Skip to content

খালেদা জিয়ার মামলা, শাস্তি এবং রাজনৈতিক নষ্টচরিত্র ও পথভ্রষ্টদের উন্মাদনা

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



খালেদা জিয়ার মামলা, শাস্তি এবং রাজনৈতিক নষ্টচরিত্র ও পথভ্রষ্টদের উন্মাদনা
সাইয়িদ রফিকুল হক

“জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে”র দুর্নীতির একটি মামলায় খালেদা জিয়াকে মাত্র ৫বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সামাজিক অবস্থান ও বয়স বিবেচনা করে নাকি তার বিরুদ্ধে এই রায় প্রদান করা হয়েছে। অন্যথায়, দুর্নীতির গুরুতর ঘটনায় তার যাবজ্জীবন-কারাদণ্ড হতে পারতো।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কুলাঙ্গারপুত্র তারেক জিয়াসহ অন্যান্যদেরও শাস্তি হয়েছে। এই মামলার ছয় আসামীর মধ্যে তিনটি পলাতক রয়েছে।

দীর্ঘকাল যাবৎ আমাদের দেশের শাসকগণ মনে করে থাকে: তাদের কোনো অপরাধ নাই। তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে যেকোনো অন্যায়-কর্মকাণ্ডপরিচালনা করতে পারবে। এতে তাদের কোনো অপরাধ নাই। তাদের কোনো কৈফিয়ৎ নাই। তাদের কোনো জবাবদিহিতা নাই। তাদের কোনো পাপ নাই। আর তাদের কখনও বিচারের সম্মুখীন করা যাবে না।
এই দেশে ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’। অর্থাৎ, যত পাপ শুধু গরিবের।

এই দেশের শাসকগোষ্ঠী সবসময় নিজেদের ধরাছোঁওয়ার বাইরে মনে করে থাকে। এগুলো তাদের অপরাধ ও ধৃষ্টতা। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে এদেশের শাসকগণ নানারকম অন্যায়-অবিচার করলেও তা সবসময় অত্যন্ত কুকৌশলে ধামাচাপা দেওয়া হয়।


এবার আসুন দেখি, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ কেন সত্য—


১. “জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট” ও “জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে”র জন্য সৌদিআরবের একজন দাতা ১৯৯১ সালের ৯ই জুন ‘ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকে’র ডিডি-মারফত ১২লক্ষ ৫৫হাজার মার্কিন ডলার (তৎকালীন বৈদেশিক মুদ্রার মানে তা বাংলাদেশী-টাকায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪কোটি ৪৪লক্ষ ৮১হাজার ২১৬ টাকা) তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে বিশেষ-অ্যাকাউন্টে পাঠান। এই অর্থউত্তোলনের জন্য ইতঃপূর্বে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে (পক্ষে) সোনালী-ব্যাংকের রমনা-শাখায় “প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল” নামে একটি সঞ্চয়ীহিসাব খোলা হয়েছিলো। আর এই চলতি হিসাব নম্বর ছিল—৫৪১৬। অর্থাৎ, সৌদিদাতার পাঠানো সমুদয় অর্থ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে জমা হয়। তার অধীনে জমাকৃত এই টাকা পরবর্তীতে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছে তদীয় পুত্র তারেক রহমান এবং জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

২. সৌদিদাতা এটি তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশসরকারকে অনুরোধ করেছেন। এজন্য দুদক ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা-থানায় খালেদা জিয়া ও তদীয় জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এতিমখানার টাকা আত্মসাতের দায়ে মামলাদায়ের করে। এই মামলার অন্যান্য আসামীরা হলো: মমিনুর রহমান, সাবেক সচিব ড. কামাল সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী কাজী সলিমুল হক ও শরফুদ্দিন আহমেদ।
৩. সৌদিদাতার পক্ষ থেকে কেউই আজ পর্যন্ত এই টাকার কথা অস্বীকার করেনি। বরং তারা যে উক্ত অঙ্কের টাকা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছেন, তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

৪. বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গও স্বীকার করেছে যে, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে’র নামে বিদেশ থেকে টাকা এসেছে, এবং তা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ ব্যবহারও করেছে।

৫. ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে’র নামে আসা টাকাগুলো গ্রহণ করেছে তৎকালীন বিএনপি’র হোমরাচোমরা নেতৃবৃন্দ। আমাদের মনে রাখতে হবে: উক্ত টাকা জমা হয়েছিলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ অ্যাকাউন্টে।

