Skip to content

এই মীরজাফরের দেশে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হয়ো না

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি




এই মীরজাফরের দেশে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হয়ো না
সাইয়িদ রফিকুল হক

১৯৭১ সালে, নিজের জীবনবাজি রেখে যাঁরা পৃথিবীর সর্বকালের সর্বকুখ্যাত হায়েনা, নরপশু, বেজন্মা, রক্তলোলুপ ও মানবতাবিরোধী পাকিস্তানীশয়তানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধা। তাঁরা সেই সময় কোনোকিছুর লোভে নয়—বরং সম্পূর্ণ নির্মোহ, নির্লোভ ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য পাকিস্তানীহানাদারদের বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সেদিনের ও কালের বিচারে তাঁরা একেকজন ছিলেন সত্যি মহামানব। ১৯৭১ সালে, আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের চোখেমুখে, মনেপ্রাণে বুকের ভিতরে ছিল শুধু মা, মাটি ও দেশ। এর বাইরে তাঁদের আর-কোনো স্বপ্ন ছিল না। তাই, চিরদিন স্যালুট তাঁদের জন্য। মুক্তিযোদ্ধাদের মতো এমন নির্ভেজাল দেশপ্রেমিক, দেশদরদী ও আত্মত্যাগী মানুষ এই দেশে আর হবে না। এঁরা জাতির সূর্যসন্তান। এঁরা চিরদিন জাতির নমস্য। এঁরা আমাদের প্রাতঃস্মরণীয় মহাপুরুষ।

মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগেই আমেরিকা-চীন-সৌদিআরবের মতো শয়তানরাষ্ট্র সেদিন পাকিস্তানের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও মাত্র নয়টি মাসে বাংলাদেশ নামক ক্ষুদ্ররাষ্ট্রটি স্বাধীনতালাভ করতে পেরেছে। আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন ইস্পাতদৃঢ়-প্রতিজ্ঞা ও দীপ্তচেতনার মাধ্যমে মহাসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমাদের প্রতিপক্ষ ছিল একদিকে বেজন্মা-পাকিস্তান ও তাদের মিত্র শক্তিশালী আমেরিকা-চীন-সৌদিআরব এবং বাংলাদেশে জন্মলাভকারী বাংলাদেশবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটি’র কুলাঙ্গারগং। আর এসবের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক ছিল সেদিনের ও আজকের পাকিস্তানের চিরগোলাম ‘জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান’ ও তাদের অঙ্গসংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রসংঘ’ (বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির)। ১৯৭১ সালের নয়মাসের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা খুব সাধারণ পোশাক পরে আর খুব সামান্য খাবার খেয়ে পাকিস্তানীহানাদারগোষ্ঠী এবং তাদের চিরদোসর এই রাজাকার-বেজন্মাদের পরাজিত করেছিলো। কিন্তু এই বেজন্মাদের বংশধর এখনও বাংলাদেশে রয়ে গেছে। এরা এখন নতুনভাবে নিজেরা আত্মপ্রকাশ করতে চাইছে। আর এজন্য তারা মুক্তিযুদ্ধের কথিত পক্ষশক্তির কাঁধেও সওয়ার হতে দ্বিধা করছে না।

আলোচনার শুরুতেই একটি কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই: এই দেশের রাজাকার ও তাদের বংশধররা সবসময় কৌশলী, অপকৌশলী ও শিয়ালের মতো শঠতার আশ্রয়গ্রহণকারী। এই দেশের রাজাকারদের মতো এমন জঘন্য প্রাণি ও ধূর্তশয়তান পৃথিবীর আর কোথাও নাই।

