Skip to content

রোহিঙ্গা-ইস্যুতে ইসলামের দেশ সৌদিআরব নীরব কেন?

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



রোহিঙ্গা-ইস্যুতে ইসলামের দেশ সৌদিআরব নীরব কেন?
সাইয়িদ রফিকুল হক

বর্তমানে বাংলাদেশে ছোট-বড় প্রায় সবাইকে রোহিঙ্গানির্যাতনের বিষয়ে যথেষ্ট সরব হতে দেখা গেছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। যেকোনোস্থানে মানবতাবিরোধী-অপরাধ সংঘটিত হলে আমাদের অবশ্যই সরব হতে হবে। আর এখানে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমানদৃষ্টি রাখতে হবে। কোনো ধর্মের প্রতি কিংবা কোনো ধর্মের মানুষের বিরুদ্ধে অবিচার ও অনাচার নিঃসন্দেহে গর্হিত ও মানবতাবিরোধী-অপকর্ম। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের বেশিরভাগ ‘হুজুগে মুসলমান’ কোথাও কোনো মুসলমান নির্যাতিত হলে শুধু তাদের পক্ষেই কথা বলতে শুনি। এরা কিন্তু জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-নির্বিশেষে সকল মানুষকে ভালোবাসতে শেখেনি কিংবা এদের প্রতি সহানুভূতিপ্রদর্শন করতে জানে না। এরা সবসময় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু নিজেদের স্বার্থআদায়ে সচেষ্ট থাকে।

সাম্প্রতিককালে মিয়ানমারে (বার্মায়) রোহিঙ্গামুসলমানদের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হচ্ছে—বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়া-যোগে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর এর কতকটা সত্য আবার কতকটা মিথ্যা। আর এক্ষেত্রে, কেউ-কেউ রোহিঙ্গানির্যাতনের অতিরঞ্জিত খবরপরিবেশন করে নিজেদের অপরাজনীতির ফায়দা লুটছে। তবে রোহিঙ্গানির্যাতন যে হচ্ছে—তা সত্য। কিন্তু আমাদের দেশের একটি চিহ্নিত দেশবিরোধীস্বার্থানেষ্বীমহল রোহিঙ্গানির্যাতনের তিলকে তাল বানানোর অপচেষ্টা করছে। আর এর পিছনে রয়েছে দেশী-বিদেশী স্বাধীনতাবিরোধীচক্র। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গানির্যাতনের এমনকিছু দৃশ্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে—যা দেখলে যে-কারও চোখে জল আসবে। পৃথিবীর যেকোনো সামরিকজান্তাই শূয়রের বাচ্চা। আর এইজাতীয় সামরিকজান্তা নামক শূয়রের বাচ্চাদের সেনাবাহিনী সবসময় বিপজ্জনক, হিংস্র ও ভয়াবহ। ১৯৭১ সালে, পাকিস্তানের সামরিকজান্তা-জারজরা রাতের আঁধারে নিরীহ বাঙালি-জাতির বিরুদ্ধে তাদের জারজ-সেনাবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে কী অমানুষিক অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিলো! এককথায় এ-কে ভয়ানক, ভয়ংকর, বীভৎস, পৈশাচিক কিংবা লোমহর্ষক ঘটনার কথা বললেও তা হয়তো কম বলা হবে। এখন সেই জারজবংশীয় সামরিকজান্তাদের দ্বারাই রোহিঙ্গানির্যাতন হচ্ছে। এই নিয়ে প্রতিবাদও হচ্ছে—তারপরও নির্যাতন চলছে। আর এই নির্যাতন চালাচ্ছে মিয়ানমার-রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের বর্তমান-সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত সেনাবাহিনী রোহিঙ্গামুসলমানদের বিরুদ্ধে এই বর্বোরোচিত গণহত্যা চালাচ্ছে। হ্যাঁ, এটাকে এখন গণহত্যাই বলতে হবে।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গামুসলমানদের উপর এতো যে অত্যাচার-নির্যাতন তবুও চুপচাপ বসে রয়েছে ইসলামের দেশ সৌদিআরব। তাদের মুখে যেন কুলুপ আঁটা! কিন্তু এব্যাপারে বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সরব হতে দেখা গেছে। অন্যান্যরা নিজেদের স্বার্থনেশায় ডুবে রয়েছে। তবে যারা মানবতাবাদী তারা এব্যাপারে যথেষ্ট সোচ্চার হয়েছেন। এমনকি (একটি খবরে দেখেছি) ভ্যাটিকান-সিটির পোপ জন পল পর্যন্ত নাকি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাঁর প্রতিবাদপ্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গামুসলমানদের উপর নির্যাতন বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তবুও কথা নাই ইসলামের দেশ বলে খ্যাত সৌদিআরবের মুখে। কিন্তু কেন? সৌদিআরবের দৃষ্টিতে রোহিঙ্গামুসলমানরাও কি শিয়া? নাকি এরাও ইয়েমেন-সিরিয়ার নাগরিক? নাকি এখানে সৌদিআরবের কোনো স্বার্থ নাই? নাকি এখানে, সৌদিআরবের আরও বড়সড় কোনো শয়তানী ও অসৎ রাজনীতি রয়েছে? কারণ, এদের চিরমিত্র আমেরিকা, চীন, পাকিস্তানও বৃহৎ শয়তানীউদ্দেশ্যে একেবারে নীরব!
বিভিন্ন খবরে প্রকাশিত হয়েছে: মিয়ানমারের রোহিঙ্গামুসলমানরা রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে ঝাঁঝরা হচ্ছে! নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে! জবাই হচ্ছে! শিশুদের লাশ নদীতে ভাসছে! বাঁচার জন্য মানুষ বাংলাদেশে ছুটে আসছে (এটি সত্য)। আর সেখানে মানুষ আর মানবতার অপমৃত্যু ঘটছে। তবুও কোন কথা বলছে না ইসলামের দেশ সৌদিআরব! কারণ কী?

