সে নিজে একটা এতিমের ধনসম্পদলুণ্ঠনকারী এক নাজায়েজ ব্যক্তি। এই শয়তানদের আজাবের কথা মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সুরা মাউনসহ বিভিন্ন আয়াতে বর্ণনা করেছেন। এই মুফতীকামিনী স্বয়ং ইবলিশ-শয়তানের নির্ভরযোগ্য এজেন্ট-পরিবেশক-খলিফাহ-মুহতামিম। আর স্বয়ং ইবলিশ-শয়তান তাকে মুরীদ বানিয়ে বাংলাদেশে ছেড়ে দিয়েছে―যাতে, সে বাংলাদেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে না দেয়। আর সে যেন বারবার কুরআন-হাদিসরক্ষার নামে ফিতনা-ফাসাদসৃষ্টি করে মহান আল্লাহর পৃথিবীতে অশান্তিবৃদ্ধি করে মানুষকে ঈমানীচেতনা থেকে দূরে সরিয়ে সরাসরি জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এবার আমি তোমাদের সামনে এই ইবলিশ-শয়তানের বংশশাজরা-বংশলতিকা নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা করবো। তোমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে। আর তা হলো: শয়তান কিন্তু প্রকাশ্যে কোনো সন্তানসন্ততি জন্ম দেয় না। সে দুনিয়াতে মানুষশয়তানের মাধ্যমে এবং রুহানিয়াতভাবে তার সন্তানদের জন্ম দিয়ে থাকে। সে এদের সবসময় লালনপালন করে থাকে। আর এদের সে এমনভাবে তৈরি করে যে, এরা তার কথা ছাড়া আর কোনোকিছু শুনতে চায় না। এরা হয় খুব হিংস্র, খুব নিষ্ঠুর, আর খুব দুঃসাহসী। আর এরা শয়তানের মতোই বহুরূপী হয়ে মানুষের মাঝে মিশে, মুসলমানদের মাঝে মিশে, মানুষের ও মুসলমানের ক্ষতি করতে থাকে। তাই, ইবলিশ-শয়তান তার শয়তানীর প্রয়োজনে যুগে-যুগে, দেশে-দেশে, তার কতিপয় নাজায়েজ-পাপিষ্ঠপুত্র তৈরি করে থাকে। আর তাই, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এভাবে, আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পুণ্যস্মৃতিবিজড়িত―আমাদের পবিত্র আরবদেশে জন্মেছিলো শয়তানের এক পাপিষ্ঠপুত্র: মহম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী। সে ইসলামের সংস্কারের কথা বলে ইসলামের মূলধারাকে, মূল আদর্শকে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নতসমূহকে ও বিলায়েতের খিলাফাতকে ধ্বংস করার জন্য এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রে মেতে উঠলো। আর সে তার শয়তানী-বাদশাহীশক্তিবলে সমগ্র আরবে তৎকালে ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে এক ভয়াবহ-অধর্মপ্রচার করতে থাকে। বহু নামধারীমুসলমান ও এজিদবংশীয়-শয়তানরা তার সঙ্গে একাত্মতা-ঘোষণা করেছিলো। তারপর সে তার এই শয়তানী-মতবাদকে সারা পৃথিবীর মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এক চক্রান্ত শুরু করলো। ইসলামের ইতিহাসে ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীশয়তানের এই শয়তানী-মতবাদ ‘ওয়াহাবীয়া’ সংক্ষেপে ‘ওহাবীমতবাদ’ নামে পরিচিত। তার এই শয়তানী-কাজে সর্বপ্রথম সহকারী-সহযোগী হয়েছিলো তদীয় পাপিষ্ঠজামাতা: ইবনে সউদ। এরপর আরও অনেক নামজাদা-হারামজাদা-শয়তান তাকে সমর্থন করতে থাকে। আর সেই থেকে এই শয়তানওহাবীরা শয়তানী-নাজায়েজ ‘ওহাবীমতবাদ’ প্রচারের ও প্রসারের মাধ্যমে পবিত্র ইসলামধর্মের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-সন্ত্রাসের জাল ক্রমশ বিস্তার করতে থাকে। তোমাদের মনে রাখার সুবিধার্থে আবারও বলছি: সর্বপ্রথম ইসলামকে অমান্য করে, অস্বীকার করে, ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে, ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য নিজেদের ভণ্ড-নবী দাবি করলো: ওই শয়তান আসওয়াদ আনাসী-শাজাহ-মুসাইলামা-কাজ্জাবগং। তারপর আরেকদল শয়তান: ইসলামের মূলধারার অনুসারী ও ইসলামের বিলায়েতের খিলাফাতপ্রাপ্ত খলিফাহ―হজরত আলী আলাইহিস সালামকে অমান্য করে, ইসলামকে অমান্য করে, ইসলামকে অস্বীকার করে, সরাসরি ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেল ‘খারিজী’ নামে। এরা স্বেচ্ছায় এদের আদিপিতা ইবলিশ-শয়তানের নির্দেশে ইসলাম থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো বলেই এরা ‘খারিজী’। ইসলামদ্রোহী এইসব খারিজী চিরঅভিশপ্ত। এরা বংশবৃদ্ধি করে বর্তমানে ‘নব্যখারিজী-সম্প্রদায়ে’র জন্ম দিয়েছে। আর আমাদের দেশে এই নব্যখারিজী-সম্প্রদায়ের শাখাপ্রশাখাই হচ্ছে―আজকের আহলে হাদিস, সালাফী, জঙ্গিবাদী ইত্যাদি ভণ্ড-সম্প্রদায়।