বর্তমান-সরকার দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা-প্রদানে আর তাঁদের জীবনমানের উন্নয়নের ক্ষেত্রে (তাঁদের জন্য) মাসিক সম্মানীবৃদ্ধি তথা সন্তোষজনক রাষ্ট্রীয় ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। সরকারের অনেক দোষ থাকতে পারে। কিন্তু এই কাজটি তো নিঃসন্দেহে মহৎ। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের প্রতি সম্মানপ্রদর্শন করাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমাদের দেশের একশ্রেণীর অমানুষ এখন সরকারের বিরোধিতার নামে মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় ভাতাপ্রদানেরও বিরোধিতা করছে। এরা সবসময় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতাবৃদ্ধির বিরুদ্ধে। এরা সুযোগ পেলেই বলে থাকে, মুক্তিযোদ্ধাদের এতো ভাতার কী দরকার? তাঁরা তো দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। দেশের মানুষ তাঁদের সম্মান করে—এটাই তো তাঁদের জন্য বড় পাওয়া! যারা এসব বলে থাকে তারা আসলে রাজাকারের বাচ্চা রাজাকার। এরা প্রত্যেকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বংশধর ও তাদের আন্ডাবাচ্চা। এরা জন্মগতভাবে, পারিবারিকভাবে আর রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানের চিরদাস, অমানুষ আর নরপশু। এদের কোনো ধর্ম নাই, চরিত্র নাই, মনুষ্যত্ব নাই—এমনকি ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞানও নাই। এরা আমাদের দেশের চিহ্নিত কুলাঙ্গার। এরা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বংশধর বলেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত সামান্য রাষ্ট্রীয় ভাতা দেখে বুক ফেটে মরার উপক্রম হচ্ছে। আর সবসময় ইনিয়েবিনিয়ে এর বিরোধিতা করছে।

শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর বহু দেশ (আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা ইত্যাদিসহ) তাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের বীরযোদ্ধা তথা রাষ্ট্রীয় বীরদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা এখনও বহাল রেখেছেন এবং তা যথাসময়ে আবার বৃদ্ধিপ্রাপ্তও হয়ে থাকে। আর বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সামান্য বৃদ্ধি পেলে কিংবা তাঁদের জন্য একটুআধটু সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করলে পাকিস্তানীরক্তের উত্তরাধিকারীরা বুক চাপড়ে দাপাতে থাকে! মুক্তিযোদ্ধাদের একটাকিছু পেতে দেখলে এদের গা যেন বিছুটিপাতার স্পর্শে ভয়ানকভাবে জ্বলতে থাকে। আর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে এদের মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়। এরা এমনই কুকুর। নিজেরা দেশের জন্য কোনো অবদান রাখেনি বরং পাকিস্তানীদের পক্ষে যাবতীয় অপকর্ম করেছে। আর এদেরই এখন, মুক্তিযোদ্ধাদের সামান্য রাষ্ট্রীয় ভাতাবৃদ্ধি দেখে কলজে ফেটে যাচ্ছে, এবং প্রবল আক্রোশবশত তারা যেন মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে।

