ফিলিস্তিনীদের জেরুসালেমের দাবি ছেড়ে দিতেই হবে | amarblog.com: Bangla Blog ( আমারব্লগ ) with no Moderation.

Skip to content

ফিলিস্তিনীদের জেরুসালেমের দাবি ছেড়ে দিতেই হবে

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



ফিলিস্তিনীদের জেরুসালেমের দাবি ছেড়ে দিতেই হবে
সাইয়িদ রফিকুল হক

পৃথিবীর সমস্ত ইতিহাস এবং প্রামাণ্য-ধর্মগ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জেরুসালেম সবসময় বনীইসরাইলীদের বা ইহুদীদের। পৃথিবীতে মুসলমানদের মতো এরাও আল্লাহর কিতাবধারী ধর্মবিশ্বাসী ও প্রাচীন জাতি। তাই, এদের অবজ্ঞা কিংবা অবহেলা করার কোনো সুযোগ মুসলমানদের নাই। আল্লাহর কিতাবধারী ধর্মবিশ্বাসীসম্প্রদায়ের মধ্যে এদের অবস্থান অনেক শক্তিশালী।

ইহুদীরা প্রাচীন জাতি। ছোট্ট একটা জেরুসালেম-শহরকে কেন্দ্র করে তাদের বিচরণ অনেক-অনেক বছর আগে থেকে। হাজার-হাজার বছর যাবৎ ইহুদীসম্প্রদায় জেরুসালেম-নগরীতে বসবাস করে আসছে। তাছাড়া, এখানকার ‘মসজিদুল আকসা’ বা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ নামক ইবাদতস্থানটিও এদের। এদের নবী হজরত মুসা আ. এখানে নিয়মিত আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করেছেন। এসব পৃথিবীর চিরসত্য ইতিহাস। এগুলো আজ কীভাবে অস্বীকার করা যায়? আর আমাদের আরও মনে রাখতে হবে: প্রাচীনকালে ধর্মউপাসনালয়কেন্দ্রিক জনমানুষের বসতি গড়ে উঠতো। হাজার-হাজার বছর আগে এখানে ইহুদীসম্প্রদায়ের বসতি গড়ে উঠেছিলো।

পৃথিবীর উন্নত ও যুক্তিবাদী মানুষগুলো সত্যকে বিনাবাক্যব্যয়ে মেনে নেয়। এটি তাদের মনুষ্যত্ব। কিন্তু আমাদের এশিয়া তথা সৌদিআরব, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের অধিকাংশ জাহেল-মুসলমান যুক্তিতর্কের কোনো তোয়াক্কা করে না। এরা গায়ের জোরে সবকিছুতে নিজেদের কর্তৃত্ব ও আধিপত্যবিস্তার করার অপচেষ্টা করে চলেছে। এরা কখনও সত্য, সুন্দর ও যুক্তিতর্কের ধার ধারে না। এদের কাছে নিজেদের ক্ষুদ্রজ্ঞান ও অজ্ঞানতা অনেকবড় কিছু। বিশেষতঃ বাংলাদেশের একশ্রেণীর মুসলমান সবসময় অতিজাহেল। এরা গায়ের জোরে আর আন্দাজে কথাবার্তা বলতে অভ্যস্ত। আর কারও সঙ্গে যুক্তিতর্কে টিকতে না পারলে—এরা তাকে এককথায় ‘কাফের-মুরতাদ-নাস্তিক’ বলে সবসময় ঘায়েল করার চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু এরা কখনও নিজেদের মানবিক সত্তা ও বোধকে জাগ্রত করে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না। এদের হৃদয়ে তাই সত্য ধরা দেয় না। এরা চিরদিন মিথ্যার উপাসক হতে ভালোবাসে।

বাংলার মুসলমানশ্রেণী তাই যেকোনো খারাপ লোককে ‘ইহুদী’ বলে গালিগালাজ ও তিরস্কার করে থাকে। এটি বাংলার মুসলমানদের একধরনের হীনমন্যতা। কিন্তু কোনো ইহুদী কিংবা খ্রিস্টান তো কখনও তাদের স্বজাতির খারাপ কাউকেই ‘মুমীন’ বা ‘মুসলমান’ বা ‘মুসলমানের বাচ্চা’ বলে গালি দেয় না। কিন্তু আমরা মুসলমান সবসময় অন্ধকারে থাকতে ভালোবাসি। তাই, নিজেদের ধর্ম ব্যতীত আর-কারও ধর্মকে বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা করতে রাজী নই। এসকল পাশবিকতার কারণে আমাদের সমাজে ধর্মকেন্দ্রিক এতো-এতো সমস্যা ও অসভ্যতার জন্ম হচ্ছে। আমাদের, মুসলমানদের মধ্যে সহনশীলতা, ক্ষমাশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, পরধর্মসহিষ্ণুতা ইত্যাদি ক্রমশ লোপ পাচ্ছে। আজ বাংলার মুসলমানসহ পৃথিবীর বিশেষ করে আরবের মুসলমানরা ‘ইহুদী’ শব্দটিকে শুধু গালি হিসাবে ব্যবহার করে থাকে! আর তারা এই পৃথিবীতে ইহুদীদের কোনোকিছু দিতে রাজী নয়। তারা মনে করে থাকে: এই পৃথিবীর সবকিছু শুধু আরবদের আর মুসলমানদের! এই মূর্খতা আজ মুসলমানদের গ্রাস করছে।

