Skip to content

স্পেনে পৈশাচিক হামলার পর ইউরোপে ইসলামের ভবিষ্যৎ কী?

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



স্পেনে পৈশাচিক হামলার পর ইউরোপে ইসলামের ভবিষ্যৎ কী?
সাইয়িদ রফিকুল হক

২০০৪ সালে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পাতাল-রেলে সন্ত্রাসী(মুসলমান-জঙ্গি)-দের হামলা হয়েছিল। সেই সময় এই হামলায় কমপক্ষে আটজন মানুষ নিহত হয়েছিল। আর এই ঘটনায় আহত হয়েছিল আরও কিছুসংখ্যক মানুষ। এই পৈশাচিক হামলার পরে ২০১৭ সালের ১৭ই আগস্ট স্পেনের প্রসিদ্ধ নগরী বার্সেলোনায় মুসলমান-জঙ্গিরা আবার পৈশাচিক হামলা চালিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭/০৮/২০১৭ তারিখ) বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘লা-রাম্বলা’ নামক পর্যটনকেন্দ্রে মুসলমান-জঙ্গিরা পরিকল্পিতভাবে নাশকতার উদ্দেশ্যে জনসাধারণের উপর চলন্ত-ভ্যান উঠিয়ে দেওয়ায় এতে ঘটনাস্থলেই কমপক্ষে ১৩-১৪জন মানুষ নিহত হয়েছে। আর এই ঘটনায় চীন, বৃটেন, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ ৩৪টি দেশের বেশ কিছুসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। আর আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থাও আশংকাজনক। এখানে, স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মানবতাবিরোধী এই ঘটনাটি মুসলমান-জঙ্গিরাই ঘটিয়েছে। ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক আইএস (ইসলামিক স্টেট) জঙ্গিগোষ্ঠী এই পৈশাচিক ঘটনার দায়দায়িত্বও স্বীকার করে নিয়েছে।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এই পৈশাচিক হামলার কয়েক ঘণ্টা (প্রায় ৯ঘণ্টা) পরে মুসলমান-জঙ্গিরা পুনরায় ১৮/০৮/২০১৭ তারিখ শুক্রবার ভোরে স্পেনের বিখ্যাত ক্যামব্রিলস-এ আরেকটি পৈশাচিক গাড়ি-হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশ যথাসময়ে এই হামলা রুখে দিয়েছে। এমনকি এখানে পুলিশের গুলিতে মোট ৫টি হামলাকারী নিহত হয়েছে। এখানে, একজন মহিলা নিহত হয়েছেন, আর কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আর বার্সেলোনা ও ক্যামব্রিলস-এর ঘটনায় কমপক্ষে ১৩০জন মানুষ কোনো-না-কোনোভাবে আহত হয়েছেন। এতগুলো মানুষকে আঘাত করলে দুনিয়াতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে? আর দুনিয়ার কোনো সুস্থ মানুষ এসব ভাবতে পারে? অবশ্যই পারে না। এগুলো অসুস্থ ও হিংস্র মানসিকতা। এগুলো স্পষ্টতঃ পাশবিকতা।

এই অমানবিক ঘটনার জন্য স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো মুসলিম-জঙ্গি তথা জিহাদীদের দায়ী করেছেন। এতে স্পেনে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সারাবিশ্বের বিবেকবান মানুষ ও নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দাজ্ঞাপন করেছেন। একমাত্র মুসলিম-জঙ্গিগোষ্ঠী ব্যতীত এতে সারা দুনিয়ার মানুষজাতি মর্মাহত। এতে কীভাবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্যবৃদ্ধি পাবে?

বার্সেলোনার ঘটনায় স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের নেতৃত্বে বহু লোকজন শুক্রবার ‘লা-রাম্বলা’য় নিহতদের স্মরণে শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়। মানুষজন ফুল দিয়ে তাদের ভালোবাসা জানায়। এতে সবাই জঙ্গিদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছে। মানুষ শুধু মানুষকেই ভালোবাসে।