কিছুদিন আগে দেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে ‘চাকরিক্ষেত্রে কোটাসংস্কারের নামে’ একটা আন্দোলন শুরু করা হয়েছিলো। আর এই আন্দোলনে ঢুকে পড়েছিলো একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বংশধর জামায়াত-শিবিরের একদল শিক্ষার্থী। এরা এই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এরা দীর্ঘদিনের আক্রোশ মিটিয়েছে। এরা কোটাসংস্কারের নামে রাজপথে নেমে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়েছে! তাঁদের জন্য নির্ধারিত ‘কোটা-বাতিলে’র জন্য নানারকম আজেবাজে, অশ্লীল ও নীতি-নৈতিকতা বর্জিত কথাবার্তা বলেছে। ‘শিবির’ নামক রাজাকারসন্তানরা সকলের সঙ্গে ‘জয়-বাংলা’ শ্লোগানও দিয়েছে! এরা হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর ছবিসম্বলিত’ ছোট-ছোট প্ল্যাকার্ডও বহন করেছে! এমনকি ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ লেখা প্ল্যাকার্ডও ব্যবহার করেছে! আর তারা প্রকাশ্যে বলেছে: মুক্তিযোদ্ধার কোটাসহ তাদের নাতিপুতীর কোটা বাতিল চাই—করতে হবে! সেই সময় রাজাকারদের খেলা জমে উঠেছিলো। এদের দ্বারা গঠিত হয়েছিলো—“সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ”! কথিত এই পাতিসংগঠনের চার-মুখপাত্রই ছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান। এরা নব্যরাজাকার। এই কুলাঙ্গার রাজাকারসন্তানরা দেশের সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য হঠাৎ “সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ” নামে একটি সংগঠন দাঁড় করিয়েছিলো। আর এই অমানুষরাই তাদের বুকে, হাতে ও গালে লিখেছিলো—“আমি রাজাকার”! কতবড় ধৃষ্টতা! সাধারণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সুযোগে এরা আমাদের অস্তিত্বের মর্মমূলে আঘাত করেছে! হ্যাঁ, যারা এইসব লিখেছিলো, বলেছিলো, আর করেছিলো তারা আসলেই রাজাকার আর রাজাকারের সন্তান। নয়তো কোনো মানুষের সন্তান আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোনো মানুষ কখনও-কোনোদিন নিজেকে ‘রাজাকার’ ভাবতে কিংবা নিজের শরীরে “আমি রাজাকার” শব্দটি লিখে ধারণ করতে পারে না। কারণ, বাঙালির ইতিহাসে রাজাকার সবচেয়ে বড় বেজন্মা আর বেজন্মা-শব্দ। ১৯৭১ সালে, আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা, এই রাজাকার ও পাকিস্তানী বেজন্মাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছিলেন। তাই, এরা তো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটির প্রতি ক্ষিপ্ত হবেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো—একদল অর্বাচীন, নাদান ও গড্ডলিকা প্রবাহে গা-ভাসানো সাধারণ শিক্ষার্থী নামক ইতিহাসবিমুখ-বোকাচণ্ডীরাও এই রাজাকারদের ফাঁদে পা দিয়েছিলো। আর তারা রাজাকারসন্তানদের ফাঁদে পা দিয়ে রাজাকারসন্তানদের সঙ্গে সমস্বরে বলেছে: আমি রাজাকার!
এদের এই জঘন্য আচরণে দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকই মনেপ্রাণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন, আর লজ্জিত হয়েছেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। এইসব কুলাঙ্গারের জন্ম দেওয়ার জন্যই কি তাঁরা নয়টি মাস যুদ্ধ করেছিলেন? সেদিনের মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের কী স্বার্থ ছিল? তাঁরা ১৯৭১ সালে, ঠিকমতো খাবার পাননি, তাঁদের পরনে তেমন কাপড়চোপড় ছিল না, তাঁরা ভালোভাবে চিকিৎসাও পাননি—তবুও তাঁরা রণাঙ্গন ছেড়ে পালাননি। নিজের জীবন দিয়ে পাকিস্তানী ও তাদের দোসর রাজাকার-বেজন্মাদের শায়েস্তা করেছিলেন। এই কি তাঁদের অপরাধ?

কোটাসংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে একেবারে নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে আর তা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বগলদাবা করে! রাজাকাররা সবসময় সুযোগসন্ধানী। এরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাঁধে সওয়ার হয়ে নিজেদের স্বার্থআদায়ে ব্যস্ত ছিল। ২০১৩ সালে, যে শাহবাগের গণজমায়েতে একদিন বেজন্মা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো—সেই শাহবাগেরই গণজমায়েতে ২০১৮ সালে কাদের মোল্লার প্রেতাত্মারা গর্বভরে বলেছে: আমি রাজাকার! এরা তো বাংলার চিরকালীন মীরজাফর।

অনেকে বলতে পারে, দেশে ভুয়া-মুক্তিযোদ্ধা আছে। কথাটি সত্য। আমাদের মনে রাখতে হবে, যে জিনিস যত দামি আর মূল্যবান—তারই তত বেশি নকল হয়। তাই, স্বর্ণ-নকল হয় সবচেয়ে বেশি। কিন্তু পিতল বা কাঁসার কোনো নকল হয় না। দেশের মুক্তিযোদ্ধারাও আমাদের কাছে সবচেয়ে দামি ও আদরণীয়। তাই, এখন একশ্রেণীর অসৎ, রাজাকার, দুশ্চরিত্রবান ও লোভী নরপশু নিজেদের গায়ে মুক্তিযোদ্ধার তকমা-চাপানোর জন্য দুই-নাম্বারির আশ্রয়গ্রহণ করেছে। এরা সুযোগসন্ধানী বলেই ভুয়া-মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে। কিন্তু এর দায় কোনোভাবেই আমাদের প্রকৃত-মুক্তিযোদ্ধাদের নয়। এগুলো যথাযথভাবে দেখার এবং ভুয়া-মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করে তাদের কঠোর শাস্তির বিধান করা রাষ্ট্র ও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কোটাআন্দোলনকে সমর্থন করে অনেকে সেদিন ফেসবুকে মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করে যে-সব কদর্য, নোংরা ও জঘন্য ভাষায় স্ট্যাটাস দিয়েছিলো—তা এখানে কোনোভাবেই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সামান্য এক কোটাকে কেন্দ্র করে রাজাকারের সন্তানরা সেদিন উলঙ্গ হয়ে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সরাসরি আক্রমণ করেছিলো। এক যুদ্ধাপরাধীর সন্তান লিখেছিলো: একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধারা এই কোটার জন্যই জীবন দিয়েছিলো! আরেক রাজাকারসন্তান লিখেছিলো: মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যদি এই দেশে কোটাসংরক্ষণ করা হয় তাহলে ইসলামীচিন্তাবিদসহ ইসলামীআন্দোলনের সকল শহীদ, আলেম-উলামা ও তাদের সন্তানদের জন্যও বিশেষ কোটাব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে! ধৃষ্টতার নমুনা দেখুন। এই বেজন্মারাও নাকি ছাত্র আর মেধাবী!

স্বাধীনবাংলাদেশে দেশমাতৃকার সবচেয়ে দরদীসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সম্মান লাভ করা উচিত ছিল। তাঁদের আরও বেশি সম্মান আমাদের করা উচিত। কিন্তু আমরা তাঁদের তা দিতে পারিনি। তাঁদের প্রতি কিছুটা সম্মান জানিয়ে এদেশে তাঁদের জন্য সামান্য রাষ্ট্রীয় ভাতার ব্যবস্থা করাতেও পাকিস্তানীরক্তের উত্তরাধিকারীদের ভয়ানক গাত্রদাহ শুরু হয়ে গেছে। এদের মতে, রাজাকারদের ভাতা দেওয়া উচিত! কারণ, রাজাকাররা নাকি ইসলামের স্বার্থে পাকিস্তানকে রক্ষার সর্বাত্মক প্রচেষ্টাগ্রহণ করেছিলো। আর এটি নাকি সওয়াবের কাজ ছিল! বাংলার দুই কুখ্যাত সামরিকজান্তা ও স্বৈরাচার জিয়া ও এরশাদের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। আর তাই, এইসময় মুক্তিযোদ্ধাসন্তানদের জন্য সংরক্ষিত ও বরাদ্দকৃত কোটাপদ্ধতি মানা হয়নি। তখন প্রশাসনের ভিতরে-বাইরে রাজাকারদের জন্য বিশেষ কোটাপদ্ধতি চালু ও বহাল ছিল। তারই ভিত্তিতে একাত্তরের কুখ্যাত নরঘাতক ও রাজাকারসর্দার গোলাম আযমের পুত্র আযমী বাংলাদেশ-সেনাবাহিনীতে অফিসারপদে যোগদান করতে পেরেছিলো। এই দেশে রাজাকারদের প্রতি অনেকের খুব মায়াদয়া। তাই, রাজাকারদের অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দিতে গেলেও অনেকের মন কাঁদে। তখন কত আইনকানুনের খেলা চলে! আর তখন এইসব নীরব-দেশদ্রোহী খুঁজতে থাকে আন্তর্জাতিক আদালতের মানদণ্ড! আর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এদের মনে কোনো শ্রদ্ধার উদ্রেক হয় না! দেশে এইরকম মীরজাফরের সংখ্যা একেবারে কম নয়।

এই দেশে আমরা আজও জাতির সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে শিখিনি। তাঁদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ খুবই কম। এখনও অনেকে রাজাকারদের বুকের ভিতরে রেখে তাদের প্রতিপালন করে চলেছে। আর একটু সুযোগ পেলেই এরা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। তাই, আজ মনের দুঃখে বলি: এই মীরজাফরের দেশে কেউ মুক্তিযোদ্ধা হয়ো না।


সাইয়িদ রফিকুল হক
২৩/০৪/২০১৮

glqxz9283 sfy39587p07