আর সবসময় মনে রাখবে: ভণ্ড-নবীদের পরে ইসলামের ভিতরে সর্বপ্রথম ফিতনা ও ফিরকাসৃষ্টি করে এই ‘খারিজী-সম্প্রদায়’। সেই সময় তারা ইসলামের বিরুদ্ধে বহু শয়তানী ও ষড়যন্ত্র করেছে। আর এই ইসলামত্যাগী ‘খারিজী-শয়তানীধারা’ থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়: ‘উমাইয়াবংশ’ তথা ‘এজিদীয়-শয়তানবংশ’। এই ভয়াবহ শয়তানীবংশধারা থেকে সৃষ্টি হয়: এজিদীয় ফিরকা ও ফিতনাসমূহ। এরপর এই এজিদীয় শয়তানীমতবাদের উপর ভিত্তি করেই খোদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র মক্কা-মদীনা-নগরীতে তথা সমগ্র আরবে জন্ম নেয়: শয়তানী ‘ওয়াহাবীমতবাদ’। আর পরবর্তীকালে ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষত বাংলাদেশে এক বাতিল ‘ফিতনা ও ফিরকা’র উদ্ভব ঘটে। এই ফিতনা ও ফিরকার নাম ‘মওদুদীবাদ’। এই শয়তানী ‘ফিতনা ও ফিরকা’র সৃষ্টি করেছে পাকিস্তানী-নাগরিক: পথভ্রষ্ট আবুল আলা মওদুদী। পরবর্তীতে এই তিনটি অভিশপ্ত ‘বাতিল-আকিদাহসম্পন্ন’ শয়তানীমতবাদ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আকিদাহগত দিক থেকে, ঈমানী-পরিচয়ের দিক থেকে, এরা এক ও অভিন্ন। তাই, সবসময় মনে রাখবে: এজিদীয়-বংশধারার ‘খারিজী-ওহাবী-মওদুদীবাদ’ সবসময় এক ‘বাতিল-কুফরী-আকিদাহ’ এবং এক শয়তানীমতবাদ। এর দ্বারা কেউ আক্রান্ত হলে সঙ্গে-সঙ্গে তাকে তওবাহ করে আবার মুসলমান হতে হবে। ভারতীয় উপমহাদেশে ‘ওহাবী-মতবাদ’প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেয়: সৈয়দ আহমেদ বেরেলভী, মৌলোভী আবুল কাসেম নানুতবী, মৌলোভী ইসমাইল দেহলভী, মৌলোভী ইলিয়াস মেওয়াতী, পথভ্রষ্ট আবুল আলা মওদুদী, আর মৌলোভী হোসাইন আহমেদ মাদানী ইত্যাদি। আর এই ইলিয়াস মেওয়াতী পরবর্তীতে এককভাবে ‘তাবলীগ’ বা ‘তাবলীগীজামাত’ নামে এক নতুন-ফিতনার প্রচলন ঘটায়। তারপর আমাদের বাংলাদেশে ক্রমশ এই শয়তানী-ওহাবীধারার প্রবর্তকের দায়িত্বপালন করেছে: হাজী শরীয়তুল্লাহ, পথভ্রষ্ট আবুল আলা মওদুদী, গোলাম আযম নামের আরও কতকগুলো জাহেল। বর্তমানে এই ধারার নেতৃত্ব রয়েছে: মুফতীকামিনী-গংদের হাতে। এরা ইসলামধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে আজকাল মুসলমানদের প্রকৃত-ইসলামের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করেছে। এদের শিকড় সেই এজিদীয় বংশধারার ‘ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদ’-এর মধ্যে। যারা বোঝে তারা এই ‘ওহাবী-মওদুদী’ ফিতনা এড়িয়ে চলতে পারে। আর যারা একেবারে সাধারণ মুসলমান, কিছুই বোঝে না, শুধু টুপি-দাড়ি-পাঞ্জাবি-পায়জামার মধ্যে ইসলাম দেখে, তারা বিভ্রান্তির জালে আটকা পড়তে-পড়তে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ গোমরাহ হয়ে মুত্যুবরণ করে। এইজাতীয় লোকদের পবিত্র ইসলামধর্মের কথা বলে ধোঁকা দেওয়া একেবারে সহজ। মুফতীকামিনী-গংরা এইজাতীয় লোকদের টার্গেট করে দিন-দিন অগ্রসর হচ্ছে। যারা প্রকৃত শিক্ষিত, যারা প্রকৃত জ্ঞানী, আর যারা প্রকৃত মুসলমান, তারা কখনও মুফতীকামিনীর মতো শয়তানপুত্রকে মুফতী হিসাবে, আল্লামা হিসাবে, মাওলানা হিসাবে, শায়খুল হাদিস হিসাবে, মুফাসসির হিসাবে কিংবা মুহাদ্দিস হিসাবে মানবে না। এরা মুসলমানের ইমাম হওয়ার যোগ্য নয়। এরা আমাদের কেউ না। ইসলামের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নাই। এরা শুধু এই সমাজে-এই দেশে টাকাপয়সার মধ্যে গড়াগড়ি খেয়ে, সুখসাগরে ডুবে, লোকদেখানো ধর্মপালন করার জন্য মুখে-মুখে ইসলাম-ইসলাম করে। আর কথায়-কথায় লোকের সামনে কুরআনের আয়াত তুলে ধরে। অথচ, এরা কখনও-কোনোদিন ধর্মপালন করেনি, আর করবেও না। কারণ, আবু জেহেল শেষ পর্যন্ত মুসলমান হতে পারেনি। সেও কিন্তু কী-সুন্দর লেবাসধারী ছিল! আর কথায়-কথায় সে আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে বেআদবি করতো। বেআদবরা ইসলামে ঠাঁই পাবে না। তোমাদের জানা দরকার: ওই শয়তানের পাপিষ্ঠপুত্র ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী এতোবড় বেআদব ছিল যে, সে মদীনায় আমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনেক সাহাবার ও ওলীআল্লাহর মাজার ভেঙ্গে ফেললো। আর সে মনে করলো: এইসব পবিত্র সাহাবার ও পবিত্র ওলীআল্লাহর পবিত্র মাজারশরীফগুলো থাকলে মুসলমান তাদের ঈমান-আকিদাহ সহীহ রেখে আসল ইসলামের পথে থাকবে। আর আসল ইসলামের পথেই মুসলমান হাঁটবে। তারা আমলদার মুসলিম-মুসলমান হবে। তাদের আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। তারা ওহাবীদের পাপের সাম্রাজ্য এবং শয়তানী-ব্যভিচারের শয়তানীরাজতন্ত্র, কাফেরতন্ত্র ও শয়তানতন্ত্র আর মানবে না। তাই, তাদের দৃষ্টি প্রকৃত-ইসলাম থেকে সরানোর জন্য এই শয়তান ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী একের-পর-এক সাহাবাগণের পবিত্র মাজার ভাঙ্গতে-ভাঙ্গতে, ক্রমান্বয়ে বহু ওলীআল্লাহর পবিত্র মাজারও ভেঙ্গে ফেললো। আর সে চেয়েছিলো: মুসলমান যেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশের লোকদের অনুসারী না-হয়। আর তারা যেন প্রকৃত-ইসলামের অনুসারী না-হয়। আর তাই, সে হিংসায় জর্জরিত হয়ে, এজিদের প্রকৃত-উত্তরাধিকারী হয়ে, নামে মুসলমান সেজে, ইসলামের ভিতরে ঢুকে খাঁটি ইবলিশ-শয়তান হয়ে, ইসলামের ভিতরে একের-পর-এক ফিরকা-ফিতনা-ফাসাদসৃষ্টি করে যেতে লাগলো। আর সে তার পিতা স্বয়ং ইবলিশ-শয়তানের নির্দেশে-আদেশে-অনুগ্রহে শয়তানী-ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে প্রচার করতে লাগলো: এভাবে ইসলামকে রক্ষা করতে হবে। আর সে যা-করছে, তা ইসলামের স্বার্থেই করছে। আর এভাবে ইসলামকে সংস্কার করতে হবে। এই শয়তান ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ভণ্ড-নবী-দাবিকারী: পাপিষ্ঠশয়তান আসওয়াদ আনাসী-শাজাহ-মুসাইলামা-কাজ্জাবদেরই প্রকৃত-বংশধর। আর রাজনৈতিক, সামাজিক, চারিত্রিক, আত্মিক ও ধর্মগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে, সে ছিল বিশ্বশয়তান-বিশ্বলম্পট: আবু আল এজিদের বংশধর। কাজেই, সে ছিল বংশগতভাবে শয়তানের রক্তে, শয়তানের ঔরসে জন্ম নেওয়া এক জীবন্ত খবিসশয়তান। তাই, সে ব্যক্তিগত-স্বার্থে একের-পর-এক ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে শয়তানী-অধর্ম কায়েম করতো, ইসলামবিরোধী-অকাজ করতো, আর নিজেদের পরিচয় দিতো: ‘সালাফী’ বা ‘আদিপন্থী’ বলে। এই ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী এতোবড় শয়তান ছিল যে, সে দিনরাত আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরুদ্ধে, তাঁর বংশধরদের বিরুদ্ধে ও তাঁর সাহাবাদের বিরুদ্ধে কুৎসারটনা করতো এবং সে এইভাবে দুনিয়ার সমস্ত অন্যায়-অপকর্ম করেও নিজেকে আত্মআবিষ্কৃত ও আত্মস্বীকৃত ‘ত্বরীকায়ে মহম্মদী’র লোক হিসাবে সর্বসাধারণের কাছে পরিচয় দিয়ে―সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে সামাজিক-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা-হাসিল করতো। এইভাবে একটা বিশ্বশয়তান: মহম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী আরবদেশে নিজের নামে ‘ত্বরীকতে মহম্মদী’র পরিচয়ে এক ‘শয়তানী’ ও ‘বাতিল-কুফরী-ত্বরীকা’র জন্ম দিয়ে সারা পৃথিবীর মুসলমানদের ঈমান-আকিদাহ-হরণের কাজে নেমে পড়ে। তার মৃত্যুর পরে তার মুরীদগণ এই শয়তানীধারা অব্যাহত রেখেছে। ‘ত্বরীকতে মহম্মদী’ বা ‘মোহাম্মদীয়া ত্বরীকা’ বা ‘ওহাবীয়া-ত্বরীকা’ সবই একত্বরীকা। একই শয়তানের একই শয়তানীত্বরীকা ভিন্ন-ভিন্ন নামে শয়তানী চালিয়ে যাচ্ছে। এই মুফতীকামিনী-গংরাও বাংলাদেশে ঠিক একই কায়দায়, একইভাবে, এজিদীয় ধর্ম-কায়েম করতে চাচ্ছে। কিন্তু, একজন প্রকৃত-মুসলমান হিসাবে তা আমরা কক্ষনো মানতে পারবো না। এই ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী এতোবড় শয়তান ছিল যে, সে ইসলামেরই নামে ইসলামেরই বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলো। সেই সময় তাকে এইসব শয়তানী-অপকর্ম-বাস্তবায়ন করতে সবরকমের সাহায্য-সহযোগিতা করলো: দেশী-বিদেশী একশ্রেণীর জারজ, কামজ, ক্ষেত্রজ, কাফের, মোনাফেক, মোশরেক, ফাসেক, ফুজ্জার ও তাগুতশক্তি। এই যে শয়তান ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী নামকাওয়াস্তে ইসলামে থেকে, ইসলামের নামে কথিত ধর্ম, কুরআন আর হাদিস রক্ষার জন্য যা-করেছিলো, তা-কি আদৌ ইসলামসম্মত ছিল? কক্ষনো না। আসলে, এটা ছিল সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী। আর সে কিন্তু ইসলামী-লেবাস কথিত আলখাল্লা-জুব্বা পরেই এই শয়তানী-অভিযানে নেমেছিলো। আর তাই, সে ধর্মের নামে আরবব্যাপী―সমগ্র জাজিরাতুল আরবে এইজাতীয় শয়তানী-আন্দোলন শুরু করেছিলো। আর কেউ তার এই শয়তানী-কাজে বাধা দিতে চাইলে, সে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হত্যা করতো। আর বলতো: ইসলামের সংস্কার-আন্দোলন চলছে। সে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ধর্মকে―অধর্ম-ঘোষণা করে। আর অধর্মকে―ধর্ম-ঘোষণা করে নিজের বাহাদুরীপ্রকাশ করতে থাকে। এজিদের মতো সেও আওলাদে রাসুলদের হত্যা করতে থাকে। আর সাহাবাদের বংশধরদের হত্যা করতে থাকে। সে মহান আল্লাহর বহু ওলীকে হত্যা করে এবং তাঁদের মাজার-গুঁড়িয়ে দিতেই থাকে। আর সমগ্র জাজিরাতুল আরবে ইসলামসমর্থিত ভালো-কাজকে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নতকে বিদআত ঘোষণা করে আরও ফরমান-জারী করে যে, আজ থেকে এইসব কাজ আর করা যাবে না। এইসব পবিত্র কাজের মধ্যে ছিল: নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র রওজা-মোবারক জিয়ারত করা, হজ্জের সময় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র রওজা-মোবারক জিয়ারত করা, সাহাবাদের মাজার-জিয়ারত করা, হজরত আলী আলাইহিস সালামের মাজার-জিয়ারত করা, হজরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম ও হজরত ইমাম হোসেন আলাইহিস সালামের মাজার-জিয়ারত করা, হজরত ফাতেমা-তুজ-জোহরা আলাইহিস সালামের মাজার-জিয়ারত করা, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র রওজা-মোবারকে চুম্বন করা ইত্যাদি। মুসলমানদের কবর-জিয়ারতকে সে শিরক ঘোষণা করে। আর সে আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশধরদের সঙ্গে চরমশত্রুতা শুরু করে। একইভাবে সে আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদাকেও খাটো করার অপচেষ্টা করতে থাকে। যে-কাজ কখনও কোনো ইহুদী-খ্রিস্টানগণ করেনি, সেই কাজ এই শয়তান ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী করতে থাকে। আর তারা মনে করতে থাকে: আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মতো একজন সাধারণ মানুষ। এইকথার ভিত্তিতে সে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র রওজা-মোবারক ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু, শয়তান