বার্সেলোনায় যে-ভ্যানটির সাহায্যে চাপা দিয়ে ১৩-১৪জন মানুষহত্যা করা হয়েছে—এই ভ্যানটি ভাড়া করেছিল ‘দ্রিস ওকাবির’ (ইদ্রিস আকবর!)। সে এটি ‘মুসা ওকাবির’ (মুসা আকবর!) নামের এক মরক্কোবংশোদ্ভূত স্পেনীয় নাগরিকের নামে ভাড়া করেছিল। সম্পর্কে এরা আপন দুই ভাই। আর বার্সেলোনার হামলায় অংশ নিয়েছিল মুসা ওকাবির (মুসা আকবর!)। আর পুলিশের সন্দেহ: এই মুসা ওকাবির নাকি ক্যামব্রিলস-এ গুলিতে নিহত হয়েছে। এছাড়া, বার্সেলোনার হামলায় যে ৫টি হামলাকারী অংশ নিয়েছিল তাদের মধ্যে মূলপরিকল্পনাকারী হিসাবে নাকি ছিল এই মুসা ওকাবির। জীবন বাঁচাতে মুসা ওকাবিরের ভাই দ্রিস ওকাবির পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এতে কী প্রমাণিত হয়? স্পেনে হামলাকারী সকলেই মুসলমান-জঙ্গি।
এই পৈশাচিক ঘটনার মধ্যে কোনো বীরত্ব কিংবা মনুষ্যত্ব নাই। এখানে আছে শুধু পশুত্ব আর পশুত্ব। তবুও এই পশুত্বই সৃষ্টিতে ব্যস্ত মুসলমানজঙ্গিগোষ্ঠী। এদের এই নৃশংস ধর্মবোধ আজ মানুষের মাঝে শুধুই ঘৃণার জন্ম দিচ্ছে। পৃথিবীর বিবেকবান-মানুষগুলো আজ মুসলমানজঙ্গিদের হামলার শিকার হচ্ছে। আর হামলাকারী-মুসলমানজঙ্গিরা হচ্ছে বিবেকহীন-নিষ্ঠুর। এতে পৃথিবীতে ইসলাম ও মুসলমানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে না কমছে? আশা করি: বুদ্ধিমানদের সঠিক উত্তরটি জানা আছে।

স্পেনে কেন এই হামলা:

স্পেন তথা ইউরোপের মানুষকে ভয় দেখানো? ভয় দেখিয়ে ইসলামের শক্তিপ্রদর্শন? ইউরোপ দখলের ইচ্ছা? না, এগুলো জঙ্গিদের ভ্রান্তধারণা। এতে কোনো কাজ হবে না। আর এইসব আচমকা ও পৈশাচিক হামলায় ইউরোপের লোক এখন ভয় পায় না। এতে কিছু মানুষের বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এতে ইউরোপ কখনও ভয় পায় না। এরা এসব শক্তহাতে মোকাবেলা করবে। আর সেই শক্তি ও সাহস ইউরোপের আছে।

এই হামলার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তাছাড়া, স্পেনের মুসলমানরা তো বেশ শান্তিতে রয়েছে। ২০০৪ সালের হামলার সময়ও মুসলমানদের উপর কোনো নির্যাতন চালানো হয়নি। এমনকি স্পেনের মুসলমানদের ভিন্নচোখেও দেখা হয়নি। তবুও কেন এই বর্বরোচিত হামলা? আর অহেতুক কেন এই আক্রোশ? জঙ্গিদের কাছেও এর কোনো সঠিক জবাব নাই। আসলে, আক্রোশবশতঃ বিনা কারণে মুসলমানজঙ্গিরা অন্যধর্মের মানুষের উপর হামলা চালিয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর সব দেশেই মুসলমানরা শান্তিতে রয়েছে। তবুও অন্যধর্মের মানুষের উপর তাদের কেন এতো আক্রোশ? আমাদের মনে রাখতে হবে: এই পৃথিবীতে মুসলমানদের হাতেই বিভিন্ন দেশে আজ যুদ্ধবিগ্রহ ও অশান্তি বিরাজমান। আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও নৃশংস যুদ্ধবাজরাষ্ট্র হলো সৌদিআরব। এদের হাতে আজ আরবভূখণ্ড লণ্ডভণ্ড হচ্ছে। সৌদিআরব আজ হিংসা ও পাশবিকতায় সম্পূর্ণ উন্মত্ত হয়ে সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান প্রভৃতি রাষ্ট্রে নগ্ন-আগ্রাসন চালাচ্ছে। কিছুদিন আগে এই যুদ্ধবাজ সৌদিআরব ‘কাতারে’ও হামলা করতে চেয়েছিল। মুসলমানজঙ্গি-তালেবানরা আজ আফগানিস্তানকে পৃথিবীর জাহান্নামে পরিণত করেছে। এই তালেবানরাই এখন পাকিস্তানে প্রতিনিয়ত মানুষহত্যা করছে। আজ যুদ্ধ শুরু করলে তো এই জঙ্গিমুসলমানদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

