Skip to content

সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বহাল এবং এস কে সিনহা’র পদত্যাগ কেন জরুরি

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি




সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বহাল এবং এস কে সিনহা’র পদত্যাগ কেন জরুরি
সাইয়িদ রফিকুল হক

স্বাধীনবাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো বিচারক কিংবা প্রধান বিচারপতিকে এতোটা বেআদবি করতে আর-কখনও দেখা যায়নি। সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সর্বকালের বেআদবির রেকর্ডভঙ্গ করেছেন, এবং সেইসঙ্গে তিনি তার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বগ্রহণকালের শপথও ভঙ্গ করেছেন। তার এইসব আচরণিক বৈশিষ্ট্যগুলো জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসাবে বিবেচিত হবে।

দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি তার সর্বপ্রকার কাণ্ডজ্ঞানও হারিয়েছেন। তিনি সবসময় এমনভাবে কথা বলেন যে, তিনি যেন বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ। আর বর্তমানে তার হাবভাব দেখে মনে হয়: তিনি জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের রোকন কিংবা বিএনপি’র স্থায়ীকমিটির সদস্য। হ্যাঁ, তার আচরণে তা-ই মনে হয়। তিনি বর্তমানে প্রধান বিচারপতির শপথভঙ্গ করে নিয়মিত সরকারবিরোধীরাজনীতি করছেন। জাতি তাকে এই দায়িত্বপ্রদান করেনি। তিনি বর্তমানে স্বজ্ঞানে একের-পর-এক রাষ্ট্রবিরোধী-অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

দেশের সংবিধান-সংশোধনের দায়দায়িত্ব জাতীয় সংসদের। আর এই সংবিধান-রক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্টের অধীনে। এখানে, আমাদের মনে রাখতে হবে: কোনো প্রধান বিচারপতির হাতে এককভাবে এই দায়দায়িত্ব অর্পণ করা হয়নি। কিন্তু দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি মনে করেছেন: দেশের সংবিধানবিষয়ক সকল দায়দায়িত্ব তার হাতে ন্যস্ত। আর এই ধারণার বশবর্তী হয়েই তিনি সম্প্রতি দেশের সংবিধানের ‘ষোড়শ-সংশোধনী’ গায়ের জোরে বাতিল করে বর্তমানে বিএনপি-স্টাইলে রাজনীতি করছেন, এবং তিনি সংবিধান-লংঘন করে এরই পক্ষে জনমত তৈরির জন্য আবার বিএনপি-স্টাইলে মাঠেঘাটে, যত্রতত্র, এমনকি সর্বত্র রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করছেন। এসব কীসের আলামত? তিনি কাদের স্বার্থে আর কাদের পক্ষে এসব প্রচারপ্রচারণা ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন?

বর্তমান-সরকার অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় ও ইতিহাসসম্মত সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী পাস করেছেন। এ নিয়ে দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কারও মনে কোনোপ্রকার সংশয় বা সন্দেহ ছিল না। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে গায়ের জোরে এটি হঠাৎ বাতিল করে নিজের ভণ্ডামিপ্রকাশ করলেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি। এখানে উল্লেখ্য যে, সংবিধানের এই ‘ষোড়শ-সংশোধনী’ বাতিল করার জন্য দেশের কোনো মানুষ কিংবা কোনো রাজাকারও কোনোপ্রকার রিট দায়ের করেনি। তবুও নিজের ইচ্ছায় প্রধান বিচারপতি কেন এমনটি করলেন? এখানেই ঘটনা। আর এখানেই আসল রহস্য। প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান আওয়ামীলীগের মনোনীত মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। আর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা এটাকেই একটি সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করেছে। আর সেই ফাঁদে জেনেশুনে পা দিয়েছেন একজন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। আসলে, সংবিধানের ‘ষোড়শ-সংশোধনী’ বাতিলের ব্যাপারটি দেশের পবিত্র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিকৃতির একটি গভীর ষড়যন্ত্র। আর ষড়যন্ত্রকারীরা এস কে সিনহার নেতৃত্বে এতোদিনে সেই সুযোগটি খুঁজে পেয়েছে।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিল করে এতে বাঙালি-জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি এই সংশোধনী বাতিল করে যে রায় প্রদান করেছেন তাতে স্বাধীনবাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করেছেন, এবং তিনি জেনেশুনে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারীসংগঠন বাংলাদেশআওয়ামীলীগকেও পাশ কাটিয়ে দেশের রাজাকারসহ সবাইকে একপাল্লায় এনে দেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান স্বীকার করেছেন। এটি তার জাতির সঙ্গে প্রতারণা, সীমাহীন বেআদবি আর ধৃষ্টতা।

সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিলের রায়টি আসলে ষড়যন্ত্র। আর ষড়যন্ত্র ফাঁসের প্রমাণ:

দেশের সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনীর বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। আর এটি পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে। আর এতে দেশের একটি স্বাধীনতাবিরোধীচক্র জড়িত। এরা সবাই বিএনপি-জামায়াত-মুসলিমলীগপন্থী। দেশের বর্তমান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিল করে যে রায়টি প্রদান করেছেন, তা কিন্তু তার নিজের লেখা নয়। এটি লিখে দিয়েছে মুসলিমলীগবংশের সন্তান, ইংরেজি দৈনিক ‘দি ডেইলি স্টারের’ সম্পাদক ও দেশের ভিতরে বহু অপকর্মের সংঘটক মাহফুজ আনাম। এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে ‘দৈনিক প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমান। কারণ, এরা ২০০৬ সালের ষড়যন্ত্রকারী ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ প্রতিষ্ঠার অন্যতম রূপকার। একইসঙ্গে এরা শেখ হাসিনাকে সেই সময় কারাগারে নেওয়ারও প্রধান রূপকার। আর ‘প্রথম আলো’র সম্পাদক মতিউর রহমান তো ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্ট বঙ্গবন্ধু-অ্যাভিনিউয়ে ভয়াবহ গ্রেনেড-হামলার অন্যতম প্রধান আসামী মাওলানা তাজউদ্দিনের পক্ষে সাফাইদানকারী, এবং এই ব্যক্তির জন্যই কথিত-মাওলানা তাজউদ্দিন পালিয়ে যেতে পেরেছে।

সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। এটি কখনও আমাদের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তবুও কেন স্বেচ্ছায় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রধান বিচারপতি এটি বাতিল করলেন? এখানেই রহস্য নিহিত। আর এখানেই রয়েছে দেশবিরোধী একটি চক্রের সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত।

আসুন, এবার আমরা দেখি দেশব্যাপী সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিলের প্রতিক্রিয়া কী:

প্রথমত; দেশের সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিলের রায়ে বিএনপি ও বিএনপিপন্থীগোষ্ঠীটি ভয়ানক খুশি হয়েছে। আর তারা এতোটাই খুশি হয়েছে যে, পারলে এখনই পাকিস্তানে চলে যায়! বিএনপি’র চিরকালীন মিত্র জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ওরফে জামায়াত-শিবির এই রায়ের পর নগ্নভাবে উল্লাসপ্রকাশ করেছে। তারা তো এই-ই চায়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যত বিকৃত হবে তাদের তত লাভ হবে। এরা এখন প্রধান বিচারপতি সিনহার পক্ষে সাফাই গাইছে। আসলে, যে বা যারা বা যে গোষ্ঠী বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগবিষয়ে ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা বলবে তারাই বিএনপি-জামায়াতের পরম আত্মীয়স্বজনে পরিণত হবে।

দ্বিতীয়ত; এই রায়ের পরে নষ্ট-পচা-গলা বামপন্থীরা (সত্যিকারের কম্যুনিস্টগণ এই সমালোচনার বাইরে) নড়েচড়ে বসেছে। এরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধীচেতনার লোক। এদের অধিকাংশই ১৯৭১ সালে চীনের দালাল ছিল। এরা এখন এই রায়ে ভয়ানক সন্তুষ্টিপ্রকাশ করেছে। এই রায় তাদের মনমতো হয়েছে। এদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিকৃতি এবং বঙ্গবন্ধুর মর্যাদাহানি সবসময় আকর্ষণীয় ও আগ্রহের বিষয়। তাই, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এখন এদের কাছে রোল-মডেল।

তৃতীয়ত; দেশের ভিতরে সবসময় নাশকতাসৃষ্টিকারীগোষ্ঠীটিও এই রায়ের পরে নড়েচড়ে বসেছে। এরা এবার আমাদের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অবদানকে খাটো করার অপচেষ্টা শুরু করেছে। এরা যেন এতোদিন এই সুযোগটাই খুঁজছিলো! আর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এতোদিনে এদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

চতুর্থত; যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়—তারা এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সস্তা আলোচনা-সমালোচনার একটা পথ খুঁজে পেয়েছে। আর এসবই একজন এস কে সিনহার বিশাল অবদান! স্বাধীনবাংলাদেশের একজন প্রধান বিচারপতি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল অবদানকে খাটো করে আবার তার পক্ষে সাফাই গাইছেন! এটি কতবড় ধৃষ্টতা!

দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ এই রায়ের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আর এটি যে সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত তা জাতির বিবেকবান সন্তানদের বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়নি। তিনি প্রতিহিংসাবশতঃ সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিল করে প্রধান বিচারপতি-পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তার অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করছি। আর এটাই জাতির প্রত্যাশা।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার অপরাধসমূহ:

১. তিনি সবসময় যেকোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত হন। বর্তমানে তিনি একজন মিডিয়াপাগল ব্যক্তি। আর এসব ব্যাপারে দেশবাসীর হাতে অজস্র প্রমাণ রয়েছে। তিনি যেকোনো একটা ঘটনা, অনুষ্ঠান ও উপলক্ষকে কেন্দ্র করে মিডিয়ার সামনে এসে সস্তামাপের রাজনৈতিক ব্যক্তির মতো লাগামহীন কথাবার্তা বলছেন। এটি তার পদ ও পদমর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। স্বাধীনতার পর আজ পর্যন্ত কোনো বিচারক এভাবে মিডিয়াপাগল হননি। আর কোনো স্বাধীন দেশের প্রধান বিচারপতি রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলেন না, এবং তিনি সরকারবিরোধী ও লাগামহীন বক্তব্যও প্রদান করেন না। একজন এস কে সিনহা এসব নিয়মিত করছেন এবং নিজের পক্ষে ধৃষ্টতার সঙ্গে সাফাইও গাইছেন।

২. তিনি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিল করেছেন। আর এতে যে রায় দিয়েছেন তাও তার মনগড়া। কারণ, তার এই রায় দেওয়ার কোনো আইনগত এখতিয়ার নাই। তার কারণ, এই সংশোধনী গণপ্রজাতণ্ত্রীবাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তবুও তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই রায় প্রদান করেছেন। এটি তার ক্ষমতাবহির্ভূত আচরণ। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকগণ ষোড়শ-সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মত দেননি। কিন্তু স্বেচ্ছায় মত দিলেন প্রধান বিচারপতি! বিষয়টা কী? এখানে কার এতো স্বার্থ জড়িত? পাঠক, আশা করি বুঝে নিবেন।

৩. প্রধান বিচারপতি এখনও একজন বিরোধীদলীয় নেতার মতো রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলছেন। এটার মানে কী? তিনি কোনো চক্র বা গোষ্ঠীর মদদে ও আশ্রয়ে রয়েছেন। তার কথাবার্তা শুনে মনে হয় তিনি বিএনপি’র মির্জা ফখরুলের চেয়েও বড়সড় পদে সমাসীন। আর তিনি বিএনপি’র স্থায়ীকমিটি’র সদস্য।

৪. তিনি প্রধান বিচারপতি-পদে দায়িত্বপালনের জন্য শপথগ্রহণ করেও তা ভঙ্গ করেছেন। আর সবসময় ক্ষমতাবহির্ভূত-আচরণ প্রকাশ করছেন। তিনি প্রধান বিচারপতি-পদে থাকার যোগ্যতাও হারিয়েছেন। তাকে অনতিবিলম্বে অপসারণ করাটা রাষ্ট্রের জন্য এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

৫. তিনি সরাসরি নিয়মবহির্ভূতভাবে সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিল না করে এতে আপত্তিকর কোনো বিষয় থাকলে তা সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের প্রতি ইঙ্গিতপ্রদান করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে একটি দেশবিরোধীচক্রের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে সরাসরি এটি বাতিল করেছেন। দেশপ্রেমিক সর্বস্তরের সুধীমহলের দৃষ্টিতে এটি সম্পূর্ণ নাশকতা।

৬. সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী কোনোভাবেই সংবিধানবিরোধী কিংবা এর সঙ্গে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক নয়। আর দেশের কোনো সচেতন নাগরিক এর বিরুদ্ধে একটি মামলা কিংবা রিটও দায়ের করেননি। তবুও প্রধান বিচারপতি কাদের স্বার্থে এটি বাতিল করেছেন? তাকে রিমান্ডে নিলে এটি বেরিয়ে আসবে।

৭. ষোড়শ-সংশোধনী বাতিল করে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, “কোনো একক নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়নি!” এটা ভয়ানক ধৃষ্টতা। এর জন্য তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা উচিত।

৮. প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিল করে এবং তার রায়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানারকম আবোলতাবোল কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। তিনি জেনেশুনে দেশের স্বাধীনতাবিরোধীঅপশক্তিকে ষোড়শ-সংশোধনীর বিরুদ্ধে অপরাজনীতির সুযোগ করে দিয়েছেন। সাংবিধানিকভাবে এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