সবসময় সফল হয় না। শেষ পর্যন্ত শয়তানের পরাজয় ঘটে। তাই, তার শয়তানী কথায় কেউই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র রওজা-মোবারক ভাঙ্গতে রাজী হয় না। কিন্তু, তাই বলে শয়তান তো আর বসে থাকতে পারে না। সেই সময় কোনো মানুষ কিংবা অন্য কেউ তাকে এই অপকর্ম করতে আদেশ দেয়নি। সে সরাসরি ইবলিশ-শয়তানের আদেশে এই অপবিত্র কাজকর্ম শুরু করেছিলো। আর সে প্রচার করছিলো: আরবদেশে ইসলামী-সংস্কারআন্দোলন চলছে। আর একশ্রেণীর মূর্খ এ-কে ‘ওহাবীফিতনা’ বা ‘ওহাবীশয়তানী’ না বলে এটাকে বলতো ‘ওহাবীআন্দোলন’। আর শেষ পর্যন্ত কেউই ওই চির-মহাপবিত্র রওজা-মোবারক ভাঙ্গতে রাজী না-হলে, এই বেআদবকুলশিরোমণি নিজে-নিজেই আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র রওজা-মোবারক ভাঙ্গতে যায়। কোনো দিনমজুর-শ্রমিক ওই পবিত্র রওজার একটি পবিত্র ইটেও আঘাত করতে রাজী হয়নি। শেষ পর্যন্ত পাপিষ্ঠ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী নিজেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজার পবিত্র ‘সবুজ-গম্বুজ’ ভাঙ্গতে তার উপরে উঠতে থাকে। একসময় মহান আল্লাহর হুকুমে এক বিষধর-বিছা ওই শয়তানপুত্রকে একটা কামড় দেয়। আর তাতেই এই শয়তান ধরাশায়ী হয়। এই শয়তানের মৃত্যুর পরে, তদীয় জামাতা-শয়তানপুত্র ইবনে সউদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাদখল করে নিজেকে আরবের বাদশাহ বলে রাজত্ব শুরু করে। এমনকি এই শয়তান ইবনে সউদ নিজেকে নবী-রাসুল বলে দাবি করে, এবং সে নিজেকে আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমকক্ষ মনে করে। আর সে তার বাদশাহী-ক্ষমতাবলে অহংকারবশতঃ পবিত্র কাবাঘরের গায়ে বড়-বড় হরফে আরবিতে লিখে রাখে: ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ―ইবনে সউদ রাসুলুল্লাহ’! পরবর্তীতে, সে অবশ্য তৎকালীন মিশর-তুরস্কের শাসকদের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তার এই শয়তানী-সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলে।
এই হলো আধুনিক-সৌদিআরবের একটা বাদশাহ-নামধারী শয়তানপুত্র ইবনে সউদের কার্যকলাপের সামান্য নমুনা মাত্র। সে নিজেকে নবী-রাসুলদের সমকক্ষ মনে করতো। নাউজুবিল্লাহ! আসতাগফিরুল্লাহ! এই শয়তানরাই দেশে-দেশে তাদের ‘বাতিল-কুফরী-আকিদাহ’ রপ্তানী করে শয়তানী-ওহাবীমতবাদের জন্ম দিয়েছে। আসলে, এরা কেউই কিন্তু মুসলমান ছিল না। কিন্তু, এরা মুসলমানের সুরতে, ইসলামের লেবাসে, প্রকৃত-মুসলমানদের এতো-এতো বছর পর্যন্ত ধোঁকা দিয়ে আসছে। আমাদের দেশের এইসব মুফতী-নামধারী বেআদব তাদেরই
প্রকৃত-বংশধর―উত্তরাধিকারী। এদের এই দেশ থেকে উচ্ছেদ করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী-দায়িত্ব। আর এই দায়িত্বপালন না-করলে মুসলমানদের গুনাহগার হতে হবে। তার কারণ, কোনো মুসলমান জেনেশুনে এইজাতীয় খবিসশয়তান-ফাসেক-ফুজ্জার-মোনাফেক-কাফের-মোশরেককে আলেম মেনে, তাদের সোহবতে থাকতে পারে না।
আলেম কে? আলেমের যোগ্যতা কী? আর আলেম কি নিজে-নিজে ঘোষণা করবে যে, সে আলেম হয়েছে? না, যে-আলেম হবে তাঁকে কিছুই বলতে হবে না। সে যতো চুপ থাকবে, তাঁর সুবাস ততো বেশি ছড়াতে থাকবে। আলেম হচ্ছে: সুগন্ধি ফুলের মতো। তাঁকে কখনও নিজের মুখে বলতে হয় না―‘এই যে, তোমরা দেখগো, আমি বকুল-বেলী-গোলাপ-হাস্নাহেনা-রজনীগন্ধা-গন্ধরাজ! আর আমি কতো সুন্দর হয়ে ফুটেছি।’ লোকে একাই দেখতে পায়, আজ তার গাছে হাস্নাহেনা ফুটেছে। আর এলাকার সমস্ত লোক আমোদিত হয় তার পবিত্র সুবাসে। ঠিক আলেমও তা-ই। আলেম পবিত্র। তিনি আল্লাহর রহমত। তাঁর সংস্পর্শে যে-যাবে সেই বিমোহিত হবে। তার জীবন বদলে যাবে। সে হবে আমলদার-এলেমদার মুসলমান। সে আর পাপস্পর্শ করবে না। আমি নিজেও একজন আলেমের সন্ধানে রয়েছি। তাঁর দেখা পেলে, তাঁর চরণে নিজেকে সঁপে দেবো। বেলায়েতের রেওয়াজ-অনুযায়ী―তিনিই হবেন আমার প্রকৃত-মুরশীদ। কিন্তু, আফসোস, এই দেশে এখনও পর্যন্ত কোনো আলেমের দেখা আমি পাইনি। হয়তো অল্পসংখ্যক আলেম আছেন। কিন্তু, তারা দুনিয়ার এইসব ফিতনা-ফাসাদ থেকে নিজেদের আড়াল করে রেখেছেন। আর তাঁরা সবসময় আমলে ব্যস্ত। তাঁদের খুঁজে বের করার দায়িত্বও আমাদের। তাঁদের সোহবতে না গেলে আল্লাহকে পাওয়া যাবে না। ঝালমুড়িওয়ালা কিংবা চানাচুরওয়ালা তো তোমাকে-আমাকে খাঁটি মধু দিতে পারবে না। খাঁটি মধু পেতে চাইলে খাঁটি-মধুওয়ালার কাছেই যেতে হবে। ভেজাল-মধুওয়ালা চারিদিকে ঘুরছে। তার কাছে গেলে টাকাপয়সা আর জীবন-যৌবন সবই বরবাদ হবে। তাই, সাবধান। আল্লাহর ওলীরাই প্রকৃত-আলেম। এবার আমরা কথায় ফিরে আসি। এই দুনিয়ায় শয়তানের এজেন্টরা খুবই ধূর্ত। তারা যখন যেমন―আর তখন তেমন সাজতে পারে।