কয়েক মাসে আগে এই মুসলমানজঙ্গিরাই হামলা চালিয়েছে ইংল্যান্ডের প্রসিদ্ধ শহর ম্যানচেস্টারে। সেখানে তারা ইসলামের নামে রক্তপাত করেছে। এরাই আবার অস্ট্রেলিয়ায় হামলা চালিয়েছে। এই জঙ্গিরাই ইতঃপূর্বে ফ্রান্সে রক্তপাত ঘটিয়েছে। তারা বেলজিয়ামে হানা দিয়েছে। এই তো কিছুদিন আগে তারা জার্মানীতে হামলা চালিয়েছে। এসব কীসের আলামত? বর্তমানে ইউরোপে মানুষ ইসলামকে আর আগের মতো দেখে না। একসময় সমগ্র ইউরোপজুড়ে শুরু হবে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণাবর্ষণ। অবশ্য কারও-কারও মতে, এই ঘৃণাবর্ষণের কাজটি শুরু হয়েছে আরও আগে। সমগ্র ইউরোপ আজ ইসলামকেই নিন্দা জানাচ্ছে। আজ যে-সব জঙ্গিমুসলমান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রদর্শন করতে চাইছে—তারা ভুল পথে হাঁটছে। ইউরোপ এতে কখনওই ভীতসন্ত্রস্ত নয়। এতে ইউরোপে শুধু ইসলামই বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। কারণ, বিশ্বের মধ্যে ইউরোপের মানুষ অত্যন্ত সচেতন ও অগ্রসর। তারা এবার তাদের মেধা ও মননকে কাজে লাগাবে।
বার্সেলোনা ও ক্যামব্রিলস-এ পৈশাচিক হামলার সমসাময়িক ঘটনা হচ্ছে—ফিনল্যান্ড ও জার্মানীতে জঙ্গিদের ছুরিকাঘাত-আক্রমণ। এতেও কয়েকজন মানুষ নিহত হয়েছেন। এগুলো ইসলামের নামে বর্বরতা। মানুষ এই বর্বরতা আজ মানবে না। সমগ্র ইউরোপ এদের বিরুদ্ধে যেদিন ফুঁসে উঠবে সেদিন মুসলমানদের পালানোর কোনো জায়গা থাকবে না। কথাটা যুক্তি টপকে কিংবা গায়ের জোরে বলছি না। একজন মুসলমান হিসাবে ব্যথাতুর হৃদয়েই বলছি:
এই প্রসঙ্গে এখানে, একটি ঘটনার উল্লেখ করতে চাইছি। কিছুদিন আগে পোল্যান্ডে কয়েক হাজার মানুষের একটি মিছিল দেখেছি। আর তারা শান্তভাবে—অথচ প্রবল ঘৃণামিশ্রিত ভাষায় ‘ইসলাম ও মুসলমানদের’ নিন্দা জানাচ্ছে। তারা শান্তভাবে প্ল্যাকার্ড বহন করছিল—আর তাতে লেখা ছিল: We want Gospel, Not Quran. এরা মুসলমানজঙ্গিদের কার্যকলাপে এতোটাই অতিষ্ঠ যে, এরা সেদিন মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন নিষিদ্ধ করার দাবিও করছিল। ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেছি। এরও আগে ২০১৫ সালের নভেম্বর-মাসে পোল্যান্ডের হাজার-হাজার (কমপক্ষে পঞ্চাশ সহস্রাধিক) মানুষ ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের ঘৃণা প্রকাশ করেছে। এটি ছিল পোল্যান্ডের ইতিহাসে ইসলামিস্টদের বিরুদ্ধে সর্বাপেক্ষা বড় প্রতিবাদসমাবেশ। আর এজন্য একমাত্র দায়ী এইসব জঙ্গিমুসলমান। এরা নিজের পায়ে আজ নিজেই কুড়াল মারছে। সমগ্র ইউরোপে একসময় ইসলামের দরজা সংকুচিত হয়ে যাবে। এমনকি দরজা বন্ধও হয়ে যেতে পারে! এখনই ইউরোপের অধিকাংশ দেশ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধের স্বার্থে রাস্তাঘাটে-বাসে মুসলমান-নারীদের বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করেছে। এভাবে চলতে থাকলে ইউরোপে একসময় ইসলামধর্ম নিষিদ্ধের দাবি উঠতে পারে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়। অতএব, ইসলামের স্বার্থে জঙ্গিবাদ বর্জন করে মুসলমানদের শান্তি ও সহাবস্থানের পথে ফিরে আসতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই। কারণ, পৃথিবীর সব মানুষ আজ একমত: আরবের সেই ইসলামীশাসনব্যবস্থা আজ আর পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র ও মানুষ মানবে না।

স্পেনে ইসলামধর্ম আবারও হোঁচট খেল। জঙ্গিমুসলমানদের অতি বাড়াবাড়িতে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মুসলমান লজ্জিত ও কুণ্ঠিত। এই পৈশাচিক ঘটনায় সকল মানুষই ঘৃণাপ্রকাশ করেছে। গুটিকতক মানুষহত্যা করে কখনও ইউরোপে ইসলামপ্রতিষ্ঠা করা যাবে না।







সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
১৯/০৮/২০১৭


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মিয়ানমারে যা ঘটছে তার জন্য আপনি কাকে দায়ী করবেন? সিরিয়া যুদ্ধের আসল কারণ আপনার জানা নেই। ইরাকে যে পশুগুলো ভয়াবহ নিপীড়ন চালিয়েছিল মুসলমানদের ওপর, আফগানিস্তানে, ফিলিস্তিনে ও মিশরের মুরসি সরকারের সমর্থকদের ওপর সেসব ঘটনাকে আপনি কোন চোখে দেখবেন? যে আমেরিকার নির্দেশে সারা পৃথিবীতে মুসলমানদের ওপর হামলা হচ্ছে সেই আামেরিকার ব্যাপারে তো আপনি কিছু বললেন না।


এখন মিয়ানমার সম্পর্কে বলুন। আপনার কথা তো এ কথা মনে করার উপাদান রয়েছে, যে মিয়ানমারে যা হচ্ছে তাও ন্যায়সঙ্গত।

আপনার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না ভাই। দু:খিত।

glqxz9283 sfy39587p07