পৃথিবীর মুসলিমদেশগুলোর একশ্রেণীর বলদ মনে করে থাকে সৌদিআরব ইসলামের দেশ! তারা এখন কী বলবে? নাকি সৌদিআরবের এই অমার্জনীয় ধৃষ্টতা, নির্লজ্জতা ও মানবতাবিরোধী-অপকর্ম দেখেও সৌদিআরবের পক্ষেই সাফাই গাইতে থাকবে? বলদগুলোর মনোভাব দেখে তাইতো মনে হচ্ছে।

পৃথিবীর সাধারণ মুসলমানগণ মনে করে থাকে: সৌদিআরবের রাজাবাদশাহরা আল্লাহভীরু আর খুব ধার্মিক! আসলে, তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এরা আল্লাহ-রাসুলকে মোটেও বিশ্বাস করে না। শুধু রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এরা মুখে-মুখে আল্লাহ-রাসুলের নাম নিয়ে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, সৌদিআরবের বাদশাহ তথা রাজপরিবারের সদস্যদের ঈশ্বরের নাম আমেরিকা। সারাদুনিয়ায় মুসলমানদের কিবলা ‘খানে কাবাহ’ বা ‘বায়তুল্লাহ’ আর সৌদিবাদশাহদের কিবলা আমেরিকা। হ্যাঁ, তা-ই। আর এতে কোনোপ্রকার সন্দেহও নাই। এরা বাইরে লোকদেখানোর জন্য আল্লাহ-রাসুলের নাম নেয়—আর ভিতরে-ভিতরে পূজা করে আমেরিকাকে। এরা নিজেদের স্বার্থে আজও আমেরিকাকে সিজদাহ করছে। আজ সৌদিআরবের বাদশাহদের ঈমানের মূলস্তম্ভ হলো: আমেরিকা আর আমেরিকা।

বর্তমানে রোহিঙ্গা-ইস্যুতে আমেরিকার কোনো নৈতিক সমর্থন নাই। এরা মিয়ানমারের অত্যাচারী সামরিকজান্তাদের আজও টিকিয়ে রেখেছে। এরা রোহিঙ্গামুসলমানদের সমস্যা ও সংকট নিরসনের চেয়ে এটি আরও জটিল করে তুলতে আরও বেশি আগ্রহী। নইলে, আমেরিকা চাইলে মিয়ানমারের জাতিগতসংঘাত তথা রোহিঙ্গা-ইস্যু’র সমাধান হয় না?

মিয়ানমারের অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত, নিষ্পেষিত রোহিঙ্গামুসলমানদের পক্ষে আমেরিকার শক্ত কোনো অবস্থান না থাকায় সৌদিআরবও এব্যাপারে আজ নীরব ও নির্বিকার। এরা চোখের সামনে রোহিঙ্গামুসলমানদের উপর এতোবড় মানবতাবিরোধী-অপরাধ সংঘটিত হতে দেখেও একেবারে নীরব হয়ে রয়েছে। তবুও নাকি এদের মুসলমানিত্ব আছে! আর এরাই নাকি ইসলামের দেশ!

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে: আজ মিয়ানমারের রোহিঙ্গামুসলমানদের ঘরবাড়ি নাই, ঘরবাড়ি থাকলেও কারও-কারও ঘরবাড়ি প্রজ্জ্বলিত, কারওটি এখনও পুড়ছে, তাদের খাবার নাই, ওষুধ নাই, আশ্রয় নাই, কোনোপ্রকার সাহায্য নাই। আর বর্তমানে রোহিঙ্গামুসলমানদের সর্বোচ্চ আশ্রয়দাতা-দেশ বাংলাদেশ। আর কারও কি কোনো দায়দায়িত্ব নাই? আর বর্তমানে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশকেও এখন রোহিঙ্গাঅনুপ্রবেশে কিছুটা বাধা দিতে হচ্ছে। কারণ, এমনিতে বাংলাদেশে জঙ্গিসমস্যা রয়েছে। তবুও ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ৫-৬লাখ রোহিঙ্গামুসলমান আশ্রয়গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ এদের প্রতিপালন করেছে। কিন্তু সৌদিআরব আজ পর্যন্ত রোহিঙ্গামুসলমানদের পাশে দাঁড়ায়নি কিংবা বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশে আশ্রিত-রোহিঙ্গাদের কোনোপ্রকার বা সামান্য সাহায্য-সহযোগিতাও করেনি। এরই নাম বুঝি ইসলামের দেশ? এরই নাম বুঝি মুসলমানিত্ব?