এই আমাদের দেশে একশ্রেণীর প্রকৃত-শয়তান নিজেকে আলেম-দাবি করে আজ কাজ করছে দেশের ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে। আর এরা, ইসলামধর্মের কথা বলে নিজেরাই ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এটা কিন্তু সহজভাবে দেখলে চলবে না। এটার গুরুত্ব আছে। ‘ওহাবী-শয়তান’রা আমাদের নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুশমন। তারা নানান ছদ্মবেশে আমাদের মধ্যে ঢুকে, ধর্মের আতর মেখে, গোলাপজল ছিটিয়ে, অনেককে ভড়কে দিতে পারে। কিন্তু, সাবধান। আর সবসময় মনে রাখবে: মাকাল-ফলের রং বেশি―পতিতা-মেয়ের ঢং বেশি। বাংলাদেশে ধর্মের লেবাসধারী-শয়তানের সংখ্যা দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা যদি চোখ মেলে শুধু এইসব দেখেই যাই, আর কিছু না করি―তাহলে, ওরা আস্কারা পেতে-পেতে একদিন গেছো-বানরের মতো আমাদের মাথায় চড়ে বসবে। আর তখন আমাদের মাথা থেকে ওদের নামানো অনেক কষ্ট হবে। আর তখন হয়তো আমাদের আরেকটা মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিতে হবে। কিন্তু, তাই বলে, এই শয়তানরা রেহাই পাবে না কোনোদিন। এই দেশ, এই জাতি, কোনোদিন কোনো শয়তানের আধিপত্য মানেনি, আর মানবেও না। তাই বলি কি, এইসব শয়তান বেশি বাড়াবাড়ি করার আগেই ওদের এই দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে। এটা তো ওদের দেশ না। ওদের দেশ ওদের বাবার জন্মস্থান পাকিস্তান। ওরা সেখানেই ফিরে যাক। আর ওদের তো দিনরাত ওদের কাবুল-কান্দাহার-বেলুচিস্তান-পেশোয়ার-লাহোর-সিন্ধু-ইসলামাবাদ-করাচির মাটি কতো ডাকাডাকি করছে। আর তা সত্ত্বেও, ওরা অনেক কষ্টে আমাদের মাটিতে এখনও টিকে রয়েছে। আর শয়তানী করতে-করতে একেকটা দেখতে-দেখতে আট-দশটা করে ব্যাংক-বীমা-স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-ভার্সিটি আরও কতোকিছুর অবৈধ মালিক হয়ে গেছে। অনেকে আবার বিদেশ থেকে কারিগর-দালাল ধরে এনে জাল-টাকা পর্যন্ত বানাবার কাজে ব্যস্ত। আর এরাই নাকি ইসলামের সৈনিক! জাল-টাকা বানাচ্ছে! আর বিপ্লব ঘটাতে নাকি অর্থ-জোগাড় করছে। তাই, বলছিলাম, এরাই এখন এই দেশের প্রকৃত ইবলিশ-শয়তান। এই দেশে এদের রাখাটা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। এদের শেষবারের মতো অজু-গোসল করিয়ে এদের হাত থেকে জোর করে কুরআনশরীফ কেড়ে নিতে হবে। তারপর এদের দেশ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। কারণ, পবিত্র কুরআনশরীফ তো শুধু মুসলমানের, আর মানবজাতির জন্য। এরা তো কোনোটার মধ্যেই পড়ে না। এদের এই দেশে জামাইআদর করার কোনো মানে হয় না। এরা প্রকৃত ইবলিশ-শয়তান। এদের এই দেশ থেকে তাড়িয়ে, এবার দেশটাকে পবিত্র করতে হবে। এই দেশ শয়তানমুক্ত করতে হবে। আর ভিতরে-ভিতরে অদৃশ্যভাবে ধর্মের নামে শয়তানী করার জন্য শয়তানীমদদে, শয়তানীত্বরীকায় ও শয়তানীঅনুমোদনে সংগঠিত বিশ্বশয়তানের শয়তানী-সরকারের এইজাতীয় চেলাদের এই দেশ থেকে চিরতরে বহিষ্কার করতেই হবে। আর কালবিলম্ব নয়। আর সবসময় বাংলাদেশের স্বার্থে টিকিয়ে রাখতে হবে এবং রক্ষা করতে হবে―আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে।”

বক্তৃতার ঢংয়ে নাতিদীর্ঘ-ভাষণ দিয়ে লিটু মিয়া থামলেন। তারপর তিনি মোলায়েম হাসিতে তাকালেন―ওদের দু’জনের দিকে।

আবু কায়েস এতোক্ষণ যেন সম্মোহিতের মতো তার কথা শুনছিলো। এবার সে একটুখানি নড়েচড়ে বসে বললো, “স্যার, আপনার কথা শুনে আজ আরও নতুন-তথ্য পেলাম। শয়তানী-‘ওহাবীত্বরীকা’ সম্বন্ধে আরও ভালোভাবে জানতে পারলাম। আর এরা যে এতোবড় শয়তান, তা আমার আগে জানা ছিল না। আজ থেকে আমি এই শয়তানদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করবো, ইনশা আল্লাহ।”
রায়হান কবিরও উঠে দাঁড়ালো। আর কায়েসের সঙ্গে করমর্দন করে বললো, “আজ থেকে আমাকেও পাবেন আপনার সঙ্গে। আর পবিত্র কাজে দল ভারী করতে হবে।”
কায়েস তার জবাবে বললো, “আপনার কথা শুনে খুব খুশি হলাম।”
তারপর লিটু মিয়ার দিকে চেয়ে বললো, “আর স্যারতো, সবসময় আমাদের সঙ্গেই আছেন।”
লিটু মিয়াও সম্মতি জানিয়ে বললেন, “আজ আমরা ক্লাস শেষ করে বঙ্গবন্ধু-অ্যাভিনিউয়ের দিকে যাবো। আর সেখানে গিয়ে দেখবো―আজকের কথিত হরতালপরিস্থিতি। শয়তানগুলো কী-করে বলা যায় না। আমরা দেশের কোনো কাজেও লেগে যেতে পারি। এদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করাও সওয়াবের কাজ। তাই, এখন ঘরে বসে থাকার কোনো সময় নাই। এই চিহ্নিত পাপিষ্ঠ, পাপাচারী, শয়তানগোষ্ঠী, আর রাজাকারগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই দেশে আজ থেকে আর কোনো ছোটো-বড় শয়তানকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। আর মনে রাখবে: ধর্মের নামে এই দেশে যারা এযাবৎ শয়তানী করেছে, আর এখনও যারা শয়তানী করছে―তারা সবাই এক। আর এরা সবাই একই-শয়তানপরিবারভুক্ত। এদের বিরুদ্ধে লড়াই করা মানে ইসলামের পক্ষে জিহাদ করা। তাই, আল্লাহর নামে এই দেশের সকল প্রকৃত-মুসলমানকে এক হয়ে, ইসলামের শত্রু, আর আমাদের দেশের শত্রুদের মোকাবেলা করতে হবে। ইনশা আল্লাহ, আমরাই জয়ী হবো।”

তার কথায় রায়হান কবির ও আবু কায়েস উভয়েই রাজী হলো। তারাও একমত যে, শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে এবার মাঠে নামতে হবে। আর ঘরে বসে থাকার সময় নাই।