৯. বিচারপতি এস কে সিনহা পাকিস্তানের আদালত-কর্তৃক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে অপসারণের ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যক্ষভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। এগুলো বেআদবি ও ধৃষ্টতা। এসবই একজন এস কে সিনহা জেনেশুনে করেছেন। এটাও সুস্পষ্টতঃ ও কার্যতঃ রাষ্ট্রবিরোধী-অপতৎপরতারই নগ্ন-দৃষ্টান্ত।

১০. প্রধান বিচারপতি বিরোধীদলীয় নেতাদের মতো দেশের শাসনবিভাগ, বিচারবিভাগ, জাতীয় সংসদসহ স্বাস্থ্যবিভাগকে আক্রমণ করে নানারকম অশ্লীল কথাবার্তা বলেছেন। এটি তার পদ ও পদবীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি চাইলে রাজনীতি করতে পারতেন—কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির পদ ও পদবী দখল করে নয়।

১১. তিনি সম্পূর্ণ অসৎ-উদ্দেশ্যে সংবিধানের এই ষোড়শ-সংশোধনী বাতিলের রায় প্রদান করে বাংলাদেশবিরোধীচক্র তথা জামায়াত-শিবির-বিএনপিগোষ্ঠীকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিকৃতির সুযোগ করে দিয়েছেন। এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

১২. তিনি রাষ্ট্রের একজন প্রধান বিচারপতি মাত্র। আর তিনিও আইনের দ্বারা সীমাবদ্ধ ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু তার বক্তব্যে মনে হয়েছে, এখনও মনে হচ্ছে—তিনিই রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী! এটি দেশের সংবিধান-লংঘনের দৃষ্টান্ত।

১৩. তিনি সবসময় রাজনৈতিক নেতাদের মতো কথা বলেন। এভাবে, তিনি তার শপথভঙ্গ করেছেন। আর স্বপদে বহাল থাকার আইনগত ভিত্তি ও অধিকার হারিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশবিরোধীষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন:

দেশের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা একা-একাই সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী বাতিল করে মনগড়া-রায় প্রদান করেননি। তার পিছনে রয়েছে এই দেশেরই কয়েকজন গডফাদার। এই গডফাদাররা আবার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক। এরা বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০৬ সালের সামরিক তত্ত্বাবধায়কসরকারের প্রতিষ্ঠাতা। এরা সবাই ১/১১-এর ষড়যন্ত্রকারী-কুশীলব। বর্তমানে এস কে সিনহা’র গডফাদাররা হলো: তথাকথিত বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন; গরিবের রক্তচোষক, গরিবের টাকায় নিজের নামে নোবেল-পুরস্কার ক্রয়কারী ও বিদেশে পলাতক ড. ইউনূস; বাংলাদেশের ইতিহাসে কুখ্যাত কুচক্রী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন; দি ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক ও মুসলিমলীগপরিবারের সন্তান মাহফুজ আনাম; দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমানসহ আরও কতিপয় বর্ণচোরা ভণ্ড। এই জাতীয় কুলাঙ্গাররা পিছনে থেকে কলকাঠি নাড়ছে। আর দেশের প্রধান বিচারপতি সেই অনুযায়ী অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এরা প্রধান বিচারপতিকে বড় টোপ দিয়েছে। আর এস কে সিনহা এদেরই টোপ গিলেছেন। এখানে, শুধু স্বার্থের খেলা চলছে।



স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য দেশের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিকৃতি করেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীঅপশক্তিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিকৃতির সুযোগ করে দিয়েছেন, আর বাঙালি-জাতির জীবনে সবচেয়ে পবিত্র মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বকে করেছেন প্রশ্নবিদ্ধ। তাই, এসব অসঙ্গতিপূর্ণ অপকর্মের মাধ্যমে তিনি প্রধান বিচারপতির পদে থাকার যোগ্যতা সম্পূর্ণরূপে হারিয়েছেন। একজন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা জাতির সঙ্গে প্রতারণা ও বেআদবি করেছেন। আর তাই, অনতিবিলম্বে তাকে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। আর একইসঙ্গে দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সংরক্ষণ করার স্বার্থে সংবিধানের ষোড়শ-সংশোধনী অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে। আর এটাই জাতির প্রত্যাশা।





সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
২৬/০৮/২০১৭


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১০০% সহমত।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সহমতপোষণ করায় আপনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। আর শুভেচ্ছা অফুরান।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি মানুষ আর মানবতার সৈনিক। আমি ধর্মে বিশ্বাসী একজন মানুষ। আর আমি ত্বরীকতপন্থী-মুসলমান। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আর আমি বাংলাদেশ-রাষ্ট্রকে ভালোবাসি। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা। জয়-বাংলা।...

glqxz9283 sfy39587p07