আমাদের দেশের ও দেশের বাইরের অধিকাংশ মুসলমানই মনে করে থাকে: তারা যা বলে তা-ই সত্য—যদিও তা অযৌক্তিক হোক না কেন। আর অন্যধর্মের কোনো মানুষ যৌক্তিক কথা বললেও তাতে এই শ্রেণীর মুসলমানদের গা-জ্বলে। এই হীনমানসিকতা দূর না হলে মুসলমানদের অবস্থার কোনো উন্নয়ন হবে না।

অতীতের মতো বর্তমানেও মুসলমানসম্প্রদায় গায়ের জোরেই জেরুসালেমকে নিজেদের বলে দাবি করে পৃথিবীর পরিবেশ-পরিস্থিতিকে অশান্ত করার দুরভিসন্ধি করে যাচ্ছে। এদের কে বোঝাবে—জেরুসালেম মুসলমানদের নয়। এর প্রকৃত দাবিদার ইহুদীসম্প্রদায়।

অতিসম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করেছেন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এটি সঠিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। কিন্তু ফিলিস্তিনের মুসলমানরা এই ঘোষণা মানতে নারাজ। তারা জেরুসালেমকে ইস্যু করে সংঘাতের পথ বেছে নিচ্ছে। আর এই সংঘাত-সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলার জন্য ইরান নামক দেশটি জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনীদের শহর হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে! এগুলো একধরনের মূর্খতা। আর সংঘাতের পথে নিজেদের উদ্বুদ্ধ করা। আর একশ্রেণীর মুসলমান সেই কাজটিই এখন করছে।

ফিলিস্তিনীদের নিজেদের স্বার্থেই তাদের মনগড়া জেরুসালেমের দাবি ছেড়ে দিতে হবে। জেরুসালেম কখনও-কোনোকালে মুসলমানদের ছিল না। ফিলিস্তিনী-মুসলমানদের বোঝা উচিত যে, তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র কাবাশরীফ। এটিই তাদের একমাত্র কিবলা। কিন্তু আমরা মুসলমান এখন গায়ের জোরে জেরুসালেম-দাবি করলেই তো হবে না। পৃথিবীতে আরও মানুষ আছে, এখনও সত্যইতিহাস অক্ষুণ্ণ আছে। আর সেগুলো কী বলে? জেরুসালেম ইসরাইলীদের।

তিনটি প্রধান কারণে (ফিলিস্তিনীদের একগুঁয়েমীবশতঃ দাবি করা) জেরুসালেমকে ছেড়ে দিতে হবে। এই তিনটি কারণ হচ্ছে—

১. জেরুসালেমকেন্দ্রিক শহরটির আদি-বাসিন্দা বনীইসরাইল-সম্প্রদায়। ইহুদীরা এখানকার মসজিদটিকে কেন্দ্র করে তাদের বসতি গড়ে তোলে। তাদের নবীরা এখানেই নিয়মিত ইবাদত করেছেন। ইহুদীসম্প্রদায় তাদের নবীদের সঙ্গে এখানেই ইবাদতে মশগুল ছিল। একটা সময় মুসলমান ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ই ইহুদীদের উপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে এখান থেকে তাদের বিতাড়নের চেষ্টা করেছে। এতে বহুসংখ্যক ইহুদী মারা গিয়েছে। আবার কেউ-কেউ আত্মরক্ষার্থে অন্যত্র সরে গিয়েছিলো। আবার কেউ-কেউ জীবনের মায়াত্যাগ করে এখানেই পড়ে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা ইহুদীরা পুনরায় জেরুসালেমে ফিরে আসতে থাকে। তারা এখানে বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। এখন জেরুসালেমকে ইসরাইলীদের জন্য ছেড়ে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. ধর্মগ্রন্থভিত্তিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হলেও ইসরাইলীরা জয়লাভ করবে। এর কারণ, পাল্লা তাদের দিকেই ভারী। তাদের নবীরা ‘মসজিদুল আকসা’ আবাদ করেছেন। এখানে, আমাদের নবী হজরত মোহাম্মদ সা. কখনও আসেননি (শুধু ‘শবে মেরাজে’র একটিমাত্র ঘটনা উল্লেখ করে তাঁর আগমনের কথা বলা হয়েছে)।
৩. জেরুসালেম নামক ছোট্ট শহরটি বর্তমানে ইসরাইলের পেটের ভিতরে। ইসরাইলের নির্ধারিত সীমানার মধ্যস্থলে এটি অবস্থিত। এটি ইসরাইলের হৃদপিণ্ডস্বরূপ। এটি এখন কীভাবে ইসরাইলীরা ছেড়ে দিবে? ফিলিস্তিনীদের এটা বোঝা উচিত। আর তাদের দাবিটা মোটেও কার্যকর ও যুক্তিসঙ্গত নয়।

স্বাধীন ফিলিস্তিনরাষ্ট্রের জন্য আজ যা প্রয়োজন:

১. ফিলিস্তিনীদের ইসরাইলরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে হবে। তাদের সহনশীল হতে হবে।
২. ফিলিস্তিনীদের নির্দিষ্ট সীমারেখা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। প্রয়োজনে আলাপআলোচনার মাধ্যমে সবকিছু সুরাহা করতে হবে।
৩. ফিলিস্তিনীদের অবিলম্বে জেরুসালেম-শহরের দাবি ছেড়ে দিতে হবে। আর মনে রাখতে হবে: এটি তাদের নয়।
৪. বিশ্বশান্তি ও স্বাধীন ফিলিস্তিনরাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পৃথিবীর কুখ্যাত সন্ত্রাসীসংগঠন ‘হামাস’কে চিরতরে নিষিদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলতে হবে।
৫. বিনাবাক্যব্যয়ে ফিলিস্তিনীদের জাতিসংঘের প্রস্তাবিত ১৯৪৭ সালের ঘোষণা মেনে নিতে হবে।
৬. ফিলিস্তিনীদের সর্বপ্রকার সংঘাতের পথ চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে।
৭. ফিলিস্তিনীদের ইহুদীবিরোধী হীনমানসিকতা চিরতরে পরিহার করতে হবে।

জেরুসালেম-শহরটি ইসরাইলীদের। তাই, ফিলিস্তিনীদের এখনই জেরুসালেম-শহরের দাবি ছেড়ে দিয়ে নিজেদের ভূখণ্ড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তবেই পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। তবেই পৃথিবীতে স্বাধীন ফিলিস্তিনরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।



সাইয়িদ রফিকুল হক
১৮/০১/২০১৮


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পবিত্র স্থানে যদি জোর করে সেটেল করাতে হয়, তবে মক্কা নগরীতেও হিন্দুদেরকে জোর করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, কারণ নবীর জন্মের আগে ঐটা তো হিন্দুদেরই মন্দির ছিল - তাইনা? তেমনি মুসলিমরা যেখানে যেখানে মসজিদ বানিয়েছে, সেসব দেশ থেকে সব বিধর্মীদেরকেও বের করে দিতে হবে।

কথা কেউ শুনতে চায়না - সবাই কেবল বলতে চায়। তাই কাজও কিছু হয়না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দেখুন, নবী সা।।-এর জন্মের আগে মক্কানগরীতে হিন্দুরা নয়, দেবদেবী বা মূর্তিপূজারীরা থাকতো। আর মূর্তিপূজারী বলতে তারা হিন্দু ছিল না।

তাছাড়া,

ইহুদীরা প্রাচীন জাতি। ছোট্ট একটা জেরুসালেম-শহরকে কেন্দ্র করে তাদের বিচরণ অনেক-অনেক বছর আগে থেকে। হাজার-হাজার বছর যাবৎ ইহুদীসম্প্রদায় জেরুসালেম-নগরীতে বসবাস করে আসছে। তাছাড়া, এখানকার ‘মসজিদুল আকসা’ বা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ নামক ইবাদতস্থানটিও এদের। এদের নবী হজরত মুসা আ. এখানে নিয়মিত আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করেছেন। এসব পৃথিবীর চিরসত্য ইতিহাস। এগুলো আজ কীভাবে অস্বীকার করা যায়? আর আমাদের আরও মনে রাখতে হবে: প্রাচীনকালে ধর্মউপাসনালয়কেন্দ্রিক জনমানুষের বসতি গড়ে উঠতো। হাজার-হাজার বছর আগে এখানে ইহুদীসম্প্রদায়ের বসতি গড়ে উঠেছিলো।


ধন্যবাদ আপনাকে।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আমি ধর্মে বিশ্বাসী একজন মানুষ। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মুসলমানরা জেরুজালেমের দাবী ছেড়ে দিবে, যদি ইহূদীরা তাওরাত অনুসারে ইসরাইল রাষ্ট্র পরিচালনা করে তবেই। নিজেদেরকে ইহূদী দাবী করে দখলবাজী আর অস্ত্রবাজী করবে , আর দেশ চালাবে স্যেকুলার-নাস্তিক সংবিধান অনুযায়ী- এরকম ভন্ডামী কোন দিনই মুসলমানরা মানবে না।

-------------------------------------------------------------------

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়। বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে। বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো..........

glqxz9283 sfy39587p07