ক্লাস শেষ করে ওরা তিনজন বাস-স্ট্যান্ডের দিকে হাঁটতে লাগলো। ওরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলো, হাঁটছিলো, আর ভাবছিলো: কীভাবে এই দেশ থেকে ধর্মের নামে গজিয়ে ওঠা সমস্ত আগাছা সাফ করা যায়। এই সমস্ত আগাছা সাফ করতেই হবে। ফসলের মাঠে আর কতোকাল এভাবে বেড়ে উঠবে এইসব আগাছা-পরগাছা? আর আগাছা-পরগাছার শক্তিতে আমাদের ভবিষ্যৎ বিনষ্ট হবে যে! এদের আর বাড়তে দেওয়া যায় না। তাই, এখন থেকেই আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।
ওরা শ্যামলী-বাস-স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতেই―অল্প সময়ের মধ্যে একটা বাস পেয়ে গেল। তিনজন তাড়াতাড়ি বাসে উঠে পড়লো। বাসের সর্বত্র ভিড়। তবুও তারা লোকের পাশ কাটিয়ে কোনোরকমে বাসটার শেষপ্রান্তে―একপাশে গিয়ে দাঁড়াতে সক্ষম হলো।
দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে, ধীরে-ধীরে, তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ করছিলো। হঠাৎ লিটু মিয়ার একটা কথা শুনে একলোক দারুণ খুশী হয়ে তাকে তার নিজের সিটটা ছেড়ে দিলো।
লিটু মিয়া সহজে বসতে চাইছিলেন না। কিন্তু, লোকটার আন্তরিকতার কাছে তিনি হার মানতে বাধ্য হলেন। আর লিটু মিয়ার জীবনদর্শনের অন্যতম একটা বাণী হলো: “কারও ভালোবাসা উপেক্ষা কোরো না। এই পৃথিবীতে ভালোবাসা হচ্ছে সবচেয়ে দামি। আর কেউ যদি তোমাকে কখনও ভালোবাসে, তাহলে―বুঝবে, তুমি আল্লাহর দয়া লাভ করেছো। আর জীবনে কখনও ভুল করে হলেও কোনো অনৈতিক-ভালোবাসার ফাঁদে নিজেকে জড়াবে না। ভালোবাসা খুব পবিত্রবিষয়। কিন্তু, নাজায়েজ-হারামপথে কখনও ভালোবাসায় লিপ্ত হবে না।”
লিটু মিয়া নিজের মহাবাণী অমান্য করতে না পেরে লোকটার সিটে বসলেন। তারপর তিনি তার কথা চালিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন: “মুফতী কামিনীশয়তান বলেছিলো, এই দেশের ষোলো-কোটি মানুষ নাকি তাকে হরতালে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু, গণনা করলে দেখা যাবে, এই দেশের ষোলোজন মানুষও তাকে হরতাল করতে বলেনি। যে-গুটিকতক লোক তাকে সমর্থন করেছে তারা তো মানুষ নয়―তারা পশু। মানুষের মতো দেখতে হলেই সে মানুষ হয় না। বরং আকৃতিতে মানুষের মতো হলেও ভিতরে যারা পশু, আসলেই তারা পশু। পবিত্র কুরআনের সুরা আনআমে যে-পশুদের কথা বলা হয়েছে, এরা সেই পশু। এরা মিথ্যাকথার খনি। এরা সবসময় মিথ্যাকথা বলতে ভালোবাসে। এরা মিথ্যাকথা বলতে-বলতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষক্তির সকল ভালো কাজকেও মক্কার কাফেরদের মতো অস্বীকার করে দেশের ভিতরে সবসময় একটি গোলোযোগসৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়।”
বাসের সেই ভদ্রলোক বললো, “স্যার, আপনার কথা শুনে ভরসা পেলাম। আমার তো মাঝে মাঝে খুব ভয় হয় যে, শয়তানরা বুঝি আবার আগের মতো দেশজুড়ে বোমাবাজি শুরু করবে।”
লোকটা দেখলো, লিটু মিয়ার সঙ্গে আগত দুইজন তাকে সবসময় ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করছে; তাই, সেও তাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে লাগলো।
লিটু মিয়া বললেন, “এতো ভয় পাবেন না। আমাদের বংশকে, নির্বংশ করার জন্য কারবালার প্রান্তে হজরত ইমাম হোসেন আলাইহিস সালামকে শহীদ করা হয়। তারপর একই কায়দায় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট আমাদের তথা বাঙালি-জাতির ইমাম: হজরত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে শহীদ করা হয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি। তাই, আমরা হজরত ইমাম হোসেন-বংশের সন্তান। আর যারা ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশ চায়নি, বাংলাদেশের বিরোধিতা করে পাকিস্তান-কায়েম রাখতে চেয়েছিলো, পাপিষ্ঠ পাকিস্তানী-নাপাকসৈন্যদের সবরকম সাহায্য-সহযোগিতা করেছিলো, পাপিষ্ঠ পাকিস্তানীদের নারীধর্ষণে সাহায্য করেছিলো, আর এখনও ১৯৭১ সালের চিহ্নিত রাজাকারগোষ্ঠীর সঙ্গে একই চেয়ারে বসে, একই বিছানায় ঘুমিয়ে, একইঘরে সহবাস করে, একই কায়দায় কথা বলে, একইসঙ্গে চলে, আর একই ভাবধারায়, একই বিজাতীয় অপআদর্শে রাজনীতি করে খাচ্ছে, তারা এজিদবংশের সন্তান। বাংলাদেশে এই দুইটি-বংশধারা: সেই আদিকাল থেকে, সেই ১৯৪৭ সাল থেকে চলে আসছে। এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এরা যতোই চক্রান্ত করুক না কেন, আমাদের শুধু সবসময় চোখ-কান খোলা রেখে সজাগ থাকতে হবে। ভোটের রাজনীতিতে আল্লাহ-রাসুলের দুশমনরা আমাদের সঙ্গে পারবে না, ইনশা আল্লাহ। ওদের একমাত্র সম্বল: ভোটচুরি, আর ভোটডাকাতি। চুরিই ওদের ধর্ম। আর ওরা বারবার ভোটচুরি করে আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তিকে বারবার রাষ্ট্রীয়-ক্ষমতার বাইরে রাখতে চায়। কিন্তু, ওদের সমস্ত শয়তানী-ষড়যন্ত্র এবার ধরা পড়ে গেছে। ওদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না, ইনশা আল্লাহ। আর আমরা বারবার জয়লাভ করবো, ইনশা আল্লাহ। আর জয়লাভ করবোই, ইনশা আল্লাহ।”
লোকটা লিটু মিয়ার কথায় এতো সন্তুষ্ট হলো যে, সে নিজে থেকে লিটু মিয়ার ঠিকানা চেয়ে নিলো। তার আরও অনেক-কিছু জানার বাকী রয়েছে।