সৌদিআরবের একমাত্র প্রভু আমেরিকা। কিন্তু তারা এখন ব্যবসায়িক স্বার্থে লোকদেখানোর জন্য আল্লাহকে সাময়িকভাবে স্বীকার করে হজ্জপালন করতে যাচ্ছে। ‘খানে কাবাহ’ আল্লাহর ঘর। এখানে, মহান আল্লাহ হজ্জউপলক্ষে হাজির হবেন। সৌদিআরবের অতিধার্মিক বাদশাহ সালমান কি আল্লাহর কাছে এব্যাপারে বলে কিছু-একটা করতে পারে না? রোহিঙ্গামুসলমানদের উপর নির্যাতন বন্ধের জন্য সৌদিবাদশাহ কি আল্লাহর কাছে অনুরোধ করতে পারে না? আর না পারলে মিছামিছি এই লোকদেখানো হজ্জপালন করে লাভ কী?

সৌদিআরব মুখে-মুখে ইসলামের দেশ। আসলে, এদের মধ্যে ইসলামের কিছুই নাই। আর যদি এদের মধ্যে ইসলামের কিছু-একটা থাকতো তাহলে এরা রোহিঙ্গামুসলমানদের পাশে দাঁড়াতো। আমাদের মনে রাখতে হবে: সৌদিদের ইতিহাস ভালো নয়। এদের ইতিহাস পাপের ইতিহাস। এরা ঘোরতর পাপী। আর তাই, ১৯৭১ সালে এরা জেনেশুনে পাপের পথে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে—বাংলাদেশের বিরোধিতা করে আমেরিকা-চীনের মদদপুষ্ট—পাকিস্তানের মতো একটি জারজরাষ্ট্রকে সমর্থন ও সর্বপ্রকার সহযোগিতা করেছিলো। এখনও এরা শুধু নিজেদের স্বার্থনেশায় ডুবে ইয়েমেনে-সিরিয়ায় নির্বিচারে বিমানহামলাসহ সর্বপ্রকার হামলা চালাচ্ছে। সৌদিরা আজ মানুষ ও মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করেছে। রোহিঙ্গাদের কান্না এদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করবে কীভাবে?

সৌদিআরবের অঢেল সম্পদ আছে। ক্ষমতাও আছে। তবুও তারা কীসের ভয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে না দাঁড়িয়ে এই শক্তি ও সামর্থ্য অহেতুক ব্যবহার করছে ইয়েমেন ও সিরিয়ার মুসলমানদের বিরুদ্ধে? কেন? কেন? তাহলে কি বুঝতে হবে: সৌদিআরবের টার্গেট তাদের রাজতন্ত্রবিরোধী-মুসলমান? আর হজ্জ এদের শুধুই আর্থিক লাভের ব্যবসা! তাই, এরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গামুসলমানদের রক্ষার চেষ্টা না করে লোকদেখানো হজ্জপালন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।

সৌদিআরবের কোথায় ধর্ম আছে? আমরা সৌদিআরবে ধর্ম দেখিনি সেই ১৯৭১ সালে। আমরা সৌদিআরবে ধর্ম দেখিনি ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭ সালে! আমরা ইসলামের দেশ সৌদিআরবের সম্পূর্ণ অধর্ম দেখছি ইয়েমেনে-সিরিয়ায়। কিন্তু সৌদিআরবের লোকদেখানো ধর্মপালনের কোনো অভাব নাই। আর তাদের একমাত্র ধর্ম হলো প্রতিবছর হজ্জব্যবসা। এর বাইরে তাদের আর-কোনো ধর্ম নাই। আসলে, সৌদিআরবের কোনো ধর্ম নাই, চরিত্র নাই, সততা নাই—এমনকি কোনো মনুষ্যত্বও নাই।

ইসলামের জন্য সৌদিআরবের এতো-এতো দরদ! এতো মায়া! আর রাতদিন ইসলাম-ইসলাম করে তাদের এতো কান্নাকাটি! কিন্তু নির্যাতিত ও নিপীড়িত রোহিঙ্গামুসলমানদের ব্যাপারে তারা নীরব কেন? আর তারা এতো নীরব কেন?






সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
৩১/০৮/২০১৭


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দেখুন:


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দেখুন:

glqxz9283 sfy39587p07