৬. ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে’র নামে তৎকালে সরকারিভাবে বগুড়া-জেলার গাবতলীতে একটা সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছিলো, এবং সেখানকার একটি মৌজায় ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে’র নামে ২.৭৯ একর জমিও ক্রয় দেখানো হয়েছিলো।

৭. এই টাকা খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরে গ্রহণ ও উত্তোলন করা হয়েছিলো।

৮. সৌদিদাতার অনুদান থেকে আসা কয়েক কোটি টাকা এখন গেল কোথায়? এসব কাদের জানার কথা? নিশ্চয়ই উক্ত টাকা জমার অ্যাকাউন্টধারী খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানেরই জানার কথা।

৯. এসব টাকা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তার কুলাঙ্গার পুত্র তারেক জিয়াগং ভোগ-দখল করেছে।

১০. সৌদিআরবের সেই দাতা একবারও বলেননি যে, তিনি বিচার চান না কিংবা উক্ত টাকার হিসাব চান না। এতেই প্রমাণিত হয় যে, তাঁর পাঠানো দানের টাকাগুলো ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।


অতএব, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য ও প্রমাণিত। আর এই শাস্তিও তার প্রাপ্য।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এইধরনের বিচারকার্যেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখন থেকে এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে যে, ক্ষমতাসীনরা যতই ক্ষমতাধর হোন না কেন, রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে তাদের যাবতীয় কাজের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। এব্যাপারে আর-কাউকে রেহাই দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আমাদের দেশের শাসকদের মনে এতে একরকম ভীতির সঞ্চার হবে। দেশে ‘সে যেই হোন না কেন’ তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। তার বিচার করতে হবে এবং বিচারের মাধ্যমে শাস্তিও দিতে হবে। তবেই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।

একটা দুর্নীতিবাজের পক্ষে উকালতি করে এবং গলাবাড়িয়ে কোনো লাভ নাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়াপরিবার যে দুর্নীতির শিরোমণি তাতে আজ আর কারও মনে সন্দেহ নাই। একটা ভাঙ্গা-সুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জির ভিতর দিয়ে বেরিয়ে এসেছে আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো হাজার-হাজার কোটি টাকা! মানি-লন্ডারিং থেকে শুরু করে এমন কোনো অপকর্ম নাই যে, জিয়াপরিবার করেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এরা রাজাকারতন্ত্র, ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতন্ত্র, জঙ্গিবাদতন্ত্র ও ধর্মীয় উন্মাদনাসৃষ্টিতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় চিরআত্মনিয়োগ করেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চিরদিনের নষ্টচরিত্র একটা মওদুদ আহমেদ, রাজাকারপুত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রাজাকারপুত্র রুহুল কবির রিজভী, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, রাজাকারপুত্র জয়নাল আবেদীন ফারুক, পাকিস্তানীদালাল ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পাবনা-জেলার সাবেক নকশালনেতা ও রাজাকারপুত্র শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানী, নাজিমউদ্দিন আলম ইত্যাদি আজ খালেদা জিয়ার জন্য মায়াকান্নাপ্রদর্শন করে চলেছে। এরা প্রত্যেকেই দুর্নীতিবাজ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী এবং পাকিস্তানপ্রেমিক অপশক্তি। এরা কখনও দেশের স্বার্থে রাজনীতি বোঝেনি। এরা বোঝে শুধু ক্ষমতা। তাই, চিরদিন ক্ষমতার স্বাদগ্রহণ করতে এরা দুর্নীতিবাজ জিয়াপরিবারের তল্পিবাহক হয়ে জীবনপরিচালনা করতে এতোটুকু লজ্জাবোধ করে না।
টিভি-ক্যামেরার সামনে এদের বাচনভঙ্গি দেখলে মনে হয়, দেশটা যেন নির্লজ্জের চারণভূমি!

বিচার হয়েছে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাত্র একটি দুর্নীতির। কিন্তু এই মামলার রায় নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের এতো আস্ফালন ও উন্মাদনা কেন? তবে কি তারা চিরদিন দুর্নীতি আর সন্ত্রাসকেই ভালোবাসে?



সাইয়িদ রফিকুল হক
০৯/০২/২০১৮


glqxz9283 sfy39587p07