লিটু মিয়াও তাকে আমন্ত্রণ জানায়। এইসব প্রচার করাই তো তার ধর্ম। আগে আমাদের বংশ চিনতে হবে। আগে আমাদের কাতার ঠিক করতে হবে। তারপর বুঝেশুনে ধর্মপালন করতে হবে। জীবন-জীবিকার পথ না-বুঝে, না-খুঁজে, ঝোঁকের বশে কিংবা কারও কথায় গোরুচোর হলে চলবে না। গোরুচোরের কোনো ভবিষ্যৎ নাই। আর গোরুচোরের কোনো ধর্ম নাই। তাই, এই দেশে থাকতে হলে―সবাইকে বাঙালি হয়েই থাকতে হবে। তারপর প্রত্যেকে যার-যার ধর্মপালন করবে।
সেই অপরিচিত-ভদ্রলোক পরের স্টপেজে নেমে পড়লো। ফার্মগেটে এসে ওরা সবাই সিট পেলো। পাশাপাশি সিটে বসে জমে উঠলো ওদের রাজনৈতিক আড্ডা। না, এখানে কেউ বিরক্ত হচ্ছে না। বরং অনেকেই তাদের সঙ্গে সুর মেলালো। মানুষ এখন সচেতন হচ্ছে। তারা এখন ধর্ম-অধর্ম বোঝে।
লিটু মিয়ার সামনে বসা এক ভদ্রলোক বললো, “এই যে কথিত মুফতীকামিনী না জাহান্নামী হরতাল ডেকেছে, এর মানে কী? আমি তো এই সরকারের নারীনীতি পড়ে দেখেছি। কিন্তু, কোথাও তো কুরআন-হাদিসবিরোধী কিছু লেখা হয়নি। ওরা কি পাকিস্তানের দালালি করতে-করতে, আর উর্দুভাষার নাপাক-মূত্রশরবত পান করতে-করতে, বাংলা-ভাষার মানে ভুলে গেছে? কিংবা ওরা মনে হয় বাংলা-ভাষা পড়তেই পারে না। হয়তো একেবারে জাহেল। মানে, আমি বলতে চাচ্ছি: ওরা সেই আবু জেহেলের মতো জিলাপীর প্যাঁচ কষতে ওস্তাদ। তাই, সবজায়গায় ওরা মানুষের ভুল ধরতে চায়। আর সহজ-বিষয়কে কঠিন বানাতে, আর ভালো-জিনিসকে ভালো চোখে না-দেখে, তা নিয়ে শয়তানী করতে ওরা খুব ভালোবাসে। এদের রাস্তায় দেখতে পেলে, ধরে-ধরে পেটানো উচিত। তাইলে, এরা ঠিক হবে। এইসব পাতিহুজুর বসে-বসে খায় তো―তাই, দুনিয়ার কোনো খবর রাখে না।”
লোকটা কথা শেষ করেও রাগে গজ গজ করতে লাগলো।
তা-ই দেখে খুব ভালো লাগলো লিটু মিয়ার। আর তিনি ভাবতে লাগলেন: তাহলে, মানুষ জেগে উঠছে! এটাইতো সবার আগে দরকার। আরও কিছুসংখ্যক মানুষ জেগে উঠলে―ওরা আর পালাবার কোনো রাস্তা খুঁজে পাবে না। তখন ওদের পাকিস্তানবাবা ওদের আর ঠেকাতে পারবে না। এখনও পাকিস্তানের ওই নাজায়েজ-হারাম ও জারজ গোয়েন্দাসংস্থা: আইএসআই আমাদের দেশের বিরুদ্ধে নানারকম শয়তানী করে যাচ্ছে। আর তারা আমাদের দেশের অভ্যন্তরে সমস্ত শয়তানীর যাবতীয় রসদেরও জোগান দিচ্ছে। ওরা, মানে, ওই পাকিস্তানীদের নাজায়েজ, পাপিষ্ঠ, জারজ, বিশ্বহারামী ও শয়তানীবিশারদ গোয়েন্দাসংস্থা: আইএসআই এখনও বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি। কারণ, সবদিক দিয়ে ওদের চেয়ে আমাদের অবস্থান অনেক ভালো। ওরা এখনও ডুবে আছে নিত্যনতুন পাপ, গণহত্যা, সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, রাহাজানি, গুপ্তহত্যা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ ইত্যাদি অপকর্মে-অপকাণ্ডে।
সেই তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন অনেক ভালো। ওরা সবাই হিংসায় জ্বলেপুড়ে মরছে। তাই, সব শয়তান মিলেমিশে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু, আর পারবে না। বাংলাদেশ এবার এগিয়ে যেতে শিখেছে। দুনিয়ার কেউ এখন বাংলাদেশকে আর দমিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশা আল্লাহ।
ওদের নীরবতাভঙ্গ করে আবু কায়েস একটুখানি হেসে লিটু মিয়ার দিকে চেয়ে বললো, “স্যার, কিছু বলেন। শুনে আরও আমল করি।”

লিটু মিয়া বললেন, “আসলে, কুরআন-অবমাননার বিষয়-টিশয় ওদের কাছে কিছুই না―ওটা হচ্ছে ওদের মুখের কথা। আসল কথা হচ্ছে: দেশে এখন ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। এই বিচার কীভাবে বানচাল করা যায়, তা-ই ওদের প্রধান উদ্দেশ্য। আজকে হরতাল ডাকার উদ্দেশ্যও ওই একটি। ওরা ভাবছে: হরতাল-টরতাল ডেকে দেশের ভিতরে কোনোরকমে একটা ভয়ংকর গোলোযোগসৃষ্টি করা যায় কিনা। হরতাল এই পরিকল্পনার একটি প্রাথমিক অংশ। ওদের আরও নানান শয়তানীপরিকল্পনা আছে। ওরা আস্তে-আস্তে তা বের করবে। ওরা ধীরে-ধীরে অনেক শয়তানী করবে। কারণ, শয়তানী করতে ওদের খুব ভালো লাগে। যার যে-পেশা এবং নেশা। আর শয়তানের শয়তানী না করলে কিছুতেই ভালো লাগে না। তাই দেখা যায়: অনেক হাজীসাহেব হজ্জ করে এসেই কাজের মেয়ের সঙ্গে জিনা করে পুণ্যহাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। গুনাহগাররা পাপকেও আজকাল পুণ্য মনে করে। এই দেশে শয়তানীবৃদ্ধি পাচ্ছে মাত্র গুটিকতক গুনাহগারশয়তানের জন্য। এরা স্বঘোষিত-শয়তান। আর একটা কথা মনে রাখবে: এই মুফতীকামিনী স্বয়ং ইবলিশ-শয়তানের বিশ্বশয়তানীসৃষ্টির প্রধান-প্রধান এজেন্টদের একটা। ওর সঙ্গে আরও কয়েক ডজন বড়-বড় শয়তান আছে। এইসব ঘৃণিত শয়তানের মধ্যে দেশবিরোধী-ঘাতক-জল্লাদসহ তথাকথিত শিল্পপতি-কোটিপতি-নামধারী অনেক পাপিষ্ঠসন্তানও রয়েছে। এরা, এইসব কাটমোল্লাকে অর্থজোগান দেয়। আর কাটমোল্লারা হাতে নগদ টাকা পেয়ে ক’দিন আন্দোলনের নামে ভরা বর্ষা-মওসুমের ব্যাঙের মতো খামাখা লাফায়। লাফাতে এদের ভালো লাগে। এদের হাবভাব দেখে মনে হয়: এদের পূর্বপুরুষ হয়তো ব্যাঙই ছিল। শয়তানের মতো হয়তো কোনো এক ইবাদত-দ্বারা আল্লাহকে খুশি করে, এরা ব্যাঙ থেকে মানুষ হয়েছে। তাই, এখন ওরা দেখতে মানুষের মতো মনে হলেও, ওদের স্বভাবচরিত্র থেকে ব্যাঙের বৈশিষ্ট্যগুলো এখনও মুছে যায়নি। তাই, ওরা সবসময় ভাবে: ‘মুই কী হনু রে’! তাই, ওরা আজকে হরতাল ডেকে মানুষকে অহেতুক কষ্ট দেবে। ওদের ডাকে হরতালপালিত হবে না। আর কেউ ওদের ডাকে হরতালপালনও করবে না। তবুও ওরা সন্ধ্যার পরে ‘সাংবাদিক-নামধারী’ এক ‘সাংঘাতিক-সম্মেলন’ করে বলবে: ‘হরতাল খুব সফল হয়েছে।’ এই যে ওরা দিনভর কাঁড়ি-কাঁড়ি মিথ্যাকথা বলে, এজন্য ওদের মনে কখনও কোনো অনুশোচনা-পাপবোধ জাগে না। পাপ করতে-করতে ওদের মনে আল্লাহ-ভয় বলে কিছু নেই। ওরা জেলখানার জেলখাটা জেলঘুঘুদের মতো। ওদের কোনো ভয় নেই। তাই, ওরা ধর্মের নামে এইসব অশান্তিসৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে। ওদের শয়তানী-সিলসিলাহ অনেক বড়: ওদের আদিপিতা: স্বয়ং ইবলিশ-শয়তান ও এজিদ। তারপর শয়তান ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী। তারপর শয়তান ইবনে সউদ। তারপর ভারতীয় উপমহাদেশের ‘ওহাবীআন্দোলনে’র রূপকার: সৈয়দ আহমেদ বেরেলভী। তারপর বাংলাদেশের হাজী শরীয়তুল্লাহ। সে বাংলাদেশের ওহাবীদের পিতা। তারপর পাকিস্তানের একটা আবুল আলা মওদুদী। তারপর মওদুদীশিষ্য গোলাম আযম। তারপর কামিনী-ভামিনী-নামের আরও কতো রাজাকার। এভাবে, ওদের সিলসিলায় নতুন-নতুন-শয়তান যোগ হতে থাকবে। এইসব শয়তান ধর্মের নামে এখনও পর্যন্ত মুসলমানের ঈমান-আকিদাহ-হরণের কাজে সদাব্যস্ত। এরা বারবার ভোল পাল্টায়, বারবার রূপ বদলায়। এরা যখন যেদিকে সুবিধা দেখে, তখন সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। এরা চুরিচামারিকেও এখন জায়েজ মনে করে। তাই, ২০০১ সালের ভোটচুরির শয়তানীনির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটা সংসদীয়-আসন: সরাইল-নাসিরনগর থেকে ভোটচুরি করে এই শয়তানের দোসর বজলুল হক কামিনী এম.পি. নির্বাচিত হয়েছিলো। এবার ভোটচুরি করে এম.পি. হতে পারেনি বলেই সে মনের দুঃখে মিথ্যা কুরআন-অবমাননার কিংবা কুরআনবিরোধী-আইন তৈরির মিথ্যা-অভিযোগ এনে, বর্তমান-সরকারের বিরুদ্ধে এহেন শয়তানী করে বেড়াচ্ছে। শয়তানীউদ্দেশ্যেই তারা এভাবে আজ হরতাল ডেকেছে। আর এই দেশের সকল রাষ্ট্রবিরোধী-সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সঙ্গে হাতমিলিয়ে এরা এখনও আবার সেই আগের মতো রাষ্ট্রক্ষমতা-দখলের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।”
বাসের ভিতরে বসা কয়েকজন-লোক লিটু মিয়ার কথা শুনে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলো: “লোকটা ঠিকি কইছে। এইসব হুজুর মানুষও না, আর মানুষের জাতও না। এরা যে কী-করে, তা এরা নিজেরাও জানে না। বর্তমান আওয়ামীলীগসরকার যদি কোনো ভুল করে থাকে―তাহলে, তা তারা দেখাতে পারতো। কিন্তু, তারা সরকারের নারীনীতির কোনো ভুল ধরতে না-পেরে মনগড়া কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এইজাতীয় ‘শয়তানী’ অব্যাহত রেখেছে। আহা-রে! যারা আল্লাহর ওলীর মাজারে বোম-ফাটায় তারা আবার মানুষ নাকি? যারা প্রকাশ্যে আল্লাহর ওলীদের মানে না। আল্লাহর ওলীদের ব্যাপারে অবজ্ঞাসূচক কথা বলে, তারা তো পশুরও অধম। যারা বলে ‘পীর-মুরীদ’ বলে কিছু নাই, তারা যে কোন্ জাতের শয়তান―তা হয়তো ইবলিশ-শয়তান নিজেও জানে না। বাংলাদেশের এইজাতীয় শয়তানদের নিয়ে ইবলিশ-শয়তানও হয়তো চিন্তিত। এরা যে একদিন তাকেও টপকে যেতে পারে, সেই ভাবনা শয়তানেরও আছে। আমার মনে হয়: কামিনীর মতো লোকদের রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ‘জাতীয় শয়তান’ ঘোষণা করা রাষ্ট্রের জন্য পবিত্র দায়িত্ব-কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

রায়হান কবির বললো, “আজ হরতালের দিন বাসা থেকে বের হয়ে বুদ্ধিমানের কাজই করেছি, স্যার। নইলে, আপনার এইসব মূল্যবান কথা আমরা শুনতে পেতাম না।”
এমন সময় বাসের কন্ডাক্টর বাজখাঁই গলায় চেঁচিয়ে জানালো: “নামেন। নামেন। গাড়ি আর যাইবো না। গুলিস্তান আইসা পড়ছি।”

ওরা বাস থেকে নেমে পড়লো। ওরা হাইকোর্টের কাছে নেমেছে। হাঁটতে-হাঁটতে ওরা এবার পল্টনের দিকে রওনা হলো।


(চলবে)

সাইয়িদ রফিকুল হক
২১/০৭/২০১৮
(রচনাকাল: ২০১১ খ্রিস্টাব্দ)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেখাটা সম্পূর্ণ পড়তে পারিনি। তবে যেটুকু পড়েছি, ভালো লেগেছে। আশা করি প্রভু চাইলে আগামীকাল বাঁকিটুকু পড়ার চেষ্টা করবো।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুবই আনন্দিত হলাম। তাই, বুকে সাহস নিয়ে বাকী পর্বগুলো পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ধর্মের ভিতরে আগাছা জন্মেছে বেশি। আর এই আগাছাগুলো খুবই দুনিয়ালোভী। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আর সঙ্গে রইলো শুভেচ্ছা।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আমি ধর্মে বিশ্বাসী একজন মানুষ। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...

glqxz9283 